Profile Photo

মো. মিকাইল অাহমেদOffline

  • Mekail2
  • আপনহারা গৃহের দিনগুলি

    কেমন হবে কবরে আমার প্রথম রাতটি? দুনিয়ায় একটু কষ্ট অনুভূত হলে প্রথমেই ছুটে আসে মা,বাবা। তারপর মহব্বতের টানে এগিয়ে আসে ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী কিংবা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী। স্বার্থের টানেই হোক বা মায়ার টানে কেউ না কেউ আসেই। যে ঘরে নেই কোনো আলো, বাতাসের ব্যবস্থা, দরজা, জানালা, ইন্টারনেট সংযোগও নেই, মোবাইল, কম্পিউটার অকার্যকর, প্রিয়জনের কাছে একখানা চিঠি লিখে বার্তা পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। একই গোরস্তানে হাজার হাজার মানুষের কবর থাকলেও সকলেই মূলত একা। কেউ কারো কোনো সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। কবর সাধারণ কোনো জায়গা নয়। সাপ, বিচ্ছু আর পোকামাকড়ের ঘরবসতি সেখানে। দুনিয়ায় কত রঙিন স্বপ্ন দেখে মানুষ। নিজের পছন্দসই একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি, আলিশান ফ্ল্যাট কিংবা বিশাল কোনো রাজপ্রাসাদ। প্রতিরুমে আলাদা আলাদা রঙের বাহার, ঝাড়বাতি, দামি টাইলস, লাইট, ফ্যান, এসি, তৈজসপত্র, ব্যয়বহুল সব আসবাবপত্র, বেলকনি, প্রশস্ত উঠান, ফুলের বাগান সহ আরো কতো কি। আরামে আরামে দুনিয়ার জিন্দেগী কাটিয়ে দেওয়া তারপর উত্তরাধিকারীদের ভোগ বিলাসের চিন্তা মাথায় রেখে শতবর্ষের স্থায়ীত্ব উপযোগী টেকসই নির্মাণশৈলীর বাস্তবায়ন। কবরে এসবের কিছুই নেই। একটা বালিশ পর্যন্ত দেয়া হয় না; সঙ্গী শুধুই মাটির বিছানা। একটা বার কি অবকাশ মিলেনা যাদের জন্য এত কিছুর মহা আয়োজন, নিজের মাথার ঘাম পায়ের ফেলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আলিশান বাড়ি তৈরি করে দিয়ে গেলেন, আপনি কবরে চলে যাওয়ার পর তারা একটিবার আপনার কবরটি জিয়ারত করবে কিনা, কবরে যখন কষ্টের দিনগুলি কাটাতে থাকবেন তখন তারা আলিশান বাড়িতে শুয়ে শুয়ে আপনার কষ্ট যাতনা অনুভব করবে কিনা, আপনার কবরের আযাব মাফ চেয়ে মহান রবের দরবারে কান্নাকাটি করবে কিনা? নিজের কবরের কথা চিন্তা করার ফুসরত পেলেন না, নিজের গোনাহের ব্যাপারে উদাসীনতায় দিন কাটাইলেন, জীবনভর টাকার পিছনে দৌড়াইলেন; এখন আপনার কি হবে? কবরে একটা দিন অতিবাহিত করা কি এতই সোজা? কষ্টের পর কষ্ট, আযাবের পর আযাব। যতই চিৎকার করেন না কেনো কেউই শুনবে না।

    একটিবার ভাবেন তো মিনিট দশেক সময় নিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে। কোলাহল মুক্ত কোনো নির্জন পরিবেশে বসে। ভাবেন আর ভাবেন। ধরুন, আপনি এই মুহুর্তে শুয়ে আছেন অন্ধকার কবরে। পুরো কবরস্থান জুড়ে শুনশান নীরবতা। কবরস্থানের গাছগুলোতে অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির কিন্তু আপনি শুনতে পাচ্ছেন না। কবরস্থানের পুরোটায় অসংখ্য গাছগাছালিতে ঠাসা, ফুল, ফলে ভরপুর কিন্তু আপনি খেতে পারছেন না কিছুই। প্রতিটি কবরের উপরে গাছের মনোরম ছায়া কিন্তু কবরের ভিতরে আপনি তীব্র গরমে আর পানির পিপাসায় ছটফট করছেন। কবরস্থানের একেবারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে স্বচ্ছ পানির সুন্দর একটি নদী কিন্ত আপনি পানি পান করতে পারছেন না। কাউকে বোঝাতেও পারছেন না মনের কাকুতিমিনতি। কেউ আপনার ডাক শুনবেও না। কবর দেশে এসেছেন তিন দশক হয়ে গেলো। প্রথম প্রথম যারা আপনার কথা স্মরণ হলে কবর জিয়ারতে আসতো তারাও এখন আর সেভাবে আসেনা। খুব কাছের, অন্তরঙ্গ বন্ধুগুলি যাদের দুনিয়ায় রেখে গিয়েছেন তাদেরও কেউ কেউ হয়তো আপনার পাশের কবরেই শায়িত অথচ আপনি জানেন না। আর কেউ ঘর-সংসার, ব্যাবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ হয়তো আপনাকে বেমালুম ভুলেও গিয়েছে। যাদের জন্য এতকিছু করেছেন সেই আপন মানুষগুলোও আপনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করে ফূর্তি করে বেড়াচ্ছে, আপনার কথা ভাবার তাদের সময় নেই। হায় আফসোস! কতো রঙিন লাগতো দুনিয়ার জিন্দেগী, কত আপন মনে হতো চারপাশের মানুষগুলোকে।

    5
    5 Comments

Friends

Profile Photo
Md. Deloar Hossen
@md-deloar-hossen
Profile Photo
সৃষ্টি
@premdevota
Profile Photo
Pritam Biswas
@pritam-biswas
Profile Photo
Sirazam-Munira
@sirazam-munira
Profile Photo
Redwan Khan
@redwan-khan
Profile Photo
Kanej-Roksana
@kanej-roksana
Profile Photo
AdabenTatali
@adabentatali
Skip to toolbar