-
#গল্প
সবুজ গাছের ছায়ায় ঢাকা গ্রামের রাস্তায় অনেক হেঁটেছি আমি।হালকা মিষ্টি বাতাস যখন চারপাশে।
কখনো রোদ এসে চড়াও হলেও আবার বৃক্ষরাজ এসে বাঁচিয়ে দেন।সে এক মিষ্টি অনুভূতি! আমার মনে হয় সবার ই হয় এমন অনুভূতি।একদিনের কথা আজ মনে পরছে খুব!
এমন মিষ্টি আবহাওয়া থাকলে যদি সেদিনটি হয় ছুটির দিন আমি একা থাকতে ভালোবাসতাম খুব।যদিও আমার বাবা-মা কোনমতেই দিতে চাইতেন না।কিন্তু পরিশেষে আমার অনুভূতি তারা বুঝতেন, যেতে দিতেন আমাকে।
যাক্ মুল গল্পে আসি।
সেদিন আমি বের হলাম হাঁটবো বলে।সাথে বিস্কুট, পানি আর চিপ্স।আমি আবার খিদে সহ্য করতে পারিনা সেটা এক মহা ঝামেলা, যেমন টেনশনে আর ঝগড়া-ঝাটিতে আমার খুব খিদে পায়।
আমি হাঁটছি দুই গ্রামের মধ্যমনি একটি কাঁচা রাস্তা ধরে, যা আবার আমাদের স্থানীয় বাজারে গিয়ে থেমেছে।হাঁটতে গিয়ে দেখলাম একজন লোক খুব কষ্ট করে জমি থেকে নতুন পেঁয়াজ উঠাচ্ছেন হাতে টেনে টেনে(রাতের বৃষ্টিতে জমিতে প্রচুর কাদা জমে গিয়েছিলো)।
তাঁর স্ত্রী জমির পাশ থেকে এক কিশোর বয়সী নাতিনের সহযোগীতায় সেগুলো বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলো।পাশেই তাঁদের বাড়ি।
আমার তাঁদের কাজ করা দেখতে কেমন জানি ভালো লাগছিলো।
আমি সেগুনগাছের পাতা বিছিয়ে বসে বসে ওদের কাজ দেখছিলাম আর কোনমতে আলাপ করার চেষ্টা করছিলাম।
তারাও আমার সাথে তাদের কৃষির পূর্ব ঐতিহ্যের কাহিনী বলতে লাগলেন।আমার খুব ভালো লাগছিলো।আমি ও অল্প করে তাদের ঝাঁপিতে পেঁয়াজ গুছিয়ে দিচ্ছিলাম আর আমাদের কি কি ফসল হয় তা বলে যাচ্ছিলাম।
আমার বাবার কথা শুনে তিনি চিনতে পারলেন। বলতে লাগলেন, “তোমার আব্বারে তো চিনি চাকরিজীবী মানুষ যেইটুক করেন এইটুকুই বেশি”।
শুনলাম উনার ছেলেরা দুইজন দেশের বাইরে আর একজন সেনাবাহিনীতে চাকরী করেন।উনার ছেলে রাতেই এসেছে কিন্তু ক্ষেতে-খামারে কাজ করতে ভালেবাসেনা, আর ছেলের বউ ও তেমন কাজ করেনা।
কিন্তু নাতি আর নাতনীরা সবসময় কাজে সহযোগীতা করে।
উনারা আমাকে খুব জোড় করে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। দেখলাম উনাদের ঘরটি খুব সাধারণ পুরাতন টিন দিয়ে বাঁধা আর ছেলেরা যেগুলোতে থাকে সে ঘরগুলো আধাপাকা আর সুন্দর রং করা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনারা ঐগুলোতে থাকেন না কেন?”
দুজনেই বললেন, ঐ ঘরগুলোতে খুব গরম লাগে, ঘুম আসেনা”।
তবে দুজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ির গভীরতা সেই অল্প বয়সেও আমার মনে খুব দাগ কেটেছিলো।আমি কোনমতে উনার দুই নাতনীর(আমার সমবয়সী) হাতের সুমিষ্ট শরবত আর ঝালঝাল মুড়ি খেয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হলাম।
প্রকৃতি সেদিন সবুজ ছায়ার মধ্য দিয়ে নতুন এক অভিজ্ঞতা জাগিয়েছিলো আমার কিশোরী মনে।
আর তা হলো,
“আমি যতদূরেই থাকিনা কেন আমার বাবা-মাকে অবহেলা করবোনা, নিজেকেও অবহেলা করবো না।যদিও জানিনা কতোটা পারবো!
সমাপ্ত//
2 Comments
Friends
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
মো. আবু মোহাদ্দেস
@mohaddesh1967
Md Rizwan Shuvo
@md-rizwan-ullah-shuvo
Abrar Jahin Ratul
@abrar123
অর্পিতা ঐশ্বর্য
@orpita-oyshorjo
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
শোয়েব ইবনে শাহীন
@abir-shoaib
পি.কে. সরকার
@pksarker
Santo Chowdhury
@santo-chowdhury

সুন্দর ছোট গল্প!