Profile Photo

জাহিদুল ইসলামOffline

  • jahidnotes
  • Profile picture of জাহিদুল ইসলাম

    জাহিদুল ইসলাম

    6 months, 2 weeks ago

    ১৯৬০ সালের এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা আজও আমাদের জীবনের এক ন’গ্ন সত্যকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ঘটনাটি পড়ার পর হয়তো আপনি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকবেন… আর নিজের জীবনটাকেই নতুন করে ভাববেন।

    গল্পটা শুরু হয় একটি কাঁচের খাঁচা দিয়ে।

    ১৯৬০ সাল, আমেরিকা। বিজ্ঞানীরা একটি ইঁদুরকে একটি বিশেষ কাঁচের খাঁচায় রাখলেন। সেখানে ছিল একটি ‘লাল বোতাম’। এমনভাবে সেট করা হয়েছিল যে, ইঁদুরটি যখনই বোতামটি চাপবে, তার মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক সিগন্যাল যাবে এবং নিঃসৃত হবে ‘ডোপামিন’ সুখের হরমোন।

    অর্থাৎ, বোতাম চাপলেই তীব্র আনন্দ।

    প্রথমে ইঁদুরটি কিছুই জানত না। একদিন ভু’ল করে বোতামে চাপ পড়তেই শরীর ভরে গেল অদ্ভুত সুখে। সে আবার চাপল। আবার সেই অনুভূতি। খুব দ্রুত সে বুঝে গেল এই বোতামই আনন্দের উৎস।

    এরপর শুরু হলো নে’শা।

    বিজ্ঞানীরা খাঁচায় খাবার দিলেন। এমনকি একটি স্ত্রী ইঁদুরও রাখা হলো তার সঙ্গের জন্য।

    কিন্তু কী হলো জানেন?

    ইঁদুরটি খাবার খেল না।
    সঙ্গিনীর দিকেও তাকাল না।
    সে শুধু বোতাম টিপতেই থাকল।

    দিনের পর দিন।
    নাওয়া-খাওয়া ভু’লে।
    জীবনের চেয়েও ‘সুখ’ বড় হয়ে গেল তার কাছে।

    শেষ পর্যন্ত সে মা’রা গেল আর মৃ’ত্যু’র মুহূর্তেও তার পা ছিল সেই লাল বোতামের ওপর।

    এখন প্রশ্ন হলো…

    পরীক্ষাটা কি সত্যিই শে’ষ হয়েছে?

    না। খাঁচাটা বদলেছে। বোতামের রং বদলেছে। কিন্তু নে’শা একই রয়ে গেছে।

    ১৯৬০ সালের সেই লাল বোতাম আজ ২০২৫ সালে একটি চারকোনা স্ক্রিন হয়ে আমাদের হাতেই আছে।

    ভাবুন তো,
    ◾আমরা কি খাবারের টেবিলে বসেও সেই স্ক্রিনে সুখ খুঁজছি না?

    ◾পাশে বসা মানুষকে উপেক্ষা করে ভার্চুয়াল জগতে ডুবে যাচ্ছি না?

    ◾মাঝরাতে ঘুম ভে’ঙে স্ক্রল করছি না?

    ইঁদুরটি কৃত্রিম সুখের পেছনে জীবন হা’রি’য়ে’ছি’ল। আমরা কি সময়, সম্পর্ক আর বাস্তব জীবন হা’রা’চ্ছি না?

    সেই আয়তাকার জিনিসটির নাম আপনি জানেনই।

    সময় থাকতে খাঁচা থেকে বেরিয়ে আসুন।
    বাস্তবের মানুষদের কাছে ফিরুন।

    -সংগৃহীত।

    2
    2 Comments
    • ১৯৬০ সালের ডোপামিন পরীক্ষাটি আপনি যেভাবে ২০২৬ সালের এই স্মার্টফোনের নেশার সাথে মেলালেন, তা সত্যিই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো।

Skip to toolbar