Profile Photo

Md. Hasan TarequeOffline

  • Tareque
  • Profile picture of Md. Hasan Tareque

    Md. Hasan Tareque

    4 years, 8 months ago

    ঝুম ঝুম শব্দে বৃষ্টি নেমেছে। একটু আগেও আকাশটা কেমন গুমরা মুখো ছিল। আকাশের উত্তর পাশে দুয়েকটি কাক ও উড়তে দেখা গিয়েছিল।
    হঠাৎ হুড়মুড় করে এমনভাবে বৃষ্টি আসার মানেটা গনি মিয়া বুঝতে পারল না।

    বিড়বিড় করে কি যেন বলতে লাগল গনি মিয়া, সম্ভবত বৃষ্টিকে গালি দিচ্ছে।
    পৃথিবীটা আসলে এমনিই। কারো জন্য বৃষ্টিটা সাক্ষাৎ যমদূত, কপোত কপোতিদের জন্য রোমান্টিক মূহুর্ত, কবিদের জন্য দু এক লাইন কবিতার খোড়াক।
    গনি মিয়া সেই সকালে রিক্সা নিয়ে বের হয়, সন্ধ্যা হতে হতে বাসায় ফিরে যায়। মাঝে মাঝে মালিকের ভাড়া বুঝিয়ে দিয়ে দুই তিনশ টাকা থাকে, আবার মাঝে মাঝে তা ও থাকে না।
    তবে আজকের দিনটা তার জন্য খুবই মন্দ। ভাড়া নেই বললেই চলে।
    -অই মামা, যাবা?
    -কই যাইবেন?
    -উত্তরা দিয়া আসো

    আর কিছু না বলে উঠে পড়ল রিক্সায়। গনি মিয়াও বিড়িটা শেষবারের মত সুখ টান দিয়ে ফেলে দিয়ে রিক্সায় চড়ে বসে।
    বিড়ি টানার মধ্যেও অনেক রকমের হের ফের থাকে। এদের না দেখলে বুঝাই যায় না।
    হালকা বাতাস, সাথে বৃষ্টি। গনি মিয়ার রিক্সা টানতে একটু কষ্টই হচ্ছিল। এদিকে প্যাসান্জারের তাড়া।
    -অই মিয়া, জোরে টানো খানাপিনা খাও নাই নাকি? জোরে টানো মিয়া।

    লোকটার মুখে খানাপিনার কথা শুনেই গনি মিয়া টের পেল সত্যিই সে সকাল থেকে কিচ্ছু পেটে পড়েনি, তলপেটের নাড়িভুড়ি নড়েচড়ে উঠল।

    -অই মামা কত হইছে?
    -৭০ টেহা
    – কি মিয়া? ফাজলামি করো? ৭০ টাকা ভাড়া তোমার মুখে আসে কেমনে?
    -মামা দিলে দেন না, দিলে না দেন। ভাড়া ৭০ টেহাই।
    -অই মিয়া ত্যাদাড়ামি করো কেন? চিনো মুরে? এক মাইর দিয়া সোজা কইরা দিমু
    -এহানে ত্যাদাড়ামির কি দেখলেন? দিলে দেন না দিলে ভাগেন। ৭০ টেহা দেওন লাগবো

    লোকটা রেগে গিয়ে গনি মিয়ার মুখ দিল এক তাপ্পড়। গনি মিয়া গাল ধরে বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছে।
    লোকটা গালাগালি করেই টাকা ছুড়ে মেরে চলে গেল।
    শালা আসছে বড়লোকি দেখানোর জন্য। গনি মিয়ার ইচ্ছা হয় লোকটাকে পিছন থেকে গিয়ে মুনের সুখে একটা লাত্তি মারার। কিন্তু পরক্ষনেই থমকে যায়। ওরা জানে সভ্য সমাজে ওরা শুধু তাপ্পড় খাওয়ার যোগ্য। তারা কাউকে মারুক সভ্য সমাজ সেটা মানবে না।

    না আজ আর চালাবে না, রিক্সা গ্যারেজে ডুকিয়ে দিবে।
    গনি মিয়ার মনে পরল তার মেয়ে থাকে চাল আনার জন্য বলেছিল। চাল আনলে হয়ত রান্না হবে, না হয় চুলো জ্বলবে না। আধা কেজি চাল নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিল।
    ঝুম বৃষ্টি নেমেছে, টিনের চালে ঝুম ঝুম বৃষ্টি। ঠিক যেন একদল পরীরা ঝুমকো পায়ে টিনের চালে নাচতেছে। সমান তালে, তালের মধ্যে কোন হের ফের নেই। বৃষ্টিও খুব মজা পাচ্ছে। তাই লাগামহীন ভাবে তার অস্তিত্বের জানা দিচ্ছে।
    গনি মিয়া বস্তির মুখেই এসে পরল, সন্ধ্যা নেমে এল।
    হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেল মাটিতে, ভেজা মাটিতে চাল গুলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো। বৃষ্টির তীব্রতা আরো বেড়েছে, গনি মিয়া কাকভেজা চোখে তাকিয়ে আছে চাল গুলির দিকে। চাল গুলো যে যার মত পানির সাথে ভেসে চলে গেল।

    – বাবা চাল আনোনি?? খুব খিদে পাইছে।
    – না রে মা, আনতে পারিনি।

    বৃষ্টির শব্দে দুজনের কান্না চাপা পড়ে গেল সেই সব মানুষদের কাছে, যাদের কাছে বৃষ্টি মানে এককাপ গরম চা কিংবা কফি অথবা বৃষ্টি মানে এক রাশ বিরহের মূহুর্ত বা জানালার ফাঁকে চোখ দুটি ভাসিয়ে দিয়ে বৃষ্টিবিলাস দেখার আনন্দে বিভর।

    -ক্ষিধে
    -নীল স্পর্শ (Md. Hasan Tareque)

    8
    3 Comments

Md. Hasan Tareque

Officer at City Bank

  1. আমি ছেলেটা খুব নিরব থাকতে পছন্দ করি। একা থাকতে পছন্দ করি, এটাতে আমার একগেয়েমিতা আসে না। নিজের ভাবনা গুলোকে প্রাণ দেয়ার চেষ্টা করি।
  2. জোৎস্না খুব পছন্দ আমার। চাঁদ দেখি প্রতি রাতে। মনে হয় আমার আব্বু থাকে সে চাঁদে। খুব মিস করি আব্বুকে।
  3. যদি ক্যারিয়ারের কথা বলি, তো সিটি ব্যাংকে কর্মরত আছি আর যদি পড়ালেখার কথা বলি তো এখনও এমবিএ (একাউন্টিং নিয়ে) করছি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।
  4. প্রকাশ করার মত এতটুকুই

Skip to toolbar