-
প্রতারক সে তীব্র অহংকারী নারীর মুখে তখনো কোনো হাসির চিন্হ ছিলোনা,কবির সংসার ছেড়ে ভালোবাসার দেবীর জীবন ছেড়ে কবির বুকে পা রেখে রাজকুমার চেয়ে কাঠকয়লার গলায় মালা দেবার শেষ সময় পর্যন্ত।
প্রতারিত সে তীব্র অহংকারী মুখের মুচ্ছবিতে তখনো অনাবিল মায়া ছিলো
অতোটা মায়াবী মুখ তীব্র অহংকারী নারীর কিভাবে হতে পারে আমি জানিনা।
যে শেষ সময় পর্যন্ত একটা কথাও বলে যায়নি,যে তার নিরব প্রতিশোধে দিনে
দিনে আমাকে অশালীন বাক্যবিলাপ করাতে বাধ্য করেছে,বাধ্য করেছে
নষ্টমানুষ সাজাতে।সে মানুষটার প্রতি নির্মম প্রতিশোধ নিতে কেন যেনো
বারবার নিজের বিবেকের কাছে তুমুল বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছি।
জানি সে মানবী আমার রক্তঘামে অন্তরে আত্মায় স্বত্বায় মিশে গেছে
যেকোনো শর্তে যেকোনো বদনামে জর্জরিত করে তারে ফিরে পেতে মরিয়া
জীবন।তবু মায়া হয়
আহা অতোটা মায়াবী সে নারী প্রতারণা করলেও অন্তত দেখতে সুন্দর
সুদর্শন কোনো সাদাচকচকে দেহের পুরুষ পেতে পারতো
যে স্বপ্ন সে সারাজীবন ধরে দেখে এসেছে।
যদিও নিয়তির বিচার নির্মম কঠিন,ঈশ্বরের বিচারও এমনই
তাই সে কাঠগোলাপের সৌরভ ছেড়ে কাঠকয়লার গলায় মালা ঝুলিয়ে
বাকিটা জীবন বেঁচে থাকার পথ বেছে নিয়েছে।
তার চোখ বলছে সে জিতে গিয়েও হেরে বসে আছে,কারণ তারে আমি চিনি।
তার প্রত্যাশার সাথে তার নতুন মানুষের বিন্দুমাত্র সংযোগ নাই।
আহা জীবন আহা কবিতার নায়িকা লাবণ্য
দিনে দিনে আমাকে নষ্ট মানুষ সাজিয়ে অশালীন বাক্যবিলাপে বাধ্য করে
আমার জীবন থেকে সরে যাবার হাজার কৌশল করে
শেষ পর্যন্ত কী পেলে তুমি?
জানিনা এরপর কী ঘটবে,তোমাকে দেয়া কথা রাখতে পারবো কিনা
তোমার অহংকার রাস্তায় ধুলায় মিশিয়ে দিতে পারবো কিনা
নাকি তোমার অহংকারী মুখের মায়ায় থমকে যেতে হবে আমাকে,
ঠিক যেভাবে তোমার মায়াবী মুখে চেয়ে
জীবনের সর্বোচ্চ গান কবিতার সৃষ্টি করেছি আমি দশ টাকার কলমে।
প্রতিবার কালে কালে পুরুষের কেন মহানুভব অবতার হতে হবে
বলতে পারো?কালে কালে নারী কেন কবির বুকে পা রেখে
রাজকুমার চেয়ে কাঠকয়লা নিয়ে সারাজীবন দুঃখে সংসার করবে
বলতে পারো?
তবুওতো সান্ত্বণা মিলতো
যদি তোমার প্রত্যাশা অনুযায়ী দেখতে সুন্দর সুদর্শন সাদাচকচকে দেহের কোনো পুরুষকে পেতে জীবনসঙ্গী করে।
না তা হলোনা,
তুমি আর তোমাদের তীব্র অহংকারের পক্ষে ঈশ্বর ছিলেননা।
যদিও অদৃশ্য ঈশ্বর আমার পক্ষেও ছিলেননা
যদি থাকতেন তাহলে যে তোমাকে ঈশ্বরের পাশে আসন দিয়েছিলাম
সেই তোমাকে আমার জীবন থেকে কেড়ে নিতেননা।
দেবীর জীবন তোমার ভাগ্যে ছিলোনা
কবিতার লাবণ্য হবার মতো অতোটা কোমল হৃদয় অতোটা শক্তিধর মস্তিস্ক তোমার ছিলোনা।
তুমি ছিলে বিবেকহীন আবেগহীন অহংকারী নারী
নয়তো কবির জীবন কেউ ছেড়ে যায়না।
তুমি জানতে কবিদের চেয়ে বেশী ভালোবাসার ক্ষমতা তুচ্ছ পুরুষের কোনোকালেই হয়নি
তবু তুমি ছেড়ে গেছো কবির বুকে পা রেখে।
তোমার চোখে চেয়ে কবিতা লেখা যায় জীবনের সেরা গান লেখা
পারবে লিখতে সে?
পারবে আমার মতো নিজের শরীরের মাংস কেটে তোমার হাতে
দিতে?
পারবে তোমার প্রেমে নতজানু হয়ে আদিম কৃতদাসের মতো
তোমাকে প্রাণপণ ভালোবাসতে?
শেষদিন সকালেও তোমার সাথে বিশ্রী রকম অশালীন বাক্যবিলাপ করেছিলাম
তবু তুমি কথা বলোনি
একটা শব্দ লিখেও প্রতিবাদ করোনি
হ্যাঁ এ কারণেই আমি নষ্ট হয়েছি দিনে দিনে।
তোমার কারণেই তো মাসের পর মাস প্রায় অনাহারে বাঁচলাম
তুমি সেকথা একবারও ভাবোনি।
তুমি একবারও বোঝোনি ক্ষুধার্ত মানুষের রাগ থাকে মাথায়
তুমি বুঝতে চেষ্টা করোনি
তুমি শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখেছো
একবারও ভাবোনি পৃথিবীতে সাতশত কোটি মানুষের ভীঁরে
দিন রাত আমি শুধু তোমাকে নিয়ে ভাবি
বছরের পর বছর তোমার ছবির সাথে দুর শহরে একা সংসার করি।
কতোবার বলেছি সারাজীবন অবহেলা কোরো দুঃখ দিও
তবু তুমি থেকে যাও কবিতার লাবণ্য।
তুমি থাকোনি,দেবীর জীবনের যোগ্য তুমি ছিলেনা,কবি এবং কবিতার
সংসারে তুমি ফুটেছিলে বুনোফুল হয়ে।
অথচ সেই তোমাকেই আমি ভালোবাসার দেবী আফ্রোদিতি বলেছি
কবিতার লাবণ্য বলেছি জীবনের সাদাফুল বলেছি।
জানি বোকারাই গান লিখে গান গায় বোকারাই খায় ধোকা
বোকাদের মাথাতেই কিলবিল করে কোটিকোটি গানপোকা।
আমি যখন তোমার শহরে পৌঁছেছি
ততক্ষণে তুমি কাঠকয়লার গলায় মালা দিয়ে ফেলেছো
তাই কাঁদতে কাঁদতে নিজের শহরে ফিরে এসেছি
আর তুমি চাকরানীর জীবন নিয়ে চলে গেছো দুরে কোথাও।
তোমার জন্য ঈশ্বর দেবীর জীবন নির্ধারণ করেননি
তুমি নিজেই চাওনি।তুমি কিছু বলে যাওনি,শেষ সময়ে তোমার সাথে
বিভৎস্য ভাষায় অপবাদ দেবার জন্য এখনো অনুতাপে ভুগছি
ক্ষমা কোরো কবিতার নায়িকা লাবণ্য
তোমার অসংখ্য গোপন চালাকি জিতে গেলো,তোমার প্রথম কথা
জিতে গেলো,তোমার প্রথম কথা ধর্মগ্রন্থের মতো অপরিবর্তিত থাকলো।
জানি বাকি জীবনে কখনো তোমার সুখি হওয়া হবেনা
কবির জীবনে আসা কোনো নারী কবিতার সংসার ছেড়ে
তুচ্ছ কোনো পুরুষের সাথে কোনোকালেও সুখি হয়নি
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো সাক্ষ্য নেই।
এখন আর ওসব শুধু স্মৃতি
তোমার জন্য হাজার টাকার উড়াতে উড়াতে আজ আমি প্রায় দেউলিয়া।
তুমি আমাকে শারীরিক মানসিক এবং আর্থিকভাবে দেউলিয়া করে
চলে গেলে।আমি কিছুই পেলামনা তোমাকে ভালোবেসে।
আমাদের একসাথে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহুর্তের স্মৃতি ছাড়া
আর কিছু নেই আমার কাছে।বিলাসী জীবন এখন মৃতপুরী।
সব থাকতেও অনাহারে বেঁচে থাকা।তোমার স্মৃতি মাথা থেকে সরানো যায়না।
যে তোমাকে দেবীর মতন সাজিয়ে রাখতাম
সেই তুমি আজ আর আমার নেই।
তোমার ছবি এখনো সাজানো,হৃদয়ে তুমি
তবু পারছিনা বলতে ফিরে এসো।বললেও তুমি ফিরবেনা জানি।
পোষাপাখি ছেড়ে দিয়েছিলাম ফিরে আসেনি।
তোমার শূন্যতা ফুরাবেনা কখনো,তোমার জন্য কবিতার ময়দানে হাহাকার
ধ্বংস আর রক্তের খেলা চলবে জানি
তারপর তারপর কি হবে জানিনা।
হয়তো আর দেখা হবেনা কথা হবেনা কোনদিন তোমার সাথে।
তুচ্ছ কোনো পুরুষের জীবনে তুমি রানীর মতো খবরদারী চালাতে
পারবেনা জানি
তাই মনের ভাব প্রকাশ করার মতো স্বাধীনতাও তুমি পাবেনা কোনদিন।
জেনেশুনে পরাধীন জীবন বেছে নিয়েছো
সে তোমার সারাজীবনের মূর্খতা।
তুমি মানুষ কি বলবে সেই ভয়ে পরিবারের কাছে নিজেকে জিম্মি করেছো
এটা তোমার সর্বোচ্চ ভুল।
কারণ দিনশেষে কেউ কারো না,সংসার কারো মা বাবা এসে করেনা
নিজেকেই করতে হয় সংসার
তাই নিজের সির্ধান্ত নেবার সক্ষমতা থাকতে হয় যা তোমার ছিলোনা।
এই দুঃখ এখন থেকে টের পাবে তুমি
প্রতি মুহুর্তে তোমার মনে হবে কি পেয়ে কারে হারালে
ইচ্ছে করে কারে নষ্ট মানুষ সাজিয়ে কি করলে তুমি?
জানি তোমার আর ভালোথাকা হবেনা,কাংখিত প্রত্যাশার সাথে
তোমার বর্তমান জীবনের কোনো মিল নেই।
তাই তোমার জন্য নির্ধারিত থাকছে একই সে নারকীয় জীবন
ঠিক যেমন অবহেলার নারকীয় জীবনে রেখে আমার বুকে পা রেখে তুমি চলে গেছো। 𝙆𝙞𝙨𝙝𝙤𝙧 𝙆𝙖𝙣𝙤𝙠
আমিতো তবু তোমার প্রেমে নতজানু ছিলাম।অন্যকেউ তো তা থাকবেনা
তাই তুমি গুরুত্বহীন হয়ে যাবে সংসারে।
কবিতার নায়িকা না,তুমি হবে তুচ্ছ কোনো নারী।যদিও চাইলেই
থেকে যেতে পারতে দেবীর জীবন নিয়ে কবির সংসারে।
আমার সমগ্র জীবনের সমস্ত গান কবিতা ব্যর্থ হলো
কবিতার মতো কাব্যকথায় যে তুমি ভোলোনি সেই তুমি কোনো
তুচ্ছ পুরুষের কথায় কিভাবে বাঁচবে আমি জানিনা।
ক্ষমা করুন ঈশ্বর,আর কিছু ভাবতে পারছিনা,মাথার ভেতর দুনিয়া ঘুরছে।
আমার মৃত্যু হোক কোনো সড়ক দূর্ঘটনায়
এটাই আমার সর্বশেষ ইচ্ছে,যেনো কবিতার নায়িকার বিভৎস্য
করুণ জীবন আর দুইচোখে দেখতে না হয়
যেনো অনাহারে সাত নরকের যন্ত্রণা না হয় বুকে
যেনো সাত চিতার আগুন নিভে যায় সিন্গ্ধ মৃত্যুর জলে।
ভালো থেকো লাবণ্য,ভুলে যেও অখ্যাত কবির কথা
ভুলে যেও ক্রুদ্ধ হয়ে করেছি তোমাকে যতো অশালীন বাক্যবিলাপ
দিয়েছি যতো কুৎসিত বদনাম।
যা কিছু করেছি সব তোমাকে ফেরাতে তুমি বোঝোনি।
এখনো তুমি চাইলে নিজেকে কেটে টুকরো টুকরো করে
তোমাকে দিতে পারি
তুমি বুঝবেনা এসব।
তুমি শুধু রাগটাই দেখলে ভালোবাসা না।
বিদায় চিরতরে,লাবণ্য।
_কিশোর কনক
14 march Dhaka 2024
6:49 pm1 Comment

Kishor Kanok
Lyricists,Tuner,Poet,Recitation Artist,Writter&Singer.
শাসকের পক্ষে তাঁবেদারী করিনা
মানুষের কথা বলি কবিতায়।
সমগ্র জীবনের প্রতিচ্ছবি
কনকের কথা সুরের মূর্ছনায়।
_কিশোর কনক
Friends
Taposh Kumer dey
@taposhkumerdey
শাহরিয়ার।
@shahiar
Md.hazrat belal
@md-hazratbelal
রাইসা আনজুম (পর্শি)
@raisaanjumporshi
মিহির চৌধুরী ইমন
@mihirchowdhuryemon
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
জে এস এম অনিক
@00anik
মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস
@mdabusayeedbiswas
AdabenTatali
@adabentatali


সম্পর্কের সমাপ্তি হয় ,কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়!