Profile Photo

Shahrim Kawsher ShantoOffline

  • Behomith
  • Profile picture of Shahrim Kawsher Shanto

    Shahrim Kawsher Shanto

    4 years, 8 months ago

    শেষ যাত্রা

    মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত।আমরা কখন কার সাথে হঠাত করে মিশে যাই তা আমরা নিজেও জানিনা।খুব অপরিচিত একটা মানুষ আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হয়।আমরা যাকে ভালোবাসি,আমরা যার প্রেমিক বা প্রেমিকা হই তারাও কিন্তু শুরু দিকে আমাদের কাছে আগুন্তক থাকে।তাহলে এত অপরিচিত,আগুন্তক মানুষগুলো কিভাবে আমাদের জীবনে একটা স্থায়ী জায়গা করে নেয়? উত্তরটা সহজ, ভালোবাসা আর বিশ্বাস।এই দুইটো শব্দ একজন আগুন্তক কে আমাদের প্রিয় মানুষ এ পরিণত করতে বাধ্য করে।আজ এমন দুই আগুন্তকের কথা বলব যাদের দেখা আর যাত্রা একটি রাস্তায় হলেও গন্তব্য তাদের বন্ধুতে পরিণত করে।

    একটা ব্যাস্ত শহর,স্কুল কলেজ এর ছাত্রছাত্রীদের হৈচৈ,কাঁচা বাজারে দরদামের বোঝাপড়া, চায়ের দোকানে প্রতিদিনের রাজনৈতীক আলোচনা।এ সবকিছু আমাদের কাছে সাধারণ লাগলেও একটি মানুষের কাছে লাগছে অসাধারণ যেন সে এই শহরের সবকিছুর মায়ার সাথে জড়িত।মানুষটি ফুটোভার ব্রিজের উপরে দাঁড়ানো,চেয়ে চেয়ে সবকিছু দেখছে। চোখের কোণে কিঞ্চিত পানি তার।চোখে মুখে বিষাদ এক গ্লানির ছাপ।আকাশের দিকে কিছুক্ষণ হতাশার সাথে তাকিয়ে থেকে সে মনে মনে ভাবে ” হে ঈশ্বর কেন তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছিলে? আমার এই নগন্য এই জীবনকে তুমি সৃষ্টি করে কেন তুমি তোমার মূল্যবান সময় আর সম্পদ কে নষ্ট করলে?” একটা আক্ষেপ এর সাথে চোখ বন্ধ করে লোকটি তার জীবনকে চিরনিদ্রায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।চোখ বন্ধ করে ভাবেন “মৃত্যু যদি আজ এই রোগের সহজ প্রতিকার হয় তাহলে তাই হোক।ঝাপিয়ে পড়তে হয়তো আমার ২০ সেকেন্ড লাগবে এই কয়েক সেকেন্ড পর আমি আমার কষ্ট থেকে মুক্তি পাবো!” এই কথাটি ভেবেই সে ব্রিজ থেকে লাফ দিলো।তখন তার চোখ বন্ধ।সে ভাবল হয়তো তার ইহকালের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে তাই হয়তো সে থেমে আছে।কিন্তু সে কেন একটি চিৎকার শুনতে পাচ্ছে? কেন বা সে একটি টান অনুভব করছে? তবে কি সে মরেনি? তার গলায় এটা কেমন ব্যাথা অনুভব করছে সে? চোখ খুলতেই সজ্ঞানে আসে সে দেখে একটা লোক তার গলা ধরে আছে আর সে ঝুলে আছে! লোকটি ব্যাস্ত স্বরে বলল “আরে মিস্টার তাড়াতাড়ি আপনার হাত দিন নইলে আপনাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারবোনা,তাড়াতাড়ি।” ইতিমধ্যে বেশ কিছু লোক জমা হয়ে গেছে।সবাই মিলে সেই লোকের সাহাজ্যে তাকে উপরে টেনে তুললো। “তবে কি ঈশ্বরো চান না যে সে তার এই পাপের জীবনকে বিদায় জানাক?” অনেক্ষণ শ্বাস নেওয়ার পর সাহায্যকারী সেই লোকটি আত্বহত্যা করতে চাওয়া সেই লোকটিকে বলে “আরেহ বড় আজব মানুষ আপনি নিজের জীবন এভাবে কেউ শেষ করে?” উত্তরে লোকটি বলে “আজব তো আপনিও কম না,একটা অপরিচিত মানুষকে এভাবে বাঁচালেন কেন?” একটু হেসে সেই লোকটি উত্ত র দিল “হাহা,তার পিছনে নিশ্চয় কারন আছে।” “কি কারন?” “এই যে আমি আপনাকে বাঁচাইলাম,নিশ্চয় আপনি আমাকে গালি দিচ্ছেন আবার ভাবছেন হয়তো ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে বাঁচানোর জন্য।যাইহোক যেহেতু আমি আপনাকে বাঁচিয়েছি সেহেতু এখন আপনাকে আমার তিনটি কাজ করতে হবে।” কৌতূহল হয়ে সেই লোকটি জিজ্ঞেস করে ” কি তিনটে কাজ? আপনি তো দেখছি আমাকে সাহাজ্য করেও বিপদে ফেললেন।” “আরেহ চিন্তা করবেন না সহজ কাজ।চলুন” দুইজন উঠে দাঁড়ালো।দুইজনের সুট্যে ধুলো লাগা।সেগুলো ঝাড়তে ঝাড়তে সাহাজ্যকারী জিজ্ঞেস করল আপনার নামটা জানা হলো না। “আমার নাম মাইকেল” সার্কাসটিক ভাবে লোকটি জিজ্ঞেস করল “মধুসূধন নাকি?” উত্তরে মাইকেল বলল “না মাইকেল উইলিয়াম।” স্বভাবত একটু ইন্ট্রেভার্ট হওয়ায় মাইকেল তার নাম জানার আগ্রহ প্রকাশ করলোনা। দুইজন হাঁটা শুরু করল।পকেট থেকে লাইটার আর সিগারেট বের করে সিগারেট জ্বলাতে জ্বালাতে সেই লোকটি মাইকেলকে বলে “আমার নাম আরিফ।অনেকে আমায় ডাকে অদ্ভুত আরিফ বা আজব আরিফ নামে,কারন আমার কাজগুলো একটু আজব ধরণের।কথা বলা বা কারো সাথে মিশা দুটোই বেশি করি আমি। সিগারেট খান? হাত বাড়িয়ে দিয়ে মাইকেল বলে “দিন” সিগারেট দিতে দিতে লোকটি বলে আমার এক বন্ধুর বাসায় যেতে হবে,গিয়ে তার বাবা মা এর সাথে দেখা করতে হবে এটা আপনার প্রথম কাজ।” মাইকেল বলে “এরপর?” আরিফ বলে “আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবো আসলে ওর সাথে আমার অনেক দিন একটা ভূল বোঝাবুঝির কারনে কথা হয়না।তাই আপনি ওর বন্ধু হয়ে যাবেন।মাইকেল প্রশ্ন করে কি ভূল বোঝাবুঝি? আরিফ বলে “আসলে আমার সেই ফ্রেন্ড মিরাজ সে ভেবেছিল তার ওয়াইফের সাথে আমার পরকিয়া আছে।যেটা আসলে মিথ্যা এই নিয়ে আমাদের দুই পরিবারে অনেক সমস্যা হয় যাই হোক আপনি গিয়ে তাদের সাথে দেখা করুন।” আরিফ সাহবের কথা মত মাইকেল মিরাজের বাবা মা এর সাথে দেখা করল।দেখা করার পর মিরাজ মারা গেছে এটা জান্তে পারলো সে।এরপর বাসা থেকে বের হয়ে আসার আগে মিরাজের ব্যাংক একাউন্ট যেখানে প্রায় ১০ লাখ টাকা আছে সাথে একটা চেক যেটা আরিফ মাইকেল কে দিয়েছিল মিরাজের বাবার হাতে হস্তান্তর করে মাইকেল বের হয়ে আসে।বের হয়ে এসে মাইকেল বলে “ব্যাংক একাউন্ট,চেক এসব দেওয়ার আগে আপনি আমাকে কেন বলেন নি যে মিরাজ মারা গেছে।” আরিফ – “কিছু কিছু জিনিস আগে থেকে জানার থেকে পরে জানা ভালো।যাই হোক চলুন একটা স্কুল ব্যাগ কিনতে হবে।মিরাজের মেয়ে আমিরাহ এর জন্য।গত জন্মদিনে সে চেয়েছিল আমি দিতে পারিনি।এরপর মাইকেল আর আরিফ আমিরাহ এর জন্য হেলো কিটি ব্যাগটা নিয়ে মিরাজের ওয়াইফের সাথে দেখা করতে গেল একটা পার্কে।সেখানে বিকাল করে আমিরাহ তার মায়ের সাথে হাটতে আসে। মাইকেল মিরাজের কলিগের পরিচয় দিয়ে আমিরাহ এর সাথে দেখা করে। কিন্তু এবার আরিফ এগিয়ে আসে,আরিফকে দেখে আমিরাহ আবেগাপ্লুত হয়ে যায়।দৌড়ে গিয়ে সে আরিফকে হাগ করে।আমিরাহ বলে “কোথায় গিয়েছিলে তুমি? আমার জন্মদিনেও ছিলেনা! ” আরিফ আমিরাহ এর চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে “আমি তো কাজে ব্যাস্ত ছিলাম পিচ্ছি,আজ আমার ছুটি তাই তোমার সাথে দেখা করতে আসলাম।” লিলি (মিরাজের ওয়াইফ) কে সরি আর তাদের এই মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং দূর করে মাইকেল আর আরিফ সেখান থেকে চলে গেল।এবার তারা দুইজন একটা বেঞ্চের উপর বসল। মাইকেল বলল “আমি সারাজীবন অনেক টাকার পিছনে দৌড়াইছি কখনো ভাবিনী টাকা ছাড়াও জীবনে অনেক কিছু আছে।আপনার সাথে দেখা না হলে বুঝতাম না।” আরিফ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল “জীবন অনেক বিচিত্র আমার বন্ধু!” একটা দীর্ঘ নি:শ্বাস ছেড়ে সে বলল ”চলুন শেষ কাজ বাকি।” মাইকেল বলল “কি কাজ?” “মিরাজের কবরটা দেখে আসি” দুইজন কবরস্থানে গেল।অনেকবড় কবরস্থান।ঘুরে তারা অবশেষে একটি কবরস্থানের সামনে দাঁড়ালো।কিন্তু কিছুক্ষণ পড়েই চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসল।মাইকেলের সামনে আর আরিফ নেই।মাইকেল একটা ডাক শুনতে পেল।”বাবা বাবা বাবা” হঠাত মাইকেলের চোখ খুললো।তার পুরো শরীর ঘামে ভেজা।তাহলে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল? তার মেয়ের ডাকে ঘুম ভাংগল স্বপ্নটা তার কাছে অনেক বাস্তব ছিল।তাই সে সিদ্ধান্ত নিল সে সেই তিন জায়গায় যাবে আর তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত সে নিজেই করবে।সে মিরাজের বাবা মা এর সাথে দেখা করল আসলেই মিরাজ মারা গেছে। তাকে কে বা কারা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে।এরপর মিরাজের মেয়ে আমিরাহ আর তার ওয়াইফের সাথে দেখা করে ক্ষমা চাইলো।এরপর সে সেই কবরের সামনে গেল।গিয়ে নাম দেখে সে থমকে গেল।মিরাজের পুরো নাম ডা: মিরাজ আরিফ রহমান।তাহলে কি আরিফ-ই মিরাজ????? এরপর পুলিশ স্টেশনে গিয়ে মাইকেল ধরা দেয় যে টাকার জন্য সে একজন নিরীহ মানুষ কে খুন করে

    4
    5 Comments

Friends

Profile Photo
Rejwana Khan
@rejwana-khan
Profile Photo
ভাস্কর
@vaskarchou
Profile Photo
Prithula Zaman
@prithula
Profile Photo
AdabenTatali
@adabentatali
Profile Photo
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
Profile Photo
Umme Tabassum Taiyeba
@umme-tabassum-taiyeba
Profile Photo
Rehana Akter
@rehana-akter
Skip to toolbar