<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Redwan Khan | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/redwan-khan/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/redwan-khan/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Redwan Khan.</description>
	<lastBuildDate>Sat, 06 Jun 2026 03:13:08 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">c805c477e2f1f1d113ddb107206873c1</guid>
				<title>নিষিক্ত মৃত্যু নিয়ে ভ্রুণজলে সাঁতার কাটছে মানুষ  

রেদওয়ান খান

নিষিক্ত মৃত্যু নিয়ে ভ্রুণজলে সাঁতার কাটছে মানুষ । 
সাঁতরে সাঁতরে সে খুঁজে পায়– জীবন– যুদ্ধবাজ এক ভুবন-ডাঙা ।
সবুজ তৃণের বিছানায় হামাগুড়ি খায় ; শিশুতোষ কল্পনায় পায়ের পাতায় পদ্ম
স্বাপ্নিক নারীদের স্তন-বোঁটা শুকিয়ে এলে
ঝিঁঙার বিচির মতো দুধদাঁত ভেঙে যায় ; 
স্থবির পৃথিবীর উঠোনের কোণে 
এক্কা-দোক্কা , চিঁ-কুঁতকুঁত , চোখপাড়ানি চিনা জোঁক– খেলে একটি শিশু 
খেলতে খেলতে শেখে ’পরিচয়’– কী করে তুলতে হয় ঘৃণার দেয়াল–
শেখে কিভাবে ছুঁড়তে হয় সহশিশুটির মুখে এক দলা থুতু !
খেলতে খেলতে শেখে– কী করে নিন্দে করতে হয় সবচেয়ে সুন্দর– কালো বালিকার
খেলতে খেলতে শেখে– কী করে নিজের মায়ের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিতে হয় বর্ণ-ভাষা-ঢিল–
জননীর আঁচলে কিরীচ ফুঁড়ে দিয়ে সে উচ্চারণ করে শ্লোকঃ ‘ওই চুতমারানী , ভাত দে !’

নিষিক্ত ভ্রুণগুলোরই পোষাকি নাম ‘মানুষ’– সে-এক গোত্র  অথবা যুদ্ধবাজ শয়তান ।
এক হাতে হিরোশিমা , আরেক হাতে নাগাসাকি–
পারমানবিক ব্যাঙের ছাতার নিচে এসে ভ্রূণগুলো কী-রকম কিলবিল করে !
পারলৌকিক বিশ্বাস জমাট বেঁধে উঠলে ধড়ফড়িয়ে গড়গড়িয়ে নেমে আসে
’সোনার মদিনা’ থেকে বাংলাদেশ
’লড়কে লেঙ্গে’ থেকে ’আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি !’
কহর দরিয়া থেকে পশ্চিম তীর কিংবা ইউক্রেনের শীতল অরণ্য–
সর্বত্র ’ভালোবাসা’ ’ভালোবাসা’ বলে কফিন-চুম্বনে চোখ বুঁজে থাকে
বারো দিনের শিশুরা । 

সৌভাগ্যক্রমে এই শিশুদের জীবনের কোনো স্মৃতি নেই ;
’জীবন কী ?‘– এই প্রশ্নের উত্তরে তাহারা কুড়িয়ে নিয়েছে নিরুত্তর মৃত্যুর পাহাড় ।

হেরা পর্বতের সিঁড়ি বেয়ে , ডাকাতিয়ার কিনারে ঘেঁষে গুন টেনে হেঁটেছিল যাঁরা–
সেইসব কৃষকের শ্রমিকের মগজ আগুনতপ্ত তাফাল– টগবগিয়ে ফুটছে ;
লক্ষীবিলাস ধানের বদলে মানুষের মাংসের পদ রান্না করছেন রাজনীতিবিদগণ–
ফলে কলিজা-পোড়া গন্ধে গোলাপজামের বাগান এখন ম’ ম’ করছে. . .

ভ্রুণে নিষিক্ত মৃত্যু নিয়ে ভ্রুণজলে সাঁতার কাটছে মানুষ ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/225672/</link>
				<pubDate>Sun, 26 Jan 2025 18:08:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিষিক্ত মৃত্যু নিয়ে ভ্রুণজলে সাঁতার কাটছে মানুষ  </p>
<p>রেদওয়ান খান</p>
<p>নিষিক্ত মৃত্যু নিয়ে ভ্রুণজলে সাঁতার কাটছে মানুষ ।<br />
সাঁতরে সাঁতরে সে খুঁজে পায়– জীবন– যুদ্ধবাজ এক ভুবন-ডাঙা ।<br />
সবুজ তৃণের বিছানায় হামাগুড়ি খায় ; শিশুতোষ কল্পনায় পায়ের পাতায় পদ্ম<br />
স্বাপ্নিক নারীদের স্তন-বোঁটা শুকিয়ে এলে<br />
ঝিঁঙার বিচির মতো দুধদাঁত ভেঙে যায় ;<br />
স্থবির পৃথিবীর উঠোনের কোণে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-225672"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/225672/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">715e6426e9a71b80839de28c52ad1602</guid>
				<title>ঈদ অথবা আমার মায়ের বাড়ি
(ক’দিন পর ঈদ , কার ঈদ ? )
রেদওয়ান খান 

আমার উৎসবগুলো বহুকাল ধরে থমকে আছে মায়ের কবরে–
সেইখানে বাঁশঝাড় আর পাতাবাহারেরা কালের বাতাসে কাঁপছে ।

শুকনো ডাল থেকে হলদে পাতারা ঝরে যায় চৈত্র-দুপুরে– 
যেন আমারই মর্মরিত অশ্রু– টুপটাপ টুপটাপ ! 
দূরের আকাশে ভেসে ভেসে ডেকেছিল , কেঁদেছিল যে-শঙ্খচিল
সে-আমারই কলিজা বিদীর্ণ-করা দুঃখ– ঝিলমিল
আর আমি কিছুতেই নদীটি অতিক্রম করতে পারি না
ডাকাতিয়ার পাড়ে এসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি– চূর্ণ-বিচূর্ণ মহাকাল ।
হেমাঙ্গ মাঝির খেয়া নৌকাটি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে ; 
স্রোতহীন স্তব্ধ কচুরি ফুলের আড়ালে–
রোদ পোহাচ্ছে ভীষণ ঘুমকাতুরে মা কচ্ছপ আর তার সাতটি ছানা !
এই দৃশ্য দেখে আমি করতলে মুখ রেখে প্রার্থনায় ভেঙে পড়ে কাঁদছি…
এ-আমার ঈদের মোনাজাত ! 

এ-নদী পেরোলেই আমাদের বাড়ি ! 
সে-বাড়ির চিহ্ন হয়ে সবচেয়ে উঁচু দেবদারু গাছটি এখনও ডাকছে সন্ধ্যায় , ইশারায়
মনে হয়, অন্ধকার চরাচরে কেউ নাই, কিছু নাই , আমি একা– মহানিঃসঙ্গ , অসহায়…
এ-নদী পেরোলেই আমার শৈশব, ছেলেবেলা, যৌবন, আমাদের ময়দান– ঈদের জামাত ।
আমাদের মুখে মুখে , ক্ষুদ্র অন্তরে বেজে-ওঠা পরম বিশ্বাস , মৃদু স্বর– কলেমা সাহাদাৎ
এক হাতে নিবারণের মুড়ির মোয়া আরেক হাতে বাঁশি– ক্ষেতের আইল দিয়ে হেঁটে-যাওয়া ঈদ–
এ-সবই ছিল মায়ের বিবাহের শাড়িটির মতো নেপথালিন-মাখা লাজুক স্মৃতি– আনন্দ-সঙ্গীত ।
এ-নদী পেরোলেই আমাদের বাড়ি
পুরনো কাপড়ওয়ালাকে কে যেন বিকিয়েছে 
পরতে পরতে রোদমাখা আমার মায়ের বিবাহের শাড়ি !–
এই প্রশ্ন জেগে উঠলে আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে রাতারাতি এক  ধূ ধূ বালুচর
হারিয়ে ফেলেছি জুঁইফুল , মায়ের বানানো ঘর , আলোহীন সেই বাড়ি– ভীষণ ধূসর ।


আমার উৎসবগুলো বহুকাল ধরে থমকে আছে মায়ের কবরে ।
সেইখানে বাঁশঝাড় আর পাতাবাহারেরা কালের বাতাসে কাঁপছে ।

একদা মায়ের মুখর উঠোনের কোণে দাঁড়িয়ে আমি যেন একখণ্ড পাথর-ফলক
আমাকে খোদাই করে কালের রাখালেরা এঁকে যায় নূতন কালের ক্ষয় ।

টিনের ঘরের চাল খুলে নিয়ে গেছে অংশীদার হিংসুক করাতি-সময়–
শ্রাবণের বৃষ্টিতে সেই চালে বেজেছিল কত-না জীবনের লৌকিক সঙ্গীত
সে-ঘরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে একদিন, আতরের নীল কৌটা খুলে
ঈদের পবিত্র গন্ধে মাতাল হয়ে উঠতাম আমরা সাত ভাই-বোন
ময়দানে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরলে মা বলতেনঃ
’আয়, এট্টু সেমাই খেয়ে তোর নানাবাড়ি ঘুরে আয়–
তোর নানার লাইগ্যা রাঁনছিলাম কড়কড়া মুগডাল দিয়া লাল রাতার সালুন !’
তখন মায়ের চোখের সুরমায় ঝিলিক দিয়ে উঠতো গুচ্ছ গুচ্ছ জীবন ।

আমার উৎসবগুলো বহুকাল ধরে থমকে আছে মায়ের কবরে ।
সেইখানে বাঁশঝাড় আর পাতাবাহারেরা কালের বাতাসে কাঁপছে ।
আর আমি , কিছুতেই পার হতে পারি না নদী– মৃত ডাকাতিয়া
এ-নদী পেরোলেই অশ্বত্থ-বটের ছায়পথের প্রান্তে আমাদের বাড়ি !

কসকো সাবান মেখে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে এসে , ভেজা চুলে–
তাঁর পা ছুঁয়ে সালাম করলে , মা মিটিমিটি হাসতেন ( আহা কী মিষ্টি ! )
সেই হাসিই ছিল আমাদের সবচেয়ে উজ্জ্বল ঈদের বকশিস !
আর মা , একটু পর পর , ধোঁয়া-ওড়া রসুই ঘরে ফিরনী রাঁধতে রাঁধতে
ভেজা আঁচলের খুঁট খুলে খুলে বিলিয়ে দিতেন চকচকে সুগোল মোহর–
কোন দূর গাঁ থেকে আসা কোঁকড়াচুল হাজেরা বিবিকে
কোন দূর গাঁ থেকে আসা দু’ঠ্যাং-পোড়া ঠুণ্ডি বুড়িকে
কোন দূর গাঁ থেকে আসা ’চশমাধারী কালা বেটি’-কে
আর রমা পাগলার মায়াবী বৌটি, ঈদের বিহানে, টুক টুক পায়ে এসে–
লাজুক কণ্ঠে বলতেন, ‘ও বুবু, আমারে দিবেন না কিছু ফিতরা-যাকাত !’
মা নেই আজ, যেন বহুকাল থমকে আছে ঈদের নামাজ– দু’রাকাত ।

মানুষের জন্য মায়ের মমতা-ই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড়ো ঈদ ।

নামাজ শেষে এ-পাড়া ও-পাড়া বেড়ানো কিছুতেই শেষ হতো না আমাদের ।
মেয়েদের চুলের ফিতায় উড়ে বেড়াতো শিরিষ ফুলের মতো তুলতুলে শেষ বিকেলের ঈদ
তারপর , পাড়া বেড়িয়ে ঘরে এলে–
মাগরিবের নামাজের সালাম ফিরিয়ে মা, পুনরায় বলতেনঃ
’আল্লাহ, তুমি আরেকটা ঈদ পর্যন্ত সবাইকে সহী-সালামতে রাইখ্যো !’
কুপিবাতির কম্পমান আলো যেন মায়ের কথারই আলো ছড়িয়ে রাখতো–
জায়নামাজে ,
ঘরের চৌখুপী জানালায় ,
শিকায় ঝুলানো হলদে শসার দোলনায় ।

আমার উৎসবগুলো বহুকাল ধরে থমকে আছে মায়ের কবরে ।
সেইখানে বাঁশঝাড় আর পাতাবাহারেরা কালের বাতাসে কাঁপছে ।

মা যে-কড়ির বাটিতে করে সেমাই খেতে দিতেন, সে-বাটি এখন কার দখলে ?
মায়ের আঁচলে মোছা সেই চিহ্ন নিয়ে কারো কোনো কথা নাই, অশ্রুপাত নাই !
এমনকি কোনো মাছিও ওড়ে না আর বৈশাখী-ঢুলমুল গরমে , মোহনভোগের তলায় ;
আয়না-বাঁধানো সোনার হরিণের মতো হারিয়ে গিয়েছে আমাদের সেইসব ঈদ–
বাঁশঝাড় পাতাবাহারের বাগান পেরিয়ে মা কি আজ আসবেন ?
মা , আজ ঈদ , আপনার জন্য এনেছি টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি !
অশ্রুনদীর ওপারেই আমার মায়ের সেই ভীষণ সুন্দর একেলা বাড়ি…

আমি কিছুতেই নদীটি পার হতে পারি না, নদীর ওপারে আমার মায়ের বাড়ি, ঘর
ফিতরের খুৎবা শুনে চোখ মেলে দেখি– মা নাই, পড়ে আছে কালের জীর্ণ পাথর ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/215558/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Jun 2024 05:00:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঈদ অথবা আমার মায়ের বাড়ি<br />
(ক’দিন পর ঈদ , কার ঈদ ? )<br />
রেদওয়ান খান </p>
<p>আমার উৎসবগুলো বহুকাল ধরে থমকে আছে মায়ের কবরে–<br />
সেইখানে বাঁশঝাড় আর পাতাবাহারেরা কালের বাতাসে কাঁপছে ।</p>
<p>শুকনো ডাল থেকে হলদে পাতারা ঝরে যায় চৈত্র-দুপুরে–<br />
যেন আমারই মর্মরিত অশ্রু– টুপটাপ টুপটাপ !<br />
দূরের আকাশে ভেসে ভেসে ডেকেছিল , কেঁদেছিল যে-শঙ্খচিল<br />
সে-আমারই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-215558"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/215558/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">943264bc8061506e2477ba8532ae42e1</guid>
				<title>সবাইকে নববর্ষ ১৪৩১-এর ভালোবাসা । শ্রদ্ধা । তুলট-এর সঙ্গেই আছি। তবে উপন্যাস ও ছোটগল্পের কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ততায় একটুখানি আড়াল দরকার ছিল ।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

কিছু অভিমান
রেদওয়ান খান

কিছু অভিমান চুপ হয়ে আছে কচুরির ফুলে
কিছু অভিমান টুপ করে ডুব দিয়েছে কোথায় ?
কিছু অভিমান দোল খেয়েছিল সোনারঙ ধানে-
কিছু অভিমান আষাঢ়ে শ্রাবণে নূপুর বাজায় ।
 
কিছু অভিমান অচিন রাগিনী– হারায় সুদূর
কিছু অভিমান নাম লিখেছিল হলদে পাতায়;
কিছু অভিমান বেহালা-করুণ-গোধূলি-কথন
কিছু অভিমান হয়নি তো বলা কখনো তোমায়।
 
কিছু অভিমান আসমান-ছেঁড়া জোছনা বিধুর
কিছু অভিমান কলঙ্ক-তিলক নীল চাঁদোয়ায়
কিছু অভিমান ভেসেছে ভীষণ নয়নের জলে
কিছু অভিমান খুন হয়েছিল ট্রেনের চাকায়।
 
কিছু অভিমান মাতাল হাওয়া, ভেঙেছে দুয়ার
কিছু অভিমান উড়ে যুবকের ভাঙা রিকশায়
কিছু অভিমান গণজাগরণ– আগুন বাগান;
কিছু অভিমান নবাবপুরের ট্রাফিকে ঝিমায় ।
 
কিছু অভিমান শুকোতে দিয়েছি নদীটির জলে,
কিছু অভিমান ঘাস ফড়িংয়ের রঙিন ডানায়
কিছু অভিমান স্নান করেছিল চৈতের রোদে
কিছু অভিমান চুরি হয়ে গেছে বালক বেলায়।
 
কিছু অভিমান জোছনায় ভেজা শাপলার ফুল
কিছু অভিমান দোলনায় দোলে নাগর দোলায়
কিছু অভিমান ঘুঘু-দুপুরের ভাঙিয়েছে ঘুম;
কিছু অভিমান ঝরেছে ভোরের শিউলিতলায়।
 
কিছু অভিমান মেঘলা দিনের শ্যাওলা উঠোন
কিছু অভিমান পুরনো কাপড়ে সূতো ঝিলমিল
কিছু অভিমান বউচিঁ খেলায় ঝগড়া– মধুর;
কিছু অভিমান– লুণ্ঠিত দুই মনের অমিল!
 
কিছু অভিমান নাম লেখে মহাকালের খাতায়
কিছু অভিমান বন্দি সময়– অধরা মাধুরী
কিছু অভিমান তুমি আর আমিঃ নগর-পাতক !
কিছু অভিমান ভেসে যায় মহাকালের খেয়ায়…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212325/</link>
				<pubDate>Tue, 16 Apr 2024 20:25:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সবাইকে নববর্ষ ১৪৩১-এর ভালোবাসা । শ্রদ্ধা । তুলট-এর সঙ্গেই আছি। তবে উপন্যাস ও ছোটগল্পের কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ততায় একটুখানি আড়াল দরকার ছিল ।<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;</p>
<p>কিছু অভিমান<br />
রেদওয়ান খান</p>
<p>কিছু অভিমান চুপ হয়ে আছে কচুরির ফুলে<br />
কিছু অভিমান টুপ করে ডুব দিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212325"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212325/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9830975f562d0ea490ae30c3af6bc88b</guid>
				<title>মেষ-গবেষণা-ফিল্ড 
রেদওয়ান খান

আমি কি তোমারে দিছি ভোট ? বলো , দিছিলাম ?
দেখাও তাহলে একবার সেই নীল দাগ
দেখোনি নখের আয়নায়– বিদ্রোহ , রাগ ?
প্রতিবাদে দেই নাই ভোট ; দেই নাই ঘাম ;
ব্যভিচারে চারখার করে কেটে নিছো ঠোঁট
আঙুলের সবগুলো নখ এক কোপে শেষ
মুখে নাই ভাষা আর আমাদের ; ভ্যাবাচেকা মেষ–
হ’য়ে গলির কিনারে হাগি– গোল-চোখ-জোট ।

আঁধারে দাঁড়িয়ে শুনিতেছি– এডিটরস্ গিল্ডঃ
শনিবারে । শনির দশায় আমাদের কাল–
কী-রকম মোড়ানো এখন ! দেখো , নপুংসক 
ছয় আলোচক– যেন ’মেষ-গবেষণা-ফিল্ড !’
হাতে লিপলেট , ছয় গাধা কথার চাঁড়াল 
মুখে তন্ত্রকথা– কী বাহাস ! নাই কোনো শোক !</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212324/</link>
				<pubDate>Tue, 16 Apr 2024 20:19:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মেষ-গবেষণা-ফিল্ড<br />
রেদওয়ান খান</p>
<p>আমি কি তোমারে দিছি ভোট ? বলো , দিছিলাম ?<br />
দেখাও তাহলে একবার সেই নীল দাগ<br />
দেখোনি নখের আয়নায়– বিদ্রোহ , রাগ ?<br />
প্রতিবাদে দেই নাই ভোট ; দেই নাই ঘাম ;<br />
ব্যভিচারে চারখার করে কেটে নিছো ঠোঁট<br />
আঙুলের সবগুলো নখ এক কোপে শেষ<br />
মুখে নাই ভাষা আর আমাদের ; ভ্যাবাচেকা মেষ–<br />
হ’য়ে গলির কিনারে হাগি– গোল-চোখ-জোট ।</p>
<p>আঁধারে দাঁড়িয়ে শুন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-212324"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/212324/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf4c796dbe974ba7853eddee19a4c915</guid>
				<title>Redwan Khan changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/212319/</link>
				<pubDate>Tue, 16 Apr 2024 19:28:37 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">49251ab8d5796e01a7c3e7119151d9b0</guid>
				<title>একটি চুম্বনের স্মৃতি
রেদওয়ান খান
--------------------------------------------------------------------------------
তাহলে একটি চুম্বনের স্মৃতি নিয়ে থাকি একা– দূরে
সঙ্গমের অদম্য স্বাদ বড়ো বেশি দাহ্য ! তাই না !
মাঝখানে কাঁটাতার থাকা ভালো
প্রজাপতির স্বচ্ছ্ব ডানায় আঁকা থাক একটি চুম্বনের স্মৃতি।
প্রজাপতি উড়ে যাক। পিছনে পড়ে থাক কিছু  দুরু দুরু কম্পন।
---------------------------------------------------------------------------------</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/93651/</link>
				<pubDate>Tue, 25 Jan 2022 18:59:15 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি চুম্বনের স্মৃতি<br />
রেদওয়ান খান<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
তাহলে একটি চুম্বনের স্মৃতি নিয়ে থাকি একা– দূরে<br />
সঙ্গমের অদম্য স্বাদ বড়ো বেশি দাহ্য ! তাই না !<br />
মাঝখানে কাঁটাতার থাকা ভালো<br />
প্রজাপতির স্বচ্ছ্ব ডানায় আঁকা থাক একটি চুম্বনের স্মৃতি।<br />
প্রজাপতি উড়ে যাক। পিছনে পড়ে থাক কিছু  দ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-93651"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/93651/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">872023076db9d91c058d99b2cefba3bb</guid>
				<title>একাকী ঝর্ণা আমি– দুঃখের প্রপাত
রেদওয়ান খান
=========================
এত যে অপেক্ষায় গেল দিন-রাত
মহামারি মহাকাল করতলে কাঁপে
কখনো পাইনি তারে,কার অভিশাপে
একাকী ঝর্ণা আমি– দুঃখের প্রপাত!
কচুরি ফুলের চোখে পুকুরের ব্যথা–
কী নিরব ভাষাহীন– স্তব্ধ নিঝুম !
এই বুকে বেজে ওঠে মেঘের গুড়ুম
হিজল বিছানো বনে, কয়নি সে কথা।

কিসের অপেক্ষায় কাটে এ-জীবন ?
ঋতু বদলের পরে ঋতুর বদল ?
শ্রাবণে ছাতিমতলা ডাক দেয় কারে ?
ডাকি যারে বোঝে নাই, সে আমার মন
গলায় পেঁচিয়ে রাখি তাবিজ-মাদল
হলদে পাতার মন– পায় নাই তারে!
========+++++++==========</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/92012/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Jan 2022 05:29:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একাকী ঝর্ণা আমি– দুঃখের প্রপাত<br />
রেদওয়ান খান<br />
=========================<br />
এত যে অপেক্ষায় গেল দিন-রাত<br />
মহামারি মহাকাল করতলে কাঁপে<br />
কখনো পাইনি তারে,কার অভিশাপে<br />
একাকী ঝর্ণা আমি– দুঃখের প্রপাত!<br />
কচুরি ফুলের চোখে পুকুরের ব্যথা–<br />
কী নিরব ভাষাহীন– স্তব্ধ নিঝুম !<br />
এই বুকে বেজে ওঠে মেঘের গুড়ুম<br />
হিজল বিছানো বনে, কয়নি সে কথা।</p>
<p>কিসের অপেক্ষায় কাটে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-92012"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/92012/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5a3bf0df47fca50dfb7d57718d79b7de</guid>
				<title>একটি প্রস্তাবিত কবিতাগ্রন্থ থেকে আজকের ২টি কবিতা। 
এসব আদৌ কি কিছু হচ্ছে!..মূলত সনেট লেখার অপচেষ্টা।
==========================================


(এক)
নদীর বিলাপ, মৃত ডাকাতিয়া
রেদওয়ান খান
আহারে তাহারে কে যে– ছলনায় বাঁধে
কালের রজ্জুতে কার,ওড়ে নীল শাড়ী?
দেখি নাই তারে আমি,কই তার বাড়ি–
ডাকাতিয়া পাড়ে যেন মহাকাল কাঁদে!
নদীর বিলাপ যেন– মন-ভাঙা-ঢেউ
একটি কচুরি ফুল সাজানো সে-চুলে–
তাহারে দেখিনি আমি,মনে হয়,ভুলে
ভেসে যায় বজরায় অজানায়– কেউ!

ছিল সে পরানে,তারে হয় নাই বলা
সুগন্ধী গোলাপ এনে নিজ করতলে
রেখেছি গোপনে কত! কী শরম লাজে–
বলি নাই,‘ভালোবাসি!’– শুকিয়েছে গলা,
সব কথা ভেসে গেছে জ্যোৎস্নায় জলে
কাহারে পাহারা দেই,একেলা এ-সাঁঝে?


(দুই)
দুঃখিনী দেবীর মতো
রেদওয়ান খান

কবিতা লিখিনা আমি,জানো,কতোদিন?
কবিতা আমাকে ছেড়ে গেছে– পরবাস
সাঁঝের নদীটি কবে হয়েছে অচিন
তলিয়ে গিয়েছে সব কবিতার ঘাস।
পরিযায়ী পাখিদের কী মায়ায় পড়ে–
ওড়ে বালকের মন– লৌকিক ভুলে
সব কিছু উড়ে যায় আবেগের ঝড়ে
তারপর কিছু নাই,ডাকাতিয়া কূলে।

কালের অক্ষরগুলো– বিসর্জনের গান–
দুঃখিনী দেবীর মতো শাপলা মুড়ায়
লুকিয়ে গিয়েছে চুপে।জানে নাই কেহ
আবছায়া জোছনার ব্যথার বাগান
আমার কবিতা,ভোরে শিউলি কুড়ায়–
হলদে পাতায় মোড়া কিছু সন্দেহ!
==============================</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/90646/</link>
				<pubDate>Sun, 16 Jan 2022 05:21:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি প্রস্তাবিত কবিতাগ্রন্থ থেকে আজকের ২টি কবিতা।<br />
এসব আদৌ কি কিছু হচ্ছে!..মূলত সনেট লেখার অপচেষ্টা।<br />
==========================================</p>
<p>(এক)<br />
নদীর বিলাপ, মৃত ডাকাতিয়া<br />
রেদওয়ান খান<br />
আহারে তাহারে কে যে– ছলনায় বাঁধে<br />
কালের রজ্জুতে কার,ওড়ে নীল শাড়ী?<br />
দেখি নাই তারে আমি,কই তার বাড়ি–<br />
ডাকাতিয়া পাড়ে যেন মহাকাল কাঁদে!<br />
নদীর বিলাপ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-90646"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/90646/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b3b7662be0c38f71f637f39ed09bad2c</guid>
				<title>আত্মজৈরনিক
রেদওয়ান খান

আমি ঘরে এলেই, তুমি হয়ে ওঠো এক জন্মবোবা!
একটু পরেই,বেসিনে আর্তনাদ করে খুন হতে শুনি অবশিষ্ট বাসন-কোসন!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/88436/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Jan 2022 17:56:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আত্মজৈরনিক<br />
রেদওয়ান খান</p>
<p>আমি ঘরে এলেই, তুমি হয়ে ওঠো এক জন্মবোবা!<br />
একটু পরেই,বেসিনে আর্তনাদ করে খুন হতে শুনি অবশিষ্ট বাসন-কোসন!</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b6656ea3ff334cd3b852edac79bc8c73</guid>
				<title>আমার একটি কবিতার বই আছে -  কাল মহাকাল। অনেক পাঠক বইটি নিয়েছিলেন। কেউ কেউ পছন্দ করেছেন। কেউ কেউ অপছন্দ করলেও মুখ খুলে নিন্দা সমালোচনা করেননি। আমাদের দেশে ভালো সমালোচনা হয়ও না; হলেও খুব নগণ্য। আমাদের সম্পাদকবৃন্দও হাতে গোনা কয়েকজনের লেখাই চিবিয়ে খেয়ে থাকেন অথবা আমাদেরকে গিলতে বাধ্য করতে চান। সে কারণে, অনেক লেখাই পড়ে পড়ে ঘুমায়,ঝিমায় অন্তরালে।
 আজ দিলাম কাল মহাকাল থেকে চৌদ্দ  সংখ্যক কবিতাটি।  সবার জন্য ভালোবাসা। 
=================================================================
কাল-মহাকাল-১৪
রেদওয়ান খান
আমি কি কালা গাই যে, ওলান পাতিয়া দিমু শাদা দুধ?
আমারও সাধ হয়-সারা গা’য় মাখি জোছনার কাদা
ধান ভানা শেষ হলে কুলার ঝাপটে ঝরা কিছু খুদ
সব দিছি– আর কিছু নাই অবশেষ- রক্তহীন সাদা
কলিজার ভেতরে বসা তক্ষক নীল হয়ে আছে দ্যাখো –
পাক-হানাদার নিছে উঠোনের রোদ, জননীর ভাষা–
তোমার সবুজ শাড়ি-ওড়া দেখে মনে জেগেছিলো আশা
মিনতি করেছি কতো– আমারে আঁচলে ধরো, বেঁধে রাখো।

আমি কি খইল্লা রাজাকারের মতো করিয়াছি পাপ !
তোমারে কি দেই নাই আগুন উত্তাপ– অভুক্ত দেহের ?
যুদ্ধ-ফেরা যুবকের বিশাল ভূখন্ড তুমি করোনি ধারণ
জোছনার মাঠে পুঁতিয়া রেখেছো কালো সেই অভিশাপ–
অমানিশা নাম; ঘরের আলো নিবায়া মমতা-স্নেহের
আগমন-পথে বিছিয়েছো বিষকাঁটা–  অমোঘ বারণ।

========================================================</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/41579/</link>
				<pubDate>Fri, 08 Oct 2021 05:31:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার একটি কবিতার বই আছে &#8211;  কাল মহাকাল। অনেক পাঠক বইটি নিয়েছিলেন। কেউ কেউ পছন্দ করেছেন। কেউ কেউ অপছন্দ করলেও মুখ খুলে নিন্দা সমালোচনা করেননি। আমাদের দেশে ভালো সমালোচনা হয়ও না; হলেও খুব নগণ্য। আমাদের সম্পাদকবৃন্দও হাতে গোনা কয়েকজনের লেখাই চিবিয়ে খেয়ে থাকেন অথবা আমাদেরকে গিলতে বাধ্য করতে চান। সে কারণে, অনেক লেখাই পড়ে পড়ে ঘুমায়,ঝিমায় অন্তরালে।<br />
 আজ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-41579"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/41579/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">05dbf8c94a2e12f3b00f1b51fe1dddab</guid>
				<title>দেহবিতান নামে আমার একটি কবিতার বই আছে। মূল পাণ্ডুলিপির জন্য প্রচুর কবিতা লিখলেও,সব কবিতা বইতে স্থান দিতে পারি নি। তুলট ও তুলট পাঠক-বন্ধুদের জন্য দিলাম একটি কবিতা।
================================================================

দেহবিতান-১৯
রেদওয়ান খান
মোহগ্রস্ত স্তব্ধ চুপ– এই পুকুরের জলে রাত্রিতে সাঁতার কাটে চন্দ্রবালিকারা
পুরুষ ভেবেছে,অই বুঝি গন্ধমের নাও যায় দূরে কোন নীলগঞ্জের বাজার!
তাই সে ঝাঁপ দেয় অন্ধকারে,বাণিজ্য সন্ধানে তার একেলা দরিয়া সাঁতার;
শাপলা মুড়ায় লুকিয়েছে মিথ্যে বিসর্জন,কোথায় আকাশের ঝিকিমিকি তারা ?

চন্দ্রবালিকারা ধুয়ে যায়,জলের উপরে ভাসে দেহহীন কায়া কামিনী কাঞ্চন
স্তনাভরণ ভেঙে উঁকি দিয়ে হাওয়ায় হারিয়ে যায় বাসনার স্তনবতী রমণীকুল
পুষ্পাঞ্জলি-অনুকূলে দেহের দাসত্বচিহ্ন ফুটেছিল কর্ণশোভা– সোনালি নাকফুল
কাস্তে হাতে দেহ নিয়ে কাতরায় শ্যামল যুবক,যেন এক শরবিদ্ধ বিপন্ন খঞ্জন ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/39814/</link>
				<pubDate>Fri, 01 Oct 2021 18:31:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দেহবিতান নামে আমার একটি কবিতার বই আছে। মূল পাণ্ডুলিপির জন্য প্রচুর কবিতা লিখলেও,সব কবিতা বইতে স্থান দিতে পারি নি। তুলট ও তুলট পাঠক-বন্ধুদের জন্য দিলাম একটি কবিতা।<br />
================================================================</p>
<p>দেহবিতান-১৯<br />
রেদওয়ান খান<br />
মোহগ্রস্ত স্তব্ধ চুপ– এই পুকুরের জলে রাত্রিতে সাঁতার কাটে চন্দ্রবালিকারা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-39814"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/39814/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7b96de88e579e723b325ae125c9335c9</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/33627/</link>
				<pubDate>Fri, 10 Sep 2021 04:38:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f8b13c1f1ff43e8dc9a251feb5c799d6</guid>
				<title>নদীর বিলাপ
রেদওয়ান খান
==========================
আহারে তাহারে কে যে– ছলনায় বাঁধে
কালের রজ্জুতে কার,ওড়ে নীল শাড়ী?
দেখি নাই তারে আমি,কই তার বাড়ি–
ডাকাতিয়া পাড়ে যেন মহাকাল কাঁদে!
নদীর বিলাপ যেন– মন-ভাঙা-ঢেউ
একটি কচুরি ফুল সাজানো সে-চুলে–
তাহারে দেখিনি আমি,মনে হয়,ভুলে
ভেসে যায় বজরায় অজানায়– কেউ!

ছিল সে পরানে,তারে হয় নাই বলা
সুগন্ধী গোলাপ এনে নিজ করতলে
রেখেছি গোপনে কত! কী শরম লাজে–
বলি নাই,‘ভালোবাসি!’– শুকিয়েছে গলা,
সব কথা ভেসে গেছে জ্যোৎস্নায় জলে
কাহারে পাহারা দেই,একেলা এ-সাঁঝে?
=========শেষ==============</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/32905/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Sep 2021 17:36:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নদীর বিলাপ<br />
রেদওয়ান খান<br />
==========================<br />
আহারে তাহারে কে যে– ছলনায় বাঁধে<br />
কালের রজ্জুতে কার,ওড়ে নীল শাড়ী?<br />
দেখি নাই তারে আমি,কই তার বাড়ি–<br />
ডাকাতিয়া পাড়ে যেন মহাকাল কাঁদে!<br />
নদীর বিলাপ যেন– মন-ভাঙা-ঢেউ<br />
একটি কচুরি ফুল সাজানো সে-চুলে–<br />
তাহারে দেখিনি আমি,মনে হয়,ভুলে<br />
ভেসে যায় বজরায় অজানায়– কেউ!</p>
<p>ছিল সে পরানে,ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-32905"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/32905/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">04ce32d871a62d9ca561d49b5e4b7027</guid>
				<title>Redwan Khan changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/32904/</link>
				<pubDate>Wed, 08 Sep 2021 17:28:16 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6dfccd3ba95292cb7799011a0f263584</guid>
				<title>গীতা পাঠ ।।
রেদওয়ান খান
১২.০৫.২০২১ ।।

আমাকে যদি পুড়তে হবে– একা
চিতায় কেন,এলে? তোমার দেখা–
এমন করে হোক,আমি কি চাই?
রাতের তারা– এই আছে,এ-নাই!

কুসুম বনে দেখেছিলাম যারে
চুল খোলা সে,ডাকাতিয়ার পাড়ে
বাতাস– যেন উড়তে গিয়ে কাঁপা
মন মাতানো জুঁই বেলী কি চাঁপা!

আহা তাহার নীল-কচুরি-চোখ–
নীরব ভাষা,ভাসায় ইহলোক
সেই পুকুরে ডুব দিয়েছি আমি
কাঁপছি শীতে আসলো না সে নামি।

এই আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে
রাখলো না সে,ডুকরে উঠি,দুখে
তবু দূরের আলোর গানে মাতি
শুনবো বলে আঁধারে কান পাতি।

আমাকে যদি কাঁপতে হবে শীতে
স্রোতের নিচে স্রোতের বিপরীতে
চলছে তবে উজান-ভাটি খেলা–
আমার প্রতি তোমার অবহেলা।

ঝ’রা পাতায় খোলস ছেড়ে সাপ
জানিয়ে গেল– কালের অভিশাপ–
এই আমাকে তাড়ায় সারা বেলা
তোমায় নিয়ে আর হল না খেলা।

ধুলোয় মাখা আধেক খেলাঘর
আধেক ভাঙা,আপন কি-বা পর
হয়নি চেনা,সেই তোমাকে আমি
ভেবেছিলাম সোনার চেয়ে দামি!


এখন আমি একলা পুড়ে ছাই
নাই ধূপে সে,পূজার ছলে নাই!
আমায় শুধু পুড়তে হবে একা
জীবন-তারা আর হল না দেখা!

আসলে তুমি অথবা এই আমি -
অন্ধকারে আছি বিপদগামী
চণ্ডালে কি জ্বাললো তবে– চিতা?
ঘাটের মড়া কেউ বোঝেনি– গীতা!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/28846/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Aug 2021 18:31:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গীতা পাঠ ।।<br />
রেদওয়ান খান<br />
১২.০৫.২০২১ ।।</p>
<p>আমাকে যদি পুড়তে হবে– একা<br />
চিতায় কেন,এলে? তোমার দেখা–<br />
এমন করে হোক,আমি কি চাই?<br />
রাতের তারা– এই আছে,এ-নাই!</p>
<p>কুসুম বনে দেখেছিলাম যারে<br />
চুল খোলা সে,ডাকাতিয়ার পাড়ে<br />
বাতাস– যেন উড়তে গিয়ে কাঁপা<br />
মন মাতানো জুঁই বেলী কি চাঁপা!</p>
<p>আহা তাহার নীল-কচুরি-চোখ–<br />
নীরব ভাষা,ভাসায় ইহলোক<br />
সেই পুকুরে ডুব দিয়ে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-28846"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/28846/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">49e36b83413309dfdf0ac6eec1db4b5f</guid>
				<title>রেদওয়ান খান
যুগলডুব, রূপালি জলের গান
=================================================================
নগর-ক্লেদে আকণ্ঠ ডুবে আছি, শুকিয়ে আছি দিবা-রাত্রি– শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায়। এমনি করেই পার হয়ে যাই কালের পুলসিরাত–করিডোরহীন সংসার-কারাগার। ঘুপছি ঘরের ভেতরে, আরও কিছু সঘন অন্ধকার ছড়িয়ে পড়লে, অনুমান হয়, বাইরে সাত আসমান বিছিয়েছে মেঘ! তোমার রুদ্রকণ্ঠে একবার বর্ষার জন্য বিপুল আকুতি শুনব বলে সাঁতরে এসেছি মৃত বুড়িগঙ্গা। পার হয়েছি যাত্রাবাড়ির পুঁতিগন্ধময় কিলবিল কীটের বাজার। আর নবাবপুরে, থমকে থাকা রিকশার চেইন অথবা কিশোর গ্যাংয়ের ছুরির নীচে ঝলসে ওঠে আমার বর্ষামাত্রিক উদাস ডানা। মনে পড়ে, একদা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে চোখ শাদা হয়ে এলে আমরা বুঝতাম, জীবনের গূঢ় রহস্যের নামই বর্ষা এবং একটানা তেরদিন বৃষ্টি!বৃষ্টিসোঁদা কাঁথার নিচ থেকে একবার বের হয়ে, পুরানবাড়ির জম্বি’র মা’র শ্যাওলা-পিছল উঠানে, বরইতলায় আছড়ে পড়া! এখানে, এখন সময় সংক্রমিত মহামারির নিঃসঙ্গ বেদনার ভারে নুয়ে পড়ছে আমার পাঁজরে, নিঃশ্বাসে। ঘৃণা, সন্দেহ, ছলনায় মোড়ানো অকরুণ কালের পাথরে মাথা কুটে আর কত আত্মহনন, বলো? আর কত কাল, আর কত কাল, বলো! আরেকবার বৃষ্টিতে ভিজি, চলো! এটাই আমার জীবিতকালের শেষ বর্ষা! টিনের চালে বৃষ্টির ঘুংঘুর আমাকে ডাকছে। আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ডাকাতিয়ার উত্তাল ঢল-মায়া। আমি শূন্যে ভাসছি। নদীর স্রোতে কান পেতে শুনছি আকাশের আশ্চর্য সঙ্গীত। তোমার সোনার কাঁকন বৃষ্টিতে ধুয়ে কী-রকম ধাঁধিয়ে দিচ্ছে সমবেত গ্রাম, নারী ও স্নিগ্ধ বালিকার চোখ! ইচ্ছে করে, শেষ বর্ষায়– তোমাকে নিয়ে যুগলডুবে মাতিয়ে তুলি বাড়ির পুকুর। সেখানে, কচুরি ফুলের তলে ডুব দিয়ে &#x200d;শুনেছিলাম আসমান-ঝ’রা লৌকিক গান! ওগো জলকন্যে, এবার ভিজে ওঠো। ইহলোকে আর কখনও নামবে না এমন রূপালি জলের গান!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/28523/</link>
				<pubDate>Sat, 28 Aug 2021 05:36:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>রেদওয়ান খান<br />
যুগলডুব, রূপালি জলের গান<br />
=================================================================<br />
নগর-ক্লেদে আকণ্ঠ ডুবে আছি, শুকিয়ে আছি দিবা-রাত্রি– শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায়। এমনি করেই পার হয়ে যাই কালের পুলসিরাত–করিডোরহীন সংসার-কারাগার। ঘুপছি ঘরের ভেতরে, আরও কিছু সঘন অন্ধকার ছড়িয়ে পড়লে, অনুমান হয়, বাইরে সাত আসমান বিছিয়েছে মেঘ!&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-28523"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/28523/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fecdc5a30e26755945e6ad0f560b793f</guid>
				<title>অনুতাপ
রেদওয়ান খান
======================
তাহারে যে দুঃখ দিছিলাম– সেই কথা ভুলি নাই।
মানুষ তো অমানুষ হয়,হয় পশুর সমান 
না মাপিয়া নিজের আকার,টান মারে আসমান
তাই তার অন্তরে বাহিরে আমি পাই নাই ঠাঁই!
পুরুষ বেকুব হয় খুব!নিজের স্বরূপ খুঁজি
রমণীর কায়ার ভিতর!মিছা সব– চিটাধান!
তবু আমি তারে দুঃখ দিছি,তাই কাঁদিছে পরান 
আলো নাই,দুঃখের আঁধারে ডুবে দুই চোখ বুঁজি।

দুঃখ যে দিছি– সেই বেদনাভাসানযাত্রায় একা–
পাড়ি দিছি আমি ডাকাতিয়া;বিরহ-বিলাপ সুরে
বাঁধিয়াছি বেদনার গান;ঝরা শুকনো বকুল
পড়ে র’বে;অন্তর খুঁড়িয়া জানি,হবে না তো দেখা
গোধুলির শেষ রাঙা পথ– হারাবে যোজন দূরে
ক্ষমা কোরো তুমি সেই কালো কলঙ্ক কালের ভুল।

======================</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27637/</link>
				<pubDate>Sat, 21 Aug 2021 20:21:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনুতাপ<br />
রেদওয়ান খান<br />
======================<br />
তাহারে যে দুঃখ দিছিলাম– সেই কথা ভুলি নাই।<br />
মানুষ তো অমানুষ হয়,হয় পশুর সমান<br />
না মাপিয়া নিজের আকার,টান মারে আসমান<br />
তাই তার অন্তরে বাহিরে আমি পাই নাই ঠাঁই!<br />
পুরুষ বেকুব হয় খুব!নিজের স্বরূপ খুঁজি<br />
রমণীর কায়ার ভিতর!মিছা সব– চিটাধান!<br />
তবু আমি তারে দুঃখ দিছি,তাই কাঁদিছে পরান<br />
আলো নাই,দুঃখের আঁধারে ডুবে দুই চ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27637"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27637/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">228872082a1172aec7365b4654ae41ca</guid>
				<title>আমার লেখা সিরিজ-কাব্য “কাল মহাকাল” থেকে একটি কবিতা
==============================
কাল-মহাকাল-৪
রেদওয়ান খান
আমি কি জম্বি’র মা’র ছিঁড়া কাঁথা?আমারে শুকাও
কুয়াশা-ভোরের থেকে দিনমান পৌষে-শ্রাবণে
রাইতের ওম্ নিয়া ফেলে রাখো বিরান মাচানে!
ঝুলে থাকি একা– বুকে দুঃখু নিয়া।কী যে সুখ পাও–
কও তুমি,কিন্যা দেই নাই আমি শীতের বিহানে
নিবারণে’র মুড়ির মোয়া? তুমি খেতে ভালোবাসো
বলে!লোকে কয়,‘আহারে পিরিতি!’ আর তুমি হাসো!
কী নিঠুর মনুরা* তোমার,আহা!কেউ নাহি জানে।

এই তোমারেই শীতলক্ষা-ভেসে-যাওয়া জোছনা
দিছিলাম দুই হাত ভ’রে আমি,কিসের আশায়?
মায়াবী নারকেল মালায় বেড়ে দেবে গরম সুবাস
লক্ষীবিলাসের লাল ভাত খাবো– ছিলো তো বাসনা
এখন নিঝুম রজনী আমার ভীষণ ক্ষুধায়
কাতরায়।হলদে পাতার নিচে শুকিয়েছে ঘাস।

(*মনুরা=হৃদয়,কলিজা,আত্মা,মন)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27557/</link>
				<pubDate>Sat, 21 Aug 2021 05:34:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার লেখা সিরিজ-কাব্য “কাল মহাকাল” থেকে একটি কবিতা<br />
==============================<br />
কাল-মহাকাল-৪<br />
রেদওয়ান খান<br />
আমি কি জম্বি’র মা’র ছিঁড়া কাঁথা?আমারে শুকাও<br />
কুয়াশা-ভোরের থেকে দিনমান পৌষে-শ্রাবণে<br />
রাইতের ওম্ নিয়া ফেলে রাখো বিরান মাচানে!<br />
ঝুলে থাকি একা– বুকে দুঃখু নিয়া।কী যে সুখ পাও–<br />
কও তুমি,কিন্যা দেই নাই আমি শীতের বিহানে<br />
নিবারণে’র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27557"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27557/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>17</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ac545d34cb19418d13c100159d798793</guid>
				<title>Redwan Khan and Drako Shajib are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27020/</link>
				<pubDate>Fri, 13 Aug 2021 17:39:23 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d7c1fd06e5aa61282ea581189748caa2</guid>
				<title>তিনটি কবিতা
রেদওয়ান খান
=======================
১.
পূর্ব-পশ্চিম
করতলে ভুল,রাজকপালেও ঝিকিমিকি ভুল টিকা
ভালোবাসা ভুল,কথামালা ভুল;সহমরণের শিখা–
ওঠে নাই জ্বলে দুই দেহ জুড়ে,এক দেহ পুড়ে খাক
ছলনার জলে সাঁতরিয়ে দেখি– সর্বাঙ্গই না-পাক!

সোনালি সুতোয় মসলিন বুনে কেটেছি নিজের হাত
চন্দ্র-কুসুম-স্বপ্ন-বিভোর ঘুমহীন মিছে রাত–
কাটিয়ে দিয়েছি,জানালায় দেখি– অশরীরি কার ছায়া
পুলসিরাতের আগুন সাঁকোয় ছিঁটায় ফুলকি-মায়া।

একবার জ্বলে একবার নিভে চোখের জোনাকগুলো
ভোরের আলোয় চোখ মেলে দেখি উঠোনে স্বপ্ন-ধুলো
অভিমান-কাল পেরিয়ে এসেছি,মরণব্যাধিতে ডুবে
আমি পশ্চিমে নিভেছি আঁধারে,তুমি জ্বলে ওঠো– পুবে!
=============================
২.
ইচ্ছেরা ম’রে গেলে ফুল ফোটানো যায় না
রেদওয়ান খান

ইচ্ছেরা ম’রে গেলে ফুল ফোটানো যায় না।
তুমি যদি শর্ত দাও তবে কোথাও ফুটবে না জেনো,ইচ্ছে-বকুল
চোখের বৃষ্টিতে শুধু ধুয়ে যাবে উথলে-ওঠা অভিমান– কিছু ভুল।

ইচ্ছেগুলো ম’রে গেলে ফুল ফোটানো যায় না।
তুমি যদি শর্ত দাও,সুন্দর উড়ে যাবে চোখের নিমেষে– দূরে
জন্ম নেবে সন্দেহকাঁটা স্বতঃস্ফূর্ত বহমান লৌকিক সুরে।

ইচ্ছেরা ম’রে গেলে কচুরি বাগান ভুলে যায় নীল বালিহাঁস
করতলে খুন হয় অসীম আকাশ!
=============================

৩.
অপেক্ষা
রেদওয়ান খান
কতবার মনে হয়েছিল,দারুণ খরদাহ শেষে,চৈত্রের অন্তিমে তুমি
ঠিক বেজে উঠবে ধ্যানমগ্ন বৃষ্টি অবিরল– মোহর-কণিকার মতো!
তারপর অন্তরে বাহিরে মৃত্যুর উৎসব শেষ হয়ে এলে 
বৃষ্টিস্নাত ছাতিম ফুলের সৌরভে অজ্ঞান হয়ে যাবো আমি!
ধুয়ে যাবে,মুছে যাবে কলঙ্ক-বিলাপ,চিৎকার,মহামারী-ক্ষত।
==============================</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/27017/</link>
				<pubDate>Fri, 13 Aug 2021 17:14:24 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তিনটি কবিতা<br />
রেদওয়ান খান<br />
=======================<br />
১.<br />
পূর্ব-পশ্চিম<br />
করতলে ভুল,রাজকপালেও ঝিকিমিকি ভুল টিকা<br />
ভালোবাসা ভুল,কথামালা ভুল;সহমরণের শিখা–<br />
ওঠে নাই জ্বলে দুই দেহ জুড়ে,এক দেহ পুড়ে খাক<br />
ছলনার জলে সাঁতরিয়ে দেখি– সর্বাঙ্গই না-পাক!</p>
<p>সোনালি সুতোয় মসলিন বুনে কেটেছি নিজের হাত<br />
চন্দ্র-কুসুম-স্বপ্ন-বিভোর ঘুমহীন মিছে রাত–&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-27017"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/27017/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d15fca778942f195ac03e34751072d69</guid>
				<title>ছোটগল্প
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
পাগলিনী
রেদওয়ান খান
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
হয়তো জীবনের প্রতি একটা তুমুল কাঙ্খিত বিতৃষ্ণা অনুভব করার পর,অন্তঃকরণের অন্ধকারে,করোটিতে,একদা সে নিজেকে আর খুঁজে পায়নি।জগতের বাহিরে যে আলো- তারও যথার্থ অর্থ হলদে পাতার মতো ঝ’রে যাবার কাল হয়ে এলে,একদিন সে ঘরের বার হয়ে এসেছিলো।বাইশ-তেইশ বছর ধরে হয়তো তার কোনও প্রচলিত নাম- ‘মল্লিকা অথবা মনোয়ারা,বিন্দুবালা অথবা বিদৌরা- এরকম একটি নাম তার নিশ্চয় ছিলো- লোকসমাজ থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পর,নানা জনপদ ভ্রমণ শেষে,ক্ষুধা-ক্লান্তির অনুভূতিহীন মেয়েটি অর্থাৎ পাগলী,কুমিল্লা শহরে,প্রাচীন রাজাদের পুণ্যদিঘি- ধর্মসাগর-এর পাশেই গোরস্তানের জীর্ণ উঁচু দেয়ালের পাদদেশে,সোনালু গাছটিতে কাকের নির্মিতব্য বাসার ঠিক নিচে-চুনা হাগায় সয়লাব- সাত রাজ্যের তেনাতুনা সংগ্রহপূর্বক আগুনহীন চুলায় কী যেন কি- রান্না করে যায় সারাদিনমান।

রান্নার আয়োজনে পাগলিনী যেন বা কাক- যেখানে যা পায়,মনে ধরলে সেসব নিয়ে এসে জড়ো করেছে- পুঁতির মালা থেকে শুরু করে চুলের নকল গুছি,লেইসবিহীন প্লাস্টিকের একটি জুতা,মাটির পাত্রের ভাঙা চাঁড়া- সবই তার রসুইঘরে রন্ধনশিল্পের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ হয়ে উঠেছে।সুতরাং দিঘির পাড়টিতে,গোরস্তানের লাগোয়া পলেস্তারা-খসা দেয়ালটির পাদদেশে পাগলিনীর অদ্ভূত রান্নার মূল দর্শক অল্পবয়সী স্কুল পড়ুয়ারা।বয়স্করাও তার কাণ্ডকারখানা উপভোগ করে বৈকি।পাগলের কাণ্ড কার না ভালো লাগে।

হয়তো তার জন্মভিটা কাছাকাছি কোথাও নয়,এই রকম হলে আত্মীয়রা এতদিনে তাকে সন্ধান করে বাড়ি নিয়ে গিয়ে,করুণা-বিলাপ মিশ্রিত অশ্রুপাতের পর,গোসল করিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার চেষ্টা করতো অথবা হতে পারে এমন যে,ভূত তাড়ানো তাবিজ-তুমার,পানি-পড়া,আয়না-পড়া ব্যর্থ করে দিয়ে সে দ্বিতীয়বার সংসার ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলো পৃথিবীর পথে।হয়তো শত্রুতাবশতঃ ধুতুরার বিষও তাকে কাবু করে নাই,সে মরে নাই,পাগল করে দিয়েছে।সংসার তারে আশ্রয় দিতে পারে নাই,দিয়েছে পৃথিবী- পৃথিবী কী- এই প্রশ্নের অর্থবোধক কোনও সদুত্তর তার কাছে নাই।লোকেদের কাছে সে এখন ধর্মসাগরের পাগলী।

দূরবর্তী,ধুলোপড়া নিয়ন বাতির জবুথবু আলোয় পথচারীরা কৌতুহলে পাগলিনীর অন্তহীন রান্নার আয়োজন দেখে টিপ্পনী কাটে,‘কি রে পাগলী রান্না শেষ অইবো কবে?আইজ  কি রানলি গো?’

সে কখনও কারো প্রশ্ন-কৌতুহলের উত্তর দেয় নাই।

তবে পথচারী লোকেরা স্মরণে আনতে পারে নাই- এই পাগলিনী কোথা থেকে এসেছে,কবে থেকে দখল করেছে ধর্মসাগর।কোনদিন আবার উধাও হয়ে যাবে তারও কোনও ঠিকঠিকানা কারো মনে ঠাঁই পায় নাই।পাগল নিয়ে মানুষের ভাবনা ক্ষণস্থায়ী।

ত্রিপুরা রাজাদের বিশাল দিঘি তথা ধর্মসাগর ও মসজিদ-গোরস্তানের পাশেই,ইহজাগতিক রান্নাবান্নার এই অশেষ প্রচেষ্টা নাম-পরিচয়-গোত্রহীন,কয়লা-আংরা কাষ্ঠবৎ এই নারী পাগলিনীটির কর্মযজ্ঞ বেশির ভাগ মানুষেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়।মানুষ মূলতঃ ছুটে চলে নিজের ও নিজ নিজ পারিবারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দৌড়াদৌড়িতে।রাজনীতির গরম সিঙাড়ায় ফুঁ দিয়ে।ধর্মসাগরের গোরস্তানে,আত্মায় নিদ্রাকুসুম মেখে চিরঘুম দিতে আসা নিথর শরীরগুলো নড়ে না চড়ে না,তবে পাগলিনীটি বেশ সচল উদাসীন নিরুদ্বিঘ্ন-দুর্বিনীত-দুঃসাহসী।কাউকে পরোয়া না করে সে,দিনরাত আগুনহীন চুলায়,কোত্থেকে কুড়িয়ে আনা মাটির চিটচিটে হাঁড়িতে ভীষণ সেই রান্না।মাঝে মাঝে আবার একলা কথার ফাঁকে,জটাধরা চুলে পলিথিনের ফিতা-ফুল করতে করতে,বাঁশের শুকনো ভাঙ্গা কঞ্চি দিয়ে খুব করে কষে নেড়ে দিচ্ছে,হাতে নিয়ে দেখছে নুন হলো কি না।জিহ্বা বার করে চকাস চকাস শব্দের ভেতর রান্নাটি যে অতি সুস্বাদু হয়েছে- সন্দেহাতীতভাবে তা প্রকাশের প্রয়োজনে,বিদ্যুতের তারে ভিড় করা কাকদের ‘ওই চোৎমারানি যাঃ যাঃ!’ বলে একটা তাড়ানি দেয়।আকাশ থেকে কাকদের চুনাহাগা মাঝে মাঝে রান্নার হাড়িতে এসে পড়লে খুব হাসে সে।যেন কাকেরা হেগে দেবে- এইটাই নিয়ম।

পাগলিনীর সেই ঝগড়া-হাসিতে,কাকেদের মূল আশ্রয়- সোনালু গাছটির হলদে ফুলেরাও ঝ’রে ঝ’রে পড়ে- যেন বৃষ্টি।

চৈত্রের ঝাঁ ঝাঁ রোদে ধর্মসাগর পাড়ের পুরনো বৃক্ষতলে লোকেরা ছায়ার বাসনায় কিছুটা ক্লান্ত নিশ্চল স্থবির।জোয়ার-ভাটাহীন দিঘিটির উপরিভাগ এই গরমে, নীলচে-সবুজ শ্যাওলা-পানায় ভরা।কিন্তু বালক-কিশোরদের দল যখন পানির উপর ঝুঁকে-পড়া কাঁচা বৌলে ভ’রা আম গাছটিতে উঠে,কেউ বা পরনের লেবাস খুলে ফেলে ন্যাংটা হয়ে ঝাঁপ-সাঁতার কাটে,কিংবা ইটের টুকরা পানির তলে লুকিয়ে রেখে ‘লুবি লুবি’ খেলে,তখন মাঝে মাঝে নিন্দাপতি পোকাদের সুতাকাটা চরকা মাথার ভেতর চক্কর দিলে,পাগলিটির করোটি আলগা হয়ে যায়।সে তার সূক্ষ্ণ করোটি-নিমজ্জিত স্মৃতিরই ক্ষণেক বিচ্ছুরণ।ক্ষণেকের ইহকালীন জাগরণে সে ভাবে তার বাড়িটি কোথায় ছিল? বর্ষাকালে সেই বাড়ির পুকুরের পাড়ে কালো কুঁচকুঁচে গাবগাছ থেকে ঠিক এমনি করেই ন্যাংটা হয়ে লাফিয়ে পড়তো একটি ছেলে- &#x200d;মুনসুর।কিন্তু মুনসুর তার কে ছিল- করোটির তলায় সে-সবের হদিস পাওয়া যায় নাই,কারণ,ততক্ষণে আকাশ অন্ধকার করে মেঘ জমেছে।বড়ো বড়ো মোটা মোটা কিছু ঠাণ্ডা ফোঁটাও ঝরছে।ফলে নিজের ভেতর পুনরায় ডুব মেরে যায় পাগলি।জড়ো-করা তৈজস এখন কোথায় রাখবে- সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নাই।রান্নাটা শেষ করার একটা তাড়া অনুভবে তার মুখভর্তি হলদে দাঁতের ফাঁক গ’লে লালা বের হতে থাকে।

দিঘির মায়ায় পড়া ছায়া ও ঠাণ্ডা বাতাসের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার পর,ফিরতি পথে বোরকা-হিজাবে আপাদমস্তক ঢাকনা দেয়া রমণীগণের কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে,তাদের মানবিকতা প্রকাশের তাগিদ অনুভব করে বলে,‘আহারে কার মা’র ঝি গো!চেহারাখান দেইখ্যা ত মনে অয় ভালা ঘরের মাইয়্যা।আল্লায় কহন যে কারে কি হালে রাখে!’

বিশেষতঃ বয়স্ক মহিলারা,কালো নেকাবের মুখাবরণটি সামান্য সরিয়ে,দয়াবতী-অশ্রুময়ী হয়ে ওঠেন।কারণ তাঁহারা তো মা।পাগলির হাতে তাঁহারা পাউরুটি-কলা,কেউ কেউ টাকাও দেয়।পারলৌকিক একটা ‘ছোয়াবে’র আকাঙ্খা কেউ-ই ছাড়তে পারে না।পাগলি কখনও সখনও সেই ছোয়াব প্রত্যাশী অচিন রমণীদেরকে হতাশ না করে কিছুটা খায়,বেশিরভাগ ভাগ সময় তারই অন্তঃসখা এক ঠ্যাং ভাঙা নেড়ি কুত্তাটাকে দেয়।‘ওই খা কইলাম’- বলে কুকুরটিকে ধমকায়।কুঁই কুঁই করে ঠ্যাং-লাফানো কুকুরটি পাগলির কথা শোনে,খায়।তারপর তার শরীরটি ঘেঁষে কুণ্ডলী পাকানোর ব্যবস্থায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।মহিলারা তখন তাঁদের সঙ্গে থাকা নাতি-নাতনিদের বলেন,‘দ্যাখ রে,আল্লার কি লীলা- বোবা কুত্তাও পাগলের কথা শুনে!আহারে!’

ধর্মসাগরের পাড় এখন নিন্দাপতি পোকাদের চরকা কাটার দারুণ ব্যস্ততায় মগ্ন।লালচক্ষু ফর্সা যুবক নাইমুলও তার চায়ের দোকানটি নিয়ে ব্যস্ত।মাঝে মাঝে এমন হয় যে একার পক্ষে কুলানো কঠিন হয়ে ওঠে।শহরটি ক্রমশঃ ঘিঞ্জি হয়ে ওঠায় মানুষের আদিম একাকিত্বের বাসনা-বিলাসও ক্ষীণতর হয়ে আসছে।তবে ত্রিপুরার রায়বাহাদুর-মানিক্যবাহাদুর ইত্যাদি লোকহিতৈষী রাজারা ধর্মসাগর নামের দিঘিটি খনন করে রেখে গিয়ে ভালোই করেছেন।দম ফেলবার এই শান্ত আশ্রমটিকে মানুষ ভালোবাসে।মানুষের ক্রমবর্ধমান আনাগোনায় মুখর হয়ে থাকে দিঘি ও দিঘির চার পাড়।চৈত্রের খরতাপে ঘরের বার হওয়া মানুষেরা শান্তি অণ্বেষায় ঘুরে বেড়ায়,নাইমুলের বেচাবিক্রি বাড়ে।কবে কখন এক পাগলিও তার নিজস্ব ঘরকন্যায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছে,ধর্মসাগরেরই পাড়ে,নাইমুলের দোকানটির নিকটবর্তী- গোরস্তান ও মসজিদের লাগোয়া- প্রথম প্রথম কৌতুহল হলেও,পরে মানুষেরা ভুলে যায় কবে থেকে সে এইখানে রান্নাবান্না খেলছে আপন মনে।মাঝে মধ্যে নাইমুল নিজেও পাগলিকে এটা সেটা খেতে দিয়েছে,দেয় নাই এমন নয়।আড়চোখে চেকিতে কখনওবা নজর গেছে,ভেবেছে,দেখি পাগলিটা করে কি!

পাগল মেয়েছেলের প্রতি মায়া জন্মানো লৌকিক কর্তব্যেরই অংশ।নাইমুলের চওড়া সিনার ভেতর থেকে কলিজা পর্যন্ত পাগল-পাগল আউলা-ঝাউলা মায়া।

পাগলিটা এখন আকাশ থেকে নেমে-আসা কালবৈশাখী জড়ের মুখোমুখি।তবে নির্লিপ্তির মুখস্থবিদ্যা পাগলদের আয়ত্ত্বাধীন।হঠাৎ নেমে আসা ঝড় ও বৃষ্টির প্রতিবাদে কাকের দল বার কয়ের কা কা করে কোন ঝোপে লুকিয়েছে কে জানে।এই ফাঁকে লাঠি উঁচিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করে পাগলী ধর্মসাগরটি এখন শাসন করছে।মূলতঃ অদৃশ্যকে উদ্দেশ্য করে নানা অভিযোগ ও বৃষ্টিস্নাত শীতল শূন্যতার দিকে ছুঁড়ে দেয়া নালিশ বকা-বাদ্য বৃষ্টিপাগল বালক-কিশোরদের কাছে কৌতুহল-আনন্দের খোরাক।ঝড়ের ভেতর ধর্মসাগর দিঘিতে সাঁতরাবে বলে ছুটে আসা বাউন্ডুলেদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দুষ্টরা পাগলিকে ঢিল ছুঁড়ে মারে।

কেউ কেউ কাছে ঘেঁষে তার কিম্ভূত জোড়াতালি দেয়া পরল পরল আবরণ ধরে টান দেয়।এসময় আকস্মিক করোটিগত স্মৃতির দুয়ার খুললে,বিদ্যুৎঝলক-সম্বভ কথা ক’য়ে ওঠে পাগলিনী- ‘তোরা আমারে মারছস?আমার মিঞা ভাই আইলে তোগো ঠ্যাং মোছড়াইয়া দিব’- একথা বলার সময় একটা বুক-ভাঙা কষ্ট বেরিয়ে এসেছিলো তার।তারপরই স্মৃতি-বিদ্যুৎ নিভে,করোটি স্তব্ধ হয়ে গেলে বিভ্রান্ত পাগলিনী,যেন ভেজা কাউয়া,হঠাৎ চুপ হয়ে যায়।পোলাপানের ঢিল ছোঁড়াকেও আর ভ্রুক্ষেপ করে না।

সভ্যবভ্য এক কিশোর,সম্ভবত দয়া-রহমত তার উপর ভ’র করলে সে বলে,‘ওই তোরা বেডিরে মারছ ক্যান?গুনাহ অইবো,বেডি কি কিছু বুঝে?না কি তগো কোনো ক্ষতি করছে?’

তখন কারো কারো মনে জগতের সকল প্রাণীর জন্য করুণার উদ্রেক হয়,‘পাগলির কাম পাগলি করুক’- এই রকম স্বগতঃকথনের ফাঁকেই,শিল-পড়া ঠাণ্ডা বৃষ্টি-ঝড়ে ধর্মসাগর দিঘির গম্ভীর শ্যাওলা-মোড়ানো পানিতে সহসা চঞ্চলতা শুরু হয়।

বালকের দলটি ঝপাৎ করে দিঘির পানিতে ঝাঁপ দেয়।কেউ কেউ পিঠ উপুড় করে পুরো শরীরটি ভাসিয়ে রেখে টুপুর টুপুর বৃষ্টির বাজনা শুনতে শুরু করে।

চায়ের দোকানে এসময় দু’একজন কাস্টমার।চা শেষ করে তারা এখন বিড়ি মুখে কাব্যময় হয়ে উঠেছে,বৃষ্টি নিজেই এক মহাকবি।দোকানে অলস কাটানোর সময় পেয়ে পাগলির দিকে একটু নজর দেয়ার ফুরসত পায় নাইমুল।অবিরল বৃষ্টিতে পাগলিকে ভিজতে দেখে মনটা একটু হু হু করে তার।থামার কোনও লক্ষণ নাই,ক্রমশঃ চৈত্রের আকাশটি দিনদুপুরে ঘন আষাঢ় হয়ে যায়।নিন্দাপতি পোকাগুলো ককন তাদের চরকাকাটা কিরকিরকিরকিরকিরকির সঙ্গীত থামিয়ে মেঘ-বাদলের কাছে পরাজিত হয়ে বোবা হয়ে গিয়েছিলো,কারো খেয়াল হয়নি।তাছাড়া লোকজন আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে।

নাইমুল ভাবে পাগলিকে তো তেমন কিছু খেতে দেখি না।বেঁচে আছে কিভাবে?ভিজা কাউয়ার মতো থরথরিয়ে কাঁপছে।তবু ডাকলে আসবে না,দোকানের চালার ছাঁন্দার নিচে এসে বসবে না।এদের সাথে সম্ভবত জ্বীন পরী থাকেই।নইলে কিভাবে সম্ভভ?

বৃষ্টির একটা আরামদায়ক অনুভূতি অন্তরে চারিয়ে দিয়ে নাইমুলও একটা সিগারেট ধরায়।পাগলীটির চেহারা সুরত তো এককালে ভালোই ছিলো মনে হয় তার।মনে হয় কোনও ভালো বংশের মাইয়া।কাছ থেকে যতবার দেখেছে,মেয়েটির কেঁপিকেঁপি নারকেলী চুল,শরীরের রঙ কালো কিন্তু একটা মায়া মায়া ভাব আছে।বিয়াশাদী অইছিলো কিনা কে জানে।নাকি সতীন ধুতুরা বিষ খাওয়াইয়া মাথা পাগল কইরা বার কইরা দিছে কে জানে!

সেদিন রাতে,দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময়,দীর্ঘসময় জমে থাকা- কাজের চাপে করা হয় নাই-  প্রশ্রাবের বেগ আসায়,তলপেট হালকা করার তাগিদে ধর্মসাগরের অন্ধকারকেই পুরুষেরা বেছে নেয়- লুঙ্গি ফাঁক করে বসতে গিয়েছে,দিঘির পাড়ের অন্ধকারে হঠাৎ পাগলির চেঁচামেচিতে ভয় পেয়েছিলো নাইমুল।প্রশ্রাবের উষ্ণ পানি তার হাত-পা,লুঙ্গি- সব একাকার করে তাকে নাপাক করে দিয়েছিলো।সেসময় নাইমুল,জ্বীনে পাওয়া পাগলীটির উপর বিরক্ত হয়েছিলো।মাগী চেঁচানোর আর সময় পাইলি না!

বৃষ্টি থামতে থামতে আসরের ওয়াক্ত শেষ।গোরস্তানের পাশের মসজিদ থেকে নামাজ শেষে,নামাজিরা তাদের পাঞ্জাবির লম্বা পকেট হাতড়িয়ে পাগলীকে দু’চার টাকা দেয়।কেউ একজন সম্প্রতি হজ্ব করে দেশে ফিরেছেন।তিনি,একহাতে নীল পাথরের তসবিহ-মালা,‘বিসমিল্লাহ সোবহানাল্লাহ’ উচ্চারণপূর্বক কাগজে মোড়ানো মক্কাশরীফের কিছু খুরমা খেজুর দেন তাকে।নির্লিপ্ত হাতে সেসব দানখয়রাত,কখনও বা নেয় পাগলিনী।নিজে কিছু খায়,বেশির ভাগই তার অন্তঃসখা কুকুরটিকে দেয়।বৃষ্টি তুমুল বেগে আসবে অনুভব করে কুকুরটি বর্তমানে পালাতক।এখন বৃষ্টি থামা শুরু করেছে,হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ফিরে এসে লেজ নাড়াতে শুরু করবে।

ঝড়-বাদল থেমে যাওয়ার পর,ধীরে ধীরে,থেমে থেমে,পুনরায় নিন্দাপতি পোকাদের সুতো কাটার চরকা জেগে উঠেছে।কিরকিরকিরকিরকিরকির- গাছের-ছাল-বাকল-পাতায় শরীরের রঙটি লেপ্টে রেখে নিন্দাপতিদের সুতো কাটার ধূম পড়ে যায়।নাইমুলের দোকানেও ভিড় শুরু হয়,বিশেষতঃ মাগরিবের আজানের আগে পরে,এশা পর্যন্ত ধর্মসাগরে হাওয়া খেতে আসা মানুষের ভিড় থাকে।বিক্রিবাট্টা ভালো হয় এই সময়টায়।মসজিদের মুসল্লীরা নামাজ শেষে চা বিড়ির ধূম লাগায়,নাইমুল অনেক সময় একা পেরে ওঠে না,বাপকে সঙ্গে রাখে।নাইমুলের বানানো মসলা মিশানো চা লোকেদের পছন্দ।তারা লাইন ধরে খায়।বিশেষ করে বিস্পতিবার,সামান্য দূরের কল্কিশাহের মাজারে গানবাজনা হয়,লোকসমাগম অন্যান্য দিনের তুলনায় বাড়ে।লোকেরা কল্কিশাহ’র মাজার ভ্রমণের পূর্বে অথবা পরে একবার ধর্মসাগরের হাওয়া খেতে ভোলে না।ফলে নাইমুলের দোকানেও তাহাদের পদচারণা।পাগলীও মাঝে মধ্যে তার নিজস্ব জীবনঘড়ি মিলিয়ে কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে কল্কিশাহের চত্বরে চক্কর মেরে আসে।লোকেদের দেয়া পলিথিনে মোড়ানো মানৎ-এর খিচুড়ি হাত-পা-গায়ের সাত পরল জোব্বাজাব্বি চ্যাড়াবেড়া করে কিছুটা খায়।তারপর একলা একলা রাজ্যের বিচার-আচার করতে করতে ঠিকঠাক মতোই দিঘির পাড়ে নিজের আখড়াটিতে ফিরে আসে।নাইমুলের দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়,নাইমুল চায়ের কেটলিতে হাতের ব্যস্ততা সত্বেও চকিতে দেখেছিলো,বেডি এট্টু আগেই না ঝড়-বাদলে ভিজলো,শরীর দেইখ্যা তো মনে অয় খটখটা শুকনা।এরকম ভাবনার ভেতর সে পুনরায় ভেবেছে,পাগলীটা তো দেখতে খারাপ না!

দোকানের ভিড়বাট্টার মাঝে,কখনওবা মেজাজ-মর্জি অনুকূলে থাকলে,নাইমুল চুন-জর্দ্দা দিয়ে একখিলি পান খায়।নাকের ফোলা আবরণে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমলে মনের ভেতরটা আকাশের মতো বিশাল হয়ে ওঠে,তখন ক্রেতাদের অগোচরে চোরা চোখে পৃথিবীর দিকে তাকায় কিংবা দিঘিতে অযু করতে গিয়ে একেবার ভেবেছে - পাগলিকে একদিন খাইতে অইবো!

পূর্ণিমার কোনও চৈত্র-আশ্বিন নাই।এক দুপুর এক বিকেল বৃষ্টি হওয়ার পর ধর্মসাগর দিঘির ওপর এখন,রাত্রিকালের আকাশের চন্দ্রটা চোখ ধাঁধানো জ্যোৎস্নার ঢল নামিয়েছে।মসজিদের শেষ নামাজিটি চলে যাবার পর,খাদেম সাহেব সামান্য আগে বাতি নিভিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন।যেহেতু আজ বিস্পতিবার,কল্কিশাহের মাজারে অশ্রুঝরা গান হবে,সেহেতু বেশির ভাগ লোক আস্তে আস্তে নাইমুলের দোকানের ভিড় ছেড়ে মাজারের ভেতর চলে গেছে।অবশ্য এইখান থেকেও কল্কিশাহ’র ভক্তদের গানবাদ্যের তাণ্ডব কানে বাজে।

পাগলিনী তার সখা ন্যাংড়া কুকুরের সঙ্গে অনেক্ষণ গল্প করার পর,আসমান থেকে নেমে আসা জ্যোৎস্নার ঢলের আঘাতে ক্ষণকাল নিজেকে ফিরে পেয়েছিলো।ফকফকা চান্নি রাইতের দিকে তাকিয়ে তার মনে পড়েছিলো বাড়ির উঠোনে শীতলপাটি বিছিয়ে আসমানের তারা গোণার ধূয়াঃ ‘একথাল সুপারি গুনতে পারে কোন বেপারী?’- একথা মনে পড়ায় সে আরো ভেবেছিলো,ও মা গো,রাবিয়ার বাপে অর্থাৎ হালিম জেঠা কী বকাই না দিতেন,‘শুওরের ছা,রাইত জাইগা আসমানের তারা গনতেছস?মৌলভিরে কইয়া সব কয়ডারে পিঠের ছাল-বাকল তুইল্যা দিতে অইবো।মল্লিকার মা’য় কই গো?’ 

পাগলিনীর মুখে এক চিলতে ঝিকিমিকি হাসি বিস্তার লাভ করছিলো- এক্ষণে নিজের নামটিও স্মরণে আসার কারণে মনে মনে ‘লাজ’ অনুভব হেতু শরমিন্দা।

কিন্তু নিশাচর বাদুড়েরা এসময় কই যেন উড়ে যাচ্ছিলো।ডানা ঝাপটানির সঙ্গে পাগলিনীর স্মৃতিকেও টেনে নিয়ে গেল।এসময় কুকুরটা এক দৌড়ে দিঘির কোন পাড়ে চলে যায় বোঝা যায় না।সম্ভবত,সে ভৌতিক কোনও ছায়া দেখেছে।

ধর্মসাগরের উত্তর পাড়ে রাণীকুটির।কালের আঘাতে মানুষের অনেক নির্মাণ ক্ষ’য়ে যায়;মানুষের দস্যুতায় হারিয়েও যায়।তথাপি কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর দিঘি এবং রাণীকুটির কালের অবক্ষয় থেকে নিজেদের রক্ষা করে পরস্পর লোকশ্রুতির রূপকথা হয়ে টিকে আছে।অরণ্যপ্রায় প্রাচীন বৃক্ষের অন্তরালে বৃষ্টির অব্যবহিত পর,পুন্নিমার চাঁন কোলে নিয়ে আকাশটি নেমে আসায় দিঘির পাড়ে রাণীকুটিরকে ঘিরে অপার এক রহস্য তৈরি হয়েছে।বাড়িটির বয়স্ক জানালার ভারী কাঁচ ঠিকরে ভেতরের বৈদ্যুতিক আলোর যেটুকু ক্ষীণ বিচ্ছুরণ দিঘিটি অতিক্রম করতে পেরেছে,তাতে অতীতাশ্রয়ী এক জলসার তন্ময় তানপুরা পৃথিবীর কানে বাজছে।বাজনার উৎস অণ্বেষায় সেই দিকে তাকিয়ে থেকে পাগলিনী তার নির্লিপ্ত জীবনকালটি পুনরায় স্থাপন করে ভেবেছিলো,রান্নারই কথা- সব কিছু অগোছালো পড়ে আছে।এখন আসমানের ‘সুপারি’ গোণা নিদারুণ এক অবিবেচনা।

বিস্পতিবার পড়ন্ত বিকাল থেকে শুরু করে কল্কিশাহ’র ভক্তবৃন্দের আনাগোনায় নাইমুলের দোকানটি মুখরিত হয়ে মধ্যরাত অবধি নিস্তার থাকে না।লোকের গমগমানি চলতেই থাকে।সে রাতে নাইমুল বাড়িতে যায় না।চায়ের লিকার শেষ হয়ে এলে ঝাঁপ বন্ধ করে দোকানেই ঘুমিয়ে নেয়।আজ  সে একা নয়।ঝড়-বাদল মাথায় কইরা তার ছোটো ফুপু একগাদা পোলাপান নিয়া বেড়াতে এসেছেন।বয়সে তার চেয়ে কম হলেও ফুপাতো ভাই ইউসুফের সঙ্গে নাইমুলের বোঝাপড়াটা ভালো।রাতের খাবারের পর,ইউসুফও,মামার বাড়িতে ঘুমানোর জায়গার টানটান অবস্থা দেখে বলেছে,‘আমি নাইম ভাইয়ের লগে দোকানে থাকমু।’ নাইমুলের প্রতি তার একটা আলাদা টান আছে।

রাত্রি গভীরের সঙ্গে কল্কিশাহ মাজারের বাদ্যবাজনা ভৌতিক জ্যোৎস্নার সঙ্গে একাকার হয়ে যায়।ততক্ষণে নিন্দাপতি পোকাদেরও,সম্ভবত,চরকা কাটার গান সমাপ্ত।আগামী কালের প্রস্তুতিতে এখন ঘুমঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।

নাইমুল বলল,‘ওহঃ কী মশা রে বাবা!ও ইছুফ,আয় ,দিঘির পাড়ডা ঘুইরা এট্টু ঠাণ্ডা অইয়া আসি।’

স্বভাবে লাজুক,আঠারো-ঊনিশের ইউসুফ তার মামাতো ভাই নাইমুলের ভক্ত।বয়সের পার্থক্য থাকলেও মামার বাড়ি,ফুপুর বাড়ির মধ্যে সখ্যতার যৌথ একটা মজবুত রজ্জু তাদেরকে সবসময় দু’দিক থেকেই  টানে।তারা ধর্মসাগর দিঘির ঠাণ্ডা বায়ু সেবন করতে রাত দুপুরে বের হয়ে পাতার বিড়ি ধরায়।পাতার বিড়ি কুমিল্লায় পাওয়া যায় না।আখাউড়ার কংসনগর থেকে আগরতলা বেশি দূরে না।ই্উসুফ তার নাইম ভাইয়ের জন্য প্রতিবারই শুকনো খসখসে লাল সূক্ষ্ণ সুতা পেঁচানো পাতার ইণ্ডিয়ান বিড়ি নিয়ে আসে।দুই ভাই ঘুমানোর আগে পাতার বিড়িতে ‘সুকটান’ মারে।কখনওবা বিড়ি টানতে টানতে নাইমুল অশ্লীল কথা বলে ইউসুফের গাল লাল করে দেয়।

‘কিরে ইছুফ,তুই দিন দিন এ্যাতো শুকাইতেছস ক্যান?খেঁচাখেঁচি বন্ধ কইরা মাইয়াগো দুধমুধ খাইছ মাঝে মইধ্যে!বুঝলি!হাহাহাহাহা।’

এক বিছানায় দুই মামাতো-ফুফাতো ভাই বন্ধুসুলভ সখ্যতায় নানারকম হাস্যরস করে।রাত্রি গভীর হয়ে এলে,পাশাপাশি ঘুমের ভেতর পরস্পরের গলায়,নিম্নদেশে হাত চালায়।সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে ভান করে যেন রাত্রিকালে কিছুই হয়নি,কেউ কারো ‘লারেলাপ্ফা’ টের পায়নি!

তবে এখন ধর্মসাগর পাড়ে,দোকানের ভেতর নয়,তারা বাইরে,বৃষ্টি-শীতল থৈ থৈ জ্যোৎস্নায় একটু শরীরটা ভিজিয়ে নিতেই এসেছে।মাজারের মজমা থেকে ভেসে আসা গানও একটা মাদকতা এনে দেয় দুই যুকবের অন্তরে।

রাত গভীর হয়ে এসেছে।ফলে এই দিকটায়,ধর্মসাগর দিঘিটির প্রায়ান্ধকার চার পাড়েই,মানুষের আনাগোনা এখন নাই বললেই চলে।কাকপক্ষীও,গভীর নিরবতায়,সম্ভবত,কল্কিশাহের ভক্তবৃন্দের তাণ্ডব-মাতম শুনছে তাহাদের নিজ নিজ তন্দ্রার ভেতর।যেন মাজারের মাহাত্ম্য পক্ষীকুলের ডানার নিচে ওম নিচ্ছে।

পাগলীটি এখন আসমানের চাঁদের দিকে মুখ কইরা নিজ মনে কী যেন বলছে।সম্ভবত,জ্যোৎস্নার ঢলকে,আরও জোরেসোরে নেমে আসছে না কেন- এই জন্য হঠাৎ হঠাৎ বকাঝকা করছে।সেসব শব্দ জোড়াতালি দিয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্য নির্মিত হয় না।তবে পূর্ণিমার চাঁদ ও তার ঝরানো আলোর ঢল চিরকালই বাকরুদ্ধ,ফলে পাগলিনীর কথায় নাইমুল নিদারুণ মজা পেলেও জ্যোৎস্নারাতের ক্ছিুই যায় আসে না।

নাইমুল ইউসুফের ঘাড়ে হাত রেখে আরামে পাতার বিড়ি খাচ্ছে,যেনবা নিম্বপত্র- নেশা নাই তবু একটা ‘ভাব’ প্রকাশের ছলনা যুবক মাত্রেরই নিতান্ত আরাধ্য।একা একা মানুষ ভাব দেখাতে পারে না।নাইমুল তার উচ্চমার্গের ভাব প্রকাশের জন্য অন্ততঃ একজনকে মাঝে মাঝে পায়।সে হচ্ছে ইউসুফ- নাইমুলের ফুফতো ভাই।

‘কি রে,করবি নি?’ জ্যোৎস্না-মাতাল শীর্ণকায় ভৌতিক কালো পাগলিনীকে ইংগিত করে বলে নাইমুল।বয়সে তার চেয়ে ছোটো হলেও ইউসুফকে সবকিছুই বলে নাইমুল,কখনও বা শরম-ভরম নাই।

এসময় নিম্বপত্রে সুকটান হেতু সুখাবেশে ইউসুফ তার লুঙ্গির ভেতর সরীসৃপের নড়ে ওঠা টের পেয়েছিলো।নাইম ভাইয়ের কথার ইংগিতে সে প্রথমতঃ কিছু না বলে গোপন সাপের আরামদায়ক নড়াচাড়া অনুভব করতে করতে চুপ হয়েছিলো।

নাইমুল জানে,ইউসুফ নিমরাজি।কিন্তু পাগলিনীকে আজকের এই চান্নি রাইতে অন্যরকম লাগছে কেন বুঝতে পারছে না নাইমুল।পাগলিকে যেদিন থেকে সে চোখের নজরে রেখে ভাবতে শুরু করেছিলো- বিষয়টা এতখানি প্রবল হয়ে ওঠেনি কখনও ।তাছাড়া সে ধর্মসাগরে দীর্ঘদিন ধরে চা দোকানটি সুনামের সঙ্গেই চালিয়ে আসছে।লোকসমাজ লোকলাজ বলে একটা জিনিস তার আগুন দমিয়ে রেখেছিলো।মনে হয়েছিলো পাগল হাতানো তো এমন কিছু না।এখন,ইউসুফকে কাছে পেয়ে,সাহস বেড়েছে।তাছাড়া চাঁদে পাইলে যৈবন-ঢল পাগল-টাগল মানে না।নিম্বপত্রের ধোঁয়া-ওড়া নেশা দুই যুবককে চন্দ্রগ্রস্ত করে তুললে তারা ত্রস্তপদে পাগলিনীর কাছে চলে এসে তীক্ষ্ণ চোখে জ্যোৎস্নাঢলের তলে এক আত্মমগ্ন নারীকে চাঁদের সঙ্গে তুমুল কথোপকথনে দোল-দোলায়মান দেখতে পায়।

ক্ষণে ক্ষণে স্মৃতি-বিদ্যুৎ চমকে উঠলে পাগলিনী চন্দ্রালোকের মহিমা অনুভবে নিজের ভেতরে বিস্মিত-বিহ্বল।ধর্মসাগর দিঘিও তাকে এসময়,আহ্বান করলে,সে ইচ্ছে করেছিলো একবার পানিতে নেমে সাঁতার কাটবে।সিঁড়িতে বসে,চকচকে রূপার ঢেউয়ের ভেতর সে দেখতে পেয়েছিলো  &#x200d;মুনসুরকে- যে পুকুরের পাড়ে নুয়ে পড়া গাবগাছ থেকে টুব্বুর কইরা এক লাফ,পরনে কাপড় নাই- সেই প্রথম দেখা পুরুষ মানুষের উদাম শরীর- বড়োই বে-শরম মুনসুর,দক্ষিণ কানির দাদি- থুত্থুড়ি,বিলাইচক্ষু বুড়ির-  বুড়ি গেছে কচুরি ভর্তি পুকুরে বর্শি দিয়া মেনি মাছ ধরতে- ফাঁকা পেয়ে ভাঙা রসুইঘরে টাইনা নিয়া মুনসুর কয়,‘আয় ,খেলবি?’

ঠিক সেই সময় মা ডাক দিয়েছিলেন,‘ও মল্লিকা গো,তুই কই গেছচ গো!আর কত কইলজা পোড়াইবি আমার হারমজাদি শুওরনির ঝি!শিগ্গির ঘরে আয় ..ঠাউর বাইত আইলে তোর খবর আছে আইজ ।’

তার বাপকে যমের মতো ভয় করতেন মল্লিকার মা।বাবাই ছিলেন সেই ‘যম-ঠাউর।’

মায়ের হাঁক-ডাক শুইন্যা পান-রাঙা মুখ মুনসুইরা পাগলা দিছিলো এক দৌড়- গুয়াগাছতলার গুয়ে আছাড় খাইছিলো মনে অয়।এরকম আত্ম-ইতিহাস ভাবনা তাকে পেয়ে বসলে মুখভঙ্গিতে শাপলা ফুলের মতো একটা হাসি ফুটে উঠেছিলো পাগলীটির।চন্দ্রলোকে শাফলার এই হাসি ক্ষণস্থায়ী এক ঝিলিক মাত্র। পাগলিনীর করোটির গান যেন রাত্রির কুহক- পুনরায় নিভে যায়।

ততক্ষণে নাইমুল তার ফুফাতো ভাই ইউসুফের অন্তরে চাঁদের আত্মঘাতী আগুনটি ধরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলো।উভয়ে লোলুপ চক্ষুতে দেখেছিলো,পাগলীটি কার সঙ্গে যেন একলা একলা কথা কয় আর হাসে।

নাইমুল ঠিক করেছিলো,দিঘির পাড়-ঘেঁষা মসজিদের দেয়ালটির ওপাশটা অর্থাৎ গোরস্তানের সীমানায় বাসক ঝোঁপটাই অধিকতর নিরাপদ।মসজিদের আলো নিভানো বিধায় কেউ কিছু টের পাবে না।

‘ওই,তুই দ্যাখ কেউ আসে কিনা’-একথা বলেই চাঁদের আলোয় শাপলা ফুলের আধেক ফোটা হাসি নাইমুলের শক্ত হাতের তালুতে চাপা পড়ে।সে পাগলীকে পাঁজাকোলা করে একরকম চেঁচিয়ে বাসক মুড়ায় টেনে নিয়ে যায়।স্মৃতিরোমন্থনের এরকম একটা আকস্মিক বিঘ্নতার সাথে অপরিচিত পাগলীটি বার কয়েক কুঁই কুঁই করার চেষ্টা করে ভেবেছে,মুনসুর পাগলের বাড়ি কই?সে কোন দোকানের চাইল খায়?’

এসময় কুকুরটি কোত্থেকে হঠাৎ ঘেউ করে উঠলে নাইমুলের অন্তরাত্মায় চিলিক মেরে একটা কামড় দেয়,কোন হারামখোর যেন বাসকতলার ঘাসে হাইগা গেছে- বৃষ্টিভেজা কাঁচা গুয়ের ছিটায় পা পিছলে যায় তার।কিন্তু নাইমুল আজ  আর শরীর পাতলা না কইরা ছাড়বে না- এই রকম কামিনী-কাঞ্চনের দোলায়মানতা থেকে দ্রুত ভারসাম্যে ফিরেই পাগলিকে জড়িয়ে সিনার চাপে আটকে ফেলে সে।
মসজিদের কোণায় অবস্থান নেয়া ইউসুফ একটা ইটের টুকরা খুঁজে পেয়ে ‘পাগল-দরদি’ ন্যাংড়া কুত্তাটিকে ধাওয়া করে।যদিও সে ভেবেছে,গোরস্তানে নেয়াটা কি ঠিক অইলো?নাইম ভাই দোকানে নিলেই ত অইতো,এ্যাতো রাইতে ত আর কেউ চা খাইতে আইতো না!

বাসক গাছটি অনেক পুরনো।গোড়া শক্ত মোটা ভারী।সেখানেই পাগলিনীকে দাঁড় করিয়ে তার শরীরের বোটকা গন্ধময় সাত পরল জোব্বাজাব্বি ফাঁক করতে করতে,তাড়াহুড়ায়,তর সয় নাই- ‘ওই মাগী এত কম্বল পইরা আছচ ক্যান’- বলে সুড়ুৎ করে তার কামিনী-কাঞ্চনের দক্ষতা প্রকাশে উত্থিত উৎকট নলটি খটখটে কাষ্ঠবৎ সুড়ঙ্গে প্রবেশ করানোর সময়,অবলা পাগলিনী ছাগলের মতো ভ্যাঁ করার চেষ্টা করেছিলো।নাইমুলের হাতের থাবার চাপে সেই ভ্যাঁ ডাক জ্যোৎস্নার আলো দেখে নাই।
স্যাণ্ডেলে লাগা থিকথিকে গু আর গুয়ের দুর্গন্ধ নিয়ে দ্রুত কাজ সেরে,বাসকতলার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে নাইমুল বলে,‘যা,এবার তুই যা।দেহিস, কাঁচা গু-য়ে আবার আছাড় খাইচ না।যা যা তাড়াতাড়ি কর।আমি পা টা ধুইয়া খাড়াইলাম।’

সময় তো চোখের পলক – বাতাসে বাইলপাতা নড়ে ওঠার মতো।

নাইমুল হতবিহ্বল পাগলীকে যেভাবে দাঁড় করিয়ে চলে গেছে,যার কাছে মানব জীবনের কোনও বোধগম্য গন্তব্য নাই- ঘটনার আকস্মিকতায় জ্যোৎস্নার ঢলে ভাসমান গোরস্তানের মতো সেভাবেই স্তব্ধ হয়ে ছিলো সে।
বয়স হয়ে এলে বৃক্ষদেরও অন্তর্গত চঞ্চলতা ঝাঁ ঝাঁ রোদ অথবা স্নিগ্ধ চন্দ্রালোকে কেঁপে ওঠে না।প্রাজ্ঞতার একটা ভাষাহীন স্তব্ধতা বাসক গাছটিকেও পেয়ে বসেছে।একটি শীর্ণকায় অবলাকে বুক পেতে দিয়ে বাসক গাছটি শরমিন্দা হয়ে উঠেছিলো- কথা কইতে পারে নাই।ফলে চান্নি রাইতের বিহ্ববলতা সন্নিহিত গোরস্তান,বাসক গাছ এবং সদ্য নির্বাক পাগলিনীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

ইউসুফের লুঙ্গি তুলতে দেরী হয় নাই।তার কাঠিতে আগুন তো ধরানোই ছিলো,তবু এই প্রথম তার আত্মহননের অভিজ্ঞতা,সারি সারি কবরের পাশে বাসক গাছটির অন্ধকারে,ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া পাগলিনীর কাছে ধরা খায় তার যৈবন রহস্য।বীর্য পতনের ভয়াবহ আরামের ভেতর,পাগলিনীর মুখের দিকে একবার ভালো করে তাকিয়েছিলো সে।সেই মুখে,শরীর নির্ভার হওয়ার পরই,কী এক অনুতাপের ছলনায় ইউসুফের অন্তরে পাগলিনীর জন্য মানবিক কষ্ট চিন চিন করে ওঠে।
বাসক পাতার ফাঁক গ’লে চন্দ্রদিঘির চিরল-বিরল একটা ধারা মেয়েটির মুখে চোখে আবরণে একধরনের মায়াবিভ্রম তৈরি করেছে।আগুনের শেষ আঁচটি নিভে আসার পর,ইউসুফ দেখতে পেয়েছিলো গোরস্তানের সারি সারি কবর থেকে বেরিয়ে আসছে অসংখ্য কায়া।দৌড় দিতে গিয়ে ফিরে আসা কুকরটির ‘ঘেউ’ ডাকে সম্ভবতঃ মসজিদের খাদেমটি জেগে ওঠে।দুয়ার খোলার শব্দ হয়।কুকুরের ডাকে আরো কুকুর কর্তব্য পালনে ছুটে আসতেছে- এই ভাবনায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পরস্পর অন্তরাত্মা দুই ভাই নাইমুল আর ইউসুফ।

কল্কিশাহ’র মাজারও এখন কিছুটা চাঁদে পাওয়া বৈতাল।

ধর্মসাগরে মুখ-হাত-পা ধুয়ে,দুই ভাই,নাইমুল-ইউসুফ- কারো মুখে কোনও কথা নাই,প্রক্ষালনগত ‘অযু’র পবিত্রতা অন্তরে ধারণপূর্বক দোকানের ঝাঁপ খুলে ঘুমের আয়োজন করে।

বাসকতলায়,ভাবনার অতলে তলিয়ে যাওয়া পাগলিনীকে খুঁজে পেয়ে ঠ্যাং-ভাঙা কুকুরটি,তার রাত্রিকালীন কর্তব্যের সার্থকতা অনুভব করে লেজটি নেড়ে জ্যোৎস্নার নিচে কুঁই কুঁই করতে থাকে।

ধর্মসাগরের চারপাশ তন্ন তন্ন করেও খাবার না পেয়ে কুকুরটি তিন ঠ্যাঙে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে গিয়েছিলো পূবালী চত্বরে।সেখানে,সারাদিনের ব্যস্ত নগরীর জমানো আবর্জনার ভেতর কিছু না কিছু খাবার – পলিথিন মোড়া মুরগির নাড়ি-ভূড়ি-ঠ্যাং,ঘি-এ ভাজা পোলাওয়ে গরুর হাড্ডিগুড্ডি- কিছু না কিছু মিলে।

রাত্রি গভীরের সঙ্গে চান্নি-পহরের একটা উথাল-পাথাল সম্পর্ক আছে।থৈ থৈ চাঁন্দের আলোয় সদ্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় বাসক গাছটির তলে,পাগলিনী তার ঘূর্ণমান কুঁচকানো কপালটির নিচে,ভৌতিক চোখের কোটর থেকে দু’টি মণি বের করে জগতের রহস্য উন্মোচনে,শারীরিক দুর্বলতাহেতু সামান্য জ্বলে ওঠে।সে ভাবে রান্নায় অনেক দেরি হয়ে গেছে।পাগলিনী আরও ভেবেছিলো- আইজ  এট্টু বেশি কইরা রান্না করবে।ঝড়-তুফান-মেঘ নামার কারণে চুলায় কিছুতেই আগুন ধরলো না।পোড়া কপালডা রে আমার!অহন মেমান আইবো।তাগরে কি খাইতে দিমু!কুত্তাডার পেডেও অনেক ভোক লাগছে’- এইরকম এক নিমগ্ন চিন্তার গভীরে ভাসতে থাকে সারি সারি কবরের পাশ দিয়ে পুনরায় নিজস্ব ঘরকন্যার আবশ্যিকতায় টেনে টেনে চলা উদ্ভ্রান্ত পাগলিনী।
কল্কিশাহ’র বাদ্যবাজনা ক্রমশঃ স্তিমিত হয়ে এলে গোরস্তানের পাশে বাসক গাছটির তলে পাগলিনীর বোবা কায়াটি যেন এক ক্ষীয়মাণ পোকা।

।।।।।।।।।।।।।।।।।সমাপ্ত।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।। 
 
Copyright @রেদওয়ান খান redwanismene@gmail.com</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/7100/</link>
				<pubDate>Thu, 15 Apr 2021 09:52:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ছোটগল্প<br />
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।<br />
পাগলিনী<br />
রেদওয়ান খান<br />
।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।<br />
হয়তো জীবনের প্রতি একটা তুমুল কাঙ্খিত বিতৃষ্ণা অনুভব করার পর,অন্তঃকরণের অন্ধকারে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-7100"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/7100/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>