<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | রতন চন্দ্র রায় | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/ratanchandraroy/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/ratanchandraroy/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for রতন চন্দ্র রায়.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 05 Oct 2026 03:56:18 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">f4007087eea1c533db169c13170b145e</guid>
				<title>প্রতিবেদন
পৃথিবীর প্রতি অনাস্থা, এলিয়েনদের সঙ্গে বসবাসের ভাবনা

প্রতিবেদনের বিষয়: যৌন সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয়
প্রতিবেদক: &#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

ভূমিকা

পৃথিবীটা কি সত্যিই মানুষের বসবাসের জন্য নিরাপদ?

প্রশ্নটি শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন যখন নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার খবর সামনে আসে, যখন অপরাধের পরও ভুক্তভোগীকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যখন অপরাধীর চেয়ে সমাজের চোখে আক্রান্ত মানুষটিই কখনো কখনো বেশি কাঠগড়ায় দাঁড়ায়—তখন পৃথিবীর সভ্যতা নিয়েই প্রশ্ন জাগে।

কখনো কখনো মনে হয়, মানুষের পৃথিবীতে মানুষ হওয়াটাই যেন সবচেয়ে কঠিন কাজ।

পৃথিবীর মানুষের কাছে ক্লান্ত এক প্রশ্ন

বলাৎকার ও যৌন সহিংসতা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়ের ওপর আঘাত।

একজন মানুষ যখন নিজের ঘর, রাস্তা, কর্মক্ষেত্র কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকে, তখন শুধু আইন থাকলেই নিরাপদ সমাজ তৈরি হয় না। প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, সামাজিক প্রতিরোধ এবং অপরাধীর প্রতি কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়া।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—অনেক সময় আমরা ঘটনাটি নিয়ে কয়েকদিন আলোচনা করি, ক্ষোভ প্রকাশ করি, তারপর অন্য খবরের ভিড়ে সব ভুলে যাই।

কিন্তু যার জীবন আক্রান্ত হয়, তার কাছে সেই ঘটনা কোনো দিনের খবর নয়; সেটি হয়ে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী এক বাস্তবতা।

তাই এলিয়েনদের কথা মনে পড়ে

এই হতাশার জায়গা থেকেই হয়তো কেউ ব্যঙ্গ করে বলতে পারে—

“পৃথিবীর মানুষের ওপর যদি এতটাই আস্থা হারিয়ে ফেলি, তবে এবার এলিয়েনদের সঙ্গে বসবাসের কথা ভাবাই যায়!”

হয়তো মহাকাশের কোনো অজানা গ্রহে এমন একটি সমাজ আছে, যেখানে শক্তিশালী দুর্বলকে শিকার করে না, যেখানে নারীর পোশাক অপরাধের কারণ নয়, যেখানে ভুক্তভোগীকেই অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় না।

অবশ্য আমরা জানি না এলিয়েনরা কেমন।

কিন্তু এই কল্পনাটির আসল উদ্দেশ্য এলিয়েনদের খোঁজা নয়—পৃথিবীর মানুষকে আয়নায় নিজের মুখ দেখানো।

সভ্যতার আসল পরীক্ষা

মানুষ চাঁদে পৌঁছেছে, মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করেছে, মহাকাশের গভীরতা পরিমাপ করছে।

কিন্তু একই মানুষ যদি আরেকজন মানুষের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—

প্রযুক্তিতে আমরা কতটা এগিয়েছি, আর মানবিকতায় কতটা?

একটি সভ্যতার মূল্য শুধু তার উঁচু ভবন, সেতু কিংবা মহাকাশযানে মাপা যায় না।

সভ্যতার প্রকৃত পরীক্ষা হলো—
একজন নারী কতটা নিরাপদ,
একটি শিশু কতটা সুরক্ষিত,
একজন ভুক্তভোগী কতটা সম্মান পায়,
আর একজন অপরাধী আইনের মুখোমুখি কত দ্রুত দাঁড়ায়।

এলিয়েন নয়, বদলাতে হবে পৃথিবী

শেষ পর্যন্ত হয়তো অন্য গ্রহে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রয়োজন এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা, যেখানে মানুষ মানুষকে ভয় করবে না।

যেখানে বলাৎকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাস্তব জীবনেও অপরাধ প্রতিরোধ ও বিচার নিশ্চিত হবে।

যেখানে ভুক্তভোগীকে প্রশ্ন করা হবে না—
“তুমি কেন সেখানে গিয়েছিলে?”

বরং সমাজের প্রশ্ন হবে—
“অপরাধী কীভাবে এমন অপরাধ করার সাহস পেল?”

এলিয়েনদের সঙ্গে বসবাসের কল্পনা তাই আসলে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার গল্প নয়।

এটি একটি প্রতিবাদী প্রশ্ন—

“আমরা কি এমন এক পৃথিবী তৈরি করতে পারব, যেখানে মানুষকে নিরাপদ থাকার জন্য অন্য কোনো গ্রহের স্বপ্ন দেখতে হবে না?”

উপসংহার

পৃথিবী ছেড়ে এলিয়েনদের কাছে যাওয়ার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা হয়তো নেই।

কিন্তু পৃথিবীর মানুষের কাছে একটি দাবি অবশ্যই আছে—

মানুষের পৃথিবীকে মানুষের জন্য নিরাপদ করো।
নারীর মর্যাদা রক্ষা করো।
শিশুকে নিরাপত্তা দাও।
অপরাধীকে আইনের আওতায় আনো।
আর নীরব দর্শক হয়ে থেকো না।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা এলিয়েনদের নয়।

***(প্রশ্নটা আমাদের—
আমরা কি সত্যিই মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছি?
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/280498/</link>
				<pubDate>Wed, 30 Sep 2026 11:17:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রতিবেদন<br />
পৃথিবীর প্রতি অনাস্থা, এলিয়েনদের সঙ্গে বসবাসের ভাবনা</p>
<p>প্রতিবেদনের বিষয়: যৌন সহিংসতা, নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয়<br />
প্রতিবেদক: &#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>ভূমিকা</p>
<p>পৃথিবীটা কি সত্যিই মানুষের বসবাসের জন্য নিরাপদ?</p>
<p>প্রশ্নটি শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন যখন নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-280498"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/280498/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78f5925beeb933ddaca95a2c8de18583</guid>
				<title>মৃত মানুষের স্বাক্ষর
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

শহরের দেয়ালে সেদিন নতুন পোস্টার উঠেছিল। বড় বড় অক্ষরে লেখা—“অবহেলিত যৌনকর্মীদের জন্য সরকারি ভাতা—মানবিক রাষ্ট্রের নতুন অঙ্গীকার।” পোস্টারের নিচে হাসিমুখের কয়েকজন নারীর ছবি। মানুষ দাঁড়িয়ে পোস্টার দেখছিল। কেউ বলছিল, “ভালো উদ্যোগ।” কেউ বলছিল, “দেখা যাক, টাকা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যায়!”
পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে ময়না চুপ করে ছিল। তার চোখ পোস্টারের দিকে নয়—নিচে ছোট অক্ষরে লেখা একটি বাক্যের দিকে—“প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই করে ভাতা প্রদান করা হবে।”
ময়না মৃদু হেসে বলল, “প্রকৃত মানুষ চিনতে যদি এত সহজ হতো, তাহলে আমাদের জীবনটাই হয়তো অন্যরকম হতো।”
রহিমা পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। “তুই কি ভাতা পাবি?”
ময়না কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “জানি না। তবে একটা ভয় হচ্ছে।”
“কী ভয়?”
“আমাদের নামে টাকা আসবে, কিন্তু আমাদের হাতে আসবে তো?”
১. অদৃশ্য তালিকা
ময়না এই পেশায় এসেছিল নিজের ইচ্ছায় নয়। জীবনের একের পর এক আঘাত তাকে এমন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছিল, যেখান থেকে ফেরার পথগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়। সমাজ তার কাছ থেকে শ্রম নিয়েছে, শরীর নিয়েছে, যৌবন নিয়েছে। বিনিময়ে দিয়েছে শুধু একটি নাম—“ওই মেয়ে।”
তবু ভাতার খবর শুনে তার বুকের কোথাও সামান্য আশার জন্ম হয়েছিল। বৃদ্ধ বয়সে যদি কেউ পাশে না থাকে? অসুস্থ হলে? কাজ করতে না পারলে? অন্তত মাসের শেষে কিছু টাকা থাকবে।
সেদিন রাতে ময়না পুরোনো একটি বাক্স খুলছিল। ভেতরে কিছু কাগজ, একটি বিবর্ণ ছবি ও তার পরিচয়পত্র। হঠাৎ দরজায় তিনবার টোকা পড়ল—টক। টক। টক।
ময়না দরজা খুলে দেখল—কেউ নেই। দরজার সামনে পড়ে আছে একটি সাদা খাম। খামের ওপর শুধু একটি শব্দ—“তালিকা।”
ভেতরে কয়েকটি নাম। তার নিজের নামও আছে। কিন্তু পাশে লেখা—ময়না—মৃত।
ময়নার হাত কেঁপে উঠল। সে নিজের বুকের ওপর হাত রাখল। হৃদস্পন্দন চলছে। ফিসফিস করে বলল, “মৃত মানুষ তাহলে ভয় পায় কীভাবে?”
২. চেয়ারম্যানের ঘর
তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় কমিটিকে। কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান কাদের মিয়া। মানুষের সামনে তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ও মানবিক মানুষ। মসজিদে দান করেন, গরিবদের কম্বল দেন, ছবি তুলে লেখেন—“মানুষের পাশে থাকাই আমার রাজনীতি।”
তার অফিসের দেয়ালে বড় ব্যানার—“সততা, সেবা ও মানবিকতা।”
কিন্তু রাত নামলে হিসাব বদলে যেত।
সেদিন গভীর রাতে চেয়ারম্যানের টেবিলে মোটা ফাইল খোলা ছিল। পাশে ভাগ্নে রুবেল।
রুবেল বলল, “চাচা, প্রকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা অনেক।”
কাদের মিয়া বললেন, “তাহলে?”
“সবাইকে দিলে তো টাকা কম পড়ে যাবে।”
চেয়ারম্যান চশমা খুলে বললেন, “সরকার টাকা দিয়েছে মানুষের জন্য। মানুষ তো আমরাও।”
রুবেল হাসল। “আপনার বোনের নাম দিয়ে শুরু করব?”
“সালমা বেগম।”
“পেশা?”
চেয়ারম্যান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “যেটা লিখলে টাকা আসে।”
রুবেল লিখল—সালমা বেগম—যৌনকর্মী।
তারপর আরও নাম—ভাগ্নের স্ত্রী, নেতার মা, ব্যবসায়ীর আত্মীয়, প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচিত। তালিকা দীর্ঘ হতে লাগল। কিন্তু ময়না? রহিমা? তাদের নাম নেই।
৩. মৃত ময়না
তালিকা প্রকাশের দিন পরিষদ ভবনের সামনে ভিড়। ময়না কাঁপা হাতে নিজের নাম খুঁজল। একবার, দুবার, তৃতীয়বার। নেই। রহিমাও খুঁজল। নেই।
ময়না কর্মচারীকে বলল, “ভাই, আমাদের নাম নেই কেন?”
“কাগজ ঠিক ছিল না।”
“কোন কাগজ?”
“যে কাগজ লাগে।”
“আমাদের তো কেউ বলেনি!”
লোকটি বিরক্ত হয়ে বলল, “সরকারি কাজ। নিয়ম বুঝতে হয়।”
ময়না আর কথা বলল না। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল—সালমা বেগম—পেশা: যৌনকর্মী।
ময়না ফিসফিস করে বলল, “এটা তো চেয়ারম্যানের বোন!”
রহিমা তিক্ত হেসে বলল, “আমাদের পেশারও এখন আত্মীয় হয়েছে!”
কিন্তু ময়না হাসল না। তালিকার নিচে লাল কালিতে লেখা একটি শব্দ তার চোখে পড়েছে—মৃত। নামটি—ময়না।
৪. দ্বিতীয় খাম
সেই রাতে আবার দরজায় টোকা পড়ল—টক। টক। টক।
ময়না দরজা খুলল না। কিছুক্ষণ পর নিচ দিয়ে একটি খাম ঢুকে গেল। ভেতরে লেখা—“তুমি যে ময়না, তার প্রমাণ তোমার কাছে আছে?”
ময়না নিজের পরিচয়পত্র বের করল। ছবির নিচে তার নাম—ময়না। কিন্তু পেছনে একটি সিল। তারিখ—ছয় মাস আগের।
ময়না অবাক হয়ে গেল। ছয় মাস আগে সে কোনো নতুন পরিচয়পত্র করেনি।
তাহলে এই সিল এল কীভাবে?
৫. রহিমার গোপন কথা
রহিমা সেই রাতেই ময়নার ঘরে এল। “তোকে একটা কথা বলব। কিন্তু ভয় পাস না।”
সে ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো হিসাবের খাতা বের করল। প্রতিটি নামের পাশে একটি অঙ্ক। কোথাও লেখা—“উঠেছে”, কোথাও—“অর্ধেক”, আবার কয়েকটি নামের পাশে—“নিষ্ক্রিয়।”
ময়না জিজ্ঞেস করল, “নিষ্ক্রিয় মানে?”
রহিমা মাথা নাড়ল।
পাতা উল্টাতে গিয়ে ময়নার চোখ আটকে গেল—
ময়না—সম্পূর্ণ পরিশোধ।
মৃত ঘোষণা সম্পন্ন।
তারিখ—ছয় মাস আগে।
ময়না ফিসফিস করে বলল, “ছয় মাস আগে তো আমার নামে কোনো ভাতা ছিল না।”
রহিমা বলল, “তাহলে টাকা গেল কোথায়?”
দুজনেই নীরব।
৬. জানালার ওপাশে
সেই রাতেই ময়না চেয়ারম্যানের অফিসের পেছনে গেল। জানালার ফাঁক দিয়ে আলো বের হচ্ছিল। ভেতরে চেয়ারম্যান, রুবেল ও আরও দুজন।
একজন বলল, “ময়নার ব্যাপারটা কী?”
রুবেল বলল, “কাগজে তো শেষ।”
চেয়ারম্যান ধীরে বললেন, “কাগজে মানুষকে মেরে ফেলতে বেশি সময় লাগে না।”
“কিন্তু ও যদি কথা বলে?”
“তাহলে ওর কথা প্রমাণ করবে কে?”
ময়নার বুক কেঁপে উঠল।
ভেতর থেকে আরেকজন বলল, “ব্যাংক অ্যাকাউন্টটা?”
রুবেল বলল, “ওর নামেই আছে।”
ময়নার চোখ বড় হয়ে গেল। তার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট! অথচ সে কোনোদিন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেনি।
চেয়ারম্যান বললেন, “তাহলে সমস্যা কী?”
রুবেল হাসল, “সমস্যা একটাই। আসল ময়না যদি জানে, তাহলে ভুয়া ময়নাকে বাঁচানো কঠিন হবে।”
ময়নার মাথা ঘুরে উঠল।
ভুয়া ময়না?
৭. অচেনা নারী
পরদিন ভোরে ময়না ও রহিমা ব্যাংকে গেল।
কর্মকর্তা বললেন, “আপনার অ্যাকাউন্ট তো অনেকদিনের।”
“আমি খুলিনি।”
“আপনি নিজে এসে খুলেছিলেন।”
“কবে?”
“ছয় মাস আগে।”
তারপর তিনি একটি স্ক্যান করা ছবি দেখালেন। ছবিতে ওড়না দেওয়া একজন নারী। ময়না ছবির দিকে তাকিয়ে জমে গেল। নারীটির মুখ তার মতোই—চোখ, নাক, মুখের গড়ন।
ময়না বলল, “এই নারী কে?”
কর্মকর্তা বললেন, “আপনি।”
ময়না মাথা নাড়ল। “না। ওটা আমি নই।”
রহিমা কাঁপা গলায় বলল, “ময়না... তোর মতো দেখতে আরেকজন আছে।”
৮. সালমার আগমন
পরদিন চেয়ারম্যানের অফিসে একটি খাম পৌঁছাল। ভেতরে ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভুয়া তালিকা ও একটি পেনড্রাইভ।
চেয়ারম্যানের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল।
খামের শেষে লেখা—“তালিকা বদলান। এবার সত্যিকারের নাম লিখুন।”
ফোন বেজে উঠল।
“হ্যালো?”
অপর প্রান্তে নীরবতা। তারপর নারীকণ্ঠ—“আপনি আমাকে চেনেন।”
“কে?”
“আপনার তালিকায় আমি যৌনকর্মী।”
চেয়ারম্যান থমকে গেলেন। “সালমা?”
“আপনি আমার নাম চুরি করেছেন। কিন্তু আমার বিবেকটা পারেননি।”
ফোন কেটে গেল।
৯. তদন্ত
তিন দিন পর জেলা অফিস থেকে তদন্তকারী দল এল। ময়নার হাতে ছিল পুরোনো হিসাবের খাতা, ভুয়া তালিকা, ব্যাংকের কাগজ এবং অচেনা নারীর ছবি।
তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কে খুলেছে?”
“আমি জানি না।”
ঠিক তখন দরজা খুলে একজন নারী ঢুকলেন। মুখে ওড়না। ধীরে ধীরে ওড়না সরালেন।
ময়না পিছিয়ে গেল। কারণ তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটি দেখতে প্রায় হুবহু তার মতো।
চেয়ারম্যানের মুখ সাদা হয়ে গেল। রুবেল ফিসফিস করে বলল, “আপনি!”
নারীটি বলল, “হ্যাঁ। এবার আমাকে অস্বীকার করুন।”
তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কে?”
“আমার নাম মায়া।”
ময়নার বুক কেঁপে উঠল।
মায়া বলল, “ছয় মাস আগে আমাকে দিয়ে ময়নার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলানো হয়েছিল।”
চেয়ারম্যান চিৎকার করলেন, “মিথ্যা!”
মায়া ফোনের ছবি দেখাল। চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার একাধিক ছবি, লেনদেনের ছবি ও ভুয়া তালিকার প্রমাণ।
তদন্ত কর্মকর্তা ফোনটি নিয়ে নিলেন।
১০. শেষ রহস্য
তদন্ত কর্মকর্তা হঠাৎ বললেন, “একটা বিষয় এখনও পরিষ্কার নয়। এই ভুয়া তালিকাটি তৈরি করেছে কে?”
চেয়ারম্যান চুপ। রুবেল চুপ। মায়াও চুপ।
হঠাৎ মায়া বলল, “আমি জানি।”
সবাই তাকাল।
“কে?”
মায়া ময়নার দিকে তাকিয়ে বলল, “ময়না নিজেই।”
ময়না চিৎকার করে উঠল, “আমি?”
মায়া বলল, “তুমি ছয় মাস আগে আমার সঙ্গে দেখা করেছিলে।”
“আমি তো তোমাকে কখনো দেখিনি!”
“তুমি মনে করতে পারছ না।”
সে পেনড্রাইভটি তদন্ত কর্মকর্তার হাতে দিল।
ভিডিও চালু হলো। ছয় মাস আগের দৃশ্য। ময়না চেয়ারম্যানের অফিসে বসে আছে। চেয়ারম্যান তাকে একটি ফাইল দিচ্ছে।
ময়না বলছে, “এই তালিকা যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রকৃত মানুষগুলো ভাতা পাবে তো?”
চেয়ারম্যান বলছে, “অবশ্যই।”
তারপর ভিডিও কেটে গিয়ে দেখা গেল—ময়নার স্বাক্ষর।
এরপর রুবেল একটি ফাইলে লিখছে—“ময়না—মৃত।”
ময়না পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ তার মনে পড়ল—ছয় মাস আগে সে সত্যিই চেয়ারম্যানের অফিসে গিয়েছিল। ভাতার তালিকা নিয়ে কথা বলতে। কিন্তু সেদিন তার সঙ্গে আরও একজন নারী ছিল—মায়া।
ময়না ধীরে ধীরে তাকাল।
“তুই কে?”
মায়া উত্তর দিল, “আমি সেই মানুষ, যাকে তুমি ছয় মাস আগে বাঁচাতে চেয়েছিলে।”
তদন্ত কর্মকর্তা অবাক হয়ে বললেন, “কী বলতে চাইছেন?”
মায়া ব্যাগ থেকে আরেকটি কাগজ বের করল। কাগজে লেখা—“প্রকৃত উপকারভোগীদের গোপন তালিকা।”
সেখানে চেয়ারম্যানের আত্মীয়দের নাম নেই। আছে—ময়না, রহিমা এবং আরও বহু প্রকৃত মানুষের নাম।
মায়া বলল, “চেয়ারম্যান সেই তালিকা বদলে ফেলেছিল। কিন্তু আসল তালিকার একটি কপি আমি রেখে দিয়েছিলাম।”
ময়না বুঝতে পারল—ছয় মাস ধরে যে অদৃশ্য মানুষটি তাকে সতর্ক করছিল, সে ছিল মায়া।
কিন্তু মায়া কেন তার মতো দেখতে?
মায়া ধীরে বলল—“আমি তোমার ছোটবেলার বোন।”
ময়না স্থির হয়ে গেল।
“আমার তো কোনো বোন নেই...”
মায়া বলল, “তোমাকে তাই বলা হয়েছিল।”
ঘরে নিস্তব্ধতা।
মায়া শেষ কথাটি বলল—“চেয়ারম্যান শুধু তোমার নামে ভুয়া মানুষ বানায়নি, ময়না। তোমার নিজের পরিবার, পরিচয়—সবকিছুর কিছু অংশ কাগজ থেকে মুছে দিয়েছিল।”
ময়না কোনো কথা বলতে পারল না।
তার সামনে পড়ে ছিল সরকারি তালিকা। তাতে লেখা—ময়না—মৃত।
সে কাগজটি হাতে নিল। কলম দিয়ে “মৃত” শব্দটির ওপর দাগ টেনে দিল।
নিচে লিখল—“জীবিত।”
তারপর আরও একটি বাক্য—“মানুষকে কাগজে মেরে ফেলা যায়, কিন্তু সত্যকে নয়।”
বাইরে তখন নতুন পোস্টার লাগানো হচ্ছিল—“প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করুন।”
ময়না পোস্টারের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, “পোস্টারে সত্যি লেখা সহজ। এবার দেখি, তালিকায় কে সত্যি লেখে।”
সে হাঁটতে শুরু করল।
পেছনে পড়ে রইল চেয়ারম্যানের অফিস, ভুয়া তালিকা, ভুয়া স্বাক্ষর, ভুয়া পরিচয়।
আর একটি প্রশ্ন—“একজন মানুষকে কতবার হত্যা করা যায়?”
ময়না জানত—শরীর একবার মরলে মানুষ মরে। কিন্তু কাগজে? কাগজে মানুষকে বারবার মেরে ফেলা যায়।
তারপরও সত্যি যদি বেঁচে থাকে—
“একদিন সেই মৃত মানুষই ফিরে এসে তালিকার বাইরে দাঁড়িয়ে পুরো তালিকাটাকেই প্রশ্ন করে।”</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/279484/</link>
				<pubDate>Sun, 27 Sep 2026 19:11:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মৃত মানুষের স্বাক্ষর<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>শহরের দেয়ালে সেদিন নতুন পোস্টার উঠেছিল। বড় বড় অক্ষরে লেখা—“অবহেলিত যৌনকর্মীদের জন্য সরকারি ভাতা—মানবিক রাষ্ট্রের নতুন অঙ্গীকার।” পোস্টারের নিচে হাসিমুখের কয়েকজন নারীর ছবি। মানুষ দাঁড়িয়ে পোস্টার দেখছিল। কেউ বলছিল, “ভালো উদ্যোগ।” কেউ বলছিল, “দেখা যাক, টাকা শেষ পর্যন্ত কার হাতে যায়!”<br />
পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-279484"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/279484/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c5dbc16f2d6bd92c167c2e849ca6ff07</guid>
				<title>মা-হারা ভাতিজা
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

মা-হারা এই ছোট্ট মুখে
কত যে প্রশ্ন জমে,
“মা কোথায়?”—নীরব চোখে
খোঁজে আপন মনে।

মায়ের কোলে ঘুম পাড়ানি
শোনে না আর রাতে,
মায়ের হাতের স্নেহের পরশ
নেই তো তারই সাথে।

খেলনা হাতে হাসে যখন,
হাসির আড়াল ব্যথা,
মায়ের ছবি বুকের মাঝে—
স্মৃতিই তার কথা।

বাবার বুকে মাথা রেখে
চুপটি করে রয়,
মায়ের শূন্য জায়গাটুকু
কেউ কি পূরণ হয়?

চাচার কোলে যখন আসে,
জড়িয়ে ধরে প্রাণ,
মা-হারা সেই শিশুটির
ভেঙে যায় অভিমান।

হে বিধাতা, এই শিশুটিকে
রেখো তোমার ছায়ায়,
মায়ের ভালোবাসার ঘাটতি
ভরিয়ে দিও মায়ায়।

বড় হয়ে যেন ভুলে না যায়
মায়ের দেওয়া ঋণ,
মায়ের ভালোবাসা বেঁচে থাকুক
তার হৃদয়জুড়ে চিরদিন।

মা নেই—তবু মায়ের স্মৃতি
থাকুক তারই পাশে,
মা-হারা এই ছোট্ট প্রাণটি
ফুল হয়ে একদিন হাসে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275837/</link>
				<pubDate>Sat, 19 Sep 2026 11:01:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মা-হারা ভাতিজা<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>মা-হারা এই ছোট্ট মুখে<br />
কত যে প্রশ্ন জমে,<br />
“মা কোথায়?”—নীরব চোখে<br />
খোঁজে আপন মনে।</p>
<p>মায়ের কোলে ঘুম পাড়ানি<br />
শোনে না আর রাতে,<br />
মায়ের হাতের স্নেহের পরশ<br />
নেই তো তারই সাথে।</p>
<p>খেলনা হাতে হাসে যখন,<br />
হাসির আড়াল ব্যথা,<br />
মায়ের ছবি বুকের মাঝে—<br />
স্মৃতিই তার কথা।</p>
<p>বাবার বুকে মাথা রেখে<br />
চুপটি করে রয়,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-275837"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/275837/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">31642e11f4e657ad7dde0a2cecd96327</guid>
				<title>হারিয়ে যাওয়া ধোপার ঘাট
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

১৯৮০ কিংবা ১৯৯০-এর দশকের কথা।

তখন জীবন আজকের মতো এত দ্রুত ছিল না। মানুষের ঘরে ঘরে ছিল মাটির গন্ধ, উঠোনে ছিল কুয়োর পানি, আর পুকুরঘাটে সকাল হলেই জমত মানুষের আনাগোনা। সেই ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কিছু মানুষের জীবন, কিছু মানুষের ঘাম, কিছু মানুষের স্বপ্ন—তাঁরা ছিলেন ধোপা।

সকালের আলো ফুটতেই কাঁধে কাপড়ের বোঝা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন হরিপদ ধোপা। কারও শাড়ি, কারও ধুতি, কারও পাঞ্জাবি, আবার কারও বিছানার চাদর—সবকিছু নিয়ে তিনি চলে যেতেন গ্রামের পুরোনো পুকুরঘাটে।

কাপড় পানিতে ভিজিয়ে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ত তাঁর হাত।

ছপ্… ছপ্… ছপ্…

সেই শব্দ যেন ছিল গ্রামের সকালের এক চেনা সুর।
দূর থেকে স্ত্রী সরলা মাঝে মাঝে বলতেন,
—“আর কত পরিশ্রম করবে? শরীর তো আর আগের মতো নেই।”
হরিপদ মৃদু হেসে বলতেন,
—“পরিশ্রম না করলে সংসার চলবে কী করে?”

সারাদিন মানুষের কাপড় পরিষ্কার করতেন তিনি। রোদে শুকাতেন, ভাঁজ করতেন, কখনো ইস্ত্রি করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন। সন্ধ্যায় যখন ফিরতেন, শরীরে থাকত সারাদিনের ক্লান্তি, হাতে পানির দাগ আর জামাকাপড়ে লেগে থাকত সাবানের গন্ধ।
তবুও মুখে থাকত এক ধরনের তৃপ্তি।

কারণ তিনি জানতেন—তিনি শুধু কাপড় পরিষ্কার করেন না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে একটু সহজ করে দেন।
বছরের পর বছর এভাবেই কেটে গেল।
তারপর একদিন সময় বদলাতে শুরু করল।

গ্রামে এল আধুনিকতা। শহরে গড়ে উঠল লন্ড্রি। ঘরে ঘরে ঢুকে পড়ল ওয়াশিং মেশিন। মানুষের জীবন হয়ে উঠল দ্রুততর।

ধীরে ধীরে পুকুরঘাটের ভিড় কমে গেল।

এক সকালে হরিপদ কাপড়ের বোঝা নিয়ে ঘাটে এসে দাঁড়িয়ে দেখলেন—চারপাশে কেউ নেই।

যে ঘাটে একসময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাপড় ধোয়ার শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন শুধু বাতাসের শব্দ।

হরিপদ ধীরে ধীরে ঘাটের সিঁড়িতে বসে পড়লেন।

চোখের সামনে ভেসে উঠল পুরোনো দিনগুলো।

কত মানুষের কাপড় তিনি ধুয়েছেন!

কত বিয়ের শাড়ি, কত পূজার নতুন পোশাক, কত পরিবারের সাদা ধুতি, কত শিশুর জামা—সব তাঁর হাতের স্পর্শ পেয়েছে।

হঠাৎ তাঁর মনে হলো, তিনি শুধু কাপড়ই ধুয়ে দেননি—এই ঘাটে বসে তিনি যেন একটি সময়কেও ধুয়ে, মুছে, ধরে রেখেছিলেন।
কিন্তু সময় কারও জন্য থেমে থাকে না।
হরিপদের ছেলে অমল বাবার পেশায় আসেনি। সে শহরে গিয়ে অন্য কাজ নিয়েছিল।

একদিন অমল বাবার পাশে বসে বলল,
—“বাবা, তোমার সেই ঘাটে এখন আর কেউ আসে?”
হরিপদ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর মৃদু হেসে বললেন,
—“না রে। ঘাটটা আছে… কিন্তু কাজটা আর নেই।”
কথাটা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে এল।

অমল বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল—বাবা আসলে শুধু ঘাটের কথা বলছেন না।

তিনি বলছেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া যৌবনের কথা, হারিয়ে যাওয়া পেশার কথা, হারিয়ে যাওয়া এক পৃথিবীর কথা।
অমল বাবার হাতের দিকে তাকাল।
খসখসে, শক্ত হয়ে যাওয়া সেই হাত—কত বছরের শ্রমের সাক্ষী!
সে ধীরে বাবার হাতটা নিজের হাতে তুলে নিল।

হরিপদ বললেন,

—“মানুষ বদলাবে, কাজ বদলাবে, সমাজ বদলাবে—এটাই স্বাভাবিক। এখন কাপড় পরিষ্কারের কাজ বিভিন্ন আধুনিক সেবা ও নানা মানুষের হাতে চলে গেছে। আমাদের পুরোনো পেশার সেই পরিচয়ও আর আগের মতো নেই।”

একটু থেমে তিনি বললেন,

—“কিন্তু রে অমল, একটা কথা মনে রাখিস—কোনো সৎ কাজ কখনো ছোট নয়। যারা ঘামের বিনিময়ে মানুষের জীবনকে একটু সহজ করে, তাদের সম্মান করতে হয়।”

অমল কোনো উত্তর দিল না।
শুধু বাবার হাতটা আরও শক্ত করে ধরে রইল।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
পুকুরের পানিতে ডুবে যাচ্ছে সূর্যের শেষ আলো।

হরিপদ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর একবার পেছন ফিরে তাকালেন সেই পুরোনো ঘাটের দিকে।

ঘাটটি নীরব।

কোনো কাপড়ের বোঝা নেই।
কোনো সাবানের ফেনা নেই।
কোনো মানুষের কোলাহল নেই।

শুধু বাতাসের ভেতর কোথাও যেন ভেসে আসছে সেই বহু বছরের পুরোনো শব্দ—
ছপ্… ছপ্… ছপ্…
হরিপদ চোখ মুছে ফিসফিস করে বললেন,
—“সবকিছু হারিয়ে যায় না রে… কিছু জিনিস মানুষের স্মৃতির ভেতর বেঁচে থাকে।”
অমল বাবার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।
দুজনের ছায়া তখন সন্ধ্যার আলোয় পুকুরের পানিতে পাশাপাশি পড়েছে।

পুরোনো ঘাটটি নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল—যেন সে-ও জানে, তার বুকের ওপর দিয়ে একটি যুগ চলে গেছে।

একটি পেশা বদলে গেছে।
একটি জীবন বদলে গেছে।
একটি প্রজন্ম হারিয়ে গেছে।

কিন্তু সেই পাথরের ওপর পড়া হাতের শব্দ, সেই সাবানের গন্ধ, সেই ঘামের গল্প—কীভাবে যেন সময়ের বুক চিরে আজও ফিরে আসে।

ধোপার ঘাট হয়তো হারিয়ে গেছে,
কিন্তু সেই ঘাটে ঝরে পড়া শ্রমিকের ঘাম হারিয়ে যায়নি।
কারণ ইতিহাস শুধু রাজা-বাদশার গল্পে লেখা হয় না—
ইতিহাস লেখা হয় হরিপদের মতো সাধারণ মানুষের শ্রম, ঘাম আর নীরব আত্মত্যাগেও।
সময় বদলে যায়, পেশা বদলে যায়, মানুষ বদলে যায়—
কিন্তু শ্রমের মর্যাদা কখনো পুরোনো হয় না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275558/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Sep 2026 14:54:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হারিয়ে যাওয়া ধোপার ঘাট<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>১৯৮০ কিংবা ১৯৯০-এর দশকের কথা।</p>
<p>তখন জীবন আজকের মতো এত দ্রুত ছিল না। মানুষের ঘরে ঘরে ছিল মাটির গন্ধ, উঠোনে ছিল কুয়োর পানি, আর পুকুরঘাটে সকাল হলেই জমত মানুষের আনাগোনা। সেই ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কিছু মানুষের জীবন, কিছু মানুষের ঘাম, কিছু মানুষের স্বপ্ন—তাঁরা ছিলেন ধোপা।</p>
<p>সকালের আলো ফুটতে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-275558"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/275558/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a0a5731c615a922512a715d993018a61</guid>
				<title>জীবনের স্রোতধারা

&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

আজও তোমার স্মৃতি নামে নীরব বৃষ্টির জলে,
পুরোনো সেই ব্যথাগুলো ঢেউ তোলে বুকের তলে।
যে ভালোবাসা হারিয়ে গেছে সময়েরই স্রোতে,
তারই ছায়া হেঁটে বেড়ায় নিঃসঙ্গ রাতের পথে।

মেঘেরা আজ পাহাড় হয়ে নামে আমার আকাশে,
জীবন যেন অচেনা এক গলিপথে ভাসে।
অপূর্ণ স্বপ্নের ভেলা বিষাক্ত জলে দোলে,
না-বলা কত কান্না জমে নীরবতার কোলে।

মরুভূমির উত্তাপে শুকিয়ে যায় আশাগুলো,
চোখের কোণে জমে থাকে হারিয়ে যাওয়া আলো।
কত কথা বলতে চেয়েও ঠোঁট থেমে যায় শেষে,
কত আপন হারিয়ে যায় সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে।

তবু জীবন থামে না—বয়ে চলে অবিরাম,
বুকের ভেতর ক্ষত নিয়েও খুঁজে ফেরে অবকাশ।
জীবন মানে হারিয়ে গিয়েও স্রোতের সাথে চলা,
অন্ধকারের শেষ প্রান্তে একদিন আলো জ্বলা।
উপরের লেখাটি ও ছবিটি দিয়ে একটি পোস্টার তৈরি করে দাও</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275516/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Sep 2026 10:45:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবনের স্রোতধারা</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>আজও তোমার স্মৃতি নামে নীরব বৃষ্টির জলে,<br />
পুরোনো সেই ব্যথাগুলো ঢেউ তোলে বুকের তলে।<br />
যে ভালোবাসা হারিয়ে গেছে সময়েরই স্রোতে,<br />
তারই ছায়া হেঁটে বেড়ায় নিঃসঙ্গ রাতের পথে।</p>
<p>মেঘেরা আজ পাহাড় হয়ে নামে আমার আকাশে,<br />
জীবন যেন অচেনা এক গলিপথে ভাসে।<br />
অপূর্ণ স্বপ্নের ভেলা বিষাক্ত জলে দোলে,<br />
না-বলা কত কান্না জমে নী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-275516"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/275516/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e87247893cbf2f6e12bbe59592b8954a</guid>
				<title>লামডিং থেকে ফিরে আসা ভালোবাসা
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

বাংলাদেশের একটি শহরে থাকত রতন। সাধারণ জীবন, সাধারণ স্বপ্ন। প্রতিদিনের ব্যস্ততার বাইরে তার নিজের জন্য খুব বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু একদিন ফেসবুকের একটি বন্ধুত্বের অনুরোধ তার জীবনের গল্পটাই বদলে দিল।

নাম—পূজা।

প্রোফাইল দেখে রতন জানতে পারল, মেয়েটি ভারতের আসাম প্রদেশের লামডিং শহরে থাকে।

প্রথমে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব।

বন্ধুত্ব থেকে নিয়মিত কথা।

আর সেই কথার ভেতর দিয়েই কখন যে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নিয়েছিল, তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।

১. প্রথম পরিচয়

—“আপনি বাংলাদেশে থাকেন?”

পূজার প্রথম দিকের একটি মেসেজ ছিল।

রতন লিখেছিল—

—“হ্যাঁ। বাংলাদেশে। আপনি?”

—“আমি আসামে।”

—“আসামের কোথায়?”

—“লামডিং।”

রতন তখন লামডিং সম্পর্কে খুব বেশি জানত না। কিন্তু সেদিন থেকে শহরটির নাম তার কাছে অদ্ভুতভাবে পরিচিত হয়ে গেল।

এরপর প্রতিদিন কথা হতে লাগল।

কখনো সকালবেলা—

“ঘুম থেকে উঠেছেন?”

কখনো দুপুরে—

“খাওয়া হয়েছে?”

কখনো গভীর রাতে—

“আজ এত চুপচাপ কেন?”

এই ছোট ছোট কথাগুলোই ধীরে ধীরে তাদের জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠল।

২. চার বছরের পথ

চার বছর খুব কম সময় নয়।

এই চার বছরে তাদের মধ্যে কত অভিমান হয়েছে, কত হাসি, কত স্বপ্ন—তার কোনো হিসাব ছিল না।

দুজনেই জানত, তারা দুই দেশের মানুষ।

তবু হৃদয়ের কাছে দেশ, সীমান্ত, দূরত্ব—এসব যেন কোনো অর্থ বহন করত না।

রতন মাঝে মাঝে বলত—

—“একদিন তোমার শহরে যাব।”

পূজা হেসে উত্তর দিত—

—“সত্যি আসবে?”

—“হ্যাঁ।”

—“কথা দাও?”

—“কথা দিলাম।”

কথাটা হয়তো তখন শুধু একটি প্রতিশ্রুতি ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতিই রতনের কাছে হয়ে উঠল একটি স্বপ্ন।

৩. লামডিং যাত্রা

অবশেষে সেই দিন এল।

রতন বাংলাদেশ থেকে আসামের পথে রওনা হলো।

যতই লামডিংয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ততই তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল।

চার বছর ধরে যার সঙ্গে কথা বলেছে, তাকে এবার সামনাসামনি দেখবে।

মোবাইলের পর্দার মানুষটি এবার বাস্তবের মানুষ হবে।

লামডিং পৌঁছে রতনের মনে হলো, শহরটি যেন তার কাছে আগে থেকেই পরিচিত।

কারণ এই শহরের প্রতিটি গল্প সে এতদিন পূজার মুখে শুনেছে।

তারপর দেখা হলো।

কথা হলো।

দুজনের চোখে ছিল দীর্ঘদিনের অপেক্ষা।

সাক্ষাৎটা হয়তো খুব দীর্ঘ ছিল না।

কিন্তু রতনের কাছে সেটুকুই ছিল এক জীবনের স্মৃতি।

ফিরে আসার সময় তার মনে হয়েছিল—

“এই দেখা কি আবার কখনো হবে?”

পূজা হয়তো তখনও ভাবেনি, এই বিদায়ই একদিন তাদের শেষ দেখা হয়ে থাকবে।

৪. বাংলাদেশে ফিরে

রতন বাংলাদেশে ফিরে এল।

দুজনের যোগাযোগ তখনও ছিল।

কিন্তু আগের মতো সহজ ছিল না সবকিছু।

কখনো রতন ব্যস্ত থাকত।

কখনো পূজা।

কখনো একটি কথার উত্তর দেরিতে আসত।

কখনো একটি সাধারণ বাক্যও ভুলভাবে বোঝা হতো।

ছোট ছোট অভিমান জমতে জমতে একসময় বড় দেয়াল তৈরি হলো।

রতন ভাবত—

“পূজা কি বদলে গেছে?”

পূজাও হয়তো ভাবত—

“রতন কি আর আগের মতো আমাকে গুরুত্ব দেয়?”

কেউই হয়তো সত্যিটা জানতে চাওয়ার আগে নিজের নিজের ধারণাকে সত্যি ধরে নিয়েছিল।

আর সেখানেই শুরু হলো দূরত্ব।

৫. শেষ কয়েকটি দিন

এক রাতে পূজা মেসেজ করল—

—“রতন, তুমি কি এখনো আগের মতো আছ?”

রতন কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকল।

তারপর লিখল—

—“আমি তো বদলাইনি। তুমি এমন ভাবছ কেন?”

পূজা উত্তর দিল—

—“তোমার কথাবার্তা বদলে গেছে।”

—“তুমি আমাকে ভুল বুঝছ।”

—“হয়তো।”

—“হয়তো নয়, তুমি সত্যিই ভুল বুঝছ।”

কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।

তারপর পূজা লিখল—

—“সবকিছু কি এত সহজ?”

রতন বলল—

—“না, সহজ নয়। কিন্তু কথা বললে সব বোঝানো যায়।”

পূজা দীর্ঘ সময় পর লিখল—

—“সব কথা কি আর বলা যায়?”

রতন থেমে গেল।

এই একটি বাক্য যেন তার বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা তৈরি করল।

সে লিখল—

—“তাহলে তুমি আমাকে কী বলতে চাও?”

অনেকক্ষণ পর পূজার উত্তর এল—

—“আমি জানি না।”

রতন লিখল—

—“চার বছর পরেও তুমি জানো না?”

পূজা কোনো উত্তর দিল না।

৬. শেষ কথোপকথন

কয়েকদিন পর এক রাতে আবার তাদের কথা হলো।

সেদিন দুজনেই বুঝতে পারছিল, সম্পর্কটা আগের জায়গায় নেই।

রতন লিখল—

—“পূজা, আমাদের মধ্যে কী হয়েছে?”

পূজা বলল—

—“জানি না।”

—“আমরা কি আর আগের মতো হতে পারব না?”

—“হয়তো পারব না।”

রতনের হাত থেমে গেল।

কিছুক্ষণ পর সে লিখল—

—“তুমি কি সত্যিই এটা চাও?”

পূজা উত্তর দিল—

—“আমি চাই না আমাদের মধ্যে এত কষ্ট থাকুক।”

—“কষ্ট তো ছিল, কিন্তু ভালোবাসাও ছিল।”

—“ছিল।”

—“শুধু ‘ছিল’?”

পূজা অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিল না।

তারপর লিখল—

—“রতন, কিছু সম্পর্ক খুব সুন্দর হয়। কিন্তু সব সুন্দর সম্পর্কের শেষ বিয়ে দিয়ে হয় না।”

রতন দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর লিখল—

—“তাহলে আমাদের চার বছর?”

পূজা উত্তর দিল—

—“মিথ্যে ছিল না।”

—“তাহলে শেষ কেন?”

—“হয়তো আমরা একে অপরকে ভালোবেসেছি, কিন্তু একে অপরকে ঠিকভাবে বুঝতে পারিনি।”

রতনের চোখের সামনে তখন লামডিংয়ের সেই দিনটি ভেসে উঠল।

সে লিখল—

—“তোমার সঙ্গে দেখা করতে আমি এত দূর গিয়েছিলাম।”

পূজা বলল—

—“আমি জানি।”

—“তোমার শহরে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, এত দূরত্ব পেরিয়ে যখন তোমার কাছে আসতে পেরেছি, তখন আর কিছুই অসম্ভব নয়।”

পূজা লিখল—

—“আমারও সেদিন অনেক কিছু মনে হয়েছিল।”

—“আজ তাহলে কী হলো?”

—“সময় বদলে গেছে।”

রতন লিখল—

—“সময় বদলেছে, নাকি আমরা?”

পূজা বলল—

—“দুজনেই হয়তো।”

কিছুক্ষণ কেউ কিছু লিখল না।

তারপর রতন শেষবারের মতো প্রশ্ন করল—

—“তুমি কি আমাকে আর ভালোবাসো না?”

অনেকক্ষণ পর উত্তর এল—

—“এই প্রশ্নের উত্তর দিলে হয়তো তোমার কষ্ট আরও বাড়বে।”

রতন লিখল—

—“তবুও জানতে চাই।”

পূজা লিখল—

—“ভালোবাসা কখনো কখনো থেকে যায়, কিন্তু সম্পর্কটা আর থাকে না।”

রতনের চোখে পানি চলে এসেছিল।

সে লিখল—

—“তাহলে আমাকে কী করতে হবে?”

পূজা বলল—

—“আমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো।”

রতন লিখল—

—“চার বছরকে কি এত সহজে ভুলে যাওয়া যায়?”

পূজা বলল—

—“না। ভুলে যেতে হবে না। শুধু মেনে নিতে হবে।”

রতন শেষবার লিখল—

—“তুমি সুখী হও।”

পূজা উত্তর দিল—

—“তুমিও।”

তারপর কিছুক্ষণ পর আর কোনো মেসেজ এল না।

রতন ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

অনলাইনের সবুজ চিহ্নটি একসময় অদৃশ্য হয়ে গেল।

সেদিনই শেষ হয়ে গেল তাদের নিয়মিত কথোপকথন।

৭. শেষ মেসেজের পর

সেই রাতের পর রতন বহুবার ফোন হাতে নিয়েছে।

ফেসবুক খুলেছে।

পুরোনো মেসেজ পড়েছে।

কখনো লিখতে চেয়েছে—

“কেমন আছ?”

কিন্তু পাঠায়নি।

কারণ সে বুঝেছিল, কিছু দরজা একবার বন্ধ হয়ে গেলে বারবার কড়া নাড়লে দরজা খোলে না—শুধু ভেতরের স্মৃতিগুলো আরও অস্থির হয়ে ওঠে।

একদিন রতন পুরোনো ছবিগুলো দেখতে বসেছিল।

লামডিংয়ের ছবি।

সেই শহরের রাস্তা।

সেই দিনের কিছু স্মৃতি।

তার মনে হলো, মানুষ কখনো কখনো একটি শহরকে ভালোবাসে শুধু শহরটির জন্য নয়—সেখানে রেখে আসা একজন মানুষের জন্য।

রতনের কাছে লামডিংও তেমন হয়ে গেল।

৮. অসমাপ্ত ভালোবাসা

তাদের বিয়ে হয়নি।

একসঙ্গে সংসারও হয়নি।

তবু চার বছরের ভালোবাসাকে অস্বীকার করার মতো মানুষ রতন ছিল না।

সে জানত, পূজা তার জীবনের একটি অধ্যায়।

সেই অধ্যায় শেষ হয়েছে।

কিন্তু বই থেকে কোনো অধ্যায় মুছে ফেললেই তো তার অস্তিত্ব মুছে যায় না।

কিছু স্মৃতি মানুষ সঙ্গে করে নিয়ে চলে।

কিছু নাম উচ্চারণ না করেও মনে রাখা যায়।

আর কিছু মানুষ জীবনে ফিরে না এলেও জীবনের গল্পে চিরকাল থেকে যায়।

পূজা তেমনই একজন।

৯. বহুদিন পর

অনেকদিন পর এক সন্ধ্যায় রতন বারান্দায় বসেছিল।

আকাশে মেঘ ছিল।

দূরে কোথাও বৃষ্টির গন্ধ।

হঠাৎ তার মনে পড়ল লামডিংয়ের কথা।

মনে পড়ল সেই মেয়েটির কথা, যে একসময় তাকে প্রতিদিন জিজ্ঞেস করত—

“খেয়েছ?”

রতন মৃদু হেসে ফেলল।

কিছুক্ষণ পর সেই হাসি আবার বিষণ্ণতায় বদলে গেল।

সে মনে মনে বলল—

“পূজা, তুমি হয়তো আজ অনেক দূরে। হয়তো তোমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু আমার জীবনের চারটি বছর তুমি হয়ে আছো একটি স্মৃতি।”

তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে সে বলল—

“আমাদের গল্পের শেষটা আমি বদলাতে পারব না। শুধু এতটুকু চাই—তুমি ভালো থেকো।”

১০. শেষ কথা

ভালোবাসার সব গল্পের শেষ এক হয় না।

কেউ ভালোবেসে বিয়ে করে।

কেউ ভালোবেসে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আবার কেউ ভালোবেসে সারাজীবন সেই মানুষটির স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।

রতন ও পূজার গল্পও তেমনই।

বাংলাদেশের রতন আর ভারতের লামডিংয়ের পূজা—দুই দেশের দুই মানুষ।

চার বছরের ভালোবাসা।

একটি বাস্তব সাক্ষাৎ।

একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন।

আর কিছু ভুল বোঝাবুঝি, যা ধীরে ধীরে তাদের আলাদা করে দিল।

তাদের মধ্যে বিবাহবন্ধন হয়নি।

কিন্তু তাদের ভালোবাসার স্মৃতির সঙ্গে কোনো কাগজের চুক্তির প্রয়োজনও ছিল না।

আজ হয়তো রতন বাংলাদেশের কোনো শহরে বসে পুরোনো স্মৃতি মনে করে।

আর লামডিংয়ের কোনো এক সন্ধ্যায় পূজাও হয়তো কখনো সেই পুরোনো দিনগুলোর কথা ভাবে।

তারা হয়তো আর একে অপরকে কিছু বলে না।

কিন্তু দুজনেই জানে—

একসময় তারা সত্যিই একে অপরকে ভালোবেসেছিল।

আর সেই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে আছে একটি শহরের নাম—

লামডিং।

যেখানে রতন একদিন দূরদেশ পেরিয়ে গিয়েছিল ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে।

আর সেখান থেকেই ফিরে এসেছিল এমন একটি স্মৃতি নিয়ে, যা হয়তো কোনোদিন পুরোপুরি মুছে যাবে না।

কিছু ভালোবাসা সংসার পায় না,
কিছু ভালোবাসা শুধু স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে।
আর কিছু গল্প শেষ হয় না—
শুধু শেষ অধ্যায়ের পর আর কোনো পৃষ্ঠা লেখা হয় না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274915/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:24:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লামডিং থেকে ফিরে আসা ভালোবাসা<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>বাংলাদেশের একটি শহরে থাকত রতন। সাধারণ জীবন, সাধারণ স্বপ্ন। প্রতিদিনের ব্যস্ততার বাইরে তার নিজের জন্য খুব বেশি কিছু ছিল না। কিন্তু একদিন ফেসবুকের একটি বন্ধুত্বের অনুরোধ তার জীবনের গল্পটাই বদলে দিল।</p>
<p>নাম—পূজা।</p>
<p>প্রোফাইল দেখে রতন জানতে পারল, মেয়েটি ভারতের আসাম প্রদেশের লামডিং শহরে থাকে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-274915"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/274915/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d33f001432bd34617c4aad4da3cb4113</guid>
				<title>কফিনে পা

&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

কফিনের ওপর পা রেখেছ—
কীসের এত দম্ভ?
মৃত মানুষের শেষ ঠিকানায়
কেন এমন অমানবিক গর্জন?

হিংসা যদি বুক ভরিয়ে দেয়,
মানবতা যায় কোথায়?
মৃতের প্রতি সম্মানটুকুও
আজ কি তবে হারায়?

তুমি তাকে মানো না—
সে তোমার নিজস্ব কথা,
তাই বলে কি মৃত মানুষকে
দেবে অপমানের ব্যথা?

মানুষ মাত্রই ভুলে ভরা,
দোষে-গুণে মানুষ;
মৃত্যুর পরে প্রতিহিংসা—
এ কেমন অমানুষ?

আজ তোমার হাতে ক্ষমতার দাপট,
আজ তোমার মুখে হাসি;
কাল সময়ের নিয়ম মেনে
থামবে তোমারও বাঁশি।

সেদিন কে করবে তোমার গোসল,
কে পরাবে সাদা কাফন?
যে সম্মান আজ দিলে না অন্যকে,
পাবে কি তার প্রতিদান?

মৃত মানুষ আর কথা বলে না,
তবু তারও অধিকার—
শেষ বিদায়ে সম্মান পাওয়া,
এটাই মানবতার অঙ্গীকার।

মৃতের বিচার মানুষ নয়—
বিচার সময়ের হাতে;
কফিনে পা নয়, মাথা নত হোক
মানবতারই পথে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/274914/</link>
				<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 19:23:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কফিনে পা</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>কফিনের ওপর পা রেখেছ—<br />
কীসের এত দম্ভ?<br />
মৃত মানুষের শেষ ঠিকানায়<br />
কেন এমন অমানবিক গর্জন?</p>
<p>হিংসা যদি বুক ভরিয়ে দেয়,<br />
মানবতা যায় কোথায়?<br />
মৃতের প্রতি সম্মানটুকুও<br />
আজ কি তবে হারায়?</p>
<p>তুমি তাকে মানো না—<br />
সে তোমার নিজস্ব কথা,<br />
তাই বলে কি মৃত মানুষকে<br />
দেবে অপমানের ব্যথা?</p>
<p>মানুষ মাত্রই ভুলে ভরা,<br />
দোষে-গুণে মানুষ;&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-274914"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/274914/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">42b5c4f410d73d2290c39b8defc6798b</guid>
				<title>শেষ আশ্রয়
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

সবাই আমাকে পর করবে,
শ্মশান আমাকে করবে আপন—
জীবনের যত পরিচিত মুখ
মুছে যাবে একে একে ক্ষণ।

যাদের জন্য স্বপ্ন বুনি,
যাদের জন্য এত আয়োজন,
সময় শেষে তারাই হয়তো
হারিয়ে যাবে অচেনা ক্ষণ।

হাসির দিনে কত আপনজন,
দুঃখ এলে নীরব সবাই;
তবু এই মন ভালোবাসা খোঁজে,
হার মানে না—ভেঙে পড়েও তাই।

শেষ বিকেলের নিঃশব্দ পথে
যখন থামবে জীবনের গান,
তখনও যেন রয়ে যায়
মানুষ হয়ে বাঁচার প্রমাণ।

সবাই আমাকে পর করলেও
হৃদয় যেন না হয় পাথর—
মানুষের মাঝে ভালোবাসা রেখে
জীবন হোক তার চেয়েও সুন্দর।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272460/</link>
				<pubDate>Thu, 10 Sep 2026 12:26:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শেষ আশ্রয়<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>সবাই আমাকে পর করবে,<br />
শ্মশান আমাকে করবে আপন—<br />
জীবনের যত পরিচিত মুখ<br />
মুছে যাবে একে একে ক্ষণ।</p>
<p>যাদের জন্য স্বপ্ন বুনি,<br />
যাদের জন্য এত আয়োজন,<br />
সময় শেষে তারাই হয়তো<br />
হারিয়ে যাবে অচেনা ক্ষণ।</p>
<p>হাসির দিনে কত আপনজন,<br />
দুঃখ এলে নীরব সবাই;<br />
তবু এই মন ভালোবাসা খোঁজে,<br />
হার মানে না—ভেঙে পড়েও তাই।</p>
<p>শেষ বিকেলের ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272460"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272460/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cef20c0ce66dc7535079db547768fd32</guid>
				<title>&#x1f33a; মায়ের চরণে আশ্রয় &#x1f33a;
           &#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

আরতি করি তোমার নামে,
তবু কেন খুঁজে পাই না
তোমার চরণ-ছায়?
ধূপ জ্বালি, দীপ জ্বালি,
অশ্রু দিয়ে আঁচল ভিজাই—
তবু মা, কেন দূরে রয়?

শিউলি ঝরে ভোরের বুকে,
তোমার নামটি জাগে সুখে,
শঙ্খ বাজে মন্দির-দ্বারে;
আমি শুধু একলা বসে
ডাকি তোমায় বুকের কাঁপনে—
“মা, এসো আমার অন্ধকারে।”

লাল জবা দিই তোমার পায়ে,
রক্তিম সূর্য ওঠে গায়ে,
ঢাকের তালে কাঁপে ধরা;
তবু আমার অন্তর-মাঝে
কেন মা গো আঁধার সাজে,
কেন তুমি দাও না সাড়া?

আমি কি তবে পাপী এত,
তাই কি মা গো, তোমার কাছে
আমার কোনো স্থান নেই?
নাকি আমার অহংকারে
ঢেকে গেছে তোমার দ্বারটি—
তাই তো তোমায় পাই না চেয়ে।

মা, আমি ধন চাই না আর,
চাই না কোনো রাজ-অধিকার,
চাই না স্বর্গের সুখ;
শুধু যখন জীবনভরা
দুঃখ এসে বুকটা পোড়ায়,
রেখো মা গো তোমার হাতটি মুখে।

যেদিন সবাই যাবে চলে,
আপন বলে কেউ না বলে,
নিভে যাবে ঘরের আলো—
সেদিন মা গো, আঁধার রাতে
তোমার চরণ রাখো মাথায়,
বলো শুধু—“ভয় নেই, আমি আছি ভালো।”

যদি আমার পূজার থালা
অশ্রু দিয়ে হয় ভাসানো,
তবু নিও মা সেই অর্ঘ্য;
যদি আমার মন্ত্র ভুলে
শুধু “মা” শব্দটি আসে মুখে,
সেই ডাকেই দিও সাড়া অমোঘ।

আরতি করি তোমার নামে—
আজ আর কোনো অভিমান নেই।
তুমি যদি দূরেও থাকো,
তবু জানি, মা—
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের গভীরে
তোমারই অদৃশ্য ছায়া রয়।

শেষ প্রহরে যখন মা গো
থেমে যাবে আমার বাঁশি,
চোখের আলো যাবে নিভে—
তখন যেন শেষ দেখাটুকু
হয় তোমার রাঙা চরণ,
শেষ কথাটি—“মা” হয়ে রবে।

কোনো মন্দির চাই না তখন,
চাই না ধূপ, চাই না দীপ,
চাই না ফুলের ভার—
শুধু তোমার চরণতলে
একটুখানি মাটি দিও,
যেখানে রেখে যাব
আমার সমস্ত ক্লান্তি,
সমস্ত কান্না,
সমস্ত অহংকার।

মা, জন্মে যদি আবার আসি—
তোমারই সন্তান হয়ে আসি;
আর যদি জন্ম না থাকে,
তবে এইটুকু বর দিও—
তোমার চরণে একবার
চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়ি।

আরতি করি তোমার নামে—
এই আমার শেষ আরতি।
দীপ নিভে যাক, ধূপ থেমে যাক,
ঢাকের শব্দ স্তব্ধ হোক—
শুধু তোমার আঁচলখানি
ঢেকে রাখুক আমার প্রাণ।

মা, পৃথিবী যদি আমাকে ভুলেও যায়—
তুমি যেন ভুলে যেও না।
কারণ তোমার সন্তান হয়ে
তোমার দ্বারেই যদি ঠাঁই না পাই—
তবে এই বিশাল পৃথিবীতেও
আমার আর কোনো আশ্রয় নেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/271650/</link>
				<pubDate>Tue, 08 Sep 2026 13:45:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f33a; মায়ের চরণে আশ্রয় &#x1f33a;<br />
           &#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>আরতি করি তোমার নামে,<br />
তবু কেন খুঁজে পাই না<br />
তোমার চরণ-ছায়?<br />
ধূপ জ্বালি, দীপ জ্বালি,<br />
অশ্রু দিয়ে আঁচল ভিজাই—<br />
তবু মা, কেন দূরে রয়?</p>
<p>শিউলি ঝরে ভোরের বুকে,<br />
তোমার নামটি জাগে সুখে,<br />
শঙ্খ বাজে মন্দির-দ্বারে;<br />
আমি শুধু একলা বসে<br />
ডাকি তোমায় বুকের কাঁপনে—<br />
“মা, এসো আমার অন্ধকারে।”&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-271650"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/271650/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">be3e9b0e77b69695a5ef30660f93f618</guid>
				<title>&#x1f338; মা ও মেয়ের ভালোবাসা &#x1f338;

&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায় 

মায়ের আঁচল জুড়ে মেয়ের ছোট্ট হাসি,
সেই তো যেন স্বর্গসুখ, সেই তো ভালোবাসি।
মায়ের চোখে মেয়েটি এক টুকরো চাঁদ,
তার হাসিতে মুছে যায় জীবনের বিষাদ।

মেয়ের ছোট্ট হাতটি যখন মায়ের হাত ধরে,
কৃষ্ণ যেন বাঁশি বাজান নীল যমুনার তীরে।
মায়ের বুকে মাথা রেখে মেয়ের মিষ্টি ঘুম,
সেই দৃশ্যের কাছে হার মানে পৃথিবীর সব সুখ।

মা বলে— “তুই আমার প্রাণ, তুই আমার আলো,”
মেয়ে বলে— “মা তুমি থাকলেই পৃথিবীটা ভালো।”
একজন দেয় মায়া, অন্যজন দেয় হাসি,
এই বন্ধনেই লুকিয়ে থাকে ভালোবাসার রাশি।

জীবন যদি কখনো আনে দুঃখের কালো রাত,
মায়ের ছায়া হয়ে থাকে মেয়েরই পাশে হাত।
মেয়ের চোখে জল এলে মায়ের বুকও কাঁদে,
এই মায়ার বাঁধন কোনোদিন কি সহজে ভাঙে?

হে কৃষ্ণ, রাখো তুমি এই দুটি প্রাণ,
মায়ের মুখে হাসি দাও, মেয়ের হৃদয়ে গান।
রাধার মতো মধুর হোক তাদের ভালোবাসা,
তোমার চরণে থাকুক তাদের সকল আশা।

মা আর মেয়ের এই পবিত্র বন্ধন—
কৃষ্ণের বাঁশির সুরের মতোই চিরমধুর হোক,
একজনের হৃদয়ে অন্যজনের ঠিকানা থাকুক
আজ, আগামীকাল এবং অনন্তকাল। &#x1f33a;&#x1f99a;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/271297/</link>
				<pubDate>Mon, 07 Sep 2026 19:11:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f338; মা ও মেয়ের ভালোবাসা &#x1f338;</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>মায়ের আঁচল জুড়ে মেয়ের ছোট্ট হাসি,<br />
সেই তো যেন স্বর্গসুখ, সেই তো ভালোবাসি।<br />
মায়ের চোখে মেয়েটি এক টুকরো চাঁদ,<br />
তার হাসিতে মুছে যায় জীবনের বিষাদ।</p>
<p>মেয়ের ছোট্ট হাতটি যখন মায়ের হাত ধরে,<br />
কৃষ্ণ যেন বাঁশি বাজান নীল যমুনার তীরে।<br />
মায়ের বুকে মাথা রেখে মেয়ের মিষ্টি ঘুম,<br />
সেই দৃশ্যের কাছে হার মানে পৃথিবীর সব সুখ।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-271297"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/271297/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f96f2f3be1f354e0bb7b837cfc6b6534</guid>
				<title>ডাস্টবিনের অন্ন ও উঁচুতলার নীতি
&#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় 

আজও মানুষ আহার খোঁজে ডাস্টবিনের অন্ন, বিলাসবহুল এই সমাজে অন্ধ যে জনগণ। সচেতন সবেই স্বার্থের মোহে আজ যে অচেতন, পথের পশে পড়ে রয় প্রাণ, দেখে না কো কোনো মন।

ছেঁড়া ছেঁড়া ছেঁড়া কাপড়ে জড়িয়ে দেহ, রেললাইনের পাশে ঝুপড়িতে কাটায় গৃহ। রোদ আর বৃষ্টির মাঝে সয় কত যন্ত্রণা, স্থায়ী এক খণ্ড ঠাঁই পাওয়ার নেই কোনো সম্ভাবনা।

উঁচু তলায় বসে বিলাসিতায় দোলে যেসব নেতা, ভোটের কালে মুখে ফুটুক সোনার দেশের কথা। দারিদ্র্যমুক্ত স্বদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয় শত, জয় পেলেই সব ভুলে যায়, নীতি শুধুই লিখিত।

উঁচু অট্টালিকায় নীতি শেখায় যারা অনবরত, অনাহারীর খবর রাখে না, মন যে তাদের ক্ষত। স্বাধীন দেশের মানুষ হয়েও পরাধীনের মতো ঝরে, এক মুঠো অন্নের খোঁজে দীন ভিক্ষারীর বেশে ঘোরে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/270858/</link>
				<pubDate>Mon, 07 Sep 2026 02:16:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ডাস্টবিনের অন্ন ও উঁচুতলার নীতি<br />
&#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>আজও মানুষ আহার খোঁজে ডাস্টবিনের অন্ন, বিলাসবহুল এই সমাজে অন্ধ যে জনগণ। সচেতন সবেই স্বার্থের মোহে আজ যে অচেতন, পথের পশে পড়ে রয় প্রাণ, দেখে না কো কোনো মন।</p>
<p>ছেঁড়া ছেঁড়া ছেঁড়া কাপড়ে জড়িয়ে দেহ, রেললাইনের পাশে ঝুপড়িতে কাটায় গৃহ। রোদ আর বৃষ্টির মাঝে সয় কত যন্ত্রণা, স্থায়ী এক খণ্ড ঠাঁই পাওয়ার নেই কো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-270858"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/270858/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c375dfbfc610a57e8c38fcdd858a27ec</guid>
				<title>&#x25ab;&#xfe0f;                স্মৃতির বৈপরীত্য
                         &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় 

বর্ষার শেষ বিকেলের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ভিজছিল নীলিমা। ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে সে যেন নিজের ভেতরেই অন্য এক জগত খুঁজে ফিরছিল। কিছুক্ষণ আগেই সে শহর থেকে ফিরে আসা এক পুরোনো পরিচিতের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসেছে—এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে একসময় তার গভীর আবেগের কিছু মুহূর্ত জড়িয়ে ছিল। তার উপস্থিতি নীলিমার মনে সাময়িক এক আলোড়নের সৃষ্টি করলেও গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেল।

চুলের জল গামছা দিয়ে মুছতে মুছতে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল নীলিমা। অবাক করা বিষয় হলো, শরীরের ওপর ঝরে পড়া ঠান্ডা জলের প্রতিটি ফোঁটার সাথে সাথেই যেন তার মনের ভেতর থেকে একটু আগের সব স্মৃতি অলক্ষ্যে ধুয়েমুছে গেছে। কোনো গ্লানি নেই, নেই অতীতের প্রতি কোনো সূক্ষ্ম ব্যাকুলতা। সে এক নিমেষেই একদম নির্ভার, হালকা এবং নতুন এক মানুষ। &quot;নারী গোসলের পর ভুলে যায় একটু আগে সে কার সঙ্গে ছিল&quot;— এই প্রচলিত কথাটি যেন নীলিমার জীবনচরিত্রের এক গভীর সত্য হয়ে সামনে এলো। সে যেন প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে জন্ম নেয়; পুরোনো স্মৃতি বা অনুভূতির বন্ধনে আটকে থাকা তার স্বভাব নয়।

একই শহরের অন্য প্রান্তে, জীর্ণ এক পুরোনো ঘরের নিঃশব্দ বিছানায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছটফট করছিলেন প্রবীণ লেখক রহমান সাহেব। আয়ু শেষ হয়ে এসেছে, নিঃশ্বাস ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে। চারপাশের ডাক্তার আর স্বজনদের উদ্বিগ্ন আনাগোনা তাকে আর স্পর্শ করছে না। তার ঘোলাটে ও ঝাপসা চোখ দুটি কেবল জানালার বাইরের ওই দূর অসীম আকাশের দিকে স্থির হয়ে আছে।

রহমান সাহেবের মনে এখন আর দুনিয়ার কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, নেই মৃত্যুকে ঘিরে কোনো ভয় বা অনিশ্চয়তা। তার সমস্ত চেতনা ও স্মৃতির ক্যানভাস জুড়ে শুধুই ভেসে উঠছে তার জীবনের প্রথম ও একমাত্র ভালোবাসার সেই মায়াবী মুখটি—যে নারী তাকে বহুকাল আগে একাকী ছেড়ে চলে গিয়েছিল। যৌবনের সেই দিনগুলো থেকে জীবনের শেষ প্রহর পর্যন্ত তিনি বহু পথ হেঁটেছেন, জীবনের কত লড়াইয়ে হেরে গেছেন, কিন্তু হৃদয়ের গহীন কোণ থেকে সেই একটি নাম কখনো মুছে ফেলতে পারেননি।

&quot;পুরুষ মৃত্যুশয্যায় শুয়েও তার কথা ভাবে, যাকে সে ভালোবেসেছিল।&quot; অন্তিম নিঃশ্বাস ত্যাগের ঠিক আগের মুহূর্তে রহমান সাহেবের চোখ থেকে একবিন্দু অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তার জীর্ণ ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বিষাদময় অথচ পরম তৃপ্তির হাসি। সেই হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসাকে হৃদয়ে গভীরভাবে ধারণ করেই তিনি চিরতরে চোখ বুজলেন।

একই শহরের দুটি ভিন্ন জীবনের এই বৈপরীত্যের মধ্যেই যেন প্রকাশ পেল মানব হৃদয়ের এক চিরন্তন গল্প—একদিকে নিমেষেই সবকিছু ভুলে নতুন করে বাঁচার স্বাভাবিক ক্ষমতা, আর অন্যদিকে মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্মৃতির আলো জ্বালিয়ে ভালোবাসাকে বয়ে বেড়ানোর অবুঝ ব্যাকুলতা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/269865/</link>
				<pubDate>Fri, 04 Sep 2026 18:16:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25ab;&#xfe0f;                স্মৃতির বৈপরীত্য<br />
                         &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>বর্ষার শেষ বিকেলের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ভিজছিল নীলিমা। ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে সে যেন নিজের ভেতরেই অন্য এক জগত খুঁজে ফিরছিল। কিছুক্ষণ আগেই সে শহর থেকে ফিরে আসা এক পুরোনো পরিচিতের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এসেছে—এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে একসময় তার গভীর আবেগের কিছু মুহূ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-269865"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/269865/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6978be492c644a0e09ff4e18368059be</guid>
				<title>&#x25ab;&#xfe0f;          সংসদের ছায়ায় রক্তের দাগ
                            &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় 

সংসদ ভবনের ছায়ায় আজ শোকের মাতম, 
ব্যাগ টানতে গিয়ে প্রাণ হারালেন শিক্ষক একজন।
মুহূর্তে ছন্নছাড়া স্বপ্নের সোনার পালঙ্ক, 
রিকশা থেকে পড়ে আজ নিভে গেল সব আলো।

ব্যাগ টানতে গিয়ে টেনে নিল তাঁর স্বপ্ন ও ভালোবাসা, ছিন্নভিন্ন হলো সাজানো এক জীবনের গল্প। 
রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনা, 
শিউরে তোলে সবার মনকে, 
জাগায় ভীতির বন্যা।

সংসদের পবিত্র প্রাঙ্গণে কেন এমন রক্তক্ষরণ? 
সুরক্ষার অভাব কি তবে রাজপথের প্রতিটি কোণে?
 প্রশ্ন ওঠে সবার মনে, 
উত্তর কে দেবে আজ? 
আর কত প্রাণ দিতে হবে এই অবহেলার মাশুল?

বিচার চাই আমরা, 
চাই সবার নিরাপত্তা, 
রাজপথ যেন থাকে সবার জন্য নিরাপদ ও মুক্ত। 
শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ায় সবাই মিলে, 
আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয় এইভাবেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/268228/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 07:39:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25ab;&#xfe0f;          সংসদের ছায়ায় রক্তের দাগ<br />
                            &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>সংসদ ভবনের ছায়ায় আজ শোকের মাতম,<br />
ব্যাগ টানতে গিয়ে প্রাণ হারালেন শিক্ষক একজন।<br />
মুহূর্তে ছন্নছাড়া স্বপ্নের সোনার পালঙ্ক,<br />
রিকশা থেকে পড়ে আজ নিভে গেল সব আলো।</p>
<p>ব্যাগ টানতে গিয়ে টেনে নিল তাঁর স্বপ্ন ও ভালোবাসা, ছিন্নভিন্ন হলো সাজানো এক জী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-268228"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/268228/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3f19ad1c7a8678aec91d2823d90b24f</guid>
				<title>&#x25ab;&#xfe0f;        মেঘনার বুকে এক অপরিচিতা
                       &#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

মেঘনার জলে ভাসে কচুরিপানা, 
তার মাঝে এক নারী, মুখটি অজানা। 
নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি পাড়, 
উদ্ধার হলো লাশ, ভারী হলো বাতাস।

স্বপ্ন হয়তো ছিল চোখে, ভালোবাসা বুকে, 
সবই হারিয়েছে আজ, মেঘনার গভীর সুখে। 
কার বোন সে? কার মেয়ে? কার হবে আপন?
 প্রশ্ন সবার মনে, নিরব সবার মন।

অনলাইন শপের বিজ্ঞাপন পাশেই হাসে, 
জীবনের নিষ্ঠুরতা এখানে এসে মেশে।
একদিকে ভোগের সামগ্রী, অন্যদিকে মৃত্যুর খেলা, 
মানবিক মূল্যবোধ হারালো আজ অবহেলা।

নদীর স্রোতে ভেসে যায় সব পরিচয়,
স্মৃতি শুধু থাকে, মনে জাগে ভয়। 
কে দিল এ পরিণতি? কে নিল প্রাণ? 
উত্তর খুঁজতে আজ, সবার ব্যাকুল মন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/268227/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 07:38:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25ab;&#xfe0f;        মেঘনার বুকে এক অপরিচিতা<br />
                       &#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>মেঘনার জলে ভাসে কচুরিপানা,<br />
তার মাঝে এক নারী, মুখটি অজানা।<br />
নরসিংদীর নাগরিয়াকান্দি পাড়,<br />
উদ্ধার হলো লাশ, ভারী হলো বাতাস।</p>
<p>স্বপ্ন হয়তো ছিল চোখে, ভালোবাসা বুকে,<br />
সবই হারিয়েছে আজ, মেঘনার গভীর সুখে।<br />
কার বোন সে? কার মেয়ে? কার হবে আপন?<br />
 প্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-268227"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/268227/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d78f6371c57ccdd5c622c03872217c10</guid>
				<title>&#x25ab;&#xfe0f;              নিদ্রিত স্বপ্ন ও কঠিন বাস্তব
                                &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় 

রাতের অন্ধকারে, রাস্তার ধুলোয়, ঘুমিয়ে আছে এক মা ও তার শিশু। তাদের দেহ জরাজীর্ণ, কাপড় ছিন্ন ভিন্ন, দারিদ্র্যের কষাঘাতে তারা নিঃস্ব।

পাশে শুয়ে আছে এক কুকুর, অবহেলিত ও ক্ষুধার্ত, তার চোখেও আছে কষ্টের ছাপ, নেই কোনো আশার আলো। চারপাশে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা, পচা গন্ধ ও নোংরা জল, এই নরকে তারা জীবনযাপন করছে, নেই কোনো পরিত্রাণ।

মায়ের কোলে শুয়ে শিশুটি ঘুমিয়ে আছে নিশ্চিন্তে, তার মুখে এক নিষ্পাপ হাসি, ভবিষ্যতের অজানা স্বপ্নের জাল বুনে। সে জানে না যে তার সামনে কি কঠিন জীবন অপেক্ষা করছে, দারিদ্র্যের এই শৃঙ্খলে সেও একদিন বাঁধা পড়বে।

মা তার শিশুকে আগলে রেখে ঘুমিয়ে আছে, তার মনেও আছে ভবিষ্যতের আশঙ্কা, দুঃখ ও হতাশা। সে ভাবছে যে তার শিশুকে কি ভালো ভবিষ্যৎ দিতে পারবে, এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে তাকে রক্ষা করতে পারবে কিনা।

এই ছবি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশে এখনো কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করছে। তাদের নেই কোনো মৌলিক অধিকার, নেই কোনো সুযোগ সুবিধা, তারা জীবনযাপন করছে এক মানবেতর পরিবেশে।

আমাদের উচিত এই মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সাহায্য করা, তাদের মুখে হাসি ফোটানো। আমাদের চেষ্টা করা উচিত এই দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভাঙার, তাদের জন্য এক সুন্দর ও উন্নত ভবিষ্যৎ তৈরি করার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265829/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Aug 2026 03:16:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25ab;&#xfe0f;              নিদ্রিত স্বপ্ন ও কঠিন বাস্তব<br />
                                &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>রাতের অন্ধকারে, রাস্তার ধুলোয়, ঘুমিয়ে আছে এক মা ও তার শিশু। তাদের দেহ জরাজীর্ণ, কাপড় ছিন্ন ভিন্ন, দারিদ্র্যের কষাঘাতে তারা নিঃস্ব।</p>
<p>পাশে শুয়ে আছে এক কুকুর, অবহেলিত ও ক্ষুধার্ত, তার চোখেও আছে কষ্টের ছাপ, নেই কোনো আশার আলো। চারপাশে ছড়িয়ে আছে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265829"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265829/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b6f409fbb103886a50ca751130f08d94</guid>
				<title>&#x25ab;&#xfe0f;         নিষ্পাপ শিশু
                  &#x270d; রতন চন্দ্র রায়

​নিষিদ্ধ পাড়ায় জন্ম,
নেই কোনো পিতৃপরিচয়,
শিশুকাল কেটে গেল
নিষিদ্ধ পাড়ায়।

​শৈশব কেটে গেল পথে পথে,
যৌবনকালে এসে
পড়েছি বড় বিপাকে।

​সভ্য সমাজের মানুষগুলো
ঠাঁই দেয় না তাদের পরিবেশে,
বাঁকা চোখে দেখে সমাজের লোকে।

​গোপনে কাঁদি জীবনের গলিপথে,
স্কুলে পাইনি ঠাঁই,
জোটেনি সমাজের শিক্ষা;
অশিক্ষিত বলে
সমাজে সবাই দেয় ধিক্কার।

​মুখোশের আড়ালে কত রঙের মানুষ
আসে গোপনে নিষিদ্ধ পাড়ায়,
নিষিদ্ধ নারীর মনের অজান্তে
যৌনক্ষুধার লালসায় পশুরূপে
জন্ম দিয়ে যায়
কত নিষ্পাপ শিশু শহরের বুকে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265504/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 07:02:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25ab;&#xfe0f;         নিষ্পাপ শিশু<br />
                  &#x270d; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>​নিষিদ্ধ পাড়ায় জন্ম,<br />
নেই কোনো পিতৃপরিচয়,<br />
শিশুকাল কেটে গেল<br />
নিষিদ্ধ পাড়ায়।</p>
<p>​শৈশব কেটে গেল পথে পথে,<br />
যৌবনকালে এসে<br />
পড়েছি বড় বিপাকে।</p>
<p>​সভ্য সমাজের মানুষগুলো<br />
ঠাঁই দেয় না তাদের পরিবেশে,<br />
বাঁকা চোখে দেখে সমাজের লোকে।</p>
<p>​গোপনে কাঁদি জীবনের গলিপথে,<br />
স্কুলে পাইনি ঠাঁই,<br />
জোটেনি সমাজে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265504"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265504/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3095ae13f67f20c4ddcf55ac36188a76</guid>
				<title>স্মৃতির পরবাস 
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

তুমি চলে গেছ নিজের পথ ধরে, 
আমিও তোমায় ভেবেছি ভুল করে। 
যেখানে জমেছিল শত অভিমান, 
সেখানে আজ কেবলই নীরব গান।

হয়তো কোনো স্মৃতির আলপনায়, 
তোমার নাম আর আলো ছড়ায় না।
হৃদয়ের কোনো এক অজানা কোণে, 
তুমি আর নেই কোনো দিনরাত্রে।

তুমিও চলে গেছ পরবাসী হয়ে,
আমিও ভুলে গেছি হৃদয় সয়ে।
এখন শুধু একলা হাওয়া বয়
যেখানে আর কোনো আক্ষেপ নেই,
নেই কোনো ভয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265503/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 07:01:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্মৃতির পরবাস<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>তুমি চলে গেছ নিজের পথ ধরে,<br />
আমিও তোমায় ভেবেছি ভুল করে।<br />
যেখানে জমেছিল শত অভিমান,<br />
সেখানে আজ কেবলই নীরব গান।</p>
<p>হয়তো কোনো স্মৃতির আলপনায়,<br />
তোমার নাম আর আলো ছড়ায় না।<br />
হৃদয়ের কোনো এক অজানা কোণে,<br />
তুমি আর নেই কোনো দিনরাত্রে।</p>
<p>তুমিও চলে গেছ পরবাসী হয়ে,<br />
আমিও ভুলে গেছি হৃদয় সয়ে।<br />
এখন শুধু একলা হাওয়া বয়<br />
যেখান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265503"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265503/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d25174133ad22c441fb8a777eeb68610</guid>
				<title>&#x25ab;&#xfe0f;             বন্ধুর ছদ্মবেশ
                       &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় 

আশার ছলে কাটে বেলা, 
মেটায় না তো ক্ষুধা, 
পাশা খেলায় সর্বস্ব যায়,
 মেলে বিষম সুধা। 

দেহপশারি টাকার লোভে
ছড়ায় রূপের আলো,
ক্ষণিকের এই সস্তা প্রেমে
 কভু বাসবে ভালো?

ডাকাত কেড়ে নেয় সব ধন, 
ছলে ভোলায় ঠক, 
সোনার খাঁজে খাদ মেশানো 
স্যাঁকরার ওই হক।

বাঁদরের ঐ স্বভাব চঞ্চল, 
বুদ্ধি যে তার ছাই, 
শুঁড়ির দোকানে গেলে 
কেবল মাতাল হতে পাই।

আশা, পাশা, বেশ্যা আর ডাকাত,
ঠক, স্যাঁকরা, বাঁদর, বুদ্ধি, শুঁড়ি— 
এই নয়জনে বাঁধে যাতা। 

স্বার্থের টানে কাছে আসে, 
রূপ দেখায় কতশত, 
বিপদের দিনে থাকে না কেউ,
 মিলিয়ে যায় হাওয়ার মতো।

সত্যিকারের বন্ধু হওয়া 
এদের সাধ্যে নাই, 
ভাব জমালে এদের সাথে
 শুধুই লোকসান পাই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265501/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 07:00:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x25ab;&#xfe0f;             বন্ধুর ছদ্মবেশ<br />
                       &#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>আশার ছলে কাটে বেলা,<br />
মেটায় না তো ক্ষুধা,<br />
পাশা খেলায় সর্বস্ব যায়,<br />
 মেলে বিষম সুধা। </p>
<p>দেহপশারি টাকার লোভে<br />
ছড়ায় রূপের আলো,<br />
ক্ষণিকের এই সস্তা প্রেমে<br />
 কভু বাসবে ভালো?</p>
<p>ডাকাত কেড়ে নেয় সব ধন,<br />
ছলে ভোলায় ঠক,<br />
সোনার খাঁজে খাদ মেশানো<br />
স্যাঁকরার ওই হক।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265501"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265501/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78c8e997c7a9d685bc1390b3c759c84e</guid>
				<title>আলোছায়া সিনেমা ঘর
(পরবর্তীকালে ‘চিত্রমহল’)
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়

জন্মবর্ষ: ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ
সূচনা: ১৯১৩-র সেই অদ্ভুত দিনটি
তখন আমি নিছকই ইট-সুরকির তৈরি একটা নতুন দালান। কলকাতার এক ঘিঞ্জি গলির মোড়ে আমার লাল ইটের শরীর দাঁড়িয়ে আছে। সালটা ১৯১৩। চারপাশের মানুষগুলোর পরনে ধুতি-পাঞ্জাবি, কিংবা শাড়ি। ট্রাম চলাচলের ‘ঠং ঠং’ শব্দে শহর মুখরিত।
সে বছরই আমার বুকে ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা। আলো নিভিয়ে সাদা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হলো একটা ছবি—‘রাজা হরিশচন্দ্র’। কোনো শব্দ নেই, ভাষা নেই, শুধু আলো আর ছায়ার খেলা। মানুষ হাঁ করে তাকিয়ে রইল। কেউ ভাবল জাদুটোনা, কেউ বলল নতুন যুগের কেরামতি। আমার অন্ধকার পেটের ভেতর বসে মানুষগুলো একসাথে হাসল, কাঁদল। আর সেই আলো-আঁধারির মায়ায় আমার আত্মপ্রকাশ ঘটল—আমি হয়ে উঠলাম আলোছায়া সিনেমা ঘর।
প্রথম যৌবন: নীরবতার যুগ ও মানুষের কোলাহল
আমার জীবনের প্রথম দুটো দশক কাটল সম্পূর্ণ নীরবতায় (Silent Era)। পর্দার নিচে বসে থাকত পিয়ানো, হারমোনিয়াম আর তবলা বাদকেরা। পর্দার ছায়ার মুভমেন্ট দেখে তারা সুর তুলত।
আমার ৩ আনার কাঠের বেঞ্চে বসে বিড়ি খেতে খেতে রিকশাওয়ালারা ছবি দেখত, আর ওপরের ১২ আনার বেলকনিতে বসে সাহেবি পোশাকের বাবুরা চুরুট ফুঁকত। আমি ভেদাভেদ দেখিনি; সমাজের সবস্তরের মানুষকে ছাতার মতো আশ্রয় দিয়েছি।
১৯৩১: আমি কথা বলতে শিখলাম!
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চমক এলো ১৯৩১ সালে। ‘আলম আরা’ সিনেমাটি যখন আমার পর্দায় চলল, মানুষ চমকে উঠল। আলো আর ছায়ার সাথে এবার যুক্ত হলো শব্দ! মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে শুনল পর্দার মানুষগুলো কথা বলছে, গান গাইছে।
সেই থেকে আমার ভেতরে জমে থাকা নীরবতা কাচ ভাঙার মতো চুরমার হয়ে গেল। আমি মুখরিত হয়ে উঠলাম করতালিতে, শিষ দেওয়ার শব্দে, আর দর্শকের সমবেত উচ্ছ্বাসে।
ঝড়ের দিনগুলি: ইতিহাসকে কাছে থেকে দেখা
আমি কেবল বিনোদন দিইনি, ইতিহাসকেও খুব কাছ থেকে দেখেছি।
 * ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন: বাইরে মিছিলের গর্জন, আর আমার প্রজেক্টর রুমে স্বাধীনতার আগুন ছড়ানো দেশাত্মবোধক খবরের ভেতরের দৃশ্য।
 * ১৯৪৩-এর মন্বন্তর: আমার ফটকের সামনে হাজার হাজার বুভুক্ষু মানুষের হাহাকার। আমি নিঃশব্দে অশ্রুপাত করেছি।
 * ১৯৪৭-এর দেশভাগ: আনন্দের মাঝেও বুকের ভেতর একটা বিশাল ক্ষত তৈরি হলো। অনেক পরিচিত মুখ হঠাৎ উধাও হয়ে গেল ওপার বাংলায়।
কিন্তু অন্ধকার নামলেই মানুষ আবার আমার কাছে আসত এক চিলতে শান্তি আর আশ্রয়ের খোঁজে।
সোনালী বিকেল: উত্তম-সুচিত্রার রঙিন দিন
৫০ আর ৬০-এর দশক ছিল আমার সোনালী যুগ। ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট থেকে রঙে রঙিন হয়ে উঠলাম আমি। আমার বাইরে তখন ঝুলছে বিশালাকার হাতে আঁকা কাঠের কাটআউট।
উত্তম-সুচিত্রার ছবি এলে আমার টিকিট কাউন্টারে যেন যুদ্ধ লেগে যেত! মারামারি, টিকিট ব্ল্যাকিং, চিনেবাদামের খোসার স্তূপ—এসব নিয়েই আমার ভরা সংসার ছিল। রোমান্টিক দৃশ্যে দর্শকদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, কিংবা ট্র্যাজেডিতে রুমাল দিয়ে চোখ মোছা—আমি প্রতিটা মানুষের চোখের জল আর হাসির ইতিহাস হয়ে রইলাম।
বার্ধক্য ও অবক্ষয়
আস্তে আস্তে সময় বদলে গেল।
 * ৮০-র দশকে মানুষের ঘরে ঘরে এল ভিসিআর (VCR)।
 * ৯০-এর দশকে এল টেলিভিশনের কালার চ্যানেল।
হঠাৎ করেই আমার কাটআউটগুলো ধুলো পড়া শুরু করল। প্লাশ সিটগুলো ছিঁড়ে গেল, প্রজেক্টর ঘর থেকে আর আগের মতো আলোর তীব্র রশ্মি বের হতো না। দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়তে লাগল। টিকিট কাউন্টারে এখন আর সেই লম্বা লাইন পড়ে না। কিছু ভবঘুরে আর প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়া আমার অন্ধকার হলে আসার লোক কমে গেল।
বর্তমান: এক হারিয়ে যাওয়া রূপকথা
আজ প্রজেক্টরের আওয়াজ স্তব্ধ। আমার নামবোর্ডটি মরচে ধরে ঝুলে আছে। দেয়াল জুড়ে গজিয়ে উঠেছে অশ্বত্থ গাছ। হয়তো আর কিছুদিন পর আমাকে ভেঙে সেখানে উঠে দাঁড়াবে এক বিশাল শপিং মল বা মাল্টিপ্লেক্স (Multiplex)।
কিন্তু আমার কোনো আফসোস নেই। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের সেই প্রথম দিনটি থেকে শুরু করে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আমি এক শহরের আবেগ, ভালোবাসা, বিরহ আর বিনোদনের নীরব সাক্ষী ছিলাম। মাল্টিপ্লেক্সের চকচকে রিক্লাইনার সিট হয়তো আরাম দেবে, কিন্তু আমার সেই তিন আনার কাঠের বেঞ্চের আবেগ তারা কোথায় পাবে?
আমি আলোছায়ায় লেখা এক পুরানো ইতিহাস—আজও একা দাঁড়িয়ে স্মৃতির জাবর কাটি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263968/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 07:17:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আলোছায়া সিনেমা ঘর<br />
(পরবর্তীকালে ‘চিত্রমহল’)<br />
&#x270d;&#xfe0f; রতন চন্দ্র রায়</p>
<p>জন্মবর্ষ: ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ<br />
সূচনা: ১৯১৩-র সেই অদ্ভুত দিনটি<br />
তখন আমি নিছকই ইট-সুরকির তৈরি একটা নতুন দালান। কলকাতার এক ঘিঞ্জি গলির মোড়ে আমার লাল ইটের শরীর দাঁড়িয়ে আছে। সালটা ১৯১৩। চারপাশের মানুষগুলোর পরনে ধুতি-পাঞ্জাবি, কিংবা শাড়ি। ট্রাম চলাচলের ‘ঠং ঠং’ শব্দে শহর মুখরিত।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263968"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263968/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6c005885d167705d326dc1320aba4734</guid>
				<title>রতন চন্দ্র রায় changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263823/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 18:52:01 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">58cf0b7f44892ce6023074cec83eac83</guid>
				<title>রমার রক্তক্ষরণ
&#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় 

গ্রামের সরু কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একঝলক বকুল ফুলের মিষ্টি গন্ধে বুক ভরে নিল প্রদীপ। পুরো একটা বছর পর বিদেশ থেকে নিজের চেনা ভিটেয় ফেরা। কিন্তু গ্রামের মেঠো বাতাসে আজ কেমন যেন একটা ভারী, অচেনা বিষণ্নতা ভেসে বেড়াচ্ছে।

পাড়ার মোড়ের বুড়ো বটগাছটার কাছে আসতেই চোখ পড়ল রমার দিকে। পুকুরঘাটের সিঁড়িতে একলা বসে আছে সে। পরনে মলিন একথানা শাড়ি, চুলগুলো আলগা করে খোঁপা করা। মুখখানা বড় শুকিয়ে গেছে—সেখানে চেনা সেই চঞ্চলতার বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। প্রদীপ পা চালিয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

&quot;কিরে রমা! তুই নাকি আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছিস?&quot;

রমা মাথা তুলে চাইল। প্রদীপকে দেখে তার চোখের কোণে চকিতে একবিন্দু জল ফুটে উঠেই মিলিয়ে গেল। ক্ষয়ে যাওয়া এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল, &quot;কী বলব তোমাকে দাদা... মন তো চায় না!&quot;

প্রদীপ ভুরু কুঁচকে সামনে থাকা এক টুকরো পাথর পায়ে ঠেলে বলল, &quot;মন চায় না মানে? তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত?&quot;

রমা আকাশের দিকে তাকাল। তার চোখে তখন কোনো ক্লান্তি বা কান্নার তোড় নেই, কেবল এক বিশাল শূন্যতা। &quot;মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেছি দাদা। বাবার কারণে আজ আবার দ্বিতীয়বারের মতো এই নরকে পা বাড়াতে হচ্ছে। বাবাকে তো বাঁচাতে হবে...&quot;

&quot;তোর বাবার কী হয়েছে?&quot; প্রদীপের কণ্ঠে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ল।

&quot;দাদা, তুমি কিছু জানো না...&quot;

&quot;নারে, আমি তো একবছর পর বিদেশ হতে গ্রামে এসেছি। কাল রাতেই পৌঁছালাম।&quot;

&quot;ও, তাই বলো!&quot; রমা এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে একটা শুকনো পাতা কুড়িয়ে হাতের মুঠোয় চাপ দিল। &quot;তাহলে তো তুমি কিছুই জানো না... বাবা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়েছে, আজ তিন মাস হলো। এই কয় মাসে ভিটে, জমিজমা সব বিক্রি করে পথে বসেছি। কোনো ওষুধ কিনতে পারছি না, শেষবেলায় বাবার একটু সুচিকিৎসার খরচও আর বইতে পারছি না। তাই নিজের মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও দ্বিতীয়বারের মতো আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতেছি।&quot;

রমার গলার আওয়াজ কাঁপছিল না, কিন্তু তার প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে থাকা পাথর-চাপা যন্ত্রণা প্রদীপের বুকের ভেতর গিয়ে বিঁধল। রমা আবার বলল, &quot;দাদা, কী আর করব বলো? বাবাকে চোখের সামনে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারি না।&quot;

প্রদীপের মনে পড়ে গেল সকালের ঘটনাটা। বাজারে হাবুলের চায়ের দোকানে বসে একদল লোক নিচু স্বরে আলোচনা করছিল রমার বিয়ে নিয়ে। সে কথাগুলো মনে পড়তেই প্রদীপের মুখ থমথমে হয়ে উঠল। সে রমার আরও একটু কাছে এগিয়ে গিয়ে নিচু গলায় বলল, &quot;রমা... আমি বাজারে চায়ের দোকানে বসে শুনেছি, যার সাথে তোর বিয়ে হচ্ছে, সে তো বেশিদিন বাঁচবে না। তার বয়স আশির কোঠায়। আরও শুনেছি, তার ঘরে নাকি দু&#039;জন বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে আছে। কথাটা কি সঠিক?&quot;

রমা কোনো ইতস্তত করল না। শান্ত, স্থির চোখে প্রদীপের দিকে তাকিয়ে বলল, &quot;হ্যাঁ দাদা, কথাটি সঠিক।&quot;

প্রদীপ নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারল না। কিছুটা শিউরে উঠে বলল, &quot;তাহলে তুই ওখানে কীভাবে সংসার করবি? একটা আশির বছরের বৃদ্ধ, যার নিজের মেয়েরাই তোর বয়সী, সেখানে তোর স্থান কোথায়? তোর তো ভবিষ্যৎ বলে আর কিছুই থাকবে না রে!&quot;

রমার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক নির্মম, করুণ আত্মউপহাসের হাসি। বিষণ্ন গলায় সে বলল, &quot;দাদা, সংসার করার স্বাদ তো সেই পাঁচ বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে... যেদিন উনি আমাকে ছেড়ে পরপাড়ে চলে গেছেন।&quot;

রমার কথা শুনে প্রদীপ স্তব্ধ হয়ে গেল। পাঁচ বছর আগের কথাগুলো এক লহমায় প্রদীপের স্মৃতিতে ভেসে উঠল।

তখন রমার বয়স কতই বা হবে? আঠারো কিংবা উনিশ। হাসিখুশি, চঞ্চল মেয়েটির প্রেমে পড়েছিল প্রতিবেশী যুবক অনিরুদ্ধ। অনিরুদ্ধ ছিল বড্ড ভালো ছেলে, রমাকে ভালোবাসত নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি। তাদের ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিধাতার কলম তো অন্য গল্প লিখছিল। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অনিরুদ্ধ চিরতরে চলে যায়। সেদিন ভেঙে পড়েছিল সিথির সিঁদুর, সঙ্গে ভেঙেছিল রমার রঙিন স্বপ্নের পৃথিবীটা। সেই যে রমার হাঁসি আর চঞ্চলতা বিদায় নিয়েছিল, তারপর আর তা ফিরে আসেনি।

অনিরুদ্ধ মারা যাওয়ার পর রমা বাপের বাড়িতেই ফিরে এসেছিল। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল চারদেয়ালের মাঝে। সংসার, প্রেম, ভালোবাসা—এসব শব্দগুলো তার জীবনের অভিধান থেকে সেদিনই চিরতরে মুছে গিয়েছিল।

গত পাঁচটা বছর রমা জীবন্ত লাশের মতো বেঁচে ছিল শুধু একটা মানুষের ওপর ভরসা করে—তার বাবা, সনাতন চক্রবর্তী। যে বাবা তাকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন, অনিরুদ্ধ চলে যাওয়ার পর রমার সব ঝড়-ঝাপটা নিজের বুকে সামলে নিয়েছিলেন। আজ সেই বাবাই মৃত্যুশয্যায়। চিকিৎসার অভাবে দিন দিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। ডাক্তার বলেছেন, বড় হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করালে হয়তো আরও কিছুদিন বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু তার জন্য চাই মোটা অংকের টাকা। ভিটেমাটি বিক্রি করেও যে টাকা মেলেনি, সেই টাকা দিতে রাজি হয়েছেন গ্রামের এক প্রভাবশালী ধর্মাঢ্য বৃদ্ধ, বিনিময়ে তার শর্ত একটাই—রমাকে হতে হবে তার স্ত্রী।

রমার জন্য এই বিয়ে কোনো নতুন জীবনের সূচনা নয়; এটা একটা স্রেফ সওদা। নিজের জীবনের অবশিষ্ট অংশটুকু বিক্রি করে বাবার জন্য কিছুদিনের আয়ু কিনে নেওয়া।

প্রদীপ কিছু বলতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ ফুটল না। সে রমার দিকে তাকিয়ে রইল। রমার চোখের কোণে আজ আর এক ফোটা জলও নেই। যে মেয়ে পাঁচ বছর আগেই নিজের সমস্ত আবেগ আর ভালোবাসার সমাধি দিয়ে এসেছে, তার কাছে সংসার ভাঙা-গড়ার আর কোনো অর্থ হয় না। আশির বছরের বুড়ো কিংবা তার সমবয়সী সৎ-মেয়েদের সংসার—কোনো কিছুই তাকে আর নতুন করে কষ্ট দিতে পারবে না। সে তো শুধু তার বাবাকে বাঁচাতে চায়, ব্যস।

&quot;দাদা,&quot; রমা ঘাটের শেষ ধাপ থেকে উঠে দাঁড়াল। শাড়ির আঁচলটা গায়ে ভালোভাবে জড়িয়ে নিয়ে বলল, &quot;কাল বিকেলে বরপক্ষ আসবে। আশীর্বাদের আংটি পরাবে। বাবা অনেক কেঁদেছেন, বলেছেন নিজের স্বার্থের জন্য আমায় বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন। কিন্তু আমি বাবাকে বলেছি, আমার কোনো কষ্ট নেই। যে হৃদয়ে কোনো অনুভূতিই অবশিষ্ট নেই, সেখানে কষ্ট জন্মাবে কীভাবে, বলো?&quot;

রমা ধীর পায়ে গ্রামের রাস্তার দিকে হেঁটে চলে গেল। প্রদীপ বটগাছটার ছায়ায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। বিকেলে সূর্যটা যখন পশ্চিম আকাশে রক্তিম আভা ছড়িয়ে ডুব দিচ্ছিল, প্রদীপের মনে হলো—ঐ লাল রঙটা যেন কোনো উৎসবের আনন্দ নয়, বরং রমার নিঃশব্দ আত্মত্যাগেরই রক্তক্ষরণ।

পরদিন বিকেলে কাজি আর গ্রামের হাতে গোনা কয়েকজন মানুষকে নিয়ে বৃদ্ধ বর উপস্থিত হলো সনাতন চক্রবর্তীদের ভাঙা উঠোনে। উঠোনের এক কোণে কাঠের একটা সাধারণ বিয়ের পিঁড়ি পাতা হয়েছে।

রমাকে যখন লাল একটা শাড়ি পরিয়ে সেই পিঁড়িতে এনে বসানো হলো, তখন তার মুখে কোনো কনের লজ্জা ছিল না, ছিল না কোনো রোমাঞ্চ। লাল শাড়িতে তাকে দেখাচ্ছিল এক আত্মোৎসর্গকারী দেবীর মতো। পাশে শুয়ে থাকা অসুস্থ বাবা সনাতনবাবু জীর্ণ হাত দুটো বাড়িয়ে কেবল মেয়ের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন।

রমা পিঁড়িতে বসল। তার চোখ দুটো স্থির হয়ে রইল দূর আকাশের পানে, যেখানে হয়তো অনিরুদ্ধের মুখটা শেষবারের মতো ভেসে উঠছিল। রমা মনে মনে বলল, &#039;তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আমার এই শরীরটা হয়তো অন্য কারও ঘরে দাসত্ব করবে, কিন্তু আমার হৃদয় তো তোমার সাথেই সেই পাঁচ বছর আগে পরপাড়ে চলে গেছে...&#039;

কাজী সাহেব মন্ত্র বা কবুলনামা পড়তে শুরু করলেন। রমা যান্ত্রিকের মতো মাথা নাড়ল। বাবার চিকিৎসার টাকা পকেটে নিয়ে বৃদ্ধ বর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো।

রমা যখন পিঁড়ি ছেড়ে উঠল, তার পদচিহ্নে কোনো নতুন জীবনের আনন্দচিত্র আঁকা হলো না। সেখানে রয়ে গেল কেবল এক কন্যাসন্তানের নির্মম আত্মত্যাগ, আর চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাওয়া এক নারীর নিঃশব্দ হাহাকার। রক্তিম গোধূলির আলোয় বিয়ের পিঁড়িটা তখনো নিঃসঙ্গ হয়ে উঠোনের এক কোণে পড়ে রইল—একটি জীবন্ত স্বপ্নের জীবন্ত কবর হয়ে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263799/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 18:16:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রমার রক্তক্ষরণ<br />
&#x270d;&#xfe0f;রতন চন্দ্র রায় </p>
<p>গ্রামের সরু কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একঝলক বকুল ফুলের মিষ্টি গন্ধে বুক ভরে নিল প্রদীপ। পুরো একটা বছর পর বিদেশ থেকে নিজের চেনা ভিটেয় ফেরা। কিন্তু গ্রামের মেঠো বাতাসে আজ কেমন যেন একটা ভারী, অচেনা বিষণ্নতা ভেসে বেড়াচ্ছে।</p>
<p>পাড়ার মোড়ের বুড়ো বটগাছটার কাছে আসতেই চোখ পড়ল রমার দিকে। পুকুরঘাটের সিঁড়িতে একলা বস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263799"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263799/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>