-
চিঠি এবং ডাকপিয়ন
মৃত্যু যেন সুপক্ব এক রাজকীয় ফল,
পুরোনো ডাল ছিঁড়ে নতুন জীবনে হাঁটার জল।
সে তো আসে ডাকপিয়নের নিঃশব্দ এক ডাকে,
অদৃশ্য সেই বার্তা বাহক থামে কার না কার বাঁকে!
কার ডাকপিয়ন? কার হুকুম? প্রশ্ন তোলার নেই সুযোগ,
যার নামেতে অচিন চিঠি, তার ঘরেই তো মহা দুর্যোগ।
সে জিজ্ঞেস করে না কভু—”প্রস্তুত কি আছো ভাই?”…Read More4 Comments -
শূন্য পাত্রের গান
চেয়েছিলাম খাসমহল, দেওয়ালঘেরা ঘর,
তুমি বললে, “ইটের খাঁচায় কাটবে জীবনভর!”
চেয়েছিলাম একটা সঙ্গী, শুধুই আমার হবে,
সে-ও বলল, “আমায় রাখা কি তোমার সাধ্যে সইবে?”দেওয়াল ভাঙল, সঙ্গী হাঁটল উল্টো পথের টানে,
হাত দুটো তাই শূন্য হলো নিঝুম নদীর গানে।
খালি থালায় বাতাস বাজে, পকেটে নেই আনা,
হঠাৎ দেখি ডানা মেলেছে নীল আকাশের ডানা!
যা…Read More2 Comments -
1 Comment
-
লাল পাপোশের চার সৈন্য
আমাদের বারান্দার এক কোণে একটা পুরোনো লাল পাপোশ পড়ে থাকত। দিনকয়েক আগে একদিন সকালে উঠে দেখি, সেখানে দুটি অতি ক্ষুদ্র মাংসের দলা কুঁকড়ে বসে আছে। বিড়ালের দুটি ছানা। চোখ দুটিও ফোটেনি ভালো করে। বাড়ির গিন্নি দেখেই আঁতকে উঠলেন—”ওমা! এদের এখানে এনে রাখল কে? বাকি দুটো নিশ্চিত কোনো ছাদে রেখে এসেছে।”
আমাদের বাঁধাধরা হিসাব…Read More
4 Comments -
Syed Farah and
প্রান্ত কুমার (শুভ) are now friends
-
Syed Farah and
প্রিন্স হাওলাদার are now friends
-
Syed Farah and
মুহাম্মদ জে.এইচ রপ্পি are now friends
-
একটি চারাগাছ ও মহীরুহের গল্প
১৯৮৯ সাল।
গাঁয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়টার কাঁচা মাটির শ্রেণিকক্ষ। সকালের রোদে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছোট ছোট পুতুলগুলোর হইচই, আর দুপুরের পর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভিড়। গাদাগাদি করে বসা কতগুলো মুখ—কারো চোখে কৌতূহল, কারো চোখে প্রচ্ছন্ন ভয়। শিশুরা যখন পড়া পারে না, তাদের মিষ্টি মুখগুলো কেমন যেন কাচু…Read More8 Comments -
পলিমাটির সুর
নদীর নাম মধুমতী। বেলা শেষের হেলানো রোদ যখন পলিমাটির চরে এসে মেখে যায়, তখন পুরো নদীঘাট যেন গলানো সোনার পাত্রে উপচে পড়ে। জল আর মাটির এই মোহনায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, কোনো অদৃশ্য শিল্পী ক্যানভাসজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন মহাকালের আবীর। সেই ঘাটের প্রাচীন বটবৃক্ষটি যেন এক নীরব সাক্ষী—যার শেকড়ে মাটির গল্প আর ডালে ডালে বাতাসের গুঞ্জন। তার ছা…Read More
5 Comments-
মধুমতীর নদীর পাড়ের এই চমৎকার দৃশ্যকল্পটি ভীষণ ভালো লেগেছে, বিশেষ করে “মাথায় তাঁর সময়ের শুভ্র স্বাক্ষর” বাক্যটি পাঠকদের মনের মণিকোঠায় অনেকদিন গেঁথে থাকবে। মানুষ হওয়ার সীমাবদ্ধতা ও তৃপ্তির এই গভীর ভাবনাগুলো আপনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আপনার লেখনীতে যে গভীর শান্তি ও প্রজ্ঞা ফুটে উঠেছে, তা ধরে রেখে আ…Read More
-
Syed Farah and
সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম are now friends
-
Syed Farah and
মোস্তফা কামাল সাকি are now friends
-
Syed Farah and
Tanvir Hosen are now friends
-
একটি কুঁড়ির মহাপ্রস্থান
পাহাড়ঘেরা কোটবাড়িতে
মিষ্টি রোদের ছায়া,
মায়ের কোলজুড়ে ফুটে ছিল
এক ফালি দূরন্ত মায়া।
নামটি তাহার ‘অপ্রতিম’—
যার কোনো তুলনা নেই,
মেধার আলোয় হাসত সে রোজ
স্নিগ্ধ ভোরের পাখির মতোই।
একটিমাত্র মুঠোফোনে
ছবি তোলার স্বপ্ন নিয়ে,
পাখিটি তার মেলল ডানা
ঘরের বাঁধন আলগা করে।
পাহাড়তলীর গহিন বনে
ওত পেতেছি…Read More4 Comments -
Syed Farah and
মোঃ রাকিমুন ইসলাম রাকিব are now friends
-
মৃৎপাত্র ও মহাকালের ছায়া
বুকের গহীনে এক নিভৃত নগর—
মন যেখানে আঁকে নিঃশব্দ প্রহর।
ভালোবাসা সেখানে এক সুরঞ্জিত নদী,
হৃদয়ের সুপ্ত দীপ্তি জাগে যদি,
তবে সেই স্রোতে ধুয়ে যায় ক্ষয়ের শৃঙ্খল,
মানুষ তো কেবলই এক মাটি দিয়ে গড়া পাত্র নয়।
রণ-পায়ে নেমে আসে তৃষ্ণার্ত চিল—
কাঞ্চনের মোহ, ভোগবিলাসের দীর্ঘ জিল।
লক্ষ্মী কি তবে কেবলি সোনা ও মুদ্রার চাও…Read More8 Comments -
যেখানে কোনো পতাকা নেই
আঁধার তখন ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে চটের ছাউনিটার ওপর। টিনের থালায় এক মুঠো ঠান্ডা ভাত মাখতে মাখতে মেহেরুন হাত দুটো চেপে রাখলেন। ওপাশে বসে থাকা সাত বছরের মেয়েটা অপলক চোখে মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। কতদিন পর ভাত! এই কিছুদিন আগেও তো রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পাওয়া দুই মুঠো চাল কিংবা আটার গন্ধই ছিল মেহেরুনদের আস্ত এক সুখ…Read More
8 Comments -
অনিবার্য অভিসার
ঘর ছেড়েছি কেবল একটিমাত্র নাম জপে,
বাতাসে আজ অদ্ভুত এক সংকেত কাঁপে।
হৃদয় জুড়ে এখন নতুন ভোরের কাঁচা রোদ,
দ্রুত চরণে মেটে যত থমকে থাকার ক্ষোভ।
চোখের তারায় প্রখর আলো, দৃষ্টি গেছে খুলে,
পথের যত ধূসর ধুলা ফুটছে যেন ফুলে।
জমে থাকা হাজার কথা বুকের গহীনে জাগে,
এমন চঞ্চল ব্যাকুলতা কখনো হয়নি আগে।
মনে প্রশ্ন জাগে—তুমি কিভাবে দাঁ…Read More3 Comments -
নিঃশর্ত সমর্পণ
প্রেম শিখেছি বাতাসের কাছে—
স্পর্শে যার কোনো শর্ত থাকে না,
যে এসে জড়িয়ে ধরে নিখিল প্রকৃতিকে,
অথচ কোনোদিন প্রতিদান বা বাঁধন চায় না।
প্রেম শিখেছি আলোর কাছে—
যে নীরবে বিলিয়ে দেয় নিজের সত্তা,
আঁধারকে দূর করে আলোয় ভরিয়ে দেয় কোণ,
যে প্রেমে থাকে কেবলই সত্য ও শুভ্রতা।
প্রেম শিখেছি অফুরন্ত পানির কাছে—
যে নদীর মতো বয়ে চলে সতত…Read More2 Comments -
চির-উন্নত মম শির: ‘বিদ্রোহী’ কবিতার নন্দনতত্ত্ব ও শাশ্বত সাহিত্যমূল্য
ভূমিকা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সাহিত্যকর্ম কেবল কালানুক্রমিক সৃষ্টি হিসেবে টিকে থাকে না; তা হয়ে ওঠে কোনো এক অবরুদ্ধ জাতির মনন-বিপ্লবের দ্রোহদীপ্ত স্মারক। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ঠিক তেমনই এক ধ্রুপদ…Read More -
খোকন সোনা আর চাঁদের বুড়ি
(শিশুতোষ ছড়া)নীল আকাশে তারার মেলা,
চাঁদের বুড়ি কাটায় বেলা।
খোকন সোনা বায়না ধরে—
উড়বে সে যে মেঘের ওপরে!
তুলো মেঘে ভাসিয়ে ডিঙি,
পায়রা নাচে তাথৈ তিঙি।
বাতাস বাজে বাঁশের বাঁশি,
খোকন মুখে মিষ্টি হাসি!
রাত পোহালেই ফুটবে আলো,
মনটা হবে সবার ভালো!3 Comments-
আপনার এই লেখাটিতে চাঁদের বুড়ি আর শিশুর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন যেভাবে ফুটে উঠেছে তা অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাণবন্ত। শব্দের মেলবন্ধনে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতা তৈরি হয়েছে, যা পাঠকমাত্রকেই এক শান্ত ও সুন্দর অনুভূতির জগতে নিয়ে যায়। আপনার এই কল্পনাপ্রবণ ও সুন্দর লেখাগুলো নিয়মিত পড়তে পারলে আমাদের সকলেরই অনেক ভালো লাগবে, আপনি নিয়মিত লিখতে থাকুন।
- Load More Posts
Friends
শায়লা এ্যামিন
@shaylaaemin945gmail-com
সুবহা জাহান
@subhajahan
Anika
@anikaa
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
মো মবিনুল ইসলাম সিয়াম
@mobinulislam
Khusi Moni
@khusimoni
Sharika Khatun
@sharika6924gmail-com
নূরুল আমিন সোহাগ
@aniketprantor
মো বুলবুল আহমেদ
@bulbul112026







Syed Farah, মৃত্যুর মতো গূঢ় ও কঠিন বিষয়কে ডাকপিয়নের আগমনের সাথে মিলিয়ে আপনি এক অদ্ভুত সুন্দর ও গভীর অনুভূতির চিত্র এঁকেছেন। ছন্দের তালে জীবনের নশ্বরতা আর সৎ কর্মের গুরুত্বের বিষয়টি পড়ার সময় আমার মনে এক ধরনের শান্ত ভাব জেগেছে। আপনার এই সহজ অথচ চমৎকার লেখনী নিয়মিত প্রকাশ করতে থাকুন, আমরা আপনার পরবর্তী লেখাগুলোর অপেক্ষায় রইলাম।