-
অবশেষে ছোট্টুনির কথাই খাটলো। সেই আদ্যি যুগের মত করে মেয়ে দেখতে যাওয়া। বর্তমানের ধ্যান-ধারনায় মানুষ আমি। বড় একটা ফার্মে ভাল চাকরিও করছি আজ দুবছর। এরই মধ্যে মায়ের তোড়জোড় ছেলের বৌ আনবার।
আমার অবশ্য তেমন আপত্তি নেই। কারন নিজের পছন্দের কেউ নেই বর্তমানে। তবে অতীতের একটা স্মৃতি আছে। ছাত্র জীবনে দু’চারজনকে যে ভাল লাগেনি তা নয়। তবে আমার উঠতি বয়সের প্রথম ভালবাসার নাম বেনু। সম্পর্কে আমার খালাতো বোন। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সবে পা রেখেছি। হঠাৎ বেনুর ভেঙ্গে পড়া কান্না আমায় স্তব্ধ করে দেয়। ওর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেছে অন্যত্র। আমার কিই বা করার ছিল তখন। ফিরিয়ে দিলাম বেনুকে।
তার পরের প্রতিটি বিকেল পানসে হয়ে গেছে আমার। যে বিকেলের সোনালী রোদে গা এলিয়ে পদ্মা পাড়ে জন্ম জন্মান্তরের কত কথা বলেছি বেনুকে। কিংবা কখনো দুরে নদীর বুকে ছোট্ট পানসিতে ভেসে ভেসে শুনেছি বেনুর সুরেলা গান।
এর কিছুদিন পর স্বাভবিক নিয়মে বেনু ঘটা করে অন্যের ঘরণী হয়ে চলে গেল।
আমি আমার মায়ের একমাত্র ছেলে, বাবাকে কোন ছেলে বেলায় হারিয়েছি। মার উৎসাহ আর ছোট বোন টুনির মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আবার সহজ হয়েছি। পূর্ণিমার উপচে পড়া চাঁদের হাসি হয়তো কখনো ছাদে বেরিয়ে দেখা হয়নি। তবু রাতের পর দিন আর দিনের পর রাত আমার জীবনে স্বভাবিক হয়ে গেছে এক সময়। চলছিল সেভাবেই ছোট্টুনির চঞ্চলতায় আর মায়ের আশা ভরা চাহনির খুশির আভাতেই।এরই মাঝে মায়ের তোরজোড় আর আমার নতুন ভাবনা অতীতকে টানে কেবলই। নাস্তার টেবিলে মা পাড়লেন কথাটা – আজাদ আগামী রোববার কোথাও প্রোগ্রাম করবি না, ওদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। রোববার বিকেলে আমরা যাব বলে দিয়েছি। মেয়েটি আমার খুব পছন্দ, তোর খারাপ লাগবে না দেখিস।
আমি বললাম ভালই যখন বুঝেছো, ব্যাস। অযথা ঘটা করে আদ্যি যুগের মত আর অনুষ্ঠান কেন মা ?
—–সেকিরে, তোর জন্যইতো যাওয়া। আমার পছন্দে কি যায় আসে। তোর একটা পছন্দ আছে না ? আর আদ্যি যুগ কিরে টুনিতো মহা খুশী, ও নাকি কনে দেখা অনুষ্ঠান দেখেনি।টুনি আমার ছোট বোন। খুনসুটি করি ওর সাথে অহরহ। আমি ডাকি ছোট্টুনি বলে। পাশ থেকে ফোড়ন কাটে ও-
—–হ্যাঁরে তুই অমত করিস না ভাইয়া।এই দেখ আমি কেমন শাড়ী পরে প্রাকটিস করছি। একটু মুরুব্বী মুরুব্বী না দেখালে প্রশ্ন-টশ্ন জিজ্ঞেস করা যাবে নাতো।
বলে বিজ্ঞের মত মাথা ঝাঁকিয়ে হাসলো। ওর লম্বা বিনুনিটা টেনে ওকে চেয়ার থেকে তুলে দাঁড় করাই। সত্যিই তো টুনি কত্তো বড়োটি হয়ে গেছে। বুটিদার শাড়িতে ওকে মানিয়েছে বেশ। আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে বলি –
—– তা বেশ তো ছোট্টুনি, কদিন পর নিজেই তো ওভাবে বসবি তখুনি দেখিস।
গাল ফুলিয়ে আনুযোগ করে টুনি মার কাছে । আমি ভেংচি কেটে ওকে আর এক প্রস্থ রাগিয়ে দেই।
মা কিন্তু একই উৎসাহে বলে চলেন শিমুল নামের মেয়েটির কথা।অফিসের গাড়ির হর্ণ শুনে বেরিয়ে আসি, রওনা হই অফিসের পথে। সারা পথ মায়ের আগ্রহের কথা গুলো ভাবি। অনেক দিন পর কেন জানিনা আজ বেনুকে খুব মনে পড়ছে। একই শহরে থাকি অথচ তেমন করে কেন দেখা হয় নি। ভেবে আশ্চর্য হই। বেনুর চোখে মুখে কি সুখি সুখি ছাপ আছে ? কিশোরী বেলার ছল ছল চোখ দুটি হাসির আভায় চিক চিক করে কি এখনো ? কি জানি এসব বড্ডো মনে হচ্ছে আজ।
মেয়েটির নাম শিমুল, আমার ভাবি বধু। আচ্ছা শিমুল ওতো বেনুর মত কারো মন-মানসী হতে পারে। আর যদি তাই হয় আমার ছেলে বেলার পোড় খাওয়া কচি মন টায় ব্যথার চিন চিনে ভাবটা আবারো অনুভব করলাম যেন। অসহনীয় সেই সময় গুলো আজও যন্ত্রনার হুল ফোটায়। ছোট্ট মনের বড় আশার প্রদীপ টা ফুৎকারে যেন বেনুর উচ্চ শিক্ষিত স্বামী ব্যক্তিটি নিভিয়ে দিয়েছিল।
ভদ্রলোককে সে অবধি ধূর্ত শিকারী ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারিনি। আথচ পড়ার টেবিলে কাগজে আঁকি-বুকি এঁকে বিনিদ্র চোখে বসে থাকা ছাড়া কিই বা করার ছিল। শিমুলকে আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে কিছু দামি ডিগ্রীর বলে কারো মন থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি নাতো ? কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠলাম। কাউকে অসহায় বোবা যন্ত্রনায় আটকের আসামী মনে হল নিজেকে। আমার যোগ্যতার হুল ফুটিয়ে শিমুলের উজ্জ্বল মুখ যদি বিবর্ণ হয় ওর মনের আকাংখার মৃত্যু ঘটে যদি। না না এসব কি ভাবছি। সবার বেলা একই হতে যাবে কেন ? এমন ওতো হতে পারে এসব কিছু নয়। শিমুল স্রেফ শিমুল। কারো কেউ নয়। তার চেয়ে এই ভাল নয় কি শিমুলের সাথে দেখা করে সারা জীবনের ভাবনা জেনে নেই নিজেই। নইলে মার কথা মেনে নেয়া ছাড়া কিছু করার নেই।
কেমন যেন জেদে পেয়ে বসলো হঠাৎই। ঘড়ির দিকে তাকালাম দুপুরের লাঞ্চ বিরতিতে। কিযেন পড়ে মেয়েটা, শেষ বর্ষ মনো বিজ্ঞান। মা তো তাই বলেছিলেন। ডিপার্টমেন্টে পাওয়া যাবে নিশ্চয়। ঝোকের মাথায় ভর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে, অতপর মনো বিজ্ঞান বিভাগের সামনে। যদিও দুপুর তবুও গাছের চাতালে চাতালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হাস্যোজ্জ্বল জুটি। দেখলে মনে হয় পৃথিবীর শুরুতে আদম হাওয়ার মতই এদের অস্তিত্ব। কোথাও কেউ আছে বা কোথাও কিছু হচ্ছে এসব ওরা জানে না বা জানতে চেয়ে মুহুর্ত গুলো হারাতে চায়না। এতক্ষণে খেয়াল হল এভাবে হুট করে চলে আসাটা মোটেও ঠিক হয়নি। কোথায় পাবো অজানা অদেখা শিমুলকে আর পেলেই বা বলবো কি ?
—— আরে আজাদ ভাই যে, এখনে ?
সাত পাঁচ ভাবনার মাঝে সম্বিৎ ফিরে পাই অরুর কথায়। আমাদের পাশের বাড়ির ছেলে। খেয়াল হল অরু এবছর মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়েছে।
ভীষণ লজ্জায় পড়ে যাই। আমতা আমতা করে বলি
—– হ্যাঁ – মানে এক জনকে খুঁজছি।
অরু নাম ধাম জেনে নিয়ে এক ছুটে ডিপার্টমেন্টে আবার। মিনিট দশেক পর ফিরে এল সঙ্গে দুটো মেয়ে। অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললো
—– – আজাদ ভাই, ঐ যে শিমুল আপা। আমি আসি সাবসিডিয়ারি ক্লাশ আছে এখনি।
সহ পাঠির নাম ধরে ডাকতে ডাকতে অদৃশ্য হল অরু।
আমার অবস্থা বলির পাঁঠার মত। কি বলবো কাকে বলবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। নীরবতা ভঙ্গ করলো শ্যামলা মেয়েটি –
—–আপনি কে ? শিমুলকে কেন খুঁজছেন ?—–আমি আজাদ, মানে একটা জরুরী দরকারে শিমুলের কাছে এসেছি। মেয়েটি ভ্রুকুঞ্চিত করে তাকালো, তারপর বললো –
—–এক মিনিট।
দুজনে চলে গেল। ফিরে এল সে মেয়েটি একা। হেঁসে বললো –
—–আমাকে অনায়াসে বলতে পারেন, আমি শিমুলের বান্ধবী মিলি। অক্ষরে অক্ষরে পৌছে দেব সবটুকু। গাফিলতি হবেনা একটুও।
—– না, মানে তাকে আনা যায় নাকি ?
হাসলো মেয়েটি –
—–ও ভারি লাজুক। আমাকে না বলতে চাইলে থাক। তবে আমি কিছু বলবো।
– আপনি ? বিস্ময়ে থ বনে যাই।
– মানে শিমুল যা বলতে বলেছে আর কি। শুনেছি বেনু আপার কাছ থেকেই শিমুল আপনার কথা জেনেছে। আপনি হয়তো জানেন না এই বিয়ের ঘটকালিটা তারই। শিমুল অবশ্য এমনটাই ভাবছিলো, অর্থাৎ আপনার অমতের ব্যপারটা।আমি ঢোক গিলে বললাম – অমত ? কেন ?
শ্যামলা মুখে একটুকরো হাসি খেলে গেলো মিলির। বললো –
—–কখনো ভেবে দেখেছেন এসব আপনার এক তরফা তৃপ্তি।
– তৃপ্তি ? প্রশ্ন করলাম আমি ?
– নয়তো কি ? আপনি কি সত্যি চান বেনু আপা সুখী হোক সুখে থাকুক। হারাবার ব্যথায় কুকড়ে থেকে কেউ ভাল থাকতে পারে না।
– বেনুকে আপনি সত্যিই চেনেন ? বেনু ভালো নেই ?
– তাহলে শুনুন, বেনু আপার সংসার বাগানে প্রস্ফুটিত সব ভাল লাগা আর ভাল থাকার ফুল। শুধু একটি পুরোনো কাঁটা উঠাতে পারে না কিছুতেই। যখন তখন তা বিঁধতে থাকে চরম ভাবে। বেনু আপার ধারনা সে কাঁটা আপনি। তার ফাঁকি তেই আপনি আজও একা। বেনু আপা তাই নিজেকে অপরাধির কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়ে মনের কাছে জবাব দিহি করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছে।
শিমুলকে বেনু’পা খুব ভালবাসে। সেই বেনু’পার কাছেই শিমুল শিখেছে ভালবেসে দুঃখকে কাঁধে নেবার সাহস। অবশ্য শিমুলের ভয়ও কিছুটা ছিল।
এখন মনে হচ্ছে তা মোটেও অমুলক নয়। তা হচ্ছে জোর করে কাউকে রুগী ভেবে ওষুধ খাওয়াতে গেলে তাতে অসুখেরই সম্ভাবনা। বেশতো আপনার তৃপ্তি আপনারই থাক। বেনু’পা জ্বলছে জ্বলবে।আমি অবাক হয়ে মেয়েটির কথা বলে যাওয়া দেখছি আর ভাবছি বেনু সত্যিই সুখী ? শিমুল তবে আমার সব কথা জানে ? কিন্তু ওর মুখে তো কিছু শোনা হল না। ইশ এই মেয়েটাই যদি শিমুল হত। ছি ছি কি ভাবছি আমি। মেয়েটিতো শিমুলের বান্ধবি। শিমুল তো তার নিজের কথা গুলোয় মেয়েটিকে দিয়ে বলিয়েছে।
আমার নীরবতা ভাংলো মেয়েটি –
—–আপনি তো শিমুলকে না পেয়ে যা বলতে এসেছিলেন বললেন না। আমিই না হয় অনুমানে বলে দিব আপনার অমতের কথাটা।এতক্ষণের দ্বিধা সংকোচ সব মুহুর্তেই উবে গেল। হেসে বললাম
—–আপনার বান্ধবী না হয় তার কথা আপনাকে বলবার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু আমি আপনাকে তেমন কোন অধিকার দেইনি যে আমার অনুমান আপনার মন গড়া হতে হবে।
একটু যেন মিইয়ে গেল মেয়েটি। কিন্তু হারবার পাত্র নয় সে। বললো
—— আমিতো স্থিরতা আনিনি কথায়। যাচাই করার জন্য বলেছি। বেশ বলুন আপনার কথা শিমুলকে কি জানাবো ?
– না আমি আর বিব্রত করবো না। শুরুটা যখন জানেন শেষটা হোক আপনাকে দিয়েই। শিমুলকে বলবেন আগামী রবিবার মাকে নিয়ে ওদের বাড়ি যাচ্ছি। এনগেজমেন্টের কাজটা আগেভাগেই সারতে চাই। তাই শিমুলকে বলতে এসেছিলাম অন্য কোন অঙ্গুরী হাতে নেইতো ? অতীত কে মুছতে চাই আমিও। ভাবতে চাই দুরের অতীত ঢাকা পড়েছে সত্যি জীবনের প্রলেপে।মেয়েটির তর্কবাগিশ চোখ দুটো হঠাৎ করে যেন লাজুক হল। আঙ্গুলে আঁচল জড়াতে জড়াতে বললো –
—– শিমুলকে তাই ই বলবো।
তারপর কি যেন বলতে গিয়ে কিছু না বলে এবং আমাকে বলবার সুযোগ না দিয়ে এক রকম পালিয়ে গেলো। আমি ওর চলে যাওয়া পথে চেঁচিয়ে ডাকলাম –
—–আরে শোনেন শোনেন। আমি যাওয়ার পরেই না হয় বলবেন।
এতক্ষণ এক নাগাড়ে কথা বলতে বলতে কেমন যেন চেনা হয়ে গিয়েছিলো মেয়েটি।
নাহ ভারি ছটফটে মেয়ে তো, চলেই গেলো। আলগোছে বাঁধা এলো খোঁপা ভেঙে লুটিয়ে পড়লো পিঠের ওপর, হাওয়ার কাঁপনে গাছপাতা রং শাড়ীর আঁচল উড়িয়ে মেয়েটির চলে যাওয়া দেখতে দেখতে আবারো মনে হল – শিমুল এমনটি হলে মন্দ হতনা।বিকেলে মায়ের হাতের তৈরি ডালপুরি মুখে দিয়ে বলি –
—–মা তোমার কি খুব ইচ্ছে ঐ মেয়ে তোমার পুত্রবধু হোক ?
মা চায়ের কাপে চিনি মেশাতে মেশাতে বললেন – —–কেন রে আজাদ, তোর কি মত নেই ? পছন্দ না হলে না হবে কিন্তু ওদের কথা দিয়েছি যাওয়াটা উচিৎ। আমি বললাম – বেশ তো মা যাবো। তোমার যখন এত পছন্দ একটা আঙটি কিনে রেখ। এনগেজমেন্টের ব্যপারটা সেরে নিও এই সাথে।মা বিস্ময়ের সুর তুলে বললেন –
—–সে কি তুই কি অভিমানে একথা বলছিস ? তোর অপছন্দ হলে আমি জোর করবো না।ছোট্টুনি লাফিয়ে ওঠে – ভাইয়া অপছন্দ করবেই না। এনগেজমেন্টটাই করে ফেলো।
মা ধমকে উঠলেন –
—– তুই থামতো টুনি। সেদিনের মেয়ে স্কুল ছেড়ে কলেজে পা দিতে না দিতেই বড্ডো বুঝতে শিখেছে। যাকে আজাদ দেখলোনা ছবিটায় পর্যন্ত চোখ তুলে তাকালোনা। আর আমি কিনা আংটি পরিয়ে কথা পাকা করে বোকা সাজি আর কি।আমার কৌতুহল জাগলো হঠাৎ। বললাম – আমি তো বলেছি মা তোমার পছন্দে আমার আস্থা আছে। তা ছবিটা কোথায় ?
টুনি এক লাফে ছবিটা বের করে নিয়ে আসে। চোখের সামনে মেলে ধরতেই অবাক বিস্ময়ে দেখি এযে শিমুলের বান্ধবীর দুষ্টমি মাখা গভীর দৃষ্টি।
মা আগ্রহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন
—– – কিরে আজাদ, পছন্দ আমার খারাপ হয়েছে কি ?
আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। অস্ফুট স্বরে বলে ফেললাম এতো মিলির ছবি।
– না রে, মেয়েটির নাম শিমুল। কিছু বুঝে উঠবার আগে চোখে ভেসে উঠলো, নির্মিলিত চোখে হঠাৎ চপলা পায়ে পালিয়ে যাওয়া।অবশেষে রোববারের বিকেলে লৌকিকতার পর্যায় শেষ করে সামনের সোফায় কনেকে বসানো হলো। মা এনগেজমেন্ট রিং বের করে আমার হাতে দিয়ে বললেন –
—– আজাদ তুই পরিয়ে দে।আমি ধীরে ধীরে ওর হাতটা তুলে নিলাম। অনামিকায় পরিয়ে দিলাম আমার নতুন বাঁধনের বন্ধন। মিলির ভুমিকায় অনর্গল কথা বলে যাওয়া ঠোঁট জোড়া আলতো কাঁপিয়ে চোরা দৃষ্টি ফেললো সে আমারই চোখের পরে।
আমার লুকানো দৃষ্টি ভেজা চোখের পরে ওর চোখের তারা ধরা পড়ে গিয়ে ঐ শ্যামা বরণ মিষ্টি মুখ খানিতে ছড়িয়ে পড়লো লজ্জার রঙে রাঙানো সবটুকু আভা। তাই দেখে আমার অনেক আগের হারিয়ে যাওয়া, নজরুলের সেই গানটি মন ছাপিয়ে ভেসে উঠলো
“- তোমার আখিঁর মতো আকাশের দুটি তারা / চেয়ে থাকে মোর পানে – / নিশিথে তন্দ্রা হারা সে কি তুমি, সে কি তুমি। “………************
ফাহমিদা রিআ
**************6 Comments
Friends
Fahmida Akter
@fahmida420
র. জামিল
@r-jamil
Diponkor Sharma Partho
@parthodip218
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
@ashraful710
Tapan Debbarma
@tanu48
Rahnuma Nira
@tamannahtasneem90
Nahian Hasan
@hasan009
Zahidul Jamy
@zahidul
AdabenTatali
@adabentatali



সুন্দর গল্প। আরো লেখো। অভিনন্দন।