Profile Photo

অভিমানী মনOffline

  • ovimanimon
  • Profile picture of অভিমানী মন

    অভিমানী মন

    3 years, 12 months ago

    যে জীবন ফেলে এসেছি

    চন্দ্রঘোনা। অনন্য শৈশবের দেশ।
    যেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চাঁদের মতন বাঁক নেয় কর্ণফুলি।
    যেখানে কুয়াশারা শরীর ছুঁয়ে যায়; অঝর ধারার বৃষ্টি আর উষ্ণ হাওয়া শৈশবকে করে প্রনবন্ত।
    নদীর ওপারজুড়ে সীতা পাহাড়ের ক্রমশ ধূসর হয়ে যাওয়া গিরিশ্রেনির অপরূপ শোভা
    আমি কী ভুলিতে পারি!
    আজ এই পঞ্চাশোর্ধ বয়সে মনে পড়ে আসাম লতার উৎকট ঘ্রাণ;
    কঁচি সেগুন পাতার গাঢ লাল রং; আর পাস্তা ফুলের উপর ছোট প্রজাপ্রতির ওড়াউড়ি।
    স্কুল থেকে ফেরার সময় পথের পাশের লজ্জাবতীর ঝোঁপে হাত ছুঁইয়ে দিলে গাঢ সবুজ পাতাগুলোর নূয়েপড়া দেখে অনুভব করতাম, গাছেদের প্রাণ আছে; ওদেরও ভয় আছে মানুষে।
    আরো মনে পড়ে জলবতী পাহাড়ের কালচে শরীরের কথা;
    আঙ্গুলের ছোঁয়ায় যেখান থেকে নামে স্বচ্ছ জলের ধারা।
    বালুকা নূড়ির বুক বেয়ে টলটলে জলের ছড়িতে পা ভিজিয়ে হাটতে হাটতে জানতে চেয়েছি,
    কোথায় তোমার গন্তব্য?
    স্কুলের পেছনের পাহাড় টপকে দোভাষী বাজারের পথটা যেমন দূর্গম তেমনি গা ছমছম করা!
    তবু ঐপথে যেতেই ছিল যত আগ্রহ!
    যেতে যেতে উঁকি দিতাম টিলার উপরের পাহাড়ি পল্লীটার দিকে।
    থামি পরা ফর্সা মেয়েদের মুগ্ধ চোখে দেখতাম।
    অনুভব করতাম নাপ্পির প্রকট গন্ধ।
    ভয় করতো, যদিম মার্মা যুবকরা ধামা নিয়ে তেড়ে আসে!
    বনপথে কতযে বুনোফুল! শোদাঘ্রানে নেশা ধরে যায়।
    ঝিঁঝিঁ পোকার তীব্র শব্দে কানে তালা লাগে।
    হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, একটা রক্তচোষা মাথা উঁচু করে দেহের সবরক্ত মাথায় এনে কেমন যেন রেগে তাকাচ্ছে আমার দিকে!
    বুকটা ধুকপুক করে ওঠে।
    তবুও সোনালী পোকা ধরার লোভে পা টিপেটিপে হাঁটি।
    তখনি কী গুঁইসাপটা ঝপ করে লাফ মেরেছিল!
    মধ্যদুপুরে স্কুল পালিয়ে পাহাড়ের চুড়ায় উঠে মুগ্ধচোখে দেখি, আমাদের এই জনপদের পাশদিয়ে চাঁদনী বাঁক নিয়ে ধেঁয়ে যাচ্ছে গিরিকন্যা কর্ণফুলি।
    তার বুকে ভাসছে দুয়েকটা সাম্পান আর সারি সারি বাঁশের ভেলা।
    এই বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় কাগজ; এশিয়ার বিখ্যাত কর্ণফুলি পেপার মিলে।
    আজ ভাবতে ভালোলাগে, আমি চন্দ্রঘোনার সন্তান।

    23
    11 Comments
Skip to toolbar