Profile Photo

Md.Monyruzzaman KhanOffline

  • Moniruzzaman-Khan
  • Profile picture of Md.Monyruzzaman Khan

    Md.Monyruzzaman Khan

    5 years, 1 month ago

    #তুলট_হৃদ _গহনের_গল্প

    ” আমি “ও তখন ছিলাম ❗
    ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
    মোঃ মনিরুজ্জামান খান

    যাহির” শব্দের অর্থ প্রচার। কিন্তু যাহির নামের
    যুবকটি তার ভালবাসার কথা এখনো পর্যন্ত
    প্রচার করতে পারেনি। আলিপুর গ্রামে সন্ধ্যা
    হয়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। আপন মনে সে ভাবছে
    যেন কার কথা। কী ভেবে আকাশের দিকে
    তাকাল যাহির। দূরের পূব আকাশে পূর্ণিমার
    চাঁদ উঠেছে। হলুদ রঙের আবির ছড়িয়ে দিচ্ছে
    চারিদিকে। এমন গাঢ় হলুদ রঙ শুধু চাঁদকেই
    মানায়। এই রঙটি যাহিরের খুবই প্রিয়। হলুদ
    মানেই বসন্ত। আর বসন্ত হচ্ছে ভালোবাসার
    দূত। যাহিরের মনে আজ আনন্দের সীমা নেই।
    অনেক দিন পর সে চপলা”দের বাড়ি যাচ্ছে।
    সেই চপলা ! যাকে সে ছোট বেলা থেকে দেখে
    আসছে। কেন জানি বলি বলি করেও বলা হয়নি তার ভালোবাসার কথা। তবে আজ সে
    বলবেই। ভালবাসার উত্তেজনায় ছটফট করছে
    মন। ঐ তো চপলাদের বাড়ি দেখা যাচ্ছে। গেট
    পেড়িয়ে যাহির আঙিনা থেকেই চপলাকে
    ডাক দিল…
    : চপলা ! এই চপলা যাবি নাকি বিলে? ডাক শুনে ভিতর ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে চপলা।
    অবাক হয়ে বলে-
    : যাহির ভাই ! অনেক দিন পর আসলে। কেমন
    আছ?
    : আমি ভাল আছি। চপলাকে দেখার পর যাহিরের অস্থিরতা আরো বাড়ে। ভার্সিটি বন্ধ,
    তাই চলে এলাম। তুই ভাল ? মামী”মা কেমন
    আছেন ? মামা” ঘরে আছেন না কী চেয়ারম্যান
    চাচা”র বাড়িত ?
    : বাঃ বা ! একসঙ্গে এতো প্রশ্ন। আমি আর মা
    দুজনই ভাল আছি। বাবা চেয়ারম্যান চাচার
    ওখানে।
    : শোন্ চপলা,বিলে ঘুরতে যাবি ?
    : হ্যাঁ যাব। কিন্তু এই সন্ধ্যায় বের হলে মা” বুঝি
    বকুনি দিবেনা। আচ্ছা তুমি দাঁড়াও, আমি মা “ক
    বলে আসি।
    : তাড়াতাড়ি কর ! আকাশে চাঁদ উঠেছে। চারিদিকে জ্যোৎস্নার প্লাবণে থৈ থৈ করছে।
    বিলের দিকে নৌকা ঠিক করে রেখেছি। শুনলি
    তো, যা এখন তাড়াতাড়ি বলে আয়।
    চপলা ভিতরে চলে গেল। যাহির আঙিনায়
    দাঁড়িয়ে তার মনের অব্যক্ত কথাগুলো গুছিয়ে
    নিচ্ছে। হৃদয় বা মন থেকেই হোক, অন্তরের
    ভিতর থেকে বলি বা মস্তিষ্কের সব মেধা দিয়েই
    হোক – আমার এখন একটাই চিন্তা। আমি
    চপলা”কে ভালবাসি। খুব বেশি ভালবাসি।
    চপলা ঘর থেকে বেড়িয়ে দেখে যাহির আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। কাছে গিয়ে
    ডাক দেয় চপলা,
    : যাহির ভাই ! চল যাই। কী ভাবছ ?
    : হ্যাঁ….! কিছু না। অবাক হয়ে তাকায় যাহির।
    কি সুন্দর-ই না লাগছে চপলা”কে। কিছু না বলে
    চপলার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে। যদি
    সে সারা জীবন এভাবে তাকিয়ে থাকতো, তবুও
    মনে হতো তার কাছে- চপলা”র রূপের সৌন্দর্য
    কিছুই দেখা হয়নি। আঃহ্ ! কী আছে ঐ কাজল টানা আখি দুটিতে। মায়া ! না অন্য
    কোন গভীর কিছু ?
    চপলা আর সহ্য করতে পারল না যাহিরের
    এমন নীরবতা। দ্রুত যাওয়ার জন্য বলে…
    : যাহির ভাই এখন চলো দেখি। তবে মা” বলেছে
    বেশি দেরী করা যাবে না।
    : আচ্ছা সে দেখা যাবে। এখন পা চালিয়ে হাট।
    আঙিনার বাইরে এসে মাটির রাস্তা ধরে আপন
    মনে দুজনে হেঁটে যাচ্ছে। সামনেই ধান ক্ষেত।
    যতো দূর দৃষ্টি যায় ধান আর ধান ক্ষেত। শুধু
    সবুজে রঙ ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না।
    আকাশের চাঁদ এতক্ষণে রূপালী বর্ণে বর্ণিল
    রূপ নিয়েছে। আর সেই রূপালী আলোয় ক্ষেতের আইল ধরে ওরা দু”জন হাটছে। হঠাৎ
    চপলা মনের আনন্দে বলতে লাগল-
    : ও আল্লাহ্ ! যাহির ভাই শুনছ। ধান ক্ষেতে
    ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকা সমানে গলা ফাটিয়ে
    ডাকছে !
    : আজ মনে হয় ওরা অনেক খুশি। যাহির নিজেই আনন্দে উৎফুল্ল। শুনলি না, চাঁদের
    আলো পেয়ে ওরা সব আনন্দে গান ধরেছে।
    : কী যে উল্টা পাল্টা বল না। ঝিঁ ঝিঁ – ব্যাঙের
    চ্যাচামেচিরে তুমি গান মনে করছো !
    : হ্যাঁ রে ! অনেক দিন পর ওদের মতো আমার
    বুকের মধ্যেও খুশির তুফান উঠেছে।
    : যাহির ভাই ! দেখ দেখ ! বিলের মাথায় কী
    সুন্দর চাঁদ। খুশির ঝিলিকে চপলার চোখ দুটি
    চিক চিক করছে।
    : তোর হাসি খুশি মুখটি দেখলেনা, আমার মনটা কেমন জানি উথাল পাতাল করে। আমার
    কাছে ভীষন ভাল লাগে। দেখ ! ঐ নৌকা দিয়েই আজ আমরা ঘুরবো।
    : শুধু ঘুরলেই হবেনা। মা”র কথাও মনে রেখ।
    : হয়েছে হয়েছে। যা ! এখন নৌকায় উঠে বস্। আরে আরে ! এই চপলা আস্তে নাম্।
    : আচ্ছা….। তুমি আস। আমি নৌকায় উঠছি।
    ঢাল বেয়ে চপলা দ্রুত নেমে যাচ্ছে।
    : উঠেছিস ! এখন চুপচাপ বসে থাক্। যাহির
    নৌকাটা ধাক্কা দিয়ে উঠে পড়ে। দে, বৈঠা আমার হাতে দে।
    : এই নেও ধর। আচ্ছা, চপলা অভিযোগ করে।
    তুমি কেন আরো আগে, এই বিলের ধারে আমাকে নিয়ে আসনি ? এতো সুন্দর ! এখন
    মনে হচ্ছে আমার ভিতরেও খুশির ফোয়ারা
    বইছে। কি হলো, আমি একাই কথা বলবো ?
    তুমি চুপ করে আছ কেন ?
    : দেখ্ ! তাকিয়ে দেখ্ আকাশে। ঐ রূপালী চাঁদ
    তোর দিকে কেমন তাকিয়ে আছে।
    : এতো রূপ ঐ চাঁদের ! আমার যে কী হিংসে
    হচ্ছে।
    : দূর বোকা ! যাহির ধমকের মতোই চপলাকে
    থামিয়ে দিল। তোর হিংসা কীসেররে ! হিংসা
    করলে তো আকাশের ঐ চাঁদ করবে।
    : কেন ! কিসের জন্য ? চপলার অবাক মনে
    প্রশ্ন ?
    : আমার কথা হচ্ছে…. যাহির এক নজর
    চপলাকে দেখে নিল। সুন্দর শুধু ওই চাঁদ না।
    তার চেয়ে তোর রূপ লক্ষ গুণ বেশি।
    : হ্যাঁ….! ভেংচি কাটল চপলা। তোমাকে বলেছে।
    : না রে ! সত্যি কথাই বলছি। এই যাহির
    হাজার ঘুরেও তোর মতো অপরূপ সুন্দর
    মেয়ে দেখেনাই।
    : বিষয়টা কি ? আজ খুব যে আমার রূপের
    প্রশংসা করছো ?
    : চপলার রূপের বর্ণনায় যাহির যেন মোহগ্রস্থ।
    যাহির যখন হাসে চোখে মুখে একটি উজ্জ্বল
    ভাব চলে আসে। হাসি মুখেই বলল- বিষয় তো
    একটি আছে-ই। আর সেটা বলার এখনই সঠিক সময়। চারপাশে জ্যোৎস্নায় ভেজা বাতাসের ফিসফিসানি। চাঁদের আলোতে চিকচিক করছে বিলের জল। চপলা ! চপলা
    তোকে আমি ভালবাসি। তোর জন্য আমার
    মনটা ভীষণ ছটফট করে রে ! তোকে নিয়ে
    আমার অনেক, অনেক স্বপ্ন…. কী রে ! তোর
    চোখে পানি ?
    : হ্যাঁ ! চপলার দুচোখ কোন বাধাই মানছেনা।
    অবিরত জল গড়িয়ে পড়ছে। অনেক দেরী হয়ে গেছে যাহির ভাই। সেই তো বললে ! যখন
    আর কোন পথ খোলা নেই আমার কাছে। কেন? এতো দেরী করলে কেন ?
    : দেরী ? পথ খোলা নেই ? কি হয়েছে ?
    হতভম্ব যাহির। এক মুহূর্তে কী যেন উলট
    পালট হয়ে গেল। সব খুলে বল। চুপ করে
    থাকিসনারে চপলা ! কী হয়েছে বল !
    : বাবা, আ..আমার বিয়ে ঠিক করেছে। কথা
    বার্তাও পাকা। আর….
    : আর, আর কি ? যাহির উদগ্রীব হয়ে চপলার
    মুখে তাকিয়ে আছে।
    : সেই বিয়েতে আমি, আমিও মত দিয়েছি। অঝোরে কেদেঁ যাচ্ছে চপলা।
    : তুই এই বিয়েতে রাজী হয়েছিস ! উফফ কী
    দুর্ভাগ্য আমার। যাহিরের আফসোসের শেষ
    নেই যেন। কী বোকা আমি। এতোদিন তোর
    কাছাকাছি থেকে আমি তোকে কাছে পেলাম না।
    : তোমার, তোমার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল -না। অনেক বড় দুঃখ দিলাম আমি তোমার
    মনে। সব দোষ আমার।
    : দূর পাগলী ! চপলার আত্নগ্লানি দেখে যাহির
    বুঝিয়ে বলল- ভুল করেছিলাম আমি। সময়
    করে আমার মনের কথা তোকে বলতে পারিনি।
    তুই কেনরে আমার ভুলের মাশুল দিবি ! আমার
    কথা হচ্ছে….তুই এখন মন দিয়ে সংসার করবি। দেখিস, অঢেল সুখ তোর আঙিনায়
    মনের আনন্দে খেলা করবে। তুই সত্যি-ই সুখী
    মেয়ে হবি।
    : আর তুমি ? তুমি যে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলে। চপলার হাহাকারের সীমা নেই।
    : চপলা শোন্ , অই নীল শাপলাগুলো দেখছস্-
    ওদের মতো আমি, আমার মনের গভীর জলে
    একদমে ডুব দিব। তারপর ফাল্গুনী জ্যোৎস্নার
    প্রথম রাতে ঐ নীল শাপলাটির রূপ নিয়ে আমার দুঃখটা ভেসে উঠবে। আর তুই, তুই
    যখন শাপলাগুলি দেখবি, তোর মনে হবে-
    “আমি”ও তখন ছিলাম !

    7
    8 Comments
    • ভালবাসা এমন সত্য সুন্দর হওয়া উচিত। যাহির আর চপলার সাথে বিলের জলে চাঁদ হয়ে যেন দেখছিলাম এক অপার্থিব দৃশ্য। মনমুগ্ধকর রচনা।❤️

    • কথোপকথনধর্মী লেখার জন্য অভিনন্দন।

    • অশেষ ধন্যবাদ। আমার এই ছোট গল্প…আমি”ও তখন ছিলাম ” তোমার কাছে ভাল লাগার অভিনন্দন পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।
      আমি অনুপ্রাণিত। ভাল থাকুক তোমার অভিমানী মন। উজ্জীবিত হোক তোমার কলম।
      Md.Monyruzzaman Khan

    • MY DEAR DRAKO”,
      শুভ্র সুনীল এই সন্ধ্যা বেলায় তোমার জন্য
      স্নিগ্ধ সুভাষিত ফুলের আভাস।
      প্রেম সব সময় চিরন্তন। সে হোক যাহির এর
      মতো। অথবা ভালবাসায় সারাজীবন একসাথে
      দুজন একে অন্যের প্রেমে কাটিয়ে দেয়া। তুমি খুব সুন্দরভাবে উপলব্ধি করেছ। আর তাই চাঁদের রূপে দুজনকে সঙ্গ দিয়েছ।
      ভাল থাকুক তোমার হৃদয়। সুখী হোক তোমার
      কলম। অফুরান শুভকামনায়…
      Md.Monyruzzaman Khan

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন নিন! আপনার এই লেখাটি আজ 19 May 2021 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • অশেষ ধন্যবাদ। তুলট” এর প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। “তুলট হৃদ গহনের গল্পে
      ….আমি”ও তখন ছিলাম” লেখাটি জনপ্রিয় অবদান ” যুক্ত করাতে আমার খুবই ভাল লেগেছে। আর এতে অধিক আগ্রহ নিয়ে
      তূলট”এর সাথে নিরন্তর পথ চলার প্রাণবন্ত
      উচ্চারণ করছি। অফুরান শুভকামনা।
      জয়তু তুলট” !
      তুলট”এর জন্য ভালোবাসা অবিরাম।
      ধন্যবাদে….
      Mf.Monyrzaman Khan
      19.05.2021

    • এগিয়ে যান কবিয়াল

    • শুভেচ্ছা রইলো

Md.Monyruzzaman Khan

  • লিখতে ভীষণ ভাল লাগে।কিন্তু কিছুই জানি না।প্রিয় বই লোটা কম্বল! কাশ ও শিমুল ফুল প্রিয়। আরো প্রিয় রঙের হলুদ শর্ষে ফুল। প্রিয় লেখক স‍্যার হুমায়ুন আহমেদ। চিঠি লেখা আমার প্রিয় মাধ‍্যম। ভালবাসাবাসিও আমাকে দ্বীপ্ত করে। প্রেম অন্য রকমের আকর্ষণ করে, ব‍্যাপারটি অজানা। জ‍্যোৎস্না সবসময়ই আলোকিত রাখে আমাকে।

" বোকা জামান এবং অধরা জলপরীর কাব‍্যনামা" শিরোনামে একক কাব‍্যগ্রন্থ বের করার স্বপ্ন দেখছি। আমার লেখা ও সুরে দুটি গান  সঙ্গীতা মিউজিক রিলিজ করেছে। গান লিখতে বেশি সাচ্ছন্দ‍্য বোধ করি। যদিও লিরিক্স লেখা অনেক জটিল কাজ মনে হয়।

তুলট" পরিবারের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং অফুরান ভালোবাসা। জয়তু তুলট পরিবার"!

Skip to toolbar