• বিরহ উৎসব
    – আহমেদ আরভিন

    আমি রাখিনি তোমায় কাছে,
    একটু দূরে ছুড়ে ফেলা চিঠিগুলোর ভাঁজে।
    জানালা খোলা, বৃষ্টি ততক্ষণে—
    মুহুর্মুহু সাদা মেঘ ঢুকে গেল ঘরে।
    আমি অপেক্ষায়, চিঠিগুলো ভিজছে;
    হেমন্ত-নীল গন্ধ ঘোমটা দিয়ে আছে,
    যেন টুকরো টুকরো চিঠিগুলোর
    মাঝে ছড়িয়ে পড়বে।
    আমি শুধু অপেক্ষায়—
    কবে যে লেখা অক্ষরগুলো মিশে যাবে,
    নিয়মে বাঁধা কবুতর, নগ্ন উড়ে…Read More

  • [“দুঃখমুখী ফুল”]
    —সাব্বির হোসেন।

    আমি বাতায়নপাশে নিঃশব্দে ফুটে থাকা—
    এক দুঃখমুখী ফুল,
    যাঁর প্রতিটি পাপড়িতে জমা হয়ে আছে
    অভিমানের অজস্র ভুল।

    ​হয়তো এই বেলা, নয়তো ওই বেলা—
    আমি ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাই,
    একাকীত্বের অতল গহীনে প্রতিদিন
    নিজেরই ছায়া খুঁজে পাই।

    ​যদি কুঁড়ি অবস্থাতেই আমি ঝরে পড়ি
    এই অবেলার প্রহরে,
    তবে দুঃখকে এক চিলতে বা…Read More

  • ★যত্নের আড়ালে ভাঙন★

    কেউ একজন আমায়
    খুব যত্ন করে ভাঙে,
    আলতো হাতে নরম করে,
    নতুন করে গড়ে।

    এত নিখুঁত তার বুনন-কৌশল,
    যেন কোনো এক দক্ষ কারিগর।

    দেহের ওপর প্রলেপ লাগায়
    মায়াবী হাতে তাঁহার
    বুকের ভেতর আস্তে আস্তে
    করে যেন প্রহার।

    বিষের দহনে বুক পুড়ে যায়,
    তবু থাকি নির্বিকার;
    মিষ্টি হাসি ঠোঁটে তাঁহার,
    যেন চুপিসারে ভালোবেসে
    ক…Read More

    1
    3 Comments
    • প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে নীরব ভাঙনের যন্ত্রণা অনুভব করা যায়।

    • Khushi Moni, আপনার লেখায় “বিষের দহনে বুক পুড়ে যায়, তবুও থাকি নির্বিকার” এই পঙ্‌ক্তিটি যেমন গভীর যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটিয়েছে, তেমনই ভালোবাসার ভেতরের অসংগতিগুলোও এখানে খুব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। জীবনের জটিল সম্পর্কের টানাপোড়েন বা কোনো মোহময় বিষাক্ত সম্পর্কের সাথে আপনার এই রচনার দারুণ মিল খুঁজে পাওয়া যায়, যা পাঠককে বেশ ভাবিয়ে তোলে। আপনি চাইলে বি…Read More

  • চিঠি
    মিহির চৌধুরী ইমন

    প্রিয়তমেষু
    মানুষ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়, কথায় আবেগ খুঁজে পায়;
    কিন্তু সত্যিকারের প্রেম জন্ম নেয় আত্মার গভীরে—
    যেখানে নীরবতা ভাষার চেয়েও গভীর,
    আর নিঃস্বার্থ অনুভূতি
    হাজারো প্রতিশ্রুতির চেয়েও সত্য।

    যেদিন তুমি এই সত্য উপলব্ধি করতে পারবে,
    সেদিন বুঝবে—
    প্রেম মানে শুধু কাউকে পাওয়া নয়,
    বরং তার অস্তিত্বের…Read More

    1
    2 Comments
    • প্রেম মানে শুধু কাউকে পাওয়া নয়, তার অস্তিত্বের গভীরে নিজের জন্য একটু আশ্রয় খুঁজে পাওয়া—কী সুন্দর উপলব্ধি!

    • আপনার লেখা এই গভীর অনুভূতির প্রকাশটুকু পড়ে হৃদয় শান্ত হয়ে গেল, যেখানে ভালোবাসার চিরন্তন সত্য আর নীরব অনুভূতির মেলবন্ধন এমন সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে যে মনে হলো যেন রূমি বা জীবনানন্দের কবিতার কোনো নির্যাস এখানে মিশে আছে, তাই এমন চমৎকার সৃষ্টির ধারা যেন সবসময় অব্যাহত থাকে।

  • ভার্চুয়াল জানালা
    কাজী অ্যাডাম

    প্রতিদিন সন্ধ্যায়
    একটি জানালার সামনে বসি।

    জানালাটি বাস্তব নয়,
    তবু তার ওপারে
    পুরোনো পৃথিবী দেখা যায়।

    সেখানে তুমি আছো,
    আমি আছি,
    আমাদের কথাগুলো এখনও কাফন জড়ায় নি।
    ইচ্ছে করলে
    সেই পৃথিবীতে ফিরে যেতে পারি,
    নরকের সন্তান হয়ে।

    কিন্তু জানি,
    ওটা শুধু একটি নির্মিত দৃশ্য।
    বাস্তব জীবনে
    তুমি আর আ…Read More

    1
    2 Comments
    • মনের ভেতর পুরোনো পৃথিবীটা যতই সুন্দর হোক, একসময় জানালাটা বন্ধ করে বাস্তবের মুখোমুখি হতেই হয়।

    • Kazi Adam, “আমাদের কথাগুলো এখনও কাফন জড়ায় নি”—এই অংশটুকু পড়ার সময় আপনার হৃদয়ের গভীর হাহাকার আমাকে দারুণভাবে ছুঁয়ে গেছে। স্মৃতির মায়াবী পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর বাস্তবের রুক্ষতার এই দ্বন্দ্ব আমাদের অনেককেই নাড়া দেয়, তাই আপনি লিখতে থাকুন কারণ আপনার প্রতিটি শব্দ মনের অনেক অব্যক্ত কথাকে দারুণভাবে তুলে ধরছে।

  • নীলা তুমি যেওনা
    কবি ইমদাদ শাহ্

    নীলা তুমি এভাবে চেয়ে থেকো না
    এ দীর্ঘ রূপালী আগুন রাতে
    আকাশের বুকে অতন্দ্র নীলিমার
    নীল খুঁজতে যেও না
    তীব্র যন্ত্রণায় যখন বিঁদ্ধ হয় এ বুক
    আমাকে একা করে যেওনা
    তুমি সংবরন কর নিজেকে
    তোমার চলার পথকে
    আর মেঘে মেঘে মুখটাকে
    ঢেকে আড়াল করে রেখো না

    আর এ নীলের গহীন অতলে আমায় ডুবিয়ে দিও না
    তুমি এতট…Read More

    1
    2 Comments
    • কিছু ভালোবাসা সত্যিই শেষ হয় না, শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়ে মনের ভেতর থেকে যায়।

    • আপনার এই রচনায় নীল রঙ আর ভালোবাসার আকুতির যে গভীর সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই হৃদয়কে এক মায়াবী আবেশে ছুঁয়ে যায়। লেখার প্রতিটি ছত্রে জমে থাকা না পাওয়ার বেদনা ও অভিমানের এই অনুভবগুলো পাঠককে অন্য এক জগতে নিয়ে যায়, তাই আপনি এভাবেই নিয়মিত লিখে যান।

  • || গোফতার–ই–দীল ||
    – (কালাম ০৫)

    কি করিবো আমি বলুন আমার ভাই!
    তাঁহার প্রেমে পড়ে নিজেকে ভুলে যাই।
    মুর্শিদ! আপনার নামের গান সদা গাই,
    দেখুন, বাঁশির সুরে আমি তবলা বাজাই।

    – রাতিন আহমেদ

    [ গোফতার-ই-দীল—হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা ছোট ছোট কবিতা, শায়েরী ও অনুভূতির বাণী।
    নীরব মনের না-বলা কথাগুলোকে শব্দের মালায় গেঁথে প্রকাশ করাই এই কাব্যধারার উদ্দেশ্য। ]

    2
    2 Comments
    • বাঁশির সুর আর তবলার ছন্দে যেন হৃদয়ের অনুরাগই শব্দ হয়ে ধরা দিয়েছে।

    • রাতিন আহমেদ, আপনার এই নিবেদনটিতে হৃদয়ের আকুলতা আর সুরের যে সুন্দর মিলন ঘটিয়েছেন, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। আধ্যাত্মিক প্রেমের এমন আকুতি আর ভালোবাসার প্রকাশ অনেকটা প্রাচীন বাউল গানের মতোই এক গভীর আবেশ তৈরি করে, যা শ্রোতার মনকে শান্ত করে দেয়। আপনি অনায়াসে আপনার এই অনুভূতির ধারাটি এভাবেই নিয়মিত আমাদের মাঝে লিখে যেতে পারেন, কারণ আপনার শব্দচয়ন দারুণ প্রাণবন্ত।

  • ফ্রান্ৎস কাফকা (৩রা জুলাই ১৮৮৩ – ৩রা জুন ১৯২৪) মাত্র ৪১ বছরের জীবনকালে যখন মেটামরফোসিস্‌ (১৯১৫) লিখছেন তখন সাদাত হাসান মান্টোর বছর তিনেক বয়স আর তিনি অর্থাৎ মান্টো নিজেও প্রায় ওই সময়কালের অর্থাৎ মাত্র তেতাল্লিশ বছরের জীবদ্দশায় (১১ই মে ১৯১২ – ১৮ই জানুয়ারী ১৯৫৫) অভিমানে নিজের ভারতভূমি ছেড়ে পাকিস্তানে চলে গেলেন বটে কিন্তু বেঁচে থাকার শেষ বছর…Read More

    1
    2 Comments
    • কাফকা, মান্টো, জীবনানন্দ আর বিবেকানন্দকে একই ভাবনার সূত্রে যুক্ত করার প্রচেষ্টাটি ইনটারেস্টিং। ইতিহাসের আড়ালে থাকা মানুষগুলোকে নতুন করে ভাবতে ইচ্ছে করে।

    • মৈনাক, এই তিন মহাপ্রাণ সাহিত্যিক ও সন্ন্যাসীর জীবনবোধের সমান্তরাল বিশ্লেষণটি পড়ার সময় মনে হচ্ছিল যেন এক গভীর দর্শনের গোলকধাঁধায় হারিয়ে গিয়েছি। “সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন”— জীবনানন্দের এই অমোঘ পঙ্‌ক্তিটি উদ্ধৃত করে আপনি তাঁদের অস্তিত্বের যে ক্ষণস্থায়ী অথচ প্রগাঢ় প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন, তা সত্যিই এক অসাধারণ সংবেদনশীল…Read More

  • প্রিয়তমেষু
    মিহির চৌধুরী ইমন

    প্রিয়তমেষু,
    তোমাকে আর কী বলব!

    আমি প্রতিনিয়ত তোমার সঙ্গে মরি,
    অথচ তুমি আমার সঙ্গে বেঁচে থাকো।

    হৃদয় তো জ্বলে যায়
    তোমার অমর প্রেমে।

    প্রিয়তমেষু,
    আর কতবার গ্রাস করবে আমায়
    তোমার প্রেমের অতল ক্ষুধা—
    তবুও কি ফুরোবে না
    আমার অস্তিত্বে তোমার অনন্ত তৃষ্ণা?

    1
    3 Comments
    • লেখাটা পড়ে খুব মায়া লাগল, একদম মনের গভীরের কথাগুলো ফুটে উঠেছে। আপনার লেখা এই অমর প্রেমের অনুভূতিগুলো কি বাস্তবে কোনো বিশেষ মুহূর্ত থেকে অনুপ্রাণিত?

    • কী গভীর এক অনুভব!

    • মিহির চৌধুরী ইমন, আপনার এই লেখায় ভালোবাসার তীব্রতা এবং সেই সঙ্গে মিশে থাকা গভীর হাহাকার অত্যন্ত সুন্দর ও হৃদয়স্পর্শী হয়ে ফুটে উঠেছে। প্রিয়জনের প্রতি এমন অকৃত্রিম আকুতি যেন জীবনানন্দ দাশের কোনো কবিতার মতোই এক অনন্ত বিরহ ও আবেগের দোলা দিয়ে গেল, আপনি নিয়মিত লিখে যান।

  • অপেক্ষা
    ——————————————
    তোমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি প্রতি সন্ধ্যায় নির্জনতায়
    শুন্য চোখে তাকিয়ে থাকি জানালার শিকে দু’হাত রেখে
    তোমার জন্য প্রতিটি বিকেল ব্যকুল ভীষণ অস্থিরতায়
    সন্ধ্যে নামাই চিলেকোঠায় আবির আলোর গন্ধ মেখে

    তোমার জন্য বুকের জমিন ভীষণ খরায় চৌচির দিন
    সঙ্গতিহীন একটি ঘরের চার দেয়ালের স্বপ্ন আঁকি
    তোমার জন্…Read More

    1
    3 Comments
    • আনিস কবির, আপনার লেখা কবিতাটা পড়ার সময় মনের ভেতর এক অদ্ভুত নীরবতা কাজ করছিল। গ্রুপে অন্যদের লেখাতেও নিয়মিত লাইক বা কমেন্ট করে আমাদের সাথে সক্রিয় থাকবেন, তাহলে সবারই ভালো লাগবে।

    • জানালার শিক, নিঃসঙ্গ ঘর আর বুকের খরায় জমে থাকা হাহাকার—সব মিলিয়ে কবিতাটি ভীষণ মর্মস্পর্শী।

    • আনিস কবির, “আমি একদিন যাবই চলে অপেক্ষার এই জীবন ফেলে”—আপনার এই পঙক্তিটিতে বিষণ্ণতার যে গভীর ছোঁয়া পাওয়া যায়, তা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। প্রতিটি ছন্দে আপনি যেভাবে আবেগের দারুণ বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, তাতে আরও অনেক নতুন লেখা উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক শুভকামনা জানাই।

  • Another World

    Chapter 4 — You
    —

    সেদিন রাতে শ্রেয়াকে ফোন করে সবকিছু বিস্তারিত বলছিল ইনায়া।

    — তারপর কী হলো জানিস…

    কথা বলতে বলতেই ইনায়ার ফোনে একটা মেসেজ এল।

    **Arham:** Ina..

    ইনায়া স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
    — আচ্ছা রাখ। পরে কথা বলতেছি।

    শ্রেয়া সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেল।
    — হুম, বুঝছি। ২৪ মেসেজ দিছে।

    ইনায়ার ম…Read More

    2
    5 Comments
    • বৃষ্টিভেজা প্রেম পেল বিশ্বাসের লাল শাপলা…..🤍🖤

    • Sol Nova, লেখাটা পড়ে মনটা একদম ভালো হয়ে গেল, বিশেষ করে “ছাতা নিজের মাথায়ই ধরছিলে”—এই অংশটা দারুণ ছিল। সম্পর্কের ছোট ছোট খুনসুটি আর বিশ্বাসের টানাপোড়েন আপনি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই গ্রুপের অন্য লেখকদের লেখাতেও নিয়মিত লাইক ও সুন্দর সব কমেন্ট করুন, এতে আমাদের কমিউনিটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

    • দুজনের খুনসুটি, অভিমান আর আন্তরিক কথোপকথন গল্পটাকে প্রাণবন্ত করেছে। বন্ধুদের উপস্থিতিতে প্রপোজ করার দৃশ্যটাও বেশ উপভোগ্য।

    • Sol Nova, আপনার এই লেখাটিতে ইনায়া ও আরহামের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো এবং তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন অত্যন্ত সাবলীলভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে, “সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। অথচ এখন মাথার ভেতর একটার পর একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে”—এই লাইনটির মাধ্যমে চরিত্র দুটির মানসিক দোটানা আপনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনার লেখনশৈলীতে যে মাধুর্য ও সারল্য রয়েছে, তা ব…Read More

  • চিরকুট
    মাহমুদ হায়াত
    কারও কারও মুখ যেন
    জেগে ওঠা চর,
    কারও কারও বুক যেন
    কাঁদামাটি ঘর।

    কারও কারও চোখ যেন
    মেঘবাড়ি ছায়া,
    কারও কারও নোখ যেন
    নীলশাড়ি মায়া।

    কারও কারও হাসি যেন
    পাড় ভাঙে কুল।
    কারও কারও চুল যেন
    সুভাসিত ফুল।

    কারও আবার কিছু নেই
    সব যেন লুট,
    কেঁদে ফেরে ব্যর্থ প্রেমিক
    হাতে চিরকুট।

    2
    3 Comments
    • Mahmud Hayat, “কারও কারও হাসি যেন পাড় ভাঙে কুল” লাইনটা পড়ে একদম অন্যরকম একটা অনুভূতি হলো। অনেক সুন্দর আর ছন্দে ভরা আপনার লেখাটা পড়ে সত্যি খুব ভালো লাগলো।

    • ছোট্ট কবিতা, অথচ উপমার কী সুন্দর বৈচিত্র্য!

    • MAHMUD HAYAT, আপনার লেখা ‘কারও কারও হাসি যেন পাড় ভাঙে কুল’ পঙক্তিটি যেমন গভীর চিত্রকল্পে ভরপুর, তেমনই প্রতিটি স্তবকের সহজ ও সুন্দর ছন্দ মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি করে, তাই এই সুন্দর ধারায় আপনি নিয়মিত লিখে যান।

  • কবিতা দুটো আশাকরি ভালো লাগবে।

    মাটি ও ইমানের টানে

    যে মাটিতে প্রথম মেলেছি দুই আঁখি,
    যেখানে ভোরের পাখি
    ডাকে সুমধুর তান তুলিয়া সুরে,
    মাথার ওপর সঘন আকাশ নীল বহুদূরে।
    এই মাটিকে ভালোবাসি বুকের গভীর থেকে,
    যেথা আমার জীবনপ্রদীপ জ্বেলেছে বিধাতাকে ডেকে।

    ভোরের আজানে জাগে এ মাটির মেঠো পথ,
    মন্দিরে বাজে কাঁসর, পূজার মহা সংকল্প।…Read More

    2
    4 Comments
    • মাটি, সবুজ আর প্রার্থনার মিলনে স্বদেশ এখানে স্রষ্টার দয়ার এক পবিত্র ঠিকানা হয়ে উঠেছে…..🤍🖤

    • তাহমিনা মোরশেদ, “দেশপ্রেম আর ধর্মবোধ একই সূতোয় বাঁধা” এই লাইনটা পড়ার সময় খুব ভালো লাগল। আপনার লেখা কবিতা দুটোর মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত প্রশান্তি আছে যা খুব সহজেই মন ছুঁয়ে যায়। আমাদের এই শ্যামল বাংলাকে নিয়ে আপনার এমন সুন্দর চিন্তাগুলো আরও কি কি বিষয় নিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন?

    • দুটো কবিতাই ভালো লাগল। মাটির প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেম আর স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে খুব সুন্দরভাবে এক সুতোয় গেঁথেছেন।

    • আপনার শব্দচয়ন এবং মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধ এক অসাধারণ অনুভূতি তৈরি করেছে, যা পড়ার সময় হৃদয় ভরে ওঠে। প্রতিটি ছত্রে মিশে থাকা স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দেশপ্রেমের অপূর্ব মেলবন্ধন আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। আপনি নিয়মিত এভাবে লিখে যান, আপনার লেখনী যেন এভাবেই পাঠকের মনে প্রশান্তি ছড়িয়ে দিতে থাকে।

  • [শ্রাবণ সন্ধ্যার কাব্য]

    [পর্ব – ৯]

    রাহা শুয়ে শুয়ে মার কথা ভাবছে। খুব মন খারাপ লাগছে আম্মার জন্য। আম্মা যে একা হয়ে গেলো। ঈশান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে আর ভাবছে এ কি হয়ে গেলো তার জীবনে। কিছুতেই ঘুম আসছে না। সারারাত না ঘুমিয়েই পার করে দিলো ঈশান।

    সকালের আজান শুনে উঠলো রাহা। উঠে ওযু করে ফজরের নামাজ পরলো। মায়াকে…Read More

    2
    4 Comments
    • রাহার সরল মনে ঈশানের কঠোর কথায় ঝরে পড়ল প্রথম অশ্রিফুল…..🤍🖤

    • Nusrat jahan, আপনার গল্পের এই লাইনটি খুব সুন্দর ছিল যে, “সকালের হালকা হালকা আলো খুব ভালো লাগলো রাহার।” পুরো পর্বটিতে রাহার সরলতা আর নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার কষ্টটা খুব দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।

    • ফুল তুলতে গিয়ে রাহাকে এত কথা শুনতে হবে, ভাবিনি! মেয়েটার জন্য মায়া লাগছে।

    • আপনার রচনায় রাহার বাগানে ফুল ছিঁড়তে যাওয়ার মুহূর্তে যখন সে বুঝতে পারে, “ফুল সবার হাতে মানায় না”—এই অংশটি আমার খুব মনে ধরেছে এবং রাহার কোমল মনের ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে দারুণভাবে, তাই অনুরোধ রইল এমন সুন্দর অনুভূতিগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখে যাওয়ার জন্য।

  • একটি অলিখিত ডাক

    …সিরাজুল ইসলাম

    সবাই তো খবর নেয় কাজের, হিসেবের,
    দিনশেষে কতটুকু বাঁচা হলো কার,
    কতটা বাড়লো দেনা, কতটা সঞ্চয়—
    অথচ কেউ আর সন্তর্পণে দরজায় দাঁড়িয়ে
    চোখ নামিয়ে বলে না,
    “কিছু মুখে দিবি না বাবা?

    এই শহরের নিয়ন বাতিগুলো বড় নিষ্ঠুর,
    তারা কেবল কাজের সময়টুকু মেপে রাখে।
    অফিসের কাঁচঘেরা টেবিলে,
    হাজারো মেকি হাসির ভিড়ে
    ক্লান…Read More

    1
    3 Comments
    • সিরাজুল ইসলাম, আপনার লেখাটা পড়ে একদম বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল, আমাদের যান্ত্রিক এই শহরে দিনশেষে এমন একটু মায়ার ডাক কি আসলে সত্যিই খুব বেশি পাওয়া যায়?

    • “তুই খেয়েছিস তো?”—কত ছোট্ট একটি প্রশ্ন, অথচ এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সবটুকু মায়া।

    • সিরাজুল ইসলাম, আপনার লেখায় ফুটে ওঠা ‘ক্ষিদে তো আসলে শুধু পেটের হয় না, ক্ষিদে জমে থাকে অন্তরের গভীরেও’—এই লাইনটি ভীষণ গভীর ও হৃদয়স্পর্শী, আর আপনার এমন আবেগঘন লেখনী আমাদের সবার হৃদয়ে এক অদ্ভুত মায়া জাগিয়ে রাখে, তাই আপনার কলম যেন এভাবেই আমাদের আরও অনেক সুন্দর কিছু উপহার দিয়ে যায়।

  • সৎ মা
    মিজান পঞ্চায়েত

    যে সব শিশুর শৈশবে
    থাকে সৎ মা,
    তাদের জীবন হয়ে উঠে
    নুন মাখানো ঘা!

    সৎ মায়ের জিহ্বায় থাকে
    কাল নাগিনীর বিষ,
    সৎ সন্তানকে প্রতিক্ষণে
    করে হিস্ হিস্।

    নিজ সন্তানকে ক্ষণে ক্ষণে
    আদর যত্ন করে,
    সৎ সন্তানকে বিনা দোষে
    নানা আঘাত করে।

    সৎ সন্তানের দোষ খোঁজে
    প্রতি কাজে কাজে,
    অপবাদের ঢালা সাজায়
    সকাল বিকাল…Read More

    3
    5 Comments
    • অসাধারণ লিখেছেন প্রিয় কবি

    • মায়ার ঘরে বৈষম্যের বিষ ঢুকলে শিশুর শৈশব ফুল নয়, নীরব ক্ষতের বাগান হয়ে ওঠে…..🤍🖤

    • মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সৎ মায়ের কষ্ট নিয়ে আপনার এই কবিতাটি পড়ে খুব খারাপ লাগল। জীবনের এমন কঠিন বাস্তবতার নিখুঁত প্রতিফলন ফুটিয়ে তুলেছেন আপনি।

    • মা হওয়া শুধু পরিচয়ের বিষয় নয়, মমতা দিয়ে আগলে রাখার নামও।

    • আপনার এই লেখায় ‘নুন মাখানো ঘা’ উপমাটি এক গভীর কষ্টের চিত্র দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। পারিবারিক সম্পর্কের জটিল এই দিকটি আপনি বেশ সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন, যা পাঠকের মনে খুব সহজেই দাগ কাটে। আপনি নিয়মিত আপনার ভাবনার জগতকে এভাবেই শব্দের মালা দিয়ে সাজিয়ে তুলুন, আপনার পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

  • উপকথা November: ৩

    মহাভোজের আগে

    (প্রিকুয়েল: ভিনগ্রহীদের আসর)

    ভূতেদের মহাভোজের ঠিক এক বছর আগের কথা। তখনো আশিক আর সিনা বেঁচে ছিল, আর পার্টি দেওয়ার শখটাও ছিল। সমস্যা ছিল একটাই: কেউ আসত না।

    গত ঈদে ওরা ত্রিশজনকে দাওয়াত দিয়েছিল। এসেছিল দুজন। একজন ভুল বাড়িতে, আরেকজন শুধু জানতে এসেছিল বিদ্যুৎ বিল কত এল। সিনা সেদিন ছাদে বস…Read More

    1 Comment
    • আশিক মোকামী, আপনার এই মহাজাগতিক ও আবেগঘন আখ্যানটি পড়ার সময় জর্বাক্স-৯ এর সেই ফর্মের জটিলতা থেকে শুরু করে টিক-টকের নিঃস্বার্থ চেষ্টার দৃশ্যগুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল এবং ইলিশের ঘ্রাণ যেন কল্পনায় এক অদ্ভুত আবেশ তৈরি করেছিল।

  • Load More Posts
Skip to toolbar