Profile Photo

মো. মিকাইল অাহমেদOffline

  • Mekail2
  • অহংকারী
    শরতের আকাশ। পরিচ্ছন্ন, নির্মল ঝকঝকে আকাশ। আকাশের নীল সীমানায় সাদা মেঘমালা কখনও দল বেঁধে কখনো বা একা একা একা উড়ে বেড়ায়। আকাশে একবিন্দু মেঘ নেই। সাদা কাশফুল ফুটে আছে। কঠিন হৃদয়ের মানুষগুলোর হৃদয় যদি এরকম নরম হত কাশফুলের মতো। মেঘ মুক্ত আকাশ যেমন নির্মল পরিচ্ছন্ন হয় ঠিক তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যদি হতো প্রতিটি মানুষের মন। যাদের সাদা মনে কাদা নেই সেই মানুষগুলোই বা দেখতে কেমন। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার তবে অসম্ভব নয়। ভালো-মন্দ মিলেই জগৎ। চাঁদের কলঙ্ক আছে কি নেই সেই প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলেও একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা দুনিয়াবিমুখ, যাদের অন্তর কলুষমুক্ত, হিংসামুক্ত। তারা সদাসর্বদা তাদের জিকিরে মত্ত। আচ্ছা তাদের অন্তর কি অংকার মুক্ত?
    চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন আকবর আলী ব্যাপারী। তিনি গ্রামের সরদার। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম। লেখাপড়া করেছেন। শিক্ষিত মানুষ। আগের যুগেই মেট্রি পাশ। এত স্কুল কলেজ ছিল না তখনকার যুগে। পড়াশোনা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। পৈতৃকভাবে অনেক জমি-জমা পেয়েছেন। আল্লাহর প্রতি তার অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। সবকিছুতে আল্লাহর প্রতি ভরসা তার। হঠাৎ করে কি এক দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাকে। সারারাত ঘুম হয়নি। সকাল দশটা বেজে গেছে। কোন কিছুতেই মনে শান্তি পাচ্ছেন না। বয়স সত্তুর পেরিয়ে এসে নানা দুশ্চিন্তা ভর করেছে। অথচ তার জীবন ছিল জমিদারের মত।
    কোনদিন অর্থকষ্টে পড়তে হয়নি। তবুও কেন জানি আজ এতটা অস্থির লাগছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলল তাকে। কিছুতেই কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি ব্যবসায়ী মানুষ। জীবনের অধিকাংশ সময় তার কেটেছে ব্যবসার কাজে। কখনো ছুটে চলেছেন শহর নগর বন্দরে। সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের কর্মজীবনে কত রঙের, কত ঢংয়ের, কত শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে উঠাবসা হয়েছে তার কোন হিসাব নেই। ব্যবসায়ে কখনো দেখেছেন লাভের মুখ, কখনো খুইয়েছেন পুঁজি টুকুও। তার অধিনস্ত কর্মচারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। চলতে ফিরতে কতশত মানুষের সাথে মেলামেশা হয়েছে তার কি হিসাব আছে কোন। কখনো কখনো কর্মচারীদের সাথে হয়েছে একটু-আধটু মনোমালিন্যও। আকবর আলী নিজে জানেন তিনি একটু কঠিন মেজাজের মানুষ। তিনি মনে করেন একটু কঠোরতা না দেখালে এতবড় ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখাই কঠিন। কখনো কর্মচারীর উপর চড়াও হয়েছেন। কখনো বা হাত তুলেছেন। কখনো বা করেছেন তুইতোকারিও। অতীতের কথা স্মরণ করতে মন নরম হয়ে এলো তার। আচরণে তিনি কখনোই নরম মেজাজী ছিলেন না। বয়স বেড়েছে এখন। ব্যবসা-বাণিজ্য দেখার মত শক্তি আর কুলায় না। তাই এসব ছেলে মেয়েদের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন একটু আরাম আয়েশ করে বাকি দিনগুলো পার করাই তার উদ্দেশ্য।
    শুক্রবার জুম্মার দিন। গরিবের হজ্জ্বের দিন। আকবর আলী মসজিদের জুমার দিন মসজিদে প্রবেশ করেন একটু আগে ভাগেই। একটা বিশেষ সওয়ার আছে মসজিদে আগে ভাগে প্রবেশের। একটা উট কুরবানী করার সমতুল্য। আকবর আলী জানতেন সেটা। মসজিদে হুজুর বয়ান করছেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। আলোচনার একপর্যায়ে হুজুর বলে উঠলেন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা। নবীজি বলেছেন কারও অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণও যদি অহংকার থাকে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আকবর আলী কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে হারিয়ে ফেললেন। অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন। হুজুর কি বলছেন কিছুই আকবর আলী শুনছেন না। মনোযোগও দিতে পারছেন না একদম। বারবার ঘুরেফিরে একই কথা কানে বাজছে। মনের অজান্তে আকবর আলী নিজেকে প্রশ্ন করে বসলেন আমি কি অহংকারী? আমার অন্তর কি অহংকার মুক্ত? শুধু ভাবেন আর ভাবেন কিন্তু ভেবে ভেবে কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। নামাজ শেষ হলো।

    দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর একটু ঘুমানোর অভ্যাস তার। কিন্তু আজকে কি হল কিছুতেই ঘুম আসছে না চোখে। দু চোখ বন্ধ করেও কাজ হচ্ছে না। আছরের নামাজ পড়লেন তিনি যথারীতি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। কৌতুহল ভর করেছে। দুপুর থেকে মনটা বিষন্নতায় ছেয়ে গেছে। বর্ষার আকাশের মেঘের মত অন্ধকারে ছেয়ে যায় তার। গভীর ভাবনায় পড়ে গেলেন আকবর আলী। কঠিন স্বভাবের কারণে কতজনের সাথে রূঢ় আচরণ করেছেন তিনি ঠিক মনে করতে পারেন না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। একবার কারবার হতে চুরি সন্দেহে এক কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে ছিলেন তিনি। কারণ তিনি ভাবতেন চোরকে ক্ষমা করার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তৎক্ষণাৎ সেই কর্মীকে ছাঁটাই করে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য সেই কর্মী নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিল। যা হবার তা হয়ে গেছে। আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই কর্মীকে। সে চলে গিয়েছিল। তার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়নি। সে কি ক্ষমা করেছে আকবর আলীকে। কে জানে। মন খারাপ হয়ে আছে।

    অস্থিরতায় পায়চারি করছেন সারারাত ঘুম হয়নি। একটা প্রশ্ন মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি কি অহংকারী? আমার অন্তর কি অহংকার মুক্ত? আমার অন্তরকে যদি অহংকার মুক্ত না করতে পারলাম তাহলে সত্তুর বছরের জিন্দেগি কি কাজে গেল? জীবনের পড়ন্ত বেলা। মৃত্যুর ডাক কখন আসে কেউ বলতে পারে না। তিনি সফল ব্যবসায়ী। নামকরা ব্যবসায়ী। আশপাশের এলাকায় তাকে এক নামে চিনে সবাই। কিন্তু প্রশ্ন হল সফল মানুষ কি তিনি? আকবর ব্যাপারী ভাবেন।

    5
    5 Comments

Friends

Profile Photo
Md. Deloar Hossen
@md-deloar-hossen
Profile Photo
সৃষ্টি
@premdevota
Profile Photo
Pritam Biswas
@pritam-biswas
Profile Photo
Sirazam-Munira
@sirazam-munira
Profile Photo
Redwan Khan
@redwan-khan
Profile Photo
Kanej-Roksana
@kanej-roksana
Profile Photo
AdabenTatali
@adabentatali
Skip to toolbar