<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | তিতা ফুল | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/nadia1/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/nadia1/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for তিতা ফুল.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 01 Oct 2026 16:03:23 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">67fdca04753fa8d173d7d11baf366498</guid>
				<title>“ প্রয়োজন বোধ করিনি।”

আবরারের এমন কথা যেন ছোটখাটো একটা বিস্ফোরণ ঘটায় ড্রয়িংরুমে। ততক্ষনে সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন রাবেয়া বেগমও। হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে থাকেন তিনিও। যেই আবরার কিনা জীবনে কোনোদিন বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা প্রতিবাদ করেনি, সে কিনা আজ এভাবে কথা বলছে তার সাথে! আশ্চর্যের বিষয় বৈকি! 

“ তুই আমার সাথে এভাবে কথা বলছিস?”

“ কেন? আপনার সাথে কি কথা বলা অন্যায়?”

অবাকের চরমে পৌঁছান আফজাল সাহেব। আজ যেন উনার অবাক হওয়ারই দিন। সম্পত্তি নিয়ে হাবীব সাহেব ঝামেলা করবেন বলে তার ভাগে মোটামুটি ভালোই দিয়েছিলেন তিনি। তবে আবরারকে কিছু না দিলেও সে কোন প্রতিবাদ করবে না বলে ১০০% নিশ্চিত ছিলেন। এমন কিছু হবে ভাবতেও পারেন নি যেন। 

“ কি ভেবেছিলেন? আমার স্ত্রীকে এই বাড়ির কাজের বুয়া বানিয়ে রাখবেন, আর আমিও আপনার কথা মেনে চলবো সারাজীবন? কখনো কোন প্রতিবাদ করবো না?”

“ তুই ঠিক আছিস? পাগল হয়ে গেছিস নাকি? কার সাথে কিভাবে কথা বলছিস, ভেবে বলছিস তো?”

“ আমি ভেবেই বলছি কথা ,তবে কাজগুলো হয়তো আপনি ভেবে করেননি!”

উত্তর খুজে পান না তিনি। কথা গুলিয়ে ফেলেন সব। স্ত্রীর ইশারায় পুনরায় কিছু বলতে নিয়েও থেমে যায় আবরারের নির্লিপ্ততায়। কথা বাড়ায় না সে। এক হাতে লাগেজ আরেক হাতে ইন্তিহার হাত ধরে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। শৈশব কৈশোরের দিনগুলো পেরিয়েছে যেখানে, বাবা মায়ের হাজারো স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ির উঠোন, চিলেকোঠা আর আনাচ কানাচ, হৃদয় ভার হয়ে রইলেও কান্না আসে না তার। তবে গেইটের কাছটায় মায়ের কবরের সামনে এসে থমকে যায় কদম। মায়ের সাথে তো কোন অভিমান নেই, তবু তাকেও ছেড়ে যেতে হচ্ছে নির্দয়ের মতো! 


—-----------------------------------------------------------------


সাদামাটা একটা ফ্ল্যাট। ঢাকা শহরে এতো কম ভাড়ায় দুই রুমের এই বাসাটা পাওয়াই তো বরং ভাগ্যের ব্যাপার।আবরারের চাকরিটাও তেমন না। বাসা ভাড়া দিয়ে, খেয়ে পড়ে কোনরকমে চলার মতো এই যা। 
ও বাড়ি থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আগেই আনিয়ে রেখেছিলো আবরার। সব গুছিয়েও রাখা। বারান্দার একটা পাশে বাতাস আসার মতো জায়গা আছে, বাকিটা আশেপাশের বিল্ডিং এর জন্য অন্ধকার হয়েই থাকে। বারান্দায় এসে দাঁড়ানোর একটু বাদেই নিজের পাশে আবরারের উপস্থিতি পেয়ে পেছনে ফেরে ইন্তিহা। হাত মুখ ধুয়ে এসেছে লোকটা। 

“ পছন্দ হয়নি জানি। তবে আমাকে আরেকটু সময় দাও, একটা ভালো চাকরি হয়ে গেলেই ভালো একটা বাসা নিবো। এই কয়টা দিন একটু মানিয়ে নিতে পারবে না কষ্ট করে?”

লোকটার এমন আকুতিভরা কণ্ঠে হতচকায় সে। এসব কেমন কথা! লোকটা কিনা ওর কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছে এখনো!

“ আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? কি বলছেন এসব? কষ্ট করতে হবে কেন? তাছাড়া আমি তো আগেই বলেছি, আপনার সামর্থ্য যেমন আছে, সেভাবেই থাকতে রাজি আছি আমি। অতিরিক্ত খরচ করা আমি পছন্দ করি না, জানেনই তো আপনি। তবুও এমনভাবে বলছেন?”

ওর কথায় মলিন হাসে ছেলেটা। আশ্বস্ত করে ওকে। তবে কোথাও একটা খারাপ লাগা থেকেই যায় যেন। আগের কিছু টাকা জমানো ছিল, নতুন বাসায় আসা, কিছু আসবাব কেনাকাটা করতে গিয়ে সেগুলোও শেষ হয়ে গেছে প্রায়। মাস শেষ হতে ৮ দিন বাকি এখনো। পরবর্তী মাসের বেতন পাওয়ার আগ পর্যন্ত ধার দেনা করতে হতে পারে হয়তো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকায় সে। নিজের জন্য না হোক, অন্তত ইন্তিহাকে ভালো রাখতে যতটা কষ্ট করতে হয় করতে রাজি সে।

—-----------------------------------------

চোখ বন্ধ রেখেই বিছানা হাতড়ে ইন্তিহাকে না পেয়ে তড়াক করে চোখ খুলে আবরার। দেয়াল ঘড়িতে এখন রাত ৩ টা বেজে ৩৫ মিনিট। এতো রাতে কোথায় যাবে মেয়েটা! শোয়া থেকে উঠে বসতেই নজরে পড়ে রুমের এককোনে জায়নামাজে সিজদাহরত সুভ্র নারীটির দিকে। খানিক বাদে বাদে কেপে উঠছে অবয়ব তার। কান্না করছে কি! 
শব্দহীনভাবে উঠে ওজু করে আসে ছেলেটা। ওর পাশাপাশি আরেকটা জায়নামাজ বিছিয়ে দাড়িয়ে পড়ে সেও। নিস্তব্দ রাত, আর একাকি দুজন মানুষ, রবের দরজায় কড়া নাড়ে। চোখ ভেজায় নোনাপানিতে। দুয়া শেষ হলে ইন্তিহার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই আবরার নিজের মাথাটা এলিয়ে দেয় তার কোলের উপর। না বলতেই চুলে হাত বুলিয়ে দেয় সেও। চোখ দুটো বন্ধ রেখে চুপচাপ শুয়ে থাকে ছেলেটা। মায়ের পর স্নেহশীল কোন নারী যদি থাকে, তবে সেটা ইন্তিহাই যেন। চারপাশের হাজারটা চিন্তা, অস্থিরতা ছাপিয়ে এই একটা যত্নশীল হাতের স্পর্শই যেন শুদ্ধ অক্সিজেন দেয়। শান্তির পরশ বুলায় হৃদয় কোঠায়। 

“ তুমি জানো ইন্তিহা, আমি বিয়ের আগে প্রথমবার তোমাকে কোথায় দেখেছিলাম?”

চোখ বন্ধ রেখেই প্রশ্ন ছুড়ে আবরার। ইন্তিহার হাত থেমে যায় হঠাৎ। লোকটা যে এই মুহূর্তে মজা করার অবস্থায় নেই, তা তো নিশ্চিত। তবে এমন কথা বলার কারন কি? আবরারের ঠোঁটের কোনে সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠে। ইন্তিহার থেমে যাওয়া হাতটা টেনে পুনরায় নিজের চুলে রাখে। 

“ অনার্সে পড়ার সময় একবার কলেজের কোন একটা অনুষ্ঠানে এসেছিলে তুমি। মেইবি তখন তুমি দ্বিতীয় বর্ষে ছিলে। আর রাজিব সারের আত্মীয় হিসেবে গিয়েছিলাম আমি। যদিও অনুষ্ঠানের এদিকে আসো নি, কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের তিন তলায় গিয়েছিলাম আমি কোন কারনে। তোমরা তিন চারজন বসে গল্প করছিলে সেখানে। তারিখটা ঠিক করে মনে নাই যদিও, তবে বছরের শুরুর দিকে হবে সময়টা।”

কথা বলার ভাষা হারায় মেয়েটা। এতকিছু হয়ে গেলো, আর ও কিনা এখনো জানেই না সেসব ! 

“আপনি মজা করতেসেন, তাই না?”

হেসে ফেলে ছেলেটা। চোখ না খুলেই জবাব দেয় ফের।

“ দ্বিতীয়বার দেখেছিলাম বইমেলায়, হাসিবের সাথে গিয়েছিলে। হাসিবকে দেখেই আমি চিনতে পারি। আমার বাবার খুব কাছের বন্ধু ছিল তোমার আব্বু। সেই সুবাদে কয়েকবার দেখা হয় হাসিবকে। তবে তুমি যে ওর বোন হবে, এটা একদমই অপ্রত্যাশিত ছিল। যখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, খুব খুশি হয়েছিলাম। পরে আম্মুকে বলি তোমার কথা।  আম্মু কিন্তু আগে থেকেই জানতো এসব। তোমাকে জানাতে আমিই নিষেধ করেছিলাম।” 

শিরশির অনুভুতিতে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায় মেয়েটার। এতোটাও আশা করেনি সে।মানুষটা এতো কিছু নিজের মনের ভেতর চেপে রাখলো কিভাবে এতদিন? 

“ আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি?”

হাসে ছেলেটা। মারাত্মক হৃদয়কাড়া সে হাসি। তবে সাথে সাথে উত্তর দেয় না কথার। বরং প্রসঙ্গ বদলায় সে। হুট করে করে বসে অনাকাঙ্খিত প্রশ্নখানা।

“ তুমি সেদিন লাইব্রেরীতে দেখোনি আমাকে?” 



-তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-১৯
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/280955/</link>
				<pubDate>Thu, 01 Oct 2026 15:23:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ প্রয়োজন বোধ করিনি।”</p>
<p>আবরারের এমন কথা যেন ছোটখাটো একটা বিস্ফোরণ ঘটায় ড্রয়িংরুমে। ততক্ষনে সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন রাবেয়া বেগমও। হতভম্ভ হয়ে তাকিয়ে থাকেন তিনিও। যেই আবরার কিনা জীবনে কোনোদিন বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা প্রতিবাদ করেনি, সে কিনা আজ এভাবে কথা বলছে তার সাথে! আশ্চর্যের বিষয় বৈকি! </p>
<p>“ তুই আমার সাথে এভাবে কথা বল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-280955"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/280955/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bb8442607c342714ab105fd74447a462</guid>
				<title>এত বছরের সংসার ফেলে চলে যেতে হয় সেদিন খাদিজা বেগমকে। চোখ ভরে কান্না আসে তার। মা কে হারিয়ে শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই  তার শেষ স্মৃতিটুকুও হারিয়ে ফেলেন যে! ইন্তিহা মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে খুব। রাবেয়া তো আগে থেকেই দেখতে পারতো না তাকে। আবরারও তো থাকে না সবসময় বাড়িতে। নিশ্চয়ই কথা শুনায় খুব।

কেটে গেছে বেশ কিছু দিন। রাবেয়া ভাবীর চলে যাওয়া যেন এখনো মেনে নিতে পারে না ইন্তিহা। পুরো বাড়িতে নিজেকে ভীষণ একা একা লাগে। আবরার থাকে না সারাদিন।আগে মা, মেঝো ভাবীর কাছেই পড়ে থাকতো সারাক্ষন। এখন তো তারাও কেউ নেই। বড় ভাবীর মুখের দিকে তাকানো যায় না। কথায় কথায় আকারে ইঙ্গিতে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলে। 

তবে বললেই কি আর হয়ে যায় সব? ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকা, সংসার খরচ চালানো কঠিন ব্যাপার। আবরারের বেতনও তো বেশি না খুব। সেও কিছু বলছে না এই বিষয়ে। থম ধরে আছে যেন সবকিছু। 

মাগরিবের পরপর আসে আবরার। অফিস ছুটি সেই বিকেলে হলেও ইদানিং দেরী করেই ফেরে সে। ইন্তিহা জিজ্ঞেস করলে ‘কাজ ছিল’ বলে এড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় অতো ঘাটায় না মেয়েটা। হতেই পারে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল। 

আবরারের মুখটা আজ প্রতিদিনের তুলনায় একটু বেশিই গম্ভীর। কথা বাড়ায় না সে খুব বেশি। সন্ধ্যার নাস্তা করে ল্যাপটপ নিয়ে বসে সবসময়ের মতো। ইন্তিহা হাতের কাজটুকু সেরে এসে পাশে বসে লোকটার। কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। হালকা গলা পরিষ্কার করে প্রথমে সে’ই কথা শুরু করে। 
 

“ খুব ব্যস্ত নাকি?”

“ না, বলো।”

কিছুক্ষন চুপ করে তাকিয়ে থাকে ছেলেটার মুখের দিকে। এতে যেন তার ভাবান্তর হলো না বিশেষ। বরং নিজের মতো করেই কাজ করে যায় সে। মনকে থামিয়ে রাখতে না পেরে পুনরায় প্রশ্ন করে বসে মেয়েটা।

“ আজকাল কি কাজের খুব চাপ যাচ্ছে?”

“ কেন এমন মনে হচ্ছে তোমার?”

কী বোর্ডে হাত চালাতে চালাতেই উত্তর দেয় আবরার।

“ কথা বলেন না তেমন। আগের মতো সময় দেন না আমায়!”

তড়াক করে স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সরাসরি ওর দিকে তাকায় ছেলেটা। অবাকতা ছড়িয়ে পড়ে চোখেমুখে তার। 

“ সময় চাও আমার কাছে? কেমন সময় চাও? “

“ কেমন সময় মানে? সময়ের আবার ধরন হয় নাকি, আশ্চর্য!”

কোল থেকে ল্যাপটপ টা সরিয়ে রাখে সে। ইন্তিহার হাত দুখানা টেনে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। 

“ হয় তো। এই ধরো, কোয়ালিটি টাইম, ওয়ার্কিং টাইম, আরও কতো কি! তোমার কোনটা চাই?”

বিরক্ত হয় ইন্তিহা। কথা না প্যাঁচালে ভালো লাগে না বুঝি লোকটার। 

“ আপনার কি সবকিছুতেই মজা করতে হবে? বাসার কি অবস্থা দেখেছেন? আর ভাবী তো…”

কথার মাঝে থেমে যায় সে হুট করে। এমন কিছু বলা কি ঠিক হচ্ছে? লোকটাও তো দুশ্চিন্তায় থাকে এসব নিয়ে। ইন্তিহার নত মুখ হালকা হাতে উপরে তুলে ছেলেটা। 

“ কি বলতে নিচ্ছিলে বলো? ভাবী কিছু বলেছে তোমায়?” 

“ তেমন কিছু না, বাদ দিন।”

দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবরার। ইন্তিহা নিজের হাত সরিয়ে নিতে চাইলেও সরাতে দেয় না সে। 

“ ভাবী খোটা দেয় তোমায়? বাড়ি ছেড়ে দিতে বলে?”

চুপ করে থাকে মেয়েটা। জবাব দেয় না কথার। 

“ এই কয়দিন যে আমি দেরী করে বাসায় ফিরি, তার কারন জানতে চাইবে না?”

ফট করে চোখ তুলে ইন্তিহা। কৌতূহল ফুটে উঠেছে চোখে-মুখে তার। হাসে আবরার। শূন্য বিষণ্ণ সে হাসি।

“ সবকিছু গুছিয়ে নাও। আগামী পরশুদিন আমরা ভাড়া বাসায় উঠবো!” 

চোখ বড় হয়ে যায় মেয়েটার। তাই বলে হুট করে এমন কিছু আশাই করে নি সে। ও তো ভেবেছিল, যত কিছুই হোক, বড় ভাইয়ের সাথেই থাকবে আবরার। অবশ্য ওর এমন ভাবনারও কারন আছে। এই পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, একবারও ভাইয়ের সাথে সামান্য বাক-বিতণ্ডায়ও জড়ায় নি সে। কথা বলেছে একদম স্বাভাবিক স্বরে। যেন কিছুই হয়নি, এমন। 

“ হুট করে এমন সিদ্ধান্ত, আর কবে কবে করে ফেললেন এতো কিছু? আমাকে জানালেনও না কিছু!”

“ আজ তো জানিয়েছি? আর ভাবী যে তোমাকে কথা শুনায়, সেটা আমি জানি না ভেবেছো? কেউ আমার স্ত্রী কে অপমান করে কথা বলবে, কথায় কথায় খোটা দিবে, আর আমি কিনা সেখানেই পড়ে থাকবো? এতোটা কাপুরুষ তো নই আমি!”

ইন্তিহা কথা বলতে পারে না। এতোদিন ও কিসব ভেবেছিল লোকটার ব্যাপারে। আর আজ কিনা…
“ বাসা ভাড়াটা জানোই তো একটু বেশি এদিকে। আর আমার বেতনটাও তেমন বেশি না। এতদিন তো বাসা ভাড়া লাগে নি, তাই সমস্যা হচ্ছিলো না তেমন। মানিয়ে নিতে পারবে তো? অসুবিধা হবে না তো তোমার?”

“ অসুবিধা কিসের? আপনার যা সামর্থ্য আছে, সেভাবেই থাকবো আমি। এ আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে?”

ওর কথার জবাব দেয় না আবরার। যদিও এটা জবাব দেয়ার মতো প্রশ্ন না। তবে ওর মুখ দেখে যা বোঝার বুঝে যায় মেয়েটা। হাত রাখে লোকটার কাঁধে।

“ আপনি এতো দুশ্চিন্তা করছেন কেন? আপনি জানেন না?  আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। আপনি চিন্তা করবেন না অতো।” 

“ সেদিন একটা জবের ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম মনে আছে?”

“ হ্যাঁ, কি হয়েছে সেটার?.

“ হয়নি। আজকে জানিয়েছিল।”

“ তো? এই জন্য এতো চিন্তা করতে হয়? আল্লাহ নিশ্চয়ই আরও ভালো কিছু রেখে দিয়েছেন আপনার জন্য, তাই দেরী করাচ্ছেন। ভরসা রাখুন না।”

কিছু বলে না আবরার। প্রেয়সীর মুখপানে চেয়ে থকে শুধু। ফের কথা বলে ইন্তিহ’ই।

“ আপনি এতো মন খারাপ করে রাখেন কেন? আপনার মন খারাপ থাকলে ভালো লাগে না আমার।”

কথা বলতে বলতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে মেয়েটার। কান্না আসার পূর্বাভাস। হেসে ফেলে আবরার। এমন কেন বউটা তার? কথায় কথায় কান্না চলে আসে। 

“ তুমি এমন ছিঁচকাঁদুনে কেন বলোতো? কথায় কথায় কাঁদতে হয়?”

“ আমি ছিঁচকাঁদুনে?” 

জোর করে রাগার অভিনয় করে ইন্তিহা। সে  নিজেও জানে, আবরারের আস্কারায় আজকাল ভেতরে থাকা বাচ্চা স্বভাবটা বাঁধ মানতে চায় না। ভীষণ দাপটে দস্যি হয়ে যায়। ইন্তিহা চাইলেও বেঁধে রাখতে পারে না স্বভাবটাকে। তবুও প্রিয় পুরুষের সম্মুখে এক আধটুখানি আদুরে ছানা না হলে কি চলে? 

“ না, তুমি ছিঁচকাঁদুনে হবে কেন, আমি কি  তোমাকে বলেছি নাকি? আমি তো বলেছি আমার বাচ্চা বউটাকে।”


“ আমি বাচ্চা?”

“ আরে আমি তোমাকে কখন বললাম, আশ্চর্য! আমি তো আমার বউকে…” 




“ তো আপনার বউ কি পাশের বাসার দাড়িওয়ালা নারগিস খালা?”

ওর কথার মানে বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে ছেলেটার। বুঝতে পেরেই ঘরময় হো হো করে হেসে উঠে সে। ইন্তিহা বরাবরের মতো আজও চেয়ে থাকে মুগ্ধ চাহনিতে তা। এই পুরুষটি এতো সুন্দর করে হাসে কেন? তার হাসিতে কি জাদু আছে কোনো? নইলে যে ইন্তিহা বারবার ঘায়েল হয়ে যায় এমন হাসিতে! 
-
-
-

আজ শুক্রবার। আবরার ইন্তিহা ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিয়েছে সব। সকাল সকালই বেরুতে হবে। সেখানে গিয়ে সব ঠিকঠাক করতেও তো সময় লাগবে নাকি? ওদের বাড়ি ছাড়ার খবর এখনো জানানো হয়নি কাউকে। জাওয়ার সময় একেবারে বলে নিলেই হয়।

“ চাচ্চু, ছোটআম্মু! কই যাও তোমরা?”

ভাতিজার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কোলে তুলে নেয় আবরার। ড্রয়িংরুমে ওদের আলাপ পেয়ে আফজাল সাহেব বেরিয়ে আসেন রুম থেকে।এই সকাল সকাল ওদেরকে বেরুতে দেখে অবাকই হন তিনি। 

“ কোথায় যাচ্ছিস তোরা? জানালি না যে কিছু?”

এই প্রথমবার বড় ভাইয়ের দিকে শক্ত চোখে তাকায় আবরার। কোন ভণিতা না করেই জবাব দেয় অবাঞ্ছিত প্রশ্নটির।

“ প্রয়োজন বোধ করিনি।”
 


-তোমার আকাশ আমার মেঘ 
-পর্ব-১৮ 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/278465/</link>
				<pubDate>Fri, 25 Sep 2026 10:47:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এত বছরের সংসার ফেলে চলে যেতে হয় সেদিন খাদিজা বেগমকে। চোখ ভরে কান্না আসে তার। মা কে হারিয়ে শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই  তার শেষ স্মৃতিটুকুও হারিয়ে ফেলেন যে! ইন্তিহা মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে খুব। রাবেয়া তো আগে থেকেই দেখতে পারতো না তাকে। আবরারও তো থাকে না সবসময় বাড়িতে। নিশ্চয়ই কথা শুনায় খুব।</p>
<p>কেটে গেছে বেশ কিছু দিন। রাবেয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-278465"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/278465/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cd6a97e5db00eaece80aa1c88f351fcd</guid>
				<title>“আপনি কি আর ঠিক হবেন না?”

“কি করলাম আমি আবার?” 

অবাক নেত্রে চায় আবরার। অবশ্য অবাক-টবাক কিছুই না, অভিনয় করছে সে।বউটাকে জ্বালাতে প্রচুর ভালো লাগে কিনা! কটমট চোখে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয় ইন্তিহা। লোকটার সাথে আর পারা গেলো না। সারাক্ষন ওর পিছনেই লেগে থাকে। 

সেদিনের পর কেটে গেছে অনেকগুলো মাস। মৃত আসমা বেগমের শোক ভুলতে বসেছে প্রায় সবাই। অবশ্য ভুলারই কথা। যতই আমরা বলি না কেন, কাউকে ছাড়া আমরা থাকতে পারবো না, নিশ্বাস নিতে পারবো না, একসময় সেসব আর মনে থাকে না। হারিয়ে যায় বাস্তব জিবনের ব্যস্ততায় সেসব কথা। ভুলে বসি মায়াময় সেসব দিনগুলোর স্মৃতি।

রান্নাঘরের দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। হাতে থাকা আপেলে একের পর এক কামড় বসাচ্ছে সে। এমন সময় সেখানে আগমন ঘটে খাদিজা বেগমের। আবরারকে দেখে মাথায় ঘোমটা টেনে নেন তিনি। আবরারও অপ্রস্তুত হেসে চলে যেতে নেয় সেখান থেকে। তবে উনার কথায় থমকে দাঁড়িয়ে পড়তে হয় মাঝপথেই। 

“ বড় ভাইয়া নাকি জায়গা জমির সব কাগজপত্র তৈরি করে ফেলেছেন। আজকে সন্ধায় থাকতে বলেছে তোমাকে।”

মায়ের মৃত্যুর পর কয়েক মাস সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। তবে গত দুই মাস ধরে জায়গা জমি ভাগ করা নিয়ে বড় দুই ভাইয়ের মধ্যে রেষারেষি চলছে খানিক। আবরার অবশ্য নাই এসবের মধ্যে, তবে কতোদিন আর ভালো লাগে এসব ঝামেলা। সব ভাগ হয়ে যাওয়াই বরং ভালো এখন। আসমা বেগমের মৃত্যুই যেন পুরো পরিবারটাকে আলাদা করে দিয়েছে। এর আগে কেউ কোনদিন সাহসই পায়নি এমন কিছু বলার। 

উল্টো দিকে ফিরে থেকেই মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় আবরার। ওর প্রস্থান ঘটলে ইন্তিহার উদ্দেশে কথা বলেন তিনি।

“ খবর জানো কিছু?”

“ কোন ব্যাপারে?”

“ এই বাড়ির ভাগ নিয়ে?”

ভ্রু কুচকে তাকায় ইন্তিহা। থালাবাসন ধোঁয়ার টেপ বন্ধ করে এদিক ফেরে এতক্ষনে।

“ এই বাড়ির ভাগ মানে? এই বাড়ি তো আম্মুর নামে ছিলো। ভাগ হওয়ার কথা আসছে কেন?”

“ এই বাড়ি পুরোটা বড় ভাইয়ার নামে!”
“মানে?”

বিস্মিত হয়ে চেয়ে থাকে ইন্তিহা। কথাও যেন আসছে না তার মুখ দিয়ে। অগোচরে এতকিছু ঘটে গেলো  অথচ টের পেলো না কেউ! অবাকের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারে না সে। আশপাশ চেয়ে স্বর নিচু করে খাদিজা। 

“ মায়ের অসুস্থতার সময় আইসিইউ রুমে শুধু ভাইয়াই গিয়েছিল, মনে আছে তোমার?”

মুখ দিয়ে কথা বের হয় না মেয়েটার। কথার তালে মাথা নাড়ে শুধু। 

“ সেদিন মায়ের টিপ সই নিয়েছিলেন তিনি!”

“ কিহ!  মায়ের এমন অবস্থায় ছেলে হয়ে…”

“ আস্তে বলো! কেউ চলে আসবে। আর শুনো, কারো সাথে এ ব্যাপারে কিছু বলার দরকার নাই, বুঝেছো? আবরারকে তো একদমই না। সন্ধায় হয়তো বসতে পারে এসব নিয়ে। তখনই জানা যাবে।”

খাদিজা চলে যান সেখান থেকে। এ বাড়িতে বর্তমানে হর্তাকর্তা হলেন বাড়ির বড় বউ, রাবেয়া বেগম। এই সময়ে দুজনকে একসাথে দেখলে কি না কি বলেন কে জানে! 
ইন্তিহা দাঁড়িয়ে থাকে নিশ্চুপ হয়ে। এ বাড়িতে যে একটা বড়সড় ঝড় আসতে চলেছে, সে ব্যাপারে তো সন্দেহ নেই কোন। গত কিছুদিন ধরেই সে অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখে আসছে। মনে বারবার দুশ্চিন্তা উঁকি দিচ্ছে, শান্তি পাচ্ছে না সে কিছুতেই। তবে কি এটাই তার কারন? 



যথারীতি সন্ধ্যার সময় বৈঠক বসে ড্রইংরুমে। আবরার আসে সবার শেষে। হাবিব সাহেব মুখ কালো করে বসে আছে। উকিল এসেছেন সেই বিকেলের দিকেই। কথা শুরু করেন আফজাল সাহেব প্রথমে।

“ আমি সবাইকে এখানে কি কারনে ডেকেছি, সেটা নিশ্চয়ই পুনরায় বলে দিতে হবে না! প্রথমত, সম্পত্তি ভাগ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত….”

উনার কথা শেষ হওয়ার আগেই কথা বলে উঠেন হাবীব সাহেব।

“ কিন্তু ভাইয়া, জায়গা সম্পত্তি সবকিছু আব্বুর নামে ছিল। আমার জানামতে তিনি ভাগ করে দিয়ে যাননি কিছুই। আর আমরা তিন ভাই। সেক্ষেত্রে জায়গা ভাগ হলে তো আমাদেরও জানার কথা। আমাদের না জানিয়েই জায়গা জমি ভাগ হয় কিকরে?”

“ আমি নিজে করেছি সব। আর তখন জানাই নি, এখন তো জানাচ্ছি, নাকি? সবকিছু নিজের নামে তো আর করে ফেলিনি।” 

“ তাই বলে সব…”

পুরো কথা শেষ করতে পারেন না হাবীব সাহেব। তার আগেই বড় ভাইয়ের চিৎকারে থেমে যেতে হয় তাকে।
“ ছোট থেকে তোদের সবাইকে বড় করলাম, মানুষ করলাম আমি। আর এখন এসে কিনা সবকিছুতে কৈফিয়ত দিতে হবে আমাকে? আমার প্রতি সন্দেহ করছিস এখন?”

উনার চিৎকারে বাড়ির পরিবেশ বদলে যায় হঠাৎ। সবাই শান্ত হয়ে যায় মুহূর্তেই। আবরারের অবশ্য হেলদোল দেখা যায় না এসবে। টেবিলে রাখা সন্ধ্যার নাস্তা থেকে পিঠা নিয়ে খাচ্ছে সে নিজের মতো করে। যেন আশেপাশে কি হচ্ছে না হচ্ছে, এতে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই তার। 

মাথা নিচু করে রাখেন হাবীব সাহেব। আপাতত চুপ থাকাই শ্রেয়। উকিলের কথায় নিস্তব্দতা ভাঙ্গে ফের। তবে উকিলের কথা পুরোপুরি শেষ হতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন হাবীব সাহেব। কিছু সময় বাকবিতণ্ডার পর যখন হাতাহাতির পর্যায়ে যেতে নেয় ব্যাপারটা, তখনই প্রথমবারের মতো নিজের জায়গা থেকে উঠে আবরার। মেঝো ভাইকে সরিয়ে আনে সে। যত যাই হোক, বড় দুই ভাই মারামারি করবে, আর বসে বসে সেসব দেখার ধৈর্য তো আর নাই তার। জায়গা সম্পত্তি যদিও হাবীব সাহেব পেয়েছেন কিছু, আবরারকে দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ জায়গার একটা বাগান।বাড়িটাও এখন আইনত আফজাল সাহেবের নামে।

এতে অবশ্য আবরারের মাথাব্যথা নেই কোন। সে শুধু চুপচাপ নিজের উপস্থিতির জানান দিচ্ছিল সেখানে। না তো কোন কথা বলেছে, না তো করেছে কোন প্রতিবাদ!  


বাড়িতে এখন আর কোনো হৈচৈ নেই। না তো সন্ধ্যার সময়ে সবার একসাথে বসে আড্ডা দেয়া হয়। সবার মুখ কালো। প্রয়োজন ছাড়া কথা হয় না কারো সাথে কারো।  দিন দুই পার হয় এভাবেই। বাড়ির পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার চেয়ে বরং গুমোট হয় যেন আরো। ঠিক যেমন বিশাল ঝড়ের পূর্বাভাস। 

সেদিন শুক্রবার হওয়ায় সবাই বাড়িতেই ছিল। সন্ধ্যার পর ইন্তিহা আলাদা করে নাস্তা বানায় আবরারের জন্য। এখন তো আর নাস্তাও বানানো হয় না সন্ধায়। সবাই সবার রুমে বসে থাকে গিয়ে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ট্রে হাতে রুমে ঢুকে ইন্তিহা। খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে বসে ফোন টিপছে আবরার। ইন্তিহার উপস্থিতি বুঝতে পেরে ফোন রেখে দেয় পাশে। 

“ ফোনে কি করছিলেন আপনি?”

হুট করে এমন প্রশ্ন একদম আশা করেনি ছেলেটা। বউটা তার দিনদিন ঝগড়ুটে হয়ে যাচ্ছে না? 

“ ফোনে কি করে মানুষ?”

“ মানুষ কি করে সেটা দিয়ে আমার কি কাজ? আমি জানতে চাইছি আপনি কি করছিলেন?”

“ দেখছিলাম।”


চায়ের কাপ তুলে চুমুক দিতে দিতে উত্তর দেয় সে নির্বিকার। শরীর জ্বলে উঠতে থাকে মেয়েটার। তবুও রয়েসয়ে প্রশ্ন করে ফের।

“ কি দেখছিলেন?”

“ সবাই যা দেখে, আমিও তাই দেখছিলাম!”

“ সবাই কি দেখে?” 

“ আমি যা দেখছিলাম!”

নাক ফুলিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে মেয়েটা। ফাজলামি করছে লোকটা ওর সাথে। সবকিছু নিয়ে এমন ফাজলামি মানা যায়? ভেতরে ভেতরে হাসি চেপে রাখলেও ওর দিকে তাকিয়ে অবাক হওয়ার ভান করে আবরার। 

“ কি হলো তোমার আবার? সাপের মতো ফোঁসফোঁস করছো কেন?” 

ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে মেয়েটার। 

“ আমি সাপের মতো করি?”

“ না, তেমন কিছু বলিনি। তবে…আচ্ছা, তুমি কি রেগে আছো?”

“ নাহ, রাগবো কেন আমি? আমি কি মানুষ নাকি ? আমি তো সাপ। সাপেরা আবার রাগে নাকি?”

“ আরে, কি বলো এসব? তুমি সাপ হলে কবে? আর… সাপ হয়ে একটা মানুষকে বিয়ে করে ফেললে? বিয়ের আগে অন্তত একবার জানালেও না? আগে জানালে তো…”

“ কি? বিয়ে করতেন না আমায়?”

“ আরে তওবা তওবা, কি যে বলো না এসব! তোমাকে বিয়ে না করলে কাকে করতাম আমি? তুমিই তো আমার একমাত্র…”

“ চুউউউপ। চুপ থাকুন আপনি। আপনার সাথে কথা বলাই যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল, তা নিশ্চয়ই আপনার জানার কথা?”

“ আরে এভাবে বলছো কেন বউ? আমরা আমরাই তো নাকি? এমনভাবে বলতে আছে বলো? আর তুমি জানো না? স্বামীর সাথে…”

কথা শেষ করতে পারে না সে। নিচ থেকে আসা চেঁচামেচি শুনে থমকে যায় দুজনেই। আবরার উঠে একপ্রকার দৌড়ে যায় ড্রইংরুমের উদ্দেশে। বাড়ির অবস্থা এমনিতেই ভালো না, কখন কি হয়ে যায়, বলা মুশকিল। 

তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব-১৭

-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/277904/</link>
				<pubDate>Thu, 24 Sep 2026 08:52:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“আপনি কি আর ঠিক হবেন না?”</p>
<p>“কি করলাম আমি আবার?” </p>
<p>অবাক নেত্রে চায় আবরার। অবশ্য অবাক-টবাক কিছুই না, অভিনয় করছে সে।বউটাকে জ্বালাতে প্রচুর ভালো লাগে কিনা! কটমট চোখে একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নেয় ইন্তিহা। লোকটার সাথে আর পারা গেলো না। সারাক্ষন ওর পিছনেই লেগে থাকে। </p>
<p>সেদিনের পর কেটে গেছে অনেকগুলো মাস। মৃত আসমা বেগমের শোক ভুলতে বসেছে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-277904"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/277904/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1842953cf908db1f8702028a0e307a3c</guid>
				<title>তিতা ফুল and Fazilatun Nesa are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/277653/</link>
				<pubDate>Wed, 23 Sep 2026 17:46:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f6960686630ebe3dec65652f355280aa</guid>
				<title>তিতা ফুল and হৈমন্তীকা are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275871/</link>
				<pubDate>Sat, 19 Sep 2026 13:51:41 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1848fd87943a6c2ee145863c2b9a9468</guid>
				<title>তিতা ফুল and Masfi K are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275459/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Sep 2026 07:12:17 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e3f47e745b7cc550d367291515b3accd</guid>
				<title>তিতা ফুল and অমিত are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272659/</link>
				<pubDate>Thu, 10 Sep 2026 20:34:49 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f76fa6b04fe38d1dbf874856d6d49b0b</guid>
				<title>লা’শ নিয়ে আসতে আসতে মাগরিবের সময় হয়ে যায়। এদিকে আবরারদের আত্মীয় স্বজন সবাই চলে এসেছে প্রায়। অনেকে আসার পথে আছে এখনো। বাড়িতে মানুষ অনেক। পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে চেনা অচেনা অনেক মানুষের আনাগোনা। 
খাদিজা বেগম অজ্ঞান হয়েছেন দুইবার। মাথায় তেল মালিশ করা হচ্ছে উনার। এদিকে আসমা বেগমকে গোসল করানো হচ্ছে মাত্র। এশারের পর জানাজা হবে।সারাদিন কিছুই খাওয়া হয়নি কারো। 
ইন্তিহা ভেতরের ঘরে আছে খাদিজা বেগমের কাছে। ওরও কথা আসছে না গলা দিয়ে। তৃষ্ণার্ত দুচোখ শুধু আবরারকেই খুঁজছে বারবার। তবে আসার পর থেকে আর খোঁজ পাওয়া যায় নি লোকটার। কোথাও একা একা বসে আছে নিশ্চয়ই! 

এর মধ্যেই ইন্তিহার আম্মু আব্বু আর ভাইয়া আসে। মাকে পেয়েই জড়িয়ে ধরে ইন্তিহা। কেঁদে ফেলেন আমেনা বেগমও। তবে ইন্তিহা কাঁদে না। ও কাঁদলে আবরারকে সামলাবে কে? মেঝো ভাবীর জ্ঞান ফিরলে বারবার ‘আম্মা’ ‘আম্মা’ বলে কাঁদতে থাকেন উনি।ইন্তিহা শান্ত করার চেষ্টা করে উনাকে।

“ শান্ত হোন ভাবী। আল্লাহর কাছে দুয়া করুন আম্মুর নাজাতের জন্য। কাঁদলে আম্মুর কষ্ট হবে আরো।”

“ ইনি আমাদের এতিম করে গেলো ইন্তিহা। আর কোনদিন ‘মা’ বলে ডাকবে না আমাকে। আর কে আমাকে এতো আদর করবে বল। কে করবে?”

উনার বিলাপ যেন থামছেই না। এসময় মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। চারপাশে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেসবের ধ্যান থাকে না তার। ইন্তিহা উনার পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে। রাবেয়া বেগমের চোখেও পানি। উনাকে শত ধমকের উপর রাখুক না কেন, সব বউকেই স্নেহ করতেন মেয়ের মতো। আপন মেয়ে তো ছিলো না, ওদের তিন জা কেই নিজের মেয়ে মনে করতেন তিনি। 


এশারের পর জানাজা হয়ে যায়। ওদের এই বাড়িটা বিশাল। বাড়ির সামনের দিকে পারিবারিক কবরস্থান। সেখানেই দাফন করা হয় আসমা বেগমকে। 

লাশ দাফনের পর সবাই ধীরে ধীরে চলে যেতে থাকে। ফাঁকা হতে থাকে লোকে ভরপুর বাড়িটার আনাচ কানাচ। পাশের বাড়ি থেকে গরুর মাংস, ডাল আর ভাত রান্না করে পাঠানো হয়েছিলো মেহমানদের জন্য। কুসংস্কার ওরা মানে না কখনোই, তবে এতো মানুষের রান্না করার মতো মানষিক অবস্থা ছিল না বাড়ির কারো। মেহমানরা খেয়ে দেয়েই গেছে। তবে খাবারের প্লেটে হাত লাগায়নি বাড়ির কেউই। 

কান্নার রেশ কাটেনি এখনো। খানিক বাদে বাদেই কান্নার দমক উঠছে বাড়ির ভেতর। সারাদিন পর প্রায় রাত ১২ টার সময় দেখা মেলে আবরারের। রুমে এসে কোন কথা না বলে শুয়ে পড়ে বিছানায়। ইন্তিহা পাশে বসে। চুলে হাত বুলিয়ে দেয় লোকটার। সাথে সাথেই বন্ধ চোখের পাতা থেকে নির্দ্বিধায় অশ্রু গড়ায় তার। 

“ খেয়ে নিন কিছু। এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বেন আপনি। কাল রাতের পর থেকে তেমন কিছুই তো খাননি।”

আবরার বলে না কিছুই। না তো চোখ খুলে তাকায় স্ত্রীর পানে। পড়ে থাকে চুপচাপ জড় বস্তুর মতো। ইন্তিহা উঠে যায় রান্নাঘরের উদ্দেশে। প্লেটে করে অল্প করে ভাত আর একটু তরকারি নিয়ে ফেরত আসে।  গ্লাসে পানি ঢেলে নেয় খানিক। 

“ উঠে বসুন একটু। পানিটা খেয়ে নিন।”

“ খাবো না বলালাম তো, কেন জোর করছো?”

“ আমি খাইয়ে দিবো। অল্প করে হলেও নিন। অসুস্থ হয়ে পড়বেন আপনি।”

“ একদিন না খেলে কিছু হবে না।”

ইন্তিহা নিজেই জোর করে উঠানোর চেষ্টা করে আবরারকে। 

“ কেন বিরক্ত করছো ইন্তিহা? খাবো না বললাম তো।”

“ খাবেন না?”

“না, সরো।”

“আপনার কি মনে হয়? সারাদিনে আমি খেয়েছি কিছু?”

চুপ করে থাকে আবরার। ওর ট্রিক ওর উপরেই প্রয়োগ করছে মেয়েটা। 
আরো কিছুক্ষন ঠেলাঠেলি করে উঠায় লোকটাকে। ভাত মেখে লোকমা বানায় বড় করে।

“ হা করেন।”

কথা না বাড়িয়ে দুই লোকমা খায় সে। এর বেশি খেতে পারে না। নামে না গলা দিয়ে খাবার।ইন্তিহাও আর জোর করে না। আবরারকে পানি খাইয়ে বাকিটা নিজেই খেয়ে নেয়। খাদিজাকে জোর করেও খাওয়ানো যায়নি কিছুই। এমনকি এক ফোঁটা পানিও মুখে নেননি এই পর্যন্ত। দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্লেট রেখে রুমে আসে ইন্তিহা। আবরার বসে আছে এখনো একই ভাবে। ইন্তিহা এসে পাশে বসে। হাত রাখে লোকটার কাঁধে। চোখ তুলে আবরার।

“ কাঁদুন। কেঁদে মন হালকা করুন।”

আবরার তাকিয়েই থাকে এক মনে। কতো সহজে বলে দিলো কথাটা। পুরুষ মানুষের কান্না কি এতোই সহজ? আবেগ প্রকাশ মেয়েদের জন্য যতটা সহজ, ছেলেদের জন্যও কি তাই? 

“ প্রতিটা প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। অন্য কারো মৃত্যু আমাদের সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ইনশাআল্লাহ, জান্নাতে আমরা আবার দেখা করবো আম্মুর সাথে। শুধু দুয়া করুন উনার জন্য। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন, আমীন।”

“আমীন।”



মাঝারাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে পাশে আবরারকে না দেখে বুকটা ধক করে উঠে ইন্তিহার। এতোরাতে কোথায় যাবে লোকটা? রুমের দরজাটা চাপানো। বাইরে গেছে নিশ্চয়ই। কি মনে হতেই বারান্দার দরজা খুলে সে। বারান্দা থেকে বাড়ির সামনের দিকটা স্পষ্ট দেখা যায়। পূর্ণিমা বোধহয় আজ। চারদিক কেমন ধবধবে আলোয় ভরপুর। বাড়ির সামনের দিকে কবরস্থানে সাদা পাঞ্জাবী পরা একটা অবয়ব দেখা যাচ্ছে। মুখ না দেখেই মেয়েটা বলে দিতে পারে এটা তার স্বামী। কবর জিয়ারত করছে কি?

 কিছু দুঃখ মানুষের একেবারেই নিজস্ব হয়। অন্য কারো উপস্থিতিও বেমানান সেখানে। থাকুক না লোকটা একা কিছুক্ষন। 
বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ইন্তিহা। যতক্ষণ পর্যন্ত না আবরার উঠে আসছে সেখান থেকে। ফজরের খানিক আগে আবরার ফিরে আসে। ওর আসা দেখে রুমে গিয়ে আগের মতো শুয়ে পড়ে ইন্তিহা। আবরার রুমে এসে টুপি খুলে রাখে টেবিলের উপর। বারান্দার দরজা বন্ধ করে। বিছানার কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়।

“ এখন শুয়েছো কেন? উঠো, তাহাজ্জুদ পড়ে ফজর পড়ে একেবারে ঘুমিও।”

চোখ পিটপিট করে তাকায় ইন্তিহা। ও যে জেগে আছে, কিভাবে বুঝলো লোকটা? দীর্ঘশ্বাস ফেলে জায়নামাজ বের করতে করতে বলে উঠে আবরার,

“ এতো রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকার মানে কি? এমনিতেই ঠাণ্ডা পড়ে এসময়।”

তড়াক করে চোখ মেলে তাকায় ইন্তিহা। লোকটা বুঝে গেলো সব? দেখেছিলো কি তখন? তড়িঘড়ি উঠে বসে সে।

“ আপনি দেখেছেন আমায়?”

“না দেখলে বুঝতাম না মনে হয়? বারান্দার দরজাটাও তো বন্ধ করে নিবে!”

মনে মনে নাক কুঁচকায় মেয়েটা। বিরক্ত হয় নিজের বোকামির জন্য। ভাবাভাবি বাদ দিয়ে অজু করে আসে সে। দাঁড়ায় আবরারের পেছনে। নিস্তব্দ শেষ রাতে দুজন মানুষ একাকী সামিল হয় প্রার্থনায়।

(চলবে) 

-তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব-১৬
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/271860/</link>
				<pubDate>Wed, 09 Sep 2026 02:32:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লা’শ নিয়ে আসতে আসতে মাগরিবের সময় হয়ে যায়। এদিকে আবরারদের আত্মীয় স্বজন সবাই চলে এসেছে প্রায়। অনেকে আসার পথে আছে এখনো। বাড়িতে মানুষ অনেক। পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে চেনা অচেনা অনেক মানুষের আনাগোনা।<br />
খাদিজা বেগম অজ্ঞান হয়েছেন দুইবার। মাথায় তেল মালিশ করা হচ্ছে উনার। এদিকে আসমা বেগমকে গোসল করানো হচ্ছে মাত্র। এশারের পর জানাজা হবে।সারাদিন কিছুই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-271860"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/271860/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ebac77ca199a39e3aeaa62c4f15e74e2</guid>
				<title>“ মেয়েটা বুদ্ধিমতী, তবে বেয়াদব। আমরা আসার সময় সালামও দিলো না!”

ঠিক এই কথাটাই বলা হয়েছিলো আমার ব্যাপারে। আমি আসলে বুঝতে পারছিলাম না, যারা বিদায়ের সময় পাত্রীর কাছ থেকে সালাম না পেয়ে পেছনে গিবত করতে পারে, তারা পরবর্তীতে কি করবে? 

যাই হোক, কথা আর আগায়নি সেখানে। আমার আর চিন্তার কারন ছিল না। তবে দিনে দিনে তাদের পছন্দ, পাত্র নির্বাচন দেখে আমি কথা বলার ভাষা হারালাম। তারা ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাও দেখছে না পাত্রের। শুধু টাকা পয়সা আছে কিনা সেসব গুনছে। হয়তো বিয়ের পর আমাকে যেন কোনভাবে আর্থিক সাপোর্ট না দিতে হয়, সেটাই চাইতো! 

আমিও চাইতাম না এমন জায়গায় আমার বিয়ে হোক, যেখানে আমার বাবা মা কে সারাদিন এটা ওটা দিতেই হবে। তবে মানসিক শান্তিটুকু যেন মিলে। মানুষটা যেন আমায় বুঝে। ব্যাস, এটুকুই ছিল চাওয়া আমার। তবে সে চাওয়াও বোধহয় অপরাধ ছিল। 

দিনে দিনে আমি আরো ভেঙ্গে পড়ি। কেউ জানতোও না আমার ভেতরে কি চলে। কিভাবেই বা জানবে? মানুষের সামনে আমি শক্ত থাকতাম। বুঝতে দিতাম না, তাদের কথা আমায় কতোটা পুড়ায়। 

ভেবেছিলাম পাত্র দেখার সময়টায় বুঝি পরিবার খুব যত্ন করে, আরো বেশি ভালোবাসে। এখন দেখি তারা আগের থেকে আরও বেশি যত্ন করে আঘাত দিয়ে কথা বলে। ভাগ্যিস আমি কালো নই! নইলে  তো  দুনিয়াটা আরও বেশি কঠিন হতো আমার জন্য। 

“ সারাদিন রুম একটার মধ্যেই পড়ে থাকে। কাজ কাম কিছুই করে না। এটারে নিবে কে? পরে দেখা যাবে নিয়ে দুইদিনও রাখবে না। ফিরিয়ে দিয়ে যাবে।”

আমি কালো হলে হয়তো এর সাথে আরও একটা কথা জুড়ে যেতো। 

“ রূপও তো নাই, যে মানুষ পছন্দ করবে। এমন কালিকে বিয়ে করবে কে?” 

কালো না হলেও যে খুব ভালো আছি, এমনটাও না। ফর্সা হওয়ার গুনাগুণও কিন্তু কম না। ভালো খারাপ সবাই চায়। অহরহ প্রস্তাব আসে বিয়ের। সবাই নিজেকে প্রচণ্ড ভালো, সৎ দাবী করে। ভয়ে থাকি,  কখন কার সাথে জোর করে ধরে বিয়ে দিয়ে দেয়। অবশ্য ছেলের যদি কারি কারি টাকা থাকে, সেক্ষেত্রে অসম্ভব কিছু না। 

দিনে দিনে আমি বাস্তবতা বুঝতে শিখি। নিজের পছন্দের লেভেল কমিয়ে আনি আরও। কাল্পনিক সব চিন্তা ভাবনা বাদ দেই, যেসব তারা গেঁথে দিয়েছিল আমার মাথায়। মিথ্যা আশা দেয়া লোকগুলো সব  ঘৃণার তালিকায় যুক্ত হতে থাকে নিজের অজান্তেই। তাদের বদলে যাওয়া রূপ দেখে খারাপ লাগে না এখন আর। বরং হাসি পায়। নিজের বোকামির প্রতি রাগ লাগে। কেন আমি তাদের সব কথাকে সিরিয়াস ভাবে নিচ্ছিলাম? কেন এতোটা বিশ্বাসের সাথে পান করেছিলাম মিথ্যা আশার বিষ! 

চারপাশের মানুষগুলো এখন আর মেডিকেলের কথা তুলে না। চান্স না পাওয়ায় কথা শুনায় না। তবে তাদের জন্য যে এখন আমি বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি, সেসব মনে করিয়ে দেয়। আমার বিয়ে কেন হচ্ছে না এখনো, কেন এতো ভালো ভালো পাত্র( টাকাওয়ালা) আমি রিজেক্ট করে দিচ্ছি! 
“ তোকে ঘরে রেখে শুধু আমাদের ক্ষতি ছাড়া লাভ কিছুই হচ্ছে না। না করিস ঘরের কোন কাজ, না পেরেছিস পড়াশুনা করে কিছু করতে।তোকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারলেই বাঁচি এখন।”

এসব শুনে প্রথম প্রথম আমার খুব খারাপ লাগতো। কান্না পেতো খুব। তারা কি আমাকে এখনি এতো পর ভাবছে? আমি কি তাদের ঘরের কেউ না? শুধু বিয়ের বয়স হয়েছে বলে এই বাড়িতে সব অধিকার কি আমি হারিয়ে ফেললাম? অন্য কারো উপর আমার দায়িত্ব চাপানোর আগেই তারা ছেড়ে দিয়েছে তা? 

টিউশন করাতাম কিছু। তবে নিজের পড়াশুনার খরচটুকু আর কারো থেকে নিতে চাইতাম না। তাই সেই টাকা জমিয়ে রাখতাম। কখন প্রয়োজন পড়ে কে জানে। কার কাছে চাইবো তখন? কেউ তো আমাকে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি করতে চায় নি। পড়াশুনা একেবারে বন্ধ করে দেয়ার চাইতে অন্তত এক জায়গায় ভর্তি হয়ে থাকা ভালো মনে করেছিলাম। তাই ভর্তি হওয়া। এখন কি আমার পড়াশুনার খরচ তারা টানবে নাকি? আশ্চর্য! 

আমি আসলে প্রাকটিসিং মুসলিম। চেষ্টা করি ফরজ বিধানগুলো পূর্ণভাবে মেনে চলার। ইসলামে ১৪ জন পুরুষ বাদে আর কারো সাথে দেখা করা জায়েজ নাই, আমি পরিপূর্ণ রুপে মেনে চলতাম তা। পরিবার থেকে যে বাঁধার সম্মুখীন হইনি কখনো এমনটাও না, তবে সময়ের সাথে তারা মেনে নিতে থাকে এসব। ছোট থেকেই জেদি ছিলাম কিনা ভীষণ!

বিয়ের ক্ষেত্রে তাই আমার প্রথম প্রায়োরিটি ছিল একজন দ্বীনদার, মুত্তাকী কেউ। যে কিনা আমাকে পর্দার  ব্যাপারে নিষেধ তো করবেই না, বরং নিজেই আমার পর্দার প্রতি সচেতন থাকবে। হোক না অসুন্দর কিংবা টাকা পয়সা একটু কম। স্বাভাবিক বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু থাকলেই চলবে। 

কিছুদিন পরপরই প্রস্তাব আসতো। বড় ব্যবসায়ী, ৫ তালা ১০ তালা বাড়ি, তবে পর্দা মানে তারা বুঝে বোরকা পড়ে বাইরে যাওয়া, এটুকুই! দেখতে আসার ক্ষেত্রে পাত্রের বাবা, ভাই, বন্ধু-বান্ধব সবাই আসুক,  এগুলো সাধারন ব্যাপার সেপার। মাথা ঘামানোর মতো কিছু না। 
সমাজে নানা মতবাদের মানুষ থাকতেই পারে, অস্বাভাবিক কিছু না। তারা হয়তো সেভাবেই জানে, এতে আমার কোন কিছু যায় আসতো না। তবে বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস তখনই বেরুতো, যখন দেখতাম আমার পরিবারও তাদের মতবাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করতো। আমাকে বুঝাতো, যুগ এখন এভাবেই চলে। মানিয়ে নিতে হবে আমাকে। যেখানে তারা জানতো আমি কিভাবে চলি, কেমন ধারনা পোষণ করি। 

হিদায়াত জিনিসটা কেবলই আল্লাহ প্রদত্ত। আল্লাহ না চাইলে কেউ কখনো হিদায়াত প্রাপ্ত হতে পারে না। অথচ তারা আমাকে বলতো, বিয়ের পর আমি নাকি তাকে ঠিক করে নিবো! এত নিখুঁত ভাবে সবকিছু মিলবে না কখনো। অথচ ছেলের যদি টাকাপয়সা তেমন না থাকে, তখন তারাই আবার আর কিছু না দেখেই না করে দেয় সেখানে। এ কেমন দ্বিমুখী নীতি তাদের, আমার বুঝে আসে না। 

আমি অবশ্য একেবারেই যে কোন কাজ করতাম না ঘরের, এমনও নয়। টুকটাক চেষ্টা করতাম। তবে সকালে ফজর পড়ে ঘুমানোর একটা বদ অভ্যাস ছিল। পড়াশুনা ছিল না বলে এই অভ্যাস আর কাটানোর চেষ্টা করিনি। এই কারণেও কথা কম শুনতে হয় নি। যৌথ পরিবার হওয়ার দরুন কিছু মানুষ এমনই ছিল, যারা কিনা আমার মায়ের জেদ আমার উপর ঝাড়ত। আমাকে অপমান অপদস্থ করে পৈচাসিক আনন্দ পেত যেন। আমি আবার কথার পিঠে কথা বলতে পারতাম না, অপর মানুষটার খারাপ লাগে যদি! আর বলার সুযোগও থাকতো না, হেসে হেসে বলতো যে! 

আর্ট করার জিনিসগুলো তখনও আমার টেবিলে পড়ে থাকতো। কিন্তু ততদিনে শখটা আর অবশিষ্ট নেই। রং তুলি হাতে নেই না বহুদিন হয়, রং গুলো হয়তো নষ্টও হয়ে গেছে। মানসিক শান্তিটুকু থাকলেও অবশ্য হতো, সেটাও যে নেই এখন আর। আমার আগের আর্ট গুলো দেখি আর ভাবী, এতো সুন্দর কাজ কিনা আমি করতাম একসময়! কোথায় গেলো আমার সেই প্রতিভাগুলো? লেখালেখি আমার নেশা ছিল একপ্রকারের। অষ্টম শ্রেণী থেকেই লিখতাম আমি। তবে কলেজে উঠে পড়ার এতো চাপ ছিল যে, লেখার সময়টুকুই আর পাইনি। এখন কলম ধরলেও আগের মতো চোখের পলকে খাতা ভরে উঠে না। ভাবতে ভাবতেই সময় চলে যায়, একসময় খাতা কলম জায়গা মতো রেখে দেই। সারাদিন সাদা খাতা আর কলম হাতে নিয়ে বসে থাকলে তো আর চলবে না। 

আসলে ছোট থেকে অনেক কিছুতেই আগ্রহ ছিল আমার। যেমন বই পড়া। ক্লাস ফোর থেকেই বই পড়ার প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। তবে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তে হতো। পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোন বই আমার হাতে দেখলে বলা হতো, 

“ এসব কি পড়ছো তুমি? বয়স হয়েছে এসব বই পড়ার? যাও, স্কুলের বই পড়ো।”

গল্প পড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল আমার। তাই গল্প আছে এমন যে বই পেতাম গোগ্রাসে গিলতাম। আমার উপযুক্ত কিনা তা বুঝতাম না। কেউ তো বলতোও না। বলবে কি, পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোন বই পড়তে দেখলেই তো ধমক দেয়া হতো। 

ক্লাস ফাইভে থাকতেই একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর লালসালু উপন্নাস পুরোটা পড়ে ফেলেছিলাম। এর আগে পরেছিলাম নবম দশম শ্রেণীর কাকতাড়ুয়া উপন্যাসটি। এছাড়া বাড়িতে বড় যারা আমার থেকে উপরের ক্লাসে পড়তো, ওদের বাংলা বইয়ের সব গল্পই মোটামুটি পড়া হয়ে গিয়েছিলো। কারো কাছে একটা গল্পের বই দেখলে সেটার প্রতি লোভ জন্মাতো প্রচুর। সুযোগ পেলে লুকিয়ে পড়ে ফেলতাম। 

এখন অবশ্য কেউ আর কিছু বলে না। সংগ্রহে অনেক বই আছে আমার। দেখলেই শান্তি লাগে মনে।ছোটদের আমি বই পড়তে দেই সেখান থেকে।তবে এখনকার বাচ্চারা বই পড়তে চায় না। সারাক্ষন ফোন নিয়েই পড়ে থাকে, বই পড়বে কখন?

নিজের শখ, স্বপ্ন সবকিছু যেই পড়াশুনার জন্য বিসর্জন দিলাম, সেই পড়াশুনা দিয়েও তো কিছু করতে পারলাম না। লুজার আমাকে বলবে না তো কাকে বলবে? যে নিজেই নিজের পায়ে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে! 

সেদিন সন্ধ্যায় এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে গেলো। উনারা আমাকে ডেকে নিয়ে একটা ছেলের ছবি দেখালেন।

(চলবে)

-কবুলের আগে
পর্ব- ২
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/270939/</link>
				<pubDate>Mon, 07 Sep 2026 06:40:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ মেয়েটা বুদ্ধিমতী, তবে বেয়াদব। আমরা আসার সময় সালামও দিলো না!”</p>
<p>ঠিক এই কথাটাই বলা হয়েছিলো আমার ব্যাপারে। আমি আসলে বুঝতে পারছিলাম না, যারা বিদায়ের সময় পাত্রীর কাছ থেকে সালাম না পেয়ে পেছনে গিবত করতে পারে, তারা পরবর্তীতে কি করবে? </p>
<p>যাই হোক, কথা আর আগায়নি সেখানে। আমার আর চিন্তার কারন ছিল না। তবে দিনে দিনে তাদের পছন্দ, পাত্র নির্বাচন দেখে আমি কথ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-270939"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/270939/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dae2bf0639f6a1fb4f5395b14970351c</guid>
				<title>“ আপনি কোনোদিন ছেড়ে যাবেন না আমাকে।”

“ যাবো না!”

“ ভুল বুঝবেন না কখনো।”

“ বুঝবো না!”

“ ওয়াদা করুন?”

“করলাম। শান্ত হও এবার।”

ইন্তিহা তবুও শান্ত হতে পারে না। আবরার ওর মাথাটা নিজের বুকে চেপে বসে আছে। হোটেলে এসে পৌঁছেছে আধ ঘণ্টাও হয়নি এখনো। তখন ট্রেনের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে মেয়েটার। তার পর থেকে এমন অস্বাভাবিক আচরন করছে। জিজ্ঞেস করলেও বলে না কিছু। আবরারও আর জোর করে না তেমন। আগে শান্ত করা দরকার।
 হোটেলের বারান্দা থেকে চমৎকার দেখা যায় বাইরের প্রকৃতি। সাদা মেঘের ভেলা যেনো শীতল করে দেয় চারপাশ। নীল সাদার মিশেলে অপূর্ব পরিবেশ।
দিনের মধ্যভাগ এখন। দুপুরের খাবার দিয়ে গেছে কিছুক্ষন আগেই। 
ইন্তিহাকে শান্ত করে কোনোমতে নিজ হাতে কয়েক লোকমা খাইয়ে দিলো ছেলেটা। আপাতত বিশ্রাম নিক নাহয়।এর মধ্যে সেও খেয়ে নিলো। ইন্তিহা ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পেরে রুম থেকে বেরিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কাজ সেরে নিলো। তখন মেয়েটার অমন অবস্থায় ফুরসত পায়নি সেভাবে। রুমে আসতে আসতে আসরের সময় হয়ে গেলো প্রায়। পাশে মসজিদে নামাজটা পড়ে নিতে পারতো চাইলে, তবে রুমে একা মেয়েটাকে রেখে মন টানে নি মোটেও। রুমে এসে দেখে ইন্তিহা নেই বিছানায়। বারান্দার দিকে এগিয়ে আসতেই দেখা গেলো তাকে।

“ শরীর কেমন এখন?”

“ ভালো, আপনি কোথায় গিয়েছিলেন?”

“ এদিকেই, কিছু কাজ ছিল সেগুলো শেষ করলাম। টুকটাক প্রয়োজনীয় কিছু কিনে আনলাম। সমস্যা হয়েছিলো কোন?”

“না, এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।”

“ ভেতরে আসো।”

“ এখানে থাকি আরেকটূ?”

আবরার কিছু বলে না।বিনাবাক্যে পাশে থাকা বেতের চেয়ারে বসে পড়ে। ইন্তিহাকে বসতে ইশারা করলে সেও বসে পাশে।আবরার ওর খোলা চুলগুলো বেঁধে দেয়ার চেষ্টা করতে লাগে।
“ কি হয়েছিলো তখন? এমন করছিলে কেন?”

ইন্তিহা বলে না কিছু। মাথা এলিয়ে দেয় লোকটার কাঁধে। সবচেয়ে ভরসাযোগ্য স্থানটায়। কিভাবে বলবে অদ্ভুত কথাটা? হুট করে নিজের প্রতি বিতৃষ্ণা কাজ করতে লাগলো যেন। আবরার ওর জীবনে আসা প্রথম পুরুষ, প্রথম আবেগ। সামান্য একটা হাতের কাঁটা দাগ দিয়ে কি আর বিচার করা যায় তা? চোখ বন্ধ করে রাখে সে। 

“ নামাজটা পড়ে নাও আগে।”

“পড়েছি।”

“ বসো তবে। আমি পড়ে নিই।”

“ আচ্ছা।”

নামাজ পড়ে বাইরে একটু ঘুরতে যেতে চাইলেও ইন্তিহার মাথাব্যথার কথা চিন্তা করে আর যাওয়া হয় না। কাল সকালেই নাহয় যাওয়া যাবে।
রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে বারান্দায় বসে ছিলো দুজন। এমন সময় আবরারের ফোনটা শব্দ তুলে বেজে উঠে। রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে আসা কান্নার শব্দে থমকে যায়। 

“ কি হয়েছে ভাবি? সবাই ঠিক আছে তো? আপনি কান্না করছেন কেন?”

“........”

“এখন কি অবস্থা? কোথায় আছেন ?”

 “........”

“ আচ্ছা, আমরা ইমারজেন্সিতে রওনা দিচ্ছি।”

ফোন কেটে যেতেই ইন্তিহা অস্থির হয়ে উঠে কি হয়েছে জানার জন্য। খুব একটা ভালো কিছু যে হয়নি, এই ব্যাপারটা তো নিশ্চিত! 

“ কি হয়েছে?”

“ আম্মু এক্সিডেন্ট করেছে। হসপিটালে আছে সবাই।”

ইন্তিহা বাক্রুদ্ধ হয়ে যায়। এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিল না হয়তো। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে তার। 

“ এখন কি অবস্থা?”

“ বেশি ভালো না। যেতে হবে আমাদের।আমি দেখছি কি ব্যাবস্থা করা যায়।”

আবরার উঠে যেতে নিলে ইন্তিহা ওর হাত ধরে। পেছন ফেরে না ছেলেটা। ইন্তিহা সামনে আসে লোকটার। চোখ লুকাতে চেয়েও পারে না সে। ইন্তিহার কাছে ধরা দিতে বাধ্য হয়। চোখ টলমল করছে তার। ইন্তিহা হাত ধরে লোকটার।

“আপনি ভেঙ্গে পড়লে হবে?  আম্মু ঠিক হয়ে যাবেন, ইনশাআল্লাহ। “

আবরার বলতে পারে না কিছু। শুধু মাথা নেড়ে সায় জানায়। টলমলে অশ্রুটুকু গড়াতে দেয় না সহজে। ছেলে মানুষের আবার কাঁদতে আছে নাকি! 

রাতেই বাসে করে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশে। ইন্তিহার অসুবিধা হয়েছিলো খুব, তবে এমন সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়াও তো অসম্ভব ব্যাপার। আবরার ছিল প্রচণ্ড অস্থিরতার মধ্যে। একদিকে মায়ের এক্সিডেন্ট, অন্যদিকে স্ত্রীর এমন অবস্থা।  

শেষ রাতের দিকে ওরা ঢাকায় পৌছায়। বাসায় না গিয়ে সরাসরি হসপিটালেই চলে যায়। আইসিইউ তে রাখা হয়েছে আসমা বেগম কে।হসপিটালের সব কাজ শেষ করে রেখেছে বড় দুই ভাই মিলে। 

“আম্মুর কি অবস্থা এখন, আপু?”

ইন্তিহার প্রশ্নে খাদিজা কান্না ধরে রাখতে পারে না। ওকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে সে। বিয়ের পরপরই ওর আপন মা মারা যায়। আসমা বেগম শাশুড়ি নয়, ওর আপন মায়ের মতোই স্নেহ করতেন, আগলে রাখতেন। একটু বেশিই ভালোবাসতেন খাদিজাকে। ইন্তিহার চোখ ভিজে উঠে। গলায় দলা পাকায় কষ্টের ঢেউ। আবরারের কথা মনে পড়তেই অস্থির হয়ে উঠে মন। লোকটা ঠিক আছে তো? খারাপ কিছু শুনলে ঠিক রাখতে পারবেন তো নিজেকে? 
এমন সব প্রশ্ন ঠিক থাকতে দেয় না মেয়েটাকে। তৃষ্ণার্ত চোখদুটো খুজতে থাকে স্বামী নামক মানুষটার অস্তিত্ব। 

সকাল প্রায় দশটার দিকে দেখা পায় আবরারের। নামাজ পড়ে দৌড়াদৌড়ির মধ্যেই ছিল সে। হসপিটালে কতো কিছু নিয়ে পেরেশানি করতে হয়। ইন্তিহা বসে ছিলো জা’দের সাথে। আবরারের উপস্থিতিতে উঠে দাড়ায় সে। 

“ শরীর কেমন এখন তোমার?”

ইন্তিহা হয়তো কিছু বলতে যাচ্ছিলো লোকটাকে। কিছু খেয়েছে কিনা এখনো, বা এমন কিছু। অথচ এতকিছুর মাঝেও লোকটা ওর শারীরিক অবস্থা কেমন সেটা চিন্তা করছে! ইন্তিহা মাথা নেড়ে ভালো বুঝায়। 

“ বাড়িতে চলে যাও ভাবির সাথে। এখানে আর কতক্ষন থাকবে? তোমারও তো শরীর ভালো নেই।”

“ আপনি থাকবেন না এখানে?”

“হ্যাঁ, থাকতে হবে।”

“তাহলে আমিও থাকবো।”

ওর কথায় আবরার স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন। মেয়েটা কি পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না? 

“ অযথা জেদ করো না। যা বলছি শোনো। আমি এখানে…”

“ আম্মুর অবস্থা ভালো না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই থাকবো!” 

দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ছেলেটা। এমনিতেই আসমা বেগমের অবস্থা তেমন একটা ভালো না। রক্ত লেগেছে ৭ ব্যাগের বেশি। বয়স্ক মানুষ হওয়ায় অল্পতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। সেখানে গুরুতর এক্সিডেন্টে রক্ত গিয়েছে প্রচুর। একসাথে এতো রক্ত শরীরে দেয়াও যায় না।

বাইরে থেকে শক্ত দেখালেও ভেতরে ভেতরে আবরারও ভয় পাচ্ছে প্রচুর। ডাক্তার বলেছেন রোগীকে বাঁচানোর সম্ভাবনা একেবারেই কম। এতো সহজে অবশ্য বিশ্বাস হয়না ব্যাপারটা। মাত্র একদিনের ব্যাবধানে এতোকিছু হয়ে যাবে কল্পনাতেও আসে নি কারো।ইন্তিহা আবরারের ডান হাত ধরে আলতো করে।

“ খেয়েছেন আপনি কিছু?”

কিভাবে খাবো আমি? মা’কে জীবন মরনের দোলাচলে রেখে খেতে পারবো কিছু? গলা দিয়ে নামবে খাবার? বলতে চাইলেও বলা হয়না। নির্লিপ্ত আবরারের চাহনি দেখে কথা বাড়ায় না ইন্তিহা। 

‘’কিছু খেয়ে নিন আগে। অল্প করে হলেও। “

“ পরে খাবো। তুমি অস্থির হয়ো না তো!” 

“ এখনি খাবেন। আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাকিদের কি হবে? “

আবরার বলে না কিছু। ইন্তিহার হাত ধরে রেখেই পাশে থাকা বেঞ্চিতে বসে পড়ে সে। ইন্তিহা ওর কাঁধে হাত রাখে। ভরসা দেয়, সব ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। 

জোর করে একটা কলা আর বিস্কিট খাইয়ে দেয় ইন্তিহা।পানিটাও খায়নি তখনো। এরমধ্যেই খবর আসে আইসিইউ রুম থেকে।আসমা বেগম দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন অপর দুনিয়ার পথে। ফেলে গেছেন এতিম করে তিন ছেলে আর তিন মেয়েকে। কাঁপতে থাকা আবরারের হাত দুটো ঠেকে বেঞ্চের হাতলে। সমস্ত ভাষা হারায় সান্ত্বনা বাক্যগুলোর। ওরাও যে বড্ড অসহায় আজ!    


তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-১৫ 
তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/270212/</link>
				<pubDate>Sat, 05 Sep 2026 14:57:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ আপনি কোনোদিন ছেড়ে যাবেন না আমাকে।”</p>
<p>“ যাবো না!”</p>
<p>“ ভুল বুঝবেন না কখনো।”</p>
<p>“ বুঝবো না!”</p>
<p>“ ওয়াদা করুন?”</p>
<p>“করলাম। শান্ত হও এবার।”</p>
<p>ইন্তিহা তবুও শান্ত হতে পারে না। আবরার ওর মাথাটা নিজের বুকে চেপে বসে আছে। হোটেলে এসে পৌঁছেছে আধ ঘণ্টাও হয়নি এখনো। তখন ট্রেনের মধ্যে কিছু একটা হয়েছে মেয়েটার। তার পর থেকে এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-270212"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/270212/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c91f7c871325dad7aa49752c61dc8af0</guid>
				<title>আগে ভাবতাম, বিবাহ উপযুক্ত অবস্থায়, যখন অহরহ পাত্রপক্ষ দেখতে আসে, বিয়ের কথাবার্তা চলে, এইসময়টা একটা মেয়ের সবচেয়ে সুন্দর সময়। পড়াশুনার চাপ নেই, ঘরে কোন কাজ করতে হয় না হয়তো, আবার নতুন নতুন সব অনুভূতির সাথে পরিচিত হতে থাকে। ইসস, কবে যে আমারও এমন সময় আসবে! কবে যে আমিও এতো সুন্দর একটা সময় পার করবো! 

পরিবারের মানুষগুলো তখন হয়তো খুব আদর আহ্লাদ করবে আমায় নিয়ে। কিছুদিন পর পরের বাড়িতে চলে যাবো যে! এসব মনে করে শুধু দিন গুনে যেতাম, কবে ফাইনাল পরীক্ষাটা শেষ হবে, কবে বিয়ের কথা চলবে পুরোদমে। 

একের পর এক পরীক্ষা শেষ হতে থাকলো। ফাইনাল পরীক্ষাটাও দিয়ে দিলাম। অবসর সময়। সারাদিন শুয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কোন কাজ নাই। অবশ্য কাজ থাকলেও  করতাম না আমি। ছোট থেকে বলা হয়েছে আমাকে শুধু পড়াশুনা করতে হবে। ঘরের কাজ শেখার কি প্রয়োজন? আমি ডাক্তার হবো। সারাদিন রোগী দেখবো, আর মাসে লাখ লাখ টাকা কামাবো। কাজের লোক করে দিবে আমার সব কাজ। 

দিন রাত এক করে পড়েছি। পড়ার টেবিল থেকে উঠলেই বলা হতো, তোমাকে কোন কাজ করতে হবে না। তোমার একমাত্র কাজ হচ্ছে পড়াশুনা করা, জিপিএ পাওয়া, আর মেডিকেলে চান্স পাওয়া। 

স্বপ্নটা যদিও আমার নিজের ছিল না। জোর করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিলো মনের ভেতর। সেই থেকে আমিও ভাবতে শুরু করলাম, এভাবেই বুঝি হবে সব। যেমনটা বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই সব হবে। 

দিন যেতে থাকে, আমিও পড়াশুনা ছাড়া আর কিছু বুঝি না। সারাক্ষন পড়ার টেবিলেই আমার সব। একসময় এসএসসি তে জিপিএ পেলাম। সবাই খুব খুশি হলো। কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে দেখি পছন্দের কলেজ আসছে না। বাধ্য হয়ে অপছন্দের কলেজেই পড়তে হলো। 

কলেজ মনমতো না হওয়ায় আর যেতাম না কলেজে। বাসায়ই বসে পড়াশুনা করতাম। সকালে ফজর পড়তাম, পড়তে বসতাম। রাতে ১২ টার পর ঘুমাতে যেতাম। এর মাঝে পুরোটা সময় পড়তাম, একেবারে জরুরি কাজগুলো বাদে। কলেজের দিনগুলো যে কিভাবে ফুরিয়ে গেলো টেরই পেলাম না। ফাইনালে জিপিএ আসে নি। অল্পকিছুর ব্যবধানে হারালাম সেটা। মন খারাপেরও সময় পেলাম না। অ্যাডমিশনের জন্য পড়াশুনা শুরু করলাম পুরোদমে। 

অ্যাডমিশনের একেকটা দিন আমার কাছে যুদ্ধের মতো ছিল। এমন কোন রাত হয়তো ছিলো না যে আমি কান্না করিনি। এতটা ডিপ্রেশন আমার লাইফে কখনো ছিলো না। টেস্টগুলোতে নাম্বার কম আসতো, অভিভাবক আবার সেটা দিয়ে জাজ করতো, চান্স পাবো কি পাবো না। যদিও এসব গল্প আমি আর আমার রব ছাড়া আর কেউই জানে না। সবাই শুধু দেখতো আমি দরজা বন্ধ করে সারাক্ষন খুব মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করি। আশায় বুক বাধতো আমাকে নিয়ে।স্বপ্ন দেখতো। 

বলা হতো চান্স পেলে নাকি বিশাল বড় বড় অফিসাররা লাইন ধরবে আমাকে বিয়ে করার জন্য! বড় বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররা প্রপোজাল দিবে অহরহ। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য যে, এই বলে বলে তারা আমার মাথায় জোরপূর্বক ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন গেঁথে দিতে চাইতো। 

দিনশেষে আমিও তাদের সেসব স্বপ্নগুলোকেই সত্যি ভাবতে শুরু করি। এমন সব ফ্যান্টাসির বাইরে কিছু চিন্তাই করতে পারতাম না। সাধারন কাউকে কখনো পছন্দ হয়নি। ওইযে, মস্তিস্কে গেঁথে গেছে, সাধারন ছেলেরা তো আমার যোগ্যই না, তাদেরকে পাত্তা কেন দিবো! 

অ্যাডমিশনের সেই যুদ্ধটাও একসময় শেষ হয়। ক্লান্ত আমি ভীষণ খুশি ছিলাম। ভীষণ। ভাবলাম যাক, অবশেষে বিয়ের সময় এলো তবে। এখন একটু জীবনটাকে উপভোগ করা দরকার।

জীবন উপভোগ বলতে অনেক অনেক শপিং করা, ঘুরতে যাওয়া এসব ছিলো না। আমি উপভোগ বলতে বুঝতাম পড়াশুনার চিন্তা মুক্ত শান্তির ঘুম। তবে দুইদিনের মাথায় রেজাল্ট চলে আসে অ্যাডমিশনের। আমি মাত্র ৪ নাম্বারের জন্য চান্স মিস করি! 

আর সেদিনই আমার সব স্বপ্ন, ফ্যান্টাসির পর্দা সরে যায় চোখের সামনে থেকে। আশেপাশের এতো এতো শুভাকাঙ্ক্ষী, আপনজন, যারা কিনা সবসময় বলতো, আমি ডাক্তার হলে তারা ফ্রিতে চিকিৎসা নিবে, তাদেরকে আমি যেন চিনতেই পারছিলাম না। সবাই কেমন খোলস পাল্টে ফেলতে লাগলো। আমি শুধু দেখতাম, শুনতাম আর অবাক হতাম। এরাই কি সেইসব মানুষগুলো? যারা এতোদিন আমার কিছু হতে না হতেই দুশ্চিন্তা করতো। 

আমাকে সবসময় বলা হয়েছিলো কাজ করার দরকার নেই। অথচ সেদিনের পর থেকে বলতে শোনা গেলো, কাজ না শিখলে পরের বাড়িতে নাকি দুইদিনও রাখবে না আমাকে। পড়াশুনা করে তো কিছুই করতে পারলাম না, এখন আর কি? কাজ শিখে শ্বশুর বাড়িতে যাও। 

তারা আমাকে একসময় বলতো, সাধারন কোন মানুষ আমার যোগ্যই না। এমন কাউকে বিয়ে করা আমার জন্য অপমানের। অথচ এখন তারাই বলতে লাগলো, ‘ এতো ভালো খুঁজে কোন সাহসে? ওর জন্য এতো ভালো পাত্র কোথায় পাবো? বেশি আশা করতে নিষেধ করো!’

‘এতো ভালো চাইলে মেডিকেলে চান্স পেলো না কেনো?’

আমি এসব শুনে কষ্ট পাইনা, একদমই কষ্ট পাইনা। শুধু অবাক হয়ে যাই। আমি নিতে পারি না এতো পরিবর্তন। মনে হয় সবকিছু যেন মাথার দুই হাত উপর দিয়ে যাচ্ছে আমার। এসব স্রেফ আমার স্বপ্ন। বাস্তব কিছু না। আমার বাস্তব জীবনটা তো এমন ছিলো না। কবে কবে এতো কিছু হয়ে গেলো? আমার অগোচরে! 

ভেবেছিলাম সবসময় তো ঘরে বসে পড়াশুনাই করতাম, এবার ঝামেলা শেষ হলে সবার সাথে সময় কাটাতে পারবো, আড্ডা দিতে পারবো। নিজেকে মুক্তো পাখির ন্যায় উড়াতে পারবো। তবে সেদিনের পর থেকে সবাই কেমন করে যেন কথা বলে। মনে হয় সাধারন সব কথাবার্তা, তবে প্রতিটা কথার পিঠেই থাকে একটা খোঁচা। আমার পেছনে সব টাকা অযথাই ঢালা হয়েছে। যার যোগ্য আমি ছিলাম না। 

আমি মানুষের সাথে মিশতে শুরু করার আগেই শেষ করে দিলাম। ঘরবন্দী করলাম নিজেকে। পড়াশুনা ছিল না। সারাক্ষন শুয়ে থাকতাম। একসময় বিরক্ত এসে গেলো। বই পড়তে শুরু করলাম। কাল্পনিক সব চরিত্রগুলোর মাঝে সুখি অনুভব করতাম নিজেকে। নিজের একটা আলাদা কাল্পনিক জগৎ তৈরি করে ফেললাম।কেউ সেখানে কিছু বলতো না আমায়।অপমান করতো না কথায় কথায়। 

তবে সেই সুখ রইলো না বেশিদিন। কিছুদিন পরই অভিযোগ, বিচার শুরু হয়ে গেলো আমায় নিয়ে। সারাদিন শুয়ে বসে থাকলে কেই বা মেনে নিবে? কোন পরিবার বলবে না কিছু? তাও আবার এমন একটা মেয়েকে, যে কিনা পুরো বংশের সবার স্বপ্ন ভেঙ্গেছে? সবার বিনামূলে চিকিৎসা পাওয়ার স্বপ্নটা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিয়েছে। মানবে না। মানার কথাও না। 

কাজ করতে আমার ভালো লাগতো না। কখনো করার অভ্যাস ছিল না যে! তাদের বকা শুনেও কোন কাজ করতাম না আমি। বই পড়তাম মনোযোগ দিয়ে। তবে আগের মতো মনোযোগ দিতে পারতাম না তেমন। বকাঝকাগুলো গায়ে লাগাতে না চাইলেও কান সজাগ থাকতো। কখন কি বলে শুনতাম সব। শুনতাম শুধু। মন খারাপ করবো না ভেবেও চোখ ভরে আসতো। আমি চোখ বড় করে পানি শুকাতে চাইতাম। উপরের দিকে তাকাতাম পানি যেন বেশি না হয়ে যায়। কিছুতেই কিছু হতো না। অবাধ্য পানি গড়িয়ে যেতো। ওড়নার কোনা দিয়ে মুছে ফেলতাম সাথে সাথে। আবার চোখ ভরে উঠতো। বিরক্ত লাগতো খুব। এই চোখের পানিগুলো যেন বেহায়া একদম। আমার কথা না শুনে মানুষের কথা শুনে। 

আমি আর্ট করতে পছন্দ করতাম খুব। ভালো আঁকতামও। তবে সেসব নাকি কোন কাজের না , কিছু হবে না এই ট্যালেন্ট দিয়ে। আমিও বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম তা। আসলে তাদের প্রতিটা কথাই আমার কাছে মনে হতো ধ্রুব সত্যের মতো। আমার মাথায় গেঁথে যেতো তা। আমি আর চর্চা করিনি। আঁকাআঁকি করতে দেখলেই বলা হতো, ‘পড়াশুনা রেখে এসব কি করছো? অযথা সময় নষ্ট। যাও, পড়তে বসো।’

কিছুদিন এভাবে চলার পর একসময় সত্যি সত্যিই আমার বিয়ের আলোচনা উঠলো। কতোদিন আর অকর্মা মেয়েকে খাওয়াবে ঘরে রেখে? এবার বাস্তবতা বুঝানো দরকার। আমি প্রথমে বুঝতাম না সেসব। খুশি ছিলাম এই ভেবে যে, যাক, অবশেষে একটা ভালো শ্বশুর বাড়ি পেয়ে গেলেই হয়। ভালো একজন জীবনসঙ্গী পেয়ে গেলেই হবে আমার। সব দুঃখ বুঝি শেষ হবার পালা। কিন্তু আমি জানতাম না,  দুঃখের পালা তখনো শুরুই হয়নি। যেই সময়টাকে আমি জিবনের সবচেয়ে আনন্দের মনে করতাম, যেই সময়টার অপেক্ষা করে আমার সময় কাটতে চাইতো না, ঠিক সেই সময়টাই আমার জিবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দুঃসময় হয়ে উঠলো। প্রতিটা সেকেন্ড কাটতো আতঙ্কের মধ্যে। কখন জানি আজেবাজে কোন লোকের সাথে জুড়ে দেয় আমায়। কখন জানি দুনিয়ার নরকের মধ্যে আয়োজন করে নিক্ষেপ করা হয় আমায়।কোন সাধুবেশে ঘুরে বেড়ানো লম্পটের সাথে জুড়ে দেয়া হয় আমার জীবনটা। আমার মতামত ছাড়া! অবশ্য দেয়ারই তো কথা। আমার মতামতের কি গুরুত্ব আছে? চান্স পেয়েছি নাকি আমি মেডিকেলে? করতে পেরেছি কি সবার স্বপ্ন পুরন? পারি নি তো। 

একদিন সন্ধায় কিছু মহিলা এলো আমাকে দেখতে। প্রায় ৯-১০ জন তো হবেই। বাসার সবাই তাদেরকে খুব আপ্যায়ন করলেন। আমকে সামনে নেয়া হলো। সালাম দিলাম। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিলাম হেসে হেসেই। হুট করে আমার নজরে আসলো, তাদের মধ্যে এক মেয়ে আস্তে করে আমার ছবি তুলে নিলো। আমি তাকাতেই ক্যামেরা অফ। কান্না পেলো আমার। যেই আমি আমার পরিচিতদের ফোনেই ছবি তুলি না আমার, যদি পরপুরুষ দেখে কোনভাবে? সেই আমার কিনা আজ এতোটা অধঃপতন! 

কিছু বলি নি তখন। তবে তারা চলে যাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এমন একটা কথা শুনলাম, যে আমার মাথা ঘুরে যাওয়ার উপক্রম হলো। জিবনে প্রথমবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কিনা, তাই হয়তো! 


কবুলের আগে
পর্ব-১
-তিতা ফুল


( নতুন একটি গল্প শুরু করলাম। আপনাদের পাশে থাকার অনুরোধ থাকবে। এটা খুব বড় হবে না। বাকিটা দেখা যাক)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/269303/</link>
				<pubDate>Thu, 03 Sep 2026 17:32:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আগে ভাবতাম, বিবাহ উপযুক্ত অবস্থায়, যখন অহরহ পাত্রপক্ষ দেখতে আসে, বিয়ের কথাবার্তা চলে, এইসময়টা একটা মেয়ের সবচেয়ে সুন্দর সময়। পড়াশুনার চাপ নেই, ঘরে কোন কাজ করতে হয় না হয়তো, আবার নতুন নতুন সব অনুভূতির সাথে পরিচিত হতে থাকে। ইসস, কবে যে আমারও এমন সময় আসবে! কবে যে আমিও এতো সুন্দর একটা সময় পার করবো! </p>
<p>পরিবারের মানুষগুলো তখন হয়তো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-269303"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/269303/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">18d038b31d78d2362f6beaca030cc400</guid>
				<title>“মুড নেই, এখন বলতে পারবো না!”

আবরারের নির্লিপ্ততায় বাকহারা হয় মেয়েটা। এসব কি ধরনের মজা? তাই বলে এমন একটা ব্যাপার নিয়ে মজা করবে লোকটা?তিনি কি জানেন, কি নিয়ে কথা বলছেন, সেটা ওর কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ! 
আবরার উঠে চলে যেতে নিলে হাত টেনে ধরে মেয়েটা। হাতের দিকে একবার তাকিয়ে সরাসরি ওর চোখে চোখ রাখে লোকটা।ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে,  ‘কি?’

“ বলুন না!”

ওর এই সামান্য দুটো শব্দে কি যেন মিশে ছিলো আজ।গলায় কান্না দলা পাকানো ভাব। আবরার দ্রুত বসে পড়ে চেয়ারে। 

“ আরে তুমি মন খারাপ কেন করছো? সামান্য একটা ব্যাপার! আর আমি মজা করছিলাম,সরি।”

“ আপনি কি দেখতে যাওয়ার আগে থেকে চিনতেন আমাকে?”

“ এমন কেন মনে হচ্ছে তোমার?আচ্ছা, কি হয়েছে বলো তো? আজ তুমি এই ব্যাপার নিয়ে পড়লে কেনো এমন করে?”

ইন্তিহা ঢোক গিলে। বলা যাবে না। স্বপ্নের কথাটা কিছুতেই বলা যাবে না। এতো বছরের অপেক্ষা, আহাজারি, কিছু প্রকাশ করা যাবে না। কি মনে হতেই আবরারের হাত দুটো ধরে মেয়েটা। উল্টেপাল্টে দেখার চেষ্টা করে কনুই অব্দি। কোন দাগ নাই, একটা কাটাছেড়ার চিহ্ন পর্যন্ত না। এ পর্যায়ে এসে ভীষণ অবাক হয় ছেলেটা। প্রথম দিন থেকে খেয়াল করছে , মেয়েটা ওর হাতে কি যেনো খুজে সবসময়। জিজ্ঞেস করলে কিছু বলেও না।

“ একটা সত্যি কথা বলবে?’’

“ কি?”

“ তুমি কি অন্য কারো হাতের সাথে আমার হাতের মিল খুঁজো?”

বাকরুদ্ধ হয়ে যায় মেয়েটা। লোকটা কি ভুল বুঝছে ওকে? তড়িঘড়ি করে জবাব দেয় সে।

“ না না। কার হাতের সাথে মিল খুজবো, আশ্চর্য! কিসব বলছেন আপনি?”

“তাহলে আমার হাতে সবসময় কি দেখো?”

“কিছুনা।” বলেই ও হাত ছেড়ে দেয় আবরারের। ভ্রুকুটি মিশ্রিত চাহনিতে নজর লুকাতে চায়, পারে না।

“ আচ্ছা, বাদ দাও। ভালো খবর আছে একটা।”

“কি?”

“ আগামী শুক্রবার ঘুরতে যাবো আমরা।তিন দিনের ছুটি পেয়েছি। কোথায় যেতে চাও বলো?”

“ আপনার ইচ্ছা।আপনি যেখানে নিয়ে যাবেন, সেখানেই।”

কিছুক্ষন স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে সে মেয়েটার দিকে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অন্যমনস্ক সে।  বিষয়টা নিয়ে আর কথা বাড়ায় না আবরার। বলার হলে এমনিই বলবে নাহয়।
-
-
-

দেখতে দেখতেই সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। বিয়ের পর এই প্রথমবার কোথাও ঘুরতে যাচ্ছে ওরা। ট্রেনে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকায় ইন্তিহার আর তেমন সমস্যা হয় নি। আসলে ও গাড়িতে উঠতে পারে না। যার কারণে আবরার সবসময়ই চেষ্টা করে ওর সুবিধা অনুযায়ী ব্যাবস্থা করতে। রাতের ট্রেন ভ্রমন মেয়েটার ভীষণ পছন্দের। তাই সেই অনুযায়ী টিকিট কাটে এবারেও। 

“ আপনি এর আগে কখনো গিয়েছিলেন সাজেক?”

“ দুইবার।” 

“ কার সাথে?”

“ একবার বন্ধুদের সাথে, কলেজ থেকে। আরেকবার বাসার সবাই মিলে।”

“ কলেজ থেকে যখন গিয়েছিলেন, মেয়ে ছিলো না সাথে?”

হুট করে ফোনের দিক থেকে দৃষ্টি ঘুরায় ছেলেটা। তাকায় কৌতূহলী নেত্রে চেয়ে থাকা রমণীর পানে। বউ তার গোয়েন্দা হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। একটু না রাগালে কি চলে? 

“ ছিলো তো। অনেকজন।”

আবরারের সংক্ষিপ্ত বাক্যে হুট করে রাগ উঠে যায় মেয়েটার। কেন, তা নিজেও জানে না। মেয়ে ছিল বলে, নাকি লোকটা এই কথাটাকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে, কে জানে।ভেতরে ভেতরে অভিমানও জমে খানিকটা। আবরার প্রশ্নের উত্তর দিয়েই ফোনে নজর দিয়েছে পুনরায়।তবে সমস্ত খেয়াল তার বোকা বউটার দিকেই। 

“ আপনি কথা বলেছেন তাদের সাথে?”

“ হ্যাঁ, স্বাভাবিক। একসাথে থাকলে টুকটাক কথাবার্তা হতেই পারে।”

“ কেমন ছিল সেইবারের ভ্রমন?”

“ জিবনের সেরা সময় ছিলো সেটা। কখনো ভুলতে পারবো না। গোল্ডেন টাইম যাকে বলে।”
অহেতুক কান্না পায় মেয়েটার। লোকটা কি বুঝতে পারছে না ওর প্রশ্নের কারন? নাকি ইচ্ছে করেই এমন করছে? করতেই পারে, বলা তো যায় না। পাজি লোক কিনা! তবুও মন মানে না তার।বেহায়া মনের কাছে হার মেনে করেই ফেলে অহেতুক প্রশ্নটা। 

“ ওরা কি সুন্দরী ছিলো খুব?”

হাসি চেপে রাখতে না পেরে হাত দিয়ে মুখ আড়াল করে ছেলেটা। স্বাভাবিক হয়ে পুনরায় উত্তর দেয় সে।

“ পৃথিবীর সব মেয়েরাই তো সুন্দরী!”

“ যাবো না আমি আপনার সাথে কোথাও। বাড়ি নিয়ে চলুন আমায়। এক্ষুনি!”

হুট করে এমন কিছু একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিলো ছেলেটার কাছে। কোথায় ভেবেছিলো কথায় কথায় জ্বালাবে মেয়েটাকে। বোমা যে এতো দ্রুত ফেটে যাবে, কে জানতো! 

“ আরে, আমি আবার কি করলাম? আর এখন বাড়ি নিয়ে যাবো কিভাবে তোমায়? ট্রেন কি আর তোমার স্বামীর কথায় চলবে?”

আরও কিছু বলতে গিয়েও চুপ করে যায় মেয়েটা। এসব কি করছে সে? মানে আছে কোন এমন ছেলেমানুষির ? জানালার দিকে ফিরে নিশ্চুপ রয় সে। 

“ তুমি জানো ইন্তিহা?”

“কি?”

না চাইতেও অবচেতনেই আবরারের কথার জবাব দিয়ে দেয় সে। এতে ঠোঁট চেপে হাসি আটকায় ছেলেটা। 

“ কোথায় যেনো কিছু একটা পুড়ছে মনে হচ্ছে। তুমি কি গন্ধ পাচ্ছো, ইন্তিহা?”

লোকটার কথার ধরন দেখেই মেয়েটা বুঝে যায় মজা করছে লোকটা। ইচ্ছে করে এমন করেছে এতক্ষন। আবরারের কথার জবাব দেয় না সে। বাইরে তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টে। আবরার আলতো করে হাত ধরে ওর। হাত সরায় না, আবার তাকায়ও না লোকটার দিকে। 

“ রাগ কি বেশি করেছো?”

উত্তর আসে না। নাহ, বেশি হয়ে গেলো, এতোটা রাগানো ঠিক হয়নি। বউটা এবার সহজে মানবে না দেখা যায়। 

“ কথা বলবে না আমার সাথে?”

জবাব আসে না এবারেও। জোর করে এদিকে ফেরালে ওর চোখে পানি দেখে থমকে যায় ছেলেটা। তাই বলে এতো ছোট একটা ব্যাপার নিয়ে কান্না করে ফেলতে হবে?

“ এই, কান্না কেনো করছো তুমি? আমি তো মজা করছিলাম শুধু।”

ইন্তিহা কিছু বলে না। নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলে ভিজিয়ে দেয় আবরারের পাঞ্জাবীর অংশটুকু। হতাশ শ্বাস ছাড়ে ছেলেটা। বউ তার দেখতে শুনতে পরিপক্ক হলে কি হবে, ওর কাছে বাচ্চা হয়ে যায় পুরো। 

“ আম সরি।আর হবে না এমন। কান্না থামাও এবার। “

“ সত্যি সত্যিই কি মেয়ে ছিলো সেদিন?”

হাসবে নাকি রাগ করবে বুঝতে পারে না ছেলেটা। এই মেয়ে এখনো সেই কথা নিয়ে পড়ে আছে। 

“ আমি পড়েছি বয়েজ কলেজে। সেখানে মেয়ে আসবে কোথা থেকে? তবে মিথ্যা বলিনি তোমায়। আশেপাশে তো মেয়ে ছিলোই কিছু।আমাদের সাথে যায় নি যদিও। আর…”

“আর?”

“ পৃথিবীর সব মেয়েরাই সুন্দরী। তবে আমার চোখে তো আর না!” 

তারপর মাথা নিচু করে খানিকটা নিচু স্বরে বলে,

“ আমার চোখে আমার বউই সেরা।অন্যদিকে তাকানোর সময় আছে নাকি?” 

“ সরুন, কথা বলবেন না আপনি। “ 

মুখে যতোই ভাব দেখাক না কেন, আবরারের দুটো বাক্যেই যে তার অভিমান গলে পানি হয়ে গেছে এতক্ষনে। 

“কথায় কথায় এতো কান্না কেনো করো তুমি? তুমি রাগ করবে, প্রয়োজনে আমার চুল ছিঁড়বে। তা না করে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদতেই পারো। আমার বউ হবে স্ট্রং, কথা একটা বললে সাথে সাথে উত্তর চলে আসবে।”

নাক টেনে আড়চোখে চায় মেয়েটা।

“ আমি  ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদি?”

হেসে ফেলে আবরার। কান্না থেমেছে তবে। 

“ তো কিভাবে কাঁদো তুমি? ভ্যা ভ্যা করে?”

“ আপনি একটা এক নাম্বারের অসভ্য! সরুন তো, কথা বলবেন না একদম।”

প্রেয়সীর রাগ ভেঙ্ঘেছে বুঝতে পেরে শান্তি পায় ছেলেটা।অমন কথায় কথায় কান্না করা বউটাকে নিয়ে যে কি হবে তার! ভেবে মিছেমিছি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সে। 
সময় পেরুতে থাকে নিজের মতো করে। ট্রেনের ছন্দময় উঠানামায় মাথা ধরে আসে মেয়েটার। 
“আর কতোক্ষন লাগবে পৌঁছাতে?”

“ এই ঘণ্টা দুয়েক। কেন? খারাপ লাগছে তোমার?”

“ বেশি না।”

“ কিছু খাবে? আচার বা টক কিছু?”

“ আরে বমি পাচ্ছে না আমার! খাবো না কিছু।”

কিছুক্ষন পর বাদামওয়ালার কাছ থেকে দুই প্যাকেট কিনে নিলো সে। খোসা ছাড়িয়ে ইন্তিহার হাতে ধরিয়ে দিলো। না, না করেও খেলো মেয়েটা। এমনভাবে হাতে ধরিয়ে দিলে না খেয়ে থাকা যায়? আবরার নিজেও খাচ্ছে মাঝে মাঝে। 

ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাবে আধ ঘণ্টার মধ্যেই। একভাবে বসে থাকতে থাকতে শরীর যেন অবশ হয়ে আসার উপক্রম মেয়েটার। আবরার যদিও মাঝে মাঝে এদিক ওদিক গিয়েছে। ঘাড় ঘুরিয়ে এপাশ ওপাশ করতেই ওর চোখ আটকে যায় অপর পাশের সিটে বসা এক পুরুষের হাতের পানে। একটা কাঁটা দাগ! 
স্বপ্নের কথা মনে পড়তেই শিউরে উঠে দেহ। এলোমেলো হয় চিন্তা করার শক্তি। ঢোক গিলে পাশে বসা আবরারের মুখের পানে তাকায় সে। যে কিনা ব্যস্ত ফোনের স্ক্রিনে। ওপাশের লোকটার চেহারার দিকে তাকানোর সাহস হয় না মেয়েটার।যদি, স্বপ্নের সেই মুখটাই হয়! এটা বাস্তব হতে পারে না, কখনোই সম্ভব না।একই চেহারার দুজন ব্যক্তি কিভাবে হয়? 

হুট করে আবরারের হাত ধরে সে। চমকে ওর দিকে তাকিয়েই দ্রুত ফোন পকেটে রেখে ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছেলেটা।

“ ঠিক আছো তুমি? কি হয়েছে, এমন করছো কেন?”

কথা বলতে পারে না ইন্তিহা। ওর কিছু একটা হয়েছে,  আঁচ করতে পেরে অভয় দেয়ার চেষ্টা করে আবরার।

“ কি হয়েছে? খারাপ লাগছে বেশি? বলো আমাকে?”

“ আমি …” 

আবরার ওর হাতটা আরো শক্ত করে ধরে। 

“ কি হয়েছে বলো?” 



(চলবে) 

তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব-১৪
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/268816/</link>
				<pubDate>Wed, 02 Sep 2026 15:39:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“মুড নেই, এখন বলতে পারবো না!”</p>
<p>আবরারের নির্লিপ্ততায় বাকহারা হয় মেয়েটা। এসব কি ধরনের মজা? তাই বলে এমন একটা ব্যাপার নিয়ে মজা করবে লোকটা?তিনি কি জানেন, কি নিয়ে কথা বলছেন, সেটা ওর কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ!<br />
আবরার উঠে চলে যেতে নিলে হাত টেনে ধরে মেয়েটা। হাতের দিকে একবার তাকিয়ে সরাসরি ওর চোখে চোখ রাখে লোকটা।ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করে,  ‘&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-268816"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/268816/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a8b3582e1286cd648304799a2ac5a74e</guid>
				<title>“আপনি একটা অসভ্য!” 

“ আরে আরে চলে যাচ্ছো কেনো? খাবারটা শেষ তো করে যাও।”

ফেরে না মেয়েটা। এমন দুষ্টু বর থাকলে শান্তি আছে কোনো? রান্নাঘরের কাছে এসে বুকে হাত রেখে হাঁপাতে থাকে সে। চাপা হাসিতে লাল হয় অবয়ব। তবে পাশ থেকে কারো হাসির শব্দে মুছে যায় সে হাসি।

“কি? কেমন চলছে দিনকাল, হুম হুম? সব ঠিকঠাক তো? নাকি…!”

মেঝো জা’য়ের টিটকারিতে লজ্জায় মূর্ছা যায় মেয়েটা। এবার একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না? ও জোরপূর্বক সিরিয়াস হয়। 

“ কি হবে আবার? সব ঠিকঠাক!”

“ যাই হোক, ঠিক থাকলেই ভালো। আমি আবার ভাবলাম…”

“ রাতে কি ভাইয়া বাসায় খাবার খাবেন ?”

“ বাসায় খাবে আজকে। যাই হোক, কথা ঘুরাতে শিখে গেছো দেখছি।”

‘তোমাদের মতো জা থাকলে না শিখে উপায় আছে?’ বলতে গিয়েও বলে না কথাটা। এখন কথা বাড়ালেই বিপদ। এ বাড়ির মানুষগুলো সব একই ধরনের কিনা! পরে দেখা যাবে কথা একটা বলতে গিয়ে মান সম্মান খোয়াতে হবে! 
-
-
-
সপ্তাহ দুই এক পেরুতে না পেরুতেই একদিন খবর আসে ইন্তিহার আব্বু হার্ট অ্যাটাক করেছেন। ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে উনাকে।খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না করে করে অবস্থা খারাপ মেয়েটার। আবরার আসেনি এখনো অফিস থেকে। সে আসলে নিয়ে যাবে দেখা করতে। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে আসে আবরার। বাসায় পা রাখতেই সবার ভারাক্রান্ত মুখ দেখে চিন্তিত হয় সে। মায়ের কাছে খবরটা শোনা মাত্রই তাড়াহুড়ো করে রুমে আসে। ইন্তিহাকে কাঁদতে দেখে ধক করে উঠে বুক। এই প্রথমবার কাঁদছে মেয়েটা। বিয়ের দিনে তো কাঁদার সুযোগই পায় নি। 
আজ এভাবে কাঁদতে দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না সে। 

“শান্ত হও, সব ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

“ আব্বু, আব্বু, আব্বুর…”

কান্নার দমকে গলায় আটকে আসে কথা। আবরার ওর চোখ মুছে দেয় আলতো হাতে।

“ কান্না করে না। কিচ্ছু হয়নি উনার। ভালো আছেন এখন। আমরা এক্ষুনি যাবো।”
“ আমি, আপনাকে ফোন…”

‘সরি, ফোনটা সাইলেন্ট ছিল। ঠিক আছে, ঠিক হয়ে যাবে সব। শান্ত হও তুমি।”

আবরারের আস্কারা পেয়ে কান্না যেন কমার বদলে বেড়ে যায় আরও। আবরার ওর চুলে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটার কান্না যে সহ্য হচ্ছে না কিছুতেই।

“ আচ্ছা দেখি, রেডি হও। বের হবো আমরা। “

ইন্তিহাকে নিয়ে হাসপাতালে পৌছাতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। সেখানে গিয়ে আবারো কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটা। বাবাকে ধরে কতো বছর পর যে কেঁদেছে মেয়েটা। সেই ছোট্ট ইন্তিহা হয়ে গেছে যেন আজ। আবরার দাঁড়িয়ে আছে কেবিনের বাইরে। সাথে হাসিব আর আমেনা বেগমও আছেন। ইন্তিহাকে একা ছেড়ে দিয়েছে বাবার কাছে। থাকুক কিছু সময় বাবা মেয়ে। সবার সাথে কথা বলতে থাকলেও আবরারের মন পড়ে আছে ক্রন্দনরত রমণীর পানেই। থেকে থেকে কান্নার শব্দ যেন ঝংকার তুলছে ওর কানে। খা খা করছে বুকের ভেতরটা। মেয়েটার কান্না কেন এতো অসহ্য লাগছে? কেন এতো পুড়াচ্ছে অন্তর? 

“ খাবে কিছু?”

“ না।”

কেবিনের বাইরে একটা বেঞ্চে বসে আছে আবরার-ইন্তিহা। কান্না থামলেও চোখ মুখ ফুলে আছে মেয়েটার। আবরার ওর দিকে পানির বোতলের ছিপি খুলে এগিয়ে দেয়। দুই ঢোক খাওয়ার পর টিস্যু নিয়ে নিজেই চোখ মুখ মুছে দেয় প্রেয়সীর। দুপুর থেকে কিছু খায়নি মেয়েটা। এখন প্রায় মাগরিবের আজানের সময় হয়ে এসেছে। এখনো বলছে কিছু খাবে না।

“ সেই সকালে কি না কি খেয়েছো। সারাদিনে পানি ছাড়া কিছু খাওনি। এখনো বলছো কিছু খাবে না। এভাবে চললে হবে? কিছু তো খাবে?”

“আমার খেতে ইচ্ছে করছে না কিছুই। আপনি প্লিজ জোর করবেন না।”


ইন্তিহার কথায় হতাশ নিঃশ্বাস ছাড়ে ছেলেটা। এতো সহজে কথা শুনবে না বউ তার। ইন্তিহা নিঃশব্দে ওর মাথাটা আবরারের কাঁধে রাখে। চোখ বুজে ফেলে ছেলেটা। একটু পর সে নিজেই কথা বলে উঠে।

“ খিদা লেগেছে আমার খুব।”

চমকে উঠে মেয়েটা। সাথে সাথেই মাথা তুলে তাকায় পুরুষটির পানে। 

“আপনি খাননি কিছু?”

“ তুমি সারাদিন না খাওয়া। আমার পেটে খাবার ঢুকবে কিভাবে?”

অবাক চাহনি নিয়ে তাকিয়ে থাকে মেয়েটা। সারাদিন না খেয়ে আছে লোকটা? তাও কিনা ওর কারনে? ও খায়নি বলে? 
“আপনি কি পাগল?খেয়ে নিন কিছু, এক্ষুনি যান।”

“ তুমি না খেলে আমি খাবো কিছু? বিশ্বাস হয় তোমার?”

“আরে আমি…”

“ ইচ্ছে করছে না, তাইতো? ঠিক আছে, আমি এভাবেই ঠিক আছি। চিন্তা করো না তো!” 

হতাশ হয় মেয়েটা। এই লোক ভীষণ ধূর্ত। না খাইয়ে ছাড়বে না ওকে আজ। 

“ ঠিক আছে, চলুন। খাবো আমি।”

হাসি ফুটে পাজি লোকটার চোখে। সে থাকতে না খেয়ে থাকতে পারবে বুঝি মেয়েটা? অসম্ভব ব্যাপার-সেপার। 
এক প্লেটে ভাত নেয় সে। জানে, নিজ হাতে নিলে খাবে না একটুও মেয়েটা। ভাত মেখে ওকে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়। নিজেও খায় সেখান থেকেই। আরেক লোকমা করে করে এক প্লেট পুরো খাইয়ে দেয় মেয়েটাকে। হঠাৎ করে চোখ ভরে আসে মেয়েটার। আবরারের থেকে চোখ লুকাতে চাইলেও পারে না লুকাতে।

“কাঁদছো কেনো?’’ 

টিস্যু দিয়ে ওর মুখ মুছে দিতে দিতে প্রশ্ন করে লোকটা। মাথা নেড়ে জবাব দেয় সে।

“কিছুনা, এমনি।” 

আবরার আর বলে না কিছুই। বিল দিয়ে এসে আবার চলে যায় হসপিটালে। রাতের জন্য আমিনা বেগম থাকবেন সেখানে। আর হাসিবকে আবরারদের সাথে ওদের বাড়িতে নিয়ে যাবে আপাতত। থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই কিনা। 

আসিফ সাহেব সুস্থ হয়ে উঠেন কিছুদিনের মধ্যে। উনাদের এই বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলেও আসেননা তারা। কি দরকার, এমন অসুস্থতার সময়ে শুধু শুধু ঝামেলা বাড়ানোর। ঢাকা থেকে সরাসরি চলে যান দেশের বাড়িতে। ইন্তিহাকে সাথে নেয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। তবে আবরারের কড়া নিষেধ, একা একা পাঠাতে একদমই রাজি না সে।  কিছুদিন পর ছুটি পেলে নিজেই নিয়ে যাবে ওবাড়িতে। ইন্তিহাও আর কথা বলেনি আবরারের কথার উপর।এমন না যে, ওর যেতে মন চাইছিলো না। তবে লোকটার কথার উপর কিছু বলতে চায় না মন। 

সন্ধ্যার পর পর আসে আবরার। অফিস ছুটি বিকেল ৫ টায় হলেও কিছু জরুরী কাজে আটকে যায় আজ। মাগরিবের পর আর বাইরে থাকে না কখনো। বাসায় ইন্তিহাকে পড়াতে বসে এই সময়টায়। পড়াতে বসা তো অজুহাত মাত্র। আসলে বউয়ের কাছাকাছি থাকাই আসল কারন! 

“একটা কথা বলবো, রাগ করবেন না বলুন আগে?”

“বলো?”

“না। আগে প্রমিস করুন রাগ করবেন না একটুও।”

“ আমি কখনো রাগ দেখিয়েছি তোমার সাথে? আমার রাগ সম্পর্কে তো ধারনাই নাই তোমার। আর চাইও না এমন কিছু হোক। তোমার যা অবস্থা , আমি ঠিকঠাক করে একটা ধমক দিলেই তো সেদিন আর খুজে পাওয়া যাবে না তোমাকে।”

“ ওরে বাবা! তাহলে তো বলাই যাবে না!”

“ না, বলো। বললাম তো, রাগ করবো না একটুও। কি বলবে বলো ।”

“নাহ, থাক। না বলি।”

“ আরে বলো তো! আগ্রহ জাগিয়ে দিয়ে এখন আবার কথা ঘুরাচ্ছো কেনো?”

আবরারের কথায় হুট করেই হেসে ফেলে মেয়েটা। ও তো দেখতে চেয়েছিলো লোকটার প্রতিক্রিয়া কেমন হয় এই কথা শুনে। কথা কিছুই ছিলো না। লোকটাকে জ্বালানোই ছিলো আসল কারন। 
ভ্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে আবরার। 

“ কি হলো? হাসছো কেন?”

“ কিছুনা।”


“কি বলতে চাইছিলে, বললে না তো?”

“বলবো না বললাম তো।”

মেয়েটার অভিনয় বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে না। আবরার বুঝে যায়, ওর সাথে মজা করছে মেয়েটা। দুষ্টুমির হাসি ফুটে উঠে ওর মুখে। 

“ তুমি জানো, আমি প্রথমবার কোথায় দেখেছিলাম তোমাকে?”

হাসি থেমে যায় মেয়েটার মুখ থেকে। ধক করে উঠে বক্ষপিঞ্জর। কি বললো লোকটা? তার মানে উনি কি আগে থেকেই ওকে চিনতো? নাকি ওর মতোই স্বপ্নে…! আর ভাবতে পারে না মেয়েটা। মাথা ঘুরে উঠে তার। এ নিশ্চয়ই কাকতালীয় ব্যাপার না। সিরিয়াস হয় সে। যা দেখে হাসি আরও গাঢ় হয় ছেলেটার। 

“ কোথায়?”


(চলবে) 

 #তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব -১৩ 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/268343/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 14:39:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“আপনি একটা অসভ্য!” </p>
<p>“ আরে আরে চলে যাচ্ছো কেনো? খাবারটা শেষ তো করে যাও।”</p>
<p>ফেরে না মেয়েটা। এমন দুষ্টু বর থাকলে শান্তি আছে কোনো? রান্নাঘরের কাছে এসে বুকে হাত রেখে হাঁপাতে থাকে সে। চাপা হাসিতে লাল হয় অবয়ব। তবে পাশ থেকে কারো হাসির শব্দে মুছে যায় সে হাসি।</p>
<p>“কি? কেমন চলছে দিনকাল, হুম হুম? সব ঠিকঠাক তো? নাকি…!”</p>
<p>মেঝো জা’য়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-268343"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/268343/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c2361b9f76b1998fe78a4ae584756b08</guid>
				<title>“প্রেমে পড়েছো বুঝি?”

আবরারের এমন প্রশ্নে থতমত খায় মেয়েটা।এ আবার কেমন প্রশ্ন?ভালো হবে না এই ছেলে। কাকে ভালো বলছিলো ও এতক্ষন! এ তো আস্ত একটা পাজি।এদিকে ওর থেকে কোন জবাব না পেয়ে হাসি আরো গাঢ় হয় তার। মেয়েটাকে লজ্জায় ফেলতে ভালোই লাগে বেশ।জানে এখন আর কোন কথা বলবে না বউ তার।তাই নিজে থেকেই প্রশ্ন করে ফের,

“কি ম্যাডাম? কোন দুনিয়ায় হারিয়ে গেলেন?এইযে, এখানে আমি!”

“ আপনি কি জানেন?”

“কি?”

“আপনি একটা প্রচুর খারাপ মানুষ।”

বলেই মুখ ঝামটা মেরে দোলনা থেকে উঠে রুমে চলে যায় মেয়েটা। এদিকে ওর অমন প্রতিক্রিয়ায় হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ ছেলেটার। 
-
-
-

পরদিন শুক্রবার, ছুটির দিন থাকায় বাসায় ছিল আবরার। দুপুরের পর বেরিয়েছিল, এসেছে একেবারে সন্ধ্যার পর। হাতে ভারী ব্যাগ একটা।প্রশ্ন করার আগেই উত্তর পেয়ে যায় ইন্তিহা।

“ বই এনে দিয়েছি, পড়াশুনা শুরু করবে আজকে থেকে।”

অবাক হয় মেয়েটা। কোনমতে টেনেটুনে অনার্সটা শেষ করেছে নাহয়। ভাইয়ের জোরাজুরিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছিল যদিও, তবে পড়ার ইচ্ছা একদমই ছিল না তার। আবরারের সাথে বিয়ে হওয়ার পর তো আরও বেশি না। বিয়ের পর ওবাড়িতে গিয়ে বই খাতা কিচ্ছু আনে নি। একপ্রকার হাওয়ায় উড়ছিল পড়াশুনা শেষ ভেবে।এখন আবার এসব কি দেখতে হচ্ছে!

“ কিসের বই, কার বই, আর আমাকে বলছেন কেন?”

ইন্তিহার প্রশ্নে করতে দেরি, তবে ওপাশ থেকে  জবাব আসতে দেরি হয় না। 

“মাস্টার্সের বই, আপনার বই, আর আপনি পড়বেন, তাই আপনাকে বলছি, আর কিছু?”  

থতমত খায় মেয়েটা।ওর তো মনেই ছিল না যে, লোকটা একটা ডিগ্রি করা পাজি। তার সাথে এসব ছলচাতুরি চলবে না।একটু ভেবে চিন্তে ফের প্রশ্ন করে মেয়েটা,

“ কিন্তু আমি তো বই কিনেই রেখেছি ওই বাড়িতে। আপনি আবার নতুন করে কিনে লস করে ফেললেন না?”

“ উফফ বউ, এত্ত ভাবো তুমি আমাকে নিয়ে?আমার মনটা খুশিতে নেচে উঠলো গো। তবে তুমি জেনে খুশি হবে যে, এগুলো তোমারই বই। আমি হাসিবকে দিয়ে কুরিয়ার করে আনিয়েছি, তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো বলে।এখন বলো, সারপ্রাইজটা কেমন হয়েছে, বউ?”

আবরারের কথা বলার ভঙ্গিমা দেখে ভেতরে ভেতরে শরীর জ্বলে উঠে ওর। লোকটাকে তো এমনি এমনি হাড়ে বজ্জাত বলে না সে। অভিনয় দেখো, এ তো বাংলা ছায়াছবি করার কথা, এখানে কি করছে! নাহ, এভাবে বললে হবে না, সব প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে লোকটা আজ।ইন্তিহা এবার লজ্জা পাওয়ার ভান করে। অভিনয় কি ও কম জানে নাকি? 

“ শুনুন না!”

“হ্যাঁ, বলুন না!”

“ আরে ধুর, শুনবেন তো আগে?”

“জি জি, বলুন প্রিয়তমা!”

“বলছি, এখন তো আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে তাই না?”

“একদম ভুল বললে প্রিয়তমা।এখন না, দুই মাস আগে!”

হাসি মুছে যায় মেয়েটার মুখ থেকে। মানে, অভিনয়টাও কি ঠিকঠাক করতে দিবে না নাকি?রাগ না করে অভিনয় পুনরায় চালিয়ে যায় সে। 

“ যাই হোক, বলছি বিয়ের পর আবার কিসের পড়াশুনা বলুন? বিয়ের পর মানুষ সংসার করে, বাচ্চা সামলায়, ঘুরতে যায়। এতসবের মধ্যে পড়াশুনা করার সময় আছে নাকি? তাছাড়া আমাকে দিয়ে আপনি চাকরি করাবেন নাকি, যে এতো পড়াশুনা করতে হবে? তারচেয়ে বরং এক কাজ করি, আমরা কোথাও ঘুরতে যাই, কি বলেন?”

ইন্তিহার কথা বলার ধরন পাল্টে যাওয়ার সাথে সাথেই অবশ্য ওর উদ্দেশ্য ধরে ফেলেছে ছেলেটা। তবুও ওর সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলছিল এতক্ষন। জানতো, বউ তার ভীষণ পড়াচোর।তবুও সুযোগ যখন পেয়েছে, হাতছাড়া করা কি ঠিক হবে? অন্তত আবরারের জন্য তো একদমই না।

“ আমিও তাই বলি।অযথা এসব পড়াশুনা কে করে বলো তো? একেবারে বেকার জিনিস।তা, সংসারী বউ আমার, যা বলছো ভেবে বলছো তো? মানে পরে কান্নাকাটি করে পস্তাবে না তো আবার?”

শেষের কথাটা নিচু স্বরে বলে সে। ইন্তিহা ঢোক গিলে। কার সাথে কথা বলছে ও? এ- তো ওর থেকে দশ কাঠি উপরে। নাহ, এসব অভিনয় করে লাভ নাই কোনো। শেষে দেখা যাবে কি-না-কি বলে বসবে বজ্জাত লোকটা। মান সম্মানের ব্যাপার-সেপার।গলা ঝেড়ে অভিনয় বাদ দিয়ে সিরিয়াস হয় সে। বিষয়টা আলোচনায় আগানো দরকার।

“শুনুন।”

“বলুন?”

“ আমি সিরিয়াস।”

“আমিও”

“আমি কিন্তু পড়াশুনা করতে চাই না আর।”

“ আমি কখন বললাম পড়তে?আগেই তো বললাম, চলো সংসার করি।চলো চলো, দেরি হচ্ছে তো।”

দুঃখে কপাল চাপড়াতে ইচ্ছে হচ্ছে মেয়েটার। এ কেমন অত্যাচার! লোকটা কি ভালো হবে না একটুও? হাতে থাকা চায়ের কাপটা শব্দ করে রাখে সে টেবিলের উপর। রাগে নাক ফুলিয়ে চলে যেতে নিলে সামনে দাঁড়িয়ে আটকায় ছেলেটা। 

“ আরে আরে যাচ্ছো কোথায়? সংসার তো শুরুই করলাম না এখনো!”

“আপনার সাথে কথা নাই কোনো! সবসময় এমন করেন আপনি!’

‘’আরে তুমি রেগে যাচ্ছ কেন বলো তো? আচ্ছা ঠিক আছে, বলো এবার। মজা করছি না, বলো।’’

“আমি পড়বো না আর।”

“ কারন?”

“পড়তে ভালো লাগে না আমার।”

“কি করতে ভালো লাগে তোমার?”

“আবার!”

“ আরে আমি তো প্রশ্নই করলাম। আচ্ছা, বলো পড়তে কি সমস্যা?”

“সমস্যা নাই কোনো। এমনিই,, ভালো লাগে না।তাছাড়া আমি চাকরি করতে চাই না। এতো পড়ে কি হবে আর?”

আবরার সিরিয়াস হয়।চেয়ার টেনে বসে ওর সামনে। দুহাত ধরে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলে, 

“দেখো, শুধু মাস্টার্স টা শেষ করে রাখো।এরপর তো শেষ। মাত্র একটা বছরেরই তো ব্যাপার। দেখতে দেখতে কেটে যাবে।তাছাড়া, চাকরি তো আমি করাবো না তোমাকে দিয়ে। কিন্তু যোগ্যতাটুকু অর্জন করে রাখো। আল্লাহ কখন কাকে কোন পরিস্থিতিতে ফেলেন, কেউই জানি না আমরা।অন্তত ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য কারো কাছে হাত যেন পাততে না হয়, এটুকুই চাই আমি।”

“আপনি এসব কথা বলছেন কেন? আপনি থাকতে আমি চাকরি কেন করবো? তাছাড়া আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না আমি।”

হাসে ছেলেটা। প্রাণহীন হাসি। বোকা মেয়েটা কিনা ছেড়ে যাওয়ার কথা পর্যন্ত ভেবে ফেলছে! দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে তাকায় প্রেয়সীর পানে। বোকা চাহনিতে চেয়ে থাকা মেয়েটা যে বোঝে না চোখের ভাষা। 

“ধরো, আমি গুরুতর অসুস্থতায় পড়লাম, কিছু করার সামর্থ্য হারালাম। আল্লাহ পরীক্ষা করলেন আমাদের। ওই সময় কি করবে তুমি? অন্য কারো উপর নির্ভরশীল হবে, নাকি নিজের যোগ্যতায় কিছু করবে, আমার পাশে থাকবে শেষ পর্যন্ত? বলো?”

“ আপনি আজ এসব কি ধরনের কথা বলছেন? ভালো লাগে না আমার।”

“ আরে মন খারাপ করছো কেন? আমি কি বলেছি এমন হবেই? শুধু ভাবতে বলেছি, এমন যদি কখনো হয়ও, কি করবে তুমি তখন?” 

“ অবশ্যই আপনার পাশে থাকবো! ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

“ তো তখন কিভাবে থাকবে আমার পাশে? সংসার চালাবে কিভাবে? কিছু তো একটা করতে হবে তাই না?”

“হ্যাঁ, করবো।”

“কি করবে?”

‘চাকরি করবো’ কথাটা বলতে গিয়েও থেমে যায় সে।এতক্ষন তো চাকরি করবে না বলে পড়াশুনা বন্ধ করে দিবে বলে বলছিলো। এখন কিভাবে বলবে চাকরি করার কথা। ওর চুপ থাকা দেখে হাসি ফুটে উঠে ছেলেটার মুখে। 

“ এবার বলো, পড়বে না?”

“কিন্তু এসব কথা আপনি বলবেন না আর। আমার কান্না পায়!”

ধক করে উঠে ছেলেটার বক্ষপিঞ্জর।ওর নত মুখটা উপরে তুলে তাকায় চোখের পানে।

“ একটা সত্যি কথা বলবে?”

“কি?”

“ভালোবাসো আমায়?”

পুনরায় মাথা নিচু করে ফেলে ইন্তিহা।এই প্রশ্নের উত্তর যে নেই ওর কাছে! ওর চুপ থাকা ছেলেটার বুক পুড়ায়। ভালোবাসা কি আর বলে বোঝানোর জিনিস? প্রসঙ্গ বদলায় আবরার।

“ আচ্ছা বাদ দাও। এখন বলো, মাস্টার্সটা শেষ করবে তো?”
মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝায় ইন্তিহা। স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে ছেলেটা। 

“ঠিক আছে, কালকে থেকে সন্ধ্যার পর আমার কাছে পড়তে বসবে এক ঘণ্টা করে।”

“আপনি পড়াবেন আমায়?”

অবাক হয় ইন্তিহা।ওর অবাকতা দেখে হঠাৎই হেসে ফেলে ছেলেটা। 

“ কেনো, পড়াতে পারবো না আমি?” 

“না, সেটা বলিনি। আমি তো নিজেই পড়তে পারবো।”

“পারবে, পড়বে না তো আর!”

লজ্জা পায় মেয়েটা।ভুল বলে নি আবরার। আজ না, কাল- বলে বলে আর পড়তে বসা হয় না। শেষে পরীক্ষার আগে দিয়ে  অবস্থা খারাপ হয়। 

“আচ্ছা, বসুন আপনি। আমি কিছু একটা নিয়ে আসি আপনার জন্য।”

“লাগবে না। বসো তুমি এখানে। “

“আরে পাঁচ মিনিট লাগবে। বানানো আছে, শুধু নিয়ে আসবো। বসুন তো।”

এবার আর না করে না আবরার। ইন্তিহা চলে যেতেই বারান্দায় যায় সে। সন্ধ্যার সময়টায় গরম একটু কম লাগে সারাদিনের তুলনায়। আর বৃষ্টিমুখর আবহাওয়া হলে তো কথাই নাই।সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এক নিমেষেই।
কিছুক্ষনের মধ্যেই হাতে ট্রে নিয়ে বারান্দায় আসে ইন্তিহা। নুডলস, সস, সাথে এককাপ চা। আবরার দুধ চা পছন্দ করে খুব।ট্রে-তে চায়ের কাপ একটা দেখে প্রথম দিনের কথা মনে পড়ে যায় ছেলেটার। মাথায় দুষ্ট বুদ্ধিগুলো নাড়াচাড়া দেয়।চায়ের কাপ হাতে নিয়ে প্রশ্ন করে সে,

“ তোমার মনে আছে, প্রথমবার তোমাদের বাড়িতে গিয়ে যখন আমার জন্য চা এনেছিলে, সে সময় আমি কি করেছিলাম?”

“ কি করেছিলেন?”

“ মনে নাই?”

“কিসের কথা বলছেন?”

চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মুচকি হাসির রেখা ফুটে উঠে ছেলেটার ঠোঁটের কোনে।বউটা তার এতো বোকা কেনো? কিচ্ছু বুঝে না। নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করে, কে জানে! 

“ আচ্ছা, তুমি চা খাও না কেন?”

“ মজা না।স্বাদ বুঝি না আমি।”

“কি বলো? চায়ে স্বাদ পাও না তুমি?এটাও কোনো যুক্তি হলো?”

“ অতশত বুঝি না আমি। ভালো লাগে না আমার, ব্যাস। তাছাড়া চা তো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও।আপনার উচিত চা খাওয়া ছেড়ে দেয়া।”

“ অসম্ভব! চা খাওয়া ছাড়বো, তাও আমি? ভাবতে পারলে কিভাবে?বুক কাঁপলো না তোমার?”

“ আশ্চর্য! মানে, আপনি কি?”

“কি আমি?”

চুপ হয়ে যায় মেয়েটা। কথা বলে পারা যাবে না এই লোকের সাথে।তারচেয়ে বরং চুপ থাকাই ভালো। 

“ কি হলো, বললে না তো?”

“কি বলবো?”

“ কি আমি?”

“ আপনি মানুষ।”

“ আর?”

“ আর কি?”

“ তোমার স্বামী যে, সেটা বলবে না?”


“আপনি কি কথা একটু কমিয়ে বলতে পারেন না?”

“ ছি বউ! আমি না তোমার আপন স্বামী? এমন কথা বলতে পারলে তুমি?”  

“ খুবই দুঃখিত অনুভব করছি, বড় ভুল হয়ে গেছে আমার। এবার কি অনুগ্রহ করে থামতে পারেন আপনি?”

“ জী অবশ্যই, তবে একটা শর্ত আছে।”

“ কি শর্ত?”

“ আমার কাপ থেকে এক চুমুক খেতে হবে চা। আমি একদম ভালো হয়ে যাবো, একটা কথাও বলবো না।”

“ পাগল না আমি। আপনার প্লান বুঝে গেছি। আমাকে কেনো খাওয়াতে চান, খুব ভালো করেই জানি আমি।” 

বিষম খায় ছেলেটা। বলে কি এই মেয়ে? এ তো সাংঘাতিক ব্যাপার সেপার।

“ কি বলো, জেনে গেছো? “

“ হ্যাঁ, কি ভেবেছেন? আমি কিছু বুঝি না? এসব বোঝা আমার এক মাথার খেল!”

“ এক মাথার খেল! যাই হোক, কি বুঝেছো সেটা বলো আগে। “ 

“ আপনি…” 

“ হ্যাঁ, বলো? কি আমি?” 

(চলবে) 
_________________________

তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-১২
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/267474/</link>
				<pubDate>Sun, 30 Aug 2026 10:24:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“প্রেমে পড়েছো বুঝি?”</p>
<p>আবরারের এমন প্রশ্নে থতমত খায় মেয়েটা।এ আবার কেমন প্রশ্ন?ভালো হবে না এই ছেলে। কাকে ভালো বলছিলো ও এতক্ষন! এ তো আস্ত একটা পাজি।এদিকে ওর থেকে কোন জবাব না পেয়ে হাসি আরো গাঢ় হয় তার। মেয়েটাকে লজ্জায় ফেলতে ভালোই লাগে বেশ।জানে এখন আর কোন কথা বলবে না বউ তার।তাই নিজে থেকেই প্রশ্ন করে ফের,</p>
<p>“কি ম্যাডাম? কোন দুনিয়ায় হারিয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-267474"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/267474/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ff23da9ac78e193e1c487047f3df5b64</guid>
				<title>“কে কি বলেছে তোমায়?” 

আবরারকে অমন রেগে থাকতে দেখে ঘাবড়ে যায় ইন্তিহা। লোকটা কি জানে কিছু? ওর থেকে কোন প্রতিউত্তর না পেয়ে আবরার রান্নাঘরের দিকে যেতে নিলে তড়িঘড়ি গিয়ে থামায় লোকটাকে। অযথা বিষয়টা বাড়তে দেয়া যায় না।

“আপনি রুমে আসুন, কিছু হয়নি।”

“কিছু না হলে কান্না কেন করছিলে তুমি? আমি বেঁচে থাকতে এই বাড়িতে কেউ তোমাকে অসম্মান করে কথা বলবে, তুমি কান্না করবে আর আমি বসে বসে দেখবো সেসব? ছাড়ো আমাকে, দেখতে দাও।”

আবরারের এমন প্রতিক্রিয়ায় এবার সত্যিই ভয় পেয়ে যায় মেয়েটা। শাশুড়ি তো ওর পক্ষ নিয়ে বললোই যা বলার। এখন যদি আবার আবরার যায়, ব্যাপারটা বেশি বেশি হয়ে যাবে। কোনোমতে লোকটাকে শান্ত করে, ফিরিয়ে রুমে নিয়ে আসলো সে।এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু হতে দেয়া যায় না।  



দেখতে দেখতে পেরিয়ে যায় অনেকগুলো দিন।শ্বশুরবাড়িতে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে শেখে ইন্তিহা। কখনোবা কিছু মানুষের আঘাত করে বলা কথায় চোখ ভরে উঠে কান্নায়, লুকিয়ে মুখ চেপে কাঁদেও। তবে আবরারের ছোট ছোট যত্নে,শাশুড়ির আদরে আর ছোট জায়ের বোনের মতো ভালবাসায় ভুলে যায় সেসব। এতো মানুষের ভালোবাসা পেয়েও যদি মন খারাপ করে থাকে, অকৃতজ্ঞতা হয়ে যাবে না? 
 
একদিন রাতে প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকায় খাবার খেতে চায় না ইন্তিহা।তবুও জোর করে দু লোকমা খাইয়ে দেয় আবরার।খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে একচুল ছাড় দিতে চায় না ছেলেটা।এক বেলা না খেয়ে থেকে পার পাওয়া যায় না এখন আর।এ নিয়ে অবশ্য বেজায় বিরক্ত সে।
 ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই হাত পা সহ পুরো শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসে।কাঁথা মুড়িয়ে আরো খানিকটা জড়সড় হয়ে শুয়ে থাকে সে। এরমধ্যেই রুমে আসে আবরার।  ওকে অমন করতে দেখে ভ্রু কুচকে এগিয়ে যায় ওর দিকে। সন্দেহবশত কপালে হাত রেখে দেখে প্রচণ্ড জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। অস্থির হয়ে উঠে ছেলেটা। ড্রয়ার থেকে কম্বল বের করে মুড়িয়ে দেয় আগে।বালতি ভর্তি করে পানি এনে মাথায় ঢালতে থাকে অনবরত। ভাগ্যিস তখন মাথা ব্যথার কথা শুনে ঔষধ খাইয়ে দিয়েছিল জোর করে। স্বাভাবিক হুশে নেই মেয়েটা। প্রায় আধঘণ্টা পর জ্বরটা খানিক ছেড়ে আসলে চোখ খুলে মেয়েটা।খুব লাল হয়ে আছে চোখ দুটো তার। জ্বরের ঘোরে হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেয় লোকটার গাল। একেবারেই যে সেন্স নেই তার, এমনও নয়। তবে এর আগে কখনো রাতের বেলায় জ্বরের ঘোরে কাউকে পাশে পায়নি তো সেভাবে, আবরারকে আজ খুব আপন ,কাছের মনে হচ্ছে, খুব।নিজের মায়ের থেকেও বেশি কিনা জানা নেই, তবে এর আগে কখনো কাউকে এতোটা দরদ নিয়ে, আপন করে ভাবা হয়নি। চোখ বুজে আলতো হাসে মেয়েটা। কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়া একফোঁটা প্রাপ্তির অশ্রু আজ সাক্ষী দেয় লোকটার প্রচণ্ড যত্নের, মায়ার।আবরার কিছু বলে না তেমন।আগের পানিটুকু পাল্টে এনে পুনরায় ঢালতে থাকে প্রেয়সীর কপাল জুড়ে। 
 -
-
-

“এসব কি এনেছেন আপনি?”

ইন্তিহার ছোট জা, খাদিজার প্রশ্নে হাবিব সাহেব, উনার স্বামী স্বভাবসুলভ বিরক্তমাখা কণ্ঠে বলে উঠেন,

“ সবকিছুতে এতো কৈফিয়ত কেনো দিতে হবে তোমাকে?আর দরজার সামনে থেকে সরে দাড়াও, ভেতরে যাবো আমি। আসতে না আসতেই শুরু হয়ে গেছে জেরা করা!”

স্বামীর অমন তিরস্কারমুলক কথাবার্তায় অভ্যস্ত তিনি। গায়ে লাগে না এখন আর।হাবিব সাহেব তার হাতে থাকা বড় ব্যাগটা এনে রাখলেন সোফার উপর। ডাকলেন মা সহ সবাইকে।একে একে সবাই এলেও আসে নি ইন্তিহা। না আসারই কথা। আবরার বেরুতে নিচ্ছিলো মাত্রই। ভাইয়ের ডাকে এসে দাঁড়ায় ড্রয়িংরুমে। শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে এসে বসে সোফায়।

“কি এনেছিস এসব?”

মায়ের কথায় মাথা নেড়ে ব্যাগ খুলেন তিনি। বিভিন্ন পদের মিষ্টি, চমচম, আইসক্রিম দিয়ে ভর্তি। হাতের কাছে যা যা পেয়েছেন সব কিনে নিয়েছেন যেন। 

“এতো কিছু কার জন্য এনেছিস?আর টাকা পেয়েছিস কোথায় এতোগুলো?”

অবাক হন আসমা বেগম সহ বাকিরাও। যেখানে মাত্র কিছুদিন আগেই ব্যবসার এতো বড় লোকসান হলো, সেখানে আজ ব্যাগ ভরে এতোসব জিনিস কিনে আনা কি আশ্চর্যের না?তবে খাদিজা বেগম অবাক হলেন না বিন্দুমাত্র। তিনি বুঝে গেছেন স্বামী তার টাকা কোথায় পেয়েছে। রাগে কান্না চলে আসে উনার। সেখানে আর এক মুহূর্ত দাড়িয়ে থাকেন না, সোজা চলে যান রান্নাঘরের দিকে।

“ভাইয়া, তুমি কি আবার লোণ নিয়েছো ব্যাংক থেকে?’

অবাকের রেশ দেখা যাচ্ছে আবরারের চোখে মুখেও।মাত্র কয়েক বছর আগেই এই লোণ নিয়ে সময়মতো দিতে না পারায় কি এক ঝড় গেছে পুরো পরিবারের উপর। হাবিব সাহেবের ভুলের মাসুল গুনতে হয়েছিলো সব ভাইকে। শেষে গ্রামের বাড়িটা বিক্রি করে শোধ করতে হয়েছিলো সেই ঋণ।বাবার কাছে কসম কেটে বলেছিল, আর কখনো যাবে না লোণের কাছে। অথচ বাবার মৃত্যুর কয়েক বছর না ঘুরতেই সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি!

“তুই কি মানুষ হবি না আর? আবরারের কথা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তুই মা ডাকবি না আমাকে কখনো। মৃত বাবার শেষ কথাটুকুও রাখতে পারে না যেই ছেলে, তার মুখে মা ডাক শুনতে চাই না।”

“আরে মা, এতো রাগ কেন করছেন? এবার একদম সময়মতো দিয়ে দিবো সব। ব্যাবসাও বাড়িয়েছি এবার।”

“ব্যাবসা বাড়িয়েছিস মানে?কবে তুলেছিস টাকা?এর মধ্যে এতকিছু করা হয়ে গেছে?”

মায়ের অবাকতায়ও নির্লিপ্ত থাকেন তিনি, যেন কোন ভুলই করেননি! ব্যাংক লোণ নিতান্তই তুচ্ছ একটা বিষয় তার কাছে।আবরার উঠে চলে যায় বাইরে। এসব দেখে আর ভালো লাগে না তার।  যত চেষ্টা করে সুদ থেকে দূরে সরতে, ততই যেন পরিবারটা জড়িয়ে যায় সেদিকে।পাপের ডালপালা যে এতো সহজে ছাড়ার না। 

-
-
-

বিকেলে আজ তারাতারি ফিরে আসে আবরার। কাল সারারাত মাথায় পানি দেয়ায় সকালের দিকে জ্বরটা ছেড়েছে ইন্তিহার। গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় ওর এমন অবস্থায়ই চলে যেতে হয়েছে অফিসে।অবশ্য নিজের মা’কে ডেকে বলে গিয়েছে সে যাওয়ার আগে। 

“জ্বরটা এসেছিল আর?”

ইন্তিহার কপালে হাতের উল্টোপীঠ রেখে প্রশ্ন করে আবরার।সাথে সাথে দুচোখ বন্ধ করে ফেলে মেয়েটা। মাথা নেড়ে না বোঝায়। আবরার ভ্রু কুচকে কিছুক্ষন চেয়ে থাকে ওর দিকে। তারপর কপাল থেকে হাত সরিয়ে প্রশ্ন করে ফের,

“খেয়েছো কিছু?”

“হ্যাঁ।”

“ঔষধ ?”

“দুপুরে খেয়েছিলাম।”

“মাথাব্যথা করছে?”

“একটু!”

ড্রয়ার থেকে ছোট্ট একটা ঔষধের শিশি বের করে সে। ইন্তিহাকে বসিয়ে, ওর কপালের উপরের দিকটায় আলতো হাতে দিয়ে দেয় ঔষধটুকু। ভালোলাগার আবেশে চোখ বুজে আসে মেয়েটার। আচ্ছা, লোকটা কি জাদু জানে? নইলে, সে আশেপাশে থাকলেই এতো সুখ সুখ লাগে কেন? সবকিছুতে এতো ভালোলাগা কাজ করে কেন?লোকটা যতই ঠোঁটকাটা কথা বলুক না কেন, চিরকুটে অনুভবের মেঘ ভাসাক না কেন, চার অক্ষরের ‘ভালোবাসি’ কথাটি বলেনি একবারো। তবে তার প্রতিটা কথায়, কাজে প্রচণ্ড ভালোবাসা খুজে পায় মেয়েটা।

“আইসক্রিম খেয়েছিলে ?”

“না!”

অবাক হয় আবরার। যে মেয়ে কিনা আইসক্রিম দেখলে লোভ সামলাতে পারে না, আবরারের সাথে রাগ করেও জিততে পারে না আইসক্রিম দেখলে, সে কিনা ফ্রিজভর্তি আইসক্রিম থাকা সত্ত্বেও খাবে না, এটাও বিশ্বাস করতে হবে! সন্দেহের চোখে পুনরায় প্রশ্ন করে সে।

“সত্যিই খাওনি?” 

“না।”

“কেন? জ্বর দেখে?”

“না!”

“তাহলে?”

চুপ থাকে ইন্তিহা। বলতে পারে না, সুদের টাকায় কেনা খাবার কিভাবে খাবো আমি? এই খাবার তো হারাম টাকায় কেনা! আপনিও তো খাবেন না। ওর চুপ থাকা দেখে আর প্রশ্ন করে না আবরার। হয়তো বুঝতে পেরেছে, নয়তো না।তবু মেয়েটাকে মাথাব্যথার মধ্যে বারবার প্রশ্ন করে বিরক্ত করতে চায় না সে।

রাতে জোর করে কয়েক লোকমা খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দেয় ওকে। এমনিতেও তো খেতে চায় না তেমন, এখন তো আরো অসুস্থতার বাহানা পেয়েছে। মাঝে মাঝে দুঃখে কপাল চাপড়ায় ছেলেটা।যেখানে বউ তার আদর যত্ন করে খাইয়ে দিবে, সেখানে কিনা ছোট্ট বাচ্চার মতো জোর করে করে খাওয়াতে হয় বউকেই। এতো দুঃখ কই রাখবে ছেলেটা! যদিও ওর অমন দুঃখ আসল নাকি অভিনয়, তা বলা যায় না!
বারান্দায় ইন্তিহাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে এগিয়ে যায় সেদিকে। এই বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর একটা জিনিস হচ্ছে বারান্দাগুলো। অনেক বড় বড় আর প্রতিটা বারান্দায় ফুলের টব রাখা।গত সপ্তায় এই রুমের বারান্দার জন্য  একটা দোলনা এনেছে আবরার। দুইজন বসা যায়।

“কি হয়েছে? মন খারাপ? এতো চুপচাপ যে?”

আবরারের উপস্থিতি টের পেয়ে ওর জন্য জায়গা করে দেয় পাশে।নিঃশব্দে বসে সেথায় ছেলেটা। মাথা ঘুরিয়ে তাকায় ইন্তিহা। চোখাচোখি হলেও চোখ নামায় না এখন আর।

“আপনি এতো ভালো কেন?”

এমন প্রশ্ন একদমই অপ্রত্যাশিত ছিল ছেলেটার কাছে। কয়েক সেকেন্ড লাগে ব্যাপারটা বোধগম্য হতে।আর বুঝতে পেরেই দুষ্টুমির হাসি ফুটে উঠে চোখেমুখে।

“আমি ভালো ?”

“ অনেক!”

“ আচ্ছা?”

আবরারের ভাবসাব বুঝতে না পেরে, মাথা নেড়ে সায় জানায় বোকা মেয়েটা। ধূর্ত লোকটার গতিবিধি বুঝে উঠার আগেই করে ফেলে অপ্রত্যাশিত প্রশ্নটা,

“প্রেমে পড়েছো বুঝি?”
________________________________________

(চলবে)

তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-১১  
- তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/267123/</link>
				<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 17:47:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“কে কি বলেছে তোমায়?” </p>
<p>আবরারকে অমন রেগে থাকতে দেখে ঘাবড়ে যায় ইন্তিহা। লোকটা কি জানে কিছু? ওর থেকে কোন প্রতিউত্তর না পেয়ে আবরার রান্নাঘরের দিকে যেতে নিলে তড়িঘড়ি গিয়ে থামায় লোকটাকে। অযথা বিষয়টা বাড়তে দেয়া যায় না।</p>
<p>“আপনি রুমে আসুন, কিছু হয়নি।”</p>
<p>“কিছু না হলে কান্না কেন করছিলে তুমি? আমি বেঁচে থাকতে এই বাড়িতে কেউ তোমাকে অসম্মা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-267123"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/267123/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bfec7cd90303426c2cd395821432e7e7</guid>
				<title>“ স্বামীর জন্য খুব চিন্তা হচ্ছিলো বুঝি বউ?” 

গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বরে চমকে পেছনে ফিরে ইন্তিহা। আবরারকে এভাবে আশা করেনি একদমই সে। এই লোকটা এমন কেন? হুটহাট এমনভাবে এসে দাঁড়াবে না, কবে যেন ভয় পেয়েই পটল তুলে মেয়েটা।খানিক রাগ লাগছে বৈ কি। তবে ওর কিছু বলার আগেই পুনরায় শব্দের ঝংকার তুলে অধৈর্য পুরুষটি। 

“ এভাবেই দাড় করিয়ে রাখবে নাকি সারারাত? স্বামী তোমার ভিজে এসেছে বৃষ্টির ঝাপটায়, কোথায় তোয়ালে এনে মাথা মুছে দিবে, কি কি সেবা করা দরকার সেসব করবে, তা না করে আরো চেয়ে চেয়ে দেখছো? আসলে আমার প্রতি একটুখানি দয়া মায়াও নেই তোমার। স্বামী সেবা করে যে…”

“ অভিনয়টা কি আপনি একটু কম করে করতে পারেন না? মানে সবকিছুতেই অমন নাটক না করলে কি হয় না?”

ইন্তিহার কথায় অবাক নেত্রে চায় ছেলেটা। বউ তার দুঃখও বুঝে না। ওর কষ্টের কথাগুলো কিনা নাটক মনে হচ্ছে তার কাছে? নাহ, বউটাও শেষ পর্যন্ত পর হয়ে গেলো! দুঃখের আর সীমা রইলো না ছেলেটার।মুখটাকে অসম্ভব গোবেচারির মতো করে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো হয়তো সে, তবে ইন্তিহার সতর্কবানীতে চুপসে যায় পুরোপুরি। 

“ এই এই একদম কোনো নাটক করবেন না। আমি তোয়ালে, জামাকাপড় বের করে দিচ্ছি, দ্রুত আসুন।যতোসব অভিনয়!” 

মুখে মেকি রাগ দেখিয়ে মুখ ঝামটা দিয়ে রুমে চলে গেলেও মনে মনে হাসি আটকে রাখতে পারে না মেয়েটা। এই কয়দিনে এটুকু অন্তত বুঝে গেছে সে, লোকটা যেমন পাজি, তেমন অভিনয়ে সেরা। কথায় কথায় কৌতুক করতে জুড়ি মেলা ভার যেন তার। চাইলেও মুচকি হাসি আটকাতে পারে না সে। কোনরকমে মুখটাকে স্বাভাবিক করে জামাকাপড় এগিয়ে দেয় লোকটাকে। 

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকে বাইরে। সাথে বাড়ির পেছন দিকের বাগানে গাছ গুলো বাতাসে যেন শো শো শব্দ তুলে অনবরত। কানে তালা লেগে যাওয়ার মতো শব্দ। বিদ্যুৎ চলে গেছে বহু আগেই। ঘরে মোমবাতির আলোয় মৃদু মায়াবী পরিবেশ। ইতিমধ্যে নিচের ঘরে মায়ের কাছে গেছে কাঁথা আনতে গেছে ইন্তিহা। আবরার বসে বসে বই পড়ছে। কাল বিকেলে লাইব্রেরী থেকে ইন্তিহার আনা বইগুলোই এখন জায়গা করে নিয়েছে বিছানার উপর।
এরই মধ্যে ইন্তিহা চলে আসে কাঁথা নিয়ে। আবরারকে বই পড়ায় ব্যাস্ত দেখে ও আর কিছু বলে না । সাইড ব্যাগটা নিয়ে চলে যায় টেবিলের কাছটায়। ওবাড়িতে যাওয়ার পর আবরারের থেকে পাওয়া চিঠিটা যত্ন করে রেখে দিয়েছিল ব্যাগের মধ্যে। সেটা বের করে নীল নোটবুকটায় রেখে দেয়, যা সে লাইব্রেরী বারান্দায় পেয়েছিলো সেদিন। নোটবুকটা পুরোটা একেবারেই ফাঁকা। লিখা হয়নি কিছুই। শুধু এই পর্যন্ত আবরারের থেকে পাওয়া সব চিরকুটগুলো ঠাই পেয়েছে সেথায়। কাল তো ওবাড়িতে চলে যেতে হবে, যা যা প্রয়োজনীয় আছে, নিয়ে নেয়া দরকার। লাগেজ খুলে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়ে নিতে থাকলো সে। বই পড়ার বাহানায় কেউ একজন যে তার প্রতিটা কাজ খুব আগ্রহের সাথে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কি বিন্দুমাত্র ভাবার সময় আছে তার?  

পরদিন সকালে বেরুনোর কথা থাকলেও ইন্তিহার আবদারের কাছে হার মানে আবরার। রাতের ট্রেন ভ্রমনের খুব শখ কিনা মেয়েটার। আসার সময় তো সেভাবে বলার মতো পরিস্থিতি ছিলো না, এখন দিনে দিনে ওদের মধ্যে সম্পর্কটা স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা। মাগরিবের নামাজ পড়েই বেড়িয়ে পড়ে ওরা। কাল রাতভর বৃষ্টি থাকলেও আজ আকাশ সম্পূর্ণ পরিস্কার। চিকন একফালি চাঁদের সাথে জোনাকির মতো কালো আকাশ ভরা তারার হাট।ট্রেনের জানালা পুরোপুরি খুললে প্রচণ্ড শব্দের জন্য কানে তালা লেগে যায়।তবে এমন হৃদয় জুড়ানো বাতাস তো উপেক্ষা করা যায় না। জানালার কিছু অংশ খুলে রাখা হয়েছে। বরাবরের মতোই ইন্তিহা বসেছে জানালার পাশে, আর আবরার ওর পাশে! 

“কিছু খাবে?”

আবরারের কথায় ধ্যান ভাঙ্গে ইন্তিহার। বাইরের প্রকৃতি দেখতে ব্যাস্ত ছিলো সে। 

“বাসা থেকে খেয়ে এলাম তো। এখন আবার কি খাবো?”

“তো? প্রায় ২ ঘণ্টা হয়ে গেছে, সেই খাবার আছে নাকি এখনো? তাছাড়া যেটুকু খেয়েছো তুমি, পাখির খাবার।” 

তো আপনার মতো রাক্ষস নাকি আমি? কথাটা মনে মনে আওড়ালেও মুখে বলতে পারে না সে। সবসময় ওর খাওয়া নিয়েই পড়ে থাকে লোকটা।ইচ্ছে না হলে খাবে কিভাবে মেয়েটা? জোর করে খেয়ে পেট খারাপ করবে নাকি? ওকে অমন বিড়বিড় করতে দেখে ঠোট চেপে হাসে ছেলেটা, যা স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। 

“ বাহ, মনে মনে আমাকে বকা দেয়াও শিখে গেছো দেখছি। ভালোই উন্নতি হচ্ছে তোমার।”

আবরারের কথায় হতবাক হয়ে যায় ইন্তিহা। পাল্টা কিছু বলার মতো খুজে পায় না সে।ওর অমন অবাক চাহনি দেখে জোরপূর্বক হাসি আটকে নিচু গলায় বলে উঠে ছেলেটা,

‘’আমাকে কি আজকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে? না মানে, এমনভাবে তাকালে লজ্জা পাই তো!”

বলেই মুখের কাছে হাত নিয়ে লজ্জার ভান ধরে লোকটা। এদিকে ইন্তিহা এবার যেন অবাকের চরমে পৌছায়।লোকটা এমন ঠোঁটকাটা কবে হলো? নাকি আগে থেকেই এমন সে? ভেবে পায় না মেয়েটা। আবরার হয়তো আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো, তবে ইন্তিহার কথায় থেমে যায় এবার।

“পানি খাবো!”

হাসি আর আটকে রাখতে পারে না ছেলেটা।ওকে অমন মুচকি মুচকি হাসতে দেখে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে লজ্জায় লাল হয় সে।নিকাবের আড়ালে তা চোখে পড়ে না ছেলেটার। পানির বোতলের মুখ খুলে ওর দিকে এগিয়ে দেয় সেটা। 

“আর খাবে?”

“না।”

“ঝালমুড়ি খাবে?”
“না।”

“টক কিছু?”

“আমি খাবো না কিছুই।চুপ থাকুন না আপনি।”

এ পর্যায়ে এসে চুপ করে যায় আবরার। কিছুক্ষন কোনো কথা বলে না। ইন্তিহা ওর এমন চুপ হয়ে যাওয়া দেখে অপরাধবোধে ভুগে খানিক। ও তো সেভাবে বলতে চায় নি, লোকটা কি ওর কথায় মন খারাপ করলো? নিজে থেকে কি বলে শুরু করবে বুঝতে পারে না সে।তবুও একটু ভেবে বলে,

“আপনি কি রাগ করলেন?”

“রাগ করবো কেন আমি? আশ্চর্য!”

ওর কথার ধরণে খারাপ লাগে মেয়েটার। কি এমন বললো ও, যে এমন করতে হবে? হুট করে কান্না পায় খুব তার।এই কয়দিনে অচেনা লোকটাকে কতোটা আপন ভেবে ফেললে, তার সামান্য আচরনে চোখে পানি চলে আসে! মাথা নিচু করে কান্না আটকায় সে।

“কে জানি কালকে ‘আমার স্বামী’ বলে বলে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেছিলো! যদিও আমি খুব লজ্জাশীল পুরুষ,লোকের সামনে বউ বউ বলি না।শুধু তার কারনে মানুষের সামনে মান সম্মান আমার ধুলোয় মিশে গেলো! কি সর্বনাশটাই না হলো আমার!” 

তড়াক করে মাথা তুলে ইন্তিহা। বোকার মতো চেয়ে থাকে পাশে বসা পাজি লোকটার দিকে। ও কিনা এতক্ষন মনে মনে দুঃখ পাচ্ছিল এই লোকটার জন্য? যে কথায় কথায় অভিনয়ে ওস্তাদ! রাগে শরীর জ্বলে উঠে ওর। প্রতিজ্ঞা করে,এখন থেকে এই লোকটা যত প্রশ্নই করুক না কেন, কোন কথাই বলবে না সে। একটা শব্দও না! 
-
-
-

গতকাল সারা রাতের জার্নি শেষে বাসায় ফিরতে প্রায় ভোর হয়ে যায়। দুজনেই খুব ক্লান্ত থাকায় ফজরের নামাজ পড়ে যে ঘুমিয়েছে, উঠতে উঠতে বেলা প্রায় এগারোটা বেজে যায়। ইন্তিহা উঠে তড়িঘড়ি রান্নাঘরের দিকে যায়।যত যাই হোক, নতুন বউ হয়ে এতো বেলা করে ঘুমানোটা একদমই সোভা পায় না। রান্নাঘরে ওর বড় দুই জা আর শাশুড়ি ছিল। ও গিয়ে দাঁড়ানো মাত্রই বড় জা, রাবেয়ার কথায় স্থির হয়ে যায়।

“ আরে আরে তোমার আবার কষ্ট করে আসার কি দরকার ছিলো? আরেকটু ঘুমিয়ে নাও!এগারোটা বাজে মাত্র,সকাল হয়েছে নাকি এখনো?”

উনার ঠেশ মারা কথায় বেজায় বিরক্ত হন আসমা বেগম। তরকারিতে খানিক লবন ছিটিয়ে এসে দাঁড়ান রাবেয়ার সামনে। 

“ কাল সারারাত জার্নি করে এসেছে ছেলেমেয়ে দুটো। এখনো খায়ও নি কিছু। তুমি কি তোমার ঠেশ মারা কথা থামাবে না?আমি যেন ইন্তিহাকে আর কিছু বলতে না শুনি!’
তারপর ইন্তিহার দিকে ফিরে বললেন,

“ ওর কথায় মন খারাপ করো না। ও একটু এমনই, এভাবেই কথা বলে। তুমি যাও, গোসল করে নাও। আর আবরারকে নিয়ে খাবার খেতে এসো।যাও।”

শাশুড়ির কথায় সায় জানিয়ে মাথা নিচু করে চুপচাপ রান্নাঘর ত্যাগ করে ইন্তিহা। বারবার ঢোক গিলে কান্না আটকানোর চেষ্টা করতে থাকে সে। এমন কেন হচ্ছে তার? মানুষের সামান্য কথায়ই এমন হলে কিকরে হবে? এসব তো শুনতেই হয় খানিক, সবারই শুনতে হয়। এভাবে কান্না করলে হবে? আলগোছে ওড়নার কোনায় চোখের পানিটুকু মুছে ফেলে সে। তবে চারপাশে তাকিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া মেয়েটা হয়তো খেয়াল করে নি, দূর থেকে বাজপাখির নজরে তাকিয়ে থাকা পুরুষটির জ্বলন্ত চোখদুটো!    

রুমের দরজায় আসতেই মুখোমুখি হয় আবরারের।

“কে কি বলেছে তোমায়?” 

(চলবে) 


তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-১০ 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266939/</link>
				<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 06:50:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ স্বামীর জন্য খুব চিন্তা হচ্ছিলো বুঝি বউ?” </p>
<p>গম্ভীর পুরুষালী কণ্ঠস্বরে চমকে পেছনে ফিরে ইন্তিহা। আবরারকে এভাবে আশা করেনি একদমই সে। এই লোকটা এমন কেন? হুটহাট এমনভাবে এসে দাঁড়াবে না, কবে যেন ভয় পেয়েই পটল তুলে মেয়েটা।খানিক রাগ লাগছে বৈ কি। তবে ওর কিছু বলার আগেই পুনরায় শব্দের ঝংকার তুলে অধৈর্য পুরুষটি। </p>
<p>“ এভাবেই দাড় করিয়ে রাখবে নাকি সারারাত? স্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266939"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266939/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6dc950317ecfeb6a1f1fb785847c000e</guid>
				<title>“এই চা কে বানিয়েছে?”

আবরারের মুখভঙ্গী দেখে ভয় পেয়ে যায় মেয়েটা। চা তো ঠিকঠাকই বানালো, খারাপ হওয়ার কথা না। 

“খুব বেশি খারাপ হয়েছে নাকি?” 

“নিজেই খেয়ে দেখো! “

যদিও ও চা তেমন পছন্দ করে না, তবুও আবরারের কথা শুনে কাপ তুলে নেয়। 

“ভালোই তো হয়েছে, চিনি, লবন সবকিছু ঠিকঠাক।”

আবরার সাথে সাথে চায়ের কাপটা তুলে। ওর দিকে তাকিয়ে চুমুক দেয় কাপে। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ইন্তিহা। এটা কি হলো? একটু আগে না বললো মজা হয়নি? এখন আবার কি সুন্দর করে খেয়ে যাচ্ছে!
পুরোটা শেষ করে ট্রেতে কাপ রাখতে গিয়েও থেমে যায় ছেলেটা। আড়চোখে ইন্তিহার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট এলিয়ে বাঁকা হাসে।যার মানে বুঝতে পারে না ভাবুক মেয়েটা। 
-
-
-

“কিরে, কেমন চলছে জামাই আদর? সব ঠিকঠাক?”

সিঁড়ির কাছে আসতেই সামিয়ার প্রশ্নে দাড়িয়ে যায় ইন্তিহা। হাতে ট্রে। আর এটা দেখেই মেয়েটাকে খোঁচাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো সে।আশপাশ ভালো করে দেখে নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন ছুড়ল সে,

“দুলাভাই কেমন রে? মানে তোরে ভালো টালো বাসে তো?”

“আপু, তুমিও না? এসব কেমন প্রশ্ন? ভালো লাগে না আমার, সরো তো।”

এবার খুব রেগে যায় সে। তাই বলে সবাই মিলে পেয়েছেটা কি ওকে? সামিয়াকে সরিয়ে দ্রুত রান্নাঘরের দিকে যেতে নিলে ওর হাত চেপে ধরে সে। 

“আরে রাগ কেন করছিস? শোন, আমি কিন্তু একটা গোপন কথা জানি। আবরার দুলাভাই তখন লাইব্রেরী থেকে আসার সময় তোকে দেখছিলো দোতলা থেকে।”

শিরশির করে উঠে মেয়েটার সর্বাঙ্গ। হৃদস্পন্দন হয় অনিয়ন্ত্রিত। মেকি রাগ দেখালেও আশেপাশে চোখ ঘুরিয়ে নিচু গলায় বলে,

“ কি বলো? আসলেই?”

এবার শয়তানি হাসি ফুটে উঠে তার চোখেমুখে।এইতো, এবার সঠিক রাস্তায় আসছে তবে।

“শুধু কি তাই? আবার দেখলাম মুচকি মুচকি হাসছিলোও।আমাকে খেয়াল করে নি প্রথমে। পরে যখন দেখেছে, সুন্দর করে রুমে ঢুকে গেছে।”

লজ্জায় হাঁসফাঁস করে ইন্তিহা। লোকটা এতো পাজি! ওর মানসম্মান কিছুই তো রাখলো না। এখন তো সামিয়া ওকে কথায় কথায় খোঁচাবে, মজা নিবে। এর মধ্যেই সামিয়া একটু ওদিক ফিরে দাঁড়ায়। ইন্তিহা ওর ভাবভঙ্গি না বুঝতে পেরে পেছনে ফিরতে গেলে দেখে আবরার নামছে সিঁড়ি বেয়ে। সাথে সাথেই চোখ দুটো আপনাআপনি বড় হয়ে যায় তার। লোকটা কি সব কিছু শুনতে পেয়ে গেলো নাকি আবার। ভাবাভাবির ও সুযোগ পেলো না মেয়েটা। ওর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হুট করে ওর দিকে এক ভ্রু উঁচিয়ে চাইলো লোকটা। নিঃশব্দে, একদম নিঃশব্দে মেয়েটার বুকের ধুকপুকানি কয়েক গুন বাড়িয়ে দিয়ে গেলো যেন ! 


পরদিন সকাল সকাল বাড়িতে হাঁক ডাক শুরু হয়ে যায়। নতুন জামাই বলে কথা। রান্নাঘরে যেন হুলস্থুল কাণ্ড বেঁধে গেছে। বিশেষ করে ইন্তিহার মায়ের অবস্থা বেগতিক। কোথায় আস্ত মুরগিটা এখনো ভাজা হয়নি কেন, পোলাওয়ের চাল ভালো করে ধোঁয়া হয়নি, গরুর মাংসটা ভালো করে কষানো হয়নি, এমনই সব ব্যাপারে তদারকি করছেন তিনি।ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছেন পাশের বাড়ির তিন মহিলা। একজন বসে বসে পান চিবুচ্ছেন আর পাশে থাকা পিকদানিতে পানের রস ফেলছেন একটু পরপর। বাকি দুজন কথা বলছেন নিজেদের মতো। পান খাওয়া মহিলাটি একটু পরপর তাদের সাথে তাল মেলাচ্ছেন এক আধটু। ইন্তিহার মা, আমেনা বেগম তাদের জন্য ট্রেতে করে কিছু ফল, শরবত নিয়ে এলেন। পানের বাটা দিয়ে গেছেন আরো আগেই। বাইরের উঠোন থেকে ড্রয়িংরুমে আসছিলো ইন্তিহা। মায়ের ডাকে এসে বসলো তাদের পাশে।সৌজন্যতা সুলভ সালাম দিলো নম্রস্বরে।

“তা ভালো আছিস তো? ওবাড়ির লোকেরা ভালো ব্যাবহার করে তো তোর সাথে?”

তাদের কথায় মাথা নেড়ে হ্যাঁ বোঝালেও মনে মনে ভীষণ বিরক্ত হয় সে। ইচ্ছে ছিলো না কোন তাদের সামনে বসার। তবে মায়ের কথায় তো না করতেও পারে না।বিরস মুখেও বসে রইলো চুপচাপ।এর মধ্যে আবার পান খাওয়া মহিলাটি শব্দ করে পানের পিক ফেলে বলে উঠলেন,

“প্রথম প্রথম সবাই এমন ভালো দেখায়। সময় যেতে থাকলে পরে বুঝা যায়,কে কেমন। শ্বশুরবাড়ির লোক মানেই হলো মুখে মধু অন্তরে বিষ!”

ক্রোধ চিড়বিড়িয়ে উঠলেও মায়ের ইশারায় চুপ থাকে মেয়েটা। শত হোক, বড়দের মুখে মুখে তর্ক করাটা শিক্ষা দেননি তিনি সন্তানদের। 

“যাক, ভালোই হয়েছে আপনার মেয়ের শেষমেষ বিয়েটা হলো। ওর গায়ের রঙ তো তেমন ফর্সাও না, বয়সও খারাপ হয়নি । সে হিসেবে জামাই পেয়েছেন মনের মতো একটা। গায়ে গতরে নায়ক যেমন! “

মহিলার কথায় মাথা নিচু করে নিঃশ্বাস আটকে রাখে ইন্তিহা। এমন না যে গায়ের রঙ ওর কালো বা চাপা।  উজ্জ্বল শ্যামলা বলে এটাকে। গ্রাম হওয়ায় এই কথা অনেক শুনেছে সে, এখন আর গায়ে লাগে না সেসব।তবে আবরারের সাথে এভাবে তুলনা করায় নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে খুব। আসলেই কি ও যোগ্য না লোকটার?ইতিমধ্যে আরেকজন মহিলা প্রতিবাদ করে উঠে উনার কথায়।

“পোলারও তো বয়স বেশি বেশি লাগে। তিরিশের কম হইবো না।আবার কথাবার্তাও সুবিধার না। আমারে দেখলো দরজার সামনে। সালাম কালাম নাই, সোজা বাইর হইয়া গেলো।” 

এবার আর চুপ থাকতে পারে না ইন্তিহা। ছোট থেকে সবার কথায় চুপ করে থাকার শিক্ষা পেয়ে বড় হওয়া মেয়েটা যেন আজ হুট করেই ভুলে গেলো সেসব।মায়ের কঠোর দৃষ্টি উপেক্ষা করে কথা বলে আজ সে।

“ আমার স্বামীর কোন কিছু আপনাদের পছন্দ না হলেও চলবে। সংসার তার সাথে আমি করবো, আপনারা না!”

কথা শেষ করে আর এক মুহূর্ত বসে থাকে না সে। ধুপধাপ পা ফেলে উঠে যায় সিঁড়ি বেয়ে। এদিকে ইন্তিহার মা তাদের কে কি বলে পরিস্থিতি সামাল দিবেন বুঝতে পারেন না। মেয়ে তার এমন কিছু বলবে, চিন্তাও করেন নি তিনি। তবে উনার সেসব চিন্তার অবসান করতে আগমন ঘটে হাসিবের। সাথে মেয়ে জামাইও দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে। 

“ আরো কিছু শোনার ইচ্ছা আছে নাকি চাচি? থাকলে বলেন, নির্দ্বিধায় বলেন আমাকে।আপনার প্রশ্নসমূহের উত্তর দিতে উতলা হয়ে আছে মনপ্রান আমার।”

হাসিবের অমন রসাত্মক বাক্যে চোখ ফেরান তারা। তড়িঘড়ি উঠে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। অজ্ঞাত কোন কারনে হাসিবকে যমের মতো ভয় পান তিন মহিলা। তাদের এই বাড়িতে আসা যাওয়াও পছন্দ করে না সে। সামনে পড়লেও হাসিবকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন উনারা। এই ব্যাপারে আমেনা বেগম অবশ্য ভীষণ অসন্তুষ্ট। মেয়েটাকে চুপ থাকা শেখাতে পারলেও ছেলেটাকে সামলাতে পারেন না কিছুতেই।অবশ্য চেষ্টাও করেন না সেভাবে। ছেলে মানুষ তো, অতিরিক্ত শাসনে আবার বখে যায় যদি! 
এদিকে তাদের মা ছেলের মানসিক দ্বন্দের কিছুই খেয়ালে নাই আবরারের। সে তো বেস্ত সিঁড়ির পানে চেয়ে। যেখান দিয়ে খানিক আগেই রাগে ধুপাধুপ পা ফেলে চলে গেছে বউ তার।
-
-
-
“তখন তোর চাচীদের সামনে এমন ব্যাবহার কেন করলি তুই? মুখে মুখে তর্ক করা শিখে গেছিস খুব? দুইদিন হয়নি বিয়ে দিয়েছি, অমনি মুখে খই ফুটে গেছে যেন। এই শিক্ষা দিয়ে বড় করেছি তোকে আমি?”

মায়ের চাপা রাগ দেখে শুষ্ক ঢোক গিলে ইন্তিহা। সকালের পর থেকে রুম থেকে আর বের হয়নি সে। আবরার তো ঘুরাঘুরির মধ্যেই আছে। সেই সকালের পর আর আসেনি উপরে। এখন মায়ের সামনে পড়ে কথা আটকে আসে তার।

“কি হলো? কথা বলছিস না যে? জামাইয়ের সামনেও তুই ছোট করলি আজ আমাকে। সে তো ভাববে মেয়েকে আমি ঝগড়ুটে বানিয়েছি।”

জামাইয়ের সামনে মানে? এ পর্যায়ে এসে ভারী অবাক হয় মেয়েটা। জামাই মানে তো আবরার। উনার কথা আসছে কেন এখানে? উনার সামনে আবার ছোট করলো কখন সে?মনে মনে এমন সব প্রশ্ন বাসা বাধলেও করার সাহস পেলো না এই মুহূর্তে। কোন কথা না বলে চুপ রইলো। আসলে তখন ওই কথা বলার পর হাত পা কাঁপছিল প্রচণ্ড। সামনে সামনে যতই কথা বলুক না কেন, সবসময় চুপ থেকে সবকিছু মেনে নেয়া, মানিয়ে নেয়া মেয়েটা হুট করে একদিন সাধারন একটা কথা বললেও অসাধারণ হয়ে যায় সেটা। 

“ তারা উনার সম্পর্কে ওসব বলেছে, তাই!”

কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফেলে ইন্তিহা। আমেনা বেগম তেতে উঠেন সাথে সাথে।

“তো? তোর উনার থেকে তো তোর সম্পর্কে আরো বেশি বলেছে।সেটা নিয়ে তো বলিস নি কিছু? উনার ওজুহাত দিচ্ছিস এখন। তোর উনার সম্পর্কে কিছু বলেছে দেখে মুখে মুখে তর্ক করতে হবে তোর? এসব বেয়াদবি শিখিয়েছি আমি?” 

মায়ের কথায় এবারেও কিছু বলতে পারে না মেয়েটা। আসলেই তো,নিজের জন্য তো প্রতিবাদ করতে পারে নি বিন্দুমাত্র। তবে আজ হুট করে কি হয়ে গেলো ওর, যে আবরারের ব্যাপারে সামান্য কথাটুকু সহ্য করতে পারলো না সে। এতো দরদ কেন লোকটার জন্য? মায়ের বকাবকির মধ্যেও লোকটার কথা মনে পড়তে নাক মুখ কুচকে লজ্জামাখা হাসি ফুটে উঠে মুখে তার। যেন মায়ের বকাবকি তো দূর, ধারে কাছেও নাই কেউ তার। ওর হাসি নজরে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যান আমেনা বেগম। কথা বলার ভাষা হারান যেন। কাকে শাসন করছেন তিনি? মেয়ে তো তার হাসছে একা একা! কপাল চাপড়াবেন নাকি? নাহ, তাও তো কম হয়ে যায়।এমন দিনও দেখতে হলো শেষ পর্যন্ত? শেষ, সব চেষ্টা বৃথা তার। ছেলে মেয়ে দুটোই বিপথে গেলো। এদিকে মায়ের শত আহাজারিও যেন চিন্তারত রমণীকে টলাতে পারছে না একবিন্দু। সে তো মায়ের বকা শুনতে শুনতে ভাবছে , চিন্তা করছে, হারিয়ে যাচ্ছে অন্য দুনিয়ায়।  

-
-
-
রাতের দশটা বেজে আরো আধঘণ্টা পেরিয়ে গেছে প্রায়। বাইরে বাতাস ছেড়েছে কিছুক্ষন আগে। সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর আকাশে গাঢ় করে মেঘ জমেছে। হয়তো আর কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘনীভূত মেঘ গলে ঝুম বৃষ্টি নামবে ধরণীর কোল জুড়ে। বারান্দার ডান কোনে বাগানবিলাসের পাতাগুলোতে বাতাসের ঝাপটায় কম্পন তুলছে অনবরত। আরেকপাশে মাটির টবে সাদা কাঠগোলাপের পাতাগুলো দুলছে বাতাসের তালে তাল মিলিয়ে। চারপাশ খোলামেলা হওয়ায় আর বাতাসের তোপ বেশি থাকায় ফুল কয়েকটা পড়ে আছে বারান্দার মেঝেতে।সেদিকে খেয়াল নেই ইন্তিহার। ও তো ফোন নিয়ে বারবার ভাইকে কল করতে ব্যস্ত। বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা প্রবল, অথচ লোকগুলো বাড়ি ফেরে নি এখনো। চিন্তায় অস্থির মেয়েটা এখনো পাশে অন্য কারো উপস্থিতি খেয়াল করতে পারেনি। চিন্তারত রমণীর অমন অস্থিরতার মাঝে, ওর  বুকের ধুকপুকানি আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়ে আওয়াজ তুলে, গম্ভীর কণ্ঠস্বরে পুরুষটি।   

“ স্বামীর জন্য খুব চিন্তা হচ্ছিলো বুঝি বউ?” 

___________________________________________________

তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-৯
-তিতা ফুল 


( আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্যগুলোই আমাকে লেখার অনুপ্রেরনা দেয়। যদিও তেমন ভালো লিখি না জানি, তবে আপনাদের নিয়মিত পাশে থাকা আমার জন্য অনেক আনন্দের। অনেক ধন্যবাদ সবাইকে। )</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266358/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Aug 2026 14:57:17 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“এই চা কে বানিয়েছে?”</p>
<p>আবরারের মুখভঙ্গী দেখে ভয় পেয়ে যায় মেয়েটা। চা তো ঠিকঠাকই বানালো, খারাপ হওয়ার কথা না। </p>
<p>“খুব বেশি খারাপ হয়েছে নাকি?” </p>
<p>“নিজেই খেয়ে দেখো! “</p>
<p>যদিও ও চা তেমন পছন্দ করে না, তবুও আবরারের কথা শুনে কাপ তুলে নেয়। </p>
<p>“ভালোই তো হয়েছে, চিনি, লবন সবকিছু ঠিকঠাক।”</p>
<p>আবরার সাথে সাথে চায়ের কাপটা তুলে। ওর দিকে তাকিয়ে চুমুক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266358"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266358/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2e87d14e1501906b0a6898b18a0abd34</guid>
				<title>“ তোমার হাতে কি ওটা দেখি তো?” 

পেছন থেকে অমন গম্ভীর কণ্ঠস্বরে কেঁপে উঠে মেয়েটার সর্বাঙ্গ। দ্রুত ওড়নার নিচে লুকিয়ে ফেলে ডায়েরিখানা। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে তৎক্ষণাৎ।মানে, এই লোকটার কি কোন সময়জ্ঞান নেই নাকি, এখনি আসতে হবে, আশ্চর্য! ইন্তিহা পেছনে ফিরে না, যেভাবে ছিল সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে আবরার বুঝে যায়, মেয়েটা নিশ্চয়ই ওর কাছে থেকে কিছু লুকাতে চাইছে। ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি ফুটে উঠে তার। ধীরে ধীরে সামনে আসে ওর। সূক্ষ্ম নজরে বোঝার চেষ্টা করে হয়েছেটা কি। ওড়নার ফাঁকে ডায়েরীর নীল রঙা কিছুটা অংশ বেরিয়ে আছে।তা নজরে আসতেই হাসির রেখা গাঢ় হয় ছেলেটার। 

“চোখ বন্ধ করে রেখে লাভ আছে কোনো? আমি দেখছি তো তোমাকে!”

সাথে সাথেই চোখ খুলে যায় মেয়েটার। নজর লুকাতে চায় প্রাণপণ।পারে না। 

“কিসের ডায়েরি এটা, দেখি?” 

ইন্তিহা সাথে সাথে মাথা নেড়ে পেছনে লুকায় ডায়েরিটা। যেন কোন বাচ্চা মেয়ে ওর শখের খেলনা লুকাচ্ছে দুষ্টু বাচ্চার হাত থেকে! আবরার হাসে শব্দ করে। খুব মিহি সে শব্দ,বাতাসে যেন ঝংকার বাজে তার। ইন্তিহা তাকাতে পারে না।লজ্জায় নতজানু হয় খানিক।মেয়েটার অমন করুন অবস্থা দেখে এবার সরে দাঁড়ায় আবরার।পরে দেখা যাবে আর আসবেই না ওর সামনে।আবরার বারান্দার দিকে যাচ্ছে বুঝতে পেরে সে দ্রুত ডায়েরিটা ড্রয়ারে রেখে দেয়। তালা মেরে চাবিটা নিজের ওড়নার কোনায় বাঁধে। বলা তো যায় না, কখন আবার চাবি পেয়ে ডায়েরি বের করে পড়া শুরু করে দিবে। পরে বলবে, ‘ইন্তিহা, তুমি এতো দুষ্টু? আমাকে নিয়ে কিসব লিখেছো?’ তারপর লজ্জায় পড়ে জান যাবে ওর।নাহ, ভুল করেও এমন ভুল করা যাবে না, একেবারেই না! 

“লুকানো হয়ে গেছে? ভালো জায়গায় লুকিয়েছো তো? দেখো, আমার হাতে পড়ে টরে গেলে তো…”

“আপনি একটা…” 

“ কি আমি?বলো বলো?”

“ যাচ্ছেতাই!”

আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ায় না মেয়েটা। হনহনিয়ে বেরিয়ে যায় রুম থেকে।এদিকে হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ ছেলেটার। মেয়েটাকে লজ্জায় ফেলতে ভালোই লাগে তার। লজ্জায় যখন মাথা নিচু করে মুখ লাল করে ফেলে, ভীষণ উপভোগ্য লাগে তখন।একা একাই হাসে সে। আজকে আর সহজে ওর সামনে আসবে না নিশ্চিত।


লাইব্রেরী বারান্দার ছোট্ট চেয়ারটার হাতলে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে ইন্তিহা। তখন রুম থেকে বেরিয়ে সোজা চলে এসেছে এখানে।বুক ধড়ফড় করছে এখনো। লোকটাকে দেখে তো প্রথমে ভোলাভালাই মনে হয়েছিলো, কে জানতো এর আড়ালে সে এতো বজ্জাত হবে! মুখ কুঁচকে চাপা হাসে মেয়েটা। আশেপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলায়,কেউ দেখে ফেললো না তো আবার! যাকগে, হাসি থামিয়ে লাইব্রেরি তে ঢুকে সে। উদ্দেশ্য, উপন্যাসের বই নিবে একটা। নিজেকে ব্যাস্ত দেখাতে হবে তো লোকটার সামনে। বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবে চুপচাপ, তখন আর কিছু বলতে পারবে না সে। যেই ভাবা সেই কাজ।একটা- দুটো করে পাঁচটা বই পছন্দ হয়। সবগুলো নিয়ে বারান্দার টেবিলের উপর রাখে সে। একে একে বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে থাকে। এর মধ্যেই বাড়ি থেকে খবর আসে বাড়িতে যাওয়ার জন্য। বিরক্ত হয় মেয়েটা। এই লাইব্রেরির সাথে যেন সবার জনম জনমের শত্রুতা। একটুখানি এসে শান্তিমতো বসাও যায় না, অমনি ডাকাডাকি শুরু হয়ে যায়।বিরস মুখে সবকটা বই হাতে নিয়েই সে হাটা ধরলো বাড়ির পথে।ওর রুমের বারান্দা থেকে যে, কেউ একজন সূক্ষ্ম নজরে পরখ করছে প্রতিটা মুখভঙ্গি, সে ব্যাপারে কি বিন্দুমাত্র ধারণা আছে তাঁর? 
-
-
-

“ তুই কি ঠিক হবি না কখনোই? ঘরে জামাই বসে আছে একা একা, আর তুই কিনা ঢেং ঢেং করে ঘুরে বেড়াচ্ছিস? কোথায় তাঁর কি লাগবে না লাগবে, কি খেতে চায়, সেসব জিজ্ঞেস করে, তৈরি করে সামনে দিবি, তা না করে আরও একা একা বসিয়ে রেখেছিস!”

মায়ের কথায় বিরক্ত হয় ইন্তিহা। মনে মনে ভয়ঙ্কর ভেংচি কাটে লোকটাকে। সবার কাছে কতো ভালো সেজে বসে আছে দেখো। অথচ ওরা তো আর যানে না, লোকটা একটা হাড়ে বজ্জাত। নাজেহাল করে ছাড়ে ওকে। একদণ্ড চুপ করে থাকতে পারে না যেন।সারাক্ষন চুপচাপ থেকে হুট করে এমন একটা কথা বলবে, যেন ওর গায়ের রক্ত হিম করতেই মুখ খোলা লোকটার।মুখ গোমড়া করে রান্নাঘরে গিয়ে দেখে সবাই সন্ধ্যার নাস্তার আয়োজন করছে।এর মধ্যে ওর কি কাজ বুঝে আসে না মেয়েটার। তবুও গিয়ে এক কাপ ঘন করে দুধ দিয়ে চা বানিয়ে নেয়। সাথে একটা কাঁচের বাটিতে আগে থেকে তৈরি করা পাকোড়া নেয় কিছু। হাটা ধরে সিঁড়ি বেয়ে। উদ্দেশ্য দোতলার কর্নারের রুমটা।


“কোথায় যাচ্ছো আবার?” 

নাস্তার ট্রেটা টেবিলের উপর রেখে মানে মানে কেটে পড়তে নিচ্ছিলো মেয়েটা। অমনি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে ওকে থামিয়ে দিলো আবরার।নাক ফুলিয়ে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়ে সে।লোকটাকে নিয়ে আর পারা গেলো না।তবে উল্টোদিকে ফিরে থাকায় সে মোহনীয় দৃশ্য নজর কাড়ে না ছেলেটার। 

“ পালানো হচ্ছে নাকি?”
“আশ্চর্য! পালাবো কেন আমি?”
“সেই তো, সেই তো। পালাবে কেন তুমি?আমারই ভাবতে ভুল হয়েছে হয়তো! যাই হোক, চায়ের কাপ একটা যে? স্বামীর সাথে এক কাপে করে চা খেতে চাইছিলে বুঝি? আগে বলবে না?”

এবার আর চুপ থাকতে পারলো না মেয়েটা।বড্ড বাড় বেড়েছে লোকটা। তাই বলে এসব বলবে? 

“ চা খাই না আমি!”

মুখে স্বাভাবিকভাবে বললেও নিচের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুসছে সে।মনে মনে তো কতোশত বার ‘অসভ্য’ উপাধি পেয়ে গেছেই লোকটা। তাতে কি কিছু আসে যায় তার? সে তো দিব্যি মেয়েটাকে জ্বালিয়ে হাসছে মিটিমিটি। 
“ও ও ও ! আমি ভাবলাম তুমি…”

পুরো কথা শেষ করতে পারে না সে। অমনি মৃদু চেঁচিয়ে উঠে বউ তার! 

“ আপনি তারাতারি চা’টা শেষ করুন, ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

হাসি আটকে রাখতে পারে না ছেলেটা। শব্দ করে হেসে ফেলে এবার। প্রথমবার, এই প্রথমবার হাসছে লোকটা এভাবে করে। রাগ করার কথা থাকলেও মুগ্ধ হয় মেয়েটা। আশপাশ ভুলে চেয়ে থাকে সদ্য ফোঁটা কাঠগোলাপের সুরভীর পানে।ওর অমন নির্লিপ্ত চাহনি নজরে পড়তেই যেন আরেকটু সুযোগ পায় ছেলেটা। 

“ছি, বউ! স্বামীর দিকে অমন নজর দিতে লজ্জা করছে না তোমার? পরে তো আমার দাঁত পড়ে যাবে, তোমার নজর লেগে।তখন লোকে বলবে ইন্তিহার জামাইয়ের দাঁত নাই। ভালো হবে বলো?”

আবরারের কথায় লজ্জা ভুলে অবাক নেত্রে চেয়ে থাকে মেয়েটা। বলে কি এই লোক? তাই বলে ওর নজর লেগে দাঁত পড়ে যাবে? ইন্তিহা ভেবেছিলো ও’ই একা পাগল, এখন তো দেখা যাচ্ছে লোকটা ওর থেকে বড় পাগল। 

“কি হলো বউ,কই হারিয়ে গেলে?আমাকে নিয়ে নিশ্চয়ই…”

“ চা কি খাবেন আপনি? নাকি নিয়ে যাবো, কোনটা?”

আবরার বুঝলো পরিস্থিতি এবার খারাপের দিকে যাচ্ছে, আর রাগানো ঠিক হবে না। ও বাধ্য বালকের মতো চায়ের কাপ তুলে নিলো হাতে। তবে চায়ে চুমুক দিতেই পাল্টে গেলো মুখভঙ্গি। হতচকিয়ে উঠলো ইন্তিহা। চা কি খুব বেশি খারাপ হলো?এমন করছে কেন লোকটা! 

(চলবে) 
 
তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-৮
 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265973/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Aug 2026 14:53:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ তোমার হাতে কি ওটা দেখি তো?” </p>
<p>পেছন থেকে অমন গম্ভীর কণ্ঠস্বরে কেঁপে উঠে মেয়েটার সর্বাঙ্গ। দ্রুত ওড়নার নিচে লুকিয়ে ফেলে ডায়েরিখানা। চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে তৎক্ষণাৎ।মানে, এই লোকটার কি কোন সময়জ্ঞান নেই নাকি, এখনি আসতে হবে, আশ্চর্য! ইন্তিহা পেছনে ফিরে না, যেভাবে ছিল সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। এদিকে আবরার বুঝে যায়, মেয়েটা নিশ্চয়ই ওর কাছে থেকে কিছু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265973"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265973/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">70279f22ad68c3b9a40c4e9566b41548</guid>
				<title>তিতা ফুল and Ashik Mokami are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265736/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 18:15:44 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7fe23c0b1cfe66f5ec0c3dae45cf76b1</guid>
				<title>তিতা ফুল and আনিস কবির are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265730/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 17:16:57 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7ff2628c9d3b797f0a5fe760b09c4a1b</guid>
				<title>তিতা ফুল and শাহ্ আলম আল মুজাহিদ are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265689/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 15:14:36 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2b4fa2e927f8bf35c10bd4c9b2d62be7</guid>
				<title>“ পালানো হচ্ছে নাকি?”
“আশ্চর্য! পালাবো কেন আমি?”
“সেই তো, সেই তো। পালাবে কেন তুমি?আমারই ভাবতে ভুল হয়েছে হয়তো! যাই হোক, চায়ের কাপ একটা যে? স্বামীর সাথে এক কাপে করে চা খেতে চাইছিলে বুঝি? আগে বলবে না?”

এবার আর চুপ থাকতে পারলো না মেয়েটা।বড্ড বাড় বেড়েছে লোকটা। তাই বলে এসব বলবে? 

“ চা খাই না আমি!”

মুখে স্বাভাবিকভাবে বললেও নিচের দিকে তাকিয়ে রাগে ফুসছে সে।মনে মনে তো কতোশত বার ‘অসভ্য’ উপাধি পেয়ে গেছেই লোকটা। তাতে কি কিছু আসে যায় তার? সে তো দিব্যি মেয়েটাকে জ্বালিয়ে হাসছে মিটিমিটি। 
“ও ও ও ! আমি ভাবলাম তুমি…”

পুরো কথা শেষ করতে পারে না সে। অমনি মৃদু চেঁচিয়ে উঠে বউ তার! 

“ আপনি তারাতারি চা’টা শেষ করুন, ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।”

হাসি আটকে রাখতে পারে না ছেলেটা। শব্দ করে হেসে ফেলে এবার।





তোমার আকাশ আমার মেঘ
-তিতা ফুল 
 
আপকামিং পর্ব-৮</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265688/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 15:12:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ পালানো হচ্ছে নাকি?”<br />
“আশ্চর্য! পালাবো কেন আমি?”<br />
“সেই তো, সেই তো। পালাবে কেন তুমি?আমারই ভাবতে ভুল হয়েছে হয়তো! যাই হোক, চায়ের কাপ একটা যে? স্বামীর সাথে এক কাপে করে চা খেতে চাইছিলে বুঝি? আগে বলবে না?”</p>
<p>এবার আর চুপ থাকতে পারলো না মেয়েটা।বড্ড বাড় বেড়েছে লোকটা। তাই বলে এসব বলবে? </p>
<p>“ চা খাই না আমি!”</p>
<p>মুখে স্বাভাবিকভাবে বললেও নিচের দিকে তাকিয়ে রা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265688"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265688/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4fde35526a227f0b8ef94da7866a33ce</guid>
				<title>তিতা ফুল and শাহাদাতুর রহমান সোহেল are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265600/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 09:22:32 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c5c9c37b315c5dbf8b765cf39c1c876f</guid>
				<title>তা ম্যাডাম! অবশেষে আসলেন? আমি তো ভাবলাম আপনি আজকে রান্নাঘরেই পুরো রাত পার করে দিবেন।”

দরজার সামনে বুকে দুহাত গুজে দাড়িয়ে আছে আবরার। তার সামনে মাথা নিচু করে লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে ইন্তিহা। কেন যে এতো দেরি করতে গেলো তখন। এখন বোঝো ঠেলা! কিছুক্ষন ধরে আবরারের থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ইন্তিহা হালকা চোখ তুলে তাকাতেই আবরার এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো ওর দিকে। ইন্তিহা এবার আর না পেরে মুখে ওড়না চেপে মুখ লুকালো।মানে কি এসবের? লোকটা তো ভারী বজ্জাত! ইচ্ছা করে জ্বালাতন করছে দেখো। আবরার আর ঘাটালো না মেয়েটাকে। দরজার সামনে থেকে খানিকটা সরে গিয়ে জায়গা করে দিলো ওকে। ইন্তিহা চোখমুখ খিঁচে রুমে ঢুকে গেলো তৎক্ষণাৎ। আর কোনদিকে তাকানোর ফুরসতই নেই যেন তার। ওকে অমন কাঁথা মুড়ি দিতে দেখে আর চুপ থাকতে পারলো না আবরার।

“এই এই দম আটকে যাবে তো। কি করছোটা কি?” 

এদিকে ইন্তিহা যেন পণ করে রেখেছে আজকে যাই হয়ে যাক না কেন, কোনো কথাই সে বলবে না। আর না তো মুখ দেখাবে অসভ্য লোকটাকে। যেই ভাবা সেই কাজ। একদম মরার মতো পড়ে রইলো ও। বিন্দুমাত্র নড়চড় নাই।এদিকে আবরার ওর কাণ্ড দেখে হাসবে নাকি রাগ করবে বুঝতে পারছে না।ও নিজেকে সংযত রাখলো।এই রাত বিরেতে উচ্চস্বরে হেসে কি নিজের মান ইজ্জত খোয়াবে নাকি। প্রায় আধঘণ্টা ধরে ইন্তিহার কোনো সাড়াশব্দ নেই। তবে আবরার ঠিকই বুঝতে পারছে ঘুমায় নি মেয়েটা। ও একটু ফিসফিসিয়ে বললো, 

“ নিঃশ্বাস নিও কিন্তু। মরে টরে গেলে পরে অকালে বিধবা হয়ে যাবো আমি! “

বলেই মুচকি মুচকি হাসতে থাকে। এদিকে ইন্তিহা কাঁথাটা আরো বেশি করে টেনে নেয়। যা দেখে হাসির মাত্রা আরও গাঢ় হয় ছেলেটার।    



পরদিন সকাল সকাল ট্রেনে উঠে যায় ওরা। ইন্তিহাদের বাড়িতে যেতে প্রায় ৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। চাইলে মাইক্রো ভাড়া করে যেতে পারতো, তবে ইন্তিহার আবার গাড়িতে মোশন সিকনেস এর সমস্যা হয়। আসার সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ও। তাই যাওয়ার সময় আবরার আর রিস্ক নিতে চায় নি। ট্রেন এর টিকিট কেটে নিয়েছে। যদিও এতো দ্রুত পাওয়া যায় না, বেশ কাঠখড় পোহাতে হয়েছে। তাইতো লোকাল বগীতে পড়েছে সিট। ইন্তিহা উশখুশ করছে খুব।জিবনে প্রথমবার ট্রেনে উঠেছে কিনা! আবরার আশ্বাস দিচ্ছে ওকে। ট্রেনে একদমই সমস্যা হবে না বলে বোঝাচ্ছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ট্রেন ছেড়ে দেয়। নিজের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ইন্তিহা। কতো আবেগের, কতো স্মৃতির সে বাড়ি। শৈশব থেকে এই পর্যন্ত কতোশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বাড়িতে, লাইব্রেরি বারান্দায়। হুট করে একটা খুব প্রয়োজনীয় কথা মনে পড়ে গেলো ইন্তিহার। সেই নিল নোটবুকটার কথা। এতোসব কিছুর মধ্যে তো প্রায় ভুলেই বসেছলো সেসব। ভুলবে না’ই বা কেন? যার জন্য এতো আয়োজন সেই মানুষটাই যদি কাছাকাছি থাকে, মনে থাকে নাকি এতোকিছুর কথা?নিকাবের আড়ালেই একটুকরো হাসি ফুটে উঠলো মেয়েটার মুখে। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস টেনে নিলো। সবকিছু এতো সুন্দর কেন? পৃথিবী এতো রঙ্গিন কেন? জীবন এতো পূর্ণতার কেন? এতোগুলো বছরের বিরহ, বিষাদ, সবকিছুই যেন আজ তুচ্ছ মনে হতে লাগলো। পাশে থাকা  শুভ্র পুরুষটির উপস্থিতিই যেন সুখ সুখ অনুভূতি দিতে লাগলো। পাশ ফিরে তাকালো মেয়েটা। বহু আকাঙ্ক্ষিত পুরুষটি ব্যাস্ত আছে বইয়ের পাতায়। তবে প্রেয়সীর তাকানো  নজর এড়ায় নি তার। তড়িঘড়ি ব্যাস্ত হয়ে পড়লো মানুষটা।

“কি হয়েছে? খারাপ লাগছে? মাথা ঘুরাচ্ছে?”

ভারী অবাক হলো ইন্তিহা। এতো চিন্তিত হওয়ার কি হলো। তাই বলে কি একটু তাকানোও যাবে না নাকি। ও মাথা নেড়ে জানায় ঠিক আছে, কিছু হয়নি।তবুও নিশ্চিন্ত হতে পারে না ছেলেটা। 

“ খাবে কিছু? বাসা থেকে তো তেমন কিছুই খেয়ে আসলে না। এখন কিছু কিনে নিই?”

“ লাগবে না তো। ঠিক আছি আমি। এভাবে বাইরে কিছু খাওয়ার অভ্যাস নেই আমার। আপনি পড়ুন তো।”

ইন্তিহার কথায় পুনরায় বইয়ে মনোযোগ দেয় সে। তবে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে না তা। একটু পর বই রেখে দেয়। ট্রেন থেকে বাইরের দৃশ্য যেন ছবির মতো লাগছে। বোধহয় গ্রামবাংলাকে সবচেয়ে কাছ থেকে, সবচেয়ে নান্দনিকভাবে ট্রেনের ছোট্ট জানালা থেকেই দেখা যায়। মাঠের পর মাঠ, কৃষিজমি, আরও সব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য,প্রতিটা চিত্রই যেন কতো নিখুঁত হাতে আঁকা।এমন নিখুঁত হাতে তো একজনই আঁকতে পারেন। দিতে পারেন সে ছবিতে নতুন জীবন। তিনি শুধু আঁকেনই না, সময়ের পরিক্রমায় তাদের বেড়ে ওঠা, মরা থেকে বাঁচা, ধূসর থেকে সবুজ সবই নিয়ন্ত্রন করেন গভীর মমতায়, যতটা মততা নিয়ে মা তার ক্রন্দনরত সন্তানকে বুকে টেনে নেয়, যতটা মমতা নিয়ে চাঁদ পৃথিবীতে মায়া ছড়ায়, তারচেয়েও বেশি।

বিশাল লম্বা এক জার্নি শেষ করে ওরা অবশেষে পৌছায় আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। পা মাড়ায় পুরাতন সে বিশাল জমিদার বাড়ির আঙ্গিনা।ওদের আগমনের সাথে সাথেই বাড়ির সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাড়ির নতুন জামাইয়ের খাতিরযত্ন করতে। কোথাও যেন কমতি না থাকে একদমই। আবরার অসহায় চাহনি নিয়ে তাকায় ইন্তিহার পানে। এতোসব কিছু ও খাবে কিভাবে? আর সবাই এমন করছে যেন মনে হচ্ছে আবরারই দুনিয়ায় নতুন বিয়ে করেছে, এর আগে কেউ নতুন জামাই ই হয়নি। ওর কাছে এমনই মনে হচ্ছে। ইন্তিহা মনে মনে শয়তানি হাসি দেয়।ভাবে, একদম উচিত শিক্ষা হয়েছে, এমনই হওয়া উচিত। কথায় কথায় লজ্জা দেয়া লোকদের এমনই হয়। মনে মনে অদৃশ্য ভেংচি কাটে সে। আবরার যতবারই ওর দিকে তাকাচ্ছে, ও অন্যদিকে তাকিয়ে থাকার ভান করছে। আর মনে মনে পেট ফাটা হাসিতে গুমরে যাচ্ছে।শেষে লোকটার করুন চাহনির কাছে হার না মেনে আর পারে না। খাবার টেবিল থেকে এবারের মতো বেঁচে ফিরে বেচারা। 

বিকেলে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলো বৈঠকখানায়। আড্ডার মূলবিন্দু হলো আবরার। ছোট্ট ছোট্ট শ্যালক শ্যালিকা তো আছেই, মাথা খারাপ করে দেয়ার জন্য বেচারার। ইন্তিহা অবশ্য এসবের ধারে কাছেও নেই। সেই দুপুরে খেয়ে দেয়ে নিজের রুমে যে গিয়ে ঢুকেছে, আর কেউ দুচোখে দেখে নি ওকে। অত মানুষের ভিড়ে বসে থেকেও আবরারের মন পড়ে আছে দোতলার কর্নারের রুমটার দিকেই। চোখ বারবার সেদিকেই যাচ্ছে ঘুরেফিরে। এই মুহূর্তে এখান থেকে উঠে যাওয়ার সুযোগ নাই বিন্দুমাত্র। মনে মনে বিরক্ত হচ্ছে সে খুব।ইন্তিহার প্রতি অভিমানও হচ্ছে খানিকটা। স্বামীকে এভাবে বসিয়ে রেখে চলে গেলো কিভাবে  নিষ্ঠুর মেয়েটা।

 নিজের ভাবনা দেখে নিজেরই হাসি পাচ্ছে ওর। কিসব অপরিণত চিন্তা করছে।বিয়ে করে কি চিন্তাভাবনা সবারই এমন হয়ে যায় নাকি।ভাবতে ভাবতেই ঠোঁটের কোনে সূক্ষ্ম হাসির রেখা ফুটে উঠে লোকটার। ইন্তিহার ভাবনা অনুযায়ী হৃদয় কেড়ে নেয়া হাসি। 
-
-
-
২৫ সেপ্টেম্বর,২০২৩ 

“লোকটাকে আমি ভুলতে পারছি না কিছুতেই।সেদিনের পর আর দেখিনি স্বপ্নে, তবে ভুলতে পারছি না একটুও। আমি খেতে, ঘুমাতে, পড়তে পারি না। সারাক্ষন মাথায় শুধু একটাই ছবি, একটাই চেহারা। আচ্ছা, লোকটাও কি তবে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে? আচ্ছা, উনি কি জাদু-টাদু যানে নাকি?নইলে কথা নেই, বার্তা নেই, হুট করে এক অচেনা মেয়ের স্বপ্নে চলে এলো! আর শুধু কি তাই? সে তো এতেও ক্ষান্ত থাকেনি,সোজা এসে মেয়েটার মস্তিস্কে ঢুকে পড়েছে। কুট কুট করে খেয়ে নিচ্ছে সব চিন্তাশক্তি! এত্ত অসহ্য লাগে না, মনে হয় লোকটাকে সামনে পেলে আস্ত চিবিয়ে খেতাম! “ 

চাপা হাসিতে মুখ লাল হয়ে যায় ইন্তিহার। কিসব লিখতো না তখন।প্রথম প্রথম প্রেমে পড়ার অনুভূতিগুলো ছিলো একেবারে যাচ্ছেতাই রকমের সুন্দর! লোকটাকে নিয়ে হাবিজাবি আজগুবি কতো কিছুই না লিখতো মেয়েটা।এখন তো এসব পড়লে নিজেরই লজ্জায় নাক কাটা যায়।ইসস, আবরার যদি ভুল করেও এই ডায়েরি পড়ে ফেলে, তখন তো ইন্তিহার বেঁচে থাকার আর কোনো পথ থাকবে না। মাটির নিচে দশ হাত গর্ত খুঁড়ে ঢুকে পড়তে হবে না? নাহ, কিছুতেই এই লোকের হাতে পড়তে দেয়া যাবে না এটা। এমনিতেই লোকটা যেই পরিমান ঠোঁটকাটা বাব্বাহ, পরে দেখা যাবে এইটা নিয়ে কথায় কথায়ই খোঁচাবে ও’কে। ডায়েরি নিয়ে দ্রুত বারান্দা থেকে রুমে চলে আসে ইন্তিহা। উদ্দেশ্য ড্রয়ারে তালাবন্দী করা এটাকে। তবে এবারেও বুঝি শেষ রক্ষা হলো না বেচারির। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পড়ে গেলো ধরা। তাও আবার যার তার হাতে না,স্বয়ং আবরার সোহরাব মুনতাসির, ওরফে ইন্তিহা জান্নাতের অতীতের স্বপ্ন পুরুষ, আর বর্তমানের স্বামী! 

“ তোমার হাতে কি ওটা দেখি তো?” 
(চলবে)

তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব-৭
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265432/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 03:20:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তা ম্যাডাম! অবশেষে আসলেন? আমি তো ভাবলাম আপনি আজকে রান্নাঘরেই পুরো রাত পার করে দিবেন।”</p>
<p>দরজার সামনে বুকে দুহাত গুজে দাড়িয়ে আছে আবরার। তার সামনে মাথা নিচু করে লজ্জায় হাঁসফাঁস করছে ইন্তিহা। কেন যে এতো দেরি করতে গেলো তখন। এখন বোঝো ঠেলা! কিছুক্ষন ধরে আবরারের থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ইন্তিহা হালকা চোখ তুলে তাকাতেই আবরার এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো ওর দিকে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265432"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265432/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3ee8ea7480c0229dee550c2d41519372</guid>
				<title>তিতা ফুল and মোঃ রুবায়েত রহমান রাফি are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265348/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 18:20:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f3b550dcd19f95ccb10b872165cb1f88</guid>
				<title>২৫ সেপ্টেম্বর,২০২৩ 

“লোকটাকে আমি ভুলতে পারছি না কিছুতেই।সেদিনের পর আর দেখিনি স্বপ্নে, তবে ভুলতে পারছি না একটুও। আমি খেতে, ঘুমাতে, পড়তে পারি না। সারাক্ষন মাথায় শুধু একটাই ছবি, একটাই চেহারা। আচ্ছা, লোকটাও কি তবে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে? আচ্ছা, উনি কি জাদু-টাদু যানে নাকি?নইলে কথা নেই, বার্তা নেই, হুট করে এক অচেনা মেয়ের স্বপ্নে চলে এলো! আর শুধু কি তাই? সে তো এতেও ক্ষান্ত থাকেনি,সোজা এসে মেয়েটার মস্তিস্কে ঢুকে পড়েছে। কুট কুট করে খেয়ে নিচ্ছে সব চিন্তাশক্তি! এত্ত অসহ্য লাগে না, মনে হয় লোকটাকে সামনে পেলে আস্ত চিবিয়ে খেতাম! “ 

তোমার আকাশ আমার মেঘ
তিতা ফুল 
আপকামিং পর্ব ৭</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265220/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 12:14:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>২৫ সেপ্টেম্বর,২০২৩ </p>
<p>“লোকটাকে আমি ভুলতে পারছি না কিছুতেই।সেদিনের পর আর দেখিনি স্বপ্নে, তবে ভুলতে পারছি না একটুও। আমি খেতে, ঘুমাতে, পড়তে পারি না। সারাক্ষন মাথায় শুধু একটাই ছবি, একটাই চেহারা। আচ্ছা, লোকটাও কি তবে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে? আচ্ছা, উনি কি জাদু-টাদু যানে নাকি?নইলে কথা নেই, বার্তা নেই, হুট করে এক অচেনা মেয়ের স্বপ্নে চলে এলো! আর শুধু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265220"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265220/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">535927e8bd8977c2f16f242c3cdf6e43</guid>
				<title>তিতা ফুল and রুদ্র অরণ্য are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265089/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 04:25:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">61eb3341f77c5e3e9f53f93a2dc06a38</guid>
				<title>“আমার হৃদয়রাজ্যের রানি! 
শুনো, কাল রাতে ব্রেসলেটটা দিতে মনে ছিলো না একদমই। অতোসব কথাবার্তার ভিড়ে ভুলেই গিয়েছিলাম। পড়ে নিও এটা। প্রথম উপহার, আমার পক্ষ থেকে। আর শুনো, হৃদয়ের দরজা আমি খুলে দিয়েছি বহু আগেই। তোমার আগমনের অপেক্ষায়।  
ইতি,
তোমার শুভ্র পুরুষ!”

শ্বাস যেন আটকে এলো মেয়েটার। ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো সে। এ কেমন চিঠি! লোকটার কি মায়াদয়া নেই একটুখানি? এমন সব চিঠি লিখে কেউ? পড়ে অ্যাটাক ফেটাক করে বসলে? সে আবার পড়লো চিঠিটা। আরেকবার পড়লো। বারবার পড়লো। মুখস্ত হয়ে যাওয়ার পরেও পড়লো। প্রথমবার, এই প্রথমবার লোকটার কথা ভাবতেই লজ্জা লাগছে তার। অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে হৃদয় গহীনে। তবে কি ও আরও একবার প্রেমে পড়লো লোকটার? সেবার তো স্বপ্নে দেখে পড়েছিল, এবার বাস্তবে! মাথা দুদিকে নাড়ালো সে।কি সব ভাবে না। আবরার জানতে পারলে মান সম্মান থাকবে কিছু? নাহ, এসব ভাবা যাবে না একদম। ও মুখভঙ্গি স্বাভাবিক করে উঠে দাঁড়ালো। চিঠির খামটা খুব যত্ন করে সাইড ব্যাগে রেখে দিলো। ব্রাসলেটটা পড়লো হাতে। আসলেই সুন্দর লাগছে। আবরারের কথা অনুযায়ী শুধু সুন্দর! আয়নায় নিজেকে দেখে অবাক হলো মেয়েটা। ঠিক কতদিন পর ও আজ এভাবে নিজে নিজেই হাসছে। লজ্জায় লাল হচ্ছে। এর মধ্যেই লিমা নামের মেয়েটা ওর রুমে প্রবেশ করলো।বয়স আর কতো, ৭/৮ হবে হয়তো।   ওর মেঝ জা খাদিজার একমাত্র মেয়ে ও। খুব মিষ্টি। ইন্তিহাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।

“ছোট আম্মু, তোমাদের মেহমান এসেছে।তোমার আম্মু তোমাকে ড্রয়িংরুমে যেতে বলেছে।”

মায়ের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো মেয়েটার। তবে বাইরে যাওয়া যাবে না কোনোমতেই । আবরারের আদেশ যে! ও বরং লিমাকে বললো তাদেরকে রুমে নিয়ে আসতে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ওর শাশুড়ি মেহমানদের নিয়ে ওর রুমে চলে এলেন। হালকা কথাবার্তা বলার পর উনাদের এখানে রেখে চলে গেলেন তিনি। 
“  তোমাকে আমি সেখানে যেতে বলেছিলাম। তুমি উল্টো আমাকে রুমে আসতে বলে পাঠালে কেন? রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমাদের এখানে নিয়ে আসলে কি হতো? ‘’
মায়ের থেকে এমন কথা আশা করেনি মেয়েটা। নাহয় ও যায়ই নি সেখানে। এতে কি এমন হয়েছে, বুঝে আসে না তার।
“উনি নিষেধ করেছেন রুম থেকে বের হতে।”

ইন্তিহার কথায় যেন স্তব্দ হয়ে গেলেন তিনি। মেয়েটা তার কথার উত্তর দেয়া শিখছে তবে। 
“উনিটা কে?”
“আবরার”
আবারও অবাক হলেন তিনি। আজকে যেন উনার অবাক হওয়ার দিন।
“তোর লজ্জা করে না, স্বামীর নাম মুখে নিচ্ছিস যে?”
ভারী অবাক হলো ইন্তিহা। তিনিই তো নাম জানতে চাইলেন। তবে এখন আবার নাম নেয়াতে দোষের কি হলো, আশ্চর্য! ও আর কোন কথা বললো না। ওদের মা মেয়ের ফিসফিসানি দেখে ওর বড় জা আবার রসিয়ে রসিয়ে বলে উঠলেন, 

“ তা আন্টি, মা মেয়ে মিলে সলাপরামর্শ করা হচ্ছে বুঝি? জোরে বলুন না, আমরাও একটু শুনি?”
বেশ হেসে হেসেই কথা বলছিলেন তিনি, যেন কথাটা সেভাবে ধরা না যায়। তবে ইন্তিহা ভাবছে অন্য কিছু। খুব বেশি না হলেও এটুকু অন্তত বুঝতে পেরেছে সে, বড় ভাবীর কথাবার্তা তেমন সুবিধাজনক না।সবার হাবভাবেও সেটা স্পষ্ট। ও ভাবছে, ড্রয়িংরুমে ওর মাকে আবার তিনি কিছু বলেছেন কিনা, নইলে এমন রেগে কথা বলবেন কেন তিনি? হুট করেই এসে রেগে গেলেন যেন। 

“আমাদের বাড়িতে কিন্তু নতুন বউদের প্রথম দিনে রান্নাবান্না করার নিয়ম আছে।তা পারো তো কিছু নাকি? শিখে এসেছ তো বাপের বাড়ি থেকে?”
এবার যেন সীমা ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। এক্ষুনি না থামালে মেহমানদের সামনে আজ মান সম্মান কিছু অবশিষ্ট রাখবেন না। খাদিজা উঠে শাশুড়িকে ডেকে নিয়ে আসলেন। তিনি আপাতত সামলে নিলেন পরিস্থিতি।

সন্ধার দিকে মেহমানরা সবাই বিদায় নিয়ে চলে যান। ওদের যত আত্মীয় ছিল তারাও চলে গেছেন কিছুক্ষন আগেই। বাড়িতে এখন পুরুষ মানুষ নেই। আবরার উনাদের এগিয়ে দিতে গেছে।এদিকে  শাশুড়ির শত বারন সত্ত্বেও রান্নাঘরে গেলো ইন্তিহা। রাতের খাবার তৈরি করা হচ্ছিলো তখন। রান্নাঘরে গেলেও চুলার কাছে যেতে দেননি তিনি ইন্তিহাকে। তবুও জোর করে মেঝ জায়ের হাত থেকে চাকুটা নিয়ে সালাদ কাটতে বসলো মেয়েটা।রান্নাবান্নার পাশাপাশি  টুকটাক হাসাহাসির পর্বও চলছে। শাশুড়ি সামনে থাকায় অবশ্য ইন্তিহাকে তেমন একটা লজ্জার মুখে পড়তে হয়নি ভাবীদের কথার বাহানায়। সন্ধ্যার জন্য নাস্তা বানানো শেষ। এখন পুরুষ সদস্যরা এলেই সেগুলো নিয়ে যাওয়া হবে ড্রয়িংরুমে।হাতের কাজটুকু শেষ করে ইন্তিহা মাত্রই হাত ধুতে নিচ্ছিল, এমন সময় বাসার কলিং বেলটা বেজে উঠলো শব্দ করে। ইন্তিহার হাত থেমে গেলো তৎক্ষণাৎ। ছোট্ট রাফি দৌড়ে এলো রান্নাঘরে।
“ছোট আব্বু এসেছে। দাদু, ছোট আব্বু তোমাকে ডেকেছে।”
আসমা বেগম তড়িঘড়ি ছুটলেন ড্রয়িংরুমের দিকে। কে যানে আসতে না আসতেই কি দরকার পড়লো ছেলেটার।তিনি ফিরলেন প্রায় ১০ মিনিট পর। সন্ধার নাস্তাগুলো ড্রয়িংরুমে নিয়ে যেতে লাগলেন। সাথে ইন্তিহাকে ড্রয়িংরুমের দিকে না যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিতে ভুললেন না। ছেলের আদেশ কিনা!


রাতের খাবারের পর্ব শেষ হয়েছে বহু আগেই। ইন্তিহার সাথে ওর শাশুড়ি, জা’য়েরাও ভেতরের রুমেই খেয়ে নিয়েছে আজ। অবশ্য এর আগে সবাই ড্রয়িংরুমে একসাথেই খেতো। কিন্তু আজ থেকে নিয়ম বদলে গেছে। ইন্তিহা দেখা করে না ভাসুরদের সাথে। তাই এই ব্যাবস্থা। কিছু মানুষের বাড়তি কথা যে ঝড় তুলেনি এমন না। তবে আবরারের শান্ত কিছু বাক্যই  যথেষ্ট ছিল সেসব থামিয়ে দেয়ার জন্য।আগামীকাল আবরার আর ইন্তিহা ওবাড়িতে যাওয়ার কথা। তাই সবাই মিলে রান্নাঘরে পিঠাপুলির আয়োজন করছে। নিয়ম বলে কথা। ইন্তিহা প্রথমে অবাক হয়েছে খুব। ও তো শুনেছে মেয়েদের বাড়ি থেকে এসব কিছু পাঠাতে হয়, এখানে আবার ভিন্ন নিয়ম নাকি! যাহোক মনে মনে স্বস্তির শ্বাস ছাড়লো মেয়েটা। অন্তত এই বাহানায় আজকে রুমে যাবে দেরি করে। লোকটা ঘুমিয়ে গেলেই হয়। তখন চুপি চুপি গিয়ে মটকা মেরে পড়ে থাকা যাবে। লোকটার মুখোমুখি তো হতে হবে না অন্তত। ইস! ভাবলেই তো লজ্জায় মূর্ছা যাচ্ছে সে।  সামনে যাবে কিভাবে তাহলে। একদমই পারবে না। এই লোকটাও না, কিসব চিঠি দেয়! কাজের ফাকে হাতের ব্রেসলেটটার দিকে নজর গেলো ওর। হুট করেই একটা ব্যাপার খেলে গেলো মাথায়। হাতে ব্রেসলেট দেখলেই তো লোকটা বুঝে যাবে যে ও চিঠিটা পরেছে। তখন? কি হবে তখন ! লজ্জায় তাকাবে কিভাবে মেয়েটা? 
“একা একা কার কথা ভেবে অমন মুচকি হাসছেন শুনি?বাবাহ, চোখ মুখ তো দেখি লাল হয়ে গেছে, ব্যাপার কি হুম হুম?”
জা’দের এমন টিটকারিমুলক কথাবার্তায় কান দিয়ে উষ্ণ ধোঁয়া বেরুতে লাগলো মেয়েটার। এমনিতেই চিন্তায় মরে যাচ্ছে, তারউপর আবার এসব, মানা যায়? 
“কালকে তো সকাল সকাল বেরুতে হবে তোমাদের, এখনো জেগে আছো কেনো তুমি? যাও, গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।”
শাশুড়ির কথায় ভড়কে যায় মেয়েটা। হেসেও কি পাপ করে ফেললো নাকি।এখন তো সবাই মিলে রীতিমতো পিছনে লেগে গেছে।
“ একটু পর যাবো আম্মু, আরেকটু থাকি? এই কয়টা পিঠা শেষ করে নিই।”

ওর কথায় সবাই মুচকি মুচকি হাসে। শাশুড়ি সামনে থাকায় আর তেমন কিছু বলা হয় না। আসমা বেগমও বুঝতে পারেন পুত্রবধূর অজুহাতের কারন। নিজেও তো একসময় এমন সময় পার করে এসেছেন। পুত্রবধুর আড়ালে সূক্ষ্ম হাসেন তিনিও।তবে ইন্তিহাকে বলেন না আর কিছু। 
সময় পেরোতে থাকে ধীরে ধীরে। এক ঘণ্টা দুই ঘণ্টা করে রাত প্রায় একটা বেজে যায়।ইন্তিহা সবার সাথে গল্পগুজবে মত্ত হয়ে ভুলে থাকে সময়ের হিসাব। এদিকের কাজও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আসমা বেগম এবার আর কোন কথা শুনলেন না। ঠেলেঠূলে জোর করে রুমে পাঠিয়ে দিলেন ওকে।তবে রুমের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো সে।ভয়ে বুক কাঁপছে তার। লোকটা যদি জেগে থাকে এখন অবধি? যদি জিজ্ঞেস করে, ‘রুমে আসতে এতো দেরি করলে কেন?’ কি উত্তর দিবে সে? রেগে যাবে নাতো আবার। হাজারো ভাবনায় জর্জরিত মেয়েটা সাহস সঞ্চার করে দরজার হাতলে হাত রাখলো এবার। তবে ওর খোলার আগেই দরজা খুলে গেলো ওপাশ থেকে।   
(চলবে) 

তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-৬ 
-তিতা ফুল 

(ফেসবুকে আরো ২-৩ পর্ব বেশি আছে। আমার পেজটি চাইলে ফলো করতে পারেন। ধন্যবাদ)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265080/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 03:15:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“আমার হৃদয়রাজ্যের রানি!<br />
শুনো, কাল রাতে ব্রেসলেটটা দিতে মনে ছিলো না একদমই। অতোসব কথাবার্তার ভিড়ে ভুলেই গিয়েছিলাম। পড়ে নিও এটা। প্রথম উপহার, আমার পক্ষ থেকে। আর শুনো, হৃদয়ের দরজা আমি খুলে দিয়েছি বহু আগেই। তোমার আগমনের অপেক্ষায়।<br />
ইতি,<br />
তোমার শুভ্র পুরুষ!”</p>
<p>শ্বাস যেন আটকে এলো মেয়েটার। ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো সে। এ কেমন চিঠি! লোকটার কি ম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265080"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265080/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf7b10e5e75eac7518ddaf6be1b62c08</guid>
				<title>“আমার হৃদয়রাজ্যের রানি! 
শুনো, কাল রাতে ব্রেসলেটটা দিতে মনে ছিলো না একদমই। অতোসব কথাবার্তার ভিড়ে ভুলেই গিয়েছিলাম। পড়ে নিও এটা। প্রথম উপহার, আমার পক্ষ থেকে। আর শুনো, হৃদয়ের দরজা আমি খুলে দিয়েছি বহু আগেই। তোমার আগমনের অপেক্ষায়।  
ইতি,
তোমার শুভ্র পুরুষ!”

শ্বাস যেন আটকে এলো মেয়েটার। ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো সে। এ কেমন চিঠি! লোকটার কি মায়াদয়া নেই একটুখানি? এমন সব চিঠি লিখে কেউ? পড়ে অ্যাটাক ফেটাক করে বসলে? সে আবার পড়লো চিঠিটা। আরেকবার পড়লো। বারবার পড়লো। মুখস্ত হয়ে যাওয়ার পরেও পড়লো। প্রথমবার, এই প্রথমবার লোকটার কথা ভাবতেই লজ্জা লাগছে তার। অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে হৃদয় গহীনে। তবে কি ও আরও একবার প্রেমে পড়লো লোকটার? সেবার তো স্বপ্নে দেখে পড়েছিল, এবার বাস্তবে! মাথা দুদিকে নাড়ালো সে।কি সব ভাবে না। আবরার জানতে পারলে মান সম্মান থাকবে কিছু?

আপকামিং পর্ব ৬

তোমার আকাশ আমার মেঘ 
তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264917/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Aug 2026 14:01:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“আমার হৃদয়রাজ্যের রানি!<br />
শুনো, কাল রাতে ব্রেসলেটটা দিতে মনে ছিলো না একদমই। অতোসব কথাবার্তার ভিড়ে ভুলেই গিয়েছিলাম। পড়ে নিও এটা। প্রথম উপহার, আমার পক্ষ থেকে। আর শুনো, হৃদয়ের দরজা আমি খুলে দিয়েছি বহু আগেই। তোমার আগমনের অপেক্ষায়।<br />
ইতি,<br />
তোমার শুভ্র পুরুষ!”</p>
<p>শ্বাস যেন আটকে এলো মেয়েটার। ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো সে। এ কেমন চিঠি! লোকটার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264917"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264917/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">29f3cbe3267f62007d85819fad8ab454</guid>
				<title>তিতা ফুল and শরীফ এমদাদ হোসেন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264616/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Aug 2026 13:57:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9fd0058b91f227e2946d1ba24ba5273a</guid>
				<title>“ ইন্তিহা, আবরার উঠেছে ঘুম থেকে?’
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে ইন্তিহা। কাল রাতে এই বাড়িতে আসতে অনেক রাত হওয়ায় আর ইন্তিহা অসুস্থ থাকায় খুব বেশি মানুষের সমাগম হতে দেননি আবরারের মা, আসমা বেগম।তাই এখন সকাল সকাল আশেপাশের বেশ কিছু মহিলারা এসেছেন নববধুকে দেখবে বলে। শাশুড়ির প্রশ্নে অপ্রস্তুত ইন্তিহা সাথে সাথে জবাব দিতে পারে না। আসলে সকাল সকাল রুম থেকে বের হওয়ার পর আর হয়নি অমুখো। ফজরের পর আবরার যখন রুমে আসে, দেখেনি ওকে। ওর আসার আগেই বেরিয়ে গেছে মেয়েটা। তাই এখন কি বলবে বুঝতে না পেরে চুপ করে থাকে। পাশ থেকে খাদিজা বেগম, ওর মেঝ জা-ই জবাব দেন।
“ওকে তো দেখেছি সেই সকালেই কোথায় যেন বেরিয়েছে। হাবিব কে নিয়ে গেলো সাথে করে।”
“ কি বলিস? এই ছেলেটাও না! হুস হবে না কোনোদিন। আজকের দিনেও ওর বাইরে যেতে হবে!”
শাশুড়ির কথায় খাদিজা মুচকি হাসলেও সন্তুষ্ট  হতে পারেন নি রাবেয়া, আবরারের বড় ভাবি। ঠেশ মেরে কথা বলতে তার যেন জুড়ি মেলা ভার। এতক্ষন শাশুড়ির সতর্কবার্তায় চুপ করে থাকলেও এবার আর সেটা সম্ভব হয়ে উঠলো না যেন। 
“তা ইন্তিহা, স্বামী সকাল থেকে বাসায় নেই, সে খবর তোমার আগে অন্য কেউ জানার কথা বুঝি? স্বামীর খোঁজ খবর রাখো না দেখছি!”
এতো মানুষের সামনে বড় জা’য়ের এমন বিব্রতকর প্রশ্নে হতচকিয়ে যায় মেয়েটা। কথা বলার ভাষা হারায় এক মুহূর্তের জন্য। মাথা নিচু করে চুপ থাকে। 
“ আহ, আমিনা। কি শুরু করলে? এসব কেমন ধরনের প্রশ্ন? চুপ থাকতে বলেছিনা তোমাকে?” 
শাশুড়ির কথায় চুপ হয়ে যাওয়ার পাত্রী রাবেয়া সরকার না। সে তার মতো করে বলতে যাচ্ছিলো আরও কিছু। তবে সিঁড়ির কাছে দাড়িয়ে থাকা আবরারকে দেখে চুপ হয়ে যায়। এই বাড়িতে আবরারই একমাত্র ব্যাক্তি, যাকে তিনি যমের মতো ভয় পান। কারণটা যদিও অজানা। তবে আবরারের উপস্থিতিতেই তার সমস্ত চেঁচামেচি শান্ত হয়ে যায়।আবরার কোন কথা বলে না। চুপচাপ এগিয়ে এসে বসে ইন্তিহার পাশের ফাঁকা জায়গাটায়। এতে মেয়েটা সরে বসে খানিকটা। যা চোখ এড়ায় না আবরারের। মাথা ঘুরিয়ে সূক্ষ্ম হাসে সে। পুনরায় স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রশ্ন ছুড়ে রাবেয়া বেগমের উদ্দেশ্যে।
“ কে কার স্বামীর খোঁজ করে না ভাবী?”
ব্যাস। হয়ে গেলো। শুনে নিয়েছে সবটা। আবরারের কথায় কোন প্রতিউত্তর করলেন না তিনি। না তো বসে রইলেন আর এক মুহূর্ত সেখানে। উঠে চলে গেলেন নিঃশব্দে। আবরারের উপস্থিতিতে অন্যান্য মহিলারা চলে গিয়েছে বহু আগেই। 
“সকাল সকাল নাস্তা না করেই কোথায় গিয়েছিলি? আর তোর তো কোন হেলদোলই দেখছি না। আজকে না ইন্তিহাকে নিয়ে ওদের বাড়িতে যাওয়ার কথা? কখন যাবি ?”
মায়ের কথা শুনে ত্বরিত ইন্তিহার দিকে তাকালো ছেলেটা। মাথা নিচু করে বসে আছে ইন্তিহা। ফের মায়ের দিকে ফিরে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল, 
‘’কালকে যাবো। ওর শরীর ভালো না তেমন। টানা দুইদিন জার্নি করলে অসুস্থ হয়ে পড়বে আরো।”
“সেটা জানিয়েছিস উনাদের? উনারা তো জানেন আজকেই যাবি তোরা।”
“ আরে মা, তুমি এতো চিন্তা করছ কেন সেসব নিয়ে? আমি সকালেই ফোন করে বলে দিয়েছি আসিফকে। আর ইন্তিহা, রুমে আসো তো। কথা আছে।”
বলেই সে হাটা ধরলো রুমের দিকে। যেন সে শতভাগ নিশ্চিত, ইন্তিহা ওর পিছুপিছু রুমে পৌঁছুবে এক্ষুনি। হলোও তাই। মিনিট পেরুতেই ইন্তিহা এসে দাঁড়ালো দরজার কাছটায়। 
“ভেতরে এসো!”
চুপচাপ রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো মেয়েটা। আবরার চোখ তুলে তাকালো ভালোমতো।লাল পেড়ে ছাই রঙা একটা সুতির শাড়ী পরেছে মেয়েটা। চোখের পাশ ঘেঁষে টানা হয়েছে কাজলের রেখা। রেখাটা পরিপক্ক হাতের। দেখেই বোঝা যায় অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। ইন্তিহা সাজে না তেমন, অভ্যাস নাই। তবে সাজ ছাড়াই বা কম কিসে? হৃদয়ে কারো বাক্তিত্ব গেঁথে গেলে, তাকে এমনিতেও পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর লাগে। 
“ নাস্তা করেছো?”
“হ্যাঁ!”
খুব ছোট্ট করে উত্তর দেয় সে। বিপরীতে ‘আপনি নাস্তা করেছেন?’ প্রশ্নটা করতে চাইলেও মুখে আসে না। আবরার বোধহয় বুঝতে পারলো সেটা। প্রশ্নবিহীন উত্তর দেয় সে।
“ আমার এক বন্ধু আছে, মুনির। হাটতে গিয়ে দেখা হয়ে গেলো ওর সাথে। জোরাজুরি করে নাস্তা করিয়ে দিলো।”
লোকটার ওজুহাত দেয়ার ধরন দেখে ইন্তিহার হাসি পেলো খুব।এমনভাবে বলল, যেন ও জেরা করছে বাইরে থেকে খেয়ে আসার কারনে।তবে বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকলো সে। এমন কথার কি উত্তর দিবে বুঝতে না পেরে মাথা নিচু করে দাড়িয়েই রইলো খানিকক্ষণ। অধৈর্য হলো আবরার। এতো কম কথা বলে কেনো মেয়েটা? নিজে থেকে না বলুক, অন্তত একটু বড় করে উত্তরটা তো দিতে পারে নাকি? প্রসঙ্গ বদলালো সে।
“ আজকে তোমাদের বাড়িতে না যাওয়ায় মন খারাপ হয়েছে তোমার?”
“ মন খারাপ হবে কেন? “
ওর কথায় থামলো ছেলেটা। একটুখানি চুপ থেকে ফের বললো, 
“ সেটাই। তোমার মন তো সবসময়ই খারাপ থাকে। ভালো থাকে কখন আবার?”
চুপ হয়ে গেলো মেয়েটা। আসলেই তো। মন ভালো থাকে কখন তার! সারাক্ষন তো চুপ করেই থাকে। তবে ও বুঝতে পারলো না এই সামান্য একটা কথায় ওর অভিমান হচ্ছে কেনো এমন। এই কথা তো সবাই বলে ওকে। সবসময় শুনে শুনে অভ্যস্ত। তবুও বুক ভারী লাগছে কেন এতো? 
“আমি খুব একঘেয়ে ধরনের মানুষ। দুইমিনিট কথা বলেই মানুষ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।”
ইন্তিহার কথায় হতচকিয়ে উঠে আবরার। এ আবার কেমন কথা! ও’তো সেভাবে বলতে চায়নি কথাটা। মেয়েটা কি মন খারাপ করলো? কষ্ট পেয়েছে কি খুব ওর কথায়? কথা ঘুরালো সে। 
“ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলাটাই ভালো। অন্তত আমার দিক থেকে। আমার বউ অন্য কারো কাছে খুব আকর্ষণীয় লাগুক,এটা আমি একদমই চাই না।”
‘আমার বউ!’ এই একটা কথাই যেন তোলপাড় চালালো মেয়েটার বক্ষজুড়ে। একটু আগে হওয়া সূক্ষ্ম অভিমানটুকু যেন ভুলে গেলো মুহূর্তেই। সেখানে জায়গা করে নিলো এক ঝাঁক প্রজাপতির দুরন্তপনা। আবরার বসলো সোফার উপর। ওকেও ইশারা করলো বসার জন্য পাশে। বিনাবাক্য ব্যায়ে বসে পড়লো সে। তবে মুহূর্তেই ওর চোখ আটকে গেলো সোফার হাতলে থাকা আবরারের হাতের দিকে। কাল রাতে অন্ধকারের মাঝে সেভাবে দেখা হয়নি, তাই হয়তো কাটা দাগটা দেখতে পায়নি, ভাবলো সে। তবে দৃশ্যমান অংশটুকুতে এখনো কোনো কাটা বা আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। ফর্সা হাতের মসৃণ চামড়ায় যেন ঠিকরে বেরুচ্ছে আলো। ইন্তিহার দৃষ্টি লক্ষ্য করে সে নিজের হাতের দিকে তাকালো একবার। বুঝে পায় না মেয়েটা বারবার ওর হাতে কি খুজে। কাল রাতেও খেয়াল করেছে কয়েকবার। জিজ্ঞেস করাতেও বলে নি কিছু। তবে কিছু একটা যে আছে, এতে তো সন্দেহ নেই কোন।  
“সাজিয়ে দিয়েছে কে তোমায়?”
আবরারের কথায় আচমকা চোখ ফিরায় মেয়েটা। যেন লুকাতে চাইছে দৃষ্টি। তবে সে একদমই যানে না, আবরার ওর আশেপাশে থাকাকালীন প্রতিটা সূক্ষ্ম নড়াচড়াও নজর বন্দী করে নিতে পারে। তাও আবার ওকে বিন্দুমাত্র বুঝতে না দিয়েই! 
“খাদিজা আপু”
আপু! অবাক হলো আবরার। ভাবীকে আপু ডাকছে মেয়েটা। আবার এমনভাবে বলছে যেন কতো আগের চেনাজানা তাদের। ভালো লাগলো বিষয়টা। চুপচাপ থাকলেও ভেতরের হৃদয়টা খাঁটি। এতক্ষনে নিচের দিক থেকে চোখ উঠালো মেয়েটা।আবরার যেন এরই অপেক্ষায় ছিল। সে সরাসরি তাকালো মেয়েটার কালো কাজলে আঁকা চোখের পানে। তারপর হুট করে, একদম হুট করে বলে ফেললো হৃদয় কাঁপানো সে বাক্য।
“সুন্দর লাগছে!”
চোখ সরিয়ে নিলো মেয়েটা। এমন সব কথা বললে কি আর চেয়ে থাকা যায় নাকি? ইন্তিহার অস্বস্তি বুঝতে পেরে আর কথা বাড়ালো না আবরার। কিছু একটা ভেবে উঠে দাঁড়ালো ত্বরিত। 
“ওই বাড়ি থেকে সবার আসার সময় হয়ে গেছে।সেখানে থাকতে হবে আমার।আর শুনো, অনেক মানুষ থাকতে পারে বাড়িতে। রুম থেকে বের হবে না তুমি। কিছু প্রয়োজন হলে মেঝ ভাবীকে বলবে। লিমা থাকবে এখানে, তোমার কাছে।” 
আবরারের কথায় কোন প্রতিউত্তর করল না সে। শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। আবরার তার ফোন, ওয়ালেট সব পকেটে পুরে হাটা ধরলো দরজার দিকে। কয়েক কদম পেরুতেই থেমে পুনরায় ফিরে এলো ওর সামনে। 
“ আলমারিতে তোমার যাবতীয় সব জিনিসগুলো আছে। খুলে দেখে নিও সব।আর…”
আরো কিছু হয়তো বলতে যাচ্ছিলো সে। তবে ফোন আসায় আর বলা হলো না। আবরার চলে যাওয়ার পর ইন্তিহা কিছুক্ষন বারান্দার ফুল গাছগুলোতে পানি দিলো। কাল রাতে আর দেখা হয়নি সেভাবে। আবরার আসলেই একজন রুচিশীল মানুষ। ওর রুম, বারান্দা দেখলেই সেটা স্পষ্ট হয়। ওর পুরো ব্যাক্তিত্বটাই তো আকর্ষণীয়! 
রুমে এসে বিছানাটা একবার টানটান করে গুছিয়ে রাখলো সে। টেবিলের উপর থাকা  জিনিসগুলো গুছাতে গিয়ে নীল রঙা চিঠির খামখানা চোখে পড়লো তার। ভারী অবাক হলো মেয়েটা। তাই বলে ওকে কিছু না বলেই রুমে চিঠি রেখে যেতে হবে লোকটার? খামটা হাতে নিতেই হৃদস্পন্দন বাড়লো বহুগুন। নীল খামের ভাজে সাদা একখানা চিরকুট। সাথে হাতের একটা ব্রেসলেট। স্বর্ণের হবে জিনিসটা। ইন্তিহা সেটা টেবিলের উপর রেখে কাঁপা হাতে চিরকুটটা খুললো। গোটা গোটা অক্ষরগুলো যেন নিঃশব্দে সাক্ষর দিয়ে দিলো লোকটার নামে।
(চলবে)

তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব_৫ 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264472/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Aug 2026 04:22:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ ইন্তিহা, আবরার উঠেছে ঘুম থেকে?’<br />
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে ইন্তিহা। কাল রাতে এই বাড়িতে আসতে অনেক রাত হওয়ায় আর ইন্তিহা অসুস্থ থাকায় খুব বেশি মানুষের সমাগম হতে দেননি আবরারের মা, আসমা বেগম।তাই এখন সকাল সকাল আশেপাশের বেশ কিছু মহিলারা এসেছেন নববধুকে দেখবে বলে। শাশুড়ির প্রশ্নে অপ্রস্তুত ইন্তিহা সাথে সাথে জবাব দিতে পারে না। আসলে সকাল সকাল রুম থেকে ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264472"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264472/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0a41a12430d376d04cbdc3b1ea34944b</guid>
				<title>তিতা ফুল and Shohel Nawaz are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264441/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 23:02:36 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">efb0d13a1dc45d6657456bbd10ce9452</guid>
				<title>“আমি খুব একঘেয়ে ধরনের মানুষ। দুইমিনিট কথা বলেই মানুষ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।”
ইন্তিহার কথায় হতচকিয়ে উঠে আবরার। এ আবার কেমন কথা! ও’তো সেভাবে বলতে চায়নি কথাটা। মেয়েটা কি মন খারাপ করলো? কষ্ট পেয়েছে কি খুব ওর কথায়? কথা ঘুরালো সে। 
“ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলাটাই ভালো। অন্তত আমার দিক থেকে। আমার বউ অন্য কারো কাছে খুব আকর্ষণীয় লাগুক,এটা আমি একদমই চাই না।”
‘আমার বউ!’ এই একটা কথাই যেন তোলপাড় চালালো মেয়েটার বক্ষজুড়ে। একটু আগে হওয়া সূক্ষ্ম অভিমানটুকু যেন ভুলে গেলো মুহূর্তেই। সেখানে জায়গা করে নিলো এক ঝাঁক প্রজাপতির দুরন্তপনা। 

-
তোমার আকাশ আমার মেঘ 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264355/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 15:51:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“আমি খুব একঘেয়ে ধরনের মানুষ। দুইমিনিট কথা বলেই মানুষ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে।”<br />
ইন্তিহার কথায় হতচকিয়ে উঠে আবরার। এ আবার কেমন কথা! ও’তো সেভাবে বলতে চায়নি কথাটা। মেয়েটা কি মন খারাপ করলো? কষ্ট পেয়েছে কি খুব ওর কথায়? কথা ঘুরালো সে।<br />
“ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলাটাই ভালো। অন্তত আমার দিক থেকে। আমার বউ অন্য কারো কাছে খুব আকর্ষণীয় লাগুক,এটা আমি একদমই চাই না।”&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264355"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264355/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4fd7b9c2a197ac273b2f5ebb8050e632</guid>
				<title>ফুলে ফুলে সজ্জিত বড় রুমটায় খাটের একপাশে গুটিসুটি করে বসে আছে ইন্তিহা। সারা দিনের না খাওয়া আর অতিরিক্ত চিন্তার কারণে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় প্রায় আধ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফেরে তার। এই বাড়িতে আসার পর যা একটুখানি খেয়েছে, তবুও শরীরের ক্লান্তিতে আর বসে থাকা যেন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
আবরারদের বাড়িটা ওদের মতো অমন বিশাল আর পুরনো ধাঁচের না। আবার আধুনিকও না ততটা। কেমন যেন মাঝামাঝি, গোছানো। চারদিকে তাকালেই বোঝা যায়, বাড়ির মানুষগুলো সবকিছুতে খুব যত্নশীল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই দরজায় টোকা পড়ল। আবরার এসেছে নিশ্চয়ই! ইন্তিহা আরেকটু গুটিয়ে বসল। আড়চোখে তাকাতেই নজরে পড়ল সেই শুভ্র মানবটিকে।
পাঁচ বছর আগে কোন এক শ্রাবণের মেঘলা দিনে যার আগমন ঘটেছিল হৃদয়নীড়ে। লাইব্রেরির সেই বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় চুল থেকে বৃষ্টির পানি ঝাড়ার দৃশ্যই ব্যাকুল করেছিল হৃদয়। স্বপ্ন ছিল। আর সেই অদ্ভুত স্বপ্নের রেশ ধরেই অপেক্ষার প্রহর গুনে কাটিয়ে দিয়েছে মেয়েটা। একটু একটু করে হৃদপিণ্ডের বিশাল একটা জায়গা জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে লোকটা।
এতসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, এতসব হৃদয়ের আহাজারি ওর মনকে স্পর্শ করতে পারেনি বিন্দুমাত্র। আর যার জন্য এত আয়োজন, বিষাদের কবিতা রচনা আর চঞ্চলা এই হরিণীর নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া — সে কি আদৌ জানে সেসব? বদ্ধ দরজায় হেলান দিয়ে ভয়ঙ্কর চাহনি নিয়ে চেয়ে থাকা পাষাণ পুরুষটি যদি জানত সেসব, নির্বাক হয়ে যেত না? হারিয়ে ফেলত না কথা বলার সামর্থ্য?
আবরার এগিয়ে এসে খাটের অন্য পাশে বসল। অনেকটা দূরত্ব রেখে। নরম স্বরে সালাম দিল।
&quot;আসসালামু আলাইকুম।&quot;
ইন্তিহা মাথা নিচু রেখেই জবাব দিল, &quot;ওয়া আলাইকুমুস সালাম।&quot;
কিছু একটা মনে পড়ার ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ালো ছেলেটা। ড্রয়ার থেকে কয়েকটা টাকার বান্ডিল বের করে আনল। ওর সামনে রাখল সেগুলো।
“ মোহরানার পুরোটা আছে এখানে। তোমার যখন যেখানে খুশি খরচ করতে পারো। আর কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে বলবে নির্দ্বিধায়। “
ইন্তিহা মাথা নেড়ে সায় জানাল। হাত বাড়িয়ে টাকাটা ধরল না, ওভাবেই পড়ে রইল।
আবরার একটু থেমে বলল,
&quot;এখন যাও, অজু করে আসো।&quot;


আগে থেকে অজু ছিল ওর। তবুও আবরারের কথায় পুনরায় অজু করে আসলো।একসাথে  দুই রাকআত শোকরানা নামাজ পড়লো। 
নামাজ শেষে অনেকক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।
নীরবতা ভাঙল আবরারই। জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল —
&quot;ছাদে যাবে? যদিও আমাদের এই বাড়িটা তোমাদের মতো অত সুন্দর না, জানি!&quot;
ইন্তিহা মুখ তুলল। প্রথমবার চোখাচোখি হলো লোকটার সাথে। সাথে সাথেই চোখ নামিয়ে ফেলল মেয়েটা। খুব আস্তে করে বলল, &quot;সুন্দর তো।&quot;
আবরার হাসল একটু। প্রথমবার।
“চলো তবে?”
বলে সে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু ইন্তিহার দিকে হাত বাড়ালো না। নিঃশব্দে দুজন চলতে লাগলো সিঁড়ি বেয়ে। যেন কতো বছরের চেনাজানা তাদের। 


সন্ধ্যা থেকেই হালকা বাতাস ছিল আজ। এখন বাতাসের তোপ বেড়েছে বহুগুন।বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে আবরার। একটু পাশেই তার নিলাঞ্জনা। বাতাসে ছেলেটার সামনের দিকের চুলগুলো উড়ছে প্রচুর। চোখমুখে আছড়ে পড়ছে বারবার। ইন্তিহার বেহায়া চোখদুটো সেদিকেই আঁটকে যাচ্ছে অনবরত।অনেকক্ষণ যাবত দুজনের কারো মুখেই কোন কথা নেই। শুধু নিস্তব্দ প্রহরে  বাতাসের ঠাণ্ডা শব্দ। নিস্তব্দতা ভেঙ্গে আবরারই প্রথমে কথা বলল।
“ তুমি কি আগে থেকেই এমন?”
চমকে উঠে ফিরে তাকাল ইন্তিহা। আবছা আলোয় ভীষণ নজরকাড়া পুরুষটি চেয়ে আছে  সম্মুখপানে। 
“কেমন?”
“এইযে, এতো কম কথা বলো।এটা কি সবসময়ই?”
অন্য দিকে ফিরে দৃষ্টি আড়াল করার চেষ্টা চালাল মেয়েটা। কিছুক্ষন চুপ থেকে নিজে থেকেই বলল,
“এমন কেন মনে হলো আপনার?”
শব্দহীন হাসল ছেলেটা। হৃদয় তোলপাড় করা হাসি। কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলে প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো হাসি। চোখ সরিয়ে নিলো ইন্তিহা। চেয়ে থাকা যে ভীষণ দায়!  
“ বিয়ের আগে আমাকে দেখো নি তুমি !”
ইন্তিহার হৃদপিণ্ড যেন বিনা সতর্কবার্তায় ধক করে উঠলো। জোরপূর্বক ঢোক গিলল সে।দেখেনি! সত্যিই কি তাই? তাহলে পাঁচ বছরের অপেক্ষা, বিষাদের ডায়েরি, আর লাইব্রেরি বারান্দার সেসব স্মৃতি কি অকারন? রাত জেগে কতোশত বিষাদের আলাপন,গুচ্ছ গুচ্ছ অনুভূতির তীব্র সে দহন, সবই কি তবে অর্থহীন? আচ্ছা, লোকটা কি তবে পাষাণ? নইলে তো এমন প্রশ্ন করতে পারার কথা না। তার কি কোন ধারণা আছে সেসব ব্যাপারে? সে কি একটুও বুঝতে পারে না চোখের ভাষা?  
“আপনি কিভাবে জানলেন?”
আবরার তখনও সামনের দিকে তাকিয়ে। রেলিংয়ের উপরের হাতটিতে পাঞ্জাবির হাতা গুটানো।
“সেদিন চোখ উঠাও নি একবারের জন্যেও। তাকাও নি আমার দিকে !”
ফের ঢোক গিলল ইন্তিহা।চোখের কোনে পানি জমতে শুরু করেছে তার। অসহ্য অনুভূতি। চুল ঠিক করার বাহানায় চোখের কোনে সদ্য জমতে যাওয়া নোনাপানির আভাসটুকু মুছে ফেললো অতি সন্তপর্ণে। আবরার এগিয়ে এলো ওর দিকে। মেহেদী পরা হাত দুটি নিজের দুহাতের মাঝে নিয়ে নিলো অনুমতিবিহীন। ওর হাতে নিজের নামের অস্তিত্ব দেখে প্রশান্ত হলো বক্ষ। অচেনা  অনুভূতির টানাপোড়নে সিক্ত হলো হৃদয়। ইন্তিহা কিছু বলল না, নাতো সরিয়ে নিলো হাতখানা।
“সুন্দর!”
শিহরিত হলো মেয়েটা। এ কেমন প্রশংসাবাক্য? অন্তর কেঁপে উঠে তো! কোনমতে নিজেকে সামলে প্রশ্ন ছুড়ল পাল্টা।
“কি?”
“তুমি!”
ধক করে উঠলো বক্ষপিঞ্জর। দাড়িয়ে থাকার শক্তি যেন ফুরিয়ে আসছে ক্রমশ।অস্বাভাবিক  কাঁপুনি লক্ষ করে ছেড়ে দিলো  প্রেয়সীর হাত দুখানা। তবে ততোক্ষণে ইন্তিহার নজর আটকেছে ছেলেটার হাতের দিকে। পাঞ্জাবীর হাতা উঠানো থাকায় স্পষ্ট হয়েছে কনুই পর্যন্ত। তবে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে তার হাতে কোন প্রকার দাগ নেই। ইন্তিহার এখনো স্পষ্ট মনে আছে আবরারের হাতের কাটা দাগটার কথা। দ্বিতীয়বার তো এই দাগের কারনেই চিনতে পেরেছিল তাকে। সব ঠিকঠাক থাকলে তো হাতের উল্টোপিঠে কাটা দাগটিও থাকার কথা। ইন্তিহা বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছিলো ওর হাতের দিকে। কিন্তু কোন দাগ নজরে আসেনি। অস্থির হয়ে উঠলো মেয়েটা। আবরারই যে ওর স্বপ্নে দেখা সেই পুরুষ, এতে তো কোন সন্দেহ নেই। তবে হাতের সেই কাটাদাগটা নেই কেন? তবে কি স্বপ্নেই ভুল দেখেছিলো সে? কিন্তু এমনতো হওয়ার কথা না। হাজারো ভাবনায় জর্জরিত মেয়েটার ধ্যান ভাঙ্গে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে। ঠাণ্ডা হাওয়ার মাঝে ঝিরঝির বৃষ্টির ফোঁটারা একত্রিত হয়ে দেহমন জুড়িয়ে দেয়া পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে যেন। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস টেনে নিলো ইন্তিহা। প্রকৃতির কানে কানেও যেন রটে গেছে আনন্দ বার্তা। স্বপ্নে দেখা সে ভীষণ শুভ্র পুরুষটি যে আজ আর কোন রূপকথা নয়, নয়তো কেবলই ওর কল্পনার অংশ। শ্রাবণের মেঘডাকা রাতের আকাশের মতোই বাস্তব সে। সুরভিত পুষ্পের মতো তার উপস্থিতি।আজ চিৎকার করে সবাইকে ভীষণ বলতে ইচ্ছে করছে তার,’ শুনছো আকাশ, শুনছো মেঘ? বিষাদময় অপেক্ষার শেষ প্রহরে পেয়ে গেছি তারে আমি। আমার সে অপেক্ষাগুলো বৃথা ছিল না একদমই। বৃথা ছিল না সেসব পাগলামিগুলো। সে আজ আমার, একান্তই আমার। আমার শুদ্ধ পুরুষ।’ 
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাতাস বাড়তে থাকলো। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো গাঢ় থেকে গাঢ়তর হতে থাকলো। খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে থাকা দায় হয়ে পড়লো যেন। 
“ ভেতরে চলো।অসময়ের বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর চলে আসতে পারে তোমার।”
আবরারের কথায় দ্বিমত করলো না সে। ধীরগতিতে হেঁটে চলে এলো সিঁড়ির দিকটায়। আর কয়েক কদম পেরুলেই সিঁড়ির ধাপ। তবে সেদিকে পা বাড়ানোর আগেই থেমে গেলো লোকটার করা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নে। 
“আমার হাতে কি কিছু খুঁজছিলে তুমি?” 


তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব-৪  
-তিতা ফুল 

(আপনাদের মন্তব্য না পেলে পরের পর্ব আর এখানে দিচ্ছি না) 
আমার লেখাগুলো দ্রুত পেতে ফেসবুক পেজটি ফলো করতে পারেন---</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264226/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 03:17:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফুলে ফুলে সজ্জিত বড় রুমটায় খাটের একপাশে গুটিসুটি করে বসে আছে ইন্তিহা। সারা দিনের না খাওয়া আর অতিরিক্ত চিন্তার কারণে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ায় প্রায় আধ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফেরে তার। এই বাড়িতে আসার পর যা একটুখানি খেয়েছে, তবুও শরীরের ক্লান্তিতে আর বসে থাকা যেন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।<br />
আবরারদের বাড়িটা ওদের মতো অমন বিশাল আর পুরনো ধাঁচের না। আবার আধুনিকও না ততট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264226"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264226/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d2111c3732eaae79d15807a330982411</guid>
				<title>তিতা ফুল and রাকিব দৌলা are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264110/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 18:05:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4e57324a4ee01319246da64f37b98675</guid>
				<title>তিতা ফুল and ভাস্কর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264051/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 12:05:59 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">83fd2dcb79fb3dc2b04ef69bd32bc723</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264037/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 09:02:59 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c83cf199f5f9db13b05f786c6f298770</guid>
				<title>&quot;তোমার আকাশ আমার মেঘ &quot; উপন্যাসের পর্বগুলো কি এখানে নিয়মিত দিবো? পড়তে চান আপনারা?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264031/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 08:57:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;তোমার আকাশ আমার মেঘ &#8221; উপন্যাসের পর্বগুলো কি এখানে নিয়মিত দিবো? পড়তে চান আপনারা? </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2fd29f64014b4a67bfd878eab8385761</guid>
				<title>তিতা ফুল and Kazi Adam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263942/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 05:02:45 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">919234c4a8499e5851ab915d057aed04</guid>
				<title>“ইন্তিহা, তুমি কি ওয়াশরুমে আছ?”
মায়ের ডাকাডাকিতেও বিন্দুমাত্র শব্দ করল না ইন্তিহা। ওয়াশরুমে দরজা বন্ধ করে সেই যে বসে আছে, ২ ঘণ্টা হয়ে যাচ্ছে এখনো বের হওয়ার নাম নেই। এদিকে পুরো বাড়িতে হৈচৈ পড়ে গেছে কনে পালিয়ে গেছে বলে। কয়েকজন তো ইন্তিহার প্রেমিককে চেনে বলেও দাবি করছে।
এদিকে আবরার বেচারার অবস্থা দেখার মতো হয়েছে। না পারছে কিছু বলতে, আর না পারছে সইতে। ওকে বসিয়ে রেখে ঘণ্টাখানিক হলো সবাই বাইরে গেছে। এখনো কেউ আসছেও না, কিছু বলছেও না। এদিকে বাসায় যাওয়ারও সময় হয়ে গেছে। একটু পর হাসিবকে দেখে আশার আলো দেখল খানিকটা, কিন্তু তার কাছ থেকে এমন কিছু শুনবে—এ সে কল্পনাও করেনি।
“ইন্তিহাকে খুঁজে পাচ্ছি না গত ২ ঘণ্টা যাবত।”
এই একটা কথাই যেন যথেষ্ট ছিল ছেলেটার আত্মা কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য। কিছু বলতে চেয়েও মুখ থেকে কোনো শব্দ বের করতে পারল না সে। হাসিব তার অবস্থা দেখে দ্রুত তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করল।
“আমার মনে হচ্ছে ও কোথাও লুকিয়ে আছে। তোমার সাথে দেখা করার কথা শুনে নার্ভাস হয়ে গেছে হয়তো। আমি আমার বোনকে খুব ভালো করেই চিনি। ও আর যাই হোক, আমাদের সম্মানহানি হয়—এমন কিছু করার মতো মেয়ে না।”
আবরারকে আশ্বস্ত করে বিদায় জানিয়ে হাসিব নিজেই উঠে এলো দোতলায়। পুরো রুমে ভালোমতো চোখ বুলিয়ে ওয়াশরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় মৃদু টোকা দিয়ে বলল,
“আবরার চলে গেছে। বের হ।”
২ মিনিট না পেরোতেই দরজা খুলে গেল। ততক্ষণে আসিফ সাহেব আর আমিনা বেগমও এসে দাঁড়িয়েছেন সেখানে। ইন্তিহার নত মুখ দেখেই আমিনা বেগম আর নিজেকে সংবরণ করতে পারলেন না। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চড় বসিয়ে দিলেন মেয়েটার বাম গাল বরাবর। মুহূর্তেই পুরো রুমে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সপাটে আরেকটা চড় পড়ল ডান গালেও। হাসিব এবার দ্রুত ছুটে এসে বোনকে নিজের পেছনে রেখে হুংকার দিয়ে উঠল।
“বোধশক্তি পুরোটাই কি লোপ পেয়েছে তোমার? আজ বাদে কাল তো চলেই যাবে, আজকের দিনেও গায়ে হাত তুলতে হলো তোমার?”
হাসিবের চিৎকারে আরও বেশি তেতে উঠলেন তিনি।
“সমস্ত আত্মীয়স্বজনের সামনে আমার মান-সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে এই মেয়ে! এর পরেও একে ছেড়ে দিব আমি? ওকে আজকে আমি কবর দিব। ছাড় তুই!”
হাসিব কোনোমতে উনাকে সেখান থেকে নিয়ে গেল। আসিফ সাহেবের প্রস্থান ঘটেছে বহু আগেই। ইন্তিহা কিছুক্ষণ ঢলতে ঢলতে সোফার ওপর ধপাস করে শুয়ে পড়ল। নিঃশব্দে। নড়চড় করার শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই যেন। চোখ বন্ধ করে পড়ে রইল সে। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া এক ফোটা অশ্রুও যেন তাকে দেখে উপহাস করে উঠল। প্রতিবাদ করার শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই যে!
মধ্যরাতে চুপিচুপি তার ঘরে এলো মালিহা। ইন্তিহার মামাতো বোন সে। কাজিনদের মধ্যে ইন্তিহাকে সবচেয়ে বেশি আদর করে মেয়েটা। ইন্তিহার অমন নিথর হয়ে সোফায় শুয়ে থাকা দেখে বুকটা হু হু করে উঠল মেয়েটার। যেই মেয়েটা কিনা মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এই বাড়ির অতিথি হয়ে যাবে, তার আজ এই অবস্থা! ইন্তিহাকে আলতো করে জাগিয়ে উঠিয়ে বসাল সে। এমন রাতের বেলায় মালিহাকে এখানে দেখে অবাক হলো কিছুটা। সেসব পাত্তা না দিয়ে তাকে হাত-মুখ ধুইয়ে ভাত খাইয়ে দিতে লাগল সে। ও প্রথমে খেতে না চাইলেও বড় বোনের জোড়াজুড়িতে আর না করতে পারল না।
“তোর ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নাই। শুধু একটা দোয়া করব—আবরার যেন কোনোদিন তোকে কষ্ট না দেয়। তোর জীবনের এই একাকীত্ব, কষ্টগুলো সরে গিয়ে সুখের বাতাস বয়ে আনুক।”
বোনের কথায় কোনো জবাব দেয় না মেয়েটা। শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। কারো প্রতি এতটা আশা রাখা কি ঠিক? যাই হোক না কেন, মানুষ তো! তারা সুখ দিয়েও তার খোটা দিতে ভোলে না।
খাওয়া শেষ করে একটা মেহেদির কোণ নিয়ে খাটের ওপর বসে মালিহা। এটা দেখে ইন্তিহা যারপরনাই অবাকের চরম শিখরে পৌঁছায়। এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরেও ও নাকি এখন এই মধ্যরাতে মেহেদি পরবে হাতে, ভাবা যায় এসব! ও কিছু বলার আগেই মালিহার স্পষ্ট সতর্কবাণীতে থেমে যেতে হয়।
“একদম কোনো কথা শুনতে চাই না! বিয়ে কালকে তোর। বিয়ের সময়ে মেহেদি ছাড়া হাত দেখতে কেমন লাগবে বল? যাই হয়েছে ভুলে যা। শুধু একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এখন এই ব্যাপার নিয়ে আর মন খারাপ করে থাকলে কি হবে বল? দেখি, হাস একটুখানি!”
ইন্তিহার মুখে হাসি আসে না। আসবেই বা কীভাবে? জোর করে কি আর হাসা যায়? মালিহা তাকে এটা-ওটা বলে মন ঘোরানোর চেষ্টা করছে। এদিকে মেহেদির রঙে ভরে উঠেছে দুই হাতের আনাচ-কানাচ।
দরজার ওপাশ থেকে বোনের একটুখানি হাসিমাখা মুখ দেখে বুকের ওপর থেকে একটু হলেও ভারী বোঝা নামে হাসিবের। মালিহাকে সে-ই এতরাতে পাঠিয়েছে খাবার নিয়ে। ছোট থেকে ভীষণ আদরে আদরে বড় করেছে বোনটাকে। কখনো বাবা-মায়ের চোখ রাঙানিও সহ্য হতো না বোনের প্রতি। অথচ রাত পোহালেই তাকে পর করে দিতে হবে! কী অদ্ভুত নিয়ম পৃথিবীর। এই রাতটা কি আর একটুখানি দেরিতে শেষ হতে পারত না? ছোট বোনটা কি আরও একটুখানি দেরিতে বড় হতে পারত না? পারত না বোনটাকে আজীবনের জন্য নিজের কাছে, এই বাড়িতে রাখতে? দুনিয়া এত নিষ্ঠুর কেন?
পুরুষ মানুষের নাকি কাঁদতে নেই, নইলে তারা বীরের স্বভাব হারিয়ে ফেলে। বুকে পাথর চেপেও নাকি গম্ভীর হয়ে থাকতে হয় তাদের। তাই তো সেও কাঁদতে পারে না, কাঁদে না।
“এই, তোর বরের পুরো নাম জানিস তুই?” 
মালিহার কথায় হঠাৎ চমকে উঠল মেয়েটা। এ আবার কেমন কথা! লোকটার পুরো নাম কী—সেটা ও জানবে কেমন করে, আশ্চর্য! তাকে চুপ করে থাকতে দেখে ঘরময় হেসে উঠল চঞ্চল মেয়েটা।
“মানে কি? কালকে বিয়ে, আর তুই কিনা বলছিস বেচারার পুরো নামটাই জানিস না? আবরার শুনলে কিন্তু একদম হার্ট অ্যাটাক করবে!”
মালিহার কথায় আনমনে মুখ ভেংচি কাটে সে। উনার পুরো নাম জানতে বয়েই গেছে ওর! ও তো এখনো দেখেইনি পর্যন্ত লোকটাকে। একথা শুনলে কি করবে মেয়েটা? কথা বলতে বলতেই তার হাতের তালুতে ফাঁকা জায়গায় গোটা গোটা অক্ষরে “আবরার সোহরাব” নামটা ভীষণ দর্প ভরে জায়গা করে নেয়। এক অচেনা পুরুষের নাম জায়গা করে নেয় ইন্তিহার হাতে। হয়তো আর কিছু ঘণ্টার ব্যবধানে নামটি তার হাত ছাড়িয়ে হৃদয়ের লুকানো কুঠুরিতেও বীরদর্পে পৌঁছে যাবে, কিংবা হয়তো অনেক আগে থেকেই সেখানে তার আধিপত্য বিস্তার করে রেখে দিয়েছে!
মালিহা যাওয়ার পর বিছানায় শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মেয়েটা। ঘুম আর ধরা দেয় না দুচোখের পাতায়। অদ্ভুত এক কারণে তার যেন বিয়ে নিয়ে কোনো অনুভূতিই হচ্ছে না। না ভালো, না খারাপ। তবু সুপ্ত একটুকরো আশা এখনো মোমবাতির শিখার ন্যায় জ্বলছে-নিভছে। যদি আবরার লোকটা তার স্বপ্নে দেখা পুরুষটা হতো! তাই তো আজ সাহস পায়নি লোকটার মুখোমুখি হতে। যদি তিনি স্বপ্নপুরুষ না হতো? আর যদি হতোও, তাহলে তো ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারত না! মরে যাওয়ার উপক্রম হতো না? লোকটার গভীর সেই কণ্ঠস্বরই তো তার পুরো সত্তা কাঁপিয়ে দিয়েছিল, জ্বর চলে এসেছিল। আর বিয়ের পর তার মুখোমুখি কীভাবে হবে ও?
এমন সব আজগুবি চিন্তা করতে করতে আর ঘুমাতে পারেনি একটুও। সকালের মৃদু রশ্মি যখন জানালার পর্দা ভেদ করে রুমের মেঝেতে নিজের অস্তিত্ব জানান দিল, ইন্তিহার ধ্যান  ভাঙল সে সময়। হালকা আলোয় হাত দুটো চোখের সামনে এনে ভালো করে দেখতে লাগল—সুন্দর ডিজাইন। “আবরার সোহরাব” নামখানার ওপর নজর পড়তেই শিহরিত হলো সর্বাঙ্গ। এক পুরুষের নাম! তার হাতে! সাহস কত তার! মুখস্থ হওয়া নামটা সে আবার পড়ল, বারবার পড়ল, প্রতিটা শব্দ পড়ল। নতুন কিছুই পেল না, তবুও পড়ল।
খানিক বাদেই উঠে অজু করে আজানের দ্বিতীয় জবাব দিল! সিজদায় অকারণ বেশি সময় নিল। শেষে দুহাত তুলে একেবারেই শব্দহীন রইল। কোনো বাক্য নয়, কোনো আর্জি নয়; শুধু চুপচাপ রবের দরবারে নিজের অস্তিত্বের জানান দিল। কী বলবে আর, কী-ই বা চাইবে? যে তার জীবনের সব সিদ্ধান্তের ভার, সমস্ত আয়োজনের অভিভাবক হিসেবে সৃষ্টিকর্তাকেই মেনে নিয়েছে, তার আর কী-ই বা চাওয়ার আছে?
আছরের কিছুক্ষণ আগেই পুরো বাড়িতে ডাক উঠেছে, ‘বর এসেছে, বর এসেছে’ বলে। বাচ্চাকাচ্চা সব প্রধান ফটকের কাছে দৌড়ে যাচ্ছে। এদিকে বাড়ির ভেতরে বরপক্ষের জন্য আয়োজনের ধূম পড়ে গেছে, সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরোদমে। এর মাঝে কে যেন এসে ইন্তিহাকেও খবরটা দিয়ে যেতে ভুলল না। চিন্তারত রমনীর এবার যেন মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। ও এখনো বুঝতে পারছে না—এসব কী হচ্ছে তার সাথে! কেন অচেনা এই ভদ্রলোকের কথা শুনলেই তার হৃদস্পন্দন লাফিয়ে বেড়ে যায়? কোন সে কারণে আজকাল চিন্তার বেশিরভাগ জুড়েই তার বসবাস? ‘বর এসেছে’—এই একটা কথাই যেন যথেষ্ট ছিল হৃদছন্দ অনিয়ন্ত্রিত করে দেওয়ার জন্য, কপালে সূক্ষ্ম ঘাম চিকচিক করার জন্য।
কবুল বলার মুহূর্ত পর্যন্ত তার মনে হয়েছিল, এটা বুঝি সব মেয়েদেরই হয়; এ বুঝি সাধারণ এক ঘটনা। তবে বরের মুখখানা প্রথমবার সম্মুখপানে দেখতে পাওয়ার পর আর তেমনটা মনে হয়নি। তখন তো মনে করার মতো অবস্থায়ই ছিল না ও। ভরা মজলিসে অজ্ঞান হয়ে নাটকীয়তার ষোলোকলাই যেন পূর্ণ করে দিল।


তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব-৩ 
-তিতা ফুল 


(গঠনমূলক মন্তব্য করলে উৎসাহ পাবো)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263925/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Aug 2026 03:28:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“ইন্তিহা, তুমি কি ওয়াশরুমে আছ?”<br />
মায়ের ডাকাডাকিতেও বিন্দুমাত্র শব্দ করল না ইন্তিহা। ওয়াশরুমে দরজা বন্ধ করে সেই যে বসে আছে, ২ ঘণ্টা হয়ে যাচ্ছে এখনো বের হওয়ার নাম নেই। এদিকে পুরো বাড়িতে হৈচৈ পড়ে গেছে কনে পালিয়ে গেছে বলে। কয়েকজন তো ইন্তিহার প্রেমিককে চেনে বলেও দাবি করছে।<br />
এদিকে আবরার বেচারার অবস্থা দেখার মতো হয়েছে। না পারছে কিছু বলতে, আর না&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263925"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263925/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78a8a3aee84db03382bddcc2d2697987</guid>
				<title>“নীলাবতীকে এমন বিষণ্ণতায় একদম মানায় না। হাসবে টুকটাক। মোহনীয় লাগবে।”
এতটুকুই! অবাক হলো ইন্তিহা। এই চিরকুটটা কে পাঠাতে পারে? ও তো বাড়ির বাইরেও যায় না তেমন, তাহলে? তেমন কেউ তো নেই ওর যে এমন চিঠি দিতে পারে। হুট করে ওর মনে পড়ল আজকের কথাটি। ওর তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তাহলে আবরার নামের লোকটাই দিল এটা? শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল তার। কথা নেই বার্তা নেই, হুট করে চিরকুট পাঠিয়ে দিল! তাও কি অদ্ভুত ধরনের লেখা, আশ্চর্য! অবচেতনভাবেই চিঠির খামটা পুনরায় হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল সে। আর কিছুই নেই। চিরকুটটা তুলে আবার পড়ল, পুনরায় পড়ল, বারবার পড়ল। তবে ইন্তিহা দেখেনি পুরুষটিকে। একবারের জন্যও চোখ তুলে দেখে নেয়নি তাকে। আনমনা ইন্তিহা এবার চিরকুটটা নিয়ে রেখে দিল যত্ন করে। পোড়া নোটবুকটা হয়তো এই চিরকুটের অপেক্ষাতেই উন্মুখ হয়ে ছিল এতক্ষণ!
সে রাতে আর ঘুম ধরা দিল না ইন্তিহার চোখে। বারবার মাথায় আসছিল নীল নোটবুকটার কথা। লাইব্রেরিতে আরেকবার যাওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এত মানুষের মাঝে আজ আর যাওয়া হলো না। ভেবে রাখল কাল সকালেই গিয়ে একবার দেখে আসবে।
...
শ্রাবণের মেঘ ডাকা সন্ধ্যা। একটু পর পর বাইরে বজ্রপাতের শব্দ হচ্ছে। সাথে দমকা হাওয়া বইছে ভীষণ। মেঘের ছায়া যেন রাতের অন্ধকারকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ ৬ তারিখ। বিয়ের তড়জোড় চলছে পুরোদমে। চলবে নাই বা কেন, এই পরিবারের একমাত্র আদরের মেয়ের বিয়ে কিনা। সব আত্মীয়-স্বজনরা চলে এসেছে প্রায়। পুরো বাড়িতে যেন হইচই চলছে একপ্রকার। আলোকসজ্জা করা হয়েছে আরও ২ দিন আগেই।
এর মাঝে অন্তর্মুখী ইন্তিহার খোঁজ পাওয়া যেন আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতোই। নিজের মতো থাকা, লাইব্রেরিতে আসা-যাওয়া আর পুকুরঘাট ছাড়া আর কোথাও যেন সে অস্তিত্বহীন। সেদিনের পর থেকে চিঠিওয়ালার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইন্তিহা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না, এটা আবরারেরই দেওয়া নাকি ভিন্ন কারও। আবার এমনও তো হতে পারে, যে অন্য কারও চিঠি ওর হাতে এসে পড়েছে। তাই এই নিয়ে আর মাথা ঘামায়নি। আসলে ও নিজের মাঝেই নেই আপাতত। চারপাশে কি হচ্ছে না হচ্ছে, কে কি বলল, কে কি করল—কিছুতেই খেয়াল নেই ওর। শুধু একটা কথাই ঘুরেফিরে মাথায় আসছে, লাইব্রেরিতে নোটবুকটা কে রাখল সেদিন? স্বপ্নের মতোই কেন হতে হবে সেটাকে?
“ইন্তিহা আপু, তোমার বর এসেছে দেখে যাও।”
 মামাতো বোন ঈশানীর এমন কথা শুনে ইন্তিহা আঁতকে উঠল। এ আবার কেমন কথা? ওর বর মানে? বিয়েই তো হলো না এখনো। তাছাড়া এই আবরার নামের পুরুষটি কেমন অদ্ভুত! যার সাথে তার বিয়ে হচ্ছে, তার সাথে একবার কথা বলারও প্রয়োজন বোধ করল না। নাকি তারও মত নেই এই বিয়েতে! এই একটা ভাবনাই যেন যথেষ্ট ছিল ওর মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য। কোনো পুরুষ, যে কিনা ওকে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করতে চাইবে না, এমন কারও সাথে কিভাবে ভালো থাকবে ও? কিছুতেই সম্ভব না, একদমই না। এতক্ষণে ইন্তিহার মনে হলো তার সাথে একবার অন্তত কথা বলে দেখা দরকার। কিন্তু কিভাবে কি? তিনি নিজ ইচ্ছায় কথা বলতে না চাইলে কিভাবে হবে?
“ইন্তু আপি, তোমার বর দিয়েছে।”
ইশিতার হাতে নীল খামটা দেখে সেদিনের কথা মনে পড়ে গেল। সেদিনও তো এমনই একটা খাম দিয়েছিল নাবিহার হাতে। তাহলে কি সেটা আবরারই ছিল? কি আশ্চর্য! লোকটা এমন কেন? পুরোটাই অদ্ভুত। সেদিন দেখতে আসার দিনও কোনো প্রশ্ন করেনি ওকে। এমনকি একটা কথাও বলেনি পুরো সময়টাতে। অথচ ওকে চিঠি দিয়ে যাচ্ছে! তাও আবার এমন সব চিঠি, যেন কত বছরের পুরোনো পরিচিত তারা!
ভাবাভাবি শেষ হলে চিঠির নীল খামখানা সযত্নে খুলল সে। ভেতরে আজও একজোড়া ঝুমকো সাথে একখানা চিরকুট। আজকের ঝুমকোজোড়া নীল রঙের। ইন্তিহা মনে মনে লোকটার পছন্দের প্রশংসা না করে পারল না। চিরকুটখানা খুলতেই গোটা গোটা অক্ষরে লেখাগুলো যেন ছুঁয়ে দিল তাকে—
“শোনো  নিলাঞ্জনা!
জমানো সব কথার নদী নাহয় বিয়ের পরই বাঁধ ভাঙ্গুক। তার আগ পর্যন্ত তবে অপরিচিত হয়েই রইলাম! অপরিচিত এই আমিটার থেকে পাওয়া ছোট্ট উপহারটুকু যত্নে রেখো।আর যত্নে রেখো চিরকুটে পাঠানো একটুকরো মেঘকেও!”

নাহ, আর পারা যাচ্ছে না। এ কেমন অনুভূতি! এ কেমন হৃদয় ! ৫ বছরে জমানো হাজার অনুভুতির পর্বতকেও টলোমলো করে দিচ্ছে ছোট্ট একখানা চিরকুট !এই  প্রথমবার ওর মনে হলো আবরার নামক মানুষটিকে একবার দেখা দরকার। কেন দরকার, তাও জানা নেই, তবে মনে হচ্ছে দেখা খুব প্রয়োজন। আজ পর্যন্ত কতোজন তাকে চাইলো, কিন্তু কারো প্রতি হৃদয় সায় দিলো না। একটুখানি অনুভূতিও জাগল না। অথচ এটুকু একটা চিরকুটের কিনা এতোখানি সাহস! একেবারে বোধশক্তি এলোমেলো করে দেয়। 
দোতলার বারান্দা থেকে লুকিয়ে একটুখানি দেখার চেষ্টা করলো সে। লোকটা এতক্ষনে চলে গেলো কিনা তাও জানা নেই। তবুও কৌতূহলবশত দেখার চেষ্টা । কিছুক্ষন উঁকিঝুঁকি দিয়েও যখন কাউকেই দেখতে পেলো না, তখন হতাশ হয়ে চলে যেতে নিয়েও হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। এ কেমন কণ্ঠ! মারাত্মক গভীর প্রতিটা শব্দ , বাক্য। কি বলল তা খেয়াল না করলেও এই কণ্ঠস্বর গেঁথে গেলো মস্তিষ্কে।  নিউরনে নিউরনে জানান দিলো তার গহীন কম্পাঙ্ক। বেখেয়ালি মেয়েটা জানতেই পারলো না অপরপক্ষের উপস্থিতি। নিঃশব্দ পদচারনা আর বিদায়ের আকুতি। শ্রাবণের মেঘ ডাকা ভীষণ বৃষ্টির শব্দও যেন তার জাগ্রত মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারলো না বিন্দুমাত্র। মাথায় শুধু গম্ভীর সে কণ্ঠস্বর বাজছে। একবার, দুইবার, বারবার বাজছে। স্বস্তি দিলো না মেয়েটাকে  একমুহূর্ত।
 
“উনাকে তো আমি একবারও দেখিনি। আচ্ছা, এই লোকটাই কি আমার স্বপ্নপুরুষ হতে পারে না ? “

বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেলো মেয়েটার সমস্ত বদনে। মাথা ঘুরাতে লাগলো যেন। এ কেমন ভাবনা! এসব কিকরে সম্ভব, আশ্চর্য ! জানালার ওপাশে যতটা ঝড় আর বজ্রপাত ছিল, ইন্তিহার হৃদয়ে উঠা ঝড়ের তুলনায় সেসব যেন ফিকে হয়ে গেলো। সে রাতে গা কাঁপিয়ে ভীষণ জ্বর এলো মেয়েটার। পাশে কেউ ছিল না। মাথায় পানি দেয়ার জন্য উঠতে চেয়েও উঠতে পারলো না সে । কাউকে ডাক দেয়ার মতো অবস্থাতেও নেই যে। অবশ্য ও এভাবেই অভ্যস্ত । কতো রাত এমন জ্বরে অচেতন হয়ে থাকত, সকালে সবাই জানত হয়ত। কিন্তু রাতে কেউ জানতেও পারতো না কিছু। ভীষণ অন্তর্মুখী কিনা মেয়েটা। না বললেও সূক্ষ্ম একটা ইচ্ছা আছে তার। কেউ একজন এমন আসুক, যে তার অমন মুহূর্তগুলোতেও একটুখানি মাথায় হাত রাখবে । গভীর রাতে জ্বরে অচেতন হয়ে থাকলে মাথায় একটু পানি দিয়ে দিবে। মুখ ফুটে না বললেও অসুস্থতা টের পেয়ে যাবে। অকারণ খুব বকাঝকা করবে। দিনশেষে বাকি সবার মতো অভিমান ভাঙ্গানোর একজন মানুষ থাকুক। মানুষ তো, তাই হয়তো বাকিদের মতোই এমন সব আজগুবি ইচ্ছা সেও বুনে।
    
— 

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো। আজ বাদে কাল বিয়ে।সময়গুলো এতো দ্রুত চলে গেলো যেন সেদিন মাত্র বাতিওয়ালা জুতো পড়ে সারাবাড়ি মাতিয়ে রাখতো মেয়েটা। এইতো, মাত্র কিছুদিন আগেই তো বোর্ড পরীক্ষায় পুরো জেলায় সপ্তম হওয়ার আনন্দে বাড়ির প্রতিটি দেয়ালেও আনন্দের ছড়াছড়ি ছিল। সেদিন মাত্র স্নাতক শেষ করে পড়াশুনার চাপ শেষ বলে হাঁপ ছাড়ল মেয়েটা। আর আজ বাদে কাল কিনা এই বাড়ির অতিথি হয়ে যাবে সে! শুধু একটা দিনের ব্যবধানে। 

লাইব্রেরি বারান্দায় কাঠের চেয়ারে বসে বই পরছিল ইন্তিহা। এমন বিকেল বেলায় অবশ্য বই পরার কথা নয় ওর। তাও আবার লাইব্রেরি বারান্দায় বসে। আজ বাদে কাল চলে যাবে এ বাড়ি থেকে। বাড়ির চেয়েও এই জায়গাটা ওর ভীষণ আপন, খুব পরিচিত মনে হয়।আর কখনো হয়তো কারনে অকারনে এখানে এসে বসে থাকা হবে না। অপেক্ষার প্রহরও গোনা হবে না। ভীষণ কান্না পাচ্ছে ওর। ইচ্ছে করছে সমস্ত আয়োজন বৃথা করে দিয়ে চিৎকার করে সবাইকে বলতে, 

“ শুনছো তোমরা ? যাবো না আমি কোথাও। কোথাও যাবো না। এই লাইব্রেরি বারান্দায় অপেক্ষার প্রহর গুনে কাটিয়ে দিবো পুরো জীবন। নীল সে নোটবুকের গন্ধে মেখে থাকব সর্বদা। কল্পলোকে ভেসে বেড়াব সারাটাক্ষণ। “

কিন্তু বলা হয় না কিছুই। বাস্তবতার কাছে এসব চিৎকার উপহাস ছাড়া কিছুই না। অবশ্য ওর নিজের পুরোটাই তো উপহাসে ভরা। অপেক্ষার শেষ প্রহরে যাওয়ার সাধ্য নেই যে। স্বপ্নকে আঁকড়ে বেঁচে থাকতে পারে কি কেউ? পারে না তো। 

“ তুমি এইসময়ে এখানে কি করছো ?”

বাবার কথায় আচমকা ভাবনার জাল ছিঁড়ে বাস্তবে আসলো ইন্তিহা। গভীর ভাবনায় এতোটাই মগ্ন ছিল যে, কখন তিনি ওর কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতেই পারেনি। তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়াল চেয়ার থেকে। 

“ এইমাত্রই এসেছি আব্বু। চলে যাচ্ছি এক্ষুনি।”

“আবরার এসেছে। তোমার সাথে কথা বলতে চাইছে। বাড়িতে যাও ।”

কথাটা বলেই আসিফ সাহেব চলে গেলেন সেখান থেকে।  বজ্রপাতে আহত মানুষের মতো দাড়িয়ে থাকা ইন্তিহার দিকে তাকানোর ফুরসত নেই যে তার!

তোমার আকাশ আমার মেঘ 
পর্ব-২ 
-তিতা ফুল</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263762/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 16:27:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“নীলাবতীকে এমন বিষণ্ণতায় একদম মানায় না। হাসবে টুকটাক। মোহনীয় লাগবে।”<br />
এতটুকুই! অবাক হলো ইন্তিহা। এই চিরকুটটা কে পাঠাতে পারে? ও তো বাড়ির বাইরেও যায় না তেমন, তাহলে? তেমন কেউ তো নেই ওর যে এমন চিঠি দিতে পারে। হুট করে ওর মনে পড়ল আজকের কথাটি। ওর তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তাহলে আবরার নামের লোকটাই দিল এটা? শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল তার। কথা নেই ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263762"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263762/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1d325fedcc4500b9e6bce7e22cbb281c</guid>
				<title>তিতা ফুল and শোয়েব ইবনে শাহীন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263761/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 16:06:15 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a9f0559e572f2619bd6e7efb07414be9</guid>
				<title>তিতা ফুল and মামুনর রশীদ রাজু are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263748/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 12:24:12 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b470b173a0acbd5e454f9c6f8575268d</guid>
				<title>তিতা ফুল and প্রিন্স ঠাকুর are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263710/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 09:24:52 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ecea826a4acd5dd84d0246babcbb5fea</guid>
				<title>তিতা ফুল and অনুভূতির ডাইরি are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262908/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 18:03:14 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8c489d92afa456bdf534349ba48d9b05</guid>
				<title>তিতা ফুল and Azaha Sultan are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262784/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 13:51:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9f78b04da3426fa8e7d7cec99646cf9d</guid>
				<title>তিতা ফুল and Md Nurnobi islam sumon are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262778/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 13:27:42 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5d5d12724a54b39a79bd714adfbe40f4</guid>
				<title>তিতা ফুল and অনন্যা অরী ( ছদ্মবেশী ) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262775/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 13:18:43 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">81550c7f6814cf1792a551d3a58a61cd</guid>
				<title>তিতা ফুল and মিহির চৌধুরী ইমন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262757/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 12:36:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6b162059556438ff7f731778786a5016</guid>
				<title>তিতা ফুল and মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/262739/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Aug 2026 12:21:56 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>