-
‼🥰
আমাদের বাড়ীর পাশে একটা বাড়ীতে একজন খুবই বৃদ্ধা মা থাকতেন তার ছেলেকে নিয়ে । দুজন ই বৃদ্ধ এবং ছেলেটা কিছু করতো না । সারাদিন আনমনে নিজে নিজে কথা বলতেন , মাকে বকতেন আর খিকখিক করে হাসতেন । কোন অন্যায় কাজে জড়িত ছিলেন না । কেউ খাবার দিলে নিতেন । ওনি আনমনেই থাকতেন । সারাদিন নিজে নিজে কথা বলতেন । আমাদের ঘরে আসতেন আমার একজন চাচার সাথে ওনার বন্ধুত্ব ছিল ।
আর ওনার মা খুব ছোট – খাট গড়ন , গোলগাল চেহারার ছিল । কুঁজো হয়ে হাটতেন । ওনাদের এক রূমের মোটামুটি বড় একটা ঘর এবং তার সাথে লাগোয়া খুবই ছোট একটা রান্না ঘর ছিল ।।
চারপাশে বেড়া উপরে টিন তাও ভাঙ্গাচূরা অনেক পুরাতন আর রান্নাঘরটি খুপড়ির মত । ছোট বাচ্চারা যেমন খেলনা ঘর বানায় মোটামুটি সেরকমই।
ছোট ছোট , ভাঙ্গা চূরা জিনিসপত্র দিয়ে রান্নাঘরটা সাজানো । আর ঘরেও খুবই ঝরাজীর্ণ জিনিস পত্র মানে শোবার কাথা বালিশ রাখা থাকত । মা একপাশে এবং ছেলে এক পাশে ঘুমাতেন ।।
❣
আমাদের বাড়িতে আমার দুজন আত্মীয় আমার সমবয়সী শহর থেকে বেড়াতে যায় । মনে হয় আমি ক্লাস থ্রীতে ছিলাম । ওরা দুজন আর আমি মিলে ঘুরতে বের হতাম । ঘুরতে ঘুরতেই একদিন ওনার ঘরে গিয়ে বসলাম । সেদিন আমরা ওনার সব বসে বসে দেখি । তারপর থেকে আমরা নিয়মিত যেতাম । দেখতাম খুবই অল্প কিছু রান্নার জন্য । একদমই অল্প । তখন থেকে আমরা আমাদের ক্ষেত থেকে ওনাকে মূলা দিতাম চুপি চুপি ।
মুলা দিতে গিয়ে আমরা অনেকক্ষন বসে থাকতাম , কথা বলতাম আর দেখতাম ওনি কিভাবে কাজ করছেন , রান্না করছেন , ছেলের সাথে ঝগড়াও করছেন কিছু করছেনা বলে ।
আমি ওনার ঘরের দরজার কাছে পা মেলে বসে বসে সব দেখতাম । এত সুন্দর গোছানো ঘর , রান্না ঘর , পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন কোন ময়লা নেই । এত শুনশান বাতাস এবং নীরবতা প্রবাহিত হচ্ছে । বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাতাস যায় , চাঁদের আলো প্রবেশ করবে । বৃষ্টির টুংটাং শব্দও শোনা যাবে ।
আর দেখতাম নিজের সব কাজ নিজে নিজেই করছেন কূজো হয়ে হয়ে । এত যত্ন করে রান্না করতেন । ওরা যে কয়দিন আমাদের বাড়ীতে ছিল ওনার কাছে যাওয়া আমাদের নিয়মিত কাজ ছিল ।
🥰
আমরা এত কথা জিজ্ঞেস করতাম উনি মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হতেন । কারন রান্নার সমস্যা হত ।
পরে ওরা যখন চলে আসে আমি আর একা একা বেশীদিন যাইনি । ততদিনে সবাই জেনে গেছে আমরা ওখানে গিয়ে বসে থাকি । ভাবতাম !! কেও যায়না আমি একা গেলে সবাই কি ভাববে !! তাও বলত আমি নাকি ওখানে গিয়ে বসে থাকি । এখন ভাবি গেলেই পারতাম !
তারপর আমার খুব বেশী যাওয়া হয়নি কিন্তু আসা – যাবার পথে খেয়াল করতাম ।
🥰
বড় বেলায় ঘর ভাবলেই আমার শুধু ঐ ঘরটাই ভেসে উঠে । এত শান্তি !! এত নীরবতা!! আমি আর কোথায়ও খূঁজে পাইনি ।
ওনার ঘরের পিছন দিক, আশপাশ এবং একটু পার হলেই অনেক বাঁশঝাড় , লতা – পাতা , বুনো ফুল মোটামুটি অর্ধেক পথ জুড়েই ছিল একটা বন্য বাগান রাস্তার পাশে । রাতের বেলা এত এত জোনাক ছিল ।
অদ্ভুত সু্ন্দর !! অন্ধকার তার মাঝে জোনাক জ্বলছে আর ডাকছে । জোনাক মানে আমার কাছে ঐ পথ টুকু । আমি জোনাক হাতে নিয়ে মুঠ করে ফেলতাম । হাতের ভিতর থেকে খুব সুন্দর আলো আসতো । এটা এখনও করি হাত আলোকিত তখন জোনাক দিয়ে এখন ঐ নূরের ছোঁয়া দিয়ে ।।
ঐ পথ আমাদের যাতায়াত পথ ।
বর্তমানে ওনারা মা ও ছেলে কেউই বেঁচে নেই । অনেক আগেই মারা গেছেন কিন্তু জোনাক পথটা রয়ে গেছে ।
হয়তো ওদের অনেক কিছু ছিলনা, কিছুটা পাগলাটে ছিল কিন্তু ওরা কোন অন্যায়ে জড়িত ছিলনা । অতি সাধারন জীবনযাপন ছিল । সমাজে কোন খারাপ প্রভাব রেখে যায়নি ।
আর এই সাধারন জীবনযাপন টাই কারো কারো জন্য অসাধারন ।।
…………………………………………………………………….🥰🌿🌺🌿🌺‼-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 24 January 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 03 November 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 05 August 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 17 May 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
শরীফ এমদাদ হোসেন
@sharif-emdad-hossain
Asif Rahman
@asifaaron62
Deb-Nandan Dutta
@deb-nandan-dutta
অনুভূতির ডাইরি
@onuvutir-dairi
যুবক অনার্য
@jajan
তাহমিনা মোরশেদ
@rbtm796923t
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
AdabenTatali
@adabentatali



আপু !! ধন্যবাদ ❣ অনেকদিন পর আপনাকে দেখে ভালো লাগছে ।।