<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | অয়ন আবদুল্লাহ | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ayonabdullah140/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ayonabdullah140/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for অয়ন আবদুল্লাহ.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 05 Nov 2026 17:47:45 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">85931b65b98ead08a467b173ca651c8a</guid>
				<title>রু মর্গে খুন
মূল: এডগার এলেন পো
অনুবাদ: অয়ন আবদুল্লাহ


পর্ব - ১

১৮৪০ সাল, প্যারিস।
সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। এখানেই পরিচয় হয় অদ্ভুত সেই যুবক অগাস্ট ডুপিনের সাথে। একটি প্রখ্যাত পরিবারের সন্তান ছিলো সে; পরিবারটি একসময় প্রচুর বিত্তশালী এবং জনপ্রিয় ছিল। যদিও ডুপিনের এসবের ধার ধারতো না। টাকা পয়সার বিষয়ে সে ছিলো উদাসীন; কেবলমাত্র জীবন ধারণের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় কিছু জিনিষ এবং বই সংগ্রহ ছাড়া তার টাকার দরকার ছিলো না, সম্পত্তির বাকি অংশ নিয়ে সে মাথা ঘামাতো না। শুধুমাত্র বইই ছিলো তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান।

আমার সাথে ডুপিনের প্রথম দেখা হয় একটা পুরনো বইয়ের দোকানে। বিশেষ একটি বই, যেটার নাম খুব কম মানুষই জানতো, সেটা সংগ্রহ করার জন্য আমি সেই দোকানে গিয়েছিলাম। সেখানে ডুপিনও এসেছিলো; সেও একই বইয়ের খোঁজ করছিলো। পরবর্তিতে আমাদের আবারো দেখা হলেও কথাবার্তা প্রথম হয় অন্য আরেকটি দোকানে, সেটাও বইয়ের দোকানই ছিলো।

তার পরিবার নিয়ে আমি খুবই উৎসাহী ছিলাম। তার জ্ঞানের প্রসারতা আর প্রগাঢ়তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। সব&#039;চে বড় বিষয় হচ্ছে, তার ক্রিয়াশীল চিন্তাধারা আমার অন্তরের অন্তস্থলে একটা তীব্র আলোর মতো ধাক্কা দিয়ে গিয়েছিলো। আমি এই আশ্চর্য মানুষটির বন্ধু হতে চাইলাম কারণ আমার মনে হচ্ছিলো এইরকম একটি মানুষ আমার জীবনে অনেক দামী কিছুর চাইতেও বেশি কিছু হবে। তাকে আমি আমার অনুভূতির কথা জানালাম এবং অনুরোধ করলাম আমার সঙ্গে থাকার জন্য। সে এই প্রস্তাবে রাজী হলো। আমি চিন্তা করলাম ডুপিন আমার সাথে আসাতে সে আমার বইগুলোর স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে আর আমিও নিঃসঙ্গ জীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পাবো।

আমাদের দিনগুলো বই পড়ে, লেখালেখি করে আর আড্ডাবাজি করে দারুণ কাটছিলো। কিন্তু ডুপিন ছিলো রাতের পুজারী। রাতের বেলা, যদি চাঁদ নাও থাকতো, কেবল তারার আলোয় আমরা দুজন হাঁটতাম প্যারিসের পথে পথে।হাঁটতে হাঁটতে আমরা মাঝে মাঝে কথা বলতাম আবার মাঝে মাঝে চুপ চাপ নিজেরা নিজেদের মতো করে চিন্তা করতাম।

শীঘ্রই আমি ডুপিনের মধ্যে এক ধরণের যুক্তি- ক্ষমতা লক্ষ্য করলাম, বলা যেতে পারে অসাধারণ যুক্তি- ক্ষমতা। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে সে খুব আনন্দ পেত। সে একদিন মুচকি হেসে আমাকে বলেছিলো- বেশিরভাগ মানুষের হৃদয়ে একটা জানালা থাকে, যেটা দিয়ে তারা তাদের আত্মাকে দেখতে পায়।তারপর হঠাৎ আমাকে চমকে দিয়ে সে আমার বিষয়ে বলা শুরু করলো, এমন সব বিষয় যেগুলো আমি ছাড়া আর কেউ জানা তো দূরের কথা আন্দাজই করতে পারবে না। এই সময়গুলোতে সে একদমই শান্ত আর গম্ভীর আচরণ করতো।তার দৃষ্টিতে থাকতো শূন্যতা, মনে হতো যেন অনেক দূরে তাকিয়ে আছে। আর তার কণ্ঠস্বর উচু আর গম্ভীর হয়ে যেত।তখন আমার মনে হতো, একটি নয়, আমি আসলে দুজন ডুপিনকে দেখছি; একজন ধীরস্থিরভাবে সূত্রগুলো জোড়া লাগায় আর অন্যজন ঠিক সেভাবেই সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে।

একরাতে আমরা প্যারিসের অন্যতম দীর্ঘ আর নোংরা একটি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। আমরা দুজনেই যে যার চিন্তায় ডুবেছিলাম, প্রায় পনের মিনিট আমরা কেউই কারো সাথে কথা বলিনি। যেন মনে হচ্ছিলো যে আমরা একজন অন্যজনের উপস্থিতি ভুলে বসে আছি। যাই হোক, অবশেষে আমি বুঝলাম ডুপিন আমকে ভুলে যায়নি। হঠাৎ সে বলে উঠলো, তুমি ঠিকই ভাবছ, সে আসলেই ছোট মানুষ, এটা সত্য। সে আরো বেশি সফল হতো যদি সে আরো সাধারণ মানের কোনো নাটকে অভিনয় করতো।
আমি বললাম, হ্যা, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রথমে আমি এই বিষয়টায় তেমন খেয়াল করলাম না। ডুপিন আমার সঠিক চিন্তা ভাবনার সাথে সহমত, এটা আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক লাগলো। আমি কয়েক সেকেন্ড আগের মতোই হাঁটতে থাকলাম আর ভাবতে লাগলাম। তারপর হুট করেই খেয়াল হলো বিষয়টা। ডুপিন এমন একটা বিষয়ে সহমত হয়েছে যেটা স্রেফ একটা চিন্তা হয়ে আমার মনের মধ্যে ছিল, আমি সেটা প্রকাশও করিনি। আমি হাঁটা থামিয়ে ওর দিকে তাকালাম।

- ডুপিন, বন্ধু, এটা আসলেই আমার চিন্তার বাইরে। কী করে তুমি জানলে যে আমি চিন্তা... 
এটুকু বলেই আমি চুপ করে গেলাম আমার বন্ধুবরের উর্বর মস্তিষ্কের ধার পরীক্ষা করার জন্য।
- আমি কীভাবে জানলাম যে তুমি চিন্তা করছিলে চেনতিল্লির কথা, এই তো? চেনতিল্লি যেসব নাটকের চরিত্রে অভিনয় করে সে তুলনায় সে অনেক বাচ্চা।
- হ্যাঁ, আমি এটাই চিন্তা করছিলাম। কিন্তু, ঈশ্বরের দোহাই লাগে, আমাকে সেই পদ্ধতি সম্পর্কে বলো যেটা দিয়ে তুমি আমার মনের ভেতরকার চিন্তার নাগাল পেয়ে যাচ্ছো।
- ফলবিক্রেতা লোকটি আমাকে সাহায্য করেছে।
- ফল বিক্রেতা! আমি কোনো ফল বিক্রেতাকে চিনি না!
- আমি বলতে চাচ্ছি আমরা যখন এই রাস্তায় ঢুকছিলাম, তখন লোকটা তোমার সাথে ধাক্কা খেলো, বেশিক্ষণ না, এই দশ পনের মিনিট আগের ঘটনা। কমও হতে পারে।
- ওহ, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাইতো!! মনে পড়েছে, একজন ফলবিক্রেতা একটা বিশাল আপেলের বাক্স মাথায় নিয়ে ছুটে আসছিলো, আমাকে প্রায় ফেলেই দিয়েছিলো। কিন্তু তার সাথে আমার চেনতিল্লির কথা চিন্তা করার যোগসূত্র কী? যদি থাকেও কীভাবে তুমি সেটা বুঝলে?
- বলছি, মনযোগ দিয়ে শোনো। তোমার চিন্তাধারাটাকে অনুসরণ করা যাক যেটা ফল বিক্রেতা মারফত আমাদের অভিনেতা চেনতিল্লি পর্যন্ত নিয়ে যাবে। চিন্তাগুলো অবশ্যই এই ধারায় এগিয়েছে; ফল বিক্রেতা- ধাক্কা- পাথরের খোয়া- স্টেরেয়োটমি (বর্ণনামূলক জ্যামিতি) - এপিকোরাস (গ্রিক দার্শনিক)- ওরিয়ন (কালপুরুষ) এবং তারপর সবশেষে চেনতিল্লিআমরা যখন এই রাস্তা দিয়ে ঢুকি, সেই ফল বিক্রেতা লোকটি আমাদেরকে খুব দ্রুত পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় তোমাকে ধাক্কা মেরে বসে। ফলে তুমি পথের পাশে অসমান পাথরের খোয়ার উপর পা ফেলতে বাধ্য হও, দেখতেই পাচ্ছি ব্যাথাও পেয়েছো অনেক। তুমি রেগে রেগে বিড়বিড় করে কারো গুষ্টি উদ্ধার করছিলে আর বারে বারে নিচের দিকে ইটের খোয়ার দিকে তাকাতে তাকাতে হাঁটছিলে। বেশ বুঝতে পারছিলাম যে তখনও তুমি ঐ খোয়া নিয়ে চিন্তা করছিলে।এরপর আমরা যখন ছোট্ট একটা রাস্তায় ঢুকলাম; দেখতে পেলাম সেখানে ইটের খোয়া সুন্দর করে বিছানো হচ্ছে যেগুলো সম্পূর্ণ নতুন আর বিশেষ একটা পদ্ধতিতে টুকরো করা হয়েছে। এই সময়ে তোমার মুখ উজ্জ্বল হলো, তোমার ঠোঁট নড়ছিলো। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে তখন তুমি স্টেরেয়োটমি’ শব্দটা উচ্চারণ করেছো যেটা পাথর কাটার এই নতুন পদ্ধতির নাম। শব্দটা খুব অদ্ভুত, আসলেই! কিন্তু তুমি হয়তো ভুলে গেছো, গতকালই আমরা পত্রিকায় এই বিষয়ে সম্পর্কে পড়েছিলাম। আমার মনে হলো এই স্টেরেয়োটমি তোমাকে প্রাচীন গ্রিক লেখক এপিকোরাসের কথা ভাবাচ্ছে, যে এটমের তত্ত্ব নিয়ে বই লিখেছিলো। তার মতে মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই এই এটম দ্বারা সৃষ্ট।
খুব বেশিক্ষণ হয়নি আমরা এপিকোরাসের কথা আলোচনা করছিলাম। তার এটমিক ধারণা, যা সে লিখে গেছে প্রায় ২০০০ বছর আগে। আমরা আলোচনা করছিলাম যে ঐ সময়ের পৃথিবী এবং নক্ষত্র নিয়ে ধ্যান- ধারণা যুক্তি- নিরীক্ষা কী দারুণভাবে আজকে ঠিকই মিলে যাচ্ছে। আমি জানতাম তুমি আকাশের দিকে তাকাবে; তাকিয়েওছিলে। তখনই আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে আমি তোমার চিন্তাধারার সাথে তাল মিলিয়ে চলছি। তোমার দেখাদেখি আমিও আকাশের দিকে তাকালাম; দেখলাম আজ আকাশে কালপুরুষ অনেক বেশী উজ্জ্বল আর সুস্পষ্ট। আমি জানতাম তুমিও এটা খেয়াল করবে এবং ওরিয়ন নিয়ে ভাববে।
এখন আমার চিন্তাধারাটা খেয়াল করো মনোযোগ দিয়ে। এইতো গতকালই পত্রিকায় চেনতিল্লিকে নিয়ে একটা আর্টিকেল ছেপেছিলো। সেটা বলতেই হবে, তার জন্য সুখকর কিছু ছিলো না। লেখক আর্টিকেলে একটা বইয়ের কিছু শব্দ ব্যবহার করেছে, আমরা উভয়েই বইটা পড়েছি। লেখকের সেই শব্দগুলো ছিলো ওরিয়ন বিষয়ে। আমি তাই বুঝে গিয়েছিলাম যে তুমি এই ওরিয়ন আর চেনতিল্লির বিষয়দুটোকে একই সমান্তরালে এনে দাঁড় করাবে। আমি খেয়াল করেছি, তুমি আর্টিকেলের কঠিন কঠিন শব্দগুলো মনে করে মুচকি মুচকি হাসছিলে।
তারপর আমি খেয়াল করলাম, তুমি যতটা সম্ভব ঋজু হয়ে দাঁড়িয়েছিলে। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তুমি চেনতিল্লির আকার নিয়ে চিন্তা করছিলে, বিশেষ করে তার উচ্চতা নিয়ে। সে ছোট খাট গড়নের মানুষ। তাই আমি তখন বলেছিলাম যে, সে আসলেই একটা বাচ্চা। এবং সে যদি আরো সাধারণ মানের নাটকে অভিনয় করতো, তাহলে সফল হতো।

আমি অবশ্যই বলব না যে সেদিন আমি অবাক হয়েছিলাম; বরং বলব যে আমি অনেক বেশি অবাক হয়েছিলাম। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ডুপিন একদম সঠিক ছিলো, পুরোপুরি সঠিক। এগুলো আদতে আমার চিন্তা ছিল, আমার না বলা চিন্তা, যেগুলো একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু, এটার চেয়েও বড় চমক আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো, অনেক বড় আর বিস্ময়কর এক চমক।

এক সকালে এই অদ্ভুত বিস্ময়কর মানুষটি আমাকে আবার তার সেই অভিনব যুক্তিক্ষমতা দেখালো। আমরা শুনলাম, এক বৃদ্ধা আততায়ীর হাতে খুন হয়েছেন। খুনি অথবা খুনিরা তার গলা কেটে ফেলে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে। কে এই খুনি? কে এই হত্যাকারী? পুলিশের কাছে কোনো জবাব নেই। তারা সবখানে খুঁজে দেখলো কিন্তু তাদের এই কেসে সাহায্যে আসে এমন কিছুই উদ্ধার করতে পারলো না। তারা বুঝতেই পারছে না, কী করবে। হতাশ হয়ে তারা হাত গুটিয়ে বসে রইলো।

কিন্তু ডুপিন! সে জানে কী করা দরকার!!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/256344/</link>
				<pubDate>Thu, 02 Jul 2026 05:09:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রু মর্গে খুন<br />
মূল: এডগার এলেন পো<br />
অনুবাদ: অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>পর্ব &#8211; ১</p>
<p>১৮৪০ সাল, প্যারিস।<br />
সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল। এখানেই পরিচয় হয় অদ্ভুত সেই যুবক অগাস্ট ডুপিনের সাথে। একটি প্রখ্যাত পরিবারের সন্তান ছিলো সে; পরিবারটি একসময় প্রচুর বিত্তশালী এবং জনপ্রিয় ছিল। যদিও ডুপিনের এসবের ধার ধারতো না। টাকা পয়সার বিষয়ে সে ছিলো উদাসীন; কেবলমাত্র জীবন ধারণের জন্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-256344"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/256344/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d25fb870dd922f96a95f805c6d85eef4</guid>
				<title>একটি সাদা মানিব্যাগ
অথবা একজন সান্তাক্লজ

শেষ পর্ব

১৩.
রিক্সাওয়ালার বয়স পঞ্চাশ কি পঞ্চান্ন হবে। গায়ে জোর বেশি নেই মনে হয়। রিক্সা টানতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছে। তার উপর একটু পর পর কাশছে। শান্ত রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলো, কী মামা? আপনার কি রিক্সা চালাতে কষ্ট হচ্ছে? নেমে যাবো?
রিক্সাওয়ালা ঝট করে পেছন দিকে বললো, না মামা… কোনো সমস্যা হইতেছে না।
তাহলে এত আস্তে চালাচ্ছেন কেন? বিয়ারিং নষ্ট নাকি?
না… না… বিয়ারিং ঠিক আছে।
তাহলে?
রিক্সাওয়ালা আরেকবার পেছন ফিরে হাসলো। শান্ত ল্যাম্পপোস্টের উজ্জ্বল আলোয় রিক্সাওয়ালার মুখের দিকে  তাকিয়েই বললো, মামা একটু সাইডে থামান।
রিক্সা সাইডে থামতেই শান্ত বললো, আমার দিকে তাকান।
রিক্সাওয়ালা শান্তর দিকে তাকালো। আরো একদফা কাশলো। শান্ত রিক্সাওয়ালার কপালে হাত দিয়ে বললো, একি মামা! আপনার তো অনেক জ্বর। এই শরীরে রিক্সা চালাচ্ছেন! নিজেও মরবেন, আমাকেও মারবেন!
বাবা, রাগ কইরেন না! আসলে আমি খুব ঝামেলায় আছি। তাই বাধ্য হইয়া এই শরীরেও গাড়ি নিয়া বের হইছি।
শান্ত ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো, কী সমস্যা?
বাবারে! আমার মাইয়াটা মেডিকেল কলেজে পড়ে। খুব মেধাবি। আমি রিক্সা চালায়া চালায়া মাইয়াটারে এতদূর নিয়া আসছি। ছোটবেলায় মাইয়াটা ওর মারে হারাইছে। আমি খুব আদর সোহাগ দিয়া ওরে বড় করছি। গেরামে থাকতে একটা রাইসমিলে কাজ করতাম। একদিন মিলে আগুন লাগলো। সবকিছু পুইড়া খাক হইয়া গেলো। মাইয়াটা ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাইছে। হলের পরিবেশ ভালো না দেইখা একটা হোস্টেলে থাইকা লেখাপড়া করে। আমি গেরাম থেইকা শহরে আইলাম। মাইয়ার লগে দেখা করলাম। মাইয়া আমার সব শুইনা সে কি কান্দন। আমি কইলাম, কান্দিস না…
কথার মাঝখানেই আবার সে কাশতে লাগলো। কাশি থামতে আবার বলতে শুরু করলো।
মাইয়ার কান্দন থামে না। ও কইলো, লেখাপড়া ছাইড়া চাকরি করবো। আমি দিলাম বকা! আচ্ছা আপনেই কন বাবা, ফাইনাল ইয়ারে কেউ লেখাপড়া ছাইড়া দেয়! আমি জিন্দা আছি না, কন?
শান্ত রিক্সাওয়ালার প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে পারে না! অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। যেন এক বিশাল মহিরুহকে দেখছে শান্ত। এমন এক আশ্রয়, যার জন্য নিরাপদ নামক শব্দটিও যথার্থ নয়। শান্ত নিজের বাবার সাথে এই বৃদ্ধটির অদ্ভুত মিল খুঁজে পেলো। ওর বাবাও ওকে অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছেন। ওর ভাই অনন্তকেও। অথচ ও পারছে না, বাবার সেই কষ্টকে সার্থক করতে। এই ব্যর্থতা, এই গ্লানি, এই অপারগতা ওর মনের ভেতর যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তার বেদনা কেউ বুঝবে না। এসব কথা ভাবতেই শান্তর চোখ ছলছল করে উঠলো।
বাবা, আপনে কান্দেন ক্যান?
কই না তো। মনে হয়ে চোখে বালু ঢুকেছে। আপনি বলেন। এরপর কী হলো?
রিক্সাওয়ালা আরেকদফা কেশে বললো, মাইয়া জিগাইলো ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা সামনে? সেইটার ফি কেমনে দিবা? হোস্টেল ফি কেমনে দিবা? আমি ওরে কইলাম চিন্তা না কইরা মন দিয়া পড়তে। শেষে একটা গ্যারেজে গিয়া, মহাজনরে সব বুঝায়া কইলাম। আইজ দুই মাস ধইরা এই শহরে রিক্সা চালাইতেছি বাবা। মাইয়ার পরীক্ষার ফি এখনও জমা করতে পারি নাই। হোস্টেল ফি-ও বাকি পইড়া আছে।
সব শুনে শান্ত ভাবলো, আহা! এক বাবা তার মেয়ের জন্য কত কষ্ট করছে! ও কি এই লোকটাকে সাহায্য করতে পারে না? ঝট করে একটা বুদ্ধি এলো ওর মাথায়। পারে! ও এই লোককে সাহায্য করতে পারে!
আপনার মেয়ের পরীক্ষার ফি কবে দেয়া লাগবে?
১৫ দিনের মধ্যে।
হোস্টেল ফি আর পরীক্ষার ফি সহ কত টাকা দেয়া লাগবে?
বারো হাজার টাকা।
কোন মেডিকেলে পড়ে?
শরিফুল্লাহ মেডিকেল কলেজ।
ওর নাম কী? কোন ডিপার্টমেন্ট?
রিক্সাওয়ালা শান্তর মুখের দিকে তাকিয়ে উদ্বিগ্ন স্বরে বললো, কেন বাবা? আপনি জাইনা কী করবেন?
শান্ত মৃদু হেসে বললো, কী করবো না করবো, সেটা আপনি জানতে পারবেন। আগে যেটা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দেন।
আমার মাইয়ার নাম আয়েশা আক্তার। আর যেন কী জিগাইলেন বাবা?
ডিপার্টমেন্ট, আপনার মেয়ে কোন ডিপার্টমেন্টে পড়ে?
আমি তো সেইটা কইতে পারি না। ফরেন কি যেন একটা…
ফরেনসিক মেডিসিন?
যে… যে… ফরেন মিডিসিন।
শান্ত হেসে ফেলে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে। শোনেন, আপনাকে একটা ঠিকানা দিচ্ছি। কাল ওখানে গিয়ে বলবেন, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি। এই নাম্বারে ফোন করে যাবেন। আপনাকে আর রিক্সা চালাতে হবে না। ওখানে আপনার কাজের একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। বুঝেছেন?
রিক্সাওয়ালা অবাক হয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, বাবা… এইটা কার ঠিকানা? আপনার অফিসের?
রিক্সাওয়ালার কথা শুনে শান্ত বললো, আমার অফিস! না মামা… আমি বেকার। এটা আমার পরিচিত একজনের ঠিকানা। এই দেখেন, এতক্ষণ কথা বললাম অথচ আপনার নামটাই জিজ্ঞেস করা হলো না। আপনার নাম কী, মামা?
আমার নাম আক্তার হোসেন। আমার বৌয়ের নাম আয়েশা খাতুন। দুইজনের নাম জোড়া দিয়া মাইয়ার নাম রাখছি আয়েশা আক্তার।
বাহহ… খুব ভালো! 

১৪.
দরজাটা খুলতেই অবাক হয়ে গেলো শান্ত। ওর ছোট ভাই অনন্ত দাঁড়িয়ে আছে সামনে। হাসছে মিটিমিটি।
সারপ্রাইজ!
আরে, তুই! কখন এলি?
এসেছি বিকালের দিকে।
শান্ত ছোটভাইকে জড়িয়ে ধরলো। তার ভাইটা ঢাকায় আসে কদাচিৎ। পড়াশোনার চাপে আসার সুযোগই পায় না তেমন। আজ প্রায় দুই মাস পরে শান্ত অনন্তকে দেখলো।
হয়েছে ভাইয়া, এবার ছাড়ো। নইলে দম বন্ধ হয়ে মরেই যাবো।
শান্ত ভাইকে ছেড়ে ওর হাত ধরে চলে এলো বসার ঘরে। একটা বেতের সোফায় বসলো দুই ভাই। দুজনের কথাবার্তার আওয়াজ পেয়ে বাবা মা-ও এসে ঢুকলো। মুখে হাসি। তারা জানে, এই দুই ভাই একে অপরকে কতোটা ভালোবাসে। এরকম ভাতৃপ্রেম আজকাল তেমন দেখা যায় না।
শান্ত বাবাকে বললো, বাবা তুমি বলোনি কেন অনন্ত যে এসেছে।
সাদিক সাহেব হেসে বললেন, আমি কি করবো? ও-ই তো বলতে মানা করলো।
অনন্ত বললো, আসলে তোমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য বাবাকে বলতে মানা করেছি ভাইয়া। বাবার কোনো দোষ নেই।
রাশেদা বললেন, হয়েছে। দুই ভাই খোশগল্প পরে করিস। খাবার রেডি করছি। তুই ফ্রেশ হয়ে আয়। আজ কিন্তু অনন্তের পছন্দের খাবার রান্না করেছি।
‘নো প্রবলেম’ বলে শান্ত দ্রুত উঠে পড়লো ফ্রেশ হবার জন্য।

খাওয়া দাওয়া শেষে অনন্তকে নিয়ে শান্ত নিজের রুমে এসে বসলো। বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে অনন্ত বললো, যা-ই বলো ভাইয়া, তুমি খুব লাকি।
তাই নাকি! কেন রে ভাই?
এই যে প্রতিদিন মায়ের হাতের খাবার খেতে পারো। হোস্টেলের খাবার যে কি ভয়াবহ, তা তো জানো না।
হুম। তা অভ্যেসটা কবে থেকে ধরলি?
অভ্যেস? কীসের অভ্যেস?
সিগারেটের অভ্যেস?
অনন্ত অবাক হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকালো, তারপর মাথা নিচু করে অপরাধি স্বরে বললো, সরি ভাইয়া। প্লিজ বাবা-মাকে বলো না।
ঠিক আছে, বলবো না। আমি জানি সিগারেটের অভ্যাস হুট করে ছেড়ে দেওয়াটা একটু কষ্টকর। তবে চেষ্টা কর, পারবি। আমিও তো খেতাম। এখন ছেড়ে দিয়েছি।
আচ্ছা ভাইয়া। কিন্তু তুমি কীভাবে বুঝলে?
শান্ত একটু হালকা হেসে বললো, ঐ যে বললাম… আমিও খেতাম। সো, অভিজ্ঞতা আছে আর কি। তবে স্মেলটা সামান্য ছিলো। অন্য কেউ বুঝতে পারতো না।
অনন্ত হেসে বললো, হুম… কিন্তু ভাইয়া, বাবা বললো, তুমি ইদানিং কেমন যেন অদ্ভুত আচরণ করছো। অদ্ভুত মানে হচ্ছে, কেমন যেন আনমনা হয়ে থাকো। কথাবার্তা কম বলো। বিষয়টা কী? চাকরির টেনশন?
নাহহ… ওটার টেনশন করারও ফুরসত পাচ্ছি না।
তাহলে?
শান্ত ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো, বলতে পারি। তবে মা-বাবাকে কিছু বলতে পারবি না। প্রমিজ কর!
প্রমিজ। এবার বলো, কী হয়েছে।
শান্ত মানিব্যাগটা সম্পর্কে বললো। বললো বৃদ্ধ রেদওয়ানের কথাও।
সব শুনে অনন্ত বললো, ভাইয়া… আই এম সো প্রাউড অফ ইউ। সত্যিই। অন্য কেউ হলে, টাকাগুলো এতদিনে হজম করে ফেলতো। আর তুমি ঐ কয়টা টাকা যেভাবে আগলে রেখেছো, সেটা বেশ প্রশংসনীয়।
কিন্তু তাতে লাভ কিছু হচ্ছে না। তাই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
 কী সিদ্ধান্ত?
শান্ত রিক্সাওয়ালার ও তার মেয়ের বিষয়টাও ভাইকে জানালো। এরপর বললো, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, টাকাগুলো মেয়েটাকে দেবো। যেহেতু এখন পর্যন্ত কেউ দাবি করেনি, তাই এটার উপর একজন অসহায় মানুষের অধিকার আছে বলে আমি মনে করছি।
অনন্ত একটু ভেবে বললো, সব ঠিক আছে। কিন্তু আমার মনে হয়, টাকাগুলো দেওয়ার আগে রিক্সাওয়ালা সত্যি বলছে কি না যাচাই করে দেখা।
হুম, আমিও সেটা ভেবেছি।
অনন্ত ফোন বের করে বললো, শরিফুল্লাহ মেডিকেলে আমার পরিচিত একজন ছোট ভাই পড়ে। তাকে জিজ্ঞেস করে দেখি।
শান্ত খুশি হয়ে বললো, তাহলে তো খুবই ভালো হয়। কিন্তু এত রাতে নক দিবি?
আরে ধুর ভাইয়া… কতোই আর রাত! এখন ব্যাটা নির্ঘাত ক্যাম্পাসের কোনো চিপায় বসে তাস পিটাচ্ছে।
অনন্ত ফোন দিলো। ওপাশ থেকে সাড়া পেতেই বললো, হ্যালো নিরঞ্জন? কেমন আছিস?... হ্যাঁ, আজকেই এসেছি… কাল আসবো একফাঁকে… আচ্ছা শোন, একটা মেয়ের বিষয়ে খোঁজ নিতে ফোন দিলাম… আয়েশা আক্তার… হ্যাঁ হ্যাঁ… ঠিক জানিস, ভুল হচ্ছে না তো…? ঠিকানা দিতে পারবি?... হুম, হোস্টেলে থাকে… আচ্ছা। থ্যাংকিউ ভাই। 
ফোন কেটে দিয়ে অনন্ত শান্তর দিকে তাকিয়ে হাসলো।
ভাইয়া, মনে হচ্ছে টাকাগুলোর এবার সদগতি হবে।
সব তথ্য ঠিক আছে?
হান্ড্রেড পার্সেন্ট। এই মেয়ে তো ক্যাম্পাসের জুয়েল। সবাই চেনে।
অথচ, বিপদে কেউ এগিয়ে আসছে না। আশ্চর্য!
অনন্ত মুখ বিমর্ষ করে বললো, হুম… এমনই হয় ভাইয়া। তোমার মনে আছে, বাবা যখন তোমার সেকেন্ড ইয়ারের ফিসের জন্য চাচুর কাছে গিয়েছিলো, চাচু তখন কেমন ব্যবহার করেছে? আপন মানুষই যেখানে মুখ ফিরিয়ে নেয়, পরের কাছে কিছু আশা করাটা সেখানে বোকামি।
হুম…
পরিবেশটা হালকা করতে অনন্ত বললো, যাক বাদ দাও। এবার বলো সাফা ভাবি কেমন আছে?
ভাবি? এই ছোকরা, আমাদের বিয়ে হয়েছে এখনও?
অনন্ত হেসে বললো, হয়নি মানে? আলবৎ হয়েছে। মনে মনে তোমরা যে কলমা পড়ে বসে আছো, সেটা আমি জানি না ভেবেছো? আজ হোক, কাল হোক, তোমাদের বিয়ে হবেই। সো ভাবি বললে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।
খুব বড় হয়ে গেছিস না! বড়দের মতো কথা বলছিস!
অফকোর্স। যাক… আমি এখন ঘুমাবো। অনেক টায়ার্ড লাগছে। কাল বিকালের বাসেই ব্যাক করবো।
কালকেই চলে যাবি?
সরি ভাইয়া, যেতে হবে। পরীক্ষা চলে এসেছে। আমি তো আসতাম না। শুধু তোমাদের দেখতে ইচ্ছে হলো বলে চলে এসেছি। ক্লাস মিস করা যাবে না।
শান্ত হেসে ভাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, ঠিক আছে। আমি তোকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে আসবো। তো এখন কি এখানেই ঘুমাবি?
ইয়েস। আর নড়ার শক্তি নেই। গুড নাইট।
শান্ত মৃদু হেসে রুমের লাইটটা নিভিয়ে ফোন হাতে বের হয়ে আসলো। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছে। ও সোফায় বসে সাফাকে ফোন দিলো। আক্তার হোসেনের বিষয়টা জানিয়ে রাখতে হবে।

১৫.
বিকেলের বাসে অনন্তকে উঠিয়ে দিয়ে শান্ত চলে আসলো রমনা পার্কে। আজকে আর টিউশনি করবে না। কিছুক্ষণ রমনার হাওয়া খেয়ে সন্ধ্যের পরে সাফার বাসায় যাবে। ওর বাবা ডেকেছে। শান্ত কালই বলে দিয়েছিলো সাফাকে, টাকাগুলো যেন আক্তারকে দিয়ে দেয়। আর ওর বাসায় কোনো একটা কাজে যেন নিয়ে নেয়।
সাফা শুনে বলেছিলো, বাহহ শান্ত! খুবই দারুণ একটা কাজ করেছো। আসলেই, এই টাকাটা ওর মেয়ের খুবই দরকার। আমার কী মনে হয় জানো?
কী মনে হয়?
মনে হয়, আক্তারকে টাকাগুলো তোমার হাত দিয়ে দেওয়ার জন্যই মানিব্যাগটা আল্লাহ তোমার কাছে গছিয়ে দিয়েছে।
শান্ত হেসে বলেছিলো, হা হা হা… তোমার যা কথা! আমি কি অলি আউলিয়া নাকি! আর যদি আল্লাহ মানিব্যাগটা আক্তারকেই দিতে চাইতো, তাহলে সেটা রমনায় না পড়ে ওই বুড়োর রিক্সায় পড়লেই তো পারতো। তাই না?
ওসব তুমি বুঝবা না। তুমি এইসব বিশ্বাস করো না, তাই এমন বলছো।
ভুল। আমি অবিশ্বাসী নই। তবে যেটা যৌক্তিক, সেটাতেই আমি বিশ্বাস করি। যাই হোক, আক্তারকে কোন ধরনের কাজ দেবে?
দেখি। মনে হচ্ছে লোকটাকে দারোয়ানের কাজ দেওয়াটা ঠিক হবে না। ঘরের ভেতরে রাখা দরকার। আমাদের কাজের বুয়ার হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে রেখে দেবো কি না ভাবছি।
দেখো যা ভালো বোঝো। তবে লোকটার একটা গতি হওয়া চাই।
ওকে। শোনো, রাতে বাসায় এসো।
রাতে কেন?
বাবা তোমাকে ডেকেছে?
উরি বাবা! কেন ডেকেছে?
তোমাকে বকবে।
শুধু বকবে? নাকি মারও দেবে?
হি হি হি… ভয় পেয়েছো?
খুউব!
ভয় পেয়ো না। বাবা তোমাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
ও, আচ্ছা। ঠিক আছে, আসবো তাহলে।

সেই বেঞ্চটায় এসে বসলো শান্ত। প্রকৃতি বেশ শান্ত আর নির্মল। গাছের সবুজ পাতায় হালকা বাতাসের দোলা প্রাণটা জুড়িয়ে দিচ্ছে। একটা কোকিল ডাকছে কাছেই কোনো গাছের ডালে। কদমফুলের ঘ্রাণ ভাসছে বাতাসে। বহুদিন পর বুকের ভেতর এক ধরনের শান্তি অনুভব করছে শান্ত। যেন দীর্ঘদিন ধরে বহন করা একটা ভার হঠাৎ নেমে গেছে। চোখ বন্ধ করে ও উপভোগ করতে লাগলো বিশুদ্ধ প্রকৃতির স্নিগ্ধতা।
কেমন আছো, শান্ত?
ঝট করে চোখ মেলে তাকালো শান্ত। সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই বৃদ্ধ, রেদওয়ান! সেদিনের মতোই আজও হুট করেই যেন মাটি ফুঁড়ে এসে হাজির হয়েছে বৃদ্ধটি। পরনে সেই একই পোশাক। মুখে হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে সে শান্তর দিকে।
বসতে পারি?
বৃদ্ধকে দেখে গলা শুকিয়ে গেলো শান্তর। ভাবছে, এতদিন ধরে এই বুড়োকে খুঁজছে সে। অথচ, আজই এর আসার দরকার ছিলো! মানিব্যাগটার বিষয়ে যদি কিছু জানতে চায়, কী জবাব দেবে সে? 
তোতলাতে তোতলাতে শান্ত বললো, আ… আপনি?
যেন শুনতে পায়নি, এমন ভঙিতে রেদওয়ান আবার বললেন, বসতে পারি?
ব…বসুন।
বেশ আয়েশ করে শান্তর পাশে বসলো বৃদ্ধ। শান্ত প্রমাদ গুনছে। ও জানে না, কী হতে চলেছে।
আজও কী ইন্টারভিউ দিয়ে এলে নাকি?
জি না। আমার ভাইকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে আসলাম।
ও… আচ্ছা!
শান্ত বৃদ্ধর মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, আপনি আজ কার সাথে দেখা করতে এসেছেন?
শান্তর কথায় বৃদ্ধ হেসে বললেন, তোমার সাথে।
আ… আমার সাথে? কেন?
বৃদ্ধ হেসে বললো, কারণটা তুমি জানো বোধহয়।
শান্তর মাথা আউলে গেলো। মুখে শব্দ যোগাচ্ছে না।
বুঝতে পারছি না।
অবশ্যই তুমি বুঝতে পারছো। কিন্তু এতো ভয় পাওয়ার কী আছে? তুমি তো অন্যায় কিছু করোনি।
বুড়োর কথার আগামাথা বুঝলো না শান্ত। ব্যাটার টাকা সে আরেকজনকে দিয়ে দিয়েছে। আর রেদওয়ান বলছেন, সে অন্যায় কিছু করেনি!
স্যার, মানিব্যাগটা আপনার-ই ছিলো, তাই না?
বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন, হয়তো ছিলো, হয়তো না।
মানে? ব্যাগটার মালিক আপনি না?
বৃদ্ধ হেসে বললেন, এই পৃথিবীতে মানুষ কোনো কিছুরই মালিক না। মালিকানা জিনিসটার সমস্ত স্বত্ব পরম করুণাময় নিজ অধিকারে রেখেছেন। তোমার আমার যা কিছু আছে, সবই সাময়িক। দয়াল দেন, আবার কেড়েও নেন। যখন যার যতটুকু দরকার, ততটুকুই। বেশিও না, কমও না।
আমি বুঝলাম না।
সব কিছু বুঝতে গেলে জীবন ঘোলা হয়ে যাবে। তার থেকে সহজভাবে দেখাই ভালো, যেমনটা তুমি দেখেছো।
আপনি বলছেন আমি অন্যায় কিছু করিনি। আমি কি করেছি আপনি জানেন?
বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন, সব জানি।
কীভাবে জানেন? আপনি আসলে কে? সাফার আত্মীয়, নাকি আমার বন্ধুদের কারো পরিচিত? এটা কী কোনো খেলা?
রেদওয়ান ভারি গলায় বললেন, জীবনটা একটা খেলাই বটে। এই খেলায় হার জিত আছে, আনন্দ বেদনা আছে, প্রাপ্তি আছে, হতাশা আছে, আছে প্রত্যাশাও। আমরা সবাই সেই খেলার খেলোয়াড়। আর হ্যাঁ, আমি কারো আত্মীয় নই, কারো পরিচিতও নই। তবে বলতে পারো, সবার সব খবরই আমি রাখি।
শান্ত বললো, আমি দুঃখিত। আমাকে ক্ষমা করবেন।
কেন? কীসের জন্য?
আপনার মানিব্যাগটা আমি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা…
শান্তকে থামিয়ে দিয়ে বৃদ্ধ বললেন, বললাম তো… আমি সব জানি। তোমাকে কৈফিয়ত দিতে হবে না। 
আপনাকে খুঁজেছিলাম। পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দিয়েছিলাম।
শান্ত, তুমি কিন্তু অশান্ত হয়ে উঠেছো। প্লিজ, শান্ত থাকো। এত ভয়ের কিছুই নেই। আমি তোমার কাছে আমার মানিব্যাগ চাইতে আসিনি।
শান্ত অবাক হয়ে বললো, তাহলে কেন এসেছেন?
বৃদ্ধ একটু নড়ে চড়ে বসে বললেন, শান্ত… আমি তোমার হতাশা দেখেছি, তোমার ভালোবাসা দেখেছি। আজ তোমার দায়িত্ববোধও দেখলাম।
মানে? টাকাগুলো হারিয়ে আপনার রাগ হয়নি? কষ্ট হয়নি?
আমার রাগ বা কষ্ট সামান্য কটা কাগজের উপর নির্ভর করে না শান্ত। বরং বলতে পারো আমি অনেক খুশি হয়েছি। 
শান্ত বিস্মিত হয়ে বললো, খুশি হয়েছেন?
বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললো, অন্য কেউ হলে টাকাটা নিজের কাছেই রেখে দিতো। মৌজ মাস্তি করে ফুরিয়ে ফেলতো। অথচ, তুমি, এমনকি নিজের মায়ের চিকিৎসার জন্যেও টাকাগুলো খরচ করোনি। বরং এমন একজন মানুষকে টাকাগুলো দিয়েছো, যার প্রয়োজন তোমার চেয়েও বেশি। তাই আমি খুশি।
কিন্তু আপনার টাকাগুলো? ওগুলোর জন্য নিশ্চই আপনাকে বসের ঝাড়ি খেতে হয়েছে!
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, শোনো, মানুষের টাকা হারালে ক্ষতি হয় সামান্য। কিন্তু মনুষ্যত্ব হারালে ক্ষতি হয় অপূরণীয়।


১৬.
গোধূলির লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে আকাশে। একটু পরেই সন্ধ্যে নামবে। প্রকৃতির নিয়ম মেনে আরো একবার সূর্য অস্তাচলে বিলীন করে দেবে নিজেকে। শান্ত আর রেদওয়ান, দুজনেই আকাশের দিকে তাকিয়ে রক্তবর্ণ আকাশে উড়ে যাওয়া পাখিদের দেখছে। তাদের ডানায় ঘরে ফেরার তাড়া। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেন রেদওয়ান।
ঠিক আছে শান্ত। আজ যাই। শিঘ্রই তুমি কোনো সুসংবাদ পাবে। তোমার সুদিন আসবে। তবে সবসময় নিজের উপর ভরসা রেখো। আস্থা রেখো মানুষের উপর।
শান্ত মন খারাপ করে বললো, এখনই চলে যাবেন?
বৃদ্ধ হেসে বললেন, যেতেই হবে। নইলে চাকরি থাকবে না।
আপনার অফিসের ঠিকানা আমি গুগলে খুঁজে পাইনি।
ও, আচ্ছা!
আপনার ঠিকানাটা?
মাথা নেড়ে বৃদ্ধ বললেন, প্রয়োজন নেই। আমি চাই তুমি নিজের ঠিকানাটা আগে খুঁজে নাও। সেটাই বাস্তবসম্মত হবে।
একটা প্রশ্ন করতে পারি?
করো।
আপনি আসলে কে?
বৃদ্ধ হেসে বললেন, একটা বিখ্যাত গান আছে। শুনবে?
শান্ত মাথা নেড়ে সায় দিলো। বৃদ্ধ সুর করে গাইতে লাগলো…
আমি এক যাযাবর…
আমি এক যাযাবর…
পৃথিবী আমাকে আপন করেছে
ভুলেছি নিজের ঘর…

গাইতে গাইতেই শান্তকে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়ে হাঁটতে লাগলো বৃদ্ধ পিছন ফিরে। ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকা অবয়বটার দিকে তাকিয়ে থাকলো শান্ত।

হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। এই সময়ে আবার কে ফোন দিলো!
হ্যালো!
হ্যালো। মিস্টার সাঈদুর রহমান শান্ত বলছেন?
জি বলছি।
আমি হ্যানসন গ্রুপ থেকে বলছি।
শান্ত ভ্রু কুঁচকে বললো, কোথা থেকে?
হ্যানসন গ্রুপ। আপনি আমাদের এখানে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন কমিউনিকেশন ম্যানেজারের পদের জন্য।
হ্যাঁ, মনে পড়েছে।
ওপাশ থেকে উচ্ছসিত কণ্ঠে বললো, ওয়েল… আমাদের কোম্পানি আপনাকে সিলেক্ট করেছে। আপনি কি আগামী পরশু থেকে জয়েন করতে পারবেন?
আমার চাকরি হয়ে গেছে?
জি, হয়ে গেছে। আমাদের এমডি শহরের বাইরে ছিলেন বলে আপনাকে জানাতে একটু দেরি হয়ে গেলো।
সত্যিই আমার চাকরি হয়ে গেছে!
জি স্যার। আপনি পরশু থেকে জয়েন করতে পারবেন?
জি পারবো।
গুড, তাহলে পরশু দেখা হচ্ছে। বেস্ট অফ লাক।

ফোন কেটে যেতেই হঠাৎ শান্তর মনে পড়লো বৃদ্ধ রেদওয়ানের বলা কথা।

“শিঘ্রই তুমি কোনো সুসংবাদ পাবে। তোমার সুদিন আসবে।”

শান্ত ঝট করে পেছনে তাকিয়ে বৃদ্ধ রেদওয়ানকে খুঁজলো। সন্ধ্যের আবছা আলোয় বহুদূরে তাকে দেখা যাচ্ছে অস্পষ্টভাবে। ধীরে ধীরে গাছের সারির মাঝে সবুজ ছায়ার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেলো রেদওয়ান নামের বৃদ্ধটি। যে নিজেকে যাযাবর মনে করে। 


যাযাবর!
নাকি, সান্তাক্লজ?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255117/</link>
				<pubDate>Mon, 22 Jun 2026 04:03:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি সাদা মানিব্যাগ<br />
অথবা একজন সান্তাক্লজ</p>
<p>শেষ পর্ব</p>
<p>১৩.<br />
রিক্সাওয়ালার বয়স পঞ্চাশ কি পঞ্চান্ন হবে। গায়ে জোর বেশি নেই মনে হয়। রিক্সা টানতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছে। তার উপর একটু পর পর কাশছে। শান্ত রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলো, কী মামা? আপনার কি রিক্সা চালাতে কষ্ট হচ্ছে? নেমে যাবো?<br />
রিক্সাওয়ালা ঝট করে পেছন দিকে বললো, না মামা… কোনো সমস্যা হইতেছে না।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255117"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255117/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9fea5f3b0f2f8972ee3cf8a2a188f427</guid>
				<title>একটি সাদা মানিব্যাগ
অথবা একজন সান্তাক্লজ
(দ্বিতীয় পর্ব)

৯.
সকালে নাশতা করেই আবার বের হয়ে গেলো শান্ত। মানিব্যাগটা একটা ব্যাকপ্যাকে ঢুকিয়ে কাঁধে করে চলে এলো রমনায়। বসে রইলো সেই বেঞ্চটায়। যদি বৃদ্ধ আসে, সেই আশা করে দুপুর পর্যন্ত বসে রইলো সে। এলো না বৃদ্ধ। নিরাশ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে চলে এলো শান্ত সাফার বাসায়। 
এখন বিকেল। সাফা মানিব্যাগটা নেড়েচেড়ে দেখছে। টাকাগুলোয় একবার নজর বুলিয়ে ভেতরে কোনো চোরা পকেট আছে কিনা পরীক্ষা করলো।
মানিব্যাগে তো দেখছি কোনো চোরা পকেটও নেই?
নেই। ওটা আমি আগেই পরীক্ষা করেছি।
আইডি কার্ডও তো নেই।
নেই।
ফোন নম্বরও নেই দেখা যাচ্ছে। কোনো ভিজিটিং কার্ডও নেই।
কিচ্ছু নেই সাফা। আমি পরীক্ষা করে দেখেছি।
শুধু টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই।
নেই, কিচ্ছু নেই।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সাফা বলল, তাহলে এটা থানায় দিয়ে দাও।
সেটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু একটা সমস্যা আছে।
চিন্তিত মুখে সাফা জিজ্ঞেস করলো, কী সমস্যা?
এতগুলো টাকা! পুলিশ যে গাপ করে দেবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা আছে?
নেই।
শান্ত হেসে বললো, আরেকটা সমস্যাও আছে।
কী?
পুলিশ অযথা হয়রানি করতে পারে। সমস্যা নিয়ে গেলাম, দেখা যাবে তারা সমাধান না করে উলটাপালটা প্রশ্ন করছে।
যেমন?
যেমন, মানিব্যাগটা আসলেই আমি পার্কে কুড়িয়ে পেয়েছি কি না; টাকা মেরে দিয়েছি কি না। এমনকি চেক করার কথা বলে বাসায় তল্লাশিও চালাতে পারে। বাবা-মা টেনশনে পড়ে যাবে বাসায় পুলিশ ঢুকলে।
হুম, তাহলে?
শান্ত একটু ভেবে বললো, লোকটা ইউনিভার্সেল গ্রুপে চাকরি করে। ভাবছি সেখানেই যাবো কি না।
সাফা চুটকি বাজিয়ে বললো, গুড আইডিয়া। এই বুদ্ধি এতক্ষণ মাথায় আসেনি কেন?
এসেছে। তবে সমস্যা হলো ইউনিভার্সেল গ্রুপের অফিসের ঠিকানা আমি জানি না।
সাফা শান্তর মাথায় হালকা চাটি মেরে বললো, তুমি একটা বুদ্ধু!
মানে!
মানে হলো, গুগল মামা থাকতে তোমার এত টেনশন করতে কেন হবে?
শান্ত হেসে ফেলে বললো, অতোটাও বুদ্ধু আমি নই। সার্চ দিয়ে ইতোমধ্যেই দেখেছি।
তো? দেখে কী জানতে পারলে?
আমেরিকায় আছে ইউনিভার্সেল বিল্ডার্স, হংকঙে আছে ইউনিভার্সেল এয়ারলাইন্স, ইংল্যান্ডে আচ্ছে ইউনিভার্সেল ইউনিভার্সিটি। তবে ইউনিভার্সেল গ্রুপ নামে কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অফিস বাংলাদেশে নেই। 
সাফা একটু বিস্মিত হয়ে বললো, শান্ত, খুবই রহস্যজনক বিষয়! অস্তিত্ব নেই এমন একটা কোম্পানির নাম কেন নিলো বুড়ো?
জানি না।
এখন তাহলে কী করবে?
একটা অনুরোধ করবো তোমাকে।
সাফা হেসে বললো, কী অনুরোধ?
টাকাগুলো তোমার কাছে রাখবে? আমার কাছে থাকলে যদি হারিয়ে যায়। তোমার কাছে একটা ছোট্ট সেফ আছে না? সেটায় লক করে রাখো।
ও, এই অনুরোধ? আমি ভাবলাম…
সাফার মুখভঙ্গি দেখে শান্ত বললো, কী ভেবেছিলে?
সাফা মুচকি হেসে বললো, ভেবেছিলাম, বলবে- সাফা চলো বিয়ে করে ফেলি। হাতে তো টাকা আছেই।
শান্ত হেসে বললো, পরের ধনে পোদ্দারি ব্যাংক করে, শান্ত করে না।


১০.
কিরে মামা, দুই দিন ধরে লাপাত্তা! কই ছিলি?
পরেরদিন সন্ধ্যেবেলা। একটা ইন্টারভিউ দিয়ে বাসায় এসে খেয়েদেয়ে টিউশনি করাতে বের হয়েছিলো শান্ত। পাশাপাশি দুইটা বাসায় পড়িয়ে চলে এসেছে মনু মিয়ার চায়ের দোকানে। এখানেই শান্তর আড্ডাখানা। ওর বন্ধুরা এখানেই আসে। অবশ্য আগের কয়েকজন এখন নেই। সালাম, জীবন দেশের বাইরে চলে গেছে। আতিক আর সঞ্জয় চাকরির সুবাদে থাকে ঢাকার বাইরে। আজকাল আড্ডা দেয় শুধু শান্ত, সজীব আর মানাম। এর মধ্যে মানাম চাকরি করে ঢাকাতেই একটা ওষুধ কোম্পানিতে। শান্ত আর সজীব বেকার। এখনও জব হয়নি। সজিবের অবশ্য পারিবারিক ব্যাবসা আছে ইসলামপুরে।
সজিবের প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলে, আছি একটা ঝামেলায়, দোস্ত। সেইজন্য আসতে পারিনি।
ঝামেলা মিটেছে?
মাথা নেড়ে শান্ত বলে, নাহহ।
মানাম একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে, ঝামেলাটা কী?
বলছি। দাঁড়া একটা চা নিয়ে আসি।
শান্তর সার্কেলে সবাই চেইন স্মোকার। শান্তও আগে খেত। ভার্সিটি থেকে বের হবার পর বাদ দিয়েছে। এক কাপ লেবু চা নিয়ে এসে বসলো ও মানামের পাশে।
সজিব বললো, বল মামা। কী এমন ঝামেলা যে তোর চাঁদমুখ আমরা দুইদিন ধরে দেখি না।
ঝামেলাটা একটা মানিব্যাগ নিয়ে।
মানাম একটু বিরক্ত হয়ে বললো, উহু… ঠিকভাবে গুছায়ে বল। একদম শুরু থেকে।
শান্ত দুই বন্ধুকে পুরো ঘটনাটা বললো। সব শুনে মানাম আর সাদিক চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো শান্তর দিকে। মুখে কথা নেই।
শান্ত বন্ধুদের অবস্থা দেখে বললো, কী রে। শুনে শক খাইলি মনে হয়!
দোস্ত একটা কথা বলি?
মানামের দিকে তাকিয়ে শান্ত বললো, বল।
পরশুদিন শুক্রবার। পরেরদিন শনিবার।
হ্যাঁ, কালকে বিষ্যুদবার। তো?
মানাম বললো, আমার দুইদিন ছুটি। বান্দরবনে ট্রিপ দিয়ে আসি, চল। আমি, তুই সজিব। টাকাও আছে তোর কাছে…
একটা ঝাড়ি দিয়ে ওকে থামিয়ে দিলো শান্ত, চুপ ব্যাটা। মাথা ঠিক আছে তোর? এই টাকা কি আমার নাকি? 
তাইলে কার?
কার মানে? সেই বুড়াটার। তাকে টাকা ফেরত দিতে হবে না?
সজিব বললো, শান্ত… দোস্তো, দেখ… মানামের কথাটা কিন্তু আমার মনে ধরেছে।
মানে?
সজিব বুঝিয়ে বলার ঢঙে বললো, দেখ দোস্তো… তুই বলছিস, টাকাগুলো ঐ বুড়ার। আচ্ছা মেনে নিলাম টাকাগুলো তারই। কিন্তু সেই বুড়াকে তুই কই পাবি? মানিব্যাগে ঠিকানা, পরিচয় কিছুই নাই। ঐ বেঞ্চে সারা জীবন বইসা বসে কি তুই বুড়ার অপেক্ষা করবি? আরে শালা, তুই তো সাফার জন্যেও সারা জীবন অপেক্ষা করতি না। 
এক দিবো, শালা! সাফাকে এর মধ্যে টানছিস ক্যান? তুই জানিস, সাফার জন্য আমি মরার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম।
সজিব বললো, আচ্ছা, মানলাম। কিন্তু সাফা আর বুড়া এক না। তুই কতদিন ঐভাবে অপেক্ষা করবি? স্পেশালি, যে নিজের টাকার গরজ নিজেই করে না। এতগুলা টাকা কেউ এইভাবে পকেটে নিয়ে ঘুরে। আর ঘুরলেও রাখা উচিত ছিলো কোটের পকেটে। প্যান্টের পকেটে রাখলে তো পড়ার রিস্ক থাকবেই। তার মানে বুড়া কেয়ারলেস।
কেয়ারলেস হলে কি? তার টাকা আমরা মেরে দিবো?
মানাম বললো, মামা, তুই বিষয়টা ভুলভাবে দেখছিস। চাইলে একটু অন্য অ্যাঙ্গেলেও ভাবতে পারিস।
কেমন?
মানাম একটু নড়েচড়ে বসে বললো, দেখ… তুই মানিব্যাগটা কুড়ায়ে পেয়েছিস, তাইতো?
হুম।
আচ্ছা, মানিব্যাগের মালিক কে, তুই জানিস না।
শান্ত বিরক্ত হয়ে বললো, জানবো না কেন? ঐ বুড়াটা…
ওকে থামিয়ে মানাম বললো, সেইটা তুই ধারনা করছিস। মানিব্যাগটায় বুড়ার কোনো আইডেন্টিফিকেশন মার্ক তুই পাস নাই। এই যেমন, কোনো আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, ফোন নাম্বার… কিচ্ছু পাস নাই। ঠিক?
হুম। কিন্তু, সে চলে যাওয়ার পরেই আমি মানিব্যাগটা পাই।
মানাম বললো, হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে, যে সেটা আগে থেকেই পড়ে ছিলো বেঞ্চের কাছে। তুই বা বুড়া কেউই লক্ষ্য করিস নাই।
ঝট করে মানামের দিকে তাকালো আনিস। এইভাবে সে চিন্তা করেনি আগে। হুম, হতে পারে মানিব্যাগটা বৃদ্ধ রেদওয়ানের নয়। হয়তো অন্য কারো। 
হয়তো ঠিকই বলেছিস।
মানাম মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, হুম… এখন সেই অচেনা লোককে তুই কীভাবে খুঁজে পাবি? বুড়া যেহেতু তোকে চেনে, মানিব্যাগটা ফিরে পাবার আশায় হয়তো সেদিন সে ফিরে আসতো। এবং তুই সেটা ফিরিয়ে দিতি। কিন্তু এটা অন্য কারো হলে, সে তো আর তোকে চিনবে না। জানবেও না, যে মানিব্যাগটা নিয়ে তুই হন্যে হয়ে খুঁজছিস মালিককে। সো, সে হয়তো থানায় মামলা দেবে। অথবা এতগুলো টাকার জন্য কান্নাকাটি করে চোখ ভাসিয়ে হুশ হারিয়ে পড়ে আছে হাসপাতালে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই জিনিসের দাবিদার থাকলেও সে অজ্ঞাত, এবং তাকে পাওয়ার আশা নেই। সেইজন্যই বলছি, চল তিনবন্ধু মিলে ঘুরে আসি। এক বছর ধরে তুই টাকা জমাতে পারিস নাই বলে আমাদের ট্রি টাকাগুলো অলস ফেলে না রেখে সেগুলোর সদ্গতি করি। রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস যে পায়, সেই-ই মালিক। বলতে পারিস ভাগ্যক্রমে তুই মানিব্যাগটা পেয়েছিস।
ভাগ্য?
হ্যাঁ। বলতে পারিস এটা একটা ঐশ্বরিক গিফট। আল্লাহ তোকে দিয়েছে।
শান্ত বিরক্ত হয়ে বলল, না, এটা সম্ভব না দোস্ত। এমন করলে পাপ হবে। 
সজিব বললো, ঠিক আছে… বাদ দে। ঘুরাঘুরির প্ল্যান বাদ। এক কাজ কর। আন্টির চেকআপ করানোটা আটকায়ে আছে না অনেকদিন ধরে? এবার করায়ে ফেল। টাকা তো আছেই।
শান্ত বললো, না রে, দোস্ত… এই টাকায় আমি হাত দিতে পারবো না। আম্মার চেকআপ আমি আগামী মাসে করবো। টিউশনির টাকা ব্যাংকে জমিয়েছি কিছু। সেটা তুলে চেকআপ করাবো আম্মার।
মানাম বললো, তাহলে এখন কী করা যায়?

শান্ত ভাবতে লাগলো। সঙ্গে মানাম আর সজিবও।

রাতে শান্তর ঘুম আসছিলো না।
বারবার মনে হচ্ছিল মানাম আর সজিবের কথাগুলো।
সত্যিই তো! চাইলেই তো ও টাকাগুলো খরচ করতে পারে!
কেউ জানবে না।
টাকাগুলো কুড়িয়ে নিতে কেউ ওকে দেখেনি! কোনো প্রমাণ নেই!
কিন্তু তারপর? যদি এই টাকার মালিক ওর খোঁজ পায়? যদি ফেরত চায় টাকাগুলো? কী জবাব দেবে সে?
না। ধৈর্য ধরবে ও। কিছুতেই এই টাকায় হাত দেবে না শান্ত। মরে গেলেও না।
বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবছিলো; হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই তড়াক করে উঠে বসলো শান্ত। ফোনটা বের করে মানামের নম্বরে কল দিলো। ভুলেই গেছে, এখন রাত ৩টা।
তিনবারের মাথায় মানামের সাড়া পাওয়া গেলো। ঘুমজড়ানো কণ্ঠে বললো, হ্যালো।
দোস্ত, আমি শান্ত।
হুম, দোস্ত… বল।
একটা আইডিয়া এসেছে মাথায়।
কী বিষয়ে?
মানিব্যাগ।
৩ সেকেন্ড পর শোনা গেলো মানামের গলা।
এখন কয়টা বাজে?
৩ টা।
দুপুর নাকি রাত।
ইয়ে… দোস্ত… মানে… সরি।
মানাম ঝাড়ি দিয়ে বললো, একটা দিবো … শালা। রাত ৩টায় ফোন দিয়া বলে আইডিয়া আসছে! মানে, আমি মনে হয় ওর আইডিয়া শুনার জন্য ভোর রাতে জেগে বসে আছি! শালা, বেকুব… ঘুমা।
চুপচাপ ফোন কেটে দিয়ে, বন্ধুর গালি হজম করে ঘুমিয়ে পড়লো শান্ত।


১১.
পরের দিন। আজকে শান্তর টিউশনি নেই। মনু মিয়ার দোকানে শান্ত, সজিব বসে আছে। মানামের আসার অপেক্ষা করছে। মানামের অফিস বেশি দূরে না। এতক্ষণে ছুটিও হয়ে গেছে। সজিব ফোন দিয়েছিলো। মানাম ‘আসতেছি’ বলে কেটে দিয়েছে। ওর অফিস বেশি দূরে না। পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট লাগার কথা। কিন্তু ১ ঘন্টা হয়ে গেলো মানামের দেখা নেই। এদিকে সন্ধ্যে হতে চললো।

সজিব বিরক্ত হয়ে বললো, শালা আজকে আসুক… এমন গাট্টা দিবো না!
কাকে গাট্টা দিবি তুই?
সজিবের পিছন থেকে বলে উঠলো মানাম। জিভ কেটে পিছন ফিরে বললো, আরে! দোস্ত… আসছিস? এত দেরি করলি কেন?
মানাম ভ্রু কুচকে বললো, তোর মতো আমার খানদানী ব্যাবসা নাই। যতক্ষণ ডিউটি শেষ না হবে, ততক্ষণ নো ছুটি। যাক, গাট্টা দিবি কাকে, সেটা বল।
তোকে না… তোকে না… শান্তকে।
শান্তর দিকে মানাম তাকিয়ে বললো, হুম, দেওয়া উচিত। তাহলে বেকুবটা রাত বিরাতে ফোন করে মানুষের আরামের ঘুম হারাম করবে না।
শান্ত বিনম্র কণ্ঠে বললো, রাগ করিস না দোস্ত। আসলে এতোটাই এক্সাইটমেন্টে ছিলাম যে, সময়ের দিকে খেয়ালই ছিলো না।
মানাম একটা টুলে বসে বললো, যাহ, মাফ করে দিলাম। এইবার বল… তোর আইডিয়াটা কী?
ভাবছি, পত্রিকায় একটা বিজ্ঞাপন দেয়া যেতে পারে। বিজ্ঞাপনটা পড়ে হয়তো সেই বুড়া লোকটা যোগাযোগ করতেও পারে।
মানাম বললো, যদি বুড়ার চোখে পড়ে, তাহলে। হুম… আইডিয়া খারাপ না। ওকে দোস্ত, দে বিজ্ঞাপন। তবে, সব পত্রিকায় দেয়ার দরকার নেই। যেই পত্রিকাগুলো বেশি চলে, সেইগুলোতে দিবো। ঠিক আছে?
ঠিক আছে।
সজিব জিজ্ঞেস করলো, বিজ্ঞাপনে কী লিখবি?

শান্ত একটা কাগজ এগিয়ে দিলো সজিবের দিকে। বিজ্ঞপ্তিটা লিখে নিয়ে এসেছে ও। কাগজটা নিয়ে সজিব পড়তে লাগলো।

প্রাপ্তি সংবাদ


গত … ইং তারিখে রমনা পার্ক থেকে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাওয়া গেছে। এই মুহূর্তে মানিব্যাগটি বিজ্ঞপ্তিদাতার জিম্মায় রয়েছে। মানিব্যাগটি সাদা রঙের। উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে মানিব্যাগটির মালিককে ০১********* নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হলো।

পড়া শেষ করে সজিব তাকালো শান্তর দিকে।
ভালো হয়েছে দোস্ত। কিন্তু আমার মোবাইল নম্বর দিয়েছিস কেন?
দুইটা কারণে। এক নম্বর কারণ, আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলে বা টিউশনি করাতে গেলে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখি। তাই, কেউ ফোন দিলে ধরতে পারবো না। দুই নাম্বার, মানামের অফিসে ব্যস্ততা কখন বেশি থাকবে তার ঠিক ঠিকানা নেই। তাই ওর নম্বরও দেওয়া যাবে না। একমাত্র তুই-ই আমাদের তিনজনের মধ্যে বেশি সময় ফ্রি থাকিস। তাই, তোরটা দিলাম।
মানে বুঝাতে চাচ্ছিস আমি…
মানাম বললো, হ্যাঁ, ঠিক। আমরা তোকে এই কাজের ভার দিয়ে বুঝাতে চাইলাম, এই কাজের জন্য তুই-ই একমাত্র যোগ্য। এখন যা, বেশি কথা না বলে সিগারেট নিয়ে আয়। আজকের বিল তুই দিবি।
মুখ বেজার করে উঠে দাঁড়ালো সজিব।


১২.
ধানমন্ডি লেকের একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে শান্ত আর সাফা। ওয়েটার ছেলেটাকে দুটো চিকেন স্যুপের  অর্ডার দেয়ার পর শান্তকে সাফা জিজ্ঞেস করলো, এনি আপডেট?
হতাশ ভঙিতে মাথা নেড়ে শান্ত বললো, নো আপডেট। কেউ এখনো ক্লেইম করেনি।
সাত দিন পার হয়ে গেলো, অথচ কোনো আপডেট নেই! কয়টা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলে?
পাঁচটা। ইংরেজি দুইটা বাংলা তিনটা।
সাফা শান্তর মুখের দিকে তাকালো। ওর চেহারায় বিমর্ষ ভাব দেখে একটু হেসে বললো, এত টেনশন করছো কেন? চাকরির জন্যেও তো তোমাকে এত টেনশন করতে দেখিনি। যার জিনিস, সে যদি ক্লেইম না করে, তাতে তোমার দোষ কোথায়? তুমি তো আর জিনিসটা চুরি বা ছিনতাই করোনি। বরং এখন জিনিসটা ফিরিয়ে দেবার সাধ্যমতো চেষ্টা করছো।
ওয়েটার স্যুপ নিয়ে আসলো। নীরবে কিছুক্ষণ খাওয়ার পর সাফা জিজ্ঞেস করলো, তাহলে এখন কী করবে?
ভাবছি।
আংকেলের সাথে কথা বলতে পারো। উনার বুদ্ধি তোমার থেকে বেশি।
সেটা ঠিক। কিন্তু বাবাকে আবার উটকো টেনশন দেবো? দেখি আর দুটো দিন। যদি কোনো গতি না হয়, তাহলে বাবাকে জিজ্ঞেস করা যাবে। 
স্যুপের পর্ব শেষ করে সাফা দুটোর কফির অর্ডার দিলো।
ঠিক আছে, মানিব্যাগের চিন্তা আপাতত বাদ দাও। এখন বলো, তোমার চাকরির কী হলো? বাবাকে বলবো?
অধৈর্য হয়ো না। দেখি, কাল আরেকটা ইন্টারভিউ আছে।
সাফা মাথা নেড়ে হেসে বললো, অধৈর্য! উহু… আমার ধৈর্য অনেক বেশি। তা না হলে কবেই তোমাকে ছেড়ে আরেকজনের গলায় ঝুলে পড়তাম।
শান্ত মুচকি হেসে বললো, ঝুলে পড়া শব্দটা ভালো শোনায় না। আত্মসম্মানবোধে ঘাটতি আছে, এমন মানুষেরা এইভাবে বলে।
আচ্ছা! তাহলে কী বলা উচিত।
শান্ত একটু ভেবে বললো, বুঝতে পারছি না। আমি তো আর বাংলার প্রফেসর নই। তাই হুট করে এখনই বলা মুশকিল। একটা যুতসই কিছু ভাবতে হবে। উমম… গলায় ঝুলে পড়া না বলে অন্যের পাণি গ্রহণ করা বলা যেতে পারে। কী বলো?
হুম, ঠিক আছে স্যার। এখন উঠুন। ৯টা বাজে। বাসায় যেতে হবে।
সাফা একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলো। শান্তও আরেকটা রিক্সা ডেকে উঠে বসলো। 

(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/254987/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Jun 2026 03:34:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি সাদা মানিব্যাগ<br />
অথবা একজন সান্তাক্লজ<br />
(দ্বিতীয় পর্ব)</p>
<p>৯.<br />
সকালে নাশতা করেই আবার বের হয়ে গেলো শান্ত। মানিব্যাগটা একটা ব্যাকপ্যাকে ঢুকিয়ে কাঁধে করে চলে এলো রমনায়। বসে রইলো সেই বেঞ্চটায়। যদি বৃদ্ধ আসে, সেই আশা করে দুপুর পর্যন্ত বসে রইলো সে। এলো না বৃদ্ধ। নিরাশ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে চলে এলো শান্ত সাফার বাসায়।<br />
এখন বিকেল। সাফা মানিব্যাগটা নেড়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-254987"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/254987/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">49e2e35a28398610dc1e124577683878</guid>
				<title>একটি সাদা মানিব্যাগ
অথবা একজন সান্তাক্লজ

১.
সকাল ৮টার সময় ঘুম ভাঙলো সাঈদুর রহমান শান্তর। ঝটপট উঠে পড়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর কালো টাই ঝুলিয়ে রুম থেকে বের হয়েই দেখতে পেলো খাবার টেবিলে নাশতা সাজাচ্ছেন মা রাশেদা কামাল। বাবাকেও দেখতে পেলো শান্ত। খাবার টেবিলে বসেই পত্রিকা পড়ছেন নিমগ্ন চিত্তে।
রাশেদা স্বামীর প্লেটে আটার রুটি, ডিম ভাজি আর আলুভাজি তুলে দিয়ে বললেন, এই, পত্রিকাটা এবার রাখো তো! খেয়ে নাও আগে।
এই রাখছি।
পত্রিকা নামিয়ে রাখতেই শান্তকে দেখতে পেলেন সাদিকুর রহমান।
কি রে শান্ত। আজও ইন্টারভিউ আছে নাকি?
হ্যাঁ বাবা, তোমার আজ অফিস নেই? বলে শান্ত এগিয়ে এলো খাবার টেবিলে।
সাদিক সাহেব রুটি ছিড়তে ছিড়তে বললেন, শরীরটা ভালো লাগছে না রে। আজ ছুটি নিয়েছি।
শান্ত উদবিগ্ন স্বরে বললো, কই দেখি? জ্বর টর বাধালে নাকি আবার?
বা হাত দিয়ে বাবার কপালে হাত দিলো শান্ত।
হুম… জ্বরই তো মনে হচ্ছে। ডাক্তারের কাছে নেয়া লাগবে।
রাশেদা বললেন, চিন্তা করিস না তো। তোর ডাক্তার কাকাকে ফোন দিয়েছি। আসছে সে। তুই খেয়ে নে।  দাঁড়া, তোকেও বেড়ে দিচ্ছি।
আরে মা, তুমি বসো তো। আমি নিজেই নিতে পারবো।
শান্ত জোর করে মাকে একটা চেয়ারে বসিয়ে, নিজেও বসলো। এরপর প্লেটে নাশতা নিয়ে খেতে শুরু করলো।
সাদিক সাহেব ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ কোন কোম্পানি থেকে ডেকেছে?
হ্যানসন গ্রুপ। নতুন কোম্পানি।
বিদেশি কোম্পানি মনে হচ্ছে?
হ্যাঁ বাবা। বাংলাদেশে ওরা নতুন ঠিকই। তবে অনেক দেশে আগে থেকেই কাজ করছে।
রাশেদা শুকনো মুখে বললেন, ফ্রড বা জালিয়াত না তো! বিদেশি কোম্পানি শুনলেই কেমন জানি ভয় করে।
স্ত্রীর কথায় সাদিক সাহেব বললেন, আরে… ভয় পাওয়ার কী আছে? শুনলে না… শান্ত বললো, অনেক দেশেই কাজ করছে। তার মানে… বেশ বড় কোম্পানি।
এরপর শান্তকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন পোস্টে এপ্লাই করেছিস?
কমিউনিকেশন ম্যানেজারের পোস্টে।
আচ্ছা। টেনশন করিস না বেশি। তোর স্কিল তো খারাপ না। হয়ে যাবে মনে হয়।
দোয়া করো বাবা।
আল্লাহ ভরসা।


২.
সাইন্সল্যাবে প্রচুর জ্যাম। সকাল সাড়ে ৯টায় ভয়াবহ জ্যামে বসে গরমে সেদ্ধ হচ্ছে শান্ত। টাইয়ের নটটার জন্য গরমটা যেন আরো বেশি লাগছে। খুলতেও পারছে না। এর মধ্যেই ফোনটা বেজে উঠলো ওর।
হ্যালো।
হ্যালো, তুমি কোথায়?
ফোন দিয়েছে সাফা। এত সকালে ফোন দেয়ার কারণ কী? মেয়েটা তো ১১টার আগে ঘুম থেকে ওঠেই না।
আমি ফুলের বাগানে আছি।
ওপাশ থেকে সাফার বিস্মিত কণ্ঠ শোনা গেলো।
ফুলের বাগান মানে?
মানে হচ্ছে মালঞ্চ বাসে আছি আমি। মালঞ্চ মানে হচ্ছে ফু…
ওকে থামিয়ে সাফা বললো, মালঞ্চের মানে আমি জানি। তোমাকে আর তরজমা করে বোঝাতে হবে না। তো কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
আর কি… ইন্টারভিউ।
ও। আচ্ছা। বেস্ট অব লাক।
থ্যাঙ্কিউ। কিন্তু, তুমি এত সকাল সকাল আজ ফোন দিলে যে?
ঘুমিয়েই ছিলাম। কিন্তু একটা স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে গেলো। ভাবলাম তোমাকে ফোন দিয়ে স্বপ্নের কথাটা বলি।
শান্ত একটু হেসে বললো, বেশ ইন্টারেস্টিং গল্প মনে হচ্ছে! বেশ শুনবো। ইন্টারভিউটা শেষ করে ফোন দিচ্ছি তোমাকে।
ওকে।
কল কেটে দিলো সাফা। বাস গন্তব্যে চলে এসেছে। ফোনটা পকেটে ভরে নেমে গেলো শান্ত একবুক প্রত্যাশা নিয়ে।


৩.
এক বিখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা আধুনিক ১২ তলা ভবনের ১১ এবং ১২ তম ফ্লোরে হ্যানসন গ্রুপের অফিস। হ্যানসন গ্রুপ সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠান। এশিয়া, ইয়োরোপ, আফিকার বিভিন্ন দেশে এদের অফিস ও ব্যবসা রয়েছে। এরা মূলত স্টেশনারি এবং কম্পিউটার পার্টস নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে এরা এসেছে বছরখানেক হলো। ইতোমধ্যে নিজস্ব কারখানা সেটআপও করে ফেলেছে। এখন চলছে লোকবল নিয়োগের কাজ।


বেশ সুসজ্জিত আর পরিপাটি অফিস। লোকজনেরও অভাব নেই। শান্ত রিসেপশনের সুন্দরি মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলো।
মেয়েটি একটা হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, হ্যালো স্যার। হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?
মেয়েটির ইংরেজি বেশ ঝরঝরে এবং মিষ্টি। শুনতে ভালোই লাগে। আনিস একটু ভদ্রোচিত হাসি দিয়ে বললো, আমি এসেছিলাম ইন্টারভিউয়ের জন্য।
মেয়েটি হয়তো শান্তকে কোনো বায়ার বা ডিলার ভেবেছিলো। শান্তর কথা শুনে নিরাসক্ত কণ্ঠে বললো, ও, আচ্ছা… কোন পোস্টের জন্য?
কমিউনিকেশন ম্যানেজার।
নাম?
সাঈদুর রহমান শান্ত
মেয়েটি একটা প্যাডে শান্তর নাম লিখে একটা দরজা দেখিয়ে বললো, ইন্টারভিউ হচ্ছে ৩ নম্বর রুমে। আপনি বসুন। আপনার সিরিয়াল কল হলে ওই রুমে যাবেন।
আনিস একটা সোফায় আয়েশ করে বসলো। চারিদিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো, আহা!! চাকরিটা হয়ে গেলে…


৪.
ইন্টারভিউ বোর্ডে মাত্র একজন প্রশ্নকর্তাকে দেখা গেল। একটা মাঝারি সাইজের বার্নিশ করা টেবিলের ওপাশে বসে আছে লোকটি। বয়সের তুলনায় বেশ গম্ভীর। লোকটির পরনে নীল রঙের একটা ব্লেজার। ভেতরের শার্টটার রঙও একই। বয়স আনুমানিক চল্লিশ হবে। চশমা পরে, তবে সেটা এখন নামানো আছে টেবিলের উপর।  চোখের নিচের চামড়া কুঁচকানো। ফ্রেঞ্চকাট দাড়িটা মুখের সাথে খাপ খায়নি।

শান্ত রুমে ঢুকতেই গম্ভীর কণ্ঠে লোকটি বললো, প্লিজ বি সিটেড।
শান্ত বসলো। লোকটি একটা ফাইল নিয়ে পড়তে লাগলো। ওখানে শান্তর সিভিটা আছে।
হুম… আপনার রেজাল্ট তো ভালোই শান্ত সাহেব।
থ্যাংকিউ স্যার।
তবে জানেন কী… এই ধরনের কাজে শুধু একাডেমিক জ্ঞান থাকলে হয় না। বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতারও দরকার হয়।
শান্ত এবললো, জি স্যার। তবে অভিজ্ঞতা তো তখনই হবে, যখন আমি কাজ করার সুযোগ পাবো। আমি মাত্রই গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি। এখন কাজ খুঁজছি।
তবে আমাদের বিজ্ঞপ্তিতে কিন্তু বলা আছে, অভিজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
জি স্যার। তবে, অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করা হবে না, এমন কথাটাও তো লেখা ছিলো না।
লোকটির গাম্ভীর্যের মুখোশে হালকা চির ধরলো। মৃদু হেসে বললো, আপনার কথাবার্তা বেশ স্বতস্ফুর্ত, শান্ত সাহেব। ঠিক আছে, ইন্টারভিউ শুরু করা যাক। বাই দা ওয়ে, আমার নাম রাকিবুল হোসেন।
৩ মিনিট ধরে কর্পোরেট কমিউনিকেশন বিষয়ক ৩/৪টা প্রশ্ন করলো রাকিবুল হোসেন। এরপর জিজ্ঞেস করলো, আপনি এই জব কেন করতে চান শান্ত সাহেব?
অফকোর্স বেঁচে থাকার তাড়নায়, স্যার। জবটা আমার পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য প্রয়োজন।
নাথিং এলস।
শান্ত একটু হেসে বললো, স্যার… আমি সোজাসাপ্টা কথা বলতেই পছন্দ করি। অন্য যে কেউ আপনার এ প্রশ্নের জবাবে অনেক তৈলমর্দন করে উত্তর দিতে পারে। কিন্তু আমি সেটা করবো না। হ্যাঁ স্যার, আমি আমার পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই এই চাকরিটা করতে চাই। আর যেহেতু এই চাকরির উপরেই আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে, তাই আমি একাগ্র নিষ্ঠার সাথেই কাজ করবো। যেন কোনো ব্যর্থতার জন্য চাকরিটি হারাতে না হয়।
তা, এখন তো জব নেই আপনার। খরচ কীভাবে সামলাচ্ছেন?
টিউশনি করাই স্যার। 
কয়টা করান?
৩টা।
চলে?
জি, কোনোমতে চালিয়ে নেই। কিন্তু, স্যার আমার মনে হয় না, এই চাকরির সাথে আমার ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সম্পর্ক আছে।
শান্তর কথা শুনে রাকিবুল হোসেন একটু ভেবে বললো, ওয়েল… শান্ত সাহেব। আপনি অনেক বেশি স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড। আপনার এই সোজাসাপ্টা কথা বলার অভ্যেসটা ভালো হলেও, কর্পোরেট লেভেলে কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যাই হোক, আপনার সাথে কথা বলে বেশ ভালো লাগলো। আপনি এখন আসুন। সিলেক্ট হলে আমরা যোগাযোগ করবো।
শান্ত বুঝতে পারলো, এই কথার অর্থ হচ্ছে… ওর চাকরিটা হবে না। এমন কথা আগেও শুনেছে ও। তবে কেউই ওর সাথে যোগাযোগ করেনি। কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে উঠে পড়লো শান্ত। বেরিয়ে এলো ইন্টারভিউ রুম থেকে।


৫.
ইন্টারভিউ শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে গেল। ওখান থেকে বের হয়ে বাসায় গেলো না শান্ত। বিষন্ন মন নিয়ে সাফার সাথে দেখা করতে এলো ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে। একটা রেস্টুরেন্টে বসে কথা বলছে ওরা। সাফা অনেক সান্ত্বনা দিলেও, মনের কালো মেঘ সরছে না শান্তর।
আরে বাবা, এত হতাশ হচ্ছো কেন? দেখো, তোমাকে ওরা ডাকবে। ভেঙে পড়ো না তো!
শান্ত মাথা নেড়ে বললো, মনে হয় না ডাকবে। আমার সোজাসাপ্টা কথা যে ওই লোকের ভালো লাগেনি, বুঝে গেছি।
কেন? আমার তো ভালোই লাগে।
সবাই তো আর সাফা চৌধুরী নয়।
আচ্ছা, শোনো… মন খারাপ করো না। কী খাবে বলো।
প্রসঙ্গ পাল্টাতে চাইছে সাফা। শান্ত বুঝতে পারে। কিন্তু প্রসঙ্গ পালটে দিলেই কি অবস্থা পালটে যাবে?
বাবার রিটায়ার্মেন্টের সময় চলে আসছে। আর মাত্র ২ মাস বড়জোর। এরপর কী হবে? পেনশনের টাকায় মায়ের ওষুধ, অনন্তর পড়াশোনা, সংসারের খরচ সবটা কী সামাল দেয়া যাবে? নিজেদের বলতে কিছুই নেই আমাদের সাফা। কোথায় দাঁড়াবে আমাদের সংসার?
অনন্ত শান্তর ছোট ভাই। শান্তর মতোই মেধাবী। কুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে।
সাফা শান্তর হাতের উপর নিজের হাত রেখে বললো, বাবাকে বলবো?
শান্ত তুমুল বেগে মাথা নেড়ে বললো, না সাফা। আমি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো। কারো দয়া নিয়ে নয়, নিজের যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পেতে হবে আমাকে। আমি তোমাকে বা আংকেলকে ছোট করছি না। আবার নিজেকে মহৎ করারও চেষ্টা করছি না। দেখতে চাই, ভাগ্য শেষ পর্যন্ত আমার কপালে কী লিখেছে। একদিন হয়তো আমাদের বিয়ে হবে, সংসার হবে। তখন যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটুকু বজায় থাকে।
ধরো শেষ পর্যন্ত হলো না। তখন কি বাবাকে বলবো?
শান্ত হেসে বললো, বলতে পারো। তবে আমার মনে হয়, আমার এই সাহায্য না চাওয়ার সিদ্ধান্তকে আংকেলও সমর্থন করবেন। আংকেলের স্বভাব তো আমার জানা। অনেকটা আমারই মতো।
সাফা চটপট করে বললো, ঠিক আছে। এবার বলো কী খাবে?
যা ইচ্ছে অর্ডার করো। বিল তো আর দিতে পারবো না। তাই তোমার পছন্দই আমার পছন্দ।
সাফা মুচকি হেসে অর্ডার করলো।
এবার বলো, কী স্বপ্ন দেখেছো।
সাফা হেসে বললো, অনেক ফানি একটা স্বপ্ন।
বলো, শুনি।
দেখলাম, তোমার বিয়ে হচ্ছে। বিয়ে হচ্ছে আরেকটা মেয়ের সাথে। ডিজে মিউজিক চলছে… আর আমি সেই মিউজিকের তালে তালে নেচে বেড়াচ্ছি। হি হি হি…
এটা ফানি স্বপ্ন?
কেন? তোমার কাছে ফানি লাগছে না?
শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বললো, জি না। এটা মোটেও ফানি স্বপ্ন না। এটা হচ্ছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন।
আমার তো বেশ মজা লেগেছে।
শান্ত কিছু বললো না। ওর মনটা আবার বিষণ্ণ হয়ে পড়েছে।


৬.
বিকেল বেলা। রমনা পার্কের কিছুটা নিরিবিলি এক জায়গায় এসে ধপ করে একটা সিমেন্টের বেঞ্চে বসলো সাঈদুর রহমান শান্ত। হাতের কালো ফাইলটা রাখলো পাশে। একটা অশ্বত্থ গাছ ছায়া বিছিয়ে রেখেছে আশপাশের অনেকখানি সবুজ ঘাসের অঞ্চল ঘিরে। গাছের মাথায় একটা হাঁড়িচাচা চিক চিক করে ডাকছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে ভাসছে কদমফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ।

তবে প্রকৃতির এই নির্মল রূপ শান্তর মনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলছে না এই মুহূর্তে। আজও একটা ইন্টারভিউ ছিলো ওর। এটাও হবে না, বেশ বুঝতে পেরেছে শান্ত। উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করেছে, যেই বিষয়ে প্রশ্ন করা দরকার, সেই বিষয়ে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। বাংলাদেশের আয়তন কত?
উগান্ডার রাজধানীর নাম কী?
ব্রাজিলে কোন শষ্য ভালো হয়?
বাংলাদেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি কোথায়?
চিনের প্রাচীরের দৈর্ঘ কত?
এইসব উদ্ভট প্রশ্ন করে শেষে বলে, ঠিক আছে আপনি আসুন! রেজাল্ট পরে জানিয়ে দেয়া হবে!
কোনো মানে হয় এসবের? শান্ত বুঝতে পারে, আগে থেকেই লোক নেয়া হয়ে গেছে ওদের। এই ইন্টারভিউ স্রেফ লোক দেখানো ব্যাপার। ওদিকে হ্যানসন গ্রুপ থেকে এখনও কোনো জবাব আসেনি। চিন্তায় ভারী হয়ে আসছে মাথাটা। এক বছর ধরে চেষ্টা করার পর এখন শান্তর মনে হচ্ছে, শালার এই জীবনটা রেখে আর লাভ কী? মরে গেলেই সব ল্যাঠা চুকে যায়। হ্যাঁ, বাবা, মা আর সাফা হয়তো প্রথমে কিছুদিন কাঁদবে, দুঃখ পাবে। তারপর একদিন সব আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সাফা বিয়ে করে ফেলবে, আর বাবা-মা নিজেদের নিয়ে বাঁচবে। মাঝখান থেকে ওর এই ব্যর্থ জীবনের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে সবাই।
আজ ছিল গত আট মাসের মধ্যে ওর ত্রিশ তম ইন্টারভিউ। আর বরাবরের মতোই এবারও শান্ত ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়ে ভগ্ন মন নিয়ে ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে ওর মনে হচ্ছিল, জীবনটা কী তাহলে একটা দীর্ঘ অপেক্ষার নাম?

চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করেছিল সে। তখন কত স্বপ্ন ছিল!
বাবা বলতো, একদিন তুই বড় অফিসার হবি। বাবা এখনও সে কথা বলেন। কিন্তু, কই… বড় অফিসার হওয়া তো দূর, ছোট কোনো পোস্টেও সুযোগ হচ্ছে না শান্তর। বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষিত বেকারের মতো ওরও জুতোর শুকতলি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।
মাথা নিচু করে অনেকক্ষণ ধরে এসবই ভাবছিলো শান্ত।

বসতে পারি?
ঝট করে মাথা তুলে শান্ত দেখলো কোত্থেকে যেন মাটি ফুঁড়ে এক পক্ককেশ বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে। লোকটির পরনে ধবধবে সাদা কোট, সাদা শার্ট, সাদা, প্যান্ট আর সাদা জুতো। ঘড়ির লেদার স্ট্র্যাপটাও সাদা। মাথায় একটা ফেল্ট হ্যাট, সেটাও সাদা রঙের। লোকটার গায়ের রঙ ফর্সা। গালে চাপ দাড়ি, হাতে একটা সাদা ছড়ি। বয়স আনুমানিক পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বা তার একটু বেশিও হতে পারে।
লোকটা আবার জিজ্ঞেস করলো, বসতে পারি? অনেকক্ষণ হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। একটু বসি?
জি জি… বসুন। কোনো সমস্যা নেই।


৭.
লোকটি ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তর পাশে বসে পড়লো।
অনেক ধন্যবাদ বাবা। পা দুটো এবার একটু শান্তি পেলো।
শান্ত মাথা নেড়ে বললো, কিন্তু এতো হেঁটেছেন কেন? তাও আবার এই গরমে স্যুট টাই পরে…
আর বলো না বাবা। হুট করেই বের হতে হলো। একজনের সাথে জরুরি দেখা করতে হবে, উপরওলার হুকুম। ভাবলাম দেখা করার আগে একটু ঘুরে ঘুরে নানান জাতের গাছ দেখে নেই। শহরে তো এই পার্কগুলো ছাড়া আর কোথাও এত প্রজাতির গাছের দেখা পাওয়া যায় না।
তো আপনার সেই লোক কোথায়, যার সাথে দেখা করতে এসেছেন?
বৃদ্ধ লোকটি বললো, আছে। কাছাকাছিই আছে। তা বাবা, তোমার নাম কী?
শান্ত। আপনার?
রেদওয়ান। তো বাবা, তুমিও তো দেখছি কোট টাই পরে বসে আছো।
শান্ত বললো, জি… একটা ইন্টারভিউ ছিলো দুপুরে। ওটা শেষ করে এলাম মাত্র।
বাসায় না গিয়ে এখানে চলে এলে?
জি।
কেন?
শান্ত কোনো জবাব দিলো না। কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রেদওয়ান বললেন, ইন্টারভিউ ভালো হয়নি?
ইন্টারভিউ-ই হয়নি।
মানে?
রেদওয়ানের বিস্মিত প্রশ্নের জবাবে শান্ত বললো, আরে স্যার… যেই পোস্টের জন্য এপ্লাই করেছি, সেই বিষয়ে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি… আলতু ফালতু প্রশ্ন করে। আসলে, এরা আগে থেকেই লোক সিলেক্ট করে রেখেছে। ইন্টারভিউটা লোক দেখানো শো অফ আর কি… যত্তসব!
কী করবে বাবা… এই বিশ্বসংসারটাই তো একটা শো অফের জায়গা। যে যত বেশি শো অফ করতে পারে, তার জনপ্রিয়তাও তত বাড়তে থাকে। এই যেমন আমাকেই দেখো। কত করে বুঝিয়েছি যে বস, আমাকে সাদা পোশাকে একদমই মানায় না। কিন্তু না, বসের নির্দেশ… সাদাই পরতে হবে। এটা নাকি অফিস ডেকোরাম। মানে হয় কোনো?
আপনি চাকরি করেন কোথায়?
আছি ইউনিভার্সেল গ্রুপে।
এই বয়সে ফিল্ডে কাজ করতে আপনার অসুবিধা হয় না?
বৃদ্ধ হেসে বললেন, তোমার কী আমাকে খুব বুড়ো মনে হচ্ছে?
তা হচ্ছে বইকি।
হুম। কিন্তু এনার্জি আমার অনেক বেশি। তোমাদের বয়সী ছেলেদেরও আমি ম্যারাথনে হারিয়ে দিতে পারি।
শান্ত কিছু না বলে মুচকি হাসলো। রেদওয়ান বললেন, শোনো বাবা… জীবনকে নিয়ে হতাশ হয়ে লাভ নেই, অতো ভেবেও লাভ নেই। জীবন হচ্ছে নদীর স্রোতের মতো।  এর সাথে জড়িত আছে, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজ, সংসারের প্রতিটি প্রাণী। তুমি হয়তো সেই নদীর কূলে একটি ভাসমান নৌকা। সেই নৌকার মাঝি যতক্ষণ না হাল ধরবে, ততক্ষণ তোমাকে অপেক্ষা করতেই হবে। যাত্রার সময় হলেই শুধুমাত্র তুমি সেই স্রোতে ভাসতে পারবে, তার আগে নয়। 

শান্ত বললো, কিন্তু আমার এই নৌকার মাঝি তো আমিই… তাই না?

বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললো, না বাবা। বললামই তো, তুমি হলে নৌকা। তোমার মাঝি হচ্ছে অন্য কেউ। যে তোমার হাল ধরবে, তোমাকে নিয়ে যাবে স্রোতে, পার করে নেবে লক্ষ্যে।
তাহলে সেই মাঝিটি কে?
মাঝিটি হলো তোমার কর্ম, তোমার বিশ্বাস, তোমার প্রচেষ্টা। তোমার ভেতরে যেই অন্য তুমিটি আছো, সেই মূলত তোমার চালক।
শান্ত এইসব তত্ত্বকথার কোনো তল খুঁজে পেলো না। দ্বিধাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে রইলো বৃদ্ধের দিকে।
রেদওয়ান বললেন, জানো বাবা, মানুষের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় কখন আসে?
জি না, জানি না।
বৃদ্ধ হেসে বললেন, মানুষের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় তখন আসে, যখন মানুষ নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।
অর্থাৎ?
অর্থাৎ, এই মুহূর্তে তুমি নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছো। হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছো। তোমার মুখ দেখে স্পষ্টই তা বোঝা যাচ্ছে।
শান্ত নিজের বেকারত্বের কথা বলল। বারবার ব্যর্থ হওয়ার কথা বলল। সংসারের অনটনের কথা বলল।
বলুন এখন, এতকিছুর পরে হতাশ না হয়ে উপায় আছে?
রেদওয়ান মন দিয়ে সব শুনলেন। তারপর আবৃত্তি করে বললেন, সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।
কিন্তু আশায় ভর করে কতদূরে যাবো? সাফল্য কী এই জীবনে ধরা দেবে না?
শান্তর কথা শুনে বৃদ্ধ হেসে বললেন, শোনো বাবা, সাফল্য ঠিক লোকাল বাসের মতো। আমরা একটা বাস মিস করলেই অনেক আফসোস করি। আবার অনেক সময় সেই বাসেই উঠতে হবে, এমন পণ করে ধাক্কাধাক্কি করে ঠ্যালাগুতা খেয়ে, ঝুলতে ঝুলতে সেই বাসেই উঠার চেষ্টা করি। অথচ, পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করি না।
শান্ত মৃদু হেসে বলল, কিন্তু স্যার, সমস্যাটা হচ্ছে আমি অনেকক্ষণ ধরে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। বাসই পাচ্ছি না।
গুড, দাঁড়িয়ে থাকো। যে মানুষ অপেক্ষা করতে জানে, ভাগ্য তাকে একদিন পরিপূর্ণতা দিয়ে পুরস্কৃত করে। হাল ছেড়ো না। হতাশ হয়ো না।
সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলে পড়ছিল। রেদওয়ান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে পড়লেন।
আচ্ছা বাবা, আমি উঠি। ফিরতে হবে।
মানে? আপনার সেই লোকের সাথে দেখা করবেন না?
আবার একদিন দেখা করবো।
বৃদ্ধ রেদওয়ান চলে গেলেন। শান্ত বসে বসে ভাবতে লাগলো বৃদ্ধের কথাগুলো। বেশ আজব কিসিমের বৃদ্ধ। তবে কথা বলে চমৎকার! আজকালকার মটিভেশনাল স্পিকাররা যেভাবে কথা বলে, তেমনই। তবে শান্তর মন এখন অনেকটাই হালকা হয়ে গেছে। সন্ধ্যে নেমে এসেছে শহরের বুকে। শান্ত উঠে দাঁড়িয়ে একবার আড়মোড়া ভাঙলো। এরপর নিচু হয়ে ফাইলটা তুলে নিতে গিয়েই দেখতে পেলো একটা মানিব্যাগ পড়ে আছে বেঞ্চের পায়ের কাছে। 

একটা সাদা মানিব্যাগ!


৮.
এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো মানিব্যাগটা পরীক্ষা করলো শান্ত। রাত হয়ে গেছে। বাসায় আসার আগে একবার মানিব্যাগের ভেতরটায় শুধু চোখ বুলিয়ে নিয়েছিলো শান্ত। ব্যাগের ভেতরের অবস্থা দেখে চট করে সে ওটা ফাইলের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে ও। তারপর পাক্কা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলো শান্ত বৃদ্ধের জন্য। যদি মানিব্যাগের খোঁজে আবার ফিরে আসে, সেই আশায়। কিন্তু আসেনি রেদওয়ান। পরে শান্ত বাসায় চলে আসে। রাতে খেয়ে দেয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। সাদিক সাহেব জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইন্টারভিউ কেমন হলো? ‘ভালো, বাবা’ বলে নিজের রুমে এসে ঢুকেছে ও। অবশ্য বাবার জ্বর কমেছে কি না সেটা জিজ্ঞেস করতে ভোলেনি ও।
এখন ভালো আছি। জ্বর নেই। কালকে অফিস করবো।
শান্ত আর কিছু না বলে রুমে চলে আসে। ছেলের এই গতিবিধি দেখে সাদিক সাহেবের মনে প্রশ্ন আসলেও কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।

এই মুহূর্তে বিছানায় বসে চতুর্থবারের মতো টাকাগুলো গুনলো শান্ত। পনেরোটা নতুন কড়কড়ে হাজার টাকার নোট। নোটগুলো সামনে রেখে তাকিয়ে থাকলো ওগুলোর দিকে। পনেরো হাজার টাকা! খুব বেশি টাকা নয়। আবার খুব সামান্যও বলা যায় না। এই টাকা দিয়ে একটা নিম্নবিত্ত পরিবারের অনায়াসে এক মাসের খরচ উঠে যাবে। মানিব্যাগে শুধু টাকাগুলোই পাওয়া গেছে। কিন্তু এর মালিকের কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
শান্তর ধারনা, মানিব্যাগটা ওই বৃদ্ধ রেদওয়ানের। সম্ভবত ওঠার সময় পকেট থেকে পড়ে গেছে। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে এর ভেতরে বৃদ্ধের ঠিকানা, ফোন নাম্বার কিচ্ছু নেই। কোনো ভিজিটিং কার্ড বা কোনো কাগজের টুকরো পর্যন্ত নেই। আছে শুধু কড়কড়ে এই নোটগুলো। শান্ত চিন্তা করে বুঝতে পারছে না, এই ব্যাগ সেই বৃদ্ধের কাছে পৌঁছে দেবে কীভাবে? সাফাকে বিষয়টা জানানো দরকার। মা-বাবাকে জানায়নি, কারণ নইলে বুড়ো দুজন মানুষ অহেতুক টেনশন করবে। ভাববে, কার না কার টাকা শান্ত নিয়ে এসেছে! হয়তো কোনো ঝামেলায় পড়ে যেতে পারে। এইভাবে একটা অজ্ঞাত মানিব্যাগকে ঘরে আনা ঠিক হয়নি ওর।
মোবাইলটা হাতে নিলো শান্ত। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। জেগেই আছে সাফা। শান্ত কল দিতেই রিসিভ করলো সাথে সাথে।
হ্যালো।
কী ঘুমাওনি?
একটা মুভি দেখছিলাম। শেষ করে ঘুমাবো?
আচ্ছা।
তুমিও তো ঘুমাওনি দেখছি।
ঘুম আসছে না।
আরে! এত টেনশন করো না তো! চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
সে জন্য না। অন্য কারণে ঘুম আসছে না।
ওপাশ থেকে সাফার উদ্বিগ্ন কণ্ঠ শোনা গেলো।
কী হয়েছে! শরীর ভালো তো তোমার?
শান্ত বললো, শরীর ঠিক আছে। তবে মনের ভেতর একটা দ্বিধা কাজ করছে।
কী হয়েছে বলবে?
হ্যাঁ, বলবো। তবে আজ নয়। কাল একবার দেখা করতে পারবে?
পারবো। কোথায় আসতে হবে, বলো।
শান্ত বললো, তোমাকে কোথাও আসতে হবে না। আমি তোমার বাসায় যাবো। সমস্যা নেই তো?
কোনো সমস্যা নেই। আর থাকলেই বা কী? আমি কি সমস্যাকে ভয় পাই নাকি!
শান্ত হেসে বললো, গুড। তাহলে এখন রাখছি। কাল বিকালে আসবো।
ওকে। গুড নাইট।

ফোন কেটে দিয়ে শান্ত আবার টাকাগুলোর দিকে তাকালো।
ওর বুকের ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য কেমন যেন হু হু করে উঠল। আহা! কে জানে, টাকাগুলো হারিয়ে বুড়োটার মানসিক অবস্থাটা কী হয়েছে! হয়তো এগুলো ওর কোম্পানীর টাকা! যার সাথে দেখা করার কথা তাকে দেবার জন্যই সাথে নিয়ে এসেছিলো! ইশ… বুড়োর চাকরিটা হয়তো গেলো! নাহহ… মনটা ঐ বৃদ্ধের জন্য কেমন যেন করতে লাগলো শান্তর। সারা রাত ঘুম হলো না এইসব ভাবতে ভাবতে।

ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়লো শান্ত। সকাল ১০টার দিকে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো।
শান্ত, বাবা উঠে পড়! অনেক বেলা হলো! আর কত ঘুমাবি!
শান্ত উঠে দেখলো টাকাগুলো বিছানার উপরেই পড়ে আছে। ঝটপট সেগুলো মানিব্যাগে ঢুকিয়ে ড্রয়ারের ভেতর রেখে দিলো। এরপর দরজা খুলে দেখলো মা দাঁড়িয়ে আছে।
কি রে শান্ত! আজ এত বেলা করে ঘুমাচ্ছিস! শরীর ঠিক আছে তো?
আমি ঠিক আছি মা। বাবা কই, অফিসে চলে গেছে?
হ্যাঁ। তুই আয়, আমি নাশতা দিচ্ছি।
ঠিক আছে। আসছি।
 
(চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/254899/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Jun 2026 08:35:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি সাদা মানিব্যাগ<br />
অথবা একজন সান্তাক্লজ</p>
<p>১.<br />
সকাল ৮টার সময় ঘুম ভাঙলো সাঈদুর রহমান শান্তর। ঝটপট উঠে পড়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট আর কালো টাই ঝুলিয়ে রুম থেকে বের হয়েই দেখতে পেলো খাবার টেবিলে নাশতা সাজাচ্ছেন মা রাশেদা কামাল। বাবাকেও দেখতে পেলো শান্ত। খাবার টেবিলে বসেই পত্রিকা পড়ছেন নিমগ্ন চিত্তে।<br />
রাশেদা স্বাম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-254899"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/254899/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9e4aa041802fe2da1bd2bde88d40266a</guid>
				<title>তাহাজ্জুদের পর
&#x2660;
মাঝে মইধ্যে মনে হয়-
দীর্ঘ আশাহীন এই জীবনডারে
ভাতের থালায় নিয়া গিল্লা ফেলাই।
ঘুম থেইকা পালায়া গিয়া
নদীর বুকের ভিতর ঢুইকা পড়ি
অথবা
আকাশে ঝুইলা থাকি একখান ম্যাড়ম্যাইড়া সূর্যের লাহান।
সকালের চায়ের কাপে
উড়তে থাকি অক্লান্ত ধুঁয়ার শক্তি নিয়া।

অথচ
দেখি, ঘরের বাইরে একটুখানি রইদ
আত্মস্থ করতেছে জীবনানন্দ।
উপাসনালয়ের ভিতরে দীর্ঘ প্রার্থনার লাইন;
এর মাঝে আমারে খুঁইজা পাইতেছেন না ঈশ্বর।

তাই
মাঝে মইধ্যে ইচ্ছা করে, বুকের ভিতর থিকা
একটানে বাইর কইরা ফেলি হৃদপিণ্ডটা।
এরপর শরাবে ভিজাইয়া তুইলা দেই পুরোহিতের মুখে।
সমস্ত দিনের শ্যাষে ফুরায়া যাওয়া শব্দগুলা
আবার পড়তে থাকি রাইতের জায়নামাজে।

এই খুচরা খুচরা দুঃখগুলা জাহান্নামের আগুনে
পুড়ায়া দিতে ইচ্ছা করে, ভগবান!
তয়, আমি জানি-
চোখের আগুনের থেইকা আর কোনো আগুনেরই
এত শক্তি নাই।
বুকের নদীর থিকা আর কোনো নদীতেই এতো গভীরতা নাই।
কবিতার থিকা আর কোনো প্রার্থনাতে এতোটা শান্তি নাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249966/</link>
				<pubDate>Thu, 21 May 2026 08:17:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তাহাজ্জুদের পর<br />
&#x2660;<br />
মাঝে মইধ্যে মনে হয়-<br />
দীর্ঘ আশাহীন এই জীবনডারে<br />
ভাতের থালায় নিয়া গিল্লা ফেলাই।<br />
ঘুম থেইকা পালায়া গিয়া<br />
নদীর বুকের ভিতর ঢুইকা পড়ি<br />
অথবা<br />
আকাশে ঝুইলা থাকি একখান ম্যাড়ম্যাইড়া সূর্যের লাহান।<br />
সকালের চায়ের কাপে<br />
উড়তে থাকি অক্লান্ত ধুঁয়ার শক্তি নিয়া।</p>
<p>অথচ<br />
দেখি, ঘরের বাইরে একটুখানি রইদ<br />
আত্মস্থ করতেছে জীবনানন্দ।<br />
উপাসনালয়ের ভিতরে দী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249966"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249966/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">757c12a87965d3a5e367fbf607b1de4c</guid>
				<title>এশার ওয়াক্তের পর
&#x2660;
কান্দনের পর আমি আর চোখে পানি রাখি না;
সমুদ্র ঘুমায়া যায় ঘুটঘুইটা আন্ধারে।
বসনে জইমা থাকে কারো শ্যাষ নিঃশ্বাস,
প্রলোভনে ভুইলা যাই, মানুষ ছিলাম নাকি ফেরেশতা।

ফুরায়া যাইতাছে দুয়া,
অভিশাপে ভইরা যাইতাছে শহরের দেয়াল।
চিক্কুর দিয়া বলি-
মানুষ হইয়া আর জন্মাইতে চাই না প্রভু।

আসমান জুইড়া সংসার পাতছে খোদা।
জমিন জুইড়া সংসার পাতছে মানুষ।
এর মাঝামাঝি আমি কোথাও ঝুইলা আছি-
সেইটা কোনো স্বর্গ না, নরকের সীমান্ত হইতে পারে।

যাই হোক,
এই যে কবিতা লিখতেছি,
এই যে হাসতেছি অমানুষের মতোন,
এই যে মইরা গিয়া আবার জন্মাইতে চাইতেছি-
এর কোনো কারণ নাই;
কেবলমাত্র মানুষ না হওনের আক্ষেপটাই রইয়া গ্যালো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249184/</link>
				<pubDate>Tue, 19 May 2026 07:52:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এশার ওয়াক্তের পর<br />
&#x2660;<br />
কান্দনের পর আমি আর চোখে পানি রাখি না;<br />
সমুদ্র ঘুমায়া যায় ঘুটঘুইটা আন্ধারে।<br />
বসনে জইমা থাকে কারো শ্যাষ নিঃশ্বাস,<br />
প্রলোভনে ভুইলা যাই, মানুষ ছিলাম নাকি ফেরেশতা।</p>
<p>ফুরায়া যাইতাছে দুয়া,<br />
অভিশাপে ভইরা যাইতাছে শহরের দেয়াল।<br />
চিক্কুর দিয়া বলি-<br />
মানুষ হইয়া আর জন্মাইতে চাই না প্রভু।</p>
<p>আসমান জুইড়া স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249184"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249184/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bcc62ee3f798dfda23fc2ee2e2edf5b5</guid>
				<title>মাগরিব ওয়াক্তের পর
&#x2660;
জ্বলতে জ্বলতে নিভা গ্যাছে আমাগো সব;
বিবেকের ছাই উড়াইয়া দিছি হাওয়ায়,
দমের ভিত্রে নিঃশ্বাস লয় লুসিফার-
হ্যালালুইয়া, হ্যালালুইয়া।
ঘরের উপরে আকাশ ছাদ হইয়া ঝুলে,
মাথার কাছে টিমটিম কইরা জ্বলে খিদা।
অনন্তকাল সেই আলো নিয়াই সঙ্গমে মাতে মানুষ,
শ্যাষম্যাশ মইরাও যায়।
মানুষ তার জিন্দেগীতে কখনো শিখতে পারে না;
শিখার জন্যে তারে আবার জন্মাইতে হয়,
বারেবারে জন্মাইতে হয়।
তবু ইচ্ছা হইলেও উপায় নাই- একটাই জীবন
তাই নিয়াই আস্তাগফিরুল্লাহ&#039;র সান্ত্বনা।
তওবা জপতে জপতে আর পাপ করতে করতে
মানুষ তার হাঁড়ের গন্ধ নিয়া ইতিহাস লিখে।
মাঝে মাঝে ভাবি- কিচ্ছু না নিয়াই যদি যাইতে হয়,
তাইলে ক্যান আমি খিদারে জায়নামাজে তুইলা সিজদা দিতাছি?
তাইলে আমার পাপ কিসে?
এই মানবজন্মে?
নাকি এই নরকবাসে?
নাকি মানুষ হইয়া আরেকবার জন্ম নেওনের খায়েশে?
সব উইড়া যাইতেছে-
সব ছাই হইয়া যাইতেছে-
সব বিলীন হইয়া যাইতেছে-
শুধুমাত্র হাওয়ায় ভাসতেছে
হ্যালালুইয়া, হ্যালালুইয়া।।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247255/</link>
				<pubDate>Sun, 10 May 2026 11:52:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মাগরিব ওয়াক্তের পর<br />
&#x2660;<br />
জ্বলতে জ্বলতে নিভা গ্যাছে আমাগো সব;<br />
বিবেকের ছাই উড়াইয়া দিছি হাওয়ায়,<br />
দমের ভিত্রে নিঃশ্বাস লয় লুসিফার-<br />
হ্যালালুইয়া, হ্যালালুইয়া।<br />
ঘরের উপরে আকাশ ছাদ হইয়া ঝুলে,<br />
মাথার কাছে টিমটিম কইরা জ্বলে খিদা।<br />
অনন্তকাল সেই আলো নিয়াই সঙ্গমে মাতে মানুষ,<br />
শ্যাষম্যাশ মইরাও যায়।<br />
মানুষ তার জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247255"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247255/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fa61d6e009ecd8a21a3bfc2ad0efa2c9</guid>
				<title>হিন্দি নাকি উর্দু
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ


হিন্দি আর উর্দু নিয়ে বহুদিন ধরে একটা দ্বন্দ্ব চলছে। মৌলভী আব্দুল হক সাহেব, ডঃ তারা চাঁদ জি এবং মহাত্মা গান্ধী এই দ্বন্দ্বটি বোঝেন। কিন্তু আমি মনে করি, বিষয়টার এখনও কোনো ফয়সালা হয়নি। যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আমি এর অর্থ উপলব্ধি করতে পারিনি। হিন্দুরা কেন হিন্দির পক্ষ সমর্থন করে নিজেদের সময় নষ্ট করে? মুসলমানরা উর্দু সংরক্ষণে এত আগ্রহী কেন? ভাষা তৈরি করা যায় না; এর জন্ম হয় স্বাভাবিকভাবে, এবং কোনো মানবীয় প্রচেষ্টা একটি ভাষাকে ধ্বংস করতে পারে না। এই সাম্প্রতিক আলোচিত বিষয়টি নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তার আগেই জেল সংক্রান্ত বিতর্ক শুরু হলো।

মুন্সি নিরবন প্রসাদ: ইকবাল সাহেব, আপনি সোডা খাবেন?

মির্জা মুহাম্মদ ইকবাল: জি, খাবো।

মুন্সি: আপনি লেবুর শরবত খান না কেন?

ইকবাল: এমনিই, আমার সোডা ভালো লাগে। আমাদের বাড়ির সবাই সোডা খায়।

মুন্সি: তাহলে তো মনে হচ্ছে আপনি লেবুর শরবত অপছন্দ করেন।

ইকবাল: আরে, না মুন্সি সাহেব! অপছন্দের বিষয় না। আসলে বাড়ির সবাই খায়। তাই এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আসলে, সত্যি বলতে কি, আমার মনে হয় সোডার চেয়ে লেবুর শরবত বেশি উপভোগ্য।

মুন্সি: সেজন্যই তো আমি অবাক হচ্ছি! আপনি মিষ্টির চেয়ে নোনতা জিনিস বেশি পছন্দ করেন কীভাবে? লেবুতে শুধু চিনি-ই নয়, সুগন্ধী দেয়া হয়। আপনি কী বলেন?

ইকবাল: আপনি একদম ভুল বলছেন… তবে...

মুন্সি: তবে কী?

ইকবাল: কিছু না... আমি তো বললাম-ই যে আমি সোডা খাবো।

মুন্সি: আবার বোকার মতো তর্ক করছেন... লোকে ভাববে আমি আপনাকে জোর করে বিষ খাওয়াচ্ছি। আরে ভাই, লেবুর শরবত আর সোডার মধ্যে পার্থক্যটা কী? এই দুটো বোতলই তো একই কারখানায় তৈরি হয়েছে। একই মেশিন এদের ভেতরে জল ভরেছে। লেবু থেকে যদি মিষ্টতা আর সুগন্ধটা সরিয়ে ফেলা হয়, তাহলে আর কী বাকি থাকে?

ইকবাল: সোডা... নোনা জল...
মুন্সি: তাহলে এটা খেলে ক্ষতি কী?

ইকবাল: কোনো ক্ষতি নেই।

মুন্সি: তাহলে খান।

ইকবাল: আপনি কী খাবেন?

মুন্সি: আমি আরেকটা বোতল নিয়ে আসছি।

ইকবাল: আরেকটা বোতল কেন? সোডা খেলে ক্ষতি কী?

মুন্সি: কোনো ক্ষতি নেই।

ইকবাল: তাহলে সোডাই খান।

মুন্সি: আপনি কী খাবেন?

ইকবাল: উমম... আমি আরেকটা বোতল অর্ডার করবো।

মুন্সি: আরেকটা বোতল অর্ডার করবেন? কেন, লেবুর শরবত খেলে ক্ষতি কী?

ইকবাল: কো…নো…ক্ষ…তি…নে…ই আর সোডা খেলে ক্ষতি কী?

মুন্সি: কো…নো…ক্ষ…তি…নে…ই।

ইকবাল: ব্যাপারটা হলো, সোডা একটু ভালো।

মুন্সি: কিন্তু আমার মনে হয় লেবুর শরবত... একটু ভালো।

ইকবাল: সেটা হয়তো সত্যি... কিন্তু আমি বড়দের কাছে শুনেছি যে সোডা ভালো।

মুন্সি: কিন্তু... আমিও তো বড়দের কাছে শুনেছি যে লেবুর শরবত ভালো।

ইকবাল: আপনার তাই মনে হয়?

মুন্সি: আপনার কী মনে হয়?

ইকবাল: আমার মনে হয়... আমার মনে হয় যে আপনার মতামতটা আগে জানতে হবে।

মুন্সি: আমার মতামত... আমার মতামত... আমার মতামত হলো... কিন্তু আমি আগে বলবো কেন?

ইকবাল: এভাবে মতামত প্রকাশ করা অসম্ভব... আপনি আপনার গ্লাসের ঢাকনাটা বন্ধ করেন। আমিও আমারটা করছি। এরপরে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।

মুন্সি: সেটা সম্ভব না... বোতলগুলো তো খোলা। আমাদের এখনই পান করা লাগবে। আরে, তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেন। এমনও হতে পারে যে সব গ্যাস বেরিয়ে যাবে... এগুলোর আসল মজা তো গ্যাসের মধ্যে।

ইকবাল: আমি একমত... আপনিও নিশ্চই মানেন যে লেবুর শরবত আর সোডার মধ্যে কোনো তফাৎ নাই।

মুন্সি: আমি কখন বললাম, লেবু আর সোডার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই? বিশাল পার্থক্য আছে… যাকে বলে আকাশ-পাতাল তফাৎ। একটার মধ্যে মিষ্টতা আছে, সুগন্ধ আছে, সাথে টক টক ভাব আছে। তার মানে সোডার চেয়ে তিনটি জিনিস বেশি আছে। সোডা শুধু গ্যাস, আর সেটাও এত তীব্র যে নাকে ঢুকে যায়। তুলনায় লেবু অনেক বেশি সুস্বাদু। এক বোতল খেয়ে দেখেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভালো লাগবে। সোডা সাধারণত অসুস্থরাই খায়। আর আপনিও তো একটু আগে স্বীকার করলেন যে লেবুর শরবত সোডার চেয়ে বেশি সুস্বাদু।

ইকবাল: হ্যাঁ… কিন্তু আমি তো বলিনি যে সোডার চেয়ে লেবুর শরবত ভালো। &quot;সুস্বাদু&quot; মানেই যে তা উপকারী, তা নয়। আচার খেতে সুস্বাদু, কিন্তু আপনি তো এর খারাপ দিকগুলো জানেন। কোনো কিছুর স্বাদ বা গন্ধ ভালো হলেই যে তা ভালো, তা নয়। আপনার উচিৎ একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা। তাহলেই জানতে পারবেন লেবুর শরবত পেটের জন্য কতটা ক্ষতিকর। সোডা তো ভালো জিনিস, তাই না? এইটা হজমে সাহায্য করে।

মুন্সি: দেখেন… এইটার সিদ্ধান্ত হতে পারে লেবুর শরবত আর সোডা দুটাই মেশায়ে পান করা।

ইকবাল: সেটাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

মুন্সি: তাহলে এই খালি গ্লাসটায় অর্ধেক সোডা দেন।

ইকবাল: আগে আপনি অর্ধেক লেবুর শরবত দেন... আমি সোডা পরে দিচ্ছি।

মুন্সি: এটা কেমন কথা! আপনি আগে সোডা দিবেন না কেন?

ইকবাল: আমি লেবুর শরবতে সোডা মিশাতে চাই।

মুন্সি: আর আমি সোডার সাথে লেবুর শরবত মিশাতে চাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246802/</link>
				<pubDate>Tue, 05 May 2026 09:39:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হিন্দি নাকি উর্দু<br />
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>হিন্দি আর উর্দু নিয়ে বহুদিন ধরে একটা দ্বন্দ্ব চলছে। মৌলভী আব্দুল হক সাহেব, ডঃ তারা চাঁদ জি এবং মহাত্মা গান্ধী এই দ্বন্দ্বটি বোঝেন। কিন্তু আমি মনে করি, বিষয়টার এখনও কোনো ফয়সালা হয়নি। যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আমি এর অর্থ উপলব্ধি করতে পারিনি। হিন্দুরা কেন হিন্দি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246802"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246802/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ced2cbd7645ebf1e0228e9868aa55cd0</guid>
				<title>আসর ওয়াক্তের পর
&#x2663;
বলতে বলতে ফুরাইয়া যাইতাছে আমাদের কথা,
চলতে চলতে ফুরাইয়া যাইতাছে সব পথ,
আমরা মুখস্ত আউড়াইয়া যাইতাছি খোদারে;
আড়ালে লুট হইয়া যাইতাছে আমাগো বিশ্বাস।

নিঃশ্বাসের সাথে সাথে বাইর হইয়া যাইতাছে জীবন,
তাও মৃত্যুর কাফেলায় নির্বিচারে হাঁইটা যাইতাছি।
কাফনের কাপড়ে দেনার ঘ্রাণ মৌ মৌ করতেছে,
ভগবানের দ্যাশে তবুও মানুষ হাসতেছে অবলীলায়। 

ঝুইলা থাকতে থাকতে ভাইঙ্গা পড়তেছে ঘর,
মুখের দিকে তাকাইয়া বেশরমের মতোন তবু হাসতেছে যিশু।
বলে, আমারে নিয়া যাও তোমার বিশ্বাসে
আমারে নিয়া যাও তোমার সমস্ত পথে, সমস্ত সত্তায়।

পতিতার কামনা ক্ষুধা হইয়া কান্দে মন্দিরে।
নেশার বোতলে স্লোগান ডুবাইয়া গান হয় গির্জায়।
সত্য বলতে বলতে টুপি পইরা মিথ্যা ঢুইকা যায় মসজিদে।

ওয়াক্ত ফুরাইয়া গ্যালে
আমরা সবাই হিসাব মিলাইতে থাকি জীবনের।
অথচ, কেউ কইতে পারি না
বে-হিসাব অংকটা শূন্যের গতিপথে কই যায়া মিলে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246591/</link>
				<pubDate>Sun, 03 May 2026 10:23:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আসর ওয়াক্তের পর<br />
&#x2663;<br />
বলতে বলতে ফুরাইয়া যাইতাছে আমাদের কথা,<br />
চলতে চলতে ফুরাইয়া যাইতাছে সব পথ,<br />
আমরা মুখস্ত আউড়াইয়া যাইতাছি খোদারে;<br />
আড়ালে লুট হইয়া যাইতাছে আমাগো বিশ্বাস।</p>
<p>নিঃশ্বাসের সাথে সাথে বাইর হইয়া যাইতাছে জীবন,<br />
তাও মৃত্যুর কাফেলায় নির্বিচারে হাঁইটা যাইতাছি।<br />
কাফনের কাপড়ে দেনার ঘ্রাণ মৌ মৌ করতেছে,<br />
ভগবানের দ্যাশে তবুও মানুষ হাসতেছে অবলীলা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246591"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246591/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">96728fc00cdc89fef8db564de3e1999d</guid>
				<title>ত্রিকাব্য

সান্ত্বনা

সংগত অনুযোগে আমি
ধ্বনিত হয়েছি বহুকাল,
তবু
এই বিখন্ড অবসরে
আমি দেখেছি পাতার দাহকাল।

পুড়ে যাওয়া পথে
গলিত গন্তব্যের ঘ্রাণ
নাও;
যেহেতু একটু বেদনা
তোমাকেও দিতে পারে সান্ত্বনা।


ভাঙনের সংসার

নদীতটে ছায়াময় সভা
মানুষের হাটে বেজায় হল্লা;
মৌন ফড়িং উড়ে যাচ্ছে
ঐ তো ঘাসের হৃদয় ভেঙে।

তুমি তেমনই, আমিও এমনই
হাট শেষে, দুজনে নদীতটে
খেলে যাই ভাঙনের সংসার
আনন্দের রঙে রঙে।



দেখা হোক

সময়ের এলোমেলো পথে
হেঁটেছো হাত ধরে, একসাথে।
অনুগত হৃদয়ের অসুখে
দিয়েছো স্বস্তির প্রলেপ।

আরো দেবে জানি
যতখানি 
সন্ধ্যের চিরকুটে আছে লেখা।
আবার মানুষ হোলে
এই পৃথিবীর কোলে,
খুব কোরে চাইবো-
তোমার সাথেই হোক দেখা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246525/</link>
				<pubDate>Sat, 02 May 2026 05:28:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ত্রিকাব্য</p>
<p>সান্ত্বনা</p>
<p>সংগত অনুযোগে আমি<br />
ধ্বনিত হয়েছি বহুকাল,<br />
তবু<br />
এই বিখন্ড অবসরে<br />
আমি দেখেছি পাতার দাহকাল।</p>
<p>পুড়ে যাওয়া পথে<br />
গলিত গন্তব্যের ঘ্রাণ<br />
নাও;<br />
যেহেতু একটু বেদনা<br />
তোমাকেও দিতে পারে সান্ত্বনা।</p>
<p>ভাঙনের সংসার</p>
<p>নদীতটে ছায়াময় সভা<br />
মানুষের হাটে বেজায় হল্লা;<br />
মৌন ফড়িং উড়ে যাচ্ছে<br />
ঐ তো ঘাসের হৃদয় ভেঙে।</p>
<p>তুমি তেমনই, আমিও এম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246525"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246525/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f2e627c11bb679097354427b3c38215</guid>
				<title>যোহর ওয়াক্তের পর
&#x2660;
উনুনের হাউশে জ্বলতাছে মাছের চোখ;
দ্যাখবার খায়েশ আছিলো নদীর দুঃখ,
মনের খরায় সবকিছু মিশা যাইতাছে।
দয়া নাই, তবু ভগবানের কৃপা নিয়া মরার সাধ জাগে।

কেমন মানুষ তুমি?
আড়ালে লুকাইয়া রাইখা নিজেরে, খুঁজবার চাও খোদারে?
মুষিকের ল্যাজে পা দিয়া নিজেরে ভাবতেছো বাঘ,
অথচ বিড়াল স্বভাব তোমার-
সুযোগ পাইলেই হামলাইয়া পড়ো।

একদিন দুইদিন তিনদিন
মশার আয়ু নিয়া বাঁইচা আছো তুমি,
লশকর আঙ্গুলে ঠুকাও পৃথিবীর দরজা।

কি জীবন, কি মৃত্যু-
উৎসবের রঙ বদলাইতে সময় লাগে না তোমার।

তো বলো,
এই যে দুপুরবেলায়, নিজেরেই চাবায়া খাইতেছো,
নদীর স্বাদ কি পাইতেছো?
নাকি আলুর ঝোলে মিশাইয়া খাইয়া ফেলছো পূর্বপুরুষের রক্ত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246211/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Apr 2026 03:30:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যোহর ওয়াক্তের পর<br />
&#x2660;<br />
উনুনের হাউশে জ্বলতাছে মাছের চোখ;<br />
দ্যাখবার খায়েশ আছিলো নদীর দুঃখ,<br />
মনের খরায় সবকিছু মিশা যাইতাছে।<br />
দয়া নাই, তবু ভগবানের কৃপা নিয়া মরার সাধ জাগে।</p>
<p>কেমন মানুষ তুমি?<br />
আড়ালে লুকাইয়া রাইখা নিজেরে, খুঁজবার চাও খোদারে?<br />
মুষিকের ল্যাজে পা দিয়া নিজেরে ভাবতেছো বাঘ,<br />
অথচ বিড়াল স্বভাব তোমার-<br />
সুযোগ পাইলেই হামলাইয়া পড়ো।</p>
<p>এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246211"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246211/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31a5d0c17b5ef43c706f561ae8c414e6</guid>
				<title>ফজর ওয়াক্তের পর
- অয়ন আবদুল্লাহ
ফুরাইয়া যাইবার আগেই মনের ভিত্রে
জন্মাইতে থাকে একটা খায়েশ-
ছাই হইয়া উইড়া যামু না এতো সহজেই।

ফিরা না আসলেই ভাইবেন না যে
মইরা গ্যাছি আপনাগো অবহেলায়। 
আগুনের কসম-
ভাতের থালে ফিরা আসুম খিদা হইয়া।
চোখের ভিতর জ্বইলা উঠুম স্লোগান নিয়া।

মনে করতে পারেন, আমি অভাবে নষ্ট হইয়া গ্যাছি;
তয় স্বভাবে আমি কিন্তু প্রতারক না,
তবুও প্রতারিত হইতে হইতে ঘেন্না করতে শিখছি।
মিথ্যা শুনতে শুনতে সত্য ভুইলা গ্যাছি।

খয়রাতের জীবনটারে খুব ভালোবাসছি,
মনের ভিত্রে একটা মিথ নিয়া 
তসবি গুইনা গুইনা স্বর্গের গল্প শুনছি।

তয়, সত্যি কই-
আমার প্রেমিকস্বভাব শুইয়া গ্যাছিলো বন্ধুর কবরে।
আমার নীরবতা কপাল ঠুকতেছিলো মায়ের জায়নামাজে।

এইসব শ্যাষ হইয়া যাইবো একদিন।
অথবা কোনোদিনই হয়তো হইবো না।
তবু, 
প্রতিরাইতে ঘুম ভাইঙ্গা গ্যালে একটাই প্রশ্ন জাগে;
আর কতগুলা মৃত্যুর পর মানবজনম সফল হইবো, কইতে পারেন?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246181/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Apr 2026 11:43:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফজর ওয়াক্তের পর<br />
&#8211; অয়ন আবদুল্লাহ<br />
ফুরাইয়া যাইবার আগেই মনের ভিত্রে<br />
জন্মাইতে থাকে একটা খায়েশ-<br />
ছাই হইয়া উইড়া যামু না এতো সহজেই।</p>
<p>ফিরা না আসলেই ভাইবেন না যে<br />
মইরা গ্যাছি আপনাগো অবহেলায়।<br />
আগুনের কসম-<br />
ভাতের থালে ফিরা আসুম খিদা হইয়া।<br />
চোখের ভিতর জ্বইলা উঠুম স্লোগান নিয়া।</p>
<p>মনে করতে পারেন, আমি অভাবে নষ্ট হইয়া গ্যাছি;<br />
তয় স্বভাবে আমি কিন্তু প্রতার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246181"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246181/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1c843997cef95aebe6cd8a214de49a87</guid>
				<title>নেতাদের থেকে ভারতকে বাঁচাও
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ

অনেক দিন ধরেই একই ধরনের ক্যাওয়াজ শুনে আসছি- “ভারতকে এটা থেকে বাঁচাও, ওটা থেকে বাঁচাও। কিন্তু আসল কথা হলো, ভারতকে ঐসব লোকদের হাত থেকেই বাঁচাতে হবে যারা এই ধরনের ক্যাওয়াজ তৈরি করছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই যে, ক্যাওয়াজ করার ব্যাপারে এই লোকগুলো বেশ ওস্তাদ। কিন্তু আসলে তাদের মনে এই সব বিষয়ে ভাবনার লেশমাত্র নাই। কোনো সমাবেশে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে রাতে যখন এরা নিজেদের নরম, আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাতে যায়, তখন তাদের মনটা একেবারে ফাঁকা থাকে। এমনকি রাতের গভীরতম সময়টাও এদের কাটে ভারতের দুর্দশার কথা না ভেবে। বস্তুত, এরা নিজেদের ভাবনায় এতোটাই বুঁদ হয়ে থাকে যে, স্বদেশের দুর্দশার কথা চিন্তা করার সময়টা পায় না।

এইসব লোকেরা নিজেদের ঘরই সামলাতে পারে না। এদের চরিত্র খুবই খারাপ, কিন্তু এরাই দেশের অবস্থার উন্নতি করতে আর মানুষকে নৈতিকতা শেখাতে রাজনীতির ময়দানে নেমে এসেছে! খুবই হাস্যকর বিষয়, তাই না!

এরা সাধারণত নেতা হিসেবে পরিচিত; এরা রাজনীতি ও ধর্মকে পঙ্গু, বিকলাঙ্গ ও আহত বলে মনে করে। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়শই আমাদের ব্যাবসায়ীদের ভিক্ষাবৃত্তিতে প্ররোচিত করে। এই প্রখ্যাত নেতারা রাজনীতি ও ধর্মের মৃতদেহ নিজেদের কাঁধে বয়ে বেড়ায়। অন্যদিকে উচ্চ কণ্ঠের আদেশ মেনে নিতে অভ্যস্ত সরলমনা লোকেরা বলতে থাকে যে এই নেতারাই সেই মৃতদেহকে নতুন জীবন দিচ্ছে।

ধর্ম যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। ধর্ম এক অটল বাস্তবতা যা কখনো বদলাতে পারে না। এটা এমন শিলা যাকে সাগরের ভয়ংকর ঢেউও নাড়াতে পারে না। যখন এইসব নেতারা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে যে ধর্ম বিপদে পড়েছে, তখন তাতে কোনো সত্য থাকে না। ধর্ম তেমন কিছু নয় যা বিপন্ন হতে পারে; যদি কিছু বিপদে পড়ে, তবে সেটি হলো তাদের স্বার্থ যা ঠিক রাখতে এরা ধর্মকে ব্যবহার করে।

ভারতকে সেইসব নেতাদের হাত থেকে বাঁচান যারা দেশের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আপনি হয়তো জানেন না, তবে এটা সত্যি যে ভারতের এই তথাকথিত নেতারা বগলের নিচে একটি বাক্স নিয়ে ঘোরে এবং সবার পকেট থেকে টাকা সংগ্রহ করে। পুঁজির পেছনে ছোটাছুটি করাই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে ভণ্ডামি আর বিশ্বাসঘাতকতার দুর্গন্ধ অনুভব করা যায়।

এরা ফুলের ভারী মালায় ভারাক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেয় আর পথের মোড়ে দীর্ঘ বক্তৃতার নামে গলাবাজি করে। অন্তঃসারশূন্য কথা বলে আমাদের এই তথাকথিত নেতারা কেবল নিজেদের জন্যই বিলাসিতা ও ভোগবিলাসের পথ প্রশস্ত করে।

এই নেতারা দান সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কি কখনো বেকারত্বের কোনো সমাধান দিয়েছে? এই লোকেরা ধর্ম নিয়ে গলা ফাটায়, কিন্তু তারা কি কখনো নিজেরা ধর্মের নিয়মকানুন মেনে চলেছে? এই লোকেরা দানের ঘরে বাস করে, দানের টাকায় খায়, সস্তা জিনিস খেয়ে জীবন কাটায়। এদের আত্মা পঙ্গু, মস্তিষ্ক বিকল, জিহ্বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং হাত-পা আহত। এরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে?

ভারতের নতুন সুরে গান গাওয়া অগণিত নেতার প্রয়োজন নেই। এই দেশে প্রয়োজন কেবল এমন একজন নেতার, যাঁর মধ্যে থাকবে হযরত উমরের মতো সততা, আতাতুর্কের মতো সৈনিকসুলভ চেতনা। যিনি দৃঢ় পায়ে গর্বের সাথে এগিয়ে আসবেন এবং জাতির লাগামহীন ঘোড়ার লাগাম তুলে দিয়ে, বীরত্বের সাথে তাকে স্বাধীনতার রণক্ষেত্রের দিকে নিয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন, যাদের মুখমণ্ডল (অসন্তুষ্টিতে) কুঁচকানো, তারা কখনোই জাতির সেবা করতে পারবে না। এরা কেও গুরুভার নিয়ে জাতির সেবা করতে এগিয়ে আসলে তাকে বিতাড়িত করুন। শক্ত মাটিতে ঘুমাতে অভ্যস্ত এবং নরম ও কোমল পোশাকে অনভ্যস্ত জনগণকে সবুজ কম্বলে আবৃত এইসব নেতারা নেতৃত্ব দিতে অক্ষম। যদি রেশমি পোশাক পরা কোনো ব্যক্তি আপনাকে নিজের দুর্দশার কথা বলতে সাহস করে, তবে তাকে তুলে নিয়ে যেখান থেকে এসেছে সেখানেই ছুঁড়ে ফেলে দিন।

এই নেতারা জাতির দেহে বাসা বাঁধা ছারপোকার মতো। ঘৃণার জ্বলন্ত অঙ্গার দিয়ে তাদের বিতাড়িত করতে হবে। এই নেতারা পুঁজি ও পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে শুধুমাত্র নিজেদের সম্পদ আহরণ করতে। তারা তো পুঁজিপতিদের চেয়েও জঘন্য! তারাই সব’চে বড় চোর, সব’চে বড় দুষ্কৃতিকারী। তাদের প্রতি জনগণের অনাস্থা প্রকাশ করার সময় এসে গেছে।

হতাশাগ্রস্ত যুবকদের জেগে উঠতেই হবে।এইসব তথাকথিত নেতাদের তাদের উচ্চাসন থেকে নামিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প তাদের প্রশস্ত বক্ষে ধারণ করতে হবে এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের অনুমতির তোকাক্কা না করে তারা সেই আসনে অধিষ্টিত হয়ে আছে। আমাদের প্রতি, আমাদেরই মতো দরিদ্র ভাইদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর কোনো অধিকার তাদের নেই। মনে রাখবেন, দারিদ্রতা কোনো অভিশাপ নয়। যারা একে অভিশাপ দেয়, তারা নিজেরাই অভিশপ্ত। একজন গরীব লোক একজন ধনী লোকের চেয়ে লক্ষ গুণ উত্তম, যে নিজের কাজ নিজেই করে। আপন নৌকার মাঝি হও, নিজের লাভ-ক্ষতির কথা ভাবো। তারপর এইসব নেতাদের, এই তথাকথিত পথপ্রদর্শকদের কাণ্ড দেখো- জীবনের বিশাল সমুদ্রে তারা কীভাবে নিজেদের সম্পদপূর্ণ ভারী জাহাজটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/245942/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Apr 2026 04:21:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেতাদের থেকে ভারতকে বাঁচাও<br />
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>অনেক দিন ধরেই একই ধরনের ক্যাওয়াজ শুনে আসছি- “ভারতকে এটা থেকে বাঁচাও, ওটা থেকে বাঁচাও। কিন্তু আসল কথা হলো, ভারতকে ঐসব লোকদের হাত থেকেই বাঁচাতে হবে যারা এই ধরনের ক্যাওয়াজ তৈরি করছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই যে, ক্যাওয়াজ করার ব্যাপারে এই লোকগুলো বে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-245942"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/245942/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e92af64e83e12ba66af179d540e89d7a</guid>
				<title>বিশ্বস্ত কিছুই নয়
- 

যতটুকু গভীর আশ্বাস লুকিয়ে থাকে চোখের ভিতর
তারও অধিক লুকায়িত খঞ্জরের ধারে।
এরপরও আমি জানি
কারও কারও কথা, কারও কারও ব্যথা
জ্বলে আজীবন, জ্বালায় আজীবন।

ঐ পাখিজীবন নিয়ে
যে সাঁতরায় মাছেদের সাথে,
জলের বিবাদে মাতে রঙিন জলসায়-
প্রশ্ন আসে- বিলুপ্ত ডায়নোসরের মতো
মানুষের বিশ্বাসে।

কে হাসে?
কে আসে
ধীরপায়ে এগিয়ে হাতে নিয়ে সময়লিপি?

চেনা নেই তারে, 
অদ্ভুত দেহের ভেতর বাস করে একাকী।

অথচ ভাবি, বহুদিন দেখা নেই তবু
আপনার চেয়ে আপন সে যে।
বিশ্বস্ত ছুরির মতো বুকে চেপে বসে
বলে, দেখে নাও জীবনের রূপ।

আমি গন্ধ পাই পচা লাশের
আমার জামায়, আমার চুলে, আমার মুখের ভেতর।
হাতের আঙ্গুল কাঁপে সংকোচের জড়তা ভেঙে।

ভাবি, এই যে মানুষ ভেসে যাচ্ছে কতো
এদেরই মতো
আমিও তবে ভেসে যাবো সন্ধ্যার উপকূলে।
কোনো নিঃসঙ্গ জানালায় হারিকেন জ্বেলে
আমারই গল্প পড়বে কোনো কিশোরী।
কোনো তরুণী আমার কবিতা পড়ে হবে মিছিলের প্রেমিকা।

এইসব আশা করে করে
আমি খুব চাইলাম বিশ্বাসী হতে।
অথচ, বিশ্বস্ত নয় কিছুই।
এই পচে যাওয়া মানুষের কোলাহলে
আমি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/245863/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Apr 2026 05:21:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বস্ত কিছুই নয়<br />
&#8211; </p>
<p>যতটুকু গভীর আশ্বাস লুকিয়ে থাকে চোখের ভিতর<br />
তারও অধিক লুকায়িত খঞ্জরের ধারে।<br />
এরপরও আমি জানি<br />
কারও কারও কথা, কারও কারও ব্যথা<br />
জ্বলে আজীবন, জ্বালায় আজীবন।</p>
<p>ঐ পাখিজীবন নিয়ে<br />
যে সাঁতরায় মাছেদের সাথে,<br />
জলের বিবাদে মাতে রঙিন জলসায়-<br />
প্রশ্ন আসে- বিলুপ্ত ডায়নোসরের মতো<br />
মানুষের বিশ্বাসে।</p>
<p>কে হাসে?<br />
কে আসে<br />
ধীরপায়ে এগিয়ে হাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-245863"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/245863/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b81266929d076e2ab95d223dd92a9836</guid>
				<title>খুলে দাও
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ

অমৃতসর থেকে বিশেষ ট্রেনটি দুপুর দুইটায় যাত্রা শুরু করে আট ঘণ্টা পরে মুঘলপুরায় পৌঁছায়। পথিমধ্যে বহু পুরুষ মারা গেছে, অনেকে আহত হয়েছে আর কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে গেছে।
সকাল ১০ টা। ক্যাম্পের ঠাণ্ডা মাটিতে শুয়ে থাকা সিরাজউদ্দিন চোখ খুলে যখন তার চারপাশে পুরুষ, নারী ও শিশুদের বিশাল সমুদ্রটা দেখতে পেলো, তখন তার বোধ-বুদ্ধি আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্ধকার আকাশের দিকে অনেকক্ষণ ধরে সে তাকিয়ে থাকলো। পুরো ক্যাম্প জুড়ে শোরগোল থাকলেও বুড়ো সিরাজউদ্দিনের কান কাজ করছিলো না। তাই সে কিছুই শুনতে পারছিলো না। কেউ দেখলে ভাববে বুড়ো গভীর চিন্তায় মগ্ন, কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। তার সমস্ত ইন্দ্রিয় অবশ হয়ে গেছে। তার অস্তিত্ব শূন্যে বিলীন হয়ে গেছে।
মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলো সিরাজউচ্চিন। হঠাৎ মেঘের ফাঁক গলে সূর্যের আলো তার চোখের উপর পড়তেই তার অস্তিত্বের শিরায় তীব্র আঘাত করলো। সাথে সাথে সে যেন জেগে উঠলো। তার মনে অনেকগুলো ছবি ভেসে উঠলো-
লুটপাট… আগুন… পালিয়ে যাওয়া… স্টেশন… বড়ি… অন্ধকার আকাশ। সিরাজউদ্দিন লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো আর উদ্ভ্রান্তের মতো তার চারপাশের জনসমুদ্রে চোখ বোলাতে থাকলো।
টানা তিন ঘণ্টা সে “সাকিনা, সাকিনা” করে পুরো ক্যাম্পটা চষে ফেললো। কিন্তু তার একমাত্র মেয়েটাকে সে কোথাও খুঁজে পেলো না। বুড়োর মতো আরো অনেকেই সেখানে ছিলো। কেউ তার সন্তানকে, কেউ মাকে, কেউ স্ত্রীকে আবার কেউ তার মেয়েকে খুঁজছিলো।
ক্লান্ত হয়ে সিরাজউদ্দিন এক জায়গায় বসে পড়লো আর মনে করার চেষ্টা করতে লাগলো- সাকিনা কখন হাফিজার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এ সময় তার মনে সাকিনার মায়ের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহটার কথাই আসতে লাগলো। এর বাইরে সে আর কিছুই ভাবতে পারলো না।
সাকিনার মা মরে গেছে। সে মরেছে সিরাজউদ্দিনের চোখের সামনেই। কিন্তু সাকিনা তখন কোথায় ছিলো সে বলতে পারে না। তার মা মরার সময় বলছিলো, “আমাকে ফেলে সাকিনাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি পালাও।”
সাকিনা তার সাথেই ছিলো। দু’জন খালি পায়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছিলো। এমন সময় সাকিনার ওড়নাটা পড়ে গেলে সে তুলতে গেলো। মেয়েটা তাকে চিৎকার করে ডাকছিলো, “বাবা!...”। ওড়নাটা সে তুলে নিয়েছিলো, ওটার কথা মনে আসতেই কোটের উঁচু হয়ে থাকা পকেট থেকে সে একটা কাপড় বের করলো। সাকিনার ওড়না তো আছে, কিন্তু সাকিনা কই?
সিরাজউদ্দিন তার ক্লান্ত মগজে অনেক চাপ দিয়েও কোনো কিছু মনে করতে পারলো না। সে কি সাকিনাকে সাথে নিয়ে স্টেশনে গিয়েছিলো? তার সাথেই কি সাকিনা গাড়িতে উঠতে পেরেছিলো? বালওয়াইতে ঢোকার মুখে সে কি অজ্ঞান হবার ভান করেছিলো যেন গাড়ী থামিয়ে সাকিনাকে নিয়ে উঠতে পারে?
সিরাজউদ্দিনের মনে অনেক প্রশ্ন, কিন্তু সেগুলোর কোনটারই জবাব তার কাছে নেই। তার সহানুভূতির দরকার ছিলো, যেমনটা তার চারপাশে থাকা সবারই প্রয়োজন ছিলো। সিরাজউদ্দিন কাঁদতে চাইলো, কিন্তু তার চোখ দুটো প্রতারণা করলো। তার চোখের পানি যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে।
ছয়দিন পর যখন সিরাজউদ্দিন কিছুটা ধাতস্থ হলো, সাহায্যকারী হিসেবে কিছু লোককে সে পেলো। লোকগুলো ছিলো যুবক। তারা ছয়জন ছিলো। তাদের কাছে লরি আর বন্দুক ছিলো। সিরাজউদ্দিন তাদের ধন্যবাদ আর দোয়া দিয়ে সাকিনার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিলো।
“মেয়েটা আমার ভারী সুন্দর। আমার মতো না, হয়েছে ওর মায়ের মতো। বয়স ১৭ হবে। টানা টানা চোখ, কালো চুল, ডান গালে একটা বড় তিল। আমার একটাই মেয়ে, বাবারা। একটু খুঁজে দাও, খোদা তোমাদের ভালো করবে।
লোকগুলো সিরাজউদ্দিনকে আশ্বস্ত করে বললো যে, বেঁচে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই সাকিনাকে তারা খুঁজে বের করে ফেলবে।
তারা আসলেই প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলো। জীবন হাতে নিয়ে অমৃতসর গিয়েছিলো। অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিয়ে গেছে। কিন্তু দশদিন পার হবার পরেও তারা সাকিনাকে খুঁজে পেলো না।
একদিন লরি নিয়ে যুবকেরা অমৃতসর যাচ্ছিলো। চাহার্তার কাচ্ছাকাছি রাস্তায় একটা মেয়েকে তারা খুঁজে পেলো। লরির শব্দ শুনে মেয়েটা পালানোর জন্য দৌড় দিলো। লরি থামিয়ে যুবকেরাও তার পিছু নিলো।
অবশেষে তারা মেয়েটিকে একটা মাঠের ভেতর ধরে ফেললো। মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী ছিলো। তার ডান গালে একটা বড়সড় তিলও ছিলো। একজন মেয়েটাকে বললো, “ভয় পেয়ো না। তোমার নাম কি সাকিনা?”
সাকিনা এই কথা শুনে আরো ভয় পেয়ে গেলো। সে জবাব দিলো না। কিন্তু সবাই মিলে যখন আশ্বস্ত করলো, তখন তার ভয় দূর হলো। সবাই বুঝতে পারলো এ-ই হচ্ছে সিরাজউদ্দিনের হারিয়ে যাওয়া সেই মেয়ে।
যুবকেরা সাকিনার প্রতি বেশ সদয় আচরণ করলো। তারা সাকিনাকে লরিতে উঠিয়ে দুধ খেতে দিলো। একজন তার শার্ট খুলে সাকিনাকে দিলো, কারণ ওড়না না থাকায় সে ইতস্তত বোধ করছিলো আর বার বার হাত দিয়ে বুক ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করছিলো।
এদিকে অনেকদিন হয়ে গেছে, সিরাজউদ্দিন সাকিনার কোনো খবর পায়নি। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যাম্পে আর অফিসে ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু তার পরেও হারানো মেয়েটার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতের বেলা সে ঐ যুবকদের জন্য দোয়া করতো, যারা তাকে বলেছিলো, সাকিনা বেঁচে থাকলে তারা কয়েকদিনের মধ্যেই ওকে খুঁজে বের করবে।
একদিন ক্যাম্পে সিরাজউদ্দিন ঐ যুবকদের দেখলো। তারা লরিতে বসেছিলো। সিরাজউদ্দিন দৌড়ে তাদের কাছে যেতে যেতেই লড়িটি চলতে শুরু করলো। সে যুবকদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানতে চাইলো, “তোমরা কি আমার মেয়েকে খুঁজে পেয়েছো?”
তার কথার জবাবে সমস্বরে সবাই বলে উঠলো, “চল চল, তাড়াতাড়ি চল।”
লরিটা চলে গেলো। সিরাজউদ্দিন আরো একবার যুবদের সাফল্যের জন্য দোয়া করলো।
সন্ধ্যার দিকে সিরাজউদ্দিন ক্যাম্পে বসেছিলো। এমন সময় কাছেই একটা শোরগোল শোনা গেলো। চারজন মানুষ কিছু একটা বয়ে আনছিলো। সিরাজউদ্দিন জানতে পারলো, একটা মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় রেলওয়ে লাইনের উপর পাওয়া গেছে; লোকগুলো তাকে তুলে নিয়ে এসেছে।
সিরাজউদ্দিন তাদের পিছে পিছে গেলো। লোকগুলো মেয়েটাকে হাসপাতাল কর্মীর হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো। সিরাজউদ্দিন কিছুক্ষণ হাসপাতালের সামনে একটা ভাঙ্গা কাঠের পোলে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। তারপর ধীরে ধীরে ভেতরে গেলো।
আশেপাশে কেউ ছিলো না। শুধু একটি স্ট্রেচারের উপরে লাশ পড়ে ছিলো। সিরাজউদ্দিন সেদিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো। ঘরে আলো ছিলো। সেই আলোতে সিরাজউদ্দিন লাশের হলুদ মুখে জ্বলজ্বলে তিলটা দেখে চিৎকার করে উঠলো।
“সাকিনা…!”
যে ডাক্তার রুমের আলোটা জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো, সে দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করলো, “একে চেনো তুমি?”
সিরাজউদ্দিন শুধু বলতে পারলো, “হ্যাঁ… চিনি… আমি যে ওর বাপ…!”
ডক্টর স্ট্রেচারে থাকা দেহটার দিকে তাকিয়ে নাড়ি পরীক্ষা করলো। এরপর সিরাজউদ্দিনকে বললো, “জানালাটা খুলে দাও।”
এমন সময় সাকিনার নিষ্প্রাণ দেহটা নড়ে উঠলো। অসাড় হাতটা দিয়ে সে দড়ি খুলে সালোয়ারটা নিচে নামালো।
সিরাজউদ্দিন আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “বেঁচে আছে… আমার মেয়ে বেঁচে আছে!!”
সেই চিৎকার শুনে ভয়ে ডাক্তারের ঘাম ছুটে গেলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243935/</link>
				<pubDate>Thu, 09 Apr 2026 04:44:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>খুলে দাও<br />
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>অমৃতসর থেকে বিশেষ ট্রেনটি দুপুর দুইটায় যাত্রা শুরু করে আট ঘণ্টা পরে মুঘলপুরায় পৌঁছায়। পথিমধ্যে বহু পুরুষ মারা গেছে, অনেকে আহত হয়েছে আর কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে গেছে।<br />
সকাল ১০ টা। ক্যাম্পের ঠাণ্ডা মাটিতে শুয়ে থাকা সিরাজউদ্দিন চোখ খুলে যখন তার চারপাশে পুরুষ, নারী ও শি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-243935"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/243935/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e9b71cac8804e4d7049169258306a41</guid>
				<title>অয়ন আবদুল্লাহ and ইফতিশা খানম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243827/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Apr 2026 10:21:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc7d3551e880ca8d6d880b50caddb33f</guid>
				<title>ফিসফাস গল্প
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ

সময়টা কনকনে শীতকাল।
রাত তখন দশটা। শালামার বাগ থেকে লাহোর যাওয়ার রাস্তাটা নির্জন আর অন্ধকার ছিলো। চারপাশে ঘন কুয়াশার মেঘ, সেইসাথে জব্বর বাতাস।
আশেপাশের সবকিছু যেন ঠাণ্ডায় জমে আছে। রাস্তার ধারের দুটো নিচু বাড়ি আর গাছগুলোকে দেখাই যাচ্ছে না ঠিকমতো। দূরের বিদ্যুতের খুঁটিগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত শীতে কুঁজো হয়ে পড়ছে। চারিদিকে এক বিষণ্ণ নীরব পরিবেশ। শুধুমাত্র উম্মত্ত বাতাস তার উপস্থিতি জানান দেবার বৃথা চেষ্টা করছে।

দুই সাইকেলচালক যখন সেখানে আসলো, তখন তারা নিজেদের ওভারকোটের কলার ঠিক করছিলো। দমকা হাওয়া তাদের কানে বাড়ি মারছিলো, ঠাণ্ডায় কথাও বলতে পারছিলো না। সাইকেলচালক দু’জনের প্যাডেল মারতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু তারা সেই কষ্ট গ্রাহ্য না করে একে অপরের ছায়া হয়ে শালামার বাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সাইকেল দুটো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর মরিচা ধরা পাতের মতো রাস্তাটা সেইগুলার চাকার তল দিয়ে পিছলে যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পাশাপাশি চলার পরে একজন সাইকেল থামিয়ে নিজের হাত দুটো গরম করার জন্য মুঠ করে মুখে ভাপ দিতে লাগলো আর ঘষতে লাগলো। তার সঙ্গীও সাথে সাথে ব্রেক কষে দাঁড়ালো। হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো, “ভাই, সেই… সেই হুইস্কিডা কই গেলো?”
“জাহান্নামে গেছে, যেইখানে সারা রাইত লুটপাট হয়, অথবা এখনো শুরু হয় নাই।”
ঐ দুইজন আপন ভাই ছিলো, যারা শরীয়তবিরোধী পাপগুলো একসাথেই করতো। সকালে তারা ঠিক করেছিলো, দুপুর দুইটার কাছাকাছি সময়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেই অবৈধ টাকাগুলা পাবে সেগুলো সহীহ উপায়ে কীভাবে খরচ করবে, সেই বিষয়ে একসাথে বসে ভাববে।
কিন্তু ঘুষদাতা তাড়াহুড়ো করায় সেই টাকা দুইটার আগেই তারা পেয়ে গিয়েছিলো। টাকাগুলো বড় ভাই ভালো করে পরীক্ষা করে নিয়েছিলো, কোনো দাগটাগ আছে কি না চেক করার জন্য। বেশি টাকা না, মাত্র দুইশ এক টাকা। কথা হয়েছিলো দুইশ টাকার, উপহার হিসাবে সেই লোক ১ টাকা বেশি দিয়েছে। ছোট ভাইয়ের পরামর্শে বড় ভাই বাড়তি টাকাটা এক অন্ধ ফকিরকে দান করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে দুই ভাই হীরাবাজারের দিকে যাচ্ছে।
ছোট ভাইয়ের পকেটে স্কচের বোতল ছিলো, বড়টার পকেটে ছিলো দুটো থ্রী-ফাইভের বাক্স। এমনিতে তারা গোল্ড ফ্লেক খায়, কিন্তু ঘুষের টাকা পকেটে আসলে তাদের দামী ব্র্যান্ড ছাড়া চলে না।  
হীরাবাজারে পৌঁছানোর একটু আগে, বাদশাহী মসজিদে আযান হলো। বড়ভাই ছোটভাইকে বললো, “চল ভাই, নামাজটা পইড়া নেই।”
ছোটভাই নিজের ফুলে থাকা পকেট দেখিয়ে বললো, “এইডা কি করমু, ভাই?
বড়ভাই একটু ভেবে বললো, “চিন্তা করিস না, একটা বুদ্ধি বাইর করছি।”
পাশেই একটা জর্দাপানের দোকান ছিলো। বড়ভাই একটা বড় কাগজে বোতলটা পেচিয়ে দোকানদারকে দিলো। দোকানের পাশে নিজের আর তার ভাইয়ের সাইকেলটা রেখে দোকানদারকে বললো, “আমরা নামাজ পড়তে আসছি।”
দোকানদার হাসলো।
দুই ভাই নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকলো। জামাতে নামাজ পড়ে সাথে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দু’জন বের হয়ে দেখলো জর্দাপানের দোকানটা বন্ধ। পাশের আরেকটা দোকানের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, “আমি পূজা করতে গেছিলাম।”
দুই ভাইয়ের অবস্থাটা তখন দেখার মতোন হলো।
পাশের দোকানদার হেসে বললো, “মাঝে মাঝে বছরে চার মাস পরপর তার দেখা পাই।”
দুই ভাই আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো। তবুও যখন সেই দোকানদার আসলো না, বড়ভাই ছোটভাইকে বললো, “কপালে শনি আছিলো দেইখাই আমি ওই জারজটারে বিশ্বাস করছিলাম। যা, আরেক বোতল কিনা আন।”
বড়ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছোটভাই বললো, “জিনিসটা আমার পকেটে থাকলে কী সমস্যা হইতো?”
“বাদ দে ভাই। এইটা নিয়া ভাইবা আর লাভ নাই। বোতলটা হারায়া গেছে দেইখা আমার মন খারাপ হয় নাই, ওইটা হাত থেইকা পইড়া ভাইঙ্গাও যাইতে পারতো…! আফসোস হইতাছে এই ভাইবা যে, হারামিটা চুরির মাল মজা নিয়া খাইতাছে।
সাইকেলে উঠতে উঠতে ছোটভাই জিজ্ঞেস করলো, “তুমি এইখানেই থাকবা নাকি?”
বড়ভাই মন ভার করে বললো, “হ, আমি এইখানেই অপেক্ষা করমু। মাল খায়া টাল হয়া বদমাইশটা ফিরা আসতেও পারে। কিন্তু তুই আবার দেরি করিস না।

ছোটভাই তাড়াতাড়িই ফিরলো, কিন্তু মুখ গোমরা করে ফিরলো। ছোটভাইয়ের পেছনে সাইকেলের ক্যারিয়ারে একটা লোক বসে ছিলো। বড় ভাইয়ের মনে সন্দেহ দেখা দিলো- নিশ্চয়ই বড়সড় কোনো ঘাপলা হয়েছে। সাইকেল থেকে নেমে ছোট ভাই বিস্তারিত বললো।
নতুন বোতল নিয়ে যখন সে মদের দোকান থেকে বের হলো, দেখলো একদফা বৃষ্টি হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পুরোই ভেজা। দ্রুত ফিরে যাবার জন্য সে খুব জোরে সাইকেল চালাতে লাগলো। কিন্তু হঠাৎ করে চাকা পিছলে গেলে সে সামলাতে পারে নি। খোলা রাস্তার উপরে সাইকেল নিয়ে পড়ে যাওয়ায় নতুন বোতলটা চুরমার হয়ে গেছে।
ছোটভাই পুরা ঘটনা বর্ণনা করে বললো, “আল্লাহ’র দয়ায় আমি বাঁইচা ফিরছি। যদি ভাঙ্গা বোতলের টুকরা কাপড় ছ্যাদা কইরা আমার শরীরে ঢুকতো, তাইলে এইখানে আসার পরিবর্তে আমারে হাসপাতালে যাইতে হইতো।”
বড়ভাই হাভেভাবে আল্লাহ’র শুকরিয়া আদায় করার কোনোরকম ইচ্ছা দেখা দিলো না। যেই লোক ছোট ভাইয়ের সাথে এসেছিলো, তার কাছে আরেক বোতল মদ ছিলো। সেই বোতল দুই ভাইয়ের কাছে বেচে দিয়ে পানের দোকানের দিকে তাকিয়ে একটা গালি দিলো। তারপর বললো, “শালার দোকানটারে পুড়ায়া দে!”

দুই ভাই জানতো তারা কই যাবে। চকের এদিকে একটি কাবাব ঘরের উপরের তলার একটি কামরায় এই দুই ভাই তাদের দুই নম্বরি টাকা উড়াতো। সেই ঘরে এক মহিলা থাকতো, যে খেতে খুব ভালোবাসতো। অভ্যাসের দিক থেকে সে বেশ্যার চাইতে কেরানি ছিলো বেশি। দুই ভাইয়ের এই কারণেই তাকে অধিক পছন্দ ছিলো। মদ খেয়ে টাল হওয়ার পর দুই ভাই অফিসের প্যাচাল পাড়তো। হেড ক্লার্কের বর্তমান অবস্থা, বড়সাহেব কী করে, তার কাজের লোকটার বদঅভ্যাস, ইত্যাদি ইত্যাদি। অফিসের সবার অতীত বর্তমান নিয়ে টিপ্পনী মারতে মারতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেতো আর সেই মহিলা খুব মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতো।

মহিলাটা দেখতে খুব সুন্দরী। দুই ভাই তার গান এমন গভীর মনযোগ দিয়ে শুনতো, যেন তাদের কানে মধুবর্ষণ হচ্ছে। কিন্তু আজ গান গাওয়ার সময় সে খেয়াল করলো, দুই ভাইয়ের এদিকে যেন কোনো খেয়ালই নেই। তাই সে গান বন্ধ করে যতটুকু মদ বাকি ছিলো, সেটা খাওয়ায় মন দিলো।
মহিলার নাম ছিলো শীদান। সে খুব কম মদ খেতো। কিন্তু আজ যখন দুই ভাই গানে না মজে মদে বেশি ডুব দিলো, তখন ভাঙ্গা মন নিয়ে সে-ও গিলতে শুরু করলো।
বড় ভাইয়ের মেজাজ খারাপ ছিলো, কিন্তু ছোট ভাইয়ের মন ভালো দেখে সে চুপচাপ মদ খাচ্ছিলো। কিন্তু এই অবস্থা বেশিক্ষণ থাকলো না। যখন ছোটভাই আবার মদের বোতলটা হাতে নিলো, দেখলো সেটা পুরা খালি। এবার দুই ভাইয়ের মন একসাথে খারাপ হলো।
বড়ভাই ছোটভাইয়ের সাথে পরামর্শ করার দরকার মনে করলো না। খিস্তি মেরে একটা লোককে বললো, “যা, দৌড় দিয়া একটা জিমখানা হুইস্কি নিয়া আয়।”
সেই তৃতীয় ব্যক্তি পয়সা পকেটে ঢুকিয়ে বললো, “হুজুর এইখানে শুধু কালাপানি পাওয়া যায়।”
দুই ভাইয়ের মেজাজ চরমে উঠলো। জিদের চোটে বড়ভাই একটা পানির বোতল হাতে তুলে নিলো। তার মন চাচ্ছিলো বোতলটা বেঈমান মদ বিক্রেতার মাথায় ভাঙ্গে। কিন্তু সাথে সাথেই তার মনে পড়লো, যে তার কাছে লাইসেন্স নেই। তাই, আর কিছু না বলে সে চুপ হয়ে গেলো।

ছোটভাই আর শাদীন অনেক চেষ্টা করে তাকে শান্ত করলো। খাওয়া দাওয়ার পরে শাদীন হুক্কা টানতে বসলো, আর দুই ভাই তখন আর সেখানে থাকা উচিৎ হবে না ভেবে সাইকেল নিয়ে বের হইয়া গেলো। তারা কিছুক্ষণ ‘হিরামন্ডি’র অলি-গলিতে সেই দোকানদারকে খুঁজতে লাগলো। সারাদিনে এতো কাহিনী হয়েছে যে, শেষে শরীর আর নিতে পারছিলো না। দুই ভাই বাড়ি ফেরার জন্য যেই রওনা দিবে, তখনই এক ঘটনা দেখলো। দুইভাই এতো গিলেছে যে, মাথা আর ঘাড়ের ব্যথায় সামনে তাকাতে পারছিলো না। ভাবলো, আগে থেমে একজন আরেকজনকে মালিশ করে দিবে। কিন্তু তখনই একটা হাবিলদার এসে সেই লোকটাকে ধরে থানায় নিয়ে চললো, যে তাদের মদ চুরি করে খেয়ে টাল হয়ে ছিলো।  
ছোটভাই বললো, “ভাই, অহন তামাশা দেখবা।”
বড়ভাই জিজ্ঞেস করলো, “কার তামাশা দেখমু?”
ছোটভাই- কার তামাশা মানে?
বড়ভাইয়ের মুখে একটা অর্থবোধক হাসি দেখা দিলো। 
“কেউ যদি আমাদের চিনবার পারে বা আমাদের মুখে যদি কেউ মদের গন্ধ পায়, তাইলে আমরাই তামাশার বিষয় হইয়া যামু।”
ছোটভাই বড়ভাইয়ের কথায় ঘাবড়ে গিয়ে বললো, “ভাই চলো পালাই। বাড়ি ফিরা যাই।”

ফাঁক বুঝে দুই ভাই সাইকেল নিয়ে ভেগে গেলো। একটু আগে বৃষ্টি পড়ছিলো, এখন থেমে গেছে। কিন্তু ঠাণ্ডা বাতাসের দাপট সমানে চলছে। হিরাবাজার থেকে বের হওয়ার মুখেই দুইভাই তাদের অফিসের এক বড়সাহেবকে দেখতে পেলো। দুইভাই তাকে এড়াতে চাইলেও সম্ভব হলো না, সে তাদের দেখে ফেললো।
“কই যাও?”, বড়সাহেব জিজ্ঞেস করলো।
তারা জবাব দিলো না।
“আরে, কই যাও?” বড়সাহেব আবার জিজ্ঞেস করলো।
এই অবস্থায় আর এড়ানো যায় না। দুইভাই সাইকেল থামানের পর বড় অফিসার জিজ্ঞেস করলো, “কি, খুব মজা করলা মনে হয়?”
ছোটভাই বললো, ”জি”। বড়ভাই বললো, “না”।
বড়সাহেব মজা পেয়ে একচোট হাসলো। এরপরে ভদ্রতা করে বললো, “আমার মজা এখনও পুরা হয় নাই। তোমাদের কাছে কি টাকা আছে?”
এইবার বড়ভাই বললো, “জি আছে” আর ছোট ভাই বললো, “না,স্যার।”
বড়সাহেব আরেকবার খুব জোরে হেসে বললো, “আমার একশ টাকার বেশি লাগবে না।“  
বড়ভাই যন্ত্রের মতোন ১০০ টাকা বের করে ছোটভাইকে দিলো। ছোটভাই টাকাটা দিতেই বড়সাহেব “ধন্যবাদ” বলে তাদের পথ ছেড়ে দিলো।
দুইভাই বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। তারপর বড়ভাই তার কপাল থাবড়াতে থাবড়াতে বললো, “আজ সকালে যে কার মুখ দেখছিলাম, আল্লাই জানে।”
ছোটভাই বাজে একটা গালি দিয়ে বললো, “কার মুখ আবার, যেই লোক আজকে দুইশ এক টাকা দিছিলো, সেই শুয়োরের বাচ্চার।
বড়ভাইও সেই লোককে মন ভরে গালি দিলো। এরপর বললো, “আমার মনে হয় সব দোষ ঐ বাড়তি এক টাকার যেইটা সে তার মনের শান্তির জন্য আমাগোরে উপহার দিছিলো।”
“অথবা সকাল বিকাল আমরা যার পিছে খাড়ায়া নামাজ পড়ি।”
“অথবা, সেই শুয়োরটা, যে আমাদের মদ চুরি করছিলো।”
“কপাল ভালো যে পুলিশে ধরছে। নাইলে আজকে ওয় আমার হাতেই মরতো।”
“কিছু পাইতে হইলে কিছু দিতে তো হইবোই।”
“ওরে দিতেও হইতো, নিতেও হইতো। আল্লায় জানে, বড়সাহেব কোইত্থিকা যে নাজিল হইছিলো!”
“তয় কপাল ভালো। ১০০ টাকার বিনিময়ে ইজ্জত রক্ষা হইছে।”
“সেইটাও ঠিক। তয় আজকে আমাদের পকেটের উপর মারাত্মক লুটপাট হইছে।”
“চল ভাই, আবার কোনো ঝামেলা আসার আগেই ফিরা যাই।”
এরপর দুই ভাই সাইকেলে চড়ে হিরাবাজার থেকে বের হয়ে গেলো।
 
অফিস থেকে বের হবার সময় বড়ভাই মনে মনে ঠিক করেছিলো, দুই-তিন পেগ স্কচ খাওয়ার পর শীদানকে ওর ছোট বোনটাকে ডাকতে বলবে। শীদান ওর ছোট বোনের খুব সুনাম করতো। সে দেখতে নাকি খুবই সুন্দরী আর বয়সেও কচি; গ্রামের হাওয়া বাতাস খেয়ে বড় হয়েছে। কয়েক মাস আগে নিজের ধান্দাও শুরু করেছে।
স্কচ, হুইস্কি আর শীদান ছাড়া আর কিছু সুন্দর আসলেই আছে কি না, সেটা দেখার খুব খায়েশ ছিলো। কিন্তু বড়ভাইয়ের মনের সেই গুপ্ত খায়েশ গুপ্তই থেকে গেলো।
ছোটভাইয়ের মনের মধ্যেও রঙ্গলীলা জেগে উঠছিলো। এমন দারুণ মরসুমে হুইস্কি আর শাদীন ওকে খুশি করে দিতে পারতো। এতোটাই খুশি করে দিতে পারতো যে, টানা ১৫-২০ দিন আর কোনো মৌজমাস্তি করার দরকারই হতো না।
দু’জনের মাথা আর মন, দুটোই ভারী হয়ে গিয়েছিলো। তারা যেমনটা ভেবেছিলো, দিনটা তেমন যায় নি। স্কচের প্রথম বোতলটা পানওয়ালা চুরি করে নিয়েছিলো, দ্বিতীয় বোতলটা রাস্তায় পরে ভেঙেছিলো, তৃতীয়টায় ভাগে কম পড়েছিলো, কারণ শাদীনের আসরে আজকে লোক বেশিই ছিলো। চতুর্থবার যখন মদ আনালো তখন দেখলো মদের থেকে পানির পরিমাণই বেশি। আর পঞ্চমবার যখন মদ কেনার কথা ভাবছিলো, তখনই বড়সাহেব এসে ১০০ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেলো।
বড়ভাই একটু বেশিই রেগেছিলো। এতোটাই রেগেছিলো যে, তার মাথার মধ্যে আজব আজব চিন্তা আসছিলো। সে কিছু একটা করতে চাচ্ছিলো, যেমন কুকুরের মতোন জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করা, অথবা সাইকেলটাকে তুলে আছাড় মেরে গুড়োগুড়ো করে দেয়া, অথবা শরীরের সব কাপড় খুলে উদাম হয়ে কুয়োর মধ্যে ঝাঁপ দেওয়া। যেই পরিস্থিতি তাকে নিয়ে তামাশা করেছে, সেই তামাশাটুকু সে ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছিলো। কিন্তু সেই সময়টা এখন চাইলেও আর হিরামন্ডি থেকে উড়ে আসবে না। এসব ভেবে নিজেকে তার খুব অসহায় লাগছিলো।

একটা ঘর, যেখানে তারা শান্তিমতো ঘুমাতে পারতো। কিন্তু শুধু শান্তি দিয়ে কি হবে? ভালো হতো, যদি দুইশ টাকার চরস টেনে সকালে আরামসে উঠে বাড়তি এক টাকা কোনো মাজারে খয়রাত করতে পারতো।
ভাবতে ভাবতে বড়ভাই চিৎকার দিয়ে উঠলো’ “ধুর বাল!”
ছোটভাই ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “টায়ার পাংচার হয়া গেছে নাকি, ভাই?”
বড়ভাই জবাব দিলো, “না, ভাই। আমি আমার ঘিলুটারে পাংচার করার চেষ্টা করতেছি।”
ছোটভাই বুঝতে পারলো। বললো, “হইছে, অখন তাড়াতাড়ি ঘরে চলো।”
বড়ভাইয়ের বিরক্তি আরো বেড়ে গেলো।
“বাড়ি গিয়া কী করবি? বাল ফালাবি?”
ছোটভাই মানসিক রোগীর মতো হাসতে লাগলো। এই হাসি বড়ভাইয়ের মেজাজ আরো খারাপ করে দিলো।
“চুপ কর। হাসবি না!”
এরপর অনেক্ষণ ধরে দুই ভাই চুপচাপ দূরত্ব রেখে চলতে লাগলো। এই মুহূর্তে তারা সেই মরিচা পড়া লোহার মতো রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
বড়ভাই সাইকেল থামিয়ে মুখের বাতাস দিয়ে হাত গরম করতে করতে বললো, “খুব ঠাণ্ডা লাগতেছে।”
ছোটভাই তখন মজা করে বললো, “সেই হুইস্কি কই?”
বড়ভাইয়ের ইচ্ছে হলো ছোটভাইকে সাইকেল সমেত তুলে একটা আছাড় মারে। কিন্তু নিজেকে সামলে জবাব দিলো, “জাহান্নামে গেছে, যেইখানে সারা রাইত লুটপাট হয়, অথবা এখনো শুরু হয় নাই।”
এইকথা বলে সে একটা বিদ্যুতের খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে লাগলো। এমন সময় ছোটভাই ডাক দিয়ে বললো, “ও ভাই! দেখো, কে যেন আসতেছে!”
বড়ভাই পিছনে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে তাদের দিকেই আসছে। মেয়েটা ঠাণ্ডায় কাঁপছিলো। কাছাকাছি আসতেই তারা বুঝলো মেয়েটার বয়স কম আর সে চোখে দেখতে পারে না। এতো কাছে থেকেও দুইভাইকে সে দেখতে তো পাচ্ছিলোই না, বরং হাঁটতে হাঁটতে বারবার খুঁটিতে বাড়ি খাচ্ছিলো।
বড়ভাই মনযোগ দিয়ে মেয়েটাকে দেখলো। মেয়েটা যুবতি, ষোলো সতেরো বছর বয়স হবে। পুরনো, ছেঁড়া কাপড় ভেদ করে যেই যৌবন বের হয়ে আসছে, সেটা দেখলে কোনো পুরুষের পক্ষে হুশ ঠিক রাখা সম্ভব না। ছোট ভাই জিজ্ঞেস করলো, “কই যাইতেছো?”
মেয়েটা চাপা গলায় জবাব দিলো, “আমি রাস্তা ভুইলা গেছি। বাসার জন্য কাঠ নিতে বের হইছি।”
বড়ভাই জিজ্ঞেস করলো, “তোমার বাসা কোনখানে?” 
অন্ধ মেয়েটা বললো, “আমি জানি না। মনে হইতেছে, পিছনে ফেলায়া আসছি।”
বড়ভাই মেয়েটার হাত ধরে বললো, “আমার সাথে আসো।”
সে মেয়েটাকে নিয়ে রাস্তার অন্যপাশে একটা পুরনো বাতিল ইটের ভাটায় নিয়ে গেলো। মেয়েটা বুঝলো পথ চেনানোর উসিলায় লোকটা তাকে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে কোনোরকম প্রতিবাদ করলো না; মনে হয় এই রাস্তাটা তার চেনা।
মনের খেদ মিটানোর একটা সুযোগ পেয়ে বড়ভাই সেই খুশি। কোনোরকম বাঁধা দেয়ারও কেউ নেই। গায়ের ওভারকোটটা খুলে সে মাটিতে পেতে দিলো। এরপর সে আর অন্ধ মেয়েটা বসে কথা বলতে শুরু করলো।

মেয়েটা জন্ম থেকেই অন্ধ না। যুদ্ধের সময় শিখরা যখন তার গ্রামে হামলা করছিলো, সেই সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ফলে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে।
বড়ভাই মন থেকে মেয়েটার জন্য সহানুভূতি দেখালো। যদিও অতীত নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই। সে পকেট থেকে দুটো টাকা বের করে মেয়েটার হাতে দিয়ে বললো, “মাঝে মাঝে দেখা সাক্ষাৎ কইরো। তোমার জন্য ভালো কিছু জামা কাপড় বানায়া দিমু নে।”
মেয়েটা খুব খুশি হলো। বড়ভাইও তখন খুব মজায় ছিলো, যখন চকচকে দৃষ্টি নিয়ে মেয়েটাকে দেখছিলো আর দুই হাত দিয়ে তার শরীরে হাত বুলাচ্ছিলো। এমন সময় হুট করে ছোট ভাইয়ের কর্কশ গলা শোনা গেলো।
“ভাই! ও বড়ভাই!”
বড়ভাই জিজ্ঞেস করলো, “কী হইছে?”
ছোটভাই সেখানে হাজির হলো। আতঙ্কিত গলায় বললো, “ভাইজান, দুইজন হাবিলদার এইদিকে আসতেছে।”
বড়ভাই এক ঝটকায় ওভারকোটটা টান দিলো, যেটার উপর মেয়েটা বসে ছিলো। হ্যাচকা টানে অন্ধ মেয়েটা একটা খাদে গিয়ে পড়লো যেখানে ইট শুকিয়ে রাখা হতো। পড়তে পড়তে ব্যথায় সে চিৎকার করে উঠলো, কিন্তু দুই ভাই ততক্ষণে সেখান থেকে চলে গেছে।

চিৎকার শুনে হাবিলদার দু’জন সেখানে হাজির হলো আর অন্ধ মেয়েটাকে গর্ত থেকে বের করলো। তার মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পর মেয়েটার হুশ ফিরে আসলো আর হাবিলদারদের দেখে এমন ভয় পেলো, যেন ভুত দেখেছে। তারপর সম্বিত ফিরে পেয়ে হুট করেই পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগলো, “আমি দেখতেছি, সব দেখতেছি, আমার চোখ ঠিক হয়া গেছে!!”

বলতে বলতে অন্ধ মেয়েটা সেখান থেকে চলে গেলো আর তার হাত থেকে যেই দুই টাকা পড়ে গিয়েছিলো, সেটা হাবিলদার দু’জন চুপচাপ পকেটে ভরে ফেললো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243732/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Apr 2026 11:38:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিসফাস গল্প<br />
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>সময়টা কনকনে শীতকাল।<br />
রাত তখন দশটা। শালামার বাগ থেকে লাহোর যাওয়ার রাস্তাটা নির্জন আর অন্ধকার ছিলো। চারপাশে ঘন কুয়াশার মেঘ, সেইসাথে জব্বর বাতাস।<br />
আশেপাশের সবকিছু যেন ঠাণ্ডায় জমে আছে। রাস্তার ধারের দুটো নিচু বাড়ি আর গাছগুলোকে দেখাই যাচ্ছে না ঠিকমতো। দূরের বিদ্যুতের খুঁটিগু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-243732"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/243732/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac7c5f9d2a0915db38bec4771e5acaa1</guid>
				<title>ফিলিস্তিনের প্রেমিক
- মাহমুদ দারবিশ
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ
।।
তোমার দৃষ্টি হৃদয়ে লাগে কাঁটার মতোন;
তীব্র ব্যথা ভুলে আমি তাকে করি যতোন।
রক্ষা করি তাকে তীব্র বাতাসে, 
ভালোবেসে।
রক্ত মাংস দিয়ে আড়াল করি তাকে,
লুকায়ে রাখি যন্ত্রণার গাঢ় আঁধার থেকে।
আর তার ক্ষত, জ্বলে আলোর মতো
ক্রমাগত।
তার ভবিষ্যত আমার আত্মাকে করেছে
আমার বর্তমানের অধিক অনুগত।
এবং, চোখে চোখ পড়তেই, শীঘ্রই ভুলে যাই-
একদিন, সেখানে, দরজার পিছনে,
ছিলাম আমরা দুজনেই।
তোমার গানের মতো শব্দগুলো
আমিও গাইতে চেয়েছি বহুবার।
কিন্তু বসন্তের নিদারুণ যন্ত্রণা
ঘিরে রেখেছে ঠোঁটের দুয়ার।
দোয়েলের মতো, তোমার শব্দগুলো
পাখা মেলে উড়ে গেছে দূরে।
আমাদের ঘরের চৌকাঠে আগমনী শরৎ-ও
চলে গেছে তোমার পথ ধরে।
আমাদের আয়নাগুলো চুরমার হয়ে গেছে
দুঃখগুলোও বেড়েছে হাজার গুণে।
আর আমরা শব্দের কাঁকর জমিয়েছি
জন্মভূমির শোকগাঁথা হতে, হৃদয়ের অনুরনে।
হৃদয়বীণায় সেই সুর বপন করে
একসাথে বসে বিষাদের এই ছাদে,
গাইবো আমরা সেই গান
খণ্ডিত চাঁদ আর পাথরের সাথে সাথে।
কিন্তু আমি ভুলে গেছি আজ
অচেনা কণ্ঠের তোমাকে:
হারালো কোথায় সেই সুরের কারুকাজ- 
তোমার প্রস্থান, আমার নীরবতা,
দায়ী করবো কাকে?
গতকাল তোমাকে দেখলাম বন্দরে-
লক্ষহীন এক ক্লান্তিহীন নাবিকের মতো;
অনাথের মতো গেলাম আমি দৌড়ে
জানতে চাইলাম, আমার পূর্বপুরুষের বিজ্ঞতা ছিলো কতো?
চির-সবুজ একটি কমলা বাগানকে কেমন করে
টেনে হিচড়ে জেলে পোরা হয়?
কেমন করে বন্দরে নিয়ে তাকে,
নির্বাসনে পাঠানো হয়?
এবং কীভাবে এতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে
শরীরে নোনা জলের ঘ্রাণ ও ক্ষুধা নিয়ে
সে আগের মতোই সজিব ও সতেজ রয়?
আমি আমার ডায়রিতে লিখলাম-
আমি কমলালেবু ভালোবাসি
এবং ঘৃণা করি বন্দরকে অহর্নিশি।
আরো লিখলাম-
ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে দিব্যচোখে দেখেছি পৃথিবী,
যেখানে কমলার খোসাই আমাদের সম্বল
আর আমার পেছনে মরুভূমি হয়ে গেছে সবই।
তোমাকে দেখেছি
বুনোঝোপে আবৃত পাহাড়ে;
মেষহীন এক রাখাল বালিকা-
ছুটে যাচ্ছো ধ্বংসের কিনারে।
তুমি ছিলে আমার বাগান, আমি ছিলাম অচেনা।
দরোজায় কড়া নাড়ছে আমার হৃদয়, তুমি শুনলে না।
অথচ, আমার হৃদয়ের ওপর
দৃঢ়ভাবে দাড়িয়েছিলো
তোমার দরজা-জানালা, সিমেন্ট আর পাথর।
আমি তোমায় দেখেছি জলের পিপায়, শষ্যের ভাণ্ডারে
যাচ্ছো ভেঙ্গে বারে বারে।
দেখেছি তোমাকে নাইট ক্লাবে দাসিরূপে,
জ্বলন্ত অশ্রুর ছটায় ধুয়ে যাওয়া ব্যথার স্বরূপে।
আমার বুকের ভেতর তুমি দ্বিতীয় হৃদয়,
ঠোঁটে লেপ্টে থাকা ধ্বনি।
তুমি অপার জলের স্রোতধারা,
তুমি আগুনের পরশমণি।
তোমাকে দেখেছি গুহামুখে, সুড়ঙ্গে-
এতিমখানার ছেঁড়া কাপড়গুলো শুকোতে দিচ্ছ রশিতে।
জ্বলন্ত উনুনে, পথে পথে দেখেছি তোমাকে,
দেখেছি গোলাঘরে, উত্তপ্ত সূর্যরশ্মিতে।
তোমাকে দেখেছি অনাথ-অসহায়ের গানে,
সমুদ্রের মাঝে আর বালুকা তটে।
পৃথিবী আর শিশুদের মতো সুন্দর ছিলে তুমি
ঠিক যে রূপে আরবের জুঁই ফোটে।
আমি শপথ করেছি- একটি রুমাল বানাবো
আমার চোখের পাপড়ি দিয়ে।
এবং তার উপর সূচিত করবো কবিতা
যা লেখা হয়েছে তোমার চোখ নিয়ে।
এবং একটি নাম,
যাকে জপতে জপতে সিক্ত হৃদয়ে
সবুজ একটি বন উঠেছে গজিয়ে।
একটি কথা লিখে রাখবো আমি-
মধু অথবা চুম্বনের থেকেও যা অমূল্য আমার কাছে।
ফিলিস্তিন, সে আগেও ছিলো, এখনও আছে।
এক ঝড়ের রাতে,
সমস্ত জানালা-দুয়ার দিয়েছিলাম খুলে।
দেখতে চেয়েছিলাম সেই অদৃশ্য চাঁদ,
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিময় রাতের কোলে।
রাতকে বললাম, চলে যাও আঁধার দেয়ালের ওপাশে;
আমি প্রতিজ্ঞারত আছি শপথের দ্যুতিময় আশ্বাসে।
তুমি আমার অনাবাদী বাগান;
যতক্ষণ না তরবারির মতো 
আঘাত করে আমাদের গান।
আর তুমি শষ্যের মতো বিশ্বস্ত;
যতক্ষণ না আমাদের গান
বপনের আগে বাঁচিয়ে রাখে
উর্বর জমিনের প্রাণ।
মনের মাঝে তুমি পাম গাছের মতোই;
প্রবল ঝড়ে বা কুঠারের নির্মম আঘাতে
যা কখনোই ভেঙে পড়ে না,
মরু জঙ্গলের হিংস্র আঁচড়েও যার
খোঁপার বাঁধন খুলে পড়ে না।
কিন্তু, 
দরজা ও দেয়ালের পেছনে আমি, নির্বাসিত;
তোমার দৃষ্টির উষ্ণতায় হতে চাই আশ্রিত।
যেখানেই তুমি আছো, আমায় নিয়ে যাও,
যেভাবেই তুমি আছো, আমায় নিয়ে যাও।
নিয়ে যাও মুখ ও দেহের উষ্ণতা ফিরে পেতে,
হৃদয় আর চোখের আলোর কাছে,
নিয়ে যাও নোনা রুটি আর গানের সুরে মেতে
পৃথিবীর যেখানে জন্মভূমির স্বাদ আছে।
তোমার দৃষ্টির উষ্ণতায় আমায় ঠাঁই দাও,
কোনো বাদাম কাঠের ঘরে, বিষাদের কুটিরে
আমায় নিয়ে যাও।
আমায় নিয়ে যাও, ওগো কবিতা বিষাদ মাখা,
নিয়ে যাও যে ঘরে খেলনা অথবা পাথর আছে রাখা;
যেন, আমাদের পরের প্রজন্ম যারা আছে,
পথ চিনে ফিরতে পারে হারানো ঘরের কাছে।
তার চোখ আর হাতের ট্যাটু ফিলিস্তিনি
তার নাম ফিলিস্তিনি
তার স্বপ্ন আর শোক ফিলিস্তিনি
তার, রুমাল, তার পা, তার দেহ ফিলিস্তিনি
তার কথা আর নীরবতা ফিলিস্তিনি
তার কণ্ঠ ফিলিস্তিনি
তার জন্ম আর মৃত্যু ফিলিস্তিনি
তোমাকে বয়েছি আমি পুরোনো খাতায়
যেহেতু আমার উত্তপ্ত কবিতাগুলোই
আমার ভ্রমণের সহায়।
তোমার নাম ধরে ডাকা আমার কণ্ঠস্বর 
আজও উপত্যকায় ভাসে।
বাইজেন্টাইন ঘোড়ার দল দেখেছি, যদিও
যুদ্ধটা ছিলো ভিন্ন এক বিশ্বাসে।
সতর্ক হও, হও হুশিয়ার!
আমার গানের বাজ পড়ে গ্রানাইট হয় চুরমার।
আমি যৌবনের ফুল, আমি মহাশুর
আদর্শকে ভেঙ্গে করি আমি চূর চূর।
আমি ল্যাভেন্টাইন সীমানা গড়েছি এমন কবিতায়,
যা লেখা আছে মুক্ত স্বাধীন ঈগলের সে ডানায়।
আর তোমার নামে শত্রুদের ডেকেছি হুঙ্কারে-
শোনো কীটের দল,
ঘুমিয়ে গেলে আমার মাংস খেয়ে নিয়ো অগোচরে।
কারণ পিঁপড়ার ডিম থেকে জন্ম নেয় না ঈগল,
আর অ্যাডারের ডিমে সাপই জন্মায় কেবল।
আমি দেখেছি বাইজেন্টিয়াম ঘোড়ার দল;
আর জেনেছি আমি তারও অনেক আগে,
আমি হলাম যৌবনের সেই ফুল,
মহিশুর আমি, শৌর্যে বীর্যে শ্রেষ্ঠ সবার থেকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227923/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 09:48:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিলিস্তিনের প্রেমিক<br />
&#8211; মাহমুদ দারবিশ<br />
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ<br />
।।<br />
তোমার দৃষ্টি হৃদয়ে লাগে কাঁটার মতোন;<br />
তীব্র ব্যথা ভুলে আমি তাকে করি যতোন।<br />
রক্ষা করি তাকে তীব্র বাতাসে,<br />
ভালোবেসে।<br />
রক্ত মাংস দিয়ে আড়াল করি তাকে,<br />
লুকায়ে রাখি যন্ত্রণার গাঢ় আঁধার থেকে।<br />
আর তার ক্ষত, জ্বলে আলোর মতো<br />
ক্রমাগত।<br />
তার ভবিষ্যত আমার আত্মাকে করেছে<br />
আমার বর্তমানের অধ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227923"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227923/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0334a96c6c32e3247ffce3d82d61ad25</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227922/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 09:46:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5fb4fea5f2b3a520e51135352c26df3b</guid>
				<title>অয়ন আবদুল্লাহ changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227921/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 09:44:57 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>