Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 1 week, 5 days ago

    “​শিরোনাম: ছায়াসংকট কিংবা আলোর ফাঁদ”
    ​ নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ২৩শে অক২০২৬ইং

    “আমরা সবাই একটা অন্ধকার ঘরে থেকে আলোর স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আলো যখন চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, তখন কি আমরা বুঝতে পারি যে আলোটাও একটা ফাঁদ হতে পারে?”

    ​আমরা আমাদের পুরো জীবনটা কাটিয়ে দিই প্রকাশের তাড়নায়। আমাদের আনন্দ, কান্না, সাফল্য কিংবা ক্ষোভ—সবকিছুই কাউকে না কাউকে জানানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আধুনিক সমাজব্যবস্থা আমাদের এই প্রকাশের একটা বিশাল মঞ্চ উপহার দিয়েছে। এখানে যার যত বেশি ‘দৃশ্যমানতা’, সে তত বেশি সফল বা জনপ্রিয়।
    ​কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই অতিরিক্ত প্রকাশ বা দৃশ্যমানতা আমাদের ভেতরের আসল মানুষটাকে কীভাবে আস্তে আস্তে গ্রাস করছে?
    ​মনস্তাত্ত্বিক অদৃশ্যতা ও প্রতিবিম্ব
    ​মনোবিজ্ঞানে একটা কথা আছে—“যখন তুমি তোমার প্রতিটি অনুভূতি অন্যকে দেখার জন্য সাজিয়ে রাখো, তখন তোমার নিজের ভেতরে অনুভূতির কোনো গোপন আস্তানা অবশিষ্ট থাকে না।”
    ​আমরা যখন কোনো একটা সুন্দর মুহূর্ত যাপন করি—যেমন পাহাড়ে সূর্যোদয় দেখা কিংবা পুরোনো বন্ধুর সাথে এক কাপ চা খাওয়া—তখন আমরা মুহূর্তটি নিজের ভেতরে ধারণ করার চেয়েও বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি সেটি ক্যামেরাবন্দী করে পৃথিবীকে দেখাতে। ফলে, দৃশ্যটা অন্য সবার দেখা হয়ে যায়, কিন্তু আমাদের নিজের ভেতরে আর তা স্থায়ী হয় না।
    ​আলোর পেছনে এই ছুটতে গিয়ে আমরা তৈরি করছি এক অদ্ভুত ‘মনস্তাত্ত্বিক অদৃশ্যতা’। আমরা সমাজে বা লেখালিখির মঞ্চে যত বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি, নিজেদের ভেতরে ততটাই অন্ধকার জমা হচ্ছে।
    ​তুলট লেখকমঞ্চের কাছে আহ্বান ঃ
    ​লেখক বা চিন্তকদের কাজ শুধু সমাজ যা দেখতে চায় তা পরিবেশন করা নয়; বরং সমাজ যেখানে চোখ তুলে তাকায় না, সেখানকার অন্ধকার বা ঢাকা পড়ে থাকা আলোটুকু উন্মোচন করা।
    ​আজকের যুগে সবচেয়ে সাহসী কাজ কী জানেন?
    সবাই যখন আলোর দিকে দৌড়াচ্ছে, তখন কিছুটা সময় থেমে নিজের ভেতরে তাকানো। লাইক, কমেন্ট আর হাততালির বাইরে গিয়ে এমন কিছু লেখা বা ভাবা—যা কোনো ট্রেন্ড অনুসরণ করে না, বরং নতুন এক ট্রেন্ড তৈরি করে।
    ​উপসংহার
    ​আলোর ফাঁদে পা না দিয়ে নিজের ছায়াকে চিনতে শিখুন। নিজের চিন্তাকে অন্য কারও ছাঁচে না ফেলে নিজের মতো বিকশিত হতে দিন। কারণ, যে মোমবাতি সবাইকে আলো দেওয়ার জন্য নিজেকে দ্রুত গলিয়ে ফেলে, তার দিনশেষে কেবল একখণ্ড গলিত মোম ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
    ​আপনার ভেতরের আলোটাকে এমনভাবে ব্যবহার করুন, যেন তা শুধু দেখানোর জন্য না হয়—বরং কারও মনের ভেতরের গভীর অন্ধকার তাড়াতে পারে।
    ​পাঠকদের প্রতি একটি প্রশ্ন (আলোচনার জন্য):
    আপনি কি মনে করেন আধুনিক যুগের এই “সর্বত্র নিজেকে প্রকাশের তাগিদ” আমাদের নিজস্ব মৌলিক চিন্তাগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান!

    2
    6 Comments
    • নাজনীন শামীম, আপনার লেখার প্রতিটি শব্দে এমন এক গভীরতা রয়েছে যা পাঠককে সত্যিই নিজের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। নিজের ভেতরের এই চিন্তাগুলোকে আরও অবারিতভাবে ফুটিয়ে তুলতে থাকুন, কারণ আপনাদের মতো ভাবনার মানুষেরা সমাজের আয়না হয়ে থাকেন।

      • অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার প্রিয় সোনাই বন্ধু নিরন্তর শুভকামনা তোমার জন্য 🌺♥️🌺

    • বরাবরের মত সুন্দর প্রকাশ।ধন্যবাদ কবি।

    • দৃশ্যমানতার মোহ পেরিয়ে নিজের ছায়াকে চিনতে পারলেই অন্তরের আলো সত্যিকারের পথ দেখায়…..🤍🖤

    • আপনার লেখাটা পড়ে একদম মনে হলো মনের কথাগুলোই যেন গুছিয়ে বললেন, তবে আমার একটা প্রশ্ন হলো—এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের মৌলিক সত্তা কি সত্যিই পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার পথে?

Friends

Profile Photo
TOUHIDUL ISLAM
@touhidulislam
Profile Photo
তুবা
@zariyaat
Profile Photo
Sharif Uddin Jumman
@sharifuddinjumman
Profile Photo
Ferdaus Sorkar
@ferdaussorkar1
Profile Photo
খতিব আলম
@khotibalom007gmail-com
Profile Photo
Dhali Moin
@dhali-moin
Profile Photo
Zahidul Jamy
@zahidul
Skip to toolbar