<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | তুলি | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/tultuli/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/tultuli/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for তুলি.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 09:31:53 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">b3279324ef3a591862c9b2bb2c9a1817</guid>
				<title>পর্ব ১০
~রুম নাম্বার ১২০
তুলি

তরী :
জায়গাটা মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর রে তিয়াশ! থ্যাঙ্ক ইউ।
তিয়াশ:
হ্যাঁ, এখন তো তোর সাথে আমার থ্যাঙ্ক ইউ এর সম্পর্কই!

(তিয়াশের মন খারাপের কারণ বুঝতে পারে তরী। টরেন্টোতে যখন তাদের বন্ধুত্ব হয়, তখন তারা একজন আরেকজনকে কখনও সরি, থ্যাঙ্কস বলবে না বলেছিল তরী। বন্ধুত্বে এত ফর্মালিটি ভালো লাগেনা তার। আজ নিজেই সেই রুলস ভুল গিয়েছে বলে কষ্ট পেয়েছে তিয়াশ!) প্রসঙ্গ পাল্টাতে তরী বলে উঠল,
আমি যদি হঠাৎ করে হারিয়ে যাই, নিজেকে সামলে নিতে পারবি না?

তিয়াশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায় তরীর প্রশ্নে। প্রচন্ড অভিমানে গলার মধ্যে কান্নারা দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। আবার এমন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন শুনে ইচ্ছা করছে কষে চড় মারতে। নিজেকে কোনোমতে সামলে তরীর দিকে শান্তভাবে তাকিয়ে বলল,
সেটা নির্ভর করবে কেন হারিয়ে যেতে চাচ্ছিস তার উপরে।
তরী একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে সামনে হাঁটতে লাগল। এমন একটা সময় তৈরি হয়েছে যে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুটাকেও মন খুলে সব বলতে পারছে না। 
তিয়াশও দ্রুত পায়ে হেঁটে পাশাপাশি এসে জানতে চাইল,
কি হয়েছে তোর তরী? 
তরী:
বেশ ঝাল দিয়ে ফুচকা খেতে ইচ্ছা করছে তিয়াশ। 
তিয়াশ চায়না জোর করে জানতে চেয়ে তরীর কষ্টটাকে আরও বাড়িয়ে দিতে। তাই তরী কথা ঘুরালে তিয়াশও এমন ভাব করে যেন কিছুই হয়নি।
তিয়াশ সামনের একটা ফুচকার দোকান থেকে ফুচকা আনতে গেলে তরীর চোখ বেয়ে অজান্তেই কষ্টগুলো গড়িয়ে পড়ল।

সেদিন ওটি শেষে বাড়ি ফিরে ঠিক ভুল আর দ্বিধা দ্বন্দ্বের হিসাব অমীমাংসিত রেখেই রিডিং রুমে গিয়ে ৭ বছরের বন্ধ বাক্সটা বের করেছিল তরী। তার মন বলছিল কোনো না কোনো সূত্র এই বাক্সেই আছে। বাক্সটা তরী পেয়েছিল তন্বীর খাটের নিচ থেকে। কিন্তু কখনও খুলে দেখার সাহস হয়নি। আজ নামাযের বিরতিতে তিয়াশকে নিয়ে যে ভ্রম তৈরি হয়েছে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এই বাক্স তাকে সাহায্য করতে পারে অনুমান তার!

বাক্সটা হাতে নিয়ে খুলতে যাবে তখনই একটা ছোট্ট কালো বিড়াল মিউ ডেকে দৌঁড়ে বেরিয়ে গেল রিডিং রুম থেকে। তরী খুবই অবাক হয়ে ভাবতে থাকল, তার বাড়িতে বিড়াল কি করে এলো!
অবশ্য এর আগে আয়ানের মুখে এমন কালো বিড়াল দেখার কথা শুনেছে তরী। কিন্তু খুব একটা আগ্রহ দেখাইনি আয়ান ভয় পাবে বলে। এমনকি বেলীগাছের নিচেও এমন দেখেছিল বজ্রপাতের রাতে! ডিসেম্বরের কনকনে শীতেও তরীর কপালে ঘাম জমে যাচ্ছে! দোয়া দরুদ পড়ে বাক্সটা খুলে ফেলল তরী। বাক্স খুলতেই অবাক হয়ে গেল তরী! অবিকল তন্বীর মত দেখতে একটা পুতুল! আর সাথে পিরামিডের মত কিছু নকশা, কিছু পেন্টাগন আর অজানা অক্ষর, জিওম্যাট্রিক সিম্বল! তরী এবার বেশ ভয় পাচ্ছে। কিন্তু তাকে তো এর শেষ দেখতেই হবে। তন্বীর মৃত্যু আত্মহত্যা বলা হলেও তরীর ৮০% বিশ্বাস এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য আছে। সেই রহস্য হয়তো সমাধান করেই ফেলত বাক্সটা হাতে পাবার পরে, যদি না মাঝখানে বেলীর দুর্ঘটনা ঘটত। বেলী চলে যাবার পর তার সব মনোযোগ আয়ানকে দিতে হয়েছিল। বেলীর হার্টে VSD  ছিল। পরপর ২ বার অপারেশন করে কারেক্টশন করার পরও হায়াতের রুটিনকে আটকাতে পারেনাই কেউ। সেই ঝড়ের রাতে তরীর হৃদয়ে ঝড় তুলে বেলী চলে যায় আল্লাহর কাছে। কিন্তু খুবই আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, বেলী যেদিন মারা যায় সেদিন বেলীর ইনহেলার টিউবটাই ছিলনা ড্রয়ারে। অথচ শ্বাসকষ্ট হত বলে সবসময়ই ড্রয়ারে ডাবল ইনহেলার থাকত। সেই ইনহেলার পরে পাওয়া গিয়েছিল বেলী গাছের নিচে!
বেলীর আকস্মিক চলে যাওয়াতে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যান বেলী আর তরীর মা রুকাইয়া বেগম। মায়ের দেখাশোনা, আয়ানের দেখাশোনা আর নিজের পড়াশোনা নিয়ে এতটা ব্যস্ত হয়ে যায় তরী যে তন্বীর বিষয়টা নিয়ে আর আগাতে পারেনা। তন্বী মারা যাবার পর থেকেই তরীর সাথে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে। যেমন তার মনে হত তন্বী রুমেই থাকে। নিয়ম করে পড়তে বসে, ঘুমাতে যায়। প্রথম দিকে হ্যালোসিনেশন ভেবে বিষয়টাকে ইগনোর করলেও বেলী মারা যাবার দিন থেকে তরীর আর স্বাভাবিক মনে হয় না। কিন্তু সময়টা এমন ছিল যে তরী এই বিষয়টা নিয়ে ভাবতেও সময় পাচ্ছিল না।
তরী যখন ইন্টার্নী করছে, তখন একদিন তরীর মাও চলে যায় আল্লাহর কাছে। প্যারালাইজড হবার পর থেকে স্ক্র্যাচে ভর করে হাঁটতে হত রুকাইয়া বেগমের। কিন্তু সেদিন স্ক্র্যাচ ২ টা রুমে না থাকায় রুকাইয়া বেগম উঠতে গিয়ে পড়ে যান। ময়না দৌঁড়ে এসে এই অবস্থা দেখে তরীকে কল দেয়। তরী কলেজ থেকে দৌঁড়ে আসে। তরীর হাত শক্ত করে ধরে &#039;তন...&#039; কিছু বলতে চেয়েছিলেন রুকাইয়া বেগম। কিন্তু পুরা কথা বলার আগেই শান্তির ঘুমে তলিয়ে যান। তরী কেন যেন ঠিক বুঝে গিয়েছিল তিনি তন্বীর কথাই বলতে চেয়েছিলেন। কারণ তরী নিজেও অস্বাভাবিক বিষয়ের সম্মুখীন হচ্ছে। আর ক্র্যাচ ২ টা যখন নিচের রিডিং রুম থেকে পাওয়া যায় তখন তরীর সন্দেহ আরও গেড়ে বসে।


রুকাইয়া বেগমের মৃত্যুতে তরীর বাবা সিকদার চৌধুরী খুবই ভেঙে পড়েন। তিনি একদম চুপচাপ হয়ে যান। সেদিন রাতে তরীর গা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। আর তরী খুব বাজে একটা স্বপ্ন দেখে। পরদিন আয়ান তরীকে জানায় রিডিং রুমে একটা কালো বিড়াল তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তরীর কলিজাটা ধক করে ওঠে। সে আর কাউকে হারাতে চায়না। 
তরী তাকবীর ভাই আর ফুফুকে জানায় সে FCPS করতে টরেন্টো যেতে চায়। আয়ানের এখন চারবছর বয়স। তাকে হাফেজি মাদ্রাসায় দিলে ভালো হবে। সে দেশে ফেরার পর নাহয় আবার তার কাছে নিয়ে আসবে। জন্মের পর থেকে তরীই দেখাশোনা করত বলে, তার সিদ্ধান্ততেই রাজি হয়ে যায়। যদিও আসল কারণ তরী কাউকে জানায়নি। সিকদার চৌধুরী ছাড়া তরীর আপন বলতে আর কেউই ছিলনা তখন। তরী কোনোভাবেই সিকদার চৌধুরীকে হারাতে চায়না। কিন্তু তরী কাছে থাকলে কিংবা এই বাড়িতে থাকলে যদি তার বাবার কোনো ক্ষতি হয়ে যায়, সেই ভয়ে বাবাকে  নিয়ে টরেন্টোতে চলে যায় তরী। যদিও টরেন্টোতে তরী একা থাকে বলেই সবাই জানে। বাবার কথা কাউকে বলেনাই তরী। এমনকি তিয়াশও জানেনা। কিন্তু আর বেশিদিন এই লুকোচরি খেলতে হবেনা। তরী হয়তো সমাধান করে ফেলেছে সব। সত্যিই কি সব সমাধান হয়? নাকি সমাধানের শেষে সমীকরণের একটা পক্ষ সবসময়ই শূন্য থেকে যায়?


-কিরে! ফুচকা খাবি না, তরী! 
তিয়াশের ডাকে চোখ মুছে নেয় তরী।
ফুচকা শেষ করে তরী বলে ওঠে,
আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিবি তিয়াশ? হাঁটতে ইচ্ছা করছে।
তিয়াশ মাথা নাড়ে।
তরী আজকের সময়টুকু স্মৃতিতে জমাতে চায়। সেজন্য যতটুকু সময় পাড়ছে কুড়িয়ে নিচ্ছে। তিয়াশ কি জানতে পারবে তরীর মনে কি ঝড় চলছে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/227696/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Mar 2025 19:04:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব ১০<br />
~রুম নাম্বার ১২০<br />
তুলি</p>
<p>তরী :<br />
জায়গাটা মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর রে তিয়াশ! থ্যাঙ্ক ইউ।<br />
তিয়াশ:<br />
হ্যাঁ, এখন তো তোর সাথে আমার থ্যাঙ্ক ইউ এর সম্পর্কই!</p>
<p>(তিয়াশের মন খারাপের কারণ বুঝতে পারে তরী। টরেন্টোতে যখন তাদের বন্ধুত্ব হয়, তখন তারা একজন আরেকজনকে কখনও সরি, থ্যাঙ্কস বলবে না বলেছিল তরী। বন্ধুত্বে এত ফর্মালিটি ভালো লাগেনা তার। আজ নিজেই সেই রু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-227696"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/227696/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f50d17fc9765655d0094aa81e361e01f</guid>
				<title>পর্ব ৮
~রুম নাম্বার ১২০

লুতফুৎন্নেসা হলের বাতাস তিলওয়াতের ধ্বনিতে মুখরিত। চারপাশ কর্পূরের গন্ধে ম ম করছে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে পিন পতন নিরবতা। সেই মানুষটাকে নিয়ে একদিন হাসি তামাশায় মেতে উঠেছিল পুরো হোস্টেল, সেই মানুষটা কি নিদারুনভাবে ঘুমাচ্ছে!  কোনো সাড়া নেই। ক্লাসে যাবার তাড়া নেই। নেই কোনো ব্যস্ততা! মৃত্যু কি ভয়ানক সত্য! কি ভীষণ চুপিচুপি এসে চারপাশটাও চুপ করিয়ে দেয়!
শুক্রবার জুমুআর নামাযের পর তন্বীর দাফনের জন্য গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় হোস্টেল সুপারসহ আরও কয়েকজন। 
ক্যাম্পাসে যে যার যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। হয়তো ২/১ দিন পরে তন্বী নামটাও মনে থাকবেনা কারো। কিন্তু এই নিরবতার একক সাক্ষী রুম নাম্বার ১২০! রুমের সামনে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টিতে ১২০ লেখাটা দেখছে তরী। আজ থেকে এই রুমে সে একা থাকবে। অপমৃত্যুর জন্য এক্ষনি কেউ আসতে চাইবে না রুমে। থাকবেনা কোনো মুখরতা। রোজ সন্ধ্যা হলেই কেউ জোরে জোরে গলা ফাটিয়ো পড়ে তরীর কান ঝালাপালা করবেনা। ধুপধাপ শব্দ করে হুলুস্থূল চলাফেরা করে কেউ তরীর ঘুম ভাঙাবে না।  জ্বর হলে কেউ হল স্পেশাল শাহী সেমাই বানিয়ে মাথার কাছে অপেক্ষা করবেনা। তরীর বইয়ের বুকমার্ক বের করে কত পাতা পড়ল তার হিসাবে কেউ গন্ডগোল করবেনা। মাথা চাপ ধরে গেলে কেউ নারকেল তেল গরম করে আনবেনা। পুরো ঘটনায় তরী  যেন একেবারে নিথর হয়ে গেছে। কিছুতেই যেন হিসাব মিলাতে পারছে না। এই তো গতকাল রাতেই ফরেনসিকের অটোপসি চ্যাপ্টারটা পড়ছিল দুই রুমমেট মিলে। পড়তে পড়তে কত আধ্যাত্মিক আলোচনাও করল দুইজনে! মানুষ কেন এমন করে মরে যে তার ছোট্ট শরীরটা একদম ক্ষত বিক্ষত করে কাটা হয়! এসব ভেবে কত মন খারাপও করল দুইজনে! আর আজ সকালেই এমন ঘটনা কি করে ঘটতে পারে?
(তরীর ছোটফুফু থাকে শহরে। ফুফু হাইপ্রেসারের রোগী। গতকাল পড়া শেষ করে সবে রাতের খাবারের জন্য ডাইনিং এ যাবে, তখনই মুঠোফোনে কল আসে তরীর ফুফাতে ভাই তাকবীরের।  তাকবীর জানায় ফুফু সেন্সলেস হয়ে গেছে। খবর পেয়েই একটা রিক্সা নিয়ে ছুট দেয় তরী। রাতটা ফুফুর বাসাতেই ছিল সে। মাইল্ড স্ট্রোক করেছে ফুফুর। তাকবীর অনেকটা নিজের অমতে মায়ের কথা রাখতে বিয়ে করেছিল মায়ের পছন্দ করা কিশোরী এক মেয়েকে। খুব ভালোই চলছিল সংসার। কিন্তু তাকবীরের ছেলে জন্মের সময় প্রসব পরবর্তী জটিলতার সাথে লড়াইয়ে হেরে যায় ১৮ বছর বয়সী মেয়েটা! ছোটবেলা থেকে মেয়েদের সাথে অপ্রয়োজনে কথাও বলেনা তাকবীর। কাজিনদের মধ্যে তরীর সাথেই যা একটু কথাবার্তা হত। তাও খুশল বিনিময় পর্যন্ত। তাকবীর ছিল গণিতে ভীষণ চৌকস। তরীরও ছিল গণিতে দারুন কৌতূহল। তাকবীর তাই তরীকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার প্রশ্ন এনে দিত সমাধান করার জন্য। এজন্যই বাকি ভাইবোনদের তুলনায় তরীর সাথে তার বেশি যোগাযোগ হত। বুয়েটে পড়ার সুবাদে তরীদের বাসায় ছুটির দিনে বেড়াতে আসত তাকবীর। তরীর গণিতের পান্ডিত্য মুগ্ধ করত তাকবীরকে। সে অবাক হয়ে দেখত ছোট্ট মেয়েটা নিজের মত করে প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়েও কি করে সব সমাধান করে! একটা ভালোলাগা তৈরি হয় অজান্তেই। কিন্তু সেই কথা কখনও সাহস করে বলে উঠতে পারেনি তাকবীর। সে বোঝে তরী তাকে বড়ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করে। সে চাইনি তরীর চোখে অসম্মানের হতে। তাই নিজের মনকে কড়া শাসন করে মায়ের পছন্দকেই প্রাধান্য দিয়েছিল। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনও বেশ ভালো চলছিল তাদের। তার স্ত্রী ছিল অসম্ভব রূপসী আর গুণবতী। তাকবীর তাকে ভালোবেসে ফেলেছিল। তাই সে মারা যাবার পর আর বিয়ে করেনি। মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়েছিল যদিও।  একা হাতে ছোট্ট আয়ানকে মানুষ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আয়ানের ৫ বছর পর্যন্ত সে বেলী আর তরীর কাছেই ছিল। তরী মেডিকেলে ভর্তির পর আয়ানকেও আবাসিক মাদ্রাসাতে ভর্তি করানো হয়। বেলীকে বড়আম্মু আর তরীকে ছোটআম্মু বলে ডাকে আয়ান। প্যারেন্টস ডে তে গিয়ে আয়ানকে দেখে আসে তরী। 
ফুফু গতকাল ঘর গোছাতে গিয়ে তাকবীরের ডায়েরিটা পায়। সেখান থেকেই জানতে পারে তরীর প্রতি ছেলের দুর্বলতার কথা। নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হতে থাকে তার। সে তাড়াহুড়া না করলে হয়তো ছেলেটা তার মনের কথা বলতে পারত। হয়ত আজকে তার ছেলের জীবনটা অন্যরকম হত। এসব ভেবেই স্ট্রোক করেছেন তিনি।
আয়ানের মা মারা যাবার পরে তরী জানতে পারে নিজেও। সে নিজেও একদিন ডায়েরিটা হাতে পেয়েছিল। খোলা ছিল বলে চোখ পড়ে গেছিল। তাই ফোনে যখন তাকবীর ভাই বলছিল, ঘর গোছাতে গিয়ে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। তখনই কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে তরী। সে জানে তাকবীর ভাই কত অগোছালো। তাই খবরটা পেয়েই দৌঁড়ে গেছে ফুফুর কাছে।
 সারারাত অবজারভেশনে রেখে আশংকামুক্ত বলে সকালে ক্যাম্পাসে ফিরেছে তরী। আপাতত এসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো মনে করে। ফুফু সুস্থ হলে একদিন বুঝিয়ে বলবে যে তাকদীরে এমন করে হয়তো নিক্ষেপ করা বড় গুনাহ!)
 কিন্তু ক্যাম্পাসে ফিরে এমন একটা ঘটনা দেখবে কখনও ভেবেছিল সে? 

-আম্মা? গেট খুলছি!
আলী চাচার ডাকে ভাবনা থেকে ফিরে গাড়ি পার্ক করে বাড়িতে ঢুকলো তরী। সবগুলো ওটি শেষ করতে করতে বিকাল হয়ে গিয়েছিল। আসরের নামায হাসপাতালেই আদায় করেছে। নিজের রুমে জায়নামায রেখে দিয়েছে তরী। যেন কাজের জন্য নামায কাযা না হয়। তিয়াশ শেষ ২ টা ওটিতে এসিস্ট করেছে বলে কিছুটা চাপ কমেছে তরীর। বাড়ি ফিরতে ফিরতে পুরো রাস্তা তরী তখনকার ঘটনাটা  নিয়ে ভেবেছে। তরীকে চিন্তিত দেখে তিয়াশও কিছু জানতে চায়নি। তিয়াশই ড্রাইভ করছিল। চার্চে তিয়াশকে ড্রপ করে বাকি পথ তরী নিজেই ড্রাইভ করেছে। নামায পড়ে আলী চাচা কুরআন তিলওয়াত করছিল বলে তরী আর গেট খোলার জন্য হর্ন দেয়নি। অপেক্ষা করছিল। তক্ষনি ভাবনায় ভেসে ওঠে তন্বীর মৃত্যুদিনটা!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/218115/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Jul 2024 23:25:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব ৮<br />
~রুম নাম্বার ১২০</p>
<p>লুতফুৎন্নেসা হলের বাতাস তিলওয়াতের ধ্বনিতে মুখরিত। চারপাশ কর্পূরের গন্ধে ম ম করছে। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে পিন পতন নিরবতা। সেই মানুষটাকে নিয়ে একদিন হাসি তামাশায় মেতে উঠেছিল পুরো হোস্টেল, সেই মানুষটা কি নিদারুনভাবে ঘুমাচ্ছে!  কোনো সাড়া নেই। ক্লাসে যাবার তাড়া নেই। নেই কোনো ব্যস্ততা! মৃত্যু কি ভয়ানক সত্য! কি ভীষণ চুপিচুপি এসে চ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-218115"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/218115/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a3c44390a2d699dcf06d345b891a5673</guid>
				<title>পর্ব ৭
~রুম নাম্বার ১২০

-ম্যাম, আজকে খুব ব্যস্ত রুটিন। একদম শ্বাস নেবার সময় নাই। ৫ টা ওটি আছে। আপনি আসবেন বলে আগে থেকেই সিরিয়াল দেওয়া।

গড়গড় করে সারাদিনের লিস্ট দিল জুনিয়র ডাক্তার নিরা। তরীর আন্ডারে এম.ফিল করতে এসেছে সে। 
শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে তরী বলে উঠল,
-শ্বাস নেওয়া নিয়ে মজা করতে নেই নিরা! শ্বাস নেবার কি স্বস্তি তা আমরা ততক্ষণ বুঝিনা যতক্ষণ শ্বাস নিতে পারি!

সামান্য মজায় এরকম কঠোর কথা কেন শুনতে হল সেই হিসাব করতে যখন ব্যস্ত নিরা তখন পরিস্থিতি বদলাতে তরীর কণ্ঠ শুনতে পেল,
-ভাবনা ছেড়ে ওটি রেডি করুন আধঘন্টার মধ্যে। আর ৫ জন পেশেন্টের ফাইল আপডেট করে আমাকে দিয়ে যান ১০ মিনিটের মধ্যে। হারি আপ!
আচমকা আদেশনামা শুনে হকচকিয়ে যায় নিরা! মনের কথাও জানেন কিভাবে ম্যাম! 
-এত ঘাবড়ানোর কিছু নাই। আমি মাইন্ডরিডার নই। সিচুয়েশনের প্রেক্ষিতে প্রেডিক্ট করেছি। যান কাজে যান।
আর কথা বাড়ানোর সাহস পায়না নিরা। না জানি আর কি কি ভাবছে সব বলে দেয়! 
&#039;ইয়েস ম্যাম&#039; বলে দ্রুত কেটে পড়ে সে।

এসময় তরী নিজে কতটা কৌতুক করত কথায় কথায়। অথচ এখন কত সিরিয়াস হয়ে গেছে সবকিছুতেই। পরিস্থিতি মানুষকে কত বেশি জটিল করে তোলে!

-হো হো হো

চেয়ারে বসে ঘর কাঁপিয়ে হাসছে তিয়াশ।  হাসির শব্দে ভাবনার ঘোর কাটে তরীর।
-রাক্ষসের মত হাসছিস কেন? (তরী)
-হিসাব মিলছে না যে! (তিয়াশ)
-কিসের হিসাব? (তরী)
-কথার জাদুতে তো ভালোই ভড়কে দিলি বেচারী জুনিয়রকে! (তিয়াশ)
-জুনিয়রকে ভড়কে দেবার অভিপ্রায় আমার নেই তিয়াশ। যেটা সত্যি সেটাই বলেছি কেবল। শ্বাস নেবার যে কতটুকু তৃপ্তি...
গলা ধরে আসে তরীর। আনমনেই ফিরে যায় সেদিনের বৃষ্টি রাতে। সেদিন বেলীর ফর্সা গাল নীল হয়ে গিয়েছিল। নিস্তেজ হবার আগে কি দারুন আকুলিবিকুলি করেছে একটুখানি শ্বাস নিতে! তরী নিজের চোখে দেখেছে মাথার কাছে বসে। ছোট্ট মেয়েটা ঘটনার আকস্মিকতায় স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছিল। কেবল এতটুকু শুনতে পেয়েছিল, বেলী শেষবার তার হাত শক্ত করে ধরে বলেছিল, তুই কিন্তু ডাক্তারিই পড়বি! 
-এই তরী? তরী? 
তিয়াশের ডাকে দ্রুত চশমার ফাঁক দিয়ে চোখ মুছে নেয় তরী।
চেয়ার ছেড়ে তরীর সামনে এসে মৃদু গলায় তিয়াশ বলে ওঠে,
-সবাইকে চুপ করিয়ে রাখা মানুষটার আচমকা নিজে চুপ হয়ে যাওয়া মানায় না রে তরী। তোর এই নীরবতার ভাগ কি আমাকে দেওয়া যায়না? নিজে নিজে গুমড়ে না গিয়ে আমাকেও একটু সুযোগ দে কষ্টের তীব্রতা অনুভব করার?
(তিয়াশ)

তিয়াশের এমন ঘোর লাগা কণ্ঠে তরী শিউরে ওঠে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে ওঠে,
ক্লাসে যাসনি আজ? (তরী)

তরীর প্রশ্নে ঘোর কাটে তিয়াশের। কিছুটা লজ্জিত গলায় বলে,
সরি। (তিয়াশ)

-ক্লাসে যাসনি কেন? (তরী)
তিয়াশ মুগ্ধ হয়ে যায়। কেউ এত সুন্দর করে সিচুয়েশন সামলাতে পারে কি করে! এমনভাবে কথা বলছে যেন কিছুই হয়নি!
তিয়াশের চুপ করে থাকা দেখে তরী আবার বলে ওঠে,
এমন মৌনতা ধারণ করার মত কিছু হয়নি। বলার হলে কখনও নিজে থেকেই বলবো। এভাবে জানতে চাইতে হবেনা! 
তিয়াশ যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না! তরী তাকে বলতে চাইল! 
-কিরে হাবার মত বসে থাকবি নাকি ক্লাস নিতে যাবি?
 আমি ওটিতে যাচ্ছি। তোর হিসাব নিকাষ শেষ হলে রুমে তালা দিয়ে বের হস।

এটুক বলেই ধীর পায়ে বেরিয়ে গেল তরী। ওটির সবুজ পোশাকটা যেন তরীর জন্যই তৈরি করা! এটা গায়ে দিলে আর কিছুতে মন থাকেনা তার। এই যে একটু পর পর ভাবনায় ডুব দেওয়া সেটাও যেন রুদ্ধ হয়ে যায় এই পোশাকে। একটা অন্য মানুষ হয়ে যায় সে। পরপর ৩ টা ওটি করে নামাযের বিরতি নিতে রুমে আসে তরী। 
রুম খোলা দেখে কিছুটা অবাকই হয়! তক্ষনি তিয়াশের কথা মনে পড়ে তরীর। তিয়াশ কি তাহলে ক্লাসে যায়নি? দ্রুত পায়ে রুমে ঢোকে তরী।
টেবিলে মাথা দিয়ে আছে তিয়াশ। তরী কিছুটা অবাক হয়ে বলে উঠল, 
শরীর খারাপ লাগছে তোর?
না, কোনো সাড়াশব্দ নেই। তরী কিছুটা জোরে ডাক দেয়।
-তিয়াশ!
না, কোনো সাড়া নেই। 
এবার কেমন যেন লাগে তরীর। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। আশ্চর্য! ৩ টা ওটি করতেও এতটা নার্ভাস লাগেনি তার। কিসের ভয় পাচ্ছে সে?
এক পা, দুই পা করে এগিয়ে যেই তিয়াশের কাঁধে হাত দিয়ে ডাকতে যাবে ওমনি তিয়াশ মাথা তুলে তাকাতেই তরী চমকে  চিৎকার করে ওঠে।

একসাথে জয়েন করা এবং একই ডিগ্রী থাকায় তিয়াশ আর তরীর রুম পাশাপাশিই। ক্লাস শেষ করে একটু চোখ বুজে রেস্ট নিচ্ছিল তিয়াশ। তরীর ওটি শেষ হলে একসাথে লাঞ্চে যাবে বলে। কখন যে চোখ লেগে গেছে বুঝতে পারেনি। আচমকা তরীর চিৎকার শুনে ছুটে তরীর রুমে যায় তিয়াশ।
তরী দুই হাতে মুখ ঢেকে রীতিমত কাঁপছে। তিয়াশ কাছে গিয়ে তরী বলে ডাকতেই আরও জোরে চেঁচিয়ে উঠে জ্ঞান হারায় সে। 
-কি হয়েছে? তরী! কি হয়েছে তোর? 
চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে তরীর পালস চেক করতে করতে পানি দিতে বলে নিরাকে। তরীর চিৎকারে নিরাও এসেছিল তিয়াশেন পিছন পিছন। তরীকে জ্ঞান হারাতে দেখে ধরে ফেলে নিরা। তরীর চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিতেই চোখ মেলে তাকায় সে। তিয়াশ আর নিরাকে দেখে পুরা রুমে চোখ বুলায় সে। তরীর মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে তিয়াশ নিরাকে বাইরে যেতে বলে। 
-পানি খা। (তিয়াশ)
পানির গ্লাসটা এগিয়ে দেয় তরীর দিকে।
- তুই কোথায় ছিলি এতক্ষণ তিয়াশ? (তরী)
তরীর শান্ত অথচ ঠান্ডা গলার স্বরে কেঁপে ওঠে তিয়াশ। নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
-আমার রুমে ছিলাম। তোর চিৎকার শুনে এখানে এসে দেখি তুই ভয়ে কাঁপছিস। 
-তিয়াশ (তরী)
-বল (তিয়াশ)
-ও এসেছিল। (তরী)
-কে? (তিয়াশ)
তরী চুপ করে যায়। সে কি দেখল তখন! তিয়াশ যদি নিজের রুমে থাকে এখানে কে ছিল! তরী যা ভাবছে যদি তাই হয়, তাহলে এতবছর পর কিসের জন্য এসেছে সে? তবে কি তিয়াশকেও...!
-না! (তরী)
-কি হয়েছে তরী? বল আমাকে? ভয় পাচ্ছিস কেন? দেখ আমি আছি! (তিয়াশ)
-তুই চলে যা তিয়াশ। (তরী)
-কোথায়? (তিয়াশ)

-আমাকে একটু একা থাকতে দে তিয়াশ। প্লিজ! (তরী)

কিছু একটা নিয়ে তরী প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। যেটা বলতে চাইছে না। কিন্তু তরীর জন্য চিন্তাও হচ্ছে। কি করবে তিয়াশ!
কি করে জানবে তরীর মনে কি চলছে?

-পাশের রুমে আছি। আমাকে ডাক দিস দরকার হলে। (তিয়াশ)

তরীর প্রচন্ড ভয় করছে। বেলী, বাবা-মাকে হারানোর পর সে খুব একা হয়ে পড়েছিল। আয়ানকেও সে দূরে সরিয়ে রেখেছে। এবার কি তবে তিয়াশকেও!?  প্রিয়জনের ভালোর জন্য নাহয় সে আবার একা হয়ে যাবে। কিন্তু তিয়াশ? ওর কোনো ক্ষতি হবেনা ত? অজানা ভয়ে তরীর মন অস্থির হয়ে ওঠে। হঠাৎ ই তার মধ্যে কেউ বলে ওঠে,
আর কতদিন সব ছেড়ে পালিয়ে বেড়াবি তরী? যে দোষ তুই করিস কি তার জন্য আর কত মাশুল দিবি? কত প্রিয় মানুষদের দূরে সরিয়ে দিবি? 

-তিয়াশ!
কেবলই রুম থেকে বের হতে যাচ্ছিল সে। তরীর ডাকে ফিরে তাকালে তরী বলে ওঠে,
আমার শরীরটা খারাপ লাগছে। পরের  ২ টা ওটিতে আমাকে এসিস্ট করবি প্লিজ?

তিয়াশ কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। যে তরী নিজের কষ্টের ভার কাউকে দেয়না, সে আজ তার কাজের ভার দিচ্ছে তিয়াশকে!
তিয়াশ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়।
তরী যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। কিছুক্ষণ তো তিয়াশকে চোখে চোখে রাখা যাবে। তিয়াশ তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তরী কিছুতেই তার ক্ষতি হতে দেবেনা ইনশাআল্লাহ। ওটি শেষ করে এই কাহিনীর ইতি টানবে তরী।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/218098/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Jul 2024 00:45:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব ৭<br />
~রুম নাম্বার ১২০</p>
<p>-ম্যাম, আজকে খুব ব্যস্ত রুটিন। একদম শ্বাস নেবার সময় নাই। ৫ টা ওটি আছে। আপনি আসবেন বলে আগে থেকেই সিরিয়াল দেওয়া।</p>
<p>গড়গড় করে সারাদিনের লিস্ট দিল জুনিয়র ডাক্তার নিরা। তরীর আন্ডারে এম.ফিল করতে এসেছে সে।<br />
শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে তরী বলে উঠল,<br />
-শ্বাস নেওয়া নিয়ে মজা করতে নেই নিরা! শ্বাস নেবার কি স্বস্তি তা আমরা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-218098"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/218098/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a0c28bb809012dfb006a085be31d752</guid>
				<title>শেষ থেকে শুরু&#x23f3;
&#x2712;&#xfe0f;তুলি



রাত ২ টা। হাতে টিকেট নিয়ে ইমিগ্রেশন রুমে বসে আছে আমান। আর ১ টা পরেই তার ফ্লাইট। কিন্তু হঠাৎ করেই সিদ্ধান্তগুলো তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে বারবার। এই তো সেই কাঙ্খিত সময়! যার স্বপ্ন দেখেছিল সে মেডিকেলে ভর্তির পর থেকেই! মায়ো ক্লিনিকের বড় সার্জন হবে সে! কিন্তু আজ স্বপ্নের সিঁড়িতে পা রাখতে কিসের এত দ্বিধা কাজ করছে মনে? কেন যেন মনে শান্তি পাচ্ছে না।


প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হলেও ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি পড়াশোনা করা হয়নি আমানের। ক্যারিয়ার ফোকাসড আমান ছোট থেকেই একাডেমিক পড়াশোনা নিয়েই সিনসিয়ার। ক্যারিয়ারে সাইন করতে হবে, অনেক টাকা কামাতে হবে এটাই তার লক্ষ্য। এসএসসি, এইচএসসিতে ভালো ফলাফলের পরে চান্স পায় দেশের প্রথম সারির একটি মেডিকেল কলেজে। ডাক্তারি পাশ করার পর কঠিন অধ্যবসায়ে স্কলারশিপে মায়ো ক্লিনিকে যাবার সুযোগ মিলে যায়।  গত কয়েকদিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু -বান্ধবের সাথে দেখা সাক্ষাতে মোবাইলটা হাতে নেওয়া হয়নি। আজ এয়ারপোর্টে আসার পথে সোস্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে গিয়ে একটা ভিডিও ক্লিপে চোখ আটকে গেল আমানের। যেখানে ডা. কামরুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসককে নিয়ে সাক্ষাতকার ছিল। যিনি কেন বিনা টাকায় অপারেশন করেন জানতে চাইলে জানিয়েছেন যে, আসলে এই টাকার মালিকও তো তিনি নন। সবকিছুর মালিকই যখন আল্লাহ আর রিযিকের মালিকও আল্লাহ, তখন অতিরিক্ত টাকার পিছনে  ছুটে লাভ কি? 


চিন্তাগুলো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। এতদিন কিসের পিছনে ছুটেছে সে? কেন কেউ এভাবে ভাবেনি? জীবনের উদ্দেশ্য কি? দেশের প্রতি, দ্বীনের প্রতি দায় এড়িয়ে পালাতে চাইছিল? না!  সে তো ভীরু না।  শেষ থেকেই শুরু করবে ইনশাআল্লাহ। সে লড়বে। মেডিকেল সেক্টরে একটা দ্বীনী পরিবেশ কায়েম করার জন্য লড়বে।
তার মনে পড়ে গেল গত জুমার নামাযের আগে খুতবায় শুনেছিল,
&quot;এমন কে আছে যে আল্লাহকে দেবে উত্তম ঋণ? তাহলে তিনি বহুগুণে এটাকে বৃদ্ধি করবেন তার জন্য। আর তার জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।&quot;
(সূরা:হাদিদ, আয়াত : ১১)


এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে পিচঢালা পথে হাঁটতে শুরু করলো আমান। নিস্তব্ধ অন্ধকারের নিরবতার পর শেষ রাতে পাখির কিচিরমিচিরে যেমন মুখরিত হয় ধরণী, ঠিক তেমনি করে আজ মুখরিত হয়ে আছে আমানের মনপ্রাণ। চোখে মুখে যেন ঠিকরে পড়ছে পবিত্রতার আলো আর ফজরের আযানের সাথে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে শুদ্ধতার ঘ্রাণ। আমানের সন্ধানী মন কি তবে খুঁজে পেল পথের দিশা?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/208591/</link>
				<pubDate>Thu, 18 Jan 2024 12:30:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শেষ থেকে শুরু&#x23f3;<br />
&#x2712;&#xfe0f;তুলি</p>
<p>রাত ২ টা। হাতে টিকেট নিয়ে ইমিগ্রেশন রুমে বসে আছে আমান। আর ১ টা পরেই তার ফ্লাইট। কিন্তু হঠাৎ করেই সিদ্ধান্তগুলো তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে বারবার। এই তো সেই কাঙ্খিত সময়! যার স্বপ্ন দেখেছিল সে মেডিকেলে ভর্তির পর থেকেই! মায়ো ক্লিনিকের বড় সার্জন হবে সে! কিন্তু আজ স্বপ্নের সিঁড়িতে পা রাখতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-208591"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/208591/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5ded439e1bb3b21690932804427119f3</guid>
				<title>রঙ
অনুগল্প

-কিরে?  তুই এখানে? আর আমি পুরো ক্যাম্পাস তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি! আজকের দিনেও তুই বইতে মুখ গুজে পড়ে আছিস? হ্যাঁরে তুই এতটা সেকেলে কেন বল ত?

নিরার প্রশ্নে বইয়ের পাতার কোণাটা হালকা ভেঙে বইটা বন্ধ করল তরী। চশমার মোটা ফ্রেমটা নিকাবের উপর আরেকটু ঠিক করতে করতে মুচকি হেসে তাকালো তার দিকে।
কি সুন্দর করে হিজাব পরেছে মেয়েটা। ফুলহাতা জামায় কব্জির অনেকটাই আবৃত। আচ্ছা, এই গরমে যে মানুষটা এত সুন্দর করে পর্দা করতে পারে, সে কেন পুরোটা দ্বীন মানেনা? তাকে কি কেউ কখনো খিলাফতের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি? আপনমনে প্রশ্নগুলো জড়ো করে মুখে জবাব দিল :
-খুঁজছিলি কেন?

নিরা:
কেন আবার? নিচে তাকিয়ে দেখ! সবাই কত্ত মজা করছে, রঙ খেলছে! চল না নিচে। সারাক্ষণ কি একা একা থাকিস বল ত? তোর কি ইচ্ছা করেনা আনন্দ করতে?

লাইব্রেরি রুমটা পাঁচতলায় হওয়াতে ক্যাম্পাসের গ্রাউন্ডটা বেশ ভালোই নজর যায়। তরী সেদিকে একবার তাকিয়ে নিরার দিকে তাকিয়ে কোমল গলায় পাল্টা প্রশ্ন করলো:
-হায়ার অবমাননা করে, অশালীন পোশাক পরে, অপজিট জেন্ডারের গালে রঙ মাখালে আর রক গানে নাচলেই বুঝি আনন্দ করা হয়?
নিরা ভ্রু কুচকে বলল,
কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
তরী: নিচে তাকাতে বললি যে! তুই কি খেয়াল করেছিস নিচে কি হচ্ছে? 
(নিরা নিচে আরেকবার তাকিয়ে নিজেই চোখ সরিয়ে ফেললো। মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও সেভাবে ধর্মীয় অনুশাসন পেয়ে বড় হয়নি নিরা। ৫ বেলা নামায পড়লেও ইমানের আনাচে কানাচে অজানা তার। হারাম হালালে প্যাঁচ লাগে অহরহ। তথাকথিত মডারেট মুসলিম মনে করে নিজেকে। শুধু কালিমা পড়লেই জান্নাতে যাওয়া যাবে মন্ত্রে বিশ্বাস করে সে। পুরো দ্বীন না মানলেও শালীনতা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করে। স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে সদ্য ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে গিয়ে নিরার মনে হয় জীবনটা অনেক রঙিন। সেই রঙের সবটুকু যদি আস্বাদন করা না যায়, তাহলে আর বেঁচে থেকে কি লাভ!
পাশাপাশি রোল হওয়াতে তরীর সাথে বেশ যোগাযোগ গড়ে উঠেছে তার। তরী সহজ বাংলায় গোড়া বা কট্টর মুসলিম। পড়াশোনায় হেল্প করলেও কোনো আড্ডা কিংবা হ্যাঙআউটে তরী অমাবস্যার চাঁদ। এ নিয়ে নিরার অভিযোগের শেষ নেই। সে নিজে ঘুরাঘুরি, আড্ডা পছন্দ করলেও এরকম অশালীনতা করতে শেখেনি। নিরার যেন নিজের কাছেই লজ্জা করছে যে এমন একটা অনুষ্ঠানে সে তরীকে যেতে বলছিল! মুখ থেকে কথা সরছে না তার।)


নিরবতা ভেঙে তরী বলে উঠল:
আচ্ছা, নিরা, আমরা কেন এমন হয়ে গেলাম? কিসের মোহ আমাদের এতটা আচ্ছন্ন করে নিল যে আমরা নিজেদেরকেই খেলনা বানিয়ে ফেললাম!
তুই কি জানিস আমাদেরকে এই পৃথিবীতে কেন পাঠানো হয়েছিল?
নিরা: বল শুনি।
তরী: আজকে তোকে সেই প্রভুর কথা শোনাবো যিঁনি আমাদের এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন খলিফা হিসাবে। (সূরা আল বাকারা:৩০ নং আয়াত)
মনে কর, আমাদের কালচার কমিটির প্রেসিডেন্ট তুই। এখন তুই যদি ঠিকমত দায়িত্ব পালন করিস তাহলে ফাংশন শেষে তোর তথাকথিত সুনাম হবে। আগামী বছরেও তোকে প্রেসিডেন্ট রাখা হবে। কিছু পুরস্কারও পেতে পারিস। আর তুই যদি দায়িত্বে অবহেলা করিস, দায়িত্ব অস্বীকার করিস, তখন কি তোকে পুরস্কার দিবে?
তেমনি আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীনও আমাদেরকে এই পৃথিবীতে তাঁর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছেন। আমরা যদি দুনিয়াতে তাঁর আদেশ মানি, নিজেদের দায়িত্ব পালন করি, তাহলে তিঁনিও দুনিয়ার সফর শেষে আমাদেরকে জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু আমরা যদি তারঁ হুকুম মানার বদলে প্রতিনিয়ত হুকুম ভাঙি কিংবা ফিতনা সৃষ্টি করি! তখন কি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন না?
যেখানে স্বয়ং আল্লাহ আমাদের হেফাজত করে যাচ্ছেন। আমাদের রহমত দান করে বাঁচিয়ে রাখছেন। রিযিকে বরকতে সুস্থ সাবলীল রেখেছেন। সেখানে আমরা কেন কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারছি না?
আমরা কি পারিনা আরেকবার জীবনটাকে গোছাতে? এইসব অশ্লীলতা বন্ধ করতে না পারি, নিজে এড়িয়ে চলতে পারিনা? পারিনা নিজে এতটা উত্তম হতে যেন আসহাবে সাহাবীদের দেখে যেমন অমুসলিমরা শান্তির ছায়ায় আসত, আমাদের দেখেও অনন্ত এই ধারনা তৈরি করাতে যে, ইসলাম কতটা সুন্দর? কেন আমাদের আচরণই আজ সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত? কেন আমরা দুনিয়ার লোভে অন্ধ হয়ে যাচ্ছি? দুনিয়া পেতে বিক্রি করে দিচ্ছি ইমান, আব্রু, শালীনতা, বিবেক, মনুষ্যত্ব?
যেখানে ইসলামের রঙ আমাদের প্রতিরক্ষা দেয়, দেয় সম্মান, দেয় পুণ্য, সেখানে অন্য রঙের সত্যই কি জরুরত আছে বোন?  সূরা বাকারার ১৩৮ নং আয়াতে আছে, 
&quot;আমরা গ্রহণ করলাম  আল্লাহর রঙ।
 আর রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর?&quot;&quot;

(মনের মধ্যে ঝড় বয়ে চলেছে নিরার। কেন এতদিন এভাবে ভাবেনি সে? দুনিয়ার প্রতি মোহ কি তার ইমান থেকে বড় হয়ে গেল? আস্তাগফিরুল্লাহ!  না আর দেরি করা যাবেনা।)

কোথায় যাচ্ছিস? 
হঠাৎ করে নিরাকে উঠে যেতে দেখে তরী প্রশ্ন ছুড়লো।

নিরা চোখের পানি লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে মুচকি হেসে বলে উঠল:
অশ্লীলতার রঙ মুছতে যাচ্ছি।
তরী: মানে?
নিরা: কালচারাল কমিটি থেকে অবসর নিতে আসি। ফিরে এসে আল্লাহর রঙে জীবন রাঙাবো ইনশাআল্লাহ।
তরীর চোখ বেয়েও আনন্দের অশ্রু গড়ালো। সুবহানআল্লাহ! ইসলাম কতই না মধুর। যে একবার সেই মিষ্টতা অনুভব করতে পারে, তার কাছে দুনিয়া তুচ্ছ হয়ে যায়। কি করে কত বেশি মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া যায়, তাই ই হয়ে ওঠে তার একমাত্র লক্ষ্য।

মাগরিবের আগে হোস্টেলে ফিরে নামায আদায় করে দুইজন। কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে এশার নামায আদায় করে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে তরী। রাতের শেষভাগে রবের কাছে মনের আকুতি জানাতে  দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে সে। 

নিরা কাঁদছে। তরী ঘুমের ঘোরেই  না তাকিয়েও শুনতে পাচ্ছে তার ফুপানোর শব্দ। এক পশলা পবিত্রতার বাতাসে তরীর দুইচোখ ভার হয়ে এলো। না তরী চোখ খুলবেনা। আজ নিরাকে থামাবে না। কাঁদুক মন খুলে। কান্নার পানিতে ধুয়ে যাক সকল পাপের কালিমা। নিরা আজ কাঁদছে তাঁর প্রভুর কাছে। শুভ্র জায়নামায পেতে সিজদায় লুটিয়ে পড়েছে তওবার মওকুফি নিয়ে। একটা স্বস্তির হাসি হেসে তরী আরও শক্ত করে দুচোখ বুজল আগামীকাল একটা আলোর প্রভাত দেখার প্রত্যাশায়...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/208518/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Jan 2024 18:41:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রঙ<br />
অনুগল্প</p>
<p>-কিরে?  তুই এখানে? আর আমি পুরো ক্যাম্পাস তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি! আজকের দিনেও তুই বইতে মুখ গুজে পড়ে আছিস? হ্যাঁরে তুই এতটা সেকেলে কেন বল ত?</p>
<p>নিরার প্রশ্নে বইয়ের পাতার কোণাটা হালকা ভেঙে বইটা বন্ধ করল তরী। চশমার মোটা ফ্রেমটা নিকাবের উপর আরেকটু ঠিক করতে করতে মুচকি হেসে তাকালো তার দিকে।<br />
কি সুন্দর করে হিজাব পরেছে মেয়েটা। ফুল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-208518"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/208518/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac083be49368c46a9379f1a52520a30c</guid>
				<title>কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাযে দীর্ঘক্ষণ সিজদায় কাটানো তরীর নিত্যকার বিষয়। এই তো একটা জায়গা যেখানে আমার আমিটাকে প্রকাশ করতে পারে সে। মন খুলে  কাঁদতে পারে। তরীর রুমটা সাউন্ড প্রুফ করে বানিয়েছিল যেন কান্নার শব্দ ঘরের বাইরে না পৌঁছায়। অন্তরের দহনটুকু কাউকে বুঝতে দিতে চায়না সে।
-ক্রিং ক্রিং!
মোবাইলে কল আসায় হাতঘড়ির শব্দে চোখ মেলে তাকায় তরী। আজকাল নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ছে সে। ঘুমিয়ে পড়ছে নাকি চেতনা হারাচ্ছে এনিয়ে ঈষৎ চিন্তার ভাঁজ পড়ল তার ললাটে। গতকালও এমন হয়েছে। টরেন্টো ছাড়ার আগেও ২/৩ দিন এমন আচমকাই ঘুমিয়ে গেছে মনে হয়েছে তার। গতরাতে নামায শেষ করে কিছুক্ষণ কুরআন তিলওয়াত করে ফজর আদায় করে রিডিং রুমে গিয়েছিল তরী। রিডিং রুমে রাখা তার ধূসর মলাটের নীল ডায়েরিটা নিয়ে চেয়ার টেনে বসেছিল সে। পাতা উল্টাতেই যেন সব স্মৃতি জীবন্ত হয়ে চোখে অশ্রুর জানান দিচ্ছিল। কিন্তু তারপর কি করে ঘুমিয়ে পড়ল সে কিছুতেই মনে করতে পারছে না। রিডিং রুমে মোবাইল এলাউ করেনা তরী। ইমার্জেন্সি কল বুঝার জন্য ঘড়িতে কিছু স্পেসিফিক নাম্বার কানেক্ট করে রাখে। ঘুমানোর কারণ নিয়ে ভাবা বন্ধ করে কল রিসিভ করে তরী-
-কিরে তরী! তুই ঠিক আছিস ত?কল রিসিভ করিস না কেন! এই নিয়ে ১১ টা কল দিয়েছি! সেই যে চার্চে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি গেলি, আর কোনো খবরই নিলি না! আমারও কিছু চিন্তা হয় নাকি!
এতক্ষণ মোবাইলের ওপাশ থেকে ক্ষোভ মেটাচ্ছিল তিয়াশ। গতকালের পর আর যোগাযোগ হয়নি তাদের।
তরী: আরে! আমাকে বলতে ত দিবি! এতদিন পর বাড়ি ফিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। তাই আর জানানো হয়নি।
তিয়াশ: তা কি নিয়ে ব্যস্ত হলি শুনি? তোর সেই ভাবনা? আচ্ছা, কি এত ভাবিস রে একা একা? তোর ভাবনার কিছু আমাকে দে না?
তরী: হাসপাতালে দেখা হচ্ছে তিয়াশ। রাখছি এখন।

তরী কল কেটে দিতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিয়াশ। তরী কি কখনো তার না বলা কথা বুঝবে না? কি এত ভাবনা তার?

-ময়না, এই ময়না! 
-জ্বি, ছোটআপা!
-বড়াপ্পার ঘরে মাকড়সা জাল বুনেছে। ঘর পরিষ্কার করে বিছানায় নতুন চাদর পেতে দিস।
মাথা নাড়িয়ে সায় দেয় ময়না।
-আমি বেরুচ্ছি। সাবধানে থাকবি। কিছু দরকার হলে আলী চাচাকে বলবি।
-নাস্তা করবেন না আপা?
-আমি রোযা রেখেছি ময়না। 
-ইফতারে কি খাইবেন আপা?
-চিঁড়া আর টকদই।
-দেশি মুরগীর ঝোল রান্ধি আপা? কাঁচাপেপে দিয়ে?
-আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হোস না ময়না। খাবার খেতে খুব একটা ইচ্ছা করেনা। তোর আর আলীচাচার জন্য রান্না করিস।

এটুক বলেই বেরিয়ে পড়ে তরী। 

তরী: এই ময়না! আর দুটো লুচি ভেজে আন ত। ও! আলুর দমটা যা হয়েছে নারে! তুই একটা হোটেল দিয়ে দে রে! ময়নামতির লুচির হোটেল!
ময়না: কি যে কন না আপা! আপনেরা আয়েশ কইরা খান, তাতেই খুশি আমি।
বেলী: নারে ময়না। তোর রান্না দিন দিন সত্যিই অসম্ভব ভালো হচ্ছে। মাশাআল্লাহ।  কটা আয় রোজগার হলে ক্ষতি কি? তুই রান্না করে দিবি, আর একজন লোক রাখবি, সে দোকানদারব করবে।
তরী: একদম তাই।
ময়না: কি যে কন আপারা! আর দুইটা লুচি দিই?
বেলী: দে দে। ফুলকো দেখে দিবি।


ময়না! এই ময়না! বারান্দার গাছগুলোয় পানি দিছোস?
আলী চাচার ডাকে আঁচল দিয়ে চোখ মুছে ভাবনা থেকে ফিরে আসে সে। একসময় এই ডাইনিং রুম কত মুখরিত ছিল। আজ সব কেমন নিস্তব্ধ! প্রাণ থেকেও যেন মৃতবাড়িময়!


.
.
.
-তোর সাথে আমার কথা আছে তরী!
তন্বীর শীতল স্বরে সারাগায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তরীর।
তরী: আমি যা করেছি তোর ভালোর জন্য তন্বী!
তন্বী: ভালোর জন্য? আমার ভালো? তুই কি মনে করিস আমি কিচ্ছু বুঝিনা? আমি যাতে শক্তিমান হতে না পারি তার জন্যই তুই সব করেছিস। হিংসা তোর মনে!
ঘর কাঁপিয়ে চেচাতে থাকে তন্বী!
তরী: বিশ্বাস কর তন্বী! এসব শক্তি বলে কিছু হয়না। ওরা তোকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। তোর ইমান নষ্ট করছে। আমার কথাটা শোন তন্বী।প্লিজ!
তন্বী: তোর কোনো কথা আমি শুনবো না তরী! আজকে থেকে তোর সাথে আমার কোনো বন্ধুত্ব নাই।
তরী: তন্বী!

-১১ টায় একটা ওটি আছে ম্যাম!
বৈশাখীর কথায় ভাবনা ছেড়ে তার দিকে তাকায় তরী। বৈশাখী মেয়েটা সবে ইন্টার্নী শেষ করে এম ফিল শুরু করেছে। তরীর আন্ডারে থিসিস কম্প্লিট করবে সে। সকাল ১১ টায় ওটি আছে জানাতে এসেছে।
তরী: কোন পেশেন্টের ওটি হবে?
বৈশাখী: ১২০ নং বেডের পেশেন্ট ম্যাম।

১২০ নং বেড! তরীর অন্তর জুড়ে সেই চেনা অজানা অস্থিরতায় অবশ হয়ে আসছে। না!  আর না। এবার এর একটা সমাধান তাকে করতেই হবে। একথা ভেবেই কাজে মন দেয় সে।



~রুম নাম্বার ১২০
পর্ব ৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/201209/</link>
				<pubDate>Fri, 26 May 2023 17:55:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাযে দীর্ঘক্ষণ সিজদায় কাটানো তরীর নিত্যকার বিষয়। এই তো একটা জায়গা যেখানে আমার আমিটাকে প্রকাশ করতে পারে সে। মন খুলে  কাঁদতে পারে। তরীর রুমটা সাউন্ড প্রুফ করে বানিয়েছিল যেন কান্নার শব্দ ঘরের বাইরে না পৌঁছায়। অন্তরের দহনটুকু কাউকে বুঝতে দিতে চায়না সে।<br />
-ক্রিং ক্রিং!<br />
মোবাইলে কল আসায় হাতঘড়ির শব্দে চোখ মেলে তাকায় তরী। আজকাল নিজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-201209"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/201209/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">805277123522174204d69da81835a8a5</guid>
				<title>তরী: বড়াপ্পা এই বড়াপ্পা! বৃষ্টিতে ভিজবি?
বড়াপ্পা : এই মাঝরাতে কেউ বৃষ্টিতে ভেজে না তরী। চুপটি করে ঘুমিয়ে পড়।
অভিমান করে তরী কেবল দেয়ালের দিকে কাত হবে শুতে যাবে, ঠিক তখনই বিকট শব্দে কোথাও বাজ পড়ল। মুহূর্তেই বেলীর দিকে ফিরে তাকে জড়িয়ে ধরে সে। 
বড়াপ্পা : কিরে সব বাহাদুরি শেষ? এই না বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলি?
বলেই খিলখিল করে হেসে ওঠে বেলী। তরী মুগ্ধ নয়নে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। কিঞ্চিত রাগ দেখিয়ে বলে,
পিঞ্চ করবা না বড়াপ্পা।!  বাজের শব্দে ভয় করে যে!
বড়াপ্পা : আমি না থাকলে কিভাবে ঘুমাবি পাগলি?!
তরী ছোট্ট দুহাতে আকড়ে ধরে বেলীকে, যেন হাতের বন্ধন হালকা করলেই বাতাসে মিলিয়ে যাবে সে!
এরপর আর কথা হয়নি তাদের। সেদিনও এমন নিরব ছিল পৃথিবী। কেবল কিছু সময় পর পর ২/৪ টা বাজ পড়ার শব্দ ভেসে আসছিল। দক্ষিণের বারান্দার কোর্ণারে বাগানবিলাসের পাশে টিনের একটা ছোট্ট চালা বানানো ছিল, বৃষ্টির শব্দ শোনার জন্য। সেদিন কেন যেন সেই শব্দও তরীর কাছে ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল। বড়াপ্পার হৃদস্পন্দন আর বৃষ্টির শব্দ কেন যেন হাতুড়ি পিটিয়ে নিস্তব্ধতা ভাঙতে চাচ্ছিল। কিন্তু কে জানত নিরবতা ভাঙার বদলে তরীর পুরো পৃথিবীটাই নিরব হয়ে যাবে!
বেলী তরীর বড় বোন। ঢামেক থেকে এমবিবিএস পাশ করেছিল সে। রূপে, গুণে সবদিক থেকেই বেলী ছিল নিখুঁত।কিন্তু প্রকৃতি কেন যেন পার্ফেকশন মেনে নিতে পারেনা। তাই ত মাত্র ২৫ বছর বয়সেই বেলীকে নিয়ে হারিয়ে গেল স্বার্থপর প্রকৃতি!
হঠাৎ একটা বজ্রপাতের শব্দে তরী ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে আসে। বিকালে ময়না বেশ দক্ষতার সাথে মাথায় তেল দিয়ে গেছে। মাথাব্যথা টা কমে কিছুটা আরামও পাচ্ছিল। কিছুক্ষণ ঘুমাবে বলে এশার নামাযের পরেই ২ চামচ স্যুপ খেয়ে ঘুমাতে চলে আসে। আলী চাচা অবশ্য তার পছন্দের খাবার রান্না করতে চেয়েছিল, কিন্তু তরীর কেন যেন গলা দিয়ে খাবার নামছে না। ৭ বছর পর বাড়িতে ফিরে তরীর মনে কি চলছে, তা অনুমান করতে পেরে আলী চাচা কিংবা ময়না কেউই আর বিরক্ত করলো না। সন্ধ্যার পর থেকেই মেঘ মেঘ হয়ে ছিল। বজ্রপাতের শব্দে তরীর অসুবিধা হবে ভেবে ময়নামতি তরীর ঘরে ঘুমাতে এসেছিল। কিন্তু তরী একা থাকতে চাওয়ায় ময়না পাশের ঘরে চলে যায়। ভাবনার হিসাব নিকাষ করতে করতেই কখন ঘুমিয়ে পড়ে খেয়াল নেই তরীর। হঠাৎ ই বজ্রপাতের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ব্যালকনিতে গিয়ে ইজি চেয়ারটায় গা এলিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে এতক্ষণ স্মৃতিতে ডুবে ছিল সে। হঠাৎ আরেকটা বাজ পড়ার শব্দে ঘরে আসার জন্য পা বাড়াতেই তরীর শিরদাঁড়া দিয়ে এক শীতল স্রোত বয়ে গেল। উত্তরের ব্যালকনি থেকে দক্ষিণের বেলী গাছ দেখতে পাবার কথা না। তবুও তরীর মনে হল, তার চারপাশে বেলী ফুলের সুবাসে ম ম করছে। এমনকি আলোর ঝলকানিতে চোখ ঝাপসা হয়ে এল। তরী দ্রুত পায়ে হেঁটে ঘরে এসে অযু করে নেয়। তারপর বসে পড়ে জায়নামায নিয়ে। তার মনে যে ঝড় বইছে তা শান্ত করার আর কোনো উপায় জানে না তরী।
~রুম ১২০
পর্ব ৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194834/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Feb 2023 14:59:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তরী: বড়াপ্পা এই বড়াপ্পা! বৃষ্টিতে ভিজবি?<br />
বড়াপ্পা : এই মাঝরাতে কেউ বৃষ্টিতে ভেজে না তরী। চুপটি করে ঘুমিয়ে পড়।<br />
অভিমান করে তরী কেবল দেয়ালের দিকে কাত হবে শুতে যাবে, ঠিক তখনই বিকট শব্দে কোথাও বাজ পড়ল। মুহূর্তেই বেলীর দিকে ফিরে তাকে জড়িয়ে ধরে সে।<br />
বড়াপ্পা : কিরে সব বাহাদুরি শেষ? এই না বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলি?<br />
বলেই খিলখিল করে হেসে ওঠে বেলী।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-194834"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/194834/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7d19e49f325d5d9da2cf19b7dfd43895</guid>
				<title>আসরের নামাযের পর গোধূলী দেখতে দেখতে কুরআন তিলওয়াত শোনা তরীর কাছে নেশার মত। এই একটা সময়েই তরী বাড়ির দক্ষিণ দিকটাতে আসে। আজও তার ব্যতিক্রম হলোনা। দক্ষিণের বারান্দা থেকে বড় বেলী ফুলের গাছের তলাটা স্পষ্টই দেখা যায়। বারান্দা জুড়ে নানান ক্যাকটাস আর পাতাবাহার সাজানো। এই বারান্দায় কারো প্রবেশ নিষেধ। কেবল ময়নামতির প্রবেশের অনুমতি আছে গাছপালা পরিচর্যার জন্য। মৃদু বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নেয় তরী। আবেশে চোখ বুজে আসে তার। সেই ভেজা চোখে আবছা হয়ে কিছু স্মৃতি জেগে ওঠে। ঠিক এই বেলী গাছের নিচেই কত লুকোচুরি, কানামাছি, দৌঁড়াদৌড়ি খেলেছে সে! হঠাৎ করেই তরীর চোখ ভারী হয়ে আসে। চোখ মেলে গাছের নিচে তাকায়। মাটিগুলো আগের মত আর উঁচু নেই। সেখানে যে মাটির একটা ঘর আছে সেটা না বললে কেউ বুঝতেই পারবে না! সবকিছু ঠিক থাকলে আজকে এইসময়ে বেলীও কি তার পাশে থাকতে পারত না? বেলীর কোলে মাথা রেখে আবারও গল্প শুনতে শুনতে ঘুমাতে পারত না? অভিমানে চোখের পানি গড়িয়ে গাল ভিজিয়ে দেয়। বেলী তাকে ঘুম না পাড়িয়ে নিজেই ঘুমিয়ে আছে বেলী গাছের ছায়ায়!
~ছোট আপা!
ছোট আপা!
ময়নামতির ডাকে দ্রুত চোখ মুছে চশমাটা ঠিক করার ভান করে তরী। ময়না তাদের বাড়িতে আসে ১ যুগের বেশি। তরী টরেন্টো যাবার আগে ভালো পাত্র খুঁজে ময়নার বিয়ে দেয়। রোজ ১ বার করে এসে ময়না ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে যায়। আজকে তরীর ফেরার খবর শুনে থেকে গেছে। তরী যতদিন থাকবে ততদিন এ বাড়িতেই থাকবে সে। 
~কেমন আছিস, ময়না?
ময়না: আপনাদের ছাড়া ভালো কেমনে থাকি আপা? বাড়িটা খা খা করে। আর যাইয়েন না বিদেশ। 
তরী মুচকি হেসে বলে, এক কাপ টনিক বানিয়ে দিতে পারিস ময়না? মাথাটা চাপ ধরে আছে।
ময়না: অবশ্যই পারব। আমারে ডাকবেন না? মাথার আর কি দোষ! এইটুকুন মাথা আর কত সইবো!
বলতে বলতেই ময়না তড়িৎ গতিতে চলে যায় টনিক বানাতে। চা,কফি মিক্স করে একরকম পানীয় বানায় তরী। এর নাম দিয়েছে টনিক! ময়নাও খুব যত্ন করে তরীর খেয়াল রাখে।
ময়না মেয়েটা খুব চঞ্চল আর পটু। কোনো কাজ একবার বুঝিয়ে দিলেই নিজের মত করে গুছিয়ে করতে পারে। এজন্য কথা একটু বেশি বললেও তরীর বেশ পছন্দ ময়নাকে।
আপা!
ময়নার ডাকে সেদিকে তাকাতেই দেখে ট্রেতে করে টনিক আর বাটিতে করে নারকেল তেল এনেছে সে।
তরী: এগুলো কিরে ময়না?
ময়না: তেল গরম করে আনছি আপা। মাথাত দিয়া দিই। আরাম পাইবেন।
তরী মনে মনে ভাবে এই মেয়েটার উপস্থিত বুদ্ধি মাশাআল্লাহ। না বলতেও নিজ গরজেই সব খেয়াল রাখে।
~রুম নাম্বার ১২০
পর্ব ৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/194704/</link>
				<pubDate>Sat, 25 Feb 2023 15:49:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আসরের নামাযের পর গোধূলী দেখতে দেখতে কুরআন তিলওয়াত শোনা তরীর কাছে নেশার মত। এই একটা সময়েই তরী বাড়ির দক্ষিণ দিকটাতে আসে। আজও তার ব্যতিক্রম হলোনা। দক্ষিণের বারান্দা থেকে বড় বেলী ফুলের গাছের তলাটা স্পষ্টই দেখা যায়। বারান্দা জুড়ে নানান ক্যাকটাস আর পাতাবাহার সাজানো। এই বারান্দায় কারো প্রবেশ নিষেধ। কেবল ময়নামতির প্রবেশের অনুমতি আছে গাছপালা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-194704"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/194704/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9225e4ddb1ae48f851996f3c93eb8d23</guid>
				<title>দুপুরের খাবার খেয়ে দোতলার উত্তরের খোলা ব্যালকুনিতে চলে এলো তরী। আলী চাচার প্রশ্নটা তার মনের মধ্যে যে তুফান তুলেছে তা শান্ত করতেই তরীর চোখ আটকে গেল নীল রঙের ইজি চেয়ারটায়। চেয়ারে গা এলিয়ে দিতেই ভাবনার তরী তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ১২ বছর আগে...

লুতফুন্নেসা হোস্টেলের ভেতরে ভীষণ শোরগোল শোনা যাচ্ছে। ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রীরা হোস্টেলে উঠেছে আজকে। আগামীকাল থেকে তাদের ক্লাস শুরু হচ্ছে। সবার চোখ-মুখ একমুঠো স্বপ্ন আর ঘর ছাড়ার বিষাদে ভরপুর। তরী একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হলের গেটের দিকে। একটু আগেই বাবা তাকে রেখে গেছেন। কিন্তু তরীর পা যেন নড়ছেই না। বারবার অবাধ্য অশ্রু মুছতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এই প্রথম বাসা ছেড়ে থাকছে তরী। মনের মধ্যে হাজাররকম বোঝাপড়া শেষ করে হোস্টেলে প্রবেশের দিকে পা বাড়াবে এমন সময়ই শোরগোল কানে এল। একটু এগিয়ে যেতেই দেখে একজনকে ঘিরে অনেকগুলো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর হাসছে। তরী কিছুটা দূরত্বে থেকে এক পলক দেখে নিল।
১২০ নাম্বার রুম ঘিরে ভিঁড়। ভিঁড়ের মধ্যমনি যে, সে হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে আছে। সম্ভবত কাঁদছে। উষ্কখুষ্ক চুলগুলো কোমর ছাপিয়ে পা ছুঁই ছুঁই করছে। কিছু সামনে এসে হেলে পড়েছে। বাটিকের সাদামাটা সালোয়ার কামিজ পরিহিত কন্যাকে বেশ রুচিশীল আর শালীন মনে হলো দেখেই। 
-দেখ, আস্ত ভূত এসেছে ক্যাম্পাসে! পা পর্যন্ত চুল!
-হ্যাঁ, একদম গেঁয়ো ভূত।এই যুগে বাটিক পরে কেউ!
ভিঁড়ের মধ্যে কারা যেন এসব বলতেই বাকিরা হোস্টেল কাঁপিয়ে হেসে উঠল।
তরী ভিঁড় ঠেলে মেয়েটার কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত রাখতেই মাথা তুলে তাকাল সে।
-টার্মিনোলজিগুলো ঠিক করে বুঝতে পারছি না জানো! আমাকে একবার ডেমো দিবে? (তরী)
এতক্ষণ সবার ট্রল শুনতে শুনতে একরকম মরে যেতে ইচ্ছা করলেও তরীর প্রসঙ্গ পাল্টানোয় মুগ্ধ হয়ে মুচকি হেসে মাথা নাড়ালো তন্বী।
তরী এবার বাকিদের শুনিয়ে বলল, তোমার জামার রঙটা যেমন সাদামাটা সুন্দর, হাসিটাও সুন্দর। আজকাল তো দেখা যায় জামজমক পোশাকের আড়ালে অসুন্দরের ছড়াছড়ি!
যে দুইজন তন্বীকে নিয়ে মজা করছিল, তারা মাথা নিচু করে নিতেই তরী বলে উঠল,
কালকে থেকে তো ক্লাস শুরু হবে। আমরা কি আজকের দিনটা সবাইমিলে হৈ চৈ করতে পারি?
তরীর কথায় সবাই হেসে মাথা নাড়াতেই তরী ইয়েএ বলে চেঁচিয়ে উঠল।
সবাই মিলে তন্বীকে সরি বলে গল্প করতে লাগলো। এতক্ষণে সবাই বুঝে গেছে তরী মেয়েটা ভীষণ চঞ্বল। সবাইকে মাতিয়ে রাখতে চায়।
সবাই যখন তন্বীর সাথে কথা বলতে ব্যস্ত তখন তরী ভাবছে, সে যা দেখলো তা কি সত্যি! তন্বীর চোখগুলো ওমন লাল হয়ে জ্বলছিল কি করে!

-আম্মা, আম্মা। আমি আসরের নামায পড়তে যাচ্ছি আম্মা। 
আলী চাচার ডাকে ভাবনা থেকে বেরিয়ে ব্যালকনির নিচে তাকিয়ে দেখে ফিরোজা রঙের ফতুয়া আর সাদা টুপি পরে আলী চাচা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তরী মাথা নেড়ে আচ্ছা বলে নিজেও ঘরের দিকে পা বাড়ায়।

~রুম নাম্বার ১২০
পর্ব ৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/173055/</link>
				<pubDate>Mon, 07 Nov 2022 21:37:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দুপুরের খাবার খেয়ে দোতলার উত্তরের খোলা ব্যালকুনিতে চলে এলো তরী। আলী চাচার প্রশ্নটা তার মনের মধ্যে যে তুফান তুলেছে তা শান্ত করতেই তরীর চোখ আটকে গেল নীল রঙের ইজি চেয়ারটায়। চেয়ারে গা এলিয়ে দিতেই ভাবনার তরী তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল ১২ বছর আগে&#8230;</p>
<p>লুতফুন্নেসা হোস্টেলের ভেতরে ভীষণ শোরগোল শোনা যাচ্ছে। ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রীরা হোস্টেলে উঠেছে আজকে। আগামী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-173055"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/173055/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1967c67158f4ce6e9f518eaf59e4678b</guid>
				<title>হাসপাতালে জয়েনিং এর কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরে তরী। ফেরার পথে ওয়ারী রেইনভিউ চার্চের সামনে তিয়াশকে নামিয়ে দেয়। তিয়াশ একবার চেয়েছিল ফাদারের সাথে পরিচয় করাতে, কিন্তু তরী পরে কখনো বলে কাটিয়ে দিয়েছে। আসলে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে যেতে খুব আগ্রহ দেখাতে পারেনি তরী। ফাদার উইলিনটনকে দেখেই একরকম দৌঁড়ে যায় তিয়াশ।
ফাদার : মাই চাইল্ড! কতদিন পর তোমাকে দেখলাম! তুমি সত্যিই ফিরে এসেছো? একা কেন? আমার মামনি কই?
তিয়াশ: আরে ফাদার! এতগুলো প্রশ্ন একসাথে করে কেউ! আর আমি ফিরবো না কেন বলো তো? তুমি ছাড়া আমার কে আছে?
ফাদার : তা আমার মামনি কই?
তিয়াশ : কেন আমাকে দেখে খুশি হওনি তুমি? 
ফাদার : কি বলে পাগল ছেলে! 
তিয়াশ: এখন চলো তো বাড়ি যাই!
তিয়াশের মুখে তরীর গল্প শুনতে শুনতে ফাদার উইলিনটনও তরীকে দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তিয়াশকে ভীষণ ভালোবাসেন ফাদার। তিয়াশের জীবনে এমন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী কেউ আসলে তিনিও নিশ্চিন্ত হতে পারেন! কিন্তু তিয়াশের এড়িয়ে যাওয়াতে আর কথা না বাড়ালেন না তিনি।

এদিকে ড্রাইভিং সিট থেকে সবই শুনছিল তরী। একটা ছোট দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্টিয়ারিং এ মনোযোগ দেয় সে। তিয়াশ যা চায় তা কেবল তখনই সম্ভব, যখন তিয়াশ আল্লাহকে বিশ্বাস করতে পারবে। ড্রাইভিং  টা নেহাত মন্দ পারে না বলে বাড়তি টাকা খরচ করে ডাইভার রাখতে নারাজ সে। বাড়ির সামনে এসে রীতিমত অবাক হয়ে গেল তরী! 
কমলাপুরের ৩ তলা বাড়িটা যেন ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে। বাগান থেকে রজনীগন্ধা,শিউলি, বকুল আর বেলী ফুলের গন্ধ ম ম করছে! ব্যালকনি থেকে নানা রঙের নয়নতারা উঁকি দিচ্ছে। এক গুচ্ছ বাগানবিলাস যেন ব্যালকুনি বেয়ে নিচতলায় নেমে এসেছে রূপাঞ্জলের মত করে তরীকে নিয়ে যেতে! এতগুলো দিন পর বাড়ি ফিরে তার শখের বাগান এতটা পরিপাটি দেখবে ভাবতে পারেনি তরী!
গাড়ির দরজা খুলতেই আলী চাচা এগিয়ে এলেন। 
চাচা: আম্মা, কেমন আছেন? আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি ত?
তরী: আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো আছি, আলী চাচা। কোনো অসুবিধা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। তিয়াশ সাথে ছিল ওয়ারী পর্যন্ত।এখন ত আরও ভালো হয়ে গেছে মন! কি করেছো বাগানটা! চোখ যেন ফিরানো যাচ্ছে না! মাশাআল্লাহ!
চাচা: কি যে বলেন আম্মা! আমার আম্মার প্রিয় বাগানের যত্ন করবো না? তা তিয়াশ বাবাকে নিয়ে আসলে তারও আমার আম্মার বাগান দেখার সুযোগ হত।
তরী: সে কখনো আনবো ক্ষণ, চাচা। এখন বলো ত, বাইরেই থাকবো আমি?
চাচা: আয় হায়! বেমালুম ভুলে গেছি আম্মা!চলেন আম্মা, বাড়ির ভেতরে চলেন।
আলী চাচা তরীদের বাড়ির অনেক পুরানো কেয়ারটেকার। একদম তরীর বাবার আমলের। তরীকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন আলী চাচা। বছর পাঁচেক আগে তরী যখন টরেন্টো চলে যায়, তখন থেকে বাড়ি-ঘর দেখে রাখেন আলী চাচা।
ড্রয়িং রুমে পা দিতেই বুকের মধ্যে হু হু করে উঠলো তরীর। এই বাড়ির আনাচে কানাচে কত স্মৃতি আর গল্প লুকিয়ে আছে। চশমার ফাঁক দিয়ে চোখ মুছে ফেলে তরী। আলী চাচার নজর এড়ায় না। 
চাচা: আম্মা, বড় আম্মার কথা মনে পড়ছে?
তরী মুচকি হেসে জবাব দেয়:
টেবিলে রুই মাছ ভুনা, মসুর ডাল আর ভাত দেও, আলী চাচা। কতদিন তোমার হাতের রান্না খাইনা।
ধরে আসা গলায় এটুকু বলেই কোনমতে ঘরের দিকে পা বাড়ায় তরী। সে কাউকে তার চোখের পানি দেখাতে চায়না। 
পিছনে দাঁড়িয়ে আলী চাচা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে, হাসিখুশি চঞ্চল মেয়েটা কিভাবে এমন পাথর হয়ে গেল! সময় কত কিই না পাল্টে দিতে পারে!


~রুম ১২০
পর্ব ৩</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170572/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 21:05:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হাসপাতালে জয়েনিং এর কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরে তরী। ফেরার পথে ওয়ারী রেইনভিউ চার্চের সামনে তিয়াশকে নামিয়ে দেয়। তিয়াশ একবার চেয়েছিল ফাদারের সাথে পরিচয় করাতে, কিন্তু তরী পরে কখনো বলে কাটিয়ে দিয়েছে। আসলে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে যেতে খুব আগ্রহ দেখাতে পারেনি তরী। ফাদার উইলিনটনকে দেখেই একরকম দৌঁড়ে যায় তিয়াশ।<br />
ফাদার : মাই চাইল্ড! কতদিন পর তোমাকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-170572"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/170572/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d7be1774398b766e020b51118ebf4e81</guid>
				<title>চেয়ারে বসে একদৃষ্টিতে কি যেন দেখে চলেছে তন্বী। সেই দৃষ্টি শুষ্ক,শান্ত কিন্তু বেশ থমথমে। তরী সব জেনে গেল কি না এই আশংকা কাটছে না 
তার। যদি সব জেনে গিয়েও থাকে তারপরও কি তরীর ক্ষতি সে করতে পারবে? যতই মন থেকে পছন্দ না করুক, এতগুলো দিন একসাথে চলাফেরা। দ্বিধা দ্বন্দে ছারখার হয়ে যাচ্ছে তন্বীর দুই চোখ। সেই চোখ ভয়ানক ক্রোধে বারবার জ্বলে উঠছে আগুনের মত। এই ক্রোধ কার উপরে সেটা বুঝতে না পারলেও তরী যে তার সামনে দাঁড়িয়ে তা সে বেশ বুঝতে পারছে। ধীরে ধীরে তরীর দিকে তাকায় সে। ততক্ষণে স্ক্লেরার বর্ণ সাদায় পরিণত করে নেয়। সে দেখে তরী এক হাতে মুখের উপর বই ধরে পড়ছে, অন্য হাতে চশমার নিচ দিয়ে চোখ মুছছে। আনমনেই একটা স্বস্তির শ্বাস নেয় তন্বী। যাক চোখের রঙবদলটা তাহলে তরী দেখতে পায়নি। রুমের এই মাথা থেকে ওমাথা হেঁটে বই পড়া তরীর বহুদিনের অভ্যাস। এ নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেয় ভেবে নিজের ভাবনায় মন দেয় সে। 

-তরী এই তরী? 
তিয়াশের ডাকে স্মৃতির পাতা থেকে বাস্তবে ফিরে আসে তরী। চশমা ঠিক করার বাহানায় দ্রুত চোখের পানি মুছে নেয়। মনের মধ্যে যে ঝড় চলছে তা কিছুতেই কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবেনা। 
তিয়াশের সাথে তরীর পরিচয় টরেন্টোতে। তিয়াশের যখন চার বছর বয়স, তখন একটা সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা মা দুজনই মারা যায়। তিয়াশের চাচা সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়ে তাকে একটা চার্চে পাঠিয়ে দেয়। স্মরণশক্তি ভালো বুঝতে পেরে ফাদার উইলিনটন তিয়াশকে স্কুলে ভর্তি করে দেন। তারপর ভালো রেজাল্ট করে স্কলারশিপে টরেন্টো এসে তিয়াশ নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকে। তরীর সাথেই এফসিপিএস পাশ করে বাংলাদেশে এসেছে কিছুদিন আগে। জীবনের বাকি সময়টুকু ফাদার উইলিনটনের সাথেই কাটাতে চায় সে। তরীকে প্রচন্ড পছন্দ করে তিয়াশ। তরীর থেকে স্রষ্টা আর সৃষ্টি সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারে সে। তরীর যুক্তি প্রমাণে নিজের বিশ্বাসের ভিত নড়ে ওঠে তিয়াশের। তরী একজন আপাদমস্তক মুসলিম নারী। তরীর একনিষ্ঠতা, যুক্তিবিদ্যা, মেধা সবকিছুই তিয়াশকে মুগ্ধ করে। টরেন্টোতে পড়াকালীন সময়ে এমন একজন রিডিং পার্টনার পাওয়াটা তিয়াশের কাছে অনেককিছু ছিল। যদিও তরীকে রাজি করাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তার। টানা ১ বছর ঘ্যানঘ্যান করার পর তরী তার সাথে পড়তে রাজি হয়। তাও কোনো নির্জন লাইব্রেরিতে বসে না, জনবহুল পার্কে! তরীর রক্ষণশীলতাকে শ্রদ্ধা করে তিয়াশ। এত লক্ষ্য যাকে করে সে চশমার আড়ালে চোখ মুছলেও বুঝে যায় তিয়াশ। শুধু আজ না। গত ৫ বছর ধরেই তিয়াশ লক্ষ্য করেছে তরীর এই অন্যমনস্ক থাকাটা। তরীও বোঝে তিয়াশ তাকে পছন্দ করে। তার বিশ্বাস, তিয়াশ একদিন আল্লাহকে অনুধাবন করে শান্তির দীক্ষা নেবে। সেদিনের অপেক্ষা করবে সে। তিয়াশ কিছু বলার আগেই তরী প্রসঙ্গ ঘুরাতে বলে ওঠে, হাসপাতাল টা বেশ পরিপাটি দেখাচ্ছে। দেশে থাকাকালীন যখন আসতাম এখানে তখন বেশ এলোমেলো ছিল। তোর কেমন লাগছে রে এতদিন পর দেশে এসে? এই মেয়েটার কথা ঘুরানোর ক্ষমতা অদ্ভুত রকমের! তিয়াশ জানে তরী নিজে থেকে কিছু বলতে চাচ্ছে না মানে তাকে দিয়ে সেই কথা কখনো বলানোও সম্ভব না। কি এত কষ্ট তরীর? কেন এত হাসিখুশি মেয়েটা এমন আনমনা হয়ে যায়? এই রহস্যের ভাগ তাকে কি কখনো দেবে তরী?



~রুম নাম্বার ১২০
পর্ব ২

তুলি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/138325/</link>
				<pubDate>Fri, 26 Aug 2022 18:16:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চেয়ারে বসে একদৃষ্টিতে কি যেন দেখে চলেছে তন্বী। সেই দৃষ্টি শুষ্ক,শান্ত কিন্তু বেশ থমথমে। তরী সব জেনে গেল কি না এই আশংকা কাটছে না<br />
তার। যদি সব জেনে গিয়েও থাকে তারপরও কি তরীর ক্ষতি সে করতে পারবে? যতই মন থেকে পছন্দ না করুক, এতগুলো দিন একসাথে চলাফেরা। দ্বিধা দ্বন্দে ছারখার হয়ে যাচ্ছে তন্বীর দুই চোখ। সেই চোখ ভয়ানক ক্রোধে বারবার জ্বলে উঠছে আগুনের মত। এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-138325"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/138325/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2380f9827f3826e72461d70f6fd9605d</guid>
				<title>~রুম নাম্বার ১২০
পর্ব ১
তুলি


আমি তখন সাদা এ্যাপ্রোন গায়ে জড়ানো সদ্য ভূমিষ্ঠ এক সৈনিক! এফসিপিএস পাশ করে দেশে ফিরেছি মাসখানেক হলো। ঢামেকে জয়েন করার কথা থাকলেও মাসখানেক দেরিতেই জয়েন করলাম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজি ডিপার্মেন্টে। হৃদয় আর হৃদয়ের অনুভূতির সাথেই বসবাস আমার! ডিপার্টমেন্টাল হেডের সাথে দেখা করে আমার রুমের চাবিটা হাতে নিয়েই চমকে উঠলাম। আমার ভার্টিব্রাল ক্যানেল জুড়ে স্পাইনাল কর্ড উইথ মেনিনজেসের সাথে একটা শীতল শিহরণও বয়ে গেল যেন! কি আশ্চর্য! রুম নাম্বার ১২০! হঠাৎ করেই আমার অবচেতন মন ফিরে গেল ১২ বছর আগে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/72875/</link>
				<pubDate>Sat, 11 Dec 2021 03:20:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>~রুম নাম্বার ১২০<br />
পর্ব ১<br />
তুলি</p>
<p>আমি তখন সাদা এ্যাপ্রোন গায়ে জড়ানো সদ্য ভূমিষ্ঠ এক সৈনিক! এফসিপিএস পাশ করে দেশে ফিরেছি মাসখানেক হলো। ঢামেকে জয়েন করার কথা থাকলেও মাসখানেক দেরিতেই জয়েন করলাম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজি ডিপার্মেন্টে। হৃদয় আর হৃদয়ের অনুভূতির সাথেই বসবাস আমার! ডিপার্টমেন্টাল হেডের সাথে দেখা করে আমার রুমের চাব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-72875"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/72875/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4b7d27097d75fe59e09ab5dbe355be87</guid>
				<title>তুলি changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/51260/</link>
				<pubDate>Tue, 02 Nov 2021 16:38:00 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>