-
চিররূপসী
প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছে নগরবাসী। এমনিতেই বায়ুদূষণ আর শব্দদূষণে শহরের বাসিন্দারা বিপর্যস্ত। শেষ কবে যে আকাশে ঝকঝকে নীল দেখা দিয়েছিল মনে পড়ছে না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে তকতকে নীল আকাশ এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে থাকে আকাশটা। পরিচ্ছন্ন আকাশ মনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। মেঘমুক্ত নীল আকাশের মাঝে সাদা মেঘের ভেলা কি অপূর্ব না লাগে। গাংচিল, সাদা বকের মতো ওরাওরি ওদের। কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, অপরিকল্পিত নগরায়ন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এর ফলে আকাশের চেহারাটাই কেমন যেন বদলে গেছে। সারাক্ষণ ধুসর, মলিন হয়ে থাকে। পরিচ্ছন্ন, নির্মল আকাশের বুকে থাকে রঙের বাহার। কখনো সাদা মেঘ, কখনোবা পশ্চিমাকাশে রক্তিম আভা। মাঝে মাঝে মনে হয় আকাশের এক অঙ্গে কত রূপ। রুপ-লাবণ্যে, রঙে আর ঢঙে আকাশ যেন ছলনাময়ী নারীর চেয়েও এক কাঠি সরেস। হবেই বা না কেন। সকালের স্নিগ্ধ আকাশ এক রকম, দুপুরের তপ্ত রোদে আকাশের রূপ আরেক। সন্ধ্যার আকাশে থাকে অপূর্ব সাঝবাতির ঝলক। তারার আলোর ঝলকানির সাথে যদি থাকে চাঁদের জোছনা তাহলে তো আর কথাই নেই। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী আকাশ তার সৌন্দর্য বিলিয়ে চলেছে। যুগিয়েছে কতশত কবির কবিতার রসদ। রমণীর রূপে ভাটা পড়তে পারে কিন্তু আকাশের রূপে কখনো ভাটা পড়ে নাই। আকাশ চিররূপসী। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আকাশের রঙ একই। আকাশ স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি। সকল অহংকারীর অহংকার আকাশের বিশালতার কাছে নস্যি। ক্ষুদ্র একটা মানুষ কখনো অহংকার করতে পারে না। মানুষের অহংকার করা সাজে না। একেবারেই না। অহংকার একমাত্র তার যিনি সবকিছুর স্রষ্টা। সমগ্র সৃষ্টিজগতের মালিক। যিনি সর্বশক্তিমান। মানুষ অহংকার করবে কেন?7 Comments
Friends
রাহেনা বেগম
@rahena-begum
Md. Deloar Hossen
@md-deloar-hossen
সৃষ্টি
@premdevota
Pritam Biswas
@pritam-biswas
Sirazam-Munira
@sirazam-munira
Redwan Khan
@redwan-khan
Kanej-Roksana
@kanej-roksana
AdabenTatali
@adabentatali
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman


আপনার লেখার বিষবস্তুতে ভিন্ন স্বাদ খুঁজে পাই। অনেকদিন পর এলেন।