<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Shahadat Hossain | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/shahadat-hossain/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/shahadat-hossain/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Shahadat Hossain.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 20 Jun 2026 00:55:29 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8fa42bb9d4acadd5aa7b9d86183ab341</guid>
				<title>টুইন আর্থ
সপ্তম পর্ব


আমি খাওয়ার টেবিলে বসে  লিন্ডা কে আমার আমেরিকা তে  ফিরে যাওয়ার কথা জানালাম / প্রথমে লিন্ডা রাজি হতে চাইল না /  সে বারবার যুক্তি দেখাতে চাইল   যে সে ছাড়া আমার  আপনজন তো আর কেউ নেই তবে কেন আমি আমেরিকায় ফিরে যাব ? লিন্ডা বলতে থাকলো তোমার জীবনের উপরে অনেক ঝড়  বয়ে গেছে /  এবার একটু স্থির হও /  একটু রেস্ট  নও /  এখানে তোমাকে আমি সুন্দরী একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করিয়ে দেব /  মন দিয়ে আনন্দ চিত্তে সংসার করো  / আমি হাহা করে হেসে  উঠলাম /  বললাম আমাকে আবার কে বিয়ে করবে ? লিন্ডা  হাসল /  বড় বাবা তুমি তো  জানোই না / মেয়েদের কাছে তুমি তো একজন হিরো  /  আমার কয়েকজন বান্ধবী তো যখন জেনেছে তুমি আমার বড় বাবা তখন তো তারা  দারুণ খুশি  / তারা বলে রেখেছে যদি তোমার বড় বাবা বিয়ে করতে চায় তবে যেন তাদের কথা আমি ভুলে না যাই  / আমি লিন্ডার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম /  তার চোখেমুখে  যেন একটা আনন্দের ঝিলিক    উপচে পড়ছে / তার এই আনন্দটা আমার নষ্ট করতে ইচ্ছা  করল না /  তাই মুখে তাকে বললাম ঠিক আছে আমি আমার কাজগুলো শেষ করি তারপর  আমার মা এর কাছে এসে থাকবো / আমার মা যা বলবে আমি তাই শুনবো / তবে এখন আমি আমেরিকায় ফিরে যাব /  কারণ নাসার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা টা ওদের জানা অত্যন্ত প্রয়োজন / শুধুমাত্র এ কারণেই এখন আমার আমেরিকায় ফিরে যাওয়া অত্যন্ত জরুরী /  লিন্ডা মুখে আর কিছু বলল না চুপ করে মাথাটা নীচু করে মন খারাপ করে বসে রইল / 

এয়ারবাস A380 যখন ওয়াশিংটন ডিসি এর আকাশে পৌঁছলো তখন এয়ার হোস্টেস ঘোষণা দিলেন যে আমরা আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ল্যান্ড করতে যাচ্ছি / আমি একটু রিলাক্স বোধ  করলাম /  এত লম্বা জার্নি আমার মোটেও ভালো লাগেনা / আমি এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে এসে  নাসার একজন অফিসার কে আমার নাম সম্বলিত একটি প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম //  আমি সোজা তার সাথে নাসার হেড অফিস এ চলে এলাম / অফিসের ভেতরে ঢুকতেই  রিসিপশনের মেয়েটি আমাকে একটা ভিআইপি গেস্টরুমে নিয়ে গেল /  মুখে বলল স্যার আপনাকে একটু অপেক্ষা করতে হবে /  স্যার একটা বিশেষ মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন /   মিটিংটা শেষ হলেই আপনি  ভেতরে যাবেন /  স্যার আপনাকে কি এক কাপ কফি দিতে বলব ?  আমাদের এখানে বিখ্যাত Turkish Coffee আছে /  আপনার ভালো লাগবে /  আমি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম /

আমি  মহাপরিচালক সাহেবের রুমে ঢুকলাম , বিশাল রুম /  রুমের ঠিক  মাঝামাঝি জায়গায় বেশ বড়োসড়ো একটা সেক্রেটারিয়াট টেবিল , টেবিলের উপরের ফুলদানিতে কিছু টকটকে লাল তাজা গোলাপ / পাশে একটা ল্যাপটপ / টেবিলের আরেক কোনায়  বিভিন্ন রংয়ের চারটে টেলিফোন / নিপুন ভাবে গোছানো সমস্ত  রুম টি / পিন পতন  নিস্তব্ধতা /  একমাত্র এসি টার মৃদু একটা গুঞ্জন /  আমি আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম / হালকা-পাতলা গড়নের বুদ্ধিদীপ্ত  সুদর্শন একজন মানুষকে  চেয়ারে বসে আছেন /  আমাকে দেখে তিনি আস্তে আস্তে   চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন এবং  আমাকে অঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে  বসতে বললেন / এরপর মুখে একটা হাসি নিয়ে আমাকে  জিজ্ঞাসা করলেন ,  কেমন আছেন আপনি ? আমি  মলিন কণ্ঠে  বললাম বুঝতেই তো পারছেন কিরকম থাকতে পারি আমি /  আমার পরিচিত প্রিয় মুখগুলো  কেউ আর এখানে নেই /  সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে /   মহাপরিচালক সাহেব  তার ল্যাপটপের ভেতর কি যেন খুঁজলেন তারপর আমাকে বললেন /  পৃথিবীর সময় অনুযায়ী আপনার বয়স এখন 190 বৎসর /  যা একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার /  সাধারণভাবে পৃথিবীতে একজন মানুষের সর্বোচ্চ বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে 120-130 বছর / আপনার জীবনে এমন একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে যা কখনো কারো জীবনে  ঘটে না / সুতরাং এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টাকে মেনে নিয়ে বর্তমানের সঙ্গে মিশে যেতে চেষ্টা করুন /  এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার কাছে আমার একটা প্রস্তাব আছে / বলেই তিনি আমার মুখের দিকে তাকালেন /  কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন ,  তারপর আবার বলতে শুরু করলেন , আমরা নাসার পক্ষ থেকে নতুন একটা প্রজেক্ট ওপেন করতে যাচ্ছি /  পৃথিবী থেকে আমরা একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ মহাকাশযান মহাশূন্যে প্রেরণ করতে  যাচ্ছি  /   যার কাজ হবে মহাশূন্যে প্রাণের অস্তিত্ব  নিয়ে গবেষণা করা  /  আমাদের সৌরজগতের নিকটতম যে সৌরজগৎ টি আছে তার নাম  Proxima Centauri / পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব 4.24 আলোকবর্ষ / এই সৌরজগৎ সম্পর্কে আমাদের ধারণা অস্পষ্ট / খুব ভালো ধারনা নেই আমাদের /  কিন্তু বেশ কিছু বিজ্ঞানীর মতে এই সৌরজগতের মধ্যে যে সমস্ত গ্রহ আছে তাদের কোন কোন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে /   তাই এই সৌরজগত সম্পর্কে ডিটেলস তথ্য আমাদের দরকার /     আমরা একটা মহাকাশযান সেখানে পাঠাবো বলে  মনস্থির করেছি / বেশকিছু উন্নত প্রযুক্তির কিছু রোবট এবং কয়েকজন মানুষের সমন্বয় একটি  টিম এর সহযোগিতায়  এইসব গবেষণামূলক কাজগুলি  পরিচালিত হবে / এই মহাকাশযানের মধ্যে তিনটি ছোট ছোট লেন্ডার থাকবে যার সাহায্যে আপনারা যে কোন গ্রহের অরবিট থেকে ওই  লেন্ডার এর মাধ্যমে   আপনারা যেকোনো গ্রহে নামতে পারবেন / এবং ওই গ্রহের কাজ শেষ করে আবার মহাকাশযানে ফিরে আসতে পারবেন /  আমি আপনাকে এই মহাশূন্যযান টির দায়িত্ব   ভার নিতে অনুরোধ করছি /  যেহেতু আপনার কোন পিছুটান নেই তাই দায়িত্ব নিয়ে মানবজাতির উন্নয়নকল্পে নিশ্চয়ই আপনি কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারেন / আমি কথাগুলো শুনে একটা ধাঁধা র মধ্যে পড়ে গেলাম /  বুঝতে পারলাম না আমি কি জবাব দিব ? আমি নিজেও বুঝতে পারছিলাম না আমার কি করা উচিত / শুধু মুখে বললাম আপনি আমাকে ভাবার জন্য কিছুদিন সময় দিন / মহাপরিচালক সাহেব বললেন নিশ্চয়ই আপনি কিছুদিনের সময় পাবেন / তবে সেটা খুব বেশি দিন নয় এই ধরুন আপনাকে এক মাসের সময় দেয়া হলো এর মধ্যেই আপনি আপনার ডিসিশন জানালে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব /  আমরা আপনার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করব এবং  এই মহাকাশযানের ভেতরে আপনার দায়িত্ব সম্পর্কে বিশদভাবে জানানো হবে /  আর হ্যাঁ আপনার নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে  আপনাকে আমাদের নির্দিষ্ট  গেস্ট হাউসে  আপাতত আপনার  থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে / আমি সম্মতি সূচক মাথা নেড়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম / 

আমি আমার বরাদ্দকৃত গেস্ট হাউসে চলে এলাম /  সুন্দর গোছানো ছিমছাম তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট /  22 তলা বিল্ডিং এর পঞ্চম তলায়  এই ফ্ল্যাটের  অবস্থান /  2 বেডরুম একটি ড্রয়িং রুম এবং বেশ বড়োসড়ো একটা ডাইনিং স্পেস সহ  আঠারোশো স্কয়ার  ফিটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট / এই 22 তালা  অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে যারা বসবাস করেন তারা সবাই এই   নাসা তে  কর্মরত /  ফ্ল্যাটটি সুন্দর করে গোছানো এবং ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখানে আছে / এমনকি সুন্দর একটি আধুনিক   কিচেন ও আছে / ইচ্ছে করলে ই আমি এখানে রান্না  করে খেতে  পারব  / আবার চাইলে  রুম সার্ভিস কে ফোনে বলে দিলে ওরাও  আমার পছন্দমত  খাবার পৌঁছে দেবে / পরিবেশটা আমার খুবই পছন্দ হলো /  একা একা থাকার জন্য একটি আদর্শ স্থান / ডাইনিং রুমের একপাশে   পুরো   দেয়ালটাই মোটা এইট মিলিমিটার কাচ দিয়ে মোড়ানো যেখান দিয়ে তাকালে দূরে সমুদ্রের সৈকত দেখা যায় যেখানে সমুদ্রের ঢেউগুলি দিনরাত   আছরে পরছে / এত কষ্টের মাঝেও  প্রচন্ড একটা  ভালোলাগার অনুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল / হঠাৎ করে আমার লি এর কথা মনে পড়ে গেল /  বহুদিন আমি আর লি এমনই সমুদ্রের তীরে কাটিয়েছি /  একটা জমাট বাঁধা ভালোবাসার মধ্যে আমরা দুজনে হাবুডুবু খেয়েছি / লি এর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসাগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে / অত সুন্দর মানুষটা দ্বিধাহীন চিত্তে আমার ভালোবাসার কাঙাল হয়ে থেকেছে / কেমন আছে লি এখন ?  মনটা কেমন যেন  ছটফট  করে উঠলো , খুব  দেখতে ইচ্ছে করল লি কে /  লি এর সেই হাসি হাসি মুখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা , লি কে আমার হৃদয়ের ভেতরে দেখতে পেলাম  / মনের গভীর থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো / আমি স্থবির হয়ে বসে মনে মনে  লি এর কথা ভাবতে লাগলাম / 

রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিছানায় গেলাম /  নতুন জায়গায় নতুন বিছানা , আমার ঘুম আসছিল না / শুয়ে শুয়ে শুধু এ পাস ওপাশ করছিলাম / হঠাৎ করেই আমার ছেলেদুটোর কথা মনে পড়ে গেল / বড় ছেলেটা ইন্টারমিডিয়েট পাস করেই  হায়ার এডুকেশনের জন্য অস্ট্রেলিয়া চলে গেল / বড়  ছেলেটার যাওয়ার এক বছরের  মাথায় ছোটটা ও চলে গেল সেই অস্ট্রেলিয়াতেই  পড়াশোনা করতে / একসময় পড়াশোনা শেষ হলো /  কিন্তু ততদিনে অস্ট্রেলিয়াতে ওদের   শীকড  অনেক গভীরে চলে গিয়েছে /  ওরা আর দেশে ফিরে এলোনা ওখানেই সেটেল হয়ে গেল /  অবশ্য বছরে একবার 1/2   মাসের জন্য ছুটিতে বেড়াতে আসত /  কিন্তু ওদের মা মারা যাওয়ার পর থেকে ওরা দেশে  আশাও কমিয়ে দিল /  ছেলেরা  সবসময়ই মায়ের একটু বেশি ভক্ত হয়ে থাকে / আমাকে বারবার তাগিদ দিতে থাকলো অস্ট্রেলিয়া তে চলে যাওয়ার জন্য / প্রথমে আমি রাজি হয়নি কিন্তু পরে আমার আদরের আরিয়া  রাভিদ ও আয়েশার ভালোবাসার টানে আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আমি রাজি হয়ে যাই / কিন্তু সেই  সময় ই  ঘটে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় / আমার জীবনটা উলটপালট হয়ে যায় / আমি হারিয়ে যাই আমার এই পরিচিত ভুবন  থেকে / হঠাৎ করেই লিন্ডার দেওয়া সেই  ডায়েরি   টার  কথা মনে হল /  আমি ডায়েরি  টা বের করে ঘরের ভেতরের সমস্ত বাতি গুলি নিভিয়ে দিয়ে শুধু  বেড সাইডের  বাতিটা জ্বালিয়ে পড়তে শুরু করলাম /  একান্তই ব্যক্তিগত ডাইরি / এটাকে ডায়েরি বললে মনে হয় সঠিক বলা হবে না / তার জীবনের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তগুলো কেই এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে /  এখানে আছে আয়েশা এর প্রেমের কথা ,  মনের ভালোলাগা  ক্ষোভ দুঃখ এসব কথা এবং মাঝে মাঝে আমার কথা /  আমার খুব ইচ্ছে হলো আয়েশা এর প্রেম ভালোবাসার কথাগুলো পড়তে /  কেমন করে আয়েশা প্রেমে পরল / কিভাবে সেই দুষ্টু আয়েশা তারা ভালোবাসার মানুষের সাথে আবেগি ভাষায় কথা বলতো আমার খুব জানতে ইচ্ছে করলো / কিন্তু না আমার মন আমাকে  সায় দিল না /  কারো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে তার সম্মতি না নিয়ে মোটেই পড়া উচিত নয় /  আমার তো এখন আর  সম্মতি নেওয়ার কোন সুযোগ নেই /  আমি পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে শুধু আমাকে নিয়ে অংশ গুলোই পড়তে থাকলাম / এক জায়গায় এসে চোখটা আটকে গেল /   তারিখ 5/9/2030 /আজকে আমি  আরিয়া আপু এবং রাভিদ ভাইয়া তিনজনে মিলে পার্কে বসে গলাগলি ধরে অনেকক্ষণ কাঁদলাম /  রাভিদ ভাইয়া মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে আর্কিটেক্ট  ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য / তাই সে মেলবোর্ন চলে যাবে /  এসেছিল আমাদের সাথে দেখা করতে /  বিকেলে আমরা হাঁটতে বের হলাম /  পার্কে হাটছিলাম আর কথা বলছিলাম /  হঠাৎ  রাভিদ ভাইয়া  বলে উঠলো ওই যে দাদা ভাই ,  বলেই দৌড় /  আমরাও রাভিদ  ভাইয়ার  পিছু পিছু দৌড় /  পার্কে র  পাশের ফুটপাতে দিয়ে একজন লোক হেটে যাচ্ছিলেন /  রাভিদ ভাইয়া পিছু থেকে লোকটাকে জড়িয়ে ধরে বলল দাদাভাই /  লোকটা ঘুরে অবাক দৃষ্টিতে রাভিদ ভাইয়া এর দিকে   কিছুক্ষণ  তাকিয়ে  থাকলেন  তারপর জিজ্ঞাসা  করলেন ,  দাদাভাই ? কে তোমার দাদাভাই ?   রাভিদ ভাইয়া অপ্রস্তুত হয়ে গেল / মুখে বলল সরি আমার ভুল হয়ে গেছে /  আমি ভেবেছিলাম আমার দাদাভাই যাচ্ছে /  আমি দেখলাম লোকটার মুখেও দাদাভাইয়ের মত  সাদা পাকা মুখ ভর্তি দাড়ি / লোকটা হাসল ,  তারপর বলল না ঠিক আছে ,  কোথায় থাকে  তোমাদের দাদাভাই ? আমরা তিনজন ই একসাথে বললাম আমাদের দাদাভাই বাংলাদেশ থাকতেন / অনেকদিন আগেই দাদাভাইয়ের আমাদের এখানে   আসার কথা ছিল /  কিন্তু  উনি আসেননি /  কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন / লোকটি আমাদের তিনজনের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন /  বললেন ভেবো না তোমরা ,নিশ্চয়ই তোমাদের দাদা ভাই খুব শিগগিরই তোমাদের কাছে চলে আসবেন /   তিনি তার পকেট থেকে অনেকগুলো চকলেট  বের করে আমাদেরকে দিলেন  মুখে বললেন খাও / রাভিদ ভাইয়া কিছুক্ষণ লোকটার দিকে  তাকিয়ে রইল তারপর হাত বাড়িয়ে চকলেটগুলো নিল / আমরা   এক ধরনের অস্বস্তি  নিয়ে দাঁড়িয়ে  থাকলাম /  লোকটা চলে গেল /  আমরা তিন ভাই বোন অনেকক্ষণ লোকটার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম তারপর আবার পার্কে এসে বসে তিন ভাই বোন গলাগলি ধরে অনেকক্ষণ  কাঁদলাম / 
1/1/2031 . রাভিদ ভাইয়া আজকে ইয়া বড় একটা জন্মদিনের কেক নিয়ে আমাদের বাসায় এসেছিল /  ভাইয়া একটা গেঞ্জি পরে এসেছে / গেঞ্জিটা র বুকে লেখা দাদাভাই /  আজকে আমাদের দাদাভাইয়ের জন্মদিন /  তাই রাভিদ ভাইয়া নিজে দাদাভাই সেজেছে /  আমি বললাম তুমি যদি আমাদের দাদাভাই হও তবে তোমার সেই কাঁচাপাকা মুখ ভর্তি দাড়ি কোথায় ?  রাভিদ ভাইয়া  হাসল / বলল আরে আমি তো ছোটবেলার দাদাভাই আমার দাড়ি আসবে কোত্থেকে / আমরা ঘটা করে দাদাভাইয়ের জন্মদিন পালন করলাম /  আমার  গুরুগম্ভীর রাগী নানু  ও  আমাদের সাথে এসে যোগ দিলো /  কেক খেলো / আমার নানা  ও আমাদের সাথে এসে সোফার এক কোনায় বসে থাকল / নানা সাধারণত কোন জন্মদিনের অনুষ্ঠানে থাকেন না /  কিন্তু  তিনিও এসে আমাদের কাছে বসে  থাকলেন / অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দেখলাম রাভিদ ভাইয়া সোফায় চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে /  তার দুচোখ  বেয়ে পানি ঝরছে /  রাভিদ ভাইয়াকে সান্তনা দিতে গিয়ে  আমাদের চোখ দুটো ও জলে ভিজে গেল / এরকম ছোট ছোট টুকরো টুকরো অনেক ঘটনাই এখানে লেখা আছে /  ঘটনাগুলো আমি পাতা  উল্টে   উল্টে পড়ছিলাম / কিন্তু মনের ভিতর  এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছিল /  চোখ দুটো জলে  ভিজে যাচ্ছিল /মাঝে মাঝে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে   কাঁদছিলাম /  ডায়েরি টা পড়া বাদ দিয়ে  বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালাম /   ফ্রিজ থেকে   ঠান্ডা পানি  বের করে ঢকঢক করে খেলাম /  বুকের ভেতরে প্রচন্ড অস্থিরতা কাজ করছিল  সেই  অস্থিরতা কাটানোর জন্য এই গভীর রাতে ঘরের ভিতরে পায়চারি করতে থাকলাম / একরাশ শূন্যতা গভীর হতাশা আমাকে যেন গিলে ফেলল / একসময় নিজের মনে মনেই বললাম না এই পৃথিবীতে আমার আপনজন কেউ নেই / কি হবে আমারএখানে থেকে ? না আমি চলে যাব /  এই পৃথিবী  ছেড়ে আমি চলে যাব / অসীম গভীর কাল অন্ধকার  মহাশূন্য ই  আমার জন্য ভালো / আমি আমার মোবাইল  ফোনটা হাতে তুলে   নিলাম /  আমি জানি এখন গভীর রাত / নাসা এর অফিস বন্ধ হয়ে গেছে সেই বিকেল পাঁচটায় তারপরেও আমি  নাসার মহাপরিচালকের বিশেষ একটা নাম্বারে কল দিলাম /  ফোন কলটা  রিডাইরেক্ট হয়ে মেসেজ বক্সে চলে গেল সেখানে আমি আমার প্রয়োজনীয় মেসেজ রেখে দিলাম / এরপর লিন্ডা কে ফোন দিলাম /  হিসাব করে দেখলাম নিউজিল্যান্ড এখন দুপুর দুইটা / পরপর  তিনটা  রিং হওয়ার পর  লিন্ডার উচ্ছ্বসিত কন্ঠ শুনতে পেলাম /  কেমন আছো তুমি বড় বাবা ?  তোমার কাজ  শেষ হয়েছে ?  কবে আসছ তুমি ? আমি কিন্তু তোমার জন্য মেয়ে দেখে রেখেছি /  আমি নিশ্চিত তোমার পছন্দ হবে /  খুবই লক্ষী মেয়ে / একনাগাড়ে কথা বলে গেল   লিন্ডা .  কোনরূপ বিরতি ছাড়াই / আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম /  মেয়েটার মনে কষ্ট দিতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল /  তার পরেও আমি  লিন্ডা কে আমার সিদ্ধান্তের  কথা জানালাম /  লিন্ডা আমার কথা শুনে মনে হল চুপসে গেল / কিছুক্ষণ  চুপ করে রইল / তারপর ভেজা গলায় আস্তে আস্তে বলল ঠিক আছে তোমাকে আমি বাধা দেবোনা / কিন্তু যাওয়ার আগে কথা দাও তুমি আমার সাথে দেখা করে যাবে তুমি /  কয়েকদিন আমার সঙ্গে থাকবে / বড় বাবা তুমি কথা দাও তুমি আমার কথা রাখবে /  আমি পরিবেশটাকে একটু হালকা করার জন্য হেসে বললাম চিন্তা করো না / আমি আমার মায়ের সাথে দেখা না করে কিভাবে যাব ? 

অবজারভেটরি  টাওয়ারে আমার কম্পিউটারের সামনে বসে আমাদের 5 বিলিয়ন    পিক্সেল এর নিজস্ব ক্যামেরায়   তোলা একটি গ্রহের কিছু ছবি দেখছিলাম /  গ্রহটিকে সাধারণভাবে দেখলে অনেকটা আমাদের পৃথিবীর মতোই মনে হয় /  পাহাড় সমতল ভূমি সবই আছে / কিন্তু এই গ্রহে মাটি বলে কিছু নেই /  সমস্ত গ্রহ টাই নিরেট পাথর দিয়ে তৈরি / অথচ সাধারণভাবে দেখলে আমাদের  পৃথিবীর মতই  দেখা যায় / অদ্ভুত   এক গ্রহ / বিভিন্ন রঙের বিচিত্র ধরনের পাথরের  দিয়ে তৈরি এই গ্রহ /  সমতল ভূমি  মাঠ নদী সবকিছুই ছবিতে দেখা যায় /  কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে নদী পানি গাছপালা এগুলো  বিভিন্ন রঙের পাথরের  তৈরি / সাধারণভাবে দেখলে মনে হয় গ্রহটি জীবন্ত কিন্তু পাথরের মধ্যে কি জীবনের  অস্তিত্ব থাকতে পারে ? এরকম প্রশ্ন  যখন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে  তখন হঠাৎ করেই এলার্ম বেজে উঠলো /  আমি আমাদের  সেন্ট্রাল কম্পিউটারের যান্ত্রিক কণ্ঠ শুনতে পেলাম / আমাদের খুব কাছেই প্রায় তিন কোটি কিলোমিটার দূরে একটি গ্রহের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছি আমরা /  প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানের পর মনে হচ্ছে গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে গ্রহটিতে বায়ুমণ্ডল আছে / এই বায়ুমন্ডলে প্রায় 76 % নাইট্রোজেন এবং 21 % অক্সিজেন এবং অন্যান্য গ্যাস দুই পার্সেন্ট /   যা প্রায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অনুরূপ / বায়ুমন্ডলে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্বও  আছে যা এর অনুপাত সব জায়গায় একই রকম  নয / এক জায়গায় একেক রকম /  এতে প্রাণের অস্তিত্বের    ধারনাটা আরো  জোরালো হচ্ছে / আমি আমার টেবিলে    থাকা কম্পিউটার থেকে সেন্ট্রাল কম্পিউটারে কিছু নির্দেশ পাঠালাম/  আমি গ্রহটির  জুম করা ছবি দেখতে চাইলাম /  পরমুহূর্তেই  আমার সামনে  এলইডি স্ক্রিনে  একটি গ্রহের জুম করা ছবি ভেসে উঠলো /  আমি   গ্রহটিকে গভীর মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলাম /  পৃথিবীর মতোই নীল রঙের একটি গ্রহ / গ্রহটি  টিকে  দেখে কেন যেন আমার মনে হতে লাগলো এই ছবিটা আমি এর আগেও দেখেছি কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না তা কিভাবে সম্ভব ?  আমি আবার আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটারে কিছু  নির্দেশ পাঠালাম /  গ্রহটির একটা  ত্রিমাত্রিক ম্যাপ তৈরি করতে বললাম / গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের আরো ডিটেলস তথ্য জানতে চাইলাম / কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার চাহিদা মত যাবতীয় তথ্য আমার  কম্পিউটারের মেইলবক্সে এসে জমা হল / গ্রহটির ত্রিমাত্রিক ম্যাপ   টি কে অবজারভেটরি টাওয়ারের বড়   স্ক্রিনে ওপেন করলাম / আমি দেখলাম গ্রহটিতে সমুদ্র নদী পাহাড় সবকিছুই আছে / আবারও কেন যেন মনে হল এই গ্রহটিকে আমি আগে কোথাও দেখেছি /  আমি  খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে গ্রহটিকে দেখতে লাগলাম / হঠাৎ করেই আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল /  ঐতো ইউরোপ মহাদেশ ,  ঐতো আটলান্টিক মহাসাগর ,   ঐতো আরব সাগর / সম্পূর্ন পৃথিবীর মত দেখতে আর একটি গ্রহ /  আমার মুখ থেকে হঠাৎ করেই বেরিয়ে  এল  টুইন আর্থ ? যমজ পৃথিবী ?  সম্পূর্ণ পৃথিবীর আদলে গঠিত আর একটি গ্রহ / গ্রহটির    ভর 5.972 × 10^13 kg জি এর মান  9.8 মিটার/সেকেন্ড২  যা প্রায় পৃথিবীর  মতই / আমি হিসাব করে দেখলাম আমাদের পৃথিবী থেকে এই গ্রহের দূরত্ব 3.9  লাইট ইয়ার / আমার  কৌতুহল বেড়ে গেল / আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম /  মনের ভেতর গ্রহটিকে দেখার  প্রচন্ড একটা ইচ্ছে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল আমি আবার আমার কম্পিউটার থেকে সেন্ট্রাল কম্পিউটারে নির্দেশ পাঠালাম /  আমাদের গতিপথ পরিবর্তন করে আবিষ্কৃত গ্রহের  দিকে যাত্রা করার  নির্দেশ দিলাম /  সেন্ট্রাল কম্পিউটার  আমাকে জানা ল রুট  পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন / নতুন একটা রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে  / আমি সম্মতিসূচক নির্দেশ দিয়ে নতুন   প্রজেক্ট অনুমোদন করে দিলাম /    সেন্ট্রাল কম্পিউটার  আমাকে আবারো জানালো যে রুট ম্যাপ টি সময়ের ভেতর দিয়ে করতে হবে  অর্থাৎ  মহাশূন্য   জান টি কে আবার আলোর গতিতে ভ্রমণ করতে হবে এজন্য মহাশূন্যযানের টি 815 ইঞ্জিন টি চালু করতে হবে /  আমি সবকিছু র অনুমোদন করে দিলাম / এরপর বুকের ভিতর এক ধরনের আশা নিয়ে এলইডি  স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম / আমি গ্রহটির নাম দিলাম টুইন আর্থ /
আমরা যখন গ্রহের  আরবিটে  প্রবেশ করলাম  তখন আমাদের এই মহাকাশযানের ঘড়িতে   পেরিয়েছে মাত্র তিন ঘন্টা 32 মিনিট /  আমাদের  মহাকাশ যানটি  টুইন আর্থ কে  কেন্দ্র করে ঘণ্টায় প্রায় থার্টি টু থাউজেন্ড কিলোমিটার  বেগে প্রদক্ষিণ করছিল / আমাদের 5 বিলিয়ন    পিক্সেল এর ক্যামেরা দিয়ে  আমরা প্রায় কয়েক শত ছবি তুললাম /  ছবিগুলো দেখে আমরা যারপরনাই  উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠলাম /  ছবিতে আমরা গাছপালা নদী পাহাড় সমুদ্র ঘন সবুজ বনভূমি সবি দেখা যাচ্ছে/  পৃথিবীর মত আরেকটি গ্রহ যেখানে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে /  নানান ধরনের জীবজন্তু  মাঠে চরে বেড়াচ্ছে /   সেন্ট্রাল কম্পিউটারকে  নির্দেশ পাঠালাম ,  আমি গ্রহটিতে ল্যান্ড করতে চাই /  একটি ল্যান্ডার কে  রেডি করতে বললাম এবং এখানকার বায়ুমণ্ডল এবং আবহাওয়া সম্পর্কে ডিটেইলস তথ্য চাইলাম /   ডাটা  সিটে দেখতে পেলাম গ্রহটির তাপমাত্রা অঞ্চলভেদে - 25 ডিগ্রি হতে 40 ডিগ্রি পর্যন্ত /  অত্যন্ত সুন্দর আবহাওয়া /  আমরা পৃথিবীর অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ যে অঞ্চলে অবস্থিত সে অঞ্চলে নামা র প্রস্তুতি  নিতে শুরু করলাম / সেখানকার তাপমাত্রা এই মুহূর্তে 10 ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে 15 ডিগ্রী সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে /  আমি রেইন কে সঙ্গে নিয়ে ল্যান্ডারের ক্যাপসুলে আসন গ্রহণ  করলাম /  আমাদের গ্রহটিতে ল্যান্ড করার জন্য সর্বমোট 47 মিনিট সময়ের প্রয়োজন হবে /  আমরা কিছু টুকিটাকি যন্ত্রপাতি সঙ্গে নিলাম /   যেমন পানির বিশুদ্ধতা পরিমাপের যন্ত্র মাটিতে খনিজ পদার্থের বিশ্লেষণের জন্য যন্ত্র কম্পাস এবং নিজেদের আত্মরক্ষা জন্য কিছু  লেজার নিয়ন্ত্রিত  লেজারগান / লেন্ডারটি প্রথমে মুল জানথেকে আলাদা হয়ে গ্রহটি কে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করলো তখন তার গতিবেগ অত্যন্ত বেশি প্রায় 8 হাজার কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় /  আমরা প্রথমে এর গতি  কমানোর দিকে মনোযোগ দিলাম /     লেন্ডারের ইঞ্জিন চালু করে  গতিবেগ কমিয়ে অস্তে অস্তে ঘন্টায় 700 কিলোমিটার এ নিয়ে এলাম / একই সাথে লেন্ডারটি অরবিট চেঞ্জ করে   টুইন আর্থ এর সবচেয়ে  নিচের অরবিটে চলে এলাম / তখন আমাদের মাটি হতে প্রায় চারশো কিলোমিটার উপরে / এরপর গতি আরো  কমিয়ে গ্লাইডিং করে অনেকটা আমাদের পৃথিবীর হেলিকপ্টারের মতন সফট ল্যান্ডিং করে মাটিতে নেমে এলাম /  আমরা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলাম / আমাদের  মুলজান থেকে আমাদের উপর  সর্বক্ষণিক নজর রাখা  হচ্ছিল / এভাবে বেশ কিছুক্ষন বসে থাকার পর মুল জান থেকে যখন কনফার্ম হল না কোন বিপদের সম্ভাবনা নেই তখন আমাদের নামার অনুমতি দেওয়া হল / নামার জন্য  লেন্ডার থেকে একটা সিঁড়ি মাটি পর্যন্ত নেমে এলো আমরা সেই সিঁড়ি বেয়ে প্রথমে আমি এবং  আমার পিছু পিছু রেইন আস্তে আস্তে ধীর পদক্ষেপে নিচে নেমে   এল /  অদ্ভুত সুন্দর এক দৃশ্য / আমাদের চোখ দুটো এই অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখে জুড়িয়ে গেল /  জায়গাটা সমতল ভূমি বড় বড় সবুজ ঘাসে ভর্তি / আমাদের  ডানপাশে একটি নদী বয়ে চলেছে / ফটিকের মত স্বচ্ছ সেই নদীর পানি /  বা পাশে প্রায়  হাফ কিলো মিটার দূরে   গভীর জঙ্গল /  আমরা আমাদের চারিপাশে পাখির নানা ধরনের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পেলাম /  নদীর অপর প্রান্তে দূরের দিগন্ত রেখার কাছে সারি সারি পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে / সবুজ পাহাড় গুলোতে ঝর্ণাধারা গুলো এত দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আমি এবং  রেইন একে অপরের মুখের দিকে চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম /  রেইন অস্ফুট স্বরে  বলে উঠলো আমরা কি আমাদের পুরনো পৃথিবীর প্রাগৈতিহাসিক যুগে ফিরে এসেছি ?  আমি উত্তরে বললাম না আমরা পৃথিবী থেকে প্রায় 3.9  লাইট ইয়ার  দূরে অবস্থান  করছি / আমরা দুজনে আস্তে আস্তে হেঁটে নদীর ধারে  গিয়ে দাঁড়ালাম / সূর্য টা তখন প্রায় মাথার উপরে / নদীর পানি বয়ে চলেছে /আমরা নদী থেকে কিছু  পানি সংগ্রহ করে আমাদের  ল্যান্ডারের ল্যাবরেটরীতে  পরীক্ষা করলাম /  99 পয়েন্ট 99 শতাংশ বিশুদ্ধ পানি /  রেইন কিছুটা পানি নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো /  আমি ইশারায়  অনুমতি দিলাম / রেইন আস্তে আস্তে  কয়েক চুমুকে পানিটুকু গলাধঃকরণ করল /  আমি রেইন এর মুখের দিকে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি /   রেইন কিছুক্ষণ  চুপ করে থাকলো তারপর আস্তে আস্তে হাসিতে তার মুখটা ভরে গেল / মুখে বলল নাইস / দুজনে একসাথে হেসে উঠলাম /  রেইন আরও কিছুটা পানি নিয়ে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল /   আমি পানির পাত্রটা হাতে নিয়ে এক মুহুর্ত অপেক্ষা করলাম তারপর ঢকঢক করে সমস্ত পানি একেবারে গলাধঃকরণ করে ফেললাম /   সুন্দর  সুমিষ্ট ঠান্ডা পানি / আনন্দের আতিশয্যে দুজনেই ঘাসের উপর শুয়ে পড়লাম /শুয়ে শুয়ে  আকাশ দেখতে থাকলাম /  নীল আকাশ ,  মাঝে মাঝে সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে /  একেবারেই  আমাদের পৃথিবীর মতো  পরিবেশ / আমাদের মুল জান থেকে  আমাদের জানানো হলো  জঙ্গল এর ভেতরটা  নানা ধরনের জীবজন্তুর  আনাগোনা রয়েছে  বিশেষ করে সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর উপস্থিতি অনেক বেশি / এখান থেকে প্রায় 40 কিলোমিটার দূরে  মানব সাদৃশ্য কিছু প্রাণীর  অস্তিত্ব আমাদের ক্যামেরার ছবি  তে  দেখা যাচ্ছে / তবে প্রাণীগুলো হিংস্রও হতে পারে সুতরাং সাবধান / আমরা দুজন আবার আমাদের    লেন্ডারে  চড়ে বসলাম তারপর ইঞ্জিন স্টার্ট করে আকাশে  উঠে এলাম /  আমাদের গন্তব্য 40 কিলোমিটার দূরের সেই বসতি / আমরা  আকাশ থেকে দেখতে পেলাম মাঠে ফসলের ক্ষেত , মহিষ গরু চড়ে বেড়াচ্ছে  মাঠের মধ্যে / কিছু কিছু মানুষ  সদৃশ্য প্রাণী ও দেখতে পেলাম মাঠে কাজ করছে / একসময় দূর হতে মানুষের বসতি আমাদের নজরে এলো /  নদীর ধারে লতায় পাতায় ছাওয়া  ঘরবাড়ি / মানুষজনের পরনে অদ্ভুদ ধরনের পোশাক / তবে প্রায় সবাই সশস্ত্র / নানা ধরনের জীবজন্তুর হাড় দিয়ে তৈরি মারণাস্ত্র /  আমরা  লোকালয়ে হতে হাফ কিলোমিটার দূরে   অবতরণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম / আমরা হঠাৎ করেই  লোকালয় এক ধরনের চাঞ্চল্য দেখতে পেলাম / তা রা আমাদেরকে দেখতে পেয়েছে /  মনে হল মানুষজন চিৎকার চেচামেচি করছে /  আমাদের দিকে আঙ্গুল তুলে একে অপরকে কি যেন বোঝাতে চাইছে /  আমরা  নেমে এলাম মাটিতে / দেখতে পেলাম লোকজন দৌড়ে হাতে অস্ত্র হাতে আমাদের দিকে আসছে /  আমরা আমাদের  লেন্ডার থেকে নেমে লেজার গানগুলো অন করে পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম /  যদি ওরা আমাদের আক্রমণের চেষ্টা করে তবে আমরা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখার জন্য লেজার গানের সাহায্য নেব /  তাছাড়া আমাদের মূল জান থেকেও আমাদের প্রোটেকশনের ব্যবস্থা আছে /  তারাও আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখতে পারবে /  সুতরাং   ভয়ের  তেমন কিছু নেই / কিন্তু মানুষগুলো আমাদের কাছাকাছি এসে সবাই থেমে গেল /  এরপর সবাই তাদের  নাক  মাটিতে গুঁজে শুয়ে পড়ল /  শুয়ে শুয়ে তারা চিৎকার চেচামেচি কান্নাকাটি করতে লাগলো /  আমরা দুজন  আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে ওদের কাছে গেলাম ,  হাত তুলে ওদের কে ইশারায় বসতে বললাম /  ওরা সবাই আস্তে আস্তে উঠে মাটিতে বসে রইল /  হঠাৎ করে দেখলাম ছোট একটা বাচ্চা মেয়ে পরনে তার চামড়া র  অদ্ভুত ধরনের পোশাক / দৌড়ে আমাদের দিকে আসছে /   মেয়েটির যখন কাছে  চলে আসলো তখন মেয়েটির দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম উস্কোখুস্কো চুল /   চুলের মাঝখানে  নানা রঙ্গের পাখির পালক  /  কানে গলায় অদ্ভুত ধরনের  গহনা / মেয়েটি দৌড়ে এসে আমার   গায়  মুখ দিয়ে থুতু ছিটিয়ে দিতে লাগলো তারপর হাত দিয়ে সেই থুতু গুলি আমার শরীরে মাখিয়ে দিতে লাগলো /  আবার কিছুক্ষণ বুক চাপড়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি করতে লাগলো  আবার কিছুক্ষণ পর আবার আমার গায়ে থুতু ছিটিয়ে মাখাতে লাগলো /  আমি প্রথমে একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম / কিছুক্ষণ পর দেখলাম আরো একটি ছোট মেয়ে এসে  একই কাজ করতে লাগলো এবং  আমাকে বারবার জড়িয়ে ধরতে লাগলো /   আমি কি   করব বুঝতে পারছিলাম না  / এরপর মেয়ে দুটির মুখের দিকে  তাকিয়ে হঠাৎ করেই আমি চমকে উঠলাম /   মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো আরিয়া ? আমি মেয়েদুটোকে কাছে টেনে এনে ভালো করে  তাকিয়ে দেখলাম  না আমি ভুল দেখছি না ,  এরা আমার হারিয়ে যাওয়া আরিয়া  ও আয়েশা / আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি কি দেখছি ?   এরপর সেই ভিড়ের মধ্যে দেখলাম   রাভিদ আমার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে /  আমি ইশারায় ওকে কাছে ডাকলাম /   রাভিদ দৌড়ে এসে  একইভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরে  গায়ে   থুতু  মাখাতে লাগলো / আমি বুঝলাম এটাই ওদের ভালোবাসা   জানানোর পদ্ধতি /  কিন্তু এরা কারা ?  এরা কি সত্যিই আমার প্রিয় আরিয়া আয়েশা রাভিদ ?  এরা এখানে কেন ? তবে কি সত্যিই এই গ্রহটা আমাদের পৃথিবী র ই  একটা কপি ? এরপর আমি উপস্থিত লোকজনদের দিকে ভালো করে  তাকিয়ে দেখলাম / অনেকেই আমার  পরিচিত মনে হল / আরিয়া আয়েশা  রা ভিদ  ওরা আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকলো /  উপস্থিত লোকজন আনন্দ উল্লাসে কেউ বুক  চাপড়াচ্ছে আবার কেউবা  ধেই ধেই করে নাচছে / প্রায় এক কিলোমিটার হাটার পর আমি ছোট্ট ভাঙাচোরা কুটীরের সামনে এসে দাঁড়ালাম / ওরা কেমন যেন এক অদ্ভূত শব্দ করে চেঁচামেচি করতে লাগলো /  দুইজন মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এলো / পরনে তাদেরও গায় চামড়ার পোশাক /  এলোমেলো মাথার চুল যেন পাখির বাসা / হাতে কাঁধে নানা ধরনের হিবিজিবি আঁকা / নাকে গলায় পশুপাখির হাড়ের গহনা / তারা এক মুহুর্ত থমকে দাঁড়ালো তারপর দৌড়ে এসে আমার গায়ে    থুতু  ছিটাতে  লাগলো / আমি মহিলা দুজনকে একটু ভালো করে খেয়াল করতেই বুঝতে পারলাম এরা দু&#039;জনই আমার দুই ছেলের বউ   / রেইন একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল মনে হচ্ছিল তার খুবই অস্বস্তি হচ্ছে / আরিয়া আয়েশা ওরা আমাদেরকে ঘরের ভেতর নিয়ে মাটিতে বসিয়ে দিল / কিছুক্ষণ পরে দেখি গরু মহিষ অথবা বাই সন এর বড় একটা আস্ত  রান আগুনে পুড়িয়ে এনে গাছের লতা দিয়ে বেঁধে আমাদের সামনে ঝুলিয়ে দিল /  আমরা বুঝতে পারছিলাম না কি করব /  আরিয়া আয়েশা রা ভিদ   ওরা মাংসগুলো হাত দিয়ে  ট্রেনে  ছিড়ে অথবা দাঁত দিয়ে কামড়ে ছিড়ে আমাদের দুজনকে খাইয়ে দিতে লাগলো / আর ইশারায় আমাদেরকে একই কাজ করতে বলল /  আমরা বুঝলাম এটাই ওদের খাওয়ার নিয়ম /  আমিও খাওয়া শুরু কর লাম /   মাংসটা খেতে  খুবই মজার /  আমার ভালো লাগছিল /  পেটে খিদে ও ছিল /  তাই গ্রোগ্রাসে গিলতে লাগলাম /  কিন্তু রেইন সামান্য একটু মুখে দিয়েই সব  সব ফেলে দিল /   আরিয়া আয়েশা ওরা  খিলখিল করে হাসতে লাগলো /  আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম /  জায়গা ও আবহাওয়া ভেদে মানুষের গঠন ,গায়ের রং , এবং ভাষার পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু তাবৎ সৃষ্টির হাসি ও কান্না একই রকম /  এটাই মনে হয় সৃষ্টির আসল ভাষা /  

সূর্য যখন  পশ্চিমে হেলে পড়েছে  আকাশের রং রক্তিম হয়ে সূর্য যখন বিশ্রামের আয়োজন করছে তখন আমি দেখতে পেলাম  দূরে কিছু লোকজনকে সরু  মেঠো পথ ধরে বাড়ি ঘরের দিকে ফিরে আসছে / আমি দেখলাম একটা বাসের মধ্যে বড় একটা হরিণ শিকার করে বেঁধে নিয়ে দুজন  মানুষ  বাস  টাকে কাঁধে নিয়ে   হেঁটে আসছে  / খালি গা খালি  পা  পরনে পশুর  চামড়ায়  তৈরি পোশাকে  শরীরের নিম্নাংশ ঢাকা / খুব কাছে আসতেই দেখতে পেলাম ওদের শরীরের নানা ধরনের হিজিবিজি আঁকা /  আমি খুব অবাক হয়ে দেখলাম ওরা দুজন আমার দুই ছেলে রাজিব এবং সজীব /  আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম /  ওরা আস্তে আস্তে বাড়ির  উঠোনে এসে দাঁড়ালো /  আমার দিকে তাকিয়ে রইল /  তারপর  কাধের হরিণটিকে মাটিতে ছুরে ফেলে দৌড়ে আমার কাছে এসে এক ধরনের শব্দ করে আমাকে জড়িয়ে ধরতে লাগলো দুজনে মিলে আমাকে  কাঁধে নিয়ে  নাচতে লাগলো /   আরিয়া আয়েশা  রা ভিদ  ওরাও ওদের বাবার সঙ্গে যোগ দিয়ে নাচতে লাগলো / রাতে সবাই বাড়ির খোলা জায়গায় একসঙ্গে  গোল হয়ে খেতে বসলাম /  গোটা হরিণের বড় একটা ঝলসানো দেহ যথারীতি  গাছের লতা দিয়ে বেঁধে  ঝুলিয়ে দেয়া হলো /  আমরা সবাই গোল হয়ে বসেছি /  কিছু গাছের শিকর বাকর ও মাংসের পাশে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে /  আমরা সবাই একসাথে সেখান থেকে মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাওয়া শুরু করলাম সঙ্গে সেই শিকর বাকর ও মুখে দিতে লাগলাম /  একসময় খাওয়া শেষ হল / একটা বিষয় আমি বিশেষভাবে খেয়াল করলাম /  এদের নিজস্ব কোন ভাষা নাই / আকার ইঙ্গিতে একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করে / অনেক রাত পর্যন্ত আমরা উঠানে বসে রইলাম /  আরিয়া আয়েশা   রাভিদ বসে বসে মশালের আলোয় আমার গায়ে লতাগুল্মের রস ব্যবহার করে নানা ধরনের ছবি একে দিল /  চুলে পাখির পালক গুঁজে দিল / এরপর  আমরা মাটিতে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম /  রেইন ও   স্লিপিং ব্যাগের ভেতর ঢুকে শুয়ে পড়ল /   

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার ছেলে দুটো শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে/ / আমিও প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম /  রেইন কে বললাম  তুমি ফিরে যাও /  আমি ফিরে পেয়েছি আমার  পুরনো পৃথিবী কে /  আমি আর আমার  প্রিয়জনদের কে হারাতে চাইনা /  আমার দিকে তাকিয়ে রেইন গভীর মমতা নিয়ে হাসল /  আমাকে বলল উইশ ইয়ার গুড লাক / আমি মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম / খালি গায়ে খালি পায়ে ছেলেদের সাথে বেরিয়ে  পড়লাম আমি /    (সমাপ্ত)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17892/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Jul 2021 14:11:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
সপ্তম পর্ব</p>
<p>আমি খাওয়ার টেবিলে বসে  লিন্ডা কে আমার আমেরিকা তে  ফিরে যাওয়ার কথা জানালাম / প্রথমে লিন্ডা রাজি হতে চাইল না /  সে বারবার যুক্তি দেখাতে চাইল   যে সে ছাড়া আমার  আপনজন তো আর কেউ নেই তবে কেন আমি আমেরিকায় ফিরে যাব ? লিন্ডা বলতে থাকলো তোমার জীবনের উপরে অনেক ঝড়  বয়ে গেছে /  এবার একটু স্থির হও /  একটু রেস্ট  নও /  এখান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17892"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17892/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6f6d0b9ade16b1b2015bb254a80f0ea8</guid>
				<title>টুইন আর্থ
ষষ্ঠ পর্ব


 চার ইঞ্জিনের এর  এয়ারবাস টা যখন অস্ট্রেলিয়ার  সিডনির আকাশে পৌঁছল তখন ঘড়িতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা 25 মিনিট /  এয়ার হোস্টেস ঘোষণা দিলেন যে আমরা আমাদের গন্তব্য প্রায় পৌঁছে গেছি / আপনারা আপনাদের সিট বেল্ট বেঁধে ফেলুন , আর কিছু সময়ের মধ্যেই আমরা ল্যান্ড করব /  বিমানের  ভিতরে একটা মৃদু গুঞ্জন ধন্যি  ছড়িয়ে পরল /  চতুর্দিকেই  বেল্ট  বাধার  খটখট শব্দ শুনতে পেলাম /  একসময় সমস্ত বিমানটি নিরব হয়ে গেল /  সব যাত্রীরা চুপচাপ বসে আছে কোথাও কোন শব্দ নেই এমনকি কোন শিশু ও  কাঁদছে না / প্রত্যেকটা বিমানের জন্যই এই ল্যান্ডিং মুহূর্তটা একটু ক্রিটিক্যাল /  এই সময়   পাইলট তার মেধা ও অভিজ্ঞতা কে ব্যবহার করে বিমানটিকে নিপুন ভাবে মাটিতে নামিয়ে আনেন / আমি জানালা দিয়ে নিচে  তাকালাম /  শহরের আলোকোজ্জ্বল ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট গাড়ি এগুলো দেখতে পেলাম /   আমার মনে পড়ে গেল এর আগেও   আমি একবার এই শহরে  এসেছিলাম / সেদিনও   বিমানের ল্যান্ড করার আগে এমনিভাবে আমি আকাশ থেকে সিডনি শহরটাকে  দেখেছিলাম  / আমি প্রচন্ড একটা আনন্দ উচ্ছ্বাস নিয়ে অপেক্ষা  করছিলাম কখন  প্লেনের চাকাটা মাটি স্পর্শ করে / যে মুহূর্তে চাকাটা মাটিতে স্পর্শ করে সেই মুহূর্ত টি. আমার খুব ভালো লাগে   প্লেন  টির  চাকা মাটি স্পর্শ করার সাথে সাথে ছোট্ট একটা ঝাকুনি অনুভব করি আমি / এক ধরনের স্বস্তির  নিঃশ্বাস  ফেলি /  প্লেনে উঠলে সবসময়ই  আমার মনে এক ধরনের টেনশন কাজ করে / তবে এই মুহূর্তে আমি কোন  টেনশন , উৎসাহ বা আনন্দ কোনটাই অনুভব  করছি না কারণ আমি জানি এয়ারপোর্টের বাইরে  আমার জন্য অপেক্ষায় কেউ নেই / এ পৃথিবীতে  আমার কেউ নেই / 


ইমিগ্রেশনের সমস্ত আনুষ্ঠিকতা শেষ করে আমি  যখন বাইরে বেরিয়ে  এলাম  তখন ঘড়ির কাঁটা প্রায়  রাত নয়টা ছুঁই ছুঁই করছে / আমি এখানে ভিআইপি প্রটোকল  পাচ্ছিলাম / তাই সময় খুব একটা বেশি নষ্ট হয় নাই , প্লেন থেকে  নামার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দুইজন ইয়াং লেডি আমার  পাশে এসে দাঁড়ালো এবং মুখে বলল ইয়েস স্যার ! অস্ট্রেলিয়াতে  আপনাকে স্বাগতম / কেমন  আছেন আপনি ?  অস্ট্রেলিয়া তে আমরা দুজন আপনার সহচর /   আপনার  সম্ভাব্য যেকোনো সমস্যার সমাধানের জন্য নিশ্চিন্তে আমাদের উপর নির্ভর করতে  পারেন / আমি মেয়ে দুটির দিকে চোখ তুলে  তাকালাম /  অল্প বয়সী দুটি মেয়ে / বয়স অল্প হওয়ার কারণেই হয়তো চেহারায় এক ধরনের ভালোলাগার ব্যাপার আছে / মিষ্টি চেহারা / আমি তাদের নাম জানতে  চাইলাম  /  তারা বললেন তাদের একজনের নাম রেশমা এবং অপরজনের নাম সাবিত্রী / এবার আমি তাদের দিকে একটু আগ্রহ ভরে  তাকালাম / তারপর জিজ্ঞাসা  করলাম তোমরা কি বাঙালি ?  মেয়ে দুটি একই সাথে উত্তর দিয়ে বলল হ্যাঁ আমরা বাঙালি এবং আমরা বাংলাদেশি /  আমি খুশি হয়ে গেলাম এবং  বললাম তাহলে তোমরা আমার সাথে প্লিজ ইংরেজিতে কথা না বলে বাংলায় বল /  আমি এখনো বাংলা ভুলে যাইনি / মেয়ে দুটো ঝলমল করে হেসে উঠলো /  এবং কৌতুক  ময় ভঙ্গিতে বলতে লাগলো ,  জি স্যার আপনি যেভাবে বলবেন সেভাবেই সব হবে / আমি বললাম আমি এখন ডার্লিং হারবারের যাব /  আমার প্রিয় দাদাভাই  রাভিদ কে দেখতে / রেশমা হেসে বলল ,  নিশ্চয়ই আপনি যাবেন স্যার ,  তবে আপনার এই দীর্ঘ  22 ঘন্টা র বিমান ভ্রমণে  নিশ্চয়ই আপনি কিছুটা ক্লান্ত /  অস্ট্রেলিয়া গভারমেন্ট আপনার অস্ট্রেলিয়া অবস্থানকালীন সময়ে আপনার    থাকা  ও বিশ্রামের জন্য হোটেলে দুই কামরার একটি সুইট রিজার্ভ করে রেখেছেন  /  চলুন স্যার প্রথমে আমরা সেখানে যাই / সেখানে গিয়ে প্রথমে দীর্ঘ একটা গরম শাওয়ার নেন তারপর হালকা কিছুটা খাওয়া-দাওয়া করেন এরপর আমরা বের হব / এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে এক ঝাঁক সাংবাদিকের ভেতর পড়ে গেলাম আমি /  সবাই  আমাকে ঘিরে ধরল / নানা ধরনের ক্যামেরার  ক্লিক ক্লিক   শব্দে ফ্লাসলাইট জ্বলতে লাগলো / নিউ সাউথ ওয়েলস এর সিডনি শহরের মেয়র ডেবিট এগিয়ে এসে আমাকে এই সাংবাদিকদের হাত থেকে উদ্ধার করে  গাড়িতে উঠিয়ে দিলেন এবং  হাত  নেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত করলেন /  মেয়ে দুটি গাড়িতে  আমার  বা পাশে বসা ছিল /   আমি গাড়ির ভেতর থেকে বাইরে তাকিয়ে  রইলাম /    আমার মনের ভেতরটা যেন ছিড়ে যাচ্ছিল / চোখের ভেতর জল  জমে যাচ্ছিল /  বারবার টিস্যু ব্যবহার করে সেই জল পরিষ্কার করছিলাম আমি  /  এর আগেও আমি এই শহরে আরেকবার এসেছিলাম তখন আমার দুটি ছেলে আমাকে নেয়ার জন্য  এসেছিল /  আরিয়া আয়েশা রাভিদ ওরাও এসেছিল /  দাদাভাই কে দেখে তখন তাদের কি  উল্লাস / কেউ দাদাভাইয়ের হাত ধরে  টানে  তো কেউ আবার দাদাভাইয়ের কোলে  উঠে পড়ে /  এরমধ্যে কথা বার্তা তো আছেই তিনজন একই সাথে দাদাভাইয়ের সাথে কথা বলতে থাকে / ওদের মা রা ওদেরকে ধমকাতে থাকে এত কথা না বলার জন্য /  কিন্তু কে শুনে কার কথা /  ওদের কথা ওরা বলতেই থাকে / আজ আমি আবার সেই শহরে  ফিরে এসেছি / আমি ফিরে এসেছি কিন্তু ওরা সবাই  চলে গেছে এই শহর থেকে  / এই শহরে ওরা আর কেউ নেই / ব্যাপারটা  ভাবতেই   আমার মনের ভিতর টা শূন্যতায় ভরে যাচ্ছে /  বুকের ভেতরটা কেমন যেন  চুপসে যাচ্ছে /  শহরের ব্যস্ততা সেই রাস্তাঘাট বাড়িঘর সবকিছু আগের মতই আছে /  শুধু নেই আমার সেই আদরের ছেলে দুটো / সমস্ত শহর তন্ন তন্ন করে খুঁজলে ও তাদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা / মনে আছে এর আগে যখন আমি এই শহরে এসেছিলাম তখন প্রায় চার মাস এখানে ছিলাম / যেদিন আমার দেশে ফিরে যাওয়ার কথা তার আগের রাতে ওদের মা ওদেরকে রাতে ভাত খাওয়ার পর ডেকে বলল ,  তোমরা আজকে আর দাদাভাই কে বিরক্ত করো না /  দাদাভাই কালকে  দেশে চলে যাবেন /  সুতরাং উনাকে রাতে ঘুমোতে হবে /  কথাটা শুনে আরিয়া আয়েশা দুজনে দাদাভাইয়ের দুই হাত চেপে ধরে টানতে টানতে ওদের বাবার কাছে নিয়ে আসে /  তারপর বাবাকে বলে বাবা বাবা দাদাভাই কালকে চলে যাবে /  বলেই সে কি কান্না / ওরা দুজনে আমা কে এমন ভাবে চেপে ধরেছিল যেন মনে হচ্ছিল দাদাভাইয়ের হাতটা ছেড়ে দিলে এখনই দাদাভাই উড়ে চলে যাবে /  তারপর রাতে শোয়ার সময় দুজনে এমন ভাবে আমাকে   দুদিক থেকে  জড়িয়ে ধরে রেখেছিল যেন দাদাভাই কোন অবস্থাতেই চলে যেতে না পারে /  আমার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল / হঠাৎ করে মেয়ে দুটির কথায়   আমি সম্বিৎ ফিরে  পেলাম /  স্যার আমরা আমাদের হোটেলে  চলে  এসেছি ,  আমাদের নামতে হবে / আমি চোখ মেলে চতুর্দিকে একবার  তাকালাম  হোটেলের  লবিতে অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছেন /  সবাই আমাকে এক নজর দেখার জন্য   উদগ্রিব / আমি গাড়ি থেকে নাম লাম/  তারপর সবার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে হেঁটে লিফটের ভেতর ঢুকে  পড়লাম/ মেয়ে দুটো  আমার লাগেজ গুলো টানতে টানতে নিয়ে এসে আমার পেছনে পেছনে এসে তারা ও লিফটের  ভেতর ঢুকে গেল / হোটেল রুমে  ঢুকে  আমার মনটা খুশি হয়ে গেল /  খুব সুন্দর করে গোছানো রুম দুটি /  রুমের এক কোনায় এক্সট্রা ডাবল খাট /  খাটের পাশেই সাইট টেবিলে  ফ্লাওয়ার ভাসে অনেকগুলো তাজা  লাল গোলাপ , সঙ্গে হাসনাহেনা ফুল / হাসনাহেনা ফুলের গন্ধে সমস্ত ঘরটা মৌ মৌ করছে /  বিছানার চাদর এবং  জানালার পর্দা  গুলো একই ডিজাইনের হালকা নীল  হলুদ এবং লাল রঙের ডিজাইন করা বিছানোর লাল রং এবং ফ্লাওয়ার ভাসের লাল রং এর গোলাপ গুলো দিয়া কালার ম্যাচিং করা হয়েছে /   মেঝের কার্পেটের রংটা হলুদ / রুমের  একপাশে কাঠের নকশা করা একটা আলমারি এবং আলমারির উল্টোদিকে এক সেট নীল রঙের সোফা /   সোফার সামনে যে টি টেবিলটা আছে সেই টেবিলের উপরে বিছানা টেবিল   ক্লথ টি ও নীল রঙের / ক্লথ  টির মাঝ বরাবর লাল রংয়ের সুতার কাজ করা / আমি আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে জানলার সামনে গিয়ে    দাড়ালাম /  পর্দা গুলো হাত দিয়ে  সরিয়ে  বাইরে  তাকালাম /  নিচে রাস্তা গুলোতে এখনো ব্যস্ততা তেমন একটা কমেনি / রাস্তায় সারি সারি গাড়ির লাইন /  আলো ঝলমল করছে  সারা শহর /  নানা রংয়ের  নিয়ন বাতিগুলো জ্বলছে  নিভছে / দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার  দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত প্রায়  এগারো  টা / একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়া এল আমার  বুকের ভেতর থেকে /  পৃথিবীটা প্রায় আগের মতই আছে আলোর ঝলকানি জৌলুস আগের চেয়ে আরও বেড়েছে  /  কিন্তু আমার প্রিয় মানুষগুলো কেউ আর এখানে নেই /  সবাই আমাকে ছেড়ে  চলে গেছে / 

ঘড়িতে রাত বারোটা বেজে গেছে আরো 10 মিনিট আগেই / হঠাৎই ডোর বেলটা বেজে উঠলো / দরজা র লক খুলে দিতেই ঘরে ঢুকলেন  মেয়র ডেবিট / গোলগাল চেহারার হাসিখুশি মুখের মেয়র ডেবিট /  তার মুখে সবসময় একটা হাসি হাসি ভাব লেগেই আছে /  মনে হয় যেন  এই পৃথিবীর  কোন কিছু  দেখলেই যেন তার হাসি পায় / তার কথার মধ্যে ও সব সময় একটা কৌতুক কৌতুক ভাব থাকে / ওকে  স্যার ,  আমি চলে এসেছি /  চলুন এবার যাওয়া যাক আমাদের এই শহরের গর্ব আপনার  নাতি  রাভিদ আহমেদ এর  ভাস্কর্য দেখতে / 

সামনে পিছনে দুটো সিকিউরিটির গাড়ি মাঝখানে একটা বিএমডব্লিউ তে মেয়র ডেভিড সামনে    ড্রাইভার এর পাশে মেয়ে দুটো পেছনে আমার পাশে উঠে বসলো / গাড়ি চলতে শুরু করল /  ততক্ষনে রাস্তাঘাটের ব্যস্ততা প্রায় নেই বললেই চলে /  অনেক খন পরপর দুই-একটা গাড়ি   রাস্তার নির্জনতা  ভেঙে দিয়ে এদিক সে দিক   ছুটে যাচ্ছে /  ট্রাফিক সিগন্যালের বাতিগুলো একা একাই খেলা করছে , একবার   নি ভ ছে আবার জ্বলছে ,  একবার লাল হচ্ছে আবার নীল হচ্ছে  / আমি তনময়  হয়ে শহরটা  দেখছিলাম / প্রায় আধাঘণ্টা চলার পর হঠাৎ করেই বড় একটা গেটের সামনে গাড়িটা থেমে গেল /   মেয়র সাহেব বললেন এবার আমাদের নামতে  হবে /  এত রাতে গেট খোলা যাবেনা , আমাদের  হেঁটেই ভিতরে প্রবেশ করতে হবে / আমি গাড়িতে বসেই বললাম , মেয়র সাহেব আমার ছোট্ট একটা অনুরোধ আছে / মেয়র সাহেব জিজ্ঞা সু  দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইলেন আমার  দিকে /  মুখে তখনো একটা হাসি হাসি ভাব / ভিতরে আমি একাই যেতে চাই , প্লিজ আপনারা দয়া করে এখানেই অপেক্ষা করুন / ওকে ওকে কোন সমস্যা নেই আমরা এখানেই অপেক্ষা করছি / আমি গাড়ি থেকে নেমে ছোট্ট পকেট গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম / প্রায় পাঁচশত   গজের লম্বা একটা রাস্তা / রাস্তার  দুপাশে বাগান / বাগানে নানা ধরনের গাছ-পালা / রাস্তাটির বা পাশে  মাঝা  মাঝি  জায়গায়  ফ্লাড লাইটের আলোয় ঝলমল করছে , সেই আলোর মধ্যেই বেদীতে একটা  ব্লেজার  পরিহিত  মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা ভাস্কর্ / আমি আস্তে আস্তে হেঁটে হেঁটে সেই ভাস্কর্যের  দিকে এগিয়ে  গেলাম / কাছে গিয়ে  রাভিদ কে চিনতে   পারলাম /  সেই  নাক সেই চোখ হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে /  উপরের পার্টির দুটি দাঁত বের করে  হাসছে /  উপরের পার্টির   মাঝের দুটি  দাঁতের মাঝে একটু বেশি ফাঁকা /  ওর মায়ের  দাঁত গুলো এমনই ছিল / ওর মা ছিল  আমারি ঘনিষ্ঠ ছোটবেলার বন্ধু  র মেয়ে  /  খুব শখ করে  নিজে পছন্দ করে ছেলেকে  বিয়ে করিয়েছিলাম / ভাস্কর্য টা র কাছাকাছি গিয়ে আমি দাঁড়িয়ে রইলাম / একদৃষ্টিতে তাকিয়ে  থাকলাম রাভিদের মুখের দিকে /   রাভিদ  তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে  মুখ করে /  মনে হচ্ছে যেন সে দাদাভাইয়ের সাথে অভিমান করে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে /  হঠাৎ করে   আমি শুনতে পেলাম ,   দাদাভাই তুমি আমার গাড়িটা এনেছ ?  আমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম /  তারপরে জ্ঞান হারিয়ে রাভিদের পায়ের কাছে পড়ে  গেলাম / 

যখন জ্ঞান ফিরে  এল তখন আমি নিজেকে একটা হাসপাতালে  বেডে শুয়ে থাকতে দেখতে পেলাম /  প্রথমে  আমি  ঠিক বুঝতে  পারছিলাম না কেন আমি এখানে শুয়ে  আছি / কিন্তু একটু পরেই  আমার সবকিছু মনে পড়ে গেল / আমি ঝট করে উঠে   বসলাম /  দেখতে  পেলাম একটু দূরে রেশমা এবং সাবিত্রী মুখটা মলিন করে  বসে আছে / মাথার কাছে বসে আছে মেয়র ডেবিট /  সেই চিরপরিচিত হাসিটা তার মুখে আর নেই /  উঠে বসতেই মেয়র হা হা করে উঠে  দাঁড়ালেন /  এইতো লক্ষী ছেলের মত জ্ঞান ফিরে এসেছে /  যা ভয় পাইয়া দিয়েছিলেন  না ?  আমি তো ভেবেছিলাম আমার চাকরিটাই বুঝি গেল /  অবশ্য এখানকার ডাক্তাররা বলেছে ভয়ের কোন কারণ নেই /  আপনার হার্টবিট প্রেসার   সব ই  নরমাল আছে /  অতিরিক্ত মানসিক প্রেসারের কারণে  আপনার সিস্টেমটা ফেল করে গিয়েছিল আর কি ,   আপনি ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিলেন /  মেয়র আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন তবে ভাই আমি ডাক্তারদের কথা খুব একটা বিশ্বাস করি না / আমার তো মনে হয়  এই ডাক্তার গুলা কিছুই বোঝেনা , মনে যা  আসে তাই বলে /  সব ই যদি ঠিক থাকে তবে অজ্ঞান হয়ে যাবে কেন ? ওকে চলুন আগে আমরা এই হাসপাতাল থেকে পালাই / আপনাকে আপনার আস্তানায় দিয়ে আসি / ও ভালো কথা , আগামীকাল সকাল দশটা এগারোটা মধ্যে আপনার নাতনি আয়েশা বেগম এর একমাত্র নাতনি লিন্ডা  হপকিনস আসছে আপনার সঙ্গে দেখা করতে / আজকে হোল্ডে আপনি রেস্টে থাকবেন / আসলে আপনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে আছেন / প্রচন্ড প্রেসার যাচ্ছে আপনার মনের ভেতর দিয়ে / সুতরাং আজকে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেবেন / শুধু খাবেন আর ঘুমাবেন যেকোনো প্রবলেমে রেশমা ও সাবিত্রী আপনার কাছাকাছি থাকবে ওদেরকে বলবেন /  আমি এখন যাচ্ছি / ওকে ব্রাদার হ্যাপি নাইস ডে /

লিন্ডা যখন আমার রুমে প্রবেশ করলো তখন ঘড়িতে বাজে সকাল দশটা /  লিন্ডা এর পেছনে আরো একজনকে দেখতে পেলাম সুন্দর সুদর্শন একটু বোকা বোকা সহজ সরল চেহারার একটি ছেলে /  দেখলেই বোঝা যায় বউয়ের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র  এবং  লিন্ডার বাঁ হাতের কড়ে  আঙ্গুল ধরে  ছোট্ট পুতুলের মত  একটা মেয়ে   / আমি সোফা ছেড়ে উঠে  দাড়ালাম /  তাকিয়ে রইলাম লিন্ডার  দিকে /  জিন্স এর প্যান্ট এবং নীল রংয়ের গেঞ্জি   পড়া লিন্ডা আস্তে আস্তে রুমে ঢুকলো , রুমে র ঠিক মাঝ বরাবর এসে থমকে দাঁড়ালো /  কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আমার   দিকে   /  আমি ও  যেন ফ্রিজ হয়ে গেলাম /  তাকিয়ে রইলাম লিন্ডা এর মুখের  দিকে /  লিন্ডা , আমার আদরের ছোট্ট সেই আয়েশা এর নাতনি / কি আশ্চর্য সেই ছোট্ট আয়েশার এত বড়  নাতনি /  আমার ভাবতেই  কেমন  যেন  লাগছিল / হঠাৎ করে লিন্ডা  দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল তারপর কাঁদতে শুরু করল /  বড় বাবা সেই তুমি এলে কিন্তু অনেক দেরি করে ফেলেছ /  তুমি জানো ?  আমার  নানু  তোমাকে কত ভালোবাসতো  ? আমার চোখ দিয়েও তখন জল গড়িয়ে পড়ছিল / লিন্ডা এর মাথায় হাত     বুলিয়ে  দিতে দিতে বলতে লাগলাম ,  মা রে আমার নিয়তি আমাকে আমার এই আদরের ভালোবাসার মানুষগুলো থেকে আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল /কেন আমি এরকম অদ্ভুত নিয়তি নিয়ে জন্মেছিলাম তা আমি জানিনা / আমার ভালোবাসার কোন মানুষকেই আমি আমার কাছে ধরে রাখতে পারেনি /  কেউ আমার থেকে দূরে সরে গেছে অথবা আমি কারো থেকে দূরে সরে গেছি / লিন্ডা আমার বুকের মধ্যে মাথা রেখে  ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো /  হঠাৎ  দেখি লিন্ডার মেয়েটা একটা টিস্যু এনে আমার চোখের  জল মুছে দিচ্ছে / আমি মেয়েটাকে ও  জড়িয়ে ধরলাম এবং আমার  কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেল / একসময় আস্তে আস্তে আমাদের আবেগের মাত্রা কিছুটা কমে  এল /লিন্ডা চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে সুস্থির হয়ে বসল /  আমাকে বলল আমার কাছে আমার  নানুর একটা ডায়েরি আছে / সেখানে তার ব্যক্তি জীবনের অনেক কিছুই লেখা আছে এমনকি তোমাকে  নিয়েও  অনেক কিছু লিখেছে আমার   নানু /  আমি ডায়েরি টা নিয়ে   এসেছি তোমার  জন্য / বলেই  সে তার   সুটকেসের ভেতর থেকে একটা পুরনো ডাইরি বের করে আমার হাতে দিল /  এরপর সে তার মোবাইল খুলে তাদের পুরনো পারিবারিক ছবি  আমাকে দেখাতে লাগলো /  সেখানে  রাভিদ আরিয়া আয়েশা সবার ছবি ই আছে /  একটা ছবিতে দেখলাম রাভিদ তার অফিসে বসে কাজ করছে / মাথায় ঝাঁকড়া চুল  অ্যাস কালারের  একটা ব্লেজার পড়া / আরেকটা ছবিতে দেখলাম আরিয়া একটা ল্যাবরেটরীতে  সাদা  এপ্রোন গায়ে দিয়ে গভীর মনোযোগের সাথে কাজ করছে / আরেকটা ছবিতে দেখলাম আরিয়া শাড়ি পরে খুব সুন্দর করে সেজেছে একটা সুদর্শন ভুলভাল চেহারার একটা ছেলে পেছন থেকে তার খোপায় বড় লাল   রংয়ের একটা গোলাপ গুঁজে  দিছে  /আমি অনুমান করলাম এটাই  আরিয়া র  সেই ভালোবাসার মানুষটা /  আমি তাকিয়ে রইলাম ছবিটার দিকে / খুব মায়া লাগলো  ছেলেটাকে দেখে / ইচ্ছে হলো ছেলেটার  নাক টা ধরে একটু আদর করে দিতে /  বারবার মনে হতে লাগলো ইস যদি এই সময়টায় আমি ওদের সঙ্গে থাকতাম ? এরপর লিন্ডা ওর নানার ছবি বের করল / অস্ট্রেলিয়ান ভদ্রলোক /   আয়েশা তাহলে  বিদেশি ছেলে বিয়ে করেছিল /  ছোটবেলা থেকেই  আয়েশা এর মধ্যে বিদেশি  বিদেশি একটা ভাব ছিল /  তার কথা বলার স্টাইল হাটা চলাফেরা কোন কিছুতেই আমার কাছে ওকে বাঙালি মনে হত না / শুধুমাত্র তার হাসিটা ছিল মধুর , খুবই মধুর একজন বাঙালির হাসি / সে বেশিরভাগ সময় মুখ টিপে টিপে  হাসতো /   সেই ছোট্ট আয়েশা /  যে প্রতি মুহূর্তেই দাদাভাইয়ের সাথে দুষ্টুমিতে মগ্ন থাকতো /  প্রচন্ড শীতের মধ্যে রুম  হিটার টা বন্ধ করে হি হি করে  হাসোতো / ছোট্ট  মায়াবী আয়েশার  মুখটা বারবার মনের ভেতর ভেসে   উটছে /  আয়েশা এর কথা মনে হলেই একটা কথা আমার খুব মনে  পরে /  সে সারা দিন দাদাভাইয়ের সাথে দুষ্টুমিতে ব্যস্ত থাকতো/ কিন্তু আবার কিছুক্ষণ পরপরই এসে দাদা  ভাইকে জিজ্ঞাসা করতো /  দাদাভাই আমি গুড নাকি ব্যাড ?  যদি আমি বলতাম তুমি ব্যাড /  তাহলে আবার রাগ করতো / কিন্তু যদি আমি বলতাম না তুমি গুড তাহলে খুশি হয়ে একটা হাসি দিত /  অনেক সময় শুধু তার এই হাসিটা দেখার জন্যই আমি বলতাম তুমি ভেরি গুড / তারপর সে আনন্দে গদগদ হয়ে আমার কাছে এসে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলতো দাদাভাই তোমাকে আমি একটা কথা বলবো /  আমি বলতাম ঠিক আছে বল /  সে বলতো না না আমি তোমার কানে কানে বলবো / আমি বলতাম আচ্ছা ঠিক আছে কানে কানে ই বল /  সে কানে কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলতো /  দাদাভাই তুমি কিন্তু ব্যাড /  বলেই আবার দৌড় / এই সেই আয়েশা / আমি অতীত জগত থেকে বাস্তবে ফিরে এলাম / কি দুর্ভাগ্য আমার / এই আনন্দঘন সময়গুলোতে আমি কোথায় কোন দূর অজানায় হারিয়ে গিয়েছিলাম /  হঠাৎ করে ই আমার লি এর কথা মনে পরে গেল / আচ্ছা লি এখন কেমন আছে ?  লি একদিন আমাকে একটা কথা বলেছিল সে জানতে চেয়েছিল যেদিন আমি আমার প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাব তখন তাকে আমার মনে থাকবে কিনা ? আমি বিড়বিড় করে বলতে থাকলাম না লী তোমাকে আমি ভুলিনি / কিভাবে ভুলবো আমি ?  তুমি বিনে আমার মনের ভেতরটা তো একদম ফাঁকা ,  আর কেউ তো নেই সেখানে / আমার হৃদয়ের সম্পূর্ণটাই  আমি তোমার কাছে ফেলে এসেছি / লিন্ডা হঠাৎ আমাকে   মৃদু একটা ঝাঁকুনি দিয়ে  জিজ্ঞাসা করলো  কি ভাবছো তুমি ? অমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম / মুখে বললাম না না কিছু না কিছু ভাবছি না আমি / লিন্ডা আমাকে বলল তুমি তোমার সবকিছু গুছিয়ে নাও /  তোমাকে আমি আমার সাথে নিয়ে যাব /  তুমি এখন থেকে আমার কাছেই থাকবে / আমি গভীর একটা মমতা নিয়ে লিন্ডার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম / আমার চোখ দুটো কেন যেন আবার ভিজে   উঠতে চাইছে / চোখের সেই জল  লুকোতেই  চোখেমুখে জলের ঝাপটা দেওয়ার ভান করে বাথরুমে ঢুকে গেলাম / আমি সাবিত্রী এবং রেশমাকে ওই রাতের জন্য ছুটি দিয়ে দিলাম /  ওদের রুমে লিন্ডার স্বামী এবং মেয়ের  বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দিলাম / সারারাত লিন্ডা আমার সাথে বসে বসে গল্প করল / ওর বাবার কথা , মার কথা , খালা মামা সবার কথা , সে  গল্পের যেন শেষ নেই ,  ওর  নানু নাকি খুবই  রাস  ভারী টাইপের মানুষ ছিল /   / আয়েশা খুব রাশভারী টাইপের মানুষ ছিল ?  কথাটা শুনেই কেমন যেন আমার হাসি পেতে লাগলো  / যে মানুষের দুষ্টামি তে আমি প্রতিমুহূর্তে তটস্থ থাকতাম সে নাকি রাশভারী টাইপ এর মানুষ   ছিল ???  কি আশ্চর্য / আমি আমার ছেলে দুটির কথা জানতে চাইলাম /  লিন্ডা ওদের ছবি বের করে দেখালো /  সেই মাথাভর্তি  চুল ওয়ালা রাজিব এর মাথায় এক গাছি চুল ও নেই / ইয়া লম্বা দাড়ি / তবে সজীবের মাথায় কিছু চুল আছে তবে সম্পূর্ণটাই কাশবনের মত ধবধবে সাদা / দাড়িগুলো কিছুটা সাদাকালোর  মিশ্রন / আমি ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলাম / আমার চোখ দুটি দিয়ে জলের ধারা  বইতে থাকলো /  কথা বলতে বলতে  ভোরের দিকে   ক্লান্ত হয়ে সোফাতে ই আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম / হঠাৎ ফোনের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়   তাকিয়ে  দেখি লিন্ডা কার্পেটের উপর একটা কুশনের উপর মাথা রেখে ঘুমোচ্ছে /  আমি তাড়াতাড়ি ফোনটা নিয়ে রিং টোন টা মিউট  করে দিলাম  তারপর ফোনের স্ক্রিনে  তাকিয়ে দেখলাম  আননোন নাম্বার /  বোতাম টিপে ফোনটা রিসিভ  করতেই  ভেসে  এল  গুড মর্নিং স্যার , নাসা থেকে বলছি ,আমাদের মহাপরিচালক  স্যার আপনার সঙ্গে কথা বলবেন ,  প্লিজ ওয়েট এ মমেন্ট /  আমি ওপাশ থেকে খুব সুন্দর একটা মিউজিক ভেসে আস তে শুনলাম /  একসময় মিউজিক টা বন্ধ হয়ে গেল  নাসার মহাপরিচালকের কন্ঠ শুনতে পেলাম /  কেমন আছেন আপনি ? নিশ্চয়ই আপনার অস্ট্রেলিয়ার সমস্ত কাজ শেষ হয়েছে /  আপনি যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আমেরিকাতে ফিরে এসে আমার সঙ্গে দেখা করুন /  মেয়র ডেবিট আপনার সব ব্যবস্থা করে দেবে /  ঠিক আছে ? আপনার সঙ্গে আমার জরুরী মিটিং আছে /  আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করছি / আমি উত্তরে বললাম ওকে আমি আসছি / লাইনটা কেটে গেল / আমি ফোনটা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম / যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন সকাল নয় টার  কাছাকাছি  /  দেখলাম আমার আগেই সবাই ঘুম থেকে উঠে গেছে /  রেশমা এবং সাবিত্রী ওরাও চলে এসেছে /  লিন্ডার ছোট্ট মেয়েটা আমার মাথার কাছে বসে আছে / লিন্ডার স্বামী সাবিত্রী ও রেশমা এর সাথে বসে গল্প করছে /  আর লিন্ডা সদ্য গোসল  সেরে একটা টকটকে লাল রঙের গেঞ্জি এবং কাল একটা প্যান্ট পড়েছে / লিন্ডা কে দেখতে  খুবই সুন্দর  লাগছে / আমি লিন্ডার মাথাভর্তি চুল গুলোকে ধরে এলোমেলো করে দিয়ে আদর করে দিলাম /  লিন্ডা হাসতে থাকলো /  মুখে বলল বড় বাবা তাড়াতাড়ি  ফ্রেশ হয়ে নাও খুব খিদে পেয়ে গেছে / (চলবে)

 #Shahadat</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17613/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Jul 2021 14:44:34 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
ষষ্ঠ পর্ব</p>
<p> চার ইঞ্জিনের এর  এয়ারবাস টা যখন অস্ট্রেলিয়ার  সিডনির আকাশে পৌঁছল তখন ঘড়িতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা 25 মিনিট /  এয়ার হোস্টেস ঘোষণা দিলেন যে আমরা আমাদের গন্তব্য প্রায় পৌঁছে গেছি / আপনারা আপনাদের সিট বেল্ট বেঁধে ফেলুন , আর কিছু সময়ের মধ্যেই আমরা ল্যান্ড করব /  বিমানের  ভিতরে একটা মৃদু গুঞ্জন ধন্যি  ছড়িয়ে প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17613"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17613/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8adf850ee1939c866069f3fa319378f0</guid>
				<title>টুইন আর্থ
পঞ্চম পর্ব

লি একটু ধাতস্থ হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিয়ে একটা লম্বা   শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল /  আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম  ডিসিশন নিয়েছে /  পৃথিবীর মানুষের শরীরের ভেতরের  গঠন প্রণালী কে আরো ভালোভাবে জানার জন্য তোমার শরীরের ভেতরের সমস্ত অঙ্গ  পরীক্ষা করা হবে /  তোমরা এবং আমরা একই প্রজাতির মানুষ তারপরও তোমাদের এবং আমাদের Deoxyribonucleic Acid (DNA) তে  কিছু পার্থক্য আছে /  কেন  এই পার্থক্য ? এইসব তথ্য বিস্তারিত ভাবে  জানার জন্য তোমাকে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হবে / তুমি তো জানো আমাদের এখানে সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত / এটাকে   বদলানোর কোন ক্ষমতা এখানকার কোন মানুষের নেই / আমি সব ব্যবস্থা করে   রেখেছি /  আমি আমার নিজস্ব স্পেশাল সিকিউরিটি পাস ব্যবহার করে আমাদের অ্যারোনটিক্যাল স্পেস সেন্টারের একটি মহাকাশযান কে  ওড়ার জন্য প্রস্তুত করে  রেখেছি /  গত দুইদিন যাবত ওই মহাকাশযানের কম্পিউটার সিস্টেমের ডাটা ইনপুট দিয়েছে / ওটার রুট ম্যাপ ডিজাইন  করেছি /   ওটা তোমাকে নিয়ে তোমাদের একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের অরবিট পর্যন্ত তোমাকে পৌঁছে দেবে /  সেখান থেকে একটি ল্যান্ডারের মাধ্যমে তুমি চাঁদে ল্যান্ড করবে /  এখন চাঁদে তোমাদের পৃথিবীর National Aeronautics and Space Administration (NASA)  এর একটি বেজ স্টেশন আছে / ওটা একটা  রিচারস সেন্টার /   ওই বেজ সেশন থেকে পৃথিবীতে নিয়মিত ফ্লাইট চালু আছে /  তুমি সেই স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে গেলে সেখান থেকে সহজেই তোমার প্রিয় পৃথিবী নামক গ্রহটিতে ফিরে যেতে পারবে / কিন্তু লি  তুমি কেন এসব করবে ?  এতে তোমার বিপদ হতে পারে /  আমি জানি আমার এই কাজের জন্য আমার একমাত্র শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড  / দৃঢ়  কিন্তু ঠান্ডা শান্ত  কন্ঠে বলল  লি /  কিন্তু আমি আমার এই মৃত্যুর জন্য মোটেই চিন্তিত নই / আজকে তোমার এই বিপদের দিনে আমার ভালোবাসা তোমাকে আগলে রাখবে / তোমার জীবনের কোন ক্ষতি  হতে আমি দেবো না / এ জীবনে হয়তো তোমার আমার বিচ্ছেদ হয়ে যাবে / কিন্তু আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকবে / মৃত্যুর পরের জীবনে  আমি তোমার অপেক্ষায় ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকবো /  

এখন মনোযোগ দিয়ে কিছু কথা শোন /  তোমার এই যাত্রা পথটি  মোটেও আনন্দ ভ্রমণের মত কিছু নয় /   পথটি নিরেট অন্ধকার /  তোমার এই দীর্ঘ পথের সময় কমানোর জন্য আমরা আমাদের এই সৌরজগতের একটি ব্ল্যাক হোল কে ব্যবহার করব /  ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে তোমাদের বিজ্ঞানীদের কিছু ভুল ধারণা আছে /  তোমরা মনে করো এটা খুব ভয়ঙ্কর কিছু একটা /  এর ভিতর কোন জীবের অস্তিত্ব আলাদাভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয় /  আসলে ব্যাপারটা ঠিক সে রকম নয় /  ব্ল্যাক হোল এর ভেতর সময়ের কোন অস্তিত্ব নেই /  এখানে আলোর গতিবেগ শূন্যে / যেখানে আলোর কোন মুভমেন্ট নেই বুঝতেই পারছ সেখানে কোন কিছুই দেখা সম্ভব না / সবকিছুই  কাল ,  নিরেট শক্ত জমাট বাঁধা  অন্ধকার /  আমরা যারা সাধারণ মানুষ তাদের পক্ষে এই ধরনের পরিবেশ সহ্য করা সম্ভব না /  তবে এতে তোমার ভয়ের কিছু নেই /  তোমার সমস্ত যাত্রাপথেই তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হবে /  তোমার সমস্ত  শারীরিক ক্রিয়া প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে /  বেঁচে থাকার জন্য তোমার  শরীরে বাইরে থেকে  এক ধরনের  বিশেষ খাবার  সরবরাহ করা হবে / যা  তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে  কিন্তু শরীরের ভেতর  তেমন কোন বর্জের সৃষ্টি হবে না /  কাজেই তুমি এই যাত্রাপথে কোন কিছুই টের পাবে না / আজকের রাতের শেষে ভোর 5 টা 50 মিনিটে তোমার যাত্রা শুরু হবে /  সুতরাং এখানে আজকের  রাত টাই তোমার শেষ রাত  / তুমি ফিরে যাবে তোমার প্রিয় জনদের কাছে /  কিন্তু আমার প্রিয়মানুষ টি চিরতরে হারিয়ে যাবে আমার বুকের ভেতর থেকে / লি তার দুই হাত দিয়ে আমাকে  আবার আঁকড়ে ধরল , আমার  বুকে  মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো / আমি লি কে বললাম আমার যা হয় হোক আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না / লি হঠাৎ করে আমাকে ছেড়ে দিয়ে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল / হাসল ,  পাগলের মতন আমাকে চুমু খেতে লাগলো / তারপর বলল তা হয় না , তোমার জন্য আরিয়া আয়েশা রাভিদ  ওরা অপেক্ষা করছে /  তুমি ওদেরকে  আমার কথা বলবে /  বলবে শুধু ওদের জন্য আমি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে  সেক্রিফাইস  করেছি /  ওদের ভালোবাসার কাছে আমি হেরে গেছি /       

ঘুমের মধ্যেই  মনে হচ্ছে অনেক দূর থেকে  একটা যান্ত্রিক শব্দ  কানে ভেসে আসছে আপনি ঘুম থেকে উঠুন , আপনি ঘুম থেকে উঠুন /  আপনার ওঠার সময় হয়েছে /  আমার মনে হল কোন গভীর খাদের তলদেশ থেকে কথা গুলো ভেসে আসছে /  আস্তে আস্তে আমি চোখ দুটো মেলে   তাকালাম /  প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না /   আমি আবার আমার চোখ দুটি বন্ধ করে ফেললাম /কিছুক্ষণ আমি আমার চোখ দুটো বন্ধ করে রাখলাম / স্বপ্নের মতন অনেক কিছু হিবিজিবি আমার মনে হতে থাকলো /  গভীর খাদ ,  অন্ধকার  সুরঙ্গ পথে  আমি ভেসে যাচ্ছি / সে পথের যেন কোন শেষ নেই / বন্যার পানির তীব্র স্রোতের মধ্যে আমি যেন একটা খড়কুটার মতো ভেসে যাচ্ছি /   আমি  আস্তে আস্তে আবারো চোখ মেলে   তাকালাম /  ধীরে ধীরে  আমার সবকিছু  মনে হতে থাকলো /  লি এর কথা মনে হল / বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেল /  কেমন আছে এখন লি ? আবার সেই যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম আমি  /  আমরা এখন চাঁদের কক্ষপথে চাঁদের   উপগ্রহ হয়ে ঘুরছি / আমরা পৃথিবী নামক গ্রহে র  যে বেজ স্টেশনটা এখানে আছে তা আমরা ট্রেস করতে পেরেছি  /  আমাদের   ল্যান্ডারের ল্যান্ডিং করা র    স্থান টি ও  নির্ধারণ করে ফেলেছি /  পৃথিবীর সময় অনুযায়ী আমরা প্রতি 320 মিনিটে চাঁদকে একবার প্রদক্ষিণ করছে  আমাদের  এই রকেট টি /  আর তিন ঘন্টা  20 মিনিট পর আমাদের   লেন্ডার আলাদা হয়ে চাঁদে  নামার প্রক্রিয়া শুরু করবে এর মধ্যেই আপনাকে সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে স্পেস স্যুট পরিধান করে   ল্যান্ডারের ভেতরের  নির্দিষ্ট আসনে  আসন গ্রহণ করতে হবে / আপনি উঠুন এবং আমাদের পরবর্তী কার্যক্রমে সহায়তা করুন / পরবর্তী বেশ কিছু সময় আমি যন্ত্রের মত সমস্ত প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করলাম এবং ল্যান্ডারের একটি ক্যাপসুলের মধ্যে আসন গ্রহণ  করলাম /  বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমি মৃদু ঝাকি অনুভব করলাম এবং ক্যাপসুল টি কিছুটা কাঁপতে শুরু করল /  আস্তে আস্তে এই কম্পন বৃদ্ধি  পেতে থাকলো /  কম্পন একসময় এত বেশি  বৃদ্ধি পেল  যে  আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম / 

 চোখ দুটো খুলেই উস্কোখুস্কো লাল চুল ওয়ালা গোলগাল একটি মুখ দেখতে পেলাম আমি /  উদ্বিগ্ন দৃষ্টি নিয়ে চেয়ারে বসে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি /   আমি চোখ দুটো খোলার সাথে সাথেই তার মুখে হাসি  ছড়িয়ে পড়ল /   আমি মেয়েটিকে দেখেই প্রশ্ন করলাম কে আপনি আপনি কি পৃথিবীর কেউ ? আমার কথা শুনে মেয়েটি  প্রায়   চেয়ারটা উল্টিয়ে পড়ে  যাচ্ছিল /মেয়েটি কোনভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলো কে আপনি কোথা থেকে এসেছেন আপনি ? আমি মেয়েটাকে বললাম ভয় পাবেন না /   আগে বলুন আপনি কি পৃথিবীর কেউ ? আমি এই পৃথিবীরই মানুষ /  আমাকে ভিনগ্রহের এলিয়েন ধরে নিয়ে গিয়েছিল পৃথিবী থেকে / আমি সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি /  সে অনেক কথা /  আমি একটু পানি খাব /  মেয়েটি এক বোতল পানি এনে আমার হাতে দিলো /  আমি পানি খেয়ে একটু সুস্থির হয়ে  আদ্যপ্রান্ত বর্ণনা করলাম / মেয়েটিঃ সব শুনে আমাকে বলল  একটু অপেক্ষা করুন /  আমরা আপনাকে সম্ভাব্য জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়া মধ্যে আছি /  এটা আপনার জীবনের নিরাপত্তা এবং আমাদের পৃথিবীর সমস্ত মানুষের নিরাপত্তা জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় /  আমি বললাম এখান থেকে কি পৃথিবীতে কথা বলা সম্ভব ?  আমি আমার ছেলেদের সাথে কথা বলতে চাই /  প্লিজ আপনি আমাকে ব্যবস্থা করে দিন / আপনি ব্যস্ত হবেন না খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আমরা যোগাযোগ করব এবং আপনি তাদের সাথে কথাতো বলতে পারবেন / এমনকি আপনার প্রিয় মানুষগুলোর ছবি ও দেখতে পারবেন / আমি বললাম ওরা অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে থাকে / তবে আপনাকে আরেকটু ধৈর্য ধরতে হবে / হঠাৎ করেই  ক্রিং ক্রিং সেই পুরনো আমলের টেলিফোনের রিংটোনের মত শব্দ হতে থাকল / স্যান্ডেলিনা কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন কলটি করেছেন স্বয়ং নাসা এর মহাপরিচালক মর্গান বে / স্যান্ডেলিনা ব্যস্ত হয়ে একটা ছোট্ট লাল  বোতাম টিপে বলল ইয়েস  স্যার , ফোনে ভেসে এলো নাসার মহাপরিচালকের কন্ঠ , কেমন আছো তুমি  স্যান্ডেলিনা ?  স্যার আমি ভালো আছি /  আমাদের মহাশূন্য থেকে আগত অতিথি কেমন আছেন ? স্যার অতিথি ফিজিক্যালি ভালো আছেন /  তার প্রেসার হার্টবিট সবকিছু  নর্মাল আছে ,  কিন্তু স্যার যে অতিথি মহাশূন্য থেকে আমাদের এখানে এসেছেন তিনি বলছেন তিনি পৃথিবীর ই  মানুষ / তাকে এলিয়েনরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল   আমাদের পৃথিবী থেকে এবং এখন তিনি সেখান থেকে পালিয়ে এখানে এসেছেন /   তার রুটিন চেকআপ কি শেষ হয়েছে ?  আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই /  স্যান্ডেলিনা আবার বলল ইয়েস স্যার ,   আপনি কথা বলুন / জন বলতে শুরু করল /  আপনাকে স্বাগতম ,কেমন আছেন আপনি ?  আমি মর্গান বে / আমাদের এই   সংস্থা নাসা এর মহাপরিচালক /  আমি আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই/ যদি কিছু মনে না  করেন / মানে কিছুটা কিউরিসিটি আর কি /   আপনার কি উত্তর দিতে কোন অসুবিধা হবে ?  আমি বললাম আমার কোন অসুবিধা নেই আপনি বলেন /  তবে আমার একটা অনুরোধ আছে /  আপনার সাথে  কথা বলা শেষ করে আমি আমার ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে চাই /  প্লিজ আপনি একটা ব্যবস্থা করে দিন  /  নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই উত্তর দিলেন মর্গান বে /  আপনি  ওদের ঠিকানাটা লিখে  দিন আমি সর্বোচ্চ আধাঘন্টা মধ্যে  আপনার এই প্রিয় মানুষগুলোর সাথে আপনার যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি /  এবার কাজের কথায়  আসি / কে আপনি ? এখন আপনি কোথা থেকে এসেছেন ?  আমি বললাম আমি আপনার এই পৃথিবীর ই  একজন মানুষ /  আমাদের পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার দূরের কোন গ্রহের এলিয়েনরা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল /  আমি এখন সেখান থেকেই পালিয়ে এসেছি / আপনি কি মনে করতে  পারেন কোন সময়ে এই ঘটনাটা ঘটেছিল ?  অর্থাৎ আমি  আপনার এই পৃথিবী থেকে আপনার প্রস্থানের  তারিখ টা জানতে চাচ্ছি /  ধন্যবাদ আমি আবার বলতে শুরু করলাম / হ্যাঁ  এইতো কিছুদিন আগের কথাই /  তারিখটা ছিলো 3 রা ফেব্রুয়ারি  2019 সাল / ঐদিন গভীর রাতে আমাকে  আমার ফ্ল্যাট থেকে একজন এলিয়েন এসে আমাকে ধরে নিয়ে যায় / মর্গান বে একটু হকচকিয়ে গেলেন ,   আপনি কি কোথাও ভুল করছেন ?  মানে আমি বলতে চাইছি   তারিখ  টা ?   আপনি আবার একটু ভালো করে মনে করে  দেখেন তো  তারিখ টা কত ছিল ? এটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়   / আমি পরিষ্কার মনে করতে পারছি তারিখ টা  / তারিখ টা ছিল  3 রা ফেব্রুয়ারি  2019 , আমার পরিষ্কার মনে আছে /  তাছাড়া এটা তো খুব বেশিদিন আগের কথা না /  আমি ভুলে যাব কেন ? ওকে , না ঠিক আছে , যোগ করল মর্গান বে /  আমার মনে হয়   আপনার একটু রেস্ট প্রয়োজন /  ঠিক আছে আমি সব ব্যবস্থা করছি /  বলেই  মহাপরিচালক  মর্গান বে লাইনটা কেটে দিল /   মুহূর্তেই মর্গান বে এর  ছবিটা স্ক্রীন হতে অদৃশ্য হয়ে গেল / আমি স্যান্ডেলিনা র দিকে তাকিয়ে আবার ও  বলতে শুরু  করলাম /     প্লিজ  আপনি আমাকে পৃথিবীতে যোগাযোগের ব্যবস্থা করিয়ে দিন /  আমি  আমার ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতে চাই /      আমরা চেষ্টা করছি বলল  স্যান্ডেলিনা / প্লিজ অধৈর্য হবেন না  /

ওয়াশিংটন ডিসি /  National Aeronautics and Space Administration (NASA) এর  হেড অফিস /   মহা ব্যস্ততার  মধ্যে সময় পার করছেন সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ /  সমস্ত পৃথিবী  জুড়ে ই তোলপাড় /  এতদিন যাবত পৃথিবীর  তাবৎ বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টার পরেও এলিয়েনদের  সাথে  কোনরূপ যোগাযোগ করতে পারেননি এমনকি  এদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ও  সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য জোগাড় করতে পারেননি /  অথচ সেই এলিয়েনরা ই পৃথিবীতে এসে একজন মানুষকে ধরে নিয়ে গেল অথচ পৃথিবীর বড় বড় বৈজ্ঞানিকরা তার কোন তথ্যই জানতে পারলেন না /  পৃথিবীর প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট  গুলির দৃষ্টি  এরিয়ে কি করে ভিনগ্রহের এলিয়েনরা  পৃথিবীতে এসে তার কার্যকলাপ চালিয়ে গেল , একজন  জল জ্যান্ত মানুষকে পৃথিবী থেকে ধরে নিয়ে গেল তা   এক মহা আশ্চর্য বিষয় /  অবশ্য তার চেয়ে বিজ্ঞানীদের  মহা  ধাঁধায় ফেলেছে যে বিষয়টি তা হচ্ছে পৃথিবীতে আগত ব্যক্তির বর্ণনা অনুযায়ী পৃথিবী থেকে তার প্রস্থানের তারিখটা /  তিনি বলছেন  এলিয়েনদের আগমনের তারিখটা ছিলো 3 রা ফেব্রুয়ারি  2019  সাল / বর্তমান তারিখ হচ্ছে 2150 শাল /  অর্থাৎ ঘটনাটি প্রায় একশত  তিরিশ বছর আগের /  কিন্তু এটা কি করে সম্ভব /  একজন মানুষের সর্বোচ্চ জীবনের  পরিধি 120-130 বছর এর বেশি হতে পারে না /  তাহলে আগত মানুষটি কি কোথাও ভুল করছে ?  বিজ্ঞানীরা আগন্তুক এর কথা ও তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী বাংলাদেশের মিনিসিপাল কর্পোরেশনের পুরনো  নথি  ঘেটে 2019 সালের ম্যাপ খুঁজে বের করেছেন /  বিজ্ঞানীরা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন যে আগন্তুক এর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী ওই সময় সেই জায়গায়    অক্সলিভ ভিলা নামে একটা হাউসিং কম্প্লেক্স ঠিকই ছিল /  এবং সেই কমপ্লেক্সের দোতালার পূর্ব দিকের ফ্ল্যাটের মালিকের নাম ছিল  শাহাদত হোসেন  ফিরোজ /  তখনকার লোকাল থানার পুরনো  নথি ঘেঁটে জানা যায় এই ফিরোজ সাহেব হঠাৎ করেই তেসরা ফেব্রুয়ারি 2019 তারিখে হঠাৎ  উধাও হয়ে যান /  পরবর্তীতে তার কোন ট্রেস  আর পুলিশ করতে পারেনি /  এমনকি তার কোনরূপ মৃত্যুর খবর ও পুলিশ বের করতে পারেনি /  প্রায় তিন মাস তদন্তের পর পুলিশ  কেস টির কোন  সুরাহা করতে না পেরে মিসিং কেস হিসেবে ফাইলটি বন্ধ করে দেয় / এরপর বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস এর সিডনি শহরে অনুসন্ধান শুরু করেন / সিডনি শহরের মেয়র  ডেভিড ,   যার পূর্বপুরুষ ছিলেন বাংলাদেশি  তিনি তার ব্যক্তিগত উৎসাহে নাসার বিজ্ঞানীদের যথেষ্ট সাহায্য করেন /  মেয়র  যখন   জানতে পারেন মহাশূন্য থেকে আগত মানুষটির পরবর্তী প্রজন্ম এই অস্ট্রেলিয়াতেই থাকতেন এবং তারা এই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক তখন  তিনি  উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন এবং নিজ উদ্যোগে এদের খুঁজে বের করার এবং এদের বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেন / ফিরোজ সাহেবের দুই ছেলে রাজিব আহমেদ ও সজীব  আহমেদ এর সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও রাজীব আহমেদের  একমাত্র   পুত্র রাভিদ আহমেদ সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য  পাওয়া যায় /  ওই সময়ে রাভিদ আহমেদ একজন নামকরা আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন /  সিডনি শহরের প্রাণকেন্দ্র ডার্লিং হারবারের পাশে 502  তালা যে বিল্ডিং  টা এখনো বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে তার আর্কিটেক্ট ডিজাইন টা  তিনি ই করেছিলেন /  যেটা এখনও  সমস্ত অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বড় বিল্ডিং /  সেই বিল্ডিংয়ের সামনে তখনকার সিডনি শহরের মেয়র তার  সম্মানার্থে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন যা এখনো তার পুরনো ঐতিহ্য নিয়ে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে /  বিদেশি টুরিস্ট এবং দেশীয় লোকজন দূরদূরান্ত থেকে এই ভাস্কর্য দেখার জন্য এখনো এখানে  ছুটে আসে /  ভদ্রলোক বিয়ে করেননি / অগাধ সম্পত্তির মালিক ছিলেন তিনি / তার নামে একটি ফাউন্ডেশন আছে যা তার সম্পত্তির  আয় থেকে চলে /  সংস্থাটির নাম ম্যান ফর ম্যানকাইন্ড /  সংস্থাটি বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের  উচ্চ শিক্ষার  জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে থাকে /  তিনি মারা যান 2081 সালের একুশে জুলাই / এরপর  মেয়র ফিরোজ সাহেবের ছোট ছেলে নাজিব আহমেদের বড় মেয়ে আরিয়া সম্পর্কে   নানাবিধ তথ্য খুঁজে বের করেন / পেশায় আরিয়া ছিলেন অস্ট্রেলিয়া ইউনিভার্সিটির  ফার্মা সির একজন প্রফেসর / তিনি বিয়ে করেন একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক কে /  তিনিও পেশায় ছিলেন একজন অধ্যাপক / তারা দুজনেই ওই সময়কার মরণঘাতী ক্যান্সার রোগের ওষুধ আবিষ্কার করেন /  যা পরবর্তীতে  এই রোগটির   নিয়ন্ত্রণে ও  ভ্যাকসিন তৈরি করতে যথেষ্ট  সহায়তা করে  /  তাদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য নোবেল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে /  চিকিৎসা বিজ্ঞানে এদের দুজনকে এখনো যথেষ্ট  সম্মানের সাথে দেখা হয় /  তাদের কিছু লিখিত বই আছে যা এখনো চিকিৎসা বিজ্ঞানে   খুবই গুরুত্ব সহকারে পড়ানো হয় /  এই দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন /  অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকার   নিউ জার্সি তে যাওয়ার পথে একটি এয়ারবাস নিখোঁজ হয় /  অনেক যাত্রী সাথে এই দম্পতি ও  ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন /  তারাও সেই সময়  নিখোঁজ হন /  ওই বিমান টির ভাগ্যে পরবর্তীতে কি ঘটেছিল তা আজও জানা যায়নি / এবং বিমানের  যাত্রীদের ও আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি / বিমান কর্তৃপক্ষ অবশ্য দীর্ঘ   ছয় মাস তদন্তের পরে যাত্রী দের সবাইকে  মৃত বলে  ঘোষণা করেন / সবাই যখন হতাশ সেই সময় মেয়র ডেবিট ছোট্ট একটা আশার আলো খুঁজে পান / ফিরোজ সাহেবের নাতনি আয়েশা বেগমের একমাত্র জীবিত উত্তরাধিকারী খোঁজ পাওয়া যায় /  তবে তিনি এখন আর অস্ট্রেলিয়াতে থাকেন না /  বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে ন / তার নাম লিন্ডা  হপকিন্স /  তিনি জনাবা আয়েশার একমাত্র নাতনি / নাসা এর পক্ষ হতে লিন্ডা হপকিন্সের  সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উচ্ছ্বাসে আনন্দে কেঁদে ফেলেন এবং তিনি জানান যে তিনি বড় বাবা এর সাথে দেখা করতে চান / তার  নানু আয়েশা বেগমের পক্ষ হতে বড় বাবার জন্য কিছু মেসেজ আছে এবং একটা ডায়েরি আছে যেটা  আয়েশা বেগম এর নিজ হাতে লেখা এবং সেখানে বড় বাবার  জন্য অনেক তথ্য আছে /  নাসার মহাপরিচালক মর্গান বে একদিন  তার অফিস কক্ষে আমাকে   নিয়ে আলোচনা র জন্য বসেন / তারপর তিনি আমাকে জানান যে তার এই পৃথিবী থেকে প্রস্থান এবং ফিরে আসার মাঝে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে /  এবং সময়টা প্রায়  একশত 30 বছর /  সুতরাং স্বাভাবিক নিয়মে   তার প্রিয় মানুষগুলোর আর কেউ এই পৃথিবীতে বেঁচে নেই /  আমি হা করে তাকিয়ে  রইলাম /  বুঝতে পারছিলাম না উনারা কি বলছেন ? আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার এ পৃথিবী থেকে প্রস্থানের ঘটনা হয়তো বা খুব বেশি হলে এক বছর পূর্বের ঘটনা / আমি আর্তনাদ করে  উঠলাম  চিৎকার করে  বললাম তা কী করে সম্ভব ? আমি নিজে অস্ট্রেলিয়া তে যাব এবং ওদের খুজে বের করব /  আমি হঠাৎ করে জিজ্ঞাসা করলাম .  আজকে কত তারিখ ?  মর্গান বে উত্তরে বললেন ,  ফিরোজ সাহেব আজকের তারিখ হচ্ছে 2150 সালের/  5ই  নভেম্বর /   আমার মাথায়  ভেতরটা এলোমেলো হয়ে যায় , ,   আমি বুঝতে  পারছিলাম না তারা এসব কি বলছে ?  তাহলে ? তাহলে এই পৃথিবীতে কি আমি একা ?  কেউ নেই আমার ?   আমি একটা শিশুর মতন হু হু করে কাঁদতে  থাকলাম / বারবার আমার ছেলেদের কথা মনে হতে লাগলো / আমি ফুঁপিয়ে   ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম /  মর্গান বে  তার চেয়ার থেকে উঠে  দাঁড়ালেন তারপর আস্তে আস্তে  হেঁটে আমার কাছে এসে আলতো করে আমার কাঁধে হাত রাখেন /  তারপর   মৃদু একটা চাপ দিয়ে বলেন আপনার হতাশ হওয়া কোন কারণ নেই এবং আপনার জন্য একটা সুখবর ও অপেক্ষা করছে /  এই পৃথিবীতে আপনি  একা নন / আপনার প্রিয় নাতনি আয়েশা বেগমের এক নাতনি এই পৃথিবীতে এখনো বেঁচে আছে এবং সুখের বিষয় হচ্ছে তিনি আপনাকে দেখার জন্য এবং আপনার সাথে কথা বলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন / আমি চেয়ার থেকে উঠে  দাড়ালাম তারপর বললাম  আমি যাব,  আমি অস্ট্রেলিয়া তে যাব সেখানে ওদের আমি নিজে খুঁজে বের করব প্লিজ আমাকে যেতে দিন / মর্গান বে   আবার তার চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং  বলতে শুরু করেন ,  নিশ্চয়ই আপনি যাবেন /  আমরা সব  ব্যবস্থা করে দিচ্ছি /  আমাদের একটু সময় দিবেন প্লিজ /  আমি বুঝতে পারলাম না আমি কি করব ?    চুপ করে দিশেহারা র  মত বসে  রইলাম , অনেকটা পাথরের মূর্তির মতো /  (চলবে)
 #Shahadat Hossain</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/17378/</link>
				<pubDate>Sat, 03 Jul 2021 17:27:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
পঞ্চম পর্ব</p>
<p>লি একটু ধাতস্থ হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিয়ে একটা লম্বা   শ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল /  আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম  ডিসিশন নিয়েছে /  পৃথিবীর মানুষের শরীরের ভেতরের  গঠন প্রণালী কে আরো ভালোভাবে জানার জন্য তোমার শরীরের ভেতরের সমস্ত অঙ্গ  পরীক্ষা করা হবে /  তোমরা এবং আমরা একই প্রজাতির মানুষ তারপরও তো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-17378"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/17378/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5d0e5baf956b186bf12610c3f00919cb</guid>
				<title>টুইন আর্থ
চতুর্থ পর্ব

বেশ কয়েক দিন  লি এর দেখা নেই / মনটা খারাপ হয়ে আছে আমার / প্রতি মুহূর্তেই  আমার আদরের  নাতি গুলোর কথা মনে হচ্ছে / কেমন আছে ওরা ?   চোখের সামনে  ভাসছে আয়েশা এর সেই মায়াভরা  মুখটা /  সেই দুষ্টুমি  ভরা  মুখটা য় মুচকি মুচকি হাসি  / আরিয়া  এর সেই গুরুগম্ভীর  কন্ঠে দাদা  ভাইকে শাসন করা / রাভিদ এর সারাদিন দাদাভাইয়ের গা ঘেঁষে বসে থাকা  / খুবই অস্থির লাগছে আমার /  লি এর ওপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে /  এই  মানুষটার জন্যই আজ আমার এই অবস্থা /  বন্দি হয়ে আছি আমি  /   আমার সুখের সমস্ত স্বপ্ন গুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে /  আমি বুঝতে  পারছি না আর কোনদিন  আমি আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে   পারবো কিনা ,  আমার প্রিয় মানুষজনদের দেখা পাব কিনা  / হঠাৎ করেই   দরজা খুলে ঘরের ভিতরে কেউ একজন প্রবেশ করল  /  প্রথমে আমি বুঝতে পারছিলাম না কে এই ব্যক্তি / এবং পরে যখন মানুষটাকে চিনতে পারলাম তখন তো আমি হেসেই অস্থির /  মানুষটা আর কেউ নয় আমার  শত্রু অথবা বন্ধু অথবা প্রিয় সেই লি / বাঙালির শাড়ির মতো কিছু একটা পড়তে চেষ্টা করেছে লি / পেটের কাছে শাড়ির কুচিগুলো   এলোমেলো পেছনের  পায়ের দিক হতে শাড়িটা একটু  বেশি উঠানো  / কপালে লাল রঙের  কিন্তুমাকার একটা টিপ  / হাতে অনেকগুলো ফুল / কেমন লাগছে আমাকে ? হাত দুটোকে দুপাশে ছড়িয়ে নাচের ভঙ্গিতে  আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করল লি / আমি আবারও হাসতে লাগলাম /  এই শাড়ি পরা তুমি কোথায় শিখলে ? তোমাদের কালচার এনালাইসিস করে আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম এই তথ্যটা আমাকে দিয়েছে যে তোমরা কপালে লাল টিপ এবং শাড়ি খুব পছন্দ করো / তোমাদের ভালোবাসার মানুষগুলো যখন তোমাদের কাছে তার ভালোবাসার  কথাগুলো বলতে  চায়  বা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করো  তখন তারা সাধারণত এই ধরনের সাজগোজ করে /  একটা স্বপ্নীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য / তাই আমিও করেছি / কি ?  পছন্দ হয়েছে তোমার ?  লি খুব আস্তে আস্তে পা ফেলে  আমার কাছে এসে  দাঁড়ালো /  আমার হাতে ফুলগুলো দিয়ে চোখে  চোখ রেখে   মিষ্টি করে  হাসলো  তারপর একটু লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে মাথাটাকে একটু নিচু করে বলল আমি তোমাকে ভালোবাসি / বলেই  তার   মুখটিকে দুহাত দিয়ে  ঢেকে  ফেলল / আমি কিছুক্ষণ হতভম্বের মতন  দাঁড়িয়ে  রইলাম বুঝতে  পারছিলাম না কি করব ?  তারপর আস্তে আস্তে লি এর হাত দুটি মুখ থেকে  সরিয়ে  চিবুকে দু আঙ্গুল দিয়ে মুখটাকে উঁচু করে  ধরলাম /  অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম তারা মুখের দিকে /  কি সুন্দর মায়াবী  মুখ খানা /  লি তার চোখ দুটো কে বন্ধ করে রেখেছে / ঠোঁট দুটো সামান্য একটু খোলা /  ঝকঝকে সাদা দাঁতের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে / পাতলা ঠোঁট দুটোতে  খুব সূক্ষ্ম  একটা আমন্ত্রণের  হাসি / চোখদুটি খোলো ,দেখো আমাকে , ফিসফিস করে বললাম আমি / লি আস্তে আস্তে ফুল যেভাবে তার পাপড়িগুলো মেলে ধরে সেভাবে ই তার চোখ দুটো খুলে তাকালো / অমি খুব মিষ্টি করে হাসলাম/  জানিনা কি  বুঝল  লি /  আমার  বুকে মুখ টা গুঁজে দিয়ে অস্ফুট স্বরে বলতে লাগলো আমি তোমাকে ভালোবাসি ,  আমি তোমাকে  ভালোবাসি / 

ভালোই চলছিল  আমার  দিনগুলি  প্রতিদিন সকালে রুটিন করে লি চলে আসে /  লি কে দেখে আমি  বিছানায় উঠে বসি / লি তার মুক্তার মত ঝকঝকে  দাঁত গুলো বের করে হাসতে হাসতে এসে আমার পাশে এসে বসে /  প্রশ্ন করে  কেমন আছো তুমি ?  আমি জানি   এই প্রশ্নের উত্তর লি এর জানা /  তাই উত্তর না দিয়ে লিয়ের দিকে তাকিয়ে  হাসি / লি আমার  হাতটা ধরে আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকে /  তারপর আবার জিজ্ঞাসা করে ,  বললে না  তুমি কেমন আছো ? আমি এবারও  প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন  করি , জানোনা তুমি আমি কেমন আছি ? আমাকে তোমরা এখানে বন্দী করে রেখেছে /  আমার আদরের নাতি গুলোকে আমি দেখতে পাচ্ছিনা /  ওদের সাথে কথা বলতে পারছিনা / কেমন থাকবো আমি ?  তুমি জানোনা ? লি এর মুখের হাসি গুলো  দপ করে  নিভে যায় ,  অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থাকে /  লি আমার  হাত টা তার নিজের হাতে র মধ্যে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে /  তারপর আপন মনে   বলতে থাকে ,  তোমার এই আজকের অবস্থা র  জন্য আমিও কিছুটা দায়ী /  তবে তুমি ভেবোনা খুব তাড়াতাড়ি ই তোমার এই অস্বস্তিকর দিনগুলো শেষ হয়ে যাবে খুব সহসাই তুমি ফিরে যাবে তোমার প্রিয় মানুষদের কাছে / আচ্ছা একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে ?  তুমি এখান থেকে চলে গেলে তুমি তোমার প্রিয় মানুষগুলোকে কাছে  পাবে / সবাইকে নিয়ে তুমি নিশ্চয়ই আনন্দে আটখানা হবে /  কিন্তু আমার জন্য তোমার মন খারাপ হবে না ? তুমি কি আমাকে ভুলে যাবে ? এবার আমি নিজেকে খুব অসহায় বোধ  করি /  ঠিক কি জবাব দিব বুঝতে পারিনা /  বুকের ভেতরটা কেমন যেন এক ধরনের বেদনায় ভরে ওঠে / আমি  লি এর   মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি / লি  একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে আচ্ছা ঠিক আছে , এই  প্রশ্নের উত্তর তোমাকে দিতে হবে না / শুধু এটুকু জেনে রাখ তোমাকে ছাড়া আমার জীবনটা এখন  আমার কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়  /  তোমাকে  আমি  ভুলতে পারব না /  ভয় পেয়ে যাই আমি মনে মনে  ভাবি  বলে কি  মেয়েটা ?  তাহলে আমাকে কি সারা জীবন এখানে  আটকে রাখবে ? লি আপন মনে আবার বলতে থাকে , তারপরেও আমি স্বার্থপর  হব না /  আমার প্রিয় মানুষটার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করব /  যে কাজে তুমি খুশি হবে অমি  তাই করবো / আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা ওঠো ফ্রেশ হও /  আমার খুব খিদে পেয়েছে /  চলো নাস্তা খাব /  এরপর বেড়াতে বের হব /  আজকে সারাদিনের জন্য আমরা দুজনে দুজনার / তোমার তো সমুদ্র খুব পছন্দ / আমরা আজকে সারাদিন  সমুদ্রের পারে কাটাব / রোদে বালিতে শুয়ে থাকব গায় বালি মাখবো / পানিতে সাঁতার কাটবো তারপর ছিপ দিয়ে মাছ ধরবো /মাছ ধরে আগুনে পুড়িয়া   ঝলসে খাব / যখন সূর্যটা ডুবে গিয়ে রাত নেমে আসবে তখনো আমরা সমুদ্রের পাড়ে বসে বসে  কান পেতে বাতাসের  কান্না শুনবো / তুমি রাতের অন্ধকারে বসে বসে আরিয়া আয়েশা রাভিদ ওদের কথা বলবে আমি শুনবো / তোমার অতীত জীবনের ভালোবাসো সুখ দুঃখের কথা বলবে  / আর আমি আমার ভালোবাসা মানুষটিকে নতুন করে আবিষ্কার করব চেয়ে চেয়ে দেখব / 

ঠিক সন্ধ্যার পূর্ব লগ্নে সূর্যটা যখন সমুদ্রের পানিতে গলে গলে  মিশে যাচ্ছিল .ঝির ঝিরে বাতাসের সো সো  শব্দে আমি বাতাসের কান্না শুনছিলাম / আমার মনে হচ্ছিল  এ যেন  আমার জীবনের  কান্নার ই  প্রতিধনী / আমি তখন লি এর কোলে মাথা রেখে সূর্যের ডুবে যাওয়া টা  দেখছিলাম  / এখানে সূর্য ডুবে যাওয়ার দৃশ্য টা একটু অন্যরকম / আকাশ রাঙ্গা হয়ে ওঠে না / হালকা কমলা রং ধারণ করে / কেন এমন হয় আমি জানিনা /  তবে দেখতে আমার খুব ভালো লাগে / আমাদের দুজনেরই সমস্ত  শরীর বালি আর পানিতে মাখামাখি /  লিএর শরীরে যতোটুকু কাপড় আছে তার সর্বমোট ওজন   পাচ  আউন্স এর বেশি নয় /  লি   আমার  চুলগুলো আঙ্গুলদিয়া বিলি  কেটে দিচ্ছিল /  আর গুনগুন করে  গান গাইছিল / আমি সেই ডুবে যাওয়া হালকা কমলা রঙের সূর্যটার দিকে তাকিয়ে লি কে বললাম তুমি না আরিয়া আয়েশা ওদের কথা শুনতে  চেয়েছিলে ?  শুনবে ওদের কথা ? লি   আমার চোখে  চোখ রেখে মিষ্টি করে হাসল /  তারপর  গাল  টা  একটু টিপে দিয়ে বলল তুমি বলো আমি শুনছি / আমি  দিগন্তরেখা বরাবর ডুবে যাওয়া সূর্যের শেষ আলোর ছটার দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষণ চুপ করে  রইলাম /  মনের ভেতর থেকে নিজের কষ্ট গুলো কে লি  এর সামনে মেলে ধরতে চাইলাম /  তারপর একসময় আপন মনে বলতে শুরু  করলাম  /   জানো আমি না  খুব অল্প বয়সে ই বিয়ে করে ফেলেছিলাম /  ভালোবেসেই  বিয়ে করেছিলাম /  খুব ভালবাসতাম আমার  স্ত্রীকে / আমার  স্ত্রী ও আমাকে খুব ভালোবাসতো /  সবার আড়ালে আমার  স্ত্রী আমাকে মানিক বলে ডাকত / বেকার বয়সে বিয়ে করেছিলাম /  বেকার কি জিনিস বোঝাতে ?  অর্থাৎ আমি কোন কাজ  কর্ম করতাম না /  স্ত্রীকে ভালবাসতাম কিন্তু সেই ভালোবাসার  প্রকাশের কোন  পথ আমার ছিলনা / এই বেকার  থাকা অবস্থায় ই  আমার স্ত্রীর কোল জুড়ে  আসে  প্রথমে আমার বড় ছেলে রাজিব , এবং তার দেড় বছর পরে আমার ছোট ছেলে সজীব / পরপর দুটি ই ছেলে , আমি খুব খুশি ছিলাম , বয়স অল্প , জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অনেক কম তাই তখন বুঝতে পারিনি /  কিন্তু আমার মা আমাকে মাঝে মাঝে বলতো  তোর তো কোন মেয়ে নাই সংসারে একটা  মেয়ে  থাকা খুব প্রয়োজন / বিশেষ করে একজন বাবার জন্য একটা মেয়ের খুব প্রয়োজন / তখন আমি মায়ের কথা শুনে  হাসতাম / কিন্তু এখন আমার মনে হয় যদি  আমার   একটা  মেয়ে থাকতো তবে আমার জীবনের এত কষ্ট থাকত না /  মেয়ের ভালোবাসা টা অন্তত পেতাম /  ছেলেদের ও মনে ভালোবাসা আছে তবে সেটা সূর্যের আলোর মত এত  তীক্ষ্ণ যে ওটা দিয়ে জীবন চালানো যায় কিন্তু ভালোবাসার অভাব মেটে না / আমি অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম /  কেমন যেন কষ্ট  গুলো গলার ভিতরে  আটকে আছে / মুখ দিয়ে কথা বেরোতে চাইছে না / চোখ দিয়ে পানি ঝরছে /  চোখের সেই লোনা পানি সমুদ্রের লোনা জলের সাথে মিশে গিয়ে সমুদ্রের লবণাক্ততা হয়তো আরো  বাড়িয়ে দিচ্ছে কিন্তু তাতে করে আমার মনের কষ্টগুলো একটুও কমছে না /  লি  তার হাতের আঙ্গুলগুলো দিয়ে  আমার  মুখটা  চেপে ধরে রইল /  তারপর আস্তে আস্তে বলল আচ্ছা তোমার স্ত্রীর নামটা কি ছিল ?  ওর নাম ছিল কমলিকা /  বাহ খুব সুন্দর নাম তো ! কেমন যেন একটা কবিতা কবিতা ভাব / আচ্ছা আজ থেকে আমিই  তোমার কমলিকা / তুমি আমাকে আজ থেকে কমলিকা বলেই ডাকবে /  আচ্ছা বলতো কে বেশি সুন্দর তোমার মৃত কমলিকা নাকি আমি , তোমার পাশে বসে থাকা রক্ত মাংসে গড়া আমি , তোমার জীবিত কমলিকা  / যাকে তুমি ইচ্ছে করলেই হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে পারো /  প্রকৃতি গত ভাবেই তোমাদের এখানকার লোকজন অনেক বেশি সুন্দর /  তবে সৌন্দর্য তেমন কোনো বিশেষ ব্যাপার নয় /  সৌন্দর্য হচ্ছে প্রকৃতির একটা  গাণিতিক হিসাব / প্রকৃতির একটা নিজস্ব প্যাটার্ন /  সৌন্দর্য হচ্ছে একটা সংখ্যা /  একটা রেশিও ,  বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে গোল্ডেন রেশিও , এই   রেশিও টা হচ্ছে  1: 1.61 , এই রেশিও টির মাধ্যমে মানুষ এবং প্রকৃতি র  সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে / কোন ডিজাইন এর মধ্যে এই অনুপাত  টা যত কাছাকাছি  ডিজাইন টা দেখতে ততো বেশি সুন্দর লাগে / প্রকৃতির সৃষ্টি র প্রায় সব জায়গাতেই এই  রেশিও এর অস্তিত্ব আছে /  তুমি একটু খেয়াল করে দেখো প্রত্যেকটা মানুষের মুখের মধ্যে নাক চোখ মুখ সবি নির্দিষ্ট জায়গায় আছে তারপরেও সবাইকে দেখতে একই রকম ভালো লাগেনা কারণ সবার নাক চোখ মুখ এগুলোর অবস্থানের রেশিও একই রকম নয় / এবং এই সূক্ষ্ম রেশিও এর কারণেই আমাদের চোখ প্রতিটা মানুষকে আলাদা ভাবে শনাক্ত করতে পারে / আচ্ছা হয়েছে /  আমার ভুল হয়েছে / এই সুন্দর একটা রোমান্টিক  মুহূর্তে তোমার ওই   রসকস হিন  অংকের হিসাব আমার ভালো লাগছেনা বলল লি /  তুমি বল আমাকে ,আমাকে তোমার কেমন লাগছে ? কে বেশি সুন্দর আমি নাকি তোমার অতীত কমলিকা /  কি ব্যাপার , তোমার  কি হিংসে হচ্ছে কমলিকাকে ? না আমার হিংসে হচ্ছে না /  আমার প্রিয়ার যে প্রিয় সে আমার ও  প্রিয় /  তাই আমার হিংসে হচ্ছে না / তবে আমি শুধু এটুকু বলতে চাইছি তোমার মনের ভেতরের  যেখানে ভালোবাসার উৎপত্তি ,   সেখানে তো এখন কেউ নেই / আমাকে তুমি সেখানে ছোট্ট একটু  জায়গা করে দাও / বাদবাকি সবকিছু আমি নিজেই গুছিয়ে নেবো /  তোমার অতীত কমলিকার  অভাব আমি বর্তমান কমলিকা সব  তোমাকে ভুলিয়ে দেবো / তোমার ভালোবাসার ভুবন আমি ফুলে ফুলে ভরে দেবো /  তোমার মনের সমস্ত কষ্ট গুলো আমি মুছে দিবো / লি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো তারপর  আবার  বলল , কি  কিছু  বলছো না যে ?  আমি কথার উত্তর না দিয়ে  উঠে   বসলাম তারপর আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে লি এর কোমর ধরে  বসে   থাকলাম /  তারপর আস্তে আস্তে বললাম যে ভালোবাসার কথা মুখে বলে বোঝাতে হয় তাকে আমি কখনোই ভালোবাসা মনে করিনা /  আমি তোমাকে কতটুকু ভালোবাসি  তা তুমি   এমনিতেই তোমার ভেতরে অনুভব করবে / মনে করো যদি কোন একটা ঘরের ভেতর পারফিউম স্প্রে করা হয় তবে যে কেউ ওই ঘরে ঢুকলেই পারফিউমের গন্ধটা অনুভব করবে /  তাকে  বলে দিতে হবে না ,  ঘরে পারফিউম স্প্রে করা আছে / ভালোবাসা ও  অনেকটা একই রকম /  এর কথা মুখে বলতে হয় না ,সত্যিকারে র ভালোবাসা এমনিতেই অনুভব করা যায় / 

 লি এর দেখা  নেই বেশ কয়েকদিন /  প্রতিদিন সকাল থেকেই আমি লি এর অপেক্ষায় বসে  থাকি  কিন্তু লি এর কোন দেখা নেই /  আমি বুঝতে পারছিলাম না হঠাৎ কি হলো ? তবে  কি লি এর কোন সমস্যা হয়েছে ? অথবা কোন বিপদ ? প্রচন্ড একটা অস্থিরতার মধ্যে আমার  দিন কাটছিল /  বুঝতে পারছিলাম না কি করবো আমি /  লি এর  অভাব টা প্রচন্ডভাবে অনুভব করছিলাম আমি /  / হঠাৎ করেই আমি অনুভব করলাম লি আমার জীবনের অনেক কিছুই  দখল করে ফেলেছে /   লি এলে তাকে বলবো তোমাকে ছাড়া আমার একদম ভালো লাগেনা /  এরপর লিয়ের হাত ধরে বসে থাকবো /  প্রাণভরে লি কে দুচোখ দিয়ে  দেখব / হঠাৎ করেই দরজাটা খুলে গেল /  আমি চমকে ওঠে তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি দিয়ে  দরজার দিকে  তাকালাম / দরজার ওপাশে লি এর মুখটা দেখতে  এলাম /  ঝড়ের গতিতে ঘরে ঢুকলো লি / কিন্তু এ  কি ,  লি কে এমন দেখাচ্ছে কেন ?  উস্কোখুস্কো চুল উদভ্রান্তের মত দৃষ্টি /  এত সুন্দর লি কে কেমন যেন ঝরা ফুলের মত লাগছে / আমি  স্থান কাল পাত্র সব কিছু  ভুলে লি কে জড়িয়ে ধরে  তাকে বুকের মধ্যে টেনে নিলাম /  লি ,  কি হয়েছে তোমার ? লি হু হু করে  কেঁদে ফেলল /  পরম নির্ভরতায় আমার বুকের মধ্যে  মুখটা  লুকিয়ে বলতে লাগলো আমি তোমাকে ভালোবাসি ,  আমি তোমাকে ভালোবাসি /  আমি অবাক হয়ে গেলাম /  লি কাঁদতে শিখেছে /   আমিও তোমাকে ভালোবাসি অস্ফুট সরে বললাম আমি /  লি আমার বুকের মধ্যে মাথাটা রেখেই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল / চোখের দৃষ্টিতে পরম পরিতৃপ্তির ছাপ /   লি তার  দু  হাত দিয়ে পরম নির্ভরতায়  আমাকে আরো জোরে আঁকড়ে  ধরে থাকলো / 
হঠাৎ করেই লি আমাকে  হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল /  হাতে একদম সময় নেই /  তোমাকে রেডি হতে হবে /  তোমাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে / না হয় ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে /  কি বলছো তুমি লি ?  কারা আমাকে মেরে ফেলবে ?  কি করেছি আমি ?  (চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16905/</link>
				<pubDate>Fri, 02 Jul 2021 13:20:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
চতুর্থ পর্ব</p>
<p>বেশ কয়েক দিন  লি এর দেখা নেই / মনটা খারাপ হয়ে আছে আমার / প্রতি মুহূর্তেই  আমার আদরের  নাতি গুলোর কথা মনে হচ্ছে / কেমন আছে ওরা ?   চোখের সামনে  ভাসছে আয়েশা এর সেই মায়াভরা  মুখটা /  সেই দুষ্টুমি  ভরা  মুখটা য় মুচকি মুচকি হাসি  / আরিয়া  এর সেই গুরুগম্ভীর  কন্ঠে দাদা  ভাইকে শাসন করা / রাভিদ এর সারাদিন দাদাভাইয়ের গা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16905"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16905/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb8c5256b63fbf8b9060fc9a70805bcb</guid>
				<title>টুইন আর্থ
তৃতীয় পর্ব

ঘর থেকে বেরিয়ে ই অবাক হয়ে  তাকিয়ে  রইলাম আমি /  নিজের অজান্তেই   লি এর ডান হাত টা চেপে ধরে অস্ফুট  স্বরে  বললাম এ আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি ?  এটা কি স্বর্গ ? আকাশ টা গারো নীল রংয়ের / আমাদের পৃথিবীর চেয়েও অনেক বেশি গারো নীল  / দূরে দিগন্তের কাছে পাহাড়ের চূড়ায় সাদা সাদা বরফ / পাহাড়ের চূড়া থেকে এঁকেবেঁকে ঝরনা গুলো  বয়ে যাচ্ছে /  ঘন সবুজ গাছপালায় ভর্তি  পাহাড় গুলো / ঘন নীল আকাশের মাঝে সাদা সাদা মেঘগুলো অনেক নিচু দিয়ে উড়ছে / কোন কোন  মেঘ আবার গাছের সঙ্গে  আটকে জমাট বেঁধে আছে / আর সমস্ত আকাশ জুড়ে বড় বড় পাখির মত কি যেন উড়ছে / আমি আকাশের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে প্রশ্ন   করলাম এগুলো কি ? লি ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকালো /  আমি শুনতে পেলাম এগুলো আমাদের স্বল্প দূরত্বে চলাচলের একমাত্র বাহন /  আমরা হাঁটতে থাকলাম / রাস্তার দু&#039;পাশে নানা ধরনের  গাছপালা / নানা ধরনের ফুল ও ফলের গাছ / ঝির ঝিরে ঠান্ডা বাতাস /  আমার কেমন যেন একটু শীত শীত লাগছিল / আমি  লি এর গা ঘেঁষে  হাঁটতে লাগলাম / একটু সামনে  আসতে ই  দেখলাম সেই আকাশে ওড়া  পাখির অনেকগুলো একটা মাঠে রোদ   পোহাচ্ছে / আমরা তার একটাই  চেপে বসলাম / ভিতরে  বসে বুঝলাম এটা কোন পাখি নয় এগুলো  আমাদের  পৃথিবীর  ছোট ছোট    প্লেনের মতন / লি তার ড্রাইভিং সিটে বসে সামনের প্যানেল এর বোতামগুলো নিয়া নাড়াচাড়া করতে লাগল এবং পাখির মতন কিচিরমিচির শব্দ করে কারো সঙ্গে যেন কথা বলতে লাগলো / এক পর্যায়ে এই ছোট পাখিটি  আস্তে আস্তে আকাশে উড়তে শুরু করল অনেকটা আমাদের পৃথিবীর হেলিকপ্টারের মত / কিন্তু এতে করে তেমন কোনো শব্দ আমি শুনতে পেলাম না / শুধুমাত্র আমাদের পৃথিবীতে ঘরে এসি চললে যেরকম একটা গুঞ্জন ধনী শুনতে পাই ঠিক সেইরকম একটা শব্দ হতে লাগলো / আমরা আকাশে ভেসে বেড়াতে থাকলাম / নিচে প্রাকৃতিক পরিবেশ / গাছপালা এবং এই গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে ঘরবাড়ি সবই যেন আঁকা ছবির মতন / এক সময় আমরা উড়তে উড়তে সমুদ্রের তীরবর্তী একটা  বিচ এর উপরে চলে এলাম / নিচে অনেক লোকের কোলাহল , কেউবা উদোম গায়ে রোদ পোহাচ্ছে অথবা কেউবা পানিতে  লাফালাফি ঝাপাঝাপি করছে বিচের বালিতে দৌড়াদৌড়ি করছে , খেলছে / এই প্রথম আমি লি কে   ছারা অন্য মানুষজন দেখতে পেলাম আমার খুব ভালো লাগলো / আমি ঘুরে লি এর দিকে তাকিয়ে বললাম চলনা আমরা নিচে নামি / লি  প্যানেল থেকে চোখটা তুলে আমার দিকে তাকালো তারপর খুব মিষ্টি করে হাসল / আমি লি এর কথা শুনতে পেলাম , সমুদ্র পছন্দ করো তুমি ? সমুদ্র আমারও খুব ভালো লাগে / চলো আজকে আমরা সারাদিন এই সমুদ্রের   তীরে ই কাটাব /  চাইলে  রাত্রি টাও এখানে কাটাতে পারো / যদি আমি রাত্রে এখানে থাকি তবে তুমি কি করবে ?  তুমি কি চলে যাবে ?  লি  তখন পাখি টাকে মাটিতে নামাতে ব্যস্ত . প্যানেল বোর্ড থেকে চোখ না সরিয়েই    মুচকি হাসতে লাগলো / এবং বলল না আমি তোমার গাইড যে পর্যন্ত না তুমি বাসায় ফিরছ সে পর্যন্ত আমি তোমার সাথেই আছি / এটা আমার অফিশিয়াল নির্দেশ /   খুব দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে , যদি আমার সান্নিধ্য তোমার কাছে বিরক্তিকর ও মনে হয় তা হলেও আমার কিছু করার নেই / আমাকে তোমার সাথেই থাকতে হবে / আমরা আস্তে আস্তে মাটিতে নেমে এলাম / 


 ভোর হয়েছে আরও প্রায়  দুই ঘণ্টা আগেই /  জানালা  দিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে সূর্যোদয় দেখছিলাম /  এখানে  সূর্যোদয়ের দৃশ্যটা কিন্তু  খুব সুন্দর /  প্রথমে সমস্ত আকাশটা হালকা নীল হয়ে ওঠে /  এরইমধ্যে কমলা রঙ্গের সূর্যটা ধীরে ধীরে নীল আকাশে  কমলা রঙ্গের আলো ছড়াতে ছড়াতে  প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তোলে / কিন্তু  আমার  বিছানা ছেড়ে   উঠতে  ইচ্ছে করছে না / মনটা খারাপ হয়ে আছে / আয়েশা আরিয়া রাভিদ ওদের কথা বারবার মনে  পরছে / এখন যদি আমি আমার ছেলে দের কাছে অস্ট্রেলিয়া তে থাকতাম তবে  আমার এই  নাতি নাতনি গুলো আমাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দিত না / আরিয়া বলতো দাদা ভাই ওঠো চলো হাঁটতে যাই / আবার রাভিদ এসে দাদাভাইয়ের গলাটা জড়িয়ে ধরে দাদা ভাইয়ের কাছে শুয়ে থাকতো /   আর আয়েশা  টা নতুন কোন দুষ্টামির  প্লান মাথায় নিয়ে পা টিপে টিপে ধীরে ধীরে  দাদা ভাইয়ের রুমে ঢুকে ঘরের ভেতর দাঁড়াতো /  তারপর এদিক ওদিক চোরা চোখে তাকিয়ে হিটার টা বন্ধ করে দৌড় /  তখন তো আমাকে   উঠতে ই হত /  অস্ট্রেলিয়া তে যে ঠান্ডা , আমি ঠান্ডা একদমই সহ্য করতে পারিনা / হঠাৎ করেই ঘরের দরজাটা আস্তে আস্তে খুলে গেল এবং ঠিক পাচ সেকেন্ড পরে , হাতে একগাদা ফুল হাতে  ,লি দাঁত বের করে হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকলো / আমি  লি য়ের কথা শুনতে পেলাম ,কি ব্যাপার তুমি এখনো বিছানা ছেড়ে ওঠো নাই ? আমি মন খারাপ করে বললাম ভালো লাগছে না আমার / খুব মনে হচ্ছে নাতি-নাতনি গুলোর কথা / আমার এখানে একদম ভালো লাগছেনা / তাই মনটা খারাপ হয়ে আছে /   বিছানা ছেড়ে  উঠতে ইচ্ছে করছে না /  লি ঘরে ঢুকে একটা ফ্লাওয়ার ভাসে ফুলগুলো রাখল , তারপর হেঁটে এসে আমার বিছানার সামনে এসে দাঁড়ালো / ওকে কোন চিন্তা নেই আমি তোমাকে একটা সুসংবাদ দিচ্ছি তাতে করে নিশ্চয়ই তোমার মনটা ভালো হয়ে যাবে /   শোনো আমাদের গবেষণার কার্যক্রম  প্রায় শেষের পথে /  ল্যাবরেটরির সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ / এই পরীক্ষায় প্রায় 99 শতাংশ সফলতা পেয়েছি আমরা / একটা  ড্রাগ আমরা উদ্ভাবন করে ছি / ফাস্ট এবং  সেকেন্ড ট্রায়াল&#039; পশু-পাখির উপর সাকসেসফুলি প্রয়োগ করা হয়েছে / এখন সর্বশেষ পরীক্ষা কোন মানুষের বডি তে এই ড্রাগ এপ্লাই করে  এর রিএকশন এবং ফলাফল যাচাই করা /  তুমি আরো জেনে খুশি হবে যে আমি সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যাকে এই ড্রাগের পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়েছে / হয়তো বা আমি আমাদের এই গ্রহের প্রথম মানুষ হব যে সম্পূর্ণ আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা নিয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হব /  কি ভালো লাগছে না তোমার খবরটা শুনে ?  লি হাসি হাসি মুখ করে  জিজ্ঞাসু  দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল  / আমার মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল  বললাম এতে এত খুশি হওয়ার কি আছে ? ওষুধের রিয়াকশন এ তোমার শরীরের নানা প্রকার  সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে এমনকি তোমার  মৃত্যু ও হতে পারে / লি এর মুখের হাসিটা দপ করে  নিভে গেল /  কিন্তু মুখে বলল তাতে কি ?  এই মৃত্যু টা ও বড় গৌরবের ; সম্মানের / আমি আমার জাতির জন্য নিজেকে সেক্রিফাইস করছি / আমি  কিছুক্ষণ চুপ করে  থাকলাম, মনে মনে বুঝতে চেষ্টা করলাম কে ঠিক ? আমি  নাকি লি ? আমিতো শুধু আমার নিজের কথা ভাবছি ,নিজের জীবনের কথা ভাবছি , কিন্তু ওরা ?  ওরা তো ওদের সমস্ত মানব জীবনের কথা ভাবছে / তবে কি আমাদের ভিতরে যে ভালোবাসা  আবেগ অনুভূতি  আছে তার সবই আমরা শুধু আমাদের  নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করি ?  আমাদের ভালোবাসা শুধুই কি আত্মকেন্দ্রিক ?  আমরা যে আমাদের সন্তানদের ভালোবাসি সেটাও কি শুধু নিজেদের  স্বার্থেই ? 

বেশ কয়েকদিন যাবত লি এর কোন খবর নেই / এখানে যে বাড়িতে আমি থাকি সেটা পাহাড়ের উপরে একটা  বাংলো টাইপের বাড়ি / বাড়িটার ব্যালকনিতে দাঁড়ালে  নিচে মনে হয় শুধু সবুজ আর সবুজ /  দূরে পাহাড় , জঙ্গল / খুবই মনোরম দৃশ্য / আমি এই বাড়িতে একাই থাকি  /  কিছু কিছু রোবট সদৃশ্য যন্ত্র মানব এখানে আছে যারা আমার যাবতীয় কাজকর্ম করে দেয় /  খুবই আধুনিক একটা  বাড়ি / সন্ধ্যায় আপনা আপনি আলোগুলো  জলে উঠছে   আবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই একা একাই নিভে যাচ্ছে বাতি গুলো / রোবট গুলি সারাদিন নিরবে কাজ করে যাচ্ছে বাড়িঘর ক্লিন করছে ,সময় মত টেবিলে খাবার দিয়ে যাচ্ছে /  খাবার শেষে  টেবিল পরিষ্কার করে দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কখনোই তারা আমার সাথে কোন কথা বলেনা ; প্রশ্ন করলেও কোন উত্তর দেয় না / হঠাৎ আমার মনে হলো আচ্ছা এখানে কি আমি বন্দি ?  কিন্তু কোন  পাহারাদার তো নেই /  লি এর কাছে  জানতে হবে / বেশ অনেকদিন হয়ে গেল /  লি এর কোন দেখা নেই / আমি সারাদিন ঘরের ভেতরে থাকি /  মাঝে মাঝে বারান্দায় গিয়ে  দূরে নীল পাহাড় গুলোর দিকে  তাকিয়ে থাকি /  হঠাৎ একদিন বিকেলে লি এসে হাজির / ঘরে ঢুকেই লি তার সবগুলো  দাঁত বের করে হাসতে হাসতে প্রশ্ন করল , কেমন আছো তুমি ? আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম লি  এর মুখের দিকে / লি কথা বলছে / নিজে  ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বলছে এবং এবং আমি সেই কথা শুনতে পাচ্ছি / কিন্তু এটা কি করে  সম্ভব ? লি এর তো  আমার ভাষা জানার কথা নয় /  তাহলে কিভাবে কথা বলছে সে ? আমি ঝট করে  বিছানা ছেড়ে উঠে লি এর দিকে এগিয়ে গেলাম /  লি  এর হাতটা চেপে ধরে  বললাম লি তুমি কথা বলতে পারো ? আমার হাতের আঙুলগুলো  লি য়ের হাতের মাংসপেশী গুলো কে চেপে ধরে আছে / লি  আমার হাতের দিকে অপলক দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে রইল /   লি হতভম্বের মত দাঁড়িয়ে রইল চোখের দৃষ্টি দুটো , হাত থেকে সরে গিয়ে আমার মুখের উপর স্থির হল /  তারপর  একটা হাসি  দিয়ে বলল তুমি খুশি হয়েছো ? আমি তোমাদের ভাষা শিখে ফেলেছি /  আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম তোমাদের ভাষা কে খুব সহজভাবে শেখার পদ্ধতি  বের করেছে  এবং আমি প্রথম ব্যক্তি যে এই ভাষা শেখার সুযোগ পেয়েছি / ভালো লাগছে তোমার ? আমি হাসলাম  / তারপর বললাম হ্যাঁ  আমার খুব ভালো লাগছে ,  এখন তোমাকে আমার খুব আপন মনে হচ্ছে / লি  তার চোখ  দুটোতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন একে বলল তাই ? এবার আমার হাতটা  দয়া করে ছাড়ো  প্লিজ / আমি ব্যাথা পাচ্ছি তো /    লি  এর হাতটা ছেড়ে দিলাম আমি / হাতটা ছেড়ে দিয়ে বললাম , যেদিন আমি তোমার হাতটা ধরলে তুমি আর ব্যথা পাবে না ধরে নেবে সেদিন ই তুমি একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়েছো / তোমাদের গবেষণার কার্যক্রম সফল হয়েছে / বলেই একটা রহস্যময় হাসি  হাসলাম /    লি  কি বুঝলো আমি জানিনা  বোকার মতো একটু হাসলো  তারপর আবার বলতে শুরু করল আমি এই কয়েকদিন  তোমার এখানে আসতে পারিনি কারণ  প্রতিদিনই তোমার ভাষা শিখতে কয়েক ঘণ্টা করে সময় দিতে হতো  আমার /  দ্বিতীয়তঃ আমাদের তৈরিকৃত ওষুধের প্রয়োগ করা শুরু হয়েছে  আমার উপর /  মোট তিনটা  ডোজ নিতে হবে /  এর মধ্যে দুটো কমপ্লিট হয়েছে / আরো সাত দিন পর আরেকটা নিতে হবে // 


 এই গ্রহটা সম্পূর্ণ একটা বাগানের মত / সবকিছু ই খুব সাজানো-গোছানো /  কোথাও কোন ব্যতিক্রম নেই /  আমি এমন একটা বাগানে ঘাসের উপর বসে আছি /   চারিদিকে অনেক ফুল গাছ অনেক ফলের গাছ / ফুলগুলো থেকে এক ধরনের সুন্দর গন্ধ ভেসে আসছে /   আমার সামনে  বসে আছে / লি , এমনিতেই লি দেখতে অনেক সুন্দর কিন্তু আজকে কেমন যেন আরো সুন্দর লাগছে / আহ্লাদ আহ্লাদ  করে কথা বলছে / অকারণেই হেসে গড়িয়ে পড়ছে , আমার হাত দুটো নিয়ে খেলা করছে / একটা কথা বলব ?  বললাম আমি ,আমার একটা কৌতুহল ছিল /  লি আমার দিকে তাকিয়ে রইল /  আমি বললাম আচ্ছা বলতো আমি কি এখানে বন্দি ? লি  তার গভীর কালো চোখ দুটি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল /তারপর হেসে বলল ,  এখানে কাউকে বন্দী করে রাখা হয় না তবে প্রতিটি মানুষকে ই আমরা আলাদা আলাদাভাবে ট্র্যাক করতে পারি /  আমাদের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেম ইচ্ছে করলেই প্রতিটি মানুষের  গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারে / তবে আমরা কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে নজরদারি করতে পারিনা /  আইনগত ভাবে নিষেধ আছে / একজন মানুষ ঘরের ভিতর থাকলে সে আমাদের কম্পিউটারের নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যায় /  তখন তাকে আমরা ট্র্যাক করতে পারিনা / তোমার হাতে যে ডিভাইসটা লাগানো আছে / সেটাই তোমার এখানকার আইডেন্টিটি /  আমি আমার যা বোঝার তা বুঝে নিলাম /  আমি হেসে বললাম আর একটা প্রশ্ন করি ? লি   হাসল , আমার চুলগুলো ওর হাত দিয়ে ধরে এলোমেলো করে দিল / তারপর বলল  একটা না , একশটা প্রশ্ন তুমি আমাকে করতে পারো ,  কোন অসুবিধা নেই / তখন আমি লি এর চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলাম , অনেকদিন  আমি এখানে এসেছি /  অনেকদিন ধরেই তুমি আমার সাথে আছো / তোমার সাথে আমার নানা বিষয়ে নিয়ে কথা হয় কিন্তু  তুমি কখনো তোমার মা-বাবা বা তোমার ভাই বোন অথবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আমাকে কখনো কিছু বলোনি /  তুমি কি তোমার নিজের ব্যক্তিজীবনের কথা কিছু আমাকে বলবে ?  আমাকে কি একদিন তোমার বাসায় নিয়ে যাবে ?  লি অনেকক্ষণ একদৃষ্টিতে  আমার দিকে দিকে তাকিয়ে রইল , তারপর আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে বলল , তোমাদের মত আমাদের পারিবারিক কোন বন্ধন নেই /  আমার মা বাবা র  সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই /  এখানে একজন দম্পতির একটির বেশি সন্তান নেওয়ার পারমিশন নেই / এই একজন সন্তান নিতে হলেও একটি দম্পতিকে পূর্ব অনুমতি নিতে হয়  / তাই আমার আর কোন ভাই  বোন ও নেই / আর অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ? এসব আমাদের নেই /  আমরা সাধারণভাবে আমাদের  মা-বাবা পর্যন্ত ই চিনি / তারপরেও ছেলে মেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাওয়ার পর সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এর নিয়ম অনুযায়ী  তাদের আর বাবা-মা এর সঙ্গে থাকার কোন পারমিশন নেই / খুব সহজ ভাবে বলতে গেলে আমাদের তেমন কোনো পারিবারিক বন্ধন নেই আমরা সবাই একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব / সেন্ট্রাল গভমেন্ট আমাদের মালিক , মা বাবা নয় /  মা-বাবা    18  বৎসর বয়স পর্যন্ত তাদের সন্তানদের  দেখাশোনা করার অধিকার রাখে / তারপরেই একজন সন্তান সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের সম্পদ / তার সমস্ত কাজকর্ম শুধুমাত্র রাষ্ট্রকে ঘিরেই / সেখানে তার আর কোন দায়িত্ব নেই / আমি একটা ডরমেটরি তে  থাকি সেখানে আমার সাথে আরো অনেক ছেলে মেয়েই  থাকে / আমি খুব ,  খুব আশ্চর্য হলাম ,  বললাম দাঁড়াও দাঁড়াও আমাকে তোমার কথাটা বুঝতে দাও  / তুমি বলছো তোমাদের পারিবারিক তন্ত্র বলতে কিছু নেই এবং  এটা তোমাদের নিয়ম /  তাহলে আবেগ ভালোবাসা এসব কেন চাইছ ?   পারিবারিক বন্ধন ছাড়া আবেগ ভালোবাসা এসব কোথায় তুমি পাবে ? তোমাদের এই প্রোজেক্টের গোড়াতেই তো গলদ /  শোনো ভালোবাসার সৃষ্টি একটা পরিবারের ভিতরে / মানুষের মনের ভিতরে / শরীরের কোন অর্গান এটা সৃষ্টি করতে পারে না /  তুমি কি বলতে পারবে মন জিনিসটা কি ? এর অস্তিত্ব কোথায় ? মানুষের মনে র বাস্তবে  কোন অস্তিত্ব নেই / মনকে তুমি কখনো ছুঁতে পারবে না কিন্তু আবেগ দিয়ে অনুভব করতে পারবে / এবং জেনে রাখ এই মনের  ভিতরে ই ভালোবাসার বসবাস / যদি সত্যিকার অর্থেই আমাদের মত মানুষ হতে চাও তবে তোমাদের এই অংকের নিয়ম ভেঙে  ফেলতে হবে / খুদা দারিদ্র অভাব অনটন এরা সবাই ভালোবাসার সাথে হাত ধরাধরি করে চলে  / আমি খুদার অনুভূতি বুঝতে পারি বলেই আরেকজন ক্ষুধার্তকে দেখলে আমার মধ্যে ভালোবাসার  অনুভূতি জন্মায় /  নিজের ক্ষুধার কথা ভুলে গিয়ে তার ক্ষুধা মেটাতে পেরে মনটা  খুশি হয়ে ওঠে .  এটাই ভালোবাসা / তোমাদের এখানে ক্ষুধা নেই দারিদ্রতা নেই ,  নেই কোনো অনিয়ম / তাই তোমাদের মাঝে ভালোবাসার ও অস্তিত্ব নেই / লি ভেজা দৃষ্টি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল আরেকটু ঘনিষ্ঠ হয়ে আমার  ডান  হাতটা তার  হাতের   মধ্যে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলো / মাথাটা  নিচু করে বসে রইল /   আমি বুঝতে পারলাম  না  লি কাঁদছে কিনা / কিন্তু এটা বুঝতে পারলাম যে লিয়ের শরীরটা খুব অল্প অল্প কাঁপছে / আমি অবাক হয়ে লিয়ের দিকে তাকিয়ে   রইলাম /  লি এর দুচোখ বেয়ে ফোটা ফোটা জল গড়িয়ে পড়ছে / আমি মনে মনে ভাবলাম আমি কি ভুল দেখছি ? লি  কাঁদছে ?   (চলবে)
 #Shahadat Hossain</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16634/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 14:46:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
তৃতীয় পর্ব</p>
<p>ঘর থেকে বেরিয়ে ই অবাক হয়ে  তাকিয়ে  রইলাম আমি /  নিজের অজান্তেই   লি এর ডান হাত টা চেপে ধরে অস্ফুট  স্বরে  বললাম এ আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি ?  এটা কি স্বর্গ ? আকাশ টা গারো নীল রংয়ের / আমাদের পৃথিবীর চেয়েও অনেক বেশি গারো নীল  / দূরে দিগন্তের কাছে পাহাড়ের চূড়ায় সাদা সাদা বরফ / পাহাড়ের চূড়া থেকে এঁকেবেঁকে ঝরনা গু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16634"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16634/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f624f2646fec41ebbcddc7e515b0b9c5</guid>
				<title>Shahadat Hossain and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16533/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Jul 2021 06:25:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3bbd1659b2ac871b6456b0a2c4d40ff2</guid>
				<title>টুইন আর্থ
দ্বিতীয় পর্ব

 আমি আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম , আমার নাম লি / অনেক দূর থেকে  এসেছি আমি / তুমি আর আমি একি গ্যালাক্সিতে বসবাস করি , তবে আমরা যে সৌরজগতের বাস করি   তা তোমাদের এই পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার  দূরে অবস্থিত /  হা করে তাকিয়ে রইলাম আমি /  তাহলে একজন এলিয়েন আমার সামনে দাঁড়িয়ে ? আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম  / আরেকটু খুলে বল , কে তুমি ? কেনইবা এসেছো ? কি দরকার আমার কাছে ? অধৈর্য  ভাবে জানতে চাইলাম  আমি  /  মেয়েটির হাসির শব্দ শুনতে পেলাম / এই ধরনের হাসি কেই মনে হয় বলে কাচ  ভাঙা হাসি /  তার হাসিটা  যেন আমার কানে বারবার মধুর সুরে বাঁজতে লাগলো / তবে তার ঠোঁট দুটো বন্ধ  / কিন্তু আমি আমার মাথার ভেতর আবার শুনতে পেলাম  , আমাকে বসতে বলবে না ? তোমরা এ পৃথিবীর মানুষগুলো খুব যত্নের সাথে  ভালোবাসা দিয়ে অতিথি কে আপ্পায়ন করো / তোমরা তোমাদের নিজেদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু রক্ত শুধুমাত্র তোমাদের  মানবতা রক্ষার খাতিরে অন্যকে  দিয়ে দিতে  সামান্যতম  চিন্তা ও করোনা / আমি না বলে তোমার বাড়ির ভিতরে  ঢুকেছি /  এজন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি /  আমি আবার প্রশ্ন করলাম . তুমি আমাদের  ভাষায় কিভাবে  কথা  বলছো ?   এটা কি তোমাদের  ও  ভাষা ? তোমরা কি এই ভাষাতেই কথা বল ?  মেয়েটি দু দিকে মাথা   দোলালো  আমি  আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম , বাংলা বা ইংরেজি কোনটাই আমার ভাষা নয় /  আর আমি সরাসরি তোমার সঙ্গে কথা ও বলছি না / আমি মনে মনে যা  বলছি বা ভাবছি তা  আমার এই  হাতের মধ্যে বাধা ডিভাইসের মাধ্যমে  আমাদের গ্রহের সেন্ট্রাল কম্পিউটার সিস্টেমে আপলোড হচ্ছে  এবং  আমাদের  সেন্ট্রাল কম্পিউটার  তা  প্রসেস করে তোমার বোধগম্য ভাষায় ট্রান্সলেট করে এই ডিভাইসের মাধ্যমে তোমার ব্রেনের মধ্যে ট্রানস্ফার করে দিচ্ছে / তোমার ব্রেইন এর ফ্রিকুয়েন্সি 527 পয়েন্ট 23 কিলো হার্জ / আমাদের কম্পিউটার সেটা  ক্যালকুলেশন করে বের  করেছে   এবং তুমি আমার মনের কথা বুঝতে পারছো / বোঝা যাচ্ছে  লি তুমি আমাদের চেয়েও একজন বুদ্ধিমান  প্রাণী /  তোমাদের  জ্ঞান আমাদের চেয়েও অনেক বেশি / তুমি আমাকে আর একটু বুঝিয়ে বলবে কি  ?  কেন তুমি আমার ঘরে দাঁড়িয়ে ? কি করতে  পারি আমি তোমার জন্য ? ওকে সরাসরি আমি কাজের কথায়  আসছি / শোনো তোমাদের এই গ্রহটাকে আমাদের অ্যাস্ট্রোনমি ডিপার্টমেন্টের গবেষকরা আরো পাঁচ বছর পূর্বে আবিষ্কার করেন এবং যখন আমরা বুঝতে পারলাম এখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে তখন আমরা এই গ্রহটাকে নিয়ে গবেষণা শুরু করলাম এজন্য আমরা  তোমাদের প্রতিবেশী উপগ্রহ চাঁদের অন্ধকার অংশে  বেজ সেশন    স্থাপন করলাম /তোমাদের ইন্টারনেট সিস্টেম এর  সিকিউরিটি  ব্রেক করে নানা ধরনের তথ্য আমরা পেলাম / আমরা অবাক হয়ে লক্ষ করলাম তোমাদের সাথে আমাদের শারীরিক গঠনগত কোন পার্থক্য নেই তোমাদের দেহের সিস্টেম এবং আমাদের সিস্টেম প্রায় একই / এবং তোমাদের গ্রহটাও আমাদের গ্রহের মতই /  গাছপালা নদী সাগর  সব ই আছে /এমনকি তোমাদের বায়ুমণ্ডল ও  আমাদের বায়ুমণ্ডলের মত ই /  তেমন কোন পার্থক্য ই নেই /  আমাদের এই গ্যালাক্সির সর্বমোট সৌরজগতের সংখ্যা আনুমানিক 100 থেকে 400 বিলিয়ন  / এর আয়তন আনুমানিক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার থেকে 2 লক্ষ  লাইট ইয়ার /এত বড় বিশাল আয়তনের গ্যালাক্সির খুব সামান্য অংশেরই সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে / যেটুকু ধারণা আছে ,এরমধ্যে বেশিভাগ সৌরজগৎই  নিষ্প্রাণ / কিছু কিছু সৌরজগতের কোন কোন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে বটে তবে তার সবই অত্যন্ত নিম্নস্তরের / মানুষ সাদৃশ্য অর্থাৎ আমাদের অথবা তোমাদের মত প্রাণী ও কিছু কিছু স্থানে সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করেছেন কিন্তু তাও অত্যন্ত নিম্নশ্রেণির / অর্থাৎ এখনো তারা তোমাদের আদিম যুগের সমা পর্যায়ে আছে / একমাত্র এই পৃথিবীর তোমরাই প্রায় আমাদের সম পর্যায়ের / কিন্তু তারপরেও তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে একটা বিরাট পার্থক্য আছে / আমরা মানুষ হিসেবে হান্ডেট পার্সেন্ট লজিক্যাল / অনেকটা তোমাদের রোবটের মত / কিন্তু তোমরা তা  নও / তোমাদের মধ্যে ইমোশন বলে কিছু আছে / যা কখনো কখনো কখনো লজিকের বিপরীত আচরণ করে / ব্যাপারটা অদ্ভুত / তোমাদের এই ইমোশন জিনিসটা তোমাদের শরীরের ভিতর  এক ধরনের ফোর্স সৃষ্টি করে /  যাকে তোমরা বল ভালবাসা  বা প্রেম / এই ভালবাসা বা প্রেম তোমাদের মানুষদের মধ্যে বা তোমার কাছের লোকদের মধ্যে এক ধরনের  অদৃশ্য ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর সৃষ্টি করে /  তোমরা একজনের বিপদে নিজের জীবন বিপন্ন করে ও  অপরজনকে সাহায্য করো /  এই  টোটাল বিষয়টা  আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত / আমাদের  খুব কাছের কেউ মারা গেলেও আমরা কোন প্রকার ডিস্টার্ব ফিল করি না / আমরা একে অপরের জন্য কাজ করি বটে কিন্তু সেটাও আমরা করি যুক্তির ভিতর দিয়ে /  এখানে ইমোশন বলে কোন ব্যাপার নেই / প্রেম ভালোবাসা কি জিনিস আমরা বুঝিনা / আমরা ঘর  সংসার করি কিন্তু তা আমরা করি আমাদের  জৈবিক প্রয়োজনে / আমরা আমাদের সন্তানকে লালন পালন করি বটে ,  তবে সেটা করি তাদের এই ভুবনে আসার পেছনে আমাদের একটা ভূমিকা থাকে বলে , আমরা এটাকে আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি / আমাদের মধ্যে তোমাদের মত  বন্ডিং এর কোন ব্যাপার নেই / কেন তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এই পার্থক্য তা বোঝার জন্য , তোমাদেরকে পরীক্ষা করা আমাদের প্রয়োজন /   আমরা অনেকটা তোমাদের ল্যাবরেটরীতে তৈরি রোবটের মত / আমরা সবসময় টু প্লাস টু ইকুয়াল টু ফোর এইভাবে হিসাব করতে পছন্দ করি কিন্তু তোমরা সব সময় তা কর না / তোমরা মাঝে মাঝে এমন কিছু কাজ করো যা কোন থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়না যেমন একজন মানুষ রাস্তায় পড়ে গেলে তা দেখে তোমরা  হাস ? কেন হাসো আমরা বুঝতে পারি না / এটা কি হাসার কোন বিষয় ? তোমাদের কান্নার বিষয়টা খুব ই অদ্ভুত / আমরা এর কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনা /  এজন্যই আমি তোমার কাছে এসেছি / তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে / আমাদের ল্যাবরেটরীতে তোমাকে নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে / কথা দিচ্ছি পরীক্ষা শেষ হলেই আবার তোমাকে আমি তোমার এই বাড়িতে পৌঁছে দেব / আমি হতভম্বের মতন কিছুক্ষণ চুপ করে লি এর দিকে তাকিয়ে থাকলাম , মাথাটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল /  আমি বললাম  তা কি করে সম্ভব ? আমি তো চলে যাচ্ছি এই দেশ ছেড়ে / তোমার সাথে যাওয়ার মত সময় তো আমার হাতে নেই /  আমার ভালোবাসার মানুষগুলো আমার জন্য অপেক্ষা করছে / না আমি কোন ভাবেই তোমার সাথে যেতে পারবো না / মেয়েটি কঠিন দৃষ্টি দিয়ে কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো / আমি আবার শুনতে পেলাম   আমরা যুক্তি দিয়ে  পরিচালিত  প্রাণী / আবেগ দিয়ে নয় / তাই তোমার না যাওয়ার কারণটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় / বলেই  সে তার বাম হাতে বাধা ডিভাইসটিকে মুখের সামনে ধরে কথা বলতে শুরু করল / কথাগুলো অনেকটা আমাদের পাখির ভোরের কিচিরমিচির শব্দের মত মনে হলো / হঠাৎ করে আমার প্রচন্ড ঘুম পেতে শুরু করল আমার মাথাটা কেমন যেন ঘুরতে লাগলো , আমি গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লাম / 




 গভীর ঘুম থেকে আস্তে আস্তে আমি জেগে উঠলাম / কোথায় যেন কল থাকে টপটপ করে পানি পড়ছে / আস্তে আস্তে চোখ মেলে   তাকালাম / কিন্তু ঠিক বুঝতে  পারলাম না ঠিক কোথায় আছি আমি / চতুর্দিকে চোখটা  বুলিয়ে আমি এটুকু বুঝতে পারলাম যে ডিম্বাকৃতি একটা ঘরের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় হাসপাতালের  বেড এর মতো একটা বেডে শুয়ে আছি আমি / ঘরের মধ্যে হালকা কমলা রঙ্গের কিন্তু উজ্জ্বল আলো ঘরকে আলোকিত করে রেখেছে কিন্তু আলোটা ঠিক কোথা থেকে আসছে  তা বোঝা যাচ্ছে না /  মনে হচ্ছে দেয়ালের ভেতর থেকেই আলোটা বেরোচ্ছে /

 আমি দেখতে পেলাম আমার  হাতের ডান দিকে দেয়ালে অনেকগুলো  মনিটর , দেয়ালের সঙ্গে লাগানো / সবগুলো মনিটরি ই  ডিম্বাকৃতি / সেই মনিটরের একটি থেকেই সেই টপ টপ শব্দটা আসছে /  কিন্তু ঘরের ভেতর কোথাও কেউ নেই / হঠাৎ করেই আমি দেখতে পেলাম আমার পায়ের দিকে ঘরের দেয়ালে র একটা অংশ সরে গেল এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হাস্যজ্জল মুখে ঘরে  ঢুকলো লি / আমার দিকে তাকিয়ে রইল /  আমি  আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম ,কেমন আছো তুমি ?  পরমুহূর্তেই  লি  এর চোখ দুটো মনিটর গুলির উপর স্থির হল / অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল মনিটর গুলির  দিকে /  এরপর আপন মনে বলতে লাগলো  প্রেসার নর্মাল , হার্টবিট   এইট জিরো /  অর্থাৎ নর্মাল / লি একটু হেঁটে সামনে এগিয়ে গিয়ে মনিটরগুলোর কাছে গিয়ে মনিটরের দিকে তাকিয়ে কি যেন বুঝতে চেষ্টা করছিল /  আমি  লি এর পিছন  দিকটা দেখতে পাচ্ছিলাম / চুলগুলো  কাঁধ ছাড়িয়ে পিঠের  মাঝামাঝি পর্যন্ত  এসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে / চুলের  রঙ  সম্পূর্ণ কাল নয় একটু যেন লালচে বর্ণের / শরীরের গঠন আমি অনুমান করলাম  26 32 28 ./ উচ্চতা  5 ফুট 2 ইঞ্চি / 
খুব সুন্দর লাগছে লি  কে দেখতে  / আমি  আবার শুনতে পেলাম বাহ  বেশ ভালোই তো আছো তুমি / একেবারে ফুরফুরে মেজাজে / আমাকে তোমার গাইড হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে / তোমার যে কোন সমস্যা  দেখার দায়িত্ব আমার / তুমি যতদিন আমাদের এখানে আছো তোমার সবকিছু আমি দেখভাল করব / তুমি আমাদের এখানে অতিথি হয়ে এসেছ আজ প্রায় 20 দিন / অতিথি হয়ে এসেছি মানে ?  আমি গলায় একটু রাগ মিশ্রিত কন্ঠে প্রশ্ন করলাম , তোমাদের এখানে অতিথি কে  জোর করে ধরে এনে অতিথি বানানো হয় নাকি ? /কি অদ্ভুত নিয়ম তোমাদের ? লি আমার কথা শুনে রাগ করল না /   বলল বাব্বা খুব  রেগে আছো দেখছি / আমি তো তোমাকে কথা দিয়েছি খুব বেশিদিন তোমাকে এখানে থাকতে হবে না /  আমি নিজেই তোমাকে তোমার পুরনো বাসস্থানে ফিরিয়ে দিয়ে আসবো /তুমি তো জানো না গত 20 দিন এই  তুমি অচেতন  অবস্থায় ছিলে /  তোমার জন্য আমি কত পরিশ্রম করেছি /  আমি রাতদিন তোমার পাশে বসে থেকেছি /  নিজ হাতে তোমাকে খাইয়ে দিয়েছি / এসবের কি কোন মূল্য নেই ? এজন্য   কি আমি তোমার কাছ থেকে একটা ধন্যবাদ আশা করতে পারি না ? একটা কথা বলি ?  তুমি না দেখতে খুব সুন্দর /  বলেই লি তার মুক্তোর মতো দাঁতগুলো বের করে হাসল /  মেয়ে মানুষদের জন্য সাধারণত সব পুরুষেরই মনের ভিতর একটা সফট জায়গা থাকে /  খুব কম পুরুষই পারে একজন মেয়ে মানুষকে উপেক্ষা করতে / তারপর যদি সেই মেয়ে মানুষটা অতীব সুন্দরী হয় তবে তো কথাই নেই /  লি এর মুখে আমার প্রশংসা শুনে  মনটা একটু খুশি হয়ে উঠলো /  আমার রাগের মধ্যে কেউ যেন জল ঢেলে দিল / আমি হেসে ফেললাম /  আমি আবার  লি এর কথা শুনতে পেলাম , তোমাকে নিয়ে আমাদের গবেষণাগারে আমরা নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি অবশ্য এখনো আরো অনেক পরীক্ষা ই বাকি আছে / আমরা আশা করছি সমস্ত  পরীক্ষা গুলি শেষ হলে আমরা আমাদের  সমস্যার একটা সমাধান পেয়ে যাব /

লি য়ের এই ব্যাপারটা   আমার একদম ভালো লাগেনা / লি  কোন কথা বলছে না  তার ঠোঁট দুটো নড়ছে না মুখে কোন এক্সপ্রেশন নেই অথচ তার কথা  আমি শুনতে  পাচ্ছি / খুবই অস্বস্তিকর একটা ব্যাপার / আবার লি এর কথা শুনতে পেলাম আমি ,,তুমি এখন তোমার বিছানা ছেড়ে নামো ,বাথরুমে যাও , ফ্রেশ হও / বাথরুম থেকে বের হয়েই তুমি তোমার খাবার রেডি পাবে /  এরপর খাবার শেষ করে  আমি আজকে তোমাকে নিয়ে বেড়াতে বের হব আমরা আজ সারাদিন বাইরে ঘুরবো / আমাদের এই সুন্দর  গ্রহটিকে. তোমার সঙ্গে পরিচয় করে দিব / আমার ধারণা খুব ভালো লাগবে  তোমার / হঠাৎ করেই  আমার মনে পড়ে গেল আয়েশা আরিয়া ও রাভিদ  এর কথা / ঝট করে  লি এর দিকে মুখ করে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম আজ কত তারিখ ? আমার তো আমার নাতি নাতনিদের কাছে যাওয়ার কথা , নিশ্চয়ই ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে /  রাভিদ হয়তো রাগ করছে আমাকে না দেখে , আয়েশা  কাঁদছে , আর আরিয়া মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে / আমি একজন বাচ্চা শিশুর মতন  আর্তনাদ করে বললাম , আমাকে ছেড়ে দাও আমি আমার নাতি দের কাছে যাব / সবকিছু মনে পড়ে গেল আমার / আমি আমার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম জোর করে আমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে / আমাকে এখানে এভাবে আটকে রাখার কোন নৈতিক অধিকারী তোমার নেই /  আমাকে ছেড়ে দাও / আমি চলে যাব / লি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল / আমি শুনতে পেলাম ,  না আর বেশি দিন তোমাকে এখানে আমরা আটকে রাখবো না / আমাদের গবেষণার কাজ শেষ হলেই  আমরা তোমাকে তোমার সেই পুরনো  বাসস্থান  দিয়ে আসব / তুমি ফিরে যাবে তোমার  আদরের  আরিয়া আয়েশা ও রাভি দ এর কাছে / জাস্ট আর কয়েকটা দিন মাত্র / প্লিজ কুল ডাউন /  মন খারাপ করোনা / চলো আমরা এখন বাইরে যাই তুমি তোমার পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার দূরের   একটা গ্রহে বসে আছো তোমার ভাবতে ভালো লাগছেনা  ?  তোমার জানতে ইচ্ছা করছে না এই  গ্রহটি কেমন ? এখানকার প্রাণী গুলো কেমন ?  একশত আসি ডিগ্রী এবাউট টার্ন করে লি  একেবারে আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো  / এতটাই কাছে যে তার মুখে চিবুকের ডান পাশের ছোট্ট তিলটা  আমি খুব পরিষ্কার ভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম /  যা তাকে দেখতে আরো মায়াময় করে তুলেছে / টুকটুকে হালকা গোলাপি ঠোঁট দুটো সামান্য একটু খোলা / ওই খোলা অংশ দিয়ে তার উপরের পাটি দাঁতের কিছুটা অংশ দেখা যাচ্ছে / মুক্তোর মত ঝকঝকে দাঁত / কেমন যেন আমি একটু আনমনা হয়ে গেলাম  / এক ধরনের অস্বস্তি   লাগছিল / সেই অস্বস্তি  কাটানোর জন্য ই আমি বললাম তুমি একটু সরে না দাড়া লে আমি কেমন করে বাথরুমে যাব ? লি একটু হাসল / এবং পথ ছেড়ে  দাঁড়ালো /  আমি বাথরুমে ঢুকে গেলাম / আমি বাথরুম থেকে লি এর আবার সেই হাসির  শব্দ শুনতে পেলাম /লী  চিৎকার করে বলছে , বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখবে বিছানার উপর তোমার ড্রেস রাখা আছে সেগুলো পড়ে তুমি রেডি হয়ে নাও /

ড্রেসগুলো নরম তুলতুলে অনেকটা আমাদের  রেশমের মত কিন্তু আরো হালকা / আমি   ঘারটা কে বাঁকা করে  লি এর দিকে ফিরে একটু একটু হেসে বললাম  তুমি যদি একটু আড়ালে না যাও তবে আমি কিভাবে আমার ড্রেস চেঞ্জ করব ? আমি আবার  সেই  মধুর হাসিটা  শুনতে পেলাম / লি আমার খুব কাছে এসে দাঁড়ালো /  একেবারে প্রায় গা ঘেঁষে , তারপর চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে রইল /  আমি শুনতে পেলাম তাই ? ঠিক আছে দর্শ মিনিট সময় দেয়া হল তোমাকে , এর মধ্যেই রেডি হয়ে যাবে ওকে ? তুমি কি আমার ,গাইড নাকি মাস্টার ? প্রশ্ন করলাম আমি /  লি  হেঁটে  দরজার সামনে গিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল মনে করো দুটোই /  বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল /   (চলবে)
  #Shahadat Hossain</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16356/</link>
				<pubDate>Wed, 30 Jun 2021 12:35:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
দ্বিতীয় পর্ব</p>
<p> আমি আমার মাথার ভেতর শুনতে পেলাম , আমার নাম লি / অনেক দূর থেকে  এসেছি আমি / তুমি আর আমি একি গ্যালাক্সিতে বসবাস করি , তবে আমরা যে সৌরজগতের বাস করি   তা তোমাদের এই পৃথিবী থেকে ওয়ান থাউজেন্ড লাইট ইয়ার  দূরে অবস্থিত /  হা করে তাকিয়ে রইলাম আমি /  তাহলে একজন এলিয়েন আমার সামনে দাঁড়িয়ে ? আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16356"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16356/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">35bf35479d733f942cf55d5a74751c82</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16151/</link>
				<pubDate>Tue, 29 Jun 2021 17:33:30 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3eb11e04dc819db65d98abcd0363c578</guid>
				<title>টুইন আর্থ
প্রথম পর্ব

2202 সাল   NSA  স্পেস এয়ার  ক্রাফট টি উড়ছিল আমাদের গ্যালাক্সি , মিল্কিওয়ের   
 ভেতর দিয়ে / তবে আমাদের সোলার সিস্টেমের ভেতরে নয় / আমাদের কাছের প্রতিবেশী সোলার সিস্টেম Proxima Centauri এর ভেতর দিয়া / পৃথিবী থেকে এই নক্ষত্রের দূরত্ব 4.24 আলোকবর্ষ / এই নক্ষত্রের অনেকগুলো গ্রহ আছে   যা  তার চতুর্পার্শ্বে ঘুরছে / পৃথিবী থেকে NSA স্পেস  এয়ারক্রাফট.  টি পাঠানো হয়েছে এই সোলার সিস্টেমের একটা ডিটেলস ম্যাপ তৈরি করার জন্য /  অর্থাৎ  এই সোলার সিস্টেম এ কতগুলো গ্রহ আছে এবং  এইগ্রহগুলির কতগুলি উপগ্রহ আছে এইসব  তথ্যের একটা  ডেটাবেজ  তৈরি করার জন্য / কোন গ্রহের কেমন আবহাওয়া সেই  আবহাওয়াতে কোন ধরনের প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা আছে কিনা অথবা  এই গ্রহ গুলিতে পানি ও অক্সিজেন এ কোন অস্তিত্ব আছে কিনা এই সব তথ্যের  ডেটাবেজ তৈরি  করার জন্য /  স্পেস  এয়ারক্রাফটি উড়ছিল সময়ের ভেতর দিয়ে /  সময়ের ভেতর  দিয়ে মানেটা কি ? বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক  আলবার্ট আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটি থেকে আমরা জানি সময় আপেক্ষিক / একটা উদাহরণ দিচ্ছি  মনে করুন কোন একটা রকেট ইউনিভার্স এর মধ্য দিয়ে আলোর গতির কাছাকাছি গতি নিয়ে উড়ছে / পৃথিবীর ঘড়িতে যখন 24  চব্বিশ ঘন্টা পেরিয়ে যাবে  তখন ওই রকেটের ভিতরে ঘড়ি তে হয়তো বা এক ঘন্টা সময় পেরিয়েছে  / আমাদের এই ইউনিভার্সের  বিভিন্ন স্থানের সময় একই রকম  নয় /  /সাধারণভাবে আমরা যেটা জানি তা হচ্ছে পৃথিবীতে আলোর গতি সর্বোচ্চ গতি / এই গতিকে অতিক্রম করা সম্ভব নয়  /কোন বস্তুর গতি যখন আলোর গতির চেয়ে কম হয় তখন বস্তুটি সময়ের সাথে সাথে চলে /   বস্তুটি কখনোই সময়কে অতিক্রম করে যেতে পারে না  আবার সময় থেকে পিছিয়ে আসতে পারেনা /  ফলে আমরা সবসময় বর্তমানে অবস্থান করি /  আমরা অতীতে ও  ফিরে যেতে পারি না আবার ভবিষ্যতেও যেতে পারি না /  এটাই আমাদের জীবন এর সীমাবদ্ধতা / কিন্তু কোন বস্তুর গতি যদি আলোর গতির চেয়েও বেশি হয়ে যায়  তখন এই ইউনিভার্সের সমস্ত নিয়মকানুন অচল হয়ে পড়ে  বস্তু আর সময় সাথে সাথে চলে না /  তখন সময় স্থির হয়ে যায় অথবা সময়ের গতি ধীর হয়ে যায় /  এবং বস্তুটি তখন সময়ের ভেতর দিয়ে চলে /   অর্থাৎ সময়টা তখন স্থির কিন্তু বস্তুটি সচল / অর্থাৎ সময় ব্যয় না করেই আমাদের ইচ্ছা মতো সময়ের ভেতর দিয়ে চলাফেরা করতে পারি / আরও সহজভাবে বলতে গেলে যতক্ষণ আপনি সময়ের ভেতরে থাকতে থাকবেন ততক্ষণ ঘড়ির কাঁটা ঘুরবে না অথবা খুব ধীর গতিতে ঘুরবে / অবশ্য ওই সময়ে বস্তুটি আমাদের জগৎ থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় /  তখন  তার কোন অস্তিত্ব  আমাদের এই ইহজগতে থাকেনা / সময়ের ভেতরে যে জগত তার ভেতরটা কালো অন্ধকার জমাটবাঁধা অন্ধকারের   এক বীভৎস রূপ / এরপর আমরা আবার যখন আমাদের গতি আলোর গতির তুলনায়  কমিয়ে আনি তখন বস্তুটি আবার আমাদের এই জগতে দৃশ্যমান হয় / তাই মহাজগতের যখন কোন বিশাল দূরত্ব অতিক্রমের প্রয়োজন হয় তখন বিশেষ ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করে রকেটের গতিবেগ আলোর গতিবেগ এর চেয়েওবেশি গতিবেগে রকেট  টিকে চালনা  করা হয় / তখন রকেটটি সময়ের ভিতর দিয়ে চলতে শুরু করে /  রকেট টি একবার সময়ের ভিতরে ঢুকে গেলে  তখন আর তার ইঞ্জিনের শক্তির প্রয়োজন হয় না /  অর্থাৎ কোনো রকম  এনার্জি খরচ না করেই  রকেট টি চলতে থাকে / নিমেষেই রকেটটি  হাজার হাজার কিলোমিটার  দূরত্ব  পেরিয়ে যায় / কাঙ্খিত দূরত্বে পৌঁছানোর পর রকেট  টি কে আবার ইঞ্জিন চালনা করে গতি কমিয়ে আনা হয় / এভাবেই এখন আর  মহাশূন্যে ভ্রমণ করে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় / তাই 4.24 আলোকবর্ষ  দূরত্ব অতিক্রম এর জন্য NSA  স্পেস এয়ার  ক্রাফট টি উড়ছিল সময়ের ভেতর দিয়ে / মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় / এয়ারক্রাফট এর ভিতর অক্সিজেন সাধারণভাবে রিসাইক্লিং করে ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ মানুষ যে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে সেটাকেই পুনরায় ভেঙে অক্সিজেন এবং কার্বন কে আলাদা করে অক্সিজেনকে/ পুনরায়  ব্যবহার করা হয় /  এছাড়াও বিকল্প আরেকটা পদ্ধতি আছে , এয়ারক্রাফটের  বাইরের  অংশে  প্রচণ্ড ঠান্ডায় কিছু কিছু  বরফ জমে /  সেই বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করে রেক্টিফাই করে ও ব্যবহার করা হয় এবং কিছু অংশ প্রয়োজন হলে তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনে কনভার্ট করেও  অক্সিজেনকে  ব্যবহার করা হয় / খাদ্য হিসেবে ফার্ন জাতীয় এক ধরনের উদ্ভিদ এই স্পেস এয়ার  ক্রাফট টি র  একুরিয়ামের ভেতরে ই চাষ করা হয় যা  দ্রুতবর্ধনশী এবং পুষ্টিকর  / স্পেস এয়ার  ক্রাফট টি র শক্তি র উৎস পারমাণবিক চুল্লি / সম্পূর্ণ স্পেস এয়ার  ক্রাফট টি  নিয়ন্ত্রণ করে ওবিসি সুপার পাওয়ার প্রসেসর / এই ওবিসি এর সঙ্গেই পৃথিবীর যোগাযোগ / এখানকার মানুষ সরাসরি পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগের কোন ক্ষমতা নাই / এরা শুধু তাদের সমস্ত ডাটা তাদের কম্পিউটারে আপলোড করে থাকে এবং  এই ওবিসি সুপার পাওয়ার প্রসেসর  সময় মত পৃথিবীতে ডাটা   গুলো  ট্রান্স  মিট করে /  

স্পেস এয়ারক্রাফটের কমান্ডার একজন সুঠামদেহী বাঙালি / বসে ছিলেন অবজারভেটরি টাওয়ারের 20 ফিট বাই 14 ফিট এলইডি মনিটরের সামনে / যে চেয়ারে তিনি বসে ছিলেন তা সম্পূর্ণ সিন্থেটিক চামড়ায় মোড়ানো সুন্দর নরম আরামদায়ক গদি  আটা চেয়ারে / সামনে অর্ধ  চন্দ্রাকৃতির  পোর্সেলিনের তৈরি  টেবিল  /  টেবিল জুড়েই  নানা প্রকার সুইচ , কোনটা জ্বলছে নিভছে আবার কোনটা  লাল হয় জলে আছে , আবার কোনটা উজ্জল সবুজ রঙের   আভা  ছড়াচ্ছে  /এলইডি  স্ক্রিনে  পৃথিবীর ছবিটা ভেসে আছে / কমান্ডারের দৃষ্টি সেই  নীল  গ্রহটির  দিকে /  চোখ দুটি তার অশ্রু জলে টলমল  / হঠাৎ করেই ঘরের আলোটা পরিবর্তন  হয়ে হালকা কমলা রঙ্গের হয়ে গেল , কমান্ডার বুঝতে পারলেন কেউ একজন ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইছে /  কমান্ডার একটি বোতাম টিপে প্রবেশের অনুমতি দিলেন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে প্রবেশ করল রেইন /   ঘরে ঢুকে রেইন ঘরের এদিক ওদিক তাকিয়ে অবশেষে কমান্ডারের উপর তার দৃষ্টি টা  স্থির  হল / পরমুহূর্তেই তার দৃষ্টি    পড়লো মনিটরের দিকে / তার চোখে-মুখে বেদনার একটা   আভা  ফুটে উঠল / কিন্তু কন্ঠে একটা কৃত্রিম   রাগের ভান  করে  কোমরে    হাত  রেখে রাগত স্বরে বলল আবার তুমি পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছে ? অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে দুদিকে মাথা নেড়ে বলল কেন তুমি এমন করো ? আমি তোমাকে বলেছি না অতীত ভুলে যাও কি হবে সেই অতীতকে মনে রেখে যেখানে তোমার  প্রিয় জন বলতে আর কেউ নেই /  আমাকে দেখো না সবকিছু ভুলে কি সুন্দর ভাবে বেঁচে আছি আমি ? কমান্ডার  অপ্রস্তুত হয়ে তাড়াতাড়ি চোখ দুটো মুছে বললেন না না আমি এমনি বসে আছি / কেন যেন এই মেয়েটিকে দেখলেই তার মনে হয় যদি  এই মেয়েটি তার নিজের  মেয়ে হত ? খুব ইচ্ছে হয় মেয়েটির চুলগুলো ধরে আদর করে এলোমেলো করে দিতে / মেয়েটি  দুই দিকে মাথা নেড়ে  আবার বলতে লাগল চলো চলো নিচে চলো ,বল রুমে সবাই তোমার অপেক্ষায় আছে , তুমি ভুলে গেছো আজ স্যাটারডে নাইট / কমান্ডার মুখ তুলে  মেয়েটির  দিকে তাকালেন , তারপর মৃদু হেসে বললেন ওকে চলো / বলেই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন / 

2019 সাল /  সবেমাত্র সন্ধ্যা সাতটা / ঢাকা শহরের ছয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের দোতালায় আমি আমার নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসে  গভীর মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারের  স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করছিলাম /  হাতে অনেকগুলি  কাজ যা আগামী পনের দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে / হাতে সময় খুব একটা বেশি নেই / আজকে   পনের ই ফেব্রুয়ারি / পহেলা মার্চ  আমার সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের টিকেট   কনফার্ম করা   আছে / গন্তব্য ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে অস্ট্রেলিয়া / দেশ ছেড়ে  চলে যাচ্ছি আমি /  দেশে ফেরার  আর তেমন কোনো সম্ভাবনাই হয়তো নেই /  তাই আমার ক্লায়েন্টদের সম্পূর্ণ কাজ ই শেষ করতে হবে আমাকে /  তাই এই ব্যস্ততা / ছেলেদের আর   মানিয়ে রাখতে পারলাম না / , তাছাড়া আজকাল নাতি নাতনি গুলির কথাও একদমই ভুলতে পারছিনা / স্ত্রী মারা গেছে  প্রায় পাঁচ বছর / স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই ছেলে দুটো  ঘ্যানর ঘ্যানর  করছিল ,আমাকে অস্ট্রেলিয়াতে   তাদের কাছে   চলে  যাওয়ার জন্য , বারবার চাপ দিচ্ছিল / কিন্তু আমার কোন অবস্থাতেই   এই  দেশ ,বিশেষ করে এই  বাবার দেওয়া ফ্ল্যাটটি  ছেড়ে  কোথাও যেতে ইচ্ছে করছিল না / ফ্ল্যাটটির প্রতিটি অংশই  আমার স্ত্রীর  নিজ হাতে সাজানো / ওই যে এসি টা মৃদু একটা গুঞ্জন তুলে চলছে সমস্ত ঘরটাকে ঠান্ডা মায়াময়  করে রেখেছে তা আমার স্ত্রী  কমলিকা নিজে  পছন্দ করে   কিনে  এনেছিল / মনে আছে যেদিন এসিটা লাগানো হলো সেদিন কমলিকা সারারাত  ঘুমায়নি / শুয়ে  শুয়ে শুধু কথা বলছিল / আমাকেও  ঘুমাতে দেয়নি /  ওই যে দেয়ালে  আমাদের পাচ ফুট বাই আড়াই  ফুটের   যুগল ছবিটা এটাও কমলিকা যেন কোথা থেকে করে  এনে দেয়ালে ঝুলিয়ে ছিল / হঠাৎ করেই ফোনটা বেজে উঠলো , আমার মনোযোগ তখনো কম্পিউটারের দিকে / গভীর মনোযোগদিয়ে কাজ করছিলাম / ফোনের শব্দ শুনে ধ্যান ভাঙ্গলো , হঠাৎ করেই যেন  একটু চমকে  উঠলাম   /  পরমুহূর্তেই আমার ঠোঁটে একটা মৃদু হাসি ফুটে উঠল /  আমি  ঘাড় টা   ঘুরিয়ে  বিছানার উপর পড়ে থাকা ফোন টার দিকে একবার  তাকিয়ে দেখলাম /  ফোনটা বেজে ই চলেছে  / মনে মনে ভাবলাম নিশ্চয়  এটা  আরিয়া  এর ফোন / আরিয়া  আমার  বড়  নাতনি / বয়স   10 বছর আমার দুটি ছেলে তার একজনের নাম রাজিব সে বড় এবং একজনের নাম সজীব সে ছোট  দুজনেই অস্ট্রেলিয়াতে পড়ালেখা শেষ করে সেখানেই  সেটেল্ড / রাজিব সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং সজীব নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ার / সজীবের দুই মেয়ে একজনের নাম আরিয়া ও অপরজন আয়েশা /  আর রাজীবের শুধু  একটাই ছেলে  নাম রাভিদ /  কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে আরিয়া তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় তারপর রাভিদ  এবং তারপর আয়েশা /  অর্থাৎ ছোট ছেলেটা আগে বাবা হয়েছে এরপর বড় টা বাবা হয়েছে / এই মুহূর্তে আমার নাম মনে পড়ছে না তবে  কে যেন বলেছিল বাড়ির বড় ছেলেরা একটা গাধা টাইপের হয়  আর ছোট গুলা  একটু বেশি ইসরে পাকা হয় / মনে মনে ভাবলাম কথাটা একেবারে মিথ্যা নয় /  আমি চেয়ার থেকে উঠে  দাড়ালাম এবং একটু হেঁটে গিয়ে  বিছানা থেকে ফোনটা হাতে   নিলাম / ফোনের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলাম এটা আরিয়া এর ফোন    নয়  ফোনের  অপর প্রান্তে রাভিদ / আমি ফোনের বোতামটি চাপ দিয়ে কানে ধরতেই  ও প্রান্ত থেকে  রাভিদ এর কন্ঠ  ভেসে এলো , দাদাভাই  আমার গাড়িটা  তোমার লাগেযে  ঢুকিয়েছে ? আমি হেসে  ফেললাম,  বললাম  সকালে  না তোমাকে আমি বললাম গাড়িটা আমি ঢুকিয়েছি /  আচ্ছা ঠিক আছে গাড়িটা আমাকে দেখাও / কিভাবে দেখাবো গাড়িটা তো লাগেজের  ভিতরে ভরা / প্লিজ দাদাভাই গাড়িটা একটু বের করো এবং আমাকে আবার দেখাও / ওকে ওয়েট /  আমি  সুটকেস টা  খুলে গাড়িটা বের করে ফোনের ক্যামেরার  সামনে  ধরলাম /  এরপর আবার  রাভিদের কন্ঠ শুনতে  পেলাম ,  আই লাভ ইউ দাদাভাই / কথার মাঝখানেই  ফোনটা আবার বিপ বিপ শব্দ করছিল  আমি বুঝতে পারছিলাম আরেকটা কল এসেছে /  আমি রাভিদ কে  বললাম ওকে দাদাভাই , বাই , বলেই কলটা  কেটে দিয়ে অন্য  কলটা রিসিভ করলাম /  প্রথমে কিছুই শুনতে পেলাম না , 5 সেকেন্ড নীরবতা  তারপর ফোনের ওপ্রান্তে  আয়েশার কণ্ঠ শুনতে  পেলাম /  আয়েশা কান্না জড়িত কন্ঠে বলছিল দাদাভাই   মা আমাকে বকা দিয়েছে  / আমি রাগের ভান করে  বললাম বকা দিয়েছে ? কেন ? তুমি কি করেছো ? দাদাভাই আমি কিচ্ছু করি নাই /  তাহলে তো তোমার আম্মু খুব  ব্যাড কাজ করছে ?  ওকে  ওয়েট  আমি আসছি , তোমার আম্মুকে আচ্ছা করে বকে দেবো  ঠিক আছে ? আয়েশা হঠাৎ করে রেগে গেল , বলল না  তুমি  আম্মাকে বকা দিবা না /  তুমি ব্যাড / বলেই  লাইনটা কেটে দিল /  আমি ফোন টার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হা হা করে  হাসলাম / ফোনটা হাতে নিয়েই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম , একটা ভালোবাসা একটু আবেগ আমার মনটাকে এক ধরনের ভালোলাগায় ভরিয়ে  দিল / মনে মনে  ভাবলাম এইতো আর মাত্র কয়েকটি দিন / তারপরে তো সারাদিন রাত এই  নাতি নাতনি গুলোর কাছাকাছি থাকবো আমি / 


আমি আবার কম্পিউটারের সামনে গিয়া  বসলাম /কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলাম , হঠাৎ করেই মনটা কেমন যেন খারাপ হয়ে গেল / স্ত্রীর সেই মায়াবী মুখটা মনের ভিতর ভেসে  উঠতে থাকলো  / স্ত্রীর কথা মনে হলে আমার  চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই টোল পড়া গালে  কমলিকা হেসে হেসে কথা বলছে / কমলিকা যখন কথা বলতো তখন মাথাটা একটু ডানদিকে কাত করে আঙুল নেড়ে নেড়ে কথা বলতো / যখন খুব ভালো মুডে থাকতো তখন কমলিকা আমাকে মানিক বলে ডাকত আবার যখন বিরক্ত হতো তখন আমাকে ডাকত  এই যে মিস্টার বলে /  ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই একজন পরনির্ভরশীল মানুষ /  প্রতিটি ব্যাপারে ই   আমার কমলিকাকে প্রয়োজন /  আমার চশমা কই . আমার  রুমাল কই   কোন শার্ট পরে অফিসে যাব ?  সব ই কমলিকা  কেই  দেখতে হতো  এমনকি   আমার অতি প্রয়োজনীয় প্রেসারের ওষুধ  টি  খাওয়ার কথাও প্রতিবেলায়  কমলিকা কেই মনে করিয়ে  দিতে হত / কমলিকা প্রায়ই ওষুধের বাক্স টা হাতে নিয়ে এসে  বলতো আমি মরে গেলে তোমার খুব কষ্ট হবে / আমি অস্ফুট সরে  বিড়বিড় করে বললাম হ্যাঁ কমলিকা আমার খুব কষ্ট হচ্ছে / স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই জাগতিক সমস্ত বিষয়ে আমি আস্তে আস্তে নিজেকে গুটিয়ে ফেলতে থাকলাম / বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষকে কিছু না কিছু করতেই হয় / তাই আমিও  অনলাইনে কিছু কাজকর্ম   করতে শুরু করলাম  /  উদ্দেশ্য  দুটি , একটি নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখা এবং আরেকটি চলার জন্য কিছু ইনকাম করা /  ফ্লাটের এই ভেতরের অংশটাই  আমার পৃথিবী / সারাদিন আমি আমার  এই ফ্ল্যাটের ভেতরেই থাকি / গান শোনা আর কম্পিউটার দুটি ই  আমার জীবনের একমাত্র সঙ্গী // স্ত্রীর মৃত্যুর পর আমার জীবনের গতিপথ আস্তে আস্তে পাল্টে যায় / পাল্টে যায় গন্তব্যের ঠিকানাও / নিজের  একটা ভুবন সৃষ্টি করে ফেলি  আমি , যেখানে আমি  একা , সম্পূর্ণ একা / আর কারো প্রবেশাধিকার সেখানে নেই /  ছেলেদুটো তাদের জীবন সংসার নিয়ে ব্যস্ত / কালেভদ্রে মাঝে মাঝে বাবার খোঁজ খবর নেয় / তবে বাইরের জীবনের মধ্যে আমার নাতি নাতনি গুলির সাথেই আমার একমাত্র যোগাযোগ / তারা প্রতিনিয়ত  কারণে অকারনে আমাকে ফোন করে / দাদা ভাইয়ের সঙ্গে নানা রকম দুষ্টামি করে / হাজারো কমপ্লেন  তাদের / মা বকেছে   আজ স্কুলে যাবেনা , বান্ধবীর সঙ্গে  আড়ি নিয়েছে , এসবই তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু / সবকিছুর  সমাধান ই  দাদাভাই  কেই দিতে হবে আবার যদি সমাধান গুলি তাদের মন মতন না হয় তবে দাদা ভাই ও  পচা / দাদাভাই এর সাথে ও  কিছুক্ষণের জন্য আড়ি / আমি আমার হাতের ডান দিকের দেয়ালে ঝুলানো ঘড়িটার দিকে  তাকালাম / বিরামহীন , নিরলস ভাবে ঘড়িটার সেকেন্ডের লাল রঙের  কাটাটি ঘুরে চলেছে / একা একা নিঃসঙ্গ ভাবে অনেকটা আমারই মত /  তাকিয়ে দেখলাম রাত প্রায় বারোটা /  ক্লান্ত লাগছিল /  ভাবলাম শুয়ে পড়ি আবার  ভোরে ওঠে কাজ শুরু করব /  আমি কম্পিউটার টা বন্ধ করে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলাম /  বিছানায় গা এলিয়ে দিতে ই কমলিকার কথা মনে পড়ে গেল /  সেই টোল পড়া গালের হাসি হাসি মুখ / সেই  মুখটাকে চোখে নিয়েই গভীর ঘুমে  তলিয়ে গেলাম আমি /




ঘুমের মধ্যে ই এক ধরনের বিফ বিফ  শব্দ কানে আসছিল আমার / অনেকক্ষণ যাবৎ ই শব্দটা হচ্ছে /  ঘুম ভেঙে গেল  আমার /  আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকালাম /  আমার  চারদিকে একবার তাকিয়ে দেখলাম / আমার সেই প্রিয় বিছানাতেই  শুয়ে আছি আমি / ঘরের ভেতর একটা নীল রংয়ের এলইডি নাইট লাইট জ্বলছে / তাতে করে ঘরের অন্ধকার তেমন একটা দূর হয়নি তবে কেমন যেন একটা স্বপ্নীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে / ঘুমানোর জন্য এ ধরনের পরিবেশ খুবই আদর্শ / খুব পছন্দ আমার এই ধরনের পরিবেশ / কিন্তু অন্ধকার ঘরে কিসের শব্দ ?  বুঝতে চেষ্টা করলাম আমি ,  কোথা থেকে  আসছে  এই শব্দ ? দু হাতের আঙুলগুলোদিয়ে চোখ দুটো ভালো করে রগড়ে নিয়ে আবার তাকালাম /  চোখ দুটিতে অন্ধকারটা একটু  সয়ে আসতেই  মনে হল কেউ যেন  আমার ড্রইং রুমে  দাঁড়িয়ে  আছে / বেডরুমের দরজাটা খোলা থাকার জন্য দরজা দিয়ে ড্রইংরুমের প্রায় দুই তৃতীয় অংশই দেখা যাচ্ছে  / আবছা অন্ধকারে   আমার মনে হল , যে দাঁড়িয়ে আছে সে একজন মহিলা / আমি আশ্চর্য হয়ে ওই আবছা অন্ধকারে চোখ দুটো  আরো বড় বড়  করে সমস্ত ড্রয়িং   রুমটা কে তন্ন তন্ন করে  খুঁজলাম /  না আর কেউ নেই / মহিলাটি একাই দাঁড়িয়ে আছে / আমি একা থেকে  অভ্যস্ত তার ওপর আগন্তুক একজন মহিলা , তাই খুব একটা ভয় পেলাম না ,  তবে  আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়  আমাকে বলে  দিল সাবধান  সামনে সমূহ বিপদ /  শোয়া থেকে উঠে  বসলাম  আমি / একটু চাপা স্বরে বললাম হু ইজ দেয়ার  ? আগন্তুক কথার কোন উত্তর  দিল কিনা বোঝা গেল না তবে আমি আমার মাথার ভেতরে পরিষ্কারভাবে শুনতে পেলাম , ভয় পেয়ো না আমি তোমার বন্ধু / বিশেষ এক প্রয়োজনে আমি তোমার কাছে এসেছি /  আমি কি তোমার রুমে আসতে পারি ?  বুকের ভেতর এক ধরনের চাপ অনুভব করলাম / কিন্তু বুকে সাহস সঞ্চয় করে  বললাম বিনা অনুমতিতে বাড়ি র  ভেতর ঢুকে গেছে  তাতে যদি অপরাধ না হয় তবে রুমে ঢুকতে দোষ কোথায় ? লজ্জা না করে আসো রুমের ভিতর চলে আসো /  বলেই হাত বাড়িয়ে বেড সুইচ টা অন করে  দিলাম  / উজ্জ্বল আলোয় ভরে গেল ঘরটা / সে আলোয়  আমি দেখতে পেলাম অপূর্ব সুন্দরী উদ্ভিগ্ন যৌবনা একজন তরুণী  ধীর পায়ে আমার   রুমের ভেতরে এসে দাঁড়াল / হ্যাঁ আগন্তুক একজন অপূর্ব সুন্দরী তরুণী ই বটে / খুবই সংক্ষিপ্ত পোশাক তার পরনে / আমি  গভীর মনোযোগের সাথে  আগন্তুককে দেখতে থাকলাম / না তার কোন পাখা নেই , সুতরাং  সে কোন  এঞ্জেল বা পরী নয় / গভীর দৃষ্টি ফেলে আমি তাকিয়ে থাকলাম অপূর্ব  সুন্দরী রমণী টির  দিকে /  কিন্তু মাথার ভেতর ঝড় বইছে   কে এই রমণী ?  গভীর কালো সুন্দর দুটি চোখ /   নাকটা ধারালো ,  পাতলা দুটো ঠোঁট / দুধে আলতায় মেশানো গায়ের রং /এত সুন্দর মানুষ তো পৃথিবীতে সাধারণত দেখা যায়  না /  একজন  নিখুঁত অপ্সরী / তার পরনের কাপড় টা তার যৌবন কে মোটেও ঢেকে রাখতে পারেনি /  মেয়েটি তার সেই গভীর কালো চোখ  দুটি দিয়ে আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে  থাকলো /   (চলবে)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/16140/</link>
				<pubDate>Tue, 29 Jun 2021 16:46:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>টুইন আর্থ<br />
প্রথম পর্ব</p>
<p>2202 সাল   NSA  স্পেস এয়ার  ক্রাফট টি উড়ছিল আমাদের গ্যালাক্সি , মিল্কিওয়ের<br />
 ভেতর দিয়ে / তবে আমাদের সোলার সিস্টেমের ভেতরে নয় / আমাদের কাছের প্রতিবেশী সোলার সিস্টেম Proxima Centauri এর ভেতর দিয়া / পৃথিবী থেকে এই নক্ষত্রের দূরত্ব 4.24 আলোকবর্ষ / এই নক্ষত্রের অনেকগুলো গ্রহ আছে   যা  তার চতুর্প&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-16140"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/16140/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">75620728c8f175a8c1dcc74c882a801c</guid>
				<title>গল্পের নাম :মনের জানালা
লেখক       :শাহাদাত হোসেন

কমলিকা গাড়ি থেকে নেমেই হাতের কব্জিটা উল্টিয়ে ঘড়ি দেখল / অলরেডি পাঁচ মিনিট লেট /  
অফিসে ঢুকলেই ডিরেক্টর স্যারের অন্ধকার মুখটা দেখতে হবে /এমনিতেই কালো বান্দরের মত চেহারা তারপর যদি রেগে  মুখটা অন্ধকার করে রাখে তবে কেমন লাগে ? অফিসের সবাই আড়ালে এই স্যার কে  বাঘ বলে ডাকে / এর বউ যে কি করে  একে সহ্য করে  মাথায়ই আসেনা কমলিকা র /  প্রায়  উড়েই লিফট এর কাছে চলে এলো কমলিকা/  ভাগ্যটা খুবই সুপ্রসন্ন    লিফট টা, দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে   এবং ভেতরটা একেবারেই ফাঁকা / কেউ নেই / কমলিকা  লিফটের ভেতরে ঢুকে ফর্টিন নম্বর বোতামটা টিপে দিল / দরজাটা আরো পাঁচ সেকেন্ড অপেক্ষা করে আস্তে আস্তে বন্ধু হতে থাকল /  প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এমন সময়  কেউ একজন 2 দরজার  ফাকার ভিতরে  হাত ঢুকিয়ে দরজা টাকে বন্ধ হতে  বাধা দিল / দরজাটা আবার খুলে গেল /  একটা ছেলে হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো / মুখে বলল সরি / কমলিকার  চোখেমুখে বিরক্তির ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠল  সে খুবই বিরক্ত হল /   আজকালকার  ছেলেগুলো মেয়ে দেখলেই মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে যায় /   যেই  দেখেছে লিফটে আমি একা , অমনি লিফটে প্রবেশের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে /  এই ধরনের ছেলেদের দেখলেই কমলিকার  কষে একটা   চর দিতে ইচ্ছে করে / কমলিকা একটা বিরক্তিকর ভাব নিয়ে লিফটের ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল / মনে মনে  ভাবল নিশ্চয়ই এখন ছেলেটা তার সাথে  ভাব জমানোর চেষ্টা করবে , মুখে একটা তেলতেলে হাসি  ঝুলিয়ে জানতে চাইবে আপনি  কত তলায় যাবেন ? যদি আমি উত্তর দেই , তাহলে আবার জিজ্ঞাসা করবে আপনি কি ওই অফিসে চাকরি করেন ?  আরে গাধা যদি আমি চাকরি না করতাম তবে কি আমি এখানে হাওয়া খেতে  এসেছি ?  কমলিকা মনে মনে ডিসিশন  নিয়ে রাখল যদি ছেলেটা এমন কিছু করতে চেষ্টা করে , অথবা গা ঘেঁষে  দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তবে কমলিকা বলবে এইযে ভাইয়া একটু সরে দাঁড়ান আপনার গা থেকে গোবরের গন্ধ আসছে /  কমলিকা জানে তখনো ছেলেটা  হে হে করে হাসবে / মুখে বলবে আপনার ফোন নাম্বারটা দেবেন প্লিজ ? এসব ভাবতে ভাবতেই লিফট টি  অষ্টম ফ্লোরে এসে থেমে গেল / এবং ছেলেটা কোন দিকে না তাকিয়েই  লিফট থেকে  বেরিয়ে গেল /   কমলিকা খুবই আশ্চর্য হল /  লিফট এর দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ছেলেটার গমন পথে  তাকিয়ে রইল / হঠাৎ করেই তারা মন টা খারাপ হয়ে গেল / তবে কি সে দেখতে আর আগের মত সুন্দরী নেই ? 

দরজা খুলে অফিসে ঢুকেই দেখল  বাঘটা ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে  কফি খাচ্ছে /  কমলিকাকে দেখে হেসে বলল কি ব্যাপার কমলাদেবী রাস্তায় কি অনেক জ্যাম ? তোমাকে একটু বুদ্ধি খাটাতে হবে  বাসা থেকে আরো একটু আগে  বের হতে হবে / কমলিকা একটা সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে বলল জি স্যার একটু দেরী হয়ে গেল /  মনে মনে বলল এজন্যই তো তোমার মতন বান্দর টা কে দেখে ও আমাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে হাসতে হচ্ছে / বাঘটা আবার বেসুরো গলায় বলতে থাকলো কফি খেয়ে সুমিকে নিয়ে আমার রুমে আসো / সুমি কমলিকার  কলিগ /দুজনেই মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের  জুনিয়র অফিসার / 
সুমিকে নিয়ে বসের রুমে  ঢুকতেই বস আঙ্গুলের ইশারায় বসতে বললেন / মুখে জিজ্ঞাসা করলেন কফি খাবে কিনা /  মাথা নেড়ে অসম্মতি  জানালো দুজনেই /  এবার বস  একটা ফাইল বের করে টেবিলের উপর রাখলেন / এবং  বললেন এই ফাইল টা দেখ  ছেলেটা আজকেই আমাদের ডিপার্টমেন্টে জয়েন করবে /  তোমাদের সঙ্গে কাজ করবেন / ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট /  ঢাকা ভার্সিটি থেকে  কেমিস্ট্রিতে  অনার্স   এবং মাস্টার্স  তারপর অস্ট্রেলিয়া থেকে এমবিএ করা / আমাদের কর্পোরেট হেড অফিস , অস্ট্রেলিয়ার  নিউ সাউথ ওয়েলস এর সিডনিতে   উনি কাজ করেছেন গত তিন বছর ধরে  /  এখন ওখান থেকেই ট্রান্সফার হয়ে আমাদের এখানে আসছেন /  ফাইল টা দেখ / তাহলে  ছেলেটার সম্পর্কে তোমাদের একটা আইডিয়া হবে /  তোমরা দুজনেই আপাতত ছেলেটার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে / তারপর বস টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন , অর্থাৎ তোমরা এখন যাও /  সুমি হাত বাড়িয়ে  ফাইলটা হাতে নিল /  দুজনে একই সঙ্গে  রুম থেকে বেরিয়ে এল / 
সুমি এবং কমলিকার টেবিল দুটি পাশাপাশি / সুমি বলল  ফাইলটা আগে আমি দেখি তারপর তুই দেখিস /  কমলিকা মাথা নেড়ে  সম্মতি  জানালো  মুখে বলল দেখ , ভালো করে দেখ / আবার দেখি স প্রেমে পড়ে যাস নে  যেন / সুমি মুখ টিপে হাসল মুখে বলল পাগল ? 

 দুপুর বারোটা নাগাদ    পিয়ন এসে জানালো আপনাদের দু&#039;জনকেই স্যার সালাম জানিয়েছেন / কমলিকা  চেয়ার থেকে  উঠে  দাঁড়িয়ে সুমিকে ইশারায় স্যারের রুমে র দিকে আংগুল দিয়ে ইশারা করল / অর্থাৎ স্যার  ডেকেছেন / দুজনেই   স্যারের বন্ধ দরজার সামনে এসে এক মুহুর্ত দাঁড়ালো , তারপর আঙ্গুলদিয়ে দরজায় দুটো টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল / কমলিকা  স্যারের উল্টোদিকের   চেয়ারে একজন মানুষকে বসে থাকতে দেখলো / দুজনে  ধীরে ধীরে  স্যারের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই স্যার গম্ভীর গলায় বললেন , এই হচ্ছে  ইশতিয়াক সুমন / আজ থেকে তোমরা  উনার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে উনাকে কাজে সহযোগিতা করবে / কমলিকা ইশতিয়াক সুমনের দিকে চোখ তুলে তাকালো /   তাকিয়েই চমকে উঠলো /  আরে  এ তো সেই ছেলে  যার সাথে সকালে লিফটে দেখা হয়েছিল / যার জন্য এখনো মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে /এবার কমলিকা ভালো করে মানুষটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো /  লোকটা কাল প্যান্টের সাথে হালকা আকাশী এবং কালো কালারের চেক শার্ট পড়েছে / সঙ্গে মেজেন্টা এবং  কালো র মিশ্রণের   টাই /  বেশ মানিয়েছে ড্রেস টাতে / ভদ্রলোক মুখ তুলে তাকালেন ওদের দুজনের দিকে /  মুখে বললেন ,  কেমন আছেন আপনারা ?  স্যার আবার মুখ  খুললেন  দুজনে মিলে আজকে উনাকে  অফিসের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দাও / আমাদের অফিসের সিস্টেমগুলো উনাকে বুঝিয়ে দাও / ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে উনার  ব্যবহারের জন্য গাড়ি এবং ড্রাইভার  রিকুইজিশন দিয়ে দাও / তারপর  আগামীকাল থেকে কাজে নেমে পড় / আর হ্যাঁ ভালো কথা আমাদের জি এম সাহেবের পাশের যে রুমটা খালি পড়ে আছে সেখানে ওনার  বসার ব্যবস্থা করো / পিয়ন  অলি কে  চেক করে দেখতে  বল ওই রুমের ইন্টারকম টেলিফোন লাইন  কম্পিউটার সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছে কিনা /  কোথাও সমস্যা থাকলে  সমস্যাগুলো  Fix করে দাও / কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করে  পুরনো  ডেটা সব  মুছে ফেলো / যদি ওই কম্পিউটারে কোন প্রয়োজনীয় ফাইল থেকে থাকে তবে  তা Lan  এ রেখে দাও / ওকে ?  এরপর ইশতিয়াক সুমন  সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন  গো আহেড , আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আমাদের এই নতুন প্রজেক্টর ভবিষ্যৎ অনেকটা আপনার কর্ম দক্ষতার উপরে ই নির্ভর করবে /

আমরা আমাদের এই সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া স্যার কে নিয়ে বেরিয়ে এলাম / স্যার বললেন  চলুন আমার রুমে গিয়ে   বসি এবং  এক কাপ কফি খেতে খেতে  আপনাদের সাথে পরিচিত হই / কমলিকা মনের ভেতরে একটু হাসলো কিন্তু  মুখের চেহারায় তার কোন ছাপ ধরা পড়ল না / মনে মনে বলল পরিচিত হওয়া না  ছাই /  এই সুযোগে একটু গল্পগুজব করার ফন্দি / নতুন এসেই এই অবস্থা / বাছাধন তুমি রং নাম্বারে  ডায়াল করছো / 

ঝকঝকে তকতকে  গোছানো রুম / আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক করা আছে /  স্যার চেয়ারে বসলেন এবং আমাদেরকে ইশারায় বসতে বললেন  / তারপর একজন দক্ষ স্কুল শিক্ষকের মত বলতে শুরু করলেন  আমি অস্ট্রেলিয়াতে আমার পড়ালেখা শেষ করার পর এই কোম্পানির হেড অফিসে জয়েন করেছিলাম / সেখানে প্রায় তিন বছর কাজ করেছি /  আপনারা তো নিশ্চয়ই জানেন আমাদের কোম্পানির কিছু Life  saving drug আছে  ইঞ্জেকশন ফরমেটে , যা আমরা আমাদের হেড অফিসে অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়াতে প্রোডাকশন করতাম  এবং ওই  ড্রাগ গুলো বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে  মার্কেটিং করতাম / ওষুধগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং বাংলাদেশে এর চাহিদা ও প্রচুর / কিন্তু ওষুধগুলো ইমপোর্ট করে আনার ফলে  আমাদের কষ্ট অনেক বেড়ে যায় / ফলে আমরা বাংলাদেশ আমাদের সেলস টার্গেট ফুলফিল করতে পারিনা / তাই ম্যানেজমেন্ট  ডিসিশন  নিয়েছে ওষুধগুলো এখন থেকে আমরা বাংলাদেশেই  প্রোডাকশন  করব / সুতরাং বুঝতেই তো পারছেন ওষুধগুলো এখানে প্রোডাকশন করলে  আমাদের সেলস টার্গেট আরো বাড়াতে হবে /  এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা আমার অত্যন্ত প্রয়োজন / আশা করি সেই সহযোগিতা আমি আপনাদের নিকট হতে পাব / আর একটা বিশেষ ইনফর্মেশন , দুটো জিনিস মাথায় রাখবেন অফিসে  লেট করে আসা  এবং ঘনঘন ছুটি নেওয়া দুটোই আমার খুবই অপছন্দের / প্রোডাকশন এর জন্য মেশিনারিজ ইমপোর্ট করতে হবে / মেশিনারিজ গুলো আসবে জাপান থেকে  শিপমেন্ট হবে জাপানের ওসাকা বন্দর থেকে /   চট্টগ্রাম   সি  পোর্ট হয়ে আমরা আইসিটি কমলাপুর থেকে মালগুলো  খালাস করব / একটা ফাইল আমি আপনাদের দেবো যেখানে সব তথ্য এবং কাগজপত্র থাকবে / কোনো কাজেই যেন ভুল না হয় একজনে কাজ করবেন আবার আরেকজনের সেটা   রি চেক করবেন /ঠিক আছে ? আপাতত আপনারা আপনাদের কাজ করুন প্রয়োজনে আমি আপনাদের আবার ডাকবো /

আমরা  দুজনে রুম থেকে বেরিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম /  সুমি মুখে ওড়না গুঁজে দিয়ে হাসতে হাসতে আমার উপর গড়িয়ে পরল /  এই হচ্ছে পরিচিত  হওয়ার নমুনা ?  এ তো দেখি    পাচ মাত্রার  একটা রোবট /  কমলিকা নিজের চেয়ারে এসে পিয়ন অলি কে  ডাকলো ,  এক কাপ  কডা করে কফি দিতে বলল  / নাহ স্যারের লেকচার শুনতে শুনতে মাথা ধরে গেছে / মনে মনে ভাবতে লাগলো , মোটেই মিলছে না ব্যাটা  খুব উচ্চমাত্রার চতুর লোক / নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছে / দুদিন পরে ই   থলের  বিড়াল বেরিয়ে আসবে / কমলিকা কম্পিউটারে বসে গেম খেলতে শুরু করলো এবং  মনে মনে অপেক্ষা করতে থাকলো কিছুক্ষণ পরেই   স্যার হয়তো  আবার ডাকবে /  কিন্তু স্যার সারাদিনে আর কাউকে ডাকলেন না /  লাঞ্চের পরে তিনটার দিকে কমলিকা একটা ফাইল নিয়ে স্যারের রুমে  প্রবেশ করলো ,  স্যার কমলিকাকে দেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে বললেন , বসুন প্লিজ , এনি প্রবলেম ?  কমলিকা হেসে বলল নো স্যার , এইটা হচ্ছে সারা বাংলাদেশে আমাদের সেলস এজেন্ট দের নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার এর ফাইল /  ভাবলাম আপনার প্রয়োজন হতে পারে তাই  নিয়ে এলাম  /  স্যার ফাইলটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে  দেখলেন / তারপর ফাইলটা ফেরত দিয়ে বললেন , এটা আপনার কাছেই রাখুন প্রয়োজন হলে আমি আপনার কাছ থেকে ফাইল্টা চেয়ে নেব / কমলিকা মনের ভেতর একটা অস্বস্তি নিয়ে স্যারের রুম থেকে বেরিয়ে এলো /   আচ্ছা স্যার কে কি একটু বিরক্ত মনে হল ?  সুমির  টেবিলের সামনে আসতেই  সুমি হেসে প্রশ্ন করল কিরে স্কুল টিচার টা কি আবার কোন লেকচার দিল ?  কমলিকার মেজাজ এমনিতেই হাই হয়েছিল / মুখে একটা ঝাঁজ নিয়ে বলল জানিনা তুই  দেখে আয় /
সকালে ঘুম থেকে উঠে কমলিকা দিনের প্রথম কাজ গোসল সেরে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে  বসল /  একটা মাল্টিন্যাশনাল ওষুধ কোম্পানির হেড অফিসে কমলিকার কর্মস্থল / এখানে এমপ্লয়ীদের ড্রেস পড়ার ব্যাপারে কোনরকম রেস্ট্রিকশন নেই /  যে কেউ যেকোনো ধরনের  ড্রেস ই পড়তে পারে /টি-শার্ট থেকে শুরু করে  শাড়ি , কোন সমস্যা নেই / হ্যান্ডসাম  একটা সালারি  ড্র করে  কমলিকা /  বাবা  মার একমাত্র আদরের সন্তান /  বাবা উচ্চপদস্থ  সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন / উত্তরায়  পাচ কাঠা জমির উপর ছয়তলা  ফ্ল্যাট বাড়ি / ধানমন্ডিতে দুই  হাজার আটশত  স্কয়ার  ফুটের ফ্ল্যাট ,পূর্বাচলে  প্লট মোটকথা বেশ রমরমা অবস্থা সোবহান চৌধুরী অর্থাৎ কমলিকার বাবার / কমলিকা যে বেতন পায় তার অর্ধেক ই তার ড্রেস কসমেটিকস এসবেই চলে যায় /বিশেষ করে  লিপিস্টিক এর ব্যাপারে তার এক ধরনের ফ্যাসিনেশন আছে / লিপস্টিকের একটা বড় কালেকশন আছে তার / তার এই কালেকশন এর মধ্যে বিভিন্ন  ব্র্যান্ড যেমন Lancom ,ST Loider এগুলো ও আছে তার কালেকশনে / কমলিকা অনেকটা সময় নিয়া ধীরে ধীরে নিজেকে  সাজালো /  সায়ান কালারের জমিনে সাদা  আঁচলের কম্বিনেশনের একটা শাড়ী পরল  সঙ্গে   সাদা রংয়ের ব্লাউজ / ঠোঁটে কনট্রাস্ট কালার লাল , ( সায়ানের বিপরীত কালার লাল ) রংয়ের লিপিস্টিক দিল / আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেই নিজের প্রেমে পড়ে গেল / মুখ টিপে হাসল /  মনে মনে বলল ঋষির  ধ্যান ভাঙতেই হবে / কমলিকা ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইংলিশে মাস্টার্স করা /  ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সময় অনেক ছেলেই কাছে ঘেষতে চাইছে , কিন্তু কাকেও তেমন মনে ধরে নাই / সবাই কেমন যেন ব্যক্তিত্বহীন / তোষামুদে  ব্যস্ত / তারপরেও দুই বছরের সিনিয়র   এক  তুখোড় ছাত্রনেতাকে তার ভালো লাগতো / টিএসসি তে বসে  2/1 দিন গল্প ও করেছে , কিন্তু যেদিন দেখল সেই ছেলেটা   তারই ডিপার্টমেন্টের  টিচার কে  হকি স্টিক দিয়ে পেটাচ্ছে  তখন তার মনটা ঘৃণায় ভরে গেল ,   ছেলেটা কি মানুষ  না জানোয়ার ?  নিজের  শিক্ষকের গায়ে কেউ হাত তুলে ? মা  দুপুরের লাঞ্চের বক্সটা হাতে নিয়ে মেয়ের পেছনে এসে  দাঁড়ালেন /  আয়নাতে  মেয়ের দিকে চোখ পড়তেই বললেন  একেবারে ডানা কাটা পরীর মত লাগছে তোকে / এত সাজগোজ করছিস  যে ? কোথাও যাবি নাকি ? কমলিকা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে হাসল বলল ওই যে তুমি বললে না ডানা কাটা পরি ?  সেই পরীর পাখা  গজাচ্ছে মা / মা বললেন শোন তোর বাবা আজকে তোকে একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে চলে আসতে বলেছে /  বাসায় সন্ধ্যায়  মেহমান আসবে / কমলিকা একটা রহস্যের গন্ধ পেল /   সরু চোখে  তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল ,  মেহমান মানে ?  কিসের মেহমান ? না মানে ওই যে তোর বড় চাচা তোর জন্য একটা  সম্বন্ধ এনেছে / ছেলে আমেরিকায় থাকে /   ভালো চাকরি করে /  অনেক টাকা পয়সার মালিক / ওরা সন্ধ্যার পর আসবে তোকে দেখতে /  একটু তাড়াতাড়ি চলে আসিস মা / আমেরিকাতে থাকে ? কমলিকা নাক সিটকালো / মনে মনে ভাবল ,তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে অশিক্ষিত ছেলে /  ইন্টারমিডিয়েট ডিগ্রী পাস করে  নানা রকম  ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে একটা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছে /  তারপর কাগজপত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত নানা ধরনের  odd job করেছ ,  ট্যাক্সি ক্যাব চালিয়েছে /  এখন আমেরিকার পাসপোর্টে পেয়ে এসেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইংলিশে মাস্টার্স করা একটা মেয়েকে বিয়ে করতে / শখ কত ? কমলিকা বলল  মা আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি চললাম /
ড্রাইভার সোলাইমান কে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল  কমলিকা / সোলায়মান সালাম  দিয়ে বলল  , ভালো আছেন আফা ? কমলিকা গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই সোলায়মান  দরজাটা মেলে ধরল / কমলিকা এক পা গাড়ির ভেতরে দিয়ে ঘুরে  দাঁড়িয়ে বলল সোলেমান এখন সকাল  নয় টা, দশটায় আমার অফিস শুরু / আমি জানিনা তুই কেমনে করবি ?  তোকে দশটা বাজার 10 মিনিট আগে আমাকে আমার অফিসে পৌঁছে দিতে হবে /  দরকার হলে উড়ে যাবি /  সোলেমানের হাসিটা কান পর্যন্ত বিস্তৃত হল / এটা একটা ঘটনা হইল আপা ?  কোন চিন্তা নাই / আমি যখন  আপা কুয়েতে চাকরি করছি ………… ? এই কথা কম কাজ বেশি  তুই গাড়ি চালা /    কমলিকা যখন গাড়ি থেকে নামল তখন দশটা বাজতে আরো পাঁচ মিনিট বাকি /  লিফটে যদি আরো দুই  মিনিট লাগে তা হলেও তিন মিনিট  আগেই কমলিকা অফিসে পৌঁছাতে পারবে / কমলিকা অফিসে ঢুকে দেখল একমাত্র পিয়ন অলি এবং তাদের  গতকাল ভূমিষ্ঠ হওয়া  স্যার ছাড়া  আর কেউ তখনও অফিসে আসেনি /  কমলিকা পিয়ন  অলি কে কফি মেশিনে দুই কাপ কফি বানাতে বলল তারপর সেই কফি নিয়ে বসের রুমে ঢুকলো / গুড মর্নিং স্যার /  কেমন আছেন ?  কফি দেখে ইফতেখার সাহেব খুশি   হয়ে বললেন  গুড গুড ভেরি গুড /  এই মুহূর্তে মনে মনে কফির কথাই ভাবছিলাম / কেন স্যার ? ভাবি সকালে কফি খাইয়ে দেয় নি ?  হা  হা করে হাসলেন   ইফতেখার সাহেব / ভাবি পেলেন কোথায় ?  আমার  তো ওই বুড়ো মা ছাড়া আর কেউ নেই / কথাটা শুনে কমলিকা মুখ টিপে হাসতে লাগলো /  মনের ভিতর কোথায় যেন  বাঁশি বাজতে লাগল / সারাদিন প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে কাটলো সুমি ও কমলিকার /  ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি নানা ধরনের কাগজপত্র রেডি এসব করতেই কখন যে দিনটা পার হয়ে গেল বোঝাই গেল না /  বিকেল চারটার দিকে ইফতেখার সাহেব অফিস থেকে  বেরিয়ে গেলেন / যাওয়ার আগে বলে গেলেন আমি আজকে আর ফিরবো না  /  যদি আপনাদের হাতে কোন কাজ না থাকে তবে আপনারাও চলে যেতে পারেন /  হঠাৎ  কমলিকার মনে হল   মা আজকে  একটু তাড়াতাড়ি যেতে বলেছেন / কমলিকা ও অফিস থেকে বেরিয়ে গেল / 

বাসায় যেয়ে কমলিকা দেখল তার  চাচা চাচি দুজনেই এসেছেন / চাচা  কমলিকাকে  দেখে হাহা করে উঠলেন  বললেন আয় মা আমার কাছে একটু  বস  / তোকে অনেকদিন দেখিনা /  চাচি  কমলিকার হাত ধরে বললেন না আগে তুমি বাথরুমে যাও ফ্রেশ হও তারপর আসো , একসঙ্গে  চা খাব / 
সন্ধ্যার পর মেহমানরা  এলেন /ছেলে নিজে এসেছে সঙ্গে তার মা ও এক মামা / চাচি কমলিকার হাত ধরে বললেন তুমি রেডি হও / কমলিকা নিজের রুমে  ঢুকে বাথরুম থেকে হাত মুখ ধুয়ে রেডি হতে  বসল / কাপড়চোপড় পরে যখন ঠোঁটে হালকা করে লিবিসটিক  ঘসছিল তখন চাচি এসে পিঠে  হাত রাখলেন /  হাত রেখেই চাচি চমকে উঠলেন /  কি ব্যাপার তুমি কাঁপছো কেন ? চাচি আমার ভয় করছে /  কি যে বল তোমরা আধুনিক শিক্ষিত মেয়ে /  তোমরা  এমন কথা বললে মানায় ? না মানে  এতগুলো মানুষের সামনে কোরবানির গরুর মত দাঁড়িয়ে থাকবো আর সবাই মিলে আমাকে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখবে , চাচি  আমার গা  ঘিনঘিন করছে  / পাগল মেয়ে / চাচি হাসলেন /
 যখন কমলিকাকে মেহমানদের সামনে নিয়ে বসানো হলো তখন কমলিকা রীতিমতো ঘেমে অস্থির / শরীরের ভেতরটা ভেজা ঘামে  চপ চপ করছে / ছেলের মা কমলিকাকে দেখে পাশে এসে ঘোমটাটা একটু তুলে দেখলেন /  তারপর বললেন  আর কারো কোন কথা বলা লাগবে না /মেয়ে  আমার  পছন্দ হয়েছে   এই মেয়েই আমার ছেলের বউ হবে / কমলিকা আড়চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখল /  যেহেতু ছেলেটা  আমেরিকাতে থাকে তাই চেহারা এবং  ড্রেস আপ  এ একটা চকচকে ভাব আছে /  তবে মাথায় চুল  একটু কম  এবং মনে হয় সামান্য একটু    ভূড়ি ও আছে / বয়স   নেহায়েৎ কম  না / ত্রিশের এর উপরেই হবে / চাচা হাহা করে গর্বের একটা হাসি দিয়ে  বললেন আমি জানি আমার মেয়েকে পছন্দ না হওয়ার কিছু নেই তার পরেও আর কেউ কি কিছু বলবেন ?  ছেলেটা কিছুক্ষণ ইতস্তত করে তার মামার কানে কানে কি যেন বললেন /  মামা একটু হাত কচলিয়ে বললেন যদি আপনাদের আপত্তি না থাকে তবে ছেলে মেয়ের সাথে  দুই মিনিট একান্তে কথা বলতে  চায় / চাচা উঠে বাবার সাথে নিচু স্বরে কিছুক্ষণ কথা বললেন তারপর  ঘোষণা দিলেন  এতে তাদের কোন আপত্তি নেই / আমাকে বললেন তুই তোর  ঘরে যা মা /  চাচি আমাকে হাত ধরে  আমার ঘরে নিয়ে  এসে খাটের এক কোনে বসিয়ে দিলেন / তারপর  মুচকি হেসে বললেন ভয় পেয়ো না , তোমার ও যদি  ছেলে সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তবে তা তুমিও জেনে নিও /  চাচি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন / কিছুক্ষণ পর ছেলেটা ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন /  একটু  ইতস্ত করে  বললেন আমি কি ভেতরে আসতে পারি ? আমি অস্ফুট  স্বরে বললাম  আসুন /  ছেলেটা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকে  খাটের আরেক কোনায় বসলো / কিছুক্ষণ  মাথা নিচু করে বসে থাকল /  তারপর মাথাটাকে উঠিয়ে সমস্ত ঘরে চোখ বোলালো /  আমার ওয়ারড্রবের উপর রাখা হোম থিয়েটার  এর দিকে দৃষ্টি পড়তেই দৃষ্টিটা স্থির হয়ে গেল গভীরভাবে  তাকিয়ে থাকল  কিছুক্ষণ / এরপর আবার মাথা নিচু করেই  প্রশ্ন করল আপনি কি গান শুনতে খুব পছন্দ করেন ?  আমি বললাম হ্যাঁ  শুনি মাঝে মাঝে /  কি ধরনের গান শোনেন ?  আমি একটু ইতস্তত করে বললাম  রবীন্দ্র সংগীত /  এবার ছেলেটি   জড়তা কাটিয়ে হেসে বলল , আমারও রবীন্দ্র সংগীত খুব পছন্দ / এরপর ছেলেটা আবার কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো তারপর আস্তে আস্তে আবার বলতে শুরু করল /  আমি  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে  অনার্স করে প্রায় বছরখানেক চাকরির  চেষ্টা করেছি কিন্তু চাকরি না পেয়ে আমি  আমেরিকার একটা  ভিসা জোগাড় করে আমেরিকা চলে যাই /  সেখানে অবশ্য প্রথম প্রথম আমাকে বেশ কিছুদিন  Odd Job করতে হয় / ট্যাক্সিক্যাব চালাই /  ওটাই ইললিগাল লোকদের জন্য নিরাপদ একটা  জব / গ্রিন কার্ড পেতে  আমার প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায় /  এরপর কাগজপত্র ঠিক হয়ে গেলে  ইলেকট্রনিক্স এর উপর একটা দুই বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা  করি /  এখন সিলিকন ভ্যালিতে একটা জব করছি / একটু থামলেন  লোকটা , তারপর আবার বলতে শুরু করলেন ,  মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে / সুন্দর মেহেদি পরা দুটি হাত খুজতে  দেশে এসেছি / আমার সমস্ত দায়িত্ব  তার  হাতে দিয়ে  নিজে একটু অবসর নিতে   চাচ্ছি /  আপনি কি নেবেন সেই  দায়িত্বটা ? কমলিকার তার  স্যারের মুখটা  মনের ভেতর ভেসে উঠলো মনে হল যেন  তার স্যার তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন কমলিকা কি বলে তা শোনার জন্য / কমলিকা বলল আমাকে একটু সময় দিন আমি ভেবে দেখি /  ছেলেটা আবার বলল ঠিক আছে আপনি সময় নিন তবে আপনার উত্তরের জন্য আমি অপেক্ষা করবো /  বলেই ছেলেটা মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল / 
 কমলিকা র দিন ভালোই যাচ্ছিল / সারাদিনই  অফিসে কাজ নিয়ে ব্যস্ত / ঘনঘন ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি / মাঝে মাঝে   স্যার ও তাদের সঙ্গে ব্যাংকে  যাচ্ছেন /  সেদিন ব্যাংকে কাজ করতে করতে লাঞ্চের সময় হয়ে গেল /  স্যার  কমলিকাকে জিজ্ঞেস করলেন বলুন কি খাবেন দুপুরে ? কমলিকা হাসলো বলল আপনার ইচ্ছা ,  যা খাওয়াবেন তাই খাব /  যা খাওয়াবো  তাই খাবেন ঠিকই , কিন্তু পরে বাসায় গিয়ে মার কাছে বদনাম করবেন   জানো মা আমাদের  স্যার টা যা কিপটা না ?  বলেই  হেসে   গড়িয়ে পড়বেন /  স্যার কমলিকাকে নিয়ে একটা চাইনিজে ঢুকে পড়লেন / কিন্তু চাইনিজে ঢুকেও স্যারের মুখে শুধু  এলসি ,  ব্যাংক ,  মেশিনারিজ ,  মার্কেটিং  শুধু এই আলাপ / কমলিকা  মনে মনে ভাবল  এর মাথায় অফিস নামক একটা  পোকা জন্ম নিয়েছে /  একে ডাক্তার দেখানো দরকার / 
বিকেলে সবাই একে একে বেরিয়ে গেল / একসময়   স্যার ও  বেরিয়ে গেলেন / যাওয়ার সময় কমলিকা এবং  সুমি র দিকে   তাকিয়ে  মাথা  ঝাঁকালেন / স্যার চলে যেতে কমলিকা গুনগুন করে গাইতে লাগলো শ্যামল মিত্রের সেই বিখ্যাত গানটি   “ তুমি কি এমনি করে থাকবে দূরে “ সুমি গান শুনে প্রশ্ন করল কিরে প্রেমে  ট্রেমে পড়ে গেলি নাকি ? গান গাইছিস যে ?  কমলিকা উত্তর দিল আমার পাখা  গজাচ্ছে / 
কমলিকা ফর্টিন   তলা থেকে লিফটে নেমে গাড়ি  বারান্দায় এসে দাঁড়ালো  ড্রাইভার সোলায়মানকে ফোনে  বলল গাড়ি নিয়ে আসতে /  হঠাৎ করেই তার  দৃষ্টি গেল রাস্তার উল্টোদিকে / শাড়ি পড়া একটা মেয়ে র  দিকে /   মেয়েটি  একগুচ্ছ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে / স্যার রাস্তা পার হয়ে সেই মেয়েটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন /   মেয়েটি ফুলগুলো   স্যারের  হাতে দিলেন /  স্যার ফুলগুলো ডান হাতে নিয়ে বাম হাতে রাখলেন তারপর ডান হাত দিয়ে মেয়েটির হাত ধরে মেয়েটিকে কি যেন বলতে  লাগলেন / মেয়েটিও ঝলমলিয়া কি যেন বলছিল /  দুজনে হাসছিলেন /  এরপর দুজনেই হাত ধরে হাসতে হাসতে পাশেই  একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে গেলেন /  যতক্ষণ দৃষ্টিতে দেখা গেল ততক্ষণ কমলিকা  তাকিয়ে রইল / চোখের দৃষ্টি  টা  কেমন যেন একটু ঝাপসা হয়ে গেল /  মনটা কেমন যেন এক ধরনের বিষন্নতায় ভরে গেল /অনেকক্ষণ  সেই বন্ধ রেস্টুরেন্টের  দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো /  তার পর ধীরে ধীরে পা  ফেলে গাড়িতে উঠে বসলো /   গাড়ি চলতে শুরু করলো /  কি মনে হতেই কমলিকা তার ব্যাগে হাত দিয়ে দুটো 500 টাকার নোট বের করে ড্রাইভার সোলায়মানকে বলল এই টাকাটা   রাখ /  ড্রাইভার বলল গাড়িতে  গ্যাস তো আছে / আরে গাধা  এটা গ্যাসের টাকা না , তুই এই টাকা দিয়ে আজকে তোর বউয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনে নিয়ে যাবি /  খবরদার আমার কথা বলবি না তুই বলবি  এই শাড়ি তুই নিজেই  কিনেছিস /  তাইলে তো  আফা  একটা ভেজাল লাইগ্যা যাইবো /  আমার বউ মনে করব নিশ্চয়ই আমি আজকে জুয়া খেলে  জিতেছি তাই শাড়ি কিনে আনছি /  আমার বউ এই শাড়ি  ডে ল  মাইরা ফালাইয়া দিব /  তোর বউ যেহেতু পছন্দ করেনা তাহলে তুই জুয়া  খেলিস কেন ? মনে রাখিস , ভালোবাসার মানুষকে কখনোই অবহেলা করতে নেই / সত্যি কারের ভালোবাসা একটা মানুষের ভিতর একবারই জন্ম নেয় / যারা এই ভালোবাসাকে অবহেলা করে তারা নিতান্তই হতভাগ্য / কি যে কন আফা মাঝে মাঝে একটু আমোদ ফুর্তি র দরকার আছে না ?  কমলিকা টিস্যু বক্স থেকে  টিস্যু নিয়ে  ঝাপসা হয়ে যাওয়া চোখ দুটো পরিষ্কার করে আবার বলল আচ্ছা ঠিক আছে তোর যা ইচ্ছা তুই তাই বলিস তবে  শাড়ি কিনে নিয়ে যাবি কিন্তু / 
কমলিকা বাসায় ঢুকেই বাথরুমে ঢুকে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলো /  খুব ভালো করে নিজেকে  পরিষ্কার করল / মনের ভিতরের সমস্ত রাগ হিংসা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলতে চাইলো /  হালকা নীল রঙের  টাঙ্গাইলের একটা তাঁতের শাড়ি পরল /  ঠোঁটে  স্কিন কালারের  লিপস্টিক দিল /  তারপর মায়ের সামনে এসে মাকে বলল মা দু&#039;কাপ চা বানাও আমি তোমার সাথে বসে চা খাব / রহিমার মা দুকাপ চা এনে টেবিলে রেখে গেল /  মা এসে কমলিকার উল্টো দিকের চেয়ারে  বসলেন /  তারপর একটা  কাপ কমলিকা র দিকে এগিয়ে দিলেন /  মা তুমি আমার পাশে এসে বসো /  মা হেসে বললেন  পাগল মেয়ে /  তারপর  হাসতে হাসতে কমলিকার পাশে এসে বসলেন / কমলিকা পরপর দুইবার চায়ে চুমুক দিয়ে মাথা নিচু করে  বলল ,   মা  আমি ঠিক করেছি চাকরিটা আমি আর করব না / কাল থেকে আর অফিসে যাব না / আর আমি রাজি মা  তোমরা  আমার বিয়ের আয়োজন কর /  বলেই  মার বুকে  মুখটা গুঁজে দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো /  মায়ের মুখের হাসিটা আরো বড় হল /  তিনি জানেন সব মেয়ে ই  বিয়ের কথা শুনে কাঁদে /  এটা তার সুখের কান্না ///</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/8640/</link>
				<pubDate>Thu, 22 Apr 2021 13:44:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গল্পের নাম :মনের জানালা<br />
লেখক       :শাহাদাত হোসেন</p>
<p>কমলিকা গাড়ি থেকে নেমেই হাতের কব্জিটা উল্টিয়ে ঘড়ি দেখল / অলরেডি পাঁচ মিনিট লেট /<br />
অফিসে ঢুকলেই ডিরেক্টর স্যারের অন্ধকার মুখটা দেখতে হবে /এমনিতেই কালো বান্দরের মত চেহারা তারপর যদি রেগে  মুখটা অন্ধকার করে রাখে তবে কেমন লাগে ? অফিসের সবাই আড়ালে এই স্যার কে  বাঘ বলে ডাকে / এর বউ যে ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-8640"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/8640/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>