Profile Photo

Abul Hasan TuhenOffline

  • abulhasantuhen
  • Profile picture of Abul Hasan Tuhen

    Abul Hasan Tuhen

    4 years, 9 months ago

    নাটক- আগামীর স্বপ্ন

    রচনা-আবুল হাসান তুহিন

    কাহিনী সংক্ষেপঃ এযাবতকালের মধ্যে যাত্রাশিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই করোনাকালে। এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নেই রাষ্ট্রীয় কোনো দিকনির্দেশনা। এই পেশার সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নিদারুণ দুঃখে কষ্টে দিন কাটছে। শিল্প সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্য হচ্ছে যাত্রাপালা, অনেক আদিকাল থেকে এটা প্রদর্শিত হয়ে আসছে। একটি যাত্রাপালার কয়েকজন শিল্পীদের কথোপকথনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে তাদের প্রতিনিয়ত দুঃখ-কষ্ট যাত্রা শিল্পীদের বর্তমান অবস্থা করোনাকালীন সংকট ময় দিনকাল, সরকারের নীতিনির্ধারকদের চিন্তা চেতনা পরিবর্তন করা এবং ভবিষ্যতের কিছু আশার বাণী নিয়ে এই নাটকটি রচিত। যাত্রাশিল্পীদের বংশধররা যাতে এই পেশার সাথে জড়িত না হয় এবং তাদের মত দুঃখ কষ্টে দিন যাপিতো না করে। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হয়। যাত্রাশিল্পের ইতিহাস ঐতিহ্যকে পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরার আহ্বান করা হয়েছে।

    :চরিত্র:

    ১। দিদিমা ২।নাতনি

    ৩। সূত্রধর ৪।পাগল

    ৫। খোকা ৬।মৌসুমি

    দৃশ্য।।০১।। দিন।। রাস্তা

    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির

    [সূত্রধর গান গাইতে গাইতে মঞ্চে প্রবেশ করছে পিছন পিছন দিদিমা নাতনির হাতধরে মঞ্চে প্রবেশ করবে]

    সূত্রধরঃ ।।গান ।।

    #বঙ্গবন্ধু তুমি কোথায়

    দাওনা আবার দেখা

    সোনার বাংলা গড়ছি সবাই

    তবু লাগে ফাঁকা।।

    #কন্যা তোমার শেখ হাসিনা

    দেশের হাল টা ধরে

    ডিজিটাল বাংলাদেশ

    নিচ্ছি সবাই গড়ে

    বঙ্গবন্ধু তোমায় ছাড়া

    আমরা বড়ই একা।।

    #কন্যা তোমার শেখ হাসিনা

    করছে দেশের সেবা

    সোনার বাংলা শোনা হবে

    রুখবে বলো কেবা

    তুমিহীনা কাঁদে পরান

    ভাগ্যে ছিল লেখা।।

    দিদিমাঃ বাহ্ সুন্দর একটা গান তো শোনালে ,

    সূত্রধরঃ লকডাউনের মধ্যে বসে গানটা বেধেছি। তা বল তোমার খবর কী? আমরা তো সব না খেয়ে মরলাম গো দিদি।

    দিদিমাঃ সবার একই অবস্থা সবাই দায়-দেনা আমরা না পারবো কিছু বলতেই না পারবো অন্যকোন কাজ করতে। পারবোনা কারো কাছে হাত পাততে।

    সূত্রধরঃ ঠিকই বলেছো দিদি দেশের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা যাত্রা শিল্পকে বেশ কয়েক বছর ধরেই টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অতীতে এই শিল্পের যে বিত্তবৈভব ছিল, তা এখন নিভু প্রদীপ। মঞ্চে মেকআপ করা রঙিন মানুষগুলোর অবস্থা বাস্তবে ঠিক তার বিপরীত। তার ওপর করোনা যেন মহাসংকটে ফেলেছে এ অঙ্গনের আমাদের মত মানুষেরা এ পেশায় টিকে থাকতে পারবেন কি না, সেটাই ভাবছি।

    দিদিমাঃ করোনার কারণে একেবারেই ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা । এটা পুষিয়ে ওঠা যাবে না, তা নিয়ে চিন্তিত যাত্রাসংশ্লিষ্ট সকলে। করোনার এ ধাক্কায় একেবারেই আমাদের সব কার্যক্রম বন্ধ।

    সূত্রধঃ আগে না হয় একরকম ছিল ,এখন করোনার কারণে ধুঁকতে থাকা এ শিল্প একেবারেই বন্ধ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। , ‘যাত্রাশিল্পের এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে শোচনীয় অবস্থা, এর মধ্যে আবার কিছু অসাধু মানুষ যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য দেখিয়ে ভালো শিল্পীদের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারপরও আমরা এখনো পালাগুলো দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে হাল ছেড়ে দিতে হবে। কবে করোনা ভালো হবে, কবে মানুষের সমাগম হবে, কবে যাত্রা করার অনুমতি পাব, এগুলো নিয়ে বড় চিন্তায় আছি।’

    দিদিমাঃ বেশি চিন্তা করে আর কি হবে। উপরে আল্লাহ আছেন একভাবে চালিয়ে নেবেন, আজ সময় কম অন্য একদিন আবার কথা হবে।

    সূত্রধরঃ ব্যস্ত হয়ে কোথায় যাবে দিদি।

    দিদিমাঃ নাতিকে নিয়ে স্কুলে যেতে হবে, এতদিন ওই মোবাইলের মধ্যে কি সব ক্লাস নিতে এখন স্কুল থেকে কি যেন দেয়। অ্যাসাইন না কি? এসব বুঝি না?

    নাতনিঃ অ্যাসাইনা দিদিমা, অ্যাসাইনমেন্ট দেবে সেগুলো পূরণ করে দিতে হবে । আগের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে নতুন অ্যাসাইনমেন্ট নিতে হবে।

    দিদিমাঃ তাই নাতনিকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি এখন আসি। চল ভাই। (যেতে উদ্ধত)

    সূত্রধরঃ হাঁ জলদি যাও ঠিকমত লেখাপড়া করো নাতনি আমাদের মতো যাত্রাদলের পেশায় তোমাকে থাকতে যেন না হয় সেই দোয়াই করি। (প্রস্থান)

    দৃশ্য।।০২।। দিন।। দিদিমার বাড়ি

    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির

    [দেখা যায় নাতনি একটি কবিতা আবৃত্তি করছে দিদিমা সঞ্জয় সূত্রধর প্রবেশ করবে]

    নাতনিঃ দিদিমা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর অর্থাৎ রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠিত হবে আমাদের স্কুলের অনুষ্ঠানে আমি একটি কবিতা আবৃতি করব।

    দিদিমাঃ খুবই সুন্দর কবিতাটা আমাকে শোনবে না ।

    নাতনিঃ অবশ্যই শোনাবো তার আগে দেশ সম্পর্কে তোমাকে কিছু প্রশ্ন করব।

    দিদিমাঃ কি কি প্রশ্ন দিদিভাই?

    নাতনিঃ তুমি কি জানো আমাদের স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে, বিজয় দিবস কত তারিখে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কত সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

    দিদিমাঃ আমি জানি। কিন্তু তুমি কি জানো সেটার পরীক্ষা আগে দাও।

    নাতনিঃ আচ্ছা।, তবে শোনো, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস শহীদ দিবস। ২৬শে মার্চ, আমাদের স্বাধীনতা দিবস।১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস । আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল ১৯৭১সালে।

    দিদিমাঃ এইতো আমার নাতি দেশ সম্বন্ধে বুঝতে শুরু করেছে তোমাদের হাতেই আমাদের আগামীর স্বপ্ন’ আগামীর বাংলাদেশ।

    নাতনিঃ দিদিমা তুমিতো বলেছ লেখাপড়া শিখতে হবে যাত্রাপালার পেশায় আমি যেন না আসি। কিন্তু এটা আমাদের শিল্প-সাহিত্যে এবং ঐতিহ্যের একটি অংশ। আমার না কবিতা আবৃতি করতে খুব ভাল লাগে তাই এটা কবিতা আবৃত্তি শিখেছি। তুমি শুনতে চেয়েছো এবার আবৃত্তি করবো শুনবে?

    দিদিমাঃ শুনবো না মানে অবশ্যই শুনবো। দেখি আমার দিদিভাই কেমন কবিতা আবৃত্তি শিখেছে।

    নাতনিঃ

    (কবিতা আবৃত্তি করবে সূত্রধর প্রবেশ করবে)

    #পঞ্চাশ পেরিয়েছে বাংলাদেশ

    সোহার্দ্য সম্প্রীতি,

    আনন্দ উচ্ছ্বাসে পেল সবাই

    দারুন অনুভুতি,

    স্বাধীনতা স্বাধীনতা স্বাধীনতার

    সুবর্ণজয়ন্তী।।

    #সবুজ মাটি রক্তে কেনা

    মুক্ত-স্বাধীন এই দেশ

    অনাবিল স্বপ্ন সম্ভবনায়

    ছড়ায় দীপ্ত রেশ

    রুখবো এসো যত অনাচার

    সন্ত্রাস দুর্নীতি।।

    # রাখাল মাঝি জেলে তাঁতি

    সুখে অনিমেষ

    আউল বাউল শিল্পী কবির

    অপরূপ পরিবেশ

    স্বর্গের চেয়ে সুখ অমলিন

    ভুলেছি ক্লান্তি ।।

    #প্রীতি বন্ধনে আমরা সবাই

    সুখেই আছি বেশ

    সুশাসনে উন্নয়নে

    ডিজিটাল বাংলাদেশ

    শেখ হাসিনার মূলমন্ত্রে

    এসেছে প্রশান্তি।।

    ১৭/০৯/২১

    সূত্রধরঃ চমৎকার চমৎকার, মৌসুমীর মেয়ে বলে কথা। এ তো আমাদের পেশায় থাকলে মা কেও ছাড়িয়ে যেত কিন্তু না লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হোক। আমাদের মত ধুঁকে ধুঁকে কষ্টে জীবন যেন না হয়। নানি নাতনি মিলে ভালোই জমিয়েছো দিদি
    দিদিমাঃ আগে যাত্রাপালার নিয়মিত চর্চা চলত এখন কি করব তাই নাতিকে নিয়ে একটু সময় কাটাতে চেষ্টা করছিলাম।

    সূত্রধরঃ আমারও বাড়িতে মন টিকছিলো না তাই ভাবলাম একটু ঘুরে আসি।

    দিদিমাঃ খুব ভালো হয়েছে, একটু গল্প করে তো সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া যাবে। যাত্রাদলে যন্ত্রশিল্পী, মেকআপম্যান, অভিনয়শিল্পী মিলে প্রতি দলে ৪০ জন, কোনো কোনো দলে তারও বেশি মানুষ কাজ করতো। তাঁদের প্রায় সবাই এই যাত্রার ওপরই নির্ভরশীল। করোনার শুরু থেকে তাঁরা সবাই বেকার। করোনা ভালো হওয়ার লক্ষণ না দেখে কিছু যাত্রাশিল্পী পেশা বদল করেছেন। আবার কেউ কেউ সুদিনের আশায় অপেক্ষা করছেন।

    সূত্রধরঃ সেদিন মোবাইলে কথা হয়েছিল বক্কর ভাইয়ের সাথে, তিনি একসাথে।দেশের প্রায় ১৫টি যাত্রাদলের সাথে কাজ করতেন। এখন তাঁর আয় একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটানোর কথা তিনি জানালেন বললেন ‘কর্ম না থাকলে যা হয়। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে। মেয়ে অসুস্থ। চিকিৎসা করাতে পারছি না। খোঁজ নিচ্ছি, কিন্তু কাজের খবর মিলছে না। অভিনয় ছাড়া অন্য কিছু আমার পক্ষে সম্ভবও নয়। এখন কীভাবে চলব, কোনো উপায়ই দেখছি না। খেয়েপরে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

    দিদিমাঃ তুমি তো সবই জানো আমাদের এই পারুল অপেরা কাজ করতো চারটি বিষয় নিয়ে যাত্রাপালা, সার্কাস, পুতুল নাচ পালা গান। সব মিলিয়ে সারাদেশে প্রায় ৭০০ জন মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো আমাদের সাথে। আমি একাই এসব সামাল দিয়েছি এখন সবাই বেকার কি করবো দিশা খুঁজে পাচ্ছিনা।

    সূত্রধরঃ আমি মাঝে মাঝে মোবাইলে পরিচিত যাত্রাশিল্পীদের সাথে কথা বলি, সাহায্য করতে না পারলেও খোঁজ নেওয়া উচিত। মধুমিতা অপেরার এক অভিনেতার সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারি, নিরুপায় হয়ে তিনি সবজির ব্যবসা করতেন, এখন রিকশা চালিয়ে আয় করে কোনোরকমে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

    দিদিমাঃ আগে নিয়মিত অনুশীলনে মুখর থাকতাম। দিনরাত কাটত যাত্রার অনুশীলনে। ঘরে রাখা যাত্রার পোশাক, ঢোল-তবলায় জমতে শুরু করেছে ধুলাবালি। আমাদের জেলাসহ দেশের যে মানুষেরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের প্রায় ৯৯ ভাগই ভালো নেই। ধারদেনায় আমরা জর্জরিত। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে হয়তো এই পেশাতেই আর থাকতে পারব না।’

    সূত্রধরঃ সেদিন পত্রিকাতে দেখলাম দিদি

    যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মিলন কান্তি দে সাংবাদিকদের বলেছেন , কয়েক বছর ধরে যাত্রাশিল্প খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে তার অস্তিত্ব একেবারে সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে গেছে। আগে থেকেই বিপর্যস্ত এ শিল্পকে এখন একেবারে পঙ্গু করে দিয়েছে করোনা। নাটক-চলচ্চিত্র সব মাধ্যমে ক্ষতি হচ্ছে, কিন্তু বিকল্প হিসেবে তাঁরা ফেসবুক, অনলাইনে লাইভ করছেন। অনেকে শুটিং করছেন। কিন্তু যাত্রাশিল্পীদের সেই সুযোগ নেই। কীভাবে হাজার হাজার যাত্রাশিল্পী চলছেন নাগরিক জীবনে, এটার কেউ খোঁজখবর রাখে না। তাঁদের জন্য প্রণোদনা হয়েছে সেটা খুবই মুষ্টিমেয়, ১০০ জনের কম শিল্পী এ প্রণোদনা পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। এটাকে বাঁচানোর জন্য নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনা দরকার।

    দিদিমাঃ সুন্দর মূল্যবান কথা বলেছেন। এই করোনাকালে আজকে আমরা যে যাত্রাপালা করেছি বাংলাদেশ বাংলা একাডেমি মহাপরিচালকের কাছে আমরা ঋণী। তিনি আমাদের এই সুযোগটি দিয়েছেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমির কাছে আমরা আরো ঋণী। আমাদের সহযোগিতা করার জন্য।

    সূত্রধরঃ স্কুল তো খুলেছে নাতনি, তো আজ স্কুল নেই।

    নাতনিঃ না, সপ্তাহে একদিন করে ক্লাস হচ্ছে।

    সূত্রধরঃ চলো আজ ঐ মোড়ের চায়ের দোকান থেকে সবাই মিলে চা খেয়ে আসি, কি বলো। চলো চলো চলো। (হাসি প্রস্থান)

    দৃশ্য।।০৩।। দিন।। রাস্তা

    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির, পাগল

    [মঞ্চে এসে পাগল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ দেবে]

    ।।বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।।
    পাগলঃ সংক্ষিপ্ত আকারে দেবে
    “ভাইয়েরা আমার; আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। বাঙলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯-এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওয়ার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গণতন্ত্র দেবেন। আমরা মেনে নিলাম।তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেব কথা। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমার রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা পয়সা পৌঁছিয়ে দেবেন। আর এই সাতদিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইরা যোগদান করেছেন, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছায়ে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো, কেউ দেবে না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটপাট করবে। এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান বাঙালি অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে। আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন রেডিও টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনেন, তাহলে কোন বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবেন না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে। কিন্তু পূর্ববাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ববাংলায় চলবে এবং বিদেশের সঙ্গে নিউজ পাঠাতে চালাবেন। কিন্তু যদি এদেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝে শুনে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্ত্তত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা। জয় বাংলা।

    সূত্রধরঃ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে আপামর জনতা যেমন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যাত্রাশিল্পীরা তারই প্রমাণ আমরা ইতিহাসে পাই।৭১-এর মার্চে সেই উত্তাল দিনগুলোতে নয়ন মিয়া ছিলেন বুলবুল অপেরায়। অমলেন্দু বিশ্বাস বাসন্তী অপেরায়। বর্তমান ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈলে অভিনয়ের পাট চুকিয়ে পশ্চিম দিনাজপুরের রায়গঞ্জে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উদ্দেশ্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যাত্রাভিনয়ের আয়োজন করা। এরপর শংকরী হাজারী স্বপরিবারে চলে গেলেন ভারতে। দার্জিলিং, জলপাই গুড়ি, আসাম, ত্রিপুরা, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একের পর এক যাত্রাপালায় অভিনয় করলেন। প্রশংসা কুড়ালেন। দেশ স্বাধীনের পর ফিরে এলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে।
    দিদিমাঃ তাহলে আমাদের যাত্রা শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বসে থাকেনি।
    সূত্রধরঃ ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঢাকায় যখন বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়, ঠিক ওই সময় নেত্রকোনা জেলার হাইস্কুল মাঠে যাত্রানুষ্ঠান চলছিল বাবুল অপেরার। দক্ষিণ ভারতের আহমদনগরের সুলতানা চাঁদবিবির বীরত্বগাঁথা নিয়ে রচিত হয় ওই পালাটি। ‘চাঁদবিবি’ ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে মঞ্চস্থ শেষ যাত্রাপালা। এক প্রতিবাদী নারী চরিত্রের সংলাপ ছিল এরকম : ‘জাহাঁপনা, কেন আপনার সৈন্যদলকে অতর্কিতে লেলিয়ে দিয়েছেন আমাদের ওপর? কত ঘরবাড়ি পুড়েছে, কত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে, কত মন্দির-মসজিদ ধ্বংস হয়েছে খবর রাখেন কিছু?’ অবাক, বিস্মিত শিহরিত যাত্রাশিল্পীরা। ঘটনার কী সমান্তরাল যোগাযোগ। পরদিন ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার বার্তাটি বিভিন্ন এলাকার মতো পূর্বধলায়ও এসে পৌঁছায়। যাত্রানুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ‘সব প্রস্তুত, যুদ্ধের দূত হানা দেয় পূর্ব দরজায়।’ যাত্রাশিল্পীরাও ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তি সংগ্রামে।
    নাতনিঃ বাহ এত সুন্দর একটি অজানা ইতিহাস তুলে ধরলেন। এটা সবার জানা উচিত।
    দিদিমাঃ সত্যি তুমি একটা অজানা ইতিহাস শোনালে।
    নাতনিঃ উনার মাথার সমস্যা হলেও উনিতো সুন্দরভাবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিলেন। দিদিমা ওনাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে যাই খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করি। সেবা-যত্ন পেলে উনি ভালো হয়ে যেতে পারেন। (পাগলক নিয়ে সকলের প্রস্থান করবে)
    দৃশ্য।।০৪।। দিন।। রাস্তা

    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির, পাগল

    [নেপথ্যে একটা চিৎকার পাগল পাগল বলে, পাগল দৌড়ে মঞ্চে প্রবেশ করবে এবং বলবে]

    পাগলঃ না আমি পাগল না আমি নবাব সিরাজউদ্দৌলা। আ হা হা হা (হাসি)
    বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা, তার শ্যামল প্রান্তরে আজ রক্তের আল্পনা, জাতির সৌভাগ্য সূর্য আজ অস্তাচলগামী। শুধু সুপ্ত সন্তান শিহরে অরুদ্ধবান জননীর নিশি অবসানের প্রহর গণনায় রত। কে তাকে আশা দেবে কে তাকে ভরসা দেবে। কে শোনাবে সেই জাগরণের অভয়বাণী। হে জন্মভূমি মা তোমার মাটির বুকে যতদিন একটি মানুষের বুকে প্রাণ থাকবে ততদিন স্বাধীনতার এই সংগ্রাম চলবে।——-না না এবার আমি মুর্শিদকুলি খাঁ–হাহাহা । কোথায় গেল সে কাফের জিম্মি, বেয়াদব রাজা উদয় নারায়ণের সিপাহশালার উন্নত ললাট প্রশস্ত বক্ষ, মুখে ব্যাঙের হাসি হাতে হাতিয়ার। সারা দুনিয়ায় দুসরা কোন জাতি নেই বাংলার নরম মাটি হিন্দুর রক্তে লাল, আমার জাত যুদ্ধে হাজারাও আওরাতের চোখে পানি আর পানি।কোটি কোটি শিশু কাঁদছে। তামাম দুনিয়ার আসমানকে কেড়ে নেব মুর্শিদকুলি খাঁর নামে। পাহাড়ের মতো মাথা উঁচু করে দাঁড়াল ধূর্যতি মঙ্গল, চোখে তার আগুন মুখে তার ভয়ঙ্কর ছাপ। সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন বেআদব মুর্শিদকুলি বর্বর মুর্শিদকুলি তোমাকে যুদ্ধে খতম করে দেবো। এত বড় সাহস আহাহাহা।
    কোথায় আমার দেবী বস এই সিংহাসনে, শীরে ধারণ কর এই শাহী তাজ। না না আমি বঙ্গেশ্বর নই। বঙ্গেশ্বরী আমার বেটি, আজ থেকে দেবী সুলতানা। অপরাধী মুর্শিদকুলি খাঁর বিচার করো দেবী সুলতানা। হা হা হা আ হা হা
    [অথবা অভিনয়শিল্পীর সুবিধামতো ডায়লগ সংযুক্ত করতে পারে]
    নাতনিঃ আচ্ছা দিদিমণি পাগল হলেন কিভাবে উনি এত সুন্দর করে এখনো যাত্রা ডায়লগ দিতে পারে। এর আগে উনি দিয়েছেন আমি শুনেছি। হয়তো সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ টা চমৎকার ভাবে দিলেন।
    দিদিমাঃ কি করবো আমাদের এই পারুল অপেরার দীর্ঘদিন জড়িত। অত যে যাত্রা পালা এই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেবী সুলতানা, সেসব যাত্রাপালার ডায়লগে উনি এখন দিয়ে বেড়ান।
    সূত্রধরঃ করো নাই আক্রান্ত হয়ে স্ত্রী মারা গেল। সেই শোকে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে নিঃসন্তান ছিল এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় আর যাত্রাপালার ডায়লগ দেয়।
    নাতনিঃ মাঝে মাঝে বাড়িতে নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা করেছো কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
    দিদিমাঃউন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যাত্রা সুসময় থাকলে আমরা সবাই মিলে ব্যবস্থা করতাম কিন্তু এখন আমরা নিজেরাই অসহায়। তারপরও ভাবছি কি করা যায় চল উনাকে সাথে নিয়ে আমাদের বাড়িতে যাই। (সকলের প্রস্থান)

    দৃশ্য।।০৫।। দিন।। রাস্তা

    চরিত্রঃ খোকন, মৌসুমী,

    [দেখা মৌসুমী একটি গানের তালে তালে নাচের মুদ্রা তুলছে, খোকন বাজারের প্যাকেট হাতে প্রবেশ]
    মৌসুমীঃ ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে/ মাতঙ্গী মেতেছে সমররঙ্গে/ সাজরে সন্তান, হিন্দু মুসলমান/ থাকে থাকিবে প্রাণ/ না হয় যাইবে র্প্রাণ।’ এমন উদ্দীপনামূলক গানের সাথে নাচ করবে। (নাচের শেষে খোকন বাজারের প্যাকেট নিয়ে প্রবেশ করবে)
    খোকনঃ মৌসুমী বাজার নিয়ে এসেছি তুমি একটু বিশ্রাম নিয়ে তাড়াতাড়ি মাছ কেটে পরিষ্কার করো।

    মৌসুমীঃ একটু দম নিয়ে কি মাছ নাহলে তোমার মেয়ে তো বলেছিল ইলিশ মাছ আনতে ইনেছ তো।

    খোকনঃ

    এনেছি তবে খোকা ইলিশ। মাছের যে দাম তাতে আমাদের মত মানুষের এ মাছ কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। আগে যা খেয়েছি সেই স্বাদ মুখে নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।

    মৌসুমী কেন গিয়ে অনেক বেশি দাম?

    খোকন বেশি দাম বলা মোটেও ঠিক হবে না কিন্তু আমাদের জন্য বেশি কারণ আমাদের যে দুরবস্থা এতে আমাদের পক্ষে মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব। 1 কেজি ওজনের একটি মাছ প্রায় এক হাজার টাকা।

    মৌসুমীঃ মনে পড়ে আমরা যখন এই যাত্রাপালা থেকে পালিয়ে দুজন বিয়ে করলাম। তখন ওই যে ঘর ভাড়া করে থাকতাম তুমি আমি দুজনে সংসার। তুমি বড় ইলিশ মাছ কিনে আনতে। ইলিশ মাছ খেতে খেতে ঘৃণা ধরে যেত।

    খোকনঃ হ্যাঁ এই স্মৃতি নিয়েই জীবন পার করতে হব। কারণ এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক বৈষম্য অনেক। আমরা যারা মানুষের এই চিত্তবিনোদন দিয়ে থাকি সেটা মঞ্চ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এর বাইরে আমাদের জীবন সম্পর্কে কেউ খোঁজ খবর রাখে না।

    মৌসুমীঃ তুমি ঠিকই বলেছ। কত প্রাচীন একটু ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমরা রক্ষা করে চলেছি অথচ আমরা তিনজন কাঙালের মতো।

    খোকনঃ সেই১৮৮২ সালে যাত্রা বিষয়ে গবেষণা করে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন আমাদের বিক্রমপুরের সন্তান নিশীকান্ত চট্টোপাধ্যায়। তিনি গবেষণায় আবিষ্কার করেছেন খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকেই কৃষ্ণ যাত্রার অভিনয় হতো। গবেষক গৌরাঙ্গ প্রসাদ ঘোষের মতে খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক তার অষ্টম শিলালিপিতে উৎসব অর্থে যাত্রা ব্যবহার করেছেন। বহু শতাব্দীব্যাপী উৎসবের ঘেরাটোপে বন্দি থাকার পর অভিনয় অর্থে যাত্রার প্রথম নিদর্শন দেখি মহাপ্রভূ শ্রীচৈতন্য দেবের আমলে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দশকে। ১৫০৯ সালে অভিনীত পালাটির নাম ‘রুক্ষ্মিণী-হরণ।’ মহাপ্রভূ স্বয়ং এই পালায় অভিনয় করেন। এটি ছিল শ্রীকৃষ্ণের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য একটি উদ্দেশ্যমূলক ধর্মীয় প্রয়াস। তবে যাত্রাভিনয়ের ধারাবাহিক ইতিহাসের জন্য আমাদের আরও প্রায় আড়াইশ বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়।

    মৌসুমীঃ যাবার পথে যেতে পারে আরেকদিন ইতিহাস নিয়ে নড়াচড়া করা যাবে। তুমি হাত মুখ ধুয়ে এসো বাজার থেকে এসেছো এখন করোনার সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি।

    খোকনঃ আচ্ছা ঠিক আছে। (উভয়ের প্রস্থান)

    দৃশ্য।।০৬।। দিন।। রাস্তা
    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির, পাগল, মৌসুমী
    [সূত্রধর সবাইকে যাত্রার ইতিহাস শোনাব]

    সূত্রধরঃ দিদি করোনার লকডাউনে বিস্তার সময় পার কর করতে একটু যাত্রার ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছিলাম আজকে নতুন একটা ইতিহাস শোনাবো।
    দিদিমাঃ বল শুনি, কেন বাড়বে সময়ও পার হবে।

    সূত্রধরঃ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের সাড়ে তিন দশক পর ইংরেজশাসিত বঙ্গদেশে বাংলা নাট্যাভিনয়ের সূচনা করেন রুশ নাগরিক হেরাসিম লেবেডেফ। সে সময়ে গ্রামে-গঞ্জে রাত-ভোর করে দেওয়া যাত্রাগানের আসর বসত। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বীরভূম জেলার কেঁদুলী গ্রামের শিশুরাম অধিকারী যাত্রাগানে শোনালেন এক নতুন বার্তা। ভক্তি রসাত্মক ভাবধারার মধ্যে তিনি নিয়ে এলেন নতুন জাগরণ। যাত্রাগানের ইতিহাসে তিনি ‘নবযাত্রার পথিকৃৎ’ হিসাবে খ্যাত। শিশুরামের পর পরমানন্দ অধিকারী ও গোবিন্দ অধিকারী -বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিন্যাসে ও রূপকল্পে যাত্রাকে আরও সময়োপযোগী করে তোলেন। নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষের হাতে পৌরাণিক যাত্রাপালা নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বতন্ত্র মাত্রা পায়। যাত্রা ও নাটকে তার ভাষারীতি যেমন নতুনত্বের দাবি রাখে, তেমনি এক সুললিত ছন্দ আবিষ্কার করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। এটাই ‘গৈরিশী ছন্দ’ নামে পরিচিত। মিত্র, অমিত্রাক্ষরের সঙ্গে গৈরিশী ছন্দের ব্যবহারও যাত্রায় অনেকদিন ছিল।

    দিদিমাঃ তুমি সেদিন বলেছিলে যে বিভিন্ন আন্দোলনে যাত্রা পালা অনেক ভূমিকা রেখেছে যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে। এর আগে কি কোন ইতিহাস আছে।

    সূত্রধরঃ সৃষ্টির অফুরন্ত সম্ভাবনা নিয়ে বিশ শতকে এগিয়ে চলল যাত্রার রথ। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে ‘স্বদেশী যাত্রা’ নিয়ে এলেন মুকুন্দ দাস । ইংরেজের বিরুদ্ধে মুকুন্দ গাইলেন- ‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে/ মাতঙ্গী মেতেছে সমররঙ্গে/ সাজরে সন্তান, হিন্দু মুসলমান/ থাকে থাকিবে প্রাণ/ না হয় যাইবে র্প্রাণ।’ এমন উদ্দীপনামূলক ভাষা ও শব্দ চয়নের মাধুর্যের আগে কোন যাত্রাপালায় দেখা যায়নি। মাতৃপূজা, কর্মক্ষেত্র পথ, পল্লিসেবা, সমাজ- মুকুন্দ’র এ পালাগুলো ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

    দিদিমাঃ এ শেষ বয়সে এসে যাত্রাপালা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম এর আগে শুধু পাঠ দিয়ে গেছি কিন্তু যাত্রার ইতিহাস সম্পর্কে কিছুই জানিনা।
    সূত্রধরঃ ৪৭ পূর্বকালের খুব নামকরা দুটি দল ছিল মানিকগঞ্জের অন্নপূর্ণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জয়দুর্গা অপেরা। মানিকগঞ্জের তরা গ্রামের কার্তিকচন্দ্র সাহা মাত্র দশ আনা পুঁজি নিয়ে অন্নপূর্ণা গঠন করেন। কলকাতার বহু শিল্পী এখানে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য পালা ছিল ধরার দেবতা, দাতা হরিশ্চন্দ্র, রাজনন্দিনী ও স্বামীর ঘর। জয়দুর্গা অপেরার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। এ দেশের বেশিরভাগ বিখ্যাত যাত্রাশিল্পী এই দলে অভিনয় করেছেন। বিশিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন মন্মথ দত্ত, নয়ন মিয়া, চিত্ত পাল, বিমল বালা, দিগম্বর মালাকার, কালীপদ দাশ ও বনশ্রী মুখার্জি। পুরুষদের মধ্যে নারী চরিত্রে অভিনয় করতেন এমন কয়েকজন হলেন- নগেন নন্দী, ভাসান নন্দী, ব্রজেন নন্দী, লক্ষ্মী নন্দী। তারা সবাই ‘রানি’ হিসাবে খ্যাত ছিলেন। দলের পালা ছিল প্রতিশোধ, বর্গী এল দেশে, সাধক । (মৌসুমির প্রবেশ)

    মৌসুমীঃ যাত্রাপালার রিহার্সাল বন্ধ তবু মাঝে মাঝে আমি নাচের মুদ্রা চর্চা করে যাচ্ছি। তোমরা তো দেখলাম কয়েকদিন ধরে যাত্রার ইতিহাস নিয়ে অনেক কথা আলোচনা করলে। ঠিক আছে আজকের আলোচনা এখানে মুলতবি আমার রান্না শেষ সবাই খেতে এসো।

    নাতনিঃ মা ইলিশ মাছ কান্না করেছ তো। আমিতো আব্বাকে বাজার থেকে ইলিশ মাছ কিনে আনতে বলেছিলাম।
    মৌসুমীঃ হ্যাঁ তোমার আব্বা বাজার থেকে ইলিশ মাছ নিয়ে এসেছেন আমি সেটাই রান্না করেছি এসো সবাই একসাথে খাবো। (সকলের প্রস্থান)

    দৃশ্য।।০৭।। দিন।। রাস্তা
    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির, পাগল, মৌসুমী, খোকন
    [যাত্রা দলের নিবন্ধন নিয়ে আলোচনা করছে সবাই]
    দিদিমাঃ আগেতো প্রতিটি জেলার ডিসি অফিস থেকে যাত্রাদলের লাইসেন্স দেয়া হতো। এখন সেটা বাতিল করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর হাতে দেয়া হয়েছে,বর্তমানে যাত্রাদলের নিবন্ধন ফি কত হয়েছে?
    খোকনঃ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিবছর যাত্রা দলের নাম নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক দলের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়ার আইন ছিল। পরে আন্দোলন করে বাইশশত টাকার কাছাকাছি আনা হয়। বর্তমানে একেবারে ফ্রি করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। সেটার আবেদনও দেয়া হয়েছে কিন্তু অন্তত এক হাজার নিচে হবে না।
    সূত্রধরঃ যাত্রা দলের নিবন্ধন ফি নেওয়ার পরেও সরকার ও নীতি নির্ধারকরা যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে বিশেষ কিছুই করে না। স্বাধীনতার পর থেকে সাকল্যে পাঁচবার জাতীয় পর্যায়ে যাত্রা উৎসবের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। প্রথম জাতীয় যাত্রা উৎসব হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, আর শেষবার হয়েছে ১৯৯৫ সালে। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমি ঢাকায় বাছাই করা সাতটি দল নিয়ে সপ্তাহব্যাপী যাত্রা উৎসব করেছিল তিনবার। ২০০৬ ও ২০০৮ সালে, তারপর সর্বশেষ হয়েছে ২০১০ সালে। এরপর থেকে যাত্রা নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির আর উৎসাহ চোখে পড়ে না। অথচ মুমূর্ষু যাত্রা দলগুলোর কাছ থেকে ফিবছর টাকা আদায় জারি আছে। এটা পরিবর্তন হওয়া দরকার।
    খোকনঃ বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বিনোদন মাধ্যমগুলো এখন গভীর অস্তিত্বসংকটে। বহু প্রাচীনকাল থেকে এসব মাধ্যম গ্রামীণ জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি লোকজীবনের সৃজন ও মননচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন তা বিলীয়মান।

    মৌসুমীঃ লোকসংস্কৃতির এই মাধ্যমগুলোর অন্যতম হলো যাত্রাপালা, পুতুলনাট্য বা পুতুলনাচ ও সার্কাস। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আয়োজনে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, প্রশিক্ষণ না থাকা এবং আরও নানান কারণে খুব জনপ্রিয় এই সাংস্কৃতিক মাধ্যমগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অনিবার্য প্রয়োজনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাম ও আঙ্গিক পরিবর্তন করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে এগুলোর মূল আঙ্গিকে বিকৃতি ঘটছে।

    সূত্রধরঃ যাত্রাশিল্পের এখন ঘোর দুর্দিন। সারা দেশে যাত্রাপালার অনুমোদন অঘোষিতভাবে বন্ধ। যাত্রাপালা আয়োজনে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু যাত্রার কথা শুনলেই প্রশাসন আর অনুমোদন দিচ্ছে না। আক্ষেপ করে বাংলাদেশ যাত্রা শিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দে সাংবাদিকদের

    বললেছিলেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। দেশে যেখানে ৩০০-এর বেশি যাত্রা দল ছিল, এখন ৩০টি দলও সংগঠিত হচ্ছে না। প্রায় দুই বছর ধরে যাত্রাপালা বন্ধ।

    খোকনঃ সরকার শিল্প–সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ের অবস্থা তার বিপরীত। কখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কখনো জঙ্গি হামলা এমন নানা ওজর-আপত্তি তুলে যাত্রার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সূত্রধরঃ আমাদের যাত্রা দলগুলোর একটি জোট আছে, যার নাম যাত্রা শিল্প উন্নয়ন পরিষদ। এটির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদের কাছে এখনকার ভগ্নদশার একটি ছবি পাওয়া গেল। যাত্রা দলগুলোকে প্রতিবছর শিল্পকলা একাডেমির কাছ থেকে নিবন্ধন নবায়ন করতে হয়। এবার একশটি দল নিবন্ধন নবায়ন করেছে। এই নিবন্ধনই ‘দলের লাইসেন্স’ হিসেবে গণ্য। কিন্তু নাম নিবন্ধন করে লাভ কী, পালা তো আর মঞ্চায়ন করা হয় না, তাই দলও গঠন করা হয় না। বাংলায় আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত সাত মাস যাত্রার ভরা মৌসুম। করোনার জন্য কোনো যাত্রাপালা হয়নি। শুধু সিলেট অঞ্চলের চা–বাগানগুলোতে চা–শ্রমিকদের আয়োজনে কয়েকটি পালা হয়েছে। এখনো একই অবস্থা।

    মৌসুমীঃ যাত্রাশিল্প, ১৯৭৫ সালের পর থেকেই যাত্রাপালা আয়োজনের ওপর বিধিনিষেধ আসতে থাকে। মাঝের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল ব্যতিক্রম। এই সময় অবস্থা ছিল সবচেয়ে ভালো। তারপর থেকে আবার বাধানিষেধ বাড়তে থাকে। এখন, ‘প্রশাসন এখন যাত্রার নামই শুনতে চায় না।

    সূত্রধরঃ এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যাত্রাপালা প্রদর্শনের জন্য চাই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা।

    সবাইঃ হ্যাঁ হ্যাঁ সুনির্দিষ্ট নীতিমালা চাই। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। যাত্রাশিল্পীদের যোগ্য সম্মান।

    দিদিমাঃ দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার একটি আবেদন আছে। যাত্রা মৌসুমের সাত মাস বাদে বাকি পাঁচ মাস যাত্রাশিল্পীদের ফ্রী রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    নাতনিঃ আমি ছোট মানুষ হলেও বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার একটি আবেদন আছে যাত্রাশিল্পীদের ছেলেমেয়েদের সম্পূর্ণ ফ্রি লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

    সবাইঃ (সবাই হাততালি দেবে) বাহ্ এটাই সবচেয়ে উত্তম প্রস্তাব।

    দৃশ্য।।০৮।। দিন।। রাস্তা

    চরিত্রঃ সূত্রধর, দিদিমা, নাতনির

    [সূত্রধর গান গাইতে গাইতে মঞ্চে প্রবেশ করছে পিছন পিছন দিদিমা নাতনির হাতধরে মঞ্চে প্রবেশ করবে]

    সূত্রধরঃ

    ।। গান ।।

    #শেখ মুজিবের নৌকা খানি ডুবতে নাহি পারে

    আল্লা রসুল সঙ্গে আছে ভয় কি পারা পারে।।

    # কান্ডারী তাঁর শেখ হাসিনা ধরল দেশের হাল,

    উন্নয়নে সুশাসনে বাংলা ডিজির্টাল,

    জয় বাংলার মূলমন্ত্রে জিততে সবাই পারে।।

    #ঝান্ডা নিয়ে শেখ মুজিবের উড়াই সুখের পাল,

    লাল সবুজের বিজয় কেতন থাকবে চিরকাল,

    ডুববে নারে নৌকা যে ভাই রুষ্ট রোষের ভারে।।

    (১৫/০৮/২০১৮/বুধবার।)

    সূত্রধরঃ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ আমাদেরই গড়তে হবে। সেই সাথে আমাদের ইতিহাস শিল্প-সাহিত্যের ঐতিহ্য এই যাত্রাপালা কে টিকিয়ে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। তারই হাত ধরে এগিয়ে যাক আমাদের এই যাত্রাশিল্প।

    দিদিমাঃ কিন্তু রাষ্ট্র বরাবরই এ মাধ্যমটাকে ভয় পেয়েছে। তাই তো বিধিনিষেধ কিংবা কালাকানুন জারি করে সরকারিভাবে যাত্রার যাত্রাপথ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। অথচ চিরায়ত সত্য এটাই যে, যাত্রা বা যাত্রাগান যুগে যুগে মানুষকে আনন্দ দিয়েছে।

    সূত্রধরঃ যাত্রার আসরে শোনা যেতো বীর পুরুষদের কাহিনি, রাজা-বাদশাহর যুদ্ধের গল্প। লেখাপড়া না-জানা মানুষ যাত্রাগান শুনে অনেক কিছু শিখত। বুঝতে পারত। দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হতো হাজার হাজার মানুষ। তাই এই শিল্পকে আমাদের বাঁচাতে হবে।

    দিদিমাঃ শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসাবে যাত্রার স্বীকৃতি আছে যুগ যুগ ধরে।

    সূত্রধরঃ তাইতো নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ি বলেছিলেন, ‘আমাদের জাতীয় নাট্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তাহাই যাত্রা।’ নাট্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়া হায়দার বলেছিলেন ‘যাত্রাই হতে পারে আমাদের জাতীয় নাট্য।’ তবে দুঃখজনক যে, এ সম্ভাবনা আদৌ আমাদের দৃষ্টিগোচর হলো না।

    দিদিমাঃ যাত্রাপালা হোক আমাদের শিল্প সাহিত্যের প্রধান মাধ্যম।

    নাতনিঃ দিদিমা তোমরা এতক্ষণ এই যাত্রার ইতিহাস যাত্রা মানুষের সুখ দুঃখ বেদনা ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদেরকে শোনালে এটা সর্বক্ষেত্রে সবাইকে জানাতে হবে, প্রয়োজনে আমাদের পাঠ্যসূচিতে এই যাত্রা ইতিহাস সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে আগামীর বাংলাদেশ জানবে, যাত্রাপালার বীরত্বগাঁথা সেই সব দিনগুলোর কথা।

    ।।স্লোগান।।

    যাত্রা হোক দিনবদলের হাতিয়ার

    আগামীর স্বপ্ন তোমার আমার।।

    ।। সমাপ্ত ।।

    ২০/০৯/২১

    11
    10 Comments

Abul Hasan Tuhen

Friends

Skip to toolbar