Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    • 11 months, 3 weeks ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ঃ ১০
    ——————————————————————————————————————

    দিন যতই যাচ্ছে, লোকমান সাহেবের অবস্থা ততই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এখন তার কাছে শুধু পুরনো কথা মনে পরে। সেই ছোটবেলার কথা। আচ্ছা আমার কি মরন চলে এসেছে। আমার কি সময় শেষ। আমার বয়স কত হলো? হ্যা বয়স তো অনেক হয়েছে।
    লোকমান সাহেব যখন এসব কথা ভাবছে, ঠিক তখন তার সহধর্মীনি শানু এসে তার রুমে ঢুকলো। লোকমান সাহেব খাটে শুয়ে ছিলেন। তিনি শানুকে দেখে কাছে ডাকলেন। শানু নিচু এবং শান্তভাবে স্বামীর পাশে এসে বসলেন। লোকমান সাহবে এবটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়লেন। তারপর শানুর দিকে তাকালেন। এবং শান্ত গলায় আস্তে আস্তে বলছেন……
     আচ্ছা শানু!! একটা প্রশ্ন করবো? উত্তর দেবে?
     কি প্রশ্ন?
     প্রশ্নটা যাই হোক উত্তরটা যেন সঠিক হয়।
    শানু একটু স্বামীর দিকে তাকাল, তারপর যেন কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু কেন যেন বলতে পারলো না। শুধু বলল…..
     জিজ্ঞেস করো।
    লোকমান সাহেব একটু চুপ করে রইলেন। মনে হচ্ছে যেন ভাবছেন। কিভাবে প্রশ্ন করতে হয়। তারপর বলতে শুরু করলেন…..
     আমরা সংসার জীবনে এতগুলো বছর পার করলাম। অথচ আমি কতটা অপদার্থ ছিলাম যে, কখনও বুঝতে পারি নাই। যার সাথে জীবনটা চলে যাচ্ছে তার কি পছন্দ বা অপছন্দ। সেই সম্পর্কে জানাই হলো না। আচ্ছা তুমি কি আমার উপর সংসার জীবনে খুব বিরক্ত??
     আজ এত গুলো বছর পর এসব বলছো কেন??
    একটা ছোট নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন..
     সত্যি বলতে কি, আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমি আর বেশিদিন বাচঁবো না।
    শানু একটু উচু গলায় বললো….
     কি সব বলছো তুমি। চুপ করো তো??
     না শানু আমাকে বলতে দাও। আমি মরে গেলে আমাকে গ্রামে কবর দিও। আর হ্যা আমার ছেলেটার প্রতি একটু খেয়াল রেখো। তুমি তো জানো আমি ওকে একটু বেশি ভালোবাসি।
    এসব বলতে বলতে লোকমান সাহেবের চোখের কোনে পানি চলে আসলো। কন্ঠটাও ভারি হয়ে গেল।। শানু আবার বললো।
     শোন তুমি এসব ভেবো না। আচ্ছা তোমাকে একটা কথা বলবো..??
    লোকমান সাহেব চোখ মুছতে মুছতে বলছেন…
     বলো কি বলতে চাইছো।
     জামাই বলছিল.. ওর কাছে নাকি খুব ভালো একটা কবিরাজের সন্ধান আছে।
    লোকমান সাহেব এবার একটু মৃদু হেসে দিলেন। তারপর বললেন….
     তুমি যে কি বলোনা। তোমার মেয়ের জামাই হচ্ছে একটা পাগল। তুমি ওর কথা শুনছো… (বলেই মৃদু হাসলেন আবার)
    শানু এবার একটু নরম সুরে বললেন…
     দেখো। অনেক তো ডাক্তার দেখানো হলো। Please একবার চলো। এবার একটু ভিন্ন কিছু চেষ্টা করে দেখি। Please চলো।
    লোকমান সাহেব অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন শানুর দিকে। এই বুড়ো বয়সে তিনি ফিল করতে পারছেন তার স্ত্রী অনেক চমৎকার। তার স্ত্রী তার প্রতি যত্নশীল যেটা তিনি আজ ফিল করতে পারছেন। কখনো শানুর কথা এভাবে মনোযোগ দিয়ে শোনাই হয়নাই। কেন যেন খুব আফসোস হচ্ছে তার। কেন তিনি এতদিন টাকার পেছনে ছুটে টাকা কামিয়েছেন। তিনি একটু নরম কন্ঠে বললেন…..
     আচ্ছা ঠিকাছে যাবো। কবে যাবে বলো..??
    শানু একটু উত্তেজিত হযে বললেন….
     আমি তাহলে জামাই এর সাথে কথা বলবো। তুমি থাকো। আমি জামাইকে এখনি একটা ফোন করে আসি।।
    লোকমান সাহেব একটু আহত কন্ঠে বললেন….
     শানু একটু বসো না প্লিজ…..
    .
    শানু বুঝতে পারলো তার স্বামী তাকে আরও কিছুক্ষন কাছে চাইছে। সে উঠলো না। স্বামীর পাশে বসে রইলো। কেন যেন পুরনো সেই দিনগুলো তার চোখের সামনে ভাসতে শুরু করলো। এই কি সেই মানুষ। যাকে প্রথম দেখেই তার ভালো লেগেছিল। যেই মানুষটা কখনো স্থির ছিলনা। কতবার যে তার ইচ্ছে করছিল তার সাথে মন খুলে বিকেলের বেলকনিতে বসে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কথা বলবে। কিন্তু সেই সময় তো এখন আর পাওয়া যাবে না। কিন্তু আজ তার স্বামী এই বয়সে এসে তাকে কিছুটা সময় দিতে চাইছে। তার সাথে কিছুটা সময় একান্তে কথা বলতে চাইছে। যদি এই সময়টাকে স্টপ করে দেওয়া যেত। এসব ভাবতে ভাবতে তার চোখের কোন কখন যেন ভিজে যাচ্ছিল সেটা তিনি খেয়াল করেননি। কিন্তু এই অশ্রু আনন্দ অশ্রু হয়ে আজ এসেছে।

    To be continue…..

    2
    2 Comments
    • জীবনের শেষ বেলায় একজন মানুষের অনুতাপ, মৃত্যুভয় এবং স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসার যে উপলব্ধি—তা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

      • আমাদের জীবনটাই এমন। শেষ বেলায় আসলে আমরা বেশিরভাগ মানুষ আফসোস করি এই ভেবে, কত কিছু করা বাকি ছিল। লোকমান সাহেব এরও ঠিক এমনটাই হচ্ছে।

Skip to toolbar