Profile Photo

নাদিম হোসাইনOffline

  • Nadim-Hossain
  • Profile picture of নাদিম হোসাইন

    নাদিম হোসাইন

    3 years, 10 months ago

    ========================স্বপ্নীল কারাগার==========================
    লেখক ঃ নাদিম হোসাইন।।
    পর্ব নাম্বার ০৭
    ——————————————————————————————————————

    প্রতিদিনের চেয়ে আজকের দিন টা একটু ব্যতিক্রম হলো। দেখা যেত প্রতিদিন অর্পিতা আসতো দেরি করে । কিন্তু আজ অর্পিতা তাড়াতাড়ি চলে এসেছে । আবীর গত তিন-চার দিন ধরে কোন খোঁজ খবর ছাড়া উধাও ছিল। তাই আজ অর্পিতা নিজের ফোন দিয়ে আবির কে আসতে বলেছে । অর্পিতা মোবাইলটা বের করল। আবীরকে ফোন দেয়ার জন্য। সে দেখতে পেল আবীর আসছে। সে মোবাইলটা আবার তার ব্যাগে ভরে রাখে। আবীর ঠিক তার কাছে চলে আসলো। আবীর বলছে,
    => সরি একটু দেরি হয়ে গেল
    অর্পিতা কিছু বলল না সে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। আবির কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে উঠলো,
    => সরি । আসলে…………..
    আবির কথাটি শেষ করতে পারলো না।
    => থাক কোনো অজুহাত দেখাতে হবে না।
    আবার মুখ গোমড়া করে বসে রইল। সে কিছু বলার সাহস পেলো না। অর্পিতা সেই রাগী কন্ঠ বলে উঠল,
    => নতুন কোন গার্লফ্রেন্ড পেয়েছো।
    আবির চোখ দুটো বড় বড় করে বলে উঠলো,
    => মানে। আমার নতুন। কি যে বল!
    => তিন চার দিন কোথায় ছিলে। তোমার বন্ধুদের সাথেও কোন যোগাযোগ নেই।
    => না আসলে বাসায় একটু সমস্যা চলছে।
    => বলা যাবে।
    => হ্যাঁ । বাবা প্রচন্ড অসুস্থ।
    => কি হয়েছে?
    => বাবা কি একটা দুঃস্বপ্ন দেখছে। আর সেটা দেখে প্রচন্ড জ্বর। গত কয়েকদিন ধরে 103 ডিগ্রি জ্বর। একটু কমছে না ।
    => ডাক্তার দেখিয়েছো।
    => হ্যাঁ কোন লাভ হচ্ছে না। কি যে করি বুঝে উঠতে পারছিনা।
    অর্পিতা খুবই নরমাল ভাবে শান্ত কন্ঠে বলল,
    => অন্য কোনো চিকিৎসা??
    => হ্যাঁ আম্মু কোন এক হুজুরের পানি পড়া এনেছিল। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি।
    => তাহলে তো খুবই ভয়ের বিষয়।
    আবির হঠাৎ কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে শুরু করল,
    => জানো, আমি যাদের প্রচন্ড ভালোবাসি। তারা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চায়।
    অর্পিতা এবার একটু রেগে গেল এবং রাগান্বিত কন্ঠে সে বলে উঠলো,
    => মেয়েদের মত কাঁদছো কেন। আর তোমাকে ভালোবাসে এমন মানুষ খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে।
    => তা অবশ্য সত্যিই বলেছ। তবে কি জানো।
    => কি জানতে চাও
    => তুমি আজ বুঝবেনা। সেদিন বুঝবে। তোমাকে আমি কত ভালোবাসি।
    => কোন দিন বল। আমি সেই দিনের অপেক্ষায় থাকবো।
    => তুমি মজা করছ। করো মজা করো।
    => না হ আমি খুবই সিরিয়াস। আমি মজা করবো কেন।
    আবির আর কিছু বলল না। চুপ করে রইলো। একটু পর অর্পিতা বলছে,
    => আমি গেলাম
    অর্পিতা উঠে দাঁড়ালো। আবির বলে উঠলো,
    => তুমি চলে যাবে??
    => নাহ। বসে বসে বাংলা সিনেমার ডায়লগ শুনবো।
    অর্পিতা দ্রুত গতিতে হেঁটে চলে গেল। আবির চুপ করে বসে রইল। সে কিছুই বলল না। শুধু কেন যেন একধরনের বিষন্নতা তার মনে ভর করল।।

    শান্ত আর রিয়া লোকমান সাহেবের পাশে বসে গল্প করছে। প্রচন্ড জ্বর এর মধ্যেও তার গল্প করতে খুবই ভালো লাগছিল। রিয়া বলছিল,
    => নানা ভাই। চলনা একদিন ঘুরে আসি।
    লোকমান সাহেব বলছেন,
    => কোথায় যেতে চাও বলো?
    শান্ত খুবই গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
    => একদম না। কোথাও ঘুরতে যাওয়া যাবে না।
    লোকমান সাহেব বললেন,
    => কেন। কি জন্য??
    => আগামীকাল আমরা চলে যাবো। আগামী পরশু স্কুল খোলা।
    লোকমান সাহেব বলছেন,
    => ও কোথায়। আমিতো কিছুই শুনলাম না।
    => তোমাকে বলা হয়নি।
    লোকমান সাহেব বলছেন,
    => তোমাদের খারাপ লাগবে না। আমাকে ছেড়ে চলে যেতে।
    রিয়া বলে উঠলো তার সেই কাঁচাপাকা ইংলিশ মুখে,
    => সরি নানা। মিস বলেছেন পড়ালেখা না করলে কেউ ভালোবাসবে না। দেখো তুমি, তুমি তো আমাকে ভালোবাসো কারণ আমি পড়ালেখা করি তাই না।
    লোকমান সাহেব একটু হেসে বলে উঠলেন,
    => হ্যাঁ। কথা বড় সত্য।
    শান্ত বলে উঠলো,
    => মিথ্যে বলছো কেন। আমি জানি নাতি নাতনি কে সবাই ভালবাসে।
    রিয়া বলছে,
    => ইউ নট নো দিস সাবজেক্ট।
    => তুই চুপ কর। খালি ভুলভাল ইংলিশ বলিস।
    => তুই তো বলতেই পারিস না।
    => তোকে বলেছে। আমি ইচ্ছা করে বলি না।
    => তুই পারলে তো বলবি।
    => সঠিকটা না পারলে বলা ঠিক নয়।
    => ইউ লায়ার। মিথ্যা। আমাদের মিস বলেছেন ভুল করলেই মানুষ শিখে।
    => দেখ তুই কথায় কথায় শুধু মিসকে টেনে আনছিস কেনো।
    => কারণ আমাদের মিস সবসময় সত্যিটা বলে।
    => দেখ তুই কিন্তু এখন মার খাবি।
    লোকমান সাহেব বুঝলেন দুজন খুবই রেগে গেছে। এতক্ষণ চলছিল বাকযুদ্ধ কিন্তু চলে যাচ্ছে মারামারি যুদ্ধ। তাই তিনি বললেন,
    => হয়েছে। চুপ থাকো। অনেক হয়েছে।
    শান্ত বলছে,
    =>জানো না। ও সব সময় আমার সাথে ঝগড়া করে।
    রিয়া বলছে,
    => আমি তোর সাথে ঝগড়া করি না। তুই আমার সাথে ঝগড়া করিস।
    লোকমান সাহেব বলছেন,
    => হ্যাঁ হয়েছে। দুজনে চুপ। আর কোন কথা বলতে হবে না।
    শান্ত উঠে চলে গেল লোকমান সাহেব কিছুই বললেন না। তবে লোকমান সাহেবের মাথাটা প্রচন্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তাই তিনি হেলান দিয়ে নিলেন। রিয়া ও ততক্ষণে উঠে চলে যায়। লোকমান সাহেবের শরীরটা দিনদিন যে খারাপ হতে চলেছে সেটা তিনি বুঝতে পারছেন।

    5
    2 Comments
    • অনেক অপেক্ষা করালেন… পরের পর্ব জলদি চাই।

    • সপ্নিল কারগারে বন্দী সবাই, ঘুম ভেঙ্গে গেলেও মুক্তি নাই!
      ভালোবাসা নেবেন!

Skip to toolbar