-
ছোট বেলায় আমার ইতিহাস পড়তে একদম ভালো লাগতো না, রীতিমতো বিরক্তিকর লাগতো।বড়ভাই সাধারণত আমাকে ইতিহাস পড়াতেন না, কিন্তু রেজাল্টের বেগতি দেখে পড়াতে বসিয়েছিলেন। সেই আমার ৪র্থ শ্রেণীর কথা বলছি, সেবার আমি ইতিহাসে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছিলাম। আর সেই সূত্রটাও ভুলে যাই নি।
“বাবার হইলো আবার জ্বর, সারিলো ঔষধে”। বাবার = বাবর হইলো = হুমায়ুন আবার = আকবর জ্বর = জাহাঙ্গীর সারিলো = শাহজাহান
ঔষধে= আঔরঙ্গজেব
পরবর্তীতে ইতিহাস এর প্যারা থেকে বাঁচতে সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছি।তারপরও ইতিহাস পিছু ছেড়েছে?
কিন্তু কি অবাক কান্ড যত বেশী বয়স বাড়ছে ইতিহাস এর প্রতি আগ্রহটা যেন ততই বাড়ছে!
অফিসের কাজে ঝিনাইদহের বারোবাজার গিয়েছিলাম। আমার সহকর্মী আলিম ভাই, জানালেন- এখানে বেশ কয়েক টা মসজিদ আছে যেগুলো মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে।
শুনে বেশ অবাক হলাম, একটা আস্ত মসজিদ কিভাবে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায়! তিনি আরও বললেন-ব্রিটিশ শাসন আমলে ইংরেজদের ভয়ে মাটি দিয়ে মসজিদ গুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছিল , কারণ ইংরেজরা মসজিদ গুলো ভেঙে দিতো।
ইচ্ছে হলো অন্তত একটা মসজিদ দেখে যাবো( যেহেতু আমরা যেখানে গিয়েছিলাম তার খুব কাছেই ছিলো একটা মসজিদ। )
মসজিদটার নাম গলা কাটা মসজিদ , এই নামকরণের সঠিক কারণ আমার সহকর্মী এবং আমাদের ভ্যান চালক এর জানা ছিলো না।
তারা “তে মাথার” (কাকে বলে জেনে নিবেন) কাছে শুনেছেন- এই মসজিদের কাছে নাকি গলা কাটা ঘোড়া দেখে যেত তাই এই নাম করণ।
জ্ঞানের ক্ষুধা মেটাতে গুগল দাদুই শেষ ভরসা।
চলুন দেখে নেই গুগল দাদু কি বলে-ঝিনাইদহের বারোবাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান। এখানে রয়েছে সুলতানি আমলের ৫০০ থেকে ৮০০ বছরের পুরনো অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বারোবাজার ইউনিয়নে ঐতিহাসিক গলাকাটা মসজিদ অবস্থিত। কালিগঞ্জে মাটি খনন করে প্রাপ্ত ১৯টি সুলতানি আমলের মসজিদের মধ্যে এই মসজিদ অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মাটির ঢিবি খনন করে গলাকাটা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ও সংস্কার করেন।
ধারণা করা হয়, ১৬শ শতকে খান জাহান আলীর আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২১ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ১৯৯২-৯৩ সালে খনন করে। খনন করার সময় শাহ সুলতান মাহমুদ ইবনে হুসাইনের আমলের (৮০০ হিজরি) আরবি ও ফারসিতে লেখা কয়েকটি পাথর এখানে পাওয়া যায়। সেগুলো দেখে অনুমান করা হয়, মসজিদটি সুলতানি শাসনামলের তৈরি। একসময় এ জনপদে বাস করতেন প্রাচীন রাজারা।
মসজিদের ছাদে রয়েছে ছয়টি গম্বুজ। ভেতরে রয়েছে দুটি কষ্টিপাথরের মিনার। মসজিদটি খনন করার সময় একটি হাতে লেখা কোরআন শরিফ ও একটি তলোয়ার পাওয়া যায়। সেগুলো মসজিদের ভেতরেই সংরক্ষিত আছে। চারটি ছয় কোণাকৃতি বড় মোটা পিলারের ওপর মূল মসজিদটি দাঁড়িয়ে আছে। পিলারগুলো ২৫ ফুট করে লম্বা। মসজিদের দেয়াল পাঁচ ফুট চওড়া। ভিতরে পশ্চিমের দেয়ালে ৩টি মেহরাব আছে এতে পোড়ামাটির কারুকাজ, ফুল, লতাপাতা, ঘন্টা, চেইন ইত্যাদির নকশা আছে। সামনের দিকে তিনটি দরজা রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি করে প্রবেশপথ ছিল। এগুলো ইটের জাল করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দরজার ওপরে রয়েছে সুচালো খিলান।
মসজিদের পাশে রয়েছে গলাকাটা দিঘি। সেখান থেকেই এই মসজিদকে গলাকাটা দিঘি মসজিদ বা গলাকাটা মসজিদ বলা হয়। খান জাহান আলী (রহ.)-এর সমসাময়িক এই দিঘি বলে জনশ্রুতি আছে। এই দিঘি চারদিকের পারসহ ১২ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। আবার স্থানীয়রা বলেন, বারোবাজারে একজন অত্যাচারী রাজা ছিলেন। তিনি প্রজাদের বলি দিয়ে এই দিঘির মধ্যে ফেলে দিতেন। এ কারণেই এর নাম হয় গলাকাটা দিঘি। অনেকে মনে করে, দিঘির ওপর দিয়ে রাতে গলা কাটা ঘোড়া চলত। তাই মানুষ এর নাম দিয়েছে গলাকাটা দিঘি। এর থেকে মসজিদেরও নাম হয় গলাকাটা মসজিদ। ঐতিহাসিক মসজিদটি একনজর দেখার জন্য প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।
9 Comments-
-
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 04 June 2024 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
-
Friends
Hasina Sultana Rima Rima
@hasinasultanarimarima
আনিকা মারজান ইরা
@anikamarjanera
Marketing Online
@marketingonline
Munmun Chakraborty
@munmunchakraborty
Md Babul Hossain
@mdbabulhossain
আনিকা ইসলাম হৃদিতা
@hridita
আয়মন সিদ্দিকা উর্মি
@asurmi85
Song For Peace
@songforpeace
Sahriar Rubaiat
@sahriarrubaiat


ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে না কিন্তু জানতে ভালো লাগে ভীষন। পুরনো স্থাপনা আমায় খুব টানে।