Profile Photo

রেদোয়ান শাকিলOffline

  • Readean
  • Profile picture of রেদোয়ান শাকিল

    রেদোয়ান শাকিল

    • 5 months, 2 weeks ago

    মজুফার মা________

    পানের সাথে একটু রতন জর্দার পরাগ না হলে আমার পান খাওয়ার আশটা মেটে না। মাত্রই জর্দা সমেত পানের পুরিয়াটা মুখে পুরলাম, তর্জনীর ডগায় চুন।
    ‎বুড়িটার ক’দিন থেকে অসুখ, মাঝে মাঝে বেরামের বিরাম ঘটে, কয়েকদিন ক্ষান্তি দিয়ে ফের দেখা দেয়। বরির পাতাগুলো পলিথিনে ভরে ঝুপড়ি ঘরের এক কোণায় আটকে রেখেছে।
    ‎আম্মা কয়েক গোছা পান দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন বুড়িকে দিতে। হাতে পানগুলো দিলাম। চোখের নীচে বয়সের ভার চামড়ার কুঁচিতে জড়িয়ে আছে। আলাভোলা ঝাপসা দৃষ্টির বেদনা নীরবে তার সারা জীবনের আলেখ্য বলে চলে।
    ‎”ও বুড়ি ভাত খাইছো দুফরে?”  নীমিলিত অস্ফূট-প্রায় শব্দে জিজ্ঞেস করলাম।
    ‎”হ খাইছি বাবা, তুমার মাও রুটি আনছিল, ওইডাই খাইছি।”
    ‎বুড়ির হাতের চুরিগুলো ভেঙেছে আজ থেকে ষাট বছর আগে, বিয়ের কয়েক বছরের অন্তে স্বামী মারা যায় বুড়ির, রেখে যায় মাসুদ, মলক আর মজুফাকে। পিঠাপিঠি তিন ভাইবোন। শুরু হয় অমানবিক জীবন-সংগ্রাম। সে যুগে অভাব ছিল অভাবীর শিথানের বালিশ, মজুফার যখন চারদিন বয়স তখনো এই শিশুকে ঘরে রেখে অন্যের ধান ভেনে সন্তানদের খাবার জুগিয়েছে, আর নিজে শুধু কচু পাতার ভর্তা খেয়ে সারারাত পার করেছে। সারাজীবন সংসারের আশার প্রায়শ্চিত্ত করতে করতে বুড়ি আজ আশির কোঠায় ঠেকেছে। না হলো ঘর আর না হলো সংসার, শেষ বয়সকালেও একা এক ঘরে তার জীবনের অন্তীম মুহূর্তগুলো কেটে যাচ্ছে। সন্তানদের কাছে এখন মা বাড়াভাতে উৎপাত।
    ‎আলাপের ফাঁকে হঠাৎ ধীরে ধীরে আকাশে মেঘ জমে উঠল। বুড়িকে বললাম, “থাক তুমি, বাতাস উঠছে, ঝড় আইবো, সন্ধ্যায় তুমার জন্য খাবার আনমু।” গামছাতে গামলা বেঁধে ভাত এনেছি, এখন সন্ধ্যার আকাশটা অন্ধকারে ছেয়ে গেছে, বুড়ির কুঠুরিতে কুপিটা নিভু নিভু আলো দিচ্ছে। এই ঘরেই এখন বুড়ির শেষ জীবনের গুছিয়ে নেয়া সুখ। আমি চলে এলাম, একা একলা ঘরে বুড়ির অন্ধকার রাত কীভাবে কাটবে জানি না।

    5
    4 Comments
Skip to toolbar