-
সুখ
আসলে পান-চুরুটের সাথে আমাদের গ্রামবাংলার একটি ঐতিহ্য জড়িত। সংস্কৃতির বিপুল প্রকাশের মাঝে এটি বাঙালির একপ্রকার পরিচয়বাহক। মূলত যা বিড়ি তাই চুরুট, আমি না খেলেও ক্ষেতের আলে বসে বা ধান কাটতে কাটতে কামলাগোছের মানুষের এই সুখটান আমাকে সুখী করে, মাটির গন্ধে দেহ জড়িয়ে দেয়। আমি অনায়াসে তাদের সাথে বসতে পারি, সঙ্গে দু-দণ্ড আলাপ আমাকে যেন অবিরাম রিমঝিম বৃষ্টির সুখ এনে দেয়। সহজতা,সরলতা, অবারিত স্মিত হাসির প্রাণোচ্ছলতায় আমি তাদের স্বভাবে বিলিন হতে পারি।
একটি সকাল, যখন নিষ্প্রভ রোদে এখানে ওখানে দৃষ্টির আড়ালে একটা-দুটো পাখি ডাকছে, তখন কখনো আমি তাদের সাথে পথে হেঁটে চলেছি বা টং-পাতা চালা ঘরে বসে গল্পে মজেছি।
নতুন ধান উঠেছে ঘরে, ভানতে এনেছি। রোদে পোড়া গা, তবে প্রাণচঞ্চল মজবুত গড়নের লোকটি হাতুড়ির ঠকঠক-টংটং শব্দে মেশিনটা সারতে বসেছে ভানতে আনা ধানগুলোর জন্য। থেমে থেমে বড় বড় ঢেঁকুর তুলছে, মাত্রই শুকনো লঙ্কা-ডলা আর সঙ্গে পোড়া শুঁটকির পান্তা সাঁটিয়েছে হয়তো। খিলি পানের রস-রাঙা মুখে চুরুটের ধোঁয়া। আমি অনিমেষ চাহনিতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছিলাম তার অবয়বে উদ্ভাসিত প্রশান্তি জুড়ে,ভেতরের এক অপার্থিব,উদ্বেলিত মাতালতায়।4 Comments
Friends
Drako Shajib
@drako
মনির হোসেন
@monirhossen
Syed Farah
@syedfarah
Tahin Bhuiyan Chayapothik
@tahinbhuiyanchayapothik
মো: নাজমুল আখতার
@faith
Md Nurnobi islam sumon
@mdnurnobiislamsumon
শ.ম.ওয়াহিদুজ্জামান
@sharifmuhammadwahiduzzaman
আনিস কবির
@aniskabir
Azaha Sultan
@azahasultan


যান্ত্রিকতার ভিড়ে এমন মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষের গল্পগুলো প্রাণের সঞ্চার করে। দারুণ লিখেছেন!