-
“নারীবাদী সমাজব্যবস্থায় নারীরা সমাজে এমনভাবে ব্যবহৃত হয় যেমনটা রাখাল তার কৃষিজমিতে ব্যবহার করে বলদকে…”
যা না বললেই নয়ঃ
এ তিক্ত কথার দরুণ কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি শুরুতেই আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি (বিশেষত নারীদের কাছে)।উপর্যুক্ত কথার সারমর্ম আপনি ক্ষণিকের মধ্যেই উপলব্ধি করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।তবে আপনার অন্তর তালাবদ্ধ হলে সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ নেই যে আপনাকে সঠিক রাস্তা দেখাবে…!!!বিবরণের পূর্বে কিছু কথাঃ
নারীবাদ বিংশ শতাব্দীতে উদ্ভূত একটি আন্দোলন যা নারীর ক্ষমতায়ন, ভোটদানের অধিকার এবং নারী পুরুষ সমান এই দাবী থেকে শুরু হয়।মাথার ওড়না/হিজাব খুলে ফেলার মাধ্যমে উদ্ভূত এ আন্দোলন আজ একটা মতাদর্শে, এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে।প্রসঙ্গগত; এখানে আমি নতুন করে “নারীবাদ” কে সংজ্ঞায়িত করতে আসিনি।
_________________বিবরণঃ
~I) নারীদের পোষাক পরিচ্ছদে একটা রিভলিউশনারি চেঞ্জ এসেছে।নারীরা আজ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায়ও যেন বস্ত্র বিবর্জিত।অর্থাৎ, বস্ত্র পরা আর না পরা সমান কথা।কাপড় ক্রমাগত ছোট থেকে ছোটতর হচ্ছে।কত সুন্দর প্রগতি…!!!সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২১২৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ৮৬৬৫ এর আলোকে বলছি, এমন এক শ্রেণির নারীর আবির্ভাব হবে যারা পোষাক পরেও নগ্ন, যারা (পরপুরুষকে) আকর্ষণকারী ও (পরপুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট। যারা বুখতী উটের হেলানো কুঁজের মত মাথা (বড় খোপা অর্থে) বিশিষ্ট। এরা জান্নাতের সুবাস পর্যন্ত পাবে না। অথচ জান্নাতের সুবাস অনেক অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়।
তারপরেও বলবেন যে এটা নিছক দূর্ঘটনা…!!!~II) বিগত একশ বছরে শুধু পোশাক পরিচ্ছদেই নয়; নারীদের রুচিবোধ থেকে শুরু করে সমগ্র জীবনব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।নারীরা তাদের ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।চাকরিতে নেমেছে।নারীসুলভ পোশাক পরিত্যায্য করে তারাও পুরুষদের ন্যায় “কোট আর টাই”-এ নিজেদের বেষ্টিত করেছে।পুরুষদের সাথে তাদেরও মোকাবিলা করতে হচ্ছে দিনভর ট্রাফিক জ্যাম…!!!ফলশ্রুতিতে নারীরা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করতে ব্যর্থ।তাদের সন্তানদের দেখভাল করা হয় বাসা বাড়ির আয়া দ্বারা নয়তো সন্তানদের ডে-কেয়ার এ রাখা হচ্ছে।সন্তানরা তাদের মাতৃত্বের স্বাদ বুঝবে কিভাবে?বেশিরভাগক্ষেত্রে মাতৃত্বের স্বাদবিবর্জিত এসব সন্তানরাই পরবর্তীতে তাদের পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে।রাখবে না কেন!!!_ব্যস্ততা__________কি সুন্দর প্রগতি…!!!
তারপরেও বলবেন যে এটা নিছক দূর্ঘটনা…!!!~III) (II) এ উল্লিখিত বিবরণ গুলো পর্যবেক্ষণ করে আপনি বুঝতে পারবেন যে কেন বিগত একশো বছরে ডে-কেয়ার আর বৃদ্ধাশ্রম উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে (পাচ্ছে)।
~IV) উপরে বর্ণিত যাবতীয় বিবরণ পরখ করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে মেয়েরা তাদের সাংসারিক গুণ কিভাবে হারাচ্ছে…!!!
~V) পরকীয়া, ধর্ষণ, একাধিকবার ডিভোর্স, আজ নিত্যদিনের খবর।মেয়েদের পোশাককেই আমি এর জন্য বিশেষভাবে দায়ী মনে করি।আপনাকে স্বাধীনতা দেওয়ার মানে এ না যে আপনি যাচ্ছেতাই করে বেড়াবেন আর পরে বেড়াবেন।অবশ্যই আপনার ইসলামিক মূল্যবোধ ও স্বভাবসুলভ নারী মূল্যবোধ আছে; তাকে বিসর্জন কেনো দিবেন? তবে পুরুষদেরও দোষ আছে এখানে তা আর বলার ইয়ত্তা রাখে না।তবুও__শিকার যদি শিকারীর আয়ত্তে চলে আসে, তাহলে শিকারী কি বসে থাকবে…!!!
আমি মনে করি যে___ একাধিকবার তালাকপ্রাপ্তা নারী, বিবাহবহির্ভূত প্রেমিকা ও বারভাতারি (পতিতা) ; এদের মধ্যে কোনো তারতম্য নেই।
তারপরেও বলবেন যে এটা নিছক দূর্ঘটনা…!!!~VI) নারী অধিকার এর দৃপ্তকণ্ঠের দরুণ আজ L_G_B_T_Q (les_bian, g_ay, bise_xual, transge_nder, and questioning) সংস্থা তাদেরও নির্লজ্জ অধিকার আদায়ে নেমেছে।মেয়েদের মাঝে সমকামিতা আশংকাজনকহারে বেড়েছে (ছেলেদের থেকেও) ।রুচিবোধের ব্যাপারে একটা উদাহরণ বিশেষ সমাদৃতঃ “B_T_S a_rmy”, কত নির্লজ্জ, গাধা আর মানসিক অবক্ষয়ের স্বীকার হলে এমনটা বলতে পারে…!!!B_T_S মেম্বারদের দেখে প্রথম দেখা যেকেউই তাদের মেয়ে ভেবে ভুল করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।এখানে অবশ্যই মেয়েদের রুচিবোধের অবক্ষয় দৃশ্যমান হয়।আমি তাদের রুচিবোধকে এখানে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আসিনি।
ইতিটানার পুর্বে কিছু কথাঃ
এতকিছু নিশ্চয়ই প্রমাণ করে যে এটা নিছক দূর্ঘটনা নয়।দাজ্জাল এর সিস্টেম মেয়েদেরকে অন্ধ করেছে।খুব কম সংখ্যক নারীই শিক্ষা নিতে পারবে এখান থেকে।দাজ্জাল এর ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) যেকোনো যুগের যেকোনো ফিতনার চেয়ে মারাত্মক।তথাকথিত নারীবাদ দাজ্জাল হতে উদ্ভূত মতাদর্শ ও নারীবাদী সমাজব্যবস্থা দাজ্জালের এক সিস্টেম ছাড়া আর কিছুই না যেটা প্রত্যেক যুগের মতোই হতভাগা নারীদের এ যুগেও নারীদের স্টিম রোলারে পিষ্ট করবে; পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের অজ্ঞতাবসতই তাদের উপর গোলামি চালাবে…!!!
রাসুল (সঃ) বলেছেন, “দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচানোর জন্য পুরুষেরা তাদের স্ত্রী, মা, বোন, কন্যা, ফুফু এবং অন্যান্য স্বজন মহিলাদেরকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখবে” (আহমাদ)।অর্থাৎ, নারীবাদী এ সিস্টেম হতে আপনি তাদের রশি দিয়ে বেঁধে রাখলেও বাঁধতে পারবেন না।তারাই(নারী) আপনাকে(পুরুষ) বেঁধে রাখবে…!!!
_________________উপসংহারঃ
“শপথ রাতের, যখন সে আচ্ছন্ন করে,
শপথ দিনের, যখন তা উদ্ভাসিত হয়,
শপথ তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন—
নিশ্চয় তোমাদের কর্মপ্ৰচেষ্টা বিভিন্ন প্রকৃতির।”(সূরাঃ আল-লাইল ১-৪)।উক্ত সুরার উপর্যুক্ত আয়াতসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মহান সৃষ্টিকর্তা রাত ও দিনের মতোই নর ও নারীকে তুলনা করেছেন।নর ও নারী ভিন্ন যেমনটা ভিন্ন রাত ও দিন।তাই তাদের কর্মপ্রচেষ্টাও ভিন্ন।এখানে মহান সৃষ্টিকর্তা দিন ও রাত্রিকে একসুতায় আবদ্ধ করেন নি।তাই, এটা কখনোই সমীচীন নয় যে নর ও নারীকে আপনি একসুতায় গেঁথে দিয়ে জীবনের সবদিক থেকে সমতা বিরাজ করাবেন।তাহলে ন্যায্যতা থাকবে না।কারণ, সমতা ও ন্যায্যতা এক জিনিস নয়।
আমি তথাকথিত নারীবাদের বিরুদ্ধে কিন্তু প্রকৃত নারীবাদের পক্ষে, যে মতাদর্শে নারীদের নারীর মতো মর্যাদা দেওয়া হয়, তাদের মা-বোনের মতো সম্মান দেওয়া হয় ও তাদের ইজ্জত- আব্রুকে নিজ জীবনের চেয়েও প্রাধান্য দেওয়া হয়, যেখানে নারীরা রাতের নারী হিসেবে গণ্য হয় না, যেখানে নারীরা কৃষিজমিতে রাখালের বলদের মতো ব্যবহৃত হয় না, যেখানে নারীদের নারীসুলভ মনোভাব বজায় থাকে।
আমি এখানে নারীবাদকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আসিনি।যদি মনে করেন যে তা-ই করতে এসেছি তাহলে বিজ্ঞজনের একটা বাক্যই আমার জবাব হিসেবে তুলে ধরবো,
“কেউ যখন কম্বলকে পেটাতে থাকে তখন সেটা কম্বলের বিরুদ্ধে নয়, ধুলোর বিরুদ্ধে”~বাণিতে-
– জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি।3 Comments
Ekhtiar Uddin
একজন অপেশাদার লেখক।কারণ- আমি একজন শিক্ষার্থী ছাড়া আর কিছুই না।
-{আন্দালুসের মুসাফির}-যে এক বৃক্ষতলে ক্ষণিকের জন্য বিশ্রাম নিয়ে আবার তার পথ ধরেছে…
Friends
এস এম সজিবুল ইসলাম
@shojib-rumman
শোয়েব ইবনে শাহীন
@abir-shoaib
আরিফুল বিন রশীদ
@muhammad-ariful-bin-rashid
Syed Farah
@syedfarah
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
শ.ম.ওয়াহিদুজ্জামান
@sharifmuhammadwahiduzzaman
অমিত
@amitroy
আহমেদ আরভিন
@sweetsohely
রাত প্রহরী
@mdshouvik



অভিনন্দন