<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | পংকজ প্রিয়ম | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/pankajpriyom/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/pankajpriyom/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for পংকজ প্রিয়ম.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 30 Oct 2026 20:14:09 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">fa6d8dfeca8a30ea93002e9f26a7f59c</guid>
				<title>একটি মাঠের স্বপ্ন, সাতশো পরিবারের আনন্দ

&#x25aa;&#xfe0f;পংকজ প্রিয়ম

বাবুপুরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে রচিত হলো ভালোবাসা, ঐক্য ও ভবিষ্যতের এক অনন্য গল্প। পৃথিবীতে সব অর্জনের মূল্য অর্থ দিয়ে মাপা যায় না। কিছু অর্জন থাকে, যার গভীরতা লুকিয়ে থাকে মানুষের হাসিতে, শিশুদের উচ্ছ্বাসে, কিংবা বহুদিনের অপূর্ণ কোনো স্বপ্ন পূরণের আনন্দে।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রামে তেমনই এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে। গ্রামের শিশু-কিশোরদের জন্য একটি খেলার মাঠের স্বপ্ন পূরণে এক হয়েছেন সাতশোরও বেশি পরিবারের মানুষ। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কেনা হয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। আপাতদৃষ্টিতে এটি এক টুকরো জমির গল্প, কিন্তু গভীরভাবে দেখলে এটি একটি গ্রামের মানবিক জাগরণ, সামাজিক সংহতি এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসার অনন্য দলিল।

আমাদের সময়ের এক নির্মম বাস্তবতা হলো, গ্রাম ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। একদিকে শহুরে জীবনের প্রভাব, অন্যদিকে খেলার মাঠ হারিয়ে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস। শিশুর শৈশব থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের স্বাধীনতা, বিকেলের ছোটাছুটি, গোল্লাছুট, ফুটবল কিংবা ক্রিকেটের উচ্ছ্বাস। অথচ একটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য বই-খাতার পাশাপাশি প্রয়োজন খোলা আকাশ, সবুজ ঘাস আর একটুখানি দৌড়ে বেড়ানোর অবকাশ।

বাবুপুর গ্রামের বাস্তবতাও ছিল তেমন। সাতশোর বেশি পরিবারের সাড়ে তিন হাজার মানুষের এই জনপদে শিশু, কিশোর ও তরুণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অথচ তাদের জন্য ছিল না নির্দিষ্ট কোনো খেলার মাঠ। ধান কাটার পর কৃষিজমি যখন সাময়িকভাবে ফাঁকা হতো, তখনই সেখানে বসত শিশুদের খেলার আসর। ফসলের মৌসুম শুরু হলে সেই আনন্দেরও ইতি ঘটত। মাঠের অভাবে শৈশব যেন বারবার আটকে যেত জমির সীমানায়। বছরের পর বছর এই অপূর্ণতা বয়ে বেড়িয়েছে গ্রামের নতুন প্রজন্ম।
কিন্তু কোনো কোনো স্বপ্ন দীর্ঘদিন অপূর্ণ থাকলেও একসময় মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির কাছে পথ ছেড়ে দেয়। বাবুপুরেও তেমনটাই ঘটেছে।

গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদসহ কয়েকজন সচেতন মানুষ নতুন করে মাঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরা পরামর্শ নেন গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের। কথা বলেন গ্রামের সামর্থ্যবান ও সমাজহিতৈষী মানুষের সঙ্গে। ধীরে ধীরে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই স্বপ্ন কোনো একজনের নয়, এটি গোটা গ্রামের। তাই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্বও নিতে হবে সবাইকে।

প্রথমে গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা। সেখানে মাঠের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত মানুষের সম্মতিতে শুরু হয় জমি কেনার অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ। এরপর যে দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে, তা আমাদের গ্রামীণ সমাজের চিরায়ত সৌন্দর্যকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। কেউ দিয়েছেন ২০০ টাকা, কেউ ৫০০, কেউবা ১ হাজার। সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ ২ হাজার, ৫ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এখানে অর্থের অঙ্ক বড় হয়ে ওঠেনি, বড় হয়ে উঠেছে অংশগ্রহণের আন্তরিকতা। কারও দেওয়া দুই শ টাকা আর কারও দেওয়া দশ হাজার টাকা মিলেমিশে একই স্বপ্নের অংশ হয়ে উঠেছে। কারণ, এই মাঠে কারও একক মালিকানা থাকবে না; থাকবে পুরো গ্রামের অধিকার, থাকবে আগামী দিনের শিশুদের হাসি।
গ্রামের ইকবাল হোসেন সুজন ৬০ শতাংশ জমি বিক্রি করতে সম্মত হন। প্রতি শতাংশের মূল্য নির্ধারিত হয় ৫২ হাজার টাকা। কিন্তু তিনিও এই উদ্যোগকে কেবল জমি বিক্রির সাধারণ লেনদেন হিসেবে দেখেননি। নির্ধারিত ৬০ শতাংশের মধ্যে ৫৯ শতাংশের মূল্য গ্রহণ করে অবশিষ্ট এক শতাংশ জমি তিনি দান করেন। তাঁর এই উদারতা উদ্যোগটির মানবিক সৌন্দর্যে যোগ করেছে আরেকটি উজ্জ্বল মাত্রা।

অবশেষে জমি কেনার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। বাদ্যযন্ত্রের আনন্দমুখর সুরে গ্রামবাসী জমিটি বুঝে নেন। এরপর মাঠের মাঝখানে উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। লাল-সবুজের পতাকা যখন খোলা আকাশের নিচে উড়তে থাকে, তখন সেটি যেন কেবল একটি জমির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে থাকেনি; হয়ে উঠেছে মানুষের ঐক্য, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত স্বপ্নের পতাকা। আনন্দে মেতে ওঠেন গ্রামের মানুষ। ফুলের মালায় বরণ করে নেওয়া হয় কয়েকজন অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিকে। দিনভর উৎসবের আবহে মুখরিত থাকে পুরো জনপদ।
সবচেয়ে বেশি আনন্দ নিশ্চয়ই সেই শিশু-কিশোরদের, যাদের জন্য এই আয়োজন। হয়তো তাদের অনেকেই এখনো উপলব্ধি করতে পারছে না, এই ৬০ শতাংশ জমির পেছনে কত মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও ত্যাগ জড়িয়ে আছে। তারা শুধু জানে, এবার তাদেরও একটি মাঠ হয়েছে। যেখানে বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছুটে বেড়ানো যাবে, গোলপোস্ট বানিয়ে ফুটবল খেলা যাবে, ক্রিকেটের ব্যাট হাতে দাঁড়ানো যাবে। যেখানে হার-জিতের আনন্দে তৈরি হবে বন্ধুত্ব, শৃঙ্খলা, সাহস এবং একে অপরের পাশে থাকার শিক্ষা।

উদ্যোক্তারা অবশ্য এখানেই থেমে থাকতে চান না। মাঠের পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। অর্থাৎ তাঁরা শুধু বর্তমানের প্রয়োজন মেটাতে চান না, ভবিষ্যতের জন্যও একটি বড় পরিসর তৈরি করতে চান। এই দূরদৃষ্টি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

হয়তো একদিন এই মাঠের সবুজ বুক চিরে উঠে আসবে কোনো প্রতিভাবান ফুটবলার, ক্রিকেটার কিংবা জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ। হয়তো কোনো এক বিকেলে এই মাঠ থেকেই শুরু হবে কারও স্বপ্নযাত্রা। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি হওয়াই এই উদ্যোগের একমাত্র সাফল্য নয়। এর চেয়েও বড় সাফল্য হলো, বাবুপুরের শিশুরা তাদের শৈশব ফিরে পাওয়ার একটি পরিসর পেয়েছে। তারা শিখবে একসঙ্গে খেলতে, নিয়ম মানতে, পরাজয় মেনে নিতে এবং জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে।

বাবুপুরের এই উদ্যোগ আমাদের একটি জরুরি কথাও মনে করিয়ে দেয়। সমাজের সব পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। কখনো কখনো সাধারণ মানুষের সামান্য সামর্থ্য, একটু সদিচ্ছা আর পারস্পরিক বিশ্বাসই অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে পারে। যে গ্রামে কেউ দুই শ টাকা দেন, কেউ দশ হাজার টাকা দেন, কেউ আবার জমির একাংশ দান করেন, সেই গ্রামে আসলে অর্থের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে মানুষের হৃদয়ের ঐশ্বর্য।

একটি খেলার মাঠ মানে শুধু ঘাসে ঢাকা কয়েক বিঘা জমি নয়। এটি শৈশবের আশ্রয়, কৈশোরের উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্বের মিলনভূমি এবং সুস্থ সমাজ গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেখানে শিশুরা শুধু খেলতে শেখে না, জীবনকেও চিনতে শেখে। বাবুপুরের মানুষ তাই কেবল একটি মাঠ কেনেননি, তাঁরা কিনেছেন আগামী প্রজন্মের জন্য কিছু নির্মল বিকেল, কিছু দুরন্ত শৈশব, কিছু স্বপ্ন দেখার অবাধ অধিকার। তাঁদের এই সম্মিলিত প্রয়াস প্রমাণ করে, মানুষ যখন নিজের গণ্ডি অতিক্রম করে সবার কথা ভাবতে শেখে, তখন ছোট্ট একটি গ্রামও হয়ে উঠতে পারে বড় মানবিকতার দৃষ্টান্ত।

হয়তো বহু বছর পর এই মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে কোনো প্রবীণ মানুষ বলবেন, ‘এই মাঠটি আমরা সবাই মিলে তৈরি করেছিলাম।’ তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি হয়তো জানবেও না, তার আনন্দময় শৈশবের পেছনে কত মানুষের অবদান রয়েছে। তবু মাঠের প্রতিটি ঘাসে, প্রতিটি বিকেলের খেলায়, প্রতিটি শিশুর উচ্ছ্বসিত হাসিতে বেঁচে থাকবে সেই মানুষগুলোর ভালোবাসা।

বাবুপুরের এই গল্প তাই জমি কেনার গল্প নয়, এটি মানুষের জন্য মানুষের এগিয়ে আসার গল্প। এটি এমন এক স্বপ্নের গল্প, যেখানে একটি গ্রামের মানুষ মিলে আগামী প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়েছেন এক টুকরো আকাশ, এক চিলতে সবুজ আর প্রাণভরে বেঁচে থাকার অধিকার।
----------------------------- 
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন সাহিত্য পত্রিকা -&#039;পলিমাটি&#039;। প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/287566/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Oct 2026 16:13:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি মাঠের স্বপ্ন, সাতশো পরিবারের আনন্দ</p>
<p>&#x25aa;&#xfe0f;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>বাবুপুরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে রচিত হলো ভালোবাসা, ঐক্য ও ভবিষ্যতের এক অনন্য গল্প। পৃথিবীতে সব অর্জনের মূল্য অর্থ দিয়ে মাপা যায় না। কিছু অর্জন থাকে, যার গভীরতা লুকিয়ে থাকে মানুষের হাসিতে, শিশুদের উচ্ছ্বাসে, কিংবা বহুদিনের অপূর্ণ কোনো স্বপ্ন পূরণের আনন্দে।</p>
<p>টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-287566"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/287566/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">18cc6d8d5ea50531384d753647ea3698</guid>
				<title>চুয়েট থেকে জার্মানির হাইড্রোজেনচালিত বিমান গবেষণায় দেবযানী ঘোষ: পরিবেশবান্ধব আকাশযাত্রার প্রযুক্তিতে এক বাংলাদেশী
&#x25aa;&#xfe0f;পংকজ প্রিয়ম

আকাশে উড়োজাহাজের ডানা মেলার দৃশ্যের পেছনে থাকে পদার্থবিজ্ঞান, বিদ্যুৎ প্রকৌশল, জ্বালানি প্রযুক্তি ও অসংখ্য মানুষের নিরলস গবেষণা। সেই গবেষণার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিমান চলাচলকে কীভাবে আরও পরিবেশবান্ধব করা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তির সাহায্যে বিমান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই আন্তর্জাতিক গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা প্রকৌশলী দেবযানী ঘোষ। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাযাত্রা তাঁকে নিয়ে গেছে জার্মানির হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণায়।

দেবযানীর এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের বিবরণ নয়; এটি বাংলাদেশের প্রকৌশলশিক্ষা থেকে অর্জিত জ্ঞান কীভাবে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণায় কাজে লাগতে পারে, তারও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দেবযানী ঘোষ। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবনের সূচনা। অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। 
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল এমন একটি শাস্ত্র, যার প্রয়োগ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা, যোগাযোগব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আধুনিক বিমান প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত। বিদ্যুৎশক্তির রূপান্তর, নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এই শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেবযানীর পরবর্তী গবেষণার সঙ্গে এই বিষয়গুলোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
চুয়েটের পাঠ্যক্রমে অর্জিত প্রকৌশলজ্ঞানকে আরও বিশেষায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান। সেখানে তাঁর শিক্ষাজীবন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র উন্মোচন করে।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি

২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেবযানী জার্মানির আরডাব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। এর আগে ২০১৩ সালে তিনি ইনফিনিয়ন টেকনোলজিস এজিতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন। উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইনস্টিটিউট অব এনার্জি কনভার্সন অ্যান্ড স্টোরেজে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র ছিল শূন্য নিঃসরণভিত্তিক হাইব্রিড বৈদ্যুতিক বিমানের জন্য নতুন শক্তি রূপান্তর ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন। এ বিষয়ে তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল, Development of a novel hybrid concept with DC-AC direct control and power management system for zero emission hybrid electric aircraft।
২০১৮ সালে ডি. ঘোষ, সি. উইলিখ ও জে. কাল্লোর যৌথ গবেষণাপত্র Development of a novel AC hybrid concept for a fuel cell-battery hybrid electric aircraft with power electronics switches প্রকাশিত হয় ১৪তম আন্তর্জাতিক পাওয়ার ইলেকট্রনিকস সম্মেলনে। ২০১৯ সালে তিনি হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত ব্যবস্থার জন্য নতুন এসি হাইব্রিড ধারণা নিয়েও গবেষণা উপস্থাপন করেন।
এসব প্রকাশনা প্রমাণ করে, তাঁর কাজ শুধু একটি প্রকল্পে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বৈদ্যুতিক বিমান চালনার শক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁর গবেষণার নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ভিত্তি ছিল।

HY4: বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

দেবযানী ঘোষের গবেষণাজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় জড়িয়ে আছে HY4 প্রকল্পের সঙ্গে। জার্মানির উলম বিশ্ববিদ্যালয় ও জার্মান মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট গবেষণা অংশীদারদের উদ্যোগে বিকশিত এই চার আসনের পরীক্ষামূলক বিমান হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলনির্ভর বৈদ্যুতিক চালনা প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী।
২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে HY4 প্রথম উড্ডয়ন করে। H2FLY-এর তথ্য অনুযায়ী, এই উড্ডয়ন হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির সম্ভাবনা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। HY4-কে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এটি সাধারণ বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান নয়; বরং নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য তৈরি চার আসনের পরীক্ষামূলক বিমান।
এই প্রকল্পে দেবযানীর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ও বিদ্যুৎশক্তির ব্যবস্থাপনা। একটি হাইড্রোজেনচালিত বৈদ্যুতিক বিমান কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে হলে এই প্রযুক্তির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। কিন্তু উৎপন্ন বিদ্যুৎকে সরাসরি সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় না। বিমানের বৈদ্যুতিক মোটর ও অন্যান্য ব্যবস্থার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের ধরন, ভোল্টেজ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। পাশাপাশি ব্যাটারি ও ফুয়েল সেলের মধ্যে শক্তির আদান-প্রদান সমন্বয় করাও জরুরি।
এই কাজের জন্য প্রয়োজন পাওয়ার ইলেকট্রনিকস, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং শক্তি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত প্রয়োগ। দেবযানীর গবেষণা এই প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে বিমানটির চালনা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি উন্নয়নের বৃহত্তর গবেষণায় তাঁর কাজের গুরুত্ব রয়েছে।

গবেষণাগার থেকে বাস্তব উড্ডয়নের পথে

হাইড্রোজেনচালিত বিমান প্রযুক্তির উন্নয়ন শুধু একটি সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করার বিষয় নয়। বিমানকে দীর্ঘ সময় আকাশে রাখা, জ্বালানি সংরক্ষণ, শক্তির দক্ষ ব্যবহার, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় নির্ভরযোগ্য পরিচালনার মতো বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
H2FLY-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে HY4-এর উন্নত সংস্করণটি পূর্ণাঙ্গ বিকল্প বা রিডানড্যান্ট চালনা ব্যবস্থাসহ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অনুমতি পায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ওই সংস্করণের মাধ্যমে শতাধিক উড্ডয়নে হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক চালনা প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শিত হয়।
এরপর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে HY4 নতুন একটি মাইলফলক অর্জন করে। H2FLY ঘোষণা করে, তাদের পরীক্ষামূলক বিমানটি তরল হাইড্রোজেন ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম পাইলটচালিত বৈদ্যুতিক বিমান হিসেবে উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলোতে একাধিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়, যার একটি তিন ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, গ্যাসীয় হাইড্রোজেনের পরিবর্তে তরল হাইড্রোজেন ব্যবহার করলে HY4-এর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উড্ডয়ন-পরিসর ৭৫০ কিলোমিটার থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারে উন্নীত হতে পারে। এই পরিসংখ্যানটি পরীক্ষামূলক বিমানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য; একে সব ধরনের হাইড্রোজেনচালিত বিমানের সাধারণ ক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
এই অগ্রগতি দেখায়, হাইড্রোজেনভিত্তিক বিমান প্রযুক্তি এখন কেবল তাত্ত্বিক গবেষণায় সীমাবদ্ধ নেই। বাস্তব উড্ডয়ন, জ্বালানি সংরক্ষণ ও শক্তি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করে প্রযুক্তিটিকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

হাইড্রোজেন কি সত্যিই পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের ভবিষ্যৎ?

বিমান চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টায় হাইড্রোজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক চালনা একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। প্রচলিত জেট ইঞ্জিনে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন নির্গমন ঘটে। অন্যদিকে, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় না। এর প্রধান উপজাত পানি ও তাপ।
তবে এখানেই পরিবেশগত বিশ্লেষণ শেষ হয়ে যায় না। হাইড্রোজেন উৎপাদনের জন্য কী ধরনের শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, উৎপাদন ও পরিবহনে কতটা জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে এবং সংরক্ষণব্যবস্থা কতটা দক্ষ, তার ওপর পুরো প্রযুক্তির পরিবেশগত সুবিধা নির্ভর করে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদিত সবুজ হাইড্রোজেন এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া হাইড্রোজেনকে বিমানে ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় সংরক্ষণ করতে বিশেষ ট্যাংক, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন। তরল হাইড্রোজেনের জন্য অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা বজায় রাখতে হয়। বিমানের ওজন, শক্তি ধারণক্ষমতা, নিরাপদ পরিচালনা এবং প্রযুক্তির ব্যয়ও বড় চ্যালেঞ্জ।
H2FLY-এর গবেষণার লক্ষ্য এসব বাধা অতিক্রম করে হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক চালনা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও বৃহত্তর বিমান ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। তবে পরীক্ষামূলক সাফল্যকে এখনই সর্বত্র বাণিজ্যিক ব্যবহারের সমতুল্য বলা যাবে না। প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, বিমান চলাচলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, অবকাঠামো ও ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়গুলোও সমাধান করতে হবে।

চুয়েটের শিক্ষার আন্তর্জাতিক প্রয়োগ

দেবযানী ঘোষের শিক্ষাজীবন থেকে গবেষণার পথচলা বিশ্লেষণ করলে একটি ধারাবাহিকতা দেখা যায়। চুয়েটে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক শিক্ষা তাঁকে মৌলিক ভিত্তি দিয়েছে। আরডাব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উচ্চশিক্ষা সেই জ্ঞানকে বিশেষায়িত করেছে। পরবর্তী সময়ে উলম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং HY4 প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁকে আধুনিক বিমান প্রযুক্তির একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।
এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলশিক্ষার জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান আন্তর্জাতিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যদি তার সঙ্গে থাকে নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, গবেষণার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়।
তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য দেবযানীর পথচলার শিক্ষা এখানেই। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল পড়াশোনার উদ্দেশ্য শুধু একটি পেশায় প্রবেশ করা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান দিয়ে নতুন সমস্যার সমাধান খোঁজা এবং মানুষের জীবন ও পরিবেশের জন্য কার্যকর প্রযুক্তি তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

ভবিষ্যতের আকাশে নতুন সম্ভাবনা

চট্টগ্রাম থেকে চুয়েট, চুয়েট থেকে জার্মানির উচ্চশিক্ষা, আর সেখান থেকে হাইড্রোজেনচালিত বৈদ্যুতিক বিমান প্রযুক্তির গবেষণা, দেবযানী ঘোষের পথচলা এই ধারাবাহিকতারই পরিচায়ক। তাঁর গবেষণার বিষয় হয়তো সাধারণ পাঠকের কাছে কিছুটা জটিল, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত লক্ষ্য সহজেই বোঝা যায়: বিদ্যুৎশক্তিকে আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করে বিমান চলাচলের নতুন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা তৈরি করা।
আধুনিক বিমান প্রযুক্তির অগ্রগতি কোনো একক ব্যক্তির অর্জন নয়। এর পেছনে থাকে প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রয়াস। সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে দেবযানী ঘোষের গবেষণাযাত্রা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার বিষয় হতে পারে।
একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া জ্ঞানচর্চা যে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি গবেষণায় ভূমিকা রাখতে পারে, তাঁর পথচলা তারই উদাহরণ। আকাশের সীমানা যেমন বিস্তৃত, তেমনি বিস্তৃত বিজ্ঞান ও মানুষের অনুসন্ধিৎসার জগৎ। সেই জগতে নিজের দক্ষতা দিয়ে জায়গা করে নেওয়াই একজন প্রকৌশলীর প্রকৃত সার্থকতা।

তথ্যসূত্র ও নির্বাচিত রেফারেন্স

১. উলম বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি M. Sc. Debjani Ghosh, Institute of Energy Conversion and Storage.শিক্ষাজীবন, গবেষণার বিষয়, গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ এবং প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য।

২. H2FLY-এর প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট About Us। প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ক্ষেত্র, HY4-এর ইতিহাস এবং হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়ন সংক্রান্ত তথ্য।

৩. H2FLY-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
H2FLY And Partners Complete World’s First Piloted Flight of Liquid Hydrogen Powered Electric Aircraft। তরল হাইড্রোজেন ব্যবহার করে HY4-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এবং সম্ভাব্য উড্ডয়ন-পরিসরের তথ্য।

৪. H2FLY-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ২৮ এপ্রিল ২০২৩
H2FLY Achieves World’s First Milestone with Integrated Liquid Hydrogen Storage System। তরল হাইড্রোজেন সংরক্ষণব্যবস্থা ও ফুয়েল সেলের সমন্বিত পরীক্ষার তথ্য।

৫. গবেষণাপত্র D. Ghosh, C. Willich and J. Kallo, “Development of a novel AC hybrid concept for a fuel cell-battery hybrid electric aircraft with power electronics switches,” 2018 14th International Conference on Power Electronics (CIEP), Cholula, 2018, pp. 105–110। 
----------------------------- ----------------------------- 
প রি চি তি
লেখক : সহ-সভাপতি, রুরাল সাইন্স ফোরাম, মানিকগঞ্জ। কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;। প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/284263/</link>
				<pubDate>Sun, 11 Oct 2026 08:41:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চুয়েট থেকে জার্মানির হাইড্রোজেনচালিত বিমান গবেষণায় দেবযানী ঘোষ: পরিবেশবান্ধব আকাশযাত্রার প্রযুক্তিতে এক বাংলাদেশী<br />
&#x25aa;&#xfe0f;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>আকাশে উড়োজাহাজের ডানা মেলার দৃশ্যের পেছনে থাকে পদার্থবিজ্ঞান, বিদ্যুৎ প্রকৌশল, জ্বালানি প্রযুক্তি ও অসংখ্য মানুষের নিরলস গবেষণা। সেই গবেষণার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিমান চলাচলকে কীভাবে আরও পরিবেশবান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-284263"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/284263/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">845525cdb0119f5f8e7cb7007e39a649</guid>
				<title>&#x25aa;&#xfe0f;যে নারী খালি পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বুকের ওপর

------------------------------------পংকজ প্রিয়ম

“আপনি ভাতা নেন, একলা এভাবে আর কতদিন চলবেন?”- প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন। 

রমা চৌধুরী উত্তর দিয়েছিলেন,
“ছেলে দিয়েছি, স্বামী দিয়েছি, সম্ভ্রম দিয়েছি। তার তো ক্ষতিপূরণ হবে না। ভাতা নিয়ে কী করব!”

এই কথার পর আর কোনো কথা থাকে না।

কিছু বাক্য আছে, যার সামনে রাষ্ট্রের সমস্ত সান্ত্বনা ছোট হয়ে যায়। কিছু বেদনা আছে, যার কোনো হিসাব হয় না। কোনো সরকারি কাগজে, কোনো আর্থিক অঙ্কে, কোনো সম্মাননাপত্রে তার মূল্য লেখা সম্ভব নয়।

রমা চৌধুরীর জীবনের ক্ষতগুলো ছিল তেমনই। ইতিহাস তাঁর কাছ থেকে যা নিয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষমতা কোনো রাষ্ট্রেরই ছিল না।

১৯৭১।

একটি দেশ তখন জন্ম নেওয়ার যন্ত্রণায় কাঁপছে। চারদিকে আগুন, রক্ত, ধ্বংস আর মানুষের আর্তনাদ। সেই সময়ের এক অন্ধকার ভোরে রমা চৌধুরীর জীবনের ওপর নেমে এসেছিল আরেকটি যুদ্ধ। নিজের ঘরেই পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে নির্যাতিত হলেন তিনি।

একজন নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

তারপর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর ঘর। ছাই হয়ে গিয়েছিল জীবনের সঞ্চয়, স্মৃতি, নিরাপত্তা। একদিনে একজন মানুষের পৃথিবী কতবার ভেঙে যেতে পারে, রমা চৌধুরীর জীবন যেন সেই প্রশ্নের সবচেয়ে মর্মান্তিক উত্তর।

মানুষ যখন সব হারিয়ে ফেলে, তখন মৃত্যুকেও কখনো কখনো সহজ মনে হয়।

রমা চৌধুরীর কাছেও হয়েছিল।

কিন্তু তাঁর সন্তানদের মুখ মনে পড়েছিল।

মা হওয়া বোধহয় এমনই এক বন্ধন, যেখানে নিজের মৃত্যু থেকেও সন্তানের জীবন বড় হয়ে ওঠে। তিনি ফিরে এসেছিলেন। বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারপর শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ নির্বাসন।

বন-বাদাড়ে, জঙ্গলে, লুকিয়ে লুকিয়ে কাটত দিন। রাত নামলে ফিরে আসতেন আগুনে পোড়া ভিটের কাছে। যে ঘর একদিন ছিল তাঁর আশ্রয়, সেখানে আর কোনো ঘর ছিল না। ছিল কেবল পোড়া মাটি। সেই মাটির ওপর পলিথিন টাঙিয়ে রাত কাটাতেন তিনি।

ভাবা যায়?

একটি স্বাধীন দেশের ভবিষ্যৎ যে নারীর মতো মানুষের বেদনার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তিনি রাত কাটিয়েছেন নিজের পোড়া ভিটেতে পলিথিনের নিচে।

কিন্তু তাঁকে শেষ করা যায়নি।

তাঁর ঘর পুড়েছিল, তিনি পুড়েননি।

তাঁর জীবন ভেঙেছিল, তিনি ভেঙে পড়েননি।

তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল, কিন্তু তাঁর আত্মা পরাজিত হয়নি।

তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলম।

বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রতিশোধগুলোর একটি হলো সৃষ্টি। যারা তাঁকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের উত্তর তিনি দিয়েছেন শব্দ দিয়ে। তাঁর কলম থেকে জন্ম নিয়েছে বই। লিখেছেন ‘একাত্তরের জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’, ‘ভাববৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৮টি গ্রন্থ।

তিনি লিখতেন বেঁচে থাকার জন্য।

লেখালেখি তাঁর কাছে শখ ছিল না, ছিল জীবনসংগ্রাম। একটি পত্রিকায় লেখার বিনিময়ে পেতেন পত্রিকার কপি। সেই কপি বিক্রি করে চলত তাঁর জীবন। পরে নিজের বই হাতে পথে পথে হাঁটলেন বিক্রির জন্য।

একজন লেখক বই বিক্রি করছেন।

কিন্তু তিনি শুধু বই বিক্রি করছিলেন না।

তিনি মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিজের জীবন। একাত্তরের স্মৃতি। একজন মায়ের কান্না। একজন নারীর অসমাপ্ত যুদ্ধ।

রমা চৌধুরীর জীবনের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী ছবিগুলোর একটি তাঁর খালি পা।

তাঁর সন্তানেরা এই দেশের মাটিতে শুয়ে আছে। তাই তিনি আর পায়ে জুতা পরেননি।

একজন মা তাঁর সন্তানদের কবরের মাটির সঙ্গে নিজের পায়ের দূরত্বটুকুও রাখতে চাননি।

বছরের পর বছর তিনি খালি পায়ে হেঁটেছেন।

রাস্তার ধুলোয় তাঁর পা পড়েছে। গরম পিচের ওপর তাঁর পা পড়েছে। শীতের শিশিরে তাঁর পা ভিজেছে। অথচ তাঁর খালি পা ছিল না কোনো অভাবের প্রতীক।

সেই খালি পা ছিল এক মায়ের প্রতিজ্ঞা।

সেই পা ছিল মাটির প্রতি ভালোবাসা।

সেই পা ছিল স্বাধীনতার কাছে তাঁর নীরব অঙ্গীকার।

আজ আমরা জুতা পরে স্বাধীনতার কথা বলি।

আর রমা চৌধুরী খালি পায়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে হেঁটেছিলেন।

অভাব তাঁর জীবনে ছিল, কিন্তু তিনি হাত পাতেননি। জীবনের শেষ বয়সেও তিনি নিজের দুঃখের চেয়ে অন্যের দুঃখ নিয়ে বেশি ভেবেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘দীপংকর স্মৃতি অনাথালয়’। যে নারীর নিজের জীবনের আশ্রয় বারবার ভেঙে গেছে, তিনিই আশ্রয় দিতে চেয়েছেন আশ্রয়হীন শিশুদের।

এ কেমন মানুষ!

নিজের সন্তান হারিয়েও তিনি অন্যের সন্তানদের মা হয়েছেন।

নিজের ঘর পুড়ে যাওয়ার পরও তিনি অনাথদের জন্য ঘরের স্বপ্ন দেখেছেন।

নিজের জীবনজুড়ে অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে অনাথ আশ্রমের স্বপ্ন দেখেছেন।

মানুষের মহত্ত্ব বোধহয় এখানেই।

নিজের কান্না ভুলে অন্যের চোখের জল মুছে দেওয়ার নামই হয়তো মহত্ত্ব।

আজ ৩ সেপ্টেম্বর।

২০১৮ সালের এই দিনে রমা চৌধুরী পৃথিবীর সব দুঃখ পেরিয়ে চলে গেছেন না-ফেরার দেশে।

কিন্তু সত্যিই কি তিনি চলে গেছেন?

না।

কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও মারা যান না।

তাঁরা থেকে যান একটি বাক্যে। একটি স্মৃতিতে। একটি ছবিতে। একটি আদর্শে। একটি খালি পায়ের পদচিহ্নে।

রমা চৌধুরী তেমনই থেকে গেছেন।

তিনি আছেন বাংলাদেশের মাটিতে।

আছেন একাত্তরের পোড়া ঘ্রাণে।

আছেন সেই সব নারীর চোখে, যারা অসম্মানের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই করে।

আছেন অনাথ শিশুর মুখে।

আছেন বই হাতে পথে হেঁটে যাওয়া এক বৃদ্ধা নারীর দৃশ্যে।

আর তিনি আছেন আমাদের বিবেকের কাছে, প্রতিদিন একটিই প্রশ্ন হয়ে।

আমরা কি সত্যিই তাঁর মতো মানুষদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পেরেছি?

আজকের এই দিনে রমা চৌধুরীকে স্মরণ করতে গিয়ে মনে হয়, একটি জাতির ইতিহাস শুধু বিজয়ের গল্প দিয়ে লেখা হয় না। ইতিহাস লেখা হয় সেই সব মানুষের অশ্রু দিয়ে, যাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি দেশ স্বাধীন হয়।

রমা চৌধুরী তাঁর জীবনে হারিয়েছেন অনেক কিছু।

স্বামী।

সন্তান।

ঘর।

সম্ভ্রম।

নিরাপত্তা।

স্বাচ্ছন্দ্য।

তবুও তিনি একটি জিনিস কাউকে নিতে দেননি।

তাঁর আত্মমর্যাদা।

এই কারণেই তিনি শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন।

তিনি একটি দেশ।

তিনি একটি পতাকার ভেতর লুকিয়ে থাকা কান্না।

তিনি এক মায়ের খালি পা।

তিনি আগুনে পোড়া একটি ঘরের শেষ অঙ্গার।

তিনি সব হারিয়েও অন্যকে ভালোবাসতে পারা এক আশ্চর্য মানুষ।

রমা চৌধুরী, আপনাকে মা বলার অধিকার হয়তো আমাদের নেই। কারণ আপনার মতো সন্তানকে ধারণ করার মতো বড় হতে পারেনি আমরা সবাই।

তবুও আজ আপনাকে মা বলতেই ইচ্ছে করে।

মা, আপনিই আমাদের লাল-সবুজের বাংলাদেশ।

যে বাংলাদেশ ক্ষতবিক্ষত হয়, কিন্তু মাথা নোয়ায় না।

যে বাংলাদেশ পুড়ে যায়, কিন্তু নিভে যায় না।

যে বাংলাদেশ সব হারিয়েও অন্যের জন্য একটি আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখে।

ওপারে ভালো থাকবেন, মা।

আপনার পায়ের ছাপ এই বাংলার মাটি থেকে কোনোদিন মুছে যাবে না। 

-----------------------------------------------------------
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/269256/</link>
				<pubDate>Thu, 03 Sep 2026 14:35:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25aa;&#xfe0f;যে নারী খালি পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের বুকের ওপর</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>“আপনি ভাতা নেন, একলা এভাবে আর কতদিন চলবেন?”- প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন। </p>
<p>রমা চৌধুরী উত্তর দিয়েছিলেন,<br />
“ছেলে দিয়েছি, স্বামী দিয়েছি, সম্ভ্রম দিয়েছি। তার তো ক্ষতিপূরণ হবে না। ভাতা নিয়ে কী করব!”</p>
<p>এই কথার পর আর কোনো কথা থ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-269256"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/269256/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">13da70b23ead6df9e9efdca838096637</guid>
				<title>একই ছাদের নিচে চারটি জীবন, চারটি নিঃশব্দ বিদায়
....….................................... পংকজ প্রিয়ম

রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের খবর নয়, এটি আমাদের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেওয়া এক ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডি।

জিলা স্কুলের সদ্য অবসর নেওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী। একটি পরিবার, চারটি জীবন, চারটি স্বপ্ন। অথচ কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই বাড়িটিই পরিণত হলো নীরব মৃত্যুকূপে।

কয়েক দিন ধরে কাউকে দেখা যাচ্ছিল না। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ বাড়ি। তারপর এক রাতে প্রতিবেশীদের নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। পুলিশ এসে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেছে, তা যে কোনো মানুষের হৃদয়কে ভারী করে দেওয়ার মতো।

ঘরের আসবাবপত্র তছনছ, জিনিসপত্র এলোমেলো, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। আর বাড়ির চারটি ভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে একই পরিবারের চারজন মানুষের নিথর দেহ।
কারও দেহ ছাদে, কারও সিঁড়িতে, ছোট্ট আয়ুষের দেহ মিলেছে খাটের নিচে।

একজন শিক্ষক, যিনি হয়তো অবসরের পর পরিবারের সঙ্গে শান্তিতে বাকি জীবনটুকু কাটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। একজন মা, যাঁর পৃথিবী ছিল তাঁর সন্তান ও সংসার। একজন কিশোরী মেয়ে, যার সামনে পড়ে ছিল অজস্র সম্ভাবনার দিন। আর একটি ছোট্ট শিশু, যে হয়তো আগামীকাল স্কুলে যাবে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলবে, নতুন কোনো স্বপ্নের কথা বলবে বলে ঘুমিয়েছিল। কিন্তু সেই আগামীকাল আর আসেনি।

প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢুকে হত্যার কথা বলা হলেও, এই ঘটনার প্রকৃত সত্য এখনও পুরোপুরি সামনে আসেনি। কী ঘটেছিল সেই রাতে? কারা এসেছিল এই বাড়িতে? কেন একটি পরিবারের চারজন মানুষকে এভাবে প্রাণ হারাতে হলো? কী ছিল হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু পুলিশের কাছে নয়, আমাদের সবার কাছে জরুরি।

কারণ চারটি মৃত্যু মানে শুধু চারটি লাশ নয়। এর সঙ্গে নিভে গেছে একটি পরিবারের হাসি, স্বপ্ন, সম্পর্ক আর একটি ঘরের আলো।

আমরা চাই, তদন্ত হোক নিরপেক্ষ ও দ্রুত। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হোক। অপরাধীরা যে-ই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।

আর সেই সঙ্গে আমাদের সমাজের কাছেও একটি প্রশ্ন থাকুক—একটি পরিবার যখন কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ, একটি বাড়ি যখন অস্বাভাবিকভাবে নীরব, তখন আমরা কি সত্যিই প্রতিবেশীর খোঁজ রাখি?

মানুষের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা শুধু তালা-চাবিতে নয়, মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর মধ্যেও।

গণপতি চক্রবর্তী, প্রীতিলতা চক্রবর্তী, আগামী চক্রবর্তী ও ছোট্ট আয়ুষের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

তাঁদের স্বজনদের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা।
এই চারটি প্রাণের মৃত্যুর পূর্ণ সত্য সামনে
আসুক। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।

----------------------------- ----------------------------- 
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264848/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Aug 2026 08:08:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একই ছাদের নিচে চারটি জীবন, চারটি নিঃশব্দ বিদায়<br />
&#8230;.…&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230; পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের খবর নয়, এটি আমাদের হৃদয়কে নাড়িয়ে দেওয়া এক ভয়াবহ মানবিক ট্র্যাজেডি।</p>
<p>জিলা স্কুলের সদ্য অবসর নেওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264848"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264848/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5b76ff8f76c4ea207bed19478a4cfc6d</guid>
				<title>“মৃত্যু সময়কে থামিয়ে দেয়, অথচ রবীন্দ্রনাথ সময়কে চলতে শিখিয়েছেন।”
— পংকজ প্রিয়ম

মৃত্যু মানুষের জীবনের শেষ উচ্চারণ। একদিন হৃদস্পন্দন থেমে যায়, চোখের আলো নিভে আসে, পরিচিত পৃথিবী থেকে মানুষটি হারিয়ে যায়। ঘড়ির কাঁটা অবশ্য থামে না; নদী তার গতিতে বয়ে যায়, ঋতু আসে-যায়, সূর্য প্রতিদিন পূর্বাকাশে ওঠে। তবু একজন মানুষের জন্য সময়ের যে ব্যক্তিগত অধ্যায়, মৃত্যু সেখানে একটি পূর্ণচ্ছেদ বসিয়ে দেয়।
কিন্তু সব মানুষের মৃত্যু কি সত্যিই তাঁদের থামিয়ে দিতে পারে?

কিছু মানুষ চলে যান, অথচ তাঁদের চলে যাওয়া শেষ হয়ে যায় না। তাঁরা থেকে যান শব্দে, সুরে, চিন্তায়, সৌন্দর্যবোধে, মানুষের জীবনদর্শনে। তাঁদের সৃষ্টি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যায় এবং প্রতিবার নতুন করে অর্থ খুঁজে নেয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তেমনই একজন। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ। কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে থেমে গিয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনযাত্রা। বর্ষার আকাশ যেন সেদিন নিজের ভাষায় শোক প্রকাশ করেছিল। একজন মানুষ চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া শব্দগুলো থামল না। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, চিঠি, দর্শন ও শিক্ষাচিন্তা ক্রমেই নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছাতে থাকল।

সেখানেই এই উক্তিটির সবচেয়ে গভীর সত্য। মৃত্যু তাঁকে থামাতে পারেনি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু তাঁর ব্যক্তিগত সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির সময়কে থামাতে পারেনি। বরং সময় যত এগিয়েছে, রবীন্দ্রনাথের রচনার নতুন নতুন পাঠ তৈরি হয়েছে। একসময় যে কবিতা একটি নির্দিষ্ট সময়ের অনুভূতি বহন করেছিল, পরবর্তী প্রজন্ম সেখানে খুঁজে পেয়েছে নিজের জীবন। যে গান কোনো একদিন কোনো নির্দিষ্ট মানুষের হৃদয়ের কথা বলেছিল, বহু বছর পর সেটিই অন্য কারও একান্ত অনুভূতির ভাষা হয়ে উঠেছে। এটাই বড় সৃষ্টির আশ্চর্য শক্তি।

একজন কবি তাঁর সময়ে লিখেছিলেন, কিন্তু তাঁর কবিতা যদি পরবর্তী সময়ের মানুষের হৃদয়ে কথা বলে, তবে তিনি আর শুধু তাঁর সময়ের কবি থাকেন না। তিনি হয়ে ওঠেন সময়ের কবি। রবীন্দ্রনাথ সেই বিরল উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

“সময়কে চলতে শেখানো” কথাটির অর্থ কী?
সময় নিজে তো চলবেই। তাকে কেউ চলতে শেখায় না। তাহলে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে সময়কে চলতে শেখালেন? এখানে “সময়” আসলে শুধু ঘড়ির কাঁটা নয়। সময় মানে মানুষের চিন্তা, অনুভূতি, রুচি, সমাজ, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের বিবর্তন।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষকে পুরোনো অন্ধত্বের বাইরে তাকাতে শিখিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন, সৌন্দর্যকে নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছেন, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে নতুন ভাষা দিয়েছেন, প্রেমকে দিয়েছেন গভীর মানবিকতা, স্বাধীনতাকে দিয়েছেন আত্মমর্যাদার অর্থ। তিনি শুধু কবিতা লেখেননি; তিনি বাঙালির ভাবনার ভুবনকে প্রসারিত করেছেন। 

তাই “সময়কে চলতে শেখানো” আসলে একটি রূপক। এর অর্থ, রবীন্দ্রনাথ তাঁর সময়কে অতিক্রম করে পরবর্তী সময়ের মানুষের চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর সৃষ্টিতে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়ার ক্ষমতা। 

রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো তাঁর সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। একদিকে আছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, অন্যদিকে মানুষের নিঃসঙ্গতা। কোথাও প্রেম, কোথাও বিচ্ছেদ। কোথাও দেশ ও সমাজের প্রশ্ন, কোথাও ব্যক্তিমানুষের আত্মঅন্বেষণ। কোথাও শিশুর নির্মল পৃথিবী, কোথাও সভ্যতার সংকট।

তাই একজন কিশোর রবীন্দ্রনাথকে যেমনভাবে আবিষ্কার করে, একজন প্রৌঢ় হয়তো তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যভাবে আবিষ্কার করেন। একই কবিতা বয়সের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। একই গান জীবনের ভিন্ন সময়ে ভিন্ন অর্থ বহন করতে পারে। সৃষ্টির এই পুনর্জন্মই রবীন্দ্রনাথের সময়জয়ী শক্তি।

রবীন্দ্রনাথ শুধু অতীতের নন। রবীন্দ্রনাথকে আমরা অনেক সময় কেবল স্মরণের মানুষ করে ফেলি। জন্মদিনে তাঁর ছবি, প্রয়াণদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা, বিশেষ দিবসে তাঁর গান, কবিতা কিংবা উদ্ধৃতি দিয়ে আমরা তাঁকে স্মরণ করি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে শুধু স্মরণ করলে তাঁর প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না।
তাঁকে পড়তে হয়। আর পড়তে হয় নতুন চোখে।
কারণ রবীন্দ্রনাথকে কেবল অতীতের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর বিশালতার অনেকটাই অদেখা থেকে যায়। তিনি তাঁর সময়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, আবার ভবিষ্যতের মানুষের সঙ্গেও কথা বলার মতো সৃষ্টিশক্তি রেখে গেছেন।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর রচনার পাঠও পরিবর্তিত হতে পারে। এটাই জীবন্ত সাহিত্যের লক্ষণ।
যে সাহিত্যকে প্রতিটি প্রজন্ম নতুন করে আবিষ্কার করে, সে সাহিত্য কখনো মৃত হয় না। মৃত্যু যেখানে শেষ নয়। মানুষের শরীরের মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু মানুষের চিন্তার মৃত্যু কি অনিবার্য? একজন মানুষ চলে যান। তাঁর কণ্ঠ আর শোনা যায় না। তাঁর হাত আর কলম ধরে না। কিন্তু তিনি যদি এমন কিছু সৃষ্টি করে যান, যা অন্য মানুষের চিন্তাকে জাগিয়ে রাখে, তবে তাঁর অস্তিত্ব অন্য এক রূপে চলতে থাকে।
সেই অর্থে মৃত্যু কেবল শরীরের সমাপ্তি।

সৃষ্টিশীল মানুষের ক্ষেত্রে মৃত্যু কখনো কখনো নতুন এক যাত্রার শুরু। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাঁর জীবনের সময় শেষ হয়েছে, কিন্তু তাঁর সৃষ্টির সময় শুরু হয়েছে আরও দীর্ঘ পরিসরে। তিনি যখন বেঁচেছিলেন, তখন তিনি লিখতেন। তিনি চলে যাওয়ার পর মানুষ তাঁকে নতুন করে পড়তে শুরু করেছে। এক প্রজন্ম তাঁর মধ্যে যা আবিষ্কার করেছে, পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো সেখানে অন্য কিছু খুঁজে পেয়েছে। এভাবেই একজন স্রষ্টা সময়ের ভেতর ক্রমাগত পুনর্জন্ম লাভ করেন।

আজকের পৃথিবী প্রযুক্তিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাপন বদলেছে, যোগাযোগের ভাষা বদলেছে, সম্পর্কের ধরন বদলেছে, চিন্তার গতি বেড়েছে। হাতে থাকা ছোট্ট একটি যন্ত্র মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্তের খবর আরেক প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। তবুও মানুষের কিছু মৌলিক অনুভূতি বদলায়নি।
মানুষ এখনও ভালোবাসে।
মানুষ এখনও হারায়।
মানুষ এখনও একাকী হয়।
মানুষ এখনও প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে চায়।
মানুষ এখনও স্বাধীনতা চায়।
মানুষ এখনও নিজের অস্তিত্বের অর্থ খোঁজে।

এই জায়গাতেই রবীন্দ্রনাথ আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ তিনি কেবল তাঁর সময়ের মানুষের কথা লেখেননি; তিনি সব সময়ের মানুষের কথা লিখেছেন। আর মানুষ যতদিন থাকবে, মানুষের আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, আশা-হতাশা, প্রশ্ন ও স্বপ্ন যতদিন থাকবে, ততদিন তাঁর সৃষ্টিরও নতুন পাঠ থাকবে।

“মৃত্যু সময়কে থামিয়ে দেয়”—এ কথাটি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে সত্য। কিন্তু “রবীন্দ্রনাথ সময়কে চলতে শিখিয়েছেন”—এই কথাটি তার চেয়েও গভীর একটি সত্যের দিকে আমাদের নিয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ সময়কে ঘড়ির কাঁটার মতো চালাননি। তিনি মানুষের চিন্তাকে এগিয়ে দিয়েছেন।
তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর শব্দ থামেনি।
তাঁর গান থামেনি।
তাঁর প্রশ্ন থামেনি।
তাঁর সৌন্দর্যবোধ থামেনি।
তাঁর মানবিকতার আহ্বান থামেনি।

একজন মানুষের মৃত্যু যেখানে একটি জীবনের দরজা বন্ধ করে, একজন মহৎ স্রষ্টার মৃত্যু কখনো কখনো খুলে দেয় আরও অনেক দরজা। রবীন্দ্রনাথ সেই খোলা দরজাগুলোর নাম। তাই হয়তো বলা যায়—

মৃত্যু রবীন্দ্রনাথের জীবন থামিয়েছে,কিন্তু রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি থামাতে পারেনি। বরং তাঁর সৃষ্টির হাত ধরেই সময় বারবার নতুন মানুষের কাছে ফিরে এসেছে। তিনি চলে গেছেন সময়ের বাইরে, কিন্তু তাঁর শব্দ এখনো সময়ের ভেতর হাঁটে।

-----------------------------------------------------------
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ- দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/259900/</link>
				<pubDate>Sat, 08 Aug 2026 16:51:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“মৃত্যু সময়কে থামিয়ে দেয়, অথচ রবীন্দ্রনাথ সময়কে চলতে শিখিয়েছেন।”<br />
— পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>মৃত্যু মানুষের জীবনের শেষ উচ্চারণ। একদিন হৃদস্পন্দন থেমে যায়, চোখের আলো নিভে আসে, পরিচিত পৃথিবী থেকে মানুষটি হারিয়ে যায়। ঘড়ির কাঁটা অবশ্য থামে না; নদী তার গতিতে বয়ে যায়, ঋতু আসে-যায়, সূর্য প্রতিদিন পূর্বাকাশে ওঠে। তবু একজন মানুষের জন্য সময়ের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-259900"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/259900/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c4158b175bf9eb84d3451cfe20e2954b</guid>
				<title>শ্রদ্ধাস্মরণ &#124; ২২ শ্রাবণ

শ্রাবণের বৃষ্টি কখনো কেবল জল হয়ে ঝরে না; কখনো তা হয়ে ওঠে স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস। আকাশের মেঘ, বাতাসের স্নিগ্ধতা, ভেজা পাতার নিঃশব্দ কম্পন যেন প্রতি বছর ২২ শ্রাবণে এক নামই উচ্চারণ করে, রবীন্দ্রনাথ।

এই দিনটি কেবল একটি মৃত্যুদিবস নয়, এটি বাংলা আত্মার গভীরতম শোকের দিন, আবার একই সঙ্গে এক অনন্ত আলোরও দিন। কারণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই বর্ষাস্নাত দিনে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে একটি জীবন থেমে গেলেও, একটি মহাজীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল কাল থেকে কালান্তরে।

রবীন্দ্রনাথের প্রস্থানকে মৃত্যু বলা যায় না। মৃত্যু সময়কে থামিয়ে দেয়, অথচ তিনি সময়কে চলতে শিখিয়েছেন। তিনি বিদায় নেননি বরং ছড়িয়ে পড়েছেন বাংলার আকাশে, নদীতে, কাশফুলের দোলায়, শিউলির সুবাসে, শিশুর প্রথম উচ্চারিত কবিতায়, প্রেমিকের অপেক্ষায়, মায়ের ভালোবাসায়, কৃষকের ঘামে এবং মানুষের অবিনাশী স্বপ্নে।

তাঁর কাছে প্রকৃতি ছিল আত্মীয়, মানুষ ছিল উপাসনা, আর জীবন ছিল এক অন্তহীন সৃজনযাত্রা। তাই তাঁর কবিতায় যেমন আছে বর্ষার স্নিগ্ধতা, তেমনি আছে বিদ্রোহের দীপ্তি; যেমন আছে প্রেমের নিবেদন, তেমনি আছে মানবমুক্তির আহ্বান। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, সৌন্দর্য কেবল ফুলে নয়, মানুষের হৃদয়েও বাস করে; স্বাধীনতা কেবল রাষ্ট্রের নয়, আত্মারও।

বিশ্বকবির প্রয়াণের সংবাদে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যে শোকগাথা লিখেছিলেন, তা আসলে এক কবির জন্য আরেক কবির অশ্রু নয়, সমগ্র বাংলার হৃদয়ের ভাষা।

“দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে,
বাংলার কবি, শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি, 
তুমি চলে যাবে বলে,
শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।”

এমন শোক কেবল একজন মানুষের জন্য নয়; এমন শোক একটি যুগের জন্য।

তবু রবীন্দ্রনাথ নিজেই আমাদের শিখিয়েছেন, মৃত্যুকে ভয় করতে নেই। তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের প্রকৃত জীবন তার শ্বাসে নয়, তার সৃষ্টিতে। তাই তাঁর কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছিল,
“মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের
মূল্য দিতে হয়,
সে প্রাণ অমৃতলোকে
মৃত্যুকে করে জয়।”

আর সেই কারণেই তাঁর আরেকটি উচ্চারণ আজও আমাদের অস্তিত্বের অংশ হয়ে আছে,

“মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।”

কত আশ্চর্য! তিনি যা চেয়েছিলেন, ইতিহাস যেন তাই-ই পূর্ণ করেছে। তিনি সত্যিই মানুষের মাঝেই বেঁচে আছেন। তাঁর গান গেয়ে প্রেমের কথা বলে তরুণ-তরুণী, তাঁর কবিতা আবৃত্তি করে নতুন প্রজন্ম, তাঁর গল্পে মানুষ নিজের জীবন খুঁজে পায়, তাঁর দর্শনে মানুষ খুঁজে পায় বিবেকের আলো।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একক কোনো প্রতিভা নন, তিনি ছিলেন এক বিস্ময়কর মহাবিশ্ব। কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরস্রষ্টা, শিক্ষাচিন্তক, ভাষাবিদ, দার্শনিক, চিত্রশিল্পী, সমাজভাবুক, সর্বোপরি বিশ্বমানবতার এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি মানুষকে আরও মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়।

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সম্মান পাননি; বাংলা ভাষাকেও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যভাষার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর অর্জন আজও সমগ্র বাঙালির আত্মমর্যাদার অংশ।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত &quot;আমার সোনার বাংলা&quot; এবং ভারতের জাতীয় সঙ্গীত &quot;জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে&quot; একই স্রষ্টার সৃষ্টি। ইতিহাসে এই গৌরব একমাত্র তাঁরই। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জাতীয় চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে একই কবির কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হওয়া মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।

১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া &quot;নাইট&quot; উপাধি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, একজন কবির কলম কখনো কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়; তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব কিন্তু অদম্য প্রতিবাদও হতে পারে।

রবীন্দ্রনাথ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নন, কোনো এক দেশেরও নন। তিনি ভাষার সীমানা অতিক্রম করা এক মানবিক আলোকস্তম্ভ। যতদিন মানুষ সৌন্দর্য খুঁজবে, প্রেমে আশ্রয় নেবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখবে এবং মানবতার জয়গান গাইবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক থাকবেন।

আজ ২২ শ্রাবণে আমরা তাঁকে স্মরণ করি না কেবল শোক জানাতে; আমরা তাঁকে স্মরণ করি নিজের ভেতরের আলোকে জাগিয়ে তুলতে। কারণ রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষ হয়ে জন্ম নেওয়াই যথেষ্ট নয়, মানুষ হয়ে উঠতে হয়।

বিশ্বকবির ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, অন্তহীন কৃতজ্ঞতা এবং বিনম্র প্রণাম।

তিনি নেই, অথচ আছেন। তিনি নীরব, অথচ তাঁর কণ্ঠ আজও বাংলার বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
তিনি দূরে নন, তিনি প্রতিটি আলোকিত হৃদয়ের ভেতরেই চিরজাগরূক।
----------------------------- ---------------------------- 
© পংকজ প্রিয়ম
কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/259785/</link>
				<pubDate>Fri, 07 Aug 2026 17:33:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শ্রদ্ধাস্মরণ | ২২ শ্রাবণ</p>
<p>শ্রাবণের বৃষ্টি কখনো কেবল জল হয়ে ঝরে না; কখনো তা হয়ে ওঠে স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস। আকাশের মেঘ, বাতাসের স্নিগ্ধতা, ভেজা পাতার নিঃশব্দ কম্পন যেন প্রতি বছর ২২ শ্রাবণে এক নামই উচ্চারণ করে, রবীন্দ্রনাথ।</p>
<p>এই দিনটি কেবল একটি মৃত্যুদিবস নয়, এটি বাংলা আত্মার গভীরতম শোকের দিন, আবার একই সঙ্গে এক অনন্ত আলোরও দিন। কারণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-259785"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/259785/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1b1ea6fb578c32e72f4bc822b149f1a7</guid>
				<title>&#x1f539;একজন শিক্ষককে অপমান করার আগে, একবার অন্তত তাঁর শ্রেণিকক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখুন।

সম্ভবত দেখবেন, কিছু শিশুর চোখে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন স্বপ্নের কারিগর।
আজ যার নাম নিয়ে হাসাহাসি চলছে, ট্রল চলছে, কুরুচিকর মন্তব্যের বন্যা বইছে, সেই বিউটি পাল কোনো ভাইরাল চরিত্র নন। তিনি একজন শিক্ষক। একজন প্রধান শিক্ষক। অসংখ্য শিশুর শেখার আনন্দকে রঙিন করে তোলার জন্য যিনি নিজের কণ্ঠ, হাসি, অঙ্গভঙ্গি, এমনকি নিজের সংকোচও বিসর্জন দেন।

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে একটি কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও একজন মানুষের বহু বছরের সততা, শ্রম আর অর্জনকে ঢেকে দিতে পারে। অথচ একটি ভিডিও কখনোই একজন মানুষের সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।

বিউটি পালকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে বরং নিজেকেই জিজ্ঞেস করি, একজন শিক্ষক যদি আনন্দের সঙ্গে ক্লাস নেন, শিশুদের হাসিয়ে শেখান, শাড়ি পরে পরিপাটি হয়ে বিদ্যালয়ে যান, নিজের অর্জনের আনন্দে একটি গানকে সঙ্গী করেন, তাতে আসলে কার ক্ষতি হয়?
সমস্যা কি তাঁর মধ্যে, নাকি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে?
যে সমাজ একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে সম্মান জানাতে শেখে না, সেই সমাজ ধীরে ধীরে নিজের ভবিষ্যৎকেই অসম্মান করে। কারণ শিক্ষককে ছোট করা মানে শুধু একজন মানুষকে নয়, শিক্ষাকেই ছোট করা।

মত প্রকাশের অধিকার সবার আছে। কিন্তু সেই অধিকার কখনোই কাউকে অপমান করার, চরিত্রহনন করার কিংবা সাইবার বুলিং করার অধিকার দেয় না। একটি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য হয়তো লিখতে কয়েক সেকেন্ড লাগে, কিন্তু সেটি একজন মানুষের মনে বহুদিনের ক্ষত তৈরি করতে পারে।

আমরা প্রায়ই বলি, সমাজে ভালো মানুষ নেই। অথচ যখন কোনো ভালো মানুষ নিজের কাজের মাধ্যমে আলাদা হয়ে ওঠেন, তখন তাঁকেই টেনে নামানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি।

নারীর পরিচয় তাঁর পোশাকে নয়, পুরুষের পরিচয় তাঁর উচ্চকণ্ঠে নয়। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর চরিত্রে, তাঁর দায়িত্ববোধে, তাঁর মানবিকতায়।
যদি সত্যিই আমরা ধর্ম, নৈতিকতা আর মূল্যবোধের কথা বলি, তবে প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত অন্যের সম্মান রক্ষা করা। কারণ অপমানের ভাষা কখনো সম্মানের ভাষা হতে পারে না, বিদ্বেষ কখনো মানবতার পরিচয় নয়।

আজ আমি বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছি শুধু একজন নারীর পাশে নয়, একজন শিক্ষক, একজন পরিশ্রমী মানুষ এবং একজন সম্মানিত নাগরিকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

চলুন, আমরা ট্রল নয়, সম্মান ছড়িয়ে দিই। বিদ্বেষ নয়, সহমর্মিতা ছড়িয়ে দিই। কারণ একটি সভ্য সমাজ গড়ে ওঠে মানুষের মর্যাদা রক্ষা করার মধ্য দিয়েই, তাকে ভেঙে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নয়।

----------------------------- ----------------------------- 
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258796/</link>
				<pubDate>Mon, 27 Jul 2026 05:29:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f539;একজন শিক্ষককে অপমান করার আগে, একবার অন্তত তাঁর শ্রেণিকক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখুন।</p>
<p>সম্ভবত দেখবেন, কিছু শিশুর চোখে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন স্বপ্নের কারিগর।<br />
আজ যার নাম নিয়ে হাসাহাসি চলছে, ট্রল চলছে, কুরুচিকর মন্তব্যের বন্যা বইছে, সেই বিউটি পাল কোনো ভাইরাল চরিত্র নন। তিনি একজন শিক্ষক। একজন প্রধান শিক্ষক। অসংখ্য শিশুর শেখার আনন্দকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-258796"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/258796/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">97e6875f72c959aa219f621ca8cf8ced</guid>
				<title>আবার বাড়ছে জন্মহার: আশীর্বাদ, নাকি নতুন সতর্কবার্তা?
..............................................পংকজ প্রিয়ম

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি, নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে কয়েক দশক ধরে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate) ছিল ২.৩। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৪। অর্থাৎ, আগে গড়ে ১০ জন নারী ২৩টি সন্তানের জন্ম দিতেন, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪।
প্রথম দেখায় এই বৃদ্ধি খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু জনসংখ্যাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বাংলাদেশের মতো প্রায় ১৮ কোটির দেশে দশমিকের এই ক্ষুদ্র পরিবর্তনও কয়েক লাখ অতিরিক্ত শিশুর জন্মের সমান হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও হবে উল্লেখযোগ্য।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পাকিস্তানে জন্মহার এখনো সবচেয়ে বেশি হলেও তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ভারতেও একই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। অর্থাৎ, যখন প্রতিবেশী দেশগুলো জন্মহার নিয়ন্ত্রণে আরও এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশের সামান্য ঊর্ধ্বগতি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হয়ে উঠতে পারে।

জন্মহার বৃদ্ধি মানেই কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বাসস্থান এবং খাদ্যনিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়। আজ যে শিশুর জন্ম হচ্ছে, আগামী দুই দশকের মধ্যে তার জন্য প্রয়োজন হবে মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান। অর্থনীতি যদি সেই প্রস্তুতি নিতে না পারে, তাহলে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের চাপ আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য খাতেও এর প্রভাব সুস্পষ্ট। অধিক জন্মের অর্থ হলো মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, নবজাতক চিকিৎসা, টিকাদান এবং পুষ্টি কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন। একই সঙ্গে দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে সন্তান সংখ্যা বেড়ে গেলে মা ও শিশুর অপুষ্টি, মাতৃমৃত্যু এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। পরিবার পরিকল্পনার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ কমে গেছে এবং তরুণ দম্পতিদের কাছে আধুনিক তথ্য পৌঁছানোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গর্ভনিরোধক সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।  জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, ইনজেকশন, আইইউডি ও ইমপ্ল্যান্টের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিবাহিত নারীদের গর্ভনিরোধক ব্যবহারের হার ২০১৯ সালের ৬২.৭% থেকে কমে ২০২৫ সালে ৫৮.২%-এ নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশে এখনও ৪৭% বাল্যবিয়ে ঘটে এবং ১৫–১৯ বছর বয়সী প্রতি হাজার কিশোরীর মধ্যে সন্তান জন্মদানের হার ৮৩ থেকে বেড়ে ৯২-এ পৌঁছেছে। এসব কারণও জন্মহার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

তবে জন্মহার বৃদ্ধির কারণগুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এটি কি পরিবার পরিকল্পনা সেবায় ঘাটতির ফল? নাকি স্বাস্থ্যসেবার ব্যাঘাত, অল্প বয়সে বিয়ে, সামাজিক পরিবর্তন কিংবা কোনো আঞ্চলিক বৈষম্যের প্রতিফলন? কেবল পরিসংখ্যান জানাই যথেষ্ট নয়, এর পেছনের বাস্তব কারণ অনুসন্ধান করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন জনসংখ্যাকে শুধু সংখ্যা হিসেবে নয়, মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জন্মহারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যদি সাময়িক হয়, তাহলে তা নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয়। আর যদি এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় রূপ নেয়, তবে পরিবার পরিকল্পনা, নারীর শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং জনসচেতনতা কর্মসূচিকে নতুনভাবে শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

পরিশেষে বলা যায়, জন্মহার বৃদ্ধি নিজে কোনো সংকট নয়, যদি প্রতিটি শিশুর জন্য নিশ্চিত করা যায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ। কিন্তু পরিকল্পনাহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি দেশের উন্নয়নযাত্রাকে ধীর করে দিতে পারে। তাই আজকের এই পরিসংখ্যানকে আতঙ্কের নয়, বরং দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা উচিত।

------------------------------------------------------------------------------ 
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/257400/</link>
				<pubDate>Sun, 12 Jul 2026 18:23:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আবার বাড়ছে জন্মহার: আশীর্বাদ, নাকি নতুন সতর্কবার্তা?<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি, নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে কয়েক দশক ধরে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। কিন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-257400"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/257400/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5c2ac45cf11e1b8e840b8dee50a61a78</guid>
				<title>সবুজের বুকে নিরাপদ সেতু: মধুপুরের বানরদের নতুন পথচলা
.....................................পংকজ প্রিয়ম

বনেরও একটি ভাষা আছে। সে ভাষা শব্দে নয়, পাতার মর্মরে, পাখির ডানার ঝাপটায়, কাঠবিড়ালির ছুটে চলায়, আর গাছের ডাল বেয়ে লাফিয়ে বেড়ানো বানরের কোলাহলে উচ্চারিত হয়। কিন্তু মানুষের নির্মিত মহাসড়ক সেই ভাষার মাঝখানে টেনে দেয় এক কঠিন বিভাজনরেখা। প্রতিদিন ছুটে চলা যানবাহনের গর্জনে থেমে যায় অনেক প্রাণের গল্প, নিভে যায় বনবাসী অসংখ্য প্রাণের জীবন।

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলও দীর্ঘদিন ধরে এমনই এক নীরব বেদনার সাক্ষী। খাদ্যের সন্ধানে কিংবা নিজেদের স্বাভাবিক বিচরণপথ ধরে এক বনাংশ থেকে অন্য বনাংশে যেতে গিয়ে বানরসহ বহু বৃক্ষচারী বন্যপ্রাণী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। মানুষের উন্নয়নের গতির কাছে বারবার পরাজিত হয়েছে প্রকৃতির সহজ অধিকার।

এই বাস্তবতার মধ্যেই আশার আলো হয়ে এসেছে এক মানবিক উদ্যোগ। বন বিভাগ জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের আওতাধীন মহাসড়কের পাঁচটি স্থানে উঁচু গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে নির্মাণ করেছে পাঁচটি ক্যানোপি করিডোর বা রোপওয়ে। আকাশছোঁয়া এই দড়ির সেতুগুলো যেন শুধু দুই পাশের বনকে নয়, মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককেও নতুন করে যুক্ত করেছে।

এখন বানর কিংবা অন্যান্য বৃক্ষচারী প্রাণীকে আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিচঢালা সড়কে নামতে হয় না। তারা গাছের মগডাল থেকেই নিরাপদে এক পাশ থেকে অন্য পাশে চলে যেতে পারে। এই ছোট্ট পরিবর্তনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে বিশাল এক পরিবেশগত তাৎপর্য। কারণ একটি প্রাণের জীবন রক্ষা মানে কেবল একটি প্রাণীকে বাঁচানো নয়, বরং একটি বন, একটি বাস্তুতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রকৃতির ভারসাম্যকে টিকিয়ে রাখা।

আজ পৃথিবীর নানা দেশে বন্যপ্রাণীর জন্য এমন ক্যানোপি করিডোর, আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। মধুপুরের এই উদ্যোগ সেই বৈশ্বিক সচেতনতারই এক সুন্দর প্রতিফলন, যা প্রমাণ করে উন্নয়ন মানেই প্রকৃতিকে উপেক্ষা করা নয়; বরং প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলা সম্ভব।

প্রকৃতি মানুষের সম্পদ নয়, মানুষ প্রকৃতিরই একটি অংশ। বন টিকে থাকলে প্রাণ টিকে থাকবে, আর প্রাণ টিকে থাকলেই টিকে থাকবে পৃথিবীর সৌন্দর্য। তাই মধুপুরের এই সবুজ সেতুগুলো কেবল দড়ির তৈরি কয়েকটি করিডোর নয়, এগুলো সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের এক অনন্য প্রতীক।

হয়তো একদিন এই উদ্যোগ দেশের অন্য বনাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে। তখন মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো শুধু ছায়াই দেবে না, তারা হয়ে উঠবে নিরাপদ জীবনের সেতুবন্ধন। আর বনভূমির নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও শোনা যাবে বানরের নিশ্চিন্ত লাফ, পাখির ডানা মেলার শব্দ, আর প্রকৃতির অবিরাম জীবনগান।
------------------------------------------------------- 
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;। প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/257135/</link>
				<pubDate>Thu, 09 Jul 2026 18:25:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সবুজের বুকে নিরাপদ সেতু: মধুপুরের বানরদের নতুন পথচলা<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>বনেরও একটি ভাষা আছে। সে ভাষা শব্দে নয়, পাতার মর্মরে, পাখির ডানার ঝাপটায়, কাঠবিড়ালির ছুটে চলায়, আর গাছের ডাল বেয়ে লাফিয়ে বেড়ানো বানরের কোলাহলে উচ্চারিত হয়। কিন্তু মানুষের নির্মিত মহাসড়ক সেই ভাষার মাঝখানে টেনে দেয় এক কঠিন বিভ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-257135"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/257135/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2999ee24c9e1edf9d95b037fae95813d</guid>
				<title>স্টেশনের নীরব মানুষটি: বুবির চলে যাওয়া এবং আমাদের হারিয়ে ফেলা মানবিকতা

-------------------------------------- পংকজ প্রিয়ম 

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই যে বৃদ্ধা হাতে ঝাড়ু তুলে নিতেন, আজ সেই প্ল্যাটফর্মে নেমেছে অন্যরকম নীরবতা। রেললাইন দুটি আগের মতোই দূরে মিলিয়ে গেছে দিগন্তে, ট্রেনও যথারীতি হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলেছে। শুধু আর নেই সেই ক্ষীণকায় নারী, যাকে সবাই চিনত এক নামে, বুবি।

তার কোনো পদবি ছিল না মানুষের মুখে, কোনো পরিচয়পত্রের পরিচয়ও যেন বড় হয়ে ওঠেনি। তিনি ছিলেন শুধু স্টেশনের মানুষ। যে স্টেশনে হাজারো মানুষ আসে, হাজারো মানুষ চলে যায়, সেখানে একজন মানুষ থেকে গিয়েছিলেন পঁচিশটি দীর্ঘ বছর।

কেউ জানে না তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন। হয়তো কোনো একদিন ট্রেনের জানালা দিয়ে হারিয়ে ফেলেছিলেন নিজের পৃথিবী। হয়তো কেউ তাকে খুঁজেছিল, হয়তো কেউ খোঁজেনি। সময় ধীরে ধীরে তার অতীতকে মুছে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত মেথিকান্দা রেলস্টেশনই হয়ে উঠেছিল তার জন্মভূমি, কর্মভূমি, আশ্রয় আর শেষ ঠিকানা।

তিনি কথা বলতে পারতেন না। অথচ প্রতিদিন ঝাড়ুর শব্দেই যেন বলতেন, &quot;এই পৃথিবীটা একটু পরিষ্কার থাকুক।&quot;স্টেশনের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তেই কেটে গেছে জীবনের ঋতুগুলো। মানুষের ফেলে যাওয়া ময়লা সরিয়ে তিনি নিজের জীবনটাকেও গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। 

দোকানদারদের দেওয়া সামান্য পারিশ্রমিক, যাত্রীদের মমতা আর কখনো সখনো ভিক্ষায় পাওয়া কয়েন জমিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন ছোট্ট এক স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের মূল্য ছিল মাত্র চল্লিশ হাজার টাকা।

একজন মানুষের কাছে এটি হয়তো এক মাসের বেতন। কারও কাছে একটি মোবাইল ফোনের দাম। কারও কাছে এক বিকেলের কেনাকাটা। অথচ বুবির কাছে সেটিই ছিল একটি জীবনের সমগ্র সঞ্চয়, অসুস্থ শরীরের ওষুধ, বার্ধক্যের নিরাপত্তা, অনিশ্চিত আগামী দিনের একমাত্র আশ্বাস।

মানুষ বলে, অর্থ মানুষকে বাঁচায়। কিন্তু বুবির ক্ষেত্রে অর্থই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠল। গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। ছোট্ট ঘরে নিশ্চয়ই তিনি ভেবেছিলেন, আজও রাত কেটে যাবে অন্য দিনের মতো। কিন্তু সেই রাত ছিল মানুষের মুখোশ ছিঁড়ে ফেলার রাত। কয়েকজন মানুষ তার কাছে টাকা চাইল। তিনি দিতে চাননি, কিংবা হয়তো সারা জীবনের কষ্টের সঞ্চয় ছেড়ে দিতে পারেননি। তারপর শুরু হলো নিষ্ঠুরতা। একজন বাক্‌প্রতিবন্ধী, অসহায়, সত্তর বছরের বৃদ্ধার ওপর এমন নির্মম আঘাত নেমে এলো, যার অভিঘাত শুধু তার শরীরে নয়, আমাদের বিবেকেও লাগে।

তার কক্ষ থেকে লুট হয়ে গেল চল্লিশ হাজার টাকা।
আর ধীরে ধীরে নিভে যেতে লাগল একটি জীবন।

পরদিন খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ ছুটে এসেছে। প্রশাসন এসেছে। চিকিৎসক এসেছেন। সহানুভূতির হাতও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে, আমরা কি সব সময়ই মৃত্যুর পরে মানুষকে ভালোবাসতে শিখি? জীবিত অবস্থায় যে মানুষটি বছরের পর বছর আমাদের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার নিরাপত্তার কথা কি কখনো ভেবেছিলাম?

বুবির মৃত্যু আমাদের কেবল কাঁদায় না, লজ্জিতও করে। কারণ সভ্যতা শুধু উঁচু ভবন, দ্রুতগতির ট্রেন কিংবা উন্নয়নের পরিসংখ্যান দিয়ে গড়ে ওঠে না। সভ্যতার প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে থাকে, সবচেয়ে দুর্বল মানুষটি কতটা নিরাপদ, তার ভেতরেই।

আজ মেথিকান্দা স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নিশ্চয়ই আগের মতোই ঝকঝকে থাকবে। অন্য কেউ ঝাড়ু দেবে। ট্রেন থামবে। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠবে। যাত্রীরা আসবে, চলে যাবে। শুধু এক কোণে আর দেখা যাবে না সেই নীরব মুখটিকে, যে কথা বলতে পারত না, কিন্তু তার শ্রম দিয়ে প্রতিদিন মানবতার একটি ভাষা লিখে যেত।

বুবি চলে গেছেন। তার সঙ্গে চলে গেছে একটি প্রশ্নও।
এই সমাজে সবচেয়ে অসহায় মানুষটির জীবন যদি মাত্র চল্লিশ হাজার টাকার চেয়েও সস্তা হয়ে যায়, তবে আমরা আসলে কী হারাচ্ছি? একজন বৃদ্ধাকে, নাকি আমাদের নিজেদের মানুষ হয়ে থাকার ক্ষমতাকেই?

সময়ের কাছে এই প্রশ্ন রেখে বুবি চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। কিন্তু তার ঝাড়ু দেওয়া সেই প্ল্যাটফর্ম, ভোরের শিশির, রেললাইনের দীর্ঘশ্বাস আর রাতের নির্জন স্টেশন হয়তো বহুদিন ধরে সাক্ষ্য দেবে, এক নীরব নারী ছিলেন, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পৃথিবীকে পরিষ্কার রাখতে চেয়েছিলেন। অথচ পৃথিবী তাকে নিরাপদ রাখতে পারেনি।
----------------------------- ----------------------------- 
প রি চি তি
লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;। প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল: paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/257049/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Jul 2026 18:00:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্টেশনের নীরব মানুষটি: বুবির চলে যাওয়া এবং আমাদের হারিয়ে ফেলা মানবিকতা</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211; পংকজ প্রিয়ম </p>
<p>ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই যে বৃদ্ধা হাতে ঝাড়ু তুলে নিতেন, আজ সেই প্ল্যাটফর্মে নেমেছে অন্যরকম নীরবতা। রেললাইন দুটি আগের মতোই দূরে মিলিয়ে গেছে দিগন্তে, ট্রেনও যথারীতি হুইসেল বাজিয়ে ছুটে চলেছে। শুধু আর নেই সেই ক্ষীণক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-257049"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/257049/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c7dc0e868668d830805b86165c6f9d2a</guid>
				<title>কবিতা&#x25fe;বাবা
.................................পংকজ প্রিয়ম

বাবা মানে মাথার উপর বিশাল এক আকাশ,
ঝড় এলে যিনি হয়ে যান নির্ভরতার বাতাস।
নিজের সুখটুকু নীরবে সরিয়ে রেখে বহুদূরে,
সন্তানের হাসি খোঁজে প্রতি ভোরে-সাঁঝে-দুপুরে।

বাবা মানে কপালের ঘাম আর সংসারের আলো,
অভাবের দিনেও হাসিমুখে বলেন,&quot;সবই ভালো।&quot;
নিজে পুরোনো জামা পরে,নতুনটা দেন সন্তানে,
ভালোবাসার সেই ভাষা লেখা থাকে প্রাণে প্রাণে।

হাতে ধরা শক্ত আঙুল দিয়ে পথ দেখায় নিরন্তর,
হোঁচটে বুকের ভেতর জাগে সাহস অপরিসীম ঘর।
কঠোর কথার আড়াল জুড়ে থাকে মমতার নদী,
সন্তানের স্বপ্ন গড়তে যার চেষ্টা জীবনজুড়ে ধ্রুপদী ।

রোদে পুড়ে,বৃষ্টিতে ভিজে,করেন কত শত ত্যাগ,
পরিবারের সুখের জন্য দু-হাতে ভরে যায় ব্যাগ। 
নিভৃত রাতে ক্লান্ত শ্রান্ত চোখে ঘুম নামে ধীরে ধীরে,
তবুও সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় জেগে থাকে নীড়ে।

বাবা, তোমার ঋণ শোধ করার সাধ্য কারও নাই,
তোমার ছায়ায় জীবনজুড়ে খুঁজে পাই পথের দিশাই।
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয়খানি,
তোমার জন্যই পৃথিবীটাকে এত আপন বলে জানি। &#x2764;&#xfe0f;

----------------------------- ----------------------------- 
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255080/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Jun 2026 16:59:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা&#x25fe;বাবা<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>বাবা মানে মাথার উপর বিশাল এক আকাশ,<br />
ঝড় এলে যিনি হয়ে যান নির্ভরতার বাতাস।<br />
নিজের সুখটুকু নীরবে সরিয়ে রেখে বহুদূরে,<br />
সন্তানের হাসি খোঁজে প্রতি ভোরে-সাঁঝে-দুপুরে।</p>
<p>বাবা মানে কপালের ঘাম আর সংসারের আলো,<br />
অভাবের দিনেও হাসিমুখে বলেন,&#8221;সবই ভালো।&#8221;<br />
নিজে পুরোনো জামা পরে,নতুনটা দেন সন্তানে,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255080"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255080/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">35b9ffa242faae8c146daab8d7843749</guid>
				<title>প্রাণের বন্ধু
.............................পংকজ প্রিয়ম

চৈতন্যবোধের ত্রিশূল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
বছরের পর বছর ধরেই—
সযতনে ধারন করা সময়ে ৷

নিশিদিনের সঙ্গী আমার—
আমার সুখ দুঃখের অংশীদার ;
সে আমার জন্য স্বপ্ন দেখে
আমায় বাঁচিয়ে রাখে ৷

আমার সুখে ওর আন্দোলিত হয় অঙ্গ
আমার কষ্টে অসীম নিঃসঙ্গতায়—
নির্ঘুম দাঁড়িয়ে রয় ৷

প্রতিদিন কথা হয়—সকল বিষয়ে
সে আমার কবিতাও মন দিয়ে শোনে ৷
এক অন্য অনুভূতি, শিহরিত হই
এমন আপনজন আর কেউ নাই !

ও আমায় শিক্ষা দেয়—উঁচু হয়ে দাঁড়াবার
এ বন্ধু আমায় শিখিয়েছে, ধৈর্য্যশীলতার মন্ত্র
কিভাবে সব কষ্ট দূরে ঠেলতে হয় ৷

ওর গল্পও আছে, বলে আমায়—
সূর্য হ্নৎপিন্ডে না ধরার কষ্ট ,
দাবদাহে পুড়ে যাওয়া বিরুদ্ধে যুদ্ধ
আবার অবেলায় ভিজিয়ে দেয়া বৃষ্টি ৷
ঝড় উপড়ে ফেলতে চায়
সে সময়ে ঝড়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা ৷
স্বাধীনভাবে গান গাইবার না পারলেও
তবে ও পাখির কিচির মিচির আর 
কোকিলের গান শুনে যায় ৷

ও আমাকে প্রায়শই বলে—
মানুষের মতো বিশ্বাস ঘাতক আর
অকৃতজ্ঞ কেউ নেই ৷

ও আর কেউই নয়—
দৃষ্টির গোচরে বেড়ে ওঠা
আমার প্রাণের বন্ধু, বেঁচে থাকার প্রেরণা
প্রিয় সেই বৃক্ষ ৷
-----------------------------------------------------------------
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253264/</link>
				<pubDate>Fri, 05 Jun 2026 18:15:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রাণের বন্ধু<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;..পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>চৈতন্যবোধের ত্রিশূল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে<br />
বছরের পর বছর ধরেই—<br />
সযতনে ধারন করা সময়ে ৷</p>
<p>নিশিদিনের সঙ্গী আমার—<br />
আমার সুখ দুঃখের অংশীদার ;<br />
সে আমার জন্য স্বপ্ন দেখে<br />
আমায় বাঁচিয়ে রাখে ৷</p>
<p>আমার সুখে ওর আন্দোলিত হয় অঙ্গ<br />
আমার কষ্টে অসীম নিঃসঙ্গতায়—<br />
নির্ঘুম দাঁড়িয়ে রয় ৷</p>
<p>প্রতিদিন কথা হয়—&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253264"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253264/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9baaa4cfe100ad5955d8c6b7d48d8209</guid>
				<title>ফিরে আসুক রবিনহুড ইফেক্ট
........................................পংকজ প্রিয়ম

পৃথিবীর ধ্বংসের জন্য এলিয়েন এর
দরকার নেই ৷
আমাদের আছে মানুষরূপী অনেক এলিয়েন ৷

যাদের আলোচনায় থাকে—
নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন থিওরি ;
পারমানবিক বোমা ও হাইড্রোজেন বোমা ৷
ক্যাসল ব্রাভেট, আইভি কিং, বি—৮৩
জার বম্বা, স্ট্যাটাজ—সিক্স, বি—৫৩
হাইপারসনিক মিসাইল, সাবমেরিন
পারমানবিক ইলেক্ট্রন ম্যাগনেটিক বোমা
আরও কত কি !

এই এলিয়েনগন—
বোমা বানানোর প্রতিযোগিতায় মাতে
এদের হর্তাকর্তাদের কৌশলী পদক্ষেপে
বাড়ে অনিশ্চয়তা, বাড়ে পৃথিবীর উদ্বেগ ৷

এদের স্বপ্নই—
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ও
কাল্পনিক গেম, মারনের গেম ;
সামরিক শক্তি আগ্রাসন,কাঁটাতার ৷

এদের জন্যই—
হয় কার্বন দূষণ, নষ্ট হয় শক্তি ভারসাম্য ;
তৈরি হয় অস্থিতিশীলতা, নিউক্লিয়া হেম
নষ্ট হয় বাস্তুসংস্থান
হয় বৈশ্বিক নিউক্লিয় খাদ্য অভাব ও দুর্ভিক্ষ ৷

এদেরকে অনুরোধ—
নির্বাপিত হোক—স্নায়ুযুদ্ধ অগ্নিতাপ
ছেড়ে দাও—স্বীয় ধ্বংস দামামা ;
সকল জাতীয় আত্মহত্যা ৷

ফিরে আসুক—আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতি
ব্যালেন্স অব পাওয়ার থিওরি ,
আলোচনায় আসুক— শক্তির নিত্যতা সূত্র ;
স্ট্রিং থিওরি ও বেঁচে থাকার অভিযোজন ৷

এখনো আছে সময়
ভাবনার —
কতটুকু ক্ষতি করেছিলো
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লিটলবয় ৷

ভুলে যাও—
বর্ণবাদ আর কাঁটাতার ,
প্রকৃতির মতো হও
প্রকৃতি সবার জন্য একরূপ ৷

ফিরুক শান্তির শক্তি
ফিরেই আসুক —রবিনহুড ইফেক্ট ৷
-----------------------------------------------------------------
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/252980/</link>
				<pubDate>Wed, 03 Jun 2026 17:54:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফিরে আসুক রবিনহুড ইফেক্ট<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;.পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>পৃথিবীর ধ্বংসের জন্য এলিয়েন এর<br />
দরকার নেই ৷<br />
আমাদের আছে মানুষরূপী অনেক এলিয়েন ৷</p>
<p>যাদের আলোচনায় থাকে—<br />
নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন থিওরি ;<br />
পারমানবিক বোমা ও হাইড্রোজেন বোমা ৷<br />
ক্যাসল ব্রাভেট, আইভি কিং, বি—৮৩<br />
জার বম্বা, স্ট্যাটাজ—সিক্স, বি—৫৩<br />
হাইপারসনিক মিসাইল, সাবমেরিন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-252980"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/252980/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">413871baf7536fa70e7928afcb0f5a91</guid>
				<title>কবিতা&#x25fe;নজরুলের নামে
—————————পংকজ প্রিয়ম

তোমার কণ্ঠে বজ্র ছিল, নাকি শুদ্ধ কোন ছায়ানট—
নাকি ছিলো রক্তাক্ত খেয়া, বয়ে এনেছিল এক নতুন শব্দ।
&quot;আমি চিরবিদ্রোহী&quot;, বলেছিলে—
সেই উচ্চারণ এখন হারিয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগে..

ছন্দ আর তালের মাঝে মুছে যায় 
এক দুঃস্বপ্নের বঙ্গোপসাগর,
তোমার কলমে যে শিকল ভাঙতো—
আজ সে কলম চুপ, নিঃশব্দে শুয়ে থাকে পিডিএফ ফাইলে।

তবুও তুমি, নজরুল, একটি অ্যালগরিদম ভাঙার মতন,
প্রটোকলের বাইরে দাঁড়িয়ে গেয়ে যাও—
&quot;মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম&quot;
কিন্তু হৃদয়টা তো এখন কৃত্রিম প্লাস্টিকের মতো।

তুমি কি এখনো শুনতে পাও—
কারখানার মেয়েটি কেমন কাঁপে ‘লেট ফাইন’-এর তাড়নায়?
তোমার বিদ্রোহ কি তাকে ছুঁয়েছে?
নাকি সেটি শুধু আবৃত্তিতে  আর দেয়ালচিত্রে জীবিত?

আমরা তোমার ছায়া আঁকি,
স্মৃতিচারণার ডিজিটাল ফ্রেমে,
কিন্তু তুমিই তো বলেছিলে,
&quot;আমি কবি, আমি বেঁচে থাকি জনতার প্রাণে—
 শুধু কাগজে নয়।&quot;

এই শূন্য যুগে,
যেখানে শব্দও সন্দেহের অধীন,
তুমি এখনো ঝড় তুলে যাও,
তথ্য ও নিস্তব্ধতার মাঝে,
একটি অসমাপ্ত কবিতার মতো।

তোমাকে স্মরণ করি, নজরুল,
কারণ বিদ্রোহ এখনো দরকার,
আর প্রেম—
তা তো প্রতিদিনই বিপ্লব।
..............................................................
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/251426/</link>
				<pubDate>Mon, 25 May 2026 17:54:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা&#x25fe;নজরুলের নামে<br />
—————————পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>তোমার কণ্ঠে বজ্র ছিল, নাকি শুদ্ধ কোন ছায়ানট—<br />
নাকি ছিলো রক্তাক্ত খেয়া, বয়ে এনেছিল এক নতুন শব্দ।<br />
&#8220;আমি চিরবিদ্রোহী&#8221;, বলেছিলে—<br />
সেই উচ্চারণ এখন হারিয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগে..</p>
<p>ছন্দ আর তালের মাঝে মুছে যায়<br />
এক দুঃস্বপ্নের বঙ্গোপসাগর,<br />
তোমার কলমে যে শিকল ভাঙতো—<br />
আজ সে কলম চুপ, নিঃশব্দে শুয়ে থাকে পিডিএফ ফা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-251426"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/251426/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">045c174f4c0c027638509a81f8a35bce</guid>
				<title>কবিতা &#x25fe;বিদ্রোহের জন্মদিন

আজও আকাশে বাজে সেই অগ্নিবীণার সুর,
আজও অন্যায়ের বুকে তুমি ঝড়ের মতো দুর্বার।
হে কাজী নজরুল ইসলাম,
তোমার কবিতায় এখনো জেগে ওঠে ঘুমন্ত প্রতিবাদ।

তুমি শুধু কবি নও,
তুমি ক্ষুধার বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রথম বজ্রধ্বনি,
তুমি প্রেমের ভিতরে বিদ্রোহ,
আর বিদ্রোহের ভিতরে মানবতার দীপশিখা।

আজকের এই বিভক্ত পৃথিবীতেও
তোমার গান শেখায় সাম্যের ভাষা,
মানুষের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই—
এই সত্য আজও তোমার কলমেই সবচেয়ে উজ্জ্বল।

তোমার শব্দে ছিল রণতূর্য,
আবার ছিল শিশিরভেজা প্রেমের কোমলতা।
এক হাতে বাঁশি, অন্য হাতে আগুন—
এইভাবেই তুমি হয়ে উঠেছিলে অনন্ত বাংলা।

জন্মদিনে তোমায় জানাই গভীর শ্রদ্ধা,
হে চিরবিদ্রোহী, চিরতারুণ্যের কবি—
যতদিন অন্যায় থাকবে পৃথিবীতে ততদিন
প্রতিটি প্রতিবাদে বেঁচে থাকবে তোমার নাম।
...............….............................................
© পংকজ প্রিয়ম
মানিকগঞ্জ &#124; ২৪.০৫.২০২৬ খ্রি.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/250997/</link>
				<pubDate>Sun, 24 May 2026 17:43:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা &#x25fe;বিদ্রোহের জন্মদিন</p>
<p>আজও আকাশে বাজে সেই অগ্নিবীণার সুর,<br />
আজও অন্যায়ের বুকে তুমি ঝড়ের মতো দুর্বার।<br />
হে কাজী নজরুল ইসলাম,<br />
তোমার কবিতায় এখনো জেগে ওঠে ঘুমন্ত প্রতিবাদ।</p>
<p>তুমি শুধু কবি নও,<br />
তুমি ক্ষুধার বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রথম বজ্রধ্বনি,<br />
তুমি প্রেমের ভিতরে বিদ্রোহ,<br />
আর বিদ্রোহের ভিতরে মানবতার দীপশিখা।</p>
<p>আজকের এই বিভক্ত পৃথিবীতেও<br />
তোম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-250997"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/250997/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">72f0890122c5eb9f6e16660b64648818</guid>
				<title>কবিতা &#x25fe;মায়ের কোল
--------------------------পংকজ প্রিয়ম

স্বর্গ নয়, স্বপ্ন নয়—
একটি কোমল হাতের ছোঁয়ায়
জেগে ওঠে আকাশজোড়া শান্তি,
সেই তো আমার মা।

ধুলোভরা পৃথিবীটাও
তার স্নেহে ধুয়ে যায় প্রতিদিন,
জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত প্রাণ
ফিরে চায় শুধু মায়ের কোল।

অভিশপ্ত এই যুগে—
যেখানে রাগ, হিংসা, বিভাজন,
সেইখানে একমাত্র মা—
ধৈর্য্যর দীপ্ত প্রতিমা হয়ে দাঁড়ায়।

জন্মভূমির বুকে মায়ের মুখ,
একটি ভাষা, একটি বিশ্বাস—
শুধু ভালবাসা দিয়ে গড়া
একটুখানি পরম আশ্রয়।

এসো আমরা ফিরিয়ে দিই
এই ধরণীকে মাতৃরূপে—
যেখানে কেউ পর নয়,
শুধু মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে সবাইকে।

[ মা দিবসে জগতের সকল &#039;মা&#039; কে প্রণাম ]
__________________________________________
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247274/</link>
				<pubDate>Sun, 10 May 2026 15:47:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কবিতা &#x25fe;মায়ের কোল<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>স্বর্গ নয়, স্বপ্ন নয়—<br />
একটি কোমল হাতের ছোঁয়ায়<br />
জেগে ওঠে আকাশজোড়া শান্তি,<br />
সেই তো আমার মা।</p>
<p>ধুলোভরা পৃথিবীটাও<br />
তার স্নেহে ধুয়ে যায় প্রতিদিন,<br />
জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত প্রাণ<br />
ফিরে চায় শুধু মায়ের কোল।</p>
<p>অভিশপ্ত এই যুগে—<br />
যেখানে রাগ, হিংসা, বিভাজন,<br />
সেইখানে একমাত্র মা—<br />
ধৈর্য্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247274"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247274/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">720db14d7f767f4fbe906caa3c900364</guid>
				<title>শত বর্ষ পেরিয়ে আজও
------------------------পংকজ প্রিয়ম

শত বর্ষ পেরিয়ে আজও
বাংলার আকাশ জুড়ে,
রবীন্দ্রনাথ বেঁচে আছেন
কবিতার সুরে সুরে।

জোড়াসাঁকোর উঠোন জুড়ে
স্বপ্নের ছিল শুরু,
শব্দ দিয়ে গড়েছিলেন তিনি
এক অনন্ত কল্পতরু।

নদীর জলে, শিউলি ফুলে,
বর্ষার মেঘের ভাঁজে,
রবির লেখা আজও যেন
বাংলা হৃদয় সাজে।

গীতাঞ্জলির পাতার ভেতর
মানবতার গান,
তারই কলম শিখিয়েছে
ভালোবাসার মান।

চোখের বালি, শেষের কবিতা,
বলাকা ডানা মেলে,
তার শব্দেরা আজও নীরব
অশ্রু হয়ে খেলে।

তিনি শুধু কবি শিল্পী তো নন,
একটা বাংলার প্রাণ,
দুঃখের রাতে আশার প্রদীপ,
ভোরের প্রথম গান।

বিশ্বকবির চরণতলে
রইলো শ্রদ্ধা ভরা,
রবীন্দ্রনাথ মানে এখনো
বাংলা হৃদয় জোড়া।
_______________________________
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247203/</link>
				<pubDate>Sun, 10 May 2026 02:14:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শত বর্ষ পেরিয়ে আজও<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>শত বর্ষ পেরিয়ে আজও<br />
বাংলার আকাশ জুড়ে,<br />
রবীন্দ্রনাথ বেঁচে আছেন<br />
কবিতার সুরে সুরে।</p>
<p>জোড়াসাঁকোর উঠোন জুড়ে<br />
স্বপ্নের ছিল শুরু,<br />
শব্দ দিয়ে গড়েছিলেন তিনি<br />
এক অনন্ত কল্পতরু।</p>
<p>নদীর জলে, শিউলি ফুলে,<br />
বর্ষার মেঘের ভাঁজে,<br />
রবির লেখা আজও যেন<br />
বাংলা হ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247203"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247203/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">11057f242c219904ebcd9873a7d54dce</guid>
				<title>“আলো যার স্বরে, রেখা যার স্পর্শে”
-----------------------------------পংকজ প্রিয়ম

১
তুমি এসেছিলে সময়ের সেরা হয়ে
শুধু কাগজের পাতার লেখক হয়ে নয়,
তুমি এসেছিলে সময়ের মতো,
শব্দ হয়ে ওঠার আগেই যার নিজস্ব ছন্দ আছে।

২
তোমার কলমে বাংলা পেয়েছিল প্রথম আয়না,
যেখানে নিজেকে দেখে—
ভাষা, প্রেম, প্রতিবাদ, প্রকৃতি,
সব একত্রে দাঁড়ায়:
একটি আকাশের নিচে।

৩
তুমি গানকে শিখিয়েছিলে,
কীভাবে নিঃশব্দতাও সুর হতে পারে।
একটি পল্লব দুললেই—
তোমার “আমারো পরাণ যেন” বাজে,
সেই পল্লব আর গান আলাদা নয় তখন।

৪
তুমি চিত্র এঁকেছিলে—
বর্ণ নয়, রেখার মধ্যে আত্মা খুঁজে;
আমরা এখনো রঙ খুঁজি রেখার গভীরে,
আর বারবার দেখি:
তোমার না বলা কথারা ক্যানভাসে হাঁটে।

৫
তুমি নাট্যকার, তুমি সম্পাদক,
তুমি শিক্ষার বুনন-কারিগর,
তুমি ছিলে সেই কবি—
যিনি বিদ্যালয় বানালেন বৃক্ষের নিচে,
আর বললেন—
&quot;জ্ঞান যদি আকাশ হয়, তার শিকড় হতে হবে মাটিতে।&quot;

৬
আমরা যখন এখনও সাহিত্যে &quot;মানুষ&quot; খুঁজি,
তোমার গল্প, কবিতা, চিঠি—
সব আমাদের চালিয়ে নেয়,
যেন আলোর ভেতর দিয়ে ছায়া বোঝার পথ।

৭
রবীন্দ্র,তোমাকে কোনো একটি ধারায় বাঁধা যায় না—
তুমি ছড়িয়ে গেছো,
গানের কমলে, নাটকের গদ্যে,
বাউলের চোখে, নগরীর ঘ্রাণে,
একটি জাতির হৃদয়ে তুমি
চিরকালের শিল্প।

৮
তোমার জন্মদিনে শুধু ফুল নয়,ধূপ নয়,
আমি বলি একটি শব্দ,
যেটি তুমি শিখিয়েছিলে—
&#039;সত্য&#039;।
সেই সত্যেই তুমি বেঁচে আছো—
কাগজের অতীত হয়ে,
কালের দীর্ঘতম আগামী হয়ে ৷
____________________________________________
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247191/</link>
				<pubDate>Sat, 09 May 2026 16:35:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“আলো যার স্বরে, রেখা যার স্পর্শে”<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>১<br />
তুমি এসেছিলে সময়ের সেরা হয়ে<br />
শুধু কাগজের পাতার লেখক হয়ে নয়,<br />
তুমি এসেছিলে সময়ের মতো,<br />
শব্দ হয়ে ওঠার আগেই যার নিজস্ব ছন্দ আছে।</p>
<p>২<br />
তোমার কলমে বাংলা পেয়েছিল প্রথম আয়না,<br />
যেখানে নিজেকে দেখে—<br />
ভাষা, প্রেম, প্রতিবাদ, প্রকৃতি,<br />
সব একত্রে দাঁড়ায়:&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247191"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247191/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4fd27b328fb60ef3526a0c68aae6e14a</guid>
				<title>বিশ্বকবি
~~~~~~~~~~~~~পংকজ প্রিয়ম

জোড়াসাঁকোর সুপ্রসিদ্ধ ঠাকুর পরিবারে
২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দে,
আবির্ভাব এক নবজাতকের,তার জন্যই—
মাতলেন সবাই আশীর্বাদে ।

সেদিন বোঝেনি কেউই এই খোকাবাবুই
দূর করে সকলই সংশয়,
বীরপুরুষের বেশে সাহিত্যে লাগাম ধরে
একদিন করবে তো বিশ্বজয় !

কবিতা-গল্প, ভ্রমণকাহিনী, নাটক-প্রবন্ধ
উপন্যাস আরো লিখলেন গান,
লিখলেন যেমন,তেমনি আঁকলেন,গাইলেন—
পৃথিবীর মানুষের জয়গান ।

কত দিবস,কত বিনিদ্র রজনী কেটেছে
কুঠিবাড়ি ও এরই আশেপাশে,
মানুষের কল্যাণ ভাবনায়, ভালোবাসায়
ছুটলেন কবি দূর পরবাসে ।

কথার মায়াজালে ফুটিয়ে তুললেন কত—
শত চরিত্র, কত বাস্তবতাই !
হৈমন্তী,ফটিক, উপেন,আনন্দী,নিরুপমা
বোষ্টমী,কাদম্বিনী,কুমু,বলাই ।

গীতাঞ্জলির জন্য ১৯১৩ সালে,নোবেল—
পেলেন; সুইডিশ একাডেমি থেকে,
এশীয়দের মধ্যে প্রথম নোবেল প্রাপ্তিতে
বাঙালি গর্ব বাড়লো দিকে দিকে।

গড়লেন বিশ্বভারতী,শান্তিনিকেতন আরো
মানুষের জন্য কত আয়োজন !
জাতীয় সংগীত, উৎসব, ফ্যাশনসহ—
বিশ্বের জন্য ভাবলেন আমরণ ৷

১৩৪৮ বঙ্গাব্দে ২২ শ্রাবণ চলে গেলেন
ক্ষয়শীল পৃথিবীর মায়া ছেড়ে,
যতদিন থাকবে বাঙালি তথা বিশ্ববাসী
 মহান শ্রদ্ধা জানাবে বারেবারে।

(গুরুর জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাই ৷ ছড়াটি লিখেছিলাম ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে আমার &quot; নিঃসঙ্গতার মেঘমালা &quot; কাব্যগ্রন্থের জন্য । গুরুকে নিয়ে লিখার প্রথম দুঃসাহস ছিল এটি ৷ ছিল কাঁচা হাতের লিখা ৷)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/247105/</link>
				<pubDate>Fri, 08 May 2026 16:28:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বকবি<br />
~~~~~~~~~~~~~পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>জোড়াসাঁকোর সুপ্রসিদ্ধ ঠাকুর পরিবারে<br />
২৫ বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দে,<br />
আবির্ভাব এক নবজাতকের,তার জন্যই—<br />
মাতলেন সবাই আশীর্বাদে ।</p>
<p>সেদিন বোঝেনি কেউই এই খোকাবাবুই<br />
দূর করে সকলই সংশয়,<br />
বীরপুরুষের বেশে সাহিত্যে লাগাম ধরে<br />
একদিন করবে তো বিশ্বজয় !</p>
<p>কবিতা-গল্প, ভ্রমণকাহিনী, নাটক-প্রবন্ধ<br />
উপন্যাস আরো লিখলেন গান,<br />
লিখলেন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-247105"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/247105/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6a5ca19ffcd35b58fc56e37c7b8cadfb</guid>
				<title>ফুটুক এবার পারিজাত ফুল
.....................পংকজ প্রিয়ম

শত বছরের কুসংস্কার আর
হিংস্র প্রবৃত্তিগুলো মাথাচাড়া দেয় ;
নিউরনে ছেয়ে যায় আগাছার মতোই 
আর প্রতিনিয়ত করোনার মতো ছড়ায় ৷

অসময়ের সূর্যাস্ত
অন্ধকারের গ্রাসে সৃজনশীলতা,
মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জমে টকশো !

অন্ধকারে নিমজ্জিত হই
তুমি আর আমি
আক্রান্ত হয় পৃথিবী ৷

সংস্কারের আশায় দিন গুনি
দূর হোক হাজার আগাছা,
দূর হোক হিংস্র প্রবৃত্তি ৷

সূর্যালোকের হীরক ছোঁয়ায়
আলোক বিকিরনে বর্ষিত হোক
শান্তিজল আর প্রেমময় হোক ধরা ৷
ফুটুক এবার পারিজাত ফুল,
চোখে ভাসুক সুন্দরেরই গান ৷
_____________________________________________

প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/246923/</link>
				<pubDate>Wed, 06 May 2026 17:54:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফুটুক এবার পারিজাত ফুল<br />
&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;পংকজ প্রিয়ম</p>
<p>শত বছরের কুসংস্কার আর<br />
হিংস্র প্রবৃত্তিগুলো মাথাচাড়া দেয় ;<br />
নিউরনে ছেয়ে যায় আগাছার মতোই<br />
আর প্রতিনিয়ত করোনার মতো ছড়ায় ৷</p>
<p>অসময়ের সূর্যাস্ত<br />
অন্ধকারের গ্রাসে সৃজনশীলতা,<br />
মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জমে টকশো !</p>
<p>অন্ধকারে নিমজ্জিত হই<br />
তুমি আর আমি<br />
আক্রান্ত হয় পৃথিবী ৷</p>
<p>সংস্কারের আশায় দিন গুন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-246923"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/246923/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">659408a185094f4bfe041be877d72a35</guid>
				<title>&#124;&#124; শিবের গাজন • নীল পূজা • চড়ক উৎসব &#124;&#124;

বাংলার মাটিতে শিব কখনো দূরের দেবতা নন। শিব এখানে কৈলাসের নির্জন ধ্যানী মহাদেব হয়ে থাকেন না—তিনি হয়ে ওঠেন আমাদের উঠোনের মানুষ। ধুলোমাখা পায়ের, ভুঁড়িওয়ালা, একটু রসিক, কখনো অভিমানী, আবার গভীর মমতায় ভরা এক গৃহস্থ পুরুষ। এই সহজ, মানবিক শিবই বাংলার লোকজ বিশ্বাসে সবচেয়ে আপন।

চৈত্রের শেষপ্রান্তে, যখন রোদে ফেটে যায় জমিন, বাতাসে ধুলো উড়ে, তখনই গ্রামবাংলা জেগে ওঠে গাজনের ঢাকের তালে। গাজন, নীল পূজা আর চড়ক—এগুলো আলাদা কোনো উৎসব নয়, বরং একই স্রোতের তিনটি ঢেউ। এখানে ধর্ম মানে কেবল আচার নয়; এখানে আছে শরীরের কষ্ট, মনের আর্তি, আর অদৃশ্যের প্রতি এক গভীর সমর্পণ।
গাজন যেন মানুষের ভেতরের জমে থাকা সব শব্দের বিস্ফোরণ। কেউ বলেন শব্দটি ‘গর্জন’ থেকে এসেছে—ভক্তদের সম্মিলিত আর্তধ্বনি থেকে। আবার কেউ বলেন, ‘গা’ মানে গ্রাম, ‘জন’ মানে মানুষ—অর্থাৎ মানুষের নিজের উৎসব। সত্যি বলতে, দুটোই ঠিক। কারণ গাজন একদিকে আর্তনাদ, অন্যদিকে উৎসব।

এই কদিনের জন্য সাধারণ মানুষ হয়ে ওঠেন সন্ন্যাসী। সংসার ফেলে তারা তুলে নেন ব্রত—নিরামিষ আহার, মাটিতে শোয়া, নিরবচ্ছিন্ন নামজপ। তাদের চোখে তখন এক ধরনের স্থিরতা থাকে, যেন তারা নিজের ভেতরে অন্য এক দরজা খুলে ফেলেছেন। এই সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ‘মূল সন্ন্যাসী’, কিন্তু আসলে তারা সবাই এক—কোনো জাত নেই, কোনো ভেদ নেই। এই সাম্যই গাজনের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক।

গাজনের আরেকটা রূপ আছে—সঙ। এখানে শিব হাসেন, রাগ করেন, পার্বতীর সাথে খুনসুটি করেন, কখনো মাঠে নেমে চাষও করেন। এই শিবকে ভয় লাগে না, বরং ভালো লাগে। তাকে নিয়ে মজা করা যায়, আবার অভিমানও করা যায়। দেবতা আর মানুষ—দুটোর মাঝখানে এক অদ্ভুত সেতু গড়ে ওঠে।

এরই ভেতর নীরবে এসে পড়ে নীল ষষ্ঠী। এই দিনটা মায়েদের। সারাদিন উপবাস করে তারা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। বিকেলের আলো একটু নরম হলে সন্ন্যাসীরা গান গাইতে গাইতে পাড়ায় ঢোকেন। মায়েরা তাদের হাতে তুলে দেন তেল আর সিঁদুর—একটা নিঃশব্দ প্রার্থনা যেন হাত বদল করে নেয়। সন্ধ্যায় শিবলিঙ্গে জল পড়ে, প্রদীপ জ্বলে, আর মায়ের চোখে এক ধরনের নিশ্চিন্ত অশ্রু ঝিলমিল করে। এখানে ধর্মের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ভালোবাসা—সন্তানের জন্য এক নিঃশর্ত আকুতি।

তারপর আসে চূড়ান্ত মুহূর্ত—চড়ক পূজা। মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে উঁচু চড়কগাছ, যেন আকাশ ছুঁতে চাওয়া কোনো প্রাচীন প্রতীক। সন্ন্যাসীরা শরীরকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন—কেউ পিঠে বড়শি গেঁথে ঝুলে পড়েন, কেউ বাণফোঁড়া করেন। বাইরে থেকে দেখলে তা কষ্টের, কিন্তু তাদের চোখে তখন এক ধরনের তন্ময়তা থাকে—যেন শরীর আর মন আলাদা হয়ে গেছে।

এই চড়ক কেবল ভক্তির প্রকাশ নয়, এটি প্রাচীন কৃষিজীবী জীবনেরও প্রতিধ্বনি। সূর্যের ঘূর্ণন, ঋতুর পরিবর্তন, বৃষ্টির অপেক্ষা—সবকিছু মিশে আছে এর ভেতরে। শিব এখানে ধ্বংসের নয়, উর্বরতার দেবতা; শেষের ভেতর থেকেই শুরু খোঁজার প্রতীক।

উৎসব শেষে সন্ন্যাসীরা আবার সাধারণ জীবনে ফিরে যান। গলায় থাকা উত্তরীয় খুলে যায়, কিন্তু ভেতরের অভিজ্ঞতা থেকে যায়। গাজন, নীল পূজা, চড়ক—এসব শেষ হয়ে যায় না, বরং থেকে যায় মানুষের স্মৃতিতে, বিশ্বাসে, আর জীবনযাপনের গভীরে।

এইসব উৎসব আসলে আমাদের শেখায়—দেবতা দূরে নন। তিনি মানুষের ভেতরেই আছেন, কষ্টে, আনন্দে, প্রার্থনায়, আর ভালোবাসায়। বাংলার শিব তাই মন্দিরে যতটা, তার চেয়েও বেশি মানুষের ভেতরে বেঁচে আছেন।

...........................................................................

প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/244573/</link>
				<pubDate>Mon, 13 Apr 2026 15:40:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>|| শিবের গাজন • নীল পূজা • চড়ক উৎসব ||</p>
<p>বাংলার মাটিতে শিব কখনো দূরের দেবতা নন। শিব এখানে কৈলাসের নির্জন ধ্যানী মহাদেব হয়ে থাকেন না—তিনি হয়ে ওঠেন আমাদের উঠোনের মানুষ। ধুলোমাখা পায়ের, ভুঁড়িওয়ালা, একটু রসিক, কখনো অভিমানী, আবার গভীর মমতায় ভরা এক গৃহস্থ পুরুষ। এই সহজ, মানবিক শিবই বাংলার লোকজ বিশ্বাসে সবচেয়ে আপন।</p>
<p>চৈত্রের শেষপ্রান্তে, যখন রোদে ফেট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-244573"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/244573/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">242e42132c5f567ace468951caac2858</guid>
				<title>ভাইরালের ভাইরাস 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে দেখলাম—না, ঠিক “দেখলাম না&quot;…বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম! কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। তবুও বৃথা বাক্যব্যয়...

একটা জীবন্ত কুকুর। ভয়ে কাঁপছে। চোখে অসহায়তার জল। তাকে পুকুরের পানিতে বেঁধে রাখা হয়েছে—ঠিক এমনভাবে, যেন তার বাঁচার কোনো সুযোগই না থাকে। সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে কুমির। আর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো? কেউ হাসছে, কেউ চিৎকার করে উল্লাস করছে, আর বেশিরভাগই মোবাইল তুলে ভিডিও করছে—একটা “ভাইরাল” মুহূর্ত ধরার জন্য। এই দৃশ্যটা মনে করিয়ে দেয় এতে শুধু কুকুরটার মৃত্যু নয়, এটা আমাদের মানবিকতার মৃত্যু। অথচ এই কুকুরটাও মায়া ভরা চোখে অপেক্ষায় ছিল, কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসবে। সত্য হলো এই-কেউই আসেনি।

আমরা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি? একটা প্রাণীকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিয়ে, আমরা সেটার “কনটেন্ট” বানাচ্ছি! অন্যের যন্ত্রণা দেখে যারা আনন্দ পায়, তারা অসুস্থ—এটা শুধু বইয়ের কথা না, বাস্তব সত্য। কিন্তু আরও ভয়ংকর হচ্ছে, যারা চুপ করে দেখে, যারা শেয়ার করে, যারা হাসে—তারা এই নিষ্ঠুরতাকে স্বাভাবিক করে তুলছে।

আজকে একটা কুকুর। কাল হয়তো একটা মানুষ। তারপর একদিন—আমাদের ভেতরের শেষ ভালোবাসাটুকুও মরে যাবে। আমরা কি এখন এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে সহানুভূতির চেয়ে “ভিউ” বেশি গুরুত্বপূর্ণ? যেখানে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আগে আমরা ক্যামেরা অন করি?

একটা সময় ছিল—মানুষ বিপদে পড়লে, অপরিচিত হলেও আশেপাশের মানুষ ছুটে যেত। এখন? আমরা দাঁড়িয়ে থাকি। দেখি। রেকর্ড করি। আপলোড করি। তারপর কমেন্টে লিখি—“কী ভয়ংকর!”
আসলে ভয়ংকরটা ভিডিও না, ভয়ংকরটা আমরা।

“ভাইরাল” এখন একটা ভাইরাস—যা ধীরে ধীরে আমাদের অনুভূতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমরা যত বেশি দেখি, তত কম অনুভব করি। একসময় হয়তো কোনো কষ্টই আর আমাদের ছুঁতে পারবে না।

কিন্তু এখনও সময় আছে। আমরা চাইলে বদলাতে পারি, বদলে যেতে পারি—একটা শেয়ার কম করে, একটা প্রতিবাদ বেশি করে। একটা ভিডিও না তুলে, একটা জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে।

&#x1f534; প্রাণীর ওপর নির্যাতন কোনো বিনোদন নয়—এটা সরাসরি অপরাধ। 
&#x1f534; এই ধরনের ভিডিও দেখলে শেয়ার করবেন না, রিপোর্ট করুন।
&#x1f534; আশেপাশে এমন কিছু ঘটলে চুপ থাকবেন না—প্রতিবাদ করুন। 
&#x1f534; আপনার সন্তান, আপনার বন্ধু, আপনার চারপাশের মানুষকে শেখান—সহানুভূতি হারানো মানে মানুষ হওয়া হারানো।

মনে রাখবেন—
মানবিকতা একদিনে হারিয়ে যায় না, এটা হারায় একটু একটু করে…যখন আমরা চুপ থাকি, যখন আমরা দেখি, যখন আমরা কিছুই করি না। আজ যদি আমরা না থামি, তাহলে কাল এই নিষ্ঠুরতাই হবে স্বাভাবিক। নিষ্ঠুরতাই হবে বিকারগ্রস্ত বিনোদন।

তাই অমার্জিত, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ছাপরি মার্কা ভাইরাল হওয়ার আগে, মানুষ হওয়া জরুরি।
...........................................................................

প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/244379/</link>
				<pubDate>Sat, 11 Apr 2026 12:21:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভাইরালের ভাইরাস </p>
<p>সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে দেখলাম—না, ঠিক “দেখলাম না&#8221;…বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম! কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছিলাম না। তবুও বৃথা বাক্যব্যয়&#8230;</p>
<p>একটা জীবন্ত কুকুর। ভয়ে কাঁপছে। চোখে অসহায়তার জল। তাকে পুকুরের পানিতে বেঁধে রাখা হয়েছে—ঠিক এমনভাবে, যেন তার বাঁচার কোনো সুযোগই না থাকে। সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে কুমির। আর চারপাশে দাঁড়ি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-244379"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/244379/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1037fbb9056313169ead0dce217fd28d</guid>
				<title>আর্টেমিস: নামের ভেতরে লুকানো ইতিহাস ও প্রতীক

মানুষ যখন মহাকাশে পা রাখে, সেটা শুধু প্রযুক্তির জয় নয়—এটা হাজার বছরের কল্পনা, ভয়, বিশ্বাস আর গল্পেরও এক দীর্ঘ যাত্রার ফল।

এই কারণেই NASA তাদের নতুন চন্দ্রাভিযানের নাম রাখে Artemis—যেটা কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি প্রতীকী ঘোষণা। গ্রিক পুরাণে Apollo এবং Artemis ভাই-বোন। অ্যাপোলো সূর্যের দেবতা, আলো ও জ্ঞানের প্রতীক। আর Artemis হলেন চাঁদের দেবী—নীরবতা, অন্ধকার, আর রহস্যের প্রতিনিধি। এই দুই সত্তা একে অপরের পরিপূরক—যেমন দিন ও রাত, আলো ও ছায়া।

&#x1f537; অ্যাপোলো থেকে আর্টেমিস: এক ধারাবাহিক যাত্রা
১৯৬০–৭০-এর দশকে Apollo Program মানুষের প্রথম চন্দ্রযাত্রার সূচনা করে। Apollo 11 Moon Landing ছিল সেই ইতিহাসের শিখর—যেখানে মানুষ প্রথমবার চাঁদের মাটিতে পা রাখে। অ্যাপোলো ১১ ছিল প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান, যা ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই উৎক্ষেপিত হয়েছিল এবং ২০ জুলাই চাঁদে অবতরণ করে, যেখানে নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখেন, এরপর বাজ অলড্রিনও চাঁদে নামেন, আর মাইকেল কলিন্স কমান্ড মডিউলে থেকে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করেন; এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল চাঁদে মানুষ পাঠানো ও নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা, যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। 
অ্যাপোলো নামটা ছিল একদম যথার্থ—কারণ সেটা ছিল অজানার অন্ধকারে আলোর সন্ধান।

Artemis Program শুধু আবার চাঁদে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়—এটা সেখানে থাকা, শেখা, আর ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার প্রস্তুতি। অ্যাপোলো যেখানে শুরু করেছিল, আর্টেমিস সেখানে গিয়ে গল্পটা সম্পূর্ণ করতে চায়।

&#x1f537; আর্টেমিস: নারী শক্তি ও নতুন বার্তা

আর্টেমিস কেবল চাঁদের দেবীই নন, তিনি স্বাধীনতা, শক্তি আর নারীত্বের প্রতীক। এই কারণে নাসা ঘোষণা করেছে—এই মিশনের মাধ্যমে প্রথম নারী এবং প্রথম সকল বর্ণের মানুষ চাঁদে পা রাখবেন। এটা শুধু বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাও—মহাকাশ এখন সবার।

&#x1f537; ওরিয়ন: যাত্রার বাহন, গল্পের সঙ্গী 

এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Orion spacecraft। ওরিয়ন নামটি এসেছে আকাশের বিখ্যাত নক্ষত্রমণ্ডল থেকে—যাকে আমরা বাংলায় কালপুরুষ বলি। গ্রিক পুরাণে Orion ছিলেন এক অসাধারণ শিকারি, যার সাথে আর্টেমিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গল্প প্রচলিত আছে। কিছু কাহিনিতে বলা হয়, তারা বন্ধু, কোথাও আবার এক গভীর, জটিল সম্পর্কের ইঙ্গিত মেলে।
এই সম্পর্কের মধ্যেই আছে এক ধরনের অভিযান, আকর্ষণ আর ট্র্যাজেডি—যা মহাকাশ অভিযানের ঝুঁকি আর রোমাঞ্চের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিলে যায়।

&#x1f537; বিজ্ঞান ও পুরাণ: এক অদ্ভুত সেতুবন্ধন

শেষ পর্যন্ত এই নামগুলো কেবল অলংকার নয়।
অ্যাপোলো, আর্টেমিস, ওরিয়ন—এই তিনটি নাম একসাথে একটি গল্প বলে:
অতীতের সাফল্য (Apollo)
বর্তমানের প্রত্যাবর্তন (Artemis)
আর ভবিষ্যতের পথচলা (Orion)

বিজ্ঞান যতই এগিয়ে যাক, মানুষ তার গল্প বলা বন্ধ করে না। মহাকাশের অজানাকে বোঝার চেষ্টা করতে গিয়েও আমরা ফিরে যাই হাজার বছরের পুরনো কল্পনায়—কারণ সেখানেই প্রথমবার মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেছিল, “ওখানে কী আছে?”
আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই—আজও মানুষ চাঁদের পথে। 

............................................................................

প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/244218/</link>
				<pubDate>Fri, 10 Apr 2026 14:26:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আর্টেমিস: নামের ভেতরে লুকানো ইতিহাস ও প্রতীক</p>
<p>মানুষ যখন মহাকাশে পা রাখে, সেটা শুধু প্রযুক্তির জয় নয়—এটা হাজার বছরের কল্পনা, ভয়, বিশ্বাস আর গল্পেরও এক দীর্ঘ যাত্রার ফল।</p>
<p>এই কারণেই NASA তাদের নতুন চন্দ্রাভিযানের নাম রাখে Artemis—যেটা কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি প্রতীকী ঘোষণা। গ্রিক পুরাণে Apollo এবং Artemis ভাই-বোন। অ্যাপোলো সূর্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-244218"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/244218/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">08f3e489682f3f311c3385e901702b0b</guid>
				<title>পংকজ প্রিয়ম and ভাস্কর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241719/</link>
				<pubDate>Sun, 29 Mar 2026 15:59:05 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b9776c60abe947c7a5ae0990bf0860b4</guid>
				<title>পংকজ প্রিয়ম and Prithula Zaman are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241582/</link>
				<pubDate>Sun, 29 Mar 2026 04:05:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ff60dbfddb2540361eefc11e7b0efb4d</guid>
				<title>&#x1f534; Brain Betrayal: নিজের মস্তিষ্কই যখন শত্রু

​রেললাইনের দুর্ঘটনাগুলো বাইরে থেকে দেখলে অবিশ্বাস্য লাগে—“এত বড় ট্রেন, তাও মানুষ টের পেল না?” কিন্তু সত্যিটা অনেক বেশি কঠিন। এখানে কোনো ভূত বা রহস্য নেই, আছে আমাদের নিজের মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ফল—যেগুলো একসাথে কাজ করলে মানুষ সত্যিই বিপদ বুঝতে ব্যর্থ হয়।

​&#x25fe; ১. Inattentional Blindness — চোখ খোলা, তবুও দেখা না

​মানুষের মস্তিষ্ক একসাথে সবকিছু প্রক্রিয়া করতে পারে না। যখন কেউ ফোনে কথা বলে, গান শোনে বা গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকে, তখন মস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস ফিল্টার করে দেয়। এই অবস্থায় সামনে ট্রেন থাকলেও সেটা “দেখা” হয় না। মনোযোগ না থাকলে চোখের সামনে থাকা বিশাল বস্তুও মস্তিষ্ক অদৃশ্য করে দিতে পারে।

​&#x25fe; ২. Acoustic Shadow — শব্দ থেকেও প্রতারণা

​বাতাসের গতি, দিক এবং আশপাশের শব্দ মিলিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে ট্রেনের শব্দ সামনে পৌঁছাতে দেরি হয় বা বিকৃত হয়ে যায়। একে বলা হয় Acoustic Shadow। ফলে ট্রেন খুব কাছাকাছি চলে আসলেও মানুষ ভাবে—“এখনো সময় আছে।” ট্রেনের শব্দ দূর থেকে যত জোরে শোনা যায়, অনেক সময় খুব কাছ থেকে ততটা তীব্র মনে হয় না।

​&#x25fe; ৩. Looming Detector Failure — দূরত্ব ও গতির ভুল হিসাব

​আমাদের চোখ ও মস্তিষ্ক মিলে কোনো বস্তুর গতি ও দূরত্ব বিচার করে। কিন্তু সোজা রেললাইনে আসা ট্রেনের ক্ষেত্রে এই সিস্টেমটা ভুল করে। দূরের ট্রেন ছোট দেখায়, তাই মনে হয় ধীরে আসছে। কিন্তু ট্রেনের গতি এত বেশি যে কয়েক সেকেন্ডেই সেটা কাছে চলে আসে। এই গাণিতিক ভুল বিচারকেই বলা হয় Looming Detector Failure।

​&#x25fe; ৪. Auditory Masking — প্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দেওয়া

​কানে হেডফোন না থাকলেও অনেক সময় বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ বা চারপাশের কোলাহলের কারণে মস্তিষ্ক ট্রেনের নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির শব্দকে &#039;নয়েজ&#039; হিসেবে গণ্য করে ছেঁটে ফেলে। একে Auditory Masking বলা হয়। এর ফলে মস্তিষ্ক বিপদের সংকেতটিকে গুরুত্বহীন মনে করে গুরুত্ব দেয় না।

​&#x25fe; ৫. Normalcy Bias — &quot;আমার সাথে এমন হবে না&quot; প্রবণতা

​যখন কেউ প্রতিদিন একই রেললাইন দিয়ে যাতায়াত করে এবং কোনো বিপদ দেখে না, তখন মস্তিষ্ক একটি কাল্পনিক &#039;নিরাপত্তা বলয়&#039; তৈরি করে নেয়। একে বলা হয় Normalcy Bias। তখন সামনে বিপদ দেখলেও মস্তিষ্ক সেটাকে অস্বীকার করে, কারণ তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে—“এখানে তো কখনও কিছু হয় না।” এই অতি-আত্মবিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

​&#x25fe; ৬. Social Proof — অন্যকে দেখে ভুল সিদ্ধান্ত

​যখন একসাথে কয়েকজন মানুষ লাইন পার হয়, তখন একটি মানসিক প্রবণতা কাজ করে—“ওরা যাচ্ছে, মানে নিশ্চয়ই নিরাপদ।” এটাকে বলা হয় Social Proof। একজন ঝুঁকি নিলে বাকিরাও সেই ঝুঁকিকে স্বাভাবিক ধরে নেয়। ফলাফল—একসাথে অনেক মানুষ ট্র্যাজেডির শিকার হয়।

​&#x25fe; ৭. Brain Betrayal — নিজের মস্তিষ্কের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা
​সবশেষে, এই ঘটনাগুলোর সারমর্ম একটাই—আমাদের নিজের মস্তিষ্কই আমাদের ভুল পথে নিয়ে যায়।
​চোখ দেখে না (Inattentional Blindness)
​কান ঠিকমতো শোনে না (Acoustic Shadow / Masking)
​দূরত্ব ভুল বোঝে (Looming Detector Failure)
​অভিজ্ঞতা ভুল দেয় (Normalcy Bias)
​অন্যকে দেখে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় (Social Proof)
​এই সম্মিলিত ব্যর্থতাকেই সহজভাবে বলা যায়—Brain Betrayal।

​&#x1f6d1; তাহলে সমাধান কী?

​এই সমস্যার সমাধানও পুরোপুরি সচেতনতা ও বিজ্ঞানসম্মত অভ্যাসের ওপর নির্ভরশীল:

&#x1f539;​মস্তিষ্ককে &quot;জাগানো&quot;: রেললাইন পার হওয়ার আগে সচেতনভাবে দু’দিক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখা

&#x1f538;​ইন্দ্রিয়ের পূর্ণ ব্যবহার: হেডফোন বা ফোন ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা যাতে কান ও চোখ সজাগ থাকে।

&#x1f539;​ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: অন্যকে দেখে বা ভিড়ের সাথে তাল মিলিয়ে লাইন পার না হওয়া।

&#x1f538;​নিরাপদ বিকল্প: সর্বদা ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস ব্যবহার করার মানসিকতা তৈরি করা।

​&#x2b55; শেষ কথা
​রেললাইনের দুর্ঘটনা কোনো রহস্য নয়, এটা এক কঠিন মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা। এক সেকেন্ডের অসতর্কতা আর মস্তিষ্কের একটি ছোট প্রক্রিয়াজাতকরণ ভুল—এই দুইয়ের মিলেই ঘটে যায় বড় ট্র্যাজেডি। সতর্কতা এখানে শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি জীবন বাঁচানোর একমাত্র বিজ্ঞান।

................................................................
প রি চি তি

লেখক : কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;। প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ 
মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/241560/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Mar 2026 18:23:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f534; Brain Betrayal: নিজের মস্তিষ্কই যখন শত্রু</p>
<p>​রেললাইনের দুর্ঘটনাগুলো বাইরে থেকে দেখলে অবিশ্বাস্য লাগে—“এত বড় ট্রেন, তাও মানুষ টের পেল না?” কিন্তু সত্যিটা অনেক বেশি কঠিন। এখানে কোনো ভূত বা রহস্য নেই, আছে আমাদের নিজের মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতা। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ফল—যেগুলো একসাথে কাজ করলে মানুষ সত্যিই বিপদ বুঝতে ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-241560"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/241560/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0ed56a0f08c62e465f33393eda2b8204</guid>
				<title>স্বপ্নের স্বাধীনতাকে আমরা কতটা ধারন করেছি? 


১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ—একটি অবিস্মরণীয় দিন , যা কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এক গভীর আর্তনাদের প্রতিধ্বনি। তার আগের রাত, পঁচিশে মার্চ, ইতিহাসে শুধু “কালরাত” নামেই চিহ্নিত নয়; এটি ছিল মানবিকতার এক কঠিন পরীক্ষার সময়। চারপাশে যখন আগুন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনই অদৃশ্যভাবে গড়ে উঠছিল এক অদম্য সংকল্প—বেঁচে থাকার, মুক্ত হওয়ার, নিজের পরিচয় ফিরে পাওয়ার।
সেই রাতের ভার আজও বাতাসে মিশে আছে, যদিও আমরা তা সবসময় টের পাই না। কারণ সময় আমাদের অনেক কিছু ভুলতে শেখায়, অনেক কিছুকে দূরের গল্পে পরিণত করে। কিন্তু প্রশ্নটা এখানেই—আমরা কি সত্যিই ভুলে যেতে পারি? নাকি আমরা শুধু অনুভব করার দায় এড়িয়ে যাই?

আজ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর, আমরা এক ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। প্রযুক্তি, উন্নয়ন, নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা, রাজনৈতিক টানপোড়ন ও অস্থিরতা, এক শ্রেণীর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে না জানা, দেশপ্রেমকে ধারণ না করা। সবকিছু আমাদের চারপাশকে বদলে দিয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ভিড়ে, সেই ভয় আর স্বপ্নের সহাবস্থানকে আমরা কতটা মনে রাখি? একটি জাতির জন্ম কখনোই সহজ বা নিঃশব্দ নয়। সেখানে থাকে দ্বন্দ্ব, রক্ত, অশ্রু—আর একই সঙ্গে থাকে এক অদম্য আশার আলো।

আমরা হয়তো আজ নিরাপদ ঘরে বসে সেই সময়ের কথা বলি, লিখি, স্মরণ করি। কিন্তু সেই মানুষগুলো, যারা সেই রাত পার করেছিল, তাদের কাছে স্বাধীনতা কোনো বিমূর্ত ধারণা ছিল না—এটি ছিল প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বাস্তব সংগ্রাম। তাদের ভয় ছিল বাস্তব, তাদের স্বপ্নও ততটাই বাস্তব।
এই জায়গাটাতেই আমাদের আত্মসমালোচনার দরকার আছে। আমরা কি সত্যিই আমাদের বোধের জানালাগুলো খুলেছি? নাকি আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করছি? পতাকা উত্তোলন, স্লোগান, সামাজিক মাধ্যমে আবেগ—এসবের বাইরে গিয়ে আমরা কতটা অনুভব করি, কতটা বুঝতে চাই?

স্বাধীনতা কেবল একটি অর্জন নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি প্রতিদিনের চর্চা, প্রতিদিনের দায়বদ্ধতা। যে চেতনা থেকে একটি জাতির জন্ম হয়েছিল, সেই চেতনা ধরে রাখা, লালন করা—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

হয়তো আমরা সেই সময়ের তীব্রতা পুরোপুরি অনুভব করতে পারব না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করতে পারি—শুনতে, জানতে, প্রশ্ন করতে। কারণ প্রশ্নহীন স্মৃতি একসময় নিস্তেজ হয়ে যায়, আর নিস্তেজ স্মৃতি কখনোই একটি জাতিকে জীবন্ত রাখতে পারে না।
তাই, আজ প্রয়োজন শুধু স্মরণ নয়, উপলব্ধি। শুধু ইতিহাস জানা নয়, ইতিহাসকে নিজের ভেতরে ধারণ করা। কারণ একটি দেশের সত্যিকারের স্বাধীনতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার মানুষ সেই স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে পারে—গভীরভাবে, নিরন্তরভাবে।
..................................................
প রি চি তি
কবি ও গল্পকার। শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন ৷ সম্পাদনা করছেন-&#039;পলিমাটি&#039;।
প্রকাশিত একক গ্রন্থ দুইটি ও যৌথগ্রন্থ- পঞ্চাশের বেশি ৷ মেইল : paulpankaj864@gmail.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240980/</link>
				<pubDate>Thu, 26 Mar 2026 13:58:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্বপ্নের স্বাধীনতাকে আমরা কতটা ধারন করেছি? </p>
<p>১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ—একটি অবিস্মরণীয় দিন , যা কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং এক গভীর আর্তনাদের প্রতিধ্বনি। তার আগের রাত, পঁচিশে মার্চ, ইতিহাসে শুধু “কালরাত” নামেই চিহ্নিত নয়; এটি ছিল মানবিকতার এক কঠিন পরীক্ষার সময়। চারপাশে যখন আগুন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ছিল, তখনই অদৃশ্যভাবে গড়ে উঠছিল এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-240980"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/240980/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">52c2d79a5fe293d7cb73808a89c27d4f</guid>
				<title>পংকজ প্রিয়ম changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/240953/</link>
				<pubDate>Thu, 26 Mar 2026 13:00:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>