Profile Photo

ঠিকানাহীন অরণ্যOffline

  • Vobertale.aranna
  • ভালোবাসা দিবস?

    ভালোবাসার জন্য দিবস লাগে
    কখনো শুনেছিলে আগে?
    কিন্তু এখন কাগজী ফুলের বাগে
    চকচকে মলাটে
    রঙ করা ললাটে
    ছকবাঁধা নিয়মে বন্দী
    সব ভোগ্যবাদীদের ফন্দী
    ছোট্ট শিশুকে দেখেও পৌরষ জাগে।

    আত্নার প্রেম মানে বিসর্জন
    কষ্টকে সয়ে নেয়ার মানসিকতা
    অপেক্ষাকে সম্বল করে বিশ্বাস অর্জন
    এক প্রতিশ্রুতিতে নির্ভেজাল পবিত্রতা
    অদ্ভুৎ আধুনিকতার সংজ্ঞায়
    ভাটা পড়েছে নৈতিক প্রজ্ঞায়
    খালে পড়ে থাকে নিস্পাপ মানবিকতা।

    প্রশংসার বানে কিংবা গানে গানে
    কিংবা উচ্চাকাংখা পুরনের লালসায়
    সামান্য উপহারের বড়শির টানে
    কোন এক নিরিবিলিতে অতি সংগোপনে
    সতিত্বের বিসর্জনের সাথে সাথে সকলে পালায়
    অতপর যারা একসময় বিভিন্ন অভিনয়ে
    কাছে টানতো দগ্ধ করতে কামনায়
    সয়ে গেছো সতীত্ব হরণ তীব্র যন্ত্রনায়
    চটকদার কথায় কথিত ভালোবাসার আশায়
    তারাই আজ স্রাবের ভয়ে তোমা হতে পালায়।

    কলংক যেন শুধুই তোমার
    এ সমাজ যতই আধুনিক হোক না কেন তবু
    তবু তোমার ঘাড়েই বদনামের বোঝা যত -কি আজব বিধি!
    এতদিনের বিশ্বাস
    প্রতিমুহুর্তের আশ্বাস
    টিকে রয় ভোগের পরিণতি বিসর্জন অবধি।
    অতপর নিরোধের মত ছুঁড়ে ফেলে দেয়া
    সবকিছুই শেষ, কেবলই দেয়া-নেয়া
    খুন হয় ভরসায় পরিপূর্ণ সমর্পন
    ভালোবাসার কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পন।

    অথবা, বিক্রিত হওয়া পণ্যের মত
    সদ্য মাসিক শেষ হওয়া পাগল কামিনীর মত
    যত্র তত্র, সর্বত্র
    সব যেন উপযুক্ত পাত্র
    চাহিদা পুরনের চলন্ত নোটের যোগান দান
    ছাদের উপর এক ছলনাপূর্ণ হাসি
    তারপর সকল সন্ধানী যুবকের বুকে প্রেমের চাষ
    বাবার ঘামের টাকায় একবার শুনতে চাওয়া
    তুমি শুধুই আমার, তোমাকেই ভালবাসি
    জীবন, পরিবার, আত্নার করে সর্বনাশ
    মুঠোফোন হতে এক কথা পৌঁছে যায় সবার কাছে
    এর মাঝে হয়তো একটি নিষ্পাপ আত্না
    বিলিন করে দেয় নিজের সবটুকু সত্তা
    ছুটে চলে ছলনাময়ীর দেখানো স্বপ্নের পিছে
    তারপর মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে নেশার জগতে
    লোকে তাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয় ঘৃণা ভরে
    আর স্বপ্ন দেখানো কণ্যাটি কোন এক ধনবানের ঘরে
    বউ হয়ে সুখী সাজে, ভালোবাসছে যেন সব উজার করে

    অথচ রাস্তার পাশে হাতে হাত রেখে
    আজও হেটে চলে একজোড়া বুড়োবুড়ি
    বুড়িটি চলেছে এখনও বুড়োর ভরসার কাঁধে হাত রেখে
    চলছে মরন পানে, নেই কোন ছাড়াছাড়ি
    তাদের ভালোবাসা চিরন্তন, বারো মাস, তিনশত পঁয়শট্টি দিন
    হয়তো প্রায়শই একটি রক্তজবা হাতে
    খোঁপায় গুঁজে দেয় বুড়ো প্রেমিক, সুখস্নৃতি মন্থন করে রাতে
    তারা তাকিয়ে হাসে আর দেখে
    দুজনের চোখে চোখ রেখে
    আর শুনতে পায় সদ্য দম্পতির ঝগড়া আর হাতাহাতি
    কোন এক ভালোবাসা দিবসে হয়তো তারা করেছিলো বিয়ে
    হাজারো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর স্বপ্নের ফানুশ উড়িয়ে

    দাদু দিদাদের গভীর আলাপনে
    চোখের পাঁপড়ির মৃদু কম্পনে
    অতীত ভেসে ওঠে আর বলে যায় আপন মনে
    সম্মান কর নর-নারীকে বেঁধে রেখো পবিত্র বন্ধনে
    আত্নায় যতনে রেখে ভালোবাসো প্রতিদিন- ভালোবাসা অর্জনে।

    8
    4 Comments

ঠিকানাহীন অরণ্য -

লেখক

আমি স্বত্মা সম্বলিত আত্মাবাহক মানুষ

কষ্ট চাষ করে শব্দ ভেদ করে সাহিত্য রস বের করা আমার কাজ

প্রেম আমার ধর্ম,  ন্যায়বিচারের কথা আমার যুদ্ধ

আমি চোখের ভেতর সাগর চষি উম্মাদ উম্মত্য হয়ে

জাগতিকতার যান্ত্রিকতা কি করবে আমায় নিয়ে?

আমি ভবঘুরে, আনমনে, বণ্য এক অরণ্য---

Skip to toolbar