Profile Photo

Anik BiswasOffline

  • anikbiswas
  • Profile picture of Anik Biswas

    Anik Biswas

    • 6 months, 3 weeks ago

    || আবার ফিরে দেখা ||

    “ ঈপ্সিতা?” ডাকটা শুনে পিছনে ফিরে তাকালো ও।
    গত ৫ বছর আগে এই একই পুজো মণ্ডপে ওর সাথে আমার প্রথম দেখা।আর আজ আবার ফিরে দেখা ওর সাথে।কিন্তু আজ ও সেই ঈপ্সিতা না,আজ ও একজন বিবাহিতা নারী।আজ ও শাড়ি পড়েছে,কপালে সিঁদুর,হাতে শাখা।
    পিছনে ফিরে তাকিয়ে ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বললো,”আকাশ…কেমন আছো?”
    আমিও ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম, কিন্তু পরে নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তরটা দিলাম,”ভালো, তুমি কেমন আছো ঈপ্সিতা?”
    “হ্যা,ভালোই”
    তারপর আবার কিছুক্ষণের জন্য নিরবতা।
    নিরবতা ভেঙে হঠাৎ করে অজান্তেই আমি প্রশ্নটা করে ফেললাম,”সেদিন আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। তুমি এলে না কেন?”
    প্রশ্নটা করে মনে হয়েছিল যে,প্রশ্নটা করা কি আমার উচিত হলো?কিন্তু করে তো ফেললাম !
    “আমি আসতে চেয়েছিলাম,কিন্তু…”
    “কিন্তু কি ঈপ্সিতা?”
    “সেদিন আমায় ছেলেপক্ষ দেখতে এসেছিলো,আমি কিছু জানতাম না,নাহলে আমি তোমাকে জানাতাম সব।”
    “আমি তোমাকে ফোন করেছিলাম।তুমিও তো পরে আমাকে সবকিছু জানাতে পারতে ঈপ্সিতা?”
    ঈপ্সিতা জড়ানো গলায় উত্তর দিলো,“আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল।পরিবারের সবাই খুশি ছিল।আমার ইচ্ছে ছিলনা।পরিবারকে বলতেও সাহস হচ্ছিল না। তোমাকে কি করে বোঝাবো?আমি কি একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছি আকাশ! তারপরও আমি অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাও তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারি নি,সাহস হয়নি।যখন হয়েছে জানতে পারলাম,তুমি বিদেশ চলে গেলে।আমি আর কোনোরকম চেষ্টা করিনি।তোমার সেসময় ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেয়ার প্রয়োজন ছিল।”
    আমি কিছু বলিনি।
    ঈপ্সিতাই বললো,“তুমি তো আমাকে বলোনি যে তুমি বিদেশ চলে যাবে?”
    “পরেরদিনই আমার ফ্লাইট ছিল।আমার চাকরিটা হয়ে গিয়েছিলো। তোমাকেও সেদিনই জানতাম কথাটা।সেদিন আমি যে কত খুশি ছিলাম!সেদিন আমার পরিবারের সাথে তোমার পরিচয় করাতাম।অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম।অনেকবার কল করলাম।ধরলে না।এলেও না!আমি পরদিন এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তোমাকে কল করে গেছি।একটাও কল ধরোনি!”
    “আকাশ…”
    দেখলাম ওর চোখ দিয়ে জল পরছে!
    আমি বললাম,“এখন কেমন আছো?”
    ঈপ্সিতা আরো কিছু বলতে চাচ্ছিলো এমনসময় এক ভদ্রলোক এসে ওর পাশে দাঁড়ালো।ও নিজেকে সামলে নিয়ে আমার সাথে ভদ্রলোকের পরিচয় করিয়ে দিলো,”আকাশ,ইনি অরিত্র-আমার প্রিয় বর।আর অরিত্র,ইনি আকাশ-আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।” মুখে একটা ছোট্ট হাসি নিয়ে কথাটা বললো ঈপ্সিতা।
    আমি বললাম, “তা,কেমন আছেন অরিত্র?”
    “ভালো,আপনি?”অরিত্র একটা হাসি দিয়ে বললো।
    “এইতো কেটে যাচ্ছে।”
    “আপনাকে তো বিয়েতে দেখি নি।“
    “আসলে আমি দেশের বাইরে ছিলাম, তাই বিয়েতে আসতে পারি নি।গত মাসেই ফিরলাম।“
    “আচ্ছা।তা ওর চোখ ভিজে লাগছে কেন?পুরনো বন্ধুকে অনেকদিন পর দেখে ইমোশনাল হয়ে গেলে নাকি?” ঈপ্সিতার দিকে তাকিয়ে বললো কথাটা।তারপর বললেন,“আচ্ছা,তো একদিন আমাদের বাসায় আসুন না,জমিয়ে আড্ডা দেবো?হাজার হোক,আপনি আমার স্ত্রীর বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা,আমারও তো তাহলে বেস্ট ফ্রেন্ড।”
    “অবশ্যই আসবো।“
    “কিন্তু আমাদের এখন যেতে হচ্ছে।”
    “হ্যা,দেখা হয়ে ভালো লাগলো।”
    “থ্যাঙ্কস।” তারপর অরিত্র ঈপ্সিতার দিকে তাকিয়ে বললো,”যাওয়া যাক,ঈপ্সিতা?”
    “হ্যা..”ঈপ্সিতা বললো। আমার দিকে তাকিয়ে আবার বললো, “আকাশ,যাচ্ছি তাহলে আজ।তুমি একদিন আমাদের বাসায় এসো।”
    “অবশ্যই যাবো, ঈপ্সিতা।” বললাম আমি।

    অরিত্র ঈপ্সিতার হাত ধরে হাঁটতে শুরু করলো।ঈপ্সিতা একবার আমার দিকে তাকিয়েছিলো,তারপর আবার হাঁটতে শুরু করলো।
    ঈপ্সিতাকে শাড়িতে কি সুন্দর যে লাগছিলো!একসময় আমিও ওকে এইরূপেই কল্পনা করতাম,কিন্তু আজ এই কল্পনায় আমার কোনো অধিকার নেই। আছে তো, শুধুমাত্র অরিত্রর।
    ওদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে কেন জানি আমার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো!

    ~অনিক বিশ্বাস

    3
    10 Comments
    • অনেক সুন্দর লিখেছেন।

    • ভালোবাসাগুলো পূর্ণতা পাক!

    • কিছু ফিরে দেখা আনন্দ দেয় না, বরং পুরনো ক্ষতকে তাজা করে দেয়। শেষ লাইনের সেই ঝাপসা দৃষ্টি প্রতিটি হারানো প্রেমিকের কথা বলছে। দারুণ লিখেছেন!

      • ধন্যবাদ।কিন্তু কোনো এক কারণে গল্পটা কেন যেন মনমতো হয়নি!

      • অপূর্ণতার বোধই মহৎ শিল্প সৃষ্টি করে। আপনার জন্য শুভকামনা

      • এখন গল্পটা একটু অন্যরকমভাবে লিখেছি। সময় হলে পড়ে মতামত জানাবেন।

    • অপূর্ণতার মাঝেও যারা কৃতজ্ঞ থাকে তারাই মহান।

Skip to toolbar