-
**নীল আকাশ **
পড়ছিলাম। হঠাৎ টেবিলের পাশের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখে খোলা নীল আকাশ। যেন এক বিস্তীর্ণ নীল মাঠ ।দেখছি মেঘ ভাসছে। জানি কল্পনা তবু ইচ্ছে করছে নীল আকাশে নৌকায় চরে ভেসে বেড়াবার জন্য… হঠাৎ কতগুলো পাখি চোখের সামনে দিয়ে উড়ে চলে গেল। কল্পনায় দাড়ি দিয়ে পড়ায় মনোযোগ দিলাম।সকাল গড়িয়ে বিকেল,,,
ছাদে যেতেই চোখ পরল সবুজ শ্যামল প্রকৃতির দিকে। দেখে মনে হচ্ছে আমায় ডেকে বলছে — চলে আয়না পাখি হয়ে ভাসবি সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে!!
মা ডাকছে… কল্পনা থেকে বের হয়ে তাড়াতাড়ি করে মায়ের শোবার ঘরে চলে গেলাম।
মা– কিরে… এই বিকেলে কোথায় গিয়েছিলি?
আমি– ছাঁদে গিয়েছিলাম
মা (কাজ করতে করতে)– তো কি করছিলি একা একা?
আমি (এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসে )—ভাবছিলাম
মা (হাসতে হাসতে)— কি তোকে কবে বিয়ে দিব??
আমি— ধুর!! কি যে বলো না… এখনতো পড়াশোনাই শেষ করলাম না। আগে তো নিজের পায়ে দাঁড়াই তারপর না…
(কথা থামিয়ে )মা— বুঝেছি কি বলবি। এইতো বলবি “আগে নিজের পায়ে দাড়াবো। তারপর ওসব নিয়ে ভাববো “। জানি আমি শুনতে শুনতে কান পচে যাচ্ছে।
আমি— আচ্ছা মা! আমি যদি পাখি হতাম।
মা (তাচ্ছিল্যের স্বরে) —হয়েছে !!!এখন যায় এখান থেকে সারাদিন শুধু কল্পনা। এই মেয়েটিকে নিয়ে যে আমি কি করি বাপু!!
আমি( বিরক্তি নিয়ে)– যাচ্ছি!! তাহলে ডেকেছো কেন?
মা– ডেকেছিলাম তোর দাদু মনির জন্য চা বানাতে।
আমি — এখনো দাওনি!! বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলেছে দাদুন তো বিকেলের শুরুতে চা খেতে পছন্দ করে।বলে উঠে চলে গেলাম রান্নাঘরে । হ্যাঁ!আমাদের যৌথ পরিবার,,, বাবা ,মা ,কাকাই, কাকিমনি ,ভাইয়া আর এই তো আমি।
রান্নাঘরে গিয়ে প্রথমেই জানালাটা খুলে দিলাম। চা বানাতে শুরু করলাম (চিনি, লবণ ,দুধ, চাপাতি) চা বানানো শেষ করে নিয়ে চলে গেলাম দাদুন এর কাছে।
আমি —এই নাও তোমার চা!
দাদুন–এইতো আমার নীলমণির হাতের চা ।এর জন্যই তো বসেছিলাম ,না হলে যেন বিকেলটা ছিল না।
আমি — হ্যাঁ জানি তো
আমিও হাসছি দাদুনও হাসছে হঠাৎ মা ডাক দিল
মা– নীলা-লা-আ!! রান্না ঘরের জানালাটা বন্ধ করেছিস ? না হলে যে বিড়াল ঢুকবে।
আমি — যাই- ই ,,মা!!***রান্না ঘরে প্রবেশ***
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছি… যে আকাশটা নিল ছিল মেঘে ঢাকা ছিল তা এখন হলুদ কমলা লাল রংয়ে মাখামাখি করছে। যেন কেউ আকাশে রঙ ঢেলে দিয়েছে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হবে বলে পাখিগুলো যে যার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে। এ যেন এক সমাবেশ চলছে… কিছুক্ষণ পর জানালাটা বন্ধ করে দাদুনের রুমে চলে যাই।
দাদুন– এত দেরি হল যে?? মা বকেছে বুঝি!!
আমি—না,,তা না আসলে– প্রকৃতির প্রেমে বাধা পড়ে গিয়েছিলাম
দাদুন –তোর কি বই পড়াটা শেষ হয়েছে??
আমি– শেষ হয়নি,,বাকি আছে। আর এক দিন লাগবে বোধ হয়।** দাদুন আমার অনেক ভাল বন্ধু। যেন আমি খোলা বই আমাকে দেখেই বলে দিতে পারে কি ভাবছি! হবেই বা না কেন? এত বই পড়েযে। দাদুনের আলমারী ভর্তি শুধু বই। দাদুুনের কাছ থেকে বই নিয়ে আমি পড়ি। রাতে নিজের ঘরের বারান্দাতে বিছানা পেতে বসে আছি। একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বড় নিঃস্ব মনে হচ্ছে। হঠাৎ গাড়ি এতখন বেজে উঠল যে মেসেজটা যেন আগুন হয়ে যাচ্ছে। শহুরে জীবন বলে কথা। চারপাশে কোলাহল নেই বললে যেন বড্ড বোকামি হয়ে যাবে। উঠে ভিতরে চলে গেলাম।
রাত হয়েছে অনেক। জানালা দিয়ে তারার দিকে তাকিয়ে…। কেউ উজ্জ্বল আলোয় মিটমিট করছে কেউবা নিজে আলো হারাতে বসেছে। চাঁদ নিজেই জায়গায় বসে যেন অন্ধকার আকাশটাকে জীবন্ত করে তুলছে। দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সকালবেলা বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙলো। জানালা দিয়ে তাকাতেই থেকে বৃষ্টি পড়ছে। পাশে কালো ঘন মেঘ। বৃষ্টির পানি এভাবে ঝরছে যেন বাচ্চাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সেই কষ্টে কাতর বাচ্চাটি সশব্দে বিলাপ করে কাঁদছে।কিছুক্ষণ পর টেবিলে গিয়ে পড়তে বসলাম। গল্পের বইটা হাতে নিয়ে পড়া শুরু করে দিলাম। প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বস্তির নিঃশ্বাস…
আমি– যাক অবশেষে শেষ হল!!** দাদুনের রুমে ঢুকেই দেখি দাদন খবরের কাগজ পড়ছে…
দাদুন– কি নিলামনি পড়া শেষ?
আমি– হ্যাঁ দাদুন ।অনেক ভালোলাগলো ইচ্ছে করছে আরও বই পড়তে।
দাদুন– তুই গিয়ে পছন্দমত একটা বই বের করে নে…** বাড়ির সামনে গিয়ে ভাবছি কোন বইটা পড়বো। সব সময় তো উপরের সারি থেকেই বই পড়ি আজ না হয় নিচের দিকের সারি থেকে একটা বই নেই… হঠাৎ চোখে পড়লো কর্ণারের নীল আকাশি মলাট করা বইটির দিকে। বইটি বের করে চমকে উঠলাম… বইয়ে যে কোন নাম লেখা নেই!! প্রকাশনী দেখতে গিয়ে পেলাম না হয়তো বইটি প্রকাশ করাই হয়নি… শুধু সংরক্ষণের জন্য ছাপানো হয়েছে। দাদুনকে বললাম এই বইটা পরবো??
**আমার দিকে না তাকিয়ে উত্তর দিল
দাদুন–তোর যা ভালো লাগে তুই নে** বইটা পড়া শুরু করলাম। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়েছে বইটা শেষ করবো এখন। দাদুন আমার ঘরে চা নিয়ে এসেছে।
** আমি (চমকে)–দাদুন,,তুমি???
দাদুন–আজ নিলামনি আর চা দিতে এলো না যে??
আমি-কেন? বিকেল হয়েছে বুঝি…
দাদুন– বিকেল না সন্ধ্যে হতে চলল.. ভাবছিলাম হয়তো কোনো গোয়েন্দা বই পড়ছিস। তা বইয়ের নাম কি?
আমি— নাম লেখা নেই…
***দাদুন চুপচাপ রইল কিছু বলল না আমায়
আমি– যেন কেউ তার কল্পনার জগৎকে অসমাপ্ত রেখে দিয়েছে
দাদুন — ভালো করেছিস,, তা কেমন লাগলো বই টা ?? আমি– অসাধারণ,,দাদুন !!!নাম থাকলে ভালো লাগত,,
দাদুন– তা তুই একটা নাম দিয়ে দে,,,
আমি– বইটা দেখে মনে হল প্রকৃতি আকাশ ও তার ভালোবাসাকে ইঙ্গিত করে লিখা হয়েছে… যেহেতু বই এর মলাট টা নীল আকাশি তাই ভাবছি বইটার নাম “নীল আকাশ” রাখবো..*** দাদু যেন অতীতে ডুব দিয়েছে… খানিকক্ষণ পরে বলে উঠল—” নীল আকাশ”
3 Comments
Friends
বিদৌরা প্রিয়দর্শিনী বারহান
@bedowrapriodarshini
অনুভূতির ডাইরি
@onuvutir-dairi
Bodor Choudhury
@bodorchoudhury
MD HAFIZUR RAHMAN
@mdhafizurrahman1
ছন্নছাড়া মহাপ্রান
@mihirmilton
এড: সাজেদুল হক টুটুল
@sazedul
Abcde gh.
@abcdegh
AdabenTatali
@adabentatali
সা দি য়া (নন্দিনী)
@nandini


নীলাকাশ দেখেছো; স্বপ্নতো এখনো দেখনি। অভিনন্দন।