<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | মো. মিকাইল অাহমেদ | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/mekail2/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/mekail2/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for মো. মিকাইল অাহমেদ.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 11 Jun 2026 20:31:07 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">bc56d3e7ed4c183a8ca2894f99fb8d2f</guid>
				<title>আপনহারা গৃহের দিনগুলি

কেমন হবে কবরে আমার প্রথম রাতটি? দুনিয়ায় একটু কষ্ট অনুভূত হলে প্রথমেই ছুটে আসে মা,বাবা। তারপর মহব্বতের টানে এগিয়ে আসে ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী কিংবা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী। স্বার্থের টানেই হোক বা মায়ার টানে কেউ না কেউ আসেই। যে ঘরে নেই কোনো আলো, বাতাসের ব্যবস্থা, দরজা, জানালা, ইন্টারনেট সংযোগও নেই, মোবাইল, কম্পিউটার অকার্যকর, প্রিয়জনের কাছে একখানা চিঠি লিখে বার্তা পাঠানোর কোনো সুযোগ নেই। একই গোরস্তানে হাজার হাজার মানুষের কবর থাকলেও সকলেই মূলত একা। কেউ কারো কোনো সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। কবর সাধারণ কোনো জায়গা নয়। সাপ, বিচ্ছু আর পোকামাকড়ের ঘরবসতি সেখানে। দুনিয়ায় কত রঙিন স্বপ্ন দেখে মানুষ। নিজের পছন্দসই একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি, আলিশান ফ্ল্যাট কিংবা বিশাল কোনো রাজপ্রাসাদ। প্রতিরুমে আলাদা আলাদা রঙের বাহার, ঝাড়বাতি, দামি টাইলস, লাইট, ফ্যান, এসি, তৈজসপত্র, ব্যয়বহুল সব আসবাবপত্র, বেলকনি, প্রশস্ত উঠান, ফুলের বাগান সহ আরো কতো কি। আরামে আরামে দুনিয়ার জিন্দেগী কাটিয়ে দেওয়া তারপর উত্তরাধিকারীদের ভোগ বিলাসের চিন্তা মাথায় রেখে শতবর্ষের স্থায়ীত্ব উপযোগী টেকসই নির্মাণশৈলীর বাস্তবায়ন। কবরে এসবের কিছুই নেই। একটা বালিশ পর্যন্ত দেয়া হয় না; সঙ্গী শুধুই মাটির বিছানা। একটা বার কি অবকাশ মিলেনা যাদের জন্য এত কিছুর মহা আয়োজন, নিজের মাথার ঘাম পায়ের ফেলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আলিশান বাড়ি তৈরি করে দিয়ে গেলেন, আপনি কবরে চলে যাওয়ার পর তারা একটিবার আপনার কবরটি জিয়ারত করবে কিনা, কবরে যখন কষ্টের দিনগুলি কাটাতে থাকবেন তখন তারা আলিশান বাড়িতে শুয়ে শুয়ে আপনার কষ্ট যাতনা অনুভব করবে কিনা, আপনার কবরের আযাব মাফ চেয়ে মহান রবের দরবারে কান্নাকাটি করবে কিনা? নিজের কবরের কথা চিন্তা করার ফুসরত পেলেন না, নিজের গোনাহের ব্যাপারে উদাসীনতায় দিন কাটাইলেন, জীবনভর টাকার পিছনে দৌড়াইলেন; এখন আপনার কি হবে? কবরে একটা দিন অতিবাহিত করা কি এতই সোজা? কষ্টের পর কষ্ট, আযাবের পর আযাব। যতই চিৎকার করেন না কেনো কেউই শুনবে না।

একটিবার ভাবেন তো মিনিট দশেক সময় নিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে। কোলাহল মুক্ত কোনো নির্জন পরিবেশে বসে। ভাবেন আর ভাবেন। ধরুন, আপনি এই মুহুর্তে শুয়ে আছেন অন্ধকার কবরে। পুরো কবরস্থান জুড়ে শুনশান নীরবতা। কবরস্থানের গাছগুলোতে অসংখ্য পাখির কিচিরমিচির কিন্তু আপনি শুনতে পাচ্ছেন না। কবরস্থানের পুরোটায় অসংখ্য গাছগাছালিতে ঠাসা, ফুল, ফলে ভরপুর কিন্তু আপনি খেতে পারছেন না কিছুই। প্রতিটি কবরের উপরে গাছের মনোরম ছায়া কিন্তু কবরের ভিতরে আপনি তীব্র গরমে আর পানির পিপাসায় ছটফট করছেন। কবরস্থানের একেবারে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে স্বচ্ছ পানির সুন্দর একটি নদী কিন্ত আপনি পানি পান করতে পারছেন না। কাউকে বোঝাতেও পারছেন না মনের কাকুতিমিনতি। কেউ আপনার ডাক শুনবেও না। কবর দেশে এসেছেন তিন দশক হয়ে গেলো। প্রথম প্রথম যারা আপনার কথা স্মরণ হলে কবর জিয়ারতে আসতো তারাও এখন আর সেভাবে আসেনা। খুব কাছের, অন্তরঙ্গ বন্ধুগুলি যাদের দুনিয়ায় রেখে গিয়েছেন তাদেরও কেউ কেউ হয়তো আপনার পাশের কবরেই শায়িত অথচ আপনি জানেন না। আর কেউ ঘর-সংসার, ব্যাবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ হয়তো আপনাকে বেমালুম ভুলেও গিয়েছে। যাদের জন্য এতকিছু করেছেন সেই আপন মানুষগুলোও আপনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করে ফূর্তি করে বেড়াচ্ছে, আপনার কথা ভাবার তাদের সময় নেই। হায় আফসোস! কতো রঙিন লাগতো দুনিয়ার জিন্দেগী, কত আপন মনে হতো চারপাশের মানুষগুলোকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/214658/</link>
				<pubDate>Sun, 19 May 2024 13:00:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আপনহারা গৃহের দিনগুলি</p>
<p>কেমন হবে কবরে আমার প্রথম রাতটি? দুনিয়ায় একটু কষ্ট অনুভূত হলে প্রথমেই ছুটে আসে মা,বাবা। তারপর মহব্বতের টানে এগিয়ে আসে ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী কিংবা কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী। স্বার্থের টানেই হোক বা মায়ার টানে কেউ না কেউ আসেই। যে ঘরে নেই কোনো আলো, বাতাসের ব্যবস্থা, দরজা, জানালা, ইন্টারনেট সং&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-214658"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/214658/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">93c564c42bd0af2184aa820451aaf828</guid>
				<title>দুই সাগরের কান্না
দুনিয়ার একদিকে সাহারা মরুভূমি অন্যদিকে আতাকামা মরুভূমি। মরুভূমি তো মরুভূমিই। যেখানে রয়েছে রিক্ততা আর শূন্যতা। একটু পানির স্পর্শ পাওয়ার জন্য তীব্র হাহাকার। দুনিয়াতে দুই শ্রেণীর মানুষ রয়েছে যাদের জীবনে আছে মরুভূমির মতোই হাহাকার। এতিমের কান্না বাবা-মায়ের জন্য আর নিঃসন্তান দম্পতির কান্না একটি সন্তানের জন্য। দুই মরুভূমির অবস্থান পৃথিবীর দুই প্রান্তে হলেও দুঃখের ধরণ একই। 
এতিম কোনদিন পাবেনা বাবা-মায়ের আদর, স্নেহ, ভালোবাসা। অপরদিকে নিঃসন্তান দম্পতি পায়না একটি ফুটফুটে সন্তান যাকে একটু আদর করবে, স্নেহ করবে, ভালোবাসবে। ভেবে ভেবে দুই পক্ষই কাঁদে। কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে যায় আরাল সাগরের মতো। বুকের ভেতরের হাহাকার মরুভূমির মতো হলেও ক্রন্দনরত চোখের জল সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির মতো। এতিম শিশু আজমত কাঁদছে। কাঁদছে নিঃসন্তান দম্পতি জোহরা-জয়নালও। এ যেন পাশাপাশি দুই সাগরের কান্না। 
মাজেদা শুধু এক বাসাতেই বুয়ার কাজ করেনা। জয়নালের বাসায় কাজ সেরে তারপর যায় আয়ানদের বাসায়। জয়নালের বাসা থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিকে মাজেদার দিন চলে না। ঢাকা শহরে জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া দাম। পেটের দায়ে দুই বাসায় কাজ করতে হয় মাজেদার। জোহরা-জয়নালের কষ্টটা মাজেদা বুঝে। দীর্ঘদীন জয়নালের বাসায় কাজ করার ফলে তাদের সাথে হয়ে গেছে মাজেদার আত্মার সম্পর্ক। জোহরার দুঃখ গুলো মাজেদাকেও নাড়া দেয়। গরীব মানুষ অপরের দুঃখ বুঝতে পারে সহজে। জোহরাও অবলীলায় সুখ-দুঃখের কথা শেয়ার করে মাজেদার সাথে। 
জোহরার মাজেদা খালা। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও কিছু কিছু মানুষের সাথে সম্পর্ক হয়ে যায় একেবারে আত্মার। জোহরার সাথে মাজেদার সম্পর্কও ঠিক সেরকম। একটু দুর্বলতার সুযোগ পেলে কাছের মানুষগুলো যখন পর হয়ে যায়, বিষবাক্যে জর্জরিত করে জীবনকে করে তুলে বিষিয়ে ঠিক তখনই অসহায় মানুষগুলো এমন কিছু মানুষের স্বরণাপন্ন হয় যাদের সাথে একটু মন খুলে কথা বলা যায়, সুঃখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়া যায়। তাই শহরের অসহায় মানুষগুলো মিলেমিশে বাস করে। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত না থাকলেও মিল মহব্বত  আছে। আছে মায়া। আছে মমতা।
জয়নালের গ্রামের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। জোহরার বাপের বাড়িও সেখানেই। বিয়ের আগে জয়নাল ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতো। টগবগে তরুণ।  সুন্দর, সুঠাম দেহ। বিয়ের সময় জোহরা সবে কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছে। জোহরাও রূপ লাবণ্যে অন্যন্য। শিক্ষিত, চাকুরিজীবি পাত্র দেখে এমন সম্বন্ধ হাতছাড়া করতে চায়নি জোহরার পিতা। ফলে দুই পরিবারের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয় জোহরা ও জয়নালের। প্রথম প্রথম সংসারজীবন বেশ ভালোই চলছিলো তাদের। বেতন অল্প হওয়ায় বিয়ের পর পরই জোহরাকে ঢাকায় আনতে পারেনি জয়নাল। এখন বেতন বেড়েছে, চাকুরিতে প্রমোশন হয়েছে। ঢাকায় একটি বাসা নিয়ে থাকার মতো সক্ষমতা হয়েছে জয়নালের। একটি সুখের নীড় রচনা করতে চায় সব দম্পতিই। জয়নালের চোখমুখেও ছিলো রঙ্গিন স্বপ্ন। একসময় জয়নালের রঙ্গিন স্বপ্ন ধূসর বর্ণ ধারণ করলো। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস আর সংগ্রামের গল্প। 
জোহরার কপালে শ্বশুরবাড়ির সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বছর পাঁচেক যেতে না যেতেই জোহরার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। শ্বাশুড়ি, ননদ, জা&#039;য়ের নানা কটুবাক্যে জোহরার জীবন হয়ে উঠে বিষময়। কারণ আর কি। ঐ এক বিষয়ই। সন্তান না হওয়া। গ্রাম-বাংলার চিরাচরিত রূপ এটা। সব নব দম্পতির প্রেমালাপ বেশিদিন টিকে না। পারিবারিক নানা চাপ, অপমান, লাঞ্ছনা না গঞ্চনায় জোহরার জীবনে অন্ধকার নেমে আসলো। এই একটা জায়গায় এক নারী আরেক নারীকে বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারেনা। দুটো কটুকথা শুনাবার পারলে কে এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়? নারীর কোমল রূপ আর কোমল থাকেনা তখন। কুসুমের মতো কোমল নারীর হৃদয় হয়ে যায় পাথরের চেয়েও শক্ত। নারীরা এমনিতেই গীবত করতে পটু। দুইজন নারী একত্রে হলে শুরু হয় তৃতীয় কোন পক্ষের বদনাম। আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে এই প্রথা।
কবে নাতি-নাতনীর মুখ দেখবে এই চিন্তায় জোহরার শ্বাশুড়ি অস্থির। পুরুষ মানুষ মহিলাদের মতো ঘ্যানরঘ্যানর পছন্দ করেনা বলে জোহরার শ্বশুর মুখ ফোটে তেমন কিছু বলে না। মনে মনে তিনিও নাতি-নাতনীর মুখ দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সরাসরি না বললেও আকারে- ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন জোহরার শ্বশুর। জোহরা বুঝতে পারে সবই তবে করার থাকেনা কিছুই। সবকিছুতে তো মানুষের হাত নেই। সন্তান দানের একচ্ছত্র ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। সবই আল্লাহর মর্জি। এর বাইরে কোনদিনই সম্ভব নয়। কোনদিনই নয়। একপাক্ষিক অপমান জোহরা কেবল মুখ বুঝে সহ্য করেই যাচ্ছে। শ্বাশুড়ি, ননদ, জা&#039;য়ের প্রতিটি তীর্যক মন্তব্য জোহরার হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়। জয়নাল সবই শুনে, সবই বুঝে কিন্তু করতে পারেনা কিছুই। কষ্টটা জোহরার একার না জয়নালেরও। 
দুইজনেই সন্তান জন্মদানে অক্ষম একথা ডাক্তার বলেনি কখনোই। তাই একজন অপরজনকে দোষ দিতে পারছে না তারা। কোন এক অজানা কারণে তাদের সন্তান হচ্ছে না। জয়নালও আশা পুরোপুরি ছাড়েনি। আল্লাহ চাহেন তো একদিন হয়তো নিশ্চয়ই সন্তান হবে তাদের। ঘর আলোকিত করে আসবে এক নিষ্পাপ অতিথি। জয়নালের শূন্য বুকটা ভরে উঠবে খুশির জোয়ারে। সেই অপেক্ষায় দিন গুনছে জয়নাল। জোহরার দুঃখ নেহায়েত কম নয়। উঠতে বসতে শ্বাশুড়ি আর ননদের অপমান। জয়নাল সবই জানে। এজন্য শিক্ষিত তরুণ জয়নাল জোহরার উপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করতে একদমই আগ্রহী নয়। বিয়ের সময় জোহরার চোখমুখে ছিলো আনন্দের ঝিলিক। সারাঘর আলোকিত করে রাখতো জোহরার মায়াবী হাসি। এখন আর জোহারার মুখে কোন হাসি নেই। চেহারা মলিন হয়ে থাকে জোহরার। 
দেখতে দেখতে এক যুগ কেটে গেছে এই দম্পতির বিয়ের বয়স। দীর্ঘদিন যাবৎ জোহরার মুখে কোন হাসি নেই। না হেসে কতদিন থাকতে পারে একজন মানুষ? জয়নালও হাসে না। বিপদে-আপদে যে মানুষ গুলোর সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তারাই আজ ছুড়ছে বিষাক্ত বাক্যবাণ। প্রতিদিন। প্রতিক্ষণ। চতুর্দিক থেকে আসা তীরের আঘাতে দুজনেই বিধ্বস্ত ওরা। অপমান আর সহ্য হচ্ছে না। এদিকে জোহরাও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কিছু একটা করা দরকার। জয়নাল ভাবে। জোহরাকে ঢাকায় নিজের কাছে নিয়ে আসবে জয়নাল ঠিক করলো। 
একদিন জোহরাকে জয়নালে নিয়ে এসেছে ঢাকায়। জয়নালের পরিবারের কেউই রাজি ছিলো না। পরিবার থেকে চাপ আসছিলো জয়নালকে আবার বিয়ে করাবে। জোহরার মুখের দিকে তাকিয়ে জয়নাল রাজি হয়নি। একটা জীবন প্রয়োজন হলে সন্তান ছাড়াই কাটিয়ে দিতে পারবে সে তবুও জোহরার হৃদয় ভাঙতে পারবে না। জয়নাল না হয় আরেকটা বিয়ে করবে, সুখের নীড় রচনা করবে, সন্তান হবে, ঘর সংসার নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হবে কিন্তু জোহরার কি উপায় হবে? জোহরা কিভাবে সহ্য করবে সারাজীবন? নারী কি শুধু একা দুঃখ পাওয়ার জন্যই জন্মিয়েছে পৃথিবীতে? 
নাহ। জয়নাল এতো নিষ্ঠুর হতে পারবে না। নারীর কষ্ট যে উপলদ্ধি করতে পারে সেই তো আসল পুরুষ। সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলো তারা। তবে কেন আজ দুঃখের ভাগ বইবে না জয়নাল? জয়নাল জানে পুরুষ অক্ষম হলেও নারীরা স্বামীর ভাগ অন্য নারীকে দিতে চায়না কখনোই। এই একটা জায়গায় এসে নারী সত্যিই অপরূপা, অনন্যা। নারীর তুলনা নারী নিজেই। স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি নারী। 
একটা সন্তানের জন্য জয়নালেরও মন কাঁদে। মুখ ফোটে বলতে পারেনা কিছুই। বজ্রকন্ঠের পুরুষও এখানে এসে চুপসে যায়। বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় সন্তান জন্মদানে সক্ষমতা পুরুষের জন্য বিরাট গর্বের বিষয়। পুরুষ মানেই যুদ্ধংদেহী মনোভাব, শৌর্য, বীর্যের প্রমাণ। নারী কটুকথা শুনে ঘরের ভেতরে আর পুরুষকে শুনতে হয় বন্ধুদের আড্ডায়, অফিসে সহকর্মীদের কাছে। বিষের বাণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউই। হোক সে পুরুষ অথবা নারী। 
সন্তানহীনা মেয়েলোকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে দেখা হয়। অবস্থাটা এমন যেন মেয়ে মানুষের জীবনের কোন দাম নেই। সন্তান বংশের প্রদীপ। সন্তানই যদি না হয় বংশে প্রদীপ জ্বালাবে কে? আরো নানারকম কথা শুনাতে ছাড়ে না কেউ। কথাগুলো মানুষ বলে ঠিকই কিন্তু আগেপিছে ভেবে বলেনা। আরেকজনকে ঘায়েল করার জন্য মোক্ষম সুযোগ ছাড়তে চাইনা কেউ। আর আঘাত যদি আসে নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে তাহলে কষ্টটা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। একটা অদ্ভুত, অসুস্থ তৃপ্তি সমাজের কিছু মানুষকে পেয়ে বসেছে। 
অপবাদ শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলো জোহরা। দম বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম। প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকায় দায়। ঢাকায় এসে কিছুটা স্বস্তি মিললো। যদিও সন্তান না হওয়ার ব্যাথাটা রয়েই গেছে। মানসিক যন্ত্রণা থেকে এখনো মুক্তি মেলেনি। জোহরা তারপরেও খুশি। শ্বাশুড়ি, ননদ আর জা&#039;য়ের অত্যাচার থেকে সাময়িক মুক্তি মিলেছে। একা একা কাঁদতে হলেও একটা নিরিবিলি জায়গা দরকার। সে সুযোগটাই এতদিন পাচ্ছিলো না জোহরা। এখন তাহাজ্জুদের নামাজে জায়নামাজে বসে নিজের গুপ্ত বাসনা,  আকুতি, মিনতি গুলো খোদার দরবারে তুলে ধরছে জোহরা। জয়নালও ইবাদতে মশগুল। সন্তান দেওয়ার মালিক যিনি চাইতে হবে তাঁর কাছেই। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনি। তিনি দিনকে রাত করেন, রাতকে করেন দিন। দুঃখের পর সুখ মালিকও তিনি। এ বিশ্বাসে ভর করেই চলছে জোহরা-জয়নালের দাম্পত্যজীবন। বিয়ের পর দেড়যুগ ওরা কাটিয়ে দিয়েছে এভাবেই।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। বেশ কয়েকদিন যাবৎ কোন বৃষ্টি হয়নি। আকাশে মেঘের ছিটেফোঁটাও ছিলোনা। হঠাৎই গতকাল সন্ধ্যায় এক ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেল। বৈশাখের শুরু। কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস। না ঝড়ো হাওয়াই ছিলো শুধু, বৃষ্টি হয়নি একটুও। একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে সবাই।  আল্লাহর কি মহিমা। শেষরাতে নামলো রহমতের বৃষ্টি। সাথে ঝড়, বাতাসের তান্ডব লীলা। কারো ঘরবাড়ি ভেঙেছে। কারো আবার গাছপালা। একপশলা শিলা বৃষ্টিও হয়ে গেলো। যে মরুর বুকে গাছ নেই, গাছের কোন ছায়া নেই, বৃষ্টির সাথে আলিঙ্গন হয়না বছরের পর বছর সেই মরুর বুকে যদি হঠাৎ এমন ঝড়বৃষ্টি হয় তখন কেমন লাগবে ভাবা যায়। ঝড়, বৃষ্টি আর বজ্রপাতের মুহুর্মুহু  আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলা জোহরার।
টিনের চালে শিলাবৃষ্টির তান্ডবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেনি জোহরার স্বামী জয়নালও। দুজনেই ঘুম থেকে ওঠে একেবারে বসে পড়েছে। ঐদিকে বিদ্যুৎও নেই। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে বজ্রপাতের আলোয় ঘরের এদিকওদিক একটু  আধটু দেখা যায়। ঘরে ওরা দুজনেই শুধু।  আর কেউ নেই। বিয়ের বয়স বিশ পেরিয়ে গেছে এখনো কোন সন্তান হয়নি এই দম্পতির। ঝড়ের রাতে ঘর যতোটা না অন্ধকার তারচেয়েও বেশি অন্ধকার লাগে দুনিয়াটা যখন ওদের মনে পড়ে তাদের কোন সন্তান নেই। শুন্যতায় বুকটা হাহাকার করে উঠে। ফুল না ফুটলে বাগানের কী সৌন্দর্য্য! সমাজের মানুষের নানা কটু কথা নিঃসন্তান দম্পতির কষ্ট টা  আরও বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। 
টাকা পয়সার অভাব নেই। ঘরবাড়ি, দামি  আসবাবপত্র, গহনাগাঁটি সবই  আছে। নেই কেবল একটি জিনিস। যার কারণে সাজানো গোছানো সুন্দর রাজপ্রাসাদকেও খাঁ খাঁ শুন্য মরুভূমি মনে হয়। সবই  আল্লাহর ইচ্ছা। এখানে মানুষের কোন হাত নেই।  আচ্ছা মরুর বুকেও তো বৃষ্টি হয়। নাকি হয়না কোনদিন? মরুর বুকে বৃষ্টিপাত দেখার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় এই যা। মনে মনে ভাবে জয়নাল। একা একাই চিন্তা করে সে। জোহরা শুনলে কষ্ট পাবে এই ভেবে জোহরার সাথে সব কথা শেয়ার করে না জয়নাল। জয়নালের যেমন বাবা ডাক শুনার ইচ্ছা তেমনি মা ডাক শুনার ইচ্ছা তো জোহরারও। 
ভাগ্যের লিখন না যায় খণ্ডন। বরং এটা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যারা এটা মেনে নিতে পারেনা তারাই ভোগে চির অশান্তিতে। প্রত্যেকটি কাজের পেছনে, সৃষ্টির পেছনে স্রষ্টার কোন না কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। সব বোঝার, সব দেখার ক্ষমতা তো কোন মানুষকে দেয়া হয়নি। রহস্যের ডালি স্রষ্টার কাছেই থাকুক। ভবিষ্যৎ জানার ক্ষমতা থাকলে কেউ হয়তো সাময়িক সুখী ভাববে নিজেকে কিন্তু বেশিরভাগই হবে  আতঙ্কিত অস্থির। এজন্যই  আল্লাহ তাআলার মানুষের ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা দেননি। নিজের  আসন্ন বিপদের কথা জানতে পারলে কোন মানুষ থাকতে পারবে একমূহুর্ত সুস্থির?
টানা কয়েক ঘণ্টা ঝড় বৃষ্টির পর এবার একটু থামলো। প্রকৃতিতে বয়ে গেলো প্রশান্তির ফল্গুধারা। মূহুর্তেই শান্ত হয়ে গেলো সবকিছু। প্রকৃতির  আচরণেও শিক্ষা  আছে তাদের জন্য যারা চিন্তা করে। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির পরও যে প্রকৃতিতে শান্তি  আসে এটাইতো বড় শিক্ষা।  মানুষের জীবনও তো এমনই। দুঃখের পরই সুখ আসে। এটা জানার পরেও মানুষ কেন এত অধৈর্য হয়? মানুষ  আসলেই অস্থির প্রকৃতির— কুরআনেও আছে একথা। 
আজকের ঝড়বৃষ্টি নিঃসন্তান এই দম্পতির মনে নতুন  আশা জাগিয়ে দিয়েছে। দুজনেই চিন্তা করলো ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যাক। দৃঢ়চেতা জয়নাল। সহজে দমবার পাত্র নয় সে।  আরেকটু চেষ্টা করে দেখা যাক কোন সন্তান হয় কিনা। নিশ্চয়ই  আল্লাহ তাদের দিকে মুুখ তুলে তাকাবেন। এ বিশ্বাস বুকে লালন করে সে। কথামতো নিকটস্থ ফার্টিলিটি সেন্টারে ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়েছে জয়নাল।  আগামী সপ্তাহে সিরিয়াল। দুজনেই বুকে বাসা বাঁধে। বিশ্বাসের বাসা। এ বিশ্বাসে ভর করেই তো সন্তান ছাড়া বিশটি বছর কাটিয়ে দিয়েছে এই দম্পতি। একটি বারের জন্য কেউ কাউকে দোষারুপ করেনি। প্রত্যেকেরই দেহ  আলাদা, মন  আলাদা। কষ্টটা দুজনেরই লাগে। শেলের মতো বিঁধে প্রতিবেশীর মুখের কটুকথা, বাকাদৃষ্টি। ইচ্ছে করে কি কেউ নিঃসন্তান থাকে? একথা প্রতিবেশীদের কে বুঝাবে। 
যথারীতি ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্টের দিন হাসপাতালে হাজির জোহরা-জয়নাল দম্পতি। দুজনের বুকেই উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। একটা নতুন খবর যদি পাওয়া যায়। একটা নতুন আশা। একটা নতুন দিন। হাসপাতালে ঘুরাঘুরি করছিলো ছোট্ট শিশু মুহতাসিম। তার উদ্দেশ্য ফুল বিক্রি করা। এটাই তার পেশা। মা-বাবা কেউ নেই। এতিম, অসহায়। চাচা-চারীর সংসারে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অজানার উদ্দ্যেশ্যে পাড়ি জমায় মুহতাসিম। একদিন লঞ্চে উঠে ঢাকায় আসে সে। বাড়ি বরিশালে। ঢাকায়ও তার কেউ নেই। পথশিশুদের সাথে একসময় সখ্যতা গড়ে উঠে তার। এভাবেই ঢাকার এক বস্তিতে অন্যান্য পথশিশুদের সাথে আশ্রয় মিলে শিশু মুহতাসিমের। এখন রাস্তায় রাস্তায় ফুল বিক্রি করে জীবন চলে তার।
হাসপাতালের নিচতলায় কাউন্টারের পাশে সিরিয়ালের অপেক্ষায় বসে আছে জোহরা-জয়নাল দম্পতি। গ্রিনরোডের হাসপাতালটি একেবারে রাস্তার কূল ঘেষা। সামনে কয়েকটি এম্বুলেন্স দাঁড়ানো। নতুন অতিথির  আগমনে হাসপাতালে নবদম্পতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে যায়  আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কেউ কেউ। এতিম শিশু মুহতাসিম বিষয়টি জানে তাই ফুল বিক্রির আশায় বিভিন্ন হাসপাতালেও ঢুঁ মারে মাঝেমধ্যে। সেই আশায় আজও এই হাসপাতালে এসেছে নাবিল। জোহরা-জয়নাল দম্পতিকে লক্ষ্য করে ডাক দেয় মুহতাসিম। 
- একটা ফুল নিবেন স্যার?
হাসপাতালে ফুল দিয়ে কি করবে জয়নাল ভাবতে পারে না সে। ফুল তো বিক্রি করে দোকানে অথবা রাস্তায়। পরক্ষণেই তার মনে হলো কঠিন কোন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রোগীকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল দিতে আসে কেউ কেউ। জয়নাল ফুল দিয়ে করবেটাই বা কি তাও আবার হাসপাতালে। এই ফুলের সুভাস কিংবা সৌরভ থাকবেই বা আর কয়দিন? 
জয়নালের দরকার এমন একটি ফুল যা তার সারাবাড়ি সুভাস ছড়াবে। খেলবে, দৌড়াবে। মাতিয়ে রাখবে বছরের পর বছর। এতিম শিশু মুহতাসিমের দিকে তাকিয়ে খুব মায়া হলো জয়নালের। পরনে ছেড়া, জীর্ণ-শীর্ণ কাপড় হলেও চেহারায় পবিত্রতা সুস্পষ্ট। শিশুরা ফুলের মতো পবিত্র, কোমল ও নিষ্পাপ। জয়নালের ফুল কেনার কোন ইচ্ছে ছিলো না। শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবলো একটি ফুল নেয়া যাক। শিশুটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো জয়নাল। ফুল বিক্রি করতে পেরে মুহতাসিমের চোখমুখে আনন্দের ঝিলিক। যেই বয়সে খেলনা দিয়ে খেলার কথা সেই বয়সে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি সে। তারপরেও মনে কোন ক্ষোভ নেই। কয়টা ফুল বিক্রি করতে পারলেই সে মহাখুশি। নিতান্তই বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে ফুল বিক্রির পেশায় এসেছে।
এতক্ষণ সবকিছু শুনছিলো জোহরা। মুহতাসিমের গায়ে ময়লা, ছেড়া পোষাক দেখে জোহরারও খারাপ লাগলো। মনে হচ্ছে কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো খাবারও খায়নি ছেলেটা। মেয়েদের মায়ের মন। জোহরা জিজ্ঞেস করেই বসলো মুহতাসিমকে। বাড়িতে তোমার কে কে  আছে?
মুহতাসিম কোনো উত্তর দেয় না। চুপ করে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। জোহরার কৌতূহল আরও বেড়ে গেলো।  আবারো জিজ্ঞেস করে জোহরা।
- তোমার বাবা-মা নেই?
মুহতাসিম এবারও নিরুত্তর। কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না সে। ছোট শিশু হলেও আবেগ অনুভূতি তো সবারই  আছে। মা-বাবার কথা জিজ্ঞেস করতেই চোখ দুটো পানিতে ভিজে এলো তার। একপর্যায়ে বলে উঠলো মুহতাসিম। মা-বাবা কেউ নেই তার। সে এতিম। খুব ছোটবেলায় মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছে সে। মা-বাবার চেহারাও স্পষ্ট মনে করতে পারেনা এখন।
যেদিন বাড়ি ছেড়ে বরিশালের লঞ্চে উঠে ঢাকায় এসেছিলো এখনো সে কাপড়টিই মুহতাসিমের পরনে। মনে হচ্ছে একবারের জন্যও জামাটি কেউ ধুয়ে দেয়নি। মা-বাবা হারা এতিম শিশুকে কে দিবে নতুন জামা কিনে? এতিমের দুঃখ সকলে বুঝেনা। অসুখ করলেও সেবা করার কেউ নেই। একা একাই কাঁদতে হয়। এতিম শিশু মুহতাসিমের ঢাকায় কোন অভিভাবক নেই। জোহরা-জয়নাল দম্পতির মনে খুব দাগ কাটলো বিষয়টা। একটি সন্তানের জন্য জোহরা-জয়নাল দম্পতির জনম জনমের অপেক্ষা আর এতিম শিশু মুহতাসিম অপেক্ষা মা-বাবার একটু  আদর, স্পর্শের। একটু কান্না করার জন্য হলেও তো মায়ের আঁচলটা দরকার। আর বাবার কাছে বায়না ধরা। নানা জিনিস পাওয়ার আবদার। মুহতাসিমের তো কেউ নেই। কোথায় যাবে সে? 
এরকম ফুটফুটে শিশুকে একা ফেলে যেতেও মনে সায় দিচ্ছে না জোহরা-জয়নালের। নিজেদের সন্তান হলে কি তারা এভাবে অনিরাপদ পরিবেশে রাস্তায় ফেলে যেতে পারতো? ভয়ে গা শিহরিয়ে উঠবে না? আল্লাহর পরিকল্পনা হয়তো এরকমই ছিলো। নিঃসন্দেহে আল্লাহর পরিকল্পনা উত্তম। এতিম শিশু মুহতাসিমকে নিজেদের বাসায় নিয়ে এসেছে জোহরা-জয়নাল দম্পতি। সমগ্র বাড়িতে খুশির জোয়ার বইছে। মুহতাসিম খেলছে, দৌড়াচ্ছে। ফুলহীন বাগানে ফুল ফুটেছে। গরীবের টিনের ঘর রাজপ্রাসাদের চেয়ে বেশি  আলোকিত  আজ। এ যেন চাঁদের হাট বসেছে। মুহতাসিমের চোখে-মুখে  আনন্দের বন্যা। মা-বাবা দুজনকেই পেয়েছে সে। জোহরা-জয়নাল দম্পতিও বেজায় খুশি। প্রশান্তি অনাবিল। নিঃসন্তান দম্পতির আর মন খারাপ করে থাকতে হবেনা। এমন বোধোদয়টা হতো যদি সবার! সকল এতিম শিশুই পেত একটু মাথা গুঁজার ঠাঁই।
আল্লাহ কার ভাগ্য কিভাবে লিখে রেখেছেন কেউ জানে না। মুহতাসিমকে পেয়ে জয়নালের আনন্দের সীমা নেই। জয়নালের শূন্য বুকটা ভরে উঠছে এবার। সমস্ত হাহাকার নিমিষেই কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। জোহরা-জয়নাল এখন একটু আনন্দ প্রকাশ করুক। এতদিন তো সান্ত্বনা দিতেও কেউ আসেনি। তীরের ফলায় বিদ্ধ করেছে শুধু। সমালোচকদের কাজই সমালোচনা করা। সমালোচকদের সব কথায় কান দিতে নেই। এতে অনর্থক দুঃখ বাড়ে। কাজের কাজ কিছুই হয় না।
নতুন পরিবেশে  আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছে মুহতাসিম। মুহতাসিম কখনো কল্পনাও করেনি তার ভাগ্য এভাবে বদলে যাবে। এখন আর মন খারাপ হয়না মুহতাসিম। দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য বোতল কুড়াতে হয়না। মা, বাবা, পেট পুরে খাবার, থাকার জায়গা সবই পেয়েছে সে। একটু ভালো খাবারের আশায় কতদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছে সে। দয়াপরবশ হয়ে কেউ না দিলে কপালে জুটেনি। এত প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও অতীত ভুলেনি মুহতাসিম। একটু সময় পেলেই বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যায়।  আজমত তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজমত খুবই খুশি হয়েছে বন্ধুর একটা আশ্রয় মিলায়। আজমত মুহতাসিমকে খুব ভালোবাসে। ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করে। ওরা দুজনেই এতিম তাই এদের মধ্যে কোন হিংসা নেই। 
এ খুশির সংবাদটা মাজেদা খালাকে দেয়ার জন্য সকাল থেকেই জোহরা অপেক্ষা করছে। মাজেদা খালা নিশ্চয়ই খুশি হবে এমন সংবাদে। মাজেদা এসেছে একটু বেলা করে। মাজেদা বাড়িতে ঢুকতেই জোহরা জড়িয়ে ধরেছে তাকে। জোহরার  আনন্দ  আর দেখে কে। মাজেদা খালা শুরুতে বুঝতে পারেনি কিছুই। এতদিন যার মুখে একটিবারের জন্যও হাসি দেখেনি সেই জোহরার আজ বাঁধভাঙা উল্লাস। মাজেদা কিছুক্ষণের জন্য থ বনে রইলো। কৌতূহল চেপে রাখতে না পারে মাজেদা জিজ্ঞাসা করে।
- আইজ এতো খুশির কারণ কিগো মা? তোমারে কোনদিন দেখি নাই অত খুশি হয়তে। খবর আছে নি কোন? জোহরা একগাল হেসে দেয়। কতবছর ধরে জোহরা হাসে না। জোহরা বিস্তারিত জানায় মাজেদাকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। মাজেদা আকাশের দিকে তাকিয়ে শুকরিয়া আদায় করে আর বলে আলহামদুলিল্লাহ। মাজেদা ভীষণ খুশি। মাজেদা মন খুলে দোয়া করে জোহরা, জয়নাল আর মুহতাসিমের জন্য। আরো বলে এতদিনে একখান ভালো কাজ করছো তোমরা। দোয়া করি আল্লাহ তোমাদের সুখি করুক। 
জোহরার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার বস্তিতে ফিরে আসে মাজেদা। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ক্লান্ত দেহে শুয়ে পরে মাজেদা। কিন্তু ঘুম আসছে না মাজেদার। আজমত ঘুমিয়ে পড়ছে। ঘুমন্ত এতিম ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে মাজেদার খুব মায়া হলো। যেদিন থেকে মাজেদার সাথে পরিচয় সেদিন থেকে অন্য কোথাও যায়নি আজমত। মাজেদাও বৃদ্ধ হয়েছে। আগের মতো চলতে-ফিরতে পারেনা। শরীরে সায় দেয় না। অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্তি ভর করে দেহে। কোনদিন পরপারে যাওয়ার ডাক আসে কেউ জানে না। মাজেদা চলে গেলে আজমতের কি হবে, কোথায় যাবে সে, কে তাকে আশ্রয় দিবে এসব ভাবতেই মাজেদার দুচোখ গড়িয়ে পানি পড়তে লাগলো। রক্তের সম্পর্ক নেই, বংশের সম্পর্কও নেই অথচ দুটি প্রাণ কি এক মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে গেছে সময়ের পরিক্রমায়। মুহতাসিমের মতো আজমতের একটা গতি হলে মাজেদা শান্তি পেতো, দুশ্চিন্তা মুক্ত হতো।
অক্টোবরের শেষ দশক। প্রকৃতিতে হালকা কুয়াশা পড়েছে। হিমশীতল আবহাওয়া। শীত আসি আসি করছে। অতিষ্ঠ গরমের যন্ত্রণা থেকে মাস কয়েকের মুক্তি মিলবে। হেমন্ত জয়নালের প্রিয় ঋতু। কারণ হেমন্তুে একদিকে গরমের তেজ কমে আসতে থাকে অন্যদিকে একটু শীত শীত ভাব। সবমিলিয়ে অপূর্ব একটা ঋতু। জোহরার প্রিয় ঋতু বর্ষা।  ঝুমবৃষ্টি তার ভালো লাগে। আকাশের যেদিন মন খারাপ থাকে, ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশটা, একটা প্রশান্তির বৃষ্টি এসে সব মেঘ দূর করে দেয়। তারপর দেখা মেলে ঝকঝকে, তকতকে আকাশের। সেই মুহূর্তটা জোহরার দারুণ লাগে। আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে জোহরা আর মনে মনে ভাবে ঈশ! আকাশের মেঘটার সাথে জোহরার মনের দুঃখ গুলো উড়িয়ে দিতে পারতো যদি! আর কেউ না শুনলেও আল্লাহ শুনে জোহরার হৃদয়ের কাকুতিমিনতি। এটা জোহরার বিশ্বাস।
স্রষ্টার প্রতি এই বিশ্বাসই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে যুগের পর যুগ। কত ঝড়-ঝঞ্চা আসে মানুষের জীবনে। কেউ একবারে ভেঙ্গে পরে, কেউবা হয় দিশেহারা। কেউবা শিক্ষা নেয়, নতুন উদ্যোমে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। মানুষের ভাগ্য যিনি লিখেন, ভাগ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা কেবল তাঁরই। ঝড় যতো শক্তিশালীই হোক, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তি যদি হয় মজবুত তাহলে সে ঝড় মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারে না। সবকিছুই আল্লাহর হাতে। 
এক ইলাহতে বিশ্বাসী মানুষকে টলাতে পারেনা কেউ। স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস পাথর, সিমেন্ট, রডের গাঁথুনির মতো এতো ঠুনকো নয় যে ভূমিকম্পে দেবে যাবে না হয় ভেঙে যাবে। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তিমূল সুদূঢ়। যত বড় বিপদ-আপদ কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগই আসুক না কেন আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মানুষগুলোর বিশ্বাসে বিন্দুমাত্র ফাটল ধরাতে পারেনা। অদৃশ্য বিশ্বাসের দেয়ালই সবচেয়ে শক্তিশালী। যে দেয়ালের কাঁচামাল স্রষ্টার প্রতি প্রেম, ভালোবাসা ও আনুগত্য। এ প্রেমের টানেই স্রষ্টার প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় জোহরা ও জয়নাল। সিজদায় কপালটা লুটিয়ে দেয় মহান প্রভুর দরবারে। 
কেবলমাত্র সন্তান লাভই চূড়ান্ত সফলতা নয়, সন্তান জন্মদানে সক্ষমতাই পুরুষের শৌর্য, বীর্যের পরিচয় নয়। পুরুষের দায়িত্ব নানাবিধ। সন্তানকে সুশিক্ষিত করে যাওয়া, দেশপ্রেমের সবক দেয়া পুরুষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। জয়নালের পরিবারের নতুন অতিথি মুহতাসিমকে ঘিরে জয়নালের নানা স্বপ্ন। ফুটফুটে শিশু, ঠোঁটের কোণে মিষ্টি লাজুক হাসি। অনাদরে, অবহেলায় বেড়ে উঠেছে মুহতাসিম। তাকানো যেত না মাসুম বাচ্চাটার দিকে। যে কারো মায়া লাগতে বাধ্য। না জানি কতদিন, কতরাত না খেয়েছে কাটিয়েছে সে। এবার একটু প্রাণ ফিরে পাবে। 
হেমন্তের শেষে শীতের আগমন। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারপাশ। মুহতাসিমের জন্য শীতের গরম কাপড় কিনতে বেড়িয়েছে জয়নাল। আর ঐদিকে খেজুরগুড় দিয়ে শীতের ভাপা পিঠা বানাচ্ছে জোহরা। নিমন্ত্রণ করেছে মাজেদাকেও। আশেপাশের বাসার কয়েকঘর প্রতিবেশীদের দিয়েছে পিঠাপুলির দাওয়াত। সারাবাড়িতে উৎসবের আমেজ। জোহরা-জয়নাল দুজনেই রোমাঞ্চিত। নতুন নতুন খেলনা পেয়ে উচ্ছসিত মুহতাসিমও। নিরানন্দে পড়ে থাকা বাসাটায় প্রাণের স্পন্দন। মুহতাসিমের মুখে আব্বা-আম্মা ডাক কলিজায় প্রশান্তি এনে দেয় জোহরা ও জয়নালের। পৃথিবীটা মানুষের হোক।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/213992/</link>
				<pubDate>Wed, 08 May 2024 08:17:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দুই সাগরের কান্না<br />
দুনিয়ার একদিকে সাহারা মরুভূমি অন্যদিকে আতাকামা মরুভূমি। মরুভূমি তো মরুভূমিই। যেখানে রয়েছে রিক্ততা আর শূন্যতা। একটু পানির স্পর্শ পাওয়ার জন্য তীব্র হাহাকার। দুনিয়াতে দুই শ্রেণীর মানুষ রয়েছে যাদের জীবনে আছে মরুভূমির মতোই হাহাকার। এতিমের কান্না বাবা-মায়ের জন্য আর নিঃসন্তান দম্পতির কান্না একটি সন্তানের জন্য।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-213992"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/213992/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5270630b5a47390ee244f81bf58d5926</guid>
				<title>প্রমোদ ভিলা

বড় কন্যা তহুরা যেদিন দুনিয়ায় এলো সেদিনও শহীদ দূর প্রবাসে ছিলো। সরাসরি কন্যার আদুরে মুখখানি দেখতে না পারলেও ভীষণ খুশি হয়েছিলো শহীদ। কন্যার আগমনের সংবাদ শুনামাত্রই শহীদ শুকরিয়া জ্ঞাপনে মহান রবের দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়লো। মহামহিম আল্লাহ নিজে খুশি হয়ে শহীদকে একটি কন্যা সন্তান দান করেছেন এরচেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে! কারণ শহীদ জানে রবের ইচ্ছা ছাড়া কোনো নারী গর্ভধারণ করতে পারে না। নিঃসন্তান দম্পতির সংখ্যা দিন দিন কেবল বেড়েই চলেছে। কাতারে শহীদের সহকর্মী আরেক প্রবাসী বশির। বাড়ি খুলনা অঞ্চলে। প্রবাস জীবনে শহীদের অতি কাছের লোক। দূর প্রবাসে নিজ দেশের মানুষদের প্রতি একটা আবেগ কাজ করে। পরিবার পরিজন, আত্নীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের ছেড়ে আসা মানুষগুলো দূর প্রবাসে দেশের মানুষদের সন্ধান পেলে ভীষণ আনন্দ পায়। অল্পদিনেই তাদের মধ্যে হৃদ্যতার সম্পর্ক তৈরি হয়। সুখ-দুঃখের কথা বলার একটা মানুষ পাওয়া যায়। প্রবাসী সহকর্মী বশির বিয়ে করেছে আঠারো বছর হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো কোন সন্তানের পিতা হতে পারেনি। কখনো সন্তানের মুখ দোখার সৌভাগ্য হবে কিনা সেটাও বশির জানে না। তবুও আশায় দিন গুনে। মহান রবের উপর থেকে ভরসা হারালে হতাশা দ্বিগুণ হয়। সন্তানহীন বশিরের সীমাহীন কষ্টের কথা শহীদ এতদিন নিজ কানে শুনে এসেছে। সেই থেকেই শহীদ জানে সন্তান লাভ কতটা স্বস্তিদায়ক। হোক না ছেলে অথবা মেয়ে সন্তান। যার কোন সন্তানই নেই একমাত্র সে ই বুঝে কন্যাসন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে কত বড়ো নিয়ামত। সন্তানহীন বশিরের শূন্য বুকটা চৈত্রমাসের তীব্র গরমে বৃষ্টির জন্য হাহাকার করতে থাকা আরবের মরুভূমির মতো। আর বশিরের চোখ দুটো যেন একটি সন্তানের জন্য দীর্ঘ আঠারোটি বছর কান্না করতে করতে শুকিয়ে যাওয়া জলশুন্য আরাল সাগর।

শহীদ দুই কন্যাসন্তানের জনক। বড় সন্তান তহুরার বয়স যখন পাঁচ তখনই তারা বাবা শহীদ মারা যায়। ছোট বোন তূবা তখনও দুনিয়ার আলো দেখেনি। তূবা মাতৃগর্ভে থাকাকালীন তার বাবা ইহলোক ত্যাগ করে। এতিম দুটি কন্যাকে নিয়ে তাদের মা সুরাইয়ার কপালে তখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি আর নেই। মাসুম দুটি বাচ্চাকে নিয়ে কি করবে সুরাইয়া ভেবে পাচ্ছে না। কোন পথে যাবে কোন কূলকিনারা পাচ্ছে না। স্বামী মারা যাবার পর শ্বশুর বাড়ির লোকেরাও তাদের সাথে আর ভালো ব্যবহার করছে না। সম্পদের লোভে শ্বশুর বাড়ির লোকদের অকথ্য, অশ্রাব্য ভাষায় গালগাল আর অত্যাচার নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্বামীহারা বিধবা নারী সুরাইয়া কষ্ট বেড়েই চলছে। একেতো আয় রোজগারের কোন বন্দোবস্ত নেই তার ওপর কাছের মানুষগুলোর অসহনীয় নিপীড়নে সুরাইয়া একরকম ক্লান্ত। চোখের কোণে কালো দাগ পড়ে গেছে। পর পর দুইটি ঈদ চলে গেছে সুরাইয়া তার বাচ্চাদের কোন নতুন জামা কিনে দিতে পারেনি। নিজের জন্যও কোন শাড়ি কেনা হয়নি। সুরাইয়ার স্বামী গত হয়েছে আজ ছয় মাস। তিনবেলা খেতেও পারেনি। এতিম মেয়ে দুটো সুরাইয়ার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। শ্বাশুরি, দেবর, ননদের ক্রমাগত অত্যাচারে সুরাইয়া স্বামীর ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। উপায়ন্তর না দেখে একদিন মেয়ে দুটোকে বুকে জরিয়ে স্বামীর ভিটা ছেড়ে চলেই গেলো সুরাইয়া। যাবার সময় সুরাইয়া বারবার তাকাচ্ছিলো স্বামীর ঘরখানার দিকে। কত আশা, কত স্বপ্ন বুকে নিয়ে বিয়ের লাল টুকটুকে শাড়ীখানা পড়ে সুরাইয়া এসেছিলো প্রবাসী স্বামীর ঘরে। সুরাইয়ার স্বামী শহিদ ছিলো কাতার প্রবাসী। বড় মেয়ে তহুরাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো শহীদের। ছোট মেয়ে তূবার মুখখানি দেখে যাওয়ার সুযোগ হয়নি শহীদের। 

বারো বছরের প্রবাস জীবনে টাকা পয়সা কম কামাইনি সে। বাবা না থাকায় বড় ভাই হিসেবে ছোট ভাই বোনদের মানুষ করার গুরু দায়িত্ব এসে পড়ে শহীদের কাঁধে। এক এক করে ৪ জন বোনের বিবাহ দিয়েছে শহীদ। নিজের টাকায় ছোট ভাইকে পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। শহীদের প্রবাস জীবন খুব একটা সুখের ছিলো না। প্রবাস জীবনের প্রথম দিকে বেতনও পেতো না নিয়মিত। আর পরিবারে একটা না একটা অভাব অনটন লেগেই থাকতো। পরিবারের সকলের সুখের কথা চিন্তা করে নিজের সুখের কথা ভাবার ফুসরতই পায়নি সে। একদিকে বয়স পঁয়ত্রিশের কোঠায়। অন্যদিকে ছোট ভাইবোনদের প্রতিষ্ঠিত করার চিন্তা। দুশ্চিন্তা, পেরেশানিতে শহীদের মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। রাতে ঘুম হয়না ঠিকমতো। এরইমধ্যে একবার ছুটিতে দেশে গরীব ঘরের মেয়ে সুরাইয়াকে বিয়ে করে শহীদ। সুরাইয়া গরীব হলেও দেখতে সুন্দরী ছিলো। বিয়ের বাজারে সুন্দরী মেয়েদের কদর বেশী। দিনকাল চলছিলো ঠিকঠাক। সুরাইয়াকে অনেক স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিলো শহীদ। ছিলো একসাথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার দৃঢ় অঙ্গীকার। যত বাঁধা-বিপত্তিই আসুক কেউ কাউকে ছেড়ে না যাওয়ার পণ করেছিলো। কে জানতো তাদের এই পণ বেশিদিন আর স্থায়ী হবেনা। সুরাইয়াও ভাবতে পারেনি দুজনার দুটি পথ দুইদিকে যাবে বেঁকে। হঠাৎ একদিন খবর এলো শহীদ আর নেই। প্রবাসে স্ট্রোক করেছে সে। সাথে সাথেই মৃত্যু। হাসপাতালে নেওয়ারও সুযোগ হয়নি। দুঃসংবাদটি শুনে সুরাইয়া কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে রইলো। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না। শহীদের লাশ যেদিন দেশে আসলো পরিবারের কেউই শহীদের লাশ আনতে এয়ারপোর্টে যায়নি। যাদের সুখের জন্য শহীদ প্রবাসে গিয়েছিলো, যাদের সুখের কথা ভেবে শহীদ নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়েছে এতকাল, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে যাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এতদিন তারাই আজ অচেনা হয়ে গেছে। পরিবারের মানুষগুলো বড্ড স্বার্থপর। আসলে মানুষ ভালোবাসে প্রবাসীর টাকা, প্রবাসীকে নয়। বুঝতে অনেক দেরি হয়ে যায় এই যা। চারাপাশে মুখোশধারী মানুষের অভাব নেই। স্বার্থ ফুরোলোই চম্পট। কত মেহনতের অর্থ দিয়ে একতলা একটি বিল্ডিং বানিয়েছিলো শহীদ। সুপ্রশস্ত বারান্দা, টাইলস, লাইটিং, ফিটিংস কোন কিছুই বাদ দেয়নি শহীদ। আজ সেই বিল্ডিংয়েই জায়গা হচ্ছে না শহীদের স্ত্রী-সন্তানদের। দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে শ্বাশুরি, দেবর, ননদেরা। এতকাল তারা শুধু ভালো মানুষের মুখোশ পড়া ছিলো। শহীদের সাজানো বাগানে মুখোশধারী মুনাফিকেরা আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত। কার সম্পদ কে ভোগ করে! এতিম শিশু সন্তান দুটোকে বুকে নিয়ে সুরাইয়া আজ স্বামীর ভিটা ছাড়া। সুরাইয়া কি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পেরেছিলো সুখের দিনগুলো এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। হিশাব একদিন দিতে হবে। আজ নয়তো কাল হাশরের ময়দানে। শাড়ীর আঁচল দিয়ে চোখের অশ্রু মুছে সুরাইয়া। আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা ন্যায়বিচার থেকে যেন সুরাইয়ার এতিম দুটো মেয়ে যেন বঞ্চিত না হয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/213767/</link>
				<pubDate>Sat, 04 May 2024 08:37:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রমোদ ভিলা</p>
<p>বড় কন্যা তহুরা যেদিন দুনিয়ায় এলো সেদিনও শহীদ দূর প্রবাসে ছিলো। সরাসরি কন্যার আদুরে মুখখানি দেখতে না পারলেও ভীষণ খুশি হয়েছিলো শহীদ। কন্যার আগমনের সংবাদ শুনামাত্রই শহীদ শুকরিয়া জ্ঞাপনে মহান রবের দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়লো। মহামহিম আল্লাহ নিজে খুশি হয়ে শহীদকে একটি কন্যা সন্তান দান করেছেন এরচেয়ে বড় আনন্দের আর কি হতে পারে! কারণ শহীদ জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-213767"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/213767/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c6d2e81823c687bd77c92d1b102f6f17</guid>
				<title>কল্পদ্বীপ 
কল্পদ্বীপ। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। কয়েক শতাব্দী পূর্বেও এ দ্বীপ ছিলো একেবারে অপরিচিত, জনশূন্য। ৫০ বছর পূর্বে এ দ্বীপটি আবিষ্কার করেন আমজাদ আলী। সমুদ্রভ্রমণ তার ভীষণ প্রিয়।  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হলেও তিনি বাস করেন সিঙ্গাপুরে। বাবার ব্যবসায়িক কাজে সঙ্গী হয়ে শৈশবেই পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। সেই থেকে সিঙ্গাপুরেই বেড়ে উঠা, পড়ালেখা এবং বসবাস। নতুন নতুন আবিষ্কার ও রহস্য খোঁজা তার নেশা। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সিঙ্গাপুরের এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। তিনি বিজ্ঞানমনস্ক। তার সকল গবেষণা বিজ্ঞান কেন্দ্রীক। গবেষণাও করেন নিয়মিত। গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে নামকরা সব জার্নালে। বিজ্ঞান বিষয়ক কনফারেন্সে যোগ দিতে প্রতিবছরই তিনি ছুটে যান ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিজেও সম্পাদনা করেন কয়েকটি বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল। বিজ্ঞানের নানান বিষয়ে রয়েছে তার গবেষণার পারদর্শিতা। 
গ্রীষ্মকালীন অবকাশে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে গেলো। প্রফেসর আমজাদ আলীও পেয়েছেন অবকাশ যাপনের অফুরন্ত সময়। আমজাদ আলী নিজের আবিষ্কৃত কল্পদ্বীপে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। এবার সাথে করে তিনি একজোড়া মেষশাবক আর পছন্দের একটি বিড়াল ছানা এনেছেন কল্পদ্বীপে। দ্বীপটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একদম গহীন সমুদ্রে অবস্থিত। অর্ধশতাব্দী পূর্বেও এ দ্বীপে কোন জনবসতি ছিলোনা। কিন্তু ধীরে ধীরে লোকসংখ্যা বেড়েছে এ দ্বীপে। এখন প্রায় পাঁচশোর উপরে মানুষের বসবাস রয়েছে দ্বীপটিতে। 
এটি এমন এক দ্বীপ যেখানে সমুদ্র থেকে মাছ ধরা আর অল্প কিছু জমিতে চাষাবাদ করা ছাড়া অন্য কোন উপায়ন্তর নেই। দ্বীপটি বহির্বিশ্ব থেকে একরকম বিচ্ছিন্নই বলা যায়। কোন ইন্টারনেট সংযোগ নেই, মুঠোফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই তাই সোলার প্যানেলেই ভরসা। এ দ্বীপে এমন মানুষজনই বসতি গড়তে আসে যাদের কোন পিছুটান নেই। বলতে গেলে অতীত জীবন নিয়ে যাদের কোন স্মৃতিকাতরতা নেই। খুব বেশি চাওয়া-পাওয়াও নেই। লোকালয়ে যারা কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেনি, প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে পারেনি, নিকটাত্মীয় মানুষগুলোর প্রিয় হতে পারেনি, সমাজে যোগ্য সম্নান লাভ করতে পারেনি, প্রতারিত, বিতাড়িত, অবহেলিত, লাঞ্চিত, বিষণ্ন ও হতাশ মানুষগুলো এসে জড়ো হয়েছে এখানে। নানান দেশের, নানান জাতের, নানান বর্ণের ও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস এ দ্বীপে। পুরোপুরি ধার্মিক মানুষ যেমন রয়েছে এ দ্বীপে, তেমনি রয়েছে ধর্ম সম্পর্কে একেবারে উদাসীন কিংবা স্রষ্টায় অবিশ্বাসী নাস্তিক মানুষও।
এ দ্বীপে মুসলমানের আধিক্য বেশি। আরব, আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ সহ পৃথিবীর নানা প্রান্তের মুসলমানগণ এসে জড়ো হয়েছেন এখানে। হিন্দুরা দ্বিতীয় সংখ্যা গরিষ্ঠ। আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া থেকে যেমন খ্রিষ্টানরা এসেছে তেমনি চীন, জাপান, কোরিয়া থেকে এসেছে কিছু সংখ্যক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ। মালয়েশিয়ান, ইন্দোনেশীয় মুসলমানেরা সংখ্যায় বেশি। কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা কোন ধর্মেই বিশ্বাসী না, স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে বলেও স্বীকার করেনা। তারা এসেছে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে। এদের মধ্যে কিছুসংখ্যক রয়েছে পর্যটক শ্রেণীর যারা এ দ্বীপ ভ্রমণ করতে এসে আর কখনো নিজ দেশে ফিরে যায়নি।
আয়তনে ছোট হলেও দ্বীপটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। ছোটা ছোট পাহাড়, সবুজ গাছ-গাছালি আচ্ছাদিত, পাখ-পাখালি মুখরিত। কিছু গবাদিপশুও রয়েছে। গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি ইত্যাদি। কৃষিকাজই এ দ্বীপের মানুষজনের প্রধান কাজ। কিছু মানুষ জেলে। গহীন সমুদ্র নৌকায় দিয়ে মাছ ধরে। কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলেও নিরাপত্তার ঘাটতি। এ দ্বীপ বহির্বিশ্ব থেকে পুরোপুরি আলাদা। লোকালয়ের সাথে এ দ্বীপের মানুষের তেমন কোন সংযোগ নেই। তাদের চাহিদা সীমিত তাই পেরেশানি কম। চোর, ডাকাতের ভয় নেই। ঘরে দরজা লাগিয়ে ঘুমাতে হয় না। অপরাধ করে এ দ্বীপে কেউ পার পাবেনা। কোন এয়ারপোর্ট নেই। ট্রলার, জাহাজই সম্বল। চারাপাশে যতদূর চোখ যায় শুধুই বিস্তীর্ণ জলরাশি। থৈ থৈ পানি আর আকাশ ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনা।
এ দ্বীপের বাসিন্দাদের কারো বড়লোক হবার তাড়না নেই, বিখ্যাত হবার বাসনা নেই, পরস্পর পরস্পরকে ছাড়িয়ে যাবার লোকদেখানো কোন প্রতিযোগিতা নেই, আয় রোজগারের মাপকাঠি নেই, বাগাড়ম্বর নেই, নেই জীবনযাপনের মানদণ্ড ও। সাদামাটা অনাড়ম্বর জীবনচিত্র। একরকম অদ্ভুত এ দ্বীপের মানুষজনের জীবনযাপন। এজন্যই বুঝি এ দ্বীপের নাম কল্পদ্বীপ। দ্বীপের নামকরণ করেছেন প্রফেসর আমজাদ আলী নিজেই। এ দ্বীপ ছাড়া পৃথিবীর কোন প্রান্তেই এরকম মানুষজন খোঁজে পাওয়া দুষ্কর।
ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য দ্বীপের বাসিন্দারা মিলে একটি স্কুল আর একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছে।  রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ছোট একটি হাসপাতালও। কেউ এ দ্বীপের আদি বাসিন্দা নয়। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী, ধার্মিক, অধার্মিক নানান পেশার নানান মানুষ এখানে এসে জড়ো হয়েছেন। কেউ এসেছেন একা আবার কেউ এসেছেন পরিবার বর্গ সাথে নিয়ে। 
কোলাহল মুক্ত নির্জন নিরিবিলি দ্বীপ। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নেই। অস্থিরতা নেই। অযাচিত কারো হস্তক্ষেপ নেই। শাসন কর্তা নেই। শাসন ব্যবস্থাও নেই। দ্বীপের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত অল্প কিছু সময় ব্যয়ে ঘুরে আসা যায়। কর্মব্যস্ততা নেই। মুদ্রার প্রচলন নেই। রয়েছে পণ্যের বিনিময়ে পণ্য হস্তান্তরের ব্যবস্থা। কেউ কারো শত্রু নয়। কেউ কাউকে হিংসা করেনা। সকলে মিলেমিশে বসবাস করছে বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে। কেউ ইতোমধ্যে বিবাহ করেছে দ্বীপেই, ছেলেমেয়ে হয়েছে, ঘরসংসার করছে। কেউ এখনো বিয়ে করেনি। বিয়ের কাজটা এ দ্বীপের মানুষজন নিজেদের মধ্যেই সারে। কারণ তারা বহির্বিশ্বের সাথে তেমন যোগাযোগ রাখে না। আবার লোকালয়ের মানুষজনও এরকম অদ্ভুত জীবনযাপনে অভ্যস্ত নয়। সুতরাং পাত্র, পাত্রী এ দ্বীপে বিবাহ দেবার পূর্বে তারা কয়েকবার চিন্তা করবে।
একমাত্র প্রফেসর আমজাদ আলী ব্যতিক্রম। একটি বাংলো বানিয়েছেন দ্বীপে। তিনি এ স্বীপে কিছুদিন অবস্থান করে আবার লোকালয়ে ফিরে যান। আমজাদ আলী এ দ্বীপের আবিষ্কারক হলেও নিজে স্থায়ীভাবে থাকেন না। সে এক অজানা রহস্য। এ দ্বীপ নিয়ে তিনি পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেন। সেখান থেকে মানুষজন জানতে পারে রহস্যময় এ দ্বীপের কথা। সেসব গল্প পড়েই মানুষজন আগ্রহী হয় এ দ্বীপের অভিমুখে অন্তিম যাত্রা যাদের জীবন নিয়ে তেমন কোন অভিযোগ নেই, নেই চাহিদার বাড়বাড়ন্ত। 
এ বছরও অবকাশ যাপনের নিমিত্ত কল্পদ্বীপে এসেছেন প্রফেসর আমজাদ আলী। এসে দেখলেন এক ভিন্ন চিত্র। টানা একমাস যাবৎ বৃষ্টি হচ্ছে এ দ্বীপে। একমুহুর্ত বিরাম নেই। কি দিন কি রাত। বৃষ্টি হচ্ছে তো হচ্ছেই। চাষাবাদ করা যাচ্ছে না, মাছ ধরা যাচ্ছে না। গবাদিপশু গুলো খাদ্যের অভাবে ধুঁকছে। কিছু কিছু মরেও গেছে ইতোমধ্যে। সঞ্চিত খাদ্যদ্রব্য ফুরিয়ে আসছে। সঞ্চিত খাদ্যদ্রব্য দিয়ে কয়টা দিনই বা যাবে আর। খাবারের তীব্র সংকটে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। এক মাস পার হয়ে গেলেও বৃষ্টি কিছুতেই থামছেনা। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষগুলো কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন গুজার করলেও শিশুদের কিছুতেই বুঝ দেয়া যাচ্ছেনা। চল্লিশ দিন পেরিয়ে গেছে টানা বৃষ্টি এখনো। খাদ্যের অভাবে দ্বীপের বাসিন্দা কমে চারশো হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে তো একসময় এ দ্বীপে আর কোন বাসিন্দাই খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সেই আগের মতো জনশূন্য হতে চলেছে কি কল্পদ্বীপ? প্রফেসর আমজাদ আলী ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। নিজ হাতে গোড়াপত্তন করা দ্বীপের এ কেমন বেহাল দশা! ভাবনার কোন কূল কিনারা পাচ্ছেন না তিনি। এমন বৃষ্টি বাপের জন্মেও কেউ প্রত্যক্ষ করেনি। এমন অতিবৃষ্টি বিজ্ঞানের কোন সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করবেন এ নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। জীবনে কত গবেষণা ই তো করলেন তিনি। ভাবছেন তো ভাবছেন। কিন্তু কোন সমাধান মিলছে না। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন তিনি। অকপটে স্বীকার করছেন সবই স্রষ্টার খেলা যা মানুষের পক্ষে বোঝা অত্যন্ত কঠিন। স্রষ্টার ইশারায় সব হয়। কেউ মানুক আর না মানুক। ধ্রুবসত্য এটাই। স্রষ্টার মর্জি। 
দেড় মাসের টানা বৃষ্টিতে সমুদ্রের পানি বেড়েছে। দ্বীপের এক-চতুর্থাংশ ডুবে গেছে। বসত-ভিটা হারিয়েছে কয়েকজন বাসিন্দা। বিশালাকার, ভীতিজাগানিয়া সামুদ্রিক ঢেউ ছাড়া আরকিছুই চোখ পড়েনা। সূর্য উঠেনা অনেকদিন যাবৎ। কখন দিন আর কখন রাত হয় বুঝে উঠা মুশকিল। এমনিতেই এ দ্বীপে কোন বিদ্যুৎ নেই। সবকিছু মিলেমিশে একাকার। দ্বীপের বাসিন্দাগণ ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে। এমনটা হবে তারা হয়তো কখনো কল্পনাও করেনি। দ্বীপের বাসিন্দারা নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছে সুদিনের আশায়, অচল অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার নিমিত্তে। মুসলমানগণ নফল ইবাদত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাহাজ্জুদ পড়ছে। সিজদায় কান্নাকাটি করছে আল্লাহ যেন এ অবস্থা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করতে মর্জি হয়। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনারত হয়ে তারা নিজেদের দুঃখ হালকা করার চেষ্টা করছে। কারণ সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস মানসিক চাপ কমায়। 
চরম বিপাকে পড়েছে অবিশ্বাসী মানুষগুলো। তারা কার কাছে সাহায্য চাইবে? তারা তো স্রষ্টার অস্তিত্ব ই স্বীকার করেনা। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া তাদের কিছু করার নেইও। তাদের দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। যেন সমুদ্রের পানির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। দ্বীপ অর্ধেক তলিয়ে গেছে। গহীন সমুদ্রে, গভীর বিপদে মানবতা দেখানোর মতো কেউ নেই। সকলেই ঘোর বিপদে এখন। অতিবর্ষণের ফলে দিন পঞ্চাশেক পেরিয়ে গেছে। খাদ্যের অভাবে দ্বীপের জনসংখ্যা নেমে এসেছে তিনশোর কোঠায়। এক ইশ্বরের উপাসনাতে মগ্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এক স্রষ্টা এক ইলাহ  আল্লাহর কৃপায় এ যাত্রায় বিপদ থেকে বাঁচা গেলেই হয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212723/</link>
				<pubDate>Sat, 20 Apr 2024 02:03:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কল্পদ্বীপ<br />
কল্পদ্বীপ। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। কয়েক শতাব্দী পূর্বেও এ দ্বীপ ছিলো একেবারে অপরিচিত, জনশূন্য। ৫০ বছর পূর্বে এ দ্বীপটি আবিষ্কার করেন আমজাদ আলী। সমুদ্রভ্রমণ তার ভীষণ প্রিয়।  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হলেও তিনি বাস করেন সিঙ্গাপুরে। বাবার ব্যবসায়িক কাজে সঙ্গী হয়ে শৈশবেই পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। সেই থ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212723"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212723/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ce73ba69bbce206fc6a1d489e68f5736</guid>
				<title>চর সোনারামপুর

এ চরের জেলেদের শৈশবের রঙিন দিনগুলো কেটেছে মেঘনার বুকে জেগে উঠা নরম বালিমাটিতে। আশুগঞ্জ শহরের উত্তর দিকে মেঘনা নদীর বুকে। শুরুর দিকে এ চরে এত ঘনবসতি ছিলো না। এখন কয়েকশ মানুষের বসবাস। বেশিরভাগই গরীব জেলে পরিবার। কয়েক ঘর মুসলমানও আছে। এতকাল বিদ্যুতের কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। সৌর বিদ্যুত ব্যবহৃত হতো কিছু পরিবারে। আর যাদের সে সামর্থ্যও ছিলো না, তাদের জন্য মোম কি&#039;বা কুপিবাতিই ছিলো একমাত্র ভরসা। আর পূর্ণিমার রাতে চাঁদের ফকফকা আলো-জোছনা। 
রাতভর নদীর বুকে চষে বেড়ায় জেলেরা। ভোর অবধি চলে মাছ ধরা। সেই মাছ সকালে বিক্রি করে বাজারে। ঐতিহ্যবাহী এই মাছের আড়ৎ। শতবছরের পুরনো। গরীব জেলেদের ধরা এই মাছ পরিবেশিত হয় শহুরে বাবুদের খাবার টেবিলে। নদীর তরতাজা ইলিশ, বোয়াল, আইড়, গলদা চিংড়ি, কালিবাউস, রুই ও নানা প্রজাতির মাছ। সুস্বাদু এসব মাছ ভক্ষণে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে সাহেবরা। দেয় প্রশান্তির ঘুম। সারারাত নির্ঘুম জেলেদের অক্লান্ত পরিশ্রমের এই মাছ বড়লোকদের দেহে পুষ্টি যোগায়। নিতান্ত গরীব এই জেলেরা চাইলেও বড়মাছ গুলো খেতে পারে না। নিজেরা খেলে সংসার চলবে কী করে? নিজেদের শখ এভাবেই চাপা পড়ে যায় অসহায়ত্বের কাছে। বিলাসিতা বোধহয় গরীব এসকল জেলেদের জন্য বড্ড বেমানান! 
জেলে শিশুদের শৈশব কাটে চরের বুকে শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে। ঘাসফুল আর লতাপাতায় শিশিশের ঘ্রাণ নিয়ে। এই চরে আগে এতো গাছপালা ছিলো না। এখন অনেক গাছপালা লাগিয়েছে জেলেরা। সবুজে সয়লাব। মনে হয় যেন এক টুকরো আমাজন আর পাশেই আমাজন নদী। নাহ। এ নদীর নাম মেঘনা। কত সুখ-দুঃখের গল্প রচিত হয়েছে এ মেঘনার বুকে। সন্ধ্যা হতেই শুরু হয় জোনাক-জ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝির ডাক। চরের একটু দূরেই ভৈরব-আশুগঞ্জ ব্রীজ। এ ব্রীজের সোডিয়াম লাইটের সোনালী আলোয় ব্রীজটাকে দেখতে লাগে অপূর্ব! নদীর জলে প্রতিফলিত এই আলোর মতোই সোনালী স্বপ্ন খেলা করে জেলে শিশুদের চোখে-মুখে। বাপ-দাদার মতো তাদের ভাগ্য নিশ্চয়ই এরকম হবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের মালিক একমাত্র আল্লাহ। কখন কার ভাগ্য খুলে যায় কেউ বলতে পারে না! অবহেলিত এ চরে সরকারি একটি স্কুল হয়েছে এখন। জেলেরা পড়ালেখা করার সুযোগ না পেলেও জেলে শিশুরা পেয়েছে। 
এ চরেরই বাসিন্দা মুসলমান মাঝি সলিম। পুরো নাম সলিম উদ্দিন। বাপ-দাদার পেশা ছিলো মাছ ধরা। বংশ পরম্পরায় এ পেশাই বেছে নিয়েছে সলিম। জীবিকার তাগিদে মেঘনার চকচকে রূপালি ইলিশ তুলে দেয় বড় সাহেবদের পাতে আর নিজে খায় পুঁটি মাছ ভাজা সাথে শুকনো মরিচ। তারপরও মনে দুঃখ নেই। মাছের ন্যায্য দাম পেলেই খুশি। চোখদুটোতে খেলা করে আনন্দের ঝিলিক। নির্ঘুম রাত সার্থক হয়। মাঝে মাঝে অবশ্য  মন খারাপ হয় মাছের ন্যায্য দাম পায় না বলে।  
শান্ত নদী মেঘনার তীরঘেষা সবুজে ঘেরা ও পাখ পাখালির কলরবে মুখরিত ছোট্ট এক মায়ার শহর আশুগঞ্জ। আশুগঞ্জের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত এ নগরবাসীর যেন মুগ্ধতার শেষ নেই। কেউ বলে জাদুর শহর, কেউ বলে বিদ্যুতের রাজধানী, কেউ বলে বন্দরনগরী। এ শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি নির্গমনের আঁকাবাঁকা চ্যানেলগুলো যেন ইতালির ভেনিস শহরের কথাই মনে করিয়ে দেয়। আশুগঞ্জে এসেছেন, আশুগঞ্জে থেকেছেন অথচ আশুগঞ্জ এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। 
মেঘনার বুকে বয়ে চলা পালতোলা নৌকা, নদীর দুই তীরের সৌন্দর্য, সাদা বক, পানকৌড়ি ও গাংচিল এর উড়াউড়ি যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। সৌন্দর্য যার অঙ্গে অঙ্গে ছোট্ট এই জাদুর শহরে মুগ্ধ মানুষ হবেই! কারণ এ শহর যেন বিশ্বজগৎ এর সৃষ্টিকর্তা ও সুনিপুণ কারিগর মহান আল্লাহ তা&#039;আলার রংতুলিতে আঁকা। এত এত প্রাচুর্যের মাঝে বসবাস করেও এ শহরের মানুষ গুলোর মধ্যেও আছে দুঃখ, বেদনা, বিরহ, যাতনা। আছে হতাশা। আসলে জগতে কে যে প্রকত সুখী একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। কেউ অল্পতেই খুশি আবার কেউ বেশী পেয়েও সুখী হতে পারে না। প্রাচুর্যের মাঝেও এক ধরণের হাহাকার বিরাজ করে অন্তরে। তবুও এতসব দুঃখ নিমেষেই হারিয়ে যায়, যখন তাকাই নদীতে ভেসে থাকা চর সোনারামপুরের দিকে। 
অল্পতেই সন্তুষ্ট সলিমুদ্দিন। হালাল উপার্জন কম খাইলেও তৃপ্তি আসে। একটু ভালো খাওয়ার, একটু ভোগের শখ, আহ্লাদ গরীব জেলেদেরও আছে কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক। নদীর স্রোতে গতর না ভাসিয়ে বাস্তবতার জালে নিজেকে আটকে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে অহেতুক দুশ্চিন্তা হয় না। নদীর তীরে সারা বছরই নোঙর করা থাকে পাথর, সিমেন্ট, রড ও মালবোঝাই কোনো না কোনো কার্গো জাহাজ। আরো আছে শত শত ধান বোঝাই নৌকা। দূরদূরান্ত থেকে নৌকাগুলো আসে। আয়তনে ছোট হলেও এ বন্দরের খ্যাতি দেশে-বিদেশে। আন্তর্জাতিক নদী বন্দর বলে কথা। এ শহরের আকাশচুম্বী দালান-কোঠা সন্ধ্যা হতেই নানা আলোর ঝলকানিতে ভরে ওঠে। চরের গরীব মানুষগুলোর কখনো দালানকোঠায় থাকার সুযোগ হয়নি। তাই একটু কৌতূহল জাগে বৈকি। তারা থাকে জীর্ণশীর্ণ ঘরে। বৃষ্টির সময় টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। বিল্ডিংয়ে বসবাস তাদের কাছে নিতান্তই কল্পনার রাজ্যের বসবাস করার মতো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212336/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Apr 2024 01:10:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চর সোনারামপুর</p>
<p>এ চরের জেলেদের শৈশবের রঙিন দিনগুলো কেটেছে মেঘনার বুকে জেগে উঠা নরম বালিমাটিতে। আশুগঞ্জ শহরের উত্তর দিকে মেঘনা নদীর বুকে। শুরুর দিকে এ চরে এত ঘনবসতি ছিলো না। এখন কয়েকশ মানুষের বসবাস। বেশিরভাগই গরীব জেলে পরিবার। কয়েক ঘর মুসলমানও আছে। এতকাল বিদ্যুতের কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। সৌর বিদ্যুত ব্যবহৃত হতো কিছু পরিবারে। আর যাদের সে সামর্থ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212336"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212336/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0edd22de122f3bae9a3200129cb814cc</guid>
				<title>কুসংস্কার
বর্ষাকাল। কিছুক্ষণের জন্য অাকাশ পরিষ্কার তো মূহুর্তেই অাবার অাকাশ তার রূপ পাল্টায়। অাষাঢ়ে দিনের কোন বিশ্বাস নাই। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গরু গুলি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। দুপুরের দিকে একবার বৃষ্টি থেমেছিল। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর ঝকঝকে রোদ উঠেছে। সাজুর বাপ ভাবলো যাই একটু গরু গুলি মাঠে দিয়ে অাসি। পেট ভরে ঘাস খেয়ে অাসুক। যেই ভাবা সেই কাজ। গরু দুইটা ঘাস খেতে দিয়ে সাজুর বাপ গিয়েছিল গঞ্জে। বাড়ি থেকে চার মাইল দূরে অাশুগঞ্জের হাট। বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিন। গরুর জন্য খৈল, ভূষি অার ঘর গৃহস্থালির জন্য কিছু বাজার সদাই করাই হাটে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য। সাজুর বাপে গঞ্জ থেকে ফিরতে না ফিরতেই ঘটলো এক ঘটনা। রোদেলা অাকাশ দেখেই সাজুর বাপে গরু দুটারে দিয়া গেছিলো মাঠে। হঠাৎই অাকাশে মেঘের ঘনঘটা। মুহূর্তেই কালো হয়ে গেল অাকাশ। অাষাইঢ়া দিন কখন কি রূপ ধারণ করে কোন নিশ্চয়তা নাই। শুরু হলো তুমুল বৃষ্টি অার সাথে দমকা হাওয়া। ঝড়, বজ্রপাত অার একপশলা শিলা বৃষ্টি ও হয়ে গেছে। ঘটনা যা হবার তা হয়ে গেছে ততক্ষণে। রীণার বাপে মাঠ থেকে দৌড়াইতে দৌড়াইতে এই দুঃসংবাদ টা নিয়ে অাইছে। রীণার বাপে সাজুর বাপের বাল্যবন্ধু। নামাজী। পরহেজগার মানুষ। এক সাথেই কৃষি কাজ করে তারা। দুই জনের ফসলি জমি পাশাপাশি। বাড়ির কিছুটা দূর থেকেই ডাক দেয় রীণার বাপে। সেই ডাক শুনতে পেয়ে সাজুর মা করিমন বিবি রীতিমতো ভয় পেয়ে গেছে।
রীণার বাপ: বাইত অাছো নি সাজুর মা?
করিমন: হ অাছি। কি অইছে রীণার বাপ? অমন কইরা হাঁপাইতাছো কিল্লিইগ্গা?
রীণার বাপ: সর্বনাশ অই গেছে সাজুর মা। বলতে গিয়ে গলাটা ধরে এলো রীণার বাপের। একটা ঢুক গিললো। বাকিটা অার বলতে পারলো না। এমন একটা দুঃসংবাদ কি এত সহজে বলা যায়? স্বভাবতই কৌতূহল চেপে বসলো সাজুর মা’র মনে। অাতঙ্কে মুখ ঘেমে গেছে। এক গ্লাস পানি বাড়িয়ে দিলো রীণার বাপের দিকে।
করিমন: রীণার বাপ। নেও। পানিডা হাইয়া লও। তারপরে কও কি অইছে।
পানি পান শেষ করে দম ফিরে পেলো রীণার বাপে। এবার বলা শুরু করলো। 
রীণার বাপ: কথাডা কেমনে কই এইডা ভাবতাছিলাম। না বইল্লাই কি অইব অহন। সাজুর বাপে যে দুইডা গরু মাঠে দিছিলো। ঠাডা পইড়া দুইডা গরু ই মইরা গেছে।
এমন কথা শুনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলো না সাজুর মা। ঠাডা তো গরুর উপরে নয় রীতিমতো সাজুর মা&#039;র মাথায় পড়লো যেন। কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো সাজুর মা&#039;র চিন্তাজগত। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না সে। চোখের কোণে জল এসে গেছে। পরক্ষণে সম্বিত ফিরে পেলো সাজুর মা।  
করিমন: কি হুনাইলা রীণার বাপ। 
বলেই এক গগণ বিদারী চিৎকার। অাশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। বৃষ্টি পুরোপুরি থামে নাই এখনো। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রতিবেশীরা এসেছে। কেউ ছাতা, কেউ পাতলা মাথায় দিয়ে, কেউ ভিজে ভিজেই এসেছে। এমন চিৎকার চেঁচামেচি শুনে কেউ কি ঘরে বসে থাকতে পারে। প্রতিবেশী বলে কথা। একটু খোঁজ খবর তো নেওয়া লাগে। বিল্লালের মা, মাজুর মা, ছমিরন বিবি, রহিমের বউ, গাজীর বউ, জাকিয়া অারও অনেকেই এসেছে। রহিমের বউ শুধায়। 
রহিমের বউ: কি অইছে লো সাজুর মা। এমন বৃষ্টির মইধ্যে তুই চিৎকার করতাছস কেরে? 
করিমন: সর্বনাশ অই গেছে অাফা। 
এটুকু বলেই অাবার চুপ হয়ে গেল সাজুর মা। 
রহিমের বউ: কি লো সাজুর মা। কি অইছে কইবি তো। 
করিমন: সাজুর মা বিলাপ শুরু করছে। অাল্লাহ গো। কি অইয়া গেলো গো। 
একটা ষাড়। অারেকটা বিয়াইবো মাস খানেক পর। এমন সময় দুইডা গরু ই বজ্রপাতে মরে গেছে। কিছু অাবাদী জমি অার দুইটা গরু ই ছিলো গৃহস্থের সম্বল। দুই ফসলি জমি। সারা বছর চাষ করা যায়না। 
এতক্ষণে ঘটনা বুঝতে অার বাকি নাই রহিমের বউয়ের। পাশ থেকে রীণার বাপে বললো সবকিছু।
রহিমের বউ: কান্দিস না লো সাজুর না। কাইন্দা অার কি অইবো। অাল্লাহর মাল অাল্লাহ নিয়া গেছে। ধৈর্য্য ধর। 
করিমনের বিলাপ কমে না। সাজুর বাপেরে কিভাবে বলবে এই কথা। কত যত্ন করে পালে দুইটা গরু রে সাজুর বাপে। নিজ সন্তানের মতো অাদর করে। 
সবাই যে যার মতো সান্ত্বনা দিয়ে বাড়ি চলে গেলো। বিষণ্ণ মনে মাটিতেই পড়ে রইলো সাজুর মা। দুপুরে খায় নাই কিছু। খাওয়ার কথা মনেও পড়ে নাই। এমন দুঃসংবাদে পেটে যায় না কিছু। বৃষ্টি থেমেছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সাজুর বাপ ফিরে এসেছে গঞ্জ থেকে। গরুর জন্য খৈল, ভূষি নিয়েই এসেছে। চটের বস্তা দিয়ে বাড়ির চারপাশ ঘেরা। পুরনো টিন দিয়ে একটা ছোট গেইট ও বানিয়েছে সাধ্যমতো। গরীব হতে পারে কিন্তু লজ্জা শরম অাছে। মুসলমানের বাড়ি একটু তো লাজ শরম থাকা চাই। বাড়ির গেইট থেকে হাঁক দেয় সাজুর বাপ। 
সাজুর বাপ: কেডা কই অাছো। বাজার সদাই লইয়া যাও বাড়ির ভিত্তে। 
কেউ কথা বলেনা। সবাই চুপ। নীরব, নিস্তব্ধ বাড়ি। অন্য সময় সাজুর মা জবাব দেয়। অাজ সাজুর মা ও চুপ হয়ে রয়েছে। সাজুর বাপ কিছু বুঝে উঠতে পারে না। কি ঘটে গেছে কিছুই জানেনা সে। এমন বৃষ্টির মধ্যে কিভাবে সংবাদ পাঠাবে তার কাছে। ঘর থেকে বের হবার জো নেই। সাজুর বাপ নিজেই এলো বাজার সদাই নিয়ে। ঘরের সবাই মাটিতে বসে রইছে গালে হাত দিয়ে। 
সাজুর বাপ: গালে হাত দেয়া তো ভালা কিছুর লক্ষণ না। মনে মনে ভাবে সে। কি অইছে খুইল্লা কও সাজুর মা। তোমরা হগলতে চুপ মাইরা অাছো কেন?
সাজুর মা কোন কথা কয় না। মুখে কোন রা নাই। পাশে বসা যুবক সাজু কথা বলে।
সাজু: বাজান। অামরার গরু দুইডা মইরা গেছে ঠাডা পইড়া। বলেই সাজু ও চুপ মেরে গেলো।
ঠাডা যেন গরু দুইটার উপরে নয় সাজুর বাপের মাথায় পড়লো।
সাজুর বাপ: অাল্লাহ গো। অামডার কি অইবো গো। কপালডাই বুঝি খারাপ অামার। 
বলেই দ্বিগুণ জোড়ে চিৎকার সাজুর বাপের। এমন চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে এলো। সাজুর বাপেও বিলাপ শুরু করলো এখন। সাজুর বাপের বিলাপ শুনে মনু মোল্লা, জমির শেখ অার মসজিদের ইমাম সাহেব এসেছে। তারাও শুনতেছে সাজুর বাপের অার্তনাদ। সাজুর বাপের কথায় বাঁধ সাধলো ইমাম সাব হুজুর। অনেকটা প্রতিবাদী সুরে। তাকদীর এর ফয়সালা একমাত্র অাল্লাহ তাঅালার। কোন মানুষের ক্ষমতা নাই এতে। তাকদীরে যা লেখা অাছে তাই হবে। মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ, রিযিকের ফয়সালা সবকিছু তাকদীরে অাগে থেকেই লেখা থাকে। মানুষ যা জানেনা তা অাল্লাহ জানেন, মানুষ যা শুনে না তা অাল্লাহ শুনেন, মানুষ যা দেখেনা তা অাল্লাহ দেখেন। এজন্যই তিনি সর্বজ্ঞাতা, সর্বশ্রোতা। অাল্লাহর দৃষ্টির অগোচরে গাছের একটা পাতাও নড়ে না। 
ক্রমাগত ভাগ্যকে দুষেই চলেছে সাজুর বাপ। ইমাম সাহেব অার চুপ থাকতে পারলেন না। অনেক লেখাপড়া জানা মানুষ তিনি। এবার বলেই উঠলেন-
ইমাম সাহেব: এমন কথা কইও না সাজুর বাপ। এমন কথা মুখে অানাও পাপ। যা কইয়া ফালাইছো তওবা করো অহনই। অাল্লাহর বিরাগভাজন হইও না। অাল্লাহ হয়তো অারো বড় কোনো বিপদ থেইকা তোমারে বাঁচাইয়া দিছে। তুমি যা জানো না তা অাল্লাহ জানে। শুকরিয়া অাদায় করো মিয়া।
সাজুর বাপে তব্দা খেয়ে রইলো কিছুক্ষণ। ইমাম সাহেব কি বললো বুঝে উঠতে পারছিলো না সে। এমন একটা বিপদ গেছে তাও ইমাম সাহেব বলতাছে অাল্লাহর শুকরিয়া অাদায় করতে। কথাটা মনে ধরলো সাজুর বাপের। ইমাম সাহেব এর মতো এত পরহেজগার মানুষ না হলেও অাল্লাহর প্রতি অগাধ অাস্থা তার। এতকাল বাপ দাদার কাছ থেকে এই শিক্ষাই পেয়ে এসেছে সে। সব কিছুতেই অাল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতেন তারা। যেকোন বিপদ-অাপদে সবর করতে হয় এটাই দ্বীন ইসলামের শিক্ষা। এতক্ষণে সাজুর বাপের বিলাপ বন্ধ হয়েছে। ইমাম সাহেব এর দিকে ইঙ্গিত করে সাজুর বাপে বলে উঠলো..
সাজুক বাপ: অামার ভুল অামি বুঝতাম পারছি অহন। অাল্লাহ যা করে মানুষের মঙ্গলের জন্যই করে। অামি অার এমন কথা কমু না।
ইমাম সাহেব: মাথা নেড়ে সায় দেয়। হ।
ঐদিকে মাগরিবের অাযান হচ্ছে মসজিদে। সাজুর বাপকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদের দিকে রওনা দিলো ইমাম সাহেব। 
গরু গুলোর চিন্তায় রাতে ভালো ঘুম হয়নি সাজুর বাপের। কত শখের গরু গুলো তার। এত সহজে কি ভুলা যায়। বোবা প্রাণী। হয়তো কথা বলতে পারতো না। তবুও যত্ন অাতির কম করে নায় সে। গরু গুলোর মায়ায় নিজের অজান্তেই চোখ বেয়ে দুই ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তার। মানুষ ও প্রাণীর মাঝে এমন মায়া মহব্বত অাছে দেখেই তো জগৎ এত সুন্দর। 
হয়তো অাল্লাহ কপালে অারও ভালো কিছু রাখছে, সাজুর বাপ ভাবে। 
এত এত নিয়ামত তো বিনা দরখাস্তেই দিয়ে রেখেছেন অাল্লাহ। সব নিয়ামত গুণে শেষ করা এক জীবনে সম্ভব নয়। কোনভাবেই নয়। যুগে যুগে কত মানুষ অাসলো অার গেলো, কেউ পারেনি। পারবেও না কোনদিন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154665/</link>
				<pubDate>Sat, 01 Oct 2022 14:07:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কুসংস্কার<br />
বর্ষাকাল। কিছুক্ষণের জন্য অাকাশ পরিষ্কার তো মূহুর্তেই অাবার অাকাশ তার রূপ পাল্টায়। অাষাঢ়ে দিনের কোন বিশ্বাস নাই। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গরু গুলি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। দুপুরের দিকে একবার বৃষ্টি থেমেছিল। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর ঝকঝকে রোদ উঠেছে। সাজুর বাপ ভাবলো যাই একটু গরু গুলি মাঠে দিয়ে অাসি। পেট ভরে ঘাস খেয়ে অাসুক। যে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-154665"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/154665/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0de5495ebcce6703b46132a982c433b9</guid>
				<title>বারো আউলিয়ার বিল
আকাশের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে খোলা জায়গা হওয়া চাই। নদীর তীরে, বিল, ঝিলের পাড়ে হলে উত্তম। হেমন্তের সকাল। হিমশীতল আবহাওয়া। ঠান্ডা বাতাস বইছে। প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। মনোরম কাঠের দোতলা বাড়ির সুপ্রশস্ত বারান্দায় উঠা চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন আর আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান খান। বিলের ধারেই বাড়ি। সুলতানপুরের কাছাকাছি।  বিরামপুরের বার আউলিয়ার বিল নামে পরিচিত এলাকায়। চোখ ধাঁধানো সারি সারি নৌকা সর্বক্ষণ বিলের বুকে ঘুরে বেড়ায়। রহমান সাহেব মাঝে মাঝে জেলে নৌকায় ঢু মারেন বিলের তরতাজা মাছের আশায়। হাওর, বাওর ও বিলের টাটকা মাছ রহমান সাহেবের খুব পছন্দের। জাল থেকে উঠানো একদম তরতাজা মাছ স্বাদে অমৃত। কত রকমের বাহারি মাছ যে আছে এই বিলে তার কোন ইয়ত্তা নেই। নানা প্রজাতির মাছ।  মহান স্রষ্টা কোনো এক গোপন রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন মাছের মধ্যে। মন খারাপ থাকলে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব মাছ খেতে বসেন। একটু একটু মাছ খান অার তিনি ডুব দেন রহস্য সাগরে। চিন্তা করেন তিনি। কিন্তু রহস্য ভেদ করতে পারেন না কিছুতেই। কি এমন অাছে ইলিশের মধ্যে তা তিনি ভেবে পান না। ভাবেন তো ভাবেনই। তিনি ভোজনরসিক হলেও ভাবুক মানুষ। ভাবনার কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছেন না। তার মামাবাড়ি ভাদুঘর গ্রামে তিতাস নদীর পাড়ে। তিতাস নদীর সাথে এই গ্রামের মানুষের গভীর মিতালী। খেলার বয়সে তিতাসের বুক দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি বন্ধুদের সাথে। ছোটবেলা নানার হাত ধরে গিয়েছিলেন মাছের আড়ৎ এ। তিতাস নদীর কূল ঘেষা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। এখানেই সেই বহু পুরনো মাছের আড়ৎ। ভোর থেকে তিতাস নদীতে ধরা মাছ ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারেরা পসরা সাজিয়ে বসেন। রহমান সাহেব চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বছর তিনেক হলো। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা কেউ কেউ বাড়ি বানিয়েছেন ঢাকায়। উন্নত জীবনের অাশায় কেউ কেউ পাড়ি জমিয়েছেন অামেরিকা, কানাডায়। কিন্তু রহমান সাহেব ফিরে এসেছেন ছায়া সুনিবিড় সেই পল্লী গ্রামে। ইট, কাঠের শহর তাকে অাকর্ষণ করে না। একটু বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ শহরে মেলে না। কলকারখানার ধোঁয়া,  বায়ু দূষণ, অপরিকল্পিত দালানকোঠা, যেখানে সেখানে ময়লা অাবর্জনার ভাগাড়, গাড়ির হর্ণ, ঘিঞ্জি পরিবেশ শহরের জীবনকে করে তুলেছে একঘেয়ে, বিষণ্ণ ও যান্ত্রিক। মানুষ কিছুটা বাধ্য হয়েই শহরমুখী হয়। গ্রামে কর্মসংস্থানের অভাব। একটা সময় মানুষ কিছুটা উন্নত জীবন যাপনের অাশায় শহুরে থিতু হতে স্বপ্ন দেখতো। সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করতো শহরে একখণ্ড জমি কেনার জন্য। জমি কেনার সামর্থ্য যাদের ছিলোনা তারাও হাল ছাড়েনি। অন্তত একটা ফ্ল্যাট কিনে হলেও যেন শহরবাসী হওয়া চাই। এখন দিন বদলেছে। ব্যয়ের সাথে অায়ের সমন্বয় করতে করতেই হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। জীবনযাত্রার মান না বাড়লেও ব্যয় বেড়েছে বেশ। শহরে একখণ্ড জমি কেনা এখন কারো কারো কাছে নিদারুণ বিলাসিতা বৈ কিছু নয়। বিদেশ-বিভুঁইয়ে পাড়ি জমানোর ইচ্ছা তার কোন কালেই ছিলো না। তিনি অানন্দ খুঁজে পান তিতাস নদীর বাঁকে বাঁকে, বার অাউলিয়ার বিলের বিশালতায়, বিলের বুকে দলবেঁধে ভেসে বেড়ানো হাঁসের পালের মাঝে, হেলেঞ্চা, কলমিলতা ও কচুরিপানার গন্ধে, সদ্য জেলেদের জাল থেকে উঠানো তরতাজা কাঁচকির ঝাকে। এক জীবনে অার কি চাই। শহরের মানুষদের মতো সহজ সরল জেলেদের জীবনটা যান্ত্রিক নয়। হয়তো অাধুনিকতার ছোঁয়া নেই জেলেদের জীবনে। তারপরও তাদের জীবনে অাছে প্রেম-ভালোবাসা, অানন্দ-বেদনা, বিরহ-যাতনা, দ্রোহ, একতা। নদীর বুকেই হোক অার বিলের বুকে, বংশ পরম্পরায় তাদের জীবনের অধিকাংশই কাটে পানির উপরে। পানির মতোই সরল জেলেদের জীবন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153473/</link>
				<pubDate>Thu, 29 Sep 2022 06:40:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বারো আউলিয়ার বিল<br />
আকাশের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে খোলা জায়গা হওয়া চাই। নদীর তীরে, বিল, ঝিলের পাড়ে হলে উত্তম। হেমন্তের সকাল। হিমশীতল আবহাওয়া। ঠান্ডা বাতাস বইছে। প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। মনোরম কাঠের দোতলা বাড়ির সুপ্রশস্ত বারান্দায় উঠা চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন আর আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রহমান খান। ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153473"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153473/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1823ccf70380abfc118da7aadfd2b13b</guid>
				<title>চিররূপসী
প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে নগরবাসী। এমনিতেই বায়ুদূষণ আর শব্দদূষণে শহরের বাসিন্দারা বিপর্যস্ত। শেষ কবে যে আকাশে ঝকঝকে নীল দেখা দিয়েছিল মনে পড়ছে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে তকতকে নীল আকাশ এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে থাকে আকাশটা। পরিচ্ছন্ন আকাশ মনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। মেঘমুক্ত  নীল আকাশের মাঝে সাদা মেঘের ভেলা কি অপূর্ব না লাগে। গাংচিল, সাদা বকের মতো ওরাওরি ওদের। কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এর ফলে আকাশের চেহারাটাই কেমন যেন বদলে গেছে। সারাক্ষণ ধুসর, মলিন হয়ে থাকে।  পরিচ্ছন্ন, নির্মল আকাশের বুকে থাকে রঙের বাহার। কখনো সাদা মেঘ, কখনোবা পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভা। মাঝে মাঝে মনে হয় আকাশের এক অঙ্গে কত রূপ। রুপ-লাবণ্যে, রঙে আর ঢঙে আকাশ যেন ছলনাময়ী নারীর চেয়েও এক কাঠি সরেস। হবেই বা না কেন। সকালের স্নিগ্ধ আকাশ এক রকম, দুপুরের তপ্ত রোদে আকাশের রূপ আরেক। সন্ধ্যার আকাশে থাকে অপূর্ব সাঝবাতির ঝলক। তারার আলোর ঝলকানির সাথে যদি থাকে চাঁদের জোছনা তাহলে তো আর কথাই নেই। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী আকাশ তার সৌন্দর্য বিলিয়ে চলেছে। যুগিয়েছে কতশত কবির কবিতার রসদ। রমণীর রূপে ভাটা পড়তে পারে কিন্তু আকাশের রূপে কখনো ভাটা পড়ে নাই। আকাশ চিররূপসী। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আকাশের রঙ একই। আকাশ স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি। সকল অহংকারীর অহংকার আকাশের বিশালতার কাছে নস্যি। ক্ষুদ্র একটা মানুষ কখনো অহংকার করতে পারে না। মানুষের অহংকার করা সাজে না। একেবারেই না। অহংকার একমাত্র তার যিনি সবকিছুর স্রষ্টা। সমগ্র সৃষ্টিজগতের মালিক। যিনি সর্বশক্তিমান। মানুষ অহংকার করবে কেন?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/152836/</link>
				<pubDate>Wed, 28 Sep 2022 06:10:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চিররূপসী<br />
প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে নগরবাসী। এমনিতেই বায়ুদূষণ আর শব্দদূষণে শহরের বাসিন্দারা বিপর্যস্ত। শেষ কবে যে আকাশে ঝকঝকে নীল দেখা দিয়েছিল মনে পড়ছে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে তকতকে নীল আকাশ এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে থাকে আকাশটা। পরিচ্ছন্ন আকাশ মনে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-152836"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/152836/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d4a9bc11ec4c1b6b1840db830935a9a5</guid>
				<title>চর সোনারামপুর 
            
চর সোনারামপুর। এ চরের জেলেদের শৈশবের রঙিন দিনগুলো কেটেছে মেঘনার বুকে জেগে উঠা নরম বালিমাটির চরে। আশুগঞ্জ শহরের উত্তর দিকে মেঘনা নদীর বুকে। শুরুর দিকে এ চরে এত ঘনবসতি ছিলো না। এখন কয়েকশ মানুষের বসবাস। বেশিরভাগই গরীব জেলে পরিবার। কয়েক ঘর মুসলমানও আছে। এতকাল বিদ্যুতের কোন সুব্যবস্থা ছিলো না। সৌর বিদ্যুতের আলোয় চলতো জেলেরা। যাদের সামর্থ্য নেই তাদের জন্য মোমবাতি, কুপিবাতি ই ভরসা। আর ছিলো পূর্ণিমার চাঁদের আলো। রাতভর নদীর বুকে চষে বেড়ায় জেলেরা। ভোর অবধি চলে মাছ ধরা। সেই মাছ সকালে বিক্রি করে বাজারে। ঐতিহ্যবাহী এই মাছের আড়ৎ। শতবছরের পুরনো। গরীব জেলেদের ধরা এই মাছ পরিবেশিত হয় শহুরে বাবুদের খাবার টেবিলে। নদীর তরতাজা ইলিশ, বোয়াল, আইড়, গলদা চিংড়ি, কালিবাউস, রুই ও নানা প্রজাতির মাছ। সুস্বাদু এসব মাছ ভক্ষণে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে সাহেবেরা। দেয় প্রশান্তির ঘুম। সারারাত নির্ঘুম জেলেদের অক্লান্ত পরিশ্রমের এই মাছ বড়লোকদের দেহে পুষ্টি যোগায়। নিতান্ত গরীব এই জেলেরা চাইলেও বড়মাছ গুলো খেতে পারেনা। নিজেরা খেলে সংসার চলবে কি করে। নিজেদের শখ, গুলো এভাবেই চাপা পড়ে যায় অসহায়ত্বের কাছে। বিলাসিতা গরীবের জন্য নয়। 
জেলে শিশুদের শৈশব কাটে চরের বুকে শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে। ঘাসফুল আর লতাপাতায় শিশিশের ঘ্রাণ নিয়ে। এই চরে আগে এতো গাছপালা ছিলো না। এখন অনেক গাছপালা লাগিয়েছে জেলেরা। সবুজে সয়লাব। মনে হয় যেন এক টুকরো আমাজন আর পাশেই আমাজন নদী। নাহ। এ নদীর নাম মেঘনা। কত সুখ-দুঃখের গল্প রচিত হয়েছে এ মেঘনার বুকে। সন্ধ্যা হতেই শুরু হয় জোনাক-জ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝির ডাক। চরের একটু দূরেই ভৈরব-আশুগঞ্জ ব্রীজ। এ ব্রীজের সোডিয়াম লাইটের সোনালী আলোয় ব্রীজ টিকে দেখতে লাগে অপূর্ব। ব্রীজের আলোর মতোই সোনালী স্বপ্ন খেলা করে জেলে শিশুদের চোখে মুখে। বাপদাদাদের মতো তাদের ভাগ্য নিশ্চয়ই এরকম হবেনা। ভাগ্য পরিবর্তনের মালিক একমাত্র অাল্লাহ। কখন কার ভাগ্য খুলে যায় কেউ বলতে পারেনা। অবহেলিত এ চরে সরকারি একটি স্কুল হয়েছে এখন। জেলেরা পড়ালেখা করার সুযোগ না পেলেও জেলে শিশুরা পেয়েছে।  
এ চরেরই বাসিন্দা মুসলমান মাঝি সলিম। পুরো নাম সলিমুদ্দিন। বাপ-দাদার পেশা ছিল মাছ ধরা। বংশ পরম্পরায় এ পেশাই বেছে নিয়েছে সলিম। জীবিকার তাগিদে মেঘনার চকচকে রূপালী ইলিশ তুলে দেয় বড় সাহেবদের পাতে আর নিজে খায় পুটি মাছ ভাজা সাথে শুকনো মরিচ। তারপরও মনে দুঃখ নেই। মাছের ন্যায্য দাম পেলেই খুশি। চোখদুটোতে খেলা করে আনন্দের ঝিলিক। নির্ঘুম রাত সার্থক হয়। মাঝে মাঝে অবশ্য  মন খারাপ হয় মাছের ন্যায্য দাম পায়না বলে।   
অল্পতেই সন্তুষ্ট সলিমুদ্দিন। হালাল উপার্জন কম খাইলেও তৃপ্তি আসে। একটু ভালো খাওয়ার, একটু ভোগের শখ, আহ্লাদ গরীব জেলেদেরও আছে কিন্তু সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক। নদীর স্রোতে গতর না ভাসিয়ে বাস্তবতার জালে নিজেকে আটকে রাখায় বুদ্ধিমানের কাজ। এতে অহেতুক দুশ্চিন্তা হয় না। নদীর তীরে সারা বছরই নোঙর করা থাকে পাথর, সিমেন্ট, রড ও মালবোঝাই কোনো না কোনো কার্গো জাহাজ। আরো আছে শত শত ধান বোঝাই নৌকা। দূরদূরান্ত থেকে নৌকাগুলো আসে। আয়তনে ছোট হলেও এ বন্দরের খ্যাতি দেশে-বিদেশে। আন্তর্জাতিক নদী বন্দর বলে কথা। এ শহরের আকাশচুম্বী দালান-কোঠা সন্ধ্যা হতেই নানা আলোর ঝলকানিতে ভরে উঠে। চরের গরীব মানুষগুলোর কখনো দালানকোঠায় থাকার সুযোগ হয়নি। তাই একটু কৌতূহল জাগে বৈকি। তারা থাকে জীর্ণশীর্ণ ঘরে। বৃষ্টির সময় টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। বিল্ডিংয়ে বসবাস তাদের কাছে নিতান্তই কল্পনার রাজ্যের বসবাস করার মতো। 
শান্ত নদী মেঘনার তীর ঘেষা সবুজে ঘেরা ও পাখ পাখালির কলরবে মুখরিত ছোট্ট এক মায়ার শহর  অাশুগঞ্জ। অাশুগঞ্জের অপরুপ সৌন্দর্য্যে বিমোহিত এ নগর বাসীর যেন মুগ্ধতার শেষ নেই। কেউ বলে জাদুর শহর, কেউ বলে বিদ্যুতের রাজধানী, কেউ বন্দরনগরী। এ শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা অাশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি নির্গমনের অাঁকাবাঁকা চ্যানেলগুলো যেন ইতালির ভেনিস শহরের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অাশুগঞ্জে এসেছেন, আশুগঞ্জে থেকেছেন অথচ অাশুগঞ্জ এর সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হননি এমন মানুষ খোঁজে পাওয়া ভার। 
ভ্রমণপিপাসু মানুষগুলো নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা  থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচতে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে ও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।তাইতো দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই মেঘনার কোলঘেষা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে (যা ভৈরব-অাশুগঞ্জ ব্রীজ নামেও সুপরিচিত) বেড়ে যায় এসব ভ্রমণপিপাসু মানুষদের অানাগোনা। সন্ধ্যায় এ ব্রীজ বর্ণিল অালোর ঝলকানিতে অন্য রুপ ধারণ করে। তখন যেন এর সৌন্দর্য্য বেড়ে যায় দিগুণ। খোলা অাকাশের নিচে বুক ভরে প্রশান্তির বাতাস নেওয়ার জন্য এটা এক অাদর্শ জায়গা। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে  বহমান মেঘনার কলতাল ধ্বনি শুনতে শুনতে ও চরসোনারামপুরের সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে করতে কখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে টেরই পাওয়া যায় না! তাইতো এ নদী ও নগরীকে ভালোবেসে কেউ কেউ নিজেদের মেঘনার যুবরাজও বলে থাকেন। মেঘনার বুকে বয়ে চলা পাল তোলা নৌকা, নদীর দুই তীরের সৌন্দর্য্য, সাদা বক, পানকৌড়ি ও গাংচিল এর উড়াউড়ি যে কাউকে কে মুগ্ধ করবে। সৌন্দর্য্য যার অঙ্গে অঙ্গে ছোট এই জাদুর শহরে মুগ্ধ মানুষ হবেই! কারণ এ শহর যেন বিশ্বজগৎ এর সৃষ্টিকর্তা ও সুনিপুণ কারিগর মহান অাল্লাহ তাঅালার রংতুলিতে অাঁকা। এত এত প্রাচুর্যের মাঝে বসবাস করেও এ শহরের মানুষ গুলোর মধ্যেও আছে দুঃখ, বেদনা, বিরহ, যাতনা। আছে হতাশা। আসলে কে যে প্রকত সুখী একমাত্র অাল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/143094/</link>
				<pubDate>Mon, 05 Sep 2022 10:27:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>চর সোনারামপুর </p>
<p>চর সোনারামপুর। এ চরের জেলেদের শৈশবের রঙিন দিনগুলো কেটেছে মেঘনার বুকে জেগে উঠা নরম বালিমাটির চরে। আশুগঞ্জ শহরের উত্তর দিকে মেঘনা নদীর বুকে। শুরুর দিকে এ চরে এত ঘনবসতি ছিলো না। এখন কয়েকশ মানুষের বসবাস। বেশিরভাগই গরীব জেলে পরিবার। কয়েক ঘর মুসলমানও আছে। এতকাল বিদ্যুতের কোন সুব্যবস্থা ছিলো না। সৌর বিদ্যুতের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-143094"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/143094/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc165c0af00d9185c0a2d89676e22dcb</guid>
				<title>মেহমানদারী
শীতের সকাল। কুয়াশাচ্ছন্ন। সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না কুয়াশার চাদরে ঢাকা। শিশিরবিন্দু জমে আছে সর্বত্র। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠে যতদূর দৃষ্টি যায় চোখ জুড়ানো শীতকালীন শাকসবজি। খেজুর গাছ থেকে রস নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। শীতের সকালে খেজুরের গুড় দিয়ে গরম গরম ভাপা পিঠা একেবারে অমৃত। গ্রামের হাটে চায়ের আড্ডায় মশগুল নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। রাজনৈতিক আলাপ, পারিবারিক আলাপ, আবার কেউবা দেশ-বিদেশের খবরাখবর নিয়ে আলাপচারিতায় মত্ত। নানা জনের নানা মত। যথারীতি আড্ডায় শামিল হয়েছেন গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি রহিম মিয়া। বাগপটু এই মানুষটা খুব সহজেই আড্ডার আসর মাতিয়ে তুলতে পারেন। মুহূর্তের মাঝে মানুষকে মুগ্ধ করার আশ্চর্য এক গুণ রয়েছে তার। যা সকলের মধ্যে থাকেনা। দিলখোলা মানুষ তিনি। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সাথে মিশুক। এজন্য তার অহংকার ও কম। অহংকারী মানুষ সকলের সঙ্গে মিশতে পারেনা। নিরহংকারী  মানুষগুলোয় জগতে প্রকৃত সুখী। যার ভিতরে অহংকার কম তার মধ্যে হিংসা ও কম। হিংসুক মানুষ কখনো সুখী হতে পারেনা। হিংসা মানুষের অন্তর জ্বালিয়ে দেয়। হঠাৎ কি হলো আজ রহিম মিয়ার। আড্ডায় কিছুতেই তার মন বসছে না। অস্থিরতায় ভুগছেন তিনি। আড্ডার আসরে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছেন। তার মনোযোগ অন্য জায়গায়। 
যে বিষয়ে আড্ডা হচ্ছে সে বিষয়ে তার কোনো খেয়াল নাই। শুক্রবার। জুমার দিন। নামাজের পরে বাল্যবন্ধু শওকত আলীর বাড়িতে কুলখানির দাওয়াত আছে। দাওয়াত পেলে রহিম মিয়ার মন খুশিতে ভরে উঠে। রহিম মিয়ার বক্ষ প্রশস্ত। তিনি নিজেও মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসেন। তার মাঝে কোন কৃপণতা নাই। কোরআন কারিমে এসেছে, ‘আর তারা তাদের (মেহমানদের) নিজেদের ওপর প্রাধান্য বা অগ্রাধিকার দেয়, নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।’ (সুরা-৫৯ হাশর, আয়াত: ৯)
যারা খোদার রাহে মানুষকে খাওয়ায় তাদের মন বড় হয়। দাওয়াত দেওয়া আর দাওয়াত কবুল করা নবী স: এর সুন্নত। নববধু কখন বাপের বাড়িতে নায়রী যাবে সে চিন্তায় অস্থির হয়। বাপের বাড়ির মানুষও কুটুমের অপেক্ষায় থাকে। মেহমান বরণ এক অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি এনে দেয়।  উভয় পক্ষের মানুষের মধ্যেই থাকে সপ্তাহব্যাপী সাজ সাজ রব। কেউ সাজায় নিজেকে। কেউ সাজায় অন্দরমহল। সকলের মনে বিরাজ করে সীমাহীন আনন্দ। এ যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। পুরনো মানুষগুলোও সাজে নতুন রূপে। শহুরে যান্ত্রিক জীবনে অতিষ্ঠ মানুষগুলো পায় এক খন্ড অবসর।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/142325/</link>
				<pubDate>Sun, 04 Sep 2022 02:31:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মেহমানদারী<br />
শীতের সকাল। কুয়াশাচ্ছন্ন। সামনে কিছু দেখা যাচ্ছে না কুয়াশার চাদরে ঢাকা। শিশিরবিন্দু জমে আছে সর্বত্র। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠে যতদূর দৃষ্টি যায় চোখ জুড়ানো শীতকালীন শাকসবজি। খেজুর গাছ থেকে রস নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কেউ কেউ। শীতের সকালে খেজুরের গুড় দিয়ে গরম গরম ভাপা পিঠা একেবারে অমৃত। গ্রামের হাটে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-142325"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/142325/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">56d95e2c1fb8a3721507cb9e6a479e25</guid>
				<title>অবহেলা

ভাদ্র মাস। তীব্র গরম আর রোদ। সূর্যটি ঠিক মাথার বরাবর। এবার বেশ গরম পড়েছে। গেল কয়েক বছরে এমন গরম পড়েনি। রিজিকের সন্ধানে বেড়িয়েছে ওয়ালিদ। ইউনিভার্সিটি পাশ এক যুবক। ভার্সিটির পড়ালেখার পাঠ চুকিয়েছে বছর তিনেক আগে। এখনো একটি চাকরি জুটেনি কপালে। ওয়ালিদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুদের প্রতিষ্ঠানে, ঘুষ দিয়ে, হারাম উপার্জনের চাকরি সে করবে না। ঘুষ দিয়ে চাকরি করার কোন ইচ্ছা নেই। কোনো কালে ছিলোও না। চাকরির সন্ধানে শিক্ষাজীবনে অর্জিত সার্টিফিকেটগুলো বগলদাবা করে ছুটে চলেছে ওয়ালিদ। চাকরি নামক সোনার হরিণ এর দেখা কখন মিলবে জানা নেই। ওয়ালিদ পড়াশোনায় ভালো। ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছে কিন্তু কোথাও মিলছে না একটা চাকরি। ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেছে সে। ঘেমে নেয়ে একাকার। দুপুরে খাওয়াও হয়নি। বেকার যুবক। বেশি টাকা নেই পকেটে। টাকা  যে কয়টা আছে বাড়ী যাওয়ার গাড়ি ভাড়া হিসেবেই লাগবে। বেকার যুবকদের  ভাল চোখে দেখে না এ সমাজ। বেকার যুবক দুপুরে খেয়েছে কি খায়নি তাতে কারো কিছু যায় আসে না। বেকার যুবকেরা সমাজে অবহেলিত, লাঞ্ছিত সম্প্রদায়। ক্ষেত্রবিশেষে অপমানিতও হয়। সমাজের মানুষগুলো বেকার যুবকদের প্রতি এমন ভাবে তাকায় মনে হয় যেন বেকার যুবকরা ভিনগ্রহের কোন প্রাণী। 

ক্লান্ত দেহে ওয়ালিদ এবার একটি গাছের ছায়ার নিচে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর মনের মধ্যে জমে থাকা হতাশার কালো মেঘ আকাশের বুকে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করছে তার। পৃথিবীটা ছোট হতে পারে তবে আকাশটা সীমাহীন। ওয়ালিদের দুঃখ- কষ্টগুলো যত বড় ই হোক আকাশের তুলনায় নগন্য। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। এখনো কিছু খাইনি সে। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে আরও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওয়ালিদ। বেশিরভাগ কোম্পানি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থী খুঁজে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে গরুর বাছুর হাঁটতে কিংবা দৌড়াতে পারলেও মানব শিশু যে পারে না এসব কথা কর্পোরেট কোম্পানিকে কে বোঝাবে? কর্পোরেট দুনিয়ায় আবেগের মূল্য নেই। 

ঢাকা শহরের এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়িয়েছে সে শুধু একটা চাকরির জন্য। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে কতশত অংকের হিসাব মিলাতে হয়। প্রতিষ্ঠাতা না হলে বেকার যুবকের কাছে সহজে কন্যাদান করতে চায় না কোন পিতা। একমাত্র আল্লাহ জানে কবে নাগাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে সে। সবকিছুতেই আল্লাহর উপর ভরসা তার। আল্লাহ উত্তম রিজিক দাতা। পানির নিচে মাছ হোক, জঙ্গলের প্রাণী কিংবা  পাখ-পাখালি কোনো রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই রিজিক পাচ্ছে। এবং বেশ ভালোভাবেই চলছে তাদের জীবন। নিজের স্বাধীনতা আছে। পুরোপুরি স্বাধীনতা নেই কেবল মানুষের। মানুষ সামাজিক প্রাণী। সামাজিক রীতিনীতি তো মেনে চলতেই হয়। কখনো শৃংখলাবদ্ধ হয়ে আবার কখনো পায়ে  পড়ে কর্পোরেট দাসত্বের শিকল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। দেখতে দেখতে বেলা শেষ হয়ে আসছে। এমনি করে একদিন জীবনের বেলা ও শেষ হয়ে যাবে। হতাশ হলে চলবে না। আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। না হয় আর কিছুদিন। মিলতেও পারে হালাল উপার্জনের পথ। হারাম উপার্জনে বরকত নাই। মনেও শান্তি আসে না। দুনিয়াতে কোন ফায়দা নেই। আখিরাতেও না। জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষের অবহেলা। জীবনের সমীকরণ একেক জনের একেক রকম। কারও সমীকরণ দুতরফা দাখিলার মতো। কারও আবার জিলাপির প্যাচ এর মতোই জটিল।     
ক্লান্ত হয়ে আসে দেহ। না আজ আর নয়। পা দুটোও আর চলছে না। কখনোবা মাঝে মাঝে চলে আসে মনের মধ্যে চরম হতাশা। কখনো ঘোর অমানিশা। জীবনটা বহতা নদীর মতো। খরস্রোতা নদী। কখনো স্রোতের অনুকূলে কখনো স্রোতের প্রতিকূলে। একমাত্র বেকার যুবক বুঝতে পারে স্রোতের প্রতিকূলে নৌকার গতিবেগ ঘন্টায় কত। যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে দ্বীনের সাথে আপোষ করে কিছু মানুষ। বিসর্জন দেয় নীতি-নৈতিকতাও। চাকরিজীবনের শুরুটা যদি হয় সুদ, ঘুষ আর দুর্নীতির সাথে সখ্যতার   মাধ্যমে তাহলে আর নীতিশাস্ত্র কপচিয়ে লাভ কি? দুঃখ-কষ্ট জীবনের অংশ। দিন চলে যাচ্ছে। দিন চলে যায়ও। কেউ একটু কম বিলাসিতা করে আর কেউ একটু বেশি। এইতো। দ্বীনের সাথে আপোস করা চলবেনা। উপার্জনই যদি হালাল না হলো তাহলে নামাজ, রোজা করেও কোনো লাভ হবে না। কারন হালাল উপার্জন ব্যতীত ইবাদত কবুল হয় না যে। সমাজের মানুষের দাবি একটাই প্রতিষ্ঠিত হওয়া চাই। প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে মূল্য নেই। প্রতিষ্ঠিত হতে হতে যৌবন চলে যায়। তেমনি ভাবে জীবনও চলে যাবে একদিন। কারো স্বপ্ন পূরণ হয় আবার কারো স্বপ্ন পূরণ হয়না। বেকার যুবকের কাছে প্রত্যাশার পারদ বুর্জ খলিফার উচ্চতার চেয়েও বেশি। সফলতার গল্প সবাই শুনে। ব্যর্থদের গল্প কেউ শুনতে চায় না। বেকার যুবকের চোখের পানি কখন শুকিয়ে আরাল সাগরের মতো হয়ে গেছে সে খবর কেউ রাখে না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/140882/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Sep 2022 03:26:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অবহেলা</p>
<p>ভাদ্র মাস। তীব্র গরম আর রোদ। সূর্যটি ঠিক মাথার বরাবর। এবার বেশ গরম পড়েছে। গেল কয়েক বছরে এমন গরম পড়েনি। রিজিকের সন্ধানে বেড়িয়েছে ওয়ালিদ। ইউনিভার্সিটি পাশ এক যুবক। ভার্সিটির পড়ালেখার পাঠ চুকিয়েছে বছর তিনেক আগে। এখনো একটি চাকরি জুটেনি কপালে। ওয়ালিদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুদের প্রতিষ্ঠানে, ঘুষ দিয়ে, হারাম উপার্জনের চাকরি সে করবে ন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-140882"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/140882/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eeae06f5853228ae98085f17aca4a736</guid>
				<title>অহংকারী
শরতের আকাশ। পরিচ্ছন্ন, নির্মল ঝকঝকে আকাশ। আকাশের নীল সীমানায় সাদা মেঘমালা কখনও দল বেঁধে কখনো বা একা একা একা উড়ে বেড়ায়। আকাশে একবিন্দু মেঘ নেই। সাদা কাশফুল ফুটে আছে। কঠিন হৃদয়ের মানুষগুলোর হৃদয় যদি এরকম নরম হত কাশফুলের মতো। মেঘ মুক্ত আকাশ যেমন নির্মল পরিচ্ছন্ন হয় ঠিক তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যদি হতো প্রতিটি মানুষের মন। যাদের সাদা মনে কাদা নেই সেই মানুষগুলোই বা দেখতে কেমন। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার তবে অসম্ভব নয়। ভালো-মন্দ মিলেই  জগৎ। চাঁদের কলঙ্ক আছে কি নেই সেই প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলেও একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা দুনিয়াবিমুখ, যাদের অন্তর কলুষমুক্ত, হিংসামুক্ত। তারা সদাসর্বদা তাদের জিকিরে মত্ত। আচ্ছা তাদের অন্তর কি অংকার মুক্ত?
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন আকবর আলী ব্যাপারী। তিনি গ্রামের সরদার। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম। লেখাপড়া করেছেন। শিক্ষিত মানুষ। আগের যুগেই মেট্রি পাশ। এত স্কুল কলেজ ছিল না তখনকার যুগে। পড়াশোনা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।   পৈতৃকভাবে অনেক জমি-জমা পেয়েছেন। আল্লাহর প্রতি তার অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। সবকিছুতে আল্লাহর প্রতি ভরসা তার। হঠাৎ করে কি এক দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরেছে তাকে। সারারাত ঘুম হয়নি। সকাল দশটা বেজে গেছে। কোন কিছুতেই মনে শান্তি পাচ্ছেন না। বয়স সত্তুর পেরিয়ে এসে নানা দুশ্চিন্তা ভর করেছে। অথচ তার জীবন ছিল জমিদারের মত।
কোনদিন অর্থকষ্টে পড়তে হয়নি। তবুও কেন জানি আজ এতটা অস্থির লাগছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলল তাকে। কিছুতেই কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি ব্যবসায়ী মানুষ। জীবনের অধিকাংশ সময় তার কেটেছে ব্যবসার কাজে। কখনো ছুটে চলেছেন শহর নগর বন্দরে। সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের কর্মজীবনে কত রঙের, কত ঢংয়ের, কত শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে উঠাবসা হয়েছে তার কোন হিসাব নেই। ব্যবসায়ে কখনো দেখেছেন লাভের মুখ, কখনো খুইয়েছেন পুঁজি টুকুও। তার অধিনস্ত কর্মচারীর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। চলতে ফিরতে কতশত মানুষের সাথে মেলামেশা হয়েছে তার কি হিসাব আছে কোন। কখনো কখনো কর্মচারীদের সাথে হয়েছে একটু-আধটু মনোমালিন্যও। আকবর আলী নিজে জানেন তিনি একটু কঠিন মেজাজের মানুষ। তিনি মনে করেন একটু কঠোরতা না দেখালে এতবড় ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখাই কঠিন। কখনো কর্মচারীর উপর চড়াও হয়েছেন। কখনো বা হাত তুলেছেন। কখনো বা করেছেন তুইতোকারিও। অতীতের কথা স্মরণ করতে মন নরম হয়ে এলো তার। আচরণে তিনি কখনোই নরম মেজাজী ছিলেন না। বয়স বেড়েছে এখন। ব্যবসা-বাণিজ্য দেখার মত শক্তি আর কুলায় না। তাই এসব ছেলে মেয়েদের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন একটু আরাম আয়েশ করে বাকি দিনগুলো পার করাই তার উদ্দেশ্য। 
শুক্রবার জুম্মার দিন। গরিবের হজ্জ্বের দিন। আকবর আলী মসজিদের জুমার দিন মসজিদে প্রবেশ করেন একটু  আগে ভাগেই। একটা বিশেষ সওয়ার আছে মসজিদে আগে ভাগে প্রবেশের। একটা উট কুরবানী করার সমতুল্য। আকবর আলী জানতেন সেটা। মসজিদে হুজুর বয়ান করছেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। আলোচনার একপর্যায়ে হুজুর বলে উঠলেন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা। নবীজি বলেছেন কারও অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণও যদি অহংকার থাকে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আকবর আলী কিছুক্ষণের জন্য নিজেকে হারিয়ে ফেললেন। অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন। হুজুর কি বলছেন কিছুই আকবর আলী শুনছেন না। মনোযোগও দিতে পারছেন না একদম। বারবার ঘুরেফিরে একই কথা কানে বাজছে। মনের অজান্তে আকবর আলী নিজেকে প্রশ্ন করে বসলেন আমি কি অহংকারী? আমার অন্তর কি অহংকার মুক্ত? শুধু ভাবেন আর  ভাবেন কিন্তু ভেবে ভেবে কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না। নামাজ শেষ হলো। 

দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর একটু ঘুমানোর অভ্যাস তার। কিন্তু আজকে কি হল কিছুতেই ঘুম আসছে না চোখে। দু চোখ বন্ধ করেও কাজ হচ্ছে না। আছরের নামাজ পড়লেন তিনি যথারীতি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। কৌতুহল ভর করেছে।  দুপুর থেকে মনটা বিষন্নতায় ছেয়ে গেছে। বর্ষার আকাশের মেঘের মত অন্ধকারে ছেয়ে যায় তার। গভীর ভাবনায় পড়ে গেলেন আকবর আলী। কঠিন স্বভাবের কারণে কতজনের সাথে রূঢ় আচরণ করেছেন তিনি ঠিক মনে করতে পারেন না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। একবার কারবার হতে চুরি সন্দেহে এক কর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে ছিলেন তিনি। কারণ তিনি ভাবতেন চোরকে ক্ষমা করার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তৎক্ষণাৎ সেই কর্মীকে ছাঁটাই করে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য সেই কর্মী নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিল। যা হবার তা হয়ে গেছে। আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই কর্মীকে। সে চলে গিয়েছিল। তার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়নি। সে কি  ক্ষমা করেছে আকবর আলীকে। কে জানে। মন খারাপ হয়ে আছে। 

অস্থিরতায় পায়চারি করছেন সারারাত ঘুম হয়নি। একটা প্রশ্ন মনে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি কি অহংকারী? আমার অন্তর কি অহংকার মুক্ত? আমার অন্তরকে যদি অহংকার মুক্ত না করতে পারলাম তাহলে সত্তুর বছরের জিন্দেগি কি কাজে গেল? জীবনের পড়ন্ত বেলা। মৃত্যুর ডাক কখন আসে কেউ বলতে পারে না।  তিনি সফল ব্যবসায়ী। নামকরা ব্যবসায়ী। আশপাশের এলাকায় তাকে এক নামে চিনে সবাই। কিন্তু প্রশ্ন হল সফল মানুষ কি তিনি? আকবর ব্যাপারী ভাবেন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/138648/</link>
				<pubDate>Sat, 27 Aug 2022 10:21:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অহংকারী<br />
শরতের আকাশ। পরিচ্ছন্ন, নির্মল ঝকঝকে আকাশ। আকাশের নীল সীমানায় সাদা মেঘমালা কখনও দল বেঁধে কখনো বা একা একা একা উড়ে বেড়ায়। আকাশে একবিন্দু মেঘ নেই। সাদা কাশফুল ফুটে আছে। কঠিন হৃদয়ের মানুষগুলোর হৃদয় যদি এরকম নরম হত কাশফুলের মতো। মেঘ মুক্ত আকাশ যেমন নির্মল পরিচ্ছন্ন হয় ঠিক তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যদি হতো প্রতিটি মানুষের মন। যাদের&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-138648"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/138648/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bdab259a6bd5cb76b240a179cd7eb631</guid>
				<title>এতিমের সুখ দুঃখ 
প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান। দেশের নামকরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মস্ত বড় ইঞ্জিনিয়ার তিনি। পাশ করেছেন স্থাপত্যবিদ্যায়। বহু মানুষের বসতবাড়ির নকশা তিনি নিজ হাতে করে দিয়েছেন। বিলাসবহুল বাড়ি, সুরম্য অট্টালিকা, আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক দালান কোঠা কত কিছুর নকশা তিনি করেছেন। বাড়ির ভিতরে একটু পায়চারি করার জন্য, একটা অলস বিকেল কাটানোর জন্য, শহরের যান্ত্রিক জীবন আর কোলাহল থেকে একটু মুক্তির জন্য মানুষ নিজের বিলাসবহুল বাড়িটাকে একটু নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে পছন্দ করে। যে জন্য প্রয়োজন একটা সুবিশাল বারান্দা, বাড়ির সামনের দিকে একটু খোলা জায়গা যেখানে থাকবে ফুলের বাগান। সেইসব বাগান ইঞ্জিনিয়ার সাহেব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাড়ির ডিজাইন এর সাথে  যুক্ত করেছেন।
কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এর ঢাকার অভিজাত এলাকার নিজের বাড়ীটাকে আজ বড্ড নিরানন্দ লাগছে। কত ফুল ফুটে আছে বাগানে কিন্তু মনে আনন্দ নেই। শুধু বাগানের ফুলে কি মন ভরে? নিঃসন্তান দম্পতি কেবল বুঝতে পারেন এই কষ্টের কথা। কি নেই তাহার সুবিশাল বাড়িটাতে? দামি আসবাব পত্র, গহনাগাটি, দামি গাড়ি, বাড়ির সর্বত্র রঙ্গিন আলোর ঝলকানি। সব আছে তবু কি  যেন নেই। কেবল শূন্যতা আর হাহাকার। মনে শান্তি নাই। তাই ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ভাবলেন গ্রামের বাড়ি থেকে পরিবারসহ কটা দিন বেড়িয়ে আসবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। তারপরে একদিন পরিবার নিয়ে চলে গেলেন গ্রামে। পরিবার বলতে কেবল স্বামী-স্ত্রী। 
অনেকদিন পর পরিবার নিয়ে গ্রামে বেড়াতে এসেছেন। গ্রামে একটি এতিমখানা বানিয়েছেন। সেটা দেখাশোনার জন্য একদিন বের হলেন তিনি। প্রায় ত্রিশ জন এতিম ছাত্র পড়াশোনা করে এখানে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে এতিম শিশুরা এখানে এসেছে। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের অর্থায়নে আর এলাকার মানুষের দান-দক্ষিণায় এতিমখানাটি চলছে। এতিমখানায় গেলে দিল নরম হয়। পিতা-মাতা ছাড়া এসব অনাথ শিশুদের দিকে তাকালে খুব মায়া হয়। উৎসবের দেশ বাংলাদেশ। সারা বছর একটা না একটা উৎসব লেগেই থাকে। কেউ না দিলে কপালে জুটে না এদের। নতুন জামা কাপড় ছাড়া ঈদ কাটাতে হয় এসব এতিম শিশুদের। ঈদের দিন পাশের বাড়ির বিরিয়ানি, পোলাও, পায়েস পিঠাপুলি সেমাই এর গন্ধ আসে নাক এ। ওরা অসহায়। ওরা এতিম। ওরা একটু সেমাইয়ের ভাগ পেয়েছে কিনা সে খবর কে রাখে। এসবের দিকে তাকালে মনে হয় পৃথিবীর এক প্রান্তে সবুজে পরিপূর্ণ মহাবন আমাজন আরেক প্রান্তে শুধু খা খা ধুকতে থাকা সাহারা মরুভূমি। মরুভূমির বুকে না আছে কোন গাছ আর না আছে পানি। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু তপ্ত বালি। মরুভূমির কি ইচ্ছে হয় না কখনো একটু পানির স্পর্শ পেতে। হয়তো  হয়। কে জানে। এতিম শিশুরাদের চোখের দিকে তাকানো যায়না। ওদের মাথায় লাগে না তার পিতার  হাতের স্পর্শ। একটু কান্না করার সুযোগ হয়না কারো মায়ের আঁচল ধরে। ওরা একা। খুব একা। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ওদের। ঠিক যেন আরাল সাগরের মত।
হেমন্তের সকাল। হিমশীতল আবহাওয়া। কুয়াশার চাদর গায়ে দিয়ে শীত আসি আসি করছে। ফজরের নামাজ পড়ে এতিমখানা চত্বরে পায়চারি করছিলেন ইঞ্জিনিয়ার সাহেব। এতিমখানার বারান্দায় বিষন্ন মনে বসে আছে একটি অনাথ শিশু। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব টের পেলেন বিষয়টি। কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন নাম কি তোমার বাবু। শিশুটি নিচু স্বরে সে শুধু উত্তর দিলো আব্দুল্লাহ। সাহেব জানতে চাইলেন মন খারাপ করে কি ভাবছে আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ নিরুত্তর। আবারও একই প্রশ্ন। আব্দুল্লাহ এবার উত্তর দিলো মা বাবার কথা খুব মনে পড়ছে তার। জন্মের আগে বাবাকে হারিয়েছে সে। বাবা দেখতে কেমন ছিলো সে জানেনা। বাবার গল্প শোনার সুযোগ মেলেনি। মাকে হারিয়েছে সে বছর দুয়েক পর। মায়ের চেহারাও ঠিক মনে করতে পারছে না এখন। এমনি করে দিন, মাস, বছর পেরিয়ে যায়। একটি বারের জন্য মা বাবাকে দেখতে পাবে না সে। কোনদিন আর আসবেনা ভাবতে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার দুধ সাগর ঝরনার মত। 
কানাডার বিখ্যাত জলপ্রপাত নায়াগ্রা ফলসের সৌন্দর্য দেখতে কত শত মানুষ পাড়ি জমায় প্রতিবছর। দূর-দূরান্ত হতে ছুটে চলে ওরা। দেশ হতে দেশান্তরে। অথচ বাড়ির পাশে এতিমখানায় কতশত পিতৃ-মাতৃহীন এতিম শিশুরা দিন রজনী কান্নাকাটি করে ওদের চোখের পানি দেখতে কেউ আসেনা। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের মনটা নরম হয়ে এলো। তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে। মায়া লাগছে তার। পরক্ষণেই আব্দুল্লাহকে বুকে জড়িয়ে নিলেন পরম মমতায়। সারা শরীরে একটা কম্পন হয়ে গেল তার। নিঃসন্তান ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের শূন্য বুকটা ভরে গেল স্বর্গীয় কোন প্রাপ্তিতে। সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। আব্দুল্লার ও সৌভাগ্য হয়নি পিতার মুখ দেখার। আব্দুল্লাহ পৃথিবীর আলো দেখার পূর্বে তার পিতা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছিল। 
ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ভাবলেন ছেলেটাকে নিজের পরিবারের কাছে নিয়ে যাওয়া যাক। নিঃসন্তান দম্পতির  সিদ্ধান্তে এতিম শিশুর আব্দুল্লার একটা বন্দোবস্ত হলো। আব্দুল্লাহ যাবে তাদের সাথে। আর মনমরা হয়ে থাকতে হবে না। নিঃসন্তান দম্পতির যুগের পর যুগ ধরে নির্জন নিরিবিলিতে পড়ে থাক বাড়িতে  এতিম শিশু আব্দুল্লাহ খেলবে, দৌড়াবে। শুরুটা তবে এভাবেই হোক না। নিঃসন্তান দম্পতি পাবে সন্তান অার এতিম শিশু আব্দুল্লাহ পাবে পিতামাতার স্নেহ, ভালোবাসা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127271/</link>
				<pubDate>Sun, 31 Jul 2022 13:52:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এতিমের সুখ দুঃখ<br />
প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান। দেশের নামকরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মস্ত বড় ইঞ্জিনিয়ার তিনি। পাশ করেছেন স্থাপত্যবিদ্যায়। বহু মানুষের বসতবাড়ির নকশা তিনি নিজ হাতে করে দিয়েছেন। বিলাসবহুল বাড়ি, সুরম্য অট্টালিকা, আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক দালান কোঠা কত কিছুর নকশা তিনি করেছেন। বাড়ির ভিতরে একটু পায়চারি করার জন্য, একটা অলস বিক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-127271"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/127271/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">18b1747054d44bcb2e04761fbdae6c80</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127173/</link>
				<pubDate>Sun, 31 Jul 2022 10:05:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">edc1e63a4a585fe03fbead1e970c33da</guid>
				<title>পড়ন্ত বেলা 
গ্রামের নাম রসূলপুর। যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে বিশাল গোরস্থান। কখন এই গোরস্থানের গোড়াপত্তন কেউই নিশ্চিত বলতে পারেনা। কয়েক প্রজন্ম চলে গেছে মাটির নিচে। ধনী-গরিব, জমিদার, দ্বীনদার, পরহেজগার, অহংকারী মানুষ সব এক কাতারে শামিল। সবারই আজ এক পরিচয় কবরস্থানের বাসিন্দা। শুনশান। নিরব। কোথাও কোনো সাড়াশব্দ নেই। যৌবনে যখন তেজ ছিল কারো কারো হুংকারে কাঁপতো গায়ের মাটি। গ্রামের সরদার কিংবা পালোয়ান সবার কণ্ঠ নিরব, নিস্তব্ধ। যাদের ডাকে মুহূর্তে মানুষ জড়ো হয়ে যেত সেই মানুষগুলো আজ বড্ড অসহায়। সাঁতার না জানা পানিতে পড়া অবুঝ শিশুটির মতো। কবরের অন্ধকার ঘরে তাদের চিৎকারও কেউ শুনতে পায়না। দুই দিনের দুনিয়ায় কত শত বাহাদুরি না ছিল। অর্থবিত্ত আর রূপের দেমাগে মাটিতে যাদের পা পরতে না তারাও আজ মাটির বাসিন্দা। বাড়ি, গাড়ি, টাকা পয়সা কিছুই যায়নি সঙ্গে। কিছু যায়ও না।

এবারের বর্ষায় পানি হয়েছিল বেশ। বিগত কয়েক বছর ধরে এমন পানি হয়না। এখন পানি অনেকটা শুকিয়ে গেছে। সারাদিন তপ্ত রোদ। বাইরে বের হবার জো নেই। বিকেলে জমিজমা দেখাশোনা করার জন্য বের হয়েছে গ্রামের কৃষক করিম মিয়া। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ লোক। চুল, দাড়িতে পাক ধরেছে। সাদা দাড়িতে খুব গর্ব হয় তার। নবীর সুন্নত দাড়ি। সাদা দাড়িওয়ালা মুরুব্বীদের বিশেষ সম্মান আছে। জীবনে কোনদিন দাড়ি কামায় নাই করিম মিয়া। নবীর সুন্নত দাড়িতে ক্ষুর লাগালে যেন তার কলিজায় আঘাত লাগে। পড়াশোনা বেশি করতে না পারলেও সমাজ সচেতন মানুষ তিনি। নবীর মহব্বত আছে তার দিলে। নবীর সুন্নত পালনে সজাগ দৃষ্টি তার। এই একটা সুন্নতই তো সঙ্গে যাবে কবরে। যখনই একটু সময় পায় সাদা দাড়িতে হাত বোলায় করিম মিয়া। আনন্দে পুলকিত হয় তার মন।

বিগত কয়েক বছর জমিতে ফসল ভালো না হলেও হতাশ নন করিম মিয়া। তিনি মনে করেন এটা আল্লাহর পরীক্ষা। রিজিকের মালিক আল্লাহ। রিজিকের পেরেশানি তিনি করেন না কখনোই। তবে একটা ব্যাপারে খুব পেরেশানি আছে তার। খুব ভয় হয় কখন না জানি হারাম খাদ্য ঢুকে যায় পেটে। সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি তার। কারণ করিম মিয়া জানে হারাম খাদ্যে হৃষ্টপুষ্ট যে মাংস নরকাগ্নি তার উত্তম স্থান।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। পশ্চিম আকাশে রক্তিম আভা। কবর স্থানের পাশ দিয়ে জমি দেখতে গিয়েছিল করিম মিয়া। তার ফসলের জমি কবরস্থানের একটু দূরেই। ফেরার সময় ভাবলে মা-বাবার কবরটা জিয়ারত করা যাক। দাদা-দাদির কবর গুলোও পাশেই। কতশত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিজ হাতে  কবরে শুইয়েছে সে। জীবন সায়াহ্নে এসে নিজেকে বড্ড একা লাগছে। মউতের কথা মনে পড়ছে খুব। কখন না জানি ডাক আসে চলে যাবার চলে যেতে হয়ও। কেউ থাকতে পারে না। থাকার জন্য আসে না কেউ। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলেন করিম মিয়া। একেতো দরজা-জানালা বিহীন অন্ধকার ঘর, তারউপর কবরের কঠিন আযাবের ভয়। কীভাবে থাকবে সে। মসজিদ থেকে মাগরিবের আজান ভেসে আসছে। নামাজের দিকে এসো কল্যাণের দিকে এসো। এবার যাওয়ার পালা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/127172/</link>
				<pubDate>Sun, 31 Jul 2022 10:01:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পড়ন্ত বেলা<br />
গ্রামের নাম রসূলপুর। যতদূর চোখ যায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে বিশাল গোরস্থান। কখন এই গোরস্থানের গোড়াপত্তন কেউই নিশ্চিত বলতে পারেনা। কয়েক প্রজন্ম চলে গেছে মাটির নিচে। ধনী-গরিব, জমিদার, দ্বীনদার, পরহেজগার, অহংকারী মানুষ সব এক কাতারে শামিল। সবারই আজ এক পরিচয় কবরস্থানের বাসিন্দা। শুনশান&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-127172"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/127172/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c40e66cf4932ee959f0ff2e9f5b00295</guid>
				<title>মহাপ্রাচুর্য্যে মহাশূন্যতা

গভীর রজনী। চারিদিক নীরব নিস্তব্ধ। কোন সাড়া শব্দ নেই। গ্রন্থাগারের ভেতরের পরিবেশটার মতো। পিনপতন নীরবতা। এত রাত হয়েছে তবু কিছুতেই ঘুম অাসছে না প্রফেসর সালাম সাহেবের। ঢাকার নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। এখন অবসর জীবনযাপন করছেন। ছেলেমেয়েদের সুখের কথা চিন্তা করে সারাজীবনের সঞ্চয় অার পেনশনের টাকায় ঢাকায় বানিয়েছেন বিলাসবহুল অালিশান বাড়ি। সারাদিন কর্মব্যস্ত, মানুষের পদচারণায় মুখরিত প্রাচীন এ শহরটাকে অাজ বড় অচেনা লাগছে। হ প্রাচীন শহরই। ঢাকার বয়স তো অার কম হয়নি। সেই চারশ বছরের পুরনো শহর। মনে হচ্ছে যেন এ শহরে অার কেউ বাস করেনা; শুধু তিনি একা। অার জেগে অাছেন তিনি একাই৷ পরক্ষণেই মনে হলো তার ধারণা ভূল। কর্ম জীবনের একটা সময়ে তিনি পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকায় থেকেছেন। ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক কিছুই জানেন তিনি। চিকিৎসার প্রয়োজনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও গিয়েছিলেন কয়েকবার। সেই থেকে তিনি জানেন ঢাকা মেডিকেল কখনো ঘুমায় না। কেউ না কেউ জেগে থাকে। প্রতি মুহূর্তে এ হাসপাতালে রচিত হয় কতশত সুখ দুঃখের গল্প। কেউ কাঁদে, কেউ হাসে। কালের সাক্ষী ঢাকা মেডিকেল। কর্ণফুলী পেপার মিলের কাগজ শেষ হবে তবুও ঢাকা মেডিকেলে রচিত সুখ দুঃখের গল্প শেষ হবেনা। সারাদিনই এ হাসপাতালে থাকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অাগত অসংখ্য মানুষের অানাগোনা। 

হঠাৎই অাবার মনে পড়লো তার বাড়ির দারোয়ান মতি মিয়ার কথা। বরিশালের মতি মিয়া। পুরো নাম মতিউর রহমান। মতি মিয়াও তো ঘুমায় না। রাত জেগে বাড়ি পাহারা দেয় সে। থাকে বিশাল এ বাড়ির গেট সংলগ্ন ছোট্ট একটা রুমে। জীবিকার তাগিদে ঢাকা শহরে এসেছিলো মতি মিয়া চল্লিশ বছর আগে। এখন বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। প্রথম যখন ঢাকায় এসেছিলো তখন সে টগবগে তরুণ। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার এক বস্তিতে। রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনিদের নিয়ে তার সুখের সংসার। টাকার অভাবে ঢাকা শহরে স্থায়ী কোন অাবাস গড়তে পারেননি তিনি। কখনো থেকেছেন বস্তিতে। কখনোবা বেদে পল্লীর মতো যাযাবর জীবন কাটিয়েছেন যখন যেখানে এক টুকরো জায়গা পেয়েছেন পরিবার নিয়ে থাকার মতো। মাঝে অবশ্য সাতশো টাকা দিয়ে একটা বাসা ভাড়াও নিয়েছিলেন। পরে অর্থাভাবে সেই বাসাটাও ছেড়ে দিতে হয়েছিল। এখন একটা বস্তিতেই থাকেন তিনি পরিবার নিয়ে।

গরীব মানুষ। শখ পূরণের কতটুকুই বা সাধ্য অাছে তার। কোনরকমে দিন চলে যাচ্ছে। দিন চলে যায়ও। কারণ সময় কারো জন্য অপেক্ষা করেনা। বয়সও বাড়ছে দিনদিন। জীবনে শখ, অাহ্লাদ সবই ছিলো। ছিলো কিছু স্বপ্নও। টাকার অভাবে স্বপ্ন পূরণ না হলেও জীবনে কোন অাক্ষেপ নেই মতি মিয়ার। কারণ তিনি জানেন মরতে একদিন হবেই। পৃথিবী কারো অাসল ঠিকানা নয়। মৃত্যু একদিন মুছে দিবে সকল রঙিন পরিচয়। তাই ঈমান নিয়ে মরতে পারাটাই তার কাছে সফলতা। বাপ-দাদা যে রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন মতি মিয়াও চলছেন সেই পথ ধরে। নামাজ, রোজা, কুরঅান তেলাওয়াত, জিকির-ফিকির। এই চলছে বেশ। 

যখনই একটু সময় পান কুরঅান তেলাওয়াত করতে ভুলে যান না তিনি। অার অাল্লাহর জিকির তো করেনই। কুরঅানে তেলাওয়াত অার জিকিরে যে প্রশান্তি তিনি ক্বলবে লাভ করেন সেটা অার কিছুতেই খুঁজে পাননা তিনি। পড়ালেখা বেশিদূর না করলেও গভীর জীবনবোধ অাছে মতি মিয়ার। নবী সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম উপর গভীর ভালোবাসা তার। তাই দরুদ পড়েন বেশি বেশি। গোপন একটা বাসনাও অাছে মনে। দরুদের উছিলায় হয়তো কোন একদিন স্বপ্নযুগে নবী সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিদার মিলতেও পারে কপালে। একবার যদি পাইতেন নবী(সা.) এর দিদার। অাহ! কলিজাটা শান্তি পেতো। গভীর ভাবনায় হারিয়ে গেছেন তিনি। অাল্লাহই ভালো জানেন। সব কিছুতেই অাল্লাহর উপর ভরসা তার।

জীবনে একবার হলেও মক্কা মদিনা যাওয়ার ইচ্ছা মতি মিয়ার। টাকার অভাবে যেতে পারেননি। কিন্তু হতাশ নন তিনি। বিশ্বাস করেন অাল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব। কোন একদিন হয়তো ইচ্ছাপূরণ হবে। কারণ তিনি জানেন অাল্লাহ তাঅালা কারো ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেন না। 
প্রফেসর সালাম সাহেবের ধানমন্ডির দোতলা অালিশান বাড়ি পাহারা দেয় সে। এত বড় বাড়িতে সালাম সাহেব একা থাকেন। প্রিয়তমা স্ত্রী গত হয়েছেন বছর কয়েক অাগে। সালাম সাহেবের ছেলে-মেয়েরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। জীবিকার তাগিদে ছেলেরা পাড়ি জমিয়েছেন কেউ কানাডায়, কেউ অামেরিকায়। একমাত্র মেয়েটাও থাকে শ্বশুরবাড়িতে। সেও ব্যস্ত মানুষ। ঘর-সংসার অাছে। ছেলেরা বললেও সুদূর অামেরিকা-কানাডায় যেতে রাজি নন তিনি। জীবনের শেষ দিনগুলো প্রাণের শহর ঢাকাতেই কাটাতে চান। কতকিছু অাছে, কতকিছু নেই তারপরও এ শহরের মায়া ছাড়তে পারেননা। শৈশব, কৈশোর সব কাটিয়েছেন তিনি এ শহরে। এ শহরের মায়া ছাড়া কি সহজ কথা! 
যখন প্রফেসর সালাম সাহেবের বাড়ির পাহারাদার এর চাকরিটা পেয়ে যান তখন থেকে মতি মিয়া এ বাড়িতেই থাকেন। চাকরির উপার্জিত টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই বস্তিতে না থেকে উপায় নেই। তারপরও অাত্মতৃপ্তি বোধ করেন।  সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রকাশ করেন অশেষ কৃতজ্ঞতা। এক জীবনে যা কিছু পেয়েছেন সবকিছুর জন্য। তিনি মনে করেন চাহিদা যত কম, দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা পেরেশানিও তত কম। এই ষাট বছর বয়সেও অাল্লাহ সুস্থ রাখছেন এতেই খুশি তিনি। হালাল টাকায় বাজার সদাই যা ই করতে পারেন কোন অাফসোস নেই তার। বড়লোকের বিশাল বাড়ি পাহারার দায়িত্ব তার কাঁধে তাই পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ খুব একটা পান না। ছুটি পেলেই চলে যান পরিবারের কাছে। স্ত্রী-সন্তান অাছে। অাছে বৃদ্ধ মা-বাবাও। 
মা-বাবার খেদমত করতে পেরে ভীষণ খুশি তিনি। এবার মা-বাবার জন্য পছন্দের রসগোল্লা কিনে এনেছেন। বৃদ্ধ মা-বাবা দুজনই মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন। রসগোল্লা খেয়ে মতি মিয়ার জন্য প্রাণভরে দোয়া করেছেন মা-বাবা দুজনই। ওদিকে তিনশো টাকা দামের লাল শাড়িটা পেয়ে তার স্ত্রীও বেজায় খুশি। মতি মিয়া ভাবেন একজীবনে অার কি চাই। 
নিজের পরিবারটাকে মনে হয় এক টুকরো জান্নাত। তার ছেলেরা কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালায়, কেউ করে কমলাপুর রেলস্টেশনে কুলির কাজ। অর্থকষ্টে সংসার চলে তাই সন্তানদের পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি। বৃষ্টির সময় ঘরের চালার ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। অারেকবার ছুটিতে এসে ঘরের চালার মেরামত করবেন বলে গেছেন তিনি। অাজ যেতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই। ওদিকে সালাম সাহেবও একা মানুষ। অশীতিপর বৃদ্ধ।

এখন অনেক রাত। মতি মিয়া তাহাজ্জুদ নামাজে দাঁড়িয়েছেন। অার এদিকে সালাম সাহেবের চোখে ঘুম নেই। কিছুতেই ঘুম অাসছেনা তার। অদ্ভুত শুন্যতায় ছটফট করছেন তিনি। শতচেষ্টা করেও ঘুমাতে পারছেন না। বিশাল এ বাড়িতে ফ্রিজ, টিভি, এসি, দামি অাসবাবপত্র, সাজানো ফুলের বাগান, মনোরম বারান্দা, দামি গাড়ি কোনকিছুরই অভাব নেই। তারপরও নিজেকে খুব একা লাগছে তার। মনে হচ্ছে সব থেকেও যেন কিছুই নেই। একটা কথা বলার মানুষ পর্যন্ত নেই। মতি মিয়াও অালিশান এ বাড়িতে থাকেন না। মতি মিয়ার জায়গা বাড়ির গেটের একপাশে ছোট রুমটাতে।

যখন স্ত্রী ছিলো সালাম সাহেব প্রায়ই বেড়াতে যেতেন কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, নীলগিরি, নীলাচল। পাহাড়-সমুদ্র খুব ভালো লাগে তার। ঘুরতেও ভালোবাসেন তিনি। দেশের বাইরে গিয়েছিলেন ভারতের অাগ্রায়। তাজমহল ভ্রমণের স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে তার। শীমলা-মানালি-কাশ্মির সবই ভ্রমণ করেছেন প্রিয়তমা স্ত্রীর সাথে। এখন সবই অতীত। নীলাচলের কথা মনে পড়তেই প্রফেসর সালাম সাহেব একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন মতি মিয়া নীলগিরি, নীলাচল গিয়েছ কখনো? মতি মিয়া জবাবে বলেছিলো সাহেব অামরা গরীব মানুষ। সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। নীলাচল যাইনি কখনো। অামার মায়ের অাঁচলই অামার কাছে প্রিয়।

ক্লাস, ভার্সিটি, থিসিস, পিএইচডি, গবেষণা এসবেই সালাম সাহেবের জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে। কোন না কোন কাজে সারাবছরই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ধর্মকর্ম তেমন কিছু করা হয়নি। রাতেরও যে একটা সুন্দর দিক অাছে সেটা তিনি জানেন না। যদি জানতেন তাহলে তিনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন তাহাজ্জুদে। নিজেকে একা মনে হতো না। শুন্যতায় ছটফট করতেন না। জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন তিনি খুব একা। ভীষণ একা। অথচ একসময় পরিবার পরিজন সবই ছিলো। এখন যে যার মতো চলে গেছে। 

এক অাজব শহর ঢাকা। কোটি কোটি মানুষের বসবাস এ শহরে। মানুষে গিজগিজ করছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় গড়ে উঠেছে অাকাশচুম্বী সব অট্টালিকা। মানুষ এ শহরে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে প্রতিদিনই সংগ্রাম করছে। এদিকে সালাম সাহেবের কাছে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরে কোন মানুষ নেই। সবদিকে শুনসান নীরবতা। এ যেন মহাপ্রাচুর্যের মাঝে মহাশূন্যতা। ফজরের সময় হয়ে এসেছে। কাছের এক মসজিদ থেকে ভেসে অাসছে মুয়াজ্জিনের অাজানের ধ্বনি &#039;অাসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম&#039; (ঘুম হইতে নামাজ উত্তম)।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/126752/</link>
				<pubDate>Sat, 30 Jul 2022 04:01:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মহাপ্রাচুর্য্যে মহাশূন্যতা</p>
<p>গভীর রজনী। চারিদিক নীরব নিস্তব্ধ। কোন সাড়া শব্দ নেই। গ্রন্থাগারের ভেতরের পরিবেশটার মতো। পিনপতন নীরবতা। এত রাত হয়েছে তবু কিছুতেই ঘুম অাসছে না প্রফেসর সালাম সাহেবের। ঢাকার নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। এখন অবসর জীবনযাপন করছেন। ছেলেমেয়েদের সুখের কথা চিন্তা করে সারাজীবনের সঞ্চয় অার পেনশনের টাকায় ঢাকা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-126752"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/126752/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>