Profile Photo

Md. Azizur RahmanOffline

  • azizur
  • Profile picture of Md. Azizur Rahman

    Md. Azizur Rahman

    4 years, 10 months ago

    মামার কৃত্তি!
    মোঃ আজিজুর রহমান

    আমার মামার নাম তক্তা মামা। তক্তা উপাধিটা তার নিজেরই তৈরি। একদিন মামা স্কুল থেকে এসে বন্ধুদের সাথে গুলি (মার্বেল) খেলছিল। মামার অনেক ভাল গুণের মধ্যে উল্লেখ করার মত একটা গুণ হল মামা অত্যন্ত আবেগ প্রবণ। আবেগ প্রবণ মামা মার্বেল খেলতে খেলতে তার দৃষ্টি পড়ে একটা দেয়ালের দিকে। সে দেখে দেয়ালে একটা গিরগিটি স্থির হয়ে আছে। অনেকে ‍গিরিগিটিকে আঞ্চলিক ভাষায় রক্তচোষা বলে ডাকে। অতি মানবীয় আবেগ তাড়িত হয়ে, মামা রক্তচোষাকে বলে তক্তাচোষা। সে থেকে মামার নাম হয় তক্তা মামা।

    আমাদের অতি প্রিয় তক্তা মামার মন স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও অতি সরল। যে কোন মানুষের কথা খুব সহজেই বিশ্বাস করে এবং মানুষের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে। তক্তা মামা শ্রোতা হিসেবে এক নম্বর। তার সরল বিশ্বাসী মন ও হালকা লিকলিকে শারীরিক গঠনের কারণে সবার সাথে তার আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তক্তা মামার হঠাৎ কাঁচা আম খাওয়ার ইচ্ছা হয়। কাঁচা আম খাওয়া কথা বন্ধুদের সাথে বলে । বন্ধুরা বলে এখন শীতকাল তুই কাঁচা আম পাবি কোথায়। তক্তা মামার শিশু সুলভ অবুঝ মন কিছুতেই মানতে চায় না। কাঁচা আম তাকে খেতেই হবে। মাঝে মাঝে সে তার বাসার সামনের আম গাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার আম খাওয়ার কথা বন্ধু মহলে আলোচনা হয়। সেখানে রেন নামে তার এক বন্ধু বলে আমি তোর কাঁচা খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। তক্তা মামা রেনকে বলে, মামা বলনা কিভাবে কাঁচা আম পাব? রেন বলে গাঁজা খেলে তুই কাঁচা আম খাওয়ার স্বাদ পাবি। মামা প্রথমে বিশ্বাস করতে চায় না। বলে কি, তাই আবার হয়? না রেন তুই মিথ্যা বলছিস। রেন বলে তুই খেয়ে দেখ। যদি না পাস তাহলে আমাকে যে শাস্তি দিবি তা আমি মাথা পেতে নেব। রেনের কথায় মামা আশ্বস্ত হয়ে তার এক কাছের বন্ধুকে বলে চল আমরা গাঁজা খায়। মামার বন্ধু বলে, গাঁজা খেতে হবে কেন? তক্তা মামা বলে, গাঁজা খেলে কাচাঁ আমের স্বাদ পাওয়া যায়। তক্তা মামার বন্ধু অবশেষে তার অনুরোধে গাঁজা খেতে রাজি হয়।

    রেন সব ব্যবস্থা করে দেয়। মামা বিকালে পরিপাটি হয়ে বের হয় গাঁজা খাওয়ার জন্য বন্ধুসহ। রেন এর কাছ থেকে গাঁজা ভর্তি সিগারেট নিয়ে দেয় টান। প্রথমে একটু কষ্ট হলে পরবর্তীতে সাবলিলভাবে তিনজন মিলে গাঁজা সেবন করে। তক্তা মামা গাঁজাতে দুই তিন টান দিয়ে বিস্বাদ লাগে। বলে কাঁচা আমের স্বাদ পেলাম না তো? রেন বলে এটা খাওয়া সাথে সাথে পাওয়া যায় না। পরে পাবি। কিছুক্ষণ পরে তক্তা মামার মাথাটা ঝিমঝিম করে। সে বলে, আমার কেমন জানি লাগছে! আমি বাসায় চলে যায়। সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগ এবং মামার শারীরিক ও দুর্বল মানুসিক অবস্থা তার ব্রেনের নাভকে আরো দুর্বল করে দেয়। সে ধীরে ধীরে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে চুপচাপ শুয়ে পড়ে। ঘুমানোর চেষ্টা করতে থাকে। ঘুম তার আসে না মানুষিক দুর্বলতার করণে। তার মাথায় শুধু একটা কথা ঘোরে কফি সাউজের গানের সেই অমলটা ভুগছে ক্যানসারে। এ একটি গানের কলি বারবার তার মাথাতে ঘুরছে। অমলটা ভুগছে ক্যানসারে। তক্তা মামার গাঁজা সেবনের কারণে মনে হয় সে আর বাঁচবে না। সেও ঐ অমলের মত ক্যানসারে ভুগে মারা যাবে। তার বুকটা কষে আসছে। সাথে ঐ গানের কলিটা মনে পড়ছে। এতে সে অস্থির হয়ে পড়ে এবং তার মনে হয় এই বুঝি সে মরে যাচ্ছে। মামা তাড়াতাড়ি শোয়া অবস্থা থেকে উঠে ওর নানির কাছে যেয়ে বলে, নানি আমি মনে হয় বাঁচব না। নানি বলে কেন কি হয়েছে? নানি আমি গাঁজা খেয়েছি। নানি বলে তুই কেন গাঁজা খেলি? গাঁজাতে কাঁচা আমের স্বাদ পাওয়া যায়, এ কথা শুনে গাঁজা খেয়েছি। নানি আমার বুধ ধরপড় করছে। আমি বাঁচবো না। আমাকে তুমি বাঁচাও?

    নানির বয়স হবে সত্তরের কাছাকাছি। মফস্বলের মহিলা সে জানেও না গাঁজা খেলে কি হয়। শুধু জানে গাঁজাতে নেশা হয়। তাই নানি তক্তা মামাকে একটু বকাঝকা করে বলে, তোর আলাল আঙ্কেলের কাছে যেয়ে দেখ, সে কি বলে? তক্তা মামা, নানির পরামর্শ মোতাবেক আলাল আঙ্কেলের কাছে যায়। তখন ছিল পৌষ মাস। সময় রাত নয়টা হবে। তক্তা মামা বাসা থেকে বের হয়ে আলাল আঙ্কেলের বাসার দরজা নক করে বলে আলাল আঙ্কেল, আলাল আঙ্কেল ও আলাল আঙ্কেল…। আলাল আঙ্কেল ঘর থেকে বের হয়ে বলে, কি বাবা? মামা বলে, আঙ্কেল আমি মনে হয় বাঁচব না, আমি গাঁজা খেয়েছি। আঙ্কেল বলে, তুমি গাঁজা খেয়েছ কেন? মামা বলে কাঁচা আমের স্বাদ পাওয়া যায় এ কথা শুনে আমি গাঁজা খেয়েছি। মামা বলে, আঙ্কেল আমাকে বাঁচান! আঙ্কেল বলে, তুমি এক কাজ করো শহীদের হোটেলে যেয়ে দেখো গরম ‍দুধ পাও কিনা? গরম দুধ খেলে কিছুটা ভাল লাগবে। আঙ্কেলের বলা শেষ হতে না হতেই তক্তা মামার দৌড় শুরু। মামা দৌড়াচ্ছে বাঁচার তাগিতে। আর মাথার মধ্যে ঘুরছে অমলটা ভুগছে ক্যানসারে। বাঁচার আকুতিতে মামা অবশেষে শহীদের হোটেলে এসে পৌঁছায়। শীতের রাত, খোদ্দের নেই তাই শহীদ হোটেল বন্ধ করে দিচ্ছে। মামা শহীদকে বলে, শহীদ ভাই, ও শহীদ ভাই আমাকে বাঁচান। আমি গাঁজা খেয়েছি। আমাকে এক গ্লাস গরম ‍দুধ দেন। শহীদ বলে, তুই গাঁজা খেয়েছিস কেন? মামা বলে কাঁচা আমের স্বাদ পাওয়া যায় গাঁজাতে, তাই খেয়েছি।

    একবার মামার চাচাত ভাইয়ের সাথে পাশের বাড়ির লোকদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপ্রকার গন্ডগোলই হয়েছে। তক্তা মামা তার ভায়ের পক্ষ নিয়ে গন্ডোগোল করেছে। যাদের সাথে গন্ডোগোল তারা আবার মামলাবাজ। কিছু হলেই মামলা করে দেয়। মামাও তাদের সাথে বেশ জোরে জোরে কথা বলেছে। মামলাবাজদের যা করার তাই করেছে। তারা মামলা করেছে। এটম টু মাডার। জামিন অযোগ্য কেস। কেস করার কথা ইউনিয়েনের মেম্বর মামাকে বলেছে। মামা তার পর থেকে আর বাড়িতে রাতে ঘুমায় না। যদি রাতে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা বেলায় মামা তার বন্ধুদের নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমন সময় একটি গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে আসছে। গাড়ির আলো দেখে মামার মনে হয়েছে পুলিশ তাকে ধরতে আসছে। মামা গাড়ির আলো দেখা মাত্র দৌঁড় দিয়েছে। এমন দৌঁড় যে তার পা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এত দ্রুত দৌঁড় দিয়েছে। দৌঁড় দিয়ে এক বাড়ির গোয়াল ঘরের মধ্যে গরুর খাবার দেবার জন্য যে নান্দা থাকে তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। নান্দার মধ্যে থেকে মুখ বের করে আছে। মামার বন্ধুরা গাড়ি চলে গেলে বুঝতে পারে যে গাড়িটা পুলিশের গাড়ি না। তারপর তারা মামা খুঁজতে থাকে। মামার কোন পাত্তা নাই। মামা বলে বন্ধুরা ডাকে। মামার কোন সাড়া শব্দ নাই। বন্ধুরা গোয়াল ঘরের কাছে আসলে মামা নান্দার মধ্যে থেকে অতি সাবধানে মুখ বের করে বলে পুলিশ চলে গেছে কিনা? বন্ধুরা বলে গাড়িটা পুলিশের ছিল না। মামা তখন বীরের বেশে বের হয়ে বলে ও তাই বুঝি। খামাখা দৌঁড় দিলাম। যাক একটা দৌঁড় প্রাকটিস হয়ে গেল। কী বলিস তোরা। বন্ধু বলে ঠিক বলেছে তক্তা মামা। তবে তক্তা মামা অল্প ভয় পেয়েছে। তক্তা মামা বলে, তা একটু পেয়েছি।

    7
    5 Comments
Skip to toolbar