Profile Photo

আবু জাফর মহিউদ্দীনOffline

  • abujafour1985
  • শিরোনাম:পরিবারের সকলেই কুরআনের পাখি।
    ধরন: ছোটগল্প

    ছারছিনা একটি আধ্যাত্মিক পবিত্র স্থান। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ছারছিনা গ্রামে অবস্থিত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কামিল মাদরাসা। আমার বাবা ছাত্র জীবন থেকেই ছারছিনা শরীফের পীর মাওলানা আবু জাফর ছালেহ (রহ.) এর ভক্ত ছিলেন। কেন বা ভক্ত হবেন না তিনি ছিলেন, রূহের ডাক্তার। এই রূহের ডাক্তার দুনিয়ায় ডাক্তারের মতো নন।

    আগেই বলেছি ছারছিনা আধ্যাত্মিক স্থান । আনুমানিক ১৯৯০ সাল আমার বাবা ইন্জিনিয়ার হাবিবুল্লাহ। যশোর, মনিরামপুর বি,আই,ডাব্লু,টি,এ অফিসের ষ্টেশন ইন্জিনিয়ার ছিলেন। আমরা চার ভাই-বোন। ছোট ভাই হাফেজ আব্দুল্লাহ এর বয়স দুই বছর আর বোনের বয়স চার হবে।
    আমাদের দেশের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। তাই প্রতি বছর যে দুইটি ঈদ আসে। তার মধ্য ঈদের ফিতরের উৎসব আমরা আব্বার অফিসের সরকারী কুয়াটারেই পালন করতাম আর ঈদের আযহা যেহেতু কোরবানির ঈদ তাই পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করার জন্য কখনো দাদার বাড়িতে আবার কখনো নানার বাড়িতে অংশ নিতাম।

    আজ আমরা দেশের বাড়িতে যাব । খুবই আনন্দ হবে।
    যথা সময়ে আমরা অফিসের গাড়িতে উঠে পড়লাম, গন্তব্য খুলনা রেল স্টেশন। কারণ সে সময় উত্তরাঞ্চলে তথা সিরাজগঞ্জ যাওয়ার নিরাপদ রুট এটাই। তবে সিরাজগঞ্জ যেতে দুই বার ট্রেন পরিবর্তন করতে হয়।
    আর শেষ যে ট্রেনটি পরিবর্তন করতে হয় তা মধ্যে রাত্রে।

    আমরা আনুমানিক দুপুর ১২ টায় খুলনা রেল স্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জ উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। রাত ১২ টায় পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশন অবতরণ করলাম। এখন সিরাজগঞ্জগামী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর রাত ২ টায় ট্রেন ষ্টেশনে পৌঁছালো।

    আমাদের চোখে ঘুম। বলতে গেলে আমরা সবাই ক্লান্ত, এখনই ট্রেনে উঠতে হবে। লাগেজ, কাপড় চোপড়ের ব্যাগ ইত্যাদি বোঝা বহন অনেক কষ্টকর। হঠাৎ এক আগুন্তক অপরিচিত ব্যক্তি সাহায্য করতে এগিয়ে আসলেন। আমার আব্বা ডান হাতে লাগেজ ও বাম হাতে আমার বড় ভাই কে ধরলেন। আম্মা ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে বাম হাতে আমার বোনকে ধরলেন। আর আমি আগুন্তক লোকের সাথে আসলাম।

    এখন আমরা সবাই ট্রেনের দরজার কাছাকাছি। লোকটি প্রথমে দুইটি ব্যাগ ট্রেনে উঠাল,বড় ভাই উঠলো আমার আম্মা ছোট ভাইকে নিয়ে উঠলো, লোকটি আমাকে উঠিয়ে দিলো, আমার আব্বা ট্রেনে উঠলো। কিন্তু চাপাচাপিতে আমার বোনকে ঐ অপরিচিত লোকটি নিয়ে চলে গেল। সে বোনকে ট্রেনে তুললো না।

    ট্রেনে ওঠার পর দেখা গেল আমার বোনটি নাই। হঠাৎ আমাদের মধ্যে এক মর্মান্তিক কালো মেঘের ঘনঘটা। সকলে কান্নাকাটি করছি। এখন কোথায় পাব।
    কোথায় তালাশ করবো। আব্বু ট্রেনে পাঁচ মিনিট আটকে রেখেছে। কিন্তু কোথাও হদিস মিলছে না।
    আর কত সময় ট্রেন আটকে রাখা যায়। রেল স্টেশন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য সদস্যরা হন্যে ষ হয়ে খুঁজছে। চারদিকে মাতাম, কেউ জিজ্ঞেস করে বয়স কত,দেখতে কেমন, কেমন কাপড় পড়ে ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি।

    ট্রেন ১৫ মিনিট আটকে রাখা হয়েছে আশেপাশের জেলার আন্তঃনগর ট্রেন থেমে তারাও চলে গেছে।
    এখন এই ট্রেন ছেড়ে যাবে, হর্ন বাজিয়ে দিয়েছে।

    এখন আল্লাহ তায়ালা একমাত্র ভরসা তিনি পারেন এর মুশকিল আসান করতে।

    আব্বু মানত করলো ছারছিনা লিল্লাহ বোডিং এ পাঁচ হাজার টাকা দিবে। আর দুই হাত তুলে দুচোখের পানি ছেড়ে ফরিয়াদ,হে আল্লাহ! সারা জীবন ছারছিনা দরবারের খেদমত করেছি। তোমার সন্তুষ্টির জন্য , রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ মতে চলার জন্য আমার পীরের কথা মতো আমল করে গেছি।
    হে আল্লাহ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিলা আমার পীরের ওসিলায় আমার মেয়ে সন্ধান দাও। এরই মধ্যে ট্রেন চলতে শুরু করল। সাথে সাথে পীর আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ (রহ.) এর একটি গায়েবি আওয়াজ এলো “মিয়াসাব” সাথে সাথে আওয়াজের দিক তাকাতেই দেখা গেল ঐ লোকটি আমার বোনটিকে একটি চকলেট দিয়ে বসিয়ে সে আরাল করে আছে।
    আমার বাবা আমার বোনকে ঐ লোকটি থেকে টেনে নিয়ে ট্রেনে উঠলো। আর ঐ লোকটির শেষ কথা ছিল আপনি ভাগ্যবান। এখন দেখি সত্যিই আমরা ভাগ্যবান
    কারন ভগ্নিপতি,বোন ও দুই মামা নেছারুদ্দীন- ওজিউদ্দিন সকলেই কোরআনের পাখি। আলহামদুলিল্লাহ।

    3
    2 Comments
    • আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া লেগে আছে তাতে।

    • রেল স্টেশনের সেই ভিড়, মাঝরাত আর হঠাৎ বোনকে খুঁজে না পাওয়ার সেই আতঙ্ক—সবকিছু যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল। বাবার সেই আকুল দোয়া আর শেষ পর্যন্ত বোনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ—সব মিলিয়ে এক হৃদয়স্পর্শী সত্য কাহিনী।

Skip to toolbar