Profile Photo

Md Nurnobi islam sumonOffline

  • mdnurnobiislamsumon
  • Profile picture of Md Nurnobi islam sumon

    Md Nurnobi islam sumon

    • 2 months, 1 week ago

    “মায়ের চোখে ইসলাম”

    “জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে” এই হাদীসটি মুসলিম সমাজে অতি পরিচিত ও সুপরিচিত। একজন মায়ের চোখ দিয়ে যখন ইসলামকে দেখা হয়, তখন তা শুধু একটি ধর্মীয় অনুশাসন নয়; বরং একটি হৃদয়ের ভাষা, ভালোবাসার আদর্শ, আর পরম ত্যাগের জীবনদর্শন হয়ে ওঠে। মা যখন শিশু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তখন তিনি শুধু এক জীবনেরই সূচনা করেন না বরং ইসলামী জীবনবোধের বীজ বুনে দেন শিশুর হৃদয়ে।

    এই প্রবন্ধে আমরা খুঁজে দেখব মায়ের চোখে ইসলাম ঠিক কেমন? কিভাবে মা ইসলামের আদর্শ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে সন্তানদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন? কিভাবে মায়ের চোখে ইসলাম মানে এক স্নেহের নদী, এক ত্যাগের মশাল, এক চলমান দোয়ার ছায়া?

    একজন মা ইসলামের কথা প্রথম শোনেন তার শৈশবে, বাবা-মার মুখে, কুরআনের সুরে, বা মসজিদের আজানে। কিন্তু যখন তিনি নিজেই মা হন, তখন ইসলাম তার কাছে কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং জীবনের গভীর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়।

    নবজাতক শিশুর কানে আজান দেয়া, নাম রাখার সময় ইসলামী নাম নির্বাচন, আকীকা, ইমানি দোয়া শেখানো এসব সবকিছুতেই ইসলামের প্রতি মায়ের ভালোবাসা ফুটে ওঠে। সে চায় তার সন্তান যেন আল্লাহভীরু, সহানুভূতিশীল, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো একজন মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে।

    মায়ের চাওয়া কখনও বাহ্যিক নয়। একজন মুসলিম মা সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং সন্তানের আখেরাতের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তিনি চান সন্তান হোক সত্যবাদী, নামাযি, কুরআন জানা, আদব-কায়দায় ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন। তার চোখে সফলতা মানে— সন্তান ফাইভ স্টার অফিসার হওয়া নয়, বরং একজন আল্লাহভীরু মানুষ হওয়া।

    আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন—

    “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা কর।”
    (সূরা আত-তাহরীম, আয়াত ৬)

    এই আয়াতের মর্ম অনুধাবন করে একজন মা নিজের জীবন উৎসর্গ করেন সন্তানের আখেরাত ঠিক রাখার জন্য।

    মায়ের দিন শুরু হয় ফজরের আজানের সাথে সাথে। তিনি ঘুম থেকে উঠে সন্তানদের ডাকেন, নামাজ পড়ান, কুরআন শেখান। সারা দিনের কাজের মাঝে পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মতো আদায় করা, হালাল-হারাম সম্পর্কে সচেতন থাকা, গীবত-অপবাদ থেকে দূরে থাকা— এগুলো তার জীবনের অংশ হয়ে যায়।

    রোযার মাসে একজন মা যেন পুরো পরিবারের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। সাহরি, ইফতার, দোয়া— সবকিছুতে তিনি নিয়োজিত থাকেন এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে। তাঁর চোখে ইসলাম মানে নিয়ম, শান্তি, ধৈর্য ও আশা।

    প্রত্যেক মুসলিম সন্তান জানে, মায়ের দোয়া কতটা শক্তিশালী। যখন সন্তান অসুস্থ হয়, মা তাহাজ্জুদের রাত কাটান কান্নায়। তিনি আল্লাহর দরবারে মাথা ঝুঁকিয়ে বলেন, “হে আল্লাহ! আমার সন্তানের কষ্ট তুমি দূর করে দাও।”

    প্রত্যেক মা-ই তাঁর সন্তানের জন্য এমন করে দোয়া করে থাকেন, কারণ তিনি জানেন— ইসলাম একজন মায়ের দোয়ার মর্যাদা দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন—

    “তিনজনের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না, তার মধ্যে একজন হলো: মা-বাবার দোয়া তাদের সন্তানের জন্য।”
    — (তিরমিযী)

    একজন মা প্রতিদিন যে আত্মত্যাগ করেন— নিজের ঘুম, আরাম, খাদ্য, সময়— সবকিছু বিলিয়ে দেন সন্তানের জন্য— সেটিই ইসলামের মূল শিক্ষা: “ত্যাগেই প্রকৃত পাওয়া।”

    মায়ের চোখে ইসলাম মানে ধৈর্য। তিনি জানেন সন্তান ভুল করতেই পারে, তাই তিনি কখনো হার মানেন না। আবারো শেখান, বুঝান, অপেক্ষা করেন। ঠিক যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর বান্দার জন্য ধৈর্য ধরেন।

    একজন মা যখন স্বামীহারা হন, বা সংসারে দুঃসময় আসে, তখন তিনিই পরিবারের আশ্রয় হয়ে দাঁড়ান। তিনি সেজদায় কাঁদেন, বাচ্চাদের সাহস দেন, ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবনকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “পরীক্ষা আল্লাহ দেন তাঁর প্রিয় বান্দাদের, আর সওয়াব শুধু ধৈর্যশীলদের জন্য।”

    মা যখন সন্তানকে কুরআনের অক্ষর শেখান, তখন সেটি শুধু পড়া শেখানো নয়— একজন পূর্ণ মুসলিম গঠনের সূচনা। আদব-কায়দা, দোয়া, আল্লাহভীতি— সব শিখিয়ে দেন মা। তিনি বলেন, “বাবা, মিথ্যা বলো না— আল্লাহ আমাদের সব কিছু দেখেন।”

    আজকের দিনে যেখানে ইন্টারনেট ও মিডিয়ার প্রভাব চারপাশে ঘুরছে, সেখানেও একজন মা যেন ইসলামি আদর্শে সন্তানদের রক্ষা করার জন্য ‘ফিল্টার’ হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, “হালাল রোজগার, হালাল খাবার, এবং হালাল বিনোদন— এগুলোতেই বরকত।”

    মায়ের চোখে ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা। তিনি পর্দা করেন, আত্মসম্মান রক্ষা করেন, নিজের ইজ্জতের ব্যাপারে সচেতন থাকেন। সন্তানকে শেখান, “নারী মানে বস্তু নয়, নারী মানে আমানত, যাকে সম্মান করতে হয়।”

    মা জানেন, ইসলাম নারীকে দিয়েছে মায়ের সম্মান, শিক্ষিকার মর্যাদা, এবং জান্নাতের দ্বাররক্ষী হিসেবে অভিহিত করেছে। তাই তিনি নিজেকে কখনও দুর্বল ভাবেন না, বরং শক্তির উৎস হিসেবে ভাবেন।

    সন্তান যখন মায়ের মুখে ইসলাম দেখে, তখন সে ইসলামকে ভয় নয়, ভালোবাসার রঙে দেখে। সে জানে, ইসলাম মানে মায়ের মতো ক্ষমাশীল হওয়া, কষ্ট সহ্য করে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া। ইসলাম তখন তার কাছে হয় এক উদার পথ, এক সুন্দর জীবন।

    একজন মা’র চোখে ইসলাম মানে ভালোবাসা, দায়িত্ব, ত্যাগ, ধৈর্য, এবং আল্লাহর প্রতি অগাধ ভরসা। এই চোখ দিয়ে দেখা ইসলাম কেবল বইয়ের পাতায় আটকে থাকা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক এক জীবনব্যবস্থা। একজন মা যেমন তার সন্তানের জন্য জান্নাত কামনা করেন, তেমনি তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে ইসলাম খুঁজে পান।

    আজকের সমাজে, আজকের পরিবারে, ইসলামের পুনর্জাগরণ যদি কোথাও থেকে শুরু হয়, তবে তা হতে পারে একজন মায়ের হৃদয় থেকে। কারণ মায়ের চোখে ইসলাম মানেই আলো, দোয়া, আশ্রয়, আর একজন সুনাগরিকের পথপ্রদর্শন।

    1
    1 Comment
Skip to toolbar