Profile Photo

MD HAFIZUR RAHMANOffline

  • mdhafizurrahman1
  • Profile picture of MD HAFIZUR RAHMAN

    MD HAFIZUR RAHMAN

    2 months ago

    -বহুরূপী (১ম পর্ব)
    -হাফিজুর রহমান

    অতীত স্মৃতির গোলকধাঁধায় আটকে আছে।বের হতে যতো বেশি চেষ্টা করে,ততো বেশি আটকে যায়।মাটির স্তুপে দেবে যাওয়া পলিথিনের মতো অবস্থা হয়েছে তার।অনেকেই এসেছিলো তার জীবনকে রাঙিয়ে দিতে।তবে সেই রঙটিও লাল।
    একসময়,সে ছিলো সোনালী ডানার চিলের মতো।উড়ে বেড়াতো মুক্ত বাতাসে যেখানে যখন খুশি।দূষিত নগরী ছেড়ে বিশুদ্ধ নগরী,আরো কতো কি।
    কালের পরিক্রমায়,আজ একটি ডানা ভেঙে গেছে। অন্যটিরও জীর্ণশীর্ণ অবস্থা।এখন আর ইচ্ছে হলেও উড়তে পারেনা।বিষাদময় জীবন,রন্ধ্রে রন্ধ্রে পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো অনুভূতি।এই যন্ত্রণা কেউ বুঝে না।কে বুঝবে?বুঝবার কেউ নেই।
    একাকীত্ব পুড়ে পুড়ে ছাই করে দিচ্ছে,আহত হচ্ছে সুখ।রাত যতো গভীর হয়,সূর্য নাকি ততো দ্রুত উদিত হয়।তবে তার কেবল অন্ধকার হয়,আলোর দেখা পায়না।নিঃসঙ্গতা তার পরম বন্ধু হয়ে উঠেছে।
    চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের মতো নিঃসঙ্গতা বিবর্তিত হয়ে আত্মহত্যা হয়েছে।ভাবছে আত্মহত্যাই কি মুক্তি? নাকি মুক্তির ভ্রম।
    তোমাকে খুজতে খুজতে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি অতল সাগরে।অথচ নিজেকে খুজা হলো না।
    আঁকাবাকা মেঠোপথ,পিচঢালাই করা।নিকষকালো অন্ধকার,কুয়াশায় আচ্ছন্ন রাস্তার দু-পাশে বাঁশঝাড়।অন্ধকার আর কুয়াশা মিলেমিশে একাকার,তা ভেদ করতে পারছেনা গাড়ির হেডলাইটের আলো।কিছুটা ভয়ের শিহরণ খেলে গেলো তার ভিতরে,তবে সেটা ভূত টূতের নয়।সে ভূত টূতে বিশ্বাস করেনা।ভয়টা চোর বাটপারের।দেশটা চোর বাটপারে ভরে গেছে।কখন কার সাথে কি ঘটে যাবে তা কেউ বলতে পারেনা।

    সামনে কিছুটা আলো দেখা যাচ্ছে,প্রায় একমাইল পেরিয়ে।সম্ভবতো বসতবাড়ি হবে।তার ধারণাটি ভুল হলো।এটি কোনো বসতবাড়ি নয়।এটি চায়ের দোকান।দোকানের নাম “বহুরূপী”।

    রাস্তার সাথে ছোট নদীতে ভাসমান চায়ের দোকানটি।পানির উপরে বড় বড় ড্রাম।ড্রামের উপরে টুকরো,টুকরো বাঁশ দিয়ে করা সুসজ্জিত ফ্লোরটি।পুরো দোকানটিতে বাঁশের ব্যাবহার করা হয়েছে।সে গাড়ির জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে এইটুকু বুঝতে পারলো।

    গাড়িটি রাস্তার একপাশে রেখে দোকানের ভিতরে প্রবেশ করলো।দেখলো দোকানটি দুইভাগে বিভক্ত।একপাশে মিউজিক প্রেমীদের জন্য এবং অন্যপাশে বই প্রেমীদের জন্য করা।

    বই প্রেমীদের পাশটা দেশী বিদেশি বিখ্যাত লেখকদের ছবি অঙ্কন করাসহ তাদের বিখ্যাত উক্তি গুলো লেখা।টেবিলের পাশে পাঠাগারের মতো করে অসংখ্য বই সাজানো।পাঠকগণ যে যার পছন্দমতো বই পড়ছে আর চা-পান করছে।

    আর,মিউজিক প্রেমীদের পাশটা মিউজিকের বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্ট এর ছবি অঙ্কন করাসহ দেশী-বিদেশী জনপ্রিয় ব্যান্ডের গান লেখা।টেবিলের পাশে মিউজিকের বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্ট রাখা।সবাই দলগতভাবে গান করছে আর চা-পান করছে।খাওয়ার ধরন দেখে মনে হচ্ছে চা না যেন অমৃত পান করছে।

    দুই পাশের মধ্যখান দিয়ে চলে গেছে বারান্দার দিকে।বারান্দার নামকরণ করা হয়েছে “ধুমপান জোন”।সেখানে গুণগুণ করে গেয়ে উঠলো সে।

    উড়ছে ধোঁয়া,হাওয়ায়,হাওয়ায়-
    বাতাসেতে দুঃখ,উড়ায়-
    ধোঁয়ায়,ধোঁয়ায়-
    দুঃখবিলাসী।

    দোকানের পুরো পরিবেশটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে,বই প্রেমীদের জোনে গিয়ে বসলো।কারণ,বই এর প্রতি তার অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে।অবসরে বইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খায়।জহির রায়হান এর “হাজার বছর ধরে” বইটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলো।এর আগেও বেশ কয়েকবার বইটি পড়েছে।

    তবুও বারবার বইটি পড়তে ভালো লাগে তার।অজানা কোন এক অদ্ভুত কারণে।আমাদেরও মাঝেমধ্যে এমন হয়।অনেক কিছু করি,কেন করি?তা জানিনা।

    বই পড়ছে পূর্ণ মনোযোগসহ।তখন সামনে থেকে কে যেন বলে উঠলো “স্যার”?তাকিয়ে দেখলো,
    দীর্ঘ কালো কেশ,সরু নাক,চোখজোড়া হরিণের মতো,মুখে অমলিন হাসি,চেহারা উজ্জল দিনের মতো কোথাও অন্ধকারের ছাপ নেই।পরনে গোলাপি রঙের শার্ট ও নীল রঙের জিন্স।হাতে সম্ভবত “মেন্যু” হবে।

    “স্যার” কি খাবেন?তার হাতে “মেন্যু”টি দিয়ে বললো মেয়েটি।”মেন্যুু”টি হাতে নিয়ে একটু বিস্মৃত হলো রসিকরাজ।মেন্যুতে পঞ্চাশ ধরনের চা রয়েছে।চায়ের নামগুলোও অদ্ভুত।

    এক চায়েরই এতো রুপ-
    যেন মানুষের প্রতিরুপ,
    একের ভেতর অনেক।

    “বহুরূপী-চা”অর্ডার করলো রসিকরাজ।কিছুক্ষণের জন্য ভাবনার ঘোরে চলে গেলো।সেটার স্থায়িত্ব বেশিক্ষণ হলো না।”স্যার” শব্দে তার ভাবনার ঘোর কেটে গেলো।ঝাপসা চোখে চেয়ে দেখলো মেয়েটি চা নিয়ে হাজির।এই প্রথমবার “বহুরূপী চা”পান করবে ।

    “বহুরূপী-চা” বহুরূপী স্বাদের সংমিশ্রণ,নামকরণ যথার্থ হয়েছে-চা পান শেষে তার অনুভূতি।

    পকেটে সিগারেট।দিয়াশলাই নেই।বাম হাতে দুই আঙুলের মাঝখানে সিগারেট নিয়ে হেটে যাচ্ছে আগুনের খোঁজে ধুমপান জোনে।

    -হেই ব্রো,আমি রসিকরাজ।

    -আমি জারিফ।

    -সামান্য আগুন হবে?সিগারেট ধরাবো।

    -হুমমম।এই নিন…

    -আপনি ধুমপান করেন দেখে মনে হয় না।একই সাথে সুদর্শন যুবকও বটে।চেহারায় একটা ইনোসেন্ট ভাব আছে।বললো জারিফ।

    -চেহারা দেখে অথবা প্রথম দর্শনে কাউকে জাজ করার পক্ষে আমি না।এতে করে কারো ভালো-মন্দ ঠিকভাবে বিচার করা যায় না।সিগারেটে একটান দিয়ে বললো রসিকরাজ।

    – হ্যা,আপনি ঠিক বলেছেন।তবে,আমাদের সমাজ আমাদেরকে এভাবে চিন্তা করতে শিখায়।এ নিয়ে কি যেন একটা প্রবাদবাক্য আছে।এই মূহুর্তে আমার ঠিক মনে পড়ছে না।আপনি কি বলতে পারবেন?

    – হ্যা,আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী।তবে আমি এটার ঘোর বিরোধী।

    -আপনি কি এখানকার পুরাতন কাস্টমার?

    -না।আজকে প্রথম এসেছি।আপনি?

    -আমিও আজকে প্রথমবার এসেছি।

    -আপনার সিগারেট তো এমনিতেই পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। একটান দেওয়ার পর আপনি অন্য জগতে চলে গেছেন। আপনি কি নিয়ে এতো চিন্তা করছেন?

    -শরীরে মন নেই,মনে নেই শরীর।শরীরে শরীর নেই,মনে নেই মন।আমি কে?এইসব হাবিজাবি চিন্তা করতেছি।

    -এইসব চিন্তা করে কি হবে?

    -রাত হয়,দিন হয়।তাদের কি আটকে রাখা যায়?

    -না।তবে নিজেকে উপভোগ করতে পারেন।

    -তেমন চিন্তাও হয়ে যায়,আটকে রাখা যায় না।নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।উপভোগ করবো কিভাবে?

    -নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন মানে?এইযে আপনি আমার সামনে বসে আছেন।

    -পদ্মার পানির সাথে মেঘনার পানি মিশে গেলে।তাদের কি আলাদা করা যায়?

    -না।

    -কল্পনা করেন,আপনি পদ্মার সামনে দাড়িয়ে আছেন।পদ্মা হারিয়ে যাবার পরেও,সামনে থেকে কি পদ্মাকে দেখতে পেলেন?

    -হুমম।

    -তেমনি আমি হারিয়ে গিয়েও,আপনার সামনে বসে আছি।

    -হারালেন কিভাবে?জানতে পারি।

    -পদ্মা যেমন করে মেঘনাতে হারিয়ে গেছে।তেমন করে আমি হারিয়ে গিয়েছি।এখন মেঘনাকে কি পদ্মা বলতে পারবেন?অথবা পদ্মা মেঘনা?

    -না।

    রসিকরাজের কথা শুনে জারিফের মাথা কিছুটা ভার হয়ে আসলো।ঝাপসা হয়ে আসে চোখের দৃষ্টি।হাতের সিগারেট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।প্যাকেট থেকে আরেকটি সিগারেট বের করলো।ফায়ার বক্স হাতে নিয়ে,খুলে দেখলো ভেতরে দেয়াশলাই নেই।এমন সময়ে পেছন থেকে কে যেন বলে উঠলো,আপনাদের সাথে কি পরিচিত হতে পারি?

    তারা দুজনে সম্মতি দিলো।লোকটা বললো আমার নাম জাবের সিরাজ।আমি একজন লেখক। আমার
    উপন্যাসের চরিত্র হারিয়ে গেছে।তাদের খুঁজে এখানে এসেছি।

    চলবে…….?

    5
    8 Comments
Skip to toolbar