Profile Photo

Mohammad Al-MamunOffline

  • Mohammad-Al-Mamun-Titu
  • Profile picture of Mohammad Al-Mamun

    Mohammad Al-Mamun

    3 years, 10 months ago

    কবি: মুহাম্মাদ আল-মামুন
    কবিতা—৩৯৯।
    আবেগের কথোপকথন (৪)
    ————————————
    নেতা এলেন নিজ এলাকা সফরে হঠাতই মধ্যবিত্ত বন্ধুর সাথে দেখা।

    নেতাঃ কি রে কেমন আছিস।
    বন্ধুঃ এই আছি আর কি ! আমাদের আর থাকা।
    নেতাঃ দিনকাল কেমন যাচ্ছে।
    বন্ধুঃ তুইতো এখন বড় নেতা হয়েগেছিস,তোর কাছে তো এলাকার সবার খবর থাকার কথা।
    নেতাঃ তোদের দোয়ায় হয়ে গেছি।সবার খবর আছে তো আছে।এখনো তেমন কিছু করতে পারলি না বুঝি।
    বন্ধুঃ কি করে পারবো বল! যেখানেই কিছু একটা করতে যাই সেখানেই অনিয়ম। বাদদে আমার কথা।আচ্ছা তোরা কি শুরু করলি বলতো?
    নেতাঃ কেনো! কি হলো আবার?বলতো শুনি।
    বন্ধুঃ কি হয়নি তাই বল?
    নেতাঃ কেনো! কেনো! এলাকায় কিছু হয়েছে নাকি।দলের ছেলে-পুলে কিছু করেছে নাকি! ওদের বলে দিচ্ছি যেনো কোন ঝামেলা না করে।
    বন্ধুঃ আরে না সে সব কিছু না।এলাকার কথা বাদদে।সারাদেশে যা ঘটে যাচ্ছে তাও তোর চোঁখে পড়ছে না।এই যে কিছুদিন আগে গ্যাসের দাম বাড়ালি এখন আবার জ্বালানি তেলের দাম বলা নাই কওয়া নাই হুট করে বাড়াই দিলি।জনগনের কি অবস্থা একবার ভাবছিস।
    নেতাঃ ও তাই বল,আমি মনে করলাম কি না কি হয়েগেছে এলাকায়।
    বন্ধুঃ ও এটা তোরদের কাছে কোন ব্যপারই না।বাজারে জিনিসপত্রের দাম কি পরিমাণ বাড়ছে খবর রাখিস।
    নেতাঃ সরকার কত আর ভর্তুকি দিবে বল।সারাবিশ্বে দাম বাড়ছে আমাদের না বাড়াইয়া উপায় কি বল?সরকারকে তো একজনের চিন্তা করলে হয় না,১৬ কোটি মানুষের চিন্তা করতে হয়।
    বন্ধুঃ সরকার যে ভর্তুকি দেয় ওটা কি তাদের নিজেদের পকেট থেকে দেয়। সে টাকা তো জনগনের টাকা। জনগনের টাকা জনগনের স্বার্থে ব্যয় করবে এটাই তো স্বাভাবিক।
    নেতাঃ জনগনের টাকা বলেইতো আমরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারি না। জনগনের কাছেও তো আমাদের জবাবদিহি করতে হয়।
    বন্ধুঃ তোরা ১৬ কোটি মানুষের কথা ভাবিস।বলতো ১৬ কোটি মানুষ কি বলেছিলো দাম বাড়াতে।তোরা দাম বাড়ানোর আগে কি গণশুনানি করেছিলি? জনগন কি জানতো যে তোরা তেলের দাম বাড়াচ্ছিস।দাম বাড়ানোর কোন নিয়মই মানা হয়নি।হায়রে ভোক্তা কোথায় তোদের অধিকার।
    নেতাঃ সব সময় কি অতকিছু করা সম্ভব হয়।জনগন আমাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে আমরা তো তাঁদের কথাই ভাববো।আমাদের প্রতি জনগনের আস্থা আছে বুঝলি।আমরা কখনোই জনগনের খারাপ চাইবো না এটা জনগন জানে।এতটুকু আস্থা আমাদের প্রতি তাদের আছে।
    বন্ধুঃ অতকিছু সম্ভব হয় না বুঝলাম।এই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অযুহাতে যে যেভাবে পারছে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে এটাতো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতি।তাও তো তোরা করতে পারলি না।
    নেতাঃ অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরার জন্যে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন রকম অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।আশাকরি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে।সরকার এব্যাপারে কঠোর।
    বন্ধুঃ এর মধ্যে বাজারে গিয়েছিস কখনো।জানিস চাল-ডাল,তেল-নোন,দুধ-চিনি,আলু-পটল, পেয়াজ-রসুন এসবের দাম কত।ওসব নয় বাদ দিলাম কাঁচামরিচ এর কেজি ২৪০ টাকা। খবর রাখিস এসব।
    নেতাঃ বাজার তোর ভাবির দায়িত্বে দিয়ে দিছি।তোর ভাবিই মেনেজ করে চালিয়ে নেয়।তুইও তোর বউকে এ দায়িত্ব দিয়ে দে,দেখবি ঠিকই চালিয়ে নিয়ে যাবে।(হসতে হাসতে)
    বন্ধুঃ জিনিসপত্রের দাম দিনদিন যে ভাবে বাড়ছে,সে ভাবে তো আর আয় কিংবা বেতন বাড়ছে না।তাহলে সে মানুষগুলো চলছে কি করে? একবার ভেবে দেখেছিস।
    নেতাঃ আমাদের দেশের মাথাপিছু আয় তো দিনদিন বেড়েই চলছে।আয় না বাড়লে মাথাপিছু আয় বাড়ে কি করে বন্ধু?
    বন্ধু: এই খানেই তো সমস্যা।এই যে এলাকায় আসছিস একবার ঘুরে দেখেছিস কতজন মানুষ এখন তিনবেলা খেতে পারছে না।পাস করার পর থেকে আসাতো ভুলেই গেছিস।শহরেই পড়ে থাকিস।
    নেতাঃ সেটা দেখার জন্যই তো এলাকায় আসা।এরাইতো আমাকে নেতা বানিয়েছে এদের খুঁজ খবর নেয়া তো আমার দায়িত্ব।তাছাড়া এখন তো শুধু এলাকা নিয়ে পড়ে থাকলে হয় না,সারা দেশ নিয়ে ভাবতে হয়।
    বন্ধুঃ এলাকার খবরই তো রাখতে পারি না সারা দেশের খবর রাখবি কি করে? এক কাজ কর। তোকে এলাকা ঘুরে দেখাই তাহলেই বুঝতে পারবি জনগন কেমন আছে?
    নেতাঃ ঠিক বলেছিস।তাহলে ঘুরে দেখা যাক।( বন্ধু নেতাকে সারা এলাকা ঘুরে দেখালো)
    বন্ধুঃ কিরে এই যে ঘুরে দেখলি কি বুঝতে পারলি।জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষগুলো কত অসহায় জীবনযাপন করছে দেখেছিস।এরা না খেয়ে থাকবে তাও কাউকে কিছু বলবে না।এদের কাছে সম্মানটা বড় এরা মরবে তবুও আত্মসম্মান বিলিয়ে দিবে না।
    নেতাঃ বন্ধু এলাকায় না আসলে তো বুঝতেই পারতাম না মানুষ কত অসহায় জীবন যাপন করছে। এভাবে চলতে থাকলে মানুষতো আমাদের আর ভোটই দিবে না।আমি রাজধানীতে গিয়েই দলীয় প্রধানের সাথে এ অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। তিনি অবশ্যই একটা উপায় খুঁজে বের করবেন।
    বন্ধুঃ শুধু শহরে বসে না থেকে জনগনের পাশে এসে দাঁড়া। দেখবি মানুষের ভালোবাসার মধ্য এক ধরনের সুখ আছে।তুই ছেড়ে যেতে চাইলেও ওরা তোকে যেতে দিবে না। এ মানুষগুলো অতি অল্পেই খুশি থাকে রে বন্ধু।
    নেতাঃ এখন থেকে ঘন ঘন এলাকায় আসবো।মানুষের সাথে মিশবো,তাদের সুখ-দূঃখের খবর নিবো।আমি মাটি ও মানুষের নেতা হতে চাই বন্ধু।
    বন্ধুঃ যেহেতু উপলব্ধি করতে পারছিস এটাই অনেক বড় ব্যপার।এখন সময় নষ্ট না করে কাজ করা শুরু কর।
    নেতাঃ ঠিক বলেছিস।ধন্যবাদ বন্ধু।আবার দেখা হবে সুখ-দূঃখের মিছিলে।মাটি ও মানুষের মাঝে।জয় বাংলা।
    বন্ধুঃ জয় বাংলা।

    (বি.দ্রঃ কাল্পনিক কথোপকথন খুব সত্যের কাছাকাছি থেকে দেখা)

    9
    2 Comments
Skip to toolbar