-
ইদুর বিতং
সকালের খাবারের জন্য কী খাবে এসব ভাবতে ভাবতেই শফিক পিসির সামনে বসে পরলো। ঘন্টা খানেক ফেইসবুকে কাটিয়ে দেখে নেট নেই। কিছুক্ষণ নিজের বুদ্ধিতে এদিক সেদিক গুতাগুতি করলো না কোনভাবে ব্রডব্যান্ড এর কানেকশন পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্রডব্যান্ড সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করে সে গেল রান্নাঘরে। ফ্রিজে থাকা দুধ গরম করে তাতে ওটস দিয়ে খেয়ে নিল। কিন্তু মনের মধ্যে তখনও কিছু খাই খাই করছিল। ফ্রিজ খুলে তেমন কিছু পাওয়া গেলনা। ফ্রিজের উপরে পাওয়া গেল এক ফানা সবরি কলা। কলাগুলো মজে গেছে। কবে এনে রেখেছে শফিকের মনে ছিলনা। কিছু না পেয়ে সেই মজা কলাই খেয়ে নিল শফিক।
যেহেতু নেট নেই সেহেতু অলস শফিক কিছুক্ষণের জন্য ছুটি পেয়েছে বলে খুশি হলো। তার কাজ কম্মো বেশিরভাগই ঘরের পিসিতে। নেট নাই তাই সে কতোক্ষণ টিভিতে দিরিলিশ আরতুগ্রুল দেখতে থাকে। এরপর জমিয়ে একটা ঘুম দেয়। ঘুম থেকে উঠে কী রান্না করবে এসব ভাবতে ভাবতে দ্রুত ফ্রিজ থেকে ইলিশ মাছ বের করে ধুয়ে নেয়। এক চিলতে রান্নাঘরের পাশেই একটা আলমিরায় এক বোতল শস্য প্রবর্তনার সর্ষে রাখা ছিল। সেই বোতলটা কী এখনো আছে নাকি বুয়া চুরি করে নিয়ে গেছে কে জানে? বুয়া মাঝে মাঝে তার ঘরের জিনিসপত্র চুরি করার জন্য বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসে। শফিক চক্ষু লজ্জায় বুয়ার ব্যাগ হাতায়না। শফিক নানা সৌখিন জিনিস কিনে আনে সেগুলো খুঁজে পায়না এরপরে। ভাগ্য ভালো আলমিরায় সর্ষের বোতলটা আছে। শফিক চাল ধুয়ে এক চুলায় বসায় আরেক চুলায় সর্ষে ইলিশ বসিয়ে দেয়। রান্না হয়ে গেলে দ্রুত গরম ভাতের সঙ্গে সর্ষে ইলিশ দিয়ে ভাত খেয়ে নেয়। একাকি থাকার একটা ভালো দিক আবিষ্কার করে শফিক যখন যা ইচ্ছে তা রান্না করে খাওয়া যায়। অন্যের পছন্দ ও অন্যের রান্না খেতে হয়না।
বিকেলে ব্রডব্যান্ড এর লোক এসে আবিষ্কার করে ব্রডব্যান্ড এর সংযোগের তারটি ইদুরেরা কেটে রেখেছে। লোকটি তার পালটে সংযোগ ঠিক করে ঠিকই কিন্তু শাসায় যে আর সে বিনা টাকায় তার ঠিক করবেনা। ইদুরের বংশকে শফিককেই নির্বংশ করতে হবে। শফিক কিছু বলে না। ইদুরের বাচ্চারা যখন তার পায়ে ছোয়া দিয়ে যায় তার খুব ভালো লাগে। একাকী ঘরে একটি প্রাণের স্পর্শ খুব ভালো লাগে তার।
ইদুরের কথায় অনেক কিছু মনে পরে তার। ছেলে যখন ছোট ছিল ছেলের সঙ্গে সেও টম এন্ড জেরি দেখতো। ছেলে অনেক খুশি হতো টম এন্ড জেরি দেখে। দুষ্ট জেরিকে মেরে ফেলা শফিকের পক্ষে সম্ভব না। ছেলে এখন বিদেশে অনেক দিন তার সঙ্গে দেখা হয়না। ছেলের সঙ্গে থাকা প্রতিটা স্মৃতিই সে খুব আদরের সঙ্গে লালন করে যেন একটি বহু মুল্যবান বইয়ে রাখা আছে সব স্মৃতি। খুব যতনের সঙ্গে প্রতিটা চরিত্রকে জমিয়ে রাখতে হবে তা নাহলে অনাদরে ছেলের সংগে থাকা সবকিছু হারিয়ে যাবে যা সে কখনো খুঁজে পাবেনা।
ইদুরের বাচ্চাগুলোর দিকে সস্নেহে তাকায় শফিক। আহা! কি আদুরে ছানাগুলো। ইদুর নিয়ে তার ছোটবেলার কতোশত স্মৃতি! একটা দাত পড়লেই তারা ছোটরা সেটা নিয়ে ইদুরের গর্তে ফেলে বলতো:
ইদুর ভাই, ইদুর ভাই
মোর দাত তুই নিবি
তোর দাত মোরে দিবি।ভাই- বোন, বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সেই দিনগুলো কতোই না মধুর ছিল!
1 Comment
Friends
Rokter Sagor
@roktersagor
Promit Chowdhury
@promitchowdhury
Mahmudul Hasan
@mahmudulhasan1
Emran Hasan Najmul
@emranhasannajmul
Arif
@arif1
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Maizbhandari Sufi Academy
@maizbhandarisufiacademy
Sharmin
@sharmin1
Zahidul Islam Roni
@roni03


একদম ঠিক বলেছেন —ভাই-বোন, বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো দিনগুলো আসলেই জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি হয়ে থাকে। তখনকার ছোট ছোট ঘটনা, হাসি-ঠাট্টা, একসাথে খাওয়াদাওয়া, ঝগড়া-অভিমান—সবকিছুই পরের জীবনে ফিরে তাকালে মনে হয় অমূল্য ধন।