Profile Photo

Md. Ariful IslamOffline

  • mdarifulislam
  • Profile picture of Md. Ariful Islam

    Md. Ariful Islam

    4 years, 7 months ago

    দিন দিন নতুনত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষ পুরাতনকে বাদ দিয়ে নতুনকে মানিয়ে নিচ্ছে। সহজ ভাবে নতুনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফেইসবুক হল এমন একটি। যেটা ব্যাপক হারে মানুষ ব্যবহার করছে। একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করতে ফেইসবুক অন্যতম সহজ মাধ্যম হয়ে দাড়িেছে। স্মার্টফোন এটাকে আরও বেগবান করেছে। ফেইসবুকে আমিও আসক্ত হতে থাকলাম। আমার স্মার্টফোন না থাকলেও বাটন মোবাইল দিয়ে ফেইসবুক ব্যবহার শুরু করি। দীর্ঘ দিন লেখাপড়া শেষ করেও কোনো চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভোগতে শুরু করি। এভাবে অনেক সময় চলে যায়। বিশ্বে করোনা ভাইরাসের প্রভাব শুরু হয়। পৃথিবী থমকে যায়। অনলাইন ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পায়। যোগাযোগ থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। এভাবে নতুন নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ হয়। অন্ধ বিশ্বাস করলে প্রতারণার স্বীকারও হতে হয়। আমি প্রায় অপরিচিত মানুষকে ফেইসবুক মেসেজ করতাম। তেমন কারও সাথে বন্ধুত্ব হত না। আমার পরিচিত ভাল মানুষের ফেইসবুক থেকে তার বন্ধুদের লিস্টে ঢুকে তাদের রিকুয়েস্ট দেই। এভাবে অনেক মানুষকে দিয়ে তাকি। এভাবে কখন যেন শুভ পাল নামের একজনকে রিকুয়েস্ট দিয়েছি তা মনেই না। সম্ভবত আমার এক আত্মীয়র বন্ধুর বন্ধু ছিল শুভ পাল। এভাবেই মনে হয় তাকে রিকুয়েস্ট দিয়েছি। শুভ পাল তিনি গল্প লেখতেন যে গুলো আমি প্রায় পড়তাম। হঠাৎ এক দিন তাকে হাই লেখি। তিনি আমাকে এমন ভাবে সম্বোধন করলেন যেন তিনি আমার অনেক দিনের পরিচিত। এভাবে তার সাথে আমার পরিচিতি শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনেই তাকে আমার জন্য চাকরি দেখার কথা বলি। এভাবে দিন যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ গাজীপুর সালনা ব্রিজের পাশে একটা রিসোর্টে ৬৪ জেলার বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন। সেখানে তার সাথে আমার প্রথম দেখা। এই আয়োজনে আমি বাড়ি থেকে সকালে আসি। এখানে প্রায় সব জেলার লোক ছিল। সেখানে কেউ আমার পরিচিত না। শুভ পালের সাথে ফেইসবুকে পরিচিত। তবু সে আমাকে রাতে থাকার কথা বলে। আমার মা বাবা আমাকে বাড়ি ফিরতে বার বার ফোন দেয়। তাই বাধ্য ছেলের মত শুভ পালের বিরুদ্দে আমি বাড়ি চলে যাই। শুভ পালকে আমি শুভ ভাই ডাকি। তিনি বারিধারা dohs এর অন্যন্যা শপিং এ ৪র্থ তলায় শেয়ায় বাজারে শার্প সিকিউরিটি তে চাকরি করে। ঘটনা ক্রমে আমিও বারিধারা dohs এ ২০০ নাম্বার হাউজে ডাটা এন্টির একটা চাকরি পাই। তার সাথে এই নিয়ে প্রতিনিয়ত মেসেজ হত। ততদিনে আমার বাটন মোবাইল এ আর ফেইসবুক চলে না। তখন তার সাথে আমার এসএমএস করতে হত। ডাটা এন্টির চাকরি হওয়ার পর আমার কাজের বিষয় নিয়ে তার সাথে প্রায় কথা হত। আমার কাজে খুবই কম বেতন আসত। তাই তিনি বলেন চাকরি ছেড়ে দিতে। আমিও ছেড়ে দেই। প্রায় তার বাসায় আসা যাওয়া করতাম। একমাস বেকার তাকার পর একটা ডায়াগনস্টিক এ চাকরি হয়। তখন তার সাথে আমার কাজের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। এই কাজটা আমার ভাল লাগত না। তাকে বলতাম। তিনি আমাকে বুঝাতেন কাজটা করার জন্য। তিনি আমাকে সবসময় টাকা দার দিয়ে সাহায্য করতেন। যে কোন সমস্যায় তিনি আমার পাশে থাকতেন। শুভ ভাই প্রায় বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতেন। আমাকেও বলতেন। আমার কাছে টাকা থাকতনা বলে সব জায়গায় যেতে পারতাম না। প্রথম একদিন তিনি আমাকে নারায়ণগঞ্জ জিন্দা পার্কে যাবার আমন্ত্রণ জানায়। আমিও রাজি হয়ে যাই। পাঁচ জন ঘুরে আসি জিন্দা পার্ক থেকে। ভাল লাগে। তবে রাস্তায় দুলা বালি যে বেহাল দশা তা সব কিছু ছাড়িয়ে। তার অনেক দিন পর তিনি ভোলা চর কুকরি মুকরি যাবার আয়োজন করেন। প্রায় ৬৪ জন একসাথে কুকরি মুকরি ঘুরতে যাই।৷ ২১ তারিখ সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করি। কর্ণফুলী ১২ লঞ্চ দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু। আমার প্রথম নদী, লঞ্চ, ট্যুর এটা। তবে এত মানুষের মাঝে মাত্র কয়েকজনকে ছিনি। তবে সবার সাথে মিশতে খুব একটা সময় লাগে নি। সবাই সবাইকে সাদরে গ্রহণ করে। লঞ্চ থেকে নামার আগেই ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে দেখি আরিফ, সোহেল, মিনহাজ, রিপন এক রুমে থাকবে। মিনহাজ ও রিপন কে খুজে পাই। তারা খুব পরিচিত। একই এলাকার। কিন্তু সোহেলকে খুঁজে পাইনি। রাতে ঘুম ভাল হয়নি। ২২ তারিখ ভোরে বেতুয়া লঞ্চ ঘাটে পৌঁছি। লঞ্চ থেকে নামার আগেই সেখানে ফটো সেশন শুরু করে। সেখানে সেন্টু গেঞ্জি ও ছোট লাল গামছা মাথায় বেদে ৩২টা মটর সাইকেলে করে কচ্ছপিয়া ঘাটে যাই। মজার ভ্রমণ শুরু হয়। কচ্ছপিয়া ঘাটে সোহেল মিয়ার সাথে পরিচিতি হই। প্রত্যেকে ছবি তোলার জন্য বেপরোয়া। সেখানে সকালের নাস্তা করে আবার লঞ্চ করে চর কুকরি মুকরি যাত্রা করি। এই ভ্রমণ অনেক মজার। খুব ভাল লাগে এই ভ্রমণ। প্রথমে এক জায়গায় লঞ্চ আটকে যায়। সেখান থেকে বাধা অতিক্রম করে আবার যাত্রা শুরু হয়েছে। তার পর এক কাকার হাতে শশা থাকে ঘটনা ক্রমে তিনি দুটি শশা আমাদের লঞ্চে ডিল দেয়। যারা শশা পায় তারা খুব খুশি। চাচা এটা দেখে পাশেই তার শশা জমি সেখান থেকে আরোও অনেক গুলো শশা আমাদের দেয়। যা খুবই আনন্দের। কিছুক্ষণ পর সায়েম নামের একজন লঞ্চ থেকে পরে যায়। হালকা ব্যাথা পেয়েছে যা আনন্দের মাঝে হারিয়ে গেছে। ভ্রমণ করার মাঝে ছবি তোলা নিয়ে সবাই খুব ব্যস্ত। তার পর নারিকেল জিঞ্জিরা নামে একটা জায়গায় লঞ্চ থামিয়ে অল্প বিরতিতে সমুদ্রের পানিতে গোসল সেরে নেই। যা আমার কাছে স্বপ্ন। সেখানে কি নাকি করে। এত বেশি ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত যে কে কি করবে তার প্রতিটি মুহুর্তে ছবি তুলে। সেখান থেকে আবার সমুদ্র দিয়ে চর কুকরি মুকরি যাত্রা শুরু। কিছু ক্ষণ পরে নামে তুমুল বৃষ্টি। সাথে বাতাস। আমার কি ভয়। জীবনে প্রথম সমুদ্রের কিনারে। এমন বিপদে মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করছি। অনেকেই মজা করে তবে ঝড় সহ বাতাসে সবার মাঝে আতঙ্ক শুরু হয়। পলিথিন থাকায় সবকিছু ঠিক ছিল। তবে বেশ কয়েকজন বৃষ্টি তে বিজে। এমন অভিজ্ঞতা আমার প্রথম। আরেক জায়গায় যাবার কথা ছিল। সময় স্বল্পতার কারনে তা বাতিল হয়। আমাদের গন্তব্যে পৌঁছতে ৩ টা বাজে। আমরা একটা রেস্ট হাউজে উঠি। রুমে গিয়ে দেখি ৩ জন আমার আগে পৌছেছে। তখন মনে হল সোহেল সাহেব আমার রুম ম্যাট। সোহেল ভাই সোনালী ব্যাংকে চাকরি কর। তার সাথে আমার রাতে থাকতে হবে। মজার বিষয় হল আমার রুমের সবাই নিরব মানুষ। দুপুরের খাবার খেয়ে সবাই কিছু ক্ষণ ঘুমিয়ে যাই। সন্ধ্যায় সবাই আনন্দ করার জন্য এক সাথে সমবেত হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেন শুভ ভাই। অনুষ্ঠান শেষে রাতের খাবার খেয়ে পানি অভাব হয়। সোহেল ভাই পানি কিনে ২ জনে পানি পান করি। রাতে চাঁদের আলোতে সবাই নদীর পাড়ে হাটতে যাবে। আমি সোহেল ভাইকে নিয়ে আগেই চলে যাই। ২ জনে মনের সুখে অনেক আলোচনা করি। সোহেল ভাই বিবাহিত। ভাবি সম্পর্কে অনেক আলোচনা করি। সবার সাথে নদীর পারে মজা করে মধ্য রাতে আবার রুমে আসি। এত অল্প সময়ে সোহেল ভাইয়ের সাথে এত ভালো সম্পর্ক হবে ভাবতে পারিনি। অনেকেই জিজ্ঞেস করে আমরা দুজন ভাই কিনা। উত্তরে আমরা ভাই বলে পরিচিত দেই। সকালে উঠে গভীর জঙ্গলে আবার ৩২ মটর সাইকেলে যাই। জঙ্গল ভ্রমণ করে আবার ফিরে আসি। আসার সময় এক মটর সাইকেলের নিচে হাঁস পরে মারা যায়। সকালে খাবার খেয়ে আবার লঞ্চ দিয়ে কচ্ছপিয়া ঘাটে আসি। সেখানে দুপুরের খাবার খেয়ে চরফ্যাশন জ্যাকব টাওয়ারে আসি। সবাই জ্যাকব টাওয়ারে উঠে বিরক্ত হয়। কিছুই দেখার নাই। টাওয়ারের গ্লাসগুলো অসচ্ছ ছিল। যার কারণে ভাল লাগে নি। সোহেল ভাই কে নিয়ে মহিষের দই কিনতে যাই। ১৫০ টাকা দাম তাই আমি কিনি নাই। সোহেল ভাই ১ টা কিনে। আবার বেতুয়া লঞ্চ ঘাটে যাই। সেখান থেকে কর্ণফুলী ১৩ দিয়ে ফিরতে শুরু করি। এখানে বেশ কয়েকজন সোহেল ভাই ও আমাকে নিয়ে হাসি তামাশা করে। এতে সোহেল ভাই রাগ পায়। আমি বাধ্য হয়ে তার কাছ থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করি। তবু অনেকেই মজা করে। আমার খারাপ লাগে না। রাতে লঞ্চের ছাদে গিয়ে আমরা নাচতে শুরু করি। খুব মজা হয় তখন। চাঁদের আলোতে নাচতে আমারও মন চায়। আমিও নাচি। খারাপ বিষয়টা হল রাতের খাবারটা আমরা দেরিতে খাবার ফলে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই খেতে পারে না। আমি আমার বিছানার চাদর দিয়ে রাতে শুবার জায়গা রাখি। অনেকই মনে করেছে আমি সোহেল ভাইয়ের কেবিনে থাকব। গভীর রাতে যখন ঘুম পাচ্ছে তখন শুবার কোনো উপায় পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে মোবাইল চালানো শুরু করি। আমার কষ্ট দেখে নজরুল ও রবিউল ভাই তাদের মাঝখানে আমাকে শুয়ায়। আমার বেশ ভাল ঘুম হয়। এমন ভ্রমণ আর করতে পারব কিনা জানি না। সুযোগ আসলে অংশ গ্রহণ করতে চেষ্টা করব।

    9
    6 Comments
Skip to toolbar