Profile Photo

সাম্য রায়Offline

  • gourabroy
  • “প্রথমবারের মতো নিজের লেখা একটি গল্প আপনাদের সামনে নিয়ে এলাম। অনেক দিনের জমানো কিছু অনুভূতি আর কাল্পনিক কিছু মুহূর্ত দিয়ে সাজানো এই ‘মিহিদানা’

    গল্পটি নিয়ে এখনো কাজ চলছে, অনেকটা পথ বাকি। তবে শুরুর এই অংশটুকু আপনাদের কেমন লাগলো, তা জানতে খুব ইচ্ছে করছে। আপনাদের ভালো লাগা বা মন্দ লাগা—যেকোনো মন্তব্যই আমাকে পরের অংশগুলো আরও সুন্দর করে লিখতে অনুপ্রেরণা দেবে।

    গল্প : মিহিদানা
    “লেখক : সাম্য রায় ”

    বৃতান্ত :
    ভালোবাসা মানেই সব সময় পাশে থাকা নয়, কখনো কখনো সেটা সময়ের পরীক্ষায় ধৈর্য আর বিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার নাম।
    মিহিদানা হলো এমনই এক সম্পর্কের গল্প—যেখানে দুজন মানুষ ভালোবেসেছিল, একে অপরকে হারিয়েছিল, আবার সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে একে অপরের হয়ে উঠেছিল।
    এটা কোনো রঙিন সিনেমার মতো গল্প নয়, বরং আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সেই চুপচাপ ভালোবাসার গল্প—যেটা চোখে জল আনে, আবার মুচকি হাসিও ফোটায়।
    ছোট শহর, ছোট স্বপ্ন আর এক গভীর ভালোবাসায় গড়া এক মিষ্টি সম্পর্কের নাম—মিহিদানা।

    পর্ব : ১
    সালটা ছিল ২০২১। গল্পের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই শুভ্র নামের এক ছেলেকে। শুভ্র অত্যন্ত নম্র, ভদ্র এবং শান্ত স্বভাবের ছেলে। তার কোনো খারাপ অভ্যাস নেই। সে একজন মেধাবী ছাত্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

    একদিন শুভ্র ক্যাম্পাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলো। বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সে খেয়াল করলো বাইরে প্রচণ্ড বাতাস বইছে, আকাশ কালো মেঘে ঢাকা—মনে হচ্ছে যে কোনো সময় প্রবল বৃষ্টি নামবে।

    তবুও শুভ্র কিছু না ভেবেই বেরিয়ে পড়ে। ক্যাম্পাস তার বাসা থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে, তাই সে হেঁটেই রওনা দেয়। কারণ, তার ভালো লাগে বৃষ্টি আসার আগের সেই মনমুগ্ধকর মুহূর্তটা। খুশি মনে সে হেঁটে চলে যায় ক্যাম্পাসের দিকে।

    ক্যাম্পাসে পৌঁছে দেখে, অনিক নামের তার একজন বন্ধু তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছে। অনিক ও শুভ্র এক বিভাগের ছাত্র, আর অনিক তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শুভ্রকে দেখে অনিক রেগে গিয়ে বলে,
    — “তুই কোথায় ছিলি রে? কতোক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি, পা ব্যথা ধরে গেল! আসি আসি বলেও এত দেরি করলি?”
    তখন শুভ্র হেসে উত্তর দেয়,
    — “আরে তোকে তো আজকে কফি ট্রিট দিব, তাই ভাবলাম একটু দাঁড়িয়ে রাখি ””
    অনিক কিছু না বলে চুপ করে যায়। এরপর তারা ক্যাম্পাসের ভিতরে যায়। শুভ্র বলে,
    — “তুই ৫ মিনিট দাঁড়া, আমি অফিস থেকে কিছু ডকুমেন্ট নিয়ে আসি। কোথাও যেন পালিয়ে যাস না, না হলে কফি পাবি না।”
    অনিক মজা করে বলে,
    — “আরে না, আমি এখানেই আছি, তুই যা তাড়াতাড়ি।”

    শুভ্র অফিস থেকে ডকুমেন্ট নিয়ে ফিরে এসে বলে,
    — “চল, এখন তোকে কফি খাওয়াই, না হলে তুই আবার রেগে যাবি।”
    অনিক হেসে বলে,
    — “ভাই, তুই অনেক ভালো রে।”
    শুভ্র মুচকি হেসে বলে,
    — “জানি রে।”

    তারা দু’জন মিলে ক্যাম্পাস থেকে বের হলো। এমন সময় শুরু হলো প্রবল ঝড়—তীব্র বাতাসে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। শুভ্র তখন বলে,
    — “তোর আজ আর কফি খাওয়া হবে না মনে হয়।”
    অনিক হাসতে হাসতে বলে,
    — “কফি না পাইলে আজ তোকে খেয়েই ফেলবো!”

    ঠিক তখনই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। শুভ্র হঠাৎ পাশেই একটি বাস স্টপ দেখে অনিককে নিয়ে সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিলো। দু’জনেই ভিজে একাকার। হঠাৎ এক মেয়ে এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে—সেও পুরো ভিজে গেছে। মেয়েটি তার ভেজা চুল সরাতেই চুলে জমা পানি ছিটকে পড়ে শুভ্রর মুখে। শুভ্র একটু বিরক্ত হয়ে মেয়েটার দিকে তাকাল, কিন্তু তাকাতেই সে স্তব্ধ হয়ে গেল!

    মেয়েটার চোখে-মুখে এমন এক মায়া ছিল, যেন শুভ্র হারিয়ে গেল সেখানে। সে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
    মেয়েটি বলে,
    — “হ্যাঁ, কি হয়েছে? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? কিছু বলবেন?”
    শুভ্র কেমন যেন চুপ করে থাকে।
    মেয়েটি মুচকি হেসে আবার বলে,
    — মাথায় কি সমস্যা?।”
    পেছন থেকে অনিক এসে বলে,
    — “কিরে! মেয়েটাকে ঝাড়ি দিতে গিয়ে, হঠাৎ প্রেমে পড়ে গেছিস নাকি ?”
    শুভ্র বলে,
    — “না রে, ওর চোখে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। কী মায়াবী চোখ, কী মিষ্টি হাসি! মনে হলো কোনো মায়ায় বাঁধা পড়ে গেলাম।”
    অনিক হেসে বলে,
    — “এইভাবেই হয় ভাই! কেবল তো শুরু রে”
    শুভ্র বললো,
    — “সত্যি বলছি, মেয়েটা অনেক মিষ্টি, কথা বলার ধরণটাও চমৎকার।”
    অনিক মজা করে বলে,
    — “তাহলে চল, শুনি মেয়েটা কোথায় থাকে!”
    শুভ্র লজ্জা পেয়ে বলে,
    — “থাক, শোনা লাগবে না।”
    অনিক বলে,
    — “তাহলে জানবি কীভাবে ওর নাম? পরিচয়?”
    শুভ্র মাথা নিচু করে বলে,
    — “জেনেই বা কী হবে…”
    অনিক বলে,
    — “তোকে এখন একটা চড় মারা উচিত! মেয়েটার চোখ দেখে ২২০ ভোল্টের শক খেলি, আবার বলিস কিছু জানার দরকার নেই! বৃষ্টি থেমে গেছে, চল এখন।”

    শুভ্র তখন ঠিক করে, মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করবে। কিন্তু পেছনে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা ততক্ষণে চলে গেছে।
    অনিক বলে,
    — “আরো বল বেশি করে , চোখে ডুবে গেছিস, মনে হারিয়ে গেছিস। কতোবার বললাম নামটা শুন, শুনলি না! থাক, এখানে দাঁড়িয়ে লাভ নেই, চল।”

    শুভ্র একটু মন খারাপ করে হাঁটতে থাকে। তখনই তার চোখে পড়ে তার সামনে পড়ে আছে একটি লেডিস পার্স ব্যাগ। ব্যাগটা হাতে নিয়েই শুভ্র চিনতে পারে—এই ব্যাগটা তো ওই মেয়েটার হাতে ছিল!
    সে অনিককে দেখিয়ে বললো,
    — “এই ব্যাগটা তো ওই মেয়েটার, আমি ওর হাতে দেখেছিলাম।”
    অনিক বললো,
    — “তাহলে এই ব্যাগটা তুই নিজের কাছে রেখে দে। কাল ক্যাম্পাসে এলে যদি আবার দেখা হয়, তখন দিয়ে দিস। তখন তো ওর নামও জানতে পারবি।”

    শুভ্র খুব খুশি হলো, ব্যাগটা হাতে নিয়ে তারা বাসার পথে রওনা দিল।

    এটি গল্পের শুরু মাত্র, সামনে আরও অনেক চমক আর নতুন সব পর্ব আসছে। পাশেই থাকুন, খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে পরবর্তী পর্বে !”

    7
    4 Comments
    • বৃষ্টিভেজা বাস স্টপে শুভ্রের প্রথম দর্শনের দৃশ্যটা পড়তে পড়তে নিজেও সেই মুহূর্তে হারিয়ে গেলাম। হারানো ব্যাগের সুতো ধরে গল্পটা যেদিকে যাবে সেটা ভাবতেই মনে উত্তেজনা জাগছে। পরের পর্বগুলো অপেক্ষায় রইলাম!

      • “এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞ। আশা করি সামনের পর্বগুলোও ভালো লাগবে। আজকেই পেয়ে যাবেন ২য় পর্ব “

    • অল্প কথায় খুব সুন্দর করে দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে মনোবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে শুভ্রর দৃষ্টিভঙ্গি আরও গভীরে দেখার সুযোগ আছে ভবিষ্যতে। ব্যাগটা পাওয়ার পর ওর ভেতরে যে উত্তেজনা, তা খুব সুন্দর ফুটেছে।

      • “ধন্যবাদ! ব্যাগটা পাওয়ার পর শুভ্রর ভেতরের যে উত্তেজনা—সেটা তো কেবল শুরু। একজন সাইকোলজির ছাত্রের চোখে পৃথিবীটা কেমন, তা সামনে আরও পরিষ্কার হবে। পাশে থাকুন!”

Skip to toolbar