Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    1 month, 1 week ago

    ওই কাউয়া, যা/ ২ ।।

    রণো ইদানিং একটা কুত্তার লগে চলে; ছাল ওঠা বুড়া কুত্তা। কাগজ টোকায় আর কি-জানি কয়! কাছে গেলে চুপ মাইরা থাকে! ববিতা বলে—থো! আমিওতো কাউয়ার লগে কথা কই। কুত্তা, বিলাই ছাড়া আমগো কে পোছে !
    নোংরা, ঘেঊয়া কুকুরটার সাথে রণোর কিসের পিরিত! নাকি ববিতার সাথে আমার মাখামাখির প্রতিশোধ নিচ্ছে!
    তবু ভালো লাগে, পথকে ঘর করতে পেরেছি। চেনা সমাজটা উঁচুতে উঠে যাওয়ায় ভূমির সমান্তরেলে হাজারো প্রানের দেখা পাচ্ছি; যেখানে মানুষের সঙ্গ মূখ্য থাকে না; ক্ষর-দুপুরে রোদের সঙ্গে জড়াজড়ি করা যায়! প্লাস্টিক টোকাতে টোকাতে যেকোনো দিকে চলে যাই অনায়াসে।
    চৈত্রের আকাশ কালো করে ঝমঝম বৃষ্টি নামলে ত্রস্ত পথচারীরা যাত্রিছাউনির নিচে জড় হয়। আমি আর ববিতা ছাউনির পিছে এসে ময়লার স্তুপের উপর বসি। ববিতার ইদানিং জড়াজড়ির ব্যামো হইছে; কোথাও বসলে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে নিয়ে পেটের ভিতর ঢুকে গুঁতগুঁত শুরু করে দেয়। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কুত্তাটা আমাদের পাশে এসে গা ঝারা দিলে রণো বলে—কুত্তা বইলাই এইরাম করতে পারলি! মানুষ হইলে থাবড়ায়া কানাপট্টি গরম কইরা দিতো।
    কুকুরটা স্যরি হওয়ার ভঙ্গিতে কান নামিয়ে চোখ পিটপিট করে। রণো বলে—ওকে, ঠিক আছে; এখন থেকে আরো ভদ্র হয়া চলবি…। কুকুরটার সাথে রণো এইসব কথা বলে! ববিতা গুঁতগুঁত করে; আর আমি কান খাড়া করে শুনি। রণো বলে—শোন কুত্তা, মানুষ আর তোর পার্থক্য এইটুকুই, তুই কথা কইতে পারস না; কিন্তু গু দেখলে দূর্ণীতিবাজগোর মতন ঠিকই দৌঁড় দেস!
    রণোর কথা শুনে হাসি পায়। প্লাস্টিকের ভিতর থেকে মাথা বের না করে জানতে চাই—আরে রণো, তুমি কি এখন কুত্তার টিচার; হি, হি, হি…। রণো বিব্রত হয়ে ঘুরে বসে; আর বৃষ্টি ঝেপে আসে। বেঞ্চে বসা লোকগুলোর পাছা রণোর মুখের দিকে ঝুলে থাকে। নানান ডাইসের পাছা!
    তাতে কার কি! পেছন আর সম্মুখ আলাদা পরিস্থিতি। কিন্তু কুত্তাতো পাছায় পাছায় গু’র গন্ধ পায়। রণো জিজ্ঞেস করে—কিরে, নাক কুঁচকাস ক্যান?
    কুকুরটা নাক কুঁচকিয়ে বুঝায়—ভাই, দেখেন; ওই বেডার মানিব্যাগটা পইড়া যাইবো।
    রণো ইশারা করে—চাপনিশে লইয়া ল।
    কুকুরটা মানিব্যাগ মুখে করে রণোকে দিয়ে ঝুলঝুল করে তাকায়। বৃষ্টি থেমে আসে। মানিব্যেগে অনেকগুলো কার্ড। রণো বলে—বুঝলি রে ছাল-ওঠা কুত্তা, কারো ক্ষতি করতে নাই! টাকাগুলো লুফে নিয়ে ব্যাগটা বেঞ্চের নিচে রেখে দিয়ে বলে—চল যাই; কয়টা টাকা ছাড়া আরতো কিছু ধরি নাই।
    বৃষ্টি আর রোদ আমাদেরই মতন—এই আছে, এই নাই।
    মানিব্যাগ নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখে ববিতাও প্লাস্টিকের নিচ থেকে বেরিয়ে ‘এই রণো, এই রণো…’বলে কুকুরটার পিছে পিছে ছোটে; আর কাকগুলো কা কা বলে উড়াল দেয়।
    ববিতার গুঁতগুঁতানিতে আরাম পেয়ে আমি শুয়ে ছিলাম। কয়েকটা লোক ছাউনির পিছে এসে মানিব্যাগ কুড়িয়ে নিয়ে একটানে প্লাস্টিক সরিয়ে ফেলে আমার পাছায় লাথি মারে—এই টোকাইর বাচ্চা টোকাই; টাকাগুলা দে।
    কিসের টাকা!
    ন্যাকা ষষ্টি! মার শালারে…।
    লোকগুলো এমন মারা মারে, একদম প্লাস্টিক বানিয়ে ফেলে! উপায় না দেখে জিভ বের করে চোখ উল্টে দিই। তখন কাকগুলো কা কা করে হামলে পড়লে ‘আমি মরে গেছি’ ভেবে ওরা দ্রুত কেটে পড়ে।
    পকেট মারলো ছালওঠা কুত্তা, প্লাস্টিক হইলাম আমি! এর লাইগা কুত্তা দেখতে পারি না। তয় ববিতার কাউয়াগুলা ভালো। এরা উপর থেকে দেখে তো, সত্যটা চোখে পড়ে।
    একটা কাক আমার বুকের উপর উইঠা এদিক-ওদিক চাইয়া নাকের ফুটায় ঠোক্কর মাইরা পশম তুইলা নেয়। এই হালায় মনে হয় কবিরাজ! আরো দুইতিনবার ঠোক্কর দিলে আমি নড়ে চড়ে উঠি। তখন অন্যকাকরা ওড়াউড়ি জুড়ে দিয়ে বলে—যাক বাঁইচা গেছস!
    আমি উঠে বসি। রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখি, ঠোঙ্গা-ভরা খাবার নিয়ে ওরা আসতেছে। ববিতা হাসতে হাসতে বলে—পুরাই প্লাস্টিক বানায়া দিছে; হি, হি, হি…। চিন্তা নাই, ভরপুর পট আনছি।
    আগে পট দে।
    তিনবন্ধু জুতার আঠার ঘ্রান নিতে নিতে মিটমিট করে হাসতে শুরু করি! ববিতা রণোর কান ধরে বলে—এই লাল্লুভুলু, খুব সেয়ানা হইছস!
    রণো বলে—আতা মাথা ছাত্তা।
    আমি বলি—রণো, তোর ছাত্রটারে আউট কইরা দে।
    ববিতা চুপকি দেয়—এই কুত্তা গেলি!
    ছালওঠা বুড়ো কুকুরটা থমকে দাঁড়ায়। ববিতা আবার চুপকি দেয়। কুকুরটা ঘুরে গিয়ে অন্যদিকে হাঁটতে হাঁটতে ঘাড় ঘুরিয়ে রণোর মনোযোগ পেতে চায়। রণো বলে—যা; পরে কথা কমু।
    আমরা ফুটপাতে বসে টাকা ভাগাবাগি করে পুরি, পিঁয়াজি খাই। ববিতা যতটুকু খায়, তারচেয়ে বেশি ছুড়ে দেয় । কাকগুলো খায় আর ওড়াউড়ি করে।

    6
    5 Comments
    • অভিমানী মন, আপনার লেখাটা পড়ে বাস্তবের রূঢ় আর অদ্ভুত সুন্দর এক দুনিয়ার ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠল, একদম অন্যরকম একটা গল্পের বুনন।

    • ‘কুত্তা আর মানুষের পার্থক্য’-এর সংলাপটি অসাধারণ।

    • অভিমানী মন, বাস্তবতার এই নিদারুণ চিত্রায়ন আর অসহায় কিছু প্রাণীর প্রতি আপনার এমন গভীর মায়া সত্যিই অসাধারণ, তাই চরিত্রগুলোর কথোপকথন যেভাবে আরও একটু আবেগপূর্ণ করে ফুটিয়ে তোলা যায় সে বিষয়ে আপনি ভেবে দেখতে পারেন; আপনার লেখনী সত্যিই মুগ্ধ করার মতো, তাই দারুণ সব লেখা উপহার দেওয়ার জন্য শুভকামনা রইল।

    • তুলট সাঁই, গল্প পড়ে একা একা শব্দে করে হাসা প্রায় ভুলেই গেছিলাম! আপনার গল্পগুলো সেই দিনগুলো আবার ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে! অফুরান ভালোবাসা নেবেন!

    • খুবই মজার গল্প চালিয়ে যান।

Friends

Profile Photo
Razia Dalia
@raziadalia
Profile Photo
45abu Kalam
@45abukalam
Profile Photo
মো:নুর আলম
@nur-mpngmail-com
Profile Photo
Tanvir Hosen
@tanvirhosen
Profile Photo
Mahbuba Jahan
@mahbubajahan
Profile Photo
Syed Touhidul Islam
@syedtouhidulislam
Profile Photo
TAPAN CHANDRA SHILL
@tapanchandrashill
Skip to toolbar