Profile Photo

Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]Offline

  • Md-Zaker-Hayat-Khan
  • বিক্ষিপ্ত চিন্তাধারা

    বাংলাদেশের গ্রাম নিয়ে আমাদের কিছু অহংকার আছে। ছায়া সুনিবিড়, শান্তির নীড়। গ্রামের বাড়িকে অনেকে দেশের বাড়ি বলে। এর একটা কারণ আছে। আমাদের মধ্যে যাদের জন্ম গ্রামে তারা জন্মস্থানকেই দেশ মনে করে। আমাদের মধ্যে যাদের জন্ম গ্রামে তারা অনেক অনেক ক্ষেত্রেই মনে করেন তাদের আসল জন্ম স্থান বা আসল দেশ সেই ছোট ছোট মাটির ঘর বা টিনের দোচালা বাড়িটাই। স্থাপত্য শুধু একটা থাকার জায়গা নয় বরং তার ব্যপকতা অনেক বেশি।
    আমাদের দেশে স্থাপত্য চর্চা শহর কেন্দ্রিক। আমাদের নিজস্ব পরিচয় শহর কেন্দ্রিক স্থাপত্যেও সব সময় ফুটে ওঠে না। আমরা বর্তমানে যে সিস্টেমে এপার্টমেন্ট বিল্ডিং তৈরি করি তা লে করবুসিয়ে (Le Corbusier) এর ফাইভ পয়েন্ট রুলস এর দুর্বল সংস্করণ। তার মানে এই নয় যে শহর কেন্দ্রিক ভালো স্থাপত্য হচ্ছে না।
    আমার আলোচনার বিষয় তা না। আমি গত পাঁচ ছয় বছরে নিজের গ্রামে যেয়ে দেখছি সেখানে ধানক্ষেতের জমিতে ঢাকা শহরের আদলে এপার্টমেন্ট বিল্ডিং তৈরি করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কারণ বাস্তবতা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বসত জমির অভাব। আর মানুষ অনুকরণ প্রিয় এবং তাকে দোষ দেয়ার কিছু নেই। এটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু শঙ্কার বিষয় হচ্ছে গ্রামে এই যে এপার্টমেন্ট বিল্ডিং তৈরির একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে তা আমাদের ছায়া সুনিবিড়, শান্তির নীড় ধারণার জন্য তা ক্ষতিকর। এ ধরণের স্থাপনা দেখলে প্রথমেই মনে হয় শহরের একটি বিল্ডিং ধান ক্ষেতে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।
    আমাদের এখানে প্রতিভাবান অনেক স্থপতি এবং স্থাপত্য বিদ্যার শিক্ষার্থী আছে। অথচ আমাদের গ্রাম কেন্দ্রিক চিন্তার পরিসর অনেক কম। বিশ্ব বিদ্যালয়গুলোতে গ্রাম কেন্দ্রিক কিছু প্রজেক্ট করানো হয়। কিন্তু সেখানেও এই ধরণের সমস্যা চিনহিত করা হয় না।
    আমার মনে হয় এটিই বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থাপত্য কেন্দ্রিক সমসাময়িক চিন্তার বিষয়। এবং এই সমস্যার সমাধানেই হয়তো আমাদের স্থাপত্যের আত্ম পরিচয়ের উত্তর আছে। যেকোন সময়ের চেয়ে স্থাপত্য বিদ্যার শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন সব চেয়ে বেশি। যদি এ বিষয়ে এখনই চিন্তা না করা হয়, তাহলে হয়তো বিশ বছর পর ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ এক নির্বাসিত ইতিহাস হয়ে যাবে।

    5
    9 Comments
    • খুব ভালো চিন্তা

    • আপনার বিশ্লেষণে গ্রামের ‘ছায়া-সুনিবিড়, শান্তির নীড়’ ধারণার গুরুত্ব খুব প্রাসঙ্গিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শহরের আর্কিটেকচারের অনুকরণে গ্রামে এপার্টমেন্ট নির্মাণের প্রবণতা আমাদের ঐতিহ্য, পরিবেশ ও সামাজিক বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। লেখাটি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে—গ্রামীণ স্থাপত্য চর্চা শহরমুখী নয়, বরং স্থানীয় প্রেক্ষাপটে ঐতিহ্য ও জীবনের মূল্য ধরে রেখে পরিকল্পিত হতে হবে। আপনার উদ্বেগ সময়োপযোগী। এ বিষয়ে এখনই সচেতনতা ও নীতি-নির্ধারণ প্রয়োজন।

    • স্থপতিদের উচিত গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নতুন ডিজাইন করতে গিয়ে ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে আধুনিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা।

    • চমৎকার ভাবনা। ‘ছায়া-সুনিবিড়, শান্তির নীড়’ গুলো রক্ষা করতে হবে।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 30 June 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar