Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    4 years, 8 months ago

    কর্তার লীলাখেলা

    কাকের তেষ্টা পাওয়া কোনো এক দুপুরে ডবল-ডেকারে চড়ে উত্তরা যাচ্ছি; রাস্তায় জ্যাম; দোতলায় গাদাগাদি; যাত্রিরা অতিষ্ট; এরই মধ্যে একজন বলে—আল্লার কী কান্ডজ্ঞান নাই! সব গরম কী এই দেশেই পাঠাইতে হইলো!
    জ্যাম ছাড়লে যাত্রীরা একটু স্বস্তি পায়। একজন বলে—আগের জন্মে পাপ না থাকলে কেউ এই গাড়িতে চড়ে না; বাসায় পৌঁছতে কয় ঘন্টা যে লাগে কে জানে!
    ডবল-ডেকার চলে হেলেদুলে। পাশের যাত্রিটি গরম আর ক্লান্তিতে আমার গায়ে হেলে হেলে পড়ে। বিরাট অস্বাস্থি! আমি বলি—ভাই, এইটা হইলো দোজখের রাস্তা; অমলনামা লইয়া সোজা হয়া বসেন…!
    কী! কী বললেন! লোকটা অচেতন অবস্থা থেকে ঝাড়া দিয়ে বসে—কতদূর এলাম বলেনতো?
    মাত্র ফার্মগেট পার হইছি। কই যাইবেন?
    এই ভিড়ে একজন হকার গান জুড়ে দেয়—দয়াল আমার ইঁদুর মারার কল বসাইছে জগৎ জুড়িয়া…।
    যাত্রিরা অতিষ্ট হয়ে বলে—এই মিয়া, কী শুরু করলা! নামো…। লোকটা ক্ষেপে যায়—এইটা সরকারি গাড়ি; না পোষাইলে আপনে নাইমা যান…।
    হকারের ক্যানভাস শুনতে শুনতে যাত্রিরা ঝিমিয়ে পড়ে। জ্যাম ঠেলতে ঠলেতে ডবল-ডেকার মহাখালি ফ্লাইওভারের উপর উঠে আসে। এটাই জীবনের দ্বৈরথ। যাত্রিরা জানালা দিয়ে নীচে তাকায়—কী সুন্দর ঢাকা শহর! কতো দালান-কোঠা! উন্নয়নে ঝকমক করতেছে!
    সামনে কাকলীর মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ জ্যাম। যাত্রিরা বলাবলি করে—প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্ট যাবে, এজন্য দুই ঘন্টার সিগনাল দিছে।

    রাস্তার উপ ররে তপ্ত দুপুরে বসে থাকতে থকতে যাত্রিরা ঘুমিয়ে পড়ে; এই ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলে যায়। সিগনাল তুলে দিলে ডবল-ডেকারও চলতে শুরু করে। বনানী-ফ্লাইওভার পেরিয়ে যাত্রিরা স্টপেজে স্টপেজে নেমে যায়। এরই মধ্যে পকেটমাররা কখন যে সবাইকে ধূর বানিয়ে চলে গেছে কেউ টের পাই নি! পাশের যাত্রিটি বলে—খিলখেত এসে গেছে; আপনি কোথায় নামবেন?
    স্টপেজে নেমে লোকটা পকেটে হাত দিয়ে স্তব্ধ মেরে যায়। আমিও পকেট হাতড়াই। কারো মানিব্যাগ নাই! লোকটা হেসে পাঁচ টাকার কয়েনটা ভিখারীকে দিয়ে বলে—যাক ভাই, পৌঁছতেতো পারছি; সবই কর্তার লীলাখেলা।
    বাসা কোথায়?
    আমতলা; বাকি পথ হেঁটে যেতে হবে; হা হা হা …।

    34
    13 Comments
Skip to toolbar