Profile Photo

rubaOffline

  • Ruba91
  • Profile picture of ruba

    ruba

    3 years, 4 months ago

    #গল্প
    (চেষ্টার ভুল-ত্রুটিগুলো মাফ করবেন)!

    “অচেনা”
    রুবা
    ০৭/০১/২৩

    চৈত্রের দাবদাহে কিংবা কনকনে শীতে বাচ্চাদের নিয়ে কোনমতে একটি ভাঙ্গাচোড়া পুরাতন বাড়িতে বসবাস করে শিউলি আক্তার।আর কিছুদিন পরে হয়তো বাড়িটিকে আর বাড়ি বলে মনে হবেনা।
    স্বামী মারা যাবার পর দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ির এই ভিটেখানিই সম্বল তার।ছেলে ছোট্ট একটা মুদির দোকান করে আর মেয়েটা কোনমতে সপ্তম শ্রেণী অব্দি পড়ে এখন বাড়িতেই আছে।
    দিন আনে দিন খায় পরিবার মনে রাখতেই বোধহয় এই গ্রামে শিউলির পরিবারটি দাঁড়িয়ে আছে।মেয়ের বিয়ে হচ্ছেনা ছেলেটি পরিশ্রমে প্রতিদিন যেনো আরও বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে।
    শিউলি এসব দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে!
    একদিন এলাকার সম্মানিত কয়েকজন আসলেন তার মেয়েটিকে একটি ভালো পাত্রের হাতে তুলে দিতে চান তারা।শিউলির ভালো-খারাপ বিবেচনার উপায়ান্তর না থাকায় সে রাজি হলো।
    কয়েকদিন পরেই অনারম্বর আয়োজনে পাশের গ্রামের বিপত্নীক কাওছারের সাথে শিউলির মেয়ে পারুলের বিয়ে হয়ে গেলো।
    ছেলে মহসিন খুশি হলো না কষ্ট পেলো তা তার মুখ দেখে বুঝতে পারলোনা শিউলি।বোনকে বাপের বাড়ি আনতে বলবে ছেলের সে ক্ষমতা কোথায়।
    অথচ এই ছেলেটি জন্মের পর তার বাবা বলেছিলো “ছেলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে”,মেয়ে জন্মের পর বলেছিলো “চাঁদের মতো মেয়েটারে রাজবাড়ি ছাড়া হাতছাড়া করবো না”।
    কিন্তু শিউলির প্রবাসী স্বামীর অবর্তমানে তার সন্তান আর তার জন্য স্বামীর বাড়ির দিনগুলো ছিলো বাঁচা-মরার এক যুদ্ধের মতো।
    তার উঠান আর ঘরগুলো শুধু নামেই তার ছিলো।স্বামীর সবকিছুই ছিলো তার ভাই-বোনদের দখলে।দিনগুলো কাটছিলো তবুও হেসে-খেলেই।কিন্তু দূর্যোগটা এলো শিউলির স্বামী একেবারে দেশে ফিরে আসার পর।

    সময়টা এখন থেকে ১৯ বছর আগে!
    শিউলির স্বামী হিরণ ফেরত আসার পর ধীরে ধীরে নিজের সবকিছু নিজে দখল করতে গিয়েই পরেছিলো বিপদে।
    তার আপন ভাই-ভাতিজা আর বোনেদের রোষানলে পরেছিলো সে।বাধ্য হয়ে মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত করতে হয়েছিলো তাকে।একে একে সঞ্চয়ের সবকিছুই হারিয়েছিলো সে।
    কিন্তু ভাই-বোনেদের তেমনকিছু হারাতে হয়নি।তারা হিরণের বিয়ের আগে পর্যন্ত হিরণের পাঠানো টাকায় ভালই জাঁকজমকে জীবন সাজিয়েছিলো।
    একসময় মামলার পরিণতি আসার আগেই ভিটেমাটি ছাড়া বাকিসব হারিয়ে স্ট্রোক করে উপারে চলে গেলো।

    যাওয়ার আগে কেবল বলে গেলো,
    “যারা আমার রক্ত হয়ে এমন বেঈমানি করতে পারলো তারা যেনো কখনো পার না পায়”।

    কিন্তু শিউলির সে সম্বল কোথায়! সন্তানদের বাঁচাতে সবকিছু ছেড়ে বাপের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছে সে।
    একমাত্র ভাই তাকে দয়াকরে বাড়িটিতে তাকে থাকতে দিয়েছে।তবে তার ভাইটি হিরণের ভাই-বোনদের মতো পিষাচ নয়।

    পুরনো কথা মনে করে আর লুকিয়ে কাঁদে শিউলি।আফসোস করে স্বামীর কথা না রাখতে পারার দুঃখে।

    ছেলে মহসিন রাতের খাবার খেতে খেতে বলে, “আম্মা আব্বাতো এতো তাড়াতাড়ি মরতো না ওদের দেওয়া কষ্টেই মরে গেছে।শিউলি কিছুই বলতে পারেনা তার স্বর বন্ধ হয়ে আসে।

    কিছুদিন পর পারুল আর কাওছার আসলো মা আর ভাইকে দেখতে ।ছেলেটি তার মেয়েকে ভালোই রেখেছে দেখে খুশি হলো সে।
    শুয়ে শুয়ে কাওছার আর পারুলের কথাবার্তা ‌অল্প অল্প শুনতে পেলো সে।
    কাওছার বলছিলো, “আমি ভাইজানের দোকানটা বড়ো করে দিবোনে।
    শিউলি ঃ কেন দিবেন আপনি ভাইয়া যদি নিতে না চায়?
    কাওছার ঃ ধার দিবো , শুধ করে দিবো ভাইজান পরে আমারে।
    শিউলিঃ আচ্ছা আম্মারে জিগাই আগে, এখন ঘুমান।

    শিউলি শুনে আর ভাবে চেনা লোকগুলো কেন এমন স্বার্থপর হয় ?
    আর অচেনা মানুষেরা কিভাবে এতো কাছের হয়!

    আসলে চেনা আর অচেনার পার্থক্যটাই বোধহয় শিউলি জানেনা!

    সমাপ্ত//

    3
    2 Comments
Skip to toolbar