-
আমি খেরোখাতা লেখার সময় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এখানে সেটাই জানাচ্ছি। আমাদের জীবন লিনিয়ার প্যাটার্ণে চলে না। একই ঘটনার বিভিন্ন নেরেটিভ দেয়ার প্রবণতা আমাদের স্বভাব। তাই আমি লিনিয়ার বর্ণনায় যাই নি। আমরা সবাই একই শহরে একই আকাশের সমতলে থাকি, কিন্তু কেউ কাউকে চিনি না। আমার বই এর নায়ক নায়িকারা সাধারণ এবং যান্ত্রিক জীবনে তারা আইসোলেটেড। একটা সাধারণ কেরানির চাকরি তাদের বাধ্য করে নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করতে। তারা এই ধারাবাহিক আ্যবসারড জীবনে জীবনের অর্থ খুঁজছে। স্বপ্ন দৃশ্যের বর্ণনা আমি দিয়েছি কারণ আমার মনে হয় একজন মানুষকে জানতে হলে তার স্বপন গুলোও জানতে হবে। এই নাগরিক মানুষেরা নিজেদের অস্তিত্বকে জানতে চায়। আশ্রয় নেন গ্রামের সৌন্দর্যে। তারা না পারে চাকরি জীবনের আ্যবসারডিটিকে গ্রহণ করতে আবার না পারে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মিশতে। পুঁজিবাদী সমাজ মানুষকে করেছে বিচ্ছিন্ন এবং একাকী। একই আকাশের সমতলে প্রত্যেক একা, নিজের মতো। তাদের মধ্যে আছে এক অদ্ভুত অস্তিত্ববাদী সঙকট। তাদের মধ্যে আছে স্পিরিচুয়াল এম্পটিনেস। তারা নিজেদের জীবন এর অর্থ জানতে চায়। তাই কবি গালিবের লেখায় ফুটে ওঠে প্রাচীন এক আরজ কবির জীবন। গালিবদের মতো তারাও খুঁজেছিলো জীবনের অর্থ। আমার লেখায় মৃত্যুর গল্প আছে। আমি নিজের জীবনে মৃত্যু দেখেছি। হাসপাতালের আই সি ইউতে অসহায় রাত যাপন করেছি। খেরোখাতা বক্তব্য নির্ভর নয় বরং নায়ক নায়িকাদের মনের ওপর নির্ভরশীল। তাই এখানে পাঠকের নিজের মতো করে চিন্তা করার জায়গা আছে। আমি লিনিয়ার লাইনে লিখি নি। আমি চেয়েছিলেন পাঠক যেনো বারবার পড়ে খেরোখাতা কে অনুভব করার চেষ্টা করে। খেরোখাতায় আমি প্রধান চরিত্রটিকে হত্যা করেছি। কারণ মৃতই স্বাভাবিক। আমরা মৃত্যুকে স্বাভাবিক চোখে দেখি না। কিন্তু আসল অলৌকিকতা জীবনে, মৃত্যুতে নয়।আমি স্বপ্ন , বাস্তবতা সবকিছু ই আনার চেষ্টা করেছি। এবং সত্য হলো উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কে হত্যা করতে আমার নিজের অনেক কষ্ট হয়েছে। কারণ এক বছর ধরে লেখা উপন্যাসটি আমার অস্তিত্বের সাথে মিশে ছিল।
খেরোখাতার দুর্বল দিক যেটি তা হলো নারী চরিত্রের সমপূর্ণতার বিষয়টি। এবং সংলাপের দূর্বলতা। এটা আমি স্বীকার করি। খেরোখাতার অনেক দৃশ্যই বাস্তব। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
আমার নিজের জানাশোনা, বই পড়ায় প্রচুর ঘাটতি আছে। লেখক হিসেবেও আমি অপরিপক্ক। কিন্তু এই উপন্যাসটির সাথে আমার জীবন মিশে আছে। পড়ে দেখার আমন্ত্রণ রইলো। হয়তো ভালো হয় নি। কিন্তু লেখার কাজটা আমার কাছে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার মতোই জীবন এর একটি দিক।
আমার লেখা বই গুলি পাবেন রকমারি ডট কমে।
সকলের জন্য শুভকামনা।
জাকের আদিত্য11 Comments-
-
নিজের লিখাকে ঘিরে সঠিক,ভুল,আবেগ,অনুভুতি, বাস্তবতা,স্বপ্ন সবকিছুকেই খুব আপন করে নিয়ে যেভাবে বর্ণনা দিয়েছেন তা সহজ ছিলোনা মোটেও।গল্পের প্রধান চরিত্রের মৃত্যুতে লেখকের কষ্ট হয়েছে, এই থেকে বোঝা যায় আমরা চিরাচরিত আবেগকে বুকে নিয়ে বাঁচি।শুভ কামনা রইলো। 🤍
-
-
“লেখার কাজটা আমার কাছে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার মতোই জীবনের একটি দিক” এই কথাটায় একজন সত্যিকারের লেখকের কণ্ঠস্বর শুনলাম। প্রধান চরিত্রকে হত্যা করতে কষ্ট হয়েছে এই স্বীকারোক্তিটাই বইয়ের গভীরতার প্রমাণ। পড়ার আগ্রহ আরো জাগল।
-
‘জীবন লিনিয়ার প্যাটার্নে চলে না’—এই সত্যটি মাথায় রেখে আপনার যে নির্মাণ, তা পড়ার জন্য অধীর আগ্রহ জাগিয়ে তুলল। শুভকামনা রইল ‘খেরোখাতা’র জন্য।
-
Friends
সাব্বির হোসেন।
@shadowhunter3d
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
নিখোঁজ- Missing ⋆≛⃝
@md-shofiqulislam
মিহির চৌধুরী ইমন
@mihirchowdhuryemon
Puja Chakrabartty
@pujachakrabartty
সাম্য রায়
@gourabroy
অমিত
@amitroy
প্রিন্স ঠাকুর
@princetagorebd



আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ আগ্রহ নিয়েই খুঁজে দেখব এবং কিনব। খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর এছাড়াও, প্রচলিতের বাইরে যেকোনো কিছুতেই আগ্রহ বেশি … শুভেচ্ছা নিবেন।