Profile Photo

Kd Rezaul Karim HiraOffline

  • KDRKH2005
  • Profile picture of Kd Rezaul Karim Hira

    Kd Rezaul Karim Hira

    6 days, 18 hours ago

    পুরুষ নাকি ষাঁড় গরু
    লেখকঃ- মোঃ রেজাউল করিম
    তারিখঃ ৩১/০৫/২০২৬ইং

    কোরবানির ঈদে ষাঁড় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকে। এক লাখের গরু দুই লাখ, তিন লাখের গরু সাত লাখ, দাম শুধু বাড়তেই থাকে ক্রমবর্ধমান। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, এই লাইনটা কেউ দেখলে অন্তত কিছুক্ষণের জন্য মনে করবে, এই ‘ষাঁড়’ বলতে আমি মানুষ নামে পুরুষকে বুঝাচ্ছি। যদিও আমি সেটা বুঝাচ্ছি না। তবে দুটোর মধ্যেই কেন জানি একই আক্ষরিক অর্থের ছায়া খুঁজে পাই।

    ঈদে ষাঁড়ের দাম যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমন পুরুষ নামে কিছু হাম্বারও বৃদ্ধি পায়। অবশ্য বৃদ্ধি পায় বললে ভুল হবে; তাদের পরিবার বৃদ্ধি করে পান খেয়ে এক গাল হেসে হেসে।
    কোন যুক্তিতে জানেন?
    গরুকে দামি দামি খাদ্য খাইয়ে বড় করেছে, সুঠাম দেহের অধিকারী করেছে। ইশ! আবারও গরু আর পুরুষকে আলাদা করতে পারলাম না। অনেকে ভাববে, এই খাওয়ানো বলতে আমি পুরুষকে সুপুরুষ হিসেবে গড়ে তোলাকে ইঙ্গিত করলাম। কিন্তু না, আমি এটা বলবো না যে পুরুষ লালন-পালনকারী মাতা-পিতা যোগ্যতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করে, আর গরুর চেহারাটা একটু সাফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন হলে মূল্যটা চড়া করে।
    এ কী বিপদে পড়লাম! একটা বললেই আরেকটার কাল্পনিক ছবি ভেসে ওঠে কেন? গরু আর পুরুষ নামে গরুর বৈশিষ্ট্যগুলো কি সরলরেখায় সমানুপাতিক হারে চলতে শুরু করেছে নাকি?

    যাই হোক, বেশি কিছু বললে আবার বরপক্ষ আর পাত্রীপক্ষ দুই দলের কাছেই মাইর খেতে হবে। কারণ এই পিক মোমেন্টে গৃহস্থের যেমন গরু বিক্রি প্রয়োজন, তেমনই কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার ক্রয় করাও অতীব জরুরি।
    গ্রিসের যে এথেন্সে যৌতুকের সূচনা হয়েছিল, আবার সেই এথেন্সেই গণতন্ত্রের জন্ম। ফলে মানুষের গরু বেচাকেনা নিয়ে কিছু বলা আমার অনুচিত, এটা গণতান্ত্রীক অধিকার জ্ঞান করতেই পারে কেউ কেউ। যদিও ষাঁড় কিনে মেয়ের হাতে রশি ধরিয়ে দেওয়ার নিয়মটা বৈদিক যুগের ভারতীয় উপমহাদেশেই বেশ জাঁকিয়ে বসেছিল এবং আজও বসে আছে।
    মনে হচ্সছে এটাতে কারো সমস্যা নেই। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য শরিয়াহর একটা বিধান আছে, তবে তা দিন দিন উঠেই যাচ্ছে। হেহেহে! যাওয়া উচিতও বটে। এসব মধ্যযুগীয় বিধান না কন্যার পছন্দ, না পিতার। তাহলে তো ষাঁড় কেনাবেচার মজাটাই থাকে না!
    দায় এরানো মজা তো এখানেই, “অমুকের হাম্বীর সঙ্গে তমুকের ষাঁড়ের পাঁচ লক্ষ এক টাকা ধার্য করিয়া, দুই হাজার টাকা নাকের বরখা বাবদ আদায় করিয়া, চার লক্ষ আটানব্বই হাজার এক টাকা বাকি রাখিয়া ষাঁড়ের হাতে তুলিয়া দিলাম।”
    দুই দলের গৃহস্থই এতটাই আহাম্মক যে, একজন মেয়ের জন্য ভালো ষাঁড় কিনে সমাজে গর্ব করতে ছাড়ে না, আরেকজন উচ্চদামে বিক্রি করেও গর্ব করতে পিছপা হয় না।
    “জানো নাকি ভায়া? আমার দামরাটা কিন্তু লাখে এক!”

    দামরা গুলোও আবার শাহীওয়াল আর ব্রাহমা জাতের গরু। অত্যন্ত শান্ত, ধৈর্যশীল স্বভাবের। এদের রাগ কম, কোলাহলমুক্ত পরিবেশে চুপচাপ বসে থাকতে পছন্দ করে। আমি বলছি না যে এরা রবীন্দ্রনাথের ‘অপরিচিতা’-র অনুপমের জাতের; বরং তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে।
    গরু কেনাবেচার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে যদি কিছু জানাতে চাই, কিছু কন্যার কিংবা পুত্রের পিতা রাগ করতে পারেন। কিন্তু যে গৃহস্থের মধ্যে আত্মা নেই, লজ্জা নেই, জেদ নেই, সর্বোপরি মানুষত্বই নেই,তাদের রাগ-অভিমানে আমার যায় আসে না। বরং সন্ধ্যায় উঠান ঝাড়ু দেওয়ার সরঞ্জাম দিয়ে তাড়া করলে বাঁচি।

    আমার এক প্রতিবেশীর বাড়িতে একটা শ্যামলা ষাঁড়; দুঃখিত, বিবাহযোগ্য ছেলে ছিল। সম্পর্কে আমার কী হয়, সে কথা না বললেও চলবে।
    গৃহস্থের পক্ষ থেকে কয়েকজন কন্যা দেখতে গেল। কন্যার পিতার হয়তো ঘাড়ে কন্যা চেপে বসে আছে, ফলে ষাঁড় না দেখেই কিনতে উঠেপড়ে লাগলেন। সুযোগ বুঝে তিন লাখ টাকা চাইল ষাঁড়ের পক্ষ। চাইবেই না বা কেন? ঈদের সময় যে! অন্য সময় বড়জোর লাখখানেকেই বিক্রি হতো।
    গরু না দেখেই হাজার পঞ্চাশ টাকা অগ্রিম দিয়ে বসলেন।
    পরদিন বাইনা করা গরুর চেহারা-সুরত দেখে পাকা কথা বলতে এলেন। এসে শুনলেন, গৃহস্থ সুযোগ বুঝে বরের চাচা আর ফুফাতো মেয়ের জামাইয়ের জন্য দুটো আংটিও আবদার করেছেন।

    কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা এটা শুনিয়ে মনে মনে হয়তো ভাবতে বসেছিল ,” হায়! মেয়ের জন্য ষাঁড় কিনতে এসে ষাঁড়ের চৌদ্দগোষ্টীকে সন্তুষ্ট করতে না পারলে যেন কোন পিতা মেয়ে জন্ম না দেয়” গরু আলাদের এসব চাওয়া চিমটিতে কন্যার পিতার আত্মসম্মানে লাগল কি না বোঝা গেল না। তবে চুপ্টি করে বসে থেকে চাপিয়া গেল।
    বিবাহ ভাঙ্গিয়া যাবে দেখে চুপচাপ থাকা ষাঁড়টাকে কোথাও দেখা না গেলেও, তার ছোট ভাইকে আশেপাশে দেখা গেল। যাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমারে দশ লাখ দিলেও এই মাইয়া বিয়া করতাম না!”
    লজ্জা, অপমান, না কি বাজেট সংকট; কোন কারণে সেদিন কন্যাপক্ষ টাকা নিয়ে চলে গিয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে আমার মনে হয়েছিল, এবার বুঝি গরুটা বিক্রি হবে না। এভাবে চড়া দাম চাইলে বছর খানেক আবারো পালতে হবে।
    কিন্তু পরদিনই আমাকে ভুল প্রমাণ করে কন্যার পক্ষরা দুই লাখ টাকা আর দুইটি আংটিতে রাজি হয়ে গিয়েছে বলে খবর পেলাম। গরুর মালিকরাও বুঝে ফেলেছিল, ঈদের আমেজ শেষ; তাই বুকে পাথর বেঁধে কম দামে পাকা কথা দিয়ে দিল।
    কীভাবে কীভাবে যেন আমার কানে একটা কথা এসেছিল, “একটা মূর্খ পোলা, শ্যামলা, তাও এত দাম?” আমি মনে মনে দাত কেলিয়ে হিহিহি করে হাসলাম। কারণ বক্তা নিজেই গত বছর তার নিজের দামরাটাকে দ্বিগুণ দামে হাটে তুলেছিলেন।

    ****

    2
    1 Comment
Skip to toolbar