<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | অয়ন আবদুল্লাহ | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ayonabdullah140/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ayonabdullah140/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for অয়ন আবদুল্লাহ.</description>
	<lastBuildDate>Sun, 14 Jun 2026 07:25:24 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">9e4aa041802fe2da1bd2bde88d40266a</guid>
				<title>তাহাজ্জুদের পর
&#x2660;
মাঝে মইধ্যে মনে হয়-
দীর্ঘ আশাহীন এই জীবনডারে
ভাতের থালায় নিয়া গিল্লা ফেলাই।
ঘুম থেইকা পালায়া গিয়া
নদীর বুকের ভিতর ঢুইকা পড়ি
অথবা
আকাশে ঝুইলা থাকি একখান ম্যাড়ম্যাইড়া সূর্যের লাহান।
সকালের চায়ের কাপে
উড়তে থাকি অক্লান্ত ধুঁয়ার শক্তি নিয়া।

অথচ
দেখি, ঘরের বাইরে একটুখানি রইদ
আত্মস্থ করতেছে জীবনানন্দ।
উপাসনালয়ের ভিতরে দীর্ঘ প্রার্থনার লাইন;
এর মাঝে আমারে খুঁইজা পাইতেছেন না ঈশ্বর।

তাই
মাঝে মইধ্যে ইচ্ছা করে, বুকের ভিতর থিকা
একটানে বাইর কইরা ফেলি হৃদপিণ্ডটা।
এরপর শরাবে ভিজাইয়া তুইলা দেই পুরোহিতের মুখে।
সমস্ত দিনের শ্যাষে ফুরায়া যাওয়া শব্দগুলা
আবার পড়তে থাকি রাইতের জায়নামাজে।

এই খুচরা খুচরা দুঃখগুলা জাহান্নামের আগুনে
পুড়ায়া দিতে ইচ্ছা করে, ভগবান!
তয়, আমি জানি-
চোখের আগুনের থেইকা আর কোনো আগুনেরই
এত শক্তি নাই।
বুকের নদীর থিকা আর কোনো নদীতেই এতো গভীরতা নাই।
কবিতার থিকা আর কোনো প্রার্থনাতে এতোটা শান্তি নাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249966/</link>
				<pubDate>Thu, 21 May 2026 08:17:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তাহাজ্জুদের পর<br />
&#x2660;<br />
মাঝে মইধ্যে মনে হয়-<br />
দীর্ঘ আশাহীন এই জীবনডারে<br />
ভাতের থালায় নিয়া গিল্লা ফেলাই।<br />
ঘুম থেইকা পালায়া গিয়া<br />
নদীর বুকের ভিতর ঢুইকা পড়ি<br />
অথবা<br />
আকাশে ঝুইলা থাকি একখান ম্যাড়ম্যাইড়া সূর্যের লাহান।<br />
সকালের চায়ের কাপে<br />
উড়তে থাকি অক্লান্ত ধুঁয়ার শক্তি নিয়া।</p>
<p>অথচ<br />
দেখি, ঘরের বাইরে একটুখানি রইদ<br />
আত্মস্থ করতেছে জীবনানন্দ।<br />
উপাসনালয়ের ভিতরে দী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249966"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249966/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">757c12a87965d3a5e367fbf607b1de4c</guid>
				<title>এশার ওয়াক্তের পর
&#x2660;
কান্দনের পর আমি আর চোখে পানি রাখি না;
সমুদ্র ঘুমায়া যায় ঘুটঘুইটা আন্ধারে।
বসনে জইমা থাকে কারো শ্যাষ নিঃশ্বাস,
প্রলোভনে ভুইলা যাই, মানুষ ছিলাম নাকি ফেরেশতা।

ফুরায়া যাইতাছে দুয়া,
অভিশাপে ভইরা যাইতাছে শহরের দেয়াল।
চিক্কুর দিয়া বলি-
মানুষ হইয়া আর জন্মাইতে চাই না প্রভু।

আসমান জুইড়া সংসার পাতছে খোদা।
জমিন জুইড়া সংসার পাতছে মানুষ।
এর মাঝামাঝি আমি কোথাও ঝুইলা আছি-
সেইটা কোনো স্বর্গ না, নরকের সীমান্ত হইতে পারে।

যাই হোক,
এই যে কবিতা লিখতেছি,
এই যে হাসতেছি অমানুষের মতোন,
এই যে মইরা গিয়া আবার জন্মাইতে চাইতেছি-
এর কোনো কারণ নাই;
কেবলমাত্র মানুষ না হওনের আক্ষেপটাই রইয়া গ্যালো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/249184/</link>
				<pubDate>Tue, 19 May 2026 07:52:10 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এশার ওয়াক্তের পর<br />
&#x2660;<br />
কান্দনের পর আমি আর চোখে পানি রাখি না;<br />
সমুদ্র ঘুমায়া যায় ঘুটঘুইটা আন্ধারে।<br />
বসনে জইমা থাকে কারো শ্যাষ নিঃশ্বাস,<br />
প্রলোভনে ভুইলা যাই, মানুষ ছিলাম নাকি ফেরেশতা।</p>
<p>ফুরায়া যাইতাছে দুয়া,<br />
অভিশাপে ভইরা যাইতাছে শহরের দেয়াল।<br />
চিক্কুর দিয়া বলি-<br />
মানুষ হইয়া আর জন্মাইতে চাই না প্রভু।</p>
<p>আসমান জুইড়া স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-249184"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/249184/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bcc62ee3f798dfda23fc2ee2e2edf5b5</guid>
				<title>মাগরিব ওয়াক্তের পর
&#x2660;
জ্বলতে জ্বলতে নিভা গ্যাছে আমাগো সব;
বিবেকের ছাই উড়াইয়া দিছি হাওয়ায়,
দমের ভিত্রে নিঃশ্বাস লয় লুসিফার-
হ্যালালুইয়া, হ্যালালুইয়া।
ঘরের উপরে আকাশ ছাদ হইয়া ঝুলে,
মাথার কাছে টিমটিম কইরা জ্বলে খিদা।
অনন্তকাল সেই আলো নিয়াই সঙ্গমে মাতে মানুষ,
শ্যাষম্যাশ মইরাও যায়।
মানুষ তার জিন্দেগীতে কখনো শিখতে পারে না;
শিখার জন্যে তারে আবার জন্মাইতে হয়,
বারেবারে জন্মাইতে হয়।
তবু ইচ্ছা হইলেও উপায় নাই- একটাই জীবন
তাই নিয়াই আস্তাগফিরুল্লাহ&#039;র সান্ত্বনা।
তওবা জপতে জপতে আর পাপ করতে করতে
মানুষ তার হাঁড়ের গন্ধ নিয়া ইতিহাস লিখে।
মাঝে মাঝে ভাবি- কিচ্ছু না নিয়াই যদি যাইতে হয়,
তাইলে ক্যান আমি খিদারে জায়নামাজে তুইলা সিজদা দিতাছি?
তাইলে আমার পাপ কিসে?
এই মানবজন্মে?
নাকি এই নরকবাসে?
নাকি মানুষ হইয়া আরেকবার জন্ম নেওনের খায়েশে?
সব উইড়া যাইতেছে-
সব ছাই হইয়া যাইতেছে-
সব বিলীন হইয়া যাইতেছে-
শুধুমাত্র হাওয়ায় ভাসতেছে
হ্যালালুইয়া, হ্যালালুইয়া।।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247255/</link>
				<pubDate>Sun, 10 May 2026 11:52:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মাগরিব ওয়াক্তের পর<br />
&#x2660;<br />
জ্বলতে জ্বলতে নিভা গ্যাছে আমাগো সব;<br />
বিবেকের ছাই উড়াইয়া দিছি হাওয়ায়,<br />
দমের ভিত্রে নিঃশ্বাস লয় লুসিফার-<br />
হ্যালালুইয়া, হ্যালালুইয়া।<br />
ঘরের উপরে আকাশ ছাদ হইয়া ঝুলে,<br />
মাথার কাছে টিমটিম কইরা জ্বলে খিদা।<br />
অনন্তকাল সেই আলো নিয়াই সঙ্গমে মাতে মানুষ,<br />
শ্যাষম্যাশ মইরাও যায়।<br />
মানুষ তার জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247255"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247255/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fa61d6e009ecd8a21a3bfc2ad0efa2c9</guid>
				<title>হিন্দি নাকি উর্দু
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ


হিন্দি আর উর্দু নিয়ে বহুদিন ধরে একটা দ্বন্দ্ব চলছে। মৌলভী আব্দুল হক সাহেব, ডঃ তারা চাঁদ জি এবং মহাত্মা গান্ধী এই দ্বন্দ্বটি বোঝেন। কিন্তু আমি মনে করি, বিষয়টার এখনও কোনো ফয়সালা হয়নি। যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আমি এর অর্থ উপলব্ধি করতে পারিনি। হিন্দুরা কেন হিন্দির পক্ষ সমর্থন করে নিজেদের সময় নষ্ট করে? মুসলমানরা উর্দু সংরক্ষণে এত আগ্রহী কেন? ভাষা তৈরি করা যায় না; এর জন্ম হয় স্বাভাবিকভাবে, এবং কোনো মানবীয় প্রচেষ্টা একটি ভাষাকে ধ্বংস করতে পারে না। এই সাম্প্রতিক আলোচিত বিষয়টি নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তার আগেই জেল সংক্রান্ত বিতর্ক শুরু হলো।

মুন্সি নিরবন প্রসাদ: ইকবাল সাহেব, আপনি সোডা খাবেন?

মির্জা মুহাম্মদ ইকবাল: জি, খাবো।

মুন্সি: আপনি লেবুর শরবত খান না কেন?

ইকবাল: এমনিই, আমার সোডা ভালো লাগে। আমাদের বাড়ির সবাই সোডা খায়।

মুন্সি: তাহলে তো মনে হচ্ছে আপনি লেবুর শরবত অপছন্দ করেন।

ইকবাল: আরে, না মুন্সি সাহেব! অপছন্দের বিষয় না। আসলে বাড়ির সবাই খায়। তাই এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আসলে, সত্যি বলতে কি, আমার মনে হয় সোডার চেয়ে লেবুর শরবত বেশি উপভোগ্য।

মুন্সি: সেজন্যই তো আমি অবাক হচ্ছি! আপনি মিষ্টির চেয়ে নোনতা জিনিস বেশি পছন্দ করেন কীভাবে? লেবুতে শুধু চিনি-ই নয়, সুগন্ধী দেয়া হয়। আপনি কী বলেন?

ইকবাল: আপনি একদম ভুল বলছেন… তবে...

মুন্সি: তবে কী?

ইকবাল: কিছু না... আমি তো বললাম-ই যে আমি সোডা খাবো।

মুন্সি: আবার বোকার মতো তর্ক করছেন... লোকে ভাববে আমি আপনাকে জোর করে বিষ খাওয়াচ্ছি। আরে ভাই, লেবুর শরবত আর সোডার মধ্যে পার্থক্যটা কী? এই দুটো বোতলই তো একই কারখানায় তৈরি হয়েছে। একই মেশিন এদের ভেতরে জল ভরেছে। লেবু থেকে যদি মিষ্টতা আর সুগন্ধটা সরিয়ে ফেলা হয়, তাহলে আর কী বাকি থাকে?

ইকবাল: সোডা... নোনা জল...
মুন্সি: তাহলে এটা খেলে ক্ষতি কী?

ইকবাল: কোনো ক্ষতি নেই।

মুন্সি: তাহলে খান।

ইকবাল: আপনি কী খাবেন?

মুন্সি: আমি আরেকটা বোতল নিয়ে আসছি।

ইকবাল: আরেকটা বোতল কেন? সোডা খেলে ক্ষতি কী?

মুন্সি: কোনো ক্ষতি নেই।

ইকবাল: তাহলে সোডাই খান।

মুন্সি: আপনি কী খাবেন?

ইকবাল: উমম... আমি আরেকটা বোতল অর্ডার করবো।

মুন্সি: আরেকটা বোতল অর্ডার করবেন? কেন, লেবুর শরবত খেলে ক্ষতি কী?

ইকবাল: কো…নো…ক্ষ…তি…নে…ই আর সোডা খেলে ক্ষতি কী?

মুন্সি: কো…নো…ক্ষ…তি…নে…ই।

ইকবাল: ব্যাপারটা হলো, সোডা একটু ভালো।

মুন্সি: কিন্তু আমার মনে হয় লেবুর শরবত... একটু ভালো।

ইকবাল: সেটা হয়তো সত্যি... কিন্তু আমি বড়দের কাছে শুনেছি যে সোডা ভালো।

মুন্সি: কিন্তু... আমিও তো বড়দের কাছে শুনেছি যে লেবুর শরবত ভালো।

ইকবাল: আপনার তাই মনে হয়?

মুন্সি: আপনার কী মনে হয়?

ইকবাল: আমার মনে হয়... আমার মনে হয় যে আপনার মতামতটা আগে জানতে হবে।

মুন্সি: আমার মতামত... আমার মতামত... আমার মতামত হলো... কিন্তু আমি আগে বলবো কেন?

ইকবাল: এভাবে মতামত প্রকাশ করা অসম্ভব... আপনি আপনার গ্লাসের ঢাকনাটা বন্ধ করেন। আমিও আমারটা করছি। এরপরে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।

মুন্সি: সেটা সম্ভব না... বোতলগুলো তো খোলা। আমাদের এখনই পান করা লাগবে। আরে, তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেন। এমনও হতে পারে যে সব গ্যাস বেরিয়ে যাবে... এগুলোর আসল মজা তো গ্যাসের মধ্যে।

ইকবাল: আমি একমত... আপনিও নিশ্চই মানেন যে লেবুর শরবত আর সোডার মধ্যে কোনো তফাৎ নাই।

মুন্সি: আমি কখন বললাম, লেবু আর সোডার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই? বিশাল পার্থক্য আছে… যাকে বলে আকাশ-পাতাল তফাৎ। একটার মধ্যে মিষ্টতা আছে, সুগন্ধ আছে, সাথে টক টক ভাব আছে। তার মানে সোডার চেয়ে তিনটি জিনিস বেশি আছে। সোডা শুধু গ্যাস, আর সেটাও এত তীব্র যে নাকে ঢুকে যায়। তুলনায় লেবু অনেক বেশি সুস্বাদু। এক বোতল খেয়ে দেখেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভালো লাগবে। সোডা সাধারণত অসুস্থরাই খায়। আর আপনিও তো একটু আগে স্বীকার করলেন যে লেবুর শরবত সোডার চেয়ে বেশি সুস্বাদু।

ইকবাল: হ্যাঁ… কিন্তু আমি তো বলিনি যে সোডার চেয়ে লেবুর শরবত ভালো। &quot;সুস্বাদু&quot; মানেই যে তা উপকারী, তা নয়। আচার খেতে সুস্বাদু, কিন্তু আপনি তো এর খারাপ দিকগুলো জানেন। কোনো কিছুর স্বাদ বা গন্ধ ভালো হলেই যে তা ভালো, তা নয়। আপনার উচিৎ একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা। তাহলেই জানতে পারবেন লেবুর শরবত পেটের জন্য কতটা ক্ষতিকর। সোডা তো ভালো জিনিস, তাই না? এইটা হজমে সাহায্য করে।

মুন্সি: দেখেন… এইটার সিদ্ধান্ত হতে পারে লেবুর শরবত আর সোডা দুটাই মেশায়ে পান করা।

ইকবাল: সেটাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

মুন্সি: তাহলে এই খালি গ্লাসটায় অর্ধেক সোডা দেন।

ইকবাল: আগে আপনি অর্ধেক লেবুর শরবত দেন... আমি সোডা পরে দিচ্ছি।

মুন্সি: এটা কেমন কথা! আপনি আগে সোডা দিবেন না কেন?

ইকবাল: আমি লেবুর শরবতে সোডা মিশাতে চাই।

মুন্সি: আর আমি সোডার সাথে লেবুর শরবত মিশাতে চাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246802/</link>
				<pubDate>Tue, 05 May 2026 09:39:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হিন্দি নাকি উর্দু<br />
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>হিন্দি আর উর্দু নিয়ে বহুদিন ধরে একটা দ্বন্দ্ব চলছে। মৌলভী আব্দুল হক সাহেব, ডঃ তারা চাঁদ জি এবং মহাত্মা গান্ধী এই দ্বন্দ্বটি বোঝেন। কিন্তু আমি মনে করি, বিষয়টার এখনও কোনো ফয়সালা হয়নি। যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আমি এর অর্থ উপলব্ধি করতে পারিনি। হিন্দুরা কেন হিন্দি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246802"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246802/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ced2cbd7645ebf1e0228e9868aa55cd0</guid>
				<title>আসর ওয়াক্তের পর
&#x2663;
বলতে বলতে ফুরাইয়া যাইতাছে আমাদের কথা,
চলতে চলতে ফুরাইয়া যাইতাছে সব পথ,
আমরা মুখস্ত আউড়াইয়া যাইতাছি খোদারে;
আড়ালে লুট হইয়া যাইতাছে আমাগো বিশ্বাস।

নিঃশ্বাসের সাথে সাথে বাইর হইয়া যাইতাছে জীবন,
তাও মৃত্যুর কাফেলায় নির্বিচারে হাঁইটা যাইতাছি।
কাফনের কাপড়ে দেনার ঘ্রাণ মৌ মৌ করতেছে,
ভগবানের দ্যাশে তবুও মানুষ হাসতেছে অবলীলায়। 

ঝুইলা থাকতে থাকতে ভাইঙ্গা পড়তেছে ঘর,
মুখের দিকে তাকাইয়া বেশরমের মতোন তবু হাসতেছে যিশু।
বলে, আমারে নিয়া যাও তোমার বিশ্বাসে
আমারে নিয়া যাও তোমার সমস্ত পথে, সমস্ত সত্তায়।

পতিতার কামনা ক্ষুধা হইয়া কান্দে মন্দিরে।
নেশার বোতলে স্লোগান ডুবাইয়া গান হয় গির্জায়।
সত্য বলতে বলতে টুপি পইরা মিথ্যা ঢুইকা যায় মসজিদে।

ওয়াক্ত ফুরাইয়া গ্যালে
আমরা সবাই হিসাব মিলাইতে থাকি জীবনের।
অথচ, কেউ কইতে পারি না
বে-হিসাব অংকটা শূন্যের গতিপথে কই যায়া মিলে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246591/</link>
				<pubDate>Sun, 03 May 2026 10:23:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আসর ওয়াক্তের পর<br />
&#x2663;<br />
বলতে বলতে ফুরাইয়া যাইতাছে আমাদের কথা,<br />
চলতে চলতে ফুরাইয়া যাইতাছে সব পথ,<br />
আমরা মুখস্ত আউড়াইয়া যাইতাছি খোদারে;<br />
আড়ালে লুট হইয়া যাইতাছে আমাগো বিশ্বাস।</p>
<p>নিঃশ্বাসের সাথে সাথে বাইর হইয়া যাইতাছে জীবন,<br />
তাও মৃত্যুর কাফেলায় নির্বিচারে হাঁইটা যাইতাছি।<br />
কাফনের কাপড়ে দেনার ঘ্রাণ মৌ মৌ করতেছে,<br />
ভগবানের দ্যাশে তবুও মানুষ হাসতেছে অবলীলা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246591"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246591/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">96728fc00cdc89fef8db564de3e1999d</guid>
				<title>ত্রিকাব্য

সান্ত্বনা

সংগত অনুযোগে আমি
ধ্বনিত হয়েছি বহুকাল,
তবু
এই বিখন্ড অবসরে
আমি দেখেছি পাতার দাহকাল।

পুড়ে যাওয়া পথে
গলিত গন্তব্যের ঘ্রাণ
নাও;
যেহেতু একটু বেদনা
তোমাকেও দিতে পারে সান্ত্বনা।


ভাঙনের সংসার

নদীতটে ছায়াময় সভা
মানুষের হাটে বেজায় হল্লা;
মৌন ফড়িং উড়ে যাচ্ছে
ঐ তো ঘাসের হৃদয় ভেঙে।

তুমি তেমনই, আমিও এমনই
হাট শেষে, দুজনে নদীতটে
খেলে যাই ভাঙনের সংসার
আনন্দের রঙে রঙে।



দেখা হোক

সময়ের এলোমেলো পথে
হেঁটেছো হাত ধরে, একসাথে।
অনুগত হৃদয়ের অসুখে
দিয়েছো স্বস্তির প্রলেপ।

আরো দেবে জানি
যতখানি 
সন্ধ্যের চিরকুটে আছে লেখা।
আবার মানুষ হোলে
এই পৃথিবীর কোলে,
খুব কোরে চাইবো-
তোমার সাথেই হোক দেখা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246525/</link>
				<pubDate>Sat, 02 May 2026 05:28:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ত্রিকাব্য</p>
<p>সান্ত্বনা</p>
<p>সংগত অনুযোগে আমি<br />
ধ্বনিত হয়েছি বহুকাল,<br />
তবু<br />
এই বিখন্ড অবসরে<br />
আমি দেখেছি পাতার দাহকাল।</p>
<p>পুড়ে যাওয়া পথে<br />
গলিত গন্তব্যের ঘ্রাণ<br />
নাও;<br />
যেহেতু একটু বেদনা<br />
তোমাকেও দিতে পারে সান্ত্বনা।</p>
<p>ভাঙনের সংসার</p>
<p>নদীতটে ছায়াময় সভা<br />
মানুষের হাটে বেজায় হল্লা;<br />
মৌন ফড়িং উড়ে যাচ্ছে<br />
ঐ তো ঘাসের হৃদয় ভেঙে।</p>
<p>তুমি তেমনই, আমিও এম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246525"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246525/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2f2e627c11bb679097354427b3c38215</guid>
				<title>যোহর ওয়াক্তের পর
&#x2660;
উনুনের হাউশে জ্বলতাছে মাছের চোখ;
দ্যাখবার খায়েশ আছিলো নদীর দুঃখ,
মনের খরায় সবকিছু মিশা যাইতাছে।
দয়া নাই, তবু ভগবানের কৃপা নিয়া মরার সাধ জাগে।

কেমন মানুষ তুমি?
আড়ালে লুকাইয়া রাইখা নিজেরে, খুঁজবার চাও খোদারে?
মুষিকের ল্যাজে পা দিয়া নিজেরে ভাবতেছো বাঘ,
অথচ বিড়াল স্বভাব তোমার-
সুযোগ পাইলেই হামলাইয়া পড়ো।

একদিন দুইদিন তিনদিন
মশার আয়ু নিয়া বাঁইচা আছো তুমি,
লশকর আঙ্গুলে ঠুকাও পৃথিবীর দরজা।

কি জীবন, কি মৃত্যু-
উৎসবের রঙ বদলাইতে সময় লাগে না তোমার।

তো বলো,
এই যে দুপুরবেলায়, নিজেরেই চাবায়া খাইতেছো,
নদীর স্বাদ কি পাইতেছো?
নাকি আলুর ঝোলে মিশাইয়া খাইয়া ফেলছো পূর্বপুরুষের রক্ত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246211/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Apr 2026 03:30:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যোহর ওয়াক্তের পর<br />
&#x2660;<br />
উনুনের হাউশে জ্বলতাছে মাছের চোখ;<br />
দ্যাখবার খায়েশ আছিলো নদীর দুঃখ,<br />
মনের খরায় সবকিছু মিশা যাইতাছে।<br />
দয়া নাই, তবু ভগবানের কৃপা নিয়া মরার সাধ জাগে।</p>
<p>কেমন মানুষ তুমি?<br />
আড়ালে লুকাইয়া রাইখা নিজেরে, খুঁজবার চাও খোদারে?<br />
মুষিকের ল্যাজে পা দিয়া নিজেরে ভাবতেছো বাঘ,<br />
অথচ বিড়াল স্বভাব তোমার-<br />
সুযোগ পাইলেই হামলাইয়া পড়ো।</p>
<p>এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246211"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246211/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31a5d0c17b5ef43c706f561ae8c414e6</guid>
				<title>ফজর ওয়াক্তের পর
- অয়ন আবদুল্লাহ
ফুরাইয়া যাইবার আগেই মনের ভিত্রে
জন্মাইতে থাকে একটা খায়েশ-
ছাই হইয়া উইড়া যামু না এতো সহজেই।

ফিরা না আসলেই ভাইবেন না যে
মইরা গ্যাছি আপনাগো অবহেলায়। 
আগুনের কসম-
ভাতের থালে ফিরা আসুম খিদা হইয়া।
চোখের ভিতর জ্বইলা উঠুম স্লোগান নিয়া।

মনে করতে পারেন, আমি অভাবে নষ্ট হইয়া গ্যাছি;
তয় স্বভাবে আমি কিন্তু প্রতারক না,
তবুও প্রতারিত হইতে হইতে ঘেন্না করতে শিখছি।
মিথ্যা শুনতে শুনতে সত্য ভুইলা গ্যাছি।

খয়রাতের জীবনটারে খুব ভালোবাসছি,
মনের ভিত্রে একটা মিথ নিয়া 
তসবি গুইনা গুইনা স্বর্গের গল্প শুনছি।

তয়, সত্যি কই-
আমার প্রেমিকস্বভাব শুইয়া গ্যাছিলো বন্ধুর কবরে।
আমার নীরবতা কপাল ঠুকতেছিলো মায়ের জায়নামাজে।

এইসব শ্যাষ হইয়া যাইবো একদিন।
অথবা কোনোদিনই হয়তো হইবো না।
তবু, 
প্রতিরাইতে ঘুম ভাইঙ্গা গ্যালে একটাই প্রশ্ন জাগে;
আর কতগুলা মৃত্যুর পর মানবজনম সফল হইবো, কইতে পারেন?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246181/</link>
				<pubDate>Tue, 28 Apr 2026 11:43:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফজর ওয়াক্তের পর<br />
&#8211; অয়ন আবদুল্লাহ<br />
ফুরাইয়া যাইবার আগেই মনের ভিত্রে<br />
জন্মাইতে থাকে একটা খায়েশ-<br />
ছাই হইয়া উইড়া যামু না এতো সহজেই।</p>
<p>ফিরা না আসলেই ভাইবেন না যে<br />
মইরা গ্যাছি আপনাগো অবহেলায়।<br />
আগুনের কসম-<br />
ভাতের থালে ফিরা আসুম খিদা হইয়া।<br />
চোখের ভিতর জ্বইলা উঠুম স্লোগান নিয়া।</p>
<p>মনে করতে পারেন, আমি অভাবে নষ্ট হইয়া গ্যাছি;<br />
তয় স্বভাবে আমি কিন্তু প্রতার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246181"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246181/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1c843997cef95aebe6cd8a214de49a87</guid>
				<title>নেতাদের থেকে ভারতকে বাঁচাও
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ

অনেক দিন ধরেই একই ধরনের ক্যাওয়াজ শুনে আসছি- “ভারতকে এটা থেকে বাঁচাও, ওটা থেকে বাঁচাও। কিন্তু আসল কথা হলো, ভারতকে ঐসব লোকদের হাত থেকেই বাঁচাতে হবে যারা এই ধরনের ক্যাওয়াজ তৈরি করছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই যে, ক্যাওয়াজ করার ব্যাপারে এই লোকগুলো বেশ ওস্তাদ। কিন্তু আসলে তাদের মনে এই সব বিষয়ে ভাবনার লেশমাত্র নাই। কোনো সমাবেশে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে রাতে যখন এরা নিজেদের নরম, আরামদায়ক বিছানায় ঘুমাতে যায়, তখন তাদের মনটা একেবারে ফাঁকা থাকে। এমনকি রাতের গভীরতম সময়টাও এদের কাটে ভারতের দুর্দশার কথা না ভেবে। বস্তুত, এরা নিজেদের ভাবনায় এতোটাই বুঁদ হয়ে থাকে যে, স্বদেশের দুর্দশার কথা চিন্তা করার সময়টা পায় না।

এইসব লোকেরা নিজেদের ঘরই সামলাতে পারে না। এদের চরিত্র খুবই খারাপ, কিন্তু এরাই দেশের অবস্থার উন্নতি করতে আর মানুষকে নৈতিকতা শেখাতে রাজনীতির ময়দানে নেমে এসেছে! খুবই হাস্যকর বিষয়, তাই না!

এরা সাধারণত নেতা হিসেবে পরিচিত; এরা রাজনীতি ও ধর্মকে পঙ্গু, বিকলাঙ্গ ও আহত বলে মনে করে। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রায়শই আমাদের ব্যাবসায়ীদের ভিক্ষাবৃত্তিতে প্ররোচিত করে। এই প্রখ্যাত নেতারা রাজনীতি ও ধর্মের মৃতদেহ নিজেদের কাঁধে বয়ে বেড়ায়। অন্যদিকে উচ্চ কণ্ঠের আদেশ মেনে নিতে অভ্যস্ত সরলমনা লোকেরা বলতে থাকে যে এই নেতারাই সেই মৃতদেহকে নতুন জীবন দিচ্ছে।

ধর্ম যেমন ছিল, তেমনই থাকবে। ধর্ম এক অটল বাস্তবতা যা কখনো বদলাতে পারে না। এটা এমন শিলা যাকে সাগরের ভয়ংকর ঢেউও নাড়াতে পারে না। যখন এইসব নেতারা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে যে ধর্ম বিপদে পড়েছে, তখন তাতে কোনো সত্য থাকে না। ধর্ম তেমন কিছু নয় যা বিপন্ন হতে পারে; যদি কিছু বিপদে পড়ে, তবে সেটি হলো তাদের স্বার্থ যা ঠিক রাখতে এরা ধর্মকে ব্যবহার করে।

ভারতকে সেইসব নেতাদের হাত থেকে বাঁচান যারা দেশের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আপনি হয়তো জানেন না, তবে এটা সত্যি যে ভারতের এই তথাকথিত নেতারা বগলের নিচে একটি বাক্স নিয়ে ঘোরে এবং সবার পকেট থেকে টাকা সংগ্রহ করে। পুঁজির পেছনে ছোটাছুটি করাই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে ভণ্ডামি আর বিশ্বাসঘাতকতার দুর্গন্ধ অনুভব করা যায়।

এরা ফুলের ভারী মালায় ভারাক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেয় আর পথের মোড়ে দীর্ঘ বক্তৃতার নামে গলাবাজি করে। অন্তঃসারশূন্য কথা বলে আমাদের এই তথাকথিত নেতারা কেবল নিজেদের জন্যই বিলাসিতা ও ভোগবিলাসের পথ প্রশস্ত করে।

এই নেতারা দান সংগ্রহ করে, কিন্তু তারা কি কখনো বেকারত্বের কোনো সমাধান দিয়েছে? এই লোকেরা ধর্ম নিয়ে গলা ফাটায়, কিন্তু তারা কি কখনো নিজেরা ধর্মের নিয়মকানুন মেনে চলেছে? এই লোকেরা দানের ঘরে বাস করে, দানের টাকায় খায়, সস্তা জিনিস খেয়ে জীবন কাটায়। এদের আত্মা পঙ্গু, মস্তিষ্ক বিকল, জিহ্বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং হাত-পা আহত। এরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেবে?

ভারতের নতুন সুরে গান গাওয়া অগণিত নেতার প্রয়োজন নেই। এই দেশে প্রয়োজন কেবল এমন একজন নেতার, যাঁর মধ্যে থাকবে হযরত উমরের মতো সততা, আতাতুর্কের মতো সৈনিকসুলভ চেতনা। যিনি দৃঢ় পায়ে গর্বের সাথে এগিয়ে আসবেন এবং জাতির লাগামহীন ঘোড়ার লাগাম তুলে দিয়ে, বীরত্বের সাথে তাকে স্বাধীনতার রণক্ষেত্রের দিকে নিয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন, যাদের মুখমণ্ডল (অসন্তুষ্টিতে) কুঁচকানো, তারা কখনোই জাতির সেবা করতে পারবে না। এরা কেও গুরুভার নিয়ে জাতির সেবা করতে এগিয়ে আসলে তাকে বিতাড়িত করুন। শক্ত মাটিতে ঘুমাতে অভ্যস্ত এবং নরম ও কোমল পোশাকে অনভ্যস্ত জনগণকে সবুজ কম্বলে আবৃত এইসব নেতারা নেতৃত্ব দিতে অক্ষম। যদি রেশমি পোশাক পরা কোনো ব্যক্তি আপনাকে নিজের দুর্দশার কথা বলতে সাহস করে, তবে তাকে তুলে নিয়ে যেখান থেকে এসেছে সেখানেই ছুঁড়ে ফেলে দিন।

এই নেতারা জাতির দেহে বাসা বাঁধা ছারপোকার মতো। ঘৃণার জ্বলন্ত অঙ্গার দিয়ে তাদের বিতাড়িত করতে হবে। এই নেতারা পুঁজি ও পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে শুধুমাত্র নিজেদের সম্পদ আহরণ করতে। তারা তো পুঁজিপতিদের চেয়েও জঘন্য! তারাই সব’চে বড় চোর, সব’চে বড় দুষ্কৃতিকারী। তাদের প্রতি জনগণের অনাস্থা প্রকাশ করার সময় এসে গেছে।

হতাশাগ্রস্ত যুবকদের জেগে উঠতেই হবে।এইসব তথাকথিত নেতাদের তাদের উচ্চাসন থেকে নামিয়ে আনার দৃঢ় সংকল্প তাদের প্রশস্ত বক্ষে ধারণ করতে হবে এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের অনুমতির তোকাক্কা না করে তারা সেই আসনে অধিষ্টিত হয়ে আছে। আমাদের প্রতি, আমাদেরই মতো দরিদ্র ভাইদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর কোনো অধিকার তাদের নেই। মনে রাখবেন, দারিদ্রতা কোনো অভিশাপ নয়। যারা একে অভিশাপ দেয়, তারা নিজেরাই অভিশপ্ত। একজন গরীব লোক একজন ধনী লোকের চেয়ে লক্ষ গুণ উত্তম, যে নিজের কাজ নিজেই করে। আপন নৌকার মাঝি হও, নিজের লাভ-ক্ষতির কথা ভাবো। তারপর এইসব নেতাদের, এই তথাকথিত পথপ্রদর্শকদের কাণ্ড দেখো- জীবনের বিশাল সমুদ্রে তারা কীভাবে নিজেদের সম্পদপূর্ণ ভারী জাহাজটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/245942/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Apr 2026 04:21:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেতাদের থেকে ভারতকে বাঁচাও<br />
মূল প্রবন্ধ- সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>অনেক দিন ধরেই একই ধরনের ক্যাওয়াজ শুনে আসছি- “ভারতকে এটা থেকে বাঁচাও, ওটা থেকে বাঁচাও। কিন্তু আসল কথা হলো, ভারতকে ঐসব লোকদের হাত থেকেই বাঁচাতে হবে যারা এই ধরনের ক্যাওয়াজ তৈরি করছে। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই যে, ক্যাওয়াজ করার ব্যাপারে এই লোকগুলো বে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-245942"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/245942/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e92af64e83e12ba66af179d540e89d7a</guid>
				<title>বিশ্বস্ত কিছুই নয়
- 

যতটুকু গভীর আশ্বাস লুকিয়ে থাকে চোখের ভিতর
তারও অধিক লুকায়িত খঞ্জরের ধারে।
এরপরও আমি জানি
কারও কারও কথা, কারও কারও ব্যথা
জ্বলে আজীবন, জ্বালায় আজীবন।

ঐ পাখিজীবন নিয়ে
যে সাঁতরায় মাছেদের সাথে,
জলের বিবাদে মাতে রঙিন জলসায়-
প্রশ্ন আসে- বিলুপ্ত ডায়নোসরের মতো
মানুষের বিশ্বাসে।

কে হাসে?
কে আসে
ধীরপায়ে এগিয়ে হাতে নিয়ে সময়লিপি?

চেনা নেই তারে, 
অদ্ভুত দেহের ভেতর বাস করে একাকী।

অথচ ভাবি, বহুদিন দেখা নেই তবু
আপনার চেয়ে আপন সে যে।
বিশ্বস্ত ছুরির মতো বুকে চেপে বসে
বলে, দেখে নাও জীবনের রূপ।

আমি গন্ধ পাই পচা লাশের
আমার জামায়, আমার চুলে, আমার মুখের ভেতর।
হাতের আঙ্গুল কাঁপে সংকোচের জড়তা ভেঙে।

ভাবি, এই যে মানুষ ভেসে যাচ্ছে কতো
এদেরই মতো
আমিও তবে ভেসে যাবো সন্ধ্যার উপকূলে।
কোনো নিঃসঙ্গ জানালায় হারিকেন জ্বেলে
আমারই গল্প পড়বে কোনো কিশোরী।
কোনো তরুণী আমার কবিতা পড়ে হবে মিছিলের প্রেমিকা।

এইসব আশা করে করে
আমি খুব চাইলাম বিশ্বাসী হতে।
অথচ, বিশ্বস্ত নয় কিছুই।
এই পচে যাওয়া মানুষের কোলাহলে
আমি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/245863/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Apr 2026 05:21:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বস্ত কিছুই নয়<br />
&#8211; </p>
<p>যতটুকু গভীর আশ্বাস লুকিয়ে থাকে চোখের ভিতর<br />
তারও অধিক লুকায়িত খঞ্জরের ধারে।<br />
এরপরও আমি জানি<br />
কারও কারও কথা, কারও কারও ব্যথা<br />
জ্বলে আজীবন, জ্বালায় আজীবন।</p>
<p>ঐ পাখিজীবন নিয়ে<br />
যে সাঁতরায় মাছেদের সাথে,<br />
জলের বিবাদে মাতে রঙিন জলসায়-<br />
প্রশ্ন আসে- বিলুপ্ত ডায়নোসরের মতো<br />
মানুষের বিশ্বাসে।</p>
<p>কে হাসে?<br />
কে আসে<br />
ধীরপায়ে এগিয়ে হাত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-245863"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/245863/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b81266929d076e2ab95d223dd92a9836</guid>
				<title>খুলে দাও
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ

অমৃতসর থেকে বিশেষ ট্রেনটি দুপুর দুইটায় যাত্রা শুরু করে আট ঘণ্টা পরে মুঘলপুরায় পৌঁছায়। পথিমধ্যে বহু পুরুষ মারা গেছে, অনেকে আহত হয়েছে আর কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে গেছে।
সকাল ১০ টা। ক্যাম্পের ঠাণ্ডা মাটিতে শুয়ে থাকা সিরাজউদ্দিন চোখ খুলে যখন তার চারপাশে পুরুষ, নারী ও শিশুদের বিশাল সমুদ্রটা দেখতে পেলো, তখন তার বোধ-বুদ্ধি আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্ধকার আকাশের দিকে অনেকক্ষণ ধরে সে তাকিয়ে থাকলো। পুরো ক্যাম্প জুড়ে শোরগোল থাকলেও বুড়ো সিরাজউদ্দিনের কান কাজ করছিলো না। তাই সে কিছুই শুনতে পারছিলো না। কেউ দেখলে ভাববে বুড়ো গভীর চিন্তায় মগ্ন, কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। তার সমস্ত ইন্দ্রিয় অবশ হয়ে গেছে। তার অস্তিত্ব শূন্যে বিলীন হয়ে গেছে।
মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলো সিরাজউচ্চিন। হঠাৎ মেঘের ফাঁক গলে সূর্যের আলো তার চোখের উপর পড়তেই তার অস্তিত্বের শিরায় তীব্র আঘাত করলো। সাথে সাথে সে যেন জেগে উঠলো। তার মনে অনেকগুলো ছবি ভেসে উঠলো-
লুটপাট… আগুন… পালিয়ে যাওয়া… স্টেশন… বড়ি… অন্ধকার আকাশ। সিরাজউদ্দিন লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো আর উদ্ভ্রান্তের মতো তার চারপাশের জনসমুদ্রে চোখ বোলাতে থাকলো।
টানা তিন ঘণ্টা সে “সাকিনা, সাকিনা” করে পুরো ক্যাম্পটা চষে ফেললো। কিন্তু তার একমাত্র মেয়েটাকে সে কোথাও খুঁজে পেলো না। বুড়োর মতো আরো অনেকেই সেখানে ছিলো। কেউ তার সন্তানকে, কেউ মাকে, কেউ স্ত্রীকে আবার কেউ তার মেয়েকে খুঁজছিলো।
ক্লান্ত হয়ে সিরাজউদ্দিন এক জায়গায় বসে পড়লো আর মনে করার চেষ্টা করতে লাগলো- সাকিনা কখন হাফিজার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এ সময় তার মনে সাকিনার মায়ের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহটার কথাই আসতে লাগলো। এর বাইরে সে আর কিছুই ভাবতে পারলো না।
সাকিনার মা মরে গেছে। সে মরেছে সিরাজউদ্দিনের চোখের সামনেই। কিন্তু সাকিনা তখন কোথায় ছিলো সে বলতে পারে না। তার মা মরার সময় বলছিলো, “আমাকে ফেলে সাকিনাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি পালাও।”
সাকিনা তার সাথেই ছিলো। দু’জন খালি পায়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছিলো। এমন সময় সাকিনার ওড়নাটা পড়ে গেলে সে তুলতে গেলো। মেয়েটা তাকে চিৎকার করে ডাকছিলো, “বাবা!...”। ওড়নাটা সে তুলে নিয়েছিলো, ওটার কথা মনে আসতেই কোটের উঁচু হয়ে থাকা পকেট থেকে সে একটা কাপড় বের করলো। সাকিনার ওড়না তো আছে, কিন্তু সাকিনা কই?
সিরাজউদ্দিন তার ক্লান্ত মগজে অনেক চাপ দিয়েও কোনো কিছু মনে করতে পারলো না। সে কি সাকিনাকে সাথে নিয়ে স্টেশনে গিয়েছিলো? তার সাথেই কি সাকিনা গাড়িতে উঠতে পেরেছিলো? বালওয়াইতে ঢোকার মুখে সে কি অজ্ঞান হবার ভান করেছিলো যেন গাড়ী থামিয়ে সাকিনাকে নিয়ে উঠতে পারে?
সিরাজউদ্দিনের মনে অনেক প্রশ্ন, কিন্তু সেগুলোর কোনটারই জবাব তার কাছে নেই। তার সহানুভূতির দরকার ছিলো, যেমনটা তার চারপাশে থাকা সবারই প্রয়োজন ছিলো। সিরাজউদ্দিন কাঁদতে চাইলো, কিন্তু তার চোখ দুটো প্রতারণা করলো। তার চোখের পানি যেন নিঃশেষ হয়ে গেছে।
ছয়দিন পর যখন সিরাজউদ্দিন কিছুটা ধাতস্থ হলো, সাহায্যকারী হিসেবে কিছু লোককে সে পেলো। লোকগুলো ছিলো যুবক। তারা ছয়জন ছিলো। তাদের কাছে লরি আর বন্দুক ছিলো। সিরাজউদ্দিন তাদের ধন্যবাদ আর দোয়া দিয়ে সাকিনার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিলো।
“মেয়েটা আমার ভারী সুন্দর। আমার মতো না, হয়েছে ওর মায়ের মতো। বয়স ১৭ হবে। টানা টানা চোখ, কালো চুল, ডান গালে একটা বড় তিল। আমার একটাই মেয়ে, বাবারা। একটু খুঁজে দাও, খোদা তোমাদের ভালো করবে।
লোকগুলো সিরাজউদ্দিনকে আশ্বস্ত করে বললো যে, বেঁচে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই সাকিনাকে তারা খুঁজে বের করে ফেলবে।
তারা আসলেই প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলো। জীবন হাতে নিয়ে অমৃতসর গিয়েছিলো। অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিয়ে গেছে। কিন্তু দশদিন পার হবার পরেও তারা সাকিনাকে খুঁজে পেলো না।
একদিন লরি নিয়ে যুবকেরা অমৃতসর যাচ্ছিলো। চাহার্তার কাচ্ছাকাছি রাস্তায় একটা মেয়েকে তারা খুঁজে পেলো। লরির শব্দ শুনে মেয়েটা পালানোর জন্য দৌড় দিলো। লরি থামিয়ে যুবকেরাও তার পিছু নিলো।
অবশেষে তারা মেয়েটিকে একটা মাঠের ভেতর ধরে ফেললো। মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরী ছিলো। তার ডান গালে একটা বড়সড় তিলও ছিলো। একজন মেয়েটাকে বললো, “ভয় পেয়ো না। তোমার নাম কি সাকিনা?”
সাকিনা এই কথা শুনে আরো ভয় পেয়ে গেলো। সে জবাব দিলো না। কিন্তু সবাই মিলে যখন আশ্বস্ত করলো, তখন তার ভয় দূর হলো। সবাই বুঝতে পারলো এ-ই হচ্ছে সিরাজউদ্দিনের হারিয়ে যাওয়া সেই মেয়ে।
যুবকেরা সাকিনার প্রতি বেশ সদয় আচরণ করলো। তারা সাকিনাকে লরিতে উঠিয়ে দুধ খেতে দিলো। একজন তার শার্ট খুলে সাকিনাকে দিলো, কারণ ওড়না না থাকায় সে ইতস্তত বোধ করছিলো আর বার বার হাত দিয়ে বুক ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করছিলো।
এদিকে অনেকদিন হয়ে গেছে, সিরাজউদ্দিন সাকিনার কোনো খবর পায়নি। প্রতিদিন বিভিন্ন ক্যাম্পে আর অফিসে ঘুরে বেড়াতো। কিন্তু তার পরেও হারানো মেয়েটার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতের বেলা সে ঐ যুবকদের জন্য দোয়া করতো, যারা তাকে বলেছিলো, সাকিনা বেঁচে থাকলে তারা কয়েকদিনের মধ্যেই ওকে খুঁজে বের করবে।
একদিন ক্যাম্পে সিরাজউদ্দিন ঐ যুবকদের দেখলো। তারা লরিতে বসেছিলো। সিরাজউদ্দিন দৌড়ে তাদের কাছে যেতে যেতেই লড়িটি চলতে শুরু করলো। সে যুবকদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে জানতে চাইলো, “তোমরা কি আমার মেয়েকে খুঁজে পেয়েছো?”
তার কথার জবাবে সমস্বরে সবাই বলে উঠলো, “চল চল, তাড়াতাড়ি চল।”
লরিটা চলে গেলো। সিরাজউদ্দিন আরো একবার যুবদের সাফল্যের জন্য দোয়া করলো।
সন্ধ্যার দিকে সিরাজউদ্দিন ক্যাম্পে বসেছিলো। এমন সময় কাছেই একটা শোরগোল শোনা গেলো। চারজন মানুষ কিছু একটা বয়ে আনছিলো। সিরাজউদ্দিন জানতে পারলো, একটা মেয়েকে অজ্ঞান অবস্থায় রেলওয়ে লাইনের উপর পাওয়া গেছে; লোকগুলো তাকে তুলে নিয়ে এসেছে।
সিরাজউদ্দিন তাদের পিছে পিছে গেলো। লোকগুলো মেয়েটাকে হাসপাতাল কর্মীর হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলো। সিরাজউদ্দিন কিছুক্ষণ হাসপাতালের সামনে একটা ভাঙ্গা কাঠের পোলে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। তারপর ধীরে ধীরে ভেতরে গেলো।
আশেপাশে কেউ ছিলো না। শুধু একটি স্ট্রেচারের উপরে লাশ পড়ে ছিলো। সিরাজউদ্দিন সেদিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো। ঘরে আলো ছিলো। সেই আলোতে সিরাজউদ্দিন লাশের হলুদ মুখে জ্বলজ্বলে তিলটা দেখে চিৎকার করে উঠলো।
“সাকিনা…!”
যে ডাক্তার রুমের আলোটা জ্বালিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো, সে দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করলো, “একে চেনো তুমি?”
সিরাজউদ্দিন শুধু বলতে পারলো, “হ্যাঁ… চিনি… আমি যে ওর বাপ…!”
ডক্টর স্ট্রেচারে থাকা দেহটার দিকে তাকিয়ে নাড়ি পরীক্ষা করলো। এরপর সিরাজউদ্দিনকে বললো, “জানালাটা খুলে দাও।”
এমন সময় সাকিনার নিষ্প্রাণ দেহটা নড়ে উঠলো। অসাড় হাতটা দিয়ে সে দড়ি খুলে সালোয়ারটা নিচে নামালো।
সিরাজউদ্দিন আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “বেঁচে আছে… আমার মেয়ে বেঁচে আছে!!”
সেই চিৎকার শুনে ভয়ে ডাক্তারের ঘাম ছুটে গেলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243935/</link>
				<pubDate>Thu, 09 Apr 2026 04:44:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>খুলে দাও<br />
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>অমৃতসর থেকে বিশেষ ট্রেনটি দুপুর দুইটায় যাত্রা শুরু করে আট ঘণ্টা পরে মুঘলপুরায় পৌঁছায়। পথিমধ্যে বহু পুরুষ মারা গেছে, অনেকে আহত হয়েছে আর কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে গেছে।<br />
সকাল ১০ টা। ক্যাম্পের ঠাণ্ডা মাটিতে শুয়ে থাকা সিরাজউদ্দিন চোখ খুলে যখন তার চারপাশে পুরুষ, নারী ও শি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-243935"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/243935/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1e9b71cac8804e4d7049169258306a41</guid>
				<title>অয়ন আবদুল্লাহ and ইফতিশা খানম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243827/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Apr 2026 10:21:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc7d3551e880ca8d6d880b50caddb33f</guid>
				<title>ফিসফাস গল্প
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ

সময়টা কনকনে শীতকাল।
রাত তখন দশটা। শালামার বাগ থেকে লাহোর যাওয়ার রাস্তাটা নির্জন আর অন্ধকার ছিলো। চারপাশে ঘন কুয়াশার মেঘ, সেইসাথে জব্বর বাতাস।
আশেপাশের সবকিছু যেন ঠাণ্ডায় জমে আছে। রাস্তার ধারের দুটো নিচু বাড়ি আর গাছগুলোকে দেখাই যাচ্ছে না ঠিকমতো। দূরের বিদ্যুতের খুঁটিগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত শীতে কুঁজো হয়ে পড়ছে। চারিদিকে এক বিষণ্ণ নীরব পরিবেশ। শুধুমাত্র উম্মত্ত বাতাস তার উপস্থিতি জানান দেবার বৃথা চেষ্টা করছে।

দুই সাইকেলচালক যখন সেখানে আসলো, তখন তারা নিজেদের ওভারকোটের কলার ঠিক করছিলো। দমকা হাওয়া তাদের কানে বাড়ি মারছিলো, ঠাণ্ডায় কথাও বলতে পারছিলো না। সাইকেলচালক দু’জনের প্যাডেল মারতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু তারা সেই কষ্ট গ্রাহ্য না করে একে অপরের ছায়া হয়ে শালামার বাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সাইকেল দুটো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর মরিচা ধরা পাতের মতো রাস্তাটা সেইগুলার চাকার তল দিয়ে পিছলে যাচ্ছে।

কিছুক্ষণ পাশাপাশি চলার পরে একজন সাইকেল থামিয়ে নিজের হাত দুটো গরম করার জন্য মুঠ করে মুখে ভাপ দিতে লাগলো আর ঘষতে লাগলো। তার সঙ্গীও সাথে সাথে ব্রেক কষে দাঁড়ালো। হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো, “ভাই, সেই… সেই হুইস্কিডা কই গেলো?”
“জাহান্নামে গেছে, যেইখানে সারা রাইত লুটপাট হয়, অথবা এখনো শুরু হয় নাই।”
ঐ দুইজন আপন ভাই ছিলো, যারা শরীয়তবিরোধী পাপগুলো একসাথেই করতো। সকালে তারা ঠিক করেছিলো, দুপুর দুইটার কাছাকাছি সময়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেই অবৈধ টাকাগুলা পাবে সেগুলো সহীহ উপায়ে কীভাবে খরচ করবে, সেই বিষয়ে একসাথে বসে ভাববে।
কিন্তু ঘুষদাতা তাড়াহুড়ো করায় সেই টাকা দুইটার আগেই তারা পেয়ে গিয়েছিলো। টাকাগুলো বড় ভাই ভালো করে পরীক্ষা করে নিয়েছিলো, কোনো দাগটাগ আছে কি না চেক করার জন্য। বেশি টাকা না, মাত্র দুইশ এক টাকা। কথা হয়েছিলো দুইশ টাকার, উপহার হিসাবে সেই লোক ১ টাকা বেশি দিয়েছে। ছোট ভাইয়ের পরামর্শে বড় ভাই বাড়তি টাকাটা এক অন্ধ ফকিরকে দান করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে দুই ভাই হীরাবাজারের দিকে যাচ্ছে।
ছোট ভাইয়ের পকেটে স্কচের বোতল ছিলো, বড়টার পকেটে ছিলো দুটো থ্রী-ফাইভের বাক্স। এমনিতে তারা গোল্ড ফ্লেক খায়, কিন্তু ঘুষের টাকা পকেটে আসলে তাদের দামী ব্র্যান্ড ছাড়া চলে না।  
হীরাবাজারে পৌঁছানোর একটু আগে, বাদশাহী মসজিদে আযান হলো। বড়ভাই ছোটভাইকে বললো, “চল ভাই, নামাজটা পইড়া নেই।”
ছোটভাই নিজের ফুলে থাকা পকেট দেখিয়ে বললো, “এইডা কি করমু, ভাই?
বড়ভাই একটু ভেবে বললো, “চিন্তা করিস না, একটা বুদ্ধি বাইর করছি।”
পাশেই একটা জর্দাপানের দোকান ছিলো। বড়ভাই একটা বড় কাগজে বোতলটা পেচিয়ে দোকানদারকে দিলো। দোকানের পাশে নিজের আর তার ভাইয়ের সাইকেলটা রেখে দোকানদারকে বললো, “আমরা নামাজ পড়তে আসছি।”
দোকানদার হাসলো।
দুই ভাই নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকলো। জামাতে নামাজ পড়ে সাথে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দু’জন বের হয়ে দেখলো জর্দাপানের দোকানটা বন্ধ। পাশের আরেকটা দোকানের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, “আমি পূজা করতে গেছিলাম।”
দুই ভাইয়ের অবস্থাটা তখন দেখার মতোন হলো।
পাশের দোকানদার হেসে বললো, “মাঝে মাঝে বছরে চার মাস পরপর তার দেখা পাই।”
দুই ভাই আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো। তবুও যখন সেই দোকানদার আসলো না, বড়ভাই ছোটভাইকে বললো, “কপালে শনি আছিলো দেইখাই আমি ওই জারজটারে বিশ্বাস করছিলাম। যা, আরেক বোতল কিনা আন।”
বড়ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছোটভাই বললো, “জিনিসটা আমার পকেটে থাকলে কী সমস্যা হইতো?”
“বাদ দে ভাই। এইটা নিয়া ভাইবা আর লাভ নাই। বোতলটা হারায়া গেছে দেইখা আমার মন খারাপ হয় নাই, ওইটা হাত থেইকা পইড়া ভাইঙ্গাও যাইতে পারতো…! আফসোস হইতাছে এই ভাইবা যে, হারামিটা চুরির মাল মজা নিয়া খাইতাছে।
সাইকেলে উঠতে উঠতে ছোটভাই জিজ্ঞেস করলো, “তুমি এইখানেই থাকবা নাকি?”
বড়ভাই মন ভার করে বললো, “হ, আমি এইখানেই অপেক্ষা করমু। মাল খায়া টাল হয়া বদমাইশটা ফিরা আসতেও পারে। কিন্তু তুই আবার দেরি করিস না।

ছোটভাই তাড়াতাড়িই ফিরলো, কিন্তু মুখ গোমরা করে ফিরলো। ছোটভাইয়ের পেছনে সাইকেলের ক্যারিয়ারে একটা লোক বসে ছিলো। বড় ভাইয়ের মনে সন্দেহ দেখা দিলো- নিশ্চয়ই বড়সড় কোনো ঘাপলা হয়েছে। সাইকেল থেকে নেমে ছোট ভাই বিস্তারিত বললো।
নতুন বোতল নিয়ে যখন সে মদের দোকান থেকে বের হলো, দেখলো একদফা বৃষ্টি হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট পুরোই ভেজা। দ্রুত ফিরে যাবার জন্য সে খুব জোরে সাইকেল চালাতে লাগলো। কিন্তু হঠাৎ করে চাকা পিছলে গেলে সে সামলাতে পারে নি। খোলা রাস্তার উপরে সাইকেল নিয়ে পড়ে যাওয়ায় নতুন বোতলটা চুরমার হয়ে গেছে।
ছোটভাই পুরা ঘটনা বর্ণনা করে বললো, “আল্লাহ’র দয়ায় আমি বাঁইচা ফিরছি। যদি ভাঙ্গা বোতলের টুকরা কাপড় ছ্যাদা কইরা আমার শরীরে ঢুকতো, তাইলে এইখানে আসার পরিবর্তে আমারে হাসপাতালে যাইতে হইতো।”
বড়ভাই হাভেভাবে আল্লাহ’র শুকরিয়া আদায় করার কোনোরকম ইচ্ছা দেখা দিলো না। যেই লোক ছোট ভাইয়ের সাথে এসেছিলো, তার কাছে আরেক বোতল মদ ছিলো। সেই বোতল দুই ভাইয়ের কাছে বেচে দিয়ে পানের দোকানের দিকে তাকিয়ে একটা গালি দিলো। তারপর বললো, “শালার দোকানটারে পুড়ায়া দে!”

দুই ভাই জানতো তারা কই যাবে। চকের এদিকে একটি কাবাব ঘরের উপরের তলার একটি কামরায় এই দুই ভাই তাদের দুই নম্বরি টাকা উড়াতো। সেই ঘরে এক মহিলা থাকতো, যে খেতে খুব ভালোবাসতো। অভ্যাসের দিক থেকে সে বেশ্যার চাইতে কেরানি ছিলো বেশি। দুই ভাইয়ের এই কারণেই তাকে অধিক পছন্দ ছিলো। মদ খেয়ে টাল হওয়ার পর দুই ভাই অফিসের প্যাচাল পাড়তো। হেড ক্লার্কের বর্তমান অবস্থা, বড়সাহেব কী করে, তার কাজের লোকটার বদঅভ্যাস, ইত্যাদি ইত্যাদি। অফিসের সবার অতীত বর্তমান নিয়ে টিপ্পনী মারতে মারতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেতো আর সেই মহিলা খুব মনযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতো।

মহিলাটা দেখতে খুব সুন্দরী। দুই ভাই তার গান এমন গভীর মনযোগ দিয়ে শুনতো, যেন তাদের কানে মধুবর্ষণ হচ্ছে। কিন্তু আজ গান গাওয়ার সময় সে খেয়াল করলো, দুই ভাইয়ের এদিকে যেন কোনো খেয়ালই নেই। তাই সে গান বন্ধ করে যতটুকু মদ বাকি ছিলো, সেটা খাওয়ায় মন দিলো।
মহিলার নাম ছিলো শীদান। সে খুব কম মদ খেতো। কিন্তু আজ যখন দুই ভাই গানে না মজে মদে বেশি ডুব দিলো, তখন ভাঙ্গা মন নিয়ে সে-ও গিলতে শুরু করলো।
বড় ভাইয়ের মেজাজ খারাপ ছিলো, কিন্তু ছোট ভাইয়ের মন ভালো দেখে সে চুপচাপ মদ খাচ্ছিলো। কিন্তু এই অবস্থা বেশিক্ষণ থাকলো না। যখন ছোটভাই আবার মদের বোতলটা হাতে নিলো, দেখলো সেটা পুরা খালি। এবার দুই ভাইয়ের মন একসাথে খারাপ হলো।
বড়ভাই ছোটভাইয়ের সাথে পরামর্শ করার দরকার মনে করলো না। খিস্তি মেরে একটা লোককে বললো, “যা, দৌড় দিয়া একটা জিমখানা হুইস্কি নিয়া আয়।”
সেই তৃতীয় ব্যক্তি পয়সা পকেটে ঢুকিয়ে বললো, “হুজুর এইখানে শুধু কালাপানি পাওয়া যায়।”
দুই ভাইয়ের মেজাজ চরমে উঠলো। জিদের চোটে বড়ভাই একটা পানির বোতল হাতে তুলে নিলো। তার মন চাচ্ছিলো বোতলটা বেঈমান মদ বিক্রেতার মাথায় ভাঙ্গে। কিন্তু সাথে সাথেই তার মনে পড়লো, যে তার কাছে লাইসেন্স নেই। তাই, আর কিছু না বলে সে চুপ হয়ে গেলো।

ছোটভাই আর শাদীন অনেক চেষ্টা করে তাকে শান্ত করলো। খাওয়া দাওয়ার পরে শাদীন হুক্কা টানতে বসলো, আর দুই ভাই তখন আর সেখানে থাকা উচিৎ হবে না ভেবে সাইকেল নিয়ে বের হইয়া গেলো। তারা কিছুক্ষণ ‘হিরামন্ডি’র অলি-গলিতে সেই দোকানদারকে খুঁজতে লাগলো। সারাদিনে এতো কাহিনী হয়েছে যে, শেষে শরীর আর নিতে পারছিলো না। দুই ভাই বাড়ি ফেরার জন্য যেই রওনা দিবে, তখনই এক ঘটনা দেখলো। দুইভাই এতো গিলেছে যে, মাথা আর ঘাড়ের ব্যথায় সামনে তাকাতে পারছিলো না। ভাবলো, আগে থেমে একজন আরেকজনকে মালিশ করে দিবে। কিন্তু তখনই একটা হাবিলদার এসে সেই লোকটাকে ধরে থানায় নিয়ে চললো, যে তাদের মদ চুরি করে খেয়ে টাল হয়ে ছিলো।  
ছোটভাই বললো, “ভাই, অহন তামাশা দেখবা।”
বড়ভাই জিজ্ঞেস করলো, “কার তামাশা দেখমু?”
ছোটভাই- কার তামাশা মানে?
বড়ভাইয়ের মুখে একটা অর্থবোধক হাসি দেখা দিলো। 
“কেউ যদি আমাদের চিনবার পারে বা আমাদের মুখে যদি কেউ মদের গন্ধ পায়, তাইলে আমরাই তামাশার বিষয় হইয়া যামু।”
ছোটভাই বড়ভাইয়ের কথায় ঘাবড়ে গিয়ে বললো, “ভাই চলো পালাই। বাড়ি ফিরা যাই।”

ফাঁক বুঝে দুই ভাই সাইকেল নিয়ে ভেগে গেলো। একটু আগে বৃষ্টি পড়ছিলো, এখন থেমে গেছে। কিন্তু ঠাণ্ডা বাতাসের দাপট সমানে চলছে। হিরাবাজার থেকে বের হওয়ার মুখেই দুইভাই তাদের অফিসের এক বড়সাহেবকে দেখতে পেলো। দুইভাই তাকে এড়াতে চাইলেও সম্ভব হলো না, সে তাদের দেখে ফেললো।
“কই যাও?”, বড়সাহেব জিজ্ঞেস করলো।
তারা জবাব দিলো না।
“আরে, কই যাও?” বড়সাহেব আবার জিজ্ঞেস করলো।
এই অবস্থায় আর এড়ানো যায় না। দুইভাই সাইকেল থামানের পর বড় অফিসার জিজ্ঞেস করলো, “কি, খুব মজা করলা মনে হয়?”
ছোটভাই বললো, ”জি”। বড়ভাই বললো, “না”।
বড়সাহেব মজা পেয়ে একচোট হাসলো। এরপরে ভদ্রতা করে বললো, “আমার মজা এখনও পুরা হয় নাই। তোমাদের কাছে কি টাকা আছে?”
এইবার বড়ভাই বললো, “জি আছে” আর ছোট ভাই বললো, “না,স্যার।”
বড়সাহেব আরেকবার খুব জোরে হেসে বললো, “আমার একশ টাকার বেশি লাগবে না।“  
বড়ভাই যন্ত্রের মতোন ১০০ টাকা বের করে ছোটভাইকে দিলো। ছোটভাই টাকাটা দিতেই বড়সাহেব “ধন্যবাদ” বলে তাদের পথ ছেড়ে দিলো।
দুইভাই বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। তারপর বড়ভাই তার কপাল থাবড়াতে থাবড়াতে বললো, “আজ সকালে যে কার মুখ দেখছিলাম, আল্লাই জানে।”
ছোটভাই বাজে একটা গালি দিয়ে বললো, “কার মুখ আবার, যেই লোক আজকে দুইশ এক টাকা দিছিলো, সেই শুয়োরের বাচ্চার।
বড়ভাইও সেই লোককে মন ভরে গালি দিলো। এরপর বললো, “আমার মনে হয় সব দোষ ঐ বাড়তি এক টাকার যেইটা সে তার মনের শান্তির জন্য আমাগোরে উপহার দিছিলো।”
“অথবা সকাল বিকাল আমরা যার পিছে খাড়ায়া নামাজ পড়ি।”
“অথবা, সেই শুয়োরটা, যে আমাদের মদ চুরি করছিলো।”
“কপাল ভালো যে পুলিশে ধরছে। নাইলে আজকে ওয় আমার হাতেই মরতো।”
“কিছু পাইতে হইলে কিছু দিতে তো হইবোই।”
“ওরে দিতেও হইতো, নিতেও হইতো। আল্লায় জানে, বড়সাহেব কোইত্থিকা যে নাজিল হইছিলো!”
“তয় কপাল ভালো। ১০০ টাকার বিনিময়ে ইজ্জত রক্ষা হইছে।”
“সেইটাও ঠিক। তয় আজকে আমাদের পকেটের উপর মারাত্মক লুটপাট হইছে।”
“চল ভাই, আবার কোনো ঝামেলা আসার আগেই ফিরা যাই।”
এরপর দুই ভাই সাইকেলে চড়ে হিরাবাজার থেকে বের হয়ে গেলো।
 
অফিস থেকে বের হবার সময় বড়ভাই মনে মনে ঠিক করেছিলো, দুই-তিন পেগ স্কচ খাওয়ার পর শীদানকে ওর ছোট বোনটাকে ডাকতে বলবে। শীদান ওর ছোট বোনের খুব সুনাম করতো। সে দেখতে নাকি খুবই সুন্দরী আর বয়সেও কচি; গ্রামের হাওয়া বাতাস খেয়ে বড় হয়েছে। কয়েক মাস আগে নিজের ধান্দাও শুরু করেছে।
স্কচ, হুইস্কি আর শীদান ছাড়া আর কিছু সুন্দর আসলেই আছে কি না, সেটা দেখার খুব খায়েশ ছিলো। কিন্তু বড়ভাইয়ের মনের সেই গুপ্ত খায়েশ গুপ্তই থেকে গেলো।
ছোটভাইয়ের মনের মধ্যেও রঙ্গলীলা জেগে উঠছিলো। এমন দারুণ মরসুমে হুইস্কি আর শাদীন ওকে খুশি করে দিতে পারতো। এতোটাই খুশি করে দিতে পারতো যে, টানা ১৫-২০ দিন আর কোনো মৌজমাস্তি করার দরকারই হতো না।
দু’জনের মাথা আর মন, দুটোই ভারী হয়ে গিয়েছিলো। তারা যেমনটা ভেবেছিলো, দিনটা তেমন যায় নি। স্কচের প্রথম বোতলটা পানওয়ালা চুরি করে নিয়েছিলো, দ্বিতীয় বোতলটা রাস্তায় পরে ভেঙেছিলো, তৃতীয়টায় ভাগে কম পড়েছিলো, কারণ শাদীনের আসরে আজকে লোক বেশিই ছিলো। চতুর্থবার যখন মদ আনালো তখন দেখলো মদের থেকে পানির পরিমাণই বেশি। আর পঞ্চমবার যখন মদ কেনার কথা ভাবছিলো, তখনই বড়সাহেব এসে ১০০ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেলো।
বড়ভাই একটু বেশিই রেগেছিলো। এতোটাই রেগেছিলো যে, তার মাথার মধ্যে আজব আজব চিন্তা আসছিলো। সে কিছু একটা করতে চাচ্ছিলো, যেমন কুকুরের মতোন জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করা, অথবা সাইকেলটাকে তুলে আছাড় মেরে গুড়োগুড়ো করে দেয়া, অথবা শরীরের সব কাপড় খুলে উদাম হয়ে কুয়োর মধ্যে ঝাঁপ দেওয়া। যেই পরিস্থিতি তাকে নিয়ে তামাশা করেছে, সেই তামাশাটুকু সে ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছিলো। কিন্তু সেই সময়টা এখন চাইলেও আর হিরামন্ডি থেকে উড়ে আসবে না। এসব ভেবে নিজেকে তার খুব অসহায় লাগছিলো।

একটা ঘর, যেখানে তারা শান্তিমতো ঘুমাতে পারতো। কিন্তু শুধু শান্তি দিয়ে কি হবে? ভালো হতো, যদি দুইশ টাকার চরস টেনে সকালে আরামসে উঠে বাড়তি এক টাকা কোনো মাজারে খয়রাত করতে পারতো।
ভাবতে ভাবতে বড়ভাই চিৎকার দিয়ে উঠলো’ “ধুর বাল!”
ছোটভাই ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “টায়ার পাংচার হয়া গেছে নাকি, ভাই?”
বড়ভাই জবাব দিলো, “না, ভাই। আমি আমার ঘিলুটারে পাংচার করার চেষ্টা করতেছি।”
ছোটভাই বুঝতে পারলো। বললো, “হইছে, অখন তাড়াতাড়ি ঘরে চলো।”
বড়ভাইয়ের বিরক্তি আরো বেড়ে গেলো।
“বাড়ি গিয়া কী করবি? বাল ফালাবি?”
ছোটভাই মানসিক রোগীর মতো হাসতে লাগলো। এই হাসি বড়ভাইয়ের মেজাজ আরো খারাপ করে দিলো।
“চুপ কর। হাসবি না!”
এরপর অনেক্ষণ ধরে দুই ভাই চুপচাপ দূরত্ব রেখে চলতে লাগলো। এই মুহূর্তে তারা সেই মরিচা পড়া লোহার মতো রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
বড়ভাই সাইকেল থামিয়ে মুখের বাতাস দিয়ে হাত গরম করতে করতে বললো, “খুব ঠাণ্ডা লাগতেছে।”
ছোটভাই তখন মজা করে বললো, “সেই হুইস্কি কই?”
বড়ভাইয়ের ইচ্ছে হলো ছোটভাইকে সাইকেল সমেত তুলে একটা আছাড় মারে। কিন্তু নিজেকে সামলে জবাব দিলো, “জাহান্নামে গেছে, যেইখানে সারা রাইত লুটপাট হয়, অথবা এখনো শুরু হয় নাই।”
এইকথা বলে সে একটা বিদ্যুতের খুঁটির পাশে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে লাগলো। এমন সময় ছোটভাই ডাক দিয়ে বললো, “ও ভাই! দেখো, কে যেন আসতেছে!”
বড়ভাই পিছনে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে তাদের দিকেই আসছে। মেয়েটা ঠাণ্ডায় কাঁপছিলো। কাছাকাছি আসতেই তারা বুঝলো মেয়েটার বয়স কম আর সে চোখে দেখতে পারে না। এতো কাছে থেকেও দুইভাইকে সে দেখতে তো পাচ্ছিলোই না, বরং হাঁটতে হাঁটতে বারবার খুঁটিতে বাড়ি খাচ্ছিলো।
বড়ভাই মনযোগ দিয়ে মেয়েটাকে দেখলো। মেয়েটা যুবতি, ষোলো সতেরো বছর বয়স হবে। পুরনো, ছেঁড়া কাপড় ভেদ করে যেই যৌবন বের হয়ে আসছে, সেটা দেখলে কোনো পুরুষের পক্ষে হুশ ঠিক রাখা সম্ভব না। ছোট ভাই জিজ্ঞেস করলো, “কই যাইতেছো?”
মেয়েটা চাপা গলায় জবাব দিলো, “আমি রাস্তা ভুইলা গেছি। বাসার জন্য কাঠ নিতে বের হইছি।”
বড়ভাই জিজ্ঞেস করলো, “তোমার বাসা কোনখানে?” 
অন্ধ মেয়েটা বললো, “আমি জানি না। মনে হইতেছে, পিছনে ফেলায়া আসছি।”
বড়ভাই মেয়েটার হাত ধরে বললো, “আমার সাথে আসো।”
সে মেয়েটাকে নিয়ে রাস্তার অন্যপাশে একটা পুরনো বাতিল ইটের ভাটায় নিয়ে গেলো। মেয়েটা বুঝলো পথ চেনানোর উসিলায় লোকটা তাকে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে কোনোরকম প্রতিবাদ করলো না; মনে হয় এই রাস্তাটা তার চেনা।
মনের খেদ মিটানোর একটা সুযোগ পেয়ে বড়ভাই সেই খুশি। কোনোরকম বাঁধা দেয়ারও কেউ নেই। গায়ের ওভারকোটটা খুলে সে মাটিতে পেতে দিলো। এরপর সে আর অন্ধ মেয়েটা বসে কথা বলতে শুরু করলো।

মেয়েটা জন্ম থেকেই অন্ধ না। যুদ্ধের সময় শিখরা যখন তার গ্রামে হামলা করছিলো, সেই সময় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ফলে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে।
বড়ভাই মন থেকে মেয়েটার জন্য সহানুভূতি দেখালো। যদিও অতীত নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই। সে পকেট থেকে দুটো টাকা বের করে মেয়েটার হাতে দিয়ে বললো, “মাঝে মাঝে দেখা সাক্ষাৎ কইরো। তোমার জন্য ভালো কিছু জামা কাপড় বানায়া দিমু নে।”
মেয়েটা খুব খুশি হলো। বড়ভাইও তখন খুব মজায় ছিলো, যখন চকচকে দৃষ্টি নিয়ে মেয়েটাকে দেখছিলো আর দুই হাত দিয়ে তার শরীরে হাত বুলাচ্ছিলো। এমন সময় হুট করে ছোট ভাইয়ের কর্কশ গলা শোনা গেলো।
“ভাই! ও বড়ভাই!”
বড়ভাই জিজ্ঞেস করলো, “কী হইছে?”
ছোটভাই সেখানে হাজির হলো। আতঙ্কিত গলায় বললো, “ভাইজান, দুইজন হাবিলদার এইদিকে আসতেছে।”
বড়ভাই এক ঝটকায় ওভারকোটটা টান দিলো, যেটার উপর মেয়েটা বসে ছিলো। হ্যাচকা টানে অন্ধ মেয়েটা একটা খাদে গিয়ে পড়লো যেখানে ইট শুকিয়ে রাখা হতো। পড়তে পড়তে ব্যথায় সে চিৎকার করে উঠলো, কিন্তু দুই ভাই ততক্ষণে সেখান থেকে চলে গেছে।

চিৎকার শুনে হাবিলদার দু’জন সেখানে হাজির হলো আর অন্ধ মেয়েটাকে গর্ত থেকে বের করলো। তার মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পর মেয়েটার হুশ ফিরে আসলো আর হাবিলদারদের দেখে এমন ভয় পেলো, যেন ভুত দেখেছে। তারপর সম্বিত ফিরে পেয়ে হুট করেই পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগলো, “আমি দেখতেছি, সব দেখতেছি, আমার চোখ ঠিক হয়া গেছে!!”

বলতে বলতে অন্ধ মেয়েটা সেখান থেকে চলে গেলো আর তার হাত থেকে যেই দুই টাকা পড়ে গিয়েছিলো, সেটা হাবিলদার দু’জন চুপচাপ পকেটে ভরে ফেললো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/243732/</link>
				<pubDate>Tue, 07 Apr 2026 11:38:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিসফাস গল্প<br />
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো<br />
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ</p>
<p>সময়টা কনকনে শীতকাল।<br />
রাত তখন দশটা। শালামার বাগ থেকে লাহোর যাওয়ার রাস্তাটা নির্জন আর অন্ধকার ছিলো। চারপাশে ঘন কুয়াশার মেঘ, সেইসাথে জব্বর বাতাস।<br />
আশেপাশের সবকিছু যেন ঠাণ্ডায় জমে আছে। রাস্তার ধারের দুটো নিচু বাড়ি আর গাছগুলোকে দেখাই যাচ্ছে না ঠিকমতো। দূরের বিদ্যুতের খুঁটিগু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-243732"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/243732/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac7c5f9d2a0915db38bec4771e5acaa1</guid>
				<title>ফিলিস্তিনের প্রেমিক
- মাহমুদ দারবিশ
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ
।।
তোমার দৃষ্টি হৃদয়ে লাগে কাঁটার মতোন;
তীব্র ব্যথা ভুলে আমি তাকে করি যতোন।
রক্ষা করি তাকে তীব্র বাতাসে, 
ভালোবেসে।
রক্ত মাংস দিয়ে আড়াল করি তাকে,
লুকায়ে রাখি যন্ত্রণার গাঢ় আঁধার থেকে।
আর তার ক্ষত, জ্বলে আলোর মতো
ক্রমাগত।
তার ভবিষ্যত আমার আত্মাকে করেছে
আমার বর্তমানের অধিক অনুগত।
এবং, চোখে চোখ পড়তেই, শীঘ্রই ভুলে যাই-
একদিন, সেখানে, দরজার পিছনে,
ছিলাম আমরা দুজনেই।
তোমার গানের মতো শব্দগুলো
আমিও গাইতে চেয়েছি বহুবার।
কিন্তু বসন্তের নিদারুণ যন্ত্রণা
ঘিরে রেখেছে ঠোঁটের দুয়ার।
দোয়েলের মতো, তোমার শব্দগুলো
পাখা মেলে উড়ে গেছে দূরে।
আমাদের ঘরের চৌকাঠে আগমনী শরৎ-ও
চলে গেছে তোমার পথ ধরে।
আমাদের আয়নাগুলো চুরমার হয়ে গেছে
দুঃখগুলোও বেড়েছে হাজার গুণে।
আর আমরা শব্দের কাঁকর জমিয়েছি
জন্মভূমির শোকগাঁথা হতে, হৃদয়ের অনুরনে।
হৃদয়বীণায় সেই সুর বপন করে
একসাথে বসে বিষাদের এই ছাদে,
গাইবো আমরা সেই গান
খণ্ডিত চাঁদ আর পাথরের সাথে সাথে।
কিন্তু আমি ভুলে গেছি আজ
অচেনা কণ্ঠের তোমাকে:
হারালো কোথায় সেই সুরের কারুকাজ- 
তোমার প্রস্থান, আমার নীরবতা,
দায়ী করবো কাকে?
গতকাল তোমাকে দেখলাম বন্দরে-
লক্ষহীন এক ক্লান্তিহীন নাবিকের মতো;
অনাথের মতো গেলাম আমি দৌড়ে
জানতে চাইলাম, আমার পূর্বপুরুষের বিজ্ঞতা ছিলো কতো?
চির-সবুজ একটি কমলা বাগানকে কেমন করে
টেনে হিচড়ে জেলে পোরা হয়?
কেমন করে বন্দরে নিয়ে তাকে,
নির্বাসনে পাঠানো হয়?
এবং কীভাবে এতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে
শরীরে নোনা জলের ঘ্রাণ ও ক্ষুধা নিয়ে
সে আগের মতোই সজিব ও সতেজ রয়?
আমি আমার ডায়রিতে লিখলাম-
আমি কমলালেবু ভালোবাসি
এবং ঘৃণা করি বন্দরকে অহর্নিশি।
আরো লিখলাম-
ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে দিব্যচোখে দেখেছি পৃথিবী,
যেখানে কমলার খোসাই আমাদের সম্বল
আর আমার পেছনে মরুভূমি হয়ে গেছে সবই।
তোমাকে দেখেছি
বুনোঝোপে আবৃত পাহাড়ে;
মেষহীন এক রাখাল বালিকা-
ছুটে যাচ্ছো ধ্বংসের কিনারে।
তুমি ছিলে আমার বাগান, আমি ছিলাম অচেনা।
দরোজায় কড়া নাড়ছে আমার হৃদয়, তুমি শুনলে না।
অথচ, আমার হৃদয়ের ওপর
দৃঢ়ভাবে দাড়িয়েছিলো
তোমার দরজা-জানালা, সিমেন্ট আর পাথর।
আমি তোমায় দেখেছি জলের পিপায়, শষ্যের ভাণ্ডারে
যাচ্ছো ভেঙ্গে বারে বারে।
দেখেছি তোমাকে নাইট ক্লাবে দাসিরূপে,
জ্বলন্ত অশ্রুর ছটায় ধুয়ে যাওয়া ব্যথার স্বরূপে।
আমার বুকের ভেতর তুমি দ্বিতীয় হৃদয়,
ঠোঁটে লেপ্টে থাকা ধ্বনি।
তুমি অপার জলের স্রোতধারা,
তুমি আগুনের পরশমণি।
তোমাকে দেখেছি গুহামুখে, সুড়ঙ্গে-
এতিমখানার ছেঁড়া কাপড়গুলো শুকোতে দিচ্ছ রশিতে।
জ্বলন্ত উনুনে, পথে পথে দেখেছি তোমাকে,
দেখেছি গোলাঘরে, উত্তপ্ত সূর্যরশ্মিতে।
তোমাকে দেখেছি অনাথ-অসহায়ের গানে,
সমুদ্রের মাঝে আর বালুকা তটে।
পৃথিবী আর শিশুদের মতো সুন্দর ছিলে তুমি
ঠিক যে রূপে আরবের জুঁই ফোটে।
আমি শপথ করেছি- একটি রুমাল বানাবো
আমার চোখের পাপড়ি দিয়ে।
এবং তার উপর সূচিত করবো কবিতা
যা লেখা হয়েছে তোমার চোখ নিয়ে।
এবং একটি নাম,
যাকে জপতে জপতে সিক্ত হৃদয়ে
সবুজ একটি বন উঠেছে গজিয়ে।
একটি কথা লিখে রাখবো আমি-
মধু অথবা চুম্বনের থেকেও যা অমূল্য আমার কাছে।
ফিলিস্তিন, সে আগেও ছিলো, এখনও আছে।
এক ঝড়ের রাতে,
সমস্ত জানালা-দুয়ার দিয়েছিলাম খুলে।
দেখতে চেয়েছিলাম সেই অদৃশ্য চাঁদ,
হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিময় রাতের কোলে।
রাতকে বললাম, চলে যাও আঁধার দেয়ালের ওপাশে;
আমি প্রতিজ্ঞারত আছি শপথের দ্যুতিময় আশ্বাসে।
তুমি আমার অনাবাদী বাগান;
যতক্ষণ না তরবারির মতো 
আঘাত করে আমাদের গান।
আর তুমি শষ্যের মতো বিশ্বস্ত;
যতক্ষণ না আমাদের গান
বপনের আগে বাঁচিয়ে রাখে
উর্বর জমিনের প্রাণ।
মনের মাঝে তুমি পাম গাছের মতোই;
প্রবল ঝড়ে বা কুঠারের নির্মম আঘাতে
যা কখনোই ভেঙে পড়ে না,
মরু জঙ্গলের হিংস্র আঁচড়েও যার
খোঁপার বাঁধন খুলে পড়ে না।
কিন্তু, 
দরজা ও দেয়ালের পেছনে আমি, নির্বাসিত;
তোমার দৃষ্টির উষ্ণতায় হতে চাই আশ্রিত।
যেখানেই তুমি আছো, আমায় নিয়ে যাও,
যেভাবেই তুমি আছো, আমায় নিয়ে যাও।
নিয়ে যাও মুখ ও দেহের উষ্ণতা ফিরে পেতে,
হৃদয় আর চোখের আলোর কাছে,
নিয়ে যাও নোনা রুটি আর গানের সুরে মেতে
পৃথিবীর যেখানে জন্মভূমির স্বাদ আছে।
তোমার দৃষ্টির উষ্ণতায় আমায় ঠাঁই দাও,
কোনো বাদাম কাঠের ঘরে, বিষাদের কুটিরে
আমায় নিয়ে যাও।
আমায় নিয়ে যাও, ওগো কবিতা বিষাদ মাখা,
নিয়ে যাও যে ঘরে খেলনা অথবা পাথর আছে রাখা;
যেন, আমাদের পরের প্রজন্ম যারা আছে,
পথ চিনে ফিরতে পারে হারানো ঘরের কাছে।
তার চোখ আর হাতের ট্যাটু ফিলিস্তিনি
তার নাম ফিলিস্তিনি
তার স্বপ্ন আর শোক ফিলিস্তিনি
তার, রুমাল, তার পা, তার দেহ ফিলিস্তিনি
তার কথা আর নীরবতা ফিলিস্তিনি
তার কণ্ঠ ফিলিস্তিনি
তার জন্ম আর মৃত্যু ফিলিস্তিনি
তোমাকে বয়েছি আমি পুরোনো খাতায়
যেহেতু আমার উত্তপ্ত কবিতাগুলোই
আমার ভ্রমণের সহায়।
তোমার নাম ধরে ডাকা আমার কণ্ঠস্বর 
আজও উপত্যকায় ভাসে।
বাইজেন্টাইন ঘোড়ার দল দেখেছি, যদিও
যুদ্ধটা ছিলো ভিন্ন এক বিশ্বাসে।
সতর্ক হও, হও হুশিয়ার!
আমার গানের বাজ পড়ে গ্রানাইট হয় চুরমার।
আমি যৌবনের ফুল, আমি মহাশুর
আদর্শকে ভেঙ্গে করি আমি চূর চূর।
আমি ল্যাভেন্টাইন সীমানা গড়েছি এমন কবিতায়,
যা লেখা আছে মুক্ত স্বাধীন ঈগলের সে ডানায়।
আর তোমার নামে শত্রুদের ডেকেছি হুঙ্কারে-
শোনো কীটের দল,
ঘুমিয়ে গেলে আমার মাংস খেয়ে নিয়ো অগোচরে।
কারণ পিঁপড়ার ডিম থেকে জন্ম নেয় না ঈগল,
আর অ্যাডারের ডিমে সাপই জন্মায় কেবল।
আমি দেখেছি বাইজেন্টিয়াম ঘোড়ার দল;
আর জেনেছি আমি তারও অনেক আগে,
আমি হলাম যৌবনের সেই ফুল,
মহিশুর আমি, শৌর্যে বীর্যে শ্রেষ্ঠ সবার থেকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227923/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 09:48:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিলিস্তিনের প্রেমিক<br />
&#8211; মাহমুদ দারবিশ<br />
অনুবাদ- অয়ন আবদুল্লাহ<br />
।।<br />
তোমার দৃষ্টি হৃদয়ে লাগে কাঁটার মতোন;<br />
তীব্র ব্যথা ভুলে আমি তাকে করি যতোন।<br />
রক্ষা করি তাকে তীব্র বাতাসে,<br />
ভালোবেসে।<br />
রক্ত মাংস দিয়ে আড়াল করি তাকে,<br />
লুকায়ে রাখি যন্ত্রণার গাঢ় আঁধার থেকে।<br />
আর তার ক্ষত, জ্বলে আলোর মতো<br />
ক্রমাগত।<br />
তার ভবিষ্যত আমার আত্মাকে করেছে<br />
আমার বর্তমানের অধ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227923"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227923/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0334a96c6c32e3247ffce3d82d61ad25</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227922/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 09:46:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5fb4fea5f2b3a520e51135352c26df3b</guid>
				<title>অয়ন আবদুল্লাহ changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227921/</link>
				<pubDate>Sun, 06 Apr 2025 09:44:57 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>