-
সীমানা পেরিয়ে
(পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্টার্ণ)অধ্যায়–ছয়
পরদিন ভোরে ব্ল্যাক রিভারের ওপর হালকা কুয়াশার চাদর নেমে ছিল। নদীর দিক থেকে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাস শুকনো ঘাসের মাথাগুলোকে আস্তে আস্তে দুলিয়ে দিচ্ছিল। পূর্ব আকাশে সূর্যের প্রথম আলো ফুটতে শুরু করেছে, কিন্তু র্যাঞ্চের বিস্তীর্ণ তৃণভূমির ওপর এখনো রাতের শিশির ঝলমল করছে। দূরে গরুর পাল নিঃশব্দে ঘাস খাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কোনো বাছুর মায়ের ডাক শুনে মাথা তুলে তাকাচ্ছে, আবার ঘাসের ভেতর মুখ নামিয়ে দিচ্ছে। আস্তাবলের সামনে ঘোড়াগুলোও একে একে জেগে উঠেছে। কেউ খুর দিয়ে মাটি আঁচড়াচ্ছে, কেউ দীর্ঘশ্বাসের মতো শব্দ তুলে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। এই দৃশ্য এখন আর মারদেকার কাছে নতুন নয়। কয়েক মাস আগেও প্রতিটি সকাল তাকে বিস্মিত করত, কিন্তু আজ সে জানে, সূর্য ওঠার আগেই এই র্যাঞ্চের জীবন শুরু হয়ে যায়। পশ্চিমের মানুষ দিনের আলোকে কখনো অপচয় করে না।গতকালের শহর-ভ্রমণের স্মৃতি এখনো তার চোখের ভেতর ভাসছে। ব্ল্যাক রিভারের দোকানগুলো, মানুষের ভিড়, গরম রুটির গন্ধ, খেলনার দোকানের কাঁচের ভেতর রাখা ছোট্ট কাঠের ঘোড়া, সবকিছু যেন রাতে ঘুমের মধ্যেও তাকে অনুসরণ করেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, শহরের চাকচিক্য তাকে র্যাঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়নি। বরং আজ সকালে উঠোনে পা রাখতেই তার মনে হলো, এটাই তার নিজের জায়গা। সে অভ্যাসমতো প্রথমে আস্তাবলের দিকে গেল। দরজা খুলতেই ভেতর থেকে উষ্ণ নিশ্বাসের সঙ্গে খড়ের গন্ধ এসে লাগল মুখে। সারি সারি ঘোড়া শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে কয়েকটা তাকে দেখেই কান খাড়া করল। বাদামি রঙের বুড়ো ঘোড়াটা, যেটার জিন বাঁধা সে প্রথম শিখেছিল, মাথা বাড়িয়ে তার কাঁধে নাক ছুঁইয়ে দিল। মারদেকা হেসে তার কপালে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল। ভাষা আলাদা হলেও মানুষ আর প্রাণীর মধ্যে যে বিশ্বাস জন্মাতে পারে, সেটা সে ধীরে ধীরে নিজের জীবন দিয়েই শিখছে।
বাইরে বেরোতেই বাড হিগিন্স তাকে দেখে মাথা নেড়ে ডাকল। এখন আর আগের মতো বেশি ইশারা করতে হয় না। মারদেকা অনেক শব্দ শিখে ফেলেছে। পুরো বাক্য বলতে পারে না, কিন্তু ছোট ছোট নির্দেশ বুঝতে পারে। বাড মাটিতে রাখা দুটি খালি পানির বালতির দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, “ওয়াটার।” মারদেকা সঙ্গে সঙ্গে বালতি দুটো তুলে কূপের দিকে হাঁটল। কাজটা খুব কঠিন নয়, কিন্তু সহজও নয়। বালতি ভরে ফিরতে ফিরতে তার হাত টনটন করতে লাগল। তবু সে থামল না। কারণ সে বুঝে গেছে, এই র্যাঞ্চে কাউকে আলাদা করে মূল্য দেওয়া হয় না। এখানে যে যত ভালো কাজ করে, তার মূল্য ততই বাড়ে।
সকাল গড়াতে গড়াতে তার হাতে আরও ছোট ছোট কাজ এসে জমল। কোথাও শুকনো খড় এনে রাখতে হলো, কোথাও ভাঙা বেড়ার পাশে নতুন খুঁটি টেনে দিতে হলো, কোথাও আবার দড়ি গুছিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হলো। কয়েক মাস আগেও যেসব জিনিস তার কাছে দুর্বোধ্য ছিল, আজ সেগুলোর অনেকটাই সে নিজে থেকে বুঝে করতে পারে। ভুল এখনো হয়, কিন্তু সেই ভুল আর আগের মতো ঘনঘন হয় না।
বাড দূর থেকে দাঁড়িয়ে কয়েকবার তার কাজ দেখল। কোনো মন্তব্য করল না। শুধু একসময় মিগুয়েলের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল, “ছেলেটাকে এখন আর সবসময় বলে দিতে হয় না।”
মিগুয়েল হেসে উত্তর দিল, “আমি তো প্রথম দিনই বলেছিলাম, ওর চোখ দুটো আলাদা।”
বাড কিছু বলল না। কিন্তু মুখের কোণে চাপা একটা হাসি ফুটে উঠল।
এই সময়টায় ইলাই প্রায়ই উঠোনের এক কোণে বসে পুরোনো বই পড়ত। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। মারদেকা খড়ের বোঝা নামিয়ে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে বৃদ্ধের পাশে দাঁড়াল। ইলাই বই বন্ধ করে তার দিকে তাকাল। তারপর মাটিতে কাঠি দিয়ে ধীরে ধীরে কয়েকটা শব্দ লিখল। Horse. River. Sky. তারপর একে একে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করল।
মারদেকাও ধীরে ধীরে অনুসরণ করল। “Horse.” এই শব্দে আর তার জড়তা নেই। “River.” এবারও উচ্চারণ মোটামুটি পরিষ্কার। “Sky.” এই শব্দটা বলতে গিয়ে সে একটু আটকে গেল। ইলাই আবার বলল। মারদেকা দ্বিতীয়বারে ঠিক করে উচ্চারণ করল।
বৃদ্ধের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সে এবার আকাশের দিকে আঙুল তুলে আবার বলল, “Sky.” তারপর নদীর দিকে ইশারা করল, “River.” তারপর আস্তাবলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়াগুলোর দিকে দেখিয়ে বলল, “Horse.”
মারদেকা এবার শুধু শব্দ মুখস্থ করল না। শব্দ আর বাস্তব জিনিসের সম্পর্কটাও বুঝতে শুরু করল। ভাষা তার কাছে আর কাগজের অক্ষর হয়ে থাকল না। ধীরে ধীরে তা পৃথিবীকে চিনে নেওয়ার নতুন দরজায় পরিণত হতে লাগল।
দুপুরের দিকে ওলফ লারসেন মাঠ ঘুরে ফিরে এল। ঘোড়া থেকে নেমে সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দূর থেকে মারদেকাকে দেখল। ছেলেটা তখন একা হাতে চামড়ার দড়িগুলো পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখছে। কাজ শেষ হলে সে নিজেই সেগুলো ঠিক জায়গায় ঝুলিয়ে দিল। কেউ তাকে সেটা করতে বলেনি। সে নিজের দায়িত্ব বুঝে করেছে। লারসেনের অভিজ্ঞ চোখে বিষয়টা এড়িয়ে গেল না। সে ধীরে ধীরে বাডের পাশে এসে দাঁড়াল। “কেমন করছে?”
বাড চোখ না সরিয়েই উত্তর দিল, “কাজ শেখানো যায়। কিন্তু কাজ খুঁজে নেওয়া শেখানো যায় না। ও নিজে থেকেই সেটা শিখছে।”
লারসেন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বিস্তীর্ণ র্যাঞ্চের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দূরে গরুর ঘণ্টার মৃদু শব্দ ভেসে আসছে। তার চোখ তখনও মারদেকার ওপর স্থির। কয়েক মাস আগে যে ছেলেটা শুধু আশ্রয়ের জন্য এখানে এসেছিল, সে আজ ধীরে ধীরে এই র্যাঞ্চের জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। হয়তো এখনও কেউ সেটা মুখে বলবে না। কিন্তু এই কঠিন পশ্চিমে স্বীকৃতি কথায় নয়, কাজে দেওয়া হয়। আর মারদেকা অজান্তেই সেই স্বীকৃতির দিকে এক ধাপ করে এগিয়ে চলেছে।
কিন্তু একই সময়, ব্ল্যাক রিভারের অন্য প্রান্তে কয়েক জোড়া চোখও নীরবে অপেক্ষা করে আছে। তারা তাড়াহুড়ো করছে না। তারা জানে, বড় আঘাত হানতে হলে আগে সময়কে নিজের পক্ষে আনতে হয়। আর সময়, ধীরে ধীরে, অদৃশ্য স্রোতের মতো, সবাইকে নিজের নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে চলেছে।
সেদিন বিকেলের দিকে রোদ যখন একটু নরম হতে শুরু করেছে, তখন র্যাঞ্চের কাজও ধীরে ধীরে গুছিয়ে আসছিল। প্রখর উত্তাপ কেটে গিয়ে তৃণভূমির ওপর দিয়ে শুষ্ক কিন্তু আরামদায়ক বাতাস বইতে শুরু করেছে। দূরের পাহাড়গুলোর গা ধীরে ধীরে গাঢ় নীল হয়ে উঠছে। সূর্যের আলোয় ঘাসের মাথাগুলো সোনালি রঙে ঝিলমিল করছে। গরুর পালকে পশ্চিমের চারণভূমি থেকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। কয়েকজন কাউবয় ঘোড়ায় চড়ে দূরে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বাঁশির মতো সরু সুরে ডাক দিচ্ছে, কেউ লম্বা দড়ি ঘুরিয়ে অলস হয়ে পড়া একটা বাছুরকে আবার পালের দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এই দৃশ্য এখন মারদেকার কাছে শুধু দেখার বিষয় নয়। সে মন দিয়ে লক্ষ্য করে, কে কখন কী করছে, কেন করছে। কারণ সে বুঝে গেছে, র্যাঞ্চে প্রতিটি কাজেরই একটা নিয়ম আছে। সেই নিয়ম না বুঝে শুধু অনুকরণ করলে কখনো প্রকৃত কাউবয় হওয়া যায় না।
বাড হিগিন্স অনেকক্ষণ ধরেই তাকে লক্ষ করছিল। কয়েক মাসে ছেলেটার মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটা চোখে না পড়ে উপায় নেই। আগের মতো সে আর প্রতিটি কাজের আগে নির্দেশের অপেক্ষা করে না। কোথাও দড়ি পড়ে থাকলে নিজে থেকেই গুছিয়ে রাখে, খড়ের গাদা কমে গেলে এনে ভরে দেয়, পানির পাত্র খালি দেখলে কাউকে না বলেই ভরে ফেলে। সবচেয়ে বড় কথা, সে এখন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কথাই বুঝে নিতে পারে। ভাষা পুরো শেখেনি, কিন্তু কাজের ভাষা শিখে ফেলেছে।
বাড আস্তাবলের ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ পরে হাতে একটা পুরোনো কিন্তু ভালো অবস্থার জিন নিয়ে বেরিয়ে এল। জিনটা সে মাটিতে নামিয়ে রাখল। তারপর মারদেকাকে ডাকল। ছেলেটা দ্রুত এগিয়ে এল। বাড এবার কোনো কথা বলল না। শুধু জিনটার দিকে তাকাল, তারপর আস্তাবলের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা মাঝারি গড়নের বাদামি ঘোড়াটার দিকে আঙুল তুলল।
মারদেকা কয়েক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে রইল। এই কাজ সে আগেও শিখেছে। কিন্তু সেদিন বাড প্রতিটি ধাপে তাকে সাহায্য করেছিল। আজ বাডের হাত দুটো বুকের ওপর ভাঁজ করা। তার চোখে এমন একটা দৃষ্টি, যা স্পষ্ট বলে দিচ্ছে, আজ সাহায্য করা হবে না।
ছেলেটা ধীরে ধীরে জিনটা তুলে নিল। আগের তুলনায় এখন তার শরীর অনেকটা শক্ত হয়েছে। প্রথম দিকে যে ওজন তাকে টলিয়ে দিত, আজ সেটা সামলাতে কষ্ট হচ্ছে না। সে ঘোড়ার পাশে গিয়ে একবার প্রাণীটার ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিল। ঘোড়াটাও শান্তভাবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর খুব সাবধানে জিনটা তুলে পিঠের ওপর বসাল। প্রথমবারেই ঠিক জায়গায় বসাতে পারল না। নিজের ভুল সে নিজেই বুঝল। আবার নামাল। একটু পেছনের দিকে সরিয়ে দ্বিতীয়বার বসাল। এবার অবস্থান ঠিক হলো।
বাড এখনো চুপ করে আছে।
মারদেকা নিচু হয়ে পেটের নিচ দিয়ে বেল্ট টেনে আনল। বাকলে আটকে ধীরে ধীরে টান দিল। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে দেখল কোথাও বেশি শক্ত হয়ে গেছে কি না। এই অভ্যাসটা সে বাডের কাছ থেকেই শিখেছে। ঘোড়ার শরীরের আরাম আগে, মানুষের সুবিধা পরে। সবকিছু শেষ করে সে এক পা পিছিয়ে দাঁড়াল।
বাড এগিয়ে এসে নিজে হাতে জিনটা পরীক্ষা করল। সামনের বাঁধন, পেছনের বেল্ট, পায়ের রকাব, সবকিছু একবার দেখে নিয়ে সে প্রথমবারের মতো স্পষ্ট স্বরে বলল, “ভালো।”
মাত্র একটি শব্দ। কিন্তু সেই একটি শব্দই মারদেকার বুকের ভেতর অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল।
দূরে দাঁড়িয়ে ওলফ লারসেন পুরো দৃশ্যটা দেখছিল। সে কাছে এসে ঘোড়াটার লাগাম হাতে নিল। তারপর এক মুহূর্তও কিছু না বলে নিজের বুটের পা রেকাবে রেখে অনায়াসে ঘোড়ার পিঠে উঠে বসল। কয়েক কদম সামনে গিয়ে আবার নেমে এল। জিনে কোনো সমস্যা হয়নি। লারসেন এবার বাডের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল, “এবার ওকে পরের ধাপ শেখানোর সময় হয়েছে।”
মারদেকা কথাটা পুরো বুঝতে পারল না। কিন্তু “নেক্সট” শব্দটা সে আগে শুনেছে। নতুন কিছু শেখানো হবে, এটুকু বুঝে তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
বাড হালকা হেসে বলল, “আগে ভারসাম্য। তারপর গতি।”
লারসেন সম্মতি জানাল।
সন্ধ্যার আগে তারা র্যাঞ্চের পেছনের খোলা চারণভূমিতে গেল। জায়গাটা সমতল। চারদিকে নরম ঘাস। নতুন কাউকে ঘোড়ায় চড়া শেখানোর জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা হয় না। বাড সেই একই শান্ত স্বভাবের বাদামি ঘোড়াটাকে নিয়ে এল। এবার সে নিজে ঘোড়ার পাশে দাঁড়িয়ে মারদেকার দিকে তাকাল।
কোনো তাড়া নেই। কোনো চাপ নেই। শুধু একটা নতুন শিক্ষার শুরু।
মারদেকা ধীরে ধীরে ঘোড়ার পাশে এসে দাঁড়াল। তার বুকের ভেতর উত্তেজনা বাড়ছে। এতদিন সে ঘোড়ার পরিচর্যা করেছে, জিন পরিয়েছে, লাগাম ধরেছে, পাশে পাশে হেঁটেছে। কিন্তু আজ প্রথমবার সে বুঝতে পারল, সামনে যে দরজাটা খুলতে যাচ্ছে, তার ওপারেই রয়েছে পশ্চিমের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়। একজন মানুষকে সত্যিকারের কাউবয় বানায় শুধু বন্দুক নয়, তার আগে ঘোড়া।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে, র্যাঞ্চের বেড়ার অনেক দূরে, ধুলোমাখা পথের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে একজন অচেনা ঘোড়সওয়ার এগিয়ে আসছিল। সে র্যাঞ্চের দিকে তাকাল না, ভেতরে ঢোকার চেষ্টাও করল না। শুধু দূর থেকে জায়গাটা একবার চোখে মেপে নিয়ে আবার নিজের পথ ধরে চলে গেল। র্যাঞ্চের কেউ তাকে খেয়াল করল না।
কিন্তু পশ্চিমের দেশে অনেক সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা শুরু হয় এমনভাবেই, যখন কেউ বুঝতেই পারে না যে খেলা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
পরদিন ভোরে সূর্যের আলো যখন ব্ল্যাক রিভারের বিস্তীর্ণ প্রেইরির ওপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন র্যাঞ্চের পেছনের খোলা চারণভূমিটা প্রায় নিস্তব্ধ। রাতের শিশিরে ভেজা ঘাসের মাথায় আলো পড়ে ছোট ছোট কাঁচের টুকরোর মতো ঝিলিক দিচ্ছে। দূরে গরুর পাল এখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। কয়েকজন কাউবয় তাদের দিনের কাজ শুরু করার আগে ঘোড়াগুলোর জিন পরীক্ষা করছে। বাতাসে ঘাস, শুকনো মাটি আর চামড়ার গন্ধ মিশে আছে। সেই খোলা জায়গার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বাড হিগিন্স, তার পাশে আগের দিনের সেই শান্ত স্বভাবের বাদামি ঘোড়াটা। আর কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে আছে মারদেকা। গত সন্ধ্যায় লারসেন বলেছিল, এবার তার পরের শিক্ষা শুরু হবে। সেই কথাটাই সারারাত তার মনে ঘুরেছে। উত্তেজনা আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে অজানা কিছুর প্রতি স্বাভাবিক ভয়।
বাড আজও বেশি কথা বলল না। সে জানে, অনেক শিক্ষা মুখে বোঝানো যায় না, হাতে ধরে দেখাতে হয়। প্রথমে সে নিজেই খুব ধীরে ধীরে রেকাবে পা রাখল, শরীরের ভারসাম্য ঠিক রেখে অনায়াসে ঘোড়ার পিঠে উঠে বসল। তারপর আবার নেমে এল। একবারও তাড়াহুড়ো করল না। প্রতিটি নড়াচড়া এত স্বাভাবিক যে মনে হয় কাজটা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ ব্যাপার। তারপর সে রেকাবের দিকে আঙুল দেখিয়ে মারদেকাকে এগিয়ে আসতে ইশারা করল।
মারদেকা ঘোড়ার পাশে এসে দাঁড়াল। একবার প্রাণীটার চোখের দিকে তাকাল। গত কয়েক মাসে সে শিখেছে, ঘোড়াকে কখনো ভয় দেখানো যায় না। ভয় দেখালে সে ভয়ই ফিরিয়ে দেয়। সে আলতো করে ঘোড়ার ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিল। বাদামি ঘোড়াটা শান্তভাবেই দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মারদেকা বাম পা রকাবে তুলল। ডান হাত দিয়ে জিনের সামনের অংশ শক্ত করে ধরল। কিন্তু শরীরটা ওপরে তোলার মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল। এক ঝটকায় আবার মাটিতে নেমে এল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিগুয়েল হেসে ফেলল। তবে সেই হাসিতে বিদ্রূপ ছিল না, ছিল নিজের প্রথম দিনের স্মৃতি।
বাডও হাসল না। সে শুধু আবার একই কাজ করে দেখাল। এবার সে নিজের শরীরের ভর কোথায় রাখতে হবে, সেটা হাতের ইশারায় বোঝাল। মারদেকা দ্বিতীয়বার চেষ্টা করল। এবার সে একটু ওপরে উঠতে পারল, কিন্তু ডান পা ঘোড়ার পিঠের ওপারে নেওয়ার আগেই শরীর কাত হয়ে গেল। আবার নেমে এল। কপালে ঘাম জমল। ঠোঁট কামড়ে সে কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর তৃতীয়বার চেষ্টা করল।
এইবার সে ঘোড়ার পিঠে উঠতে পারল।
তবে ঠিকমতো বসতে পারল না। শরীর শক্ত হয়ে আছে। দুই হাত এত জোরে জিন আঁকড়ে ধরেছে যে আঙুলের গাঁট সাদা হয়ে উঠেছে। ঘোড়াটা কয়েক পা এগোতেই তার বুক ধড়ফড় করে উঠল। মনে হলো, এই বুঝি পড়ে যাবে। বাড দ্রুত এগিয়ে এসে লাগাম হাতে নিল। খুব ধীরে ধীরে ঘোড়াটাকে হাঁটাতে লাগল। মারদেকা প্রথমে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল। তারপর সাহস করে আবার খুলল। নিচের পৃথিবীটা আগের মতো নেই। সবকিছু যেন একটু উঁচু থেকে দেখা যাচ্ছে। বাতাসও অন্যরকম লাগছে।
বাড শান্ত গলায় বলল, “শরীর শক্ত কোরো না।”
মারদেকা পুরো বাক্যটা বুঝল না, কিন্তু বাড নিজের কাঁধ ঢিলে করে দেখাতেই সে অর্থটা ধরতে পারল। সে ধীরে ধীরে শরীরের জড়তা কমানোর চেষ্টা করল। আশ্চর্যের ব্যাপার, সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার চলাও অনেক আরামদায়ক মনে হতে লাগল। কয়েক মিনিট পরে তার মুখে অচেনা এক হাসি ফুটে উঠল। এই প্রথম সে ঘোড়ার পিঠে বসে পৃথিবীকে দেখছে।
দূরে দাঁড়িয়ে ওলফ লারসেন সব দেখছিল। ইলাইও বারান্দা থেকে তাকিয়ে আছে। বৃদ্ধের চোখে যেন এক ধরনের পিতৃস্নেহের কোমলতা। সে ধীরে ধীরে বলল, “ছেলেটা শিখছে।”
লারসেন উত্তর দিল, “শুধু শিখছে না। ও মনে রাখছে।”
বৃদ্ধ তার দিকে তাকাল।
লারসেন মৃদু স্বরে বলল, “যাকে এক জিনিস বারবার শেখাতে হয়, সে কর্মী হয়। কিন্তু যে একবার দেখে মনে রাখে, সে একদিন নেতৃত্ব দেয়।”
কথাগুলো বাতাসে মিলিয়ে গেল। কেউ আর কিছু বলল না।
পরবর্তী কয়েক দিন একই নিয়মে চলতে লাগল শিক্ষা। প্রথমে শুধু হাঁটা। তারপর ধীরে ধীরে মোড় নেওয়া। লাগাম কতটা টানতে হয়, কখন ছেড়ে দিতে হয়, ঘোড়ার চলার ছন্দের সঙ্গে নিজের শরীর কীভাবে মিলিয়ে নিতে হয়, এসব ছোট ছোট বিষয় বাড ধৈর্য ধরে শেখাতে লাগল। সে কখনো রাগ করত না। কারণ সে বুঝতে পেরেছিল, মারদেকার সবচেয়ে বড় শক্তি তার কৌতূহল নয়, তার অধ্যবসায়। একই ভুল সে দ্বিতীয়বার খুব কমই করে।
এক বিকেলে অনুশীলন শেষে মারদেকা একাই ঘোড়াটাকে নিয়ে আস্তাবলের দিকে ফিরছিল। ঘোড়াটা ধীর পায়ে হাঁটছে। ছেলেটার দুই হাতে লাগাম, চোখে গভীর মনোযোগ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সে বহুদিন ধরেই এই কাজ করছে। ঠিক তখনই র্যাঞ্চের প্রধান ফটকের সামনে এক অপরিচিত ঘোড়সওয়ার এসে থামল। ধুলোমাখা কোট, মাথায় চওড়া টুপি। সে ভেতরে ঢুকল না। শুধু দূর থেকে র্যাঞ্চটার দিকে একবার তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে ঘোড়া ঘুরিয়ে আবার শহরের দিকেই চলে গেল। মারদেকা তাকে খেয়ালই করল না।
কিন্তু বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ওলফ লারসেন লোকটাকে দেখেছিল। তার চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য সরু হয়ে এল। লোকটাকে সে চিনতে পারেনি।
আর পশ্চিমের দেশে এমন অচেনা মুখ, যে দূর থেকে শুধু দেখে চলে যায়, তাকে কখনোই সম্পূর্ণ নিরীহ বলে ধরে নেওয়া হয় না। এখানেই পরবর্তী দিনের অস্থিরতার প্রথম নীরব ছায়া এসে পড়ল।
ব্ল্যাক রিভার শহর থেকে ফেরার পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেল। বাইরে থেকে সবকিছু আগের মতোই স্বাভাবিক। ভোর হলে কাউবয়রা মাঠে যাচ্ছে, দুপুরে গরুর পাল অন্য চরাগাহে সরানো হচ্ছে, সন্ধ্যায় ক্লান্ত ঘোড়াগুলো আস্তাবলে ফিরছে। কিন্তু ওলফ লারসেন বুঝতে পারছিল, এই স্বাভাবিকতার নিচে কোথাও একটা অদৃশ্য টান তৈরি হয়েছে। বহু বছরের অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে, বড় ঝড় আসার আগে প্রকৃতি যেমন অকারণ শান্ত হয়ে যায়, তেমনি মানুষের শত্রুরাও আঘাত হানার আগে কিছুদিন নিঃশব্দে অপেক্ষা করে। শহরে গিয়েও সে সেই অস্বস্তিটা অনুভব করেছিল। কয়েকজন পুরোনো পরিচিত মানুষের চোখে সে এমন এক ধরনের সংকোচ দেখেছে, যা তারা লুকানোর চেষ্টা করছিল। কেউ কিছু বলেনি, কিন্তু সবাই যেন কিছু একটা জানে। এই নীরবতাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছিল।
মারদেকা অবশ্য এসবের কিছুই বুঝতে পারছিল না। তার পৃথিবী এখনও অনেক সহজ। সকালে ইলাইয়ের কাছে পড়াশোনা, দুপুরে বাডের সঙ্গে র্যাঞ্চের কাজ শেখা, আর বিকেলে সুযোগ পেলেই দূরের পাহাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। তবে একটা পরিবর্তন সত্যিই ঘটেছে। কয়েক মাস আগেও র্যাঞ্চের লোকেরা তাকে কৌতূহল নিয়ে দেখত। এখন আর কেউ তাকে অচেনা মনে করে না। রান্নাঘরে ঢুকলে রোজা তাকে আলাদা করে খেতে ডাকে। বাড কোনো কাজ শুরু করার আগে ইশারায় তাকে পাশে দাঁড়াতে বলে। ইলাই মাঝে মাঝে বই বন্ধ করে তাকে ছোট ছোট বাক্য বলায়।
এমনকি ক্লে মরগানও, যে প্রথম দিন থেকেই ছেলেটাকে অপছন্দ করছিল, সেও এখন কাজের ফাঁকে কখনও কখনও ছোট্ট করে জানতে চায়, “সব ঠিক আছে?”
মারদেকা সব শব্দ বোঝে না, কিন্তু মানুষের চোখের ভাষা এখন অনেকটাই শিখে ফেলেছে। সে বুঝতে পারে কে তাকে গ্রহণ করেছে, কে এখনও দূরত্ব রেখে চলে।
সেদিন বিকেলের দিকে বাড তাকে নিয়ে উত্তর দিকের পুরোনো বেড়াগুলো দেখতে গেল। কয়েকটা খুঁটি ঢিলে হয়ে গেছে। দুজনে মিলে নতুন কাঠ বসাচ্ছিল। কাজ করতে করতেই বাড মাঝেমধ্যে তাকে দড়ি এগিয়ে দিতে বলছে, হাতুড়ি ধরতে বলছে, খুঁটি সোজা করে রাখতে বলছে। মারদেকা এখন আর আগের মতো ভুল করে না। কাজ শুরুর আগে সে নিজেই চারপাশ দেখে নেয়, কী লাগতে পারে আন্দাজ করার চেষ্টা করে।
বাড একসময় খেয়াল করল, কথা না বলেও ছেলেটা তার প্রয়োজনের অর্ধেক বুঝে ফেলছে। সে মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বলল, “এভাবেই শেখা যায়।”
কথার পুরো অর্থ মারদেকা বুঝল না, কিন্তু প্রশংসার সুরটা বুঝল। তার মুখে অজান্তেই ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল।
বেড়া মেরামত শেষ করে দুজনে একটু উঁচু ঢিবির ওপর দাঁড়াল। সেখান থেকে পুরো র্যাঞ্চটা দেখা যায়। পশ্চিমে ডুবে যাওয়া সূর্যের আলোয় ঘাসগুলো যেন তামার পাতার মতো ঝিলমিল করছে। দূরে গরুর পাল ধীরে ধীরে ফিরছে। কাউবয়দের ছায়া লম্বা হয়ে মাঠের ওপর বিছিয়ে গেছে। সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মারদেকার মনে হলো, এই জায়গাটা সত্যিই তার নিজের হয়ে উঠছে। পাহাড়ের ওপারের ছোট্ট গ্রামটা এখনও তার স্মৃতিতে আছে, কিন্তু সেই স্মৃতির ব্যথা এখন আর আগের মতো তীব্র নয়। মানুষের জীবনে কখন যে নতুন শেকড় গজিয়ে ওঠে, মানুষ নিজেও বুঝতে পারে না।
ঠিক তখনই দক্ষিণ দিকের পথ থেকে একটা ঘোড়া দ্রুত ছুটে আসতে দেখা গেল। ঘোড়াটার গা ধুলোয় ঢাকা, আর আরোহী বারবার পেছনে তাকাচ্ছে। বাডের মুখের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে গেল। সে চোখ কুঁচকে লোকটাকে চিনতে চেষ্টা করল। কয়েক মুহূর্ত পর চিনতে পেরে বলল, “স্যাম!” পরক্ষণেই সে ঢিবি থেকে নেমে গেল। যথাসম্ভব দ্রুত র্যাঞ্চের দিকে এগুলো।
বাডের হাবভাবে মারদেকাও বুঝে গেল বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। সেও তাকে অনুসরণ করলো।
লোকটা র্যাঞ্চের উঠোনে ঢুকেই প্রায় লাফিয়ে ঘোড়া থেকে নেমে পড়ল। তার শ্বাস দ্রুত উঠছে। মুখ শুকিয়ে গেছে। ওলফ লারসেন তখন বারান্দা থেকে নেমে এগিয়ে এল। চারপাশের সবাই কাজ থামিয়ে তাকিয়ে আছে।
স্যাম কিছুক্ষণ শ্বাস সামলে নিচু গলায় বলল, “বস… পশ্চিমের চরাগাহের কাছে… দুটো গরু মরে পড়ে আছে।”
লারসেনের চোখ স্থির হয়ে গেল। “রোগ?”
স্যাম ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল। “না।”
“তাহলে?”
স্যাম এবার আরও নিচু গলায় বলল, “গুলির দাগ আছে।”
এক মুহূর্তের জন্য পুরো উঠোনে এমন নীরবতা নেমে এল, যেন বাতাসও থেমে গেছে। বাড ধীরে ধীরে মারদেকার দিকে তাকাল। ছেলেটা কথাগুলোর অর্থ বুঝতে পারেনি, কিন্তু সবার মুখের পরিবর্তন সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে। কয়েক মুহূর্ত আগেও যেখানে দিনের ক্লান্তি আর শান্তি ছিল, সেখানে এখন অদৃশ্য উত্তেজনা জমে উঠেছে।
ওলফ লারসেন কোনো কথা বলল না। শুধু ধীরে ধীরে ঘুরে আস্তাবলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। তার হাঁটার ভঙ্গি দেখে র্যাঞ্চের প্রত্যেক মানুষ বুঝে গেল, এটা সাধারণ ঘটনা নয়। কেউ যদি গরু চুরি করত, সেটা একরকম কথা। কিন্তু গুলি করে মেরে রেখে যাওয়া অন্য বার্তা বহন করে। এটা ক্ষতি করার জন্য নয়, ভয় দেখানোর জন্য।
বারান্দার সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে মারদেকা স্থির চোখে সব দেখছিল। সে এখনও জানে না পশ্চিমের মানুষের এই নীরবতার মানে কী। কিন্তু তার বুকের ভেতর আবার সেই অচেনা অস্বস্তিটা ফিরে এল, যেটা সে প্রথম অনুভব করেছিল সেদিন, যখন কয়েকজন অচেনা ঘোড়সওয়ার র্যাঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছিল। তার মনে হলো, বাতাসের গন্ধ যেন হঠাৎ বদলে গেছে।
আর অনেক দূরে, পশ্চিমের চরাগাহের শুকনো ঘাসের ভেতর, সন্ধ্যার আলো নিভে আসার সঙ্গে সঙ্গে দুটো মৃত গরুর পাশে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসছিল মাটিতে পড়ে থাকা খালি কার্তুজের খোসা। কেউ সেগুলো তুলে নেয়নি। যেন ইচ্ছে করেই রেখে যাওয়া হয়েছে। যেন কেউ চাইছে, ওলফ লারসেন সেগুলো দেখুক… এবং বুঝে যাক, খেলা সত্যিই শুরু হয়ে গেছে।
(চলবে)4 Comments-
বিষণ্ন সুমন, আপনার সাবলীল বর্ণনাভঙ্গি এবং র্যাঞ্চের জীবনকে যেভাবে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ‘ভাষা তার কাছে আর কাগজের অক্ষর হয়ে থাকল না, ধীরে ধীরে তা পৃথিবীকে চিনে নেওয়ার নতুন দরজায় পরিণত হতে লাগল’—এই লাইনটি পড়ে আপনার লেখার গভীরতা বেশ অনুভব করা গেল। আপনি আপনার বর্ণনার বুনন দিয়ে চরিত্রগুলোর বিকাশকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা নিয়মিত লিখে গেলে ভবিষ্যতে আরও চমৎকার রূপ নেবে বলে আশা রাখি।
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
H.I Hamid
@h-ihamid
বি.এম.কায়েস খান
@bmkayeskhangmail-com
জিনাত ফয়সাল
@zinatfaisal2gmail-com
Rijoana
@rijoana
mdjibonahmmed Sagor
@mdjibonahmmedsagor
sajjadul ehsan sakib
@sajjadulehsansakib
বিদ্যুৎ চৌধুরী
@bc001
Abdul Motaleb
@abdulmotaleb
আজমাইন ইনকিয়াত
@inqiyad


মাঝখানের একটা পর্ব মিস হয়ে গেছে, সময় পেলে আজকেই পড়ে নেব। তবে এই পর্বটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। মারদেকার ধীরে ধীরে র্যাঞ্চের জীবনে মিশে যাওয়া, বাড-ইলাই-লারসেনের সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা, সবকিছুই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। শেষে গুলিবিদ্ধ গরু আর অচেনা ঘোড়সওয়ারের রহস্যটা বেশ টান টান উত্তেজনা তৈরি করলো। গল্প এগিয়ে যাক আপন গতিতে, অনেক শুভ কামনা রইল!