Profile Photo

মো. মিকাইল অাহমেদOffline

  • Mekail2
  • অবহেলা

    ভাদ্র মাস। তীব্র গরম আর রোদ। সূর্যটি ঠিক মাথার বরাবর। এবার বেশ গরম পড়েছে। গেল কয়েক বছরে এমন গরম পড়েনি। রিজিকের সন্ধানে বেড়িয়েছে ওয়ালিদ। ইউনিভার্সিটি পাশ এক যুবক। ভার্সিটির পড়ালেখার পাঠ চুকিয়েছে বছর তিনেক আগে। এখনো একটি চাকরি জুটেনি কপালে। ওয়ালিদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুদের প্রতিষ্ঠানে, ঘুষ দিয়ে, হারাম উপার্জনের চাকরি সে করবে না। ঘুষ দিয়ে চাকরি করার কোন ইচ্ছা নেই। কোনো কালে ছিলোও না। চাকরির সন্ধানে শিক্ষাজীবনে অর্জিত সার্টিফিকেটগুলো বগলদাবা করে ছুটে চলেছে ওয়ালিদ। চাকরি নামক সোনার হরিণ এর দেখা কখন মিলবে জানা নেই। ওয়ালিদ পড়াশোনায় ভালো। ইন্টারভিউয়ের পর ইন্টারভিউ দিয়ে চলেছে কিন্তু কোথাও মিলছে না একটা চাকরি। ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেছে সে। ঘেমে নেয়ে একাকার। দুপুরে খাওয়াও হয়নি। বেকার যুবক। বেশি টাকা নেই পকেটে। টাকা যে কয়টা আছে বাড়ী যাওয়ার গাড়ি ভাড়া হিসেবেই লাগবে। বেকার যুবকদের ভাল চোখে দেখে না এ সমাজ। বেকার যুবক দুপুরে খেয়েছে কি খায়নি তাতে কারো কিছু যায় আসে না। বেকার যুবকেরা সমাজে অবহেলিত, লাঞ্ছিত সম্প্রদায়। ক্ষেত্রবিশেষে অপমানিতও হয়। সমাজের মানুষগুলো বেকার যুবকদের প্রতি এমন ভাবে তাকায় মনে হয় যেন বেকার যুবকরা ভিনগ্রহের কোন প্রাণী।

    ক্লান্ত দেহে ওয়ালিদ এবার একটি গাছের ছায়ার নিচে কিছুক্ষণের জন্য বিশ্রাম নেয়। আকাশের দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর মনের মধ্যে জমে থাকা হতাশার কালো মেঘ আকাশের বুকে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করছে তার। পৃথিবীটা ছোট হতে পারে তবে আকাশটা সীমাহীন। ওয়ালিদের দুঃখ- কষ্টগুলো যত বড় ই হোক আকাশের তুলনায় নগন্য। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। এখনো কিছু খাইনি সে। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে আরও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওয়ালিদ। বেশিরভাগ কোম্পানি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থী খুঁজে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে গরুর বাছুর হাঁটতে কিংবা দৌড়াতে পারলেও মানব শিশু যে পারে না এসব কথা কর্পোরেট কোম্পানিকে কে বোঝাবে? কর্পোরেট দুনিয়ায় আবেগের মূল্য নেই।

    ঢাকা শহরের এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়িয়েছে সে শুধু একটা চাকরির জন্য। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে কতশত অংকের হিসাব মিলাতে হয়। প্রতিষ্ঠাতা না হলে বেকার যুবকের কাছে সহজে কন্যাদান করতে চায় না কোন পিতা। একমাত্র আল্লাহ জানে কবে নাগাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে সে। সবকিছুতেই আল্লাহর উপর ভরসা তার। আল্লাহ উত্তম রিজিক দাতা। পানির নিচে মাছ হোক, জঙ্গলের প্রাণী কিংবা পাখ-পাখালি কোনো রকম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই রিজিক পাচ্ছে। এবং বেশ ভালোভাবেই চলছে তাদের জীবন। নিজের স্বাধীনতা আছে। পুরোপুরি স্বাধীনতা নেই কেবল মানুষের। মানুষ সামাজিক প্রাণী। সামাজিক রীতিনীতি তো মেনে চলতেই হয়। কখনো শৃংখলাবদ্ধ হয়ে আবার কখনো পায়ে পড়ে কর্পোরেট দাসত্বের শিকল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। দেখতে দেখতে বেলা শেষ হয়ে আসছে। এমনি করে একদিন জীবনের বেলা ও শেষ হয়ে যাবে। হতাশ হলে চলবে না। আল্লাহর উপর ভরসা করে এগিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। না হয় আর কিছুদিন। মিলতেও পারে হালাল উপার্জনের পথ। হারাম উপার্জনে বরকত নাই। মনেও শান্তি আসে না। দুনিয়াতে কোন ফায়দা নেই। আখিরাতেও না। জীবনের বাঁকে বাঁকে মানুষের অবহেলা। জীবনের সমীকরণ একেক জনের একেক রকম। কারও সমীকরণ দুতরফা দাখিলার মতো। কারও আবার জিলাপির প্যাচ এর মতোই জটিল।
    ক্লান্ত হয়ে আসে দেহ। না আজ আর নয়। পা দুটোও আর চলছে না। কখনোবা মাঝে মাঝে চলে আসে মনের মধ্যে চরম হতাশা। কখনো ঘোর অমানিশা। জীবনটা বহতা নদীর মতো। খরস্রোতা নদী। কখনো স্রোতের অনুকূলে কখনো স্রোতের প্রতিকূলে। একমাত্র বেকার যুবক বুঝতে পারে স্রোতের প্রতিকূলে নৌকার গতিবেগ ঘন্টায় কত। যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে দ্বীনের সাথে আপোষ করে কিছু মানুষ। বিসর্জন দেয় নীতি-নৈতিকতাও। চাকরিজীবনের শুরুটা যদি হয় সুদ, ঘুষ আর দুর্নীতির সাথে সখ্যতার মাধ্যমে তাহলে আর নীতিশাস্ত্র কপচিয়ে লাভ কি? দুঃখ-কষ্ট জীবনের অংশ। দিন চলে যাচ্ছে। দিন চলে যায়ও। কেউ একটু কম বিলাসিতা করে আর কেউ একটু বেশি। এইতো। দ্বীনের সাথে আপোস করা চলবেনা। উপার্জনই যদি হালাল না হলো তাহলে নামাজ, রোজা করেও কোনো লাভ হবে না। কারন হালাল উপার্জন ব্যতীত ইবাদত কবুল হয় না যে। সমাজের মানুষের দাবি একটাই প্রতিষ্ঠিত হওয়া চাই। প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে মূল্য নেই। প্রতিষ্ঠিত হতে হতে যৌবন চলে যায়। তেমনি ভাবে জীবনও চলে যাবে একদিন। কারো স্বপ্ন পূরণ হয় আবার কারো স্বপ্ন পূরণ হয়না। বেকার যুবকের কাছে প্রত্যাশার পারদ বুর্জ খলিফার উচ্চতার চেয়েও বেশি। সফলতার গল্প সবাই শুনে। ব্যর্থদের গল্প কেউ শুনতে চায় না। বেকার যুবকের চোখের পানি কখন শুকিয়ে আরাল সাগরের মতো হয়ে গেছে সে খবর কেউ রাখে না।

    2
    4 Comments
    • গল্প হচ্ছে বাক্যের নিপুন খেলা। লিখে যাও।

    • দুখের পরেই সুখ আসে।
      বেকার ছেলাটা হয়ত একদিন চাকরি পাবে। যে অবহেলায় জীবন কেটেছে তার সেই কষ্টটুকুই তখন তাকে সুখের পরম তৃপ্তি দেবে। শুধু একটু ধৈর্য্য ধরে নিজেকে গুছিয়ে নিতে হয়। আর সফলতা গল্প সবাই শুনতে পছন্দ করে না, বলতে পছন্দ করে। শুভেচ্ছা নেবেন।

Friends

Profile Photo
Md. Deloar Hossen
@md-deloar-hossen
Profile Photo
সৃষ্টি
@premdevota
Profile Photo
Pritam Biswas
@pritam-biswas
Profile Photo
Sirazam-Munira
@sirazam-munira
Profile Photo
Redwan Khan
@redwan-khan
Profile Photo
Kanej-Roksana
@kanej-roksana
Profile Photo
AdabenTatali
@adabentatali
Skip to toolbar