-
বেঁচে থাকা (Ikiru)
শুনতারো তানিকাওয়া
[ ইংরেজী থেকে জাপানী কবিতার বাংলায় অনুবাদ ]
আমরা বেঁচে আছি
এই মুহূর্তে আমরা বেঁচে আছি
এ যেন হঠাৎ তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠা
এক মুহূর্তের জন্য সূর্যের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া
হঠাৎ মাথায় কোনো সুর গুনগুনিয়ে ওঠা
কিংবা আচমকা একটা হাঁচি দেওয়া
এ যেন তোমার হাতটি ধরে একসাথে থাকা।আমরা বেঁচে আছি
এই মুহূর্তে আমরা বেঁচে আছি
এ যেন হঠাৎ একটা মিনি-স্কার্ট চোখে পড়া
প্ল্যানেটোরিয়ামের ভেতরে নিজেকে হারিয়ে ফেলা
ইয়োহান স্ট্রসের সুর উপভোগ করা
পিকাসোর শিল্পে মুগ্ধ হওয়া
কিংবা আল্পস পর্বতের বিশালতা দেখে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া
পৃথিবীর সমস্ত সুন্দরকে খুঁজে নেওয়া—
ছদ্মবেশী কোনো মন্দের কাছে হেরে না গিয়ে।আমরা বেঁচে আছি
এই মুহূর্তে আমরা বেঁচে আছি
এ যেন ডুকরে কেঁদে ওঠা
উচ্চস্বরে হেসে ওঠা
কিংবা প্রয়োজনে মনের সব ক্ষোভ উগরে দেওয়া
নিজের অনুভূতি প্রকাশের এই তো স্বাধীনতা।আমরা বেঁচে আছি
এই মুহূর্তে আমরা বেঁচে আছি
এ যেন ঠিক এই মুহূর্তে দূরের কোনো কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ
ঠিক এই মুহূর্তে পৃথিবীর ঘূর্ণন
ঠিক এই মুহূর্তে কোনো মায়ের সন্তান প্রসব করা
ঠিক এই মুহূর্তে কোনো সৈনিকের আঘাত পাওয়া
কিংবা ঠিক এই মুহূর্তে একটা দোলনার এপাশ-ওপাশ দুলতে থাকা।এই যে ঠিক এই মুহূর্তটি— এখনই পেরিয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে।
আমরা বেঁচে আছি
এই মুহূর্তে আমরা বেঁচে আছি
ঠিক যেভাবে আকাশের বুকে পাখিরা উড়ে যায়
ঠিক যেভাবে সমুদ্র গর্জে ওঠে
ঠিক যেভাবে শামুকেরা গুটিগুটি পায়ে হেঁটে চলে
মানুষও ঠিক সেভাবেই ভালোবাসা খুঁজে বেড়ায়—
তোমার হাতের সেই ওম, সেই উষ্ণতা—
এটির নামই তো জীবন।শুনতারো তানিকাওয়া (Shuntaro Tanikawa) ছিলেন আধুনিক জাপানি সাহিত্যের অন্যতম অগ্রণী, প্রভাবশালী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি ও অনুবাদক। ১৯৩১ সালের ১৫ ডিসেম্বর টোকিওতে জন্ম নেওয়া এই কবি ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
জাপানি কাব্যজগতে তাঁর অবদান এবং তাঁর জীবন দর্শনের মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
সহজ ভাষার জাদুকর: তানিকাওয়ার কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর সহজ-সরল ভাষা। তিনি জটিল বা দুর্বোধ্য শব্দের পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ ভাষা ব্যবহার করে গভীর জীবনদর্শন ফুটিয়ে তুলতেন। এই সহজ বোধগম্যতার কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী পাঠকের কাছেই তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন।
প্রথম কাব্যগ্রন্থ ও খ্যাতি: ১৯৫২ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তাঁর প্রথম কবিতা সংকলন ‘Nijuuoku Kounen no Kodoku’ (Two Billion Light-Years of Solitude) প্রকাশিত হয়। এই একটি বই তাঁকে রাতারাতি জাপানি সাহিত্যের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
বহুমাত্রিক অবদান: শুধু কবিতা নয়, তিনি প্রচুর শিশুতোষ সাহিত্য, ছবির বই (Picture books) এবং নাটকের চিত্রনাট্য লিখেছেন। বিশ্বখ্যাত কমিক স্ট্রিপ ‘পিনাটস’ (Peanuts)—যার জনপ্রিয় চরিত্র *চার্লি ব্রাউন* ও *স্নুপি*—সেটিকে জাপানি ভাষায় চমৎকার অনুবাদ করে তিনি জাপানি শিশুদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
কাজের বৈচিত্র্য ও পুরষ্কার: তিনি জাপানের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মাননাসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কবিতা বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।তানিকাওয়ার দর্শন ছিল অত্যন্ত জীবনমুখী। তিনি বিশ্বাস করতেন, বেঁচে থাকার আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের খুব সাধারণ আর ছোট ছোট মুহূর্তগুলোর মাঝে—যা আপনার অনুবাদ করা ‘বেঁচে থাকা’ (Ikiru) কবিতাটিতেও খুব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
2 Comments
Friends
Masfi K
@masfi-mohammad
Violet Rose
@afsanajannatultumpa
Md.hazrat belal
@md-hazratbelal
Suranjit Master
@suranjitmaster
ছন্নছাড়া মহাপ্রান
@mihirmilton
এম এ খায়ের
@dmpcttc
তাহমিনা মোরশেদ
@rbtm796923t
কাশফিয়া নাহিয়ান
@kashfianahian
প্রাপ্তি রোজারিও
@praptirozario


অসাধারণ প্রিয় কবি🌹